অনেক সময় মানুষ মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্ন দেখে। যারা সেখানে তাদের অবস্থা, জীবিতদের প্রতি নানা উপদেশ, সতর্কবাণী ইত্যাদি দিয়ে থাকে। স্বপ্নের মাধ্যমে এসব খবরাখবরের কোন ভিত্তি আছে কি? এছাড়া মৃত্যুর পর মানুষ স্বপ্নে দেখা দিতে পারে কি?


পরহেযগার ও সত্যবাদী মানুষের স্বপ্ন সত্য হ’তে পারে। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেন, যখন ক্বিয়ামত নিকটবর্তী হবে, তখন (খাঁটি) মুসলিমের অধিকাংশ স্বপ্ন মিথ্যা ও ভ্রান্ত হবে না। তোমাদের মধ্যকার অধিক সত্যবাদী লোক সর্বাধিক সত্য স্বপ্নদ্রষ্টা হবে। তিনি বলেন, মানুষের স্বপ্ন তিন ধরনের হয়ে থাকে (ক) ভাল স্বপ্ন, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ বহন করে (খ) কষ্টদায়ক স্বপ্ন, যা শয়তানের পক্ষ থেকে হয় (গ) মনের মধ্যে উদ্ভূত কল্পনা, যা স্বপ্নে দেখা যায় (মুসলিম হা/২২৬৩)

আর স্বপ্নে মৃত ব্যক্তিকে দেখতে পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক্ষণে যদি কেউ স্বপ্নে এরূপ মৃত ব্যক্তিকে ভাল অবস্থায় দেখে বা মৃত ব্যক্তিকে ভাল কোন সংবাদ বা উপদেশ দিতে শুনে, তবে আল্লাহর শুকরিয়া করবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যখন তোমরা কেউ ভালো স্বপ্ন দেখবে, তখন আলহামদুলিল্লাহ পড়বে এবং সে নিজের প্রিয় লোকদের কাছে তা বলতে পারে (বুখারী হা/৬৯৮৫)

আর যদি মৃত ব্যক্তিকে খারাপ অবস্থায় দেখা যায় বা সে খারাপ সংবাদ প্রদান করে তাহ’লে বুঝতে হবে যে, এই স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে। এক্ষেত্রে রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশনা হ’ল, বাম দিকে তিনবার থুক মেরে ‘আ‘ঊযুবিল্লা-হি মিনাশ শায়ত্বা-নির রজীম’ বলবে এবং পার্শ্ব পরিবর্তন করবে (মুসলিম হা/২২৬২, মিশকাত হা/৪৬১৩)। অন্য বর্ণনায় এসেছে দাঁড়িয়ে (দু’রাক‘আত) ছালাত আদায় করবে এবং কাউকে বলবে না। কারণ এই স্বপ্ন তার কোন ক্ষতি করে না (মুসলিম হা/২২৬১-৬৩; বুখারী হা/৭০৪৪; মিশকাত হা/৪৬১২)

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) জুম‘আর খুৎবাদানরত অবস্থায় জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমার ঘাড়ে আঘাত করার ফলে আমার মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে গেল। তারপর আমি তা ধরে এনে পুনরায় আমার ঘাড়ে স্থাপন করলাম। রাসূল (ছাঃ) হেসে উঠে বললেন, ঘুমের মধ্যে তোমাদের কারো সাথে শয়তান খেলা করলে সে যেন তা লোকের কাছে না বলে (মুসলিম হা/২২৬৮; ইবনু মাজাহ হা/৩৯১২; মিশকাত হা/৪৬১৬)

উল্লেখ্য যে, খারাপ স্বপ্ন দেখলে বা মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখলে ছাদাক্বা করার যে প্রথা সমাজে চালু আছে তা বিদ‘আত। এগুলো থেকে বিরত থাকা কর্তব্য। বরং মৃত ব্যক্তির মাগফেরাতের জন্য যেকোন সময় দো‘আ ও ছাদাক্বা করা যায় (মুসলিম হা/৯২০, ১৬৩১; বুখারী হা/১৩৮৮; মিশকাত হা/১৬১৯, ১৯৫০)

Advertisements
Posted in মৃত্যুর পর মানুষ স্বপ্নে দেখা দিতে পারে কি? | Tagged ,

জনৈক ব্যক্তি তার সন্তানকে নিজের সন্তান হিসাবে পরিচয় দিতে অস্বীকার করে। এমতাবস্থায় সন্তানও পিতাকে পিতা হিসাবে স্বীকার করে না। এতে সন্তান কি গুনাহগার হবে?


এজন্য উভয়েই গোনাহগার হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘রক্ত সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না’ (বুখারী হা/৫৯৮৪; মুসলিম হা/২৫৫৬; মিশকাত হা/৪৯২২)। তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা তোমাদের পিতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না (অর্থাৎ তাকে অস্বীকার করো না)। কারণ যে লোক নিজের পিতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে কুফরী করে’ (বুখারী হা/৬৭৬৮; মুসলিম হা/৬২; মিশকাত হা/৩৩১৫)

Posted in সন্তানকে অস্বীকার করলে গুনাহগার হবে? | Tagged ,

বিবাহের কিছুদিন পর স্বামী জানতে পারে যে স্ত্রী আগে থেকে কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে অন্য পুরুষের সাথে বিবাহিতা। এক্ষণে একটি বিবাহ থাকা অবস্থায় অন্য স্বামীর সাথে বিবাহিত জীবন অতিবাহিত করার কারণে উক্ত স্বামী ও স্ত্রী গুনাহগার হবে কি? এছাড়া উক্ত স্বামী বা স্ত্রীর জন্য এখন করণীয় কি?


বৈধ অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত প্রচলিত কোর্ট ম্যারেজ শরী‘আতসম্মত নয়। এরূপ সম্পর্ক যেনার শামিল (তিরমিযী হা/১১০২; মিশকাত হা/৩১৩১; ছহীহুল জামে‘ হা/২৭০৯)। এক্ষণে পূর্বের বিবাহটি যেহেতু সঠিক ছিল না; সেহেতু পরবর্তী বিবাহ ও সংসারের কারণে কোন গুনাহ হবে না। কিন্তু স্ত্রীর পূর্বের কর্মকান্ডের জন্য তাকে অনুতপ্ত হয়ে খালেছ অন্তরে তওবা করতে হবে (ইবনু মাজাহ হা/৪২৫০; মিশকাত হা/২৩৬৩)। আর যদি বৈধ অভিভাবকের অনুমতি সাপেক্ষে প্রথম বিবাহ হয়ে থাকে, তবে পরবর্তী বিবাহ বাতিল বলে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে পূর্বের স্বামীর কাছ থেকে বিধি মোতাবেক তালাক নিয়ে নতুনভাবে বর্তমান স্বামীর সাথে বিবাহ পড়াতে হবে।

Posted in বিবাহ গোপন রেখে অন্যা বিবাহ করা করলে গোনাহগার হবে কি? | Tagged ,

জেহরী ছালাতে সূরা ফাতিহার পূর্বে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ সশব্দে তেলাওয়াত করা যাবে কি?


সশব্দে পড়ার কোন ছহীহ দলীল নেই (শাওকানী, নায়লুল আওত্বার ৩/৪৬)। অতএব বিসমিল্লাহ’ নীরবে পড়বে। অতঃপর সূরা ফাতিহা পাঠ করবে। প্রকাশ থাকে যে, আঊযুবিল্লাহ’ কেবল ১ম রাক‘আতে পড়বে, বাকী রাক‘আতগুলিতে নয় (ফিক্বহুস সুন্নাহ পৃঃ ১/১১২; নায়ল পৃঃ ৩/৩৬-৩৯; & বিস্তারিত)। অমনিভাবে বিসমিল্লাহ’সূরা ফাতিহার অংশ হওয়ার পক্ষে কোন ছহীহ দলীল নেই (বিস্তারিত আলোচনা দ্রষ্টব্য : নায়লুল আওত্বার পৃঃ ৩/৩৯-৫২)। বরং এটি দুই সূরার মধ্যে পার্থক্যকারী হিসাবে পঠিত হয়’ (আবুদাঊদ হা/৭৮৮ ‘ছালাত’ অধ্যায়-২, অনুচ্ছেদ-১২৫)। ইমাম কুরতুবী বলেন যে, সকল কথার মধ্যে সঠিক কথা হ’ল ইমাম মালেকের কথা যে, ‘বিসমিল্লাহ’ সূরা ফাতিহার অংশ নয়’। যেমন ‘কুরআন’ খবরে ওয়াহেদ অর্থাৎ একজন ব্যক্তির বর্ণনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না। বরং তা প্রতিষ্ঠিত হয় অবিরত ধারায় অকাট্ট বর্ণনা সমূহের মাধ্যমে, যাতে কোন মতভেদ থাকে না। ইবনুল ‘আরাবী বলেন, এটি সূরা ফাতিহার অংশ না হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, এতে মতভেদ রয়েছে। আর কুরআনে কোন মতভেদ থাকে না। বরং বিশুদ্ধ বর্ণনাসমূহ একথা প্রমাণ করে যে, ‘বিসমিল্লাহ’ সূরা ফাতিহার অংশ নয়’। এটি সূরা নমলের ৩০তম আয়াত মাত্র। এ বিষয়ে ছহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদীছটি প্রণিধানযোগ্য’ (মুসলিম হা/৩৯৫; মিশকাত হা/৮২৩ ‘ছালাতে ক্বিরাআত’ অনুচ্ছেদ-১২; তাফসীরে কুরতুবী মুক্বাদ্দামা, ‘বিসমিল্লাহ’ অংশ দ্রষ্টব্য, তাফসীরুল কুরআন ১৯ পৃঃ)

Posted in বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ সশব্দে তেলাওয়াত করা যাবে কি? | Tagged

ওযূর কার্যাবলীর মাঝে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ওয়াজিব কি? কোন একটি ভুলে গেলে পুনরায় শুরু থেকে করতে হবে কি?


ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ওয়াজিব এবং কেউ ভুলে গেলে তাকে পুনরায় ওযূ করতে হবে। আল্লাহর বাণী ‘হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা ছালাতে দন্ডায়মান হবে, তখন (তার পূর্বে বে-ওযূ থাকলে ওযূ করার জন্য) তোমাদের মুখমন্ডল ও হস্তদ্বয় কনুই সমেত ধৌত কর এবং মাথা মাসাহ কর ও পদযুগল টাখনু সমেত ধৌত কর’ (মায়েদাহ ৫/৬)। উক্ত আয়াত এবং অন্যান্য হাদীছের ভাষ্য মোতাবেক ইমাম শাফেঈ, ইমাম আহমাদ প্রমুখ বিদ্বানগণ ধারাবাহিকতা অবলম্বন করাকে আবশ্যিক বলেছেন এবং এটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত (মুসলিম হা/৮৩২; ওছায়মীন, ফাতাওয়া আরকানিল ইসলাম, পৃঃ ২১৯; ফাতাওয়া শায়খ বিন বায ১০/১০২-১০৩; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৩৮-৩৯)। তবে কেউ যদি ওযূর কোন অঙ্গ ধৌত করতে ভুলে যায় আর অন্যান্য অঙ্গগুলো শুকিয়ে যাওয়ার পূর্বেই স্মরণ করতে পারে, তাহ’লে সেই অঙ্গকে ধৌত করবে এবং ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে পরের অঙ্গগুলো পুনরায় ধৌত করবে। কিন্তু যদি অন্যান্য অঙ্গগুলো শুকিয়ে যায় তাহ’লে তাকে পুনরায় ওযূ করতে হবে (মাসায়েলুল ইমাম আহমাদ, পৃঃ ২৬, প্রশ্ন নং-৯২)। এ অবস্থায় এমনকি যদি ছালাত আদায় করেও ফেলে তাহ’লে ওযূ করে তাকে পুনরায় ছালাত আদায় করতে হবে। কারণ এক ব্যক্তি ওযূ করে এমন অবস্থায় ছালাত আদায় করছিল যে, তার পায়ের নখ পরিমাণ (তথা অতি সামান্য) অংশে পানি পৌঁছেনি। রাসূল (ছাঃ) তাকে পুনরায় সুন্দরভাবে ওযূ করার নির্দেশ দেন (ইবনু মাজাহ হা/৬৬৫; আবুদাউদ হা/১৭৩, সনদ ছহীহ)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি তাকে পুনরায় ওযূ করে ছালাত আদায় করার নির্দেশ প্রদান করেন (ইবনু মাজাহ হা/৬৬৬)। উল্লেখ্য যে, কোন কোন বিদ্বানের নিকট ওযূতে ধারাবাহিকতা ওয়াজিব নয় বরং সুন্নাত (আল মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিইয়াহ ১১/১০০-১০২)। শায়খ আলবানীও মিক্বদাম ইবনে মা‘দী কারিব (রাঃ) বর্ণিত একটি হাদীছ (আহমাদ হা/১৭২২৭)-এর ভিত্তিতে ওযূর ধারাবাহিকতা আবশ্যক নয় মন্তব্য করেছেন (সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৬১-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)। তবে হাদীছটি এ ক্ষেত্রে দলীলযোগ্য নয়। শায়খ শু‘আইব আরনাঊত্ব বলেন, হাদীছটি যঈফ। কারণ এর বর্ণনায় বৈপরিত্য এসেছে। অর্থাৎ কুলি করা ও নাক ঝাড়ার কথাটি হবে প্রথমে দু’হাত ধোয়ার পরে। যা বিশুদ্ধ হাদীছসমূহ দ্বারা প্রমাণিত (তাহকীক মুসনাদ আহমাদ ২৮/৪২৫)। এজন্য ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ)-এর ওযূর পদ্ধতি ছিল ধারাবাহিক ও ক্রমান্বয়িক। একবারের জন্যও তিনি এর ব্যত্যয় ঘটাননি (যাদুল মা‘আদ ১/১৮৭)

Posted in ওযূর কার্যাবলীর মাঝে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ওয়াজিব কি?, ওযূর কোন একটি ভুলে গেলে পুনরায় শুরু থেকে করতে হবে কি? | Tagged

ছহীহ হাদীছ কুরআনের বিরোধী হ’লে তা গ্রহণযোগ্য হবে কি?


ছহীহ হাদীছ কখনো কুরআন বিরোধী হবে না। যদি কখনো পরস্পর বিরোধী মনে হয়ে থাকে, তবে সেটি আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার ফল। কেননা শরী‘আত প্রণেতার কোন বিধানে স্ববিরোধিতা নেই। আর রাসূল (ছাঃ) যা বলতেন তা অহী (নাজম ৫৩/৩-৪)। এক্ষণে কোন হাদীছ বাহ্যত যদি কুরআন বিরোধী মনে হয়, তার সমাধানে মুহাদ্দিছগণের নীতি হ’ল- প্রথমতঃ হাদীছটির সনদ যাচাই করতে হবে। অতঃপর হাদীছটি বিশুদ্ধ হ’লে তার সঠিক ব্যাখ্যা তালাশ করতে হবে এবং আয়াত ও হাদীছের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে। যদি তাও সম্ভব না হয় তবে উভয়টির মাঝে যাচাই সাপেক্ষে কোন একটি হুকুমকে মানসূখ গণ্য করতে হবে। আর শেষাবধি কোন হুকুমটি মানসূখ তা নির্দিষ্ট করা না গেলে ‘অগ্রগণ্য কারণসমূহে’র (قرائن الترجيح) ভিত্তিতে কোন একটি হুকুমকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং তার উপর আমল করতে হবে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ফিকহী নীতিমালা রয়েছে (বিস্তারিত দ্রষ্টব্য : নববী, শরহ মুসলিম, পৃঃ ১/৩৫; শাওকানী, ইরশাদুল ফুহূল ২/২৬০-২৭৩)

Posted in ছহীহ হাদীছ কুরআনের বিরোধী হ’লে তা গ্রহণযোগ্য হবে কি? | Tagged ,

কুরআনী নির্দেশনা অনুযায়ী কোন নারী ব্যভিচারে লিপ্ত হ’লে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে ৪ জন পুরুষ সাক্ষী হাযির করা আবশ্যক। কিন্তু সেটি কিভাবে সম্ভব? আর চারজন সাক্ষী পেশ করার পিছনে হিকমত কি?


আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য হ’তে চারজন সাক্ষী উপস্থিত কর’ (নিসা ৪/১৫)। তিনি আরো বলেন, ‘আর যারা সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি (ব্যভিচারের) অপবাদ দেয়। অথচ চারজন (প্রত্যক্ষদর্শী) সাক্ষী হাযির করতে পারে না। তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত কর। আর তোমরা কখনোই তাদের সাক্ষ্য কবুল করবে না। বস্ত্ততঃ এরাই হ’ল পাপাচারী’ (নূর ২৪/৪)। একদা (খাযরাজ গোত্রের নেতা) সা‘দ বিন উবাদা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে কোন পরপুরুষকে (সহবাসরত) দেখতে পাই, তবে কি আমি তাকে পাকড়াও করব না, যতক্ষণ না চারজন সাক্ষী হাযির করি? রাসূল (ছাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তখন সা‘দ বলেন, কখনোই তা সম্ভব নয়। যিনি আপনাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন, তার কসম করে বলছি, আমি এর আগেই তাকে তরবারি দিয়ে খতম করে দিব। তখন রাসূল (ছাঃ) আনছারদের ডেকে বললেন, তোমাদের নেতা কি বলছেন শোন। তিনি অবশ্যই আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি। আর আমি তার চেয়েও বেশী। আর আল্লাহ আমার চেয়েও বেশী’ (মুসলিম হা/১৪৯৮; মিশকাত হা/৩৩০৮)

সা‘দ বিন উবাদাহ উপরোক্ত কথা বলার পরপরই হেলাল বিন উমাইয়াহ স্বীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ নিয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর দরবারে হাযির হন। এমন সময় সূরা নূরের ১০ আয়াত নাযিল হয়। যার ভিত্তিতে তিনি মহিলাকে জিজ্ঞেস করলে সে অস্বীকার করে। তখন রাসূল (ছাঃ) উভয়কে লে‘আন করান এবং বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং বলেন যে, আখেরাতের শাস্তি দুনিয়ার শাস্তির চেয়ে অনেক ভয়াবহ’ (ইবনু কাছীর, তাফসীর সূরা নূর ৪ আয়াত)। অর্থাৎ ব্যভিচারের শাস্তি দুনিয়াতে গ্রহণ করলে এটি তার জন্য কাফফারা হ’ত (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৮) এবং সে সম্ভবতঃ আখেরাতের কঠিন শাস্তি থেকে বেঁচে যেত।

ইমাম কুরতুবী বলেন, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তার বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহের কারণে এবং তাদের পাপ গোপন রাখার কারণে (কুরতুবী, তাফসীর সূরা নূর ৪ আয়াত)। ‘অনুগ্রহ’ বলতে বান্দাকে তওবা করার সুযোগ দান এবং ‘গোপন রাখা’ অর্থ এই অন্যায় কর্মটি জানাজানি না হওয়া। যাতে সমাজে নির্লজ্জতার প্রসার না ঘটে। ছাহেবে হেদায়াহ বলেন, চারজন সাক্ষীর শর্ত রাখার অর্থ হ’ল এটিকে গোপন রাখা এবং প্রচার না করা (হেদায়াহ ২/৯৫)

ইসলামী আইনে যেনার অপরাধ সাব্যস্ত হয় ৪ জন সাক্ষী অথবা স্বীকৃতি অথবা গর্ভবতী হওয়ার মাধ্যমে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেও যেনার অপরাধ সাব্যস্ত হ’তে পারে। কিন্তু শতভাগ সন্দেহমুক্ত নয় বলে এর মাধ্যমে ‘হদ’ আরোপিত হবে না; কেননা সন্দেহের অবস্থায় ‘হদ’ প্রযোজ্য নয়। যেনার শাস্তি বাহ্যতঃ খুবই কঠিন মনে হ’লেও এর সামাজিক কুপ্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। সে তুলনায় উক্ত শাস্তি সহজতর (ফিক্বহুস সুন্নাহ ‘দন্ডবিধি সমূহ’ অধ্যায়; রাবেতার অধীনস্ত ইসলামী ফিক্বহ কাউন্সিলের ষোড়শ অধিবেশন সিন্ধান্ত, জানুয়ারী ২০০২, মক্কা, ৩য় প্রকাশ, পৃঃ ৩৯০)

Posted in নারী ব্যভিচারে লিপ্ত হ’লে ৪ জন পুরুষ সাক্ষী হাযির করা কি আবশ্যক? | Tagged ,

মানুষ যখন ঘুমায় তখন তার রূহ দেহে অবস্থান করে কি?


আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ জীবসমূহের প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময় এবং যারা মরেনি তাদের নিদ্রার সময়। তারপর যার জন্য তিনি মৃত্যুর ফায়ছালা করেন, তার প্রাণ তিনি রেখে দেন এবং অন্যগুলো ফিরিয়ে দেন একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে’ (যুমার ৩৯/৪২)

উক্ত আয়াতে প্রাণীর দু’টি মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। একটি নিদ্রাকালীন মৃত্যু। অন্যটি মৃত্যুকালীন মৃত্যু। নিদ্রায় তার দেহে অনুভূতি থাকে। কিন্তু মৃত্যুতে সেটা থাকেনা। উভয় অবস্থায় তার প্রাণ আল্লাহর কাছে চলে যায়। অতঃপর তিনি যাকে চান তার দেহে রূহ ফিরিয়ে দেন, যাকে চান সেটা রেখে দেন। যা ক্বিয়ামতের আগ পর্যন্ত তার দেহে ফেরৎ দেওয়া হয় না। কুরআনে ও হাদীছে উভয় অবস্থাকে ‘মউত’ বলা হয়েছে। সেজন্য ঘুমাতে যাবার সময় দো’আ পড়তে হয়, ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নামে মরি ও বাঁচি’ (বুখারী হা/৬৩২৪; মিশকাত হা/২৩৮২)। ঘুম থেকে ওঠার সময় বলতে হয়, ‘সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে মৃত্যু দানের পর জীবিত করলেন এবং ক্বিয়ামতের দিন তাঁর দিকেই হবে আমাদের পুনরুত্থান’ (বুখারী হা/৬৩২৪; মিশকাত হা/২৩৮২)। অন্য হাদীছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ বিছানায় যাবে, তখন… সে যেন ডানকাতে শুয়ে বলে, হে আমার প্রতিপালক! তোমার নামে আমি বিছানায় দেহ রাখছি ও তোমার নামেই সেটা আমি উঠাবো। যদি তুমি আমার আত্মাকে আটকে রাখ, তাহ’লে তুমি তাকে অনুগ্রহ কর (অন্য বর্ণনায় এসেছে ‘তুমি তাকে ক্ষমা কর’)। আর যদি ছেড়ে দাও, তাহ’লে তুমি তাকে (গুনাহ থেকে) হেফাযত কর। যেভাবে তুমি তোমার সৎকর্মশীল বান্দাদের হেফাযত করে থাক’ (বুখারী হা/৬৩২০, ৭৩৯৩; মুসলিম হা/২৭১৪; মিশকাত হা/২৩৮৪)

Posted in মানুষ যখন ঘুমায় তখন তার রূহ দেহে অবস্থান করে কি? | Tagged ,

আমি পাওয়ার স্টেশনে কাজ করি। এখানে শিফটিং ডিউটি থাকায় জুম‘আর ছালাত আদায় করা সম্ভব হয় না। এক্ষণে আমার করণীয় কি?


এরূপ অবস্থায় যোহর ছালাত আদায় করবে। প্রয়োজনে যোহর-আছর জমা করবে (বুখারী হা/১১৭৪; দ্রঃ ‘ছালাতুর রাসূল (ছাঃ)’ ১৮৮ পৃ.)। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সাধ্যমত আল্লাহকে ভয় কর’ (তাগাবুন ১৬, বাক্বারাহ ২/২৮৬, আবুদাঊদ হা/৬৫০)

Posted in জুম‘আর ছালাত আদায় করা সম্ভব না হলে আমার করণীয় কি? | Tagged

নফল ছালাত দু’রাক‘আত আদায়ের নিয়তে ছালাত শুরু করে পরবর্তীতে ছালাতের মধ্যেই মত পরিবর্তন করে চার রাক‘আত পড়া যাবে কি? এছাড়া চার রাক‘আতের নিয়ত করে সময় কম থাকায় দু’রাক‘আত পড়ে সালাম ফিরানো যাবে কি?


নফল ছালাতের ক্ষেত্রে ছালাতরত অবস্থায় রাক‘আত কম বা বেশী করার নিয়ত পরিবর্তন করা জায়েয। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘রাতের নফল ছালাত দুই দুই রাক‘আত। অতঃপর যখন তোমাদের কেউ ফজর হয়ে যাবার আশংকা করবে, তখন সে যেন এক রাক‘আত পড়ে নেয়। যা তার পূর্বেকার সকল নফল ছালাতকে বিতরে পরিণত করবে’ (বুখারী হা/৯৯০; মুসলিম হা/৭৪৯; মিশকাত হা/১২৫৪)। তিনি বলেন, নফল ছিয়াম পালনকারী তার নিজের উপর আমীর’ (ছহীহুল জামে‘ হা/৩৮৫৪)। তবে কেউ নিয়ত পরিবর্তন ব্যতিরেকে খামখেয়ালীভাবে রাক‘আত কম বা বেশী করলে সর্বসম্মতিক্রমে তার ছালাত বাতিল হয়ে যাবে (নববী, আল-মাজমূ‘ শারহুল মুহাযযাব ৪/৫০)

Posted in ছালাতে চার রাক‘আতের নিয়ত করে দু’রাক‘আত পড়ে সালাম ফিরানো যাবে কি? | Tagged ,

কোন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মহিলা হ’লে সেখানে চাকুরী করা জায়েয হবে কি?


ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায় নারী নেতৃত্ব সিদ্ধ নয়। আল্লাহ বলেন, ‘পুরুষ জাতি নারী জাতির উপরে কর্তৃত্বশীল’ (নিসা ৪/৩৪)। রাসূল (ছাঃ) যখন অবগত হ’লেন যে, ইরানের জনগণ কিসরার কন্যাকে তাদের নেত্রী নির্বাচন করেছে। তখন তিনি বললেন, ‘ঐ জাতি কখনও সফলকাম হ’তে পারে না, যারা নারীকে তাদের নেত্রী নির্বাচিত করে’ (বুখারী হা/৪৪২৫; মিশকাত হা/৩৬৯৩)। অতএব রাষ্ট্রীয় ও সমাজের কোন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নারীর আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব ইসলাম নাকচ করেছে। এতদসত্ত্বেও কোন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক যদি মহিলা হয়ে থাকেন, তাহ’লে পারতপক্ষে চাকুরী পরিবর্তন করা উচিত। তবে বাধ্যগত বিষয়টির কথা ভিন্ন। 

Posted in প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মহিলা হ’লে সেখানে চাকুরী করা জায়েয হবে কি? | Tagged ,

নবী ও রাসূলের মধ্যে পার্থক্য কি? কুরআন ও হাদীছে এ পৃথকীকরণের পক্ষে কোন দলীল আছে কি?


নবী ও রাসূল দু’টি শব্দের অর্থই বার্তাবাহক। তারা সকলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বাণী প্রচারের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি। এক্ষণে উভয়ের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় সূরা হজ্জের ৫২ আয়াতে। তবে সে পার্থক্যের স্বরূপ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ফার্রা বলেন, ‘রাসূল’ তিনি, যার নিকটে প্রকাশ্যভাবে জিব্রীলকে পাঠিয়ে আল্লাহ রিসালাত প্রদান করেছেন। পক্ষান্তরে ‘নবী’ তিনি, যার নিকটে আল্লাহ কোন খবর পাঠিয়েছেন ইলহাম অথবা স্বপ্নের মাধ্যমে (যেমন ইবরাহীম (আঃ)-এর নিকট পাঠিয়েছিলেন)। অতএব প্রত্যেক রাসূলই নবী, কিন্তু প্রত্যেক নবী রাসূল নন। মাহদাভী (المهدوى) বলেন, এটাই সঠিক। কাযী ইয়ায বলেন, বিদ্বানগণের বিরাট অংশ এ মতকেই সঠিক বলেন যে, প্রত্যেক রাসূলই নবী। কিন্তু প্রত্যেক নবী রাসূল নন। তিনি আবু যর গেফারী (রাঃ) বর্ণিত হাদীছ থেকে দলীল নিয়েছেন যে, ১ লাখ ২৪ হাযার পয়গাম্বরের মধ্যে ৩১৫ জনের বিরাট সংখ্যা ছিলেন ‘রাসূল’ (তাফসীর কুরতুবী; আহমাদ হা/২২৩৪২; মিশকাত হা/৫৭৩৮; ছহীহাহ হা/২৬৬৮)। সম্ভবতঃ এ কারণেই মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে কুরআনে ‘শেষনবী’ বলা হয়েছে (আহযাব ৩৩/৪০), শেষ রাসূল নয়। হাদীছেও তিনি বলেছেন, আমি শেষনবী, আমার পরে কোন নবী নেই’ (আবুদাঊদ হা/৪২৫২; মিশকাত হা/৫৪০৬)। কেননা নবী ব্যতীত কেউ রাসূল হ’তে পারেন না।

সূরা মারিয়াম ৫৪ আয়াতে ইসমাঈলকে ‘রাসূল’ ও ‘নবী’ একত্রে বলা হয়েছে। এতে বুঝা যায় যে, তিনি হাদীছে বর্ণিত ৩১৫ জন রাসূলের (ছহীহাহ হা/২৬৬৮) অন্যতম ছিলেন। যদিও আমরা কেবল মূসা, দাঊদ, ঈসা ও মুহাম্মাদ চারজন কিতাবধারী রাসূলের নাম জানি।

Posted in নবী ও রাসূলের মধ্যে পার্থক্য কি? | Tagged

রাসূল (ছাঃ) অল্প খাদ্যগ্রহণকারীকে সর্বোত্তম ব্যক্তি হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন। অথচ অনেক মানুষকে দেখা যায় তারা দৈনিক মাছ, গোশত, দই, মিষ্টি, ফলমূল ইত্যাদি খায়। এগুলি কি অপব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে না?


‘অল্প খাদ্যগ্রহণকারী সর্বোত্তম’ মর্মের বর্ণনাটি ভিত্তিহীন (সিলসিলা যঈফাহ হা/২৪৩)। অতঃপর প্রত্যেকেই সামর্থ্য অনুযায়ী হালাল খাদ্য খাবে। আল্লাহর শুকরিয়ার সাথে খেলে এতে আল্লাহ বেশী খুশী হন। তবে যদি সে কৃপণতা করে কিংবা নষ্ট করে, তাহ’লে তা অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে। আল্লাহর বলেন, তোমরা খাও ও পান কর, অপচয় কর না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদেরকে অপসন্দ করেন’ (আ‘রাফ ৭/৩১)। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, ‘যা খুশী খাও এবং যা খুশী পরিধান কর। তবে এ বিষয়ে তোমাকে দুটি ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তাহ’ল অপচয় ও অহংকার (বুখারী, আহমাদ, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৪৩৮০-৮১ ‘পোষাক’ অধ্যায়)। তবে খাদ্যগ্রহণের ক্ষেত্রে রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশনা হ’ল- পেটের একভাগ খাদ্য দিয়ে ও একভাগ পানি দিয়ে ভরবে এবং একভাগ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখবে (তিরমিযী হা/২৩৮০)

Posted in দৈনিক ভালো মন্দ খাওয়া কি অপব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে না? | Tagged

একাধিক তলা বিশিষ্ট মসজিদে মাইকের ন্যায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে জুম‘আর খুৎবা দেখানোর ব্যবস্থা করা যাবে কি? এছাড়া নারীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে প্রজেক্টর রাখা যাবে কি?


এরূপ করা উচিত হবে না। কারণ এতে মুছল্লীদের খুশূ-খুযূ বিনষ্ট হয় এবং খুৎবা ও ছালাতের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হয়। আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই সফলকাম হবে মুমিনগণ, যারা তাদের ছালাতে তন্ময়-তদ্গত (মুমিনুন ২৩/১-২)। অতএব জুম‘আর খুৎবায় প্রজেক্টর ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিৎ।

Posted in জুম‘আর খুৎবা দেখানোর জন্য নারীদের নির্ধারিত স্থানে প্রজেক্টর রাখা যাবে কি? | Tagged , ,

বুখারী ৪০২৪ নং হাদীছে উল্লেখ রয়েছে ওছমান (রাঃ)-এর হত্যাকান্ডের পর আর কোন বদরী ছাহাবী জীবিত ছিলেন না। কিন্তু ইতিহাসে প্রমাণিত যে আলী (রাঃ) চতূর্থ খলীফা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এর সমাধান কি?


এখানে প্রশ্নকারীর বুঝতে ভুল হয়েছে। হাদীছটি বর্ণনা করেছেন প্রখ্যাত তাবেঈ সাঈদ ইবনু মুসাইয়িব (১৫-৯৪ হি.)। এখানে তিনি বলেন যে, প্রথম ফিৎনা অর্থাৎ ৩৫ হিজরীতে ওছমান হত্যাকান্ডের পর বদরী ছাহাবীদের আর কেউ বেঁচে ছিলেন না। দ্বিতীয় ফিৎনা অর্থাৎ ৬৩ হিজরীতে হার্রার ঘটনার পর হোদায়বিয়ার সন্ধিকালীন কোন ছাহাবী আর জীবিত ছিলেন না। এরপর ৬৪ হি. থেকে খারেজীদের তৃতীয় ফিৎনা শুরু হওয়ার পর তা আর কখনোই শেষ হয়নি। যতদিন না তা মানুষের সমস্ত শক্তি ও বিবেক-বুদ্ধি নিঃশেষ করে দেয়’ (বুখারী হা/৪০২৪; মিশকাত হা/৫৪০৯)

এর ব্যাখ্যা এই যে, ওছমান (রাঃ)-এর হত্যাকান্ডের ফিৎনা থেকে হার্রার ফিৎনা (৬৩ হিজরীতে মদীনার নিকটবর্তী হার্রা নামক স্থানে ইয়াযীদ বিন মু‘আবিয়ার সৈন্যদের সাথে মদীনাবাসীদের যুদ্ধ, যাতে বহু ছাহাবী এবং তাবেঈ নিহত হন) পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে সকল বদরী ছাহাবী মারা যান, যাদের মধ্যে আলী (রাঃ)ও ছিলেন। সর্বশেষ বদরী ছাহাবী সা‘দ বিন আবু ওয়াক্কাছ (রাঃ) মারা যান এ যুদ্ধের কয়েক বছর পূর্বে। আর হার্রার ফিৎনা শুরু হওয়ার পর থেকে তৃতীয় ফিৎনা (৬৪ থেকে ৭৮ হিজরী সময়কালে বছরায় বিস্তৃত আযারিকাহ নামক খারেজী সম্প্রদায়ের বিদ্রোহ) পর্যন্ত সময়ে হুদায়বিয়ায় অংশগ্রহণকারী সকল ছাহাবী মারা যান। এই তৃতীয় ফিৎনার সময় সকল ছাহাবী মারা যান। মোটকথা ওছমান হত্যার সূত্র ধরে অবশিষ্ট বদরী ছাহাবীগণ একে একে সকলে শাহাদাত বরণ করেন (ফাৎহুলবারী ৭/৩২৫; মিরক্বাত ৮/৩৪০৪; ঊমদাতুল ক্বারী ১৭/১১৯)

Posted in ওছমান (রাঃ)-এর হত্যাকান্ডের পর আর কোন বদরী ছাহাবী জীবিত ছিলেন কি? | Tagged ,

আমাদের এখানে মাযহাবী মসজিদে জুম‘আর খুৎবায় নির্দিষ্ট কয়েকজন ছাহাবীর জন্য দো‘আ করা হয়। এটি কি সঠিক? এছাড়া এ নিয়ম কবে থেকে শুরু হয়েছে?


এতে দোষের কিছু নেই। আবু মূসা আশ‘আরী সর্বপ্রথম বছরার জামে‘ মসজিদে ওমর (রাঃ)-এর প্রশংসা করে খুৎবা প্রদান করলে যাববাহ বিন মিহছান প্রতিবাদ করে বলেন, আপনি কেবল ওমরের জন্য দো‘আ করলেন অথচ তাঁর সাথীর জন্য করলেন না। এক সময় ওমর (রাঃ) বিষয়টি জানতে পেরে আবু মূসাকে ভৎর্সনা করে বলেন, আবুবকর (রাঃ)-এর একটি রাত (ছওর গুহায় রাসূল ছাঃ-এর সাথে কাটানো রাত) ও একটি দিন (রাসূল ছাঃ-এর মৃত্যুর পর যে দিন তিনি মুরতাদদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা দিয়েছিলেন) ওমর এবং তার পরিবার অপেক্ষা উত্তম… (মিনহাজুস সুন্নাহ ৪/১৫৬, মুসনাদুল ফারূক হা/৯৭০, ইবনে কাছীর বলেন, এই সনদে দুর্বলতা থাকলেও এর সপক্ষে শাওয়াহেদ রয়েছে)

ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, কথিত আছে যে, উমাইয়াদের কেউ কেউ যখন আলী (রাঃ)-কে গালি দিতে শুরু করে, তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহঃ) এই মন্দ প্রচলনের বিপরীতে সর্বপ্রথম খুৎবায় চার খলীফার প্রশংসা এবং তাদের ফযীলত বর্ণনা করা শুরু করেন। এছাড়া খারেজীরা ওছমান ও আলী (রাঃ)-কে কাফের আখ্যা দেয় এবং রাফেযী শী‘আরা প্রথম তিন খলীফাকেই কাফের মনে করে। তাই খুৎবার মধ্যে চার খলীফার প্রশংসা এবং তাদের ফযীলত বর্ণনা করার মাধ্যমে তাদেরও প্রতিবাদ হয়ে যায় (মিনহাজুস সুন্নাহ ৪/১৫৬-১৬৪)

এটি ছাহাবীদের যুগের আমল। খুৎবার মধ্যে তাদেরকে উল্লেখ করার মাধ্যমে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের পক্ষ থেকে ভ্রান্ত আক্বীদার অনুসারীদের প্রতিবাদ করা হয়েছিল। তাঁদের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করা হয়েছিল প্রতিবাদের উদ্দেশ্যেই। তারই ধারাবাহিকতায় বহু মসজিদে তাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়ে থাকে। তৎকালীন সময়ে এর মাধ্যমে এ বার্তা দেয়া হ’ত যে, তাদের সম্পর্কে মন্দ ধারণা বা আক্বীদা পোষণ করার কোন সুযোগ নেই। তারা উম্মতে মুহাম্মাদীর সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। অতএব খুৎবার মধ্যে তাদের নাম উল্লে­খ করাটা বিদ‘আতও নয়, ওয়াজিবও নয় (ছালেহ ফাওযান আল-ফাওযান, আল-মুনতাক্বা ৬৫/২৫)

Posted in দো‘আ নির্দিষ্ট কয়েকজন ছাহাবীর জন্য করা যাবে কি? | Tagged

মাযারে জমাকৃত অর্থ দিয়ে মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি ক্রয় করা হয়েছে। এক্ষণে উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করা জায়েয হবে কি?


উক্ত মসজিদের সাথে মাযার না থাকলে সেখানে ছালাত আদায় করা জায়েয। কারণ কা‘বাগৃহ মুশরিকদের অর্থায়নে পুনর্নিমিত হ’লেও রাসূল (ছাঃ) ও তাঁর ছাহাবীগণ ছালাত আদায় করেছেন (ইবনু হিশাম ১/১৯৭; আহমাদ হা/১৫৫৪৩; হাকেম হা/১৬৮৩; সনদ ছহীহ)। তবে মসজিদটি যদি মাযার কেন্দ্রিক হয়, তবে সেখানে ছালাত আদায় করা যাবে না। কারণ এসব মসজিদ শিরকের উদ্দেশ্যে নির্মিত হয় এবং এর উদ্দেশ্যই থাকে শিরকের প্রতি মুছল্ল­ীদের প্রলুব্ধ করা ও তাদেরকে মাযারমুখী করা।

Posted in মাযারে জমাকৃত অর্থ দিয়ে মসজিদ নির্মান করে ছালাত আদায় করা যাবে কি? | Tagged , ,

বিবাহের কিছুদিন পর স্বামী কোন কারণ ছাড়াই স্ত্রীকে তালাক দিতে চায়। এরূপ করা জায়েয কি? তালাক দিলে স্ত্রীর প্রাপ্য কি কি? এরূপ হ’লে স্ত্রীর পরবর্তী বিবাহ অনিশ্চিত হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে কি?


কারণ ছাড়াই স্ত্রীকে তালাক দেওয়া এবং তাকে বিপদের মুখে নিক্ষেপ করা নিঃসন্দেহে অন্যায়। তবে তা নাজায়েয নয় (ছহীহাহ হা/২০০৭-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)। এক্ষেত্রে স্বামী তার স্ত্রীকে তালাকে বায়েন দিলে মোহরানার টাকা পূর্বে না দিয়ে থাকলে স্ত্রী কেবল সেটিই পাবে (তিরমিযী হা/১১০২; ইরওয়া ১৮৪০)। কিন্তু খোরপোষ পাবে না (মুসলিম হা/১৪৮০)। শরী‘আতের দৃষ্টিতে যেহেতু তালাক দেওয়া নাজায়েয নয়, সেহেতু স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ নেই।

Posted in বিবাহের পর স্বামী কোন কারণ ছাড়াই স্ত্রীকে তালাক দিতে পারবে কি? | Tagged ,

গোঁফ রাখার ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান কি? তা সম্পূর্ণরূপে চেঁছে ফেলা যাবে কি?


এ বিষয়ে শরী‘আতের বিধান হ’ল গোফ ছাঁটা। আয়েশা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘দশটি বিষয় হ’ল স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত। তার মধ্যে গোঁফ ছাঁটা অন্যতম’ (মুসলিম হা/২৬১; মিশকাত হা/৩৭৯ ‘পবিত্রতা’ অধ্যায়)। আর চল্লিশ দিনের অধিক গোঁফ না ছেঁটে রাখা যাবে না (মুসলিম হা/২৫৮; মিশকাত হা/৪৪২২)। এসব কাজ নবী-রাসূলগণ করতেন বলে এগুলিকে নবীদের সুন্নাতের (سُنَّةُ الْأَنْبِيَاءِ) অন্তর্ভুক্ত বলা হয় (মিরক্বাত)। গোঁফ এমনভাবে ছাঁটতে হবে যেন ঠোঁট পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। আর গোঁফ সম্পূর্ণ চেছে ফেলার ব্যাপারে অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত হ’ল, এটি ঠিক নয়। কেননা হাদীছে যে সকল শব্দ (أَحْفُوْا، أَنْهِكُوْا، جُزُّوْا) ব্যবহৃত হয়েছে তা গোঁফ মুন্ডানো নয়, বরং ছাঁটার অর্থ বহন করে (নববী, আল-মাজমূ‘ ১/২৮৭; আলবানী, আদাবুয যিফাফ ২০৯; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১১/৮৪, ১২৮)। এমনকি গোঁফ চেঁছে ফেলাকে ইমাম মালেক বিদ‘আত বলেছেন, যেটি লোকদের মধ্যে প্রচলিত হয়ে আছে। এরূপ আমলকারী ব্যক্তিকে প্রহার করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেছেন (বায়হাক্বী ১/১৫১ পৃ., হা/৬৮২)

Posted in গোঁফ সম্পূর্ণরূপে চেঁছে ফেলা যাবে কি? | Tagged ,

জুম‘আর খুৎবায় সূরা আহযাবের ৫৬ আয়াত পাঠের ব্যাপারে শরী‘আতের কোন নির্দেশনা আছে কি?


উক্ত আয়াতে রাসূল (ছাঃ)-এর উপরে দরূদ পাঠের নির্দেশ রয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা জুম‘আর দিন আমার উপর বেশী বেশী দরূদ পাঠ কর’ (আবুদাঊদ হা/১০৪৭; মিশকাত হা/১৩৬১)। উক্ত আয়াত ও হাদীছের আলোকে জুম‘আর খুৎবায় এটি পাঠ করা হয়ে থাকে। ইমাম আবু ইউসুফ (রহঃ) হ’তে বর্ণিত হয়েছে, যখন ইমাম খুৎবায় সূরা আহযাব ৫৬ আয়াত পাঠ করেন, তখন মুছল্লীদের উচিৎ তার সাথে সাথে এটি পাঠ করা। ইমাম মালেক, ছাওরী, লায়েছ বিন সা‘দ, শাফেঈ প্রমুখ বিদ্বানগণ অনুরূপ বলেছেন’ (ত্বাহাভী, মুখতাছার ইখতিলাফুল ওলামা ১/৩৩৩)। ইমাম নববী বলেন, যখন খত্বীব সূরা আহযাবের ৫৬ আয়াত পাঠ করবেন, তখন শ্রোতাদের জন্য সরবে দরূদ পাঠ করা জায়েয (আল-মাজমূ‘ ৪/৫৯২)। এতে বুঝা যায় যে, রাসূল (ছাঃ) থেকে এ বিষয়ে নির্দিষ্টভাবে কোন হাদীছ না পাওয়া গেলেও তাবেঈদের যুগ থেকেই এটি চালু আছে।

Posted in খুৎবায় সূরা আহযাব পাঠের ব্যাপারে শরী‘আতের কোন নির্দেশনা আছে কি? | Tagged

মসজিদের ইমাম ছাহেব স্পষ্ট শিরকী কর্মে লিপ্ত থাকায় আমরা ৭-৮ জন ভাই একটি দোকানের ভিতর জুম‘আ আদায় করি। এভাবে জুম‘আ আদায় করা যাবে কি? জুম‘আর জন্য মসজিদ শর্ত কি?


ইমাম স্পষ্ট শিরকে জড়িত থাকলে কিংবা মসজিদ শিরক-বিদ‘আত যুক্ত হ’লে অন্য মসজিদে গিয়ে জুম‘আর ছালাত আদায় করবে। অধিক জ্ঞান অর্জন বা বড় জামা‘আতে অংশগ্রহণ করার জন্য অন্য মসজিদে যেতে কোন বাধা নেই (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৪/২৪১-২৪২)। কিন্তু আশেপাশে জামে মসজিদ থাকা অবস্থায় বিচ্ছিন্নভাবে অল্প সংখ্যক ব্যক্তি দোকানে বা কোন স্থানে জুম‘আর ছালাত আদায় করা জায়েয নয় (ইবনু বায, ফৎওয়া নূরুন ‘আলাদ দারব ১৩/১৮৭)। কেননা তা জুম‘আর মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত করে। জমহূর ওলামায়ে কেরামের মতে জুম‘আর ছালাতের জন্য মসজিদ শর্ত নয়। যেমনটি ইবনু ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছারে এসেছে, তিনি বাহরাইনবাসীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, তোমরা জুম‘আর ছালাত আদায় কর, যেখানেই থাক না কেন (মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা হা/৫০৬৮; সনদ ছহীহ, ইরওয়া হা/৫৯৯-এর আলোচনা, আল-ফিকহু আলাল মাযাহিবিল আরবা‘আহ ১/৩৫১)। তবে তার জন্য যৌক্তিক কারণ থাকতে হবে। তাছাড়া এভাবে পৃথক জুম‘আর ছালাত আদায়ে সমাজে নতুন ফিৎনা সৃষ্টি  হবে, যা মোটেও কাম্য নয়।

রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আযান শুনতে পেয়েও বিনা ওযরে মসজিদে যায় না তার ছালাত সিদ্ধ হবে না’। রাবী আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, ‘ওযর’ হচ্ছে ভয় ও অসুস্থতা (ইবনু মাজাহ হা/৬৫২; মিশকাত হা/১০৭৭; ছহীহ আত-তারগীব হা/৪২৬)

Posted in ইমাম শিরক-বিদ‘আত করলে অন্য জায়গায় জুম‘আর ছালাত আদায় করা যাবে কি? | Tagged , , , ,

কারেন্ট শক খেয়ে কোন প্রাণী মারা গেলে তার গোশত খাওয়া যাবে কি?


কোন প্রাণীকে যদি কারেন্টে শক করে আর জীবিত অবস্থায় তাকে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে যবেহ করা সম্ভব না হয়, তাহ’লে তার গোশত খাওয়া যাবে না। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জীব, রক্ত, শুকরের গোশত, যেসব বস্ত্ত আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে যবেহ করা হয়, যা কণ্ঠরোধে মারা যায়, যা আঘাত লেগে মারা যায়, যা উচ্চ স্থান থেকে পড়ে মারা যায়, যা শিং-এর আঘাতে মারা যায় এবং যাকে হিংস্র প্রাণী ভক্ষণ করে। কিন্তু তোমরা যাকে যবেহ করেছ তা খেতে পার’ (মায়েদা ৫/৪)। অতএব মারা যাওয়ার পূর্বে যবেহ করা সম্ভব হ’লে তার গোশত খাওয়া যাবে, অন্যথায় নয়।

Posted in কারেন্ট শক খেয়ে কোন প্রাণী মারা গেলে তার গোশত খাওয়া যাবে কি? | Tagged ,

জনৈক ব্যক্তি মোটা অংকের সূদের ঋণ রেখে মারা গেছেন। কিন্তু তার রেখে যাওয়া তেমন কোন সম্পদ নেই। এক্ষণে তার পরিবারের জন্য উক্ত ঋণ পরিশোধ করা আবশ্যক কি?


এক্ষেত্রে মৃতের সকল সম্পদ বিক্রি করে হলেও পরিবারকে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। কারণ ঋণ পরিশোধ ব্যতীত মৃত্যুবরণ করলে হাশরের মাঠে নিজ নেকী থেকে ঋণের দাবী পূরণ করতে হবে (বুখারী, মিশকাত হা/৫১২৬ ‘আদব’ অধ্যায় ‘যুলুম’ অনুচ্ছেদ)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মুমিনের আত্মা ঝুলন্ত অবস্থায় রাখা হয় তার ঋণের কারণে, যতক্ষণ না তার পক্ষ হ’তে ঋণ পরিশোধ করা হয়’ (তিরমিযী হা/১০৭৮; মিশকাত হা/২৯১৫)। যদি তার কিছুই না থাকে এবং তার স্ত্রী-সন্তানরাও যদি সক্ষম না হয়, তবে সমাজ, সংগঠন বা সরকার সে দায়িত্ব বহন করবে’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২৯১৩, ‘ক্রয়-বিক্রয়’ অধ্যায়-১১, দেউলিয়া হওয়া এবং ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে অবকাশ দান’ অনুচ্ছেদ-৯; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১০/৩৩)। তবে সূদ না দিয়ে কেবল মূল অংশ দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে (বাক্বারাহ ২/২৭৮-২৭৯)। অতএব প্রত্যেকের উচিৎ যথাসম্ভব ঋণ গ্রহণ থেকে বেঁচে থাকা। যা পরিশোধ করতে না পারলে ইহকালে পরিবারের জন্য এবং পরকালে নিজের জন্য কঠিন বোঝা হয়ে দেখা দিবে।

Posted in ঋণ রেখে মারা গেলে সেই ঋণ পরিবারের জন্য পরিশোধ করা আবশ্যক কি? | Tagged

নারীদের ভ্রূ অধিক ঘন হয়ে গেলে কিছুটা ছেটে ফেলায় কোন বাধা আছে কি?


ভ্রূ অধিক ঘন হয়ে দৃষ্টির উপর পতিত হ’লে যে পরিমাণে সমস্যা সৃষ্টি করে ঐ পরিমাণটুকু কেটে ফেলা যায় (ফাতাওয়া উছায়মীন ১১/১৩৩, প্রশ্নোত্তর সংখ্যা ৬২)। কিন্তু কেবল সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ভ্রূ উপড়িয়ে ফেলা বা কেটে ফেলা যাবে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরূপ নারীদের উপর লা‘নত করেছেন (আবুদাঊদ হা/৪১৭০; মিশকাত হা/৪৪৬৮)

Posted in নারীদের ভ্রূ অধিক ঘন হয়ে গেলে কিছুটা ছেটে ফেলায় কোন বাধা আছে কি? | Tagged ,

একটি ইসলামী পত্রিকার প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে যে, মুহাররম মাসের ৯-১১ মোট তিনদিন ছিয়াম পালন করা উত্তম ও পরিপূর্ণ পদ্ধতি। একথা সত্য কি?


একথা ঠিক নয়। বরং মুহাররম মাসের নবম ও দশম এ দু’দিন ছিয়াম পালন করাই সর্বোত্তম। কারণ রাসূল (ছাঃ) ইহূদীদের খেলাফ করার জন্য দশম দিনের সাথে নবম দিন যোগ করে মোট দু’দিন ছিয়াম পালনের আকাংখা প্রকাশ করেছিলেন (মুসলিম হা/১১৩৪; মিশকাত হা/২০৪১)। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, তোমরা ইহূদীদের বিরোধিতা কর এবং নবম ও দশম দিনে ছিয়াম পালন কর (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/৭৮৩৯, সনদ ছহীহ)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘তোমরা আশূরার দিন ছিয়াম রাখ এবং ইহূদীদের খেলাফ কর। তার পূর্বে একদিন বা পরে একদিন ছিয়াম পালন কর’ (আলবানী, ছহীহ ইবনু খুযায়মা হা/২০৯৫, ২/২৯০ পৃঃ, মওকূফ ছহীহ)

প্রশ্নে উল্লেখিত ৩ দিন ছিয়ামের বিষয়টি সম্ভবতঃ ইবনু আববাস (রাঃ)-এর অন্য একটি যঈফ বর্ণনা থেকে নেওয়া হয়েছে। যেখানে আশূরার দিন এবং তার একদিন আগে ও পরে মোট তিনদিন ছিয়াম রাখার নির্দেশনা এসেছে (যঈফুল জামে‘ হা/৩৫০৬)। অতএব মুহাররম মাসের নবম ও দশম দিনে ছিয়াম পালন করাই সর্বোত্তম।

Posted in মুহাররম মাসের ৯-১১ মোট তিনদিন ছিয়াম পালন করা উত্তম কি? | Tagged

কারু পক্ষ থেকে বদলী হজ্জ বা ওমরাহ করায় কোন বাধা আছে কি? এছাড়া তাওয়াফকালীন সময়ে তালবিয়া পাঠ করা যাবে কি?


কোন বাধা নেই। যাদের পক্ষ থেকে বদলী হজ্জ ও ওমরাহ করা শরী‘আত সম্মত তারা হ’লেন, মৃত ব্যক্তি, অতি বৃদ্ধ, চির রোগী, এমন মহিলা যার সাথে মাহরাম নেই প্রমুখ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৫১১-১৩ ‘হজ্জ’ অধ্যায়)। আবু রাযীন আল-উকায়লী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা খুবই বৃদ্ধ। তিনি হজ্জ, ওমরাহ, এমনকি সফর করতেও সক্ষম নন। তিনি বললেন, ‘তোমার পিতার পক্ষে তুমি হজ্জ ও ওমরা আদায় কর’ (আবুদাউদ হা/১৮১০; তিরমিযী হা/৯৩০; মিশকাত হা/২৫২৯, সনদ ছহীহ)। তবে যাকে পাঠানো হবে তাকে অবশ্যই ইতিপূর্বে নিজের হজ্জ সম্পাদন করতে হবে (আবুদাঊদ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/২৫২৮, হাদীছ ছহীহ)। সুস্থ ও সবল ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলী হজ্জ জায়েয নয়। বরং তাকে নিজেই হজ্জ করতে হবে (আল-মুগনী ৩/২২৩; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২১/১৪০)। আর তাওয়াফ ও সাঈ চলাকালীন সময়ে তালবিয়া পাঠ করা উচিৎ নয়। কেননা এসময়ে পাঠ করার জন্য বিভিন্ন দো‘আ রয়েছে (নববী, শরহ মুসলিম ৮/৯১) ইবনু আববাস (রাঃ) ওমরার সময় হাজারে আসওয়াদ স্পর্শ করার পর তালবিয়া পাঠ বন্ধ করতেন (তিরমিযী হা/৯১৯; ইরওয়া হা/১০৯৯)। ‘স্পর্শ করা’ অর্থ হাজারে আসওয়াদের দিকে ইশারা করে তাওয়াফ শুরুকালীন সময়ে।

Posted in বদলী হজ্জ বা ওমরাহ করায় কোন বাধা আছে কি? | Tagged

অমুসলিম বন্ধুদের দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানোর ক্ষেত্রে শূকরের গোশত খাওয়ানো যাবে কি?


শূকরের গোশত নিজেও খাওয়া যাবে না, অপরকেও খাওয়ানো যাবে না। কারণ এটিকে আল্লাহ হারাম করেছেন (বাক্বারাহ ২/১৭৩) এবং  রাসূল (ছাঃ) মক্কা বিজয়ের দিন এর ক্রয়-বিক্রয় হারাম করেছেন (বুখারী হা/২২৩৬; মুসলিম হা/১৫৮১; মিশকাত হা/২৭৬৬)

Posted in অমুসলিম বন্ধুদের শূকরের গোশত দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো যাবে কি? | Tagged , , ,

জনৈক ব্যক্তি দু’জন স্ত্রী রেখে মারা গেছেন। একজন নিঃসন্তান, অপরজনের ৩ ছেলে। এক্ষণে সম্পদ কিভাবে বণ্টিত হবে?


যদি মৃতের পিতা-মাতা বা ঊর্ধ্বতন কোন ওয়ারেছ না থাকে, তাহ’লে দুই স্ত্রী আট ভাগের এক ভাগ এবং বাকী সমুদয় সম্পত্তি ছেলেরা পাবে। আল্লাহ বলেন, আর তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে স্ত্রীরা সিকি পাবে, যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে। যদি থাকে, তবে তারা এক-অষ্টমাংশ পাবে, তোমাদের অছিয়ত পূরণ ও ঋণ পরিশোধের পর’ (নিসা ৪/১২)। আর যদি মৃতের পিতা-মাতা থাকে তাহ’লে তারা প্রত্যেকে ছয়ভাগের একভাগ করে পাবে (নিসা ৪/১১)

Posted in জনৈক ব্যক্তি দু’জন স্ত্রী রেখে মারা গেছেন। তার সম্পদ কিভাবে বণ্টিত হবে? | Tagged , ,

আমার বড় ভাই পিতার সম্পদ ক্রয়ে এবং আমাদের গৃহ নির্মাণে অনেক আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। যদিও সবকিছু পিতার নামেই রেজিস্ট্রি হয়েছে। এক্ষণে পিতার মৃত্যুর পর সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে কমবেশী করা যাবে কি?


এক্ষেত্রে ভাই-বোন সর্বসম্মতিক্রমে তাকে কিছু বেশী দিলে তাতে শরী‘আতে কোন বাধা নেই। তবে সম্মতি না দিলে কোন কম-বেশী করার সুযোগ নেই। কেননা প্রত্যেকের প্রাপ্য হক পবিত্র কুরআনে নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে (নিসা ৪/১১)

Posted in সম্পদ পিতার মৃত্যুর পর বণ্টনের ক্ষেত্রে কমবেশী করা যাবে কি? | Tagged ,

ছালাত আদায়ের পর পোষাকে নাপাকী লেগে থাকার বিষয়টি বুঝতে পারলে ছালাত পুনরায় আদায় করতে হবে কি?


ছালাত পুনরায় আদায় করতে হবে না। কারণ রাসূল (ছাঃ) ছালাতের মধ্যে তাঁর জুতায় নাপাকী লেগে থাকার বিষয়টি জানতে পারলে জুতা ছুঁড়ে ফেলেন। কিন্তু ছালাত পুনরায় আদায় করেননি (আবুদাউদ হা/৬৫০; মিশকাত হা/৭৬৬)

Posted in ছালাত আদায়ের পর নাপাকী দেখতে পেলে পুনরায় আদায় করতে হবে কি? | Tagged ,

রাসূল (ছাঃ)-এর বাণী (মুসলিম হা/১৮২১) অনুযায়ী তাঁর মৃত্যুর পর ১২ জন খলীফার সময়কাল পর্যন্ত ইসলাম দৃঢ়ভাবে টিকে থাকবে। এক্ষণে উক্ত ১২ জন খলীফা কে কে? ৪ খলীফার ইসলামী খেলাফত টিকে ছিল কি?


উক্ত হাদীছে বর্ণিত ১২ জন খলীফা সম্পর্কে ওলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন। ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, এর দ্বারা ন্যায়পরায়ণ শাসকদের বুঝানো হয়েছে, যাদের অনেকে পূর্বে গত হয়েছেন এবং ক্বিয়ামতের পূর্বে অবশিষ্টদের দ্বারা পূর্ণতা লাভ করবে (শারহুন নববী ‘আলা মুসলিম ১২/২০২)। মুহাদ্দিছ কুরতুবী (৫৭৮-৬৫৬ হি.) বলেন, এ বিষয়ে তিনটি মত রয়েছে। তবে আমার নিকট সর্বোত্তম হ’ল এই যে, তারা হ’লেন ন্যায়পরায়ণ খলীফাগণ। যাদের মধ্যে চার খলীফা এবং ওমর বিন আব্দুল আযীয রয়েছেন। তাছাড়া ইনছাফ ও সত্য প্রকাশে ব্রতী খলীফাগণ এর অন্তর্ভুক্ত হবেন। যতদিন না এই সংখ্যা পূর্ণ হয়’ (আল-মুফহিম শরহ মুসলিম ৮/৪)। ইবনু কাছীর বলেন, অত্র হাদীছে ১২জন ন্যায়পরায়ণ খলীফার সুসংবাদ রয়েছে। যারা তাদের মাঝে ইনছাফ ও সত্য প্রতিষ্ঠা করবেন। এদের ধারাবাহিক হওয়া আবশ্যক নয়। অবশ্য চারজন ধারাবাহিক ছিলেন চার খলীফা। নিঃসন্দেহে ওমর বিন আব্দুল আযীয ছিলেন তাদের অন্যতম। এছাড়া কয়েকজন আববাসীয় খলীফা। বাকীদের খেলাফত না আসা পর্যন্ত ক্বিয়ামত হবে না। ভবিষ্যতের জন্য সুসংবাদপ্রাপ্ত ইমাম মাহদীও তাদের অন্যতম। কারণ তিনিও হবেন ফাতেমা (রাঃ)-এর বংশধর। এর দ্বারা রাফেযী শী‘আদের কথিত ১২ ইমাম অর্থ নেওয়াটা চরম অজ্ঞতা ও বোকামীর পরিচয়। যার কোনই শারঈ ভিত্তি নেই (ইবনু কাছীর, তাফসীর সূরা মায়েদাহ ১৪ আয়াত; ইবনু  তায়মিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ ৮/১৭৩-১৭৪)। আর চার খলীফার খেলাফত পূর্ণ ত্রিশ বছর টিকে ছিল যার ভবিষ্যদ্বাণী রাসূল (ছাঃ) করেছিলেন (তিরমিযী হা/২২২৬; আহমাদ হা/২১৯৬৯; মিশকাত হা/৫৩৯৫; ছহীহাহ হা/৪৫৯)

উক্ত ৩০ বছর হ’ল যথাক্রমে : (১) হযরত আবুবকর (১১-১৩ হি.) = ২বছর (২) হযরত ওমর (১৩-২৩ হি.) = ১০ বছর (৩) হযরত ওছমান (২৩-৩৫ হি.) = ১২ বছর (৪) হযরত আলী (৪ বছর ৯ মাস ও হযরত হাসান বিন আলী ৩ মাস- রামাযান হ’তে রবীউল আউয়াল ৪১ হি.; ৩৫-৪১ হি.)= ৬ বছর। সর্বমোট ৩০ বছর (আহলেহাদীছ আন্দোলন, ডক্টরেট থিসিস (প্রকাশকাল : রাজশাহী ১৯৯৬ খৃ.) ১২৬ পৃ. টীকা-১২৫)

Posted in রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুর পর কোন ১২ জন খলীফায় দৃঢ়ভাবে ইসলাম টিকে থাকবে? | Tagged

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৫০ বছর বা ১০০ বছর পূর্তি ঘটা করে পালন করা হয়। এরূপ করা কি শরী‘আতসম্মত?


ইসলামে কোন দিবস পালন নেই। প্রচলিত বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান বিজাতীয় অনুকরণ মাত্র। রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরামের যুগে এমন কোন দিবস পালনের নযীর নেই। সুতরাং মুসলমানদের এসব থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে’ (আবুদাঊদ হা/৪০৩১, সনদ হাসান, মিশকাত হা/৪৩৪৭; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ২/২৬১)

Posted in বছর পূর্তি উপলক্ষে কোন অনুষ্ঠান করা শরী‘আতসম্মত কি? | Tagged

বীর্য যদি অপবিত্র না হয়, তাহ’লে আমরা ফরয গোসল করি কেন? কেবল ধুয়ে ফেললেই যথেষ্ট হ’ত। সঠিক উত্তর জানতে চাই।


শরী‘আতের কোন বিধানের কারণ তালাশ করা অন্যায়। বরং নির্বিবাদে মেনে নেওয়ার মধ্যেই বান্দার কল্যাণ নিহিত রয়েছে। এক্ষণে ফরয গোসলের তাৎপর্য এটাই হ’তে পারে যে, বীর্য পুরো দেহ শোষণ করে বের হয় এবং তাতে শরীর ও মন উভয়টিই দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রতিটি লোমকুপ দিয়ে ঘাম বের হওয়ার কারণে দেহে নিস্তেজভাব সৃষ্টি হয়। আর এগুলোর উত্তম সমাধান হ’ল গোসল। কারণ গোসল দেহ-মন ও আত্মাকে সতেজ করে। প্রতিটি শিরা-উপশিরাকে শক্তিশালী করে। চিকিৎসকগণ বলেন, মিলনোত্তর গোসল শরীরে শক্তি ফিরিয়ে দেয়। যা বের হয় তার পুনরাগমন ঘটে এবং এটি দেহ ও মন দু’টির জন্যই উপকারী। অপরদিকে গোসল পরিহার করা ক্ষতিকর। ফরয গোসল কল্যাণকর হওয়ার ব্যাপারে জ্ঞান ও ফিৎরাতের সাক্ষ্যই যথেষ্ট’ (ইবনুল ক্বাইয়িম, ই‘লামুল মুওয়াক্কি‘ঈন ২/৪৫)

উল্লেখ্য যে, বীর্য অপবিত্র নয়। রাসূল (ছাঃ)-এর কাপড়ে তা লেগে শুঁকিয়ে গেলে আয়েশা (রাঃ) নখ দিয়ে খুঁটে ফেলতেন। অতঃপর তিনি ঐ কাপড়েই ছালাত আদায় করতেন (মুসলিম হা/২৮৮; মিশকাত হা/৪৯৫)। এছাড়া অধিকাংশ ছাহাবী ও সালাফে ছালেহীন বীর্যকে পবিত্র বলেছেন (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২১/৬০৫; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৫/৩৮০)

Posted in বীর্য যদি অপবিত্র না হয়; তাহ’লে আমরা ফরয গোসল করি কেন? | Tagged

বিদেশে গিয়ে তালাক প্রদানের নিয়তে সাময়িক বিবাহ বৈধ হবে কি? শী‘আ সম্প্রদায় এরূপ বিবাহ করে বলে জানি। এটা সঠিক কি?


বিবাহ করা হয় স্থায়ীভাবে বসবাসের নিয়তে। তালাকের নিয়তে বিবাহ করা হারাম। ইসলামের প্রাথমিক যুগে সাময়িক বিবাহ জায়েয ছিল। কিন্তু মক্কা বিজয়ের দ্বিতীয় দিন তা ক্বিয়ামত পর্যন্ত চিরতরে হারাম করা হয় (মুসলিম হা/১৪০৬ (২১)। কিন্তু শী‘আ রাফেযীরা এখনও এই বিবাহকে জায়েয মনে করেন, অথচ তাদেরই অন্যতম ইমাম জা‘ফর ছাদেক (৮০-১৪৮ হি.) এটিকে ‘যেনা’ বলে অভিহিত করেছেন (বায়হাক্বী হা/১৩৯৬০, ৭/২০৭ পৃ.)

Posted in বিবাহ তালাক প্রদানের নিয়তে বিদেশে গিয়ে সাময়িক বৈধ হবে কি? | Tagged ,

কোন মাদরাসা বা ইসলামী প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে চাঁদা আদায় করে দেওয়ার কাজে নিযুক্ত হওয়া জায়েয হবে কি?


কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে নিযুক্ত হওয়া যাবে। কারণ কমিশনটি হ’ল পারিশ্রমিকের অন্তর্ভুক্ত। তবে এক্ষেত্রে তাক্বওয়া অবলম্বন করবে এবং কোন ধরনের ছল-চাতুরীর আশ্রয় নিবে না। নবী করীম (ছাঃ) বলেন, ‘আমরা যাকে মজুরীর বিনিময়ে কোন কাজে নিযুক্ত করি, তার অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করলে সেটি হবে আত্মসাৎ’ (আবুদাঊদ হা/২৯৪৩; মিশকাত হা/৩৭৪৮)

Posted in ইসলামী প্রতিষ্ঠানে কমিশনের বিনিময়ে চাঁদা আদায় করে দেওয়ার কাজে নিযুক্ত হওয় | Tagged