আমি একজন সালাফী। ভারতে বহু সালাফী আলেম বিভিন্ন মাসআলায় একেকজনের একেক মত। সাধারণ মানুষ বলে, স্থানীয় আলেমদের অনুসরণ করতে। এক্ষণে আমার করণীয় কি?


স্থানীয় আলেমদের অনুসরণ করা অপরিহার্য নয়। তবে কোন বিষয়ে উভয় পক্ষের দলীল যদি ছহীহ হয়, সেক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ছহীহ আমলকে অগ্রাধিকার দেওয়াই উত্তম হবে। আর ফৎওয়া গ্রহণের ক্ষেত্রে সকল স্তরের মানুষের জন্য যরূরী হ’ল, দলীল জেনে নেওয়া। ছাহাবীগণ একটি বিষয়ে একাধিক ছাহাবীর কাছে জানতেন (আবুদাঊদ হা/৪৬৯৯, ৩৬৪১ প্রভৃতি, মিশকাত হা/১১৫, ২১২) এবং পরস্পরের নিকট দলীলও চাইতেন (তিরমিযী হা/৩০০০ প্রভৃতি, মিশকাত হা/৩৫৫৪)। তবে দলীল বুঝার ক্ষমতা না থাকলে যিনি যিদ ও হঠকারিতা থেকে মুক্ত এবং যিনি পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ অনুযায়ী ফৎওয়া দেন, সেরূপ যোগ্য ও আল্লাহভীরু আলেমের নিকট থেকে ফৎওয়া গ্রহণ করতে হবে (নাহল ১৬/৪৩-৪৪)। এরপরেও কোন আলেম যদি ইচ্ছাকৃতভাবে দলীলবিহীন ফৎওয়া দেন, তাহ’লে তার দায়িত্ব তার উপরেই (আবুদাঊদ হা/৩৬৫৭ প্রভৃতি, মিশকাত হা/২৪২)

Posted in আলেমদের মধ্যে মতভেদ হলে আমার করণীয় কি? | Tagged

বিবাহের সময় পরিস্থিতির কারণে দুই লাখ টাকা মোহরানায় রাযী হই। কিন্তু তা পরিশোধ করা আমার জন্য অতি কষ্টকর। স্ত্রী সর্বদা বলে, পঞ্চাশ হাযার টাকা পেলেই আমি খুশী। এক্ষণে আমার করণীয় কি? পুরো পাওনা না দিয়ে মারা গেলে কি আমি গোনাহগার হব?


স্ত্রী স্বেচ্ছায় সম্মতি দিলে মোহরানার পরিমাণ কমানো যায়। এমনকি সে চাইলে তার মোহরানার অর্থ স্বামীকে ভোগ করতে দিতে পারে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহরানা ফরয হিসাবে প্রদান কর। তবে তারা যদি তা থেকে খুশী মনে তোমাদের কিছু দেয়, তাহ’লে তা তোমরা সন্তুষ্টচিত্তে স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর’ (নিসা ৫/৪)। তবে এ সুযোগে তাকে বঞ্চিত করার কুমতলব থাকলে গোনাহগার হ’তে হবে। কারণ আল্লাহ মানুষের মনের খবর রাখেন (আলে ইমরান ৩/১১৯)

Posted in মোহরানা স্ত্রী মাপ করে দিলে মাফ হবে কি? | Tagged

জামা‘আতে ছালাতরত অবস্থায় মুক্তাদী স্বীয় ভুলের কারণে সহো সিজদা দিতে পারবে কি?


এমতাবস্থায় সহো সিজদা দিতে হবে না। কারণ জামা‘আতে ছালাতরত অবস্থায় ইমামের অনুসরণ করা অপরিহার্য। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘ইমাম নিযুক্ত করা হয় অনুসরণের জন্য’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১১৩৯)। আত্বা, ইবরাহীম নাখঈ, মাকহূল, যুহরী, হাম্মাদ, ক্বাতাদা প্রমুখ তাবেঈগণ বলেন, মুক্তাদীর জন্য কোন সহো সিজদা নেই (মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ হা/৪৫৬০-৪৫৬২; মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/৩৫০৭)। আলবানী, উছায়মীন প্রমুখ ওলামায়ে কেরামও এ ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। তবে মুক্তাদী মাসবূক হ’লে এবং বাকী ছালাতে ভুল করলে সহো সিজদা দিবে (ইরওয়া ২/১৩২; শারহুল মুমতে‘ ২/৩২০; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৭/১৩৮)

Posted in জামা‘আতে ছালাতরত অবস্থায় মুক্তাদী স্বীয় ভুলের কারণে সহো সিজদা দিতে পারবে ক | Tagged

জনৈক তালাক প্রাপ্তা মহিলার আরেকজন পুরুষের সাথে বিবাহ হয়েছে। মহিলাটির আগে থেকে একটি মেয়ে এবং পুরুষটির একটি ছেলে রয়েছে। উভয়ের মাঝে বিবাহ জায়েয হবে কি?


যেহেতু তারা উভয়ে এক মায়ের ও এক পিতার সন্তান নয়, সেহেতু তাদের বিবাহ বৈধ। আল্লাহ বলেন, ‘এদের ব্যতীত তোমাদের জন্য সকল নারী হালাল করা হয়েছে এই শর্তে যে, তোমরা তাদেরকে মালের বিনিময়ে কামনা করবে বিবাহের উদ্দেশ্যে, ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে নয়’ (নিসা ৪/২৪)

Posted in সত ভাই বোনে বিবাহ জায়েয হবে কি? | Tagged

’হায়াতুন্নবী’ সম্পর্কিত বিশুদ্ধ আক্বীদা ও শিরকী আক্বীদা কি কি?


হায়াতুন্নবী’ সম্পর্কিত বিশুদ্ধ আক্বীদা হ’ল, রাসূল (ছাঃ) সহ সকল নবী মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁদের রূহ ‘আলমে বারযাখে’ জীবিত আছে। যা দুনিয়াবী জীবন থেকে পৃথক। যে জগত সম্পর্কে আল্লাহ ব্যতীত কেউ অবগত নন (আলবানী, ছহীহাহ হা/৬২১এর আলোচনা)। আল্লাহ বলেন, ‘আর তাদের (মৃতদের) সামনে পর্দা থাকবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত’ (মুমিনূন ২৩/১০০)। আর উক্ত পর্দা ভেদ করে দুনিয়াবী জীবনের সাথে সম্পর্ক করা কোন মৃতের পক্ষে সম্ভব নয়।

অতঃপর এ বিষয়ে শিরকী আক্বীদা হ’ল, রাসূল (ছাঃ) কবরে দুনিয়াবী জীবনের ন্যায় বেঁচে আছেন এবং তিনি মানুষের প্রার্থনা শোনেন ও ভাল-মন্দ করেন বলে ধারণা করা।

রাসূল (ছাঃ) বলেন, কেউ আমাকে সালাম দিলে আল্লাহ তা‘আলা আমার দেহে রূহ ফেরত দেন। অতঃপর আমি উক্ত সালামের উত্তর দেই (আবুদাউদ হা/২০৪১; মিশকাত হা/৯২৫; ছহীহাহ হা/২২৬৬)। ছহীহ বুখারীর ভাষ্যকার হাফেয ইবনু হাজার (রহঃ) বলেন,لِأَنَّهُ بَعْدَ مَوْتِهِ وَإِنْ كَانَ حَيًّا فَهِيَ حَيَاةٌ أُخْرَوِيَّةٌ لاَ تُشْبِهُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا ‘রাসূল (ছাঃ) মৃত্যুর পরে যদিও জীবিত আছেন, তবুও সেটি পরকালীন জীবন। দুনিয়াবী জীবনের সাথে যা সামঞ্জস্যশীল নয়’। নবীগণ তাদের প্রভুর নিকটে জীবিত আছেন শহীদদের ন্যায়’ (ফাৎহুল বারী হা/৪০৪২এর ব্যাখ্যা, /৩৪৯ পৃ.)। অতএব বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে বারযাখী জীবনের অন্তর্ভুক্ত। যেখানে মানুষের হায়াত বা মঊত বলে কিছু নেই। তাই রূহ ফেরত দেওয়ার অর্থ তাঁকে অবহিত করানো এবং তিনি তা বুঝতে পারেন। আর সেটাই হ’ল তাঁর উত্তর দেওয়া’ (মিরআত হা/৯৩১এর ব্যাখ্যা, /২৬২৭৪)

অতএব তিনি শুনছেন এরূপ ধারণায় তাঁর কবরের পাশে গিয়ে দরূদ পাঠ করা সুস্পষ্টভাবে শিরক। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি শুনাতে পারো না কোন মৃত ব্যক্তিকে’ (নামল ২৭/৮০)। আর ‘তুমি শুনাতে পারো না কোন কবরবাসীকে’ (ফাত্বির ৩৫/২২)। এছাড়া ‘যে ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর কবরে গিয়ে দরূদ পাঠ করবে, তিনি তার জন্য সাক্ষী হবেন ও সুফারিশকারী হবেন’, ‘যে ব্যক্তি আমার কবর যেয়ারত করবে, তার জন্য আমার শাফা‘আত ওয়াজিব হবে’, ‘আমি তার জন্য ক্বিয়ামতের দিন সাক্ষী হব’ ইত্যাদি মর্মে যেসব হাদীছ বলা হয়ে থাকে, সবগুলিই জাল (আলবানী, সিলসিলা যঈফাহ হা/৪৭, ২০৩, ১০২১; ইরওয়াউল গালীল হা/১১২৭২৮ প্রভৃতি)

Posted in হায়াতুন্নবী’ সম্পর্কিত বিশুদ্ধ আক্বীদা ও শিরকী আক্বীদা কি কি? | Tagged ,

তাফসীর ইবনে কাছীর গ্রন্থে আয়াতের ব্যাখ্যায় যে সব হাদীছ বা ছাহাবীদের মতামত উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলি সব কি ছহীহ?


সবগুলি ছহীহ নয়। যার কিছু কিছু তিনি নিজেই  যঈফ সাব্যস্ত করেছেন। আবার কিছু পরবর্তী মুহাদ্দিছগণ যঈফ প্রমাণ করেছেন।

Posted in তাফসীর ইবনে কাছীর গ্রন্থে আয়াতের ব্যাখ্যা সব কি ছহীহ? | Tagged

জনৈক ব্যক্তি লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে নামকাওয়াস্তে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছে। বর্তমানে সে তওবা করতে চায়। স্থায়ীভাবে হারাম ভক্ষণের গুনাহ থেকে বাঁচতে চায়। এক্ষণে তার করণীয় কি?


উক্ত পদে যোগ্য হয়ে থাকলে সে খালেছ নিয়তে তওবা করবে এবং চাকুরীরত থাকবে। কারণ যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও যুলুম প্রতিরোধের জন্য বা বাধ্যগত অবস্থায় ঘুষ দিলে সেক্ষেত্রে ঘুষগ্রহীতা পাপের বোঝা বহন করবে, ঘুষদাতা নয় (মুহাল্লা /১১৮ মাসআলা নং ১৬৩৮; মাজমূফাতাওয়া ৩১/২৮৬)

তবে ঘুষ দাতা অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও অন্যের হক নষ্ট করে ঘুষের জোরে চাকুরী নিয়ে থাকলে চাকুরী ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর নিকট তওবা করবে। রাসূল (ছাঃ) ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতার উপর লা‘নত করেছেন (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩৭৫৩)

Posted in ঘুষ দিয়ে চাকুরী নিয়ে ভুল বুঝতে পারলে করণীয় কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তি বলেন, বাদ্যযন্ত্র নিষেধ মর্মে কোন হাদীছই ছহীহ নয়। এমনকি এ মর্মে বুখারীতে বর্ণিত মু‘আল্লাক্ব হাদীছটিও যঈফ। এই বক্তব্যের সত্যতা আছে কি?


উক্ত বক্তব্য ভিত্তিহীন এবং ইসলাম বিরোধী। ইসলামে বাদ্যযন্ত্র হারাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘লোকদের মধ্যে কিছু লোক অজ্ঞতা বশে বাজে কথা খরিদ করে মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য এবং আল্লাহর পথকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি’ (লোক্বমান ৩১/)। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, এখানে ‘বাজে কথা’ অর্থ গান-বাজনা (ইবনু কাছীর, উক্ত আয়াতের তাফসীর দ্রঃ)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আমার উম্মাতের মধ্যে অবশ্যই এমন কিছু দলের সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশমী কাপড়, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল জ্ঞান করবে’ (বুখারী হা/৫৫৯০; মিশকাত হা/৫৩৪৩)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বাদ্যযন্ত্রকে مِزْمَارُ الشَّيْطَانِ ‘শয়তানের বাদ্য’ বলেছেন (আবুদাঊদ হা/২৫৫৬)। নাফে‘ বলেন, ‘আমি রাস্তায় ইবনু ওমরের সাথে ছিলাম। তিনি বাদ্যযন্ত্রের আওয়ায শুনে তাঁর দু’কানে দু’আঙ্গুল প্রবেশ করালেন এবং রাস্তার অন্য ধারে সরে গেলেন। অতঃপর দূরে গিয়ে বললেন, নাফে‘! তুমি কি এখন কিছু শুনতে পাচ্ছ? (নাফে‘ বলেন,) আমি বললাম, না। তখন তিনি তার কান থেকে আঙ্গুল সরালেন এবং বললেন, আমি একদা নবী করীম (ছাঃ)-এর সাথে ছিলাম। তিনি বাঁশীর আওয়াজ শুনে এরূপ করেছিলেন’ (আহমাদ হা/৪৫৩৫৪৯৬৫; আবুদাঊদ হা/৪৯২৪; মিশকাত হা/৪৮১১, সনদ ছহীহ)

এক্ষণে উপরে বর্ণিত ছহীহ বুখারীর মু‘আল্লাক্ব হাদীছটিকে (হা/৫৫৯০) ইবনু হাযম আন্দালুসী দুর্বল বললেও ইবনুল ক্বাইয়িম, ইবনু হাজার, আলবানী প্রমুখ মুহাদ্দিছগণ ছহীহ বলেছেন এবং ইবনু হাযম-এর গবেষণাগত ত্রুটি তুলে ধরেছেন (আলবানী, ছহীহাহ হা/৯১এর আলোচনা তাহরীমু আলাতিত ত্বারাববই দ্রঃ)

Posted in বাদ্যযন্ত্র নিষেধ মর্মে কোন হাদীছই ছহীহ নয় কি? | Tagged ,

সুলতান সোলায়মান নামক একটি টিভি সিরিয়ালে সূরা যুমারের ৪২ আয়াতের ভিত্তিতে যিম্মী তথা অঙ্গীকারাবদ্ধ কোন ব্যক্তিকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করা জায়েয ফৎওয়া দেওয়া হয়েছে। উক্ত আয়াতের সঠিক ব্যাখ্যা কি?


এটি আদৌ জায়েয নয়। কেননা আয়াতটির অর্থ হ’ল, ‘আল্লাহ জীবসমূহের প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময় এবং যারা মরেনি তাদের নিদ্রার সময়। তারপর যার জন্য তিনি মৃত্যুর ফায়ছালা করেন, তার প্রাণ তিনি রেখে দেন এবং অন্যগুলো ফিরিয়ে দেন একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে (যুমার ৩৯/৪২)

আয়াতের মর্ম এই যে, মানুষ ঘুমিয়ে পড়লে তাদের রূহ আল্লাহ নিজ ক্ষমতায় উঠিয়ে নেন। এরপর যাদের মৃত্যুর সময় হয়ে গেছে তাদের রূহ আর ফেরত দেন না। আর যাদের মৃত্যুর সময় হয়নি, তাদের রূহ নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল পূর্ণ হওয়ার জন্য ফেরত দেন (ইবনু কাছীর অত্র আয়াতের তাফসীর দ্রষ্টব্য)। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই সেই মহান সত্তা, যিনি তোমাদেরকে রাত্রিতে (ঘুমের মাধ্যমে) মৃত্যু দান করেন…। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেন, যাতে তোমাদের নির্ধারিত আয়ুষ্কাল পূর্ণ হয়। পরিশেষে তাঁর কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তনস্থল…’ (আনআম /৬০৬১)। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ শয্যা গ্রহণ করতে যায়, তখন সে যেন পড়ে, হে আমার প্রতিপালক! আপনারই নামে আমার দেহটা বিছানায় রাখলাম এবং আপনারই নামে আবার উঠবো। যদি আপনি ইতিমধ্যে আমার জান কবয করে নেন, তাহ’লে তার উপর রহম করবেন। আর যদি তা আমাকে ফিরিয়ে দেন, তবে তাকে এমনভাবে হেফাযত করবেন, যেভাবে আপনি আপনার নেক বান্দাদের হেফাযত করে থাকেন’ (বুখারী হা/৬৩২০; মিশকাত হা/২৩৮৪)। এজন্য মৃত্যুকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ওফাতে কুবরা তথা মৃত্যু ও ওফাতে ছুগরা তথা ঘুম (ইবনু কাছীর /১০১১০২)

উপরোক্ত আলোচনায় বুঝা যায় যে, উক্ত আয়াতে যিম্মীকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করার কোন দলীল নেই। বরং এটি চূড়ান্তভাবে একটি খেয়ানত মাত্র।

Posted in অঙ্গীকারাবদ্ধ কোন ব্যক্তিকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করা জায়েয কি? | Tagged

জনৈক বিদেশীকে ব্যবসার পথ ও নিয়ম কানূন দেখিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তার নিকট থেকে মনপ্রতি ১০ টাকা করে হাদিয়া গ্রহণ করার চুক্তি করা যাবে কি?


হালাল কর্মের বিনিময়ে এরূপ মজুরী গ্রহণ করা হালাল। তবে উভয়ের সন্তুষ্টি থাকতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা একে অপরের মাল অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না, তোমাদের পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসা ব্যতীত’ (নিসা /২৯)। রাসূল (ছাঃ)-এর একদল ছাহাবী তাদের কাজের বিনিময়ে মজুরী গ্রহণ করলে তিনি তা সমর্থন করেন (বুখারী হা/৫৭৩৭; মিশকাত হা/২৯৮৫)

Posted in ব্যবসার পথ ও নিয়ম কানূন দেখিয়ে দেওয়ায় হাদিয়া গ্রহণ করা যাবে কি? | Tagged

জাপানের প্রায় প্রতিটি রেস্টুরেন্টে শূকরের গোশত বিক্রি হয়। সেখানে ওয়েটার হিসাবে মানুষকে তা খাওয়াতে হয়। এক্ষণে সেখানে চাকুরী করা বৈধ হবে কি?


এরূপ প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করা হারাম। কারণ শূকরের গোশত হারাম (বাক্বারাহ ২/১৭৩)। আর হারাম কাজে অন্যকে সাহায্য করাও হারাম। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নেকী ও তাক্বওয়ার কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা কর। গোনাহ ও অন্যায় কাজে সহযোগিতা কর না’ (মায়েদাহ ৫/২)

Posted in শূকরের গোশত বিক্রি হওয়া রেস্টুরেন্টে চাকুরী করা যাবে কি? | Tagged

আমি কোম্পানীতে ড্রাইভিং করি। অবসর সময়ে গাড়িটি ভাড়ায় চালিয়ে ইনকাম করি। এরূপ ইনকাম হালাল হবে কি?


কোম্পানীর সম্মতি থাকলেই কেবল হালাল হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যাকে আমরা কোন দায়িত্বে নিয়োগ করি আমরা তার রুযীর ব্যবস্থা করে থাকি। এর বাইরে যদি সে নেয়, তবে তা খেয়ানত হবে’ (আবুদাঊদ হা/৩৫৮৮; মিশকাত হা/৩৭৪৮)

Posted in অবসর সময়ে গাড়ি ভাড়ায় চালিয়ে ইনকাম করলে হালাল হবে কি? | Tagged

নিয়মিতভাবে বিতর ছালাত আদায় না করলে সে কি কবীরা গুনাহগার হিসাবে গণ্য হবে?


না। কারণ বিতর ছালাত আদায় করা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত হ’লেও তা ফরয নয়। যে কারণে এটি আদায় না করলে তাকে শাস্তিও দেওয়া হবে না (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ /১৭২)। রাসূল (ছাঃ) জনৈক ছাহাবীর প্রশ্নের উত্তরে বলেন, দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ফরয। সে বলল, আমার উপর এছাড়া আরো ছালাত আছে কি? তিনি বললেন, না, তবে নফল আদায় করতে পার (বুখারী হা/৪৬; মুসলিম হা/১১; মিশকাত হা/১৬)। নববী বলেন, এ হাদীছ প্রমাণ করে যে, বিতরের ছালাত ওয়াজিব নয় (নববী, শরহ মুসলিম /১৬৯)। ইবনু হাজার বলেন, দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ব্যতীত কোন ছালাত ওয়াজিব নয় (ফাৎহুল বারী /১০৭)

বিতর ছালাত সুন্নাতে মুওয়াক্কাদাহ (ফিক্বহুস সুন্নাহ /১৪৩; নাসাঈ হা/১৬৭৬)। এটি খুবই ফযীলতপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বাড়ীতে বা সফরে কোন অবস্থায় বিতর ও ফজরের দু’রাক‘আত সুন্নাত পরিত্যাগ করতেন না (ইবনুল ক্বাইয়িম, যাদুল মাআদ /৪৫৬)। রাসূল (ছাঃ) আরো বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা বিতর ছালাতকে তোমাদের জন্য অতিরিক্ত হিসাবে দান করেছেন। তোমরা এটি এশা ও ফজর ছালাতের মধ্যবর্তী সময়ে আদায় কর (হাকেম হা/১১৪৮; আহমাদ হা/২৩৯০২ছহীহাহ হা/১০৮৭)। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি বিতরের ছালাত আদায়ের পূর্বে ঘুমিয়ে পড়ে বা ভুলে যায়, জাগ্রত হওয়া বা স্মরণ হওয়া মাত্রই যেন সে উক্ত ছালাত আদায় করে নেয় (তিরমিযী হা/৪৬৫; মিশকাত হা/১২৭৯, সনদ ছহীহ)। আলী (রাঃ) বলেন, নিশ্চয়ই বিতর বাধ্যতামূলক ছালাত নয় এবং তোমাদের ফরয ছালাতের সম-পর্যায়ভুক্তও নয়। কিন্তু রাসূল (ছাঃ) বিতরের ছালাত আদায় করেছেন, অতঃপর বলেছেন, হে আহলে কুরআন! তোমরা বিতর ছালাত পড়ো। নিশ্চয়ই আল্লাহ বিতর (বেজোড়), তিনি বিতরকে ভালবাসেন (আবুদাউদ হা/১৪১৬; ইবনু মাজাহ হা/১১৬৯; ছহীহ আততারগীব হা/৫৯০, ৫৯৩)

Posted in বিতর ছালাত আদায় না করলে কবীরা গুনাহগার হিসাবে গণ্য হবে? | Tagged ,

জনৈক আলেম বলেন, কারো মৃত্যুর খবরে প্রথমে আল-হামদুলিল্লাহ বলতে হবে তারপর ইন্নালিল্লাহ বলবে। একথার কোন ভিত্তি আছে কি?


কারো মৃত্যুতে বা কোন বিপদে ‘ইন্না লিল্লাহি… রাজেঊন’ বলাই যথেষ্ট (বাক্বারাহ /১৫৬)। এছাড়া এক্ষেত্রে ‘আল্লাহুম্মা আজিরনী ফী মুছীবাতী…’ দো‘আটিও পাঠ করা যাবে (বাক্বারা /১৫৬; মুসলিম হা/৯১৮, মিশকাত হা/১৬১৮)। তবে একটি হাদীছে এসেছে যে, জনৈক ব্যক্তি স্বীয় সন্তানের মৃত্যুতে ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ পাঠ করে তাকদীরের উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের চরম পরাকাষ্ঠা দেখালে, আল্লাহ তা‘আলা খুশী হয়ে ফেরেশতামন্ডলীকে তার জন্য জান্নাতে ‘বায়তুল হামদ’ নামে একটি গৃহ নির্মাণ করার নির্দেশ দেন (তিরমিযী হা/১০২১; ছহীহাহ হা/১৪০৮)। এটি বিশেষ অবস্থার একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা মাত্র।

মানুষের জীবন-মৃত্যুসহ যাবতীয় কর্মকান্ডের একমাত্র মালিক ও নিয়ন্ত্রক আল্লাহ (মুলক , গাফের ৬৪)। আল্লাহ তা‘আলা পিতা-মাতার মাঝে সন্তানের প্রতি এমন ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছেন যে, জীবদ্দশায় সন্তানের মৃত্যু পিতা-মাতার জন্য মেনে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। সবই যে আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত এ বিশ্বাস থাকলেও এসময় তা কাজে আসে না। তাই এই কঠিন মূহূর্তেও যারা তাকদীরের উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে সক্ষম হয়, তাদের পুরস্কারের কথা উক্ত হাদীছে বিবৃত হয়েছে। এর অর্থ এটা নয় যে, মৃত্যুর খবর শুনে আগে আলহামদুলিল্লাহ পড়তে হবে। বরং নিয়ম হ’ল আগে ইন্না লিল্লাহি পড়া। যেটা কুরআন আয়াত ও হাদীছের মাধ্যমে উপরে বর্ণিত হয়েছে এবং এটাই ছাহাবায়ে কেরামের আমল দ্বারা প্রমাণিত।

Posted in মৃত্যুর খবরে প্রথমে আল-হামদুলিল্লাহ বলতে হবে কি? | Tagged

মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত পাঠ করার উদ্ভব কখন থেকে হয়?


ইবনু তায়মিয়া (রহঃ)-এর বক্তব্য অনুযায়ী ইমাম শাফেঈ (রহঃ)-এর একটি উক্তির ভুল ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে মুখে নিয়ত পাঠের সূচনা হয়েছে। যেখানে তিনি বলেন,بِأَنَّ الصَّلَاةَ فِي أَوَّلِهَا كَلَامٌ ‘ছালাতের পূর্বে কালাম বা বাক্য রয়েছে। ইমাম ইবনু তায়মিয়া (রহঃ) এ ব্যাপারে বলেন, বিদ্বানগণের ঐক্যমতে নিয়তের স্থান হ’ল অন্তর। কেউ যদি অন্তরে নিয়ত করে, মুখে উচ্চারণ না করে তাহ’লে তা যথেষ্ট হবে। শাফেঈ মাযহাবের কিছু অনুসারী ইমাম শাফেঈ-এর উক্তি ভুল বুঝে নতুন পথ বের করেছে। তিনি তাকবীরে তাহরীমা ও ছালাতের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য বলেছেন যে, بِأَنَّ الصَّلَاةَ فِي أَوَّلِهَا كَلَامٌ অথবা لاَ بُدَّ مِنْ النُّطْقِ فِي أَوَّلِهَا। এর দ্বারা কিছু অনুসারী মনে করেছেন যে, তিনি এর দ্বারা মুখে নিয়ত পাঠ করা বুঝিয়েছেন। অথচ তিনি এর দ্বারা তাকবীরে তাহরীমা বুঝিয়েছেন (মাজমূফাতাওয়া ১৮/২৬২, ২২/২২১, ২২/২৩০)। ইমাম শাফেঈর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করার বিষয়টি ইমাম নববীও সমর্থন করেছেন (নববী, শারহুল মুহাযযাব /২৪৩)

এছাড়া হেদায়া লেখক আল-মারগীনানী (৫১১-৫৯৩ হি.) সহ পরবর্তী কালের কিছু ফক্বীহ অন্তরে নিয়ত করার সাথে সাথে মুখে তা পাঠ করাকে ‘সুন্দর’ বলে গণ্য করেন। যেমন হেদায়া-তে বলা হয়েছে, ‘নিয়ত অর্থ সংকল্প করা। তবে শর্ত হ’ল এই যে, মুছল্লী কোন ছালাত আদায় করবে, সেটা অন্তর থেকে জানা। মুখে নিয়ত পাঠ করার কোন গুরুত্ব নেই। তবে হৃদয়ের সংকল্পকে একীভূত করার স্বার্থে মুখে নিয়ত পাঠকে সুন্দর গণ্য করা চলে’ (অর্থাৎ সংকল্পের সাথে সাথে মুখে তা উচ্চারণ করা) [হেদায়া (দেউবন্দ, ভারত: মাকতাবা থানবী ১৪১৬ হিঃ) /৯৬ পৃঃছালাতের শর্তাবলীঅধ্যায়]

মোল্লা আলী ক্বারী, কামাল ইবনুল হুমাম, আব্দুল হাই লাক্ষ্ণৌবী (রহঃ) প্রমুখ খ্যাতনামা হানাফী বিদ্বানগণ এ মতের বিরোধিতা করেছেন ও একে ‘বিদ‘আত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন (মিরক্বাত শরহ মিশকাত /৪০৪১ পৃঃ; হেদায়া /৯৬ পৃঃ টীকা১৩ দ্রষ্টব্য)। অন্যান্য স্থান সহ ভারতীয় উপমহাদেশের অধিকাংশ মুসলমানের মধ্যে ‘নাওয়াইতু ‘আন উছাল্লিয়া’ পাঠের মাধ্যমে মুখে নিয়ত পড়ার প্রথা চালু রয়েছে। অথচ এর কোন শারঈ ভিত্তি নেই। ছালাতের শুরু হ’তে শেষ পর্যন্ত পুরা অনুষ্ঠানটিই আল্লাহর ‘অহি’ দ্বারা নির্ধারিত। এখানে ‘রায়’ বা ‘ক্বিয়াস’-এর কোন অবকাশ নেই। অতএব মুখে নিয়ত পাঠ করা ‘সুন্দর’ নয় বরং ‘বিদ‘আত’- যা অবশ্যই ‘মন্দ’ ও পরিত্যাজ্য (ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) পৃ. ৪৬ টীকা১১২ দ্র.)

Posted in নিয়ত মুখে উচ্চারণ করে পাঠ করার উদ্ভব কখন থেকে হয়? | Tagged

এক শ্রেণীর আলেম ও ইমাম গুল ও জর্দা খান। তাদেরকে সালাম দেওয়া বা তাদের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে কি?


এসব নেশাদার দ্রব্য পান করা হারাম (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩৬৫২)। তাই এগুলি যারা খান, তারা কবীরা গোনাহগার। কিন্তু কাফির নন। অতএব তাদের পিছনে ছালাত হবে এবং তাদেরকে সালাম দেওয়া যাবে। আল্লাহ বলেন, তোমার রুকূকারীর পিছনে রুকূ কর (বাক্বারাহ ২/৪৩)। আর পরস্পরে সালাম বিনিময় করা অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ আমল। তবে এরূপ ব্যক্তিকে ইমামতির মত গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা উচিত নয়। আর যে তিন শ্রেণীর মানুষের ছালাত কবুল হয় না তাদের একজন হচ্ছে সেই ইমাম, লোকেরা যাকে অপসন্দ করা সত্ত্বেও সে ইমামতি করে’ (আবুদাঊদ হা/৫৯৩; মিশকাত হা/১১২৩)

Posted in সালাম জর্দা খোর কে দেওয়া যাবে কি? | Tagged ,

আমাদের এখানে অনেক আলেম বলেন, রাসূল (ছাঃ)-এর পিতা-মাতা জান্নাতী। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে কবর থেকে উঠিয়ে কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করিয়েছেন। এর সত্যতা আছে কি?


এ বিষয়ে আবুদাঊদের আরবী ভাষ্যকার শামসুল হক আযীমাবাদী বলেন, কোন কোন বিদ্বান রাসূল (ছাঃ)-এর পিতা-মাতাকে জীবিতকরণ, ঈমান আনয়ন ও নাজাত প্রাপ্তি সম্পর্কে কিছু দলীল পেশ করার চেষ্টা করেছেন, যার অধিকাংশই মুহাদ্দিছ ওলামায়ে কেরামের নিকটে মিথ্যা ও জাল এবং বাকীগুলি খুবই দুর্বল (আওনুল মাবূদ ১২/৩২৪, হা/৪৭১৮এর আলোচনা)

রাসূল (ছাঃ)-এর পিতা-মাতার জাহান্নামী হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। আনাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকটে আরয করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা কোথায়? রাসূল (ছাঃ) বললেন, তোমার পিতা জাহান্নামে। একথা শ্রবণ করে লোকটি দুঃখিত হয়ে ফিরে যাচ্ছিল, তখন রাসূল (ছাঃ) তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বললেন, আমার পিতা এবং তোমার পিতা উভয়েই জাহান্নামী (মুসলিম হা/২০৩; আবুদাঊদ হা/৩৯৪৯; ছহীহাহ হা/২৫৯২)। একবার রাসূল (ছাঃ) মা আমেনার কবর দেখতে গেলেন। তখন তিনি নিজেও কাঁদলেন এবং তাঁর সাথীগণও কাঁদলেন। অতঃপর তিনি বললেন, আমি আমার প্রতিপালকের নিকট মায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার অনুমতি চেয়েছিলাম; কিন্তু তিনি আমাকে অনুমতি দেননি। অতঃপর তাঁর কবর যিয়ারতের অনুমতি চাইলে তিনি অনুমতি দেন। অতএব তোমরা কবর যিয়ারত কর। কেননা তা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়’ (মুসলিম হা/৯৭৬; মিশকাত হা/১৭৬৩কবরযিয়ারতঅনুচ্ছেদ)। উপরোল্লিখিত হাদীছদ্বয় থেকে বুঝা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর পিতা-মাতা জান্নাতী হবেন না।

Posted in রাসূল (ছাঃ)-এর পিতা-মাতা জান্নাতী” এর সত্যতা আছে কি? | Tagged ,

সূরা ফাতিহার মোট কয়টি নাম রয়েছে। ছহীহ হাদীছের আলোকে জানিয়ে বাধিত করবেন।


বিভিন্ন হাদীছ, আছার ও বিদ্বানগণের নামকরণের মাধ্যমে অন্যূন ৩০টি নাম বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে ছহীহ হাদীছসমূহে এসেছে ৮টি। যেমন : (১) উম্মুল কুরআন (কুরআনের মূল)। (২) উম্মুল কিতাব (কিতাবের মূল)। (৩) আস-সাব‘উল মাছানী (সাতটি বারবার পঠিতব্য আয়াত)। (৪) আল-কুরআনুল ‘আযীম (মহান কুরআন) (হিজর ১৫/৮৭; বুখারী তালীক্ব হা/৪৭০৪; তিরমিযী হা/৩১২৪, আবুদাঊদ হা/১৪৫৭)। (৫) আল-হামদু (যাবতীয় প্রশংসা)। (৬) ছালাত (মুসলিম হা/৩৯৫, নাসাঈ হা/৯০৯; মিশকাত হা/৮২৩)। (৭) রুক্বিয়াহ (ফুঁকদান) (বুখারী হা/৫৭৩৬)। (৮) ফাতিহাতুল কিতাব (বুখারী হা/৭৫৬মুসলিম হা/৩৯৪, ৮০৬)। এ নামে সকল বিদ্বান একমত। কারণ এ সূরা দিয়েই কুরআন পাঠ শুরু হয়। কুরআনুল কারীম লেখা শুরু হয় এবং এটা দিয়েই ছালাত শুরু হয় (কুরতুবী)

এতদ্ব্যতীত অন্য নামগুলি যেমন : (৯) শিফা (দারেমী হা/৩৩৭০; মিশকাত হা/২১৭০, মুহাক্কিক : হুসাইন আসাদ সালীম, সনদ মুরসাল ছহীহ), (১০) আসাসুল কুরআন (কুরআনের ভিত্তি)। ইবনু আববাস (রাঃ) এ নামকরণ করেছেন (ইবনু কাছীর)। (১১) কাফিয়াহ (যথেষ্ট)। ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাছীর এ নামকরণ করেছেন। কারণ এটুকুতেই ছালাত যথেষ্ট এবং এটি ব্যতীত ছালাত হয় না (কুরতুবী)। (১২) ওয়াফিয়াহ (পূর্ণ)। সুফিয়ান বিন উয়ায়না এ নামকরণ করেছেন। কারণ এ সূরাটি সর্বদা পূর্ণভাবে পড়তে হয়। আধাআধি করে দু’রাক‘আতে পড়া যায় না (কুরতুবী)। (১৩) ওয়াক্বিয়াহ (হেফাযতকারী)। (১৪) কান্য (খনি)। এছাড়াও ফাতিহাতুল কুরআন, সূরাতুল হাম্দ, শুক্র, ফাতিহাহ, মিন্নাহ, দো‘আ, সওয়াল, মুনাজাত, তাফভীয, মাসআলাহ, রা-ক্বিয়াহ, নূর, আল-হাম্দুলিল্লাহ, ইল্মুল ইয়াক্বীন, সূরাতুল হাম্দিল ঊলা, সূরাতুল হাম্দিল কুছরা’। এইভাবে নাম বৃদ্ধির ফলে সূরা ফাতিহার মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে (আব্দুস সাত্তার দেহলভী, তাফসীরে সূরায়ে ফাতিহা /৬৮৯২; বিস্তারিত দ্রঃ তাফসীরুল কুরআন, ৩০তম পারা পৃ.)

Posted in সূরা ফাতিহার মোট কয়টি নাম রয়েছে ? | Tagged

ঘুমের মধ্যে ভয় লাগায় জনৈক মাওলানার নিকটে চিকিৎসা নেই। তিনি একটি সূরার নকশা দিয়ে সেটি বালিশের নীচে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। এক্ষণে কুরআনের আয়াত এভাবে রাখা যাবে কি?


উক্ত চিকিৎসা মনগড়া ও শরী‘আত পরিপন্থী। তাই বালিশের নীচে কুরআনের আয়াতের নকশা রাখা যাবে না।  বরং ভয় থেকে বাঁচার জন্য সুন্নাতসম্মত পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে হয়।… কেউ খারাপ স্বপ্ন দেখলে সে যেন আ‘ঊযুবিল্লাহি… রজীম পাঠ করে এবং বাম দিকে তিনবার থুক মারে। আর কারু কাছে যেন সেটা প্রকাশ না করে। এতে তার কোন ক্ষতি হবে না’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৪৬১২)। ছহীহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, বাম দিকে ৩ বার থুক মারবে, ৩ বার আ‘ঊযুবিল্লা-হি মিনাশ শায়ত্বা-নির রজীম বলবে ও পার্শ্ব পরিবর্তন করবে’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৬১৩-১৪ ‘স্বপ্ন’ অধ্যায়)। অন্য বর্ণনায় তিনি বলেন, তোমাদের কেউ যদি ঘুমের মধ্যে ভীত হয়, তবে সে যেন পাঠ করে- আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তাম্মা-তি মিন গাযাবিহী ও ইক্বাবিহী ওয়া শার্রি ইবাদিহী ওয়ামিন হামাঝাতিশ শায়াত্বীনি ওয়া আইঁ ইয়াহযুরূন। অর্থাৎ আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি তাঁর পরিপূর্ণ কালেমা সমূহের মাধ্যমে তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি হ’তে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট হ’তে এবং শয়তানের খটকা সমূহ হ’তে, আর সে যেন আমার নিকট উপস্থিত হ’তে না পারে। কেননা সে তাকে ক্ষতি করতে পারবে না’ (তিরমিযী হা/৩৫২৮; আবুদাঊদ হা/৩৮৯৩; মিশকাত হা/২৪৭৭; ছহীহ আত-তারগীব হা/১৬০১)

Posted in কুরআনের আয়াত লিখে চিকিৎসা করা যাবে কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তি নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদ নির্মাণের পর তার ব্যবসার শুরুটা অবৈধ ছিল বলে জানা যায়। এক্ষণে উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে কি?


যাবে। হারাম অর্থ উপার্জনের জন্য উক্ত ব্যক্তি দায়ী হবে; মুছল্লীগণ নয়। আল্লাহ বলেন, কেউ অপরের (পাপের) বোঝা বহন করবে না’ (বনু ইসরাঈল ১৭/১৫)। অতএব উক্ত মসজিদে ছালাত আদায়ে কোন বাধা নেই।

Posted in হারাম অর্থের তৈরি মসজিদে ছালাত হবে কি? | Tagged ,

বাজারে মবিল কোম্পানী নাম ব্যবহার করে অনেক ব্যবসায়ী নকল মবিল তৈরী করে। এক্ষেত্রে একেকজন একেক পদ্ধতি অনুসরণ করে। কেউ ঐসব কোম্পানীর মবিলের খালি ক্যানে নিজেদের বানানো মবিল ভরে, কেউ পরিমাণ কম-বেশী করে নকল করে। এক্ষণে নকল তৈরীর ক্ষেত্রে আমার জন্য কোন পদ্ধতি হালাল হবে?


এরূপ নকল পদ্ধতি সমূহ গ্রহণ করা হারাম। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি প্রতারণা করল, সে আমাদের দলভুক্ত নয়’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৫২০)। একবার রাসূল (ছাঃ) (বাজারে) একটি খাদ্যশস্যের স্তূপের মধ্যে হাত প্রবেশ করিয়ে ভিজা অনুভব করলে স্তূপের মালিক তা বৃষ্টির পানিতে ভিজে যাওয়ার কৈফিয়ত পেশ করল। তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, ভিজাগুলো স্তূপের উপরে রাখলে না কেন, যাতে লোকেরা দেখতে পায়? অতঃপর বললেন, যে ব্যক্তি প্রতারণা করল, সে আমার দলভুক্ত নয়’ (তিরমিযী হা/১৩১৫; মিশকাত হা/২৮৬০)

Posted in নকল তৈরীর ক্ষেত্রে আমার জন্য কোন পদ্ধতি হালাল হবে? | Tagged

ইসলাম গরীব অবস্থায় শুরু হয়েছিল… গরীবদের মাঝেই তা ফিরে যাবে। এখানে গরীব বলতে মক্কা-মদীনাকে বুঝানো হয়েছে কি? হাদীছটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে চাই।


এখানে ‘গরীব’ বলতে অল্প সংখ্যক লোকদের বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ শেষ যামানায় অল্প সংখ্যক লোকের মধ্যেই খাঁটি ইসলাম কেন্দ্রীভূত হবে। বংশগত ও নামধারী মুসলমানের সংখ্যা বাড়বে। কিন্তু প্রকৃত মুসলমানের সংখ্যা কমবে এবং কমতে কমতে তা এক পর্যায়ে মুষ্টিমেয় লোকদের মাঝে তা কেন্দ্রীভূত হবে। যেমন শুরুতে অল্প সংখ্যক লোকের মাধ্যমে ইসলামের সূচনা হয়েছিল। অতঃপর নবুঅতের বরকতে এবং খেলাফতে রাশেদাহর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ইসলামের বিজয় সাধিত হয়। কিন্তু খেলাফতের অবর্তমানে মুসলমানের আদর্শিক অবনতি দ্রুততর হয়, যা ইমাম মাহদীর আগমনের প্রাক্কাল অবধি চলতে থাকবে। একসময় ইসলামের প্রকৃত অনুসারীদের খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে। নানাবিধ শিরক ও বিদ‘আতে ডুবে গিয়ে মুসলমান সেগুলিকেই ইসলাম ভাববে। অথচ প্রকৃত ইসলাম হবে তা থেকে অনেক দূরে।

হাদীছটির ব্যাখ্যায় ক্বাযী আয়ায বলেন, ইসলাম শুরু হয়েছিল অল্প সংখ্যক মানুষের দ্বারা। অতঃপর তা প্রকাশিত হয় এবং ছড়িয়ে পড়ে। অতঃপর অচিরেই তাতে আবার ঘাটতি বা কমতি দেখা দিবে। অতঃপর সূচনাকালের ন্যায় অল্প কিছু মানুষের মধ্যেই ইসলাম অবশিষ্ট থাকবে (নববী, শরহ মুসলিম হা/১৪৭এর ব্যাখ্যা)

অতঃপর হাদীছটির বাকী অংশে বলা হয়েছে, ‘সুসংবাদ  সেই অল্পসংখ্যক লোকদের জন্যই’ (মুসলিম, মিশকাত হা/১৫৯ ঈমান অধ্যায়; কুরআন সুন্নাহকে দৃঢ় ভাবে ধারণ করা অনুচ্ছেদ)

অন্য বর্ণনায় সেই অল্প সংখ্যক মানুষের পরিচয় দিয়ে রাসূল (ছাঃ) বলেন, সুসংবাদ হ’ল সেই অল্পসংখ্যক লোকদের জন্য। যারা আমার পরে লোকেরা (ইসলামের) যে বিষয়গুলি বিনষ্ট করে, সেগুলিকে পুনঃ সংস্কার করবে’ (আহমাদ হা/১৬৭৩৬; মিশকাত হা/১৭০; ছহীহাহ হা/১২৭৩)। এরাই হ’লেন ফিরক্বা নাজিয়াহ। ৭৩ ফিরক্বার মধ্যে কেবল তারাই শুরুতে জান্নাতী হবে’ (তিরমিযী হা/২৬৪১ প্রভৃতি; মিশকাত হা/১৭১; ছহীহাহ হা/১৩৪৮; বিস্তারিত দ্রষ্টব্য : ফিরক্বা নাজিয়াহ বই)

Posted in ইসলাম গরীব অবস্থায় শুরু হয়েছিল... গরীবদের মাঝেই তা ফিরে যাবে। এর অর্থ কি? | Tagged

বহুল প্রচারিত একটি ইসলামী পত্রিকার প্রশ্নোত্তর কলামে বলা হয়েছে যে, কবরের সামনে দাঁড়িয়ে সূরা ইয়াসীন ও ফাতেহাসহ অন্যান্য সূরা পাঠ করা যাবে। এতে কবরের আযাব মাফ হবে এবং মৃত ব্যক্তি উক্ত তেলাওয়াতের নেকী পাবে। এ বক্তব্যের সত্যতা জানতে চাই।


উক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। এ মর্মে বর্ণিত হাদীছসমূহ যঈফ (সিলসিলা যঈফাহ হা/১২৪৬, ৪১৪০)। সেখানে কুরআন তেলাওয়াতের নেকী মৃত ব্যক্তি পাবেন না। তিরমিযীর ভাষ্যকার আব্দুর রহমান মুবারকপুরী (রহঃ) বলেন, ইবাদতে বদনী, যেমন কুরআন তেলাওয়াত, ছালাত, ছিয়াম ইত্যাদির ছওয়াব মাইয়েত পাবেন মর্মে কোন ছহীহ ও স্পষ্ট হাদীছ প্রমাণিত হয়নি। এরূপ দৈহিক ইবাদতের ছওয়াব তারা পাবেন মর্মে যেসব হাদীছ বলা হয়ে থাকে, তা সবই যঈফ’। (বিস্তারিত দ্রঃ মাওলানা আহমাদ আলী, কোরআন ও কলেমাখানী বই ১০, ৫৬ পৃ.)

Posted in কবরের সামনে দাঁড়িয়ে সূরা ইয়াসীন ও ফাতেহাসহ অন্যান্য সূরা পাঠ করা যাবে কী? | Tagged ,

‘হে আলী! তুমি ও তোমার অনুসারীরা জান্নাতবাসী হবে’ মর্মে বর্ণিত মারফূ‘ হাদীছটির সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাই।


উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছসমূহ মওযূ‘ বা জাল (সিলসিলা যঈফাহ হা/৫৫৯০-৯১, ৬২৬৬, ৬৫৪১)। ইবনুল জাওযী বলেন, রাসূল (ছাঃ) থেকে এমর্মে কোন ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়নি (আল-ইলালুল মুতানাহিয়া ১/১৬১-১৬৫; আল-মাওযূ‘আত ১/৩৯৭)। ইমাম বায়হাক্বী বলেন, এই মর্মে বহু হাদীছ বর্ণিত হয়েছে যার সবগুলো যঈফ (দালায়েলুল নবুঅত ৮/২৪)

Posted in হে আলী! তুমি ও তোমার অনুসারীরা জান্নাতবাসী হবে’ হাদিসটি সহীহ কি? | Tagged

মিথ্যা কসম, কুরআন অবমাননা প্রভৃতি কারণে অনেক মানুষের ব্যাপারে শোনা যায় যে তাদের আকৃতি কুকুর, বানর ইত্যাদিতে পরিবর্তিত হয়ে গেছে। এসব ঘটনার কোন সত্যতা আছে কি?


আল্লাহ এরূপ করতে পারেন, যেভাবে তিনি প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণকারী শনিবারওয়ালাদেরকে শাস্তিস্বরূপ নিকৃষ্ট বানরে পরিণত করেছিলেন। আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা তাদের বিষয়ে সম্যক অবগত আছো, যারা তোমাদের মধ্যে শনিবারের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেছিল। তখন আমরা তাদের বলেছিলাম যে, তোমরা নিকৃষ্ট বানর হয়ে যাও (বাক্বারাহ /৬৫রাফ /১৬৬)। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘অবশ্যই এই উম্মতের মধ্যে ভূমিধ্বস, আসমান থেকে নিক্ষিপ্ত গযব ও দৈহিক রূপান্তরগত শাস্তির প্রাদুর্ভাব দেখা দিবে। এসব তখনই ঘটবে যখন তারা মদ্যপান শুরু করবে, গায়িকা রাখবে ও বাদ্যযন্ত্র বাজাবে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, যখন ঘৃণ্য পাপাচার সমূহের প্রকাশ ঘটবে (তিরমিযী হা/২২১২, ২১৮৫; ছহীহাহ হা/৯৮৭, ২২০৩)

তবে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা এরূপ নানা ভিডিও চিত্রের সত্যতা সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে বিশ্বাস করা যাবে না। কারণ প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই যুগে এসব ভিডিও কৃত্রিমভাবে তৈরী করা খুবই সহজ।

Posted in কুরআন অবমাননার কারণে মানুষের আকৃতি কুকুর পরিবর্তিত হয়ে যাওয়া ঘটনা সত্য কি?

মাইয়েতকে দাফন করার পর লাশ যাতে শিয়াল-কুকুরে তুলে না ফেলে এজন্য লোহার খাঁচা বা প্লাস্টিক জাতীয় কিছু কবরের উপরে দেওয়া যাবে কি?


নিরাপত্তাজনিত কারণে এরূপ করা যায়। তবে সাধারণ অবস্থায় কবরকে উঁচু ও পাকা করা যাবে না (মুসলিম হা/৯৭০)

Posted in লাশ নিরাপত্তাজনিত কারণে লোহার খাঁচা কবরের উপরে দেওয়া যাবে কি? | Tagged ,

কোন কবরস্থান নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি, বংশ বা গ্রামবাসীর জন্য নির্ধারণ করা যাবে কি?


এরূপ করা জায়েয। ইমাম আহমাদ বলেন, ব্যক্তির নিজের জন্য কবরের মাটি কিনে রাখাতে এবং তাতে দাফনের অছিয়ত করায় বাধা নেই (আলমুগনী /৪৪৩)। তবে সাধারণ কবরস্থানে দাফন করা এবং তা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখাই উত্তম। ব্যক্তিগত স্থানে কবরস্থান করা কয়েকটি কারণে অপসন্দনীয়- (১) এতে দাফনকৃত ব্যক্তি আম জনসাধারণের দো‘আ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয় (২) মৃতের ওয়ারিছরা উক্ত মাটি থেকে বঞ্চিত হয় (৩) ভবিষ্যতে উত্তরাধিকারী বা অন্য কারু দ্বারা প্রয়োজনে জমির খনন কার্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকে (৪) এসব কবরকে মানুষ অন্য কবর থেকে পৃথক এবং অধিক সম্মানের মনে করে। বিশেষতঃ নেককার মানুষের কবর হ’লে একসময় সেখানে পূজা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে (৫) সর্বোপরি এভাবে নিজের বা নিজেদের জন্য কবরস্থান নির্দিষ্ট করার মাধ্যমে ব্যক্তিগত বা বংশগত বড়ত্ব বা অহংকার ফুটে উঠে। অথচ মৃত্যু মানুষের যাবতীয় অহংকার ধুলিসাৎ করে দেয়।

সেকারণ দেখা যায় যে, মসজিদে নববীর পার্শ্ববর্তী বাক্বী‘ কবরস্থানে হাযার হাযার ছাহাবায়ে কেরামের কবর হ’লেও তার কোন একটি কবর অমুকের বলে নামকরণ নেই। এমনকি ছাহাবীগণের কবরস্থান হিসাবেও তা নির্দিষ্ট করা নেই। সর্বোপরি একটি কবরের উপর আরেকটি কবর দিয়ে আজো পর্যন্ত সেখানে প্রতিদিন বহু মুসলমান কবরস্থ হচ্ছেন।

Posted in কবরস্থান নির্দিষ্ট কোন বংশ বা গ্রামবাসীর জন্য নির্ধারণ করা যাবে কি? | Tagged

ছালাতের কাতারসমূহের মাঝে কতটুকু ফাঁক রাখা শরী‘আতসম্মত?


দুই কাতারের মাঝে এমন ফাঁক রাখতে হবে, যাতে সহজে সিজদা করা যায়। তবে এমন ফাঁক রাখা যাবে না, যার মাঝে আরেকটি কাতার করা যায়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা ছালাতের কাতারে পরস্পরে মিলে দাঁড়াবে এবং কাতার পরস্পর কাছাকাছি রাখবে। আর তোমাদের কাঁধসমূহ সোজা রাখবে। সেই আল্লাহর শপথ, যার হাতে আমার জীবন, নিশ্চয়ই আমি শয়তানকে দেখি কাল ছাগলের বাচ্চার ন্যায় কাতারসমূহের ফাঁকে প্রবেশ করে’ (আবুদাঊদ হা/৬৬৭; মিশকাত হা/১০৯৩)। ছাহেবে মির‘আত বলেন, ‘ক্বারিবূ বায়নাহা’ অর্থ কাতারসমূহ পরস্পরে এমন নিকটবর্তী রাখতে হবে, যাতে দুই কাতারের মাঝে আরেকটি কাতার করার সুযোগ না থাকে (মিরআত হা/১০৯৯এর ব্যাখ্যা দ্রঃ)

Posted in ছালাতের কাতারসমূহের মাঝে কতটুকু ফাঁক রাখা শরী‘আতসম্মত? | Tagged

‘ঈমান ছুরাইয়া নক্ষত্রের নিকটে থাকলেও আমার উম্মতের কিছু লোক বা তাদের এক ব্যক্তি তা অবশ্যই পেয়ে যাবে’। এ হাদীছ দ্বারা ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-কে বুঝানো হয়েছে কি?


না। বরং এর দ্বারা সালমান ফারেসী ও তাঁর জাতিকে বুঝানো হয়েছে। হাদীছটির অনুবাদ হ’ল, আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা নবী করীম (ছাঃ)-এর কাছে বসেছিলাম। এসময় তার উপর সূরা জুম‘আ অবতীর্ণ হ’ল, যার একটি আয়াত হ’ল- ‘এবং তাদের অন্যান্যের জন্যও যারা এখনও তাদের সঙ্গে মিলিত হয়নি’ (৬২/)। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, তারা কারা? তিনবার জিজ্ঞেস করা সত্ত্বেও তিনি কোন উত্তর দিলেন না। আমাদের মাঝে সালমান ফারেসী উপস্থিত ছিলেন। রাসূল (ছাঃ) সালমানের উপর হাত রেখে বললেন, ঈমান ছুরাইয়া নক্ষত্ররাজির নিকট থাকলেও কিছু লোক বা তাদের এক ব্যক্তি তা অবশ্যই পেয়ে যাবে’ (বুখারী হা/৪৮৯৭)। মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে, যদি দ্বীন ছুরাইয়া নক্ষত্র রাজির কাছেও থাকত, তবুও পারস্যের একজন ব্যক্তি তা নিয়ে আসত বা পারস্যের সন্তানদের কেউ তা পেয়ে যেত’ (মুসলিম হা/২৫৪৬)। ছহীহ ইবনে হিববানের বর্ণনায় আরো স্পষ্টভাবে এসেছে যে, রাসূল (ছাঃ) এসময় সালমানের উরুতে হাত মেরে বললেন, এই ব্যক্তি ও তার জাতি (ছহীহ ইবনু হিববান হা/৭১২৩)

হাদীছটির ব্যাখ্যায় হাফেয ইবনু কাছীর বলেন, অত্র হাদীছ দলীল হ’ল এ বিষয়ে যে, রাসূল (ছাঃ) আরব-আজমের সকল মানুষের প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন’। ত্বীবী বলেন, জাতি উল্লেখ করে সালমান ফারেসী (রাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। অথবা এর দ্বারা আরবের বিপরীতে অনারবদের বুঝানো হয়েছে (মিরক্বাত হা/৬২১২এর ব্যাখ্যা)। যেমন বুখারী, মুসলিম সহ কুতুবে সিত্তাহর মুহাদ্দিছগণ সকলেই অনারব ছিলেন।

তবে রাদ্দুল মুহতারে ইমাম সুয়ূতী (রহঃ)-এর একটি উক্তি উদ্ধৃত করা হয়েছে এ মর্মে যে তিনি বলেন, এ হাদীছ দ্বারা ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর ব্যাপারে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে (রাদ্দুল মুহতার /৫৩; বঙ্গানুবাদ তাফসীর মাআরেফুল কুরআন ১২৬৩ পৃ., মুহাম্মাদ ৩৮ আয়াতের ব্যাখ্যা)। এর কোন ভিত্তি নেই।

Posted in ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-কে হাদিস দ্বারা বুঝানো হয়েছে কি? | Tagged

দাঁত পরিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রচলিত পেস্ট-ব্রাশ ব্যবহার করে মিসওয়াক করার নেকী পাওয়া যাবে কি?


যাবে। কারণ মিসওয়াক করার উদ্দেশ্য হ’ল মুখ পরিষ্কার রাখা। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘মিসওয়াক হচ্ছে মুখ পরিষ্কারকারী এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উপায়’ (আহমাদ, নাসাঈ, মিশকাত হা/৩৮১, হাদীছ ছহীহ)। এছাড়া রাসূল (ছাঃ) মিসওয়াকের জন্য কোন কিছু নির্দিষ্ট না করে একাধিক গাছের ডাল দ্বারা মিসওয়াক করেছেন (বুখারী হা/২২৮; আহমাদ হা/৩৯৯১)। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, মিসওয়াকের বিধান দেওয়া হয়েছে মুখকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য (শরহ উমদাতুল ফিক্বহ ১/২১৮)। অতএব কোন ক্ষতির সম্ভাবনা না থাকলে পেস্ট-ব্রাশ ব্যবহারে কোন বাধা নেই। উছায়মীন বলেন, ব্রাশ-পেস্ট ব্যবহার করায় সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। কারণ এর ছওয়াব বস্ত্তর কারণে নয়, বরং কাজ ও তার ফলাফলের উপর। আর শুধুমাত্র মিসওয়াক ব্যবহারের চেয়ে ব্রাশ-পেস্ট ব্যবহারে অনেক বেশী ফলাফল অর্জিত হয় (উছায়মীন, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব, ৭/২)

Posted in পেস্ট-ব্রাশ ব্যবহার করে মিসওয়াক করার নেকী পাওয়া যাবে কি? | Tagged

সংসারবিমুখ নববধু রাজধানীতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারী চাকুরীতে ব্যস্ত থাকে এবং স্বামী দেশের বাড়িতে রান্না-বান্না সহ যাবতীয় কাজ আঞ্জাম দেয়। এক্ষণে স্বামীর জন্য করণীয় কি?


নারীর মৌলিক দায়িত্ব স্বামীর ঘর সামলানো এবং   সন্তান প্রতিপালন। আর পুরুষের দায়িত্ব পরিবারের ভরণ-পোষণ। (ক্বিয়ামতের দিন) স্বামী পরিবার সম্পর্কে তার দায়িত্বের ব্যাপারে এবং স্ত্রী তার স্বামীর সংসার ও সন্তান-সন্তুতি সম্পর্কিত দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৮৫)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘নারী হ’ল গোপন বস্ত্ত। যখন সে বের হয়, শয়তান তার পিছু নেয়’ (তিরমিযী হা/১১৭৩; মিশকাত হা/৩১০৯)। তাই নিরূপায় না হ’লে গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করাই মহিলাদের কর্তব্য (আহযাব ৩৩/৩৩)। স্বামীর অনুমতিক্রমে স্ত্রী পর্দা সহ শরী‘আতের বিধানসমূহ মেনে যদি চাকুরীরত থাকেন এবং যদি চাকুরীস্থলে ধর্মীয় পরিবেশ বজায় থাকে, তবে চাকুরী করতে পারেন। এক্ষণে প্রশ্নের আলোকে উভয়ের জন্য পরামর্শ হ’ল, শরী‘আতের বিধান মেনে দাম্পত্য জীবন যাপন করুন।

Posted in সংসারবিমুখ নববধূর স্বামীর জন্য করণীয় কি? | Tagged

আমি বিপুল পরিমাণ টাকা ঋণ করে বিদেশে এসেছি। এক্ষণে আমার ইনকাম থেকে বেশী বেশী দান করব না ঋণ পরিশোধে টাকা ব্যয় করব?


ঋণ পরিশোধকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ধনী ব্যক্তির (ঋণ আদায়ে) গড়িমসি করা যুলুম’ (বুখারী হা/২৪০০; মুসলিম হা/১৫৬৪; মিশকাত হা/২৯০৭)। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ছাদাক্বাহ করতে চায়; অথচ সে নিজেই দরিদ্র বা তার পরিবার-পরিজন অভাবগ্রস্ত অথবা সে ঋণগ্রস্ত, এ অবস্থায় তার জন্য ছাদাক্বাহ করা, গোলাম আযাদ করা ও দান করার চেয়ে ঋণ পরিশোধ করা অধিক কর্তব্য (বুখারী ৫/৩৯২, ২/১১২)। ‘আইনী বলেন, ব্যক্তি ঋণী হ’লে তার উপর ঋণ পরিশোধ করা আবশ্যক। কারণ ছাদাক্বাহ অপেক্ষা ঋণ অগ্রগামী’ (উমদাতুল কারী ১৩/৩২৭)। তবে ছাদাক্বাহ থেকে বিরত থাকা যাবে না। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘ছাদাক্বা সম্পদের কিছুমাত্র হ্রাস করে না’ (মুসলিম হা/২৫৮৮, মিশকাত হা/১৮৮৯)

Posted in দান বেশী করব না ঋণ পরিশোধে টাকা ব্যয় করব? | Tagged

ফরয ছালাতে ইমাম দুই দিকে সালাম ফিরানোর পর মুক্তাদীগণ সালাম ফিরাবেন? নাকি ইমাম এক সালাম ফিরানোর পর মুক্তাদীগণ সালাম ফিরাবেন?


ইমাম ডানে সালাম ফিরানোর পর মুছল্লী ডানে এবং বামে সালাম ফিরানোর পর বামে সালাম ফিরাবে। রাসূলুললাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘ইমাম নিযুক্ত করা হয় তাকে অনুসরণের জন্য’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১১৩৯)। তিনি বলেন, হে লোকসকল! আমি তোমাদের ইমাম। সুতরাং তোমরা রুকূ, সিজদা, ক্বিয়াম ও সালাম কোন কিছুই আমার পূর্বে করবে না’ (মুসলিম হা/৪২৬; মিশকাত হা/১১৩৭)। বারা বিন আযেব (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সিজদায় গিয়ে মাটিতে চেহারা না রাখা পর্যন্ত আমাদের কেউ দাঁড়ানো অবস্থা থেকে পিঠ ঝুঁকাতো না (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১১৩৬)। তিনি বলেন, ‘মুক্তাদী যদি ইমামের আগে মাথা উঠায়, তবে (ক্বিয়ামতের দিন) তার মাথা হবে গাধার মাথা’ (অর্থাৎ তার ছালাত কবুল হবে না) (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১১৪১, ১১৩৮)। অতএব ছালাতের প্রত্যেকটি কাজ শুরু করতে হবে ইমাম শুরু করার পর।

Posted in ছালাতে ইমাম দুই দিকে সালাম ফিরানোর পর মুক্তাদীগণ সালাম ফিরাবেন কি? | Tagged

ছালাতের দুই সালামের মাঝে কোন দো‘আ পাঠ করতে হয় কি?


উক্ত স্থানে পঠিতব্য কোন দো‘আ হাদীছে পাওয়া যায় না। সুতরাং কিছু পাঠ করা যাবে না।

Posted in ছালাতের দুই সালামের মাঝে কোন দো‘আ পাঠ করতে হয় কি? | Tagged

একটি ছাগল আমাদের জানা মতে কুকুরের দুধ খেয়ে বড় হয়েছে। এক্ষণে সেটি দিয়ে কুরবানী বা আক্বীক্বা করা যাবে কি?


ছাগল যদি কুকুরে রূপান্তরিত না হয়, তবে তা দিয়ে কুরবানী করায় কোন বাধা নেই। কারণ খানাপিনায় হালাল-হারামের বিধান পশু-পাখির জন্য প্রযোজ্য নয়।

Posted in ছাগল কুকুরের দুধ খেলে সেটি দিয়ে সেটি দিয়ে কুরবানী করা যাবে কি? | Tagged ,