বিয়ের পূর্ব থেকেই আমার স্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীতে চাকুরী করে। সেখানে শার্ট-প্যান্ট পরিধান এবং পর্দাবিহীন থাকা আবশ্যক। সে চাকুরী ছেড়ে দিতেও নারায। এমতাবস্থায় তার উপার্জন আমার জন্য হালাল হবে কি? তার ব্যাপারে আমার করণীয় কি?


প্রথমতঃ সশস্ত্র বাহিনীর চাকুরী নারীদের জন্য নয়। কারণ নারীদের উপর জিহাদ ফরয নয়। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মহিলাদের জন্য কি জিহাদ বাধ্যতামূলক? তিনি বলেন, হ্যাঁ, তাদের উপরও জিহাদ ফরয, তবে তাতে কোন যুদ্ধ নেই। বরং তা হচ্ছে হজ্জ ও ওমরাহ (ইবনু মাজাহ হা/২৯০১; মিশকাত হা/২৫৩৪; ছহীহুত তারগীব হা/১০৯৯)। দ্বিতীয়তঃ প্যান্ট ও শার্ট পরিধান হ’ল পুরুষদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন, যা হারাম। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) অভিসম্পাত করেছেন নারীর বেশধারী পুরুষদেরকে এবং পুরুষের বেশধারিণী নারীদেরকে’ (বুখারী হা/৫১৮৫; মিশকাত হা/৪৪২৯)। যেহেতু উক্ত প্রতিষ্ঠানে শারঈ বিধান মানার সুযোগ নেই। অতএব স্বামীর দায়িত্ব হ’ল যেকোন উপায়ে তাকে উক্ত চাকুরী থেকে ফিরিয়ে আনা এবং তার আয় গ্রহণ না করা। নতুবা সে ‘দাইয়ূছ’ হিসাবে গণ্য হবে। আর দাইয়ূছ জান্নাতে প্রবেশ করবে না (নাসাঈ হা/২৫৬২; ছহীহাহ হা/৬৭৪)। উল্লেখ্য যে, বাধ্যগত প্রয়োজন, নিরাপত্তা ও পূর্ণ পর্দার পরিবেশ থাকার শর্তেই কেবল নারীরা বাইরে চাকুরী করতে পারে।

This entry was posted in স্ত্রী আদেশ না মানলে স্বামী কি গোনাহগার হবে?, স্ত্রী, সন্তান কথা না শুন‌লে তালাক, তাজ্যপুত্র কর‌তে হ‌বে কি, স্ত্রীকে চাকুরি করার অনুমতি দেওয়া যাবে কী?, স্ত্রীর উপার্জন থেকে পরিবার পরিচালনার ব্যয় করা জায়েয হবে কি?, স্ত্রীর উপার্জন হালাল হবে কি? and tagged . Bookmark the permalink.