তিনটি মসজিদ ব্যতীত আর কোন মসজিদে নেকীর উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা হারাম। কিন্তু মসজিদে ক্বোবায় গেলে ওমরাহ করার সমান নেকী পাওয়া যায়। এখন কেউ যদি মসজিদে ক্বোবায় নেকীর উদ্দেশ্যে গমন করে তাহ’লে কি সেটা হারাম কাজ হবে?


দূর-দূরান্ত থেকে স্রেফ মসজিদে ক্বোবার ফযীলত লাভের উদ্দেশ্যে সফর করা যাবে না। এই ফযীলত কেবল অত্র মসজিদের আশ-পাশে বসবাসকারী বা অবস্থানকারীদের জন্য (ইবনু তায়মিয়াহ, ইকতিযাউছ ছিরাতিল মুস্তাক্বীম ২/৩৪০-৩৪৪)। মসজিদে ক্বোবায় ছালাত আদায়ের বহু ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের ঘরে পবিত্রতা অর্জন করে, অতঃপর ক্বোবা মসজিদে এসে এক ওয়াক্ত ছালাত পড়ে, তার জন্য একটি ওমরার সমান ছওয়াব রয়েছে’ (ইবনু মাজাহ হা/১৪১২; ছহীহুত তারগীব/১১৪১; ছহীহুল জামে‘ হা/৬১৫৪)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, যে ব্যক্তি (ঘর থেকে) বের হয়ে এই মসজিদ অর্থাৎ মসজিদে ক্বোবায় আসবে। তারপর এখানে ছালাত পড়বে। সেটি হবে তার জন্য একটি ওমরার সমতুল্য (নাসাঈ হা/৬৯৯; ছহীহাহ হা/৩৪৪৬)। আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) প্রতি শনিবার ক্বোবায় আসতেন। তিনি বাহনে চড়ে এবং পায়ে হেঁটে এখানে আসতেন। ইবনু দীনার (রহঃ) বলেন, ইবনু ওমর (রাঃ)ও অনুরূপ আমল করতেন (বুখারী হা/৭৩২৬; মুসলিম হা/১৩৯৯)। সা‘দ বিন আবু ওয়াক্কাছ (রাঃ) বলেন, বায়তুল মুকাদ্দাসে ছালাত আদায় অপেক্ষা মসজিদে ক্বোবায় ছালাত আদায় করা আমার নিকট অধিক প্রিয় (হাকেম হা/৪২৮০; ছহীহুত তারগীব হা/১১৮৩)। অতএব কেউ মদীনায় অবস্থান করলে সেখান থেকে পায়ে হেঁটে বা বাহনে চড়ে মসজিদে ক্বোবায় গিয়ে ছালাত আদায় করতে পারেন, যেমনটি রাসূল (ছাঃ) করতেন। কিন্তু অন্য কোন শহর থেকে কেবল এই উদ্দেশ্যে আগমন করা যাবে না।

This entry was posted in মসজিদে ক্বোবায় গেলে ওমরাহ করার সমান নেকী পাওয়া যায় কি? and tagged , . Bookmark the permalink.