রাসূল (ছাঃ) থেকে নির্দেশনা না থাকলেও অনেক সময় কোন ছাহাবী কোন আমল করেছেন। অতঃপর রাসূল (ছাঃ) তার ফযীলত বর্ণনা করেছেন বা অনুমোদন দিয়েছেন। যেমন প্রত্যেক রাক‘আতে সূরা ইখলাছ পাঠ করা, রববানা লাকাল হামদ-এর পর হামদান কাছীরান… ইত্যাদি। একইভাবে নেকীর আশায় ফরয ছালাতের পর হাত তুলে মুনাজাত করায় বাধা কোথায়?


বাধা হ’ল এই যে, কাজটি রাসূল (ছাঃ)-এর যামানায় করা হয়নি বা তিনি সমর্থনও করেননি। এ ব্যাপারে রাসূলের নির্দেশনা বা অনুমোদন না থাকাটাই তা বিদ‘আত হওয়ার বড় প্রমাণ। মালেক বিন আনাস (রহঃ) দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছেন, ‘রাসূল (ছাঃ) ও তাঁর ছাহাবীদের সময়ে যেসব বিষয় ‘দ্বীন’ হিসাবে গৃহীত ছিল না, বর্তমানকালেও তা ‘দ্বীন’ হিসাবে গৃহীত হবে না (শাত্বেবী, আল-ই‘তিছাম ১/৫৩৫)

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যারা আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু প্রবর্তন করবে, তা প্রত্যাখ্যাত’ (বুখারী হা/২৬৯৭; মিশকাত হা/১৪০)। অতএব রাসূল (ছাঃ)-এর যুগে যা ছিল না তা বর্তমান যুগেও আমলযোগ্য নয়, যদিও তা বাহ্যিকভাবে নেক আমল মনে হয়।

Advertisements
Posted in মুনাজাত ফরয ছালাতের পর হাত তুলে করায় বাধা কোথায়? | Tagged

আমার কাছে অনেক গল্প-উপন্যাসের বই আছে, শরী‘আত মোতাবেক যা পাঠ করা হারাম। এক্ষণে তা বিক্রি করে টাকা নেওয়া যাবে কি?


এগুলি পুড়িয়ে বা মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে। যাতে অন্য কেউ তা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা যখন কোন জিনিস হারাম করেন তখন তার মূল্য গ্রহণও হারাম করেন’ (আহমাদ হা/২৬৭৮; ইবনু হিববান হা/৪৯৩৮, সনদ ছহীহ)। তিনি আরো বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা ইহূদীদের ধ্বংস করুন। আল্লাহ যখন তাদের জন্য মৃতের চর্বি হারাম করে দেন, তখন তারা তা গলিয়ে বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করে’ (বুখারী হা/২২৩৬; মুসলিম হা/১৫৮১; মিশকাত হা/২৭৬৬)

Posted in পাঠ করা হারাম বই বিক্রি করে টাকা নেওয়া যাবে কি? | Tagged

সিজদারত অবস্থায় দুই পায়ের আঙ্গুল কি অবস্থায় রাখতে হবে?


এসময় দুই পা খাড়া ও আঙ্গুলগুলি সাধ্যমত কেবলামুখী থাকবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৮৯৩, ‘সিজদা ও সিজদার ফযীলত’ অনুচ্ছেদ; মুস্তাদরাক হাকেম ১/৩৪০ পৃঃ, হা/৮৩২; ইবনু হিববান হা/১৯৩৩; মির‘আত ৩/২০৪)

Posted in সিজদারত অবস্থায় দুই পায়ের আঙ্গুল কি অবস্থায় রাখতে হবে? | Tagged

আমাদের ৩০ বছর পূর্বের সংস্কারহীন জরাজীর্ণ মসজিদটি ভেঙ্গে বহুতল বিশিষ্ট মসজিদ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন ঐ মসজিদের নীচ তলায় মার্কেট ও উপর তলায় মসজিদ করায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?


এতে কোন বাধা নেই। ওমর (রাঃ)-এর যুগে কূফার দায়িত্বশীল ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ)। একদা মসজিদ হ’তে বায়তুল মাল চুরি হ’লে সে ঘটনা ওমর (রাঃ)- কে জানানো হয়। তিনি মসজিদ স্থানান্তর করার নির্দেশ দেন। ফলে মসজিদ স্থানান্তরিত করা হয় এবং পূর্বের স্থানটি খেজুর বিক্রির বাজারে পরিণত হয় (ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল কাবীর হা/৮৯৪৯; মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ হা/১০৬৫৪; হায়ছামী বলেন, এর বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত; ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩১/২১৬-২১৭; ফিক্বহুস সুন্নাহ ৪/২৯০ পৃঃ)

Posted in মসজিদের নীচ তলায় মার্কেট ও উপর তলায় মসজিদ করায় শরী‘আতে বাধা আছে কি? | Tagged ,

সূদী অর্থ দিয়ে ক্রয়কৃত জনৈক ব্যক্তির জমি ফসল ভাগাভাগির চুক্তিতে লিজ নেওয়া যাবে কি?


যাবে। কেননা এখানে লিজ গ্রহীতা মালিক নয়। আর আল্লাহ বলেন, ‘একের পাপের বোঝা অন্যে বহন করবে না’ (নাজম ৫৩/৫৫; আন‘আম ৬/১৬৪)

Posted in সূদী অর্থ দিয়ে ক্রয়কৃত জমি ফসল ভাগাভাগির চুক্তিতে লিজ নেওয়া যাবে কি? | Tagged , ,

প্রাপ্তবয়স্ক জনৈক ছেলের নিজস্ব কোন আয় নেই। পিতার উপার্জনের বড় অংশ হারাম পদ্ধতিতে অর্জিত। এক্ষণে উক্ত ছেলের জন্য পিতার সম্পদ গ্রহণ করা জায়েয হবে কি?


বাধ্যগত অবস্থায় জায়েয হবে ইনশাআল্লাহ। তবে উক্ত সম্পদ মৌলিকভাবে হারাম হ’লে তা সন্তানের জন্য গ্রহণ করা জায়েয নয়। যেমন চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই ও ঘুষ ইত্যাদির টাকা (উছায়মীন, আল-ক্বাওলুল মুফীদ আলা কিতাবিত তাওহীদ ২/৩৫২)

Posted in পিতার হারাম উপার্জনের বড় অংশ ছেলের জন্য গ্রহণ করা জায়েয হবে কি? | Tagged , , ,

অবহেলাবশত ছালাত পরিত্যাগকারী মৃত পিতার জন্য দো‘আ করা সন্তানের জন্য জায়েয হবে কি?


যদি ছালাত অস্বীকারকারী না হয়, তবে অলসতা ও অজ্ঞতাবশে ছালাত পরিত্যাগকারী পিতার জন্য দো‘আ করা যাবে এবং সন্তানের দো‘আয় পিতা উপকৃত হবেন ইনশাআল্লাহ (উছায়মীন, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব ১২৪/১১৬)আর সন্তানের দো‘আ পিতা-মাতার উপকারে আসে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়, কেবল ৩টি আমল ব্যতীত (১) ছাদাক্বায়ে জারিয়াহ বা প্রবাহমান দান (২) এমন ইলম, যার দ্বারা জনগণের কল্যাণ সাধিত হয় এবং (৩) সুসন্তান, যে তার জন্য দো‘আ করে’ (মুসলিম, মিশকাত হা/২০৩)তিনি আরো বলেন, আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতে তাঁর কোন নেক বান্দার মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন। এ অবস্থা দেখে সে (নেক বান্দা) বলবে, হে আমার রব! আমার এ মর্যাদা কিভাবে বৃদ্ধি হ’ল? তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তোমার সন্তান-সন্ততি তোমার জন্য মাগফিরাত কামনা করার কারণে (ইবনু মাজাহ হা/৩৬৬০; মিশকাত হা/২৩৫৪; ছহীহাহ হা/১৫৯৮)

Posted in ছালাত পরিত্যাগকারী মৃত পিতার জন্য দো‘আ করা যাবে কি? | Tagged , ,

শরী‘আতে একজন পুরুষের জন্য কতটুকু পরিমাণ স্বর্ণ ব্যবহার করা জায়েয?


পুরুষের জন্য সকল প্রকার স্বর্ণ ব্যবহার করা হারাম। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘স্বর্ণ ও রেশমী কাপড় আমার উম্মতের নারীদের জন্য হালাল করা হয়েছে এবং পুরুষদের জন্য হারাম করা হয়েছে’ (ইবনু মাজাহ হা/৩৫৯৫; আবুদাঊদ হা/৪০৫৭; মিশকাত হা/৪৩৯৪)। এক্ষণে কারো যদি নাক কেটে যায় বা দাঁত ভেঙ্গে যায় আর তা মেরামতের জন্য স্বর্ণের বিকল্প কিছু না থাকে তাহ’লে এক্ষেত্রে পুরুষেরা স্বর্ণ ব্যবহার করতে পারবে (তিরমিযী হা/১৭৭০; মিশকাত হা/৪৪০০; নববী, আল-মাজমূ‘ ১/৩১২; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ২৪/৫৬)

Posted in স্বর্ণ পুরুষের জন্য কতটুকু পরিমাণ ব্যবহার করা জায়েয? | Tagged

ইমাম ছাহেব অসুস্থ হওয়ার কারণে বসে ছালাত আদায় করতে পারবেন কি? যদি পারেন তবে মুছল্লীরাও কি বসে ছালাত আদায় করবেন?


অসুস্থ অবস্থায় ইমাম বসে ছালাতে ইমামতি করতে পারবেন। তবে দাঁড়িয়ে ইমামতি করার মত অন্য কেউ থাকলে তাকে ইমামতি করতে দেওয়া উত্তম (নববী, আল মাজমূ‘ ৪/২৬৪; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী ২/১৬২)। এক্ষণে ইমাম বসে ছালাত শুরু করলে মুছাল্লীরাও বসে ছালাত আদায় করবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যখন ইমাম বসে ছালাত আদায় করেন, তখন তোমরা সকলেই বসে ছালাত আদায় কর (বুখারী হা/৬৮৯; মুসলিম হা/৪১১-১৩; মিশকাত হা/১১৩৯)। আর ইমাম দাঁড়িয়ে ছালাত শুরু করার পর যদি অসুস্থ হয়ে বসে ছালাত আদায় করেন, তবে মুছাল্লীরা বাকী ছালাত দাঁড়িয়ে আদায় করবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) অসুস্থ অবস্থায় জামা‘আতে অংশগ্রহণ করেন। যখন আবুবকর (রাঃ) ইমামতি করছিলেন। এসময় রাসূল (ছাঃ) আবুবকরের বামে বসে ইমামতি করছিলেন। আর আবুবকর দাঁড়িয়ে রাসূল (ছাঃ)-কে অনুসরণ করছিলেন। আর ছাহাবীগণ আবুবকরকে অনুসরণ করছিলেন (বুখারী হা/৬৬৪; মুসলিম হা/৪১৮; মিশকাত হা/১১৪০)

Posted in ইমাম বসে ছালাত আদায় করলে মুছল্লীরাও কি বসে ছালাত আদায় করবেন? | Tagged , ,

পড়াশোনার প্রয়োজনে তথা ভূমি গবেষণার জন্য আমাদেরকে রাতের পর রাত গভীর জঙ্গলে ছেলে-মেয়ে একত্রে কাটাতে হয়, অধ্যয়ন করতে হয়। একে অপরকে সাহায্য করতে হয়। কোন মেয়ে অসুস্থ হ’লে কয়েকজন পালাক্রমে তাকে বহন করে চলতে হয়। এর ফলে কি আমাদেরকে গুনাহগার হ’তে হবে?


এই ধরনের পরিস্থিতি বর্তমান মুসলিম দেশগুলোতে অতীব দুঃখজনক এক বাস্তবতা। ছাত্র-ছাত্রীদের পৃথক শিক্ষা পরিবেশ প্রদান না করে কর্তৃপক্ষ এমন ভয়ংকরভাবে তাদেরকে গুনাহে লিপ্ত হওয়ার ব্যবস্থা করছে। নিঃসন্দেহে এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ছাত্র-ছাত্রী প্রত্যেকেই গুনাহগার হবেন। কেননা এমন পরিস্থিতিতে নারী ও পুরুষ কারো পক্ষে যথাযথ ইসলামী পর্দা মেনে চলা সম্ভব নয়। অতএব এমন পর্দাহীন ও প্রতিনিয়ত গুনাহে লিপ্ত হওয়ার পরিবেশে গবেষণা থেকে বিরত থাকতে হবে।

Posted in বাধ্যতা অবস্থায় ছেলে-মেয়ে একত্রে কাটাতে হয় এতে কি গুনাহগার হ’তে হবে? | Tagged ,

ব্যবসায় রিযিকের ১০ ভাগের ৯ ভাগ রয়েছে মর্মে প্রচলিত হাদীছটির সত্যতা আছে কি?


উক্ত হাদীছ যঈফ (আলবানী, যঈফাহ হা/৩৪০২; যঈফুল জামে‘ হা/২৪৩৪)। বিভিন্ন হাদীছ গ্রন্থে বর্ণিত হ’লেও এই হাদীছের কোন সনদই ছহীহ নয় (তারীখু ইবনু মাঈন হা/৩০৮৯; ইবনু হাজার, আল-মাতালিবুল আলিয়া হা/১৪৭৮; সিলসিলা যঈফাহ হা/৩৪০২)। তবে ব্যবসায়ের মধ্যে বরকত আছে যা ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, ছিদ্দীক ও শহীদগণের সঙ্গে থাকবে (তিরমিযী হা/১২০৯; মিশকাত হা/২৭৯৬; ছহীহুত তারগীব হা/১৭৮২)। তিনি আরো বলেন, ‘সবচেয়ে পবিত্র উপার্জন হ’ল, যা মানুষের নিজ হাতের কাজ এবং সদুপায়ে ব্যবসার মাধ্যমে করা হয়’ (আহমাদ হা/১৭৩০৪; মিশকাত হা/২৭৮৩; ছহীহাহ হা/৬০৭)

Posted in ব্যবসায় রিযিকের ১০ ভাগের ৯ ভাগ রয়েছে মর্মে হাদীছটির সত্যতা আছে কি? | Tagged ,

মুসলিম শিক্ষক স্কুলে হিন্দু ধর্ম পড়াতে পারবে কি?


মুসলিম শিক্ষক কেবল ইসলাম ধর্ম পড়াবে, অন্য কোন ধর্ম নয়। কর্তৃপক্ষেরও উচিৎ হবে না কোন মুসলিম শিক্ষককে এমন নির্দেশ দেয়া। বিকল্প শিক্ষক না থাকলে ছাত্র-ছাত্রীরা নিজ দায়িত্বে পাঠ করে নেবে।

Posted in মুসলিম শিক্ষক স্কুলে হিন্দু ধর্ম পড়াতে পারবে কি? | Tagged

ইহরাম অবস্থায় অধিক হাটহাটির ফলে দুই উরুতে ক্ষতের সৃষ্টি হ’লে তাতে ক্রিম ব্যবহার করা যাবে কি?


চিকিৎসার জন্য উক্ত ক্রিম ব্যবহার করা যাবে, যদিও তাতে সুগন্ধি থাকে। কারণ এর দ্বারা সুগন্ধি ব্যবহার করা উদ্দেশ্য নয়। আর ইহরাম অবস্থায় অসুস্থ হ’লে যেকোন বৈধ পন্থায় চিকিৎসা গ্রহণ করতে বাধা নেই (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১০/১৫৭; উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ৭/১৫৮)

Posted in ইহরাম অবস্থায় ক্ষতের সৃষ্টি হ’লে তাতে ক্রিম ব্যবহার করা যাবে কি? | Tagged , ,

অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান পিতা-মাতার সাথে হজ্জ করলে তার ফরযিয়াত আদায় হয়ে যাবে কি?


শিশু অবস্থায় হজ্জ পালন করলে হজ্জের ফরযিয়াত আদায় হবে না। পরবর্তীতে হজ্জ করতে হবে। কেননা তার জন্য শরঈ বিধান প্রযোজ্য নয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কোন শিশু বালেগ হওয়ার পূর্বে হজ্জ করলেও পরবর্তীতে (সামর্থবান হ’লে) তাকে পুনরায় হজ্জ করতে হবে’ (হাকেম হা/১৭৬৯; ইবনু খুযায়মা হা/৩০৫০; ছহীহুল জামে‘ হা/৪৮৫,২৭২৯; ইরওয়া হা/৬৮৬)। তবে শিশু সন্তান পিতা-মাতার সাথে হজ্জ করলে সে এবং তার পিতা-মাতা নেকী পাবে। জনৈক মহিলা স্বীয় শিশু সন্তানের হজ্জ কবুল হবে কি না জিজ্ঞেস করলে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তার হজ্জ হয়ে যাবে এবং এজন্য তুমিও নেকী পাবে’ (মুসলিম হা/১৩৩৬; মিশকাত হা/২৫১০)। আর পিতা-মাতা সন্তান কোলে নিয়ে ত্বাওয়াফ-সাঈ করলে তা সন্তানের জন্য যথেষ্ট হবে, পৃথকভাবে করার প্রয়োজন নেই।

Posted in হজ্জ অপ্রাপ্ত বয়স্ক তে করলে তার ফরযিয়াত আদায় হয়ে যাবে কি? | Tagged

ফরয হজ্জ পালনের পূর্বে ওমরা করা যাবে কি?


ফরয হজ্জ করার পূর্বে ওমরা করা যাবে। রাসূল (ছাঃ) হজ্জের পূর্বে ওমরা করেছেন (বুখারী হা/১৭৭৪; মিশকাত হা/২৫১৯)। বারা ইবনু আযেব বলেন, রাসূল (ছাঃ) হজ্জের পূর্বে দু‘বার ওমরা করেছেন (বুখারী হা/১৭৮১; মিশকাত হা/২৫১৯)। ইমাম নববী বলেন, হজ্জের পূর্বে ওমরা করা জায়েয। চাই সে পরবর্তীতে হজ্জ করুক বা না করুক (আল-মাজমূ‘ ৭/১৭০)

Posted in হজ্জ পালনের পূর্বে ওমরা করা যাবে কি? | Tagged

: বিবাহ ঠিক হয়েছে। কিন্তু কারণবশত তা অনুষ্ঠিত হবে দু’বছর পর। এদিকে মেয়ের ব্যাপারে আরো অনেক প্রস্তাব আসছে। এক্ষণে বিষয়টি নিশ্চিত করে রাখার জন্য সামাজিক প্রথা অনুযায়ী আংটি পরানোর মাধ্যমে এনগেজমেন্ট করে রাখা যাবে কি?


বিবাহ নিশ্চিত করতে আংটি বিনিময়ের পদ্ধতিটি খৃষ্টানদের মধ্যে প্রচলিত প্রথা, যা প্রাচীন গ্রীকদের থেকে আগত। তারা বিশ্বাস করত যে, বামহাতের অনামিকায় আংটি পরালে হবু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বন্ধন দৃঢ় হয় (উইকিপিডিয়া)। সুতরাং এই রীতি অনুসরণ থেকে মুসলমানদের বিরত থাকা উচিৎ। আর যদি উক্ত ভ্রান্ত বিশ্বাস নিয়ে আংটি প্রদান করা হয়, তবে তা হারাম এবং শিরকের পর্যায়ভুক্ত হবে (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৮/১১২)। তবে সাধারণভাবে বিবাহের আগ্রহ প্রকাশার্থে কোন অলংকার বা হাদিয়া প্রদানে দোষ নেই (উছায়মীন, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব ২২/২)

Posted in বিবাহ করার জন্য আংটি পরানোর মাধ্যমে এনগেজমেন্ট করে রাখা যাবে কি? | Tagged

আমি কর্মসূত্রে মক্কা নগরীতে অবস্থান করছি। কিন্তু এখন শুনছি যে, ইহরাম ব্যতীত মক্কা নগরীতে প্রবেশ করা গোনাহের কাজ। এক্ষণে আমার করণীয় কি?


যারা হজ্জ বা ওমরার জন্য মক্কায় গমন করবে কেবল তাদের জন্য ইহরাম বাঁধা আবশ্যক। কেউ মক্কায় স্বীয় কর্মস্থল বা ব্যবসাস্থলে গেলে, তাওয়াফ করতে গেলে বা আত্মীয়-স্বজনের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে ইহরাম বাঁধতে হবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, হজ্জ ও ওমরার নিয়তকারী সেই অঞ্চলের অধিবাসী এবং ঐ সীমারেখা দিয়ে অতিক্রমকারী অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য উক্ত স্থানগুলো মীকাতরূপে গণ্য (বুখারী হা/১৫২৪; নাসাঈ হা/২৬৫৪)। অত্র হাদীছে ইহরামের বিষয়টিকে কেবল হজ্জ ও ওমরার সাথে সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে।

Posted in ইহরাম ব্যতীত মক্কা নগরীতে প্রবেশ করা গোনাহের কাজ কি? | Tagged ,

জনৈক ব্যক্তির দু’জন স্ত্রী ছিল। এক্ষণে প্রথমা স্ত্রীর ছেলের সাথে দ্বিতীয়া স্ত্রীর নাতনীর বিয়ে দেওয়া যাবে কি?


এই বিবাহ জায়েয নয়। কারণ মেয়েটি সম্পর্কে ছেলেটির আপন ভাগ্নী। যার সাথে বিবাহ শরী‘আতে হারাম। এক্ষণে যদি দ্বিতীয়া স্ত্রীর নাতনী পূর্বের স্বামীর সন্তানের মেয়ে হয় তাহ’লে এরূপ বিবাহ জায়েয (মুগনী ৭/১২৮)

Posted in বিবাহ প্রথমা স্ত্রীর ছেলের সাথে দ্বিতীয়া স্ত্রীর নাতনীর দেওয়া যাবে কি? | Tagged

আমার মা ক্যানসারের রোগী। যেকোন সময় মারা যেতে পারে। আমার নানা তার সমুদয় সম্পত্তি তার দ্বিতীয়া স্ত্রী ও সন্তানদেরকে লিখে দিয়েছে। এক্ষণে আমার মায়ের সম্পত্তিগুলো আমরা লিখে নিতে পারব কি?


এরূপ কাজ করা যাবে না। কারণ উত্তরাধিকার সম্পদের বণ্টননীতি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত (নিসা ৪/১১)। অতএব যার যতটুকু প্রাপ্য তা বুঝিয়ে দিতে হবে। আর নানা তার প্রথমা স্ত্রীকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে কবীরা গোনাহ করেছেন। এক্ষণে নানা জীবিত থাকলে হক্বদারদেরকে অবশ্যই তাদের প্রাপ্য সম্পদ বুঝিয়ে দিতে হবে এবং খালেছ তওবা করতে হবে। আর জীবিত না থাকলে যে সকল উত্তরাধীকারী বর্তমানে অন্যায়ভাবে সেসব সম্পত্তি ভোগ করছে, তাদেরকে উক্ত সম্পদ পুনরায় সঠিক নিয়মে বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুবা তারাও কঠিনভাবে পাপী হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি যুলুম করে অন্যের এক বিঘত যমীনও আত্মসাৎ করে, কিয়ামতের দিন সাত তবক (স্তর) যমীনের শেকল তার গলায় পরিয়ে দেয়া হবে (বুখারী হা/২৪৫২, ৩১৯৮; মুসলিম হা/১৬১০)

Posted in মায়ের সম্পত্তিগুলো আমরা লিখে নিতে পারব কি? | Tagged

জনৈক আলেম বলেন, আয়েশা (রাঃ)-এর অনুমতিক্রমে আবুবকর ও ওমর (রাঃ)-কে রাসূলের পাশে কবর দেওয়া হয়েছিল। এর সত্যতা জানতে চাই।


ঘটনাটি সত্য। আবুবকর (রাঃ) মৃত্যুর পূর্বে আয়েশা (রাঃ)-কে ওছিয়ত করেছিলেন যাতে তাঁকে রাসূলের পার্শ্বে দাফন করা হয়। আবুবকর (রাঃ) মৃত্যুবরণ করলে আয়েশা (রাঃ) পিতার ওছিয়ত অনুসারে তাকে রাসূলের পার্শ্বে দাফন করেন (তাবাকাতু ইবনু সা‘দ ৩/২০৯; তারীখে তাবারী ২/৩৪৯)। আর ওমর (রাঃ) মৃত্যুর পূর্বে ছেলে আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ)-এর মাধ্যমে আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট রাসূলের পার্শ্বে কবরস্থ হওয়ার অনুমতি চাইলে তিনি তা মেনে নেন। এজন্য তাঁকেও  রাসূলের পার্শ্বে কবর দেওয়া হয় (বুখারী হা/১৩৯২; ইবনু হিববান হা/৬৯১৭)

Posted in আবুবকর ও ওমর (রাঃ)-কে রাসূলের পাশে কবর দেওয়া হয়েছিল কি? | Tagged , ,

একজন তালাকপ্রাপ্তা মহিলার পিতা বেঁচে নেই। তার মা ও বড় ভাই তাকে বলেছে, তোমার পসন্দ মতো বিয়ে করে নাও, আমাদের কোন আপত্তি নেই। অন্যদিকে এক লোককে তার স্ত্রী খোলা তালাক দিয়েছে। এই লোককিও তার পিতামাতা বলেছে, তোমার পসন্দ মতো বিয়ে করে নিও। আমাদের কোন আপত্তি নেই। এই দু’জনের বিবাহ হয় বিদেশে এবং দুই পরিবার বিবাহ সাদরে গ্রহণ করে নেয়। তবে বিদেশে বিয়ে হওয়ায় অভিভাবকরা অনুপস্থিত ছিল। এই বিবাহ বৈধ হবে কি?


যদি ওলী বা অভিভাবকের অনুমতিক্রমে ও দু’জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে উক্ত বিবাহ সম্পাদিত হয়ে থাকে তাহ’লে বিবাহ বৈধ হয়েছে। কেননা বিদেশে থাকার কারণে অভিভাবক যদি ফোনের মাধ্যমে কাউকে তার পক্ষ থেকে ওলী নিয়োজিত করে এবং দু’জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ঈজাব ও কবুল হয়, তাতেও বিবাহ হয়ে যাবে (উছায়মীন, আশ শারহুল মুমতে‘ ১২/৮৯-৯০; মুহাম্মাদ ইবনু ইবাহীম আলে শায়খ, ফাতাওয়া ওয়া রাসায়েল ১০/৭৬)

Posted in বিবাহ বিদেশ থাকা অবস্থায় হলে বিবাহ বৈধ হবে কি | Tagged ,

তাওয়াফকালীন সময়ে ক্লান্ত হয়ে পড়লে করণীয় কি? সাময়িকভাবে ছেড়ে দিলে ছালাতের মত প্রথম থেকে শুরু করতে হবে কি?


তাওয়াফ করা অবস্থায় ক্লান্ত হয়ে পড়লে সঙ্গী-সাথীরা তাকে হুইল চেয়ারে বহন করে তাওয়াফ করানোর ব্যবস্থা করবে। আর যদি তাওয়াফ ছেড়ে বাইরে যেতে হয় কিংবা হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে, তাহ’লে ফিরে এসে পুনরায় নতুনভাবে তাওয়াফ শুরু করবে। কেননা তাওয়াফ ছালাতের মত (তিরমিযী হা/৯৬০)। রাসূল (ছাঃ) তাওয়াফের মাঝে বিরতি নিতেন না বা ছেদ ঘটাতেন না (মুগনী ৩/৩৫৬)। তবে তাওয়াফের মধ্যে সাময়িক বিশ্রাম নিলে বা ছালাতের সময় উপস্থিত হ’লে ছালাতের পর নতুনভাবে তাওয়াফ শুরু করতে হবে না। বরং যেখানে শেষ করেছিল, সেখান থেকে শুরু করবে। কিন্তু ১/২ ঘন্টার মত দীর্ঘক্ষণ দেরী করলে নতুনভাবে তাওয়াফ শুরু করবে (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২২/২৯৪; বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৬/৮৫-৮৬; নববী, আল-মাজমূ‘ ৮/১৩-১৪)

Posted in তাওয়াফকালীন সময়ে ক্লান্ত হয়ে পড়লে করণীয় কি? | Tagged ,

উদ হিন্দি বা আগর গাছ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীছগুলি ছহীহ কি? এর উপকারিতা কী?


উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি ছহীহ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা ভারতীয় এই আগর কাঠ ব্যবহার করবে। কেননা তার মধ্যে সাত ধরনের চিকিৎসা (নিরাময়) রয়েছে। শ্বাসনালীর ব্যথার জন্য এর (ধোঁয়া) নাক দিয়ে টেনে নেয়া যায়। নিউমোনিয়া দূর করার জন্যও তা সেবন করা যায় (বুখারী হা/৫৬৯২; মুসলিম হা/২২১৪; ইবনু মাজাহ হা/৩৪৬২)। উল্লেখ্য যে, প্রাচীন চিকিৎসাপদ্ধতিতেও ঔষধী গুনের কারণে আগর গাছ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসাবে ব্যবহৃত হ’ত। আধুনিক বিজ্ঞানেও এর অনেক উপকারিতা বর্ণনা করা হয়েছে। আধুনিক মেডিকেল শাস্ত্রে এটি মুত্রবর্ধক, কামোদ্দীপক, কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণ এবং বাত, হাঁপানী, ব্রংকাইটিস প্রভৃতি রোগের প্রতিষেধক হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

Posted in উদ হিন্দি বা আগর গাছ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীছগুলি ছহীহ কি? এর উপকারিতা কী? | Tagged

প্রখ্যাত বিদ্বান ইমাম সুয়ূতী বর্ণনা করেন- ইমাম আবু হানীফা ৪০ বছর এশার ওযূ দিয়ে ফজরের ছালাত আদায় করেছেন (তাবয়ীজুস ছহীফাহ) এবং আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলভী (তাকমীলুল ঈমান) লিখেছেন আবু হানীফা ১০০ বার স্বপ্নে আল্লাহকে দেখেছেন। এর সত্যতা আছে কি?


উক্ত গ্রন্থসমূহে এসকল বর্ণনা পাওয়া গেলেও এর কোন গ্রহণযোগ্য ভিত্তি নেই আলবানী বলেন, ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এশার ওযূতে চল্লিশ বছর ফজরের ছালাত আদায় করেছেন, তাতে তোমরা প্রতারিত হয়ো না। কারণ তাঁর থেকে এসকল ঘটনার কোন ভিত্তি নেই (আল-ইখতিয়ারাতুল ফিক্বহিইয়াহ ১/১২৩; আছলু ছিফাতি ছালাতিন্নবী ২/৫৩১)। মাজদুদ্দীন ফিরোযাবাদী বলেন, এগুলো ইমাম ছাহেবের প্রতি স্পষ্টভাবে মিথ্যা অপবাদ মাত্র। এরূপ কথা তাঁর দিকে সম্পর্কিত করা সমীচীন নয়। …এগুলো মূর্খ পক্ষপাতদুষ্টদের রচিত গল্প মাত্র। তবে নিঃসন্দেহে তিনি মুত্তাকী ও ইবাদতগুযার মানুষ ছিলেন (আর-রাদ্দু ‘আলাল মু‘তারিয ১/৪৪)। ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ)-এর প্রধান শিষ্য ইমাম আবু ইউসুফ (রহঃ) বলেন, একদা আবু হানীফা (রহঃ)-এর সাথে হাঁটছিলাম তখন এক লোক বলল, ইনি আবু হানীফা, যিনি রাতে ঘুমান না। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! সে যেন আমার ব্যাপারে এমন কথা বর্ণনা না করে, যা আমি করি না (সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা ৬/৩৯৯; তাহযীবুল কামাল ২৯/৪৩৫; শাযারাতুয যাহাব ২/২৩০)। আল্লামা আব্দুল হাই লাক্ষ্ণৌভী হানাফী (রহঃ) বলেন, ইবাদতে বাড়াবাড়ি স্রেফ বিদ‘আত। যারা এসব কথা বলে, তারা সবচেয়ে বড় বিদ‘আতী ও বড় জাহিল (দ্রঃ মুক্বাদ্দামা শরহে বেক্বায়াহ (দেউবন্দ ছাপা) পৃ. ৩৬-৩৭)। এ ধরনের কল্পিত ঘটনা দ্বারা মূলত ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। অনুরূপ আরো অনেক অলৌকিক ঘটনা তাঁর নামে সমাজে প্রচলিত রয়েছে, যেগুলির কোন ভিত্তি নেই।

Posted in আবু হানীফা ১০০ বার স্বপ্নে আল্লাহকে দেখেছেন। এর সত্যতা আছে কি?, আবু হানীফা ৪০ বছর এশার ওযূ দিয়ে ফজরের ছালাত আদায় করেছেন আছে কি? | Tagged , , , ,

নিয়মিত লেখা-পড়া না করার কারণে শৈশবে আমার পিতা আমাকে রাগের মাথায় বলেছিলেন যে, পড়াশুনা না করলে রাখালের সাথে বিয়ে দিয়ে দিব। কিন্তু সেখানে উপস্থিত রাখাল কিছু বলেনি। বরং আমি আমার পিতার কথার প্রতিবাদ করেছিলাম। বর্তমানে শৈশবের ঐ কথাটি মনে করে আমি অত্যন্ত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। এমনকি মানসিক রোগী হয়ে গেছি? উক্ত কথার কারণে বিবাহ কি সম্পন্ন হয়েছিল? যেহেতু হাদীছে বিবাহ, তালাক ও রাজা‘আত নিয়ে হাসি-তামাশা করতে নিষেধ করা হয়েছে। আর হাসি-তামাশা করে বললেও উক্ত তিনটি বিষয় সম্পন্ন হয়ে যায় বলে হাদীছে উল্লেখিত হয়েছে। ঐ বিবাহ সম্পন্ন হয়ে থাকলে এক্ষণে আমার করণীয় কি?


পিতার উপরোক্ত কথা নিতান্তই কথার কথা, যা তার মনের কথা নয়। এমনকি মনের কথা হ’লেও যেহেতু যথাযথ পদ্ধতিতে বিবাহ পড়ানো হয়নি, অতএব পিতার উক্ত কথায় বিবাহ সংঘটিত হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আল্লাহ বলেন, ‘অর্থহীন শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদের ধরবেন না। তবে ঐসব শপথের জন্য তিনি তোমাদের পাকড়াও করবেন, যা তোমরা মনের সংকল্প অনুযায়ী করে থাক। বস্ত্ততঃ আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল ও সহনশীল’ (বাক্বারাহ ২/২২৫)। সুতরাং এ বিষয়ে সৃষ্ট দুশ্চিন্তা কেবল মনের রোগ বা শয়তানের ধোঁকা মাত্র। এই ধোঁকা থেকে বাঁচার জন্য এরূপ চিন্তা এলেই সাথে সাথে বামদিকে তিনবার থুক মারবেন ও প্রতিবারে ‘আঊযুবিল্লাহি মিনাশশাইত্ব-নির রজীম’ পাঠ করবেন এবং উক্ত চিন্তা মন থেকে ঝেড়ে ফেলবেন।

Posted in পিতা রাগের মাথায় বললেন অমুকের সাথে বিবাহ দেবো। তাহলে কি বিবাহ হয়ে গেলো? | Tagged

আমার ৫০ দিনের ভ্রূণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর ১৫ দিন যাবত রক্তপাত হচ্ছে। এক্ষণে উক্ত রক্ত নিফাসের রক্ত হিসাবে গণ্য হবে কি?


উক্ত রক্ত নিফাস হিসাবে গণ্য হবে না। বরং মুস্তাহাযা হিসাবে গণ্য হবে। কারণ সাধারণত বাচ্চার বয়স কমপক্ষে ৮০ দিন না হ’লে দৈহিক আকৃতি ফুটে ওঠে না। সুতরাং এর পূর্বে গর্ভপাত ঘটলে তার রক্ত নিফাস হিসাবে গণ্য হবে না। এ অবস্থায় তাকে ছালাত ও ছিয়াম ও অন্যান্য ইবাদত করতে হবে। তার বিধানটি মুস্তাহাযার বিধান হিসাবে গণ্য হবে (হজ্জ ২২/৫; বুখারী হা/৩২০৮; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৫/৪২২)

Posted in ভ্রূণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার রক্তপাত নিফাসের রক্ত হিসাবে গণ্য হবে কি? | Tagged

ইসলামী শরী‘আতে বিবাহের পূর্বে তালাক দেওয়ার কোন নিয়ম আছে কি? যেমন কোন ব্যক্তি যদি তার বাগদত্তা অর্থাৎ যাকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে, তাকে বিবাহের পূর্বেই তালাক প্রদান করে, তবে সেটি কি তালাক হিসাবে গণ্য হবে?


বিবাহের পূর্বে তালাক দেওয়ার বিধান ইসলামী শরী‘আতে নেই। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘বিয়ের আগে তালাক নেই’ (ইবনু মাজাহ হা/২০৪৮; মিশকাত হা/৩২৮১; ইরওয়া হা/২০৬৮, সনদ ছহীহ)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলেন, ‘যে বস্ত্ত স্বীয় মালিকানায় নেই সেই বস্ত্ততে আদম সন্তানের মান্নত হয় না। যে (দাস) স্বীয় মালিকানায় নেই তাকে আযাদ করা যায় না। যে (স্ত্রীলোক) স্বীয় অধিকারে নেই তাকে তালাক দেওয়া যায় না’ (তিরমিযী হা/১১৮১; মিশকাত হা/৩২৮২; ছহীহাহ হা/২১৮৪)। এ ব্যাপারে আলী (রাঃ)-সহ প্রায় ২৫ জন ছাহাবী ও তাবেঈ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, বিয়ের পূর্বে তালাক বর্তায় না’ (বুখারী ১৭/৪২৭; মুগনী ৯/৫২৬; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ২০/১৯১)। সুতরাং বর্ণিত ক্ষেত্রে এটি তালাক হিসাবে গণ্য হবে না। কেননা এখনও বিবাহ সংঘটিতই হয়নি।

উল্লেখ্য যে, মুয়াত্ত্বা মালেকে বর্ণিত ইবনু মাসঊদ (রাঃ)-এর উক্তি ‘বিবাহের পূর্বে কারো নাম বা গোত্রের নাম উল্লেখ করে কেউ যদি বলে অমুক তালাক তাহ’লে বিবাহের পর তালাক হয়ে যাবে’ মর্মের বর্ণনাটি মুনকাতে‘ হওয়ার কারণে বাতিল (মুয়াত্ত্বা মালেক হা/১২১৫, ১২৭৫; জামেঊল উছূল ফী আহাদীছির রাসূল, তাহকীক আব্দুল কাদের আরনাউত হা/৫৭৭০)

Posted in তালাক বিবাহের পূর্বে দিলে সেটি কি তালাক হিসাবে গণ্য হবে? | Tagged ,

কিছু কিছু মসজিদে দেখা যায় কিছু মুছল্লী নিজেদের জন্য স্থান নির্ধারণ করে রাখে এবং সেখানে নিজস্ব জায়নামায পেড়ে রাখে। এরূপ আমল কতটুকু শরী‘আত সম্মত?


মসজিদে ফরয ছালাত আদায়ের জন্য কোন স্থান নির্দিষ্ট করে নেয়া নিষিদ্ধ। কেননা রাসূল (ছাঃ) কাকের ঠোকরের ন্যায় (তাড়াতাড়ি) সিজদা করতে, চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় বাহু বিছাতে এবং উটের ন্যায় মসজিদের মধ্যে নির্দিষ্ট স্থান বেছে নিতে নিষেধ করেছেন (আবূদাউদ হা/৮৬২, সিলসিলাহ ছহীহাহ হা/১১৬৮)। তবে নফল ছালাতের জন্য এমনভাবে স্থান নির্দিষ্ট করায় বাধা নেই (বুখারী হা/৫০২, মুসলিম হা/৫০৯)। আর কোন প্রয়োজন ছাড়া নিজস্ব জায়নামায বিছিয়ে ছালাত আদায় করা ঠিক নয়। কেননা এতে মুছল্লীর নিজের মধ্যে অহংকার সৃষ্টি হ’তে পারে এবং পার্শ্ববর্তী মুছল্লীরও ছালাতে একাগ্রতা বিঘ্নিত হ’তে পারে। হাদীছে এ ধরণের পরিস্থিতিকে ‘শয়তান কর্তৃক দৃষ্টি কেড়ে নেওয়া’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৯৮২ ‘ছালাতের মধ্যে কি কি কাজ জায়েয ও নাজায়েয’ অনুচ্ছেদ)। তবে ইমামের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকায় কোন দোষ নেই। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর জন্য বিশেষ জায়নামায ছিল (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৪৯ ‘ত্বাহারাৎ’ অধ্যায়, ‘ঋতু’ অনুচ্ছেদ)। এছাড়া ঈদের ছালাত আদায়ের জন্য ময়দানে কার্পেট বা কোন কিছু বিছানোর ব্যবস্থা না থাকলে সেখানে স্ব স্ব জায়নামায বা মাদুর সাথে নিয়ে যাওয়া যাবে।

Posted in মসজিদে নিজেদের জন্য স্থান নির্ধারণ করে রাখা যাবে কি? | Tagged ,

আমাদের এলাকায় মহিলারা তা‘লীম দেওয়ার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলে তাদের তা‘লীমে না গেলে ঈমান থাকবে না। তাদেরকে না খাওয়ালে খাদ্যে বরকত হবে না। তাদের এরূপ দাওয়াতের বাস্তবতা সম্পর্কে জানতে চাই।


তা‘লীমে না গেলে ঈমান থাকবে না বা খেতে না দিলে খাদ্যে বরকত হবে না- এ সকল কথা বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন। বরং আমল-আক্বীদা শিরক ও বিদ‘আতপূর্ণ হ’লে কোনভাবেই তাদের আশ্রয় দেওয়া যাবে না।

স্মর্তব্য যে, নারীরা নিজস্ব পরিসরে তা‘লীম করতে পারে, তবে তাদেরকে কুরআন ও হাদীছের জ্ঞানে পারদর্শী হ’তে হবে (মুসলিম হা/২৬৯৯; মিশকাত হা/২০৪)। এছাড়া সাধারণ তা‘লীমী বৈঠক, ওয়ায মাহফিল বা অন্য যেকোন দ্বীন শিক্ষার মজলিসে নারীরা শরীক হ’তে পারে। কেননা ইসলামী বিধান পালনের ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের সমগোত্রীয় (আবুদাউদ হা/২৩৬; মিশকাত হা/৪৪১; ছহীহাহ হা/২৮৬৩)। তবে সেখানে শারঈ পর্দা, নিরাপত্তা ও অভিভাবকের অনুমতি থাকতে হবে।

Posted in তা‘লীমে না গেলে ঈমান থাকবে না কি? এ সম্পর্কে জানতে চাই। | Tagged

আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, যে অন্য কারো নিয়ম-নীতি অনুসরণ করতে চায় সে যেন মৃত সৎ ব্যক্তিদের অনুসরণ করে’ উক্ত মর্মে বর্ণিত আছারটির বিশুদ্ধতা জানতে চাই।


উক্ত মর্মে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত একটি আছার পাওয়া যায়, যার দ্বারা উদ্দেশ্য ছাহাবীগণ। আছারটির পূর্ণরূপ হ’ল- ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কারো কোন তরীকা অনুসরণ করতে চায়, সে যেন তাদের পথ অনুসরণ করে যারা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে। কারণ জীবিত মানুষ (দ্বীনের ব্যাপারে) ফিৎনা হ’তে মুক্ত নয়। আর মৃত ব্যক্তিরা হ’লেন মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর ছাহাবীগণ, যারা পরিচ্ছন্ন অন্তঃকরণ হিসাবে, পরিপূর্ণ জ্ঞানের দিক দিয়ে এবং বাহুল্যবর্জিত হওয়ার দিক থেকে এ উম্মতের সর্বোত্তম মানুষ। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে তাঁর প্রিয় রাসূলের সাথী ও দ্বীন ক্বায়েমের জন্য মনোনীত করেছিলেন। সুতরাং তোমরা তাদের ফযীলত ও মর্যাদা বুঝে নাও, তাদের পদাংক অনুসরণ করো এবং যথাসাধ্য তাদের আখলাক্ব ও জীবন পদ্ধতি মযবূতভাবে আঁকড়ে ধরো। কারণ তাঁরাই (আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশিত) ছিরাতুল মুস্তাকীমের পথিক ছিলেন (মু‘জামুল কাবীর হা/৮৭৬৪; মিশকাত হা/১৯৩; মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ হা/৮৫০)। আল্লামা হায়ছামী এর সনদ ছহীহ বললেও শায়খ আলবানী এর সূত্রকে যঈফ বলেছেন। তবে ইবনু মাসঊদ ছাড়াও অনুরূপ বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে ইবনু ওমর ও হাসান বাছরী থেকে (হিলইয়াতুল আওলিয়া ১/৩০৫; যাম্মুত তা’বীল হা/৬৩)। ইবনু তায়মিয়াহ, শাতেবী প্রমুখ আলেমগণ তাঁদের স্ব স্ব গ্রন্থে আছারটি উল্লেখ করেছেন (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৪/১৫৮; আল-ই‘তিছাম ২/৮৫২; যাম্মুত তা’বীল হা/৬২, ১/৩২)। সুতরাং মর্মগতভাবে আছারটি ছহীহ।

Posted in হাদীছে মৃত সৎ ব্যক্তিদের অনুসরণ করতে বলা হয়েছে কি? | Tagged ,

একজন ছাহাবীর মাত্র দুই দীনারের জন্য কবরের আযাব হয়েছিল এবং অন্য ছাহাবী যখন তার ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছিলেন তখন তার কবরের আযাব বন্ধ হয়েছিল। হাদীছটি ছহীহ কি?


উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি ছহীহ (আহমাদ হা/১৪৫৭৬; ছহীহুত তারগীব হা/১৮১২)। অতএব ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকতে হবে।

Posted in ঋণ পরিশোধ করার ক্ষমত না থাকলে মারা গেলে আমার কি শাস্তি হবে?, ঋণ পরিশোধ করার মত ক্ষমতা না থাকলে করণীয় কি?, ঋণ রেখে মারা গেলে সেই ঋণ পরিবারের জন্য পরিশোধ করা আবশ্যক কি? | Tagged

আমি পরিচিত এক ব্যক্তির নিকট থেকে ৪০ হাযার টাকা ধার করেছি। বর্তমানে আমি রোগে ভুগছি। যেকোন সময় মারা যেতে পারি। অসুস্থতার কারণে কোন চাকুরীতে ঢুকতে না পারায় পরিশোধ করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় মারা গেলে আমার কি শাস্তি হবে? ঋণের ব্যাপারে আমার করণীয় কি?


ঋণ থাকা অবস্থায় মারা গেলে এবং তা পরিশোধ না করা হ’লে শাস্তি পেতে হবে। সেজন্য মৃত্যুর পূর্বে ঋণ পরিশোধ করা অত্যন্ত যরূরী। কারণ ঋণ বান্দার হক। তা বান্দা ক্ষমা না করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মুমিনের আত্মা ঝুলন্ত অবস্থায় রাখা হয় তার ঋণের কারণে যতক্ষণ না তার পক্ষ হ’তে ঋণ পরিশোধ করা হয়’ (তিরমিযী হা/১০৭৮; আহমাদ ২/৪৪০ পৃঃ; রিয়াযুছ ছালিহীন হা/৯৪৩, সনদ হাসান)। ঋণ পরিশোধ ব্যতীত মৃত্যুবরণ করলে হাশরের মাঠে নিজস্ব নেকী দিয়ে ঋণের দাবী পূরণ করতে হবে (বুখারী, মিশকাত হা/৫১২৬)। সুতরাং ঋণ পরিশোধ করা আবশ্যক। সম্ভব না হ’লে ঋণদাতার নিকট ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। ঋণদাতা ঋণ মওকূফ না করলে সমাজ ও সরকারের নিকট থেকে সাহায্য নিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

Posted in ঋণ পরিশোধ করার ক্ষমত না থাকলে মারা গেলে আমার কি শাস্তি হবে? | Tagged

ক্বিয়ামতের পূর্বে ইমাম মাহদী, ঈসা (আঃ), দাজ্জাল, ইয়াজূজ-মাজূজ ইত্যাদির আগমন সহ ক্বিয়ামতের পূর্বে কি কি ঘটবে ধারাবাহিকভাবে তা জানতে চাই।


কিয়ামতের এমন কিছু আলামত আছে যেগুলো ঘটে গেছে। আবার কিছু আলামত আছে যা বর্তমানে ঘটছে। আর কিছু আলামত আছে যা ভবিষ্যতে ঘটবে। আর কিয়ামতের বড় আলামতগুলোর ধারাবাহিকতা নিয়ে হাদীছে বিভিন্নরূপ বর্ণনা পরিলক্ষিত হয়। এ সকল হাদীছের আলোকে বলা যায় যে, ধারাবাহিকভাবে প্রথমে ইমাম মাহদী, এরপর দাজ্জাল ও ঈসা (আঃ)-এর আগমন ঘটবে। অতঃপর ইয়াজূজ-মা’জূজের আগমন, সূর্য পশ্চিম আকাশে উদিত হওয়া, ভূপৃষ্ট থেকে (দাববাতুল আরয) প্রাণীর আগমন, আকাশ ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে যাওয়া,  তিন স্থানে তিনটি ভূমিধ্বস (যা কেবল কাফিররা দর্শন করবে), সর্বশেষ আগুন কর্তৃক লোকদের তাড়িয়ে হাশরের ময়দানে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটবে (ফাৎহুলবারী ১৩/৮২-৯০)। হুযায়ফা ইবনু আসীদ আল-গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা আমরা আলোচনা করছিলাম। এমতাবস্থায় রাসূল (ছাঃ) আমাদের নিকট আসলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি নিয়ে আলোচনা করছ? তাঁরা বললেন, আমরা কিয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করছি। তখন তিনি বললেন, কিয়ামত কায়েম হবে না যতক্ষণ না তোমরা দশটি বিশেষ নিদর্শন দেখবে। অতঃপর তিনি ধুম্র, দাজ্জাল, দাববাতুল আরয, পশ্চিম দিগন্ত হ’তে সূর্য উদিত হওয়া, মারইয়াম তনয় ঈসা (আঃ)-এর অবতরণ, ইয়াজূজ-মাজুজ এবং তিনবার ভূমি ধ্বসে যাওয়া তথা পূর্ব প্রান্তে একটি ভূমিধ্বস, পশ্চিম প্রান্তে একটি ভূমিধ্বস এবং আরব উপদ্বীপে একটি ভূমিধ্বসের কথা উল্লেখ করলেন। এ নিদর্শনসমূহের পর এক আগুন প্রকাশিত হবে ইয়ামান থেকে এবং মানুষকে তাড়িয়ে হাশরের ময়দানের দিকে নিয়ে যাবে (মুসলিম হা/২৯০১; মিশকাত হা/৫৪৬৪)

Posted in ক্বিয়ামতের পূর্বে কি কি ঘটবে ধারাবাহিকভাবে তা জানতে চাই। | Tagged

জিনদের মধ্যে কোন্ নবীর আগমন ঘটেছিল? কেননা সূরা আল-আন‘আমের ১৩০ নং আয়াত থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, কেবল মানবজাতির মধ্যে নয়, বরং জিনদের মধ্যেও নবী রয়েছে?


জিনদের স্বতন্ত্র কোন ধর্মগ্রন্থ নেই বা তাদের নিকট তাদের মধ্য থেকে কোন নবী-রাসূল প্রেরণ করা হয়নি। বরং মানব জাতির নিকট যে নবী-রাসূল বা কিতাব প্রেরণ করা হয়েছিল, তাদের জন্যও একই নবী-রাসূল বা ধর্মগ্রন্থ প্রযোজ্য। আল্লাহ বলেন, ‘(স্মরণ কর) যখন আমরা একদল জিনকে তোমার দিকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম যারা মনোযোগ দিয়ে কুরআন শুনছিল। অতঃপর যখন তারা সেখানে উপস্থিত হ’ল, তখন বলল, তোমরা চুপ থাক। তারপর যখন শেষ হয়ে গেল, তখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে গেল সতর্ককারীরূপে। তারা বলল, হে আমাদের সম্প্রদায়! আমরা এমন এক কিতাব শুনেছি, যা মূসার উপর নাযিল হয়েছে। যা পূর্ববর্তী কিতাব সমূহের সত্যায়ন করে। যা সত্যের দিকে ও সরল পথের দিকে পরিচালিত করে (আহকাফ ৪৬/২৯-৩০)। অত্র আয়াতদ্বয় থেকে বুঝা যায় জিনেরা তাওরাত পেয়েছিল। পেয়েছিল কুরআনসহ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কিতাবসমূহও। জিনেরা রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট এসে কুরআন শুনে যেত। আল্লাহ বলেন, ‘ধাপনি বলুন (হে মুহাম্মাদ)! আমার প্রতি অহী করা হয়েছে এই মর্মে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে (কুরআন) শ্রবণ করেছে এবং বলেছে যে, আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি’ (জিন ৭৪/১)। আল্লাহ কুরআনে মানুষ ও জিনকে একই সাথে সম্বোধন করে বলেন, ‘হে জিন ও ইনসান জাতি! তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে রাসূলগণ আসেননি, যারা তোমাদের নিকট আমাদের আয়াতসমূহ বর্ণনা করতেন এবং তোমাদেরকে আজকের দিনে সাক্ষাতের ভয় প্রদর্শন করতেন?’(আন‘আম ৬/১৩০)

 

তবে জিনদের মধ্যে পৃথক দাঈ বা সৎপথে অহবানকারী রয়েছে। যারা রাসূলগণের নিকট ধর্ম শিখে গিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রচার করে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আমার কাছে এক জিন জাতির মধ্যস্থ আহবায়ক এসেছিল। আমি তার সঙ্গে গিয়ে তাদের কাছে কুরআন পড়লাম। অতঃপর তিনি আমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে তাদের বিভিন্ন চিহ্ন ও তাদের আগুনের চিহ্ন দেখালেন। তারা তাঁর নিকট খাদ্য চেয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘আল্লাহর নাম উল্লেখ করে যে কোন হাড্ডির উপর তোমাদের হাত পড়বে, তা তোমাদের জন্য পর্যাপ্ত গোশতে পরিণত হবে। আর প্রত্যেক গোবর হবে তোমাদের পশুখাদ্য। অতঃপর তিনি (ছাহাবীদেরকে) বললেন, সুতরাং তোমরা ঐ দু’টি জিনিস দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করবে না। কারণ তা তোমাদের (জিন) ভাইদের খাদ্য’ (মুসলিম হা/৪৫০; তিরমিযী হা/৩২৫৮; ছহীহাহ হা/৩২০৯)

Posted in জিনদের মধ্যে কোন্ নবীর আগমন ঘটেছিল? | Tagged , ,

আইয়ামে বীযের ছিয়াম এবং শাওয়ালের ৬টি ছিয়াম কি এক নিয়তের মধ্যে শামিল করা যাবে?


আইয়ামে বীয ও শাওয়ালের ছিয়াম দু’টি পৃথক ইবাদত। একই নিয়তের মধ্যে শামিল করার কোন দলীল পাওয়া যায় না। সুতরাং পৃথক নিয়তে স্বতন্ত্রভাবে দু’টি ইবাদত পালন করতে হবে (ছালেহ ফাওযান, আল-মুনতাকা ৫১/২৫)। তবে কেউ যদি আইয়ামে বীযের দিনগুলোতে কিংবা  সোমবার ও বৃহঃস্পতিবারে শাওয়ালের ছিয়াম পালন করে তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। যেমনভাবে মসজিদে ফজরের দু’রাকা‘আত সুন্নাত ছালাত আদায় করলে পৃথকভাবে ‘তাহিইয়াতুল মাসজিদ’ পড়ার আবশ্যকতা থাকে না (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২০/১৩-১৫)

Posted in শাওয়ালের এবং আইয়ামে বীযের ছিয়াম কি এক নিয়তের মধ্যে শামিল করা যাবে? | Tagged ,