পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ করা কি কন্যা সন্তানের জন্য ফরয, না এটা কেবল ছেলে সন্তানদের দায়িত্ব। যদি দায়িত্ব না হয় তবে মেয়ে কি তার পিতা-মাতাকে যাকাতের টাকা দিতে পারবে?


রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদেরর সন্তানগণ তোমাদের পবিত্রতম উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত। অতএব তোমরা তোমাদের সন্তানদের উপার্জন থেকে ভক্ষণ কর’ (আবুদাঊদ হা/৩৫৩০; নাসাঈ হা/৪৪৫০; মিশকাত হা/৩৩৫৪)। এতে বুঝা যায় যে, পিতা-মাতার দায়িত্ব পুত্র বা কন্যা সবার উপরে সমভাবে প্রযোজ্য। তবে পুত্র সন্তান যেহেতু উপার্জনের মূল দায়িত্ব পালন করে এবং পিতা-মাতার সম্পদে দ্বিগুণ ওয়ারিছ হয়, সেকারণ তারাই এক্ষেত্রে মূল দায়িত্বশীল (ইবনুল মুনযির, মুগনিল মুহতাজ ১৫/৬১)। ইমাম শাফেঈ বলেন, পুত্র সন্তান আছাবা হওয়ায় তাদের উপর পিতা-মাতার জন্য খরচ করা আবশ্যক (কিতাবুল উম্মমুগনী ৮/২১৯)। তবে কন্যা সন্তান যদি সম্পদশালী হয় এবং সে সম্পদ ব্যয়ে তার স্বাধীনতা থাকে, সেক্ষেত্রে সে তার পিতা-মাতার জন্য প্রয়োজনীয় খরচ বহন করবে। আর বিদ্বানগণ এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, পিতা-মাতা বা সন্তান-সন্ততিকে যাকাত প্রদান করা যাবে না। কেননা তা প্রকারান্তরে নিজেকেই যাকাত প্রদানের শামিল (ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, ২/২৬৯)। তবে ইবনু তায়মিয়াসহ কতিপয় বিদ্বান কেবল ঋণ পরিশোধের নিমিত্তে পিতা-মাতা বা সন্তানদেরকে যাকাত প্রদান জায়েয বলে মত প্রকাশ করেছেন (উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে ৬/২৫৯-২৬০; ইবনু তায়মিয়াহ, আল-ফাতাওয়াল কুবরা ৫/৩৭৩)

This entry was posted in পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ করা কি কন্যা সন্তানের জন্য ফরয? and tagged , . Bookmark the permalink.