সিগারেট, কাঁচা তামাক ক্রয়-বিক্রয়, রফতানী এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো, মেশিনারী প্রভৃতি বিক্রয়লব্ধ অর্থের উপর যাকাত আদায় করতে হবে কি?


উপরোক্ত পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট জিনিসগুলি হারাম হওয়ায় সেগুলোর উপর যাকাত দিতে হবে না। কারণ তা আল্লাহর নিকট কবুল হবে না। কেননা ‘আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র বস্ত্ত ব্যতীত কবুল করেন না’ (মুসলিম হা/১০১৫; মিশকাত হা/২৭৬০)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আল্লাহ পবিত্রতা ব্যতীত ছালাত কবুল করেন না এবং হারাম মালের ছাদাক্বা গ্রহণ করেন না’ (মুসলিম হা/২২৪; মিশকাত হা/৩০১; মিরক্বাত)। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, ‘কোন বান্দা হারাম পথে উপার্জিত অর্থ-সম্পদ ছাদাক্বা করলে তা কবুল করা হবে না এবং নিজের কাজে ব্যবহার করলেও তাতে বরকত হবে না। আর ঐ সম্পদ তার উত্তরাধিকারীদের জন্য রেখে গেলে তা তার জন্য জাহান্নামের পুঁজি হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা মন্দের দ্বারা মন্দকে মিটিয়ে দেন না। তবে সৎকর্ম দ্বারা মন্দকর্ম মিটিয়ে দেন’ (আহমাদ হা/৩৬৭২; মিশকাত হা/২৭৭১; শু‘আবুল ঈমান হা/৫৫২৪; হাকেম হা/৭৩০১, সনদ ছহীহ)। উল্লেখ্য যে, হারাম মালে যাকাত ফরয না হওয়ার বিষয়ে প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের মধ্যেও ঐক্যমত রয়েছে। তাছাড়া যাকাত দেওয়া হয় মাল পবিত্র করার জন্য। অথচ পুরো মালই অপবিত্র হ’লে তা কাকে পবিত্র করবে? (আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়াহ ২৩/২৪৮)

 

এতদ্ব্যতীত যে বস্ত্ত মৌলিকভাবে হারাম তার মূল্য দ্বারা উপকৃত হওয়াও হারাম। যেমন তামাক মাদক দ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘প্রত্যেক মাদকতা আনয়নকারী বস্ত্ত হারাম’ (মুসলিম হা/২০০৩; মিশকাত হা/৩৬৩৮)। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা কোন জাতির উপর কোন কিছু খাওয়া হারাম করলে তার বিক্রয়লব্ধ অর্থও হারাম করে দেন’ (আবুদাঊদ হা/৩৪৮৮; আহমাদ হা/২৯৬৪)। যেমন মদ হারাম সম্পর্কিত সুস্পষ্ট নির্দেশ (মায়েদাহ ৯০) নাযিলের পর রাসূল (ছাঃ) ঘোষণা করলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা মদ হারাম করে দিয়েছেন। সুতরাং যার নিকট এই আয়াত পৌঁছে গেছে এবং তার নিকট এর কিছু অংশ অবশিষ্ট আছে, সে যেন তা পান না করে এবং বিক্রয় না করে’। রাবী বলেন, অতঃপর যাদের নিকট মদ অবশিষ্ট ছিল তারা তা নিয়ে বেরিয়ে পড়ল এবং তা মদীনার রাস্তায় ঢেলে দিল (মুসলিম হা/১৫৭৮)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘যিনি তা পান করা হারাম করেছেন, তিনি এর বিক্রিও হারাম করে দিয়েছেন’ (মুসলিম হা/১৫৭৯; ‘মদ বিক্রি হারাম’ অনুচ্ছেদ)। সুতরাং হারাম পণ্য বিক্রি করা ও এর বিক্রয়লব্ধ অর্থ গ্রহণ করা সুস্পষ্টভাবে হারাম।

 

এক্ষণে এই হারাম সম্পদ যথাশীঘ্র নিজ মালিকানা থেকে বের করে দিতে হবে এবং ছওয়াবের আশা ছাড়াই জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান বা হতদরিদ্র ব্যক্তিদের মধ্যে দান করে দিতে হবে। ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, ব্যক্তির নিজ ও নিজ পরিবার চালানোর জন্য যদি হারাম পন্থায় উপার্জিত সম্পদ ব্যতীত কোন সম্পত্তি না থাকে, তাহ’লে যতটকু প্রয়োজন ততটকু সেখান থেকে গ্রহণ করে বাকীগুলো ছাদাক্বা করে দিবে। যদিও এই ছাদাক্বায় তার কোন উপকার হবে না। তবে এতে কিছু গরীব উপকৃত হবে (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ২৯/৩০৮; ইবনুল ক্বাইয়িম, মাদারিজুস সালেকীন ১/৩৮৯; যাদুল মা‘আদ ৫/৭৭৮)। অতএব এই সম্পদের কোন যাকাত নেই। বরং এই সমুদয় হারাম সম্পদ ছওয়াবের আশা ব্যতীত জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতে হবে।

Advertisements
Posted in সিগারেট তামাকের অর্থের উপর যাকাত আদায় করতে হবে কি? | Tagged , ,

মসজিদের মাইকে শিশুদের পোলিও খাওয়ানো, টিকাদান, আবহাওয়া সম্পর্কে সতর্কীকরণ বা মক্তবের ক্লাসের কথা ঘোষণা করা যাবে কি?


মসজিদের মাইক কেবলমাত্র আযানের জন্যই নির্ধারিত। যা অন্য কাজে ব্যবহার বাঞ্ছনীয় নয়। এতে মৃত্যু খবর প্রচার করা আদৌ জায়েয নয়। কেননা তা না‘ঈ বা শোক সংবাদ প্রচারের শামিল। যা শরী‘আতে নিষিদ্ধ (তিরমিযী হা/৯৮৬; তালখীছ, পৃ. ১৯, ৯৮)। মসজিদের মাইকে আযান ব্যতীত অন্য কোন কাজে ব্যবহারের বিষয়ে সালাফে ছালেহীনের কোন নযীর পাওয়া যায় না। অতএব এগুলি পরিত্যাজ্য।

Posted in প্রশ্নোত্তর | Tagged

জনৈক ইমাম ছাহেব খুৎবায় বলেন, ১০ই যিলহজ্জ মিনাতে কংকর নিক্ষেপ করে মাথা মুন্ডন অতঃপর কুরবানী করতে হবে। আগপিছ করলে হজ্জ হবে না। এ কথা কি সঠিক?


উপরোক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে কংকর নিক্ষেপ করার পূর্বে মাথা মুন্ডন করা ও কুরবানী করা প্রসংগে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, لاَ حَرَجَ ‘এতে কোন অসুবিধা নেই’। অন্য বর্ণনায় এসেছে افْعَلُوْا وَلاَ حَرَجَ ‘এটি কর, এতে কোন অসুবিধা নেই’ (মুসলিম হা/১৩০৬, ‘হজ্জ’ অধ্যায়)

Posted in হজ্জ-এ ধারাবাহিকত বজায় রাখতে হবে কি? | Tagged

গ্রামের দু’পাশে দু’টি মসজিদ রয়েছে। গ্রামের মধ্যস্থলে বাজারের নিকটে জুম‘আ মসজিদের সম্পত্তি রয়েছে। সেখানে আরেকটি ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণ করা যাবে কি? তাছাড়া একটি মসজিদের অর্থ দিয়ে অন্য মসজিদ নির্মাণে অর্থ ব্যয় করা যাবে কি?


এরূপ কারণে মসজিদ নির্মাণে কোন বাধা নেই এবং কমিটির সম্মতিক্রমে এক মসজিদের অতিরিক্ত অর্থ অন্য মসজিদে ব্যবহারেও কোন দোষ নেই (ইবনু কুদামা, আল-মুগনী ৬/৩১; শায়খ বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব)। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, এক মসজিদের অতিরিক্ত অর্থ অন্য মসজিদে ব্যবহার করতে পারে’ (মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ৩১/১৮, ২০৬-২০৭)। তবে জামা‘আত বড় রাখার স্বার্থে একই মসজিদে ছালাত আদায় করা উত্তম। কেননা জামা‘আত যত বড় হয়, আল্লাহর নিকট সেটি ততবেশী প্রিয়তর হয় (আবুদাউদ হা/৫৫৪; নাসাঈ হা/৮৪৩, সনদ ছহীহ; মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ৩১/২২১)

Posted in মসজিদের অর্থ দিয়ে অন্য মসজিদ নির্মাণে অর্থ ব্যয় করা যাবে কি? | Tagged

সূদের টাকা ছওয়াবের আশা ছাড়া কোথায় দান করা সবচেয়ে উত্তম? আমি চাচ্ছি না মাদ্রাসায় এই টাকা ‘তালিবে ইলম’ দের কোন কাজে ব্যবহৃত হোক।


এধরনের সম্পদ ছওয়াবের আশা ব্যতীত ফকীর-মিসকীনদের মাঝে বিতরণ করে দিতে হবে। এছাড়া মুসলমানদের কল্যাণার্থে অন্যান্য খাতে ব্যয় করা যাবে। যেমন অভাবী আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশী ইত্যাদি (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৩/৩৫২, ১৬/৫৩২)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি হারাম মাল সঞ্চয় করে, অতঃপর তা থেকে ছাদাক্বা করে, তাতে সে ছওয়াব পাবে না এবং এর পাপ তার উপরই বর্তাবে’ (শু‘আবুল ঈমান হা/৩৪৭৭; হাকেম হা/১৪৪০; ছহীহ ইবনু হিববান হা/৩৩৫৬, ছহীহুত তারগীব হা/৮৮০)

Posted in সূদের টাকা কোথায় দান করা যাবে? | Tagged ,

দ্বিতল বিশিষ্ট মসজিদে জামা‘আতে ছালাতের রুকূ ধরার জন্য সামনের কাতার খালি রেখেই পেছনের কাতারে দাঁড়ানো এবং নীচ তলায় কাতার ফাঁকা রেখেই উপরের তলায় গিয়ে ছালাত আদায় করার হুকুম কি?


সামনের কাতার পূরণ না করে পিছনে কাতার বানানো বা নীচের তলায় ফাঁকা রেখে উপর তলায় দাঁড়ানো সিদ্ধ নয়। কারণ রাসূল (ছাঃ) সামনের কাতার পূরণ করে পিছনের কাতার পূর্ণ করার আদেশ দিয়েছেন। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘ফেরেশতারা তাদের প্রতিপালকের নিকটে যেরূপ সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান হয়ে থাকে তোমরা ঐরূপ করো না কেন?… তিনি বললেন, তারা সর্বাগ্রে প্রথম কাতার পূরণ করে, অতঃপর পর্যায়ক্রমে কাতারগুলো পূর্ণ করে এবং তারা কাতারে দন্ডায়মান হওয়ার সময় পরস্পর মিলে দাঁড়ায়’ (মুসলিম হা/৪৩০; মিশকাত হা/১০৯১)। তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা কাতার সোজা কর, কাঁধ সমূহ সমানভাবে মিলাও, ফাঁক বন্ধ কর এবং শয়তানের জন্য কোন স্থান ফাঁকা রেখো না। কেননা যে ব্যক্তি কাতারে মিলে দাঁড়াল, আল্লাহ তার সঙ্গে থাকেন। আর যে ব্যক্তি তা কর্তন করল, আল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন’ (আবুদাঊদ হা/৬৬; মিশকাত হা/১১০২; ছহীহাহ হা/৭৪৩)। কেউ যদি সামনের কাতারে জায়গা থাকা সত্ত্বেও একাকী পিছনের কাতারে দাঁড়ায়, তাহ’লে তার ছালাত বাতিল হবে এবং পুনরায় পড়তে হবে (তিরমিযী হা/২৩০; মিশকাত হা/১১০৫)। এক্ষণে যদি কেউ নীচ তলায় জায়গা থাকা সত্ত্বেও উপরে উঠে যায় এবং উভয় তলাতেই মুছল্লী যোগদান করে, তাহ’লে তার ছালাত হয়ে যাবে। যদিও সেটি ত্রুটিপূর্ণ হবে (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ২৩/৪১০)

Posted in সামনের কাতার খালি রেখেই পেছনের কাতারে দাঁড়ানো যাবে কি? | Tagged , ,

ছালাতে সালাম ফেরানোর সময় ডানে এবং বামে পূর্ণ মুখ ঘুরিয়ে তারপর সালাম বলতে হবে নাকি সালামের শব্দগুলো উচ্চারণ করতে করতে মুখ ডানে এবং বামে ঘুরাতে হবে?


সালামের শব্দগুলো উচ্চারণ করতে করতে মুখ ডানে এবং বামে ঘুরাতে হবে। কেননা সালামই মুখ ঘুরানোর কারণ। অতএব সালাম সহকারেই ডানে-বামে মুখ ঘুরাতে হবে, মুখ পূর্ণভাবে ঘুরিয়ে তারপর সালাম বলা সঠিক পদ্ধতি নয় (মুগনী ১/৩৯৮; আল-ইনছাফ ২/৮২-৮৩; ফাতাওয়া নুরুন আলাদ-দারব ৮/০২)

Posted in সালাম ফেরানোর সময় ডানে ও বামে পূর্ণ মুখ ঘুরিয়ে সালাম বলতে হবে কি? | Tagged ,

‘খতমে বুখারী’ অনুষ্ঠান করায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?


মাদরাসা সমূহে যে খতমে বুখারীর অনুষ্ঠান করা হয়, তা যদি সুন্নাত বা আবশ্যকীয় মনে না করা হয় এবং তাতে রিয়া বা কোন দুনিয়াবী স্বার্থ যুক্ত না থাকে, তাহ’লে স্রেফ আল্লাহর শুকরিয়া স্বরূপ এ ধরনের অনুষ্ঠান করা যায়।

আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, পিতা ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) ১২ বছরে সূরা বাক্বারাহ শেষ করেন। অতঃপর যেদিন শেষ হয়, সেদিন তিনি কয়েকটি উট নহর করে সবাইকে খাওয়ান’ (মুক্বাদ্দামা তাফসীর কুরতুবী ৭৬ পৃ.; যাহাবী, তারীখুল ইসলাম ৩/২৬৭; দ্র. ‘কুরআন অনুধাবন’ বই ১৮ পৃ.)

Posted in খতমে বুখারী’ অনুষ্ঠান করায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি? | Tagged ,

মহিলাদের ব্যবহৃত সোনার যাকাত নিয়ে বিদ্বানদের মতভেদ রয়েছে জেনেছি। এক্ষেত্রে সঠিক ফয়ছালা কোনটি হবে?


মহিলাদের ব্যবহৃত অলংকারে যাকাত ফরয কি-না? এ ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়। তবে সঠিক কথা হ’ল, নারীদের ব্যবহৃত অলংকারে যাকাত ফরয। যেমন (১) হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ)-এর স্ত্রী যয়নব বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদেরকে খুৎবায় বলেন, হে নারী জাতি! তোমরা ছাদাক্বা কর, যদিও তোমাদের অলংকার দ্বারা হয়। কেননা ক্বিয়ামতের দিন তোমরাই জাহান্নামবাসীদের অধিকাংশ হবে’ (তিরমিযী হা/৩৫৬; মিশকাত হা/১৮০৮)। (২) একবার ইয়ামনবাসী জনৈকা মহিলা তার কন্যাসহ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকটে আসলেন। তার কন্যার হাতে মোটা দু’টি স্বর্ণের বালা ছিল। তিনি তাকে বললেন, তুমি কি এর যাকাত দাও? মহিলাটি বলল, না। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তুমি কি পসন্দ কর যে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা এর পরিবর্তে তোমাকে এক জোড়া আগুনের বালা পরিয়ে দেন? রাবী বলেন, একথা শুনে উক্ত মহিলা তার হাত থেকে বালা দু’টি খুলে রাসূল (ছাঃ)-এর সামনে রেখে দিয়ে বলল, এ দু’টি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য (নাসাঈ হা/২৪৭৯; আবুদাউদ হা/১৫৬৩; তিরমিযী হা/৬৩৭; মিশকাত হা/১৮০৯; ছহীহুত তারগীব হা/৭৬৮)। (৩) উম্মে সালামা (রাঃ) বলেন, আমি স্বর্ণের গহনা পরতাম। একদিন আমি রাসূল (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! এটা কি সেই কান্যের অন্তর্ভুক্ত, যার শাস্তির কথা কুরআনে এসেছে (তওবা ৯/৩৪-৩৫)? রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘যদি নিছাব পরিমাণ হয় এবং তাতে যাকাত দেওয়া হয়, তখন তা কান্য হয় না’ (আবুদাঊদ হা/১৫৬৪; মিশকাত হা/১৮১০)

 

(৪) আয়েশা (রাঃ) বলেন, ‘একদিন রাসূল (ছাঃ) আমার নিকট উপস্থিত হয়ে আমার হাতে রূপার বড় বালা দেখতে পান এবং বলেন, হে আয়েশা! এটা কি? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উদ্দেশ্যে সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য তৈরী করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এর যাকাত দাও? আমি বললাম, না অথবা আল্লাহ যা চেয়েছিলেন তাই বলেছি। তিনি বললেন, তোমাকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট’ (আবুদাঊদ হা/১৫৬৫; ছহীহুত তারগীব হা/৭৬৯)। (৫) আসমা বিনতে ইয়াযীদ (রাঃ) বলেন, আমি ও আমার খালা হাতে স্বর্ণের বালা পরিহিতা অবস্থায় রাসূল (ছাঃ)-এর দরবারে প্রবেশ করলাম। তখন তিনি আমাদেরকে বললেন, তোমরা কি এর যাকাত দাও? আমরা বললাম, না। তিনি বললেন, ‘তোমরা কি ভয় পাও না যে, আল্লাহ এর পরিবর্তে  তোমাদেরকে  আগুনের  বালা  পরাবেন?  তোমরা যাকাত আদায় কর’ (মুসনাদে আহমাদ হা/২৭৬৫৫; ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব হা/৭৭০)

উপরোল্লিখিত হাদীছ সমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ব্যবহৃত অলংকারের যাকাত দিতে হবে। আর যেকোন মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়ে সন্দেহমুক্ত আমল করাই উত্তম (তাফসীরে আযওয়াউল বায়ান ২/১৩৪; মু‘আলিমুস সুনান ২/১৭; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ৯/২৬৫; বিন বায, ফাতাওয়া ইসলামিয়াহ ২/৮৪)

Posted in মহিলাদের ব্যবহৃত সোনার যাকাত নিয়ে সঠিক ফয়ছালা কোনটি হবে? | Tagged

পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের মধ্যে কোন ওয়াক্তের ছালাত রাসূল (ছাঃ) সর্বপ্রথম আদায় করেছিলেন?


রাসূল (ছাঃ) তাঁর উপর পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ফরয হওয়ার পর সর্বপ্রথম যোহরের ছালাত আদায় করেছিলেন। যেমন হাদীছে এসেছে, আবু বারাযাহ আসলামী (রাঃ)-কে রাসূল (ছাঃ)-এর ছালাতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যোহরের ছালাত যাকে তোমরা প্রথম ছালাত বলে থাক, সূর্য ঢলে পড়লে আদায় করতেন’ (বুখারী হা/৫৪৭; মিশকাত হা/৫৮৭)। হাসান বলেন, রাসূল (ছাঃ) প্রথম যে ছালাত আদায় করেছিলেন তা ছিল যোহরের ছালাত। এসময় জিব্রীল (আঃ) আসেন। তিনি সামনে দাঁড়ান, তাঁর পিছনে রাসূল (ছাঃ) এবং তাঁর পিছনে ছাহাবীগণ দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করেছিলেন (মুছান্নাফে আব্দুর রাযযাক হা/১৭৭১; ফাৎহুল বারী ২/২৭; ফাৎহুল বারী ৩/৮১; ইহ্কামুল আহকাম ১/১৬৭; সুবুলুল হুদা ৩/১১৩)

Posted in ছালাত রাসূল (ছাঃ) পাঁচ ওয়াক্ত মধ্যে কোনটি সর্বপ্রথম আদায় করেছিলেন? | Tagged ,

হাদীছে আছে যদি কেউ ফজরের ছালাত জামা‘আতে আদায় করার পর একই স্থানে বসে থেকে যিকির করতে থাকে এবং সূর্য উঠার পর ইশরাকের ছালাত আদায় করে তাহ’লে এক ওমরা এবং এক হজ্জের ছওয়াব পাওয়া যায়। কিন্তু ঘুমের কারণে জামা‘আত না পেলে বাসায় একাকী একই আমল করলে কি এই নেকী পাওয়া যাবে?


উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছে জামা‘আতে ছালাত আদায়ের কথা বলা হয়েছে। অতএব নিয়মিত এই আমলকারী ব্যক্তি যদি কোনদিন শারঈ ওযর তথা ভীতি বা অসুস্থতার মত বাধ্যগত কারণে বাড়িতে জামা‘আতে ছালাত আদায় করে এবং সূর্যোদয় পর্যন্ত যিকর-আযকার পাঠ শেষে ইশরাকের ছালাত আদায় করে, তাহ’লে পূর্ণ এক হজ্জ ও ওমরার ছওয়াব হাছিল করবে ইনশাআল্লাহ (ফাৎহুল বারী ৬/১৩৭; হাশিয়াতুল আদাভী ১/২৮৫; হাশিয়াতুত ত্বাহত্বাভী ১/১৮১; উছায়মীন, শারহু রিয়াযিছ ছালেহীন ১/৩৬)

Posted in বাসায় নামাজ পড়ে যিকির করলে কি হজ্জের ছওয়াব পাওয়া যাবে? | Tagged

একটি দৈনিক পত্রিকায় দেখলাম হাদীছের বরাতে বলা হয়েছে. শা‘বান মাসে বেশী বেশী ছিয়াম রাখার কারণ জিজ্ঞেস করা হ’লে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘এ বছর যারা মারা যাবে, তাদের নাম এই মাসেই লিখে নেয়া হয়। এজন্য আমি পসন্দ করি যে, আমার নামটা যখন তালিকাভুক্ত করা হবে, তখন যেন আমি ছিয়ামরত থাকি’। হাদীছটি কি ছহীহ?


ক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ এবং মুনকার (আবু ইয়া‘লা হা/৪৯১১; যঈফাহ হা/৫০৮৬; যঈফুত তারগীব হা/৬১৯)। বরং শা‘বান মাসে অধিকহারে ছিয়াম পালনের ব্যাপারে উসামা ইবনু যায়েদ (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘শা‘বান মাস রজব এবং রামাযানের মধ্যবর্তী এমন একটি মাস যে মাসের (গুরুত্ব সম্পর্কে) মানুষ খবর রাখে না। অথচ এ মাসে আমলনামাসমূহ আল্লাহ রাববুল আলামীনের নিকটে পেশ করা হয়। তাই আমি পসন্দ করি যে, আমার আমলনামা আল্লাহ তা‘আলার নিকটে পেশ করা হবে আমার ছিয়াম পালনরত অবস্থায়’ (নাসাঈ হা/২৩৫৭; ছহীহুত তারগীব হা/১০২২)

Posted in শা‘বান মাসে মারা গেলে তাদের নাম এই মাসেই লিখে নেয়া হয় কি? | Tagged ,

আমার মামা মারা গেছেন। তার কোন ছেলে-মেয়ে নেই। তার একজন স্ত্রী ও তিনজন বোন আছে। কে কতটুকু অংশ পাবে?


এক্ষেত্রে স্ত্রী এক-চতুর্থাংশ পাবে। আর বাকী সম্পত্তি বোনেরা আছহাবুল ফুরুয ও পরে আছাবা হিসাবে পুরো সম্পত্তি পেয়ে যাবে। আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে স্ত্রীরা সিকি পাবে, যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে’ (নিসা ৪/১১)। তিনি আরো বলেন, আর যদি পিতা ও সন্তানহীন কোন পুরুষ বা স্ত্রী মারা যায় এবং তার একজন ভাই অথবা বোন থাকে, তবে তারা প্রত্যেকে এক-ষষ্ঠাংশ করে পাবে। আর যদি তারা একাধিক হয়, তাহ’লে তারা সকলে এক-তৃতীয়াংশে শরীক হবে, অছিয়ত পূরণ অথবা ঋণ পরিশোধের পর, কাউকে কোনরূপ ক্ষতি না করে। এটি আল্লাহ প্রদত্ত বিধান’ (নিসা ৪/১২)। আর যদি বোনেরা ছাড়াও অন্য কোন নিকটাত্মীয় (আছাবা) থাকে, তবে তারাও এই সম্পত্তির অংশীদার হবে।

Posted in কেউ মারা গেলে স্ত্রী ও তিনজন বোন কতটুকু অংশ পাবে? | Tagged

কাদিয়ানীদের বই-পুস্তক পাঠ করা যাবে কি?


সাধারণ মানুষের জন্য কাদিয়ানীদের বই-পুস্ত্তক ও তাফসীর পাঠ করা জায়েয নয়। কারণ এতে আক্বীদা নষ্ট হয়ে পথভ্রষ্ট হওয়ার সমূহ সম্ভবনা রয়েছে। একবার ওমর (রাঃ)-এর হাতে তাওরাতের একটি অংশ দেখে রাসূল (ছাঃ) রেগে গিয়ে তাঁকে ধমক দিয়ে বলেছিলেন, ‘হে খাত্ত্বাবের ছেলে! তোমার কি সন্দেহ রয়েছে? আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের কাছে একটি অতি উজ্জ্বল ও স্বচ্ছ দ্বীন নিয়ে এসেছি। মূসা (আঃ)-ও যদি আজ দুনিয়ায় বেঁচে থাকতেন, আমার অনুসরণ ব্যতীত তাঁর কোন গত্যন্তর ছিল না’ (আহমাদ হা/১৫১৫৬; মিশকাত হা/১৭৭; ইরওয়া হা/১৫৮৯)। তবে যারা শারঈ বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ, তারা কেবল পথভ্রষ্টদের মিথ্যাচারের মুখোশ উন্মোচনের জন্য তাদের বই-পুস্ত্তক পড়তে পারে (মাতালিবু উলিন নুহা ১/৬০৭)

Posted in কাদিয়ানীদের বই-পুস্তক পাঠ করা যাবে কি? | Tagged

মানুষ কি কখনো জিন বা শয়তানকে দেখতে পারে?


সাধারণভাবে মানুষ জিন বা শয়তানকে দেখতে পায় না। আল্লাহ বলেন, ‘সে ও তার দল তোমাদেরকে এমন স্থান থেকে দেখে যেখান থেকে তোমরা তাদের দেখতে পাও না। আমরা শয়তানকে অবিশ্বাসী লোকদের বন্ধু বানিয়ে দিয়েছি’ (আ‘রাফ ৭/২৭)। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে মানুষ জিনকে দেখতে পারে। জিন জাতিকে সোলায়মান (আঃ)-এর অনুগত করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি জিনদের দ্বারা বায়তুল মুক্বাদ্দাস নির্মাণ করেছিলেন। যেমন হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘গত রাতে একটা অবাধ্য জিন হঠাৎ করে আমার সামনে প্রকাশ পেল। রাবী বলেন, অথবা তিনি অনুরূপ কোন কথা বলেছেন, যেন সে আমার ছালাতে বাধা সৃষ্টি করছে। কিন্তু আল্লাহ আমাকে তার উপর ক্ষমতা দিলেন। আমি ইচ্ছা করেছিলাম যে, তাকে মসজিদের খুঁটির সাথে বেঁধে রাখি, যাতে ভোরবেলা তোমরা সবাই তাকে দেখতে পাও। কিন্তু তখন আমার ভাই সুলায়মান (আঃ)-এর উক্তি আমার স্মরণ হ’ল, ‘হে রব! আমাকে দান কর এমন রাজত্ব, যার অধিকারী আমার পরে কেউ না হয়’ (নামল ৩৫/৩৮; বুখারী হা/৪৬১; আহমাদ হা/১১৭৯৮৭; ছহীহাহ হা/৩২৫১)। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বলেন, কোন অবস্থায় মানুষ জিনকে দেখতে পাবে না এমনটি নয়। বরং ভাল বা মন্দ ব্যক্তিরাও বিশেষ সময়ে জিনদের দেখতে পারে (মাজমূঊল ফাতাওয়া ১৫/৭)

Posted in জিন বা শয়তানকে মানুষ কি কখনো দেখতে পারে? | Tagged

ছালাতরত অবস্থায় মোবাইলে রিং বেজে উঠলে তা সাথে সাথে বন্ধ করা যাবে কি?


মোবাইল বন্ধ করেই ছালাতে আসবে। ভুলবশতঃ মোবাইল বন্ধ না করে ছালাত শুরু করলে এবং ছালাতরত অবস্থায় মোবাইল বেজে উঠলে তা বন্ধ করা যাবে। কেননা ছালাতে বিঘ্ন ঘটায় এমন কাজ ছালাত অবস্থায় প্রতিহত করা যায় (আহমাদ, আবুদাঊদ, নাসাঈ, মিশকাত হা/১০০৫)

Posted in প্রশ্নোত্তর | Tagged

একটি জাতীয় দৈনিকে লেখা হয়েছে যে, ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) শতাধিক কিতাব লিখে ইসলামের মৌলিক সমস্যা সমাধানে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন বলেই ইসলাম মাযহাবী খুঁটির উপর দন্ডায়মান। বক্তব্যটির সত্যতা জানতে চাই।


এ বক্তব্য ভিত্তিহীন এবং ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর উপর চরম মিথ্যা অপবাদ। ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর নিজস্ব রচিত কোন কিতাব নেই। যে কিতাবগুলো তাঁর নামের সাথে সম্পৃক্ত করা হয় তার কোন ভিত্তি নেই। মূলতঃ দু’টি কিতাব তাঁর রচিত বলে উল্লেখ করা হয়। একটি হ’ল- মুসনাদে ইমাম আবু হানীফা। দ্বিতীয়টি হ’ল- আল-ফিক্বহুল আকবার। কিন্তু এতে যথেষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে। কেননা এটি ধারাবাহিক সূত্রে প্রমাণিত নয়। আবার এই কিতাবে এমন কিছু আলোচনা রয়েছে যা ইমাম আবু হানীফার মৃত্যুর বহু বছর পরে ঘটেছে। যেমন কুরআন আল্লাহর মাখলূক না তাঁর কালাম? যা প্রমাণ করে যে, এটি তার রচিত কিতাব নয় (ড. আব্দুল আযীয হুমায়দী, বারাতু আইম্মাতিল আরবা‘আ ৫৫-৭৬ পৃ: দ্রষ্টব্য)। তাছাড়া ইসলাম মাযহাবী খুঁটির উপর দন্ডায়মান কথাটি অত্যন্ত আপত্তিকর। কেননা মাযহাবসমূহ শরী‘আত গবেষণার ধারাবাহিকতা মাত্র। এর উপর ইসলামী শরী‘আত নির্ভরশীল নয়। বরং ইসলামী শরী‘আতের ভিত্তি বা খুঁটি হ’ল কুরআন এবং ছহীহ হাদীছ। ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) সহ সকল ইমামই সর্বাবস্থায় কুরআন এবং সুন্নাহকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এটাই সালাফে ছালেহীনের সর্ববাদীসম্মত নীতি।

Posted in আবু হানীফা (রহঃ) শতাধিক কিতাব লিখেছেন বলে কি ইসলাম টিকে আছে? | Tagged , ,

স্বামী ও স্ত্রী জামা‘আতে ছালাত পড়তে পারবে কি?


স্বামীর ইমামতিতে স্ত্রী জামা‘আতে ছালাত আদায় করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামীর পিছনের কাতারে দাঁড়াবে (ফাতাওয়া ইসলামিয়া ১/৫৫৯)। আনাস (রাঃ) বলেন, আমরা একদিন রাসূলের সাথে ছালাতে দাঁড়ালাম। তখন আমি ও ইয়াতীম বালক তার পেছনে দাঁড়ালাম এবং বৃদ্ধা মহিলা আমাদের পেছনে দাঁড়ালেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদের নিয়ে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করলেন (বুখারী হা/৩৮০; মুসলিম হা/৬৫৮)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, আনাস (রাঃ) বলেন, একবার নবী (ছাঃ)  তাকে, তার মা ও খালাসহ ছালাত আদায় করলেন। তিনি বলেন, আমাকে তিনি তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন। আর মহিলাদেরকে দাঁড় করালেন আমাদের পেছনে (মুসলিম হা/৬৬০; মিশকাত হা/১১০৯)

Posted in স্বামী ও স্ত্রী জামা‘আতে ছালাত পড়তে পারবে কি? | Tagged , ,

স্ত্রীর সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আমি তাকে কুড়াল দিয়ে মারতে যাই। সে হাত দ্বারা প্রতিহত করে এবং ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে কুড়ালটি এসে আমার মাথায় আঘাত করে। এতে আমি রাগান্বিত হয়ে তাকে তিন তালাক দেই। রাগ প্রশমিত না হওয়ায় তাকে আরো এক তালাক দেই। পরে লোকজন এসে আমাদের দু’জনকে দু’দিকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে রাগ কমলে আমি অত্যন্ত অনুতপ্ত হই এবং আমি আমার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে চাই। এক্ষণে আমি আমার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে চাইলে করণীয় কি?


এক বৈঠকে তিন তালাক এক তালাক হিসাবে গণ্য হয় (মুসলিম হা/১৪৭২)। কাজেই কেউ তার স্ত্রীকে এক বৈঠকে তিন তালাক দিলে সে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারে। ইদ্দতের (তিন তুহরের) মধ্যে হ’লে স্বামী সরাসরি স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিবে। আর ইদ্দত পার হয়ে গেলে উভয়ের সম্মতিতে নতুন বিবাহের মাধ্যমে ফেরত নিবে (বাক্বারাহ ২/২৩২)। ছাহাবী আবু রুকানা তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তুমি তোমার স্ত্রীকে ফেরত নাও। তিনি বললেন, আমি তাকে এক মজলিসে তিন তালাক দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, আমি অবশ্যই এ খবর জানি। তুমি তাকে ফেরত নাও (আবূদাঊদ হা/২১৯৬, সনদ হাসান)। অতএব প্রশ্নে উল্লেখিত অবস্থায় স্বামী তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারবেন।

 

উল্লেখ্য যে, ‘তাহলীল’ বা হিল্লা একটি জাহেলী প্রথা। এর সাথে ইসলামী শরী‘আতের কোন সম্পর্ক নেই। আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) হিল্লাকারী ও যার জন্য হিল্লা করা হয় উভয়কে লা‘নত করেছেন (নাসাঈ, তিরমিযী, দারেমী, মিশকাত হা/৩২৯৬-৯৭)। এক সাথে তিন তালাককে তালাকে বায়েন গণ্য করার মন্দ প্রতিক্রিয়ায় মাযহাবের নামে ‘হিল্লা’ প্রথা চালু হয়েছে। অথচ এক সঙ্গে তিন তালাক বায়েন বিষয়টি পবিত্র কুরআন (বাক্বারাহ ২/২২৮-২৯; তালাক ৬৫/১) ও ছহীহ হাদীছ সমূহের প্রকাশ্য বিরোধী (মুসলিম হা/১৪৭২; আবুদাঊদ হা/২১৯৬; আহমাদ হা/২৩৮৭)। সবচেয়ে বড় কথা হ’ল, এতে স্বামী-স্ত্রী তাদের আকস্মিক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দেওয়া সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। অতএব ধর্মের নামে প্রচলিত এই নোংরা প্রথা থেকে প্রত্যেক মুমিন নর-নারীকে বেঁচে থাকা আবশ্যক (বিস্তারিত : ‘তালাক ও তাহলীল’ বই)

Posted in তালাক তিনবার দেওয়ার পরেও কি স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া যাবে? | Tagged

আমাদের মসজিদের ইমাম জুম‘আর খুৎবার শেষে মিম্বারে থাকা অবস্থায় ছালাতের আগে মুছল্লীদের নিয়ে দু’হাত তুলে সম্মিলিত দো‘আ করেন। এভাবে দো‘আ করা কি জায়েয?


খুৎবা চলাকালীন ইমাম ও মুক্তাদীদের হাত তুলে মুনাজাত করা বিদ‘আত। রাসূল (ছাঃ) বা ছাহাবায়ে কেরাম এভাবে হাত উত্তোলন করে দো‘আ করেননি। কেবল বিশেষ পরিস্থিতিতে রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম বৃষ্টি প্রার্থনার জন্য হাত তুলে দো‘আ করেছিলেন। বর্তমানেও এরূপ পরিস্থিতি আসলে দো‘আ করতে পারে। কিন্তু এটিকে দলীল হিসাবে নিয়ে নিয়মিত খুৎবায় হাত তুলে দো‘আ করা যাবে না। কারণ রাসূল (ছাঃ)-এর পরে কোন ছাহাবী এভাবে দো‘আ করেননি। অথচ রাসূলের আদর্শ বাস্তবায়নে ছাহাবীগণই অধিক অগ্রগামী ছিলেন (নববী, শারহু মুসলিম হা/৮৭৪-এর আলোচনা ৬/১৬২; বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১২/৩৩৯)। বরং কেউ খুৎবায় হাত উত্তোলন করে মুনাজাত করলে ছাহাবায়ে কেরাম বাধা দিয়েছেন বলে দলীল পাওয়া যায়। যেমন একদিন বিশর ইবনু মারওয়ান জুম‘আর খুৎবা প্রদানকালে দো’আ করার সময় উভয় হাত উপরে তুললেন। এতে ছাহাবী উমারা বললেন, আল্লাহ এই বেঁটে হাত দু’টিকে কুৎসিত করুন। আমি নিশ্চিতরূপে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে দেখেছি, তিনি নিজের হাত দিয়ে (ইশারা)-এর বেশী কিছু করতেন না (মুসলিম হা/৫৩; তিরমিযী হা/৫১৫; আবুদাউদ হা/১১০৪; ইবনু খুযায়মাহ হা/১৭৯৩, সনদ ছহীহ)। তবে ইমাম যদি দো‘আ পাঠ করেন আর মুছল্লীরা নিম্নস্বরে আমীন বলে তবে তাতে কোন দোষ নেই। কারণ এটা দো‘আ কবুলের সময় বলে হাদীছে বর্ণিত হয়েছে (ঊছায়মীন, ফাতাওয়া ইসলামিয়াহ ১/৬৯৫)

Posted in জুম‘আর খুৎবার শেষে দু’হাত তুলে সম্মিলিত দো‘আ করা যাবে কি? | Tagged ,

অনেকে বলেন, খুৎবার সময় তাশাহহুদের হালতে বসতে হবে। এর প্রমাণে কোন দলীল আছে কি?


জুম‘আর খুৎবা শ্রবণের জন্য বসার নির্দিষ্ট কোন নিয়ম নেই। মুছল্লী আদব বজায় রেখে সুবিধামত বসবে। তবে সাধারণ অবস্থায় যেভাবে বসা সমীচীন নয় মসজিদেও সেভাবে বসা উচিৎ নয় (ইমাম শাফেঈ, কিতাবুল উম্ম ১/২৩৫)। যেমন হাদীছে এসেছে, ছাহাবীগণ বলেন, রাসূল (ছাঃ) জুম‘আর দিন ইমামের খুৎবা চলাকালে কাউকে হাঁটু উপরে উঠিয়ে কাপড় জড়িয়ে বসতে নিষেধ করেছেন (আবুদাউদ হা/১১১০; মিশকাত হা/১৩৯৩; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৮৭৬)। সর্বোপরি ইমামের খুৎবা চলাকালে মুছল্লী এমনভাবে বসবে যেন ইমামের চেহারার দিকে তাকিয়ে থেকে মনোযোগ সহকারে খুৎবা শ্রবণ করতে পারে (তিরমিযী হা/৫০১; মিশকাত হা/১৪১৪; বায়হাকী, সুনানুল কুবরা হা/৫৫০৩; ছহীহাহ হা/২০৮২)

Posted in খুৎবার সময় তাশাহহুদের হালতে বসতে হবে কি? | Tagged

বিভিন্ন ইতিহাস গ্রন্থে দেখা যায়, আবুবকর (রাঃ) ফাতিমা (রাঃ)-কে মারার জন্য কুনফুয নামক এক ব্যক্তিকে পাঠিয়েছিলেন। তার ছড়ির আঘাতে ফাতেমার গর্ভপাত হয়ে যায় এবং এর প্রভাবেই তিনি মারা যান। এই ঘটনার কোন সত্যতা আছে কি?


উক্ত ঘটনা শী‘আ ঐতিহাসিকরা তাদের গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, যা কিছু সুন্নী ঐতিহাসিকও তাদের গ্রন্থে উপস্থাপন করেছেন। অথচ ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য-প্রণোদিত। এর দ্বারা শী‘আরা হযরত আবুবকর ও ওমর (রাঃ)-এর মর্যাদায় আঘাত করতে চেয়েছে এবং মুসলমানদের মাঝে বিভেদ ও বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে চেয়েছে (ইবনু জারীর তাবারী, শীঈ, দালায়েলুল ইমামাহ ৪৫পৃ; তিব্রীসী, আল- ইহতিজাজ ১/৫১, ২০১-২০৩; বাহরুল আনওয়ার ৪৩/১৭৯)। শী‘আদের রচিত এরূপ মিথ্যা ও বানোয়াট ঘটনাসমূহের প্রতিবাদে বিদ্বানগণ বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন (ইবনু তায়মিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ; ইবনু আবিল হাদীদ, শারহু নাহজিল বালাগাহ ১/৩৮৬, ২/৬০; ইহসান ইলাহী যহীর, শী‘আ ওয়া আহলিল বায়ত ১/১৭৫-১৮০)

Posted in আবুবকর (রাঃ) ফাতিমা (রাঃ)-কে মারার লোক পাঠিয়েছিলেন কি? | Tagged

হালাল ও জায়েয এবং হারাম ও নাজায়েযের মধ্যে পার্থক্য কি?


ফক্বীহদের নিকট জায়েয ও হালাল এবং নাজায়েয ও হারামের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। বরং উভয়ই সমার্থক হিসাবে ব্যবহৃত হয় (উছায়মীন, লিকাউল বাবিল মাফতূহ ১/১০; ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব ১১২/০২)

Posted in হালাল ও জায়েয এবং হারাম ও নাজায়েযের মধ্যে পার্থক্য কি? | Tagged

আলী (রাঃ) কি যয়নাব বিনতে জাহাশ ও উম্মে সালামা (রাঃ)-কে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন? তাদের জন্য তার থেকে উত্তম স্বামী পাওয়ার ব্যাপারে দো‘আ করেছিলেন এবং নিজের জন্যও তাদের চেয়ে উত্তম স্ত্রীর দো‘আ করেছিলেন। ফলে ফাতেমা (রাঃ)-এর সাথে তাঁর বিবাহ হয়?


উক্ত ঘটনার কোন ভিত্তি নেই। বরং যয়নব বিনতে জাহাশ যায়েদ বিন হারেছার নিকট থেকে তালাকপ্রাপ্তা হ’লে রাসূল (ছাঃ) তাকে বিয়ে করেন (বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা হা/১৩৫৬০)। আবু সালামা (রাঃ) মৃত্যুকালে দো‘আ করেছিলেন যেন উম্মে সালামা তার মৃত্যুর পর তার অপেক্ষা অধিক উত্তম স্বামী পান। তার দো‘আ কবুল হয়েছিল। উম্মে সালামাকে রাসূল (ছাঃ) বিয়ে করেন। ফলে উম্মে সালামা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষকে স্বামী হিসাবে পান (মুসলিম হা/৯১১; হাকেম হা/৬৭৫৯; আহমাদ হা/২৬৭১১)

Posted in আলী (রাঃ) কি যয়নাব সালামা (রাঃ)-কে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন? | Tagged ,

জুম‘আর খুৎবা চলাকালীন কোন কিছু খাওয়া বা পান করা যাবে কী?


খুৎবা চলাকালীন মসজিদের বাইরে অবস্থান করলে খাওয়া ও পান করাতে কোন দোষ নেই। কিন্তু মসজিদে অবস্থানকালে পানাহারসহ দুনিয়াবী কাজ করা নিষিদ্ধ। তবে অসুস্থ হ’লে বা বাধ্যগত অবস্থায় পড়লে খাদ্য বা পানি গ্রহণে দোষ নেই (নববী, আল-মাজমূ‘ ৪/৫২৯; বাহুতী, কাশ্শাফুল কেনা‘ ৩/৩৮৯; আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়া ১৯/১৮৫; উছায়মীন, তা‘লিকাতুল আলা কাফী লি ইবনু কুদামাহ ২/২৩৭)

Posted in জুম‘আর খুৎবা চলাকালীন কোন কিছু খাওয়া যাবে কী? | Tagged

পূর্ববর্তী উম্মতদের উপরও কি রামাযানের ছিয়াম ফরয ছিল?


কুরআনের ভাষ্য থেকে বোঝা যায় যে, পূর্ববতী নবী-রাসূল ও তাদের উম্মতদের উপরও ছিয়াম ফরয ছিল। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের উপর ছিয়াম ফরয করা হ’ল, যেমন তা ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর’ (বাক্বারাহ ২/১৮৩)। তবে তাদের উপর নির্দিষ্টভাবে রামাযানের ছিয়াম ফরয ছিল কি-না কিংবা তাদের উপর ফরযকৃত ছিয়ামের সংখ্যা ও ধরন সম্পর্কে কুরআন ও হাদীছে সরাসরি কোন বর্ণনা নেই। যদিও ছাহাবী ও তাবেঈদের পক্ষ থেকে কিছু আছার এসেছে। যেমন মু‘আয বিন জাবাল (রাঃ) বলেন, তাদের উপর প্রতি মাসে তিনটি করে ও আশূরার ছিয়াম ফরয ছিল। আর ছিয়ামগুলো মুসলমানেরা মদীনা আসার পূর্ব পর্যন্ত বরং মদীনাতে গিয়েও ১৭ বা ১৯ মাস পালন করেছেন। রাসূল (ছাঃ) মদীনায় হিজরত করলে ঐগুলো নফল হিসাবে থেকে যায় এবং রামাযানের ছিয়াম ফরয করা হয় (হাকেম হা/৩০৮৫; আহমাদ হা/২২১৭৭; ইরওয়া)। মুজাহিদ বলেন, প্রত্যেক জাতির উপর রামাযানের ছিয়াম ফরয ছিল। শা‘বী ও অন্যান্যরা বলেন, ইহুদী ও নাছারাদের উপর রামাযানের ছিয়াম ফরয করা হয়। পরে তারা সময়ের পরিবর্তন করে। ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। তারা সুস্থ হওয়ার জন্য আরো দশটি করে ছিয়াম পালনের মানত করলে পরে তা ৫০টিতে রূপান্তরিত হয়। হাসান বছরীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমাদের পূর্ববর্তী সকল উম্মতের উপর এক মাস ছিয়াম ফরয ছিল (তাফসীরে ইবনু কাছীর ১/৪৯৭)। হাফেয ইবনু জারীর আত-তাবারী এসকল বর্ণনার সমন্বয় করে বলেন, ইবরাহীম (আঃ)-এর পরবর্তী সকল নবী ও তাদের অনুসারীদের প্রতি একমাস ছিয়াম পালন ফরয ছিল। আর এরও পূর্ববর্তী যারা ছিল তাদের উপর আইয়ামে বীযের তিনটি ছিয়াম ফরয ছিল (তাফসীরে তাবারী ৩/৪১২)

Posted in রামাযানের ছিয়াম পূর্ববর্তী উম্মতদের উপরও কি ফরয ছিল? | Tagged ,

কোন কোন আমল করলে আমার আববা বারযাখী জীবনে শান্তিতে থাকতে পারবেন এবং তার গুনাহগুলো আল্লাহ মাফ করে দিয়ে তাকে জান্নাতে দাখিল করাবেন?


পিতার জন্য সন্তানের কর্তব্য হ’ল তাঁর জন্য সাধ্যমত ছাদাক্বা করা এবং নিয়মিত তাঁর মাগফিরাতের জন্য দো‘আ করা। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সমস্ত আমল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় কেবল তিনটি আমল ব্যতীত- (১) ছাদাক্বায়ে জারিয়াহ (যেমন মসজিদ, মাদরাসা, ইয়াতীমখানা, রাস্তা ও বাঁধ নির্মাণ, অনাবাদী জমিকে আবাদকরণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থাকরণ, দাতব্য চিকিৎসালয় ও হাসপাতাল স্থাপন, বই ক্রয় করে বা ছাপিয়ে বিতরণ, বৃক্ষরোপণ ইত্যাদি)। (২) ইলম, যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় (যা মানুষকে নির্ভেজাল তাওহীদ ও ছহীহ সুন্নাহর পথ দেখায় এবং যাবতীয় শিরক ও বিদ‘আত হ’তে বিরত রাখে)। (৩) সুসন্তান, যে তার জন্য দো‘আ করে’ (মৃতের জন্য সর্বোত্তম হাদিয়া হ’ল সুসন্তান, যে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, ছাদাক্বা করে, তার পক্ষ হ’তে হজ্জ করে ইত্যাদি) (মুসলিম হা/১৬৩১, মিশকাত হা/২০৩)

অন্য বর্ণনায় রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘মৃত্যুর পর কবরে থাকা অবস্থায় বান্দার সাতটি আমল জারী থাকে। (১) দ্বীনী ইলম শিক্ষা দান করা (২) নদী-নালা প্রবাহিত করা (৩) কূপ খনন করা (৪) খেজুর তথা ফলবান বৃক্ষ রোপণ করা (৫) মসজিদ নির্মাণ করা (৬) কুরআন বিতরণ করা (৭) এমন সন্তান রেখে যাওয়া, যে পিতার মৃত্যুর পর তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে’ (মুসনাদ বাযযার হা/৭২৮৯; বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান; ছহীহুল জামে‘ হা/৩৬০২)। এটি পূর্বোক্ত হাদীছের ব্যাখ্যা স্বরূপ।

Posted in বারযাখী জীবনে পিতার জন্য সন্তানের কতর্ব্য কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তির পিতা জাদুটোনা করে থাকে। আর সে ঐ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন জায়গায় গমন করে। এই ব্যক্তি বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে ছেলের কাছ থেকে টাকা নেয় এবং সে টাকা জাদু করার কাজে খরচ করে। এক্ষণে প্রশ্ন হ’ল- এগুলো জানা সত্ত্বেও পিতাকে টাকা দিয়ে সাহায্য করা বৈধ হবে কি?


এমতবস্থায় পিতার অবৈধ কাজে কোনরূপ সহযোগিতা করা যাবে না (মায়েদা ৫/২; তিরমিযী হা/১৭০৭; মিশকাত হা/৩৬৯৬)। খাওয়া, পরা ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি যেতে যতটুকু খরচ লাগে কেবল ততটুকু খরচ দিতে হবে। সেই সাথে পিতাকে শিরকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। স্মর্তব্য যে, পিতা-মাতা সর্বাবস্থায় সদ্ব্যবহার পাওয়ার হকদার (ইসরা ১৪/২৩-২৪)। তারা শিরক করার জন্য চাপ দিলে তাদের আনুগত্য করা যাবে না, কিন্তু তাদের সাথে সদাচরণ করে যেতে হবে (লোক্বমান ৩১/১৪-১৫)

Posted in জাদুটোনা শেখার কাজে পিতাকে টাকা দেওয়া যাবে কি? | Tagged

আযানের হাদীছগুলো থেকে কি এটা প্রমাণিত হয় না যে ওলী-আউলিয়াদের কাছে স্বপ্নের মাধ্যমে অহী আসতে পারে?


না, আযানের হাদীছগুলো এর কোন প্রমাণ বহন করে না। কারণ কেবল দু’জন ছাহাবীর স্বপ্নের মাধ্যমে আযানের বিধান সাব্যস্ত হয়নি। বরং রাসূল (ছাঃ)-এর অনুমোদনের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে। আর স্বপ্ন তখনই অহী হিসাবে গণ্য হবে যখন তা রাসূল (ছাঃ) কর্তৃক স্বীকৃত হবে। সুতরাং ওলী-আওলিয়াদের কাছে স্বপ্নযোগে অহী আসার কোন দলীল নেই। তবে নেককার ব্যক্তিদের ভাল স্বপ্ন কখনও সত্য হ’তে পারে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘নেককার লোকের ভাল স্বপ্ন নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ’ (বুখারী হা/৬৯৮৩; মুসলিম হা/২২৬৩; মিশকাত হা/৪৬২২)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতসমূহের মধ্যে কিছু লোক ছিলেন মুহাদ্দাছ (আল্লাহর পক্ষ থেকে ইলহাম প্রাপ্ত), আমার উম্মতের মধ্যে যদি কেউ এমন থেকে থাকে তবে সে ওমর ইবনুল খাত্ত্বাবই হবে’ (বুখারী, মুসলিম হা/২৩৯৮; তিরমিযী হা/৩৬৯৩)

Posted in স্বপ্নের মাধ্যমে ওলী-আউলিয়াদের কাছে অহী আসতে পারে কি? | Tagged ,

আমার বাড়িতে দীর্ঘ তিন মাস যাবত একটি মোরগ আসছে। যার মালিক খুঁজে পাচ্ছি না। আঁটকিয়ে রাখছি না তবে খাবার খাওয়াচ্ছি। রাতে হেফাযত করার জন্য ঘরের ভিতর রাখি। বেওয়ারিশ এই মোরগ কি আমি বিক্রি করতে বা খেতে পারব?


হারানো বস্ত্তর ক্ষেত্রে নিয়ম হ’ল, হাটে-বাজারে ও মসজিদের বাইরে এর মালিককে সন্ধান করা। যদি এক বছরেও মালিকের সন্ধান না মিলে তাহ’লে ব্যক্তি উক্ত সম্পদ ভোগ করতে পারবে (বুখারী হা/২৪২৭; মুসলিম হা/১৭২২; মিশকাত হা/৩০৩৩)। তবে মোরগ ও এই জাতীয় হারানো দুর্বল প্রাণীদের ক্ষেত্রে বিধান হ’ল- ১. যবেহ করে খেয়ে নিবে এবং পরবর্তীতে মালিকের সন্ধান পাওয়া গেলে মূল্য দিয়ে দিবে। ২. বিক্রয় করে দিবে এবং মালিকের সন্ধান মিললে মূল্য পরিশোধ করবে। ৩. অথবা নিজে লালন পালন করবে এবং মালিকের সন্ধান পেলে মালিকের নিকট ফেরত দিবে (ইবনুল ক্বাইয়িম, যাদুল মা‘আদ ৩/৫৭৫)। এই ধরনের প্রাণী সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) বলেন, তা তুমি নিয়ে নাও। কেননা সেটা তোমার কিংবা তোমার ভাইয়ের আর তা না হ’লে নেকড়ে বাঘের (বুখারী হা/২৪৩৬; মুসলিম হা/১৭২২; মিশকাত হা/৩০৩৩)

Posted in হারানো বা বেওয়ারিশ মোরগ কি আমি বিক্রি করতে পারব? | Tagged

জনৈক ব্যক্তির মৃত্যুর সময় পাশের লোকজন কালেমা পাঠ করছিল। এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তি রূহ বের হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে একটা হাসি দেয়, কিন্তু তার শরীর অচেতন অবস্থায় ছিল। এখন মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে এমন হাসি কি কোন ভাল বা মন্দ দিক ইঙ্গিত করে?


মৃত্যুর পূর্বে হাসি দেওয়া ব্যক্তির সৎআমলের উপর মৃত্যুবরণ করার প্রমাণ বহন করে। কারণ মুমিনের মৃত্যুর সময় জান্নাতের ফেরেশতা তাকে সুসংবাদ দিয়ে থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা বলে আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ। অতঃপর তার উপর অবিচল থাকে, তাদের উপর ফেরেশতামন্ডলী নাযিল হয় এবং বলে যে, তোমরা ভয় পেয়ো না ও চিন্তান্বিত হয়ো না। আর তোমরা জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল’ (হামীম আস-সাজদাহ ৪১/৩০)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা যদি তার কোন বান্দার কল্যাণ করার ইচ্ছা করেন তাহ’লে তাকে কাজ করার তাওফীক প্রদান করেন। প্রশ্ন করা হ’ল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! তিনি কিভাবে তাকে কাজ করার তাওফীক দেন? তিনি বললেন, তিনি সেই বান্দাহকে মৃত্যুর পূর্বে সৎকাজের সুযোগ দান করেন’ (আহমাদ হা/১২০৫৫; তিরমিযী হা/২১৪২; মিশকাত হা/৫২৮৮, সনদ ছহীহ)

Posted in মৃত্যুর পূর্বে হাসি দেওয়া ব্যক্তির সৎআমলের উপর মৃত্যুবরণ করা প্রমান করে কি | Tagged ,

রাতে গাছের ফল নামানোয় শরী‘আতে কোন নিষেধাজ্ঞা আছে কি?


সাধারণভাবে রাতে গাছের ফল নামানো সমীচীন নয়। হুসাইন (রাঃ) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) রাতে গাছ থেকে খেজুর আহরণ করতে এবং রাতে ক্ষেত থেকে ফসল কাটতে নিষেধ করেছেন’। জা‘ফর ইবনু মুহাম্মাদ বলেন, আমার মনে হয় ফক্বীর-মিসকীনদের দেওয়ার ভয়ে (বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা হা/৭৩০২; ছহীহাহ হা/২৩৯৩; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৮৭২)। অর্থাৎ দিনের বেলায় ফসল কাটলে ফক্বীর-মিসকীনরা আসবে এবং তাদের দিতে হবে সেই ভয়ে রাতে ফসল ও খেজুর সংগ্রহ করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে।

Posted in রাতে গাছের ফল নামানোয় শরী‘আতে কোন নিষেধাজ্ঞা আছে কি? | Tagged ,

আমার দুই ভাগিনী হানাফী মাদরাসায় লেখাপড়া করে। আমি তাদের মাদরাসার মাসিক বেতন দেই। কিন্তু তাদের পিতামাতা আহলেহাদীছ লোকদের ছালাত পসন্দ করে না এবং যে দুই ভাগিনী মাদরাসায় লেখাপড়া করে তারাও পসন্দ করে না। এ ক্ষেত্রে আমার করণীয় কি? আমি যে টাকা দিচ্ছি তাতে তারা যে ভুল জিনিস শিক্ষা নিয়ে ভুল আমল করবে তাতে আমি গোনাহগার হব কি?


এমতবস্থায় সাধ্যমত তাদেরকে বিশুদ্ধ আক্বীদা ও মানহাজসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আর যদি তারা ভুল আক্বীদা ও আমল সম্পর্কে সচেতন না হয়; বরং ভুলের উপর অটল থাকে, তবে সহযোগিতা করা যাবে না। কেননা দ্বীনশিক্ষার নামে জেনেশুনে শিরক ও বিদ‘আতী আক্বীদা ও আমল শিক্ষাগ্রহণে সহযোগিতা করা অন্যায়ের সহযোগিতারই শামিল (মায়েদাহ ৫/২)

Posted in ভুল আমল শিক্ষাকারীকে সহযোগিতা করা যাবে কি? | Tagged ,

যোহরের ফরয ছালাতের আগের ৪ বা ২ রাক‘আত সুন্নাত পড়তে না পারলে তা কি যোহরের ফরয ছালাতের পর আদায় করা যাবে? এই অবস্থায় কোন সুন্নাতটি আগে পড়ব?


ছুটে যাওয়া সুন্নাত যোহরের ফরয ছালাতের পর আদায় করা যাবে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) যদি যোহরের পূর্বে চার রাক‘আত না আদায় করতেন তবে  যোহরের (ফরযের) পর তা আদায় করতেন’ (তিরমিযী হা/৪২৬; ইবনু মাজাহ হা/১১৫৮, সনদ হাসান)। পূর্বের সুন্নাত ও পরের সুন্নাত আগ-পিছ করার ব্যাপারে শিথিলতা রয়েছে। তবে উত্তম হ’ল পরের দু’রাক‘আত সুন্নাত পড়ে নেয়ার পর পূর্বের চার বা দু’রাক‘আত সুন্নাত পড়া (ওছায়মীন, ফাৎহু যিল জালালি ওয়াল ইকরাম ২/২২৫)

Posted in যোহরের সুন্নাত জামাতের আগে পড়তে না পারলে পরে পড়া যাবে কি? | Tagged

নবী করীম (ছাঃ) বা কোন ছাহাবী হ’তে ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর আগমন সম্পর্কে কোন ভবিষ্যদ্বাণী আছে কি?


রাসূল (ছাঃ) বা কোন ছাহাবী থেকে ইমাম আবু হানীফার ব্যাপারে ভবিষ্যদ্বাণী নেই। বরং উক্ত বিষয়ে বর্ণিত হাদীছ দ্বারা প্রখ্যাত ছাহাবী সালমান ফারেসী ও তাঁর জাতিকে বুঝানো হয়েছে। হাদীছটির অনুবাদ হ’ল- আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমরা নবী করীম (ছাঃ)-এর কাছে বসেছিলাম। এসময় তাঁর উপর সূরা জুম‘আ অবতীর্ণ হ’ল, যার একটি আয়াত হ’ল- ‘এবং তাদের অন্যান্যের জন্যও যারা এখনও তাদের সঙ্গে মিলিত হয়নি’ (৬২/৩)। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, তারা কারা? তিনবার জিজ্ঞেস করা সত্ত্বেও তিনি কোন উত্তর দিলেন না। আমাদের মাঝে সালমান ফারেসী উপস্থিত ছিলেন। রাসূল (ছাঃ) সালমানের উপর হাত রেখে বললেন, ঈমান ছুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জের নিকট থাকলেও কিছু লোক বা তাদের এক ব্যক্তি তা অবশ্যই পেয়ে যাবে’ (বুখারী হা/৪৮৯৭)। মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে, যদি দ্বীন ছুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জের নিকটেও থাকত, তবুও পারস্যের একজন ব্যক্তি তা নিয়ে আসত বা পারস্যের সন্তানদের কেউ তা পেয়ে যেত’ (মুসলিম হা/২৫৪৬)। ছহীহ ইবনে হিববানের বর্ণনায় আরো স্পষ্টভাবে এসেছে যে, রাসূল (ছাঃ) এসময় সালমানের উরুতে হাত মেরে বললেন, এই ব্যক্তি ও তার জাতি (ছহীহ ইবনু হিববান হা/৭১২৩)

তবে রাদ্দুল মুহতারে ইমাম সুয়ূতী (রহঃ)-এর একটি উক্তি উদ্ধৃত করা হয়েছে এ মর্মে যে, তিনি বলেন, এ হাদীছ দ্বারা ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর ব্যাপারে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে (রাদ্দুল মুহতার ১/৫৩; বঙ্গানুবাদ তাফসীর মা‘আরেফুল কুরআন ১২৬৩ পৃঃ, মুহাম্মাদ ৩৮ আয়াতের ব্যাখ্যা), যার কোন ভিত্তি নেই।

Posted in ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর আগমন সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী আছে কি? | Tagged ,