নিয়মিতভাবে বিতর ছালাত আদায় না করলে সে কি কবীরা গুনাহগার হিসাবে গণ্য হবে?


না। কারণ বিতর ছালাত আদায় করা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত হ’লেও তা ফরয নয়। যে কারণে এটি আদায় না করলে তাকে শাস্তিও দেওয়া হবে না (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ /১৭২)। রাসূল (ছাঃ) জনৈক ছাহাবীর প্রশ্নের উত্তরে বলেন, দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ফরয। সে বলল, আমার উপর এছাড়া আরো ছালাত আছে কি? তিনি বললেন, না, তবে নফল আদায় করতে পার (বুখারী হা/৪৬; মুসলিম হা/১১; মিশকাত হা/১৬)। নববী বলেন, এ হাদীছ প্রমাণ করে যে, বিতরের ছালাত ওয়াজিব নয় (নববী, শরহ মুসলিম /১৬৯)। ইবনু হাজার বলেন, দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ব্যতীত কোন ছালাত ওয়াজিব নয় (ফাৎহুল বারী /১০৭)

বিতর ছালাত সুন্নাতে মুওয়াক্কাদাহ (ফিক্বহুস সুন্নাহ /১৪৩; নাসাঈ হা/১৬৭৬)। এটি খুবই ফযীলতপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বাড়ীতে বা সফরে কোন অবস্থায় বিতর ও ফজরের দু’রাক‘আত সুন্নাত পরিত্যাগ করতেন না (ইবনুল ক্বাইয়িম, যাদুল মাআদ /৪৫৬)। রাসূল (ছাঃ) আরো বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা বিতর ছালাতকে তোমাদের জন্য অতিরিক্ত হিসাবে দান করেছেন। তোমরা এটি এশা ও ফজর ছালাতের মধ্যবর্তী সময়ে আদায় কর (হাকেম হা/১১৪৮; আহমাদ হা/২৩৯০২ছহীহাহ হা/১০৮৭)। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি বিতরের ছালাত আদায়ের পূর্বে ঘুমিয়ে পড়ে বা ভুলে যায়, জাগ্রত হওয়া বা স্মরণ হওয়া মাত্রই যেন সে উক্ত ছালাত আদায় করে নেয় (তিরমিযী হা/৪৬৫; মিশকাত হা/১২৭৯, সনদ ছহীহ)। আলী (রাঃ) বলেন, নিশ্চয়ই বিতর বাধ্যতামূলক ছালাত নয় এবং তোমাদের ফরয ছালাতের সম-পর্যায়ভুক্তও নয়। কিন্তু রাসূল (ছাঃ) বিতরের ছালাত আদায় করেছেন, অতঃপর বলেছেন, হে আহলে কুরআন! তোমরা বিতর ছালাত পড়ো। নিশ্চয়ই আল্লাহ বিতর (বেজোড়), তিনি বিতরকে ভালবাসেন (আবুদাউদ হা/১৪১৬; ইবনু মাজাহ হা/১১৬৯; ছহীহ আততারগীব হা/৫৯০, ৫৯৩)

Advertisements
This entry was posted in বিতর ছালাত আদায় না করলে কবীরা গুনাহগার হিসাবে গণ্য হবে? and tagged , . Bookmark the permalink.