আমরা জানি যে, পিতার অনুমতি ছাড়া নারীদের বিবাহ বাতিল হয়ে যায়। এক্ষণে মুওয়াত্ত্বা মালিকের (হা/২০৪০) একটি হাদীছ হ’তে জানা যায় যে, আয়েশা (রাঃ) তাঁর আপন ভাইয়ের মেয়ে হাফছাকে পিতার অনুমতি ছাড়াই নিজ দায়িত্বে বিবাহ দিয়েছেন। মেয়ের পিতা সেসময় সিরিয়া সফরে থাকায় তিনি বিষয়টি পরে জানতে পারেন। এক্ষণে সঠিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে বাধিত করবেন।


উক্ত মর্মে বর্ণিত আছারটি ছহীহ। কিন্তু এর ব্যাখ্যা ভুল হয়েছে। আছারটির দু’টি অর্থ হ’তে পারে। ১. আয়েশা (রাঃ) উক্ত বিবাহে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সর্বাধিক পরিচিত ও নিকটাত্মীয় হওয়ার কারণে বর্ণনাকারী ওলী হওয়ার বিষয়টি তাঁর দিকে সম্পৃক্ত করেছেন। ঈসা বিন দীনার বলেন, মদীনায় এমন কোন প্রচলন ছিল না। কেননা ইমাম মালেক ও মদীনার ফকীহগণ নারী কর্তৃক বিবাহ সম্পাদনকে বৈধ মনে করতেন না। এরূপ বিবাহ হ’লে বাসরের পূর্বেই বা পরে হ’লেও ভেঙ্গে দেওয়া হ’ত। ২. আয়েশা (রাঃ) বিবাহের মোহর ও দিনক্ষণ ধার্য করে দিয়েছিলেন। অতঃপর বিবাহের সময় তার একজন নিকটাত্মীয়কে ওলী বানিয়ে বলেন, তোমরা বিবাহ সম্পন্ন কর। কারণ নারী কারো বিবাহে ওলী হ’তে পারে না। আর এ প্রথা ছাহাবীগণের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল যে, নারী নিজে বিবাহ করতে পারে না এবং অন্যের বিবাহ দিতে পারে না (আল-মুনতাক্বা শারহুল মুওয়াত্ত্বা ৪/২৪)। উক্ত আছারের ব্যাখ্যায় ইবনু আব্দিল বার্র বলেন, বিবাহ দিয়ে দেওয়ার অর্থ হ’ল- বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া, মোহর নির্ধারণ করা এবং তাতে সম্মত হওয়া। এর অর্থ বিবাহে ওলী হওয়া নয়। এরপর তিনি নিম্নের আছারটি বর্ণনা করেন (আল-ইস্তিযকার ৬/৩২)।-

ইবনু জুরাইজ বলেন, আয়েশা (রাঃ) যখন তার গোত্রের কোন মেয়ের বিয়ে দিতে ইচ্ছা করতেন, তখন তাদের একদল লোককে ডেকে আলোচনা করতেন। যখন বিবাহ ঠিক হয়ে যেত তখন তাদের একজনকে বলতেন, হে অমুক! তার বিবাহ দিয়ে দাও। কারণ নারীরা কারো বিবাহ দিতে পারে না (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/১০৪৯৯; মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ হা/১৫৯৫৯ ফাৎহুল বারী ৯/১৮৬-৯০, সনদ ছহীহ)

Advertisements
This entry was posted in অ‌ভিভাব‌কের বিনা অনুম‌তি‌তে বিবাহ কর‌লে বিবাহ হবে কী এবং সম্পদ পা‌বে কী?, অ‌ভিভাবক বা ওলী না থাক‌লে করণীয়!, বিবাহ আয়েশা (রাঃ) তাঁর ভাইয়ের মেয়েকে অনুমতি ছাড়াই দিয়েছিলেন কি?, বিবাহ ওলী ছাড়া করলে তাদের সন্তান কি জারজ হিসেবে গন্য হবে?, বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য কি কি শর্ত প্রযোজ্য? and tagged . Bookmark the permalink.