প্রচলিত আছে যে, ১৯২৯ সালে জাবির বিন আব্দুল্লাহ এবং হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) ইরাকের তৎকালীন বাদশাহ ফয়ছালকে স্বপ্নযোগে তাদের লাশ স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। অতঃপর সারা বিশ্বের লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তাদের অবিকৃত লাশ স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনার সত্যতা জানতে চাই।


: ঘটনাটি ভিত্তিহীন। কারণ জাবের (রাঃ) ৭৮ হিজরীতে ৯৪ বছর বয়সে মদীনায় মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়। তিনি মদীনায় মৃত্যুবরণকারী সর্বশেষ ছাহাবী ছিলেন। মদীনার আমীর আবান বিন ওছমান তাঁর জানাযায় ইমামতি করেন (ইবনু কাছীর, আল-বিদায়াহ ১২/২৮১; ইবনু হাজারআল-ইছাবাহ, জাবের ক্রমিক ১০২৮; ইবনু তায়মিয়াহমাজমূফাতাওয়া ২৭/৪১৯)। অপরদিকে হুযায়ফা (রাঃ) ওমর (রাঃ)-এর খেলাফতকালে মাদায়েনের গবর্ণর নিযুক্ত হন এবং ওছমান (রাঃ)-এর শাহাদাত অবধি এ পদে বহাল থাকেন এবং এর ৪০ দিন পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন’(ইবনু হাজার, আল-ইছাবাহ, হুযায়ফা ক্রমিক ১৬৫২; যাহাবী, সিয়ারু আলামিন-নুবালা ৪/২৯)। উপরন্তু আবুবকর ও ওমর (রাঃ) ব্যতীত কোন ছাহাবীর কবর এভাবে নির্দিষ্ট নেই যে, সেটি অমুক ছাহাবীর কবর হিসাবে চিহ্নিত করা যাবে। অতএব কবর নিয়ে যেকোন বাড়াবাড়ি ও ধারণার উপর ভিত্তি করে কোন সিদ্ধান্ত প্রদান থেকে দূরে থাকা আবশ্যক।

Advertisements
This entry was posted in লাশ স্থানান্তর করা and tagged , . Bookmark the permalink.