বাংলাদেশের বর্তমান আদালতগুলি বৃটিশ আইনে পরিচালিত হয়। এক্ষণে এখানে আইন পেশায় অংশগ্রহণ করা জায়েয হবে কি?


সাধারণভাবে আইনী সহায়তা কোন নাজায়েয পেশা নয়। তবে সেখানে সর্বদা সত্যকে বিজয়ী করা, যুলুমের প্রতিরোধ করা এবং মানুষকে তার হক ফেরত দেয়ার কাজে নিয়োজিত থাকতে হবে। যাতে কোন নিরপরাধ ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত না হয় এবং অপরাধী ছাড়া না পায়। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নেকী ও আল্লাহভীরুতার কাজে পরস্পরকে সাহায্য করে এবং পাপ ও শত্রুতার কাজে সাহায্য করো না’ (মায়েদাহ ৫/০২; বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ১৯/২৩১; উছায়মীন, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ১১/৬০৯-৬১০)। আর বৃটিশ আইন প্রচলনের দায়ভার বর্তাবে সরকারের উপর। যতদিন ইসলামী আইনের বিপরীতে তা চালু থাকবে, ততদিন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলগণ পাপী হ’তে থাকবে। কেননা আল্লাহর বিধানের বিপরীতে অন্যের বিধান কোন অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয় (ইউসুফ ৪০, মায়েদাহ ৫০ প্রভৃতি)। সুতরাং যিনি আইনজীবী হিসাবে কাজ করবেন তার আবশ্যিক দায়িত্ব হবে সত্যের সাক্ষ্য দেয়ার পাশাপাশি নিজ অবস্থানে থেকে ইসলামী আইন প্রবর্তন এবং তার পক্ষে জনমত সৃষ্টি করা। এটা তার ঈমানী দায়িত্ব (মুসলিম হা/৪৯; মিশকাত হা/৫১৩৭)

এতদ্ব্যতীত প্রচলিত আইনের সবকিছুই যে শারঈ আইনের বিরোধী, তা নয়। যেমন সিভিল আইন, মুসলিম পারিবারিক আইন প্রভৃতি। সুতরাং একজন আল্লাহভীরু আইনজীবী সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং আল্লাহর আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা বজায় রেখে এ পেশায় জড়িত থাকতে পারেন।

This entry was posted in বাংলাদেশের আদালতগুলিতে আইন পেশায় অংশগ্রহণ করা জায়েয হবে কি? and tagged . Bookmark the permalink.