সমাজে একটি গল্প প্রচলিত আছে যে, মহিলাদের মধ্যে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে একজন কাঠুরিয়ার স্ত্রী। এর কোন সত্যতা আছে কি? যদি সত্য হয়, তবে কোন কারণে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে?


এই কাহিনীর কোন ভিত্তি নেই। কুরআন, হাদীছ এমনকি কোন ইতিহাস গ্রন্থেও এমন ঘটনা পাওয়া যায় না। হাদীছে এসেছে যে, পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন আমাদের প্রিয় রাসূল মুহাম্মাদ (ছাঃ) (মুসলিম হা/১৯৭; আহমাদ হা/১২৪৪২; ছহীহুল জামে‘ হা/১৪৫০, ১৪৫৯, ৭১১৮)। আর চারজন নারীকে জান্নাতী নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে। তারা হ’লেন, খাদীজা, ফাতিমা, মারিয়াম এবং আসিয়া (আহমাদ হা/২৬৬৮; ছহীহ ইবনু হিববান হা/৭০১০)। এছাড়া আনাস (রাঃ)-এর মাতা উম্মু সুলাইম বিনতে মিলহান (রাঃ)-এর জান্নাতে যাওয়ার ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ) সুসংবাদ দিয়েছেন। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আমি জান্নাতে প্রবেশ করতেই দেখলাম আবু তালহার স্ত্রী রুমাইছা তথা উম্মু সুলাইমকে (বুখারী হা/৩৬৭৯; মুসলিম হা/২৪৫৭)। তিনি এমন একজন মহিলা ছিলেন, যাকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়া হ’লে তিনি হবু স্বামী আবূ তালহাকে শর্ত দেন যে, তাকে ইসলাম কবুল করতে হবে এবং সেটাই হবে তাঁর জন্য মোহরানা। এভাবে আবূ তালহার ইসলাম গ্রহণই ছিল তাঁর জন্য মোহরানাস্বরূপ (নাসাঈ, সুনানুল কুবরা হা/৫৪৭৮)। তিনি  ওহোদ ও হুনায়েনের যুদ্ধে সশস্ত্র জিহাদে অংশগ্রহণ করেন। অসম সাহসী ও ধৈর্যশীলা নারী হিসাবে তিনি ইতিহাসে সুপ্রসিদ্ধ (যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা ২/৩০৪)। তবে এ সকল নারীদের মধ্যে প্রথম কে জান্নাতে যাবে সে ব্যাপারে ছহীহ কোন হাদীছ বর্ণিত হয়নি।

This entry was posted in মহিলাদের মধ্যে সর্বপ্রথম কাঠুরিয়ার স্ত্রী জান্নাতে প্রবেশ করবে কি? and tagged , . Bookmark the permalink.