জনৈক নারী তার স্বামীর নিকট থেকে খোলা করে পৃথক হয়েছে। উক্ত নারীর দু’টি মেয়ে তার তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তিনি তার বড় মেয়েকে কিছুটা দরিদ্র হ’লেও দ্বীনদার এক পাত্রের সাথে বিবাহ দিতে চান। মেয়েও তাতে রাযী। কিন্তু দরিদ্র হওয়ায় পিতা রাযী নন। এক্ষণে উক্ত মহিলা কি নিজে অভিভাবক হিসাবে বিবাহ দিতে পারবে? না সাবেক স্বামীর অনুমোদন লাগবে?


প্রশ্ন অনুযায়ী উক্ত সন্তান বালেগা। এমতাবস্থায় সে যদি স্বেচ্ছায় মায়ের নিকটে অবস্থান করে এবং মা তার যাবতীয় খরচ বহন করে, সেক্ষেত্রে তার উপর পিতার অভিভাবকত্বের অধিকার থাকে না। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট জনৈকা স্ত্রীলোক এসে বলল, আমার স্বামী আমার ছেলে নিয়ে যেতে চায়। অথচ ছেলে আমার উপকার করে। সে আমাকে কূয়া থেকে পানি এনে দেয়। এসময় তার পিতা এলে নবী করীম (ছাঃ) ছেলেকে বললেন, ইনি তোমার পিতা আর ইনি তোমার মাতা- যাকে ইচ্ছা তুমি তার হাত ধর। ছেলে তার মায়ের হাত ধরল। অতঃপর মা তাকে নিয়ে চলে গেল’ (আবুদাঊদ, নাসাঈ; মিশকাত হা/৩৩৮০, সনদ ছহীহ)। ইমাম শাওকানী বলেন, ‘হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ছেলে হৌক বা মেয়ে হৌক, সন্তানের ভাল-মন্দ বুঝার জ্ঞান হওয়ার পর যদি পিতা-মাতা সন্তান গ্রহণের ক্ষেত্রে মতভেদ করেন, তাহ’লে সন্তানকে এখতিয়ার দেওয়াই শরী‘আত সম্মত’ (নায়লুল আওত্বার ৮/১৬০ পৃঃ, ‘সন্তান পালনের অধিক হকদার কে?’ অনুচ্ছেদ)

অতএব উক্ত নারীর বিবাহের ক্ষেত্রে মাতা নয় বরং মাতা সম্পর্কীয় পুরুষ আত্মীয়-স্বজন যেমন ভাই, মামা, নানা প্রমুখগণ অভিভাবক হিসাবে বিবাহ প্রদান করবেন। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কান নারী অপর নারীকে বিবাহ দিতে পারে না এবং কোন নারী নিজে নিজে বিবাহও করতে পারে না’ (ইবনু মাজাহ হা/১৮৮২, মিশকাত হা/৩১৩৭; ছহীহুল জামে‘ হা/৭২৯৮)

Advertisements
This entry was posted in সন্তানের বিবাহের ক্ষেত্রে মা কি নিজে অভিভাবক হিসাবে দিতে পারবে? and tagged , , , . Bookmark the permalink.