মিসওয়াক করার সময় হাঁটাহাঁটি করা যাবে, না নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। এরূপ কোন বিধান আছে কি?


এ ব্যাপারে শরী‘আতে কোন বিধি-নিষেধ নেই। বরং মানুষকে বেশী বেশী মিসওয়াক করার প্রতি উৎসাহিত করতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বাড়িতে প্রবেশ করে প্রথমে মিসওয়াক করতেন (মুসলিম হা/২৫৩; মিশকাত হা/৩৭৭)। তিনি দিনে বা রাতে যেকোন সময় ঘুম থেকে জাগ্রত হ’লে মিসওয়াক করতেন (আবুদাউদ হা/৫৭; মিশকাত হা/৩৮৩; ছহীহুল জামে‘ হা/৪৮৫৩)। এছাড়া প্রত্যেক ছালাতের পূর্বে মিসওয়াক করতে উৎসাহিত করতেন (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৩৭৬)

Advertisements
Posted in মিসওয়াক করার সময় হাঁটাহাঁটি করতে হবে কি? | Tagged

পিতা-মাতা আমার কল্যাণের জন্য মাযারে ছাগল মানত করেছেন। কিন্তু আমি এতে বিশ্বাস করি না। এক্ষণে আমার করণীয় কি?


প্রশ্ন অনুযায়ী এজন্য পিতা-মাতা গুনাহগার হবেন, সন্তান নয়। এক্ষণে সন্তানের জন্য কর্তব্য হবে পিতা-মাতাকে উক্ত শিরকী কাজ থেকে ফেরানোর জন্য নছীহত করা।  যেমন ইবরাহীম (আঃ) স্বীয় মূর্তিপূজারী পিতাকে নছীহত করেছিলেন (মারিয়াম ১৯/৪২-৪৫)

Posted in পিতা-মাতা আমার কল্যাণের জন্য মাযারে ছাগল মানত করেছেন। আমার করণীয় কি? | Tagged

যমযম কূপ ঈসমাঈল (আঃ)-এর পায়ের আঘাতে সৃষ্টি হয়েছে না ফেরেশতা কর্তৃক খননকৃত?


রাসূল (ছাঃ) বলেন, জিব্রীলের পায়ের গোড়ালি বা ডানার আঘাতে যমযম কূপের সৃষ্টি হয়েছে (বুখারী হা/৩৩৬৪-৬৫, ‘নবীদের কাহিনী’ অধ্যায়, ৯ অনুচ্ছেদ)

Posted in যমযম কূপ ঈসমাঈল (আঃ)-এর পায়ের আঘাতে সৃষ্টি হয়েছে কি? | Tagged

ঘুম না ভাঙ্গার কারণে সূর্যোদয়ের পর ফজরের ছালাত আদায় করলে সশব্দে কিরাআত করতে হবে কি?


সশব্দে পড়াই উত্তম। রাসূল (ছাঃ)-এর একবার ফজরের ছালাত ছুটে গেলে সূর্যোদয়ের পর তিনি অন্যান্য দিনের মতই সশব্দে তা আদায় করেন (মুসলিম হা/৬৮১; মিশকাত হা/৫৯১১; উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ২/১৪০)। তবে একাকী পড়ার ক্ষেত্রে নীরবে বা সরবে পড়ার বিষয়টি মুছল্লীর ইচ্ছাধীন (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৩/৪৭)

Posted in সূর্যোদয়ের পর ফজরের ছালাত আদায় করলে সশব্দে কিরাআত করতে হবে কি? | Tagged

মায়ের দিকে নেক নযরে তাকালে কবুল হজ্জের সমান নেকী পাওয়া যায়। একথার কোন সত্যতা আছে কি?


এমর্মের বর্ণনাটি মওযূ বা জাল। কারণ এর একাধিক বর্ণনা সূত্রে অধিকাংশ যঈফ ও অপরিচিত রাবী রয়েছেন (বিস্তারিত দ্রঃ আলবানী, সিলসিলা যঈফাহ হা/৩২৯৮; মিশকাত হা/৪৯৪৪)। তবে পিতা-মাতার প্রতি অনুগ্রহ করার জন্য কুরআন ও হাদীছে অসংখ্য নির্দেশ রয়েছে। যেমন ইসরা ২৩-২৪; তিরমিযী হা/১৮৯৯; নাসাঈ হা/৩১০৪; মুসলিম হা/২৫৫১; মিশকাত হা/৪৯১২ প্রভৃতি।

Posted in মায়ের দিকে নেক নযরে তাকালে কবুল হজ্জের সমান নেকী পাওয়া যায় কি? | Tagged

আল্লাহর প্রভূত নে‘মতের শুকরিয়া আদায় করে প্রত্যেক ছালাতের পর নিয়মিতভাবে সিজদায়ে শুকর আদায় করা যাবে কি?


এভাবে নিয়মিত সিজদায়ে শুকর আদায় করা যাবে না। রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরামের নিকট থেকে এরূপ কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। কেবল নতুন নে‘মত প্রাপ্ত হ’লে বা কোন বিপদ দূর হ’লে সিজদায়ে শুকুর আদায় করতে হয় (হাকেম হা/২০১৯; ছহীহ আত-তারগীব হা/১৬৫৮)। রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট খুশির সংবাদ আসলে তিনি সিজদায় লুটিয়ে পড়তেন (ইবনু মাজাহ হা/১৩৯৪; ছহীহুল জামে‘ হা/৪৭০১)। ছাহাবীগণ থেকেও এরূপ  বর্ণনা পাওয়া যায় (বুখারী হা/৪৪১৮; মুসলিম হা/২৭৬৯)

Posted in ছালাতের পর নিয়মিতভাবে সিজদায়ে শুকর আদায় করা যাবে কি? | Tagged

কায়িক শ্রমরত ঘর্মাক্ত শ্রমিক ছালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেলে সময়স্বল্পতার কারণে কেবল ওযূ করে ছালাতে যোগদান করতে পারবে কি, না গোসল করতে হবে?


উক্ত অবস্থায় কেবল ওযূ করলেই যথেষ্ট হবে। কারণ ছালাতের জন্য শর্ত হ’ল ওযূ করা (মায়েদাহ ৫/৬)। তবে এমতাবস্থায় গোসল করার সুযোগ থাকলে তা করাই উত্তম হবে। কেননা শরীরে অতিরিক্ত ঘাম থাকলে, তার গন্ধে পাশের মুছল্লী কষ্ট পেতে পারে (বুখারী হা/৯০২; মুসলিম হা/৮৪৭)। আর পাশের মুছল্লী কষ্ট পায় এমন কোন কাজ করা যাবে না (ইবনু হিববান হা/২০৯০, সনদ ছহীহ)

Posted in কায়িক শ্রমরত ঘর্মাক্ত শ্রমিক শুধু ওযূ করে ছালাতে যোগদান করতে পারবে কি? | Tagged , ,

তিন ভাই তাদের স্ত্রী-সন্তান সহ একত্রে বসবাস করে। প্রত্যেকের উপার্জন পৃথক। তবে একসাথেই রান্না-বান্না হয়। এক্ষণে যৌথ পরিবারে থাকার কারণে একটি কুরবানীই কি যথেষ্ট হবে? এক্ষেত্রে কুরবানী করার সময় কোন ভাইয়ের নাম বলবে?


একটি কুরবানীই যথেষ্ট হবে। একান্নবর্তী পরিবারের সদস্য সংখ্যা যত বেশীই হৌক না কেন সকলের পক্ষ থেকে একটি পশুই যথেষ্ট হবে (মুসলিম হা/১৯৬৭; মিশকাত হা/১৪৫৪; উছায়মীন, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ২২৫/৭)। এক্ষেত্রে পরিবার প্রধানের নাম ও তার পরিবারের পক্ষ হ’তে বলবে।

Posted in কুরবানী একটিই কি যথেষ্ট হবে? যদিও ভাই স্ত্রী-সন্তান সহ একত্রে বসবাস করে? | Tagged

মানবদেহের পশম কাটায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি? যেমন হাত, বুক বা পিঠের পশম বেশী বড় হওয়ায় সমস্যা সৃষ্টি হয়, সেক্ষেত্রে এরূপ করা যাবে কি?


দেহের পশম কষ্টদায়ক হ’লে কাটা যাবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর গ্রন্থে যা হালাল করেছেন তা-ই বৈধ এবং যা হারাম করেছেন তা-ই অবৈধ। আর তিনি যে সকল বিষয়ে নীরব থেকেছেন (বৈধ বা অবৈধ কিছুই বলেননি) তা তাঁর ক্ষমার অন্তর্ভুক্ত (তিরমিযী হা/১৭২৬; মিশকাত হা/৪২২৮; ছহীহুল জামে‘ হা/৩১৯৫)। যেহেতু শরী‘আতে দেহের পশম কাটার ব্যাপারে কোন নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়নি, সেহেতু এটা জায়েয (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৫/১৯৪; ফাতাওয়াউল মারআতিল মুসলিমা ৩/৮৭৭-৮৭৯)

Posted in মানবদেহের পশম কাটায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি? | Tagged ,

সফরে ৩ জনে মিলে কুরবানী করলে গোশত কি ৩ ভাগ না ৭ ভাগ করতে হবে?


সফরে ৭ ভাগই করতে হবে। কারণ ভাগা কুরবানী সম্পর্কিত হাদীছসমূহে গরুতে সাত ও উঁটে দশভাগের কথা বলা হয়েছে (মুসলিম হা/১৩১৮; মিশকাত হা/১৪৫৮)। সাতের নীচে ভাগের কোন দলীল পাওয়া যায় না। শায়েখ উছায়মীন বলেন, যদি একটি কুরবানীতে দু’জন শরীক হয় তা জায়েয হবে না।… অনুরূপ কেউ যদি অর্ধভাগ গ্রহণ তার কুরবানীও শুদ্ধ হবে না। কারণ এটি একটি ইবাদত যা শারঈ পন্থায় হ’তে হবে (রাসায়েলে ফিক্বহিয়্যাহ ১/৫৮-৫৯)

Posted in কুরবানী ৩ জনে মিলে করলে গোশত কয় ভাগ করতে হবে? | Tagged

রাসূল (ছাঃ) হজ্জের সময় আরাফা ও মুযদালিফায় খোলা আসমানের নীচে হজ্জ পালন করেছেন, যদিও সেসময় ছাউনি বা ঘর বানানোর ব্যবস্থা ছিল। বর্তমানে সেখানে ঘর, এসি, ফ্যান ইত্যাদি আরামের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে হজ্জের কোন ক্ষতি হবে কি?


এতে হজ্জের কোন ক্ষতি হবে না। আর প্রয়োজনমত ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে কোন বাধা নেই। বিদায় হজ্জে রাসূল (ছাঃ)-এর জন্য আরাফা ময়দানের নামেরায় তাঁবু খাটানো হয়েছিল (মুসলিম হা/১২১৮; মিশকাত হা/২৫৫৫)

Posted in হজ্জের সময় ঘর এসি ফ্যান ইত্যাদি আরামের ব্যবস্থা করা যাবে কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তিকে বলতে শুনলাম, সূরা বাক্বারাহ ১৮৭ আয়াতে ছিয়াম রাত্রি পর্যন্ত পূর্ণ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া সূরা ইনশিক্বাক্বের ১৬-১৭ আয়াতে আল্লাহ সন্ধ্যা ও রাতকে পৃথকভাবে উল্লেখ করেছেন। সেকারণ সূর্যাস্তের পর নয়; বরং তার ১ ঘণ্টারও অধিক সময় পর রাত শুরু হ’লেই ইফতার করতে হবে। একথার কোন সত্যতা আছে কি?


কথাটি ভিত্তিহীন। উক্ত আয়াতদ্বয়ে সূর্যাস্তের এক ঘণ্টা পর ইফতার করার কোন দলীল নেই। কেননা ইফতারের সময়ের ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ)-এর স্পষ্ট বক্তব্য হ’ল, যখন এই (পূর্ব) দিক হ’তে রাত্রি আগমন করবে, আর এই (পশ্চিম) দিক হ’তে দিন প্রস্থান করবে এবং সূর্য অস্ত যাবে, তখনই ছায়েম ইফতার করবে’ (বুখারী হা/১৯৫৪, মিশকাত হা/১৯৮৫ ‘ছিয়াম’ অধ্যায়, ‘বিবিধ মাসায়েল’ অনুচ্ছেদ)। আব্দুল্লাহ ইবনু আবী আওফা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) ছিয়ামরত অবস্থায় আমরা তাঁর সাথে সফরে বের হ’লাম। সূর্য অস্ত যেতেই তিনি বললেন, তুমি নেমে আমাদের জন্য ছাতু গুলে আন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এখনো তো আপনার সামনে দিন রয়েছে। এভাবে তিনবার বলার পর তিনি ছাতু গুলে আনলে রাসূল (ছাঃ) আঙুল দ্বারা পূর্বদিকে ইশারা করে বললেন, যখন তোমরা এদিক থেকে রাত এগিয়ে আসতে দেখবে, তখন ছায়েম ইফতার করবে (বুখারী হা/১৯৫৬)। অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন, ‘লোকেরা ততদিন কল্যাণের মধ্যে থাকবে, যতদিন তারা তাড়াতাড়ি ইফতার করবে’ (বুখারী হা/১৯৫৭; মুসলিম হা/১০৯৮; মিশকাত হা/১৯৮৪ ‘ছিয়াম’ অনুচ্ছেদ)। বস্ত্ততঃ সূর্যাস্তের পর থেকেই রাত্রি শুরু হয়।

Posted in ইফতার সূর্যাস্তের এক ঘণ্টা পর করার কোন দলীল আছে কি? | Tagged

কাতারের সম্মুখে মশার কয়েল জ্বালিয়ে ছালাত আদায় করা যাবে কি? এতে কি অগ্নিপূজকদের সাদৃশ্য হবে?


এভাবে ছালাত আদায় করা যাবে। এতে ছালাতের কোন ক্ষতি হবে না এবং এটি কারো সাথে সাদৃশ্যপূর্ণও হবে না। কারণ কয়েল বা হারিকেন পূজা করার জন্য জ্বালানো হয় না। আর বান্দার সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল (বুখারী হা/১)। রাসূল (ছাঃ) সূর্যগ্রহণের ছালাতে জাহান্নামের আগুন দেখেছেন অথচ ছালাত ত্যাগ করেননি (বুখারী হা/১২১২)

Posted in কাতারের সম্মুখে মশার কয়েল জ্বালিয়ে ছালাত আদায় করা যাবে কি? | Tagged

বিভিন্ন পত্রিকার প্রচ্ছদে সুন্দর সুন্দর মসজিদের ছবি দেওয়া হয়। অথচ আমরা জানি যে, মসজিদ সৌন্দর্য মন্ডিত করা ক্বিয়ামতের আলামত। তাহ’লে কি আত-তাহরীক মসজিদ সুন্দর করতে উৎসাহিত করছে?


বিভিন্ন পত্রিকায় অসুন্দর ছবি সমূহের বিপরীতে এটি সুন্দরের প্রতি মানুষের আকর্ষণ সৃষ্টি মাত্র। আর ঐ সুন্দর মসজিদের পত্রিকাগুলোর মাধ্যমে মসজিদকে সৌন্দর্যমন্ডিত করতে উৎসাহিত করে না। বরং এর উদ্দেশ্য পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত মসজিদগুলি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং মানুষকে মসজিদের প্রতি আগ্রহী করে তোলা। স্মর্তব্য যে, মসজিদকে সৌন্দর্যমন্ডিত করা জায়েয। ওছমান (রাঃ) মসজিদে নববীর সৌন্দর্য বর্ধন করেছিলেন (বুখারী ফাৎহসহ হা/৪৪৬, ১/৬৪৩)। কিন্তু অতিরঞ্জিতভাবে জাঁকজমকপূর্ণ করা যাবে না। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, রাসূলূল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, মসজিদ সমূহকে চাকচিক্যময় করে নির্মাণ করার জন্য আমি আদিষ্ট হইনি। ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, কিন্তু তোমরা একে জাঁকজমকপূর্ণ করবে যেভাবে ইহূদী-নাছারাগণ করত (আবুদাঊদ হা/৪৪৮; মিশকাত হা/৭১৮)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ক্বিয়ামতের অন্যতম আলামত হ’ল এই যে, লোকেরা মসজিদ নিয়ে গর্ব করবে’ (আবুদাঊদ হা/৪৪৯; মিশকাত হা/৭১৯)। অতএব মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে মুছল্লীদের একাগ্রতা বিনষ্ট করতে পারে এরূপ সুসজ্জিত নকশা ও কারুকার্য থেকে বেঁচে থাকা যরূরী (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৭৫৭-৫৮)

Posted in মসজিদ সৌন্দর্য মন্ডিত করা ক্বিয়ামতের আলামত কি? | Tagged

আমার পূর্বে ক্রয়কৃত পিয়ানো ও গিটার আছে। দ্বীন বুঝার পর এখন সেগুলি বিক্রি করে ইসলামী বই ক্রয় করতে চাই। এরূপ করা জায়েয হবে কি? নতুবা সেগুলি নিয়ে করণীয় কি?


এগুলো বিক্রয় করে উপকৃত হওয়া যাবে না। কারণ এগুলি হারাম কাজের উদ্দেশ্যে তৈরী। অতএব এগুলি ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট এক মশক শরাব হাদিয়া স্বরূপ নিয়ে আসে। রাসূল (ছাঃ) তাকে বললেন, তুমি কি জান না যে, আল্লাহ তা হারাম করে দিয়েছেন? সে বলল, না। অতঃপর সে এক ব্যক্তির সাথে কানাকানি করল। রাসূল (ছাঃ) সে ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তাকে গোপনে কি বললে? সে বলল, আমি তাকে তা বিক্রি করার পরামর্শ দিয়েছি। এরপর তিনি বললেন, যিনি তা পান করা হারাম করেছেন। তিনি তার বিক্রিও হারাম করে দিয়েছেন। রাবী বলেন, এরপর সে মশকের মুখ খুলে দিল এবং তার মধ্যে যা কিছু ছিল সব পড়ে গেল (মুসলিম হা/১৫৭৯; ছহীহুল জামে‘ হা/১৬৮৯)

Posted in পিয়ানো ও গিটার বিক্রি করে ইসলামী বই কেনা যাবে কি? | Tagged

হজ্জকারী ব্যক্তির নামের শুরুতে ‘আলহাজ্জ’ বা ‘হাজী’ লেখা হয় কেন? এগুলো লেখা যাবে কি?


বিগত দিনে আমাদের দেশের যেসব প্রবীণ ব্যক্তি দীর্ঘ সফরের মাধ্যমে হজ্জ করে ফিরে আসতেন এবং সকল অন্যায় কাজ-কর্ম হ’তে দূরে থেকে নিজেকে দ্বীনী কাজে লিপ্ত রাখতেন, তাদেরকে নাম ধরে না ডেকে বিশেষ শ্রদ্ধার সাথে ‘আলহাজ্জ’ বা ‘হাজী ছাহেব’ বলে সম্বোধন করা হ’ত। বিশেষ গুণ বা বৈশিষ্ট্যের কারণে মানুষকে এভাবে সম্মান করে ডাকা আদৌ অন্যায় নয়।

বরং উত্তম লকবে ডাকা ইসলামী শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হযরত আবুবকর-কে ছিদ্দীক্ব, আয়েশা-কে হোমায়রা, আলী-কে আবু তুরাব, আব্দুর রহমান-কে আবু হুরায়রা, হুযায়ফা-কে নওমান, আব্দুল্লাহ-কে যুল-বিজাদায়েন, খিরবাক্ব-কে যুল-ইয়াদায়েন (দ্রঃ দরসে কুরআন ‘দ্বন্দ্ব নিরসন’ ২০/৯ জুন’১৭), খালেদ বিন অলীদকে ‘সায়ফুল্লাহ’ (আল্লাহর তরবারী) এবং জাফর বিন আবু তালিবকে ‘আত-ত্বইয়ার’ লকবে ডেকেছেন (দ্রঃ সীরাতুর রাসূল (ছাঃ) ‘মুতার যুদ্ধ’ অধ্যায়)। এমনকি ইবনু হাজার বলেন, বলা হয়ে থাকে যে, রাসূল (ছাঃ) ওমর (রাঃ)-কে প্রথম ‘ফারূক্ব’ লকব দিয়েছিলেন (ফাৎহুল বারী ‘ওমরের মর্যাদা’  অনুচ্ছেদ হা/৩৬৭৯-এর পূর্বের আলোচনা দ্রষ্টব্য)

তবে অহংকার প্রকাশার্থে নিজের নামের সাথে উক্তরূপ লকব যুক্ত করা নিষিদ্ধ। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘ঐ ব্যক্তি কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার অন্তরে সরিষা দানা পরিমান অহংকার রয়েছে’ (মুসলিম হা/৯১; মিশকাত হা/৫১০৮)। তাছাড়া সেটি রিয়া ও শ্রুতির অন্তর্ভুক্ত হবে, যা হারাম (বুখারী হা/৬৪৯৯; মুসলিম হা/২৯৮৬; মিশকাত হা/৫৩১৬)

Posted in হজ্জকারী ব্যক্তির নামের শুরুতে হাজী লেখা যাবে কি? | Tagged ,

কিছু কিছু মাসআলার ক্ষেত্রে দেখা যায় একজন সালাফী আলেম সেটাকে বিদ‘আত বলছেন, অপরজন সেটাকে সুন্নাত বলছেন। যেমন রুকুর পরে উঠে পুনরায় বুকে হাত বাঁধার বিষয়টি। এজন্য কোন আলেমকে বিদ‘আতী বলে আখ্যায়িত করা যাবে কি?


 বলা যাবে না। কারণ বিদ‘আত বলা এবং বিদ‘আতী বলা এক জিনিস নয়। ইজতিহাদী বা ব্যাখ্যাগত ভুলের কারণে কাউকে বিদ‘আতী বলা যায় না।

শায়েখ আলবানী (রহঃ) বলেন, একজন আলেম কোন বিদ‘আত করার অর্থ এই নয় যে তিনি বিদ‘আতী। কোন আলেম যদি ইজতিহাদের মাধ্যমে কোন হারাম কাজকে হালাল সাব্যস্ত করেন, তার অর্থ এই নয় যে, তিনি হারাম কাজে লিপ্ত হয়েছেন। হ্যাঁ আমরা বলতে পারি যে, এই আমলটি বিদ‘আত, কেননা তা সুন্নাতবিরোধী; কিন্তু এর কারণে আমরা বলি না যে, স্বয়ং ঐ ব্যক্তি বিদ‘আতী। …সঊদী আরবের অনেক ভাইয়ের মধ্যে এটি অনুপস্থিত, যখন তারা একটি বক্তব্যের জন্য আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেন। যেখানে আমি বলেছি, রুকূ থেকে উঠার পর ডান হাত বাম হাতের উপর রাখা বিদ‘আত। (তারা বলেন) ‘কিভাবে আপনি একে বিদ‘আত বলতে পারেন অথচ অমুক অমুক শায়েখ এটাকে সুন্নাত বলেন!… তবে কি তারা সবাই বিদ‘আতী!! এখন আপনারা নিশ্চয়ই উত্তরটি পেয়েছেন! না, তাঁরা বিদ‘আতী নন। তবে আমার দলীল ও দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী উক্ত আমলটি বিদ‘আত (সিলসিলাতুল হূদা ওয়ান নূর, অডিও ক্লিপ নং ৭৮৫)। সুতরাং কোন কুফরী কাজের জন্য যেমন কাউকে কাফির বলা যায় না। তেমনি কোন বিদআতী আমলের জন্য সহসা কাউকে বিদআতী আখ্যা দেয়া যায় না।

Posted in আলেমকে বিদ‘আতী বলে আখ্যায়িত করা যাবে কি?, বিদ‘আতী বলে আখ্যায়িত করা যাবে কি কোন আলেমকে? | Tagged ,

রাসূল (ছাঃ)-এর পক্ষ থেকে কুরবানী করার ব্যাপারে শরী‘আতে কোন অনুমোদন আছে কি?


রাসূল (ছাঃ) বা কোন মৃতের জন্য পৃথকভাবে কুরবানী দেওয়ার কোন বিধান নেই। আলী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)- এর অছিয়ত হিসাবে তাঁর জন্য পৃথক একটি দুম্বা কুরবানী করেছিলেন মর্মে যে বর্ণনা এসেছে (আহমাদ হা/১২৭৮; তিরিমিযী হা/১৪৯৫; মিশকাত হা/১৪৬২), তা নিতান্তই যঈফ। কোন ছাহাবী রাসূল (ছাঃ)-এর জন্য বা রাসূল (ছাঃ) তার প্রিয় স্ত্রী ও সন্তানাদি বা প্রিয় চাচা হামযা বা অন্য কোন মৃতব্যক্তির জন্য এভাবে কুরবানী করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না। অতএব এসব থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

Posted in কুরবানী রাসূল (ছাঃ)-এর পক্ষ থেকে করা যাবে কি? | Tagged ,

শাওয়াল মাসের ছিয়াম ধারাবাহিকভাবে রাখতে হবে কি? এছাড়া কারণবশতঃ এ মাসের মধ্যে সবকয়টি রাখা সম্ভব না হলে পরের মাসে ক্বাযা আদায় করা যাবে কি?


রামাযানের পর পরই শাওয়াল মাসের ছয়টি ছিয়াম ধারাবাহিকভাবে রাখা উত্তম। তবে কেউ যদি মাঝে মধ্যে ছিয়াম বাদ দেয় তাতে কোন দোষ নেই। মোটকথা শাওয়াল মাসের এই ছিয়াম পালনের নেকী অর্জনের জন্য এ মাসের মধ্যেই ছয়টি ছিয়াম পালন করতে হবে।

Posted in শাওয়াল মাসের ছিয়াম ধারাবাহিকভাবে রাখতে হবে কি? | Tagged ,

আমি একজন হোটেল বয়। এখানকার নিয়ম অনুসারে বয়রা খাবার খাওয়ানোর পর অতিথিদের নিকট থেকে কিছু সম্মানী আশা করে এবং তারাও দিয়ে থাকে। এরূপ লেনদেন জায়েয হবে কি?


মালিকের অনুমতি থাকলে এবং এজন্য প্রত্যাশা না রেখে এরূপ সম্মানী গ্রহণ করলে সেটি নাজায়েয হবে না। তবে এথেকে বিরত থাকা উচিত। কেননা সে মালিকের বেতনভুক। নবী করীম (ছাঃ) বলেন, আমরা যাকে অর্থের বিনিময়ে কোন কাজে নিযুক্ত করি, তার অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করলে তা হবে আত্মসাৎ (আবুদাঊদ হা/২৯৪৩; মিশকাত হা/৩৭৪৮)। বর্তমান যুগে বখশিশের এই প্রচলন নিন্দনীয় প্রথা এবং এথেকে বিরত থাকতে হবে।

Posted in হোটেল বয়রা খাবার খাওয়ানোর বখশিশ নিতে পারবে কি? | Tagged

সূরা রহমানের ১৭ আয়াতের ব্যাখ্যা জানতে চাই।


আয়াতটির অর্থ : তিনি (আল্লাহ) দুই পূর্ব ও দুই পশ্চিমের রব (রহমান ৫৫/১৭)। মুজাহিদ বলেন, দুই পূর্ব বলতে গ্রীষ্ম ও শীতকালের দুই উদয়াচল এবং দুই পশ্চিম বলতে গ্রীষ্ম ও শীতকালের দুই অস্তাচলকে বুঝানো হয়েছে (তাফসীরে ত্বাবারী ২৩/২৭-২৮; তাফসীরে ইবনু কাছীর)। এখানে দ্বিবচন দ্বারা বহুবচন উদ্দেশ্য। যেমন অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আমি শপথ করছি উদয়াচল সমূহের ও অস্তাচল সমূহের প্রতিপালকের (মা‘আরিজ ৭০/৪০)। আল্লাহ অন্যত্র বলেন, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা এবং পালনকর্তা উদয়াচল সমূহের (ছাফফাত ৩৭/৫)। অত্র আয়াতসমূহে সৌর বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ উৎস বর্ণিত হয়েছে যে, পৃথিবী সর্বদা ঘূর্ণায়মান। সূর্যের কিরণ যখনই পৃথিবীর যে অংশে পড়ছে, তখনই সেখানে তা উদয় হচ্ছে এবং যখনই তা চলে যাচ্ছে, তখনই সেখানে তা অস্ত যাচ্ছে। এভাবে প্রতি সেকেন্ডে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে উদয়াচল ও অস্তাচলের পার্থক্য ঘটছে। আর এটাই হ’ল পৃথিবীর আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতির বড় প্রমাণ। সূর্য ৩৬০ দিন ৩৬০টি রেখায় চলে। প্রতিটি রেখাই স্বতন্ত্র। ফলে প্রতিদিনই সূর্যের উদয়াচল ও অস্তাচল পরির্বতন হয়।

Posted in তাফসীর, সূরা রহমানের ১৭ আয়াতের ব্যাখ্যা জানতে চাই। | Tagged

জুম‘আর খুৎবায় ইমাম ছাহেব বিদ‘আতপূর্ণ কথা বলেন। একারণে ইচ্ছাকৃতভাবে দেরী করা যাবে কি?


যথাসময়ে মসজিদে উপস্থিত হতে হবে। নতুবা মুছল্লী বহু নেকী থেকে বঞ্চিত হবে (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৩৮১-৮৪, ১৩৮৮)। প্রয়োজনে যে মসজিদে কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহ মোতাবেক খুৎবা হয় সেখানে যেতে হবে। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, মুছল্লী যদি জানতে পারে যে তার ইমাম এমন বিদ‘আতী, যে বিদ‘আতের পথে আহবান করে। অথবা সে ফাসেকী কাজে লিপ্ত। কিন্তু সে নিয়মিত ইমাম, যার পিছনে ছালাত আদায় করতেই হয়। যেমন জুম‘আ, ঈদায়েন, আরাফার হজ্জের ইমাম ইত্যাদি। এমতাবস্থায় মুছল্লী তার পিছনেই ছালাত আদায় করবে (আল-ফাতাওয়াউল কুবরা ২/৩০৭)। স্বর্তব্য যে, নিরুপায় অবস্থায় বিদ‘আতী ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা জায়েয। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘অনেকেই তোমাদেরকে ছালাত আদায় করায়। তারা যদি ঠিক করে তাহলে তোমাদের জন্য নেকী রয়েছে। আর তারা যদি ভুল করে, তাতে তোমাদের নেকী হবে আর তাদের গোনাহ হবে’ (বুখারী, মিশকাত হা/১১৩৩)। হাসান বাছরী বলেন, বিদ‘আতীর পিছনে ছালাত আদায় কর। বিদ‘আতের গোনাহ তার উপর বর্তাবে (বুখারী, ‘বিদ‘আতীর ইমামতি’ অনুচ্ছেদ হা/৬৯৫)

Posted in খুৎবায় বিদ‘আতপূর্ণ কথা বলেন। একারণে ইচ্ছাকৃতভাবে দেরী করা যাবে কি? | Tagged , , ,

‘রাসূল (ছাঃ) রোদের মধ্যে পথ চললে তাঁর শরীরে রোদ লাগত না, এক খন্ড মেঘ তাঁকে ছায়া করে থাকত’ এ কথা কি সঠিক?


উক্ত মর্মে কোন দলীল নেই। যদিও কোন কোন জীবনীকার এগুলি লিখেছেন। যার কোন ভিত্তি নেই। তবে আল্লাহর বিশেষ রহমতে মু‘জিযা হিসাবে কখনো কখনো মেঘ, গাছ ইত্যাদি তাঁকে ছায়া করত (তিরমিযী হা/৩৬২০; মুসলিম হা/৩০১২; মিশকাত হা/৫৯১৮, ৫৮৮৫)। উল্লেখ্য যে, বুখারী-মুসলিমে বর্ণিত (মিশকাত হা/১১৯৫) দো‘আয় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আল্লাহর নিকট নিজের হৃদয়ে, চোখে-কানে, ডাইনে-বামে, উপরে-নীচে যে নূর প্রার্থনা করেছেন, তার অর্থ ইলম ও হেদায়াতের নূর (মিরক্বাত)। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘যার বক্ষকে আল্লাহ ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, অতঃপর সে তার প্রতিপালকের দেওয়া জ্যোতির মধ্যে রয়েছে, (সে কি অন্যের মত হ’তে পারে?) (যুমার ৩৯/২২)

Posted in রাসূল (ছাঃ) পথ চললে এক খন্ড মেঘ তাঁকে ছায়া করে থাকত কি? | Tagged ,

ছালাত রত অবস্থায় শরীরে মশা-মাছি বা অন্য কোন পোকা পড়লে তা তাড়ানো এবং প্রয়োজনে শরীরের কোন জায়গায় চুলকানো যাবে কি?


যাবে। তবে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে যেন ছালাতের খুশূ‘-খুযূ‘ নষ্ট না হয়। মু‘আইক্বেব (রাঃ) নবী করীম (ছাঃ)-কে ছালাতের মধ্যে সিজদার স্থানের মাটি সমানকারী ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘যদি তা তোমাকে করতেই হয়, তবে শুধু একবার করবে (বুখারী হা/১২০৭, মুসলিম হা/৫৪৬, মিশকাত হা/৯৮০)। অন্য এক বর্ণনায় ছালাতের মধ্যে হাই আসলে মুখে হাত রাখতে বলা হয়েছে (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, মিশকাত হা/৯৯৩)। অন্য বর্ণনায় ছালাত অবস্থায় সাপ ও বিচ্ছুকে মারতে বলা হয়েছে (নাসাঈ, মিশকাত হা/১০০৪)। এ সকল হাদীছ প্রমাণ করে যে, ছালাত রত অবস্থায় প্রশ্নে উল্লেখিত প্রয়োজন মিটালে ছালাতের ক্ষতি হবে না। তবে অবশ্যই ছালাতের বিনয়-নম্রতার প্রতি লক্ষ্য রাখবে এবং নচেৎ ছালাত কবুল হবে না।

Posted in ছালাত রত অবস্থায় শরীরের কোন জায়গায় চুলকানো যাবে কি? | Tagged

তারাবীহ ছালাতে প্রতি দুই রাক‘আত পরপর ছানা পড়তে হবে কি?


ফরয ছালাত হোক অথবা নফল ছালাত হোক প্রত্যেক ছালাতের শুরুতে দো‘আয়ে ইস্তেফতাহ বা ছানা পাঠ করা সুনণাত। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যখনই ছালাত আরম্ভ করতেন, তখনই তাকবীরে তাহরীমার পর দো‘আয়ে ইস্তেফতাহ পড়তেন (বুখারী হা/৭৪৪, মিশকাত হা/৮১২-১৩)

যেহেতু তারাবীহর প্রত্যেক দুই রাক‘আত পৃথক পৃথক ছালাত, সেহেতু প্রত্যেক দুই রাক‘আতের শুরুতে দো‘আ ইস্তেফতাহ বা ছানা পড়া সুন্নাত।

Posted in ছানা প্রতি দুই রাক‘আত পরপর পড়তে হবে কি? | Tagged

কোন নারীর মন্দ চরিত্রের ব্যাপারে কাউকে তার কবল থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে জানালে তা গীবত হিসাবে গণ্য হবে কি?


বিষয়টি বক্তার দৃষ্টিতে সত্য হ’লে গীবত হিসাবে গণ্য হবে না। বরং তাকে সংশোধন বা তার বা অন্য কারো কল্যাণে এরূপ নারীর কথা গোপনে বলা যাবে (নববী, রিয়াযুছ ছালেহীন, ২৫৬ অনুচ্ছেদ, পৃঃ ৫৭৫)

Posted in মন্দ চরিত্রের ব্যাপারে সতর্ক করার জন্য কাউকে সত্য বললে গীবত হবে কি? | Tagged

জুম‘আর খুৎবা প্রদানের সুন্নাতী পদ্ধতিসমূহ কি কি?


জুম‘আর জন্য দু’টি খুৎবা দেওয়া সুন্নাত, যার মাঝখানে বসতে হয় (মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০৫)। ইমাম মিম্বরে বসার সময় মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে সালাম দিবেন (ইবনু মাজাহ হা/১১০৯; ছহীহাহ হা/২০৭৬)। আবুবকর ও ওমর (রাঃ) এটি নিয়মিত করতেন। আবু হানীফা ও মালেক (রহঃ) প্রমুখ মসজিদে প্রবেশকালে সালাম দেওয়াকেই যথেষ্ট বলেছেন (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২৩০; নায়ল ৪/২০১)। খত্বীব হাতে লাঠি নিবেন (আবুদাঊদ হা/১০৯৬; ইরওয়া হা/৬১৬)। নিতান্ত কষ্টদায়ক না হ’লে সর্বদা দাঁড়িয়ে খুৎবা দিবেন। ১ম খুৎবায় হাম্দ, দরূদ ও ক্বিরাআত ছাড়াও সকলকে নছীহত করবেন, অতঃপর বসবেন। দ্বিতীয় খুৎবায় হাম্দ ও দরূদ সহ সকল মুসলমানের জন্য দো‘আ করবেন (জুম‘আ ৬২/১১; মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০৫)। প্রয়োজনে এই সময়ও কিছু নছীহত করা যায় (নাসাঈ হা/১৪১৭-১৮; তিরমিযী হা/৫০৬)। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) হাম্দ, দরূদ ও নছীহত তিনটি বিষয়কে খুৎবার জন্য ‘ওয়াজিব’ বলেছেন। যাতে কুরআন থেকে একটি আয়াত হ’লেও পাঠ করতে হবে। এতদ্ব্যতীত সূরায়ে ক্বাফ-এর প্রথমাংশ বা অন্য কিছু আয়াত তেলাওয়াত করা মুস্তাহাব (মির‘আত ২/৩০৮, ৩১০; , ৪/৪৯৪, ৪৯৮-৯৯; মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০৯)। খুৎবা আখেরাত মুখী, সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ হওয়া বাঞ্ছনীয় (মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০৫-০৬)। তবে দীর্ঘ  হওয়াও  জায়েয  আছে  (মুসলিম হা/৭২৬৭)

খুৎবার সময় কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাক‘আত ‘তাহিইয়াতুল মাসজিদ’ ছালাত পড়ে বসবেন’ (মুসলিম, মিশকাত হা/১৪১১; বিস্তারিত দ্রঃ)

Posted in খুৎবা প্রদানের সুন্নাতী পদ্ধতিসমূহ কি কি?, জুম‘আর খুৎবা প্রদানের সুন্নাতী পদ্ধতিসমূহ কি কি? | Tagged ,

মৃত পিতা-মাতার নামে সন্তান দান-ছাদাক্বা করলে তাদের পাশাপাশি সন্তানও কি ছওয়াবের অধিকারী হবে?


সন্তানও ছওয়াব পাবে। আল্লাহ বলেন, ’নারী হৌক পুরুষ হৌক আমি তোমাদের কোন আমলকারীর কর্মফল বিনষ্ট করব না’ (আলে ইমরান ৩/১৯৫)। আয়েশা (রাঃ) বলেন, জনৈক স্ত্রীলোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা হঠাৎ মারা গেছেন। তিনি এভাবে মারা না গেলে ছাদাক্বা করে যেতেন। এখন আমি যদি তার পক্ষ থেকে ছাদাক্বা করি তবে কি আমি এর ছাওয়াব পাব? নবী করীম (ছাঃ) বললেন, হ্যাঁ (বুখারী হা/২৭০৭; মুসলিম হা/১০০৪)। নববী বলেন, মৃতের পক্ষ থেকে ছাদাক্বাহ জায়েয এবং মুস্তাহাব। এর ছওয়াব তার কাছে পৌঁছবে এবং সে উপকৃত হবে। এতে ছাদাক্বাকারীও উপকৃত হবে (শরহ মুসলিম হা/১৬৩০-এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য, ১১/৮৩)

Posted in দান-ছাদাক্বা পিতা-মাতার নামে সন্তান করলে সন্তানও ছওয়াবের অধিকারী হবে কি? | Tagged ,

হাদীছে উত্তমরূপে ওযূ করে কেবল ছালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে আগমনকারীর জন্য বিশেষ পুরস্কারের কথা বর্ণিত হয়েছে। এর ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য কি?


অধিক আগ্রহ, মসজিদের সাথে হৃদয় লটকিয়ে থাকা এবং পবিত্র অবস্থায় কষ্ট করে পায়ে হেঁটে মসজিদে গমন করার কারণে আল্লাহ এই মর্যাদা দান করবেন। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মুসলমান যখন ফরয ছালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে সুন্দরভাবে ওযূ করে এবং পূর্ণ মনোনিবেশ ও ভীতি সহকারে সুষ্ঠুভাবে রুকূ-সিজদা করে, তখন ঐ ওযূ ও ছালাত তার বিগত সকল গুনাহের কাফফারা হয়। তবে কবীরা গোনাহ ব্যতীত’ (মুসলিম হা/২২৮; মিশকাত হা/২৮৬ ‘পবিত্রতা’ অধ্যায়-৩, পরিচ্ছেদ-১)। অন্য হাদীছে এসেছে, যে ব্যক্তি বাড়ি থেকে পাক-পবিত্র হয়ে (ওযু করে) ফরয ছালাত আদায় করার জন্য পায়ে হেঁটে আল্লাহর কোন ঘরে (মসজিদে) যায় তার প্রতি পদক্ষেপে একটি করে পাপ ঝরে পড়ে এবং একটি মর্যাদার স্তর বৃদ্ধি পায় (মুসলিম হা/৬৬৬; ছহীহুল জামে‘ হা/৬১৫৫)

Posted in ওযূ করে ছালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে আগমনকারীর কোন পুরুষ্কার আছে কি | Tagged , , ,

কুরবানীর গোশত দ্বারা ওয়ালীমার মেহমানদারী করা যাবে কি? জনৈক আলেম বলেন, এটা চলবে না। কেবল ওয়ালীমার জন্য অন্ততপক্ষে একটি খাসি যবেহ করতে হবে। একথার সত্যতা আছে কি?


কথাটির সত্যতা নেই। কারণ কুরবানীর গোশত বিবাহতে খাওয়ানো যাবে না এমন কোন শর্ত নেই। তাছাড়া কুরবানীর গোশত ঈদের পরে জমা রেখে খাওয়া জায়েয (ইবনু মাজাহ হা/৩১৫৯, মিশকাত হা/১৭৬২)। তুরতুসী বলেন, কেউ যদি বিবাহের ওয়ালীমায় কুরবানীর গোশত খাওয়ায় সেটিই তার জন্য যথেষ্ট হবে’ (আত-তাজ ওয়াল ইকলীল লি মুখতাছারে খলীল ৪/৩৭৬)। রাসূল (ছাঃ) আব্দুর রহমান বিন ‘আওফকে বলেন, একটি ছাগল যবেহ করে হ’লেও ওয়ালীমা কর (বুখারী হা/২০৪৮; মুসলিম হা/১৪২৭; মিশকাত হা/৩২১০)। এর অর্থ এই নয় যে, নির্দিষ্টভাবে ওয়ালীমার জন্যই ছাগল যবেহ করতে হবে।

Posted in কুরবানীর গোশত দ্বারা ওয়ালীমার মেহমানদারী করা যাবে কি? | Tagged , ,

পরিবারসহ বিদেশে অবস্থানকারী কোন প্রবাসী অধিক মূল্যের কারণে সেখানে কুরবানী না করে দেশে ভাই-বোনের পরিবারে কুরবানী করতে পারবে কি?


সামর্থ্য থাকলে নিজ অবস্থানস্থলেই কুরবানী করবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তখন তোমরা তা থেকে আহার কর এবং আহার করাও যারা চায় না তাদেরকে ও যারা চায় তাদেরকে’ (হজ্জ ২২/৩৬)। অত্র আয়াতে নিজে ভক্ষণ ও অপরকে দান করার নির্দেশনা এসেছে।

অতএব অবস্থানস্থলের মূল্য অনুযায়ী সামর্থ্য থাকলে কুরবানী করবে। অন্যথায় বিরত থাকবে। অন্যদেশে কুরবানী করলে তা সুন্নাত মোতাবেক হবে না (ওছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২২/২২৪)।

Posted in কুরবানী বিদেশে অবস্থানকারী দেশে ভাই-বোনের পরিবারে করতে পারবে কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তি বলেন, মানুষকে প্রতিদিন নছীহত করা বা মসজিদে প্রতিদিন হাদীছ পাঠ করা শরী‘আতসম্মত নয়। এর স্বপক্ষে তিনি বুখারীর একটি হাদীছ পেশ করেন। একথার সত্যতা জানতে চাই।


ছালাতের পরে নছীহত করা বা হাদীছ পাঠে শারঈ কোন বাধা নেই। তবে পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনমত উপদেশ প্রদান করাই সমীচীন (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৮/২৮১)। আল্লাহ বলেন, এবং উপদেশ দিতে থাক, কারণ উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে (যারিআত ৫১/৫৫)। হাদীছ পাঠে অল্প সময়ের ব্যাপার। এটুকুতে যারা বিরক্ত বোধ করেন, তাদের ঈমানে ঘাটতি আছে। এরূপ তুচ্ছ অজুহাত তুলে মসজিদে বা অন্যত্র হাদীছ পাঠে বাধা দেওয়া অন্যায়। আল্লাহ বলেন, ‘তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহবান কর প্রজ্ঞা ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে বিতর্ক কর সুন্দর পন্থায়’ (নাহল ১৬/১২৫)

Posted in মসজিদে প্রতিদিন হাদীছ পাঠ করা শরী‘আতসম্মত কি? | Tagged

ফজরের আযানের পর মসজিদে এসে নির্দিষ্ট দু’রাক‘আত সুন্নাত ব্যতীত তাহিইয়াতুল ওযূ ও তাহিইয়াতুল মসজিদ ছালাত আদায় করা যাবে কি?


যাবে। তবে ফজরের নির্দিষ্ট সুন্নাত মসজিদে এসে আদায় করলে তা তাহিইয়াতুল মসজিদ ও তাহিইয়াতুল ওযূর জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। অবশ্য বাড়িতে সুন্নাত আদায় করে মসজিদে আসলে তাহিইয়াতুল মসজিদ আদায় করা সুন্নাত। কেননা রাসূল (ছাঃ) মসজিদে এসে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় না করে বসতে নিষেধ করেছেন (বুখারী হা/১১৬৩; শায়খ বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব ৮/১৮৯)

Posted in সুন্নাত মসজিদে এসে আদায় করলে তা তাহিইয়াতুল মসজিদের জন্য যথেষ্ট হবে কি? | Tagged , ,

বেনামাযী ও নেশাকারী ব্যক্তিদের সাথে ক্রয়-বিক্রয়, চলাফেরাসহ সামাজিক সম্পর্ক রাখা যাবে কি?


এধরনের লোকদের একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত এড়িয়ে চলতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তুমি মুমিন ব্যতীত কাউকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করবে না এবং তোমার খাদ্য যেন কেবল মুত্তাকীরা খায়’ (আবুদাঊদ হা/৪৮৩২; মিশকাত হা/৫০১৮)। তিনি আরো বলেন, ‘মানুষ তার বন্ধুর রীতির উপর হয়ে থাকে। অতএব দেখ সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে’ (আবুদাঊদ হা/৪৮৩২; মিশকাত হা/৫০১৯)। তবে সুযোগ পেলেই তাদেরকে সঠিক পথে ফিরে আসার জন্য উপদেশ দিতে হবে। আর এধরনের লোকদের পরিত্যাগ করাতে তাদের বা নিজের অধিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে বাহ্যিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।

Posted in বেনামাযী ও নেশাকারী ব্যক্তিদের সাথে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে কি? | Tagged ,

ঈদের ছালাত আদায়ের পর একাধিক ব্যক্তি খুৎবা দিতে পারবেন কি?


না। বরং একজন ব্যক্তিই খুৎবা দিবেন। এটাই রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাত (মুসলিম হা/৮৮৫, মিশকাত হা/১৪৪৬)। ওযরবশতঃ কাউকে মাঝপথে খুৎবা পরিত্যাগ করতে হ’লে অপরজন প্রথম থেকে খুৎবা শুরু করবেন (ওছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ ৫/৫৮)

Posted in খুৎবা ঈদের ছালাত আদায়ের পর একাধিক ব্যক্তি দিতে পারবে কি? | Tagged ,