আমার পিতা মারা গেছেন। তার রেখে যাওয়া সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে আধা কাঠা জমির উপর তিন তলা বাড়ী এবং ভিন্ন ভিন্ন দামের আরো প্রায় ৩৯ শতাংশ জমি। আমরা ৪ ভাই ৩ বোন, আমার মা এবং দাদী জীবিত আছেন। আমরা ভাই-বোনেরা চাই তিন তলা বাড়ীটি মায়ের নামে দিতে এবং ভাই-বোনেরা কম দাম এবং বেশী দামের জমি মিলিয়ে বণ্টন করে নিতে এবং কম মূল্যের জমি দাদীকে দিতে। আমার এক ভাই ও এক বোন এখনো নাবালক। এইভাবে বণ্টন করলে কি দাদীর সাথে বেইনছাফী করা হবে? অথবা কিভাবে বণ্টন করলে ইনছাফপূর্ণ বন্টন হবে জানালে উপকৃত হব।


কুরআন যেভাবে মীরাছ বণ্টন করে দিয়েছে সেভাবে বণ্টন করা আবশ্যক। কেননা সেটিই সর্বাধিক ইনছাফপূর্ণ। আল্লাহ বলেন, আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের (মধ্যে মীরাছ বণ্টনের) ব্যাপারে তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান। যদি তারা দুইয়ের অধিক কন্যা হয়, তাহ’লে তারা পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ পাবে। আর যদি কেবল একজনই কন্যা হয়, তবে তার জন্য অর্ধেক। মৃতের পিতা-মাতার প্রত্যেকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ করে পাবে, যদি মৃতের কোন পুত্র সন্তান থাকে। আর যদি না থাকে এবং কেবল পিতা-মাতাই ওয়ারিছ হয়, তাহ’লে মা পাবে তিন ভাগের এক ভাগ। কিন্তু যদি মৃতের ভাইয়েরা থাকে, তাহ’লে মা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ, মৃতের অছিয়ত পূরণ করার পর এবং তার ঋণ পরিশোধের পর’ (নিসা ১১)। এক্ষণে শরী‘আত বর্ণিত উপরোক্ত বণ্টননীতি অক্ষুণ্ণ রেখে সম্পদ বণ্টিত হ’লে এবং উক্ত বণ্টনে দাদী ও অন্যান্য ভাই-বোনেরা সম্মত থাকলে তাতে কোন দোষ হবে না।

This entry was posted in সমপত্তি আল্লাহ্র বিধান অনুযায়ী বণ্টন না করলে তার পরিণাম কী?, সম্পত্তি কিভাবে বণ্টিত হবে যদি একজন ভাই নিঁখোজ থাকে?, সম্পত্তি কিভাবে বণ্টিত হবে যদি পিতা-মাতার পূর্বে আমি মারা গেলে?, সম্পত্তি কে কত অংশ পাবে?, সম্পত্তি রেখে যাওয়া কি আবশ্যক সন্তানের জন্য? and tagged . Bookmark the permalink.