বিতর ছালাত নিয়মিতভাবে এক রাক‘আত পড়া যাবে কি? এক রাক‘আত উত্তম হলে রামাযানে নিয়মিত ৩ রাক‘আত পড়ার কারণ কি?


নিয়মিত এক ও তিন রাক‘আত বিতর পড়া যাবে। আর রামাযানে তিন রাক‘আত বিতর পড়ার কারণ হ’ল হাদীছে বর্ণিত এগার রাক‘আত পূর্ণ করা। কারণ তারাবীহ ও তাহাজ্জুদের ব্যাপারে হাদীছে ১১ রাক‘আতের কথাই বলা হয়েছে। তন্মধ্যে চার চার আট রাক‘আত তারাবীহ ও তিন রাক‘আত বিতর (বুখারী হা/১১৪৭; মুসলিম হা/৭৩৮)। রাসূল (ছাঃ) রাতের ছালাত দু’দু’রাক‘আত পড়তেন। অতঃপর এক রাক‘আত বিতর পড়তেন’ (বুখারী হা/৯৯৫; মুসলিম হা/৭৫২; মিশকাত হা/১২৫৫)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে পাঁচ রাক‘আত বিতর পড়তে পসন্দ করে সে তা করতে পারে। আর যে তিন রাক‘আত বিতর পড়তে পসন্দ করে সে তা করতে পারে। যে এক রাক‘আত বিতর পড়তে পছন্দ করে সে তা করতে পারে’ (আবুদাউদ হা/১৪২২; মিশকাত হা/১২৬৫, সনদ ছহীহ)

Advertisements
Posted in বিতর ছালাত নিয়মিতভাবে এক রাক‘আত পড়া যাবে কি? | Tagged

পোষাকে বমি লেগে গেলে উক্ত পোষাকে ছালাত হবে কি?


উক্ত পোষাকে ছালাত হবে। অতএব মুছাল্লীর রুচি হ’লে তাতে ছালাত আদায় করবে নতুবা তা পরিবর্তন করবে। কারণ বমি নাপাক হওয়ার পক্ষে কোন ছহীহ হাদীছ নেই। শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ, আলবানী, শাওকানী, শায়খ বিন বায, উছায়মীন প্রমুখ বিদ্বান বমিকে ওযূ ভঙ্গের কারণ হিসাবে গণ্য না করে একে সাধারণভাবে পবিত্র বলেছেন (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৫/২২২ ; ইরওয়া ১/১৪৮; তামামুল মিন্নাহ ১/৫৪; আস-সায়লুল জার্রার ১/৩০; মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২২/৩৫২)। অধিক পরিমাণে বমি হ’লে ছালাত ছেড়ে দিবে এবং পরিচ্ছন্ন হয়ে ছালাতে যোগদান করবে। আর ছালাতের বাইরে বমি হ’লে বমিযুক্ত কাপড় কেবল ধুয়ে নিবে। তবে শিশুদের বমি কাপড়ে লাগলে বার বার ধোয়া লাগবে না। কারণ শিশুদের বমির বিষয়টি ভিন্ন (ইবনুল ক্বাইয়িম, তোহফাতুল মাওদূদ ২১৮ পৃঃ)

Posted in পোষাকে বমি লেগে গেলে উক্ত পোষাকে ছালাত হবে কি? | Tagged

আমার মায়ের সব সম্পদ পিতার নিয়ন্ত্রণে। তিনি এর যাকাত দেন না আবার সম্পদও দেন না। এক্ষণে এজন্য আমার মা গোনাহগার হবেন কি?


মা সম্পদের মালিকানা গ্রহণে নিরুপায় হ’লে তিনি গুনাহগার হবেন না ইনশাআল্লাহ। কারণ যাকাত দেওয়ার জন্য শর্ত হ’ল সম্পদ ব্যক্তির মালিকানায় থাকা। অতএব যেদিন তিনি পূর্ণ মালিকানা লাভ করবেন, সেদিন থেকে নিয়ম অনুযায়ী যাকাত আদায় করবেন (ইবনু তায়মিয়াহ, আল-ইখতিয়ারাত ৪৫২ পৃষ্ঠা; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৮/১১, ১৮/১৩৪)

Posted in যাকাত না দিলে গোনাহগার হবেন কি? | Tagged

দুই তলাবিশিষ্ট মসজিদের ২য় তলায় ছালাতের স্থান এবং নীচতলা ছাত্রাবাসে পরিণত করা জায়েয হবে কি?


মসজিদের নীচতলায় ছাত্রাবাস করায় কোন বাধা নেই। ইমাম ইবনে তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, ‘মসজিদের নীচে দোকান-পাট ও পানির হাউয তৈরী করা যায়। তাতে কোন বাধা নেই’ (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩১/২১৮-২১৯)। যেখানে দোকানপাট করা যাবে সেখানে ছাত্রাবাসও করা যাবে। তবে ছাত্রাবাসের ছাত্ররা যাতে শরী‘আতের বিধান মেনে চলে সে ব্যবস্থা থাকতে হবে।

Posted in দুই তলাবিশিষ্ট মসজিদের নীচতলা ছাত্রাবাসে পরিণত করা যাবে কি? | Tagged

রিজাল শাস্ত্র কি? প্রত্যেক আলেমের জন্য রিজাল শাস্ত্র সম্পর্কে জানা আবশ্যক কি?


রিজাল শাস্ত্র হ’ল হাদীছের সনদ সম্পর্কে জ্ঞান। অর্থাৎ সনদে যে সকল বর্ণনাকারী রয়েছেন তারা নির্ভরযোগ্য কি-না, সে সম্পর্কিত বিশেষায়িত জ্ঞান। ইসলামী শরী‘আতের বিধি-বিধান সম্পর্কে অভিজ্ঞ আলেমদের জন্য রিজালশাস্ত্র জানা আবশ্যক। দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার তারতম্য থাকতে পারে, তবে এ বিষয়ে প্রাথমিক জ্ঞান অবশ্যই থাকতে হবে। ওলামায়ে সালাফ কেবল হাদীছের জ্ঞান থাকলেই তাকে আলেম হিসাবে গণ্য করতেন না, যতক্ষণ না তিনি হাদীছের সনদসমূহ এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতেন (তাদরীবুর রাবী ১/৩০)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! যদি কোন ফাসিক্ব ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে তবে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখ’ (হুজুরাত ৪৯/৬)। সুতরাং ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ যদি কোন হাদীছের সনদ সম্পর্কে না জেনে বর্ণনা করে, তবে সে মিথ্যুকদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করল, সে যেন তার স্থানকে জাহান্নামে বানিয়ে নিল’ (ছহীহ মুসলিম মিশকাত হা/১৯৮ ‘ইলম’ অধ্যায়)। আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেন, সনদ হচ্ছে দ্বীন। যদি সনদ না থাকত তাহ’লে যার যা ইচ্ছা তাই বর্ণনা করত (ছহীহ মুসলিম, মুক্বাদ্দামা হা/৩২)

Posted in রিজাল শাস্ত্র কি? প্রত্যেক আলেমের জন্য রিজাল শাস্ত্র সম্পর্কে জানা আবশ্যক | Tagged

ওযূর ক্ষেত্রে নাকে ও মুখে পৃথক পৃথকভাবে পানি দেওয়ায় সুবিধা হয়। এটা জায়েয হবে কি?


সুন্নাত হ’ল একই অঞ্জলী দিয়ে মুখে ও নাকে পানি দিয়ে ওযূ করবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) এক অঞ্জলী পানি নিয়ে অর্ধেক দিয়ে কুলি করতেন এবং অর্ধেক পানি নাকে দিতেন (বুখারী হা/১৯১, ১৯৯; মুসলিম হা/২৩৫; মিশকাত হা/৩৯৪)। এর বিপরীত যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা যঈফ (আবুদাউদ হা/১৩৯, আহমাদ হা/১৩৫৫, সনদ যঈফ; ইবনুল ক্বাইয়িম, যাদুল মা‘আদ ১/১৮৫; নববী, শরহ মুসলিম ৩/১০৫-১০৬)। তবে যারা সহজে একাজটি করতে পারে না, তারা আলাদাভাবে পানি নিয়ে নাকে ও মুখে দিয়ে ওযূ করতে পারে (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১২/২৫৭; ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) পৃ. ৬১)। কারণ এর উদ্দেশ্য হ’ল ভালোভাবে কুলি করা ও নাক ঝাড়া। ছাহেবে মিরক্বাত বলেন,وَالْأَظْهَرُ أَنَّ مِنْ كَفَّةٍ تَنَازَعَ فِيهِ الْفِعْلَانِ، وَالْمَعْنَى مَضْمَضَ مِنْ كَفَّةٍ وَاسْتَنْشَقَ مِنْ كَفَّةٍ এটি স্পষ্ট যে, এক অঞ্জলী’ শব্দের মধ্যে দু’টি ক্রিয়া রয়েছে। অর্থাৎ এক অঞ্জলী দ্বারা কুলি করবে এবং অপর অঞ্জলী দ্বারা নাক ঝাড়বে (মিরক্বাত হা/৩৯৪-এর ব্যাখ্যা)

Posted in ওযূর ক্ষেত্রে নাকে ও মুখে পৃথক পৃথকভাবে পানি দেওয়া যাবে কি? | Tagged

যদি কেউ ভুলবশতঃ আমার নম্বরে ফ্লেক্সিলোড করে এবং পরে টাকা ফেরত না চায়। সেক্ষেত্রে আমার করণীয় কি?


প্রকৃত মালিকের নিকট সেটি পৌঁছানোর জন্য এক বছর যাবৎ সাধ্যমত চেষ্টা করবে। তারপরেও খোঁজ না পাওয়া গেলে তা নিজে ব্যবহার করবে এবং হিসাব করে রাখবে। পরবর্তীতে কেউ দাবী করলে তাকে তা ফেরত দিবে (বুখারী হা/৯১; মুসলিম হা/১৭২২; মিশকাত হা/৩০৩৩)

Posted in ফ্লেক্সিলোড করে যদি টাকা ফেরত না চায়। সেক্ষেত্রে আমার করণীয় কি? | Tagged

বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন অনুযায়ী কুরআন শেখা এবং সে চিহ্ন অনুযায়ী কুরআন পড়া জায়েয হবে কি?


কুরআনকে শুদ্ধভাবে তেলাওয়াতের জন্য যেকোন বৈধ পন্থা অবলম্বন করা যেতে পারে। যেমন কুরআনকে সহজে তেলাওয়াতের জন্য ছাহাবী ও তাবেঈদের যুগে নোকতা ও হরকত সংযোজন করা হয় (যাহাবী, তারীখুল ইসলাম ৬/৫০৩; যুরক্বানী, মানাহিলুল ইরফান ১/৪০৬-৪০৭)। কিন্তু বর্তমানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কুরআন শিখানোর নামে যা করা হচ্ছে, তা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে গেছে। এগুলি থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একদিন আরব ও অনারব উভয় ব্যক্তিদের মজলিসে তেলাওয়াত শুনছিলেন। অতঃপর তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, তোমরা পাঠ কর। সবটাই সুন্দর। মনে রেখ সত্বর একদল লোক আসবে, যারা কুরআনের পাঠ ঠিক করবে যেভাবে তীর ঠিক করা হয়। তারা দুনিয়াতেই দ্রুত ফল চাইবে, আখেরাতের অপেক্ষা করবে না’ (আবুদাঊদ হা/৮৩০; মিশকাত হা/২২০৬)। অর্থাৎ লোক দেখানো ও শুনানোই সেখানে মুখ্য হবে।

Posted in কুরআন বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন অনুযায়ী পড়া জায়েয হবে কি? | Tagged

ছহীহ বুখারীর ৮২২ নং হাদীছে ছালাত অবস্থায় চুল ও কাপড় গুটিয়ে নিতে নিষেধ করা হয়েছে। এর ব্যাখ্যা কি?


ছালাত অবস্থায় মাথার চুল ও কাপড় গুটিয়ে নিতে নিষেধ করা হয়েছে। যাতে মাথার চুল ও ঝুলে থাকা কাপড়ও মুছল্লীর সাথে সিজদায় যায়। পাশাপাশি মুছল্লীর ভিতরে যেন  কোন অহংকার প্রকাশ না পায়। কেননা সিজদায় গিয়ে ধূলা লাগার ভয়ে কাপড় ভাঁজ হয়ে যাওয়ার আশংকায় ও চুল গুটিয়ে নেওয়ায় অহংকার প্রকাশ পায়। আল্লাহ তা‘আলার সম্মুখে সিজদা করার সময় এটা একেবারে অনভিপ্রেত (ফাৎহুল বারী ২/২৯৪; মির‘আত ২/২০৬-০৭; মিরক্বাত ২/৩১৯)। জমহূর বিদ্বান বলেন, ‘পুরুষের জন্য মাথার চুল বাঁধা কেবল ছালাতের সময় নয় বরং সর্বাবস্থায় নিষিদ্ধ। ইমাম নববী বলেন, এভাবেই ছাহাবায়ে কেরাম ও অন্যান্য বিদ্বানগণ থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং এটাই সঠিক’ (মির‘আত ৩/২০৭, হা/৮৯৪-এর ব্যাখ্যা)

তবে নারীদের চুলের বিষয়টি ভিন্ন। হাফেয ইরাকী বলেন, এটি পুরুষের জন্য খাছ, মেয়েদের জন্য নয়। কেননা তাদের চুলও সতরের অন্তর্ভুক্ত, যা ছালাত অবস্থায় ঢেকে রাখা ওয়াজিব। যদি সে বেণী বা খোঁপা খুলে দেয় এবং চুল ছড়িয়ে পড়ে ও তা বেরিয়ে যায়, তাহ’লে তার ছালাত বাতিল হয়ে যাবে। (নায়লুল আওত্বার ৩/২৩৬-২৩৭ ‘পুরুষের জন্য চুল বাঁধা অবস্থায় ছালাত আদায়’ অনুচ্ছেদ)। আলবানী বলেন, ‘এটা প্রকাশ্য যে, সিজদাকালে চুল খুলে দেওয়ার নির্দেশ শুধুমাত্র পুরুষের জন্য খাছ, মহিলাদের জন্য নয়’ (ছিফাতু ছালাতিন্নবী পৃ: ১২৫)

Posted in ছালাত অবস্থায় চুল ও কাপড় গুটিয়ে নিতে নিষেধ করা হয়েছে। এর ব্যাখ্যা কি? | Tagged

আমাদের ডেকোরেশনের ব্যবসা আছে। ব্যবসার প্রয়োজনে বিবাহ, কুলখানি, গান-বাজনা ইত্যাদি অনুষ্ঠানের জন্য মালামাল ভাড়া দিতে হয়। পুরোপুরি ইসলামী শরী‘আ অনুমোদিত অনুষ্ঠান খুঁজে ভাড়া দিতে চাইলে ব্যবসা করা সম্ভব নয়। এক্ষণে আমার করণীয় কি?


বৈধ কর্মে ভাড়া দিতে হবে এবং যথাসম্ভব শরী‘আত বিরোধী কাজে সহযোগিতা থেকে বিরত থাকবে মায়েদাহ ৫/২)। আল্লাহকে ভয় করলে ও তাঁর উপর ভরসা করলে তিনি ব্যবস্থা করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন (তালাক ৬৫/২; বুখারী হা/৫১৬৪; মুসলিম হা/৩৬৭)। বৈধ কর্মে ভাড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে উক্ত ব্যবসা পরিচালনা করায় বাধা নেই। যেমন বিবাহ, ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন সভা-সম্মেলন ইত্যাদি বৈধ কর্ম। এক্ষণে এসব অনুষ্ঠানে যদি কেউ শরী‘আতবিরোধী কাজ করে, তার জন্য ভাড়া গ্রহণকারী ব্যক্তি দায়ী হবে।

Posted in ডেকোরেশনের ব্যবসায় বিবাহ কুলখানি গান-বাজনা ইত্যাদি অনুষ্ঠানের জন্য মালাম | Tagged ,

ছালাতে ক্বিরাআত পাঠের সময় মাখরাজ ও টানসমূহের দিকে খেয়াল করতে গিয়ে অর্থ বুঝা বা ভাবাবেগ ধরে রাখতে পারি না। এক্ষণে উভয়ের মাঝে কোনটির প্রতি অধিক লক্ষ্য রাখা যরূরী?


যথা সম্ভব উভয়টির দিকেই লক্ষ্য রাখতে হবে। তবে ছালাতে ক্বিরাআতের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। নইলে ক্বিরাআত ও ছালাতে ভুল হয়ে যাবে। আল্লাহ বলেন, দুর্ভোগ ঐসকল মুছল্লীর জন্য, যারা ছালাতে উদাসীন (মাঊন ৪)। রাসূল (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হ’ল, সর্বোত্তম ক্বারী কে? তিনি বললেন, যার তেলাওয়াত শুনে তোমার কাছে মনে হবে যে, ঐ ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করছে’ (দারেমী হা/৩৪৮৯; মিশকাত হা/২২০৯)।

Posted in ছালাতে ক্বিরাআত পাঠের সময় মাখরাজ ও টানসমূহের দিকে কতটুকু খেয়াল করতে হবে। | Tagged ,

বিদেশে পণ্যবাহী জাহাযে কর্মরত জনৈক ব্যক্তি দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছে। সে শহীদের মর্যাদা পাবে কি?


আল্লাহ চাইলে তিনি দু’জন শহীদের মর্যাদা পাবেন। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেন, নৌযানের ঝাঁকুনিতে বমি হ’লে সমুদ্রে সফরকারী ব্যক্তির জন্য একজন শহীদের ছওয়াব রয়েছে। আর সমুদ্রে ডুবে যাওয়া ব্যক্তির জন্য রয়েছে দু’জন শহীদের ছওয়াব (আবুদাউদ হা/২৪৯৩; মিশকাত হা/৩৮৩৯; ছহীহ আত-তারগীব হা/১৩৪৩)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূল (ছাঃ) পানিতে ডুবে মারা যাওয়া ব্যক্তিকে শহীদ বলে আখ্যায়িত করেছেন (বুখারী হা/৬৫৩; মুসলিম হা/১৯১৫; মিশকাত হা/১৫৪৬)

তবে এজন্য তাঁকে শিরক-বিদ‘আত মুক্ত ইসলামী জীবন-যাপন করতে হবে এবং সফরটি আল্লাহর আনুগত্যপূর্ণ কাজে হ’তে হবে (মিরক্বাত হা/৩৮৩৯-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ)

Posted in জাহাযে কর্মরত ব্যক্তি দুর্ঘটনায় ডুবে মারা গেলে শহীদের মর্যাদা পাবে কি? | Tagged

সুন্নাত ছালাত আদায়কালে ফরয ছালাত শুরু হয়ে গেলে কিভাবে ছালাত পরিত্যাগ করতে হবে। এসময় বসে সালাম ফিরাতে হবে কি?


এটি মুছাল্লীর অবস্থার উপর নির্ভর করবে। জামা‘আত শুরু হওয়ার পর সুন্নাত ছালাত আদায়কারী যদি বুঝতে পারে যে, ইমাম রুকূতে যাওয়ার পূর্বে সে জামা‘আতে শরীক হ’তে পারবে এবং সূরা ফাতিহা পাঠ করতে পারবে, তাহ’লে সে সংক্ষেপে সুন্নাত শেষ করে জামা‘আতে শরীক হবে (বুখারী হা/৫৮০; মুসলিম হা/৬০৭; মিশকাত হা/৬৮৬, ১৪১২)। অন্যথায় সুন্নাত ছালাত ছেড়ে জামা‘আতে শরীক হবে (মুসলিম হা/৭১০; মিশকাত হা/১০৫৮)। এজন্য তাকে সালাম ফিরাতে হবে না। আর ফরয ছালাত শুরু হয়ে গেলে নতুনভাবে সুন্নাত ছালাত শুরু করা যাবে না (শায়খ বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১১/৩৮৯; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৫/১০১)

Posted in সুন্নাত আদায়কালে ফরয ছালাত শুরু হয়ে গেলে কিভাবে ছালাত পরিত্যাগ করতে হবে? | Tagged

আমি আহলেহাদীছ হওয়া সত্ত্বেও আমার স্ত্রী মাযহাবী নিয়মে ছালাত আদায় করে। জনৈক আলেমকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি তালাক দেওয়ার নির্দেশনা দেন। এটা সঠিক কি?


এটা সঠিক নয়। তালাক দেওয়া কোন উত্তম সমাধান নয়। বরং স্ত্রীকে ছহীহ হাদীছের উপর আমল করার ব্যাপারে নছীহত করে বুঝানোর চেষ্টা করতে হবে। স্নেহ-ভালবাসা দিয়ে তাকে সত্যের উপর ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা নারীদেরকে উত্তম নছীহত প্রদান করবে। কেননা নারী জাতিকে পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্যে উপরের হাড়টি বেশী বাঁকা। তুমি যদি তা সোজা করতে যাও, তাহ’লে তা ভেঙ্গে যাবে। আর যদি ছেড়ে দাও, তাহ’লে সব সময় তা বাঁকাই থাকবে। কাজেই নারীদেরকে নছীহত করতে থাক’ (বুখারী হা/৩৩৩১; মিশকাত হা/৩২৩৮)। স্মর্তব্য যে, আমলগত ত্রুটির পূর্বে স্ত্রীর মধ্যে কোন বাতিল আক্বীদা থাকলে, সেগুলি পরিবর্তন করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।

Posted in স্ত্রী পথভ্রষ্ট করতে চাইলে কি তালাক দিতে হবে? | Tagged ,

ফাযায়েলে আমল কি বিশুদ্ধ কিতাব? এ গ্রন্থ পাঠ করা যাবে কি?


‘ফাযায়েলে আমল’, ‘ফাযায়েলে ছাদাক্বা’ সহ তাবলীগ জামা‘আতের এ কিতাবসমূহে বহু যঈফ ও জাল হাদীছ এবং ছহীহ হাদীছের অপব্যাখ্যা রয়েছে। উক্ত বইগুলোতে যা রয়েছে, তা বিশুদ্ধ আক্বীদা-আমল থেকে মানুষকে অনেক দূরে সরিয়ে দেয়। অতএব এ সমস্ত ফাযায়েল ছেড়ে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ থেকে বিশুদ্ধ ফাযায়েল ও মাসায়েল অধ্যয়ন করতে হবে এবং তার উপর আমল করতে হবে (বিস্তারিত দ্রঃ ‘হাদীছের প্রামাণিকতা’ বই পৃ. ৫৭-৬৭)

Posted in ফাযায়েলে আমল কি বিশুদ্ধ কিতাব? এ গ্রন্থ পাঠ করা যাবে কি? | Tagged

আমাদের এলাকার জামে মসজিদের বারান্দার পিলারে বাড়ি ভাড়ার বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। এটা জায়েয হবে কি?


এটি করা জায়েয নয়। কারণ মসজিদ ব্যবসার স্থান নয়। রাসূল (ছাঃ) মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন’ (তিরমিযী হা/৩২২; মিশকাত হা/৭৩২, সনদ হাসান)। তবে ইসলামী বই-পুস্তক জুম‘আর দিন মসজিদের বারান্দার বাইরে বিক্রয় করতে বাধা নেই। কেননা এটি দ্বীনের দাওয়াতের একটি অংশ।

Posted in মসজিদের বারান্দার পিলারে বাড়ি ভাড়ার বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে কে? | Tagged

ছালাতের মধ্যে শয়তানী ওয়াসওয়াসায় মযী বের হওয়া অনুভব হ’লে ছালাত পরিত্যাগ করতে হবে কি? এ কারণে ওযূ বা কাপড় পরিবর্তন করতে হবে কি?


যদি কেবল সন্দেহ হয়, তবে ছালাত পরিত্যাগ করবে না। কারণ সন্দেহের দ্বারা পবিত্রতা নষ্ট হয় না (বুখারী হা/১৩৭, মুসলিম হা/৩৬২, মিশকাত হা/৩০৬)। আর যদি দৃঢ় বিশ্বাস হয় তবে ছালাত পরিত্যাগ করবে এবং ওযূ করে পুনরায় ছালাত আদায় করবে। রাসূল (ছাঃ) মযী নির্গত হ’লে ওযূ করাই যথেষ্ট বলেছেন এবং কাপড়ে বা শরীরের যে যে স্থানে মযীর নিদর্শন পাওয়া যাবে, সে স্থান এক আজলা পানি ছিটিয়ে দিতে বলেছেন (আবুদাঊদ হা/২১০, তিরমিযী হা/১১৫)

Posted in ছালাতের মধ্যে মযী বের হওয়া অনুভব হ’লে ছালাত পরিত্যাগ করতে হবে কি? | Tagged ,

সম্প্রতি নেকাব পরিহিত অবস্থায় নারীদের ইন্টারনেটে বিশেষত ইউটিউবে ওয়ায-নছীহত করতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া গ্রামীণ এলাকায় মহিলাদের পূর্ণ পর্দার মধ্যে নারী-পুরুষের মিশ্রিত মজলিসে স্টেজে বক্তব্য দিতে দেখা যাচ্ছে। এটা জায়েয হবে কি?


নারীরা এভাবে বক্তব্য দিতে পারে না। আর এর জন্য নারী দায়িত্বশীলও নয়। আল্লাহ তা‘আলা এক লক্ষ চবিবশ হাযার নবী-রাসূল প্রেরণ করলেও কোন নারীকে নবী করে পাঠাননি (আহমাদ হা/২২৩৪২; মিশকাত হা/৫৭৩৭; ছহীহাহ হা/২৬৬৮-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)। এক্ষণে দ্বীন প্রচারের জন্য তারা পর্দার মধ্যে থেকে পৃথক মহিলা মজলিসে বক্তব্য দিবে (ছহীহাহ হা/২৬৮০-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)

Posted in নারীরা ওয়াজ মাহফিল করতে পারবে কি? | Tagged ,

এমন কোন নিয়মিত আমল বা দো‘আ আছে কি, যা নিয়মিত পাঠ করলে বর্তমান ও ভবিষ্যতে নানা রোগ-ব্যাধি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে?


এমর্মে বিভিন্ন দো‘আ রয়েছে। বিশেষ করে কোন মারাত্মক রোগীকে দেখে তা পাঠ করলে, সেই রোগ তার হবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, যে লোক কোন বিপদগ্রস্ত লোককে প্রত্যক্ষ করে বলে, আল-হাম্দু লিল্লা-হিল্লাযী ‘আ-ফা-নী মিম্মাব্তালা-কা বিহী ওয়া ফায্যালানী ‘আলা কাছীরিম্ মিম্মান খালাক্বা তাফ্যীলা’ (সকল প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য, যিনি যে বিপদে তোমাকে জড়িত করেছেন তা হ’তে আমাকে হেফাযতে রেখেছেন এবং তার সৃষ্টিরাজির উপর আমাকে সম্মান দান করেছেন’, সে তার মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত উক্ত অনিষ্ট হ’তে হেফাযতে থাকবে। তা যে কোন বিপদই হোক না কেন’ (তিরমিযী হা/৩৪৩১; মিশকাত হা/২৪২৯; ছহীহাহ হা/৬০২)। এছাড়া সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার সূরা নাস ও ফালাক পাঠ করবে (আবুদাউদ হা/৫০৮২; মিশকাত হা/২১৬৩; ছহীহ আত-তারগীব হা/৬৪৯)

Posted in রোগ-ব্যাধি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার দো’আ আছে কি? | Tagged

মৃত ব্যক্তিকে দাফনের পর তার মাথার নিকটে সূরা ফাতিহা বা সূরা বাক্বারার প্রথম ও শেষ আয়াত পাঠ করার ব্যাপারে শরী‘আতের কোন নির্দেশনা আছে কি?


এ মর্মে বর্ণিত হাদীছ ও আছারগুলি খুবই যঈফ (আলবানী, আহকামুল জানায়েয ১/১৩, ১৯১-১৯২; যঈফাহ হা/৪১৪০-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)। অতএব এগুলি আমলযোগ্য নয়।

Posted in মৃত ব্যক্তির নিকটে সূরা বাক্বারার প্রথম ও শেষ আয়াত পাঠ করা যাবে কি? | Tagged ,

আমাদের এলাকায় দাফন শেষে পাত্রে পানি নিয়ে কবরের উপর মাথা থেকে পায়ের দিকে ছিটিয়ে দেয়া হয়। এটা সঠিক কি?


কবরের মাটি দৃঢ় করার জন্য কবরে পানি ছিটিয়ে দেওয়া মুস্তাহাব। রাসূল (ছাঃ) তাঁর ছেলে ইবরাহীমকে দাফন করার পর কবরের উপর পানি ছিটিয়ে ছিলেন (ত্বাবারাণী আওসাত্ব হা/৬১৪১; মিশকাত হা/১৭০৮; ছহীহাহ হা/৩০৪৫; ইবনু কুদামা, মুগনী ২/৩৭৬)। তবে পানি ছিটানোর মাধ্যমে মাইয়েত প্রশান্তি পাবে, তার কল্যাণ হবে এরূপ ধারণার কোন ভিত্তি নেই (উছায়মীন, তা‘লীক ‘আলাল কাফী ২/৩৮৯)

Posted in দাফন শেষে পানি নিয়ে কবরের উপর ছিটিয়ে যায় কি? | Tagged

ময়ূর, তোতা, টিয়া ইত্যাদি পাখির গোশত খাওয়া যাবে কি?


ময়ূর, তোতা, টিয়া ইত্যাদি পাখির গোশত খাওয়া জায়েয। কারণ এগুলি ধারালো নখ বিশিষ্ট পাখি নয়, যা খেতে রাসূল (ছাঃ) নিষেধ করেছেন’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৪১০৫; উছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ ১৫/৩৩; আল-ইনছাফ ১০/৩৬৪)

Posted in ময়ূর- তোতা- টিয়া ইত্যাদি পাখির গোশত খাওয়া যাবে কি? | Tagged

ইয়াতীম ক্রন্দন করলে আরশ কেঁপে ওঠে এবং ইয়াতীমকে যে সন্তুষ্ট করে আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান। একথা ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত কি?


উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছগুলো জাল ও নিতান্তই যঈফ (যঈফাহ হা/৫৮৫১-৫৮৫২)। তবে ইয়াতীমদের সাথে সদ্ব্যবহার করা আবশ্যক (যোহা ৯৩/৯; বাক্বারাহ ২/২২০; তিরমিযী হা/১৯১৮; ছহীহাহ হা/৮০০)

Posted in ইয়াতীম ক্রন্দন করলে আরশ কেঁপে ওঠে একথা হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত কি?

ফজর ও মাগরিবের সুন্নাত ছালাতে সূরা কাফেরূন ও ইখলাছ পড়ার বিধান ও হিকমত কি?


ফজর ও মাগরিবের সুন্নাত ছালাতে সূরা কাফেরূন ও ইখলাছ পাঠ করা মুস্তাহাব। ইবনে ওমর ও ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, ‘আমরা রাসূল (ছাঃ)-কে মাগরিবের দু’রাক‘আত ও ফজরের দু’রাক‘আত সুন্নাতে অসংখ্যবার এ দু’টি সূরা তিলাওয়াত করতে শুনেছি’ (নাসাঈ হা/৯৯২; মুসলিম হা/৭২৬; মিশকাত হা/৮৪২, ৮৫১)। আর এ দু’টি সূরা তিলাওয়াতের হিকমত হ’ল- সূরা ইখলাছে তাওহীদে রুবূবিয়াত ও আসমা ওয়া ছিফাত সম্পর্কে এবং সূরা কাফেরূনে তাওহীদ ফিল ইবাদাহ সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। এ দু’টি সূরার মাধ্যমে যেন মুমিনের সকাল ও সন্ধ্যা অতিবাহিত হয় এবং সারা দিন ও রাত যেন তাওহীদের উপরে থাকে। এই গুরত্বকে সামনে রেখেই ফজর ও মাগরিবের সুন্নাতে রাসূল (ছাঃ) এ দু’টি সূরা পাঠ করতেন (ইবনুল ক্বাইয়িম, বাদায়েঊল ফাওয়ায়েদ ১/১৩৮)। তবে রাসূল (ছাঃ) মাগরিব ও ফজরের সুন্নাতে এদু’টি সূরা ব্যতীত অন্য সূরাও পাঠ করেছেন (মুসলিম হা/৭২৭; মিশকাত হা/৮৪৩)

Posted in ফজর ও মাগরিবে সূরা কাফেরূন ও ইখলাছ পড়ার বিধান ও হিকমত কি? | Tagged

রাসূল (ছাঃ) চেয়ারে বসে খেয়েছেন কি? তিনি না খেয়ে থাকলে আমাদের খাওয়া জায়েয হবে কি?


রাসূল (ছাঃ) অধিক বিনয় প্রকাশের জন্য মাটিতে বসে খেতেন। যেমন তিনি বলেন, আমি খাই যেভাবে গোলাম খায়। আমি বসি যেভাবে গোলামে বসে (শারহুস সুন্নাহ, মিশকাত হা/৫৮৩৬; ছহীহাহ হা/৫৪৪)। তবে এটা অভ্যাসগত সুন্নাত, যা সুনানুয যাওয়ায়েদ-এর অন্তর্ভুক্ত। এটি ব্যবহার করা ভাল এবং ছেড়ে দেওয়া অপসন্দনীয় নয় (আল-জুরজানী, কিতাবুত তা‘রীফাত, পৃঃ ১২২)। অতএব চেয়ারে বসে খাওয়ায় কোন বাধা নেই (ফাৎহুলবারী ১১/২৮০, আওনুল মা‘বুদ ১০/২৩৪)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) প্রয়োজনে চেয়ারে বসতেন। আবু রিফা‘আহ (রাঃ) বলেন, ‘রাসূল (ছাঃ) একটি চেয়ারের উপর বসলেন এবং আল্লাহ তাঁকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তা থেকে তিনি আমাকেও শিখালেন’ (মুসলিম হা/৮৭৬)। এছাড়া ছাহাবীগণও চেয়ারে বসতেন (বুখারী হা/১৫৯৪; আবুদাঊদ হা/১১৩)। যা প্রমাণ করে যে, চেয়ারে বসে যেকোন কাজ-কর্ম করা যায়।

Posted in চেয়ারে বসে খাওয়া জায়েয কি? | Tagged

রাক‘আত বা জামা‘আত শেষ হয়ে যাওয়ার আশংকায় দৌড়ে গিয়ে জামা‘আতে শরীক হওয়া যাবে কি?


তাড়াহুড়া করে দৌড়িয়ে ছালাতে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যখন ছালাতের এক্বামত দেওয়া হয়, তখন তোমরা দৌড়ে যেয়ো না; বরং স্বাভাবিকভাবে হেঁটে যাও। স্থিরতা অবলম্বন কর। অতঃপর তোমরা জামা‘আতে যতটুকু পাও ততটুকু আদায় কর এবং ছুটে যাওয়া ছালাত পূর্ণ কর’ (বুখারী হা/৯০৮; মুসলিম হা/৬০২; মিশকাত হা/৬৮৬)

Posted in জামা‘আত শেষ হয়ে যাওয়ার আশংকায় দৌড়ে গিয়ে শরীক হওয়া যাবে কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তি বলেন, জায়নামায বা কার্পেটের উপর সিজদা দেওয়ার চেয়ে মাটিতে সিজদা করা উত্তম ও ফযীলতপূর্ণ। একথার কোন সত্যতা আছে কি?


সরাসরি মাটিতে সিজদা দেওয়ার বিশেষ কোন ফযীলত নেই। রাসূল (ছাঃ) কখনো চাটাইয়ের উপর সিজদা দিয়েছেন (বুখারী হা/৩৮০, ৩৭৯; মুসলিম হা/৬৫৮)। কখনো খেজুর পাতার তৈরী বিছানায় ছালাত আদায় করেছেন’ (মুসলিম হা/৬৫৯)। আবার কখনো সরাসরি মাটিতে সিজদা দিয়েছেন (বুখারী হা/৬৬৯; মুসলিম হা/১১৬৭)। অতএব মাটিতে বা যেকোন পবিত্র বস্ত্ত ও কাপড়ের উপরে সিজদা দেওয়ায় ছওয়াবের কোন তারতম্য নেই। শরী‘আতের দৃষ্টিতে সবগুলো জায়েয (নববী, শরহ মুসলিম হা/১০৫৩-এর ব্যাখ্যা)

Posted in জায়নামাযের উপর সিজদা দেওয়ার চেয়ে মাটিতে সিজদা করা উত্তম কি? | Tagged

মুযারাবা পদ্ধতিতে আমার বন্ধুর সাথে আমি ব্যবসা করি। অর্থাৎ আমার অর্থায়ন এবং তার ব্যবসা। উক্ত অর্থ কেনা-বেচার মধ্যে চলমান থাকায় দোকানে সারা বছর যে ব্যবসায়িক পণ্যে স্থিত থাকে, তার গড় মূল্য হিসাব করে সে যাকাত পরিশোধ করে। এটা সঠিক হচ্ছে কি?


এটি সঠিক হচ্ছে না। বরং সঠিক নিয়ম হ’ল বিনিয়োগকারী প্রতিবছর তার মূল সম্পদ এবং প্রাপ্ত লভ্যাংশের উপর যাকাত আদায় করবে। আর ব্যবসায়ী কেবল তার প্রাপ্ত লভ্যাংশের উপর যাকাত দিবে যদি তা নিছাব পরিমাণ হয় এবং এক বছর অতিক্রান্ত হয় (ছালেহ ফাওযান, আল-মুনতাক্বা ৮৭/২; ফাতাওয়া ইবনু জিবরীন ৮/৫০)। তবে ব্যবসায়ী বিনিয়োগকারীর সাথে আলোচনা সাপেক্ষে মালের হিসাব করে যাকাত আদায় করলে তা আদায় হয়ে যাবে।

Posted in ব্যবসা (চলমান থাকা অবস্থায়) যাকাত কিভাবে দিতে হবে?

যে ব্যক্তি আমার ৪০টি হাদীছ মুখস্থ করবে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা তাকে ফক্বীহ হিসাবে উঠাবেন। এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি ছহীহ কি?


উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি জাল (আলবানী, সিলসিলা যঈফাহ হা/৪৫৮৯; যঈফুল জামে‘ হা/৫৫৬৮)। ইবনু মুলাক্কিন বলেন, হাদীছটি বিশটি তুরুকে বর্ণিত হয়েছে, সবগুলো যঈফ। ইমাম দারাকুৎনী বলেন, এর সকল তুরুক দুর্বল, কোনটিই গ্রহণযোগ্য নয়। বায়হাক্বী বলেন, সকল সনদ যঈফ (আল-বাদরুল মুনীর ৭/২৭৮)

তবে হাদীছ মুখস্থ করার অনেক ফযীলত রয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ ঐ ব্যক্তির মুখ উজ্জ্বল করুন যে আমার কোন কথা শুনেছে, অতঃপর এ কথাকে স্মরণ রেখেছে ও রক্ষা করেছে এবং যা শুনেছে হুবহু তা মানুষের নিকট পৌঁছিয়ে দিয়েছে (তিরমিযী হা/২৬৫৮; মিশকাত হা/২২৮; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৭৬৫)। বিদায় হজ্জের ভাষণ শেষে তিনি বলেন, উপস্থিত ব্যক্তিরা যেন অনুপস্থিতদের নিকট (আমার এ বাণীসমূহ) পৌঁছে দেয় (বুখারী হা/৬৭)

Posted in ক্বিয়ামতের দিন ফক্বীহ হিসাবে উঠাবেন কি? | Tagged

আমার বয়স ২৫ বছর। নিজের আর্থিক সক্ষমতা ও পূর্ণ সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও বিবাহ করার ব্যাপারে পিতা-মাতার অনুমতি পাচ্ছি না। যদিও তা আমার জন্য খুবই যরূরী। এক্ষণে আমার করণীয় কি?


পিতা-মাতার কর্তব্য প্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানের বিবাহের ব্যবস্থা করা। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পিতা ইচ্ছাকৃতভাবে সন্তানের বিবাহের ব্যবস্থা না করলে গোনাহগার হবেন। এক্ষণে শরী‘আতসম্মত কারণে পিতা-মাতা কোন বিবাহের অনুমতি না দিলে, তাদের নির্দেশনা মেনে চলা আবশ্যক। অন্যথা নয়। তবে সম্ভবপর তাদেরকে বুঝিয়ে দ্বীনদার পাত্রী দেখে বিবাহ করতে হবে।

Posted in বিবাহ প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পরেও অভিভাবক না দিলে করনীয় কি? | Tagged

আমি স্কুলের সরকারী উপবৃত্তি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলী পূরণ করিনি। কিন্তু বৃত্তি পেয়েছি। এটা গ্রহণ করা জায়েয হয়েছে কি?


এরূপ বৃত্তি গ্রহণ করা জায়েয নয়। কারণ এটি প্রতারণার শামিল। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে আমার দলভুক্ত নয়’ (মুসলিম হা/১০১; মিশকাত হা/৩৫২০)

Posted in প্রয়োজনীয় শর্তাবলী পূরণ না করে বৃত্তি পাওয়া জায়েয হয়েছে কি? | Tagged

কোন নারীর জন্য সমবয়সী অপর নারীর সামনে শরীরের কতটুকু পরিমাণ স্থান ঢেকে রাখা আবশ্যক?


নারী অন্য নারীর সামনে শরীরের অতটুকু প্রকাশ করতে পারবে, যতটুকু নিকটতম মাহরাম পুরুষের নিকট প্রকাশ করতে পারে। যেমন- হাত, পা, মুখমন্ডল ইত্যাদি। (নূর ২৪/৩১; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১৭/২৯১, ২৯৭; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১২/২৭১)

Posted in নারীর সামনে অন্য নারীর পর্দা করতে হবে কি? | Tagged

কিয়ামতের পূর্বে কুরআন উঠিয়ে নেওয়া হবে মর্মে কোন বর্ণনা আছে কি? যদি তাই হয় তবে হাফেযে কুরআনের সংখ্যা দিন দিন কিভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে?


উক্ত মর্মে বর্ণনা রয়েছে যা ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ইসলাম পুরাতন হয়ে যাবে, যেমন কাপড়ের কারুকার্য পুরাতন হয়ে যায়। এমনকি অবস্থা এমন হবে যে, জানবে না, ছিয়াম কি? ছালাত কি? কুরবানী কি, যাকাত কি?। এক রাতে পৃথিবী থেকে মহান আল্লাহর কিতাব বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং একটি আয়াতও অবশিষ্ট থাকবে না (ইবনু মাজাহ হা/৪০৪৯; ছহীহাহ হা/৮৭)। তবে এটি ক্বিয়ামতের প্রাক্কালে ঘটবে। যখন হাফেযের স্মৃতি থেকেও কুরআন তুলে নেওয়া হবে। হাফেযদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, কুরআনের উপর এমন একটি রাত অতিবাহিত হবে যে, হাফেযদের স্মৃতিতে ও মুছহাফের মধ্যে যা ছিল, তা হারিয়ে যাবে..(হাকেম হা/৮৫৩৮, যাহাবী, সনদ ছহীহ)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘মুছহাফে কোন আয়াত থাকবে না এবং হাফেযের স্মৃতিতে মুখস্থ কিছু অবশিষ্ট থাকবে না’ (দারেমী হা/৩৩৪৩, ৩৩৪১; ফৎহুলবারী ১৩/১৬, সনদ ছহীহ)

Posted in কিয়ামতের পূর্বে কুরআন উঠিয়ে নেওয়া হবে মর্মে কোন বর্ণনা আছে কি? | Tagged

আমাদের পারিবারিক একটি কবরস্থান আছে, যেখানে ২-৩টি কবর রয়েছে। সময়ের ব্যবধানে কবরগুলোর নীচু ও বাড়ির পাশে হওয়ায় সেখানে নানারকম ময়লা-আবর্জনা এমনকি গরুর মলমূত্র পড়ছে। এক্ষণে তার উপর মাটি ভরাট করে ইট দিয়ে বেঁধে দেওয়া যাবে কি?


মুসলমানের কবরস্থানকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। তা সংরক্ষণ করা জীবিত মানুষের দায়িত্ব (শায়খ বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব ১/২৭২; শায়খ মুহাম্মাদ ইবরাহীম, ফাতাওয়া ও রাসায়েল ৩/২০০)। রাসূল (ছাঃ) বাক্বীউল গারক্বাদকে মদীনাবাসীর কবরস্থান হিসাবে নির্ধারণ করেছিলেন (ছহীহাহ হা/৩০৬০)। যা চারদিক থেকে পাকা দেওয়াল দিয়ে ঘেরা।

Posted in কবরের চারদিকে পাকা দেওয়াল দিয়ে ঘিরে রাখা যাবে কি? | Tagged

কা‘বাগৃহ, মসজিদে নববীসহ বিভিন্ন স্থানে ফরয ছালাত চলাকালীন সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মুছল্লীদের মাঝে দাঁড়িয়ে পাহারারত দেখা যায়। জামা‘আত চলাকালীন সময়ে এরূপ করা জায়েয হবে কি?


ইমাম ও মুছল্লীদের নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী জামা‘আতে অংশ গ্রহণ না করে তাদের পাহারায় নিয়োজিত থাকতে পারে। যেমন কুরআনে যুদ্ধের ময়দানে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণার্থে একটি দলকে জামা‘আতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে (নিসা ৪/১০২)। তারা পরে পৃথক জামা‘আতে ছালাত আদায় করবে (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৫/১৩; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৮/১৮৮-১৯২)

Posted in ছালাত চলাকালীন সময়ে নিরাপত্তা বাহিনী পাহারা দিতে পারে কি? | Tagged