মসজিদের বামে বা ডানে কবর থাকলে এবং মসজিদ ও কবরস্থানের মাঝে কোন দেয়াল না থাকলে উক্ত মসজিদে ছালাত হবে কি?


কবর সামনে না থাকায় ছালাত হবে। তবে মসজিদের প্রাচীরের পাশাপাশি কবরস্থানের আলাদা প্রাচীর থাকা উত্তম (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩১/১২; শায়খ বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৩/৩৫৭)। কারণ রাসূল (ছাঃ) কবরের দিকে ফিরে ছালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন (মুসলিম হা/৯৭২; নাসাঈ হা/৭৬০; ছহীহাহ হা/১০১৬)

Advertisements
Posted in মসজিদ ও কবরস্থানের মাঝে দেয়াল না থাকলে উক্ত মসজিদে ছালাত হবে কি? | Tagged ,

আমার পিতা-মাতার মাঝে বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন। পিতা আমাদের কোন খরচ বহন করেন না। আমি মায়ের সাথে থাকি। তার নির্দেশনা অনুযায়ী গত পাঁচবছর যাবৎ পিতার সাথে কোন সম্পর্ক রাখি না। এজন্য আমি গুনাহগার হব কি?


পিতার সাথে যথাসম্ভব সম্পর্ক রাখতে হবে এবং সদাচরণ করতে হবে। নইলে গুনাহগার হ’তে হবে। কেননা পিতা-মাতার হক সন্তানের উপর অপরিসীম, যা কখনো পূরণীয় নয়। তাঁরা সদাচরণ করুন বা না করুন, তাদের সেবা করা সন্তানের জন্য অবশ্য কর্তব্য। এমনকি তারা শিরক করতে চাপ দিলেও তা থেকে বিরত থেকে তাদের সাথে সদাচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (লোকমান ৩১/১৫)। তারা অমুসলিম হ’লেও তাদের সাথে উত্তম ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না তাদের সম্পর্কে, যারা তোমাদের সাথে দ্বীনের ব্যাপারে যুদ্ধ করেনি’ (বুখারী হা/৫৯৭৮, মুমতাহিনা ৬০/৮; মুসলিম হা/১০০৩; মিশকাত হা/৪৯১৩)। তবে পিতার দায়িত্ব সন্তানের খরচ বহন করা (বাক্বারাহ ২/২৩৩; মুসলিম হা/১১৫৯; মিশকাত হা/২০৫৪)। এতে অবহেলা করায় তিনি গুনাহগার হবেন এবং এজন্য তাঁকে আল্লাহর নিকট জিজ্ঞাসিত হ’তে হবে (বুখারী হা/৭১৩৮; মুসলিম হা/১৮২৯; মিশকাত হা/৩৬৮৫)

Posted in পিতা-মাতা বিচ্ছিন্ন। এখন পিতার সাথে সম্পর্ক না রাখলে গুনাহগার হব কি? | Tagged , ,

সঞ্চিত অর্থের যাকাত দেওয়ার সময় সনাতন, ২১, ২২ বা ২৪ ক্যারেটের মধ্যে কোন সোনার মূল্যমান ধরতে হবে কি?


সর্বোচ্চ খাঁটি স্বর্ণের মূল্যমান ধরে যাকাত দেওয়া উত্তম। ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণ সাধারণত ৯৯.৯৯% খাঁটি হয়ে থাকে। অতএব ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের হিসাবে যাকাত দিতে হবে।

Posted in যাকাত দেওয়ার সময় সনাতন ক্যারেটের মধ্যে কোন সোনার মূল্যমান ধরতে হবে কি? | Tagged

আমার এক নিকটাত্মীয় সূদী ব্যাংকে চাকুরী করে। মাঝে মাঝে আমার বাসায় বেড়াতে আসলে দামী উপহার ও খাবার-দাবার নিয়ে আসে। এক্ষণে সেগুলি গ্রহণ ও ভক্ষণ করা জায়েয হবে কি?


যাবে। কারণ আল্লাহ বলেন, ‘কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না’ (আন‘আম ৬/১৬৪)। ইহূদী-নাছারারা সূদী লেন-দেনে জড়িত ছিল জেনেও রাসূল (ছাঃ) তাদের হাদিয়া গ্রহণ করেছেন এবং তাদের তৈরী খাবার খেয়েছেন (মুমতাহিনা ৬০/৮; বুখারী হা/১৪৮১, ৩১৬৯; মিশকাত হা/৫৯৩৫)। ইবনু মাসঊদ (রাঃ)-কে এবিষয়ে প্রশ্ন করা হ’লে তিনি বলেন, ‘তোমার জন্য এটি বিনা কষ্টের অর্জন এবং এর গোনাহ তার উপরে’ (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/১৪৬৭৫, ইমাম আহমাদ আছারটিকে ‘ছহীহ’ বলেছেন; ইবনু রজব হাম্বলী, জামেঊল উলূম ওয়াল হিকাম, ২০১ পৃঃ)। সাঈদ ইবনু জুবায়ের, মাকহূল ও যুহরী (রহঃ) বলেন, যে সম্পদে হালাল ও হারামের মিশ্রণ রয়েছে তা খাওয়াতে কোন বাধা নেই। এ মর্মে হাসান বছরীকে প্রশ্ন করা হ’লে তিনি বলেন, হ্যাঁ গ্রহণ করবে। এটি বিনা কষ্টের উপার্জন। আর গুনাহ হবে তার’ (শারহুস সুন্নাহ ৮/১৫)। তবে যদি উক্ত খাদ্য বা হাদিয়া মদ, শুকরের গোশত ইত্যাদির ন্যায় সত্তাগতভাবে হারাম হয়, তাহ’লে তা গ্রহণ করা হালাল নয়’ (শারহুস সুন্নাহ ৮/১৫)

Posted in ব্যাংকে চাকুরী করা আত্বীয়ের উপহার ও খাবার গ্রহণ ও ভক্ষণ করা জায়েয হবে কি? | Tagged ,

ছিফফীনের যুদ্ধে উভয় পক্ষই ছিল মুসলমান। উভয় দলেই ছিল অনেক ছাহাবায়ে কেরাম। এক্ষণে উক্ত যুদ্ধের পিছনে কারণ কি ছিল?


৩৬ হিজরীতে সংঘটিত উষ্ট্রের যুদ্ধের ন্যায় ৩৭ হিজরীর ছিফফীন যুদ্ধেরও মূল কারণ ছিল ওছমান (রাঃ)-এর হত্যাকারী বিদ্রোহীদের গভীর ষড়যন্ত্র। ৩৫ হিজরীর যিলহাজ্জ মাসে ওছমান (রাঃ) শাহাদত বরণ করলে লোকেরা আলী (রাঃ)-এর হাতে বায়‘আত গ্রহণ করে। বিদ্রোহীরাও আলী (রাঃ)-এর হাতে বায়‘আত নেয়। আলী (রাঃ) প্রথমে রাষ্ট্রীয় শৃংখলা ফিরিয়ে আনার জন্য এবং বিদ্রোহীদের সংখ্যাধিক্যের কারণে বিরূপ বাস্তবতার নিরিখে বাধ্য হয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কিছুটা বিলম্ব করেন। এতে ওছমান (রাঃ)-এর চাচাতো ভাই সিরিয়ার আমীর মু‘আবিয়া (রাঃ) ও তার সাথীরা তাঁর প্রতি রুষ্ট হন। যদিও মু‘আবিয়া হযরত আলী (রাঃ)-এর শ্রেষ্ঠত্বকে দ্ব্যর্থহীনভাবে স্বীকার করতেন। কিন্তু তিনি ওছমান (রাঃ)-এর হত্যাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত বায়‘আত করতে অস্বীকার করেন। ফলে আলী (রাঃ) ও মু‘আবিয়া (রাঃ)-এ Continue reading

Posted in কোন যুদ্ধে ছাহাবারা যুদ্ধ করে ৭০হাজার ছাহাবা নিহত হন?, ছিফফীনের যুদ্ধের পিছনে কারণ কি ছিল? | Tagged , ,

আমি প্রতি বৃহষ্পতিবার রোযা রাখি। ঘটনাক্রমে ১২ ই যিলহজ্জ বৃহষ্পতিবার পড়েছে এবং সেদিন আমি রোযা রেখেছি। আমি জুমার দিন শুনেছি যে, তাশরিকের দিনগুলোতে রোযা রাখা নাজায়েয। বৃহষ্পতিবার ছিল তাশরিকের তৃতীয় দিন। আমি যে, রোযা রেখেছি সে কারণে আমার উপরে কি কোন কিছু বর্তাবে? সত্যিকার-ই কি তাশরিকের দিনগুলোতে রোযা রাখা নাজাযেয; নাকি শুধু ঈদের প্রথম দিন আমরা রোযা রাখব না?


দুই ঈদের দিন রোযা রাখা হারাম। দলিল হচ্ছে আবু সাঈদ খুদরি (রাঃ) এর হাদিস; তিনি বলেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন রোযা রাখতে বারণ করেছেন”।[সহিহ বুখারী (১৯৯২) ও সহিহ মুসলিম (৮২৭)]। আলেমগণ ইজমা করেছেন যে, ‘এ দুইদিন রোযা রাখা হারাম’।

অনুরূপভাবে তাশরিকের দিনগুলোতে রোযা রাখাও হারাম। তাশরিকের দিনগুলো হচ্ছে- Continue reading

Posted in তাশরিকের দিনগুলোতে রোযা রাখার বিধান কি? | Tagged ,

কোন্‌ কোন্‌ দিনগুলো তাশরিকের দিন? কোন সাধারণ দিনের উপর তাশরিকের দিনগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য কি কি?


আলহামদুলিল্লাহ।

তাশরিকের দিনগুলো হচ্ছে- ১১ ই যিলহজ্জ, ১২ ই যিলহজ্জ ও ১৩ ই যিলহজ্জ। এ দিনগুলোর ফযিলত সম্পর্কে অনেক আয়াত ও হাদিস উদ্ধৃত হয়েছে, যেমন:

১। আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে আল্লাহকে স্মরণ কর…”[সূরা বাকারা, আয়াত: ২০৩] নির্দিষ্ট দিনগুলো হচ্ছে- তাশরিকের দিনগুলো। ইবনে উমর (রাঃ) এ তাফসীর করেছেন এবং অধিকাংশ আলেম এ তাফসীরটি গ্রহণ করেছেন।

২। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: “নিশ্চয় এ দিনগুলো হচ্ছে- পানাহার ও আল্লাহকে স্মরণ করার দিন।” তাশরিকের দিনগুলোতে আল্লাহর যিকির করার, আল্লাহকে Continue reading

Posted in তাশরিকের দিনসমূহ | Tagged , | 1 Comment

আমি আমার নিজের পক্ষ থেকে ও আমার সন্তানদের পক্ষ থেকে কোরবানী করার নিয়ত করেছি। কোরবানী করার কি বিশেষ কোন নিয়ম আছে? নাকি আমি যে কোন ছাগল দিয়ে কোরবানী করা সহিহ হবে?


কোরবানীর পশুর ক্ষেত্রে ৬ টি শর্ত রয়েছে:

এক:

‘আনআম’ শ্রেণীর চতুষ্পদ জন্তু হওয়া। আনআম হচ্ছে- উট, গরু, ভেড়া ও ছাগল। দলিল হচ্ছে আল্লাহ্‌র বাণী: “আর আমরা প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য ‘মানসাক’ এর নিয়ম করে দিয়েছি; যাতে তিনি তাদেরকে জীবনোপকরণস্বরূপ ‘আনআম’ শ্রেণীর যে চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছেন, সে সবের উপর তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।”[সূরা হাজ্জ, আয়াত: ৩৪]

আয়াতে بهيمة الأنعام (বাহিমাতুল আনআম) দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে- উট, গরু, ভেড়া ও ছাগল। আরবদের কাছে بهيمة الأنعام এর এ অর্থই পরিচিত। এটি হাসান, কাতাদা ও আরও অনেকের অভিমত।

দুই:

শরিয়ত নির্ধারিত বয়সে পৌঁছা। ভেড়া হলে ‘জাযআ’ হওয়া (অর্থাৎ ছয় Continue reading

Posted in কোরবানী করার কি বিশেষ কোন নিয়ম আছে? | Tagged ,

এ বছর ইসলামি সংস্থার পরিচালনাধীন মসজিদের মাধ্যমে আমি কোরবানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অন্য ছয়জনের সাথে আমি একটি গরুর ভাগে অংশীদার হয়েছি। ইসলামি সংস্থাকে ২০০০ পাউন্ড মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে। তারা কোরবানির পশু ক্রয় করেছেন। ৫ জন, ৬ জন বা ৭ জনের জোটবদ্ধ গ্রুপের সদস্য সংখ্যা অনুপাতে তারা প্রত্যেক গ্রুপের জন্য কোরবানির পশু নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। কিন্তু, ঈদের দিন ফজরের এক ঘণ্টা পূর্বে আমার কোরবানির জন্য নির্দিষ্ট গরুটি মারা গেছে। আমি কোন অর্থ ফেরত পাইনি। কেননা আমি কোরবানির পশু ক্রয় করেছি। কেনার পর ফজরের পূর্বে পশুটি মারা গেছে। আমি অন্য একটি কোরবানির পশু সন্ধান করে শেষে ১০০০ পাউন্ড দিয়ে একটি ভেড়া জবাই করেছি। প্রশ্ন হচ্ছে; প্রথমত: এমতাবস্থায় কি করা সঠিক ওয়াজিব ছিল। দ্বিতীয়ত: এ ধরণের বঞ্চনার শিকার হওয়া কি আমার গুনাহের প্রতিফল?


১। কেউ যদি কোন একটি পশুকে কোরবানির জন্য নির্দিষ্ট করেন, এরপর কোন অবহেলা না করা সত্ত্বেও সে পশুটি মারা যায় সেক্ষেত্রে আপনার উপর কোন কিছু বর্তাবে না।

ইবনে কুদামা (রহঃ) ‘আল-মুগনি’ গ্রন্থে (৯/৩৫৩) বলেন:

“যদি কোন অবহেলা ব্যতিরেকে তার হাত থেকে কোরবানির পশুটি ধ্বংস হয়ে যায় কিংবা চুরি হয়ে যায় কিংবা হারিয়ে যায় সেক্ষেত্রে তার উপর কোন কিছু বর্তাবে না। কেননা পশুটি তার হাতে আমানত। যদি তার অবহেলা না থাকে সেক্ষেত্রে গচ্ছিত-রাখা সম্পদের মত তাকে এটার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না”।[সমাপ্ত] [আরও দেখুন: মিরদাওয়ি এর ‘আল-ইনসাফ’ (৪/৭১)]

২। যদি সে ব্যক্তি নিজে এটাকে ধ্বংস করে থাকে কিংবা Continue reading

Posted in কোরবানির পশু জবাই করার আগে মারা গেলে কি হুকুম? | Tagged ,

কাউকে দান করার পর তার নিকটে দো‘আ চাওয়া যাবে কি?


কাউকে কোন কিছু দান করার পর দো‘আ চাওয়া অনুচিৎ। কেননা এটি দানের বিনিময়ে প্রতিদান চাওয়ার মত হয়ে যায়। অথচ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন যে সাত শ্রেণীর লোক আল্লাহর ছায়ার নিচে আশ্রয় পাবে, তাদের অন্যতম হ’ল, যে ব্যক্তি ডান হাতে দান করে, অথচ বাম হাত টের পায় না’ (বুঃ মুঃ মিশকাত হা/৭০১)। অন্যদিকে জান্নাতী বান্দাদের দুনিয়াবী বৈশিষ্ট্য বলতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘তারা কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য মিসকীন, ইয়াতীম ও কয়েদীদের খাদ্য দান করে থাকে’। ‘তারা বলে, আমরা কেবল আল্লাহর চেহারা অন্বেষণের জন্য তোমাদের খাদ্য দান করে থাকি। আমরা তোমাদের নিকট থেকে কোন প্রতিদান ও কৃতজ্ঞতা কামনা করি না’ (দাহর ৭৬/৮-৯)।  

তবে যাকে বা যে প্রতিষ্ঠানে ছাদাক্বা করা হ’ল, তাদের Continue reading

Posted in দান করার পর তার নিকটে দো‘আ চাওয়া যাবে কি? | Tagged ,

কুরবানীর পশু ক্রয়ের কয়েকদিন পর কোন ত্রুটি প্রকাশ পেলে তা দ্বারা কুরবানী করা যাবে কি?


কোন পশুকে কুরবানীর জন্য নির্দিষ্ট করা বা ক্রয় করার পর যদি কোন ত্রুটি প্রকাশ পায়, তাহ’লে তা দ্বারা কুরবানী করা যাবে। আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়ের (রাঃ)-এর নিকট হজ্জের হাদ্ঈ সমূহ আনা হ’লে তার মধ্যে একটি এক চক্ষুহীন ট্যারা উট পাওয়া যায়। তখন তিনি বলেন, ক্রয়ের পর এরূপ হ’লে এটা দিয়েই কাজ সম্পন্ন কর। আর ক্রয়ের পূর্বে এরূপ পেলে তা পাল্টে নাও’ (বায়হাক্বী হা/১০৫৪৬; নববী, আল-মাজমূ‘ ৮/৩৬৩, সনদ ছহীহ; ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৬/৩০৪; মির‘আত ৫/৯৯)

Posted in কুরবানীর পশু ক্রয়ের পর কোন ত্রুটি প্রকাশ পেলে তা দ্বারা কুরবানী করা যাবে কি? | Tagged

জুম‘আর ছালাতের পূর্বে গোসল করা মুস্তাহাব না ওয়াজিব?


ফরয গোসল ব্যতীত সকল গোসলই নফল। গুরুত্ব বিবেচনায় এসব গোসল কখনো মুবাহ, কখনো মুস্তাহাব, কখনো ওয়াজিব হিসাবে গণ্য হয়। যারা দৈনিক গোসল করেন এবং যারা সপ্তাহে একদিন গোসল করেন, তারা সমান নন। জুম‘আর দিনের বিবেচনায় এদিনের গোসলকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেউ মুস্তাহাব, কেউ সুন্নাতে মুওয়াক্কাদাহ, কেউ ওয়াজিব বলেছেন। ইবনু দাক্বীকুল ঈদ বলেন, অধিকাংশ বিদ্বান ‘মুস্তাহাব’ বলেছেন। সাইয়েদ সাবেক্ব একে মুস্তাহাব গোসল সমূহের মধ্যে শামিল করেছেন (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৫৩-৫৫)। ছাহেবে মির‘আত একে ‘ওয়াজিব’ বলেছেন (মির‘আত হা/৫৪০-এর ব্যাখ্যা)

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, জুম‘আর দিনে প্রত্যেক সাবালকের জন্য গোসল করা ওয়াজিব’ (বুখারী হা/৮৭৯; মিশকাত হা/৫৩৮)। তিনি আরো বলেন, যে ব্যক্তি জুম‘আয় যাবে সে যেন গোসল করে (বুখারী হা/৮৮২; মুসলিম হা/৮৪৫)। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুম‘আর দিন শুধু ওযূ করল সেটাই তার জন্য যথেষ্ট। আর যে ব্যক্তি গোসল করল, গোসল করাই উত্তম’ (তিরমিযী হা/৪৯৭; মিশকাত হা/৫৪০)। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, জুম‘আর দিন গোসল করা ওয়াজিব নয়; তবে উত্তম। তাতে গোসলকারীর অধিকতর পবিত্রতা অর্জিত হয়’ (আবুদাঊদ হা/৩৫৩; মিশকাত হা/৫৪৪)। উপরোক্ত হাদীছগুলি থেকে বুঝা যায় যে, জুম‘আর দিনে গোসল করা গুরুত্বপূর্ণ কাজ। যে সকল হাদীছে ওয়াজিব শব্দটি এসেছে তার অর্থ ফরয নয় বরং গুরুত্ব বুঝানোর জন্য রাসূল (ছাঃ) এরূপ শব্দ ব্যবহার করেছেন (শায়খ বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১০/১৭১)। তবে কোন ব্যক্তি যদি ঘর্মাক্ত হয় এবং শরীরের দুর্গন্ধ অন্য মুছল্লীদের জন্য কষ্টকর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে তার জন্য গোসল করা ওয়াজিব হবে (ইবনু তায়মিয়াহ, ফাতাওয়া কুবরা ৫/৩০৭)

Posted in গোসল জুম‘আর ছালাতের পূর্বে করা মুস্তাহাব না ওয়াজিব?, জুম‘আর ছালাতের পূর্বে গোসল করা মুস্তাহাব না ওয়াজিব? | Tagged ,

আমাদের এলাকায় প্রচলিত আছে, ক্বদরের রাতে সমস্ত সৃষ্টি আল্লাহকে সিজদা করে। এসময় জাগ্রত থেকে ইবাদতকারীগণই কেবল এদৃশ্য দেখতে পায়। একথার কোন সত্যতা আছে কি?


একথা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। বরং সকল সৃষ্টি সর্বাবস্থায় আল্লাহকে সিজদা করে। আল্লাহ বলেন, তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহকে সিজদা করে যা কিছু আছে নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে… সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্ররাজি, পর্বতরাজি, বৃক্ষলতা, জীবজন্তু ও বহু মানুষ? (হজ্জ ২২/১৮)। অবিশ্বাসী কাফেররা আল্লাহকে সিজদা না করলেও তাদের জড় দেহ আল্লাহর আনুগত্য করে। আর সেজন্যেই তারা তাদের বার্ধক্য ও জ্বরাকে প্রতিরোধ করতে পারে না। সৃষ্টি সমূহের সিজদা করার দৃশ্য ‘ক্বদর রাত্রিতে আল্লাহর ইবাদতকারীগণই দেখতে পান’ কথাটি স্থূল দৃষ্টিতে আদৌ সম্ভব নয়। তবে জ্ঞানজগতে অনুভব করা যায়। প্রত্যেক জ্ঞানী ব্যক্তিই সর্বাবস্থায় তা বুঝতে পারেন। কেবল ক্বদর রাত্রিতে নয়।

Posted in ক্বদরের রাতে ইবাদতকারীগন সমস্ত সৃষ্টির আল্লাহকে সিজদা করা দেখতে পায়কি? | Tagged

জনৈক নারীকে তার মা ও ভাই-বোন জোরপূর্বক বিবাহ দিয়েছিল। তিনি বিবাহের সময় সম্মতি দেননি এবং কাবিননামাতেও স্বাক্ষর করেননি। ৮ বছরের সংসারে তার ১টি সন্তান রয়েছে। বর্তমানেও তিনি উক্ত বিবাহের ব্যাপারে নারায। এক্ষণে উক্ত বিবাহ কি সঠিক হয়েছে? না হ’লে করণীয় কি?


সে আট বছর সংসার করেছে এবং তার সন্তান হয়েছে। এটাই তার সম্মতির প্রমাণ। অতএব বিবাহ সঠিক বলে গণ্য হবে (নববী, শরহ মুসলিম ৯/২০৪, হা/১৪১৯-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)। এক্ষণে দু’জনে চাইলে সংসার করতে পারে। নইলে ‘খোলা’ বা ‘তালাকে’র মাধ্যমে উভয়ে পৃথক হ’তে পারে।

Posted in বিবাহে সম্মতি না থাকলে বিবাহ বলে গন্য হবে কি? | Tagged

ছালাতে সিজদারত অবস্থায় দু’পা কিভাবে রাখতে হবে? দু’পা মিলিয়ে না ফাঁকা রাখবে?


হযরত আয়েশা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘এক রাত্রিতে আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বিছানায় না পেয়ে আমার হাত দিয়ে খুঁজতে থাকলাম। অতঃপর আমার হাত তাঁর দু’পায়ের উপর পতিত হয়। তখন তিনি সিজদারত ছিলেন এবং তাঁর পা দু’টি খাঁড়া ছিল’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৮৯৩, ‘সিজদা ও সিজদার ফযীলত’ অনুচ্ছেদ)। অন্য বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘এ সময় তাঁর গোড়ালীদ্বয় মিলানো ছিল এবং পায়ের অঙ্গুলি সমূহ কিবলার দিকে ছিল’ (মুস্তাদরাক হাকেম ১/৩৪০ পৃঃ, হা/৮৩২; ছহীহ ইবনু খুযায়মাহ হা/৬৫৪, ইবনু হিববান হা/১৯৩৩)

ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আমি সাত অঙ্গের উপর সিজদা করতে আদিষ্ট হয়েছি। নাকসহ চেহারা, দু’হাত, দু’হাটু এবং দু’পায়ের আঙ্গুলসমূহের অগ্রভাগ’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৮৮৭)। এখানে ‘দু’পায়ের আঙ্গুলসমূহের অগ্রভাগ’-এর ব্যাখ্যায় ছাহেবে মির‘আত বলেন, দু’পায়ের আঙ্গুলগুলি ক্বিবলামুখী থাকবে এবং দু’গোড়ালি খাড়া থাকবে’ (মির‘আত ৩/২০৪)। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, দু’গোড়ালীর মাঝে এক বিঘত ফাঁক থাকবে (নায়ল ৩/১২১)। মূলতঃ দাঁড়ানো অবস্থায় যেমন দু’পা ফাঁক থাকে, সিজদা অবস্থায়ও সেভাবে থাকবে এবং এটাই স্বাভাবিক অবস্থা।

এক্ষণে ইবনু হিববান, ইবনু খুযায়মা ও হাকেম বর্ণিত আয়েশা (রাঃ)-এর দু’গোড়ালি মিলানো সম্পর্কে যে বর্ণনাটি এসেছে, সে সম্পর্কে ইমাম হাকেম বলেন, ‘এই হাদীছ ব্যতীত অন্য কোথাও কেউ গোড়ালী মিলানোর কথা বর্ণনা করেছেন বলে আমি জানি না (হাকেম ১/৩৫২)। তাই ছহীহ মুসলিম ও অন্যান্য হাদীছে আয়েশা (রাঃ) বর্ণিত দু’গোড়ালি খাড়া রাখার হাদীছই অগ্রাধিকারযোগ্য। সর্বোপরি বিষয়টি মুস্তাহাব। অতএব খাড়া বা মিলানো যেভাবে সহজ হবে সেভাবেই রাখবে। এতে কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

Posted in ছালাতে সিজদারত অবস্থায় দু’পা কিভাবে রাখতে হবে? | Tagged ,

বীমা কোম্পানীতে চাকুরী করা হারাম জেনে চাকুরী ছাড়ার প্রস্ত্ততি নিচ্ছি। এক্ষণে ১০ বছর চাকুরীর ফলে প্রাপ্ত প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইটি, লভ্যাংশ ইত্যাদি থেকে প্রাপ্ত অর্থের ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান কি?


এক্ষেত্রে চাকুরী পরিত্যাগ করে খালেছ নিয়তে তওবা করতে হবে এবং পরবর্তীতে প্রাপ্ত সমস্ত অর্থ নেকীর আশা ব্যতীত দান করে দিতে হবে। কারণ যে সূদী অর্থ থেকে বাঁচার জন্য উক্ত চাকুরী ছাড়া হচ্ছে, তা থেকে প্রাপ্য সকল অর্থই তার অন্তর্ভুক্ত।

তবে তওবাকারী যদি স্বীয় দরিদ্রতার কারণে পরিত্যক্ত সম্পদের মুখাপেক্ষী হন বা অন্য কোন বৈধ কাজ শুরু করার জন্য উক্ত অর্থ ব্যতীত কিছু না থাকে, সেক্ষেত্রে বাধ্যগত অবস্থায় সেখান থেকে প্রয়োজন মত কিছু সম্পদ গ্রহণ করা যাবে’ (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৯/৩০৯ ; ইবনুল ক্বাইয়িম, যাদুল মা‘আদ ৫/৬৯১-৯২)

অতএব তওবা পরবর্তী প্রাপ্ত সম্পদ সম্ভবপর পরিত্যাগ করে বৈধ রূযীর পথ তালাশ করতে হবে। আল্লাহ বলেন, যারা আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তাদেরকে একটি পথ বের করে দেন এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হন’ (তালাক ২-৩)

Posted in বীমা কোম্পানীর চাকুরি ছাড়ার পর প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থের বিধান কি? | Tagged , ,

শরী‘আত সম্পর্কে মূর্খ ও অজ্ঞ লোকদের আমল আল্লাহর নিকটে গ্রহণযোগ্য হয় কি?


ইবাদত কবুল হওয়ার মৌলিক শর্ত ৩টি : (১) আক্বীদা ছহীহ হওয়া (কাহফ ১১০) (২) তরীকা ছহীহ হওয়া (মুসলিম হা/১৭১৮)। (৩) আমল ইখলাছপূর্ণ হওয়া (যুমার ৩৯/১১)। এই শর্তগুলি পূরণ হ’লে আমল কবুল হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি সৎকর্ম করে, আমরা তার পুরষ্কার বিনষ্ট করি না’ (কাহফ ১৮/৩০)। তিনি আরো বলেন, অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা সে দেখতে পাবে (যিলযাল ৯৯/৭)। তবে দ্বীনের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা ফরযে আইন, যা সকল মুসলমানের জন্য আবশ্যিক। সেগুলি হ’ল- ঈমান ও তা বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ, বিশুদ্ধ ও বাতিল আক্বীদা, তাওহীদ-শিরক, হালাল-হারাম, ছালাত-ছিয়াম, হজ্জ-যাকাত ইত্যাদি যাবতীয় ফরয ইবাদত পালনের নিয়ম-পদ্ধতি সমূহ (আল-ফাক্বীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ হা/১৬৩)। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘প্রত্যেক মুসলিমের উপর দ্বীনী ইলম শিক্ষা করা ফরয’ (ইবনু মাজাহ হা/২২৪; মিশকাত হা/২১৮)

Posted in মূর্খ ও অজ্ঞ লোকদের আমল আল্লাহর নিকটে গ্রহণযোগ্য হয় কি? | Tagged , ,

পিতা-মাতা উভয়েই নিছাব পরিমাণ সম্পদের মালিক ছিলেন এবং উভয়ে পৃথকভাবে যাকাত আদায় করতেন। কিন্তু বর্তমানে পিতার সম্পদ নিছাব পরিমাণ নেই। এক্ষণে মা কি এককভাবে না পিতার সম্পদ সহ যাকাত আদায় করবেন?


যাকাত পরিবারের উপর নয়, বরং ব্যক্তির উপর ফরয। অতএব উক্ত অবস্থায় মা কেবল তার নিজস্ব সম্পদের যাকাত প্রদান করবেন (বুঃ মুঃ মিশকাত হা/১৭৭২; আবুদাঊদ হা/১৫৭৩, সনদ ছহীহ)

Posted in যাকাত পরিবারের উপর নয় নাকী ব্যক্তির উপর ফরয? | Tagged ,

ঘরের বিভিন্ন স্থানে কুরআনের আয়াত, দো‘আ, আয়াতুল কুরসী ইত্যাদির ক্যালিগ্রাফী টানিয়ে রাখা যাবে কি?


যাবে না। কারণ (১) অধিকাংশ ক্ষেত্রে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্দেশ্যে কুরআনের আয়াত, দো‘আ ইত্যাদি দ্বারা বিভিন্ন রঙের ডিজাইনে নকশা করা হয়। অথচ কুরআন নাযিল হয়েছে মানুষকে হেদায়াতের জন্য, সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নয়। অতএব এরূপ কাজ কুরআনকে তাচ্ছিল্য করার শামিল। (২) কেউ ঝুলিয়ে রাখে বরকত হাছিলের জন্য, যা স্পষ্ট বিদ‘আত। (৩) কেউ টাঙিয়ে রাখে নানা বিপদাপদ বা শয়তানের অনিষ্টকারিতা হ’তে রক্ষা পাওয়ার জন্য। যা স্পষ্ট শিরক। বস্ত্ততঃ রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবীগণের যামানায় এরূপ কার্যকলাপের কোন অস্তিত্ব ছিল না। অতএব এসব বিদ‘আতী কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকা আবশ্যক (উছায়মীন, লিকাউল বাবিল মাফতূহ ১৩/১৯৭)

বর্তমানে কুরআনের আয়াতসমূহ ক্যালিগ্রাফিক ডিজাইনে লিখে মসজিদের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৫/১৯০)

Posted in ঘরের বিভিন্ন স্থানে কুরআনের আয়াত আয়াতুল কুরসী দো’আর ক্যালিগ্রাফী টানিয়ে র | Tagged , , , ,

আমার কেবল দুই মেয়ে। আমি আমার সমস্ত সম্পদ তাদের নামে লিখে দিয়েছি। এরূপ করা সঠিক হয়েছে কি?


সঠিক হয়নি। কারণ পিতার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী, কন্যা, ভাই-বোন সহ অন্যান্যদের অংশ শরী‘আত কর্তৃক নির্ধারিত (নিসা ৪/১১)। যার ব্যত্যয় ঘটানো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা লংঘনের শামিল (নিসা ৪/১৩)। বিবরণ অনুযায়ী মোট সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ দুই মেয়ে পাবে এবং বাকী অংশ অন্য ওয়ারিছগণ পাবে। অতএব উক্ত সম্পদ পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া আবশ্যক।

Posted in সম্পদ সবগুলো মেয়েদের নামে লিখে দেওয়া যাবে কি ছেলে না থাকায়? | Tagged

আমাদের মসজিদে মহিলাদের ছালাতে ব্যবস্থা রয়েছে মসজিদের উত্তর পাশে। ফলে পুরুষের দ্বিতীয় কাতার বরাবর মহিলাদের কাতার হয়। এতে ছালাতে কোন বাধা আছে কি?


সাধারণভাবে মহিলারা পুরুষদের পিছনের কাতারে দাঁড়াবে (বুখারী হা/৩৮০; মুসলিম হা/৬৫৮)। এরপরেও ব্যবস্থাপনা না থাকলে ওযরবশতঃ পুরুষদের কাতারের ডানে বা বামে পর্দা বা দেওয়াল দ্বারা ঘেরা স্থানে মহিলারা দাঁড়াতে পারে (নববী, আল-মাজমূ‘ ৩/২৫২; আল-মাবসূত্ব ১/১৮৩)

Posted in মসজিদে ছালাতে পুরুষের দ্বিতীয় কাতার বরাবর মহিলাদের কাতার করা যাবে কি? | Tagged , ,

আযান দেওয়ার সময় কানে হাত রাখলেই চলবে না ছিদ্রের মধ্যে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিতে হবে?


কানের মধ্যে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিতে হবে। এসময় মাথা ঘুরবে, দেহ নয়। আবু জুহায়ফা (রাঃ) বলেন, আমি বেলাল (রাঃ)-কে আযান দিতে দেখলাম এবং তাকে মুখ ঘুরাতে দেখলাম। এসময় তার (দুই হাতের) দুই আঙ্গুল উভয় কানের মধ্যে ছিল (তিরমিযী হা/১৯৭; ইরওয়া হা/২৩০)

Posted in আযান দেওয়ার সময় কানে হাত রাখলেই চলবে না ছিদ্রের মধ্যে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিতে হব | Tagged

খেলাধুলার সামগ্রী বিক্রয়ের দোকান দেওয়া শরী‘আতসম্মত হবে কি?


সাধারণভাবে খেলা-ধুলার সামগ্রী বিক্রয়ে শরী‘আতে বাধা নেই। তবে যদি কোন খেলা মানুষকে হারামের দিকে প্রলুব্ধ করে, সেসব খেলার দ্রব্যাদি বিক্রি করা হারাম। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির কাজে পরস্পরকে সাহায্য কর এবং পাপ ও সীমালংঘনের কাজে একে অপরকে সাহায্য করো না’ (মায়েদাহ ৫/২)

Posted in খেলাধুলার সামগ্রী বিক্রয় করায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি? | Tagged

সিজদায়ে তেলাওয়াতের নিয়ম কি? ওযূবিহীন অবস্থায় সিজদায়ে তেলাওয়াতের আয়াত পাঠ করলে সিজদা দেওয়া যাবে কি? এসময় নারীদের পর্দার পোষাক পরিধান করতে হবে কি?


সিজদায়ে তেলাওয়াতের নিয়ম হ’ল- প্রথমে তাকবীর দিয়ে সিজদায় যাবে। অতঃপর দো‘আ পড়বে এবং পুনরায় তাকবীর দিয়ে মাথা উঠাবে (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/৫৯৩০; বায়হাক্বী ২/৩২৫, সনদ ছহীহ; আলবানী, তামামুল মিন্নাহ ২৬৯ পৃঃ)। সিজদা মাত্র একটি হবে। এতে তাশাহ্হুদ নেই, সালামও নেই (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১৬৪)

এটি ছালাতের অন্তর্ভুক্ত নয়। সেকারণ এর জন্য ওযূ, ক্বিবলা বা নারীদের পর্দা কোনটিই শর্ত নয়। ইবনু ওমর (রাঃ) ওযূ ছাড়াই তেলাওয়াতের সিজদা দিয়েছেন (বুখারী ৪/৩০৩; মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ হা/৪৩৫৪)। শাওকানী বলেন, সিজদায়ে তেলাওয়াতের হাদীছগুলো প্রমাণ করে না যে, সিজদাকারীকে ওযূ অবস্থায় থাকা যরূরী। রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে উপস্থিত সকলে তেলাওয়াতের সিজদা করতেন। কিন্তু কোথাও বর্ণিত হয়নি যে, তিনি কাউকে ওযূ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন (নায়লুল আওতার ৩/১২৫; ফাতাওয়া লাজনাহ দায়েমাহ ৭/২৬২-৬৩; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৪/৩১২)

Posted in ওযূবিহীন অবস্থায় সিজদায়ে তেলাওয়াতের আয়াত পাঠ করলে সিজদা দেওয়া যাবে কি?, সিজদায়ে তেলাওয়াতের নিয়ম কি? | Tagged ,

কেউ যদি আইয়ামে তাশরীকের শেষ দিনে কুরবানী করতে চায়, তবে সে ঈদের দিন নখ-চুল কর্তন করতে পারবে কি?


না। যেদিন কুরবানী করবে সেদিনই নখ ও চুল কাটাবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা কুরবানী দেওয়ার এরাদা রাখে, তারা যেন যিলহাজ্জ মাসের চাঁদ ওঠার পর হ’তে কুরবানী করা পর্যন্ত স্ব স্ব চুল ও নখ কর্তন করা হ’তে বিরত থাকে’ (মুসলিম হা/১৯৭৭; মিশখাত হা/১৪৫৯)। অত্র হাদীছে কুরবানী করাকে শেষ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে (উছায়মীন, শারহু রিয়াযিছ ছালেহীন হা/১৭০৬-এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)

Posted in আইয়ামে তাশরীকের শেষ দিনে কুরবানী করতে হলে ঈদের দিন নখ-চুল কর্তন করতে পারবে ক, কুরবানী করতে হলে ঈদ পর্যন্ত নখ-চুল কর্তন হতে বিরত থাকা। | Tagged

ছহীহ মুসলিম ২৬১ নং হাদীছে গোফ খাটো করা, দাড়ি ছেড়ে দেওয়া, বগলের লোম উপড়ানো ও নাভীর নীচের লোম কাটা ফিৎরাতের অন্তর্ভুক্ত বলা হয়েছে। এক্ষণে এগুলি কি মুস্তাহাব আমল হিসাবে গণ্য হবে?


না। বরং চল্লিশ দিনের মধ্যে গোফ খাটো করা, বগলের লোম উপড়ানো ও নাভীর নীচের লোম কাটা রাসূল (ছাঃ) নির্দেশিত সুন্নাত (মুসলিম, মিশকাত হ/৪৪২২)। নির্ধারিত সময়সীমা হওয়ায় এটা ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগ করা জায়েয নয় (নায়লুল আওত্বার ১/১৪৩)

আর দাড়ি রাখা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা কর। দাড়ি লম্বা কর, গোঁফ ছোট কর’ (বুখারী হা/৫৮৯২; মিশকাত হা/৪৪২১)। ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, দাড়ি বিষয়ে হাদীছে পাঁচ ধরনের শব্দ এসেছে, যার সবগুলি একই অর্থ বহন করে যে, দাড়িকে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দেয়া (শরহ মুসলিম ৩/১৫১)। উছায়মীন (রহঃ) বলেন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ)-এর অনুসরণ করতে চায়, তারা যেন অবশ্যই দাড়ির কোন অংশ না কাটে। কেননা শেষনবী (ছাঃ) এবং তার পূর্বের কোন নবী দাড়ি কাট- ছাঁট করতেন না (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১১/৮২)

Posted in দাড়ি ছেড়ে দেওয়া গোফ খাটো করা নাভীর নীচের লোম কাটা মুস্তাহাব আমল কি? | Tagged

ঈদের মাঠে সামিয়ানা টাঙানো বা মাঠ পাকা করা যাবে কি?


ঈদগাহের জন্য মেঝে পাকা করা, ছায়ার জন্য সামিয়ানা টাঙানো, ফ্যান ঝুলানো, এসি করা বা ছাদ করা কোনটাই আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) বা খুলাফায়ে রাশেদীনের আমল থেকে প্রমাণিত নয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আমার মৃত্যুর পরে তোমরা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমাদের উপর আবশ্যিক হবে আমার ও আমার খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত অাঁকড়ে ধরা এবং তা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরা’ (আহমাদ, আবুদাঊদ; মিশকাত হা/১৬৫; ছহীহাহ হা/২৭৩৫)। রাসূল (ছাঃ) মসজিদে নববীর মাত্র ৫০০ গজ পূর্বে ‘বাত্বহান’ সমতলভূমিতে খোলা ময়দানে ঈদের ছালাত আদায় করতেন (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২৩৭, মির‘আত ৫/২২ পৃঃ)। আমাদেরও সেটাই করা কর্তব্য।

Posted in ঈদের মাঠে সামিয়ানা টাঙানো বা মাঠ পাকা করা যাবে কি? | Tagged

রামাযান ব্যতীত অন্য মাসে তাহাজ্জুদ ছালাত নিয়মিতভাবে জামা‘আতের সাথে আদায় করা যাবে কি?


রামাযানের বাইরে নিয়মিতভাবে জামা‘আতের সাথে রাত্রির নফল ছালাত আদায় করা বিদ‘আত। তবে মাঝে মাঝে করা যেতে পারে। যেমন রাসূল (ছাঃ) কখনো ইবনু আববাস (বুখারী হা/১৩৮; মুসলিম হা/৭৬৩; মিশকাত হা/১১৯৫), কখনো ইবনু মাসঊদ (বুখারী হা/১১৩৫), কখনো হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (আহমাদ হা/২৩৪২৩)-কে সাথে নিয়ে নিজ বাড়িতে রাতের নফল ছালাত জামা‘আতের সাথে আদায় করেছেন।

Posted in তাহাজ্জুদ ছালাত নিয়মিতভাবে জামা‘আতের সাথে আদায় করা যাবে কি? | Tagged

আমার বৃদ্ধ পিতা-মাতা নিজস্ব অর্থ দ্বারা কাফনের কাপড় ক্রয় করে রাখতে চান। এটা শরী‘আতসম্মত হবে কি?


মৃত্যুর পূর্বে কাফনের কাপড় কিনে রাখায় শারঈ কোন বাধা নেই। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, যখন তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হ’ল তখন তিনি নতুন কাপড় আনালেন এবং পরিধান করে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘মৃত ব্যক্তিকে ক্বিয়ামতের দিন সেই কাপড়ে উঠানো হবে, যে কাপড়ে সে মৃত্যুবরণ করবে’ (আবুদাঊদ, সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/১৬৪০, ‘মৃতের গোসল ও কাফন দান’ অনুচ্ছেদ)। জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট থেকে কাফনের কাপড় বানানোর জন্য একটি চাদর উপহার হিসাবে চেয়ে নেয়। অতঃপর সে মারা গেলে সেটি দ্বারাই তার কাফন হয় (আহমাদ হা/২২৮৭৬; ইবনু মাজাহ হা/৩৫৫৫)

Posted in মৃত্যুর পূর্বে নিজস্ব অর্থ দ্বারা কাফনের কাপড় ক্রয় করে রাখা যাবে কি? | Tagged

হাদীছে বর্ণিত নিষিদ্ধ তিন সময়ে জানাযার ছালাত আদায় ও লাশ দাফন করা যাবে কি?


যাবে না। উক্ববা বিন ‘আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) তিনটি সময়ে আমাদেরকে জানাযার ছালাত আদায় ও মৃত ব্যক্তিকে দাফন করতে নিষেধ করতেন (১) যখন সূর্যোদয় আরম্ভ হয়, তখন থেকে সূর্য উপরে উঠা পর্যন্ত; (২) ঠিক দ্বিপ্রহরের সময়, পশ্চিম আকাশে সূর্য ঢলে না পড়া পর্যন্ত এবং (৩) যখন সূর্য অস্তমিত হওয়ার উপক্রম হয়, তখন থেকে সূর্য অস্তমিত না যাওয়া পর্যন্ত (মুসলিম হা/৮৩১; মিশকাত হা/১০৪০)। তবে একান্ত প্রয়োজনে যেমন লাশ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে এই তিন সময়েও জানাযার ছালাত আদায় বা লাশ দাফন করা যাবে (আলবানী, তামামুল মিন্নাহ ১/১৪৩; আহকামুল জানায়েয ১/১৩০)

Posted in জানাযার ছালাত আদায় ও লাশ দাফন নিষিদ্ধ তিন সময়ে করা যাবে কি? | Tagged , ,

আমাদের পাশে একদল যুবক-যুবতী প্রতিদিন রাতে অসামাজিক কর্মকান্ড করে। আমাদের কিছু দ্বীনী ভাই তাদেরকে পিটিয়ে তাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা ঠিক হবে কি?


এরূপ করা ঠিক হবে না। তাতে হিতে বিপরীত হ’তে পারে। বরং প্রথমে তাদেরকে বুঝানোর মাধ্যমে বিরত রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে এবং সামাজিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতে হবে। এতে ব্যর্থ হ’লে প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আইন নিজে হাতে তুলে নিলে কেবল বিপর্যয়ই সৃষ্টি হবে। আল্লাহ বলেন, ‘তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহবান কর প্রজ্ঞা ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে বিতর্ক কর সুন্দর পন্থায়’ (নহল ১৬/১২৫)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, অন্যায় কিছু দেখলে (ক্ষমতা থাকলে) তা হাত দিয়ে প্রতিরোধ করবে। নইলে যবান দিয়ে। নইলে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করবে’ (মুসলিম হা/৪৯; মিশকাত হা/৫১৩৭)

Posted in যুবক-যুবতীরা অসামাজিক কর্মকান্ড করলে তাদেরকে পিটিয়ে তাড়ানো যাবে কি? | Tagged ,

জীবিত বা মৃত পিতা-মাতার নামে উন্মুক্ত পাঠাগার করা যাবে কি? যাতে মানুষ সেখান থেকে সঠিক জ্ঞানার্জন করতে পারে?


যাবে এবং এটি ছাদাক্বায়ে জারিয়া হিসাবে গণ্য হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়, কেবল ৩টি আমল ব্যতীত। (১) ছাদাক্বায়ে জারিয়াহ (২) এমন ইলম, যার দ্বারা জনগণের কল্যাণ সাধিত হয় এবং (৩) সুসন্তান, যে তার জন্য দো‘আ করে’ (মুসলিম, মিশকাত হা/২০৩)

Posted in পাঠাগার জীবিত বা মৃত পিতা-মাতার নামে উন্মুক্ত করা যাবে কি? | Tagged

এক্সিডেন্টে দাঁত পড়ে গেলে কৃত্রিম দাঁত সংযোজনে বাধা আছে কি?


চিকিৎসার্থে বা কোন দোষ-ক্রটি দূরীকরণার্থে এরূপ করায় শরী‘আতে কোন বাধা নেই (তিরমিযী, মিশকাত হা/৪৪০০, সনদ হাসান; নববী, আল-মাজমূ‘ ১/২৫৬; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ২৪/৫৬)

Posted in দাঁত কৃত্রিম সংযোজনে বাধা আছে কি? | Tagged

পেশায় নাবিক হওয়ায় আমাকে এক বছরের জন্য জাহাযে যেতে হয় এবং বিভিন্ন দেশে মালামাল পরিবহন করতে হয়। প্রত্যেক বন্দরে সর্বোচ্চ পাঁচদিন অবস্থান করা যায়। জাহাযে ছিয়াম পালন আমার জন্য খুবই কষ্টকর হয়। এক্ষণে ফরয ছিয়াম পালন থেকে বিরত থাকা যাবে কি? এছাড়া নিয়মিতভাবে ছালাত ক্বছর করা যাবে কি?


ফরয ছিয়াম সাধ্যপক্ষে পালন করার চেষ্টা করতে হবে। কষ্টকর হ’লে ছেড়ে দিবে এবং পরবর্তীতে ক্বাযা আদায় করবে। আল্লাহ বলেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি পীড়িত হবে অথবা সফরে থাকবে, সে যেন এটি অন্য সময় পালন করে (বাক্বারাহ ২/১৮৪)। একবার সফরে থাকা অবস্থায় রাসূল (ছাঃ) এক স্থানে লোকের ভীড় দেখলেন এবং দেখলেন যে এক ব্যক্তির উপর ছায়া দেয়া হয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এটা কি? লোকেরা বলল, এ ছিয়ামপালনকারী। রাসূল (ছাঃ) বললেন, সফরে ছিয়াম রাখা নেকীর কাজ নয় (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/২০২১)

আর ছালাত ক্বছর করাতে শরী‘আতে কোন বাধা নেই। আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ) আযারবাইজান সফরে গেলে পুরো বরফের মৌসুম সেখানে আটকে যান ও ছয় মাস যাবৎ ক্বছর করেন (বায়হাক্বী ৩/১৫২ পৃঃ; ইরওয়া হা/৫৭৭, সনদ ছহীহ)। অনুরূপভাবে হযরত আনাস (রাঃ) শাম বা সিরিয়া সফরে গিয়ে দু’বছর সেখানে থাকেন ও ক্বছর করেন (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২১৩-১৪ পৃঃ; মিরক্বাত ৩/২১১ পৃঃ)। সুতরাং স্থায়ী মুসাফির যেমন জাহায, বিমান, ট্রেন, বাস ইত্যাদির চালক ও কর্মচারীগণ সফর অবস্থায় সর্বদা ছালাতে ক্বছর করতে পারেন (বিস্তারিত দ্রঃ)। তবে মনে রাখতে হবে যে, ক্বছর করা  ওয়াজিব নয়। তিনি পুরা ছালাতও পড়তে পারেন।

Posted in ছালাত নিয়মিতভাবে ক্বছর করা যাবে কি?, ছিয়াম হতে বিরত থাকা যাবে কি কষ্টের কারনে? | Tagged ,

তিন রাক‘আত বিশিষ্ট বিতর ছালাতের দ্বিতীয় রাক‘আতে বৈঠক করা যাবে কি?


যাবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা মাগরিবের ছালাতের ন্যায় (মাঝখানে বৈঠক করে) বিতর ছালাত আদায় করো না’ (দারাকুৎনী হা/১৬৩৪-৩৫, সনদ ছহীহ)। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) তিন রাক‘আত বিতর পড়তেন। তিনি শেষের রাক‘আতে ব্যতীত বসতেন না’ (হাকেম হা/১১৪০; বায়হাক্বী হা/৪৮০৩, সনদ ছহীহ)। তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বিতর ছালাত পাঁচ রাক‘আত আদায় করলেও শেষের রাক‘আত ব্যতীত বসতেন না (ছহীহ ইবনু হিববান হা/২৪৩৯, সনদ ছহীহ)। ইবনু ত্বাঊস তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (ছাঃ) তিন রাক‘আত বিতর পড়তেন। মাঝে বসতেন না (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/৪৬৬৯, ৩/২৭ পৃঃ)

অতএব ‘এক রাক‘আত বিতর সঠিক নয় এবং এক রাক‘আতে কোন ছালাত হয় না’। ‘বিতর তিন রাক‘আতে সীমাবদ্ধ’। ‘বিতর ছালাত মাগরিবের ছালাতের ন্যায়’। ‘তিন রাক‘আত বিতরের উপরে উম্মতের ইজমা হয়েছে’ বলে যেসব কথা সমাজে চালু আছে, শরী‘আতে এর কোন ভিত্তি নেই’ (বিস্তারিত দ্রঃ) 

Posted in বিতর তিন রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাতের দ্বিতীয় রাক‘আতে বৈঠক করা যাবে কি? | Tagged