জনৈক ব্যক্তি স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ৩ দিনের মাথায় ফিরিয়ে নেয়। অতঃপর এর প্রায় ২ মাস পর আবার ঝগড়া করে তালাক দিয়ে পরদিন ফিরিয়ে নেয়। অতঃপর পাঁচ মাস পরে পুনরায় ভীষণভাবে রাগান্বিত হয়ে স্ত্রীকে বলে ‘তোমাকে ডিভোর্স দিলাম’। এসময় স্ত্রী ঋতুবতী ছিল, যা স্বামীর জানা ছিল না। এক্ষণে তৃতীয় তালাকটি পতিত হয়েছে কি?


প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় দুই তালাক পতিত হয়েছে। আর তৃতীয় তালাকটি ঋতুবতী অবস্থায় দেওয়ার কারণে সেটি পতিত হবে না। কারণ তোহর অবস্থায় তালাক দেওয়াটাই নিয়ম, হায়েয অবস্থায় নয়। আল্লাহ বলেন, ‘আর তাদেরকে তালাক দাও ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং ইদ্দত গণনা কর’ (তালাক ৬৫/১)। আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) স্বীয় স্ত্রীকে ঋতুকালীন সময়ে তালাক দেন। তখন ওমর (রাঃ) উক্ত বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি ওমর (রাঃ)-কে বলেন, তুমি আব্দুল্লাহকে বল যেন সে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয় ও ঘরে রাখে পরবর্তী তুহর পর্যন্ত। অতঃপর সে পুনরায় ঋতুবতী হবে ও পবিত্র হবে। তখন ইচ্ছা করলে সে তাকে রেখে দিবে অথবা সহবাসের পূর্বেই তালাক দিবে। এটাই হ’ল তালাকপ্রাপ্তা নারীদের জন্য ইদ্দত, যা আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন’ (বুখারী হা/৫২৫১-৫২; মুসলিম হা/১৪৭১; মিশকাত হা/৩২৭৫)। আবুদাঊদ-এর বর্ণনায় এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর বলেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) স্ত্রীকে আমার নিকটে ফিরিয়ে দিলেন এবং ‘তিনি এটাকে কিছুই গণ্য করলেন না’ (আবুদাঊদ হা/২১৮৫)। অতএব নিয়ম বিরুদ্ধভাবে ঋতুবতী অবস্থায় তালাক দেওয়ায় উক্ত তালাক গণ্য হবে না (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩৩/৭৫-৭৬; উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ১৩/৩৫৯-৬০; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ২০/৫৮, ফৎওয়া নং ৬৫৪২; বিস্তারিত দ্রঃ )

Advertisements
This entry was posted in তালাক ঋতুবতী স্ত্রী কে দিলে গ্রহন যোগ্য হবে কি? and tagged . Bookmark the permalink.