জনৈক নারীর প্রথম পক্ষের ১টি ছেলে এবং দ্বিতীয় পক্ষে ১টি ছেলে ও ১টি মেয়ে রয়েছে। এক্ষণে তার উভয় স্বামী মারা গেলে প্রথম পক্ষের ছেলেটি উভয় পিতারই সম্পদের ওয়ারিছ হবে কি?


প্রথম পক্ষের ছেলেটি কেবল তার নিজ পিতার সম্পদের ওয়ারিছ হবে। সৎ পিতার সম্পদের হবে না। তবে সে তার মায়ের সম্পদের ওয়ারিছ হবে। অবশ্য সৎপিতার সাথে অন্য দিক থেকে আত্মীয়তার সম্পর্ক (যেমন চাচা) থাকলে আছাবা সূত্রে পেতে পারে।

Advertisements
Posted in সন্তান সৎপিতার সম্পদের ওয়ারিছ হবে কি? | Tagged

খত্বীবের জন্য দুই খুৎবার মাঝে বসার সময় পঠিতব্য কোন দো‘আ আছে কি?


এ মর্মে রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবীগণ থেকে নির্দিষ্ট কোন দো‘আ বা যিকির বর্ণিত হয়নি। তবে যেহেতু জুম‘আর দিনের এই সময়টি দো‘আ কবুলের বিশেষ সময়ের অন্তর্ভুক্ত (মুসলিম হা/৮৫২; আহমাদ হা/৭৭৫৬), তাই মুছল্লী বা ইমাম চাইলে যেকোন দো‘আ পাঠ করতে পারেন (উছায়মীন, ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দারব ১৮৮/৪২)

Posted in খুৎবার মাঝে বসার সময় পঠিতব্য কোন দো‘আ আছে কি? | Tagged

জুম‘আর দিন দো‘আ কবুলের সময় কখন?


বিদ্বানগণ জুম‘আর দিনে দো‘আ কবুলের সঠিক সময় নিয়ে মতভেদ করেছেন। এবিষয়ে ৪৩টি মতভেদ উল্লেখিত হয়েছে (শাওকানী, নায়লুল আওত্বার ৪/১৭২-৭৬)। তন্মধ্যে দু’টি মত সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ও প্রমাণিত (১) ইমাম ছাহেবের মিম্বারে বসা থেকে নিয়ে ছালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত (মুসলিম হা/৮৫৩; মিশকাত হা/১৩৫৭-৫৮)। (২) আছরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত (আবুদাউদ হা/১০৪৬;, মিশকাত হা/১৩৬০; ছহীহাহ হা/২৫৮৩)। অন্য বর্ণনায় রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, জুম‘আর দিনের বার ঘন্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যদি কোন মুসলিম এ সময় আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহ’লে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে তা দান করেন। এ মুহূর্তটি তোমরা আছরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান করো (আবুদাউদ হা/১০৪৮; ছহীহুত তারগীব হা/৭০৩; বিস্তারিত দ্রঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ১৯৯-২০০)। উল্লেখ্য যে, বরকত ও ফযীলতের আশায় কেবল জুম‘আর রাত্রিকে নির্দিষ্ট করে জাগরণ করা নিষিদ্ধ (মুসলিম হা/১১৪৪; মিশকাত হা/২০৫২; ‘নফল ছিয়াম’ অনুচ্ছেদ)

Posted in প্রশ্নোত্তর | Tagged

জিমে গিয়ে শরীর চর্চা করা শরী‘আতসম্মত কি?


জিমে (Gym) গিয়ে শরীর চর্চায় শরী‘আতে কোন বাধা নেই। বরং শরী‘আত শরীর চর্চার প্রতি উৎসাহিত করেছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর নিকট উত্তম ও অধিকতর প্রিয় দুর্বল মুমিনের চাইতে’ (মুসলিম হা/২৬৬৪; মিশকাত হা/৫২৯৮)। তবে এমন শরীর চর্চা করা যাবে না যাতে শরী‘আতের কোন বিধানকে অবজ্ঞা করা হয়। যেমন ছালাতের সময়ের ব্যাপারে খেয়াল না রাখা ও পর্দার ব্যাপারে গুরুত্ব না দেওয়া, বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে শরীর চর্চা করা ইত্যাদি।

Posted in জিমে গিয়ে শরীর চর্চা করা শরী‘আতসম্মত কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তি বলেন, আমরা বর্তমান উম্মাহর কেউ আল্লাহর হেদায়াত পাব না। কারণ আল্লাহ শুধুমাত্র ছাহাবীগণকে হেদায়াত দান করেছিলেন। এর পর থেকে যারা এসেছেন তাদের আল্লাহ কেবল দয়া দিয়েছেন, হেদায়াত নয়। এক্ষণে দয়া আর হেদায়াত কি ভিন্ন বস্ত্ত?


বক্তব্যটি ভিত্তিহীন। কারণ হেদায়াত কোন সময় বা নির্দিষ্ট একদল মানুষের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। সূরা ফাতিহায় হেদায়াত প্রার্থনা করা হয়েছে, যা কিয়ামতের আগ পর্যন্ত সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য (ফাতিহা ১/৫)। সূরা বাক্বারার শুরুতে কুরআনকে আল্লাহভীরুদের জন্য হেদায়াত বলা হয়েছে (বাক্বারাহ ২/২)। কুরআনে ত্রিশেরও অধিক স্থানে হেদায়াতের কথা বলা হয়েছে, যা ক্বিয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য। দ্বিতীয়তঃ শাব্দিকভাবে দু’টি শব্দের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। হেদায়াত অর্থ- পথ প্রদর্শন, দিকনির্দেশনা ইত্যাদি। আর দয়া অর্থ রহমত, অনুগ্রহ, করুণা ইত্যাদি। উভয়টিই আল্লাহ ছাহাবীগণসহ অন্যান্য সকলকে দান করেছেন।

Posted in আমরা বর্তমান উম্মাহর কেউ আল্লাহর হেদায়াত পাব না কি? | Tagged

মুক্বীম অবস্থায় ভুলবশতঃ একটানা দু’দিন দু’রাত মোযার উপর মাসাহ করে ওযূ ও ছালাত আদায় করা হয়েছে। এক্ষণে উক্ত ছালাতগুলি পুনরায় আদায় করতে হবে কি? আর মাসাহের সময়কাল কখন থেকে শুরু হবে?


এক দিন ও একরাতের ছালাত পুনরায় আদায় করতে হবে। কারণ মুকীমের জন্য মোযার উপর মাসাহ করার বিধান একদিন ও একরাত (মুসলিম হা/২৭৬; ইবনু মাজাহ হা/৫৫৫; মিশকাত হা/৫১৭; ছহীহাহ হা/৩৪৫৫)। আর মাসাহের মেয়াদকাল শুরু হবে মোযার উপর প্রথম মাসাহ করা থেকে; ওযূ করার সময় থেকে বা ওযূ করার পর প্রথম ওযূ ভঙ্গ হওয়া থেকে নয়। হযরত ওমর (রাঃ) বলেন, يمسح عليهما مثل ساعته من يومه وليلته ‘যে সময়ে সে মাসাহ করবে, তখন থেকে একদিন একরাত সে মোযার উপর মাসাহ করবে’ (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/৮০৮; আলবানী, সনদ ছহীহ; আলবানী, আল-মাসহু ‘আলাল জাওরাবাইন পৃ. ৯১-৯২; নববী, আল-মাজমূ‘ ১/৪৮৭; উছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ ১/২২৬)

Posted in মোযার উপর মাসাহ করার পদ্ধতি কি? | Tagged ,

ছহীহ সুন্নাহ মোতাবেক আমল শুরু করার আগে আমি পীরের মাযারে কয়েক পশু দেওয়ার মানত করেছিলাম। এক্ষণে তা পুরণ করতে হবে কি?


আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে মানত, নযর-নেয়ায করা বা যবেহ করা শিরক। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হ’ল … আর যেসব জন্তু আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয় এবং তীর্থকেন্দ্রে যে সব পশু যবেহ করা হয়’… (মায়েদা ৩)। অতএব এক্ষেত্রে মানত পুরণ করতে হবে না (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৪২৭-২৮ ‘নযর’ অধ্যায়)

Posted in হারাম মানত করলে তা কি পুরণ করতে হবে কি? | Tagged ,

অনেকে বলেন, সূরা বনু ইসরাঈলের ৮০ আয়াত দ্বারা রাষ্ট্রক্ষমতা প্রার্থনার কথা বলা হয়েছে। এর সঠিক ব্যাখ্যা জানতে চাই।


উক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। বরং এর অর্থ হ’ল- ‘আর তুমি বল, হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে (ইবাদতে) প্রবেশ করাও যথার্থভাবে এবং সেখান থেকে বের কর যথার্থভাবে। আর আমাকে তোমার পক্ষ হ’তে সাহায্যকারী শক্তি দাও’ (ইসরা ১৭/৮০)। এটি সর্বাবস্থায় দো‘আ হিসাবে পাঠ করা যায়। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) মক্কায় ছিলেন। অতঃপর তাকে মদীনায় হিজরতের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং উক্ত আয়াতটি নাযিল হয় (ইবনু কাছীর, ঐ আয়াতের তাফসীর)। তবে এর সনদ যঈফ (যঈফ তিরমিযী হা/৬১১, তিরমিযী হা/৩১৩৯)

উক্ত আয়াত দ্বারা ক্ষমতা লাভের জন্য রাসূল (ছাঃ)-কে হিজরত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলাটা ভুল। কারণ হিজরতের চারমাস পূর্ব থেকেই রাসূল (ছাঃ) সকলকে জানিয়েছিলেন যে, আমাকে তোমাদের হিজরতের স্থান স্বপ্নে দেখানো হয়েছে, যা কালো পাথুরে মাটির মাঝে খেজুর বাগিচা সমৃদ্ধ এলাকা। তখন থেকেই মুসলমানগণ ইয়াছরিবে হিজরত করতে থাকেন। …এক পর্যায়ে আবুবকরও ইয়াছরিবে চলে যেতে চান। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাকে বলেন, ‘থেমে যাও! আশা করছি যে, আমাকেও অনুমতি দেওয়া হবে’ (বুখারী হা/২২৯৭; ৩৯০৫)

অতঃপর হিজরতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় তিনি হাজূনে দাঁড়িয়ে মক্কাবাসী ও বায়তুল্লাহকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর শ্রেষ্ঠ জনপদ ও আল্লাহর নিকট আল্লাহর মাটিসমূহের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় মাটি। যদি আমাকে তোমার থেকে বের করে না দেওয়া হ’ত, তাহ’লে আমি বেরিয়ে যেতাম না’ (তিরমিযী হা/৩৯২৫; ইবনু মাজাহ হা/৩১০৮; মিশকাত হা/২৭২৫)। এ হাদীছ প্রমাণ করে যে, মক্কাবাসীদের যুলুমের কারণে এবং আল্লাহর হুকুমে তিনি হিজরত করেছিলেন, রাষ্ট্রক্ষমতা লাভের উদ্দেশ্যে নয়। যদিও তিনি আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তীতে মদীনায় রাষ্ট্রক্ষমতার অধিকারী হয়েছিলেন। কারণ তিনি ছিলেন শেষনবী এবং ইসলামের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন তার মাধ্যমে করাটা ছিল আল্লাহর একান্ত ইচ্ছা। আর রাষ্ট্রক্ষমতা ইসলামী বিধান সমূহ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের জন্য নিঃসন্দেহে সহায়ক শক্তি। কিন্তু সেটি অপরিহার্য পূর্বশর্ত নয়।

Posted in সূরা বনু ইসরাঈলের ৮০ আয়াত দ্বারা রাষ্ট্রক্ষমতা প্রার্থনার কথা বলা হয়েছে কি | Tagged

পুত্র সন্তান লাভের জন্য কোন ঝাড়-ফুঁক বা তেল পড়া, পানি পড়া খাওয়া যাবে কি?


সন্তান দানের মালিক আল্লাহ। অতএব পুত্র সন্তান লাভের জন্য কোনরূপ ঝাড়-ফুঁক বা তদবীর করা সম্পূর্ণরূপে নাজায়েয। আল্লাহ বলেন, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন, যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন অথবা যাকে ইচ্ছা পুত্র ও কন্যা যমজ সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান (শূরা ৪২/৪৯-৫০)

অতএব এর জন্য একমাত্র করণীয় হ’ল একনিষ্ঠ চিত্তে আল্লাহর নিকটে প্রার্থনা করা। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তুমি কিছু চাইলে আল্লাহর নিকটেই চাইবে। কোন সাহায্যের প্রয়োজন হলে তাঁর নিকটেই চাইবে। জেনে রেখ! যদি সমস্ত মাখলূক একত্র হয়ে তোমার কোন উপকার বা ক্ষতি করতে চায়, তবুও আল্লাহ তোমার ভাগ্যে যতটুকু লিখে রেখেছেন সেটা ছাড়া তারা তোমার কোন উপকার করতে পারবে না’ (তিরমিযী হা/২৫১৬; মিশকাত হা/৫৩০২)

Posted in পুত্র সন্তান লাভের জন্য কোন ঝাড়-ফুঁক বা তেল পড়া পানি পড়া খাওয়া যাবে কি? | Tagged ,

ইদ্দতকালে নারীরা ছালাত আদায়ের জন্য বেরিয়ে মসজিদে যেতে পারবে কি?


বাধ্যগত কারণ ব্যতীত এসময় বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না (তালাক্ব ৬৫/১; আবুদাউদ হা/২৩০০; মিশকাত হা/৩৩৩২; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী ৮/১৬৩)। আর নারীদের জন্য  মসজিদে গিয়ে জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায় করা ফরয নয় (আহমাদ হা/২৭১৩৫, বুখারী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১০৫৯, ১০৬২)

Posted in ইদ্দতকালে নারীরা ছালাত আদায়ের জন্য বেরিয়ে মসজিদে যেতে পারবে কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তি স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ৩ দিনের মাথায় ফিরিয়ে নেয়। অতঃপর এর প্রায় ২ মাস পর আবার ঝগড়া করে তালাক দিয়ে পরদিন ফিরিয়ে নেয়। অতঃপর পাঁচ মাস পরে পুনরায় ভীষণভাবে রাগান্বিত হয়ে স্ত্রীকে বলে ‘তোমাকে ডিভোর্স দিলাম’। এসময় স্ত্রী ঋতুবতী ছিল, যা স্বামীর জানা ছিল না। এক্ষণে তৃতীয় তালাকটি পতিত হয়েছে কি?


প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় দুই তালাক পতিত হয়েছে। আর তৃতীয় তালাকটি ঋতুবতী অবস্থায় দেওয়ার কারণে সেটি পতিত হবে না। কারণ তোহর অবস্থায় তালাক দেওয়াটাই নিয়ম, হায়েয অবস্থায় নয়। আল্লাহ বলেন, ‘আর তাদেরকে তালাক দাও ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং ইদ্দত গণনা কর’ (তালাক ৬৫/১)। আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) স্বীয় স্ত্রীকে ঋতুকালীন সময়ে তালাক দেন। তখন ওমর (রাঃ) উক্ত বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি ওমর (রাঃ)-কে বলেন, তুমি আব্দুল্লাহকে বল যেন সে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয় ও ঘরে রাখে পরবর্তী তুহর পর্যন্ত। অতঃপর সে পুনরায় ঋতুবতী হবে ও পবিত্র হবে। তখন ইচ্ছা করলে সে তাকে রেখে দিবে অথবা সহবাসের পূর্বেই তালাক দিবে। এটাই হ’ল তালাকপ্রাপ্তা নারীদের জন্য ইদ্দত, যা আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন’ (বুখারী হা/৫২৫১-৫২; মুসলিম হা/১৪৭১; মিশকাত হা/৩২৭৫)। আবুদাঊদ-এর বর্ণনায় এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর বলেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) স্ত্রীকে আমার নিকটে ফিরিয়ে দিলেন এবং ‘তিনি এটাকে কিছুই গণ্য করলেন না’ (আবুদাঊদ হা/২১৮৫)। অতএব নিয়ম বিরুদ্ধভাবে ঋতুবতী অবস্থায় তালাক দেওয়ায় উক্ত তালাক গণ্য হবে না (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩৩/৭৫-৭৬; উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ১৩/৩৫৯-৬০; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ২০/৫৮, ফৎওয়া নং ৬৫৪২; বিস্তারিত দ্রঃ )

Posted in তালাক ঋতুবতী স্ত্রী কে দিলে গ্রহন যোগ্য হবে কি? | Tagged

আমি সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে নকল বিভাগে চাকুরী করি। সরকার আমাদের ভলিউম লেখা তথা প্রতি পৃষ্ঠা লেখার জন্যে পারিশ্রমিক হিসাবে ৪০ টাকা করে প্রদান করে থাকে। কিন্তু সেটা ৬ মাস বা ১ বছর পর পর পরিশোধ করে। আর ৪০ টাকা থেকে উপরের মহল ১৫ টাকা করে কেটে রেখে আমাদের ২৫ টাকা হিসাব ভাতা দেয়। সেকারণ আমরা দলীলের অবিকল নকল কপি করার ক্ষেত্রে নকলের সরকারী ফিসের সাথে অতিরিক্ত কিছু টাকা পারিশ্রমিক হিসাবে নিয়ে থাকি, যা স্থানীয় অফিস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত। এক্ষণে এই অতিরিক্ত টাকা নেওয়া কি জায়েয হবে কি?


একটি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের প্রেক্ষাপটে এটি বড় কঠিন বাস্তবতা। তথাপি ঈমানের দাবী হ’ল অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হ’তে বিরত থাকা। কারণ তা ঘুষ হিসাবে গণ্য হবে, যা হারাম। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যাকে আমরা কোন দায়িত্বে নিয়োগ করি, আমরা তার রূযীর ব্যবস্থা করে থাকি। এর বাইরে যদি সে নেয়, তবে তা খেয়ানত হবে’ (আবুদাঊদ হা/২৯৪৩; মিশকাত হা/৩৭৪৮; ছহীহুত তারগীব হা/৭৭৯)। অতএব উক্ত অর্থ গ্রহণ করা হ’তে বিরত থাকা আবশ্যক। এক্ষেত্রে করণীয় হ’ল, নিয়মতান্ত্রিকভাবে উপর মহলের কাছে ন্যায্য অধিকারের দাবী করতে হবে এবং জনগণের উপর যুলুম বন্ধ করতে হবে। আর স্থানীয় অফিস কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত পারিশ্রমিক যদি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয়, তাহ’লে তা নেওয়া বৈধ হবে।

Posted in কোন কাজে অতিরিক্ত কিছু টাকা পারিশ্রমিক হিসাবে নেওয়া জায়েয হবে কি? | Tagged

হিজামাহ করিয়ে পারিশ্রমিক নেওয়া যাবে কি?


যেকোন বৈধ কর্মের বিনিময়ে মজুরী গ্রহণ করায় বাধা নেই। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) শিঙ্গা লাগিয়েছেন এবং তাকে মজুরী দিয়েছেন। যদি এটি হারাম (حَرَامًا) হ’ত বা তিনি নিকৃষ্টخَبِيثًا) ) মনে করতেন, তবে তিনি মজুরী দিতেন না’ (বুখারী হা/২১০৩; আবুদাঊদ হা/৩৪২৩)। আনাস (রাঃ)-কে শিঙ্গাকারীর উপার্জন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আবূ ত্বয়বাহ রাসূল (ছাঃ)-কে শিঙ্গা লাগিয়ে দিলে তিনি তাকে দুই ছা‘ খাদ্য প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন (মুসলিম হা/১৫৭৭)

অন্যদিকে কিছু কিছু হাদীছে রাসূল (ছাঃ) শিঙ্গা লাগিয়ে পারিশ্রমিক গ্রহণকে নিকৃষ্ট (كَسْبُ الْحَجَّامِ خَبِيثٌ)  বলেছেন (মুসলিম হা/১৫৬৮; মিশকাত হা/২৭৬৩)। অন্য বর্ণনায় তা গ্রহণে নিষেধ(نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صـ عَنْ كَسْبِ الْحَجَّامِ)  করেছেন (ইবনু মাজাহ হা/২১৬৫)। উক্ত হাদীছ সমূহের ব্যাখ্যায় ইমাম নববী বলেন, এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত হাদীছসমূহ দ্বারা কাজটির বিনিময় গ্রহণ অপসন্দনীয়  (النهي على التنزيه) বুঝানো হয়েছে (শরহ নববী, উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যা)। অতএব হালাল কর্ম হিসাবে এর বিনিময় গ্রহণ হারাম হবে না (উছায়মীন, শরহ বুলুগুল মারাম হা/৯১০)

Posted in হিজামাহ করিয়ে পারিশ্রমিক নেওয়া যাবে কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তি বলেন, কুরআনে যাকাতের যে ৮টি খাতের কথা এসেছে, তদনুযায়ী যাকাতের মাল প্রথমে ৮ ভাগ করতে হবে। তারপর সম্ভবপর প্রত্যেক খাতে সমানভাবে বণ্টন করতে হবে। কেবল এক বা দুই খাতে বণ্টন করলে চলবে না। এর সত্যতা আছে কি?


বক্তব্যটি সঠিক নয়। কারণ রাসূল (ছাঃ) মু‘আয বিন জাবালকে ইয়ামনে পাঠানোর সময় বলেছিলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর তাদের সম্পদের মধ্য থেকে ছাদাক্বা (যাকাত) ফরয করেছেন। যেটা তাদের ধনীদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা হবে’ (বুখারী হা/১৩৯৫; আবুদাউদ হা/১৫৮৪)। এখানে একটি মাত্র খাত উল্লেখ করা হয়েছে যা প্রমাণ করে যে, প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে কমবেশী বা খাতের ব্যাপারে শিথিলতা রয়েছে। ইবনু জারীর (রহঃ) বলেন, কুরআনে বর্ণিত খাতগুলির দ্বারা উদ্দেশ্য এই নয় যে ৮টি খাতকে সমানভাবে বন্টন করতে হবে; বরং ৮টি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে বন্টন করতে হবে (ইবনু কাছীর, তাফসীর তওবা ৬০ আয়াত)। তবে ফকীর-মিসকীনকে প্রাধান্য দিবে। যেহেতু আল্লাহ তাদের নাম প্রথমে উল্লেখ করেছেন (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৮/২২১)

Posted in যাকাতের মাল ৮ ভাগ করতে হবে কি? | Tagged

আমাকে নিজ যেলার বাইরে ১৫ দিনের একটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে হবে। আমি কি সেখানে ছালাত ক্বছর করতে পারব, যেহেতু আমাকে চার দিনের অধিক অবস্থান করতে হবে?


উক্ত অবস্থায় ছালাত ক্বছর করা যাবে। আল্লাহ বলেন, ‘সফর অবস্থায় ছালাতে ‘ক্বছর’ করলে তোমাদের জন্য কোন গোনাহ নেই’ (নিসা ৪/১০১)। আর কুরআন ও ছহীহ হাদীছে কোথাও সফরের দূরত্ব বা সময়সীমা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৪/১২-১৩; উছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ ৪/৩৭৮)। এছাড়া এ ব্যাপারে বিদ্বানগণ এক মাইল হ’তে ৪৮ মাইল পর্যন্ত বিশ প্রকার বক্তব্য পেশ করেছেন (শাওকানী, নায়লুল আওত্বার ৪/১২২ পৃঃ; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৬৩; বিস্তারিত দ্রঃ)।

আর সফরে ক্বছর আদায় করা উত্তম; তবে বাধ্যতামূলক নয়। ওছমান ও আয়েশা (রাঃ) প্রথম দিকে ক্বছর করতেন ও পরে পুরা পড়তেন। ইবনু ওমর (রাঃ) জামা‘আতে পুরা পড়তেন ও একাকী ক্বছর করতেন (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৩৪৭-৪৮)

Posted in ক্বছর নিজ যেলার বাইরে গেলে করতে পারব কি? | Tagged

ছহীফা কয়টি এবং কাদের উপর তা নাযিল হয়েছিল?


এ ব্যাপারে কুরআন বা ছহীহ হাদীছে কোন স্পষ্ট বর্ণনা নেই। তবে একটি যঈফ বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূল (ছাঃ) বলেন, একশ’ ছহীফা ও চারটি কিতাব আল্লাহ নাযিল করেন। এর মধ্যে ৫০টি শীছ (আঃ)-এর উপর, ৩০টি ইদরীস (আঃ)-এর উপর, ১০টি ইবরাহীম (আঃ)-এর উপর ও অপর ১০টি নাযিল হয় আদম (আঃ)-এর উপর (ছহীহ ইবনু হিববান হা/৩৬১; বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/২১৫৫; তাফসীর কুরতুবী ১/১৮০; তাফসীর ইবনু কাছীর ২/৪১৯, সূরা নিসা ১৬৩-১৬৫ আয়াতের আলোচনা দ্রষ্টব্য)। আলবানী, শু‘আইব আরনাউত্ব প্রমুখ মুহাক্কিক এর সনদকে নিতান্তই যঈফ বলেছেন (যঈফাহ হা/৬০৯০; তাহকীক ছহীহ ইবনু হিববান হা/৩৬১)। কুরআনে কেবল ইবরাহীম (আঃ) এবং মূসা (আঃ)-এর উপর ছহীফাসমূহ নাযিলের কথা এসেছে (আ‘লা ৮৭/১৮-১৯)। তবে তার সংখ্যা বলা হয়নি। সুতরাং আমাদেরকে সাধারণভাবে বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর অগণিত নবী-রাসূলের উপর কিতাব ও ছহীফা নাযিল করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তিনি তোমার (মুহাম্মাদ) প্রতি এই কিতাব নাযিল করেছেন সত্য সহকারে। যা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী। আর তিনি নাযিল করেছিলেন তাওরাত ও ইনজীল’ (আলে ইমরান ৩/৩)

Posted in ছহীফা কয়টি এবং কাদের উপর তা নাযিল হয়েছিল?

একটি বইয়ে ক্বিয়ামতের আলামতের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ক্বিয়ামতের আগে রোমক তথা খৃষ্টানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং আরবদের সংখ্যা কমে যাবে। এর কোন সত্যতা আছে কি?


উক্ত বক্তব্যটি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, এমন সময় ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে যখন রোমকদের সংখ্যা অধিক হবে (মুসলিম হা/২৮৯৮; আহমাদ হা/১৮০৫৮)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, রাসূল (ছাঃ) বলেন, লোকেরা দাজ্জালের ভয়ে পাহাড়ে পালিয়ে যাবে। এ কথা শুনে উম্মু শারীক (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেদিন আরবের লোকেরা কোথায় থাকবে? উত্তরে তিনি বললেন, তখন তারা সংখ্যায় কম হবে’ (মুসলিম হা/২৯৪৫; মিশকাত হা/৫৪৭৭)। কাযী ইয়ায (১০৮৩-১১৪৯ খৃঃ) বলেন, বর্তমান বাস্তবতা হাদীছটির যথার্থতা প্রমাণ করে। কেননা খৃষ্টানরা শাম থেকে স্পেনের শেষ সীমানা পর্যন্ত এতটা ছড়িয়ে পড়েছে, যা ইতিপূর্বে কোন জাতির ক্ষেত্রে ঘটেনি (আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শরহ মুসলিম ২৬/১২৫)। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে না সৃষ্টির নিকৃষ্টতম লোকদের উপরে ব্যতীত (মুসলিম হা/১৯২৪, মিশকাত হা/৫৫১৭, ‘ফিৎনাসমূহ’ অধ্যায়)

Posted in ক্বিয়ামতের আগে রোমক তথা খৃষ্টানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে কি? | Tagged

আমি শয়তানের ধোঁকায় পড়ে ১৯-২০ লক্ষ টাকা ঋণ করে নষ্ট করে ফেলেছি। বর্তমানে আমি একটা চাকুরী করে মাসে ২০ হাযার টাকা বেতন পাই। আমাকে এখন পাওনাদার প্রতিদিনই টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। আমি মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত। এমতাবস্থায় আমি কি করতে পারি?


সবকিছু দিয়ে হ’লেও ঋণ পরিশোধ করার চেষ্টা করতে হবে। এছাড়া বেতন থেকে প্রতিমাসে কিছু টাকা পরিশোধ করার চেষ্টা করবে। সেটাও সম্ভব না হ’লে ঋণদাতার নিকট ঋণ মওকূফের জন্য আবেদন করতে হবে। এতে সে সম্মত না হ’লে সমাজের বায়তুল মাল তহবিল থেকে সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। কেননা ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি যাকাতের মালের অন্যতম হকদার (তওবাহ ৯/৬০)

অন্যদিকে সক্ষম ঋণদাতা অক্ষম ঋণগ্রহীতাকে ক্ষমা করে দিলে তার জন্য বিরাট প্রতিদান রয়েছে। আবু ক্বাতাদাহ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি এই কামনা করে যে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্বিয়ামত দিবসের দুঃখ-কষ্ট হ’তে মুক্তি দিবেন, সে যেন অক্ষম ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য সহজ ব্যবস্থা করে দেয় অথবা ঋণ মওকূফ করে দেয়’ (মুসলিম হা/১৫৬৩; মিশকাত হা/২৯০২)

এতদ্ব্যতীত ঋণ পরিশোধের তাওফীক দানের জন্য আল্লাহর নিকট নিম্নোক্ত দো‘আটি নিয়মিতভাবে পাঠ করবে।- আল্লা-হুম্মাক্ফিনী বেহালা-লেকা ‘আন হারা-মেকা ওয়া আগ্নিনী বেফায্লেকা ‘আম্মান সেওয়া-কা’ (হে আল্লাহ! তুমি আমাকে হারাম ছাড়া হালাল দ্বারা যথেষ্ট কর এবং তোমার অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে অন্যদের থেকে মুখাপেক্ষীহীন কর! রাসূল (ছাঃ) বলেন, এই দো‘আর ফলে পাহাড় পরিমাণ ঋণ থাকলেও আল্লাহ তার ঋণমুক্তির ব্যবস্থা করে দেন’ (তিরমিযী হা/৩৫৬৩; মিশকাত হা/২৪৪৯; ছহীহাহ হা/২৬৬)

Posted in ঋণের কারণে মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত। এমতাবস্থায় আমি কি করতে পারি? | Tagged

বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী উভয়ে সমাঝোতার মাধ্যমে যদি এরূপ চুক্তিতে উপনীত হয় যে, লোকসানের দায় কেবল ব্যবসায়ীই নিবে বিনিয়োগকারী নয়, তাহ’লে এরূপ চুক্তি করা জায়েয হবে কি?


এরূপ চুক্তি জায়েয হবে না। ইবনু কুদামা বলেন, এক্ষেত্রে ব্যবসায়ী লোকসানের ভাগিদার হবে না। কেবল বিনিয়োগকারী হবে। তবে লাভের ক্ষেত্রে উভয়ে সমঝোতা মোতাবেক শরীক হবে। এক্ষেত্রে বিদ্বানগণের মধ্যে কোন মতভেদ আছে বলে আমরা জানি না (ইবনু কুদামা ৫/২৭-২৮, ৫/৪৯, ৫১)

কেননা লোকসানের ভাগিদার হ’লে ব্যবসায়ীকে দুই দিক থেকে দায়িত্ব নিতে হয়। প্রথমতঃ সে ব্যবসা পরিচালনা করে, আবার লোকসানেরও ভাগ বহন করে; যা সুস্পষ্ট যুলুম। সুতরাং উভয়ের সম্মতি থাকলেও এরূপ চুক্তি জায়েয হবে না, যদি না ব্যবসায়ী অন্যায়ভাবে সম্পদ নষ্ট করে (আল-মওসূ‘আতুল ফিক্বহিইয়াহ ৩৮/৬৪)। আল্লাহ্ বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা একে অপরের মাল অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না, তোমাদের পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসা ব্যতীত’ (নিসা ৪/২৯)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ঐ সকল শর্ত যা আল্লাহর কিতাবে নেই তা বাতিল (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৮৭৭)

Posted in যৌথ ব্যবসায় লোকসান হলে একজনই এর ভার নিতে পারবে কি? | Tagged

জুম‘আর খুৎবা চলাকালীন সময়ে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ বা দরূদ পড়া ইত্যাদি জায়েয হবে কি?


খুৎবা চলাকালে খত্বীবের বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে উপরোক্ত দো‘আসমূহ পাঠ করায় কোন বাধা নেই। যেমন খুৎবার সময় ইমাম দো‘আ করলে, রাসূল (ছাঃ)-এর নাম নিলে, আল্লাহ প্রদত্ত বড় কোন নে‘মত অথবা কোন আমলে প্রভূত ফযীলত ইত্যাদি বর্ণনা করলে প্রত্যুত্তরে নিম্নস্বরে আমীন বলা বা তাসবীহ পাঠ করা যাবে (শায়খ বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩০/২৪৩)। এমনকি ছালাতরত অবস্থাতে রাসূল (ছাঃ) যখন আল্লাহর বড়ত্ব বিষয়ক আয়াত অতিক্রম করতেন, তখন সুবহানাল্লাহ বলতেন। যখন প্রার্থনামূলক আয়াত আসত, তখন প্রার্থনা করতেন। যখন জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনার আয়াত আসলে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করতেন (মুসলিম হা/৭৭২)। যা মুছল্লীদের জন্যও অনুরূপ পাঠ করা মুস্তাহাব (শরহ নববী)। অতএব খুৎবার সময় মুছল্লীদের জন্য এরূপ বলায় কোন বাধা নেই। তবে এ সময় মুছল্লীদের মধ্যে পারস্পরিক ব্যাক্যালাপ নিষিদ্ধ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘জুম‘আর দিন ইমাম খুৎবা দেওয়ার সময় তুমি যদি তোমার সাথীকে বল ‘চুপ থাক’, তাহ’লে তুমি অনর্থক কথা বললে (বুখারী হা/৯৩৪; মুসলিম হা/৮৫১; মিশকাত হা/১৩৮৫)।

Posted in জুম‘আর খুৎবা চলাকালীন সময়ে দরূদ পড়া ইত্যাদি জায়েয হবে কি? | Tagged

ক্বিয়ামতের দিন রাসূল (ছাঃ)-এর শাফা‘আত কি কেবল কবীরা গুনাহগারদের জন্য হবে? যদি তাই হয় তবে ক্বিয়ামতের দিন রাসূল (ছাঃ)-এর শাফা‘আত ছাড়া কেউ জান্নাতে যাবে না’ বলার কারণ কি?


রাসূল (ছাঃ)-এর শাফা‘আত মূলতঃ মুসলিম উম্মাহর কাবীরা গোনাহগারদের জন্য (আবুদাঊদ হা/৪৭৩৯; তিরমিযী হা/২৪৩৫; ইবনু মাজাহ হা/৪৩১০)। তবে এটিই একমাত্র শাফা‘আত নয়।  বরং শাফা‘আতকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়। (১) শাফা‘আতে উযমা বা প্রধান শাফা‘আত, যা রাসূল (ছাঃ) কিয়ামতের দিন সকল মানুষের বিচারের জন্য আল্লাহর নিকটে করবেন (ইসরা ১৬/৭৯; বুখারী হা/৪৭১৮)। (২) সাধারণ শাফা‘আত, যা নবী-রাসূল, শহীদ, ফেরেশতা, সৎকর্মশীল ব্যক্তি, আলেম, কুরআন, ছিয়াম ইত্যাদি আল্লাহর নিকটে করবে (বিস্তারিত দ্রষ্টব্য : নাছের আল-জুদাই‘, আশ-শাফাআতু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আহ)

রাসূল (ছাঃ)-এর শাফা‘আত আরও কয়েকটি কারণে হবে। যেমন- (১) জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশ ও তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করার জন্য (মুসলিম হা/১৯৭, ৩৩৩, ৯২০; মিশকাত হা/১৬১৯)। (২) জাহান্নামীদের ক্ষমা করার জন্য (মুসলিম হা/৯৪৮; মিশকাত হা/১৬৬০)। (৩) জাহান্নামীদের শাস্তি লঘু করার জন্য (বুখারী হা/৩৮৮৫; মুসলিম হা/২১০)। (৪) তাঁর চাচা আবু তালেবের শাস্তি কমানোর জন্য (বুখারী হা/১৪০৮; মুসলিম হা/২০৯)। (৫) উম্মতের একদল মানুষকে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করানোর জন্য (বুখারী হা/৪৩৪৩, মুসলিম হা/২৮৭)

যেহেতু রাসূল (ছাঃ)-এর শাফা‘আতের পরই জান্নাতীদের জন্য জান্নাতের দরজা খোলা হবে (মুসলিম হা/১৯৬, ১৯৭),  সেকারণ বলা হয়ে থাকে যে, রাসূল (ছাঃ)-এর সুফারিশ ছাড়া কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না।

Posted in ক্বিয়ামতের দিন রাসূল (ছাঃ)-এর শাফা‘আত কি কেবল কবীরা গুনাহগারদের জন্য হবে? | Tagged

শিশুদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক সময় মিথ্যা কথা বলা হয়। যেমন ‘ঘুমাও, নইলে বাঘে খাবে’ অথবা খাও তাহ’লে বেড়াতে নিয়ে যাব প্রভৃতি। এরূপ মিথ্যা বলা যাবে কি?


বাচ্চাকে থামানোর নিয়তে এসব বলায় কোন দোষ নেই। যেমন অনর্থক বা সংকল্পহীন কসমের কোন কাফফারা নেই (বাক্বারাহ ২/২২৫; আবুদাঊদ হা/৩২৫৪, মিশকাত হা/৩৪১৭, ঐ মিরক্বাত)। তবে যদি মনের সংকল্প অনুযায়ী হয় এবং সত্যিকারের ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে হয়, তবে তা মিথ্যা ও পাপ হিসাবে গণ্য হবে। আব্দুল্লাহ বিন আমের (রাঃ) বলেন, ‘একদা আমার মা আমাকে ডাকলেন। নবী করীম (ছাঃ) সে  সময়ে আমাদের বাড়ীতে ছিলেন। তিনি ডাকার সময় বললেন, ‘বাবা! এদিকে এসো, তোমাকে একটি জিনিস দিব’। তখন রাসূল (ছাঃ) তাকে (ইবনে আমেরের মা) বললেন, ‘তুমি কিছু দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ডাকনি’? উত্তরে তিনি বললেন, ‘আমি ওকে খেজুর দিব’। অতঃপর রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘সাবধান! যদি তুমি তাকে কিছু না দিতে তাহ’লে এ কারণে তোমার আমলনামায় একটি মিথ্যার পাপ লিপিবদ্ধ হ’ত’ (আবুদাঊদ হা/৪৯৯১; মিশকাত হা/৪৮৮২; ছহীহাহ হা/৭৪৮)। অন্য বর্ণনায় এসেছে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কেউ যদি কোন শিশুকে বলে, ‘এসো এটা নাও’। অতঃপর তা না দেয়, তাহ’লে তা মিথ্যাচার হিসাবে গণ্য হবে’ (আহমাদ হা/৯৮৩৫; ছহীহুত তারগীব হা/২৯৪২)

Posted in শিশুদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনতে মিথ্যা কথা বলা যাবে কি? | Tagged ,

রুকূ অবস্থায় মুছল্লীর দৃষ্টি কোন দিকে থাকবে?


তাশাহহুদ ব্যতীত ছালাতের অন্য সময়ে দৃষ্টি সিজদার স্থানে রাখবে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) যখন কা‘বা ঘরে ঢুকে ছালাত আদায় করলেন, তখন তাঁর দৃষ্টি ছালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত সিজদার স্থান থেকে সরেনি    (হাকেম হা/১৭৬১; ছহীহ ইবনু খুযায়মা হা/৩০১২; ছিফাতু ছালাতিন নবী (ছাঃ) ১/৬৯)। অন্যত্র তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) যখন রুকূ করতেন, মাথা উপরেও করতেন না এবং নীচুও করতেন না। বরং তার মাঝামাঝি রাখতেন (মুসলিম হা/৪৯৮, মিশকাত হা/৭৯১)

Posted in রুকূ অবস্থায় মুছল্লীর দৃষ্টি কোন দিকে থাকবে? | Tagged ,

আগাম জান্নাত পাওয়ার সুসংবাদ পাওয়ার পর আলী (রাঃ) ছালাত পরিত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। কেননা জান্নাতে ছালাতের কোন প্রয়োজন থাকবে না। কিন্তু ছালাতের সময় তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না। অতঃপর পথিমধ্যে লোহার আঘাতে তার পিঠে রক্তপাত হ’ল। এরূপ কাহিনীর কোন সত্যতা আছে কি?


এ মর্মে কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। তাছাড়া ছালাত পরিত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন- এমন গর্হিত বক্তব্যই কাহিনীটি বানোয়াট হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

Posted in জান্নাত পাওয়ার সুসংবাদ পাওয়ার পর আলী (রাঃ) ছালাত পরিত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন ক | Tagged

বর্তমানে বেশী লাভের উদ্দেশ্যে আখের গুড়ে ব্যাপকভাবে চিনি মিশানো হচ্ছে। অন্যদিকে পিওর গুড় বানাতে গেলে বাজারে টেকা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষণে বাধ্যগত অবস্থায় কিছুটা চিনি মিশানো যাবে কি?


এমতাবস্থায় ক্রেতাকে পরিষ্কারভাবে চিনি মিশ্রণের বিষয়টি জানাতে হবে। নচেৎ তা প্রতারণা হিসাবে গণ্য হবে, যা হারাম। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একদিন একটি খাদ্যস্তূপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময় তিনি তার মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিলে তাঁর হাত ভিজে গেল। তিনি বিক্রেতাকে কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলল, বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। রাসূল (ছাঃ) তাকে বললেন, তাহ’লে তুমি কেন ভেজা অংশটি উপরে রাখলে না? মনে রেখ, যে প্রতারণা করে, সে আমার দলভুক্ত নয়’ (মুসলিম হা/১০২; মিশকাত হা/৩৫২০)

Posted in আখের গুড়ে চিনি মিশানো যাবে কি? | Tagged

আয়াতুল কুরসী পাঠ করে বুকে হাত বুলানো যাবে কি?


এ মর্মে কোন দলীল নেই। বদরুদ্দীন আয়নী হানাফী ইমাম বুখারী বর্ণিত একটি হাদীছ (বুখারী, হা/৫৭৪৭)-এর উপর কিয়াস করে যেকোন দো‘আ পাঠ করে শরীরে হাত বুলানোকে জায়েয বলেছেন (উমদাতুল ক্বারী শরহ বুখারী ২১/২৭০), যা গ্রহণযোগ্য নয়। বরং এক্ষেত্রে শরী‘আত নির্দেশিত আমল করাই যথেষ্ট হবে। যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয ছালাতের পর ‘আয়াতুল কুরসী’ পাঠ করবে মৃত্যু ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করতে তার কোনই বাধা থাকে না’ (নাসাঈ কুবরা হা/৯৯২৮; মিশকাত হা/৯৭৪; ছহীহাহ হা/৯৭২)। এছাড়া শয়নকালে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত তার হেফাযতের জন্য একজন ফেরেশতা পাহারায় নিযুক্ত থাকে। যাতে শয়তান তার নিকটবর্তী হ’তে না পারে’ (বুখারী হা/৩২৭৫; মিশকাত হা/২১২৩)

Posted in আয়াতুল কুরসী পাঠ করে বুকে হাত বুলানো যাবে কি? | Tagged

অসুস্থতার কারণে তায়াম্মুম করলে পুরোপুরি পবিত্রতা অর্জন হয় কি? এর মাধ্যমে ছালাত-ছিয়াম আদায় ও কুরআন স্পর্শ করে পাঠ করা যাবে কি?


করা যাবে। ওযূর মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করে যে সকল কাজ করা যাবে, তায়াম্মুম করেও সে সকল কাজ করা যাবে। আল্লাহ বলেন, ‘আর যদি পানি না পাও, তাহ’লে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম কর’ (নিসা ৪/৪৩)। অত্র আয়াতে আল্লাহ্ পানির বিকল্প হিসাবে পবিত্র মাটির কথা উল্লেখ করেছেন।

রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘নিশ্চয়ই পবিত্র মাটি মুসলমানদের জন্য ওযূর মাধ্যম স্বরূপ। যদিও সে ১০ বছর পর্যন্ত পানি না পায়’ (আবুদাঊদ হা/৩৩২; মিশকাত হা/৫৩০)। রাসূল (ছাঃ) এক ব্যক্তিকে লোকদের সঙ্গে ছালাত আদায় না করে আলাদা থাকতে দেখে বললেন, হে অমুক! লোকদের সঙ্গে ছালাত আদায় করতে কিসে তোমায় বাধা দিল? সে ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অপবিত্র (সহবাস বা স্বপদোষের কারণে) অবস্থায় আছি, অথচ পানি পাইনি। তিনি বললেন, তুমি মাটি ব্যবহার কর, তা-ই তোমার জন্য যথেষ্ট (বুখারী হা/৩৪৮; মিশকাত হা/৫২৭; বিস্তারিত)

Posted in তায়াম্মুম অসুস্থতার কারণে করলে পুরোপুরি পবিত্রতা অর্জন হয় কি?, তায়াম্মুম মাধ্যমে ছালাত-ছিয়াম আদায় ও কুরআন পাঠ করা যাবে কি? | Tagged , ,

আমরা ৫ বোন ১ ভাই। পিতা ভাইয়ের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ ডিপিএস, ব্যাংক ব্যালান্সের নমিনী এবং সমুদয় জমিজমা ভাইয়ের নামে লিখে দিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ভাই এখন সেগুলির ভাগ অন্য কাউকে দিতে অস্বীকার করছে। এক্ষণে এরূপ অন্যায় কর্মের জন্য পিতা না ভাই দায়ী হবেন?


ওয়ারিছগণ কে কতটুকু পাবে তা স্বয়ং আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন (নিসা ৪/৭, ১১)। সুতরাং বণ্টনের ক্ষেত্রে উক্ত নীতির ভিত্তিতেই ভাগ করতে হবে। এক্ষেত্রে কোন কমবেশী করা নিঃসন্দেহে কাবীরা গুনাহ এবং তা হক বিনষ্টের শামিল। প্রশ্ন অনুযায়ী পিতা ও ভাই উভয়ে দায়ী হবে। বান্দার হক বিনষ্টের পরিণাম সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কারো এক বিঘত পরিমাণ যমীন যুলুম করে নেয়, ক্বিয়ামতের দিন তার গলায় সাত তবক যমীন বেড়ী পরানো হবে’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৯৩৮)। অন্য হাদীছে এসেছে, ক্বিয়ামতের দিন ঐ মাটির বোঝা তার গর্দানে চাপিয়ে দেওয়া হবে’ (আহমাদ, ছহীহাহ হা/২৪২)

এক্ষণে নিজেকে ও পিতাকে বাঁচানোর জন্য উক্ত সম্পদ এককভাবে ভোগকারী ভাইয়ের কর্তব্য হবে শরী‘আত সম্মতভাবে পুরো সম্পদ হকদারদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া এবং পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। এর ফলে পিতার উক্ত গোনাহ ক্ষমা হবে ইনশাআল্লাহ (সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৫৯৮; মিশকাত হা/২৩৫৪; মির‘আত ৮/৬১)

Posted in জমিজমা ভাইয়ের নামে লিখে দিলে এই অন্যায় কর্মের জন্য কে দায়ী হবেন? | Tagged , ,

ছহীহ ইবনু হিববান এবং ছহীহ ইবনু খুযায়মার সকল হাদীছ কি ছহীহ?


ছহীহায়েনের পর বিশেষভাবে ছহীহ হাদীছ সংকলনের জন্য স্বতন্ত্র দু’টি গ্রন্থ হ’ল ছহীহ ইবনু খুযায়মা (পূর্ণ নাম- مختصر المختصر من المسند الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم) এবং ছহীহ ইবনে হিববান (পূর্ণ নাম : المسند الصحيح على التقاسيم والأنواع)। তবে এই গ্রন্থদ্বয়ের সকল হাদীছ ছহীহ নয়। বরং কিছু হাদীছ যঈফ ও জাল রয়েছে। ভাষ্যকার ড. মুহাম্মাদ মুছতফা আ‘যমী বলেন, ছহীহ ইবনু খুযায়মা ছহীহায়েনের মত নয় যে এর ব্যাপারে বলা যাবে এর সকল হাদীছই ছহীহ। বরং সেখানে ছহীহ পর্যায়ভুক্ত নয় এরূপ হাদীছও রয়েছে। কেবল ছহীহ বা হাসানই নয়। বরং যঈফ হাদীছও রয়েছে। তবে তা এ গ্রন্থে উল্লেখিত ছহীহ ও হাসান হাদীছের তুলনায় খুব কম। আর জাল এবং অতি দুর্বল হাদীছের সংখ্যাও প্রায় বিরল (তাহকীক ইবনু খুযায়মা ১/২২)। ইমাম সুয়ূতী  বলেন, ছহীহ ইবনু খুযায়মাহ বিশুদ্ধতার দিক থেকে ইবনু হিববানের চেয়ে অগ্রগণ্য। কেননা তিনি অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করেছেন এবং সনদের ব্যাপারে সামান্য আপত্তি পেলেই তাকে ছহীহ বলা থেকে বিরত থেকেছেন (তাদরীবুর রাবী ১/১১৫)। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ গ্রন্থের বৃহত্তর অংশই হারিয়ে গেছে। আহমাদ শাকের, আলবানী, শু‘আইব আরনাঊত, ড. মুছত্বফা আ‘যমী প্রমুখ মুহাদ্দিছ উক্ত গ্রন্থদ্বয়ের তাহকীক সম্পন্ন করেছেন এবং ছহীহ ও যঈফ হাদীছসমূহ বাছাই করেছেন।

Posted in ছহীহ ইবনু হিববান এবং ছহীহ ইবনু খুযায়মার সকল হাদীছ কি ছহীহ? | Tagged ,

নিম্নাঙ্গে হাত লাগলে ওযূ ভঙ্গ হয়ে যায় কি? গোসলের সময় ওযুর পর লজ্জাস্থানে হাত পড়লে কি পুনরায় ওযূ করতে হবে?


সাধারণভাবে লজ্জাস্থানে স্পর্শে ওযূ ও ছালাত নষ্ট হয় না (আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৩২০)। যে সকল হাদীছে লজ্জাস্থান স্পর্শে ওযূ নষ্ট হবে বা ওযূ করতে হবে বলা হয়েছে (আহমাদ, ইরওয়া হা/১১৬, ১১৭; ছহীহ ইবনু হিববান হা/১১১৮, ছহীহুল জামে‘ হা/৩৬৩, মিশকাত হা/৩৯০), তার ব্যাখ্যা হ’ল, উত্তেজনার সাথে স্পর্শ করা (টীকা দ্রঃ মিশকাত হা/৩২০; উছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ ১/২৮৪ পৃঃ, আলবানী, তামামুল মিন্নাহ ১০৩ পৃ.)। সুতরাং সাধারণ স্পর্শে ওযূ ভঙ্গ হবে না এবং পুনরায় ওযূ করতে হবে না।

Posted in গোসলের সময় ওযুর পর লজ্জাস্থানে হাত পড়লে কি পুনরায় ওযূ করতে হবে?, নিম্নাঙ্গে হাত লাগলে ওযূ ভঙ্গ হয়ে যায় কি? | Tagged

আমরা জানি মূর্তি বানানো হারাম। এক্ষণে বর্তমানে যে রোবট বানানো হচ্ছে, এটা মূর্তি তৈরীর নামান্তর হবে কি?


যদি রোবট হুবহু প্রাণীর আকৃতি বিশিষ্ট হয়, তাহ’লে তা মূর্তি হিসাবে গণ্য হবে, যা তৈরী করা হারাম। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, যারা ছবি/মূর্তি তৈরী করে, তারা ক্বিয়ামতের দিন কঠিন আযাবপ্রাপ্ত হবে। তাদেরকে বলা হবে তোমরা যা সৃষ্টি করেছিলে তা জীবিত কর’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৪৯২ ‘পোষাক’ অধ্যায়, ‘ছবি সমূহ’ অনুচ্ছেদ)। তবে সরাসরি প্রাণীর আকৃতি বিশিষ্ট না হ’লে কোন দোষ নেই (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২/২৭৮-২৭৯; আল-মাওসূআ‘তুল ফিক্বহিইয়াহ ৭/৮)

Posted in রোবট বানানো হারাম কি? | Tagged ,

তিন ছেলে-মেয়ে থাকা অবস্থায় জনৈক ব্যক্তি স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই ২য় বিবাহ করেছে। এটা শরী‘আতসম্মত হয়েছে কি? এক্ষণে প্রথমা স্ত্রী ও তার সন্তানরা দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিতে পিতাকে বাধ্য করতে পারবে কি?


শারঈ দৃষ্টিতে স্বামীর দ্বিতীয় বিবাহের জন্য পূর্ব স্ত্রীর অনুমতি গ্রহণ আবশ্যক নয়। আল্লাহ তা‘আলা মুসলিম পুরুষকে চারজন পর্যন্ত স্ত্রী রাখার অনুমতি দিয়েছেন (নিসা ৪/৩)। তবে বিবাহ করার চেয়ে স্ত্রীদের মাঝে ইনছাফ করার বিষয়টি বেশী যরূরী ও কঠিন। এজন্য একাধিক বিবাহের অনুমতি থাকলেও সে ব্যাপারে ইসলাম যথেষ্ট শর্তারোপ করেছে। নবী করীম (ছাঃ) বলেন, ‘কারো নিকট যদি দু’জন স্ত্রী থাকে আর সে তাদের মাঝে ইনছাফ না করে, তাহ’লে সে ক্বিয়ামতের দিন এক অঙ্গ পতিত অবস্থায় উঠবে’ (নাসাঈ, মিশকাত হা/৩২৩৬)। অতএব পারিবারিক শান্তি ও শৃংখলা বজায় রাখার স্বার্থে পূর্ব স্ত্রীর সম্মতি গ্রহণ করা উত্তম। আর স্বামীকে দ্বিতীয় স্ত্রী তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধ্য করা বৈধ হবে না।

Posted in ছেলে-মেয়ে থাকা অবস্থায় স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই ২য় বিবাহ করা শরী‘আতসম্মত কি? | Tagged ,

হাদীছে বর্ণিত ‘নারদাশীর’ খেলা দ্বারা নববী যুগে এবং বর্তমান যুগে কোন খেলাকে বুঝানো হয়েছে?


নারদাশীর’ অনারব শব্দ। যা প্রাচীন পারস্য ও শামের লোকেরা আবিষ্কার করে। নারদাশীর বলতে সে সকল খেলাকে বুঝায় যাতে কাঠ, হাড় বা প্লাস্টিকের তৈরী বাক্স কিংবা চৌকো (dice) রয়েছে। যেমন পাশা, লুডু, দাবা, শতরঞ্জ প্রভৃতি, যা মূলতঃ ভাগ্য ও অনুমাননির্ভর (লিসানুল ‘আরাব ৩/৪২১; আল-মু‘জামুল ওয়াসীত্ব ২/৯১২)। এসব খেলার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে, যা সবই হারাম। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নারদাশীর খেলায় অংশগ্রহণ করল, সে নিজের হস্ত শূকরের রক্তে রঞ্জিত করল’ (মুসলিম হা/২২৬০; মিশকাত হা/৪৫০০)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘যে ব্যক্তি নারদাশীর খেলল, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করল’ (আবুদাউদ হা/৪৯৩৮; মিশকাত হা/৪৫০৫)। একদা আলী (রাঃ) একদল ব্যক্তিকে শতরঞ্জ খেলতে দেখে বললেন, এসব মূর্তি নিয়ে তোমরা মত্ত হয়ে উঠেছ কেন? (মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা হা/২৬৬৮২; বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৬০৯৭, সনদ হাসান; ইবনু হাযম, মুহাল্লা ৬/৬৩)

আবুল ওয়ালীদ আল-বাজী এই নিষেধাজ্ঞার কারণ সম্পর্কে বলেন, এসব খেলা মানুষকে প্রায়শই আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল রাখে। এতে দ্বীন ও দুনিয়ার কোন উপকারিতা নেই; বরং এর পরিণামে মানুষ জুয়া খেলা, মিথ্যা শপথ এবং ছালাত পরিত্যাগে অভ্যস্ত হয় (আল-মুনতাক্বা শারহুল মুওয়াত্ত্বা ৭/২৭৮)। বর্তমান যুগে তাস, ক্যাসিনো, ব্রীজ প্রভৃতি খেলাও একই পর্যায়ভুক্ত। টাকার হারজিত না থাকলেও এসব খেলা পরিত্যাজ্য। কেননা এগুলোর প্রকৃতি ও কুফল একই। সুতরাং ঈমানদারের জন্য এ জাতীয় সময় অপচয়কারী এবং আল্লাহ থেকে বিমুখকারী খেলা হ’তে বিরত থাকা আবশ্যক (শাওকানী, নায়লুল আওত্বার ‘জুয়া ও নারদাশীর খেলা হারাম’ অনুচ্ছেদ ৮/১০৮)

Posted in নারদাশীর’ খেলা দ্বারা নববী যুগে এবং বর্তমান যুগে কোন খেলাকে বুঝানো হয়েছে? | Tagged

ফাসেক-ফাজের হওয়া সত্ত্বেও বিত্তবান হওয়ায় কাউকে মসজিদ কমিটির সভাপতি বা সদস্য বানানোয় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?


ফাসেক-ফাজের লোকদের ইমাম, নেতা বা মসজিদের সভাপতি বানানো ঊচিৎ নয়। আল্লাহ বলেন, আল্লাহর মসজিদ সমূহ কেবল তারাই আবাদ করে, যারা আল্লাহ ও বিচার দিবসের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে। যারা ছালাত কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ভয় করে না। নিশ্চয়ই তারা সুপথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (তওবাহ ৯/১৮)। জনৈক ইমাম মসজিদে কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করলে পরবর্তীতে রাসূল (ছাঃ) তাকে ইমামতি করতে দেননি (আবুদাউদ হা/৪৮১; মিশকাত হা/৭৪৭; ছহীহুত তারগীব হা/২৮৮)। যা প্রমাণ করে যে, ফাসেক লোকদের নেতা বানানো সমীচীন নয় (ইবনু তায়মিয়া, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৩/৩৫৬)। তবে ফাসেক-ফাজের লোক যদি ক্ষমতা বলে নেতা হয়ে যায়, তাহ’লে শরী‘আতসম্মত কাজে তাদের আনুগত্য করা যাবে। যেমনভাবে ইবনু ওমর (রাঃ) হাজ্জাজ বিন ইউসুফের নেতৃত্ব মেনে নিয়েছিলেন এবং তার পিছনে ছালাত আদায় করেছিলেন (নববী, আল-মাজমূ‘ ৪/২৫৩)

Posted in ফাসেক-ফাজের হওয়া সত্ত্বেও বিত্তবান হওয়ায় মসজিদ কমিটির সভাপতি বানানোয় যাবে | Tagged

‘আহলেহাদীছদের স্বভাব হবে এই যে, তারা কোন কাজের ক্ষেত্রে বলবে রাসূল (ছাঃ) বলেছেন তাই এই কাজটি করো, রাসূল (ছাঃ) এভাবে করতেন তাই এভাবে করো’। উপরোক্ত কথাটি কি হাদীছ না কোন মনীষীর উক্তি?


উপরোক্ত বর্ণনাটি রাসূলের নয় বরং ইমাম বুখারী ও মুসলিমের উস্তাদ ইবরাহীম বিন মূসা (রহঃ)-এর। রাসূল (ছাঃ) একটি হাদীছে বলেন, শেষ যামানায় আমার উম্মতের মধ্যকার একটি দলকে পূর্ববর্তীদের ন্যায় ছওয়াব প্রদান করা হবে। তারা অসৎকাজে নিষেধ করবে এবং ফিৎনাবাজদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে (আহমাদ, মিশকাত হা/৬২৮০; ছহীহাহ হা/১৭০০)। তখন ইবরাহীম বিন মূসাকে জিজ্ঞেস করা হ’ল তারা কারা? তিনি বললেন, ‘তারা আহলেহাদীছ। তারা বলে, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, এটি কর। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, এটি করো না (অর্থাৎ তারা মানুষকে রাসূল (ছাঃ)-এর আদিষ্ট পথে চলার জন্য আহবান জানাবে)’ (সুয়ূতী, মিফতাহুল জান্নাহ, পৃ. ৬৮)

Posted in কোন কাজের ক্ষেত্রে বলবে রাসূল (ছাঃ) বলেছেন তাই এই কাজটি করো | Tagged