ওযূতে ঘাড় মাসাহ করা সুন্নাত নাকি বিদ‘আত?


১ম অংশ

ইসলামের অন্যতম রুকন ছালাত শুদ্ধ হওয়ার জন্য ওযূ যরূরী। ওযূ ঠিকভাবে করা না হ’লে ছালাত হয় না। তাছাড়া ওযূ একটি ইবাদত, যার মাধ্যমে ওযূকারীর শরীর থেকে ছগীরা গোনাহগুলি ঝরে যায়। ছালাত সিদ্ধ হওয়া এবং ওযূর উক্ত ফযীলত লাভের জন্য ওযূ রাসূল (ছাঃ) প্রদর্শিত তরীকায় হওয়া আবশ্যক। এতে কোন ধরনের সংযোজন-সংকোচন বা হ্রাস-বৃদ্ধি ওযূকে বিনষ্ট করবে। তাই ওযূ রাসূল (ছাঃ)-এর পদ্ধতিতেই হ’তে হবে। কিন্তু কোন কোন মাযহাবী ভাই বিভিন্ন জাল-যঈফ বর্ণনার উদ্ধৃতি দিয়ে ওযূতে অনেক অতিরিক্ত কাজ করে থাকেন। তন্মধ্যে ঘাড় মাসাহ অন্যতম। এটা ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয়। তাই কেউ ঘাড় মাসাহ করলে তা সুন্নাত পরিপন্থী হবে। এ সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হ’ল।-

ওযূতে ঘাড় মাসাহ করা সুন্নাত নাকি বিদআত?

মাযহাবী ভাইদের রচিত ছালাত সম্পর্কিত বই সমূহে লেখা হয়েছে যে, ওযূতে ঘাড় মাসাহ করা সুন্নাত। যেমন মাওলানা আব্দুল মালেক সম্পাদিত ‘নবীজির নামায’ (পৃঃ ১১৪) বইয়ে ঘাড় মাসাহকে সুন্নাত আখ্যায়িত করা হয়েছে। এবং এর পক্ষে একটি মুরসাল (যা যঈফ) দলীলও পেশ করা হয়েছে। আশরাফ আলী থানবী লিখেছেন, ‘অতঃপর দুই হাতের আঙ্গুলের পিঠ দ্বারা গর্দান মাসহে করিবে। গলা মাসহে করিবে না, ইহা নিষেধ এবং দূষণীয়’।[1]

ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ) ‘ঘাড় মাসাহ করাকে সুন্নাত বলেছেন ও গলা মাসাহকে দূষণীয় বলেছেন’ মর্মে কোন স্পষ্ট দলীল ভিত্তিক উক্তি জানা যায় না। এ বিষয়ে বেহেশতী জেওরেও কোন উদ্ধৃতি নেই, যেখানে ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ) হ’তে এটি প্রমাণ করা যায়। ‘হাতের তালু দিয়ে ঘাড় মাসাহ করা যাবে না’ বা আঙ্গুলের পিঠ দ্বারা মাসাহ করতে হবে’ মর্মে কোন ফৎওয়া ইমাম আবূ হানীফার পক্ষ হ’তে আছে বলে জানা যায় না।

নিম্নে ঘাড় মাসাহ করার ব্যাপারে পেশকৃত কতিপয় দলীলের পর্যালোচনা তুলে ধরা হ’ল।-

(ক) মারফূবর্ণনাসমূহ[2]

দলীল-১ :

عَنْ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : مَنْ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ بِيَدَيْهِ عَلَى عُنُقِهِ، وُقِيَ الْغُلَّ يَوْمَ الْقِيَامَة-

ইবনে ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি ওযূ করবে এবং তার  দু’হাত  দ্বারা  স্বীয়  ঘাড়  মাসাহ

করবে তাকে ক্বিয়ামতের দিনে বেড়ী হ’তে মুক্ত রাখা হবে’।[3]

পর্যালোচনা : এটি প্রত্যাখ্যাত বর্ণনা। হাফেয ইবনে হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেছেন,قُلْتُ: بَيْنَ ابْنِ فَارِسٍ، وَفُلَيْحٍ مَفَازَةٌ، فَيُنْظَرُ فِيْهَا ‘আমি বলেছি, ইবনে ফারেস এবং ফুলায়হ-এর মাঝে সমস্যার স্থলটি রয়েছে। অতএব এতে লক্ষ্য করতে হবে।[4]

অর্থাৎ উভয়ের মাঝে কোন্ রাবী লুক্কায়িত আছে তা লক্ষ্য করতে হবে। আল্লামা শাওকানী (রহঃ)-এর মতে, যদি উভয়ের মাঝে হুসায়েন বিন উলওয়ান থাকেন, তবে তিনি সমালোচিত রাবী।[5] যেমন-

(১) আবূ হাতিম বলেন,كَانَ يَضَعُ الْحَدِيثَ لَا يَحِلُّ كَتْبُ حَدِيْثِهِ، كَذَّبَهُ أَحْمَدُ وَيَحْيَى ‘তিনি (হুসায়েন বিন উলওয়ান) হাদীছ জাল করতেন। তার হাদীছ লেখা যাবে না। আহমাদ এবং ইয়াহ্ইয়া তাকে মিথ্যুক বলেছেন।[6]

(২) সাখাবী (রহঃ) লিখেছেন, فالحسين متهم بالكذب، ‘আর হুসায়েন মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত’।[7]

(৩) ইয়াহ্ইয়া বিন মাঈন তাকে মিথ্যুক[8], হায়ছামী যঈফ[9], ইবনে হাজার (রহঃ) মাতরূক বা পরিত্যাজ্য[10], আবূ হাতেম অত্যন্ত দুর্বল ও মাতরূকুল হাদীছ অভিহিত করেছেন।[11]

(৪) শাওকানী (রহঃ) ও ইবনে আদী হুসাইন বিন উলওয়ানকে হাদীছ জালকারী বলে উল্লেখ করেছেন।[12]

(৫) ইবনুল জাওযী উল্লেখ করেন, হুসাইন বিন উলওয়ানকে ইয়াহইয়া বিন মাঈন মিথ্যুক ও আলী ইবনু মাদীনী তাকে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন। ইমাম নাসাঈ, আবূ হাতেম ও দারাকুৎনী বলেছেন, তিনি মাতরূকুল হাদীছ এবং আবুল ফাৎহ আযদী তাকে মহা মিথ্যুক, খবীছ আখ্যায়িত করেছেন।[13]

সুতরাং যদি হুসায়েন এই সনদে থেকে থাকেন, তবে এটি বানোয়াট। নতুবা রাবী মাজহূল থাকার কারণে এটি যঈফ।

দলীল-২ :

ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ دَاوُد ثَنَا عُثْمَانُ بْنُ خِرْزَادَ ثَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الْأَنْصَارِيُّ عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ إذَا تَوَضَّأَ مَسَحَ عُنُقَهُ وَيَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ

وَسَلَّمَ: مَنْ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عُنُقَهُ لَمْ يُغَلَّ بِالْأَغْلَالِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ-

আনাস ইবনু সীরীন ইবনে ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণনা করেন, ইবনে ওমর যখন ওযূ করতেন তখন তাঁর ঘাড় মাসাহ করতেন এবং বলতেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ওযূ করবে এবং তার ঘাড় মাসাহ করবে ক্বিয়ামতের দিনে তাকে শিকল দ্বারা বাঁধা হবে না’।[14]

পর্যালোচনা : এটি যঈফ। কারণ এই সনদের অন্যতম রাবী মুহাম্মাদ বিন আমর আনছারী সমালোচিত।

(১) ইয়াহ্ইয়া বিন মাঈন (রহঃ)[15], ইমাম শাওকানী,[16] ইবনে হাজার আসক্বালানী,[17] আলবানী (রহঃ),[18] ইয়াহ্ইয়া বিন সাঈদ (রহঃ),[19] ইবনে শাহীন[20] প্রমুখ মনীষী মুহাম্মাদ বিন আমর আনছারীকে যঈফ আখ্যায়িত করেছেন।

(২) ইমাম হাকেম (রহঃ) লিখেছেন, وَهُوَ عَزِيزُ الْحَدِيثِ جِدًّا ‘তিনি অতি মাত্রায় আযীয হাদীছ বর্ণনা করতেন’।[21]

মোটকথা মুহাম্মাদ বিন আমর একজন যঈফ রাবী। তার যঈফ হওয়া সম্পর্কে জমহুর মুহাদ্দিছ ঐক্যমত পোষণ করেছেন। সুতরাং তার বর্ণিত হাদীছ প্রত্যাখ্যাত।

দলীল-৩ : من توضأ ومسح يديه على عنقه أمن من الغل يوم القيامة. أبو نعيم عن ابن عمر- ‘যে ওযূ করবে এবং তার দু’হাত দ্বারা ঘাড় মাসাহ করবে, সে ক্বিয়ামতের দিনে বেড়ী (পরানো) থেকে নিরাপদে থাকবে’।[22]

পর্যালোচনা : এই বর্ণনাটি অত্যন্ত যঈফ বা দুর্বল।

(১) আল-উৎলুওয়ানী উক্ত হাদীছের সনদকে যঈফ বলেছেন।[23]

(২) এর সনদেও পূর্বোল্লিখিত ‘মুহাম্মাদ বিন আমর আনছারী’ আছেন। এতদ্ভিন্ন এর সনদে আরো ক্রটিযুক্ত রাবী আছেন। সুতরাং এই বর্ণনাটি দুর্বল। যা আমল ও দলীলের উপযুক্ত নয়।

দলীল-৪ : عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ قَالَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَسَحَ مُقَدَّمَ رَأْسِهِ حَتَّى بَلَغَ الْقَذَالَ. مُؤَخَّرُ الرَّأْسِ مِنْ مُقَدَّمِ عُنُقِهِ দত্বালহা বিন মুছার্রিফ তার পিতা হ’তে, তিনি তার দাদা হ’তে

বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে দেখেছি, তিনি মাথার অগ্রভাগ মাসাহ করতেন। এমনকি তিনি ক্বাযাল পর্যন্ত হাত পৌছাতেন। (ক্বাযাল হ’ল) ঘাড়ের অগ্রভাগ হ’তে মাথার শেষ ভাগ।[24]

পর্যালোচনা : এটি যঈফ নিম্নোক্ত কারণে-

(১) এর সনদের ‘লায়ছ বিন আবী সুলায়েম’ নামক রাবীকে ইমাম মুসলিম (রহঃ),[25] ইবনুল জাওযী,[26] আবুল হাসান ইবনুল ক্বাত্ত্বান,[27] ইবনে আব্দুল হাদী (রহঃ),[28] ইমাম বায়হাক্বী (রহঃ),[29]  মুহাম্মাদ ইবনু তাহের আল-মাকদেসী,[30] ইয়াহ্ইয়া বিন মাঈন[31] ও আলবানী (রহঃ) তাকে যঈফ বলেছেন।[32] জমহুর বিদ্বানগণও তাকে যঈফ বলেছেন’।[33]

(২) ইমাম নাসাঈ (রহঃ) তাকে যঈফ ও পরিত্যাজ্য রাবীদের গ্রন্থে,[34] হাফেয আহমাদ শাহীন তাকে যঈফ ও মিথ্যুকদের গ্রন্থে,[35] ইবনুল জাওযী (রহঃ) তাকে যঈফ ও পরত্যিক্ত রাবীদের গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন[36] ও ইবনে হাজার আসক্বালানী তাকে মুদাল্লিসদের গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।[37]

(৩) হাফেয হায়ছামী (রহঃ) বলেছেন,وَهُوَ ثِقَةٌ، وَلَكِنَّهُ مُدَلِّسٌ ‘তিনি নির্ভরযোগ্য, তবে মুদাল্লিস’।[38]

(৪) ইবনে হিববান বলেছেন,اخْتَلَط فِي آخر عمره حَتَّى كَانَ لَا يدْرِيْ مَا يحدث بِهِ فَكَانَ يقلب الْأَسَانِيد ‘শেষ বয়সে মস্তিষ্ক খারাপ হয়ে গিয়েছিল। এমনকি তিনি বুঝতেন না কি বর্ণনা করেছেন। আর তিনি সনদসমূহ উলট-পালট করে ফেলতেন।[39] হাফেয ইবনে হাজার আসক্বালানী (রহঃ)ও অনুরূপ মন্তব্য করেছেন।[40]

(৫) ইমাম আহমাদ তাকে ‘মুযত্বারিবুল হাদীছ’ বলেছেন। ইয়াহ্ইয়া ও নাসাঈ তাকে যঈফ বলেছেন। ইবনে মাঈন বলেছেন, তাকে নিয়ে কোন অসুবিধা নেই। ইবনে হিববান বলেছেন, তার শেষ জীবনে হিফয বিকৃত হয়ে গিয়েছিল ইত্যাদি।[41]

এ বর্ণনার অপর রাবী ত্বালহার বাবা মুছার্রিফ একজন মাজহূল রাবী। যেমন-

নাছিরুদ্দীন আলবানী ত্বালহার বাবা মুছার্রিফকে মাজহূল বলেছেন।[42]

ইবনে হাজার আসক্বালানী লিখেছেন, مصرف ابن عمرو ابن كعب أو ابن كعب ابن عمرو اليامي الكوفي روى عنه طلحة ابن مصرف مجهول من الرابعة ‘মুছার্রিফ বিন আমর বিন কা‘ব অথবা কা‘ব বিন আমর আল-ইয়াম্মী আল-কূফী। তার থেকে ত্বালহা বিন মুছার্রিফ বর্ণনা করেছেন। তিনি চতুর্থ স্তরের মাজহূল রাবী’।[43]

অতএব এই রেওয়ায়াতটি আমল ও দলীলের উপযুক্ত নয়।

দলীল-৫ : ওয়ায়েল বিন হুজর (রাঃ) বলেছেন, ثُمَّ مَسَحَ رَقَبَتَهُ ‘অতঃপর তিনি তাঁর ঘাড় মাসাহ করলেন’।[44]

পর্যালোচনা : (১) এটি একটি দীর্ঘ হাদীছের অংশ। এই হাদীছে বুকের উপর হাত বাঁধা, আমীন জোরে বলা এবং রুকূ‘র আগে এবং পরে রাফ‘উল ইদায়নেরও উল্লেখ আছে। সুতরাং এতগুলি সুন্নাত বাদ দিয়ে কেবল ঘাড় মাসাহ করার অংশটুকু (যা স্পষ্ট বিদ‘আত) গ্রহণ করার বিষয়টি বোধগম্য নয়।

(২) ‘মুসনাদুল বায্যারে’ একটি রেওয়ায়াত আছে। তাতে তিনবার ঘাড় মাসাহ করার কথা আছে (হা/৪৪৮৮, وَمَسَحَ ظَاهِرَ رَقَبَتِهِ وَبَاطِنَ لِحْيَتِهِ ثَلاثًا،)। অথচ মুক্বাল্লিদগণ তিনবার ঘাড় মাসাহ করেন না।

(৩) এই সনদটি অত্যন্ত যঈফ। এতে মুহাম্মাদ বিন হুজর নামক রাবী আছেন, যিনি যঈফ। তার সম্পর্কে মনীষীগণ নিম্নোক্ত অভিমত পেশ করেন-

হাফেয হায়ছামী বলেছেন,وَفِيهِ سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، قَالَ النَّسَائِيُّ: لَيْسَ بِالْقَوِيِّ، وَذَكَرَهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي الثِّقَاتِ، وَفِي سَنَدِ الْبَزَّارِ وَالطَّبَرَانِيِّ مُحَمَّدُ بْنُ حَجَرٍ، وَهُوَ ضَعِيفٌ ‘এর সনদে সা‘ঈদ বিন আব্দুল জাববার আছেন। নাসাঈ বলেছেন, তিনি শক্তিশালী নন। ইবনে হিববান একে ‘আছ-ছিক্বাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বায্যার ও ত্বাবারাণীর সনদে মুহাম্মাদ বিন হুজর আছেন, যিনি যঈফ’।[45]

মুহাম্মাদ বিন হুজরকে ইমাম উক্বায়লী যঈফ রাবীদের মধ্যে[46] এবং ইবনুল জাওযী তাকে যঈফ ও পরিত্যক্ত রাবীদের মাঝে উল্লেখ করেছেন।[47]

ইমাম মুগলাত্বাঈ (রহঃ),[48] ইমাম আব্দুর রহমান মোবারকপুরী (রহঃ),[49]  হাফেয  শামসুদ্দীন  আয-যাহাবী[50]  ও  আলবানী

(রহঃ)[51] মুহাম্মাদ বিন হুজরকে যঈফ বলে উল্লেখ করেছেন।

(৪) উক্ত বর্ণনার অপর রাবী ‘সাঈদ বিন আব্দুল জাববার’ সম্পর্কে ইমামদের অভিমত সমূহ নিমণরূপ।-

শায়েখ আলবানী[52] ও ইবনে হাজার আসক্বালানী[53] তাকে যঈফ বলেছেন।

ইমাম নাসাঈ বলেছেন,سعيد بن عبد الْجَبَّار من ولد وَائِل بن حجر لَيْسَ بِالْقَوِيّ ‘সাঈদ বিন আব্দুল জাববার ওয়ায়েল ইবনে হুজরের পুত্র শক্তিশালী নন।[54]

(৫) আরেকজন রাবী হ’লেন উম্মে ইয়াহ্ইয়া। তার আসল নাম উম্মে আব্দুল জববার। আলবানী (রহঃ) লিখেছেন,وأم عبد الجبار هي أم يحيى، لم أعرف حالها ولا اسمها ‘উম্মে আব্দুল জাববার হ’লেন উম্মে ইয়াহ্ইয়া। আমি তার জীবনী ও নাম জানতে পারিনি।[55]

অতএব এই বর্ণনার সনদে একাধিক ক্রটিযুক্ত রাবী থাকায় এটি অত্যন্ত যঈফ।

দলীল-৬ : আমর বিন কা‘ব বিন বলেছেন,

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْحَضْرَمِيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُصَرِّفِ بْنِ عَمْرٍو الْيَامِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي مُصَرِّفُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السُّرَى بْنِ مُصَرِّفِ بْنِ كَعْبِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، يَبْلُغُ بِهِ كَعْبَ بْنَ عَمْرٍو، قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ فَمَسَحَ بَاطِنَ لِحْيَتِهِ وَقَفَاهُ

কা‘ব বিন আমর বলেছেন, আমি নবী করীম (ছাঃ)-কে দেখেছি তিনি ওযূ করলেন। এরপর তিনি তার দাঁড়ির অভ্যন্তরভাগ এবং ঘাড় মাসাহ করলেন।[56]

পর্যালোচনা : এটি অপরিচিত সনদে বর্ণিত বিধায় প্রত্যাখ্যাত।

(১) যয়নুদ্দীন আবুল ফযল আল-ইরাক্বী উল্লেখ করেন,قَالَ عبد الْحق هَذَا الْإِسْنَاد لَا أعرفهُ ‘আব্দুল হক্ব বলেছেন, এই সনদটি আমি চিনি না’।[57]

(২) ইবনু হাজার আসক্বালানী উল্লেখ করেছেন, قال عبد الحق في الأحكام الكبرى لا أعرفه بهذا الإسناد وما كتبته حتى أسأل عنه قال ابن القطان هو إسناد مجهول مسخ  ‘আব্দুল হক্ব ‘আল-আহকামুল কুবরা’ গ্রন্থে বলেছেন, আমি এই সনদটি চিনি না। আর আমি তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস না করা পর্যন্ত কিছু লিখতাম না। ইবনুল ক্বাত্ত্বান বলেছেন, এই সনদটি অস্বাভাবিক মাজহূল’।[58] সুতরাং মাজহূল সনদে বর্ণিত কোন রেওয়ায়াত গ্রহণ করা যাবে না। কেননা এটি যঈফের অন্তর্ভুক্ত।

দলীল-৭ :

عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْسَحُ رَأْسَهُ مَرَّةً وَاحِدَةً حَتَّى بَلَغَ الْقَذَالَ وَهُوَ أَوَّلُ الْقَفَا، وَقَالَ مُسَدَّدٌ مَسَحَ رَأْسَهُ مِنْ مُقَدَّمِهِ إِلَى مُؤَخَّرِهِ حَتَّى أَخْرَجَ يَدَيْهِ مِنْ تَحْتِ أُذُنَيْهِ، قَالَ مُسَدَّدٌ: فَحَدَّثْتُ بِهِ يَحْيَى فَأَنْكَرَهُ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: وسَمِعْت أَحْمَدَ، يَقُولُ: إِنَّ ابْنَ عُيَيْنَةَ زَعَمُوا أَنَّهُ كَانَ يُنْكِرُهُ، وَيَقُولُ إِيشْ هَذَا طَلْحَةُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ-

ত্বালহা বিন মুছার্রিফ তার পিতা হ’তে, তিনি তার দাদা হ’তে বর্ণনা করেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে দেখেছি তিনি তার মাথাকে একবার মাসাহ করতেন ‘ক্বাযাল’ পর্যন্ত। আর তা হচ্ছে ‘ক্বাফা’ (ঘাড়ের পিছন দিক)-এর প্রথম ভাগ। মুসাদ্দাদ বলেছেন, তিনি তার মাথাকে অগ্রভাগ হ’তে শেষভাগ পর্যন্ত মাসাহ করতেন। এ পর্যন্ত যে তিনি তার দু’ হাতকে তার দু’কানের নিম্নভাগ হ’তে বের করে আনতেন। মুসাদ্দাদ বলেন, আমি এটা ইয়াহইয়ার নিকটে বর্ণনা করেছি, তিনি একে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আবূ দাঊদ বলেছেন, আমি আহমাদ বিন হাম্বলকে বলেতে শুনেছি, নিশ্চয়ই ইবনে উয়ায়নাহ এই রেওয়ায়াতটিকে অস্বীকার করতেন এবং তিনি বলতেন, ‘ত্বালহা তার পিতা হ’তে, তিনি তার দাদা হ’তে’- এটি আসল কোথা হ’তে?[59]

পর্যালোচনা : এটি যঈফ। কারণ-

(১) এর সনদে লায়ছ রয়েছেন। তিনি জমহূর মুহাদ্দিছদের মতানুসারে যঈফ। ইমাম শাওকানী বলেছেন,الْحَدِيْثُ فِيْهِ لَيْثُ بْنُ أَبِي سَلِيمٍ وَهُوَ ضَعِيْفٌ، ‘হাদীছটিতে লায়ছ বিন সুলায়েম আছেন। আর তিনি যঈফ।[60]

(২) নাছিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) উল্লেখ করেন,

وهذا سند ضعيف لثلاثة أمور: الأول: ضعف ليث وهو ابن أبي سليم؛ قال الحافظ في التلخيص وهو ضعيف. وقال ابن حبان: كان يقلب الأسانيد، ويرفع المراسيل، ويأتي عن الثقات بما ليس من حديثهم، تركه يحيى بن القطان وابن مهدي وابن معين وأحمد بن حنبل. وقال النووي في تهذيب الأسماء : اتفق العلماء على ضعفه

‘আর এই সনদটি যঈফ তিনটি কারণে। প্রথমতঃ লায়ছের দুর্বলতা আছে এবং তিনি হ’লেন ইবনে আবী সুলায়ম। হাফেয ইবনে হাজার তার ‘আত-তালখীছ’ গ্রন্থে বলেছেন, তিনি যঈফ। ইবনে হিববান বলেছেন, তিনি সনদসমূহ উলট-পালট করে ফেলতেন এবং তিনি মুরসাল বর্ণনাসমূহকে মারফূ‘ রূপে বর্ণনা করতেন। তিনি ছিক্বাহদের থেকে এমন কিছু আনতেন, যেগুলি তাদের হাদীছের মধ্যে ছিল না। ইয়াহইয়া ইবনুল ক্বাত্তান, ইবনে মাহদী, ইবনে মাঈন এবং আহমাদ বিন হাম্বল তাকে বর্জন করেছেন। নববী ‘তাহযীবুল আসমা’ গ্রন্থে বলেছেন, তার দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে আলেমগণ একমত হয়েছেন।[61]

অতঃপর তিনি আরো লিখেছেন,والأمر الثاني: جهالة مصرفٍ والد طلحة فإنه مجهول، كما في للتقريب. وبه أعله ابن القطان. والثالث: الاختلاف في صحْبة والد مصرف هذا كما يأتي ‘দ্বিতীয় বিষয় হ’ল, ত্বালহার পিতা মুছার্রিফ-এর অজ্ঞাত হওয়া। নিশ্চয়ই তিনি মাজহূল যেমনটি আত-তাক্বরীব গ্রন্থে আছে এবং এ কারণেই ইবনুল ক্বাত্ত্বান তাকে ক্রটিযুক্ত বলেছেন (ঐ)

(৩) শামসুল হক আযীমাবাদী লিখেছেন,

إِنَّمَا الْكَلَامُ فِي مَسْحِ الرَّقَبَةِ الْمُعْتَادِ بَيْنَ النَّاسِ أَنَّهُمْ يَمْسَحُونَ الرَّقَبَةَ بِظُهُورِ الْأَصَابِعِ بَعْدَ فَرَاغِهِمْ عَنْ مَسْحِ الرَّأْسِ وَهَذِهِ الْكَيْفِيَّةُ لَمْ تَثْبُتْ فِي مَسْحِ الرَّقَبَةِ لَا مِنَ الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ وَلَا مِنَ الْحَسَنِ بَلْ مَا رُوِيَ فِي مَسْحِ الرَّقَبَةِ كُلُّهَا ضِعَافٌ كَمَا صَرَّحَ بِهِ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الْعُلَمَاءِ فَلَا يَجُوزُ الِاحْتِجَاجُ بِهَا-

‘সমালোচনা রয়েছে ঘাড় মাসাহ সম্পর্কে। যা লোকদের মাঝে অভ্যাসে পরিণত হয়েছে যে, তারা তাদের আঙ্গুলের পিঠ দ্বারা মাথা মাসাহর পরে ঘাড় মাসাহ করে। আর ঘাড় মাসাহর এই ধরণটি না কোন ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত আর না কোন হাসান হাদীছ দ্বারা। বরং ঘাড় মাসাহ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার প্রত্যেকটিই যঈফ। যেমনটি একাধিক আলেম স্পষ্ট করে বলেছেন। অতএব এগুলির দ্বারা দলীল পেশ করা যাবে না’।[62]

দলীল-৮ :عَنْ طَلْحَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ رَأْسَهُ حَتَّى بَلَغَ الْقَذَالَ وَمَا يَلِيهِ مِنْ مُقَدَّمِ الْعُنُقِ بِمَرَّةٍ. قَالَ الْقَذَالُ السَّالِفَةُ الْعُنُقِ- ‘ত্বালহা তার পিতা হ’তে, তিনি তার দাদা হ’তে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে দেখেছেন, তিনি তার মাথাকে ক্বাযাল পর্যন্ত মাসাহ করতেন এবং ঘাড়ের পূর্ব পর্যন্ত মাসাহ করতেন। তিনি বলেছেন, ক্বাযাল হ’ল ঘাড়ের আগের অংশ।[63]

পর্যালোচনা : এটি অত্যন্ত দুর্বল। কেননা-

এর সনদেও উপরোক্ত ‘লায়ছ’ রয়েছেন যিনি যঈফ বলে অধিকাংশ মুহাদ্দিছ মত দিয়েছেন। সেই সাথে উপরোল্লিখিত মাজহূল রাবী ত্বালহার পিতা এবং দাদাও আছেন। সুতরাং এটিও একই কারণে অত্যন্ত দুর্বল।

দলীল-৯ : حَدِيْثُ رُوِيَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَسْحُ الرَّقَبَةِ أَمَانٌ مِنْ الْغُلِّ- ‘একটি হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ‘ঘাড় মাসাহ করা হচ্ছে বেড়ী হ’তে মুক্তকারী’।[64]

পর্যালোচনা : এ বর্ণনাটি জাল বা বানোয়াট।

(১) ইবনে হাজার আসক্বালানী বলেছেন, هَذَا الْحَدِيثُ أَوْرَدَهُ أَبُو مُحَمَّدٍ الْجُوَيْنِيُّ وَقَالَ: لَمْ يَرْتَضِ أَئِمَّةُ الْحَدِيثِ إسْنَادَهُ فَحَصَلَ التَّرَدُّدُ فِي أَنَّ هَذَا الْفِعْلَ هُوَ سُنَّةٌ أَوْ أَدَب- ‘এই হাদীছটি আবূ মুহাম্মাদ আল-জুয়ায়নী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, এর সনদ সম্পর্কে হাদীছের ইমামগণ সন্তুষ্ট হননি। তাই এই বিষয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে যে, এই কাজটি সুন্নাত নাকি শিষ্টাচার’।[65]

(২) হাফেয ইবনুল মুলাক্কিন বলেছেন,هذا الحديث غريب جدا لا أعلم من خرجه بعد البحث عنه، ‘এই হাদীছটি অত্যন্ত গরীব। আমি কাউকে জানি না যিনি এ সম্পর্কে আলোচনা করার পর উক্ত রেওয়ায়াতটি (দলীলরূপে) বর্ণনা করেছেন’।[66]

(৩) ‘তাখরীজু আহাদীছিল ইহ্ইয়া’ গ্রন্থে লেখা হয়েছে, أخرجه أَبُو مَنْصُور الديلمي فِي مُسْند الفردوس من حَدِيث عمر وَهُوَ ضَعِيف ‘এটি আবূ মানছূর দায়লামী ‘মুসনাদুল ফেরদাউস’ গ্রন্থে ওমর (রাঃ)-এর হাদীছ হ’তে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি যঈফ (হা/৩, পৃঃ ১৯৮)

(৪) ইমাম নববী লিখেছেন, وَأَمَّا قَوْلُ الْغَزَالِيِّ إنَّ مَسْحَ الرَّقَبَةِ سُنَّةٌ لِقَوْلِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَسْحُ الرَّقَبَةِ أَمَانٌ مِنْ الْغُلِّ فَغَلَطٌ لِأَنَّ هَذَا مَوْضُوْعٌ لَيْسَ مِنْ كَلَامِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‘আর গাযালীর উক্তি ‘নিশ্চয়ই ঘাড় মাসাহ করা সুন্নাত। কারণ মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর বাণী ঘাড় মাসাহ করা বেড়ী হ’তে মুক্তকারী’ -উক্তিটি ভুল। কেননা এটি বানোয়াট, নবী করীম (ছাঃ)-এর বাণীর অন্তর্ভুক্ত নয়।[67] তিনি ‘শারহুল মুহায্যাব’ গ্রন্থে একেمَوْضُوع  ‘বানোয়াট’ বলেছেন।[68] ইবনুছ ছালাহ বলেছেন, لَا يُعرَفُ مَرْفُوعًا وَإِنَّمَا هُوَ قَول بعض السّلف، ‘এটি মারফূরূপে চেনা যায় না। মূলতঃ এটি কোন সালাফের উক্তি’।[69]

(৫) মুহাম্মাদ ইবনু তাহের আল-ফাত্তানী বলেন, مَسْحُ الرَّقَبَةِ أَمَانٌ مِنْ الْغُلِّ ضعيف ‘ঘাড় মাসাহ করা শৃঙ্খল হ’তে মুক্তকারী’- (এটি) যঈফ।[70]

(৭) মুহাম্মাদ ইবনু খলীল আত-তারাবুলসী বলেন, حَدِيث: مسح الرَّقَبَة أَمَان مِنَ الغل. قَالَ النَّوَوِيّ: مَوْضُوْع، أَي رَفعه وَإِلَّا فقد ورد مَوْقُوفا عَن مُوسَى بن طَلْحَة، بل فِي مُسْند الفردوس من حَدِيث ابْن عمر بِسَنَد ضَعِيف، وَلذَا اسْتحبَّ أَئِمَّتنَا مسح الرَّقَبَة. ‘ঘাড় মাসাহ করা বেড়ী হ’তে রক্ষাকারী- হাদীছটি সম্পর্কে নববী বলেছেন, এটি বানোয়াট। অর্থাৎ মারফূ‘ হিসেবে (বানোয়াট)। তবে মূসা বিন ত্বালহা হ’তে মওকূফরূপে বর্ণিত হয়েছে। বরং মুসনাদুল ফেরদাউসে ইবনে ওমর হ’তে যঈফ সনদে বর্ণিত হয়েছে। আর সেজন্য আমাদের ইমামগণ ঘাড় মাসাহ করা মুসতাহাব বলেছেন।[71]

এটি সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। যা প্রমাণিত হয়নি তা মুসতাহাব ইবাদত হিসাবে গৃহীত হওয়ার যোগ্য নয়। উপরন্তু ঘাড় মাসাহ করা সুন্নাতের ভিতরে অনুপ্রবেশকৃত আমল যা শরী‘আত বিরোধী।

দলীল-১০ :قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من توضأ ومسح عنقه لم يغل بالأغلال يوم القيامة রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ওযূ করবে এবং তার ঘাড় মাসাহ করবে, তাকে ক্বিয়ামতের দিনে শৃঙ্খল পরিধান করানো হবে না’।[72]

পর্যালোচনা : এটি অত্যন্ত যঈফ। কারণ-

(১) আল-হাসান ইবনু আহমাদ আর-রবাঈ বলেন,ولم يصح في مسح العنق شيء، وحديث طلحة بن مصرف لا يصح الاستدلال به في ندب مسح العنق؛ ‘মাথা মাসাহ করার বিষয়ে কোন কিছুই ছহীহ নয়। আর ত্বালহা বিন মুছার্রিফের হাদীছ দ্বারা দলীল গ্রহণ করা শুদ্ধ নয়, ঘাড় মাসাহ করার মুসতাহাব হওয়া সম্পর্কে।[73]

(২) ইবনুল মুলাক্কিন (রহঃ) বলেছেন,هذا الحديث أيضا غريب ‘এই হাদীছটিও অত্যন্ত গরীব’।[74]

(৩) নাছিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) একে বানোয়াট বলেছেন।[75]

দলীল-১১ :

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ طَلْحَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ فَمَسَحَ رَأْسَهُ هَكَذَا، وَأَمَرَّ حَفْصٌ بِيَدَيْهِ عَلَى رَأْسِهِ حَتَّى مَسَحَ قَفَاهُ –

‘ত্বালহা তার পিতা হ’তে, তিনি তার দাদা হ’তে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ছাঃ)-কে দেখেছি তিনি ওযূ করেছেন এবং তার মাথাকে এভাবে মাসাহ করেছেন। এরপর হাফছ তার দু’হাতকে তার মাথার উপর অতিক্রম করালেন। এ পর্যন্ত যে তিরি তার ক্বাফা-কে মাসাহ করলেন।[76]

পর্যালোচনা : এটি খুবই দুর্বল। কারণ এখানে লায়ছ রয়েছেন। উপরন্তু ‘ত্বালহা তার পিতা হ’তে, তিনি তার দাদা হ’তে’ সনদে এটি বর্ণিত। যা একে যঈফ হওয়ার প্রতি ধাবিত করেছে। 

 

…………………………………………………………………………………….

[1]. মুহিউদ্দীন খানের আরজসম্বলিত মোকাম্মাল মোদাল্লাল বেহেশতী জেওর (ঢাকা : হামিদিয়া লাইব্রেরী, তৃতীয় সংস্করণ, ফেব্রুয়ারী ২০০৪ইং), ১/২৩

[2]. নবী করীম (ছাঃ)-এর প্রতি সম্বন্ধিত কথা, কর্ম ও মৌন সমর্থনকে মারফূহাদীছ (মারফূরেওয়ায়াত বর্ণনা) বলা হয়।-লেখক]

[3]. আত-তালখীছুল হাবীর হা/৯৮। 

[4]. তালখীছ হা/৯৮-এর আলোচনা দ্রঃ

[5]. নায়লুল আওত্বার হা/১৯৮-এর আলোচনা দ্রঃ

[6]. ইবনুল জাওযী, আত-তাহক্বীক্ব ফী মাসাইলিল খিলাফ হা/৩০৬-এর আলোচনা দ্রঃ, ১/২৬২, সনদবিহীন

[7]. আল-মাক্বাছিদুল হাসানা হা/১৬২-এর আলোচনা দ্রঃ, পৃঃ ১৫০

[8]. তারীখে ইবনে মাঈন, দূরীর বর্ণনা, রাবী নং ৪৮৯৩।

[9]. মাজমাউয যাওয়ায়েদ হা/১৬৮৫২, ১০/৯০।

[10]. আদ-দিরায়াহ ফী তাখরীজি আহাদীছিল হিদায়া হা/৬৮, ১/৮৫

[11]. ইবনু আবী হাতিম, আল-জারহু ওয়াত-তাদীল, রাবী নং ২৭৭

[12]. আল-ফাওয়াইদুল মাজমূআহ হা/৪৬; আল-কামিল ফী যুআফাইর রিজাল, রাবী নং ৪৮৯

[13]. আয-যুআফাউল মাতরূকীন, রাবী নং ৮৯৮

[14]. আত-তালখীছুল হাবীর হা/৯৮, ইবনে হাজার (রহঃ) এটি আবূ নুআইম (রহঃ)-এর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন

[15]. তারীখে ইয়াহ্ইয়া বিন মাঈন, দূরীর বর্ণনা, রাবী নং ৩৩২৮।

[16]. নায়লুল আওত্বার হা/১৯৮।

[17]. ইতহাফুল মাহারাহ হা/১৯৮১১।

[18]. যঈফা হা/৬৯, হা/৫১৫১

[19]. আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি-আহমাদ, আব্দুল্লাহ বিন আহমাদের বর্ণনা, রাবী নং ৩২৪৮; উক্বায়লী, আয-যুআফা, রাবী নং ১৬৬৮; সুওয়ালাতু আবী উবায়েদ আল-আজুর্রী, রাবী নং ৫৬১।

[20]. তারীখু আসমাইয যুআফা ওয়াল কায্যাবীন, রাবী নং ৫৫৫।

[21]. আল-মুসতাদরাক আলাছ ছহীহায়ন হা/৬৬৫

[22]. কানযুল উম্মাল হা/২৬১৪২

[23]. কাশফুল খফা হা/২৩০০

[24]. শরহু মাআনিল আছার হা/১২৯

[25]. ছহীহ মুসলিম, ভূমিকা ১/৫।

[26]. আত-তাহক্বীক্ব ফী মাসাইলিল খিলাফ হা/১৩১৫।

[27]. বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ঈহাম ফী কুতুবিল আহকাম ৫/২৯৫

[28]. তানক্বীহুত তাহক্বীক ৩/২৩৪

[29]. আল-জাওহারুন নাক্বী ১/২৯৮।

[30]. মারিফাতুত তাযকিরাহ, পৃঃ ১২২, জীবনী নং ২৬৮।

[31]. তারীখে ইবনে মাঈন, দারেমীর বর্ণনা, ক্রমিক নং ৭২০।

[32]. সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৫৪

[33]. ইতহাফুল মাহারাহ হা/২৭৬০

[34]. আয-যুআফাউল মাতরূকীন, পৃঃ ২৩০, জীবনী ক্রমিক নং ৫১১।

[35]. তারীখু আসমাইয যুআফা ওয়াল কায্যাবীন, জীবনী ক্রমিক নং ৫৩১।

[36]. আয-যুআফাউল মাতরূকীন, নং ২৮১৫।

[37]. ত্বাবাক্বাতুল মুদাল্লিসীন নং ১৬/১৬৮

[38]. মাজমাউয যাওয়ায়েদ হা/ ৬৩৬৪

[39]. আল-মাজরূহীন, রাবী নং ৯০৬

[40]. তাক্বরীবুত তাহযীব, রাবী নং ৫৬৮৫

[41]. মীযানুল ইতিদাল নং ৬৯৯৭

[42]. যঈফ আবূ দাঊদ হা/১৫

[43]. তাক্বরীবুত তাহযীব, রাবী নং ৬৬৮৫

[44]. আল-মুজামুল কাবীর হা/১১৮

[45]. মাজমাউয যাওয়ায়েদ হা/১১৭৮

[46]. আয-যুআফা, রাবী নং ১৬১০।

[47]. আয-যুআফাউল মাতরূকীন, রাবী নং ২৯৩২

[48]. শরহে ইবনে মাজাহ, পৃঃ ১৩৮২।

[49]. তুহফাতুল আহওয়াযী হা/২৭ দ্রঃ।

[50]. আল-মুক্বতানা ফী সারদিল কুনা১/১৪৫, রাবী নং ১০৭০।

[51]. আছ-ছামারুল মুসতাত্বাব, পৃঃ ৪৭৮।

[52]. , পৃঃ ৪৭৮।

[53]. তাক্বরীবুত তাহযীব, রাবী নং ২৩৪৪।

[54]. আয-যুআফাউল মাতরূকীন, রাবী নং ২৬৫

[55]. যঈফা হা/৪৪৯

[56]. আল-মুজামুল কাবীর হা/৪১২, ১৯/১৮১

[57]. যায়লু মীযানিল ইতিদালরাবী নং ৬৮৯

[58]. লিসানুল মীযানরাবী নং ১৬৪

[59]. আবূ দাঊদ হা/১৩২

[60]. নায়লুল আওত্বার হা/১৯৮, ‘ঘাড় মাসাহঅনুচ্ছেদ

[61]. তাহক্বীক যঈফ আবূ দাঊদ হা/১৫, মূল আবুদাউদ হা/১৩২

[62]. আওনুল মাবূদ ১/১৫২

[63]. মুসনাদে আহমাদ হা/১৫৯৫১

[64]. আত-তালখীছুল হাবীর হা/৯৭

[65]. , হা/৯৭-এর আলোচনা দ্রঃ

[66]. আল-বাদরুল মুনীর হা/৪৭

[67]. আল-মাজমূশারহুল মুহায্যাব ১/৪৬৫

[68]. তানযীহুশ শারীআহ ২/৮৫, ক্রমিক নং ৩৫

[69]. ২/৮৫, ক্রমিক নং ৩৫

[70]. তাযকিরাতুল মাউযূআত, পৃঃ ৩১

[71]. আল-লুলুউল মারছূ হা/৫০৪, পৃঃ ১৬৮

[72]. আত-তালখীছুল হাবীর হা/৯৮

[73]. ফাৎহুল গাফ্ফার হা/২৯০

[74]. আল-বাদরুল মুনীর হা/৪৮

[75]. সিলসিলাহ যঈফা হা/৭৪৪

[76]. মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ হা/১৫০

 

 

২য় অংশ  

 

(খ) মাওকূফ বর্ণনাসমূহ :

দলীল-১ : ইবনে হাজার আসক্বালানী (রহঃ) লিখেছেন,

رَوَاهُ أَبُو عُبَيْدٍ فِيْ كِتَابِ الطُّهُورِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ عَنْ الْمَسْعُودِيِّ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ قَالَ: مَنْ مَسَحَ قَفَاهُ مَعَ رَأْسِهِ وُقِيَ الْغُلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

‘আবু ওবায়দাহ এটি ‘কিতাবুত তুহূরে’ বর্ণনা করেন আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী হ’তে, তিনি মাসঊদী হ’তে, তিনি কাসেম বিন আব্দুর রহমান হ’তে, তিনি মূসা বিন ত্বালহা হ’তে। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি মাথার সাথে গর্দান মাসাহ করবে, ক্বিয়ামতের দিন তাকে বেড়ী পরানো হ’তে মুক্ত রাখা হবে’।[1]

তাহক্বীক্ব : এটি মুরসাল রেওয়ায়াত, যা যঈফ এবং দলীলের অনুপযুক্ত নিম্নোক্ত কারণে।

(১) ইবনে হাজার (রহঃ) নিজেই একে মুরসাল বলেছেন।[2]

(২) ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেছেন, وَالْمُرْسَلُ مِنَ الرِّوَايَاتِ فِي أَصْلِ قَوْلِنَا، وَقَوْلِ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالْأَخْبَارِ لَيْسَ بِحُجَّةٍ ‘আমাদের মৌলিক কথা এবং হাদীছ বিশারদগণের উক্তি হ’ল, মুরসাল বর্ণনা দলীল নয়’।[3]

(৩) ইমাম তিরমিযী বলেছেন,والْحَدِيث إِذا كَانَ مُرْسلا فَإِنَّهُ لَا يَصح عِنْد أَكثر أهل الحَدِيث قد ضعفه غير وَاحِد مِنْهُم ‘আর হাদীছ যখন মুরসাল হবে তখন অধিকাংশ মুহাদ্দিছের মতে তা (তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা) শুদ্ধ হবে না। নিশ্চয়ই মুরসাল বর্ণনাকে একাধিক মুহাদ্দিছ যঈফ বলেছেন’।[4]

(৪) হাফেয ইরাক্বী লিখেছেন,

وَرَدَّهُ جَمَاهِرُ النُّقَّادِ… لِلجَهْلِ بِالسَّاقِطِ في الإسْنَادِ

‘জমহূর মুহাদ্দিছগণ একে (মুরসাল বর্ণনাকে) বাতিল বলেছেন।… সনদের মধ্যে রাবীর পতিত হওয়ার বিষয়টি অজ্ঞাত থাকার কারণে।[5] অর্থাৎ মুরসাল বর্ণনাতে কোন্ রাবী বাদ পড়ে গিয়েছেন তা অজানা থাকার কারণে একে যঈফ হিসাবে গণ্য করা হয়।

(৫) যয়নুদ্দীন আল-ইরাক্বী বলেন,وما ذكرناه من سقوط إلاحتجاج بالمرسل والحكم بضعفه هو المذهب الذي استقر عليه آراء جماهير حفاظ الحديث ونقاد إلاثر ‘মুরসাল বর্ণনা দ্বারা দলীল পেশ করার বিষয়টি বর্জিত হওয়া এবং তার যঈফ হওয়ার হুকুম সম্পর্কে আমরা যা উল্লেখ করেছি, এ ব্যাপারে জমহূর হাদীছের হাফেয এবং নাক্কাদুল আছারগণ (হাদীছের সমালোচক মুহাদ্দিছগণ) স্বীকৃতি দিয়েছেন’।[6]

(৬) ইমাম নববী (রহঃ) লিখেছেন,ثُمَّ الْمُرْسَلُ حَدِيْثٌ ضَعِيْفٌ عِنْدَ جَمَاهِيرِ الْمُحَدِّثِينَ وَالشَّافِعِيِّ وَكَثِيْرٍ مِنَ الْفُقَهَاءِ وَأَصْحَابِ الْأُصُولِ ‘অতঃপর মুরসাল হাদীছ অধিকাংশ মুহাদ্দিছ, শাফেঈ, অধিকাংশ ফক্বীহ ও আছহাবুল উছূলদের নিকটে যঈফ’।[7]

(৭) ইমাম আবূদাঊদ লিখেছেন,فَإِذا لم يكن مُسْند غير الْمَرَاسِيل وَلم يُوجد الْمسند فالمرسل يحْتَج بِهِ وَلَيْسَ هُوَ مثل الْمُتَّصِل فِي الْقُوَّة ‘আর যখন মুরসাল ব্যতীত কোন মুসনাদ বর্ণনা থাকবে না এবং কোন মুসনাদ পাওয়া না যায় তখন মুরসাল দ্বারা দলীল পেশ করা যাবে। আর এটি মুত্তাছিল-এর ন্যায় শক্তিশালী নয়।[8]

‘দলিলসহ নামাযের মাসায়েল’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, ইমাম আবূ দাঊদ বলেছেন,وَأما الْمَرَاسِيل فقد كَانَ يحْتَج بهَا الْعلمَاء فِيمَا مضى مثل سُفْيَان الثَّوْريّ وَمَالك بن أنس وَالْأَوْزَاعِيّ حَتَّى جَاءَ الشَّافِعِي فَتكلم فِيْهَا অর্থাৎ মুরসাল হাদীছ দ্বারা প্রমাণ পেশ করতেন পূর্বেকার আলেমগণ। যেমন, সুফিয়ান ছাওরী, মালেক ও আওযাঈ। অবশেষে শাফেঈ এসে এতে আপত্তি করেছেন (পৃঃ ৪১৬)। এখানে ইমাম আবূদাঊদের উক্তির বাকী অংশ উল্লেখ করা হয়নি। তিনি বলেছেন,وَتَابعه على ذَلِك أَحْمد بن حَنْبَل وَغَيره رضوَان الله عَلَيْهِم ‘আর তাকে আহমাদ বিন হাম্বল এবং অন্যরা অনুসরণ করেছেন’।[9] সবশেষে ইমাম আবূদাউদ বলেছেন,فَإِذا لم يكن مُسْند غير الْمَرَاسِيل وَلم يُوجد الْمسند فالمرسل يحْتَج بِهِ وَلَيْسَ هُوَ مثل الْمُتَّصِل فِي الْقُوَّة ‘আর যখন মুরসাল ব্যতীত কোন মুসনাদ বর্ণনা না থাকে এবং কোন মুসনাদ পাওয়া না যায় তখন মুরসাল দ্বারা দলীল পেশ করা যাবে। আর এটি মুত্তাছিল-এর ন্যায় শক্তিশালী নয়।[10] অর্থাৎ ইমাম আবূদাঊদ শর্ত সাপেক্ষে মুরসাল বর্ণনা গ্রহণ করার কথা বলেছেন। নিঃশর্তভাবে মুরসাল রেওয়ায়াত গ্রহণ করার কোন ভিত্তি নেই। আর ছাহাবীগণও নিরীক্ষা করে হাদীছ গ্রহণ করতেন। এমনকি এক ছাহাবী আরেক ছাহাবীর কথাকেও যাচাই-বাছাই করে গ্রহণ করতেন।

তাক্বলীদপন্থীদের দাবী অনুসারে চার মাযহাবই সঠিক। সুতরাং যদি ইমাম শাফেঈ বা ইমাম চতুষ্টয়ের মধ্য হ’তে কোন একজন ইমাম মুরসাল রেওয়ায়াতকে গ্রহণ করা বেঠিক মনে করেন তবে তা তাক্বলীদপন্থীদের নিকটে সঠিক অভিমত হিসাবে গণ্য হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত।

মুরসাল রেওয়ায়াত সম্পর্কে বাংলাভাষী হকপিয়াসু ভাই-বোনদের অত্যন্ত প্রিয় মাসিক পত্রিকা ‘আত-তাহরীক’ প্রদত্ত ফৎওয়া নিমণরূপ-

যে হাদীছ কোন তাবেঈ মধ্যবর্তী রাবীর নাম উল্লেখ না করে সরাসরি রাসূল (ছাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তাকে ‘মুরসাল’ হাদীছ বলে। ‘মুরসাল’ হাদীছ যঈফ হাদীছের শ্রেণীভূক্ত। এ জন্য জমহূর মুহাদ্দিছীনের নিকটে মুরসাল হাদীছ সাধারণভাবে দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়।[11]

তবে শর্তসাপেক্ষে ‘মুরসাল’ হাদীছ গ্রহণযোগ্য হ’তে পারে। যেমন ইমাম শাফেঈ সহ অপরাপর ইমামগণ উল্লেখ করেছেন- ১. রাবী উঁচু স্তরের তাবেঈ হওয়া। ২. রাবী যে রাবীর কাছ থেকে ‘ইরসাল’টি করেছেন তাঁকে ‘ছিক্বাহ’ বা বিশ্বস্ত বলে উল্লেখ করা। ৩. বিশ্বস্ত অন্য কোন রাবী’র বিরোধিতা না থাকা এবং ৪. নিম্নোক্ত চারটি শর্তের যে কোন একটি থাকা- যেমন (ক) অন্য কোন মুসনাদ সূত্রে বর্ণিত হওয়া। (খ) অপর কোন মুরসাল সূত্রে বর্ণিত হওয়া। (গ) ছাহাবীর কওল দ্বারা সমর্থিত হওয়া। অথবা (ঘ) অধিকাংশ বিদ্বানের মতামতের অনুকূলে হওয়া। এ সকল শর্ত পাওয়া গেলেই কেবল মুরসাল হাদীছ দলীল হিসাবে বিবেচিত হ’তে পারে।[12]

মোটকথা, মুরসাল রেওয়ায়াত শর্তহীনভাবে দলীলযোগ্য নয়। কেননা এতে রাবী মাজহূল থেকে যান এবং এর সনদে রাবীর বিচ্ছিন্নতা রয়ে যায়। যদি মুরসাল বর্ণনার পক্ষে গ্রহণযোগ্য শাহেদ বা মুতাবা‘আত বিদ্যমান থাকে তাহ’লে তা দলীলের যোগ্য হ’তে পারে।

উক্ত বর্ণনার রাবী ‘মাসঊদী’ সম্পর্কে বিদ্বানগণের বক্তব্য নিমণরূপ-

(১) ইবনে সা‘দ বলেছেন,

المسعودي واسمه عبد الرحمن بن عبد الله بن عتبة بن عبد الله بن مسعود، مات ببغداد، وكان ثقة كثير الحديث إلا أنه اختلط في آخر عمره-

‘মাস‘ঊদীর নাম হ’ল আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ। তিনি বাগদাদে মারা যান। তিনি ছিক্বাহ ও অত্যধিক হাদীছ বর্ণনাকরী ছিলেন। তবে শেষ বয়সে ইখতিলাত্বের শিকার হয়েছিলেন’।[13] ইমাম ইজলী বলেছেন, إلا أنه تغير بآخرة‘তবে শেষ জীবনে তার স্মৃতিশক্তি পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল’।[14]

(২) ইবনুল জাওযী মাসঊদী সম্পর্কে লিখেছেন,قَالَ الْعقيلِيّ تغير فِي آخر عمره فِي حَدِيثه اضْطِرَاب ‘উক্বায়লী বলেছেন, তার শেষ জীবনে স্মৃতি পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। তার হাদীছে অসংগতি রয়েছে’।[15]

(৩) হাফেয যাহাবী উল্লেখ করেছেন, قَالَ ابْن نمير ثِقَة اخْتَلَط بِآخِرهِ وَقَالَ ابْن حبَان كَانَ صَدُوقًا إِلَّا أَنه اخْتَلَط فِي آخر عمره- ‘ইবনে নুমায়ের বলেছেন, তিনি ছিকবাহ। তার শেষ জীবনে ইখতিলাত্ব হয়েছিল এবং ইবনে হিববান বলেছেন, তিনি সত্যবাদী ছিলেন। তবে তার শেষ বয়সে তিনি ইখতিলাত্বে পতিত হয়েছিলেন’।[16]

(৪) হাফেয আলাঈ[17] ও হাফেয বুরহানুদ্দীন তাকে ‘মুখতালিত্বীনদের’ মধ্যে উল্লেখ করেছেন।[18]

(৫) আছ-ছিফাদী উল্লেখ করেছেন,قَالَ أَبُو حَاتِم تغير قبل مَوته بِيَسِيْر سنة أَو سنتَيْن وَكَانَ أعلم أهل زَمَانه بِحَدِيث ابْن مَسْعُود ‘আবূ হাতিম বলেছেন, তার মরণের এক বা দু’বছর আগে স্মৃতি পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। তিনি তার যামানায় ইবনে মাসঊদ হ’তে হাদীছ বর্ণনায় সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন’।[19]

মোদ্দাকথা, তিনি আস্থাভাজন রাবী ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটে গিয়েছিল। ফলে তিনি যঈফ রাবীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছেন।

দলীল-২:

عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ إِذَا مَسَحَ رَأْسَهُ مَسَحَ قَفَاهُ مَعَ رَأْسِهِ. هَذَا مَوْقُوْفٌ وَالْمُسْنَدُ فِيْ إِسْنَادِهِ ضَعْفٌ وَاللهُ أَعْلَمُ-

ইবনে ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি যখন তার মাথা মাসাহ করতেন তখন তার ‘ক্বাফা’-কেও মাথা সহ মাসাহ করতেন। এটি মাওকূফ। আর মুসনাদ বর্ণনাটির সনদে দুর্বলতা আছে।

আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।[20]

পর্যালোচনা : এটি অত্যন্ত যঈফ। কারণ এতে আবূ ইসরাঈল নামক রাবী রয়েছেন, যিনি অত্যন্ত দুর্বল। তার সম্পর্কে মনীষীগণের উক্তিসমূহ নিমণরূপ-

(১) শামসুদ্দীন আয-যাহাবী বলেন, إسماعيل بن خليفة هو أبو إسرائيل الملائي واه- ‘ইসমাঈল বিন খলীফা হ’লেন আবূ ইসরাঈল আল-মুলাঈ যিনি অত্যন্ত দুর্বল।[21] তিনি আরো বলেন, أبو إسرائيل الملائي، أحد الضعفاء، ‘ইসরাঈল অন্যতম যঈফ রাবী’।[22] অন্যত্র তিনি উল্লেখ করেন, ضعفوه، وقد كان شيعيا بغيضا من الغلاة الذين يكفرون عثمان رضي الله عنه- ‘মুহাদ্দিছগণ তাকে যঈফ বলেছেন। নিশ্চয়ই তিনি চরমপন্থী শী‘আদের অন্যতম ছিলেন। যারা ওছমান (রাঃ)-কে কাফের বলতেন’।[23]

(২) ইবনুত তুরকুমানী হানাফী[24], ইমাম দারাকুৎনী[25], ইবনুল জাওযী[26], ইবনে শাহীন[27], জালালুদ্দীন সয়ূতী[28] প্রমুখ বলেন, আবূ ইসরাঈল যঈফ রাবী।

(৩) ইমাম উক্বায়লী বলেছেন,إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ أَبُو إِسْرَائِيلَ الْمُلَائِيُّ فِي حَدِيثِهِ وَهْمٌ وَاضْطِرَابٌ، ‘ইসমাঈল বিন আবী ইসহাক্ব আবূ ইসরাঈল আল-মুলাঈ- তার হাদীছে ভুল এবং অসংগতি আছে’।[29]

(৪) মুহাম্মাদ ইবনু তাহের মাকদেসী বলেন, والملائي مَتْرُوك الحَدِيث ‘আর মুলাঈ হ’লেন মাতরূকুল হাদীছ’।[30] অর্থাৎ তার হাদীছ প্রত্যাখ্যাত। অন্যত্র আছে,وَأَبُو إِسْرَائِيل هَذَا كَذَّاب مَتْرُوك الحَدِيث، ‘এই আবূ ইসরাঈল একজন মিথ্যুক, মাতরূকুল হাদীছ’।[31]

(৫) আবুল হাসান আলী আল-কেনানী বলেন,كَانَ رَافِضِيًّا تَركه ابْن مهْدي، وَقَالَ ابْن حبَان مُنكر الحَدِيث واتهمه الْعقيلِيّ بِحَدِيث ‘সে (আবূ ইসরাঈল আল-মুলাঈ) রাফেযী ছিলেন। ইবনে মাহদী তাকে বর্জন করেছেন এবং ইবনে হিববান বলেছেন, তিনি মুনকারুল হাদীছ। উক্বায়লী একটি হাদীছের ব্যাপারে তার উপর হাদীছ জালকরণের অভিযোগ আরোপ করেছেন’।[32]

(৬) ইমাম বুখারী (রহঃ) লিখেছেন,تَركه بن مهْدي وَقَالَ كَانَ يشْتم عُثْمَان وَضَعفه أَبُو الْوَلِيد ‘ইবনে মাহদী তাকে বর্জন করেছেন। তিনি ওছমান (রাঃ)-কে গালি দিতেন’।[33] ইমাম ইবনে হিববানও অনুরূপ বলেছেন।[34]

(৭) ইমাম নাসাঈ (রহঃ) লিখেছেন,إِسْمَاعِيل بن أبي إِسْحَاق الْملَائي أَبُو إِسْرَائِيل لَيْسَ بِثِقَة ‘ইসমাঈল বিন আবী ইসহাক্ব আল-মুলাঈ আবূ ইসরাঈল ছিক্বাহ ছিলেন না’।[35]

(৮) ইমাম দারা-কুৎনী তাকে যঈফ এবং প্রত্যাখ্যাত রাবীদের গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।[36]

(৯) নাছিরুদ্দীন আলবানী বলেছেন,وأبو إسرائيل واسمه إسماعيل بن خليفة ضعيف لسوء حفظه ‘আবূ ইসরাঈল… যঈফ। তার মন্দ স্মৃতিশক্তির জন্য’।[37]

(১০) যুবায়ের আলী যাঈ বলেছেন, ابو اسرائيل الملائي اسمعيل بن خليفة ضعيف، ضعفه الجمهور من جهة حفظه- ‘আবূ ইসরাঈল … যঈফ তার হিফযের কারণে জমহূর মুহাদ্দিছগণ তাকে যঈফ বলেছেন’।[38]

ঘাড় মাসাহ সম্পর্কে ইমামদের ফৎওয়াসমূহ :

(১) শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তায়মিয়া (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, নবী করীম (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরামের কারো থেকে ওযূতে ঘাড় মাসাহ করার ব্যাপারে কোন ছহীহ বর্ণনা আছে কি? উত্তরে তিনি বলেন,

لَمْ يَصِحَّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ مَسَحَ عَلَى عُنُقِهِ فِي الْوُضُوءِ بَلْ وَلَا رُوِيَ عَنْهُ ذَلِكَ فِي حَدِيثٍ صَحِيحٍ بَلْ الْأَحَادِيثُ الصَّحِيحَةُ الَّتِي فِيهَا صِفَةُ وَضَوْءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَكُنْ يَمْسَحُ عَلَى عُنُقِهِ؛ وَلِهَذَا لَمْ يَسْتَحِبَّ ذَلِكَ جُمْهُورُ الْعُلَمَاءِ كَمَالِكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَد فِي ظَاهِرِ مَذْهَبِهِمْ وَمَنْ اسْتَحَبَّهُ فَاعْتَمَدَ فِيهِ عَلَى أَثَرٍ يُرْوَى عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَوْ حَدِيثٍ يَضْعُفُ نَقْلُهُ: {أَنَّهُ مَسَحَ رَأْسَهُ حَتَّى بَلَغَ الْقَذَالَ} وَمِثْلَ ذَلِكَ لَا يَصْلُحُ عُمْدَةً وَلَا يُعَارِضُ مَا دَلَّتْ عَلَيْهِ الْأَحَادِيثُ وَمَنْ تَرَكَ مَسْحَ الْعُنُقِ فَوُضُوءُهُ صَحِيحٌ بِاتِّفَاقِ الْعُلَمَاءِ. وَاَللهُ أَعْلَمُ-

‘নবী করীম (ছাঃ) থেকে ছহীহ সূত্রে প্রমাণিত হয়নি যে, তিনি ওযূতে ঘাড় মাসাহ করেছেন। বরং তাঁর থেকে এ বিষয়ে একটি ছহীহ হাদীছও বর্ণিত হয়নি। এমনকি যে সকল ছহীহ হাদীছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ওযূর পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে, সেখানেও তাঁর ঘাড় মাসাহ উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণেই জমহূর বিদ্বানগণ একে মুস্তাহাব মনে করেননি। যেমন মালেক, শাফেঈ ও আহমাদ তাঁদের প্রকাশ্য অভিমতে। আর যারা একে মুস্তাহাব করেছেন, তারা একটি আছারের উপরে নির্ভর করেছেন। যা আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত হয়েছে। কিংবা কোন হাদীছের উপরে, যেটির বর্ণনাকে দুর্বল বলা হয়- ‘নিশ্চয়ই তিনি তার মাথাকে মাসাহ করতেন ক্বাযাল পর্যন্ত’। এর অনুরূপ যার গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণিত নয় এবং এর বিরুদ্ধে যেগুলি হাদীছ নির্দেশনা করে সেগুলির সাথে সাংঘর্ষিকও নয়। যে ঘাড় মাসাহকে বর্জন করবে, আলেমদের ঐক্যমতে তার ওযূ বিশুদ্ধ হবে। আর আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।[39]

(২) শায়খ বিন বায (রহঃ) বলেন,ولا يشرع مسح العنق، وإنما المسح يكون للرأس والأذنين فقط، كما دل على ذلك الكتاب والسنة. ‘ঘাড় মাসাহ করা শরী‘আত সম্মত নয়। আর মাসাহ স্রেফ মাথা এবং দু’কানের জন্যই হবে। যেমনভাবে এ ব্যাপারে কিতাব এবং সুন্নাতে প্রমাণিত’।[40]

(৩) ‘ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ’-তে বলা হয়েছে,لم يثبت في كتاب الله تعالى ولا في سنة الرسول صلى الله عليه وسلم أن مسح الرقبة سنة من سنن الوضوء. فلا يشرع مسحها ‘ওযূতে ঘাড় মাসাহ করা সুন্নাত হিসাবে না কুরআনে প্রমাণিত হয়েছে আর না হাদীছে নববীতে। অতএব ঘাড় মাসাহ করা

শরী‘আত সম্মত নয়’।[41]

(৪) শায়খ যুবায়ের আলী যাঈ (রহঃ) বলেছেন, ছহীহ এবং হাসান হাদীছ সমূহে মাথা এবং কান মাসাহের উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ঘাড় মাসাহর কথা উল্লেখ নেই।[42]

উপসংহার : উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রতীয়মান হ’ল যে, ওযূতে ঘাড় মাসাহ করা বিদ‘আত, যা বহুল প্রচলিত। যারা এই বিদ‘আতে লিপ্ত, তাদেরকে ফিরে আসতে হবে সুন্নাতের দিকে। আল্লাহ আমাদেরকে ছিরাতে মুস্তাক্বীমের উপরে অটল থাকার তওফীক্ব দিন-আমীন!

…………………………………………………………………………………….

[1]. ক্বাসেম বিন সাল্লাম, আত-তুহূর হা/৩৬৮; আত-তালখীছুল হাবীর হা/৯৭; নবীজির নামায, সম্পাদনায় : মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক ছাহেব, (ঢাকা : মুমতায লাইব্রেরী), পৃঃ ১১৪-১১৫

[2]. তালখীছ হা/৯৭

[3]. মুক্বাদ্দামা মুসলিম ১/২৯

[4]. আল-ইলালুছ ছগীর, পৃঃ ৭৫৩

[5]. ফাৎহুল মুগীছ, ক্রমিক নং ১২৩

[6]আত-তাক্বঈদু ওয়াল ঈযাহপৃঃ ৭৩

[7]. তাদরীবুর রাবী শরহে তাক্বরীবুন নববী ১/২২২

[8]. রিসালাতু আবী দাঊদ ইলা আহলি মাক্কাহ, পৃঃ ৩৫

[9]. রিসালাতু আবী দাঊদ ইলা মাক্কাহ, পৃঃ ৩৪

[10]. রিসালাতু আবী দাঊদ ইলা আহলি মাক্কাহ, পৃঃ ৩৫

[11]. তাদরীবুর রাবী ১/১৯৮

[12]. আল-মাজমূশারহুল মুহাযযাব ৬/২০৬, তায়সীরু মুছত্বলাহিল হাদীছ পৃঃ ৬০মাসিক আত-তাহরীক, পৃঃ ৮০, এপ্রিল ২০১৫ইং

[13]. আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা, রাবী নং ২৬২০; খত্বীব বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ ১০/২২০

[14]. আছ-ছিক্বাত, রাবী নং ৯৬২

[15]. আয-যুআফাউল মাতরূকীন, রাবী নং ১৮৮১

[16]. আল-মুগনী ফিয যুআফারাবী নং ৩৫৯০, সনদবিহীন

[17]. আল-মুখতালিত্বীন, রাবী নং ২৮

[18]. আল-ইগতিবাত্ব, রাবী নং ৬২

[19]. আল-ওয়াফী বিল ওয়াফায়াত ৪/৭৬

[20]. বায়হাক্বী, আস-সুনানুল কুবরা হা/২৭৯

[21]. মীযানুল ইতিদালরাবী নং ৮৬৮

[22]. মীযানুল ইতিদাল রাবী নং ৮৪৯

[23]. , রাবী নং ৯৯৫৭; আল-মুগনী ফিয-যুআফাহ, রাবী নং ৭২৯৯

[24]. আল-জাওহারুন নাক্বী ৪/৩৪০

[25]. ইলালুদ দারাকুৎনীক্রমিক নং ১০৪৩

[26]. আল-মাওযূআত ৩/১২৯

[27]. তারীখুয যুআফাহ ওয়াল কায্যাবীন, রাবী নং ৪১

[28]. আল-লাআলী আল-মাছনূআহ ২/১৬৩

[29]. আয-যুআফাহ, ক্রমিক নং ৮০

[30]. যাখীরাতুল হুফ্ফাযক্রমিক নং ৩৫৮

[31]. ক্রমিক নং ৫৯২৬

[32]. তানযীহুশ শরীআহ, ক্রমিক নং ২৮২

[33]. আত-তারীখুল আওসাত্ব, রাবী নং ২১২৬

[34]. আল-মাজরূহীন, রাবী নং ৪১

[35]. আয-যুআফাউল মাতরূকীন, রাবী নং ৪৩

[36]. আয-যুআফাউল মাতরূকীন, রাবী নং ৭৩

[37]. যঈফা হা/৪৭৩৫

[38]. আনওয়ারুছ ছহীফাহ, যঈফ তিরমিযী হা/১৯৮

[39]. মাজমূফাতাওয়া ২১/১২৭, ১২৮

[40]. , ১০/১০২

[41]. , ৫/২৫৪, ফৎওয়া নং ৯২৩৩

[42]. হাদিয়াতুল মুসলিমীন, পৃঃ ১৫

This entry was posted in ওযূ, ওযূতে ঘাড় মাসাহ করা যাবে কি?, ওযূতে ঘাড় মাসাহ করা সুন্নাত নাকি বিদ‘আত? and tagged , . Bookmark the permalink.