গীবত শ্রবণকারী গীবতকারীর সমপরিমাণ গোনাহগার হয়। সভা-সমিতিতে এরূপ গীবত হ’লে সেক্ষেত্রে শ্রবণকারীর করণীয় কি?


গীবত শ্রবণকারীর গীবতকারীর সমপরিমাণ গুনাহ হবে কথাটি সঠিক নয়। তবে গীবত করা যেমন নিষেধ তেমনি তা শ্রবণ করাও নিষেধ (হুজুরাত ৪৯/১২)। আর গীবতকারীর প্রতিবাদ করে কোন ভাইয়ের সম্মান রক্ষা করলে আল্লাহ্ প্রতিবাদকারীর চেহারাকে কিয়ামত দিবসে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন (তিরমিযী হা/১৯৩১; ছহীহুল জামে‘ হা/৬২৬২)। কিন্তু কারো ভুল ধরিয়ে দেয়া গীবতের অন্তর্ভুক্ত নয়। ওলামায়ে কেরাম জনগণের মাঝে ধর্মীয় দিক-নির্দেশনা দানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। তাই তাঁদের পক্ষ থেকে কোন শিরক ও বিদ‘আতী আমল জনগণের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে তা চরম ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এরূপ আলেমদের সংশোধন করা এবং তাদের থেকে জনগণকে সতর্ক করা হকপন্থী ওলামায়ে কেরামের অন্যতম কর্তব্য। এতে তিনি বরং নেকীর হকদার হবেন। এছাড়া ছয়টি ক্ষেত্রে গীবত হয় না। যার একটি হ’ল, কেউ কোন পাপ ও বিদ‘আতে লিপ্ত হলে তা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে(মুসলিম হা/২৫৮৯ ‘গীবত হারাম হওয়া’ অনুচ্ছেদ, নববীর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)। তবে এক্ষেত্রে ভুল সংশোধনকারীর জন্য কিছু বিষয়ের প্রতি অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে, (১) সমালোচনা স্রেফ ইছলাহের উদ্দেশ্যে হবে। (২) পরস্পরের সম্মানের প্রতি খেয়াল রেখে বিনীতভাবে সুন্দর ভাষায় বলতে হবে এবং (৩) আল্লাহর নিকট ছওয়াবের আশায় খালেছ নিয়তে করতে হবে।

Advertisements
This entry was posted in গীবত শ্রবণকারী গীবতকারীর সমপরিমাণ গোনাহগার হয় কি? and tagged . Bookmark the permalink.