কা‘বা ঘরের দরজায় কে প্রথম সোনার প্রলেপ দেয়? এটি কি শরী‘আতসম্মত?


কাবাগৃহকে সর্বপ্রথম স্বর্ণ-রৌপ্য দ্বারা কারুকার্যখচিত করেন উমাইয়া খলীফা ওয়ালীদ বিন আব্দুল মালিক (৮৬-৯৬ হি.)। সর্বশেষ ১৯৭৮ সালে কাবা ঘরের দরজা ২৮২ কেজি স্বর্ণের প্রলেপ দিয়ে সুসজ্জিত করেন সঊদী বাদশাহ খালিদ বিন আব্দুল আযীয আলে সঊদ (১৯৭৫-১৯৮২ খৃ.)। অধিকাংশ বিদ্বান স্বর্ণ-রৌপ্য সহ বিভিন্ন বস্ত্ত দ্বারা মসজিদকে অলংকৃত করাকে অপসন্দনীয় বলেছেন। কেননা তা ইসলামের সহজ-সরল সৌন্দর্যের পরিপন্থী এবং মুছল্লীদের একাগ্রতা বিনষ্টকারী। সেকারণ রাসূলূল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, মসজিদসমূহকে চাকচিক্যময় করে নির্মাণ করার জন্য আমি আদিষ্ট হইনি। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, কিন্তু তোমরা একে জাঁকজমকপূর্ণ করবে যেভাবে ইহূদী-নাছারাগণ করত (আবুদাঊদ হা/৪৪৮; মিশকাত হা/৭১৮)তিনি বলেন, ক্বিয়ামতের অন্যতম আলামত হল এই যে, লোকেরা মসজিদ নিয়ে গর্ব করবে (আবুদাঊদ হা/৪৪৯; মিশকাত হা/৭১৯)অতএব মসজিদকে এভাবে সুসজ্জিত করা উচিত নয় এবং তা নিঃসন্দেহে অপচয়ের শামিল (বিস্তারিত দ্র. আল-মাওসূআতুল ফিক্বহিইয়াহ ২৩/২১৮-১৯; ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) মসজিদ সম্পর্কে জ্ঞাতব্য অনুচ্ছেদ পৃ. ৩৮)

Posted in কা‘বা ঘরের দরজায় সোনার প্রলেপ দেওয়া কি শরী‘আতসম্মত? | Tagged

জীবিকার তাগিদে অমুসলিম রাষ্ট্রে গমন করা যাবে কী?


সাধারণভাবে জীবিকার জন্য অমুসলিম রাষ্ট্রে যাওয়া উচিৎ নয়। কেননা এতে তাদের দ্বারা দ্বীন প্রভাবিত হতে পারে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, মুশরিকদের সাথে যে সকল মুসলমান বসবাস করে আমি তাদের দায়িত্ব হতে মুক্ত… (আবুদাঊদ হা/২৬৪৫; মিশকাত হা/৩৫৪৭; ছহীহাহ হা/৬৩৬)তিনি বলেন, মুশরিকদের সাথে তোমরা একত্রে বসবাস কর না, তাদের সংসর্গেও যেয়ো না। যে মানুষ তাদের সাথে বসবাস করবে অথবা তাদের সংসর্গে থাকবে সে তাদের অনুরূপ বলে বিবেচিত হবে (তিরমিযী হা/১৬০৫; ছহীহাহ হা/২৩৩০, সনদ হাসান)তবে বাধ্যগত কারণে তাদের মাঝে বসবাস করতে হলে নিজ ধর্মের বিধি-বিধান মেনে চলবে এবং সুযোগমত তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিবে (নাহল ১৬/১২৫মুমতাহিনাহ ৬০/৮ইবনু হাজার আসক্বালানী, ফাৎহুল বারী ৬/৪০৩; শায়খ বিন বায, মাজমূ ফাতাওয়া ৯/৪৩)এছাড়া মূলতঃ তিনটি শর্ত সাপেক্ষে কোন মুসলিম অমুসলিম রাষ্ট্রে যেতে পারে। (১) হক-বাতিলের মধ্যে পার্থক্যকারী জ্ঞান থাকা (২) প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার মত ঈমানী মযবুতী থাকা (৩) এমন অভাবী হওয়া যে, জীবিকার বিকল্প পথ না থাকা (উছায়মীন, মাজমূ ফাতাওয়া ৩/২৪) 

Posted in অমুসলিম রাষ্ট্রে জীবিকার তাগিদে গমন করা যাবে কী? | Tagged ,

অনেক সময় দেখা যায় যে, টেলিভিশনে বক্তা মুনাজাত করছেন। এক্ষণে আমি দর্শক হয়ে আমীন আমীন বলতে পারব কি?


যেকোন দো‘আ যেকোন মাধ্যমে শ্রবণ করলে তার সমর্থনে আমীন বলা যায়। কিন্তু কোন রেকর্ডকৃত দো‘আর বিপরীতে আমীন আমীন বলা যরূরী নয় (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ২৪/২৫৬)। উল্লেখ্য যে, সাধারণভাবে হাত তুলে দলবদ্ধ মুনাজাতের কোন দলীল নেই। বরং একাকী বিনীত হৃদয়ে নিজের দো‘আ নিজে করা কর্তব্য। আল্লাহ বলেন, তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ডাকো বিনীত ভাবে ও চুপে চুপে। নিশ্চয়ই তিনি সীমালংঘনকারীদের ভালবাসেন না’ (আ‘রাফ ৭/৫৫)

Posted in টেলিভিশনে বক্তা মুনাজাত করলে আমি দর্শক হয়ে আমীন আমীন বলতে পারব কি? | Tagged

ওমর (রাঃ) বলেন, ‘যদি ফোরাত নদীর কূলে একটি ভেড়ার বাচ্চাও হারানো অবস্থায় মারা যায়, তাতে আমি ভীত হই যে, সেজন্য আমাকে ক্বিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসিত হ’তে হবে’- এ মর্মে বর্ণিত আছারটির বিশুদ্ধতা জানতে চাই?


উক্ত আছারটির সনদ হাসান (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৭৪১৫; ইবনু আবী শায়বাহ হা/৩৫৬২৭; ইবনু হাজার, আল-মাত্বালিবুল ‘আলিয়া হা/৩৮৮৮, সনদ হাসান লিগাইরিহী।)

Posted in ভেড়ার বাচ্চাও হারানো অবস্থায় মারা গেলে ক্বিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসিত হ’তে হবে ক | Tagged

শায়খ আলবানী কি এক মুষ্টির উপর দাড়ি কেটে ফেলা ওয়াজিব বলেছেন? এ বিষয়ে স্পষ্ট জানতে চাই।


আল্লামা নাছেরুদ্দীন আলবানী ইবনু ওমর (রাঃ)-এর হজ্জকালীন একটি আমলের উপর ভিত্তি করে এমন ফৎওয়া দিয়েছেন (সিলসিলা যঈফাহ ৫/৩৭৮; সিলসিলাতুন নূর ওয়াল হুদা টেপ নং ৮৭৬)। তবে তার এই ফৎওয়া শায তথা বিচ্ছিন্ন। অতীতের কোন বিদ্বান এরূপ ফৎওয়া দেননি। বরং দাড়িকে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দিতে হবে, এটিই সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা কর এবং দাড়িকে নিজের অবস্থায় ছেড়ে দাও। আর গোঁফ ছোট কর (বুখারী হা/৫৮৯২; মুসলিম হা২৫৯; মিশকাত হা/৪৪২১)। দাড়ি ছাড়ার ব্যাপারে হাদীছে ছয় ধরনের শব্দ এসেছে। যেমন- আওফিরূ, আওফূ, আরখূ, ওয়াফ্ফিরূ, আরজূ, আ‘ফূ (أَوْفِرُوا، وَأَوْفُوا، وَأَرْخُوا، وَوَفِّرُوا، أَرْجُوا، أعْفُوا)। শব্দগুলি সব একই মর্ম বহন করে। আর তা হ’ল, দাড়িকে তার নিজ অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া। দাড়ি কাটা বা ছাঁটার পক্ষে কোন দলীল নেই; বরং এটি রাসূল (ছাঃ)-এর আদর্শের পরিপন্থী। উল্লেখ্য যে, দাড়ি ছাঁটার পক্ষে তিরমিযীতে যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, তা জাল (তিরমিযী হা/২৭৬২; মিশকাত হা/৪৪৩৯; সিলসিলা যঈফাহ হা/২৮৮)। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে এক মুষ্টির অধিক দাড়ি কাটা সম্পর্কে যে হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে, সেটি যঈফ (মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, হা/২৫৪৮১; আবূদাউদ হা/৪২০১)

শায়খ আলবানী যে হাদীছটিকে দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন সেখানে বলা হয়েছে যে, ইবনু ওমর (রাঃ) যখন হজ্জ বা ওমরাহ করতেন তখন তিনি তাঁর দাড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাহিরে যতটুকু বেশী থাকত, তা কেটে ফেলতেন (বুখারী হা/৫৮৯২)। এই হাদীছের ব্যাখ্যায় কিরমানী বলেন, তিনি হয়ত উক্ত মৌসুমে সূরা ফাৎহ ২৭ আয়াতের আলোকে মাথা মুন্ডন করে ও দাড়ি ছেঁটে উভয়টির নেকী পেতে চেয়েছিলেন। আর এটাকে তিনি দাড়ি ছেড়ে দেওয়ার সাধারণ নির্দেশ থেকে হজ্জ ও ওমরার জন্য খাছ ভেবে করেছিলেন’। ইবনুত তীন ইবনু ওমরের এক মুষ্টি দাড়ি কাটার কথার প্রতিবাদ করে বলেন, এর অর্থ তিনি এলোমেলো বা অধিক লম্বা দাড়ি ছেঁটে গোছালো করতেন’ (ফাৎহুল বারী হা/৫৮৯২-এর ব্যাখ্যা ১০/৩৫০-৫১ পৃ.)। এতদ্ব্যতীত এটি ছিল তাঁর ব্যক্তিগত আমল। অন্য কোন ছাহাবী এমনটি করতেন মর্মে কোন বিশুদ্ধ দলীল পাওয়া যায় না। আর তিনি কাউকে করার জন্য নির্দেশও দেননি। দ্বিতীয়তঃ তিনি শুধু হজ্জ ও ওমরার সময় করেছেন, অন্য সময় নয়। তৃতীয়তঃ এটি ব্যাখ্যাগত বিষয়, যা স্পষ্ট দলীলের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য নয়।

স্মর্তব্য যে, সূরা ফাৎহ ২৭ আয়াত রাসূল (ছাঃ)-এর উপর নাযিল হয়েছে। কিন্তু তিনি দাড়ি ছাঁটার কথা বলেননি। তাছাড়া ওমর (রাঃ)-এর একটি আমলের সাথে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর আমলের দ্বন্দ্ব হ’লে করণীয় সম্পর্কে ইবনু ওমরকে প্রশ্ন করা হ’লে তিনি উত্তরে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেন, ‘তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সুন্নাত অধিক অনুসরণযোগ্য, না কি ওমরের সুন্নাত’ (মুসনাদে আহমাদ হা/৫৭০০; তিরমিযী হা/৮২৪, সনদ ছহীহ)

ইমাম নববী বলেন, সৌন্দর্য বর্ধনের নামে দাড়ির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ছাটা সিদ্ধ নয় (ফাৎহুল বারী ১০/৩৫১)। তিনি বলেন, দাড়িকে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দেওয়াটাই বিশুদ্ধ। যেভাবে ছহীহ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে’ (আল-মাজমূ‘ শারহুল মুহাযযাব ১/২৯০)

সঊদী আরবের সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদ এ ব্যাপারে বলেন যে, দাড়ি মুন্ডন বা দাড়ির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ হ’তে কিছু কেটে নেওয়া বৈধ নয়। এটা রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাত বিরোধী কাজ (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ৫/১৩৭)। শায়খ উছায়মীন (রহঃ) বলেন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ)-এর অনুসরণ করতে চায়, তারা যেন অবশ্যই দাড়ির কোন অংশ না কাটে। কেননা শেষনবী (ছাঃ) এবং তার পূর্বের কোন নবী দাড়ি কাট- ছাঁট করতেন না (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১১/৮২)। শায়খ বিন বায (রহঃ) বলেন, দাড়িকে তার নিজ অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া ওয়াজিব (বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১০/৯৬-৯৭)। অতএব সৌন্দর্যের দোহাই দিয়ে দাড়ি কাট-ছাঁট করা সঠিক নয়। বরং দাড়ি তার নিজ অবস্থায় ছেড়ে দেওয়াটাই সৌন্দর্য। যেভাবে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। আর আল্লাহ নিজে সুন্দর। তিনি সৌন্দর্যকে পসন্দ করেন (মুসলিম হা/৯১; মিশকাত হা/৫১০৮)। অতএব সর্বাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সুন্নাতের অনুসরণই কাম্য (বিস্তারিত দ্র. আত-তাহরীক ১৪/৬ সংখ্যা, মার্চ ২০১১ প্রশ্নোত্তর ২২/২২৮)

Posted in দাড়ি এক মুষ্টির উপর কেটে ফেলা ওয়াজিব বলেছেন কি শায়খ আলবানী কি?

ওছমান (রাঃ) জুম‘আর দ্বিতীয় আযান চালু করে কি সুন্নাতবিরোধী আমল করেছিলেন?


ওছমান (রাঃ) মুছল্লীদের সময়মত জুম‘আর ছালাতে উপস্থিতির জন্য সাময়িক পদক্ষেপ হিসাবে অতিরিক্ত আযান চালু করেছিলেন। ওমর (রাঃ)-এর তিন তালাকের ফৎওয়ার ন্যায় এটিও ওছমান (রাঃ)-এর একটি ইজতিহাদী ফৎওয়া ছিল। এটি তাঁর সামগ্রিক কোন নির্দেশনা ছিল না। সেকারণ তিনি মসজিদে নববীর নিকটবর্তী যাওরা বাযার ব্যতীত অন্য কোন স্থানে এই প্রথা চালুর ‘আম নির্দেশ দেননি। সুতরাং তিনি সুন্নাত লঙ্ঘন করেননি।

স্মর্তব্য যে, জুম‘আর দিন একটি আযানই সুন্নাত। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে ওছমান (রাঃ)-এর গৃহীত সাময়িক ইজতিহাদী পদক্ষেপকে অনুসরণ করা আবশ্যক নয়। কেননা যে পরিস্থিতিতে ওছমান (রাঃ) যাওরা বাযারে প্রথম আযান চালু করেছিলেন, সেই কারণ অবশিষ্ট নেই। তখন মানুষের হাতে ঘড়ি-মোবাইল ও মাইকে আযানের ব্যবস্থা ছিল না। এছাড়া বর্তমানে একই মসজিদে দু’টি আযান প্রদান করা হয়, যা ওছমান (রাঃ)-এর নির্দেশনার বিপরীত (আলবানী, আল-আজওয়াবাতুন নাফেআহ পৃ. ২০; আহমাদ শাকের, শরহ সুনান তিরমিযী ২/৩৯২-৯৩; দ্র. ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ১৯৪-১৯৬ পৃ.)

Posted in জুম‘আর দ্বিতীয় আযান চালু করে ওছমান (রাঃ) সুন্নাতবিরোধী করেছিলেন কি? | Tagged ,

স্ত্রীকে এক তালাক দেওয়ার পর সময়ের মধ্যে রাজ‘আত না করে নতুন বিবাহের মাধ্যমে স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করলে স্বামী কি আবারো তিন তালাকের অধিকারী হবে?


এক্ষেত্রে চারটি পদ্ধতি রয়েছে। (১) যদি স্বামী তালাক দেওয়ার পর ইদ্দতের মধ্যে রাজ‘আত করে, তাহ’লে সে তত তালাকের অধিকারী থাকবে যত তালাক সে দেয়নি। অর্থাৎ এক তালাক দিয়ে থাকলে দুই তালাকের অধিকারী থাকবে। আর দুই তালাক দিয়ে থাকলে এক তালাকের অধিকারী থাকবে। (২) যদি স্বামী স্ত্রীকে এক বা দুই তালাক দেওয়ার পর ইদ্দতের মধ্যে রাজ‘আত না করে এবং নতুন বিবাহের মাধ্যমে ফিরিয়ে নিয়ে আসে তাহ’লে তত তালাকেরই মালিক হবে যত তালাক অবশিষ্ট রয়েছে। (৩) যদি স্বামী স্ত্রীকে এক বা দু’তালাক দেওয়ার পর ইদ্দতের মধ্যে রাজ‘আত না করে এবং স্ত্রীর অন্যত্র বিবাহ হয় অতঃপর তালাকপ্রাপ্তা হয় এবং প্রথম স্বামী তাকে বিবাহ করে তাহ’লে স্বামী তত তালাকেরই মালিক হবে যত তালাক অবশিষ্ট রয়েছে। (৪) স্বামী যদি স্ত্রীকে তিন তালাক দেওয়ার পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় অতঃপর স্ত্রীর অন্যত্র বিবাহ হয় এবং কোন কারণে তালাকপ্রাপ্তা হয় ও প্রথম স্বামী তাকে বিবাহ করে তাহ’লে সে তিন তালাকের অধিকারী হবে (উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ১৩/১৯৬; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ২০/১৬২; বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২০/২৮৮)। প্রশ্ন অনুযায়ী স্বামী দুই তালাক প্রদানের অধিকারী হবেন।

Posted in স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর রাজ‘আত না করে বিবাহ করলে তিন তালাকের অধিকারী হবে? | Tagged ,

জিনের সাথে মানুষের শারীরিক সম্পর্ক হওয়া সম্ভব কি? এথেকে নিস্কৃতি পাওয়ার উপায় কি?


ইবনুল জাওযী সূরা রহমানের ৫৬ আয়াত ‘সেখানে রয়েছে আনতনয়না রমণীগণ, যাদেরকে তাদের পূর্বে কোন মানুষ বা জিন স্পর্শ করেনি’-এর ব্যাখ্যায় বলেন, এই আয়াতে দলীল রয়েছে যে, জিনের সাথে মানুষের এবং মানুষের সাথে জিনের শারীরিক মিলন সম্ভব (যাদুল মাসীর ৪/২১৪)। আর মানুষের সাথে জিনের মিলন সম্ভব বলেই রাসূল (ছাঃ) মিলনের পূর্বে পঠিতব্য দো‘আ শিখিয়ে দিয়েছেন, আল্লাহুম্মা জান্নিবনিশ শায়তানা ওয়া জান্নিবিশ শায়তানা মা রাযাক্বতানা (বুখারী হা/৫১৬৫; ফাৎহুল বারী, উক্ত হাদীছের আলোচনা ৯/২২৯ পৃ.)। আর এটি দু’ভাবে হ’তে পারে। (১) ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে (২) জাগ্রত অবস্থায় অনুভবের মাধ্যমে। এতে বীর্যস্খলন হ’লে ফরয গোসল করতে হবে। এক্ষণে জিনের আছর থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সকাল-সন্ধ্যার আমল সমূহ ও ছালাতের পরে সূরা নাস, ফালাক্ব ও ইখলাছ নিয়মিত পাঠ করতে হবে। তাছাড়া ঘুমানোর পূর্বে সূরা নাস, ফালাক্ব ও ইখলাছ তিনবার করে পাঠ করে গোটা শরীরে হাত বুলাবে এবং আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে।

Posted in জিনের সাথে মানুষের শারীরিক সম্পর্ক হওয়া সম্ভব কি? | Tagged

আইনজীবী হওয়ার কারণে আমাকে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়াদির আইনজীবী হিসাবে কাজ করতে হয়। আমাদের কাজের ধরনটা যেমন- (১) কোন ব্যক্তি ব্যাংক থেকে লোন নিতে গেলে যামানত স্বরূপ ঋণগ্রহীতার জায়গা-জমির কাগজ ব্যাংকে মর্টগেজ রাখতে হয়। ওই কাগজপত্র আইনজীবী হিসাবে আমাদের যাচাই করতে হয়। ব্যাংক অনেক সময় সূদ মওকূফও করে এবং আইনজীবী এক্ষেত্রে সহায়তা করেন। (২) মানুষ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ঐামানত হিসাবে চেক জমা দেয়। নির্ধারিত সময়ে চেকের টাকা ব্যাংকে জমা না দিলে ব্যাংক তখন চেকে উল্লেখিত টাকা আদায়ের মামলা করে। এ ধরনের মামলায় আইনজীবীকে লড়তে হয়। প্রশ্ন হল, উপরোক্ত ক্ষেত্রসমূহে আইনজীবী হিসাবে আমি কাজ করতে পারি কি?


সূদী ব্যাংকের সাথে কোন কার্যক্রমে জড়ানো যাবে না এবং তাদেরকে সূদের কর্মে কোনরূপ সহযোগিতাও করা যাবে না। কারণ তাদের কর্মকান্ডে সাহায্য করাও কবীরা গুনাহ। আল্লাহ বলেন, ‘নেকী ও তাক্বওয়ার কাজে তোমরা পরস্পরকে সাহায্য কর এবং গোনাহ ও অন্যায় কাজে সহযোগিতা কর না’ (মায়েদাহ ৫/২)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্ত্ত ব্যতীত কবুল করেন না (মুসলিম হা/১০১৫, মিশকাত হা/২৭৬০)। তবে প্রশ্নোল্লেখিত দ্বিতীয় অবস্থায় যামানতের চেকে উল্লেখিত অর্থ উদ্ধারে সহযোগিতায় বাধা নেই। কেননা তাতে মৌলিকভাবে ব্যাংকিং বা সূদী কার্যক্রমে সহযোগিতা নয়, বরং অন্যায়ের প্রতিকারের জন্য সহায়তার উদ্দেশ্য থাকে, যা জায়েয। আল্লাহ সর্বাধিক অবগত।

Posted in ব্যাংক সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির আইনজীবী হিসাবে কাজ করা যাবে কি? | Tagged ,

ওশরের ধান উঠিয়ে তা দিয়ে জালসার ব্যয়ভার বহন করা যাবে কি?


ওশর ৮ শ্রেণীর মানুষের হক (তওবা ৬০)। জালসা তার অন্তর্ভুক্ত নয়। জালসা বা অনুরূপ নেকীর কাজ সমূহ নিজেদের টাকা দিয়ে করা উত্তম।

Posted in ওশরের ধান উঠিয়ে তা দিয়ে জালসার ব্যয়ভার বহন করা যাবে কি? | Tagged

জনৈক মহিলা মানত করেন যে, তার অসুস্থ সন্তান সুস্থ হলে ঈদগাহে ৫টি মোরগ ছেড়ে দিবে। মুছল্লীদের যে ধরতে পারবে সে খেয়ে নিবে।


এভাবে ঈদগাহে মোরগ ছেড়ে খেল-তামাশা করা জাহেলী যুগে কা‘বায় মূর্তিদের নামে বিভিন্ন প্রাণী ছেড়ে দেওয়ার ন্যায়। এ ধরনের মানত থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, মানতও এক প্রকারের ইবাদত, যা শারঈ বিধান মতে করতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আল্লাহর নাফরমানীর কাজে মানত করলে তা পূরণ করা জায়েয নয় এবং আদম সন্তান যার মালিক নয় তার মানত করা ও তা পূর্ণ করার প্রয়োজন নেই’। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘মহান আল্লাহর নাফরমানীতে মানত নেই’ (মুসলিম হা/১৬৪১; মিশকাত হা/৩৪২৮)। মানতের পরিবর্তে সন্তানের কল্যাণের জন্য দান করবে এবং তার সুস্থতার জন্য আল্লাহর নিকট দো‘আ করবে। রাসূল (ছাঃ) মানতকে নিষিদ্ধ না করলেও এ ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করে বলেন, ‘মানত কোন কিছুকে বিন্দুমাত্র এগিয়ে নিতেও পারে না এবং পিছাতেও পারে না। বরং মানতের মাধ্যমে কৃপণের নিকট হ’তে কিছু মাল বের করে নেয়া হয়’ (বুখারী হা/৬৬৯২)

Posted in মানত মোরগ ছেড়ে যে ধরতে পারবে সে খাবে বলে করা যাবে কি? | Tagged

তিন ব্যক্তির দো‘আ কবুল হয় না; যে তার চরিত্রহীনা স্ত্রীকে তালাক দেয় না, যে ঋণ প্রদান করে সাক্ষী রাখে না এবং যে মূর্খ বা বুদ্ধিহীন ব্যক্তি (অপচয়কারী)-এর হাতে অর্থ প্রদান করে। উক্ত হাদীছের বিশুদ্ধতা জানতে চাই।


উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি ছহীহ (বায়হাক্বী; ছহীহাহ হা/১৮০৫)

Posted in তিন ব্যক্তির দো‘আ কবুল হয় না কি? | Tagged

ঘুমানোর আগে ২১ বার বিসমিল্লাহ পড়ে ঘুমালে আল্লাহ ফেরেশতাদের বলেন, ঐ ব্যক্তির প্রতিটি নিঃশ্বাসে নেকী লেখা হৌক। সত্যতা জানতে চাই।


এধরনের বর্ণনা মনগড়া এবং ভিত্তিহীন। এগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না (শায়খ বিন বায, ফাতাওয়া নুরুন আলাদ-দারব, অডিও টেপ নং ৪৭৩)

Posted in ঘুমানোর আগে ২১ বার বিসমিল্লাহ অনেক নেকী লেখা হয় কি? | Tagged

হস্তমৈথুন কেমন পাপ? এই অপকর্ম থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কি?


হস্তমৈথুন বা যেকোন উপায়ে বীর্য স্খলন করা নিষিদ্ধ। এটি কবীরা গোনাহের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ বলেন, ‘যারা নিজ স্ত্রী ও দাসী ব্যতীত অন্যকে কামনা করে, তারা সীমালংঘনকারী’ (মুমিনূন ২৩/৬-৭; মা‘আরিজ ৭০/৩০-৩১)। এটি এমন এক আত্মঘাতি পাপ, যা মানুষের জীবন-যৌবন ধ্বংস করে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়ো না এবং ক্ষতি করো না’ (ইবনু মাজাহ হা/২৩৪০; ছহীহাহ হা/২৫০)। ক্বিয়ামতের দিন মানুষের মুখ বন্ধ হবে এবং হাত-পা সাক্ষ্য দিবে’ (ইয়াসীন ৩৬/৬৫)

অতএব এই পাপীদের এখুনি তওবা করতে হবে। আর এত্থেকে বাঁচার জন্য যখনই বাজে চিন্তা মাথায় আসবে, তখনই বাম দিকে তিনবার থুক মেরে ‘আঊযুবিল্লাহ’ পড়বে (মুসলিম হা/২২০৩; মিশকাত হা/৭৭)। অতঃপর অন্য কাজে মন দিবে অথবা স্থান পরিবর্তন করবে। এছাড়া ‘আল্লা-হুম্মাগফির যানবী ওয়া তাহহির ক্বালবী ওয়া হাছছিন ফারজী (হে আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহ ক্ষমা কর, আমার হৃদয়কে পবিত্র কর এবং আমার লজ্জাস্থানকে হেফাযত কর) দো‘আটি পাঠ করা যায়। রাসূল (ছাঃ))-এর নিকটে এক যুবক যেনা করার অনুমতি চাইলে তিনি তাঁর জন্য এই দো‘আ করেন (আহমাদ, ছহীহাহ হা/৩৭০)

এছাড়া এত্থেকে স্থায়ীভাবে বাঁচার পথ হ’ল, বিবাহ করা অথবা নিয়মিত নফল ছিয়াম রাখা (বুখারী হা/১৯০৫; মুসলিম; মিশকাত হা/৩০৮০)। এছাড়া নিয়মিত জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায় করা, দ্বীনী পরিবেশে থাকা, মোবাইল-কম্পিউটার-ইন্টারনেট-টিভির যাবতীয় অশ্লীলতা হ’তে দূরে থাকা, ধর্মীয় বই-পুস্তক পড়াশুনায় অভ্যস্ত হওয়া, নির্জনতা বর্জন করে পারিবারিক ও সামাজিক কার্যক্রমে অধিকহারে অংশগ্রহণ করা ইত্যাদি কার্যাবলীর মাধ্যমে এত্থেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ।

Posted in হস্তমৈথুন কেমন পাপ? এই অপকর্ম থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কি? | Tagged

মিরক্বাতে বর্ণিত হয়েছে যে, সমরকন্দে এক বছর ধরে বৃষ্টি হচ্ছিল না। পরে ইমাম বুখারীর কবরে গিয়ে বৃষ্টি প্রার্থনা করলে সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি হয়। ঘটনাটির সত্যতা জানতে চাই।


 ইমাম যাহাবী (রহঃ) উক্ত ঘটনা তাঁর ‘সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (সিয়ার ১২/৪৭৯)। তবে বিষয়টি ইসলামী শরী‘আতের সাথে সাংঘর্ষিক ও শিরকের শামিল। কারণ প্রথমতঃ কোন মৃত ব্যক্তির অসীলায় কিছু প্রার্থনা করা শিরক (ইউনুস ১০/১৮; যুমার ৩৯/৪৩-৪৪)। দ্বিতীয়তঃ মৃত ব্যক্তিকে কিছু শোনানো সম্ভব নয়। আল্লাহ বলেন, ‘কবরস্থ কোন ব্যক্তিকে আপনি কিছুই শুনাতে পারেন না’ (ফাত্বির ২২)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর মৃত্যুর পরে তাঁর চাচা আববাস (রাঃ)-এর মাধ্যমে ওমর (রাঃ) বৃষ্টি প্রার্থনা করতেন এবং বলতেন, হে আল্লাহ! আমরা তোমার নিকটে তোমার নবীর অসীলায় বৃষ্টি প্রার্থনা করতাম। এখন আমরা আমাদের নবীর চাচার অসীলায় বৃষ্টি প্রার্থনা করছি। অতএব তুমি আমাদেরকে বৃষ্টি বর্ষণ কর’ (বুখারী হা/১০১০, মিশকাত হা/১৫০৯)। অতএব ঘটনাটি কাকতালীয় হ’তে পারে। নইলে ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ এটা করে থাকলে সেটি বড় শিরক হয়েছে। যা ক্ষমার অযোগ্য।

Posted in ইমাম বুখারীর কবরে গিয়ে বৃষ্টি প্রার্থনা করলে সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি হয় কি? | Tagged ,

পানি পানের সময় গোফ পানিতে লাগলে সে পানি পান করা কি হারাম? জানিয়ে বাধিত করবেন?


এটা সামাজিক কুসংস্কার মাত্র। তবে গোফ লম্বা রাখা সুন্নাত বিরোধী কাজ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪৪২১)। যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

Posted in পানি পানের সময় গোফ পানিতে লাগলে সে পানি পান করা কি হারাম? | Tagged

ছহীহ বুখারীর বর্ণনায় দেখা যায়, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আমি ঈসা, মূসা ও ইউনুসকে দেখছি যে, তারা তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় তাওয়াফ করছেন। এভাবে দাজ্জালকেও দেখলাম’। এই হাদীছের ব্যাখ্যা কী?


ক্বিয়ামতের প্রাক্কালে ফিৎনা প্রকাশের পূর্বে দাজ্জাল মক্কা ও মদীনায় প্রবেশ করতে পারবে এবং হজ্জও করবে যেমনটি রাসূল (ছাঃ) স্বপ্নে দেখেছেন (বুখারী হা/৩৪৪০; মুসলিম হা/১৭১; ছহীহাহ হা/৩৯৮৩)। তবে ফিৎনার আবির্ভাবের পর দাজ্জাল কোনভাবেই মক্কা-মদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না (বুখারী হা/১৮৮১,১৮৭৯,; মুসলিম হা/২৯৪৩; মিশকাত হা/২৭৪২)।  অবশ্য হাদীছটি সাধারণ স্বপ্নও হ’তে পারে। কেননা ঈসা, ইউনুস, মূসা (আঃ) কেউ জীবিত ছিলেন না। অথচ হাদীছে তাদের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। অনুরূপভাবে দাজ্জালের পরিচিতি বর্ণনা করার জন্য হয়তবা আল্লাহ দাজ্জালকে স্বপ্নের মাধ্যমে দেখিয়েছিলেন (ক্বাযী ইয়ায, শরহ মুসলিম ১/৫২২)। তবে প্রথম মতটিই অধিকতর বিশুদ্ধ। কারণ নবী-রাসূলদের স্বপ্ন সত্য (ইবনু হাজার, ফাৎহুল বারী ৬/৪৮৮-৮৯, ১২/৪১৬)

Posted in দাজ্জাল সম্পর্কিত হাদীছের ব্যাখ্যা কী? | Tagged

নিয়ামুল কুরআন ও মকছূদুল মুমিনীন বই দু’টিতে কি নির্ভরযোগ্য? এগুলি পড়ে আমল করা যাবে কি?


উক্ত বইদ্বয় মোটেই নির্ভরযোগ্য নয়। এ সমস্ত বই ক্রয় করা যাবে না, পড়াও যাবে না। নিয়ামুল কুরআনে এমন কিছু কল্পিত দরূদ আছে যেগুলো পড়লে শিরক হবে। অনুরূপভাবে মকছুদুল মুমিনীন বইটি জাল, যঈফ, মিথ্যা ও বানোয়াট কাহিনীতে ভরপুর।

Posted in নিয়ামুল কুরআন ও মকছূদুল মুমিনীন বই দু’টিতে কি নির্ভরযোগ্য? | Tagged

পর্দার ক্ষেত্রে নারীদের পোষাকে কি কি বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক?


নারীদের পর্দার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহ থাকা আবশ্যক। যথা- (১) তাকওয়াপূর্ণ পোষাক পরিধান করা (আ‘রাফ ৭/২৬)। (২) এমন পোষাক পরা, যা পুরো দেহ আবৃত করে (নূর ২৪/৩১, আহযাব ৩৩/৫৯, আবুদাঊদ হা/৪১০৪; মিশকাত হা/৪৩৭২)। (৩) পাতলা কাপড় না পরা, যাতে গোপন সৌন্দর্য্য প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে (মুওয়াত্ত্বা হা/৩৩৮৩; মিশকাত হা/৪৩৭৫)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দুই শ্রেণীর মানুষকে জাহান্নামী বলেছেন, তাদের একজন হ’ল পোষাক পরিধানকারী উলঙ্গ নারী, যারা পুরুষদেরকে নিজেদের প্রতি আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট হবে (মুসলিম হা/২১২৮; মিশকত হা/৩৫২৪)। (৪) ঢিলা-ঢালা ও বড় পোশাক পরিধান করা, যাতে শরীরের আকৃতি অস্পষ্ট থাকে (আহমাদ হা/২১৮৩৪; ত্বাবারাণী কাবীর হা/৩৭৬, সনদ হাসান)। (৫) ঘরের বাইরে সুগন্ধি ব্যবহার না করা (তিরমিযী, নাসাঈ হা/৫১২৬; মিশকাত হা/১০৬৫)। ৬. পুরুষের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ না হওয়া (বুখারী হা/৫৪৮৫; মিশকাত হা/৪৪২৯)। (৬) কাফেরদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ না হওয়া (আবূদাঊদ হা/৪০৩১; মিশকাত হা/৪৩৪৭)। (৭) নযরকাড়া পোষাক পরিধান না করা (ইবনু মাজাহ হা/৩৬০৬; আবুদাউদ হা/৪০২৯; মিশকাত হা/৪৩৪৬)।

Posted in পর্দার ক্ষেত্রে নারীদের পোষাকে কি কি বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক? | Tagged ,

আমার এক নাস্তিক বন্ধু প্রশ্ন করেছে যে, কুরআনে যদি সব কিছুর বর্ণনা থেকে থাকে, তবে আমাদের নিত্যদিনে ভক্ষণকৃত সবজি ও ফলসমূহের নাম নেই কেন?


কুরআনে আল্লাহ মানব জীবন পরিচালনার মূলনীতিসমূহ বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এটা যরূরী নয় যে, প্রতিটি জিনিসের নাম কুরআনে পৃথক পৃথকভাবে উল্লেখ করা হবে। যদিও এর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রসঙ্গে প্রচলিত অনেক ফলমূল ও সবজির কথা এতে উল্লেখ করা হয়েছে (ত্বীন ১-২)। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর ভূমিকে ভালভাবে বিদীর্ণ করি, অতঃপর তাতে উৎপন্ন করি খাদ্য-শস্য, আঙ্গুর ও শাক-সবজি, যয়তূন ও খর্জুর, ঘন পল্লবিত উদ্যানরাজি এবং ফল-মূল ও ঘাস-পাতা, তোমাদের ও তোমাদের গবাদিপশুর ভোগ্যবস্ত্ত হিসাবে’ (‘আবাসা ২৬-৩২)। তিনি আরও বলেন, ‘ঐ পানি দ্বারা তিনি তোমাদের জন্য উৎপাদন করেন ফসল, যয়তুন, খেজুর, আঙ্গুর ও সর্ববিধ ফল। এর মধ্যে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে’ (নাহল ১৬/১১)। তিনি আরও বলেন, ‘আর যখন তোমরা বললে, হে মূসা! একই ধরনের খাদ্যে আমরা কখনোই ধৈর্য ধারণ করতে পারব না। অতএব তুমি তোমার প্রভুর নিকটে আমাদের জন্য প্রার্থনা কর যেন তিনি আমাদের এমন সব খাদ্য দান করেন যা মাটিতে উৎপন্ন হয়। যেমন সবজি, কাকুড়, গম, ডাল, পেঁয়াজ ইত্যাদি (বাক্বারাহ ২/৬১)

Posted in কুরআনে সবজি ও ফলসমূহের নাম নেই কেন? | Tagged

মামা মারা যাওয়ায় তিন বৎসর পরে জনৈক ব্যক্তি স্বীয় মামীকে বিবাহ করেছে। উক্ত বিবাহ বৈধ হয়েছে কি?


মামার মৃত্যুর পরে মামীকে বিবাহ করা শরী‘আত সম্মত। কারণ আল্লাহ যে চৌদ্দজন মহিলাকে বিবাহ করা হারাম করেছেন, মামী তার অন্তর্ভুক্ত নয় (নিসা ২৩)। বরং তিনি যদি সত্যিকার অর্থে সহমর্মী হয়ে এরূপ বিধবা নারীকে বিবাহ করে থাকেন, তবে তিনি বরং প্রভূত নেকীর কাজ সম্পাদন করেছেন। যেমন আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘বিধবা ও মিসকীনদের অভাব দূর করার জন্য সচেষ্ট ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদকারীর ন্যায়। রাবী বলেন, আমার ধারণা তিনি একথাও বলেছেন যে, সে ঐ নফল ছালাত আদায়কারীর ন্যায়, যে ক্লান্ত হয় না এবং ঐ ছিয়ামপালনকারীর ন্যায় যে ছিয়াম ছাড়ে না’ (বুখারী হা/৬০০৭, মিশকাত হা/৪৯৫১)

Posted in বিবাহ মামীকে করা বৈধ কি? | Tagged

আমি একজন ব্যবসায়ী। শারঈ বিধান অনুযায়ী আমি প্রতিটি পণ্যে কতভাগ লাভ করতে পারি?


ক্রেতা-বিক্রেতা কাউকে ধোঁকায় ফেলার উদ্দেশ্য না রেখে উভয়ের সন্তুষ্টিতে বাযার দর অনুযায়ী যেকোন মূল্যে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে। এটা শরী‘আত সম্মত। উরওয়া আল-বারেকী হ’তে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী করীম (ছাঃ) একটি কুরবানীর পশু বা ছাগল কেনার জন্য তাকে একটা দীনার দিয়েছিলেন। উক্ত ছাহাবী তা দিয়ে দু’টি ছাগল খরিদ করেন। তারপর এক দীনারের বিনিময়ে একটি ছাগল বিক্রয় করে দিয়ে একটি ছাগল ও একটি দীনার নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকটে উপস্থিত হন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে তার ব্যবসায়ে বরকতের দো‘আ করেন। এরপর থেকে সে মাটি কিনলেও তাতে লাভবান হ’ত (বুখারী হা/৩৬৪২; মিশকাত হা/২৯৩২)। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। তবে তোমাদের পরস্পরের সম্মতিতে যে ব্যবসা করা হয়, তা বৈধ’ (নিসা ৪/২৯)

Posted in ব্যবসায়ী শারঈ বিধান অনুযায়ী কতভাগ লাভ করতে পারে? | Tagged

স্ত্রী স্বামীর নিকটে বিশেষ কোন কারণ ছাড়াই তালাক চাইতে পারে কি?


যথাযোগ্য শারঈ কারণ ব্যতীত স্ত্রীর পক্ষ থেকে তালাক চাওয়া হারাম। কোন স্ত্রী এরূপ করলে তার জন্য জান্নাতের সুগন্ধি হারাম হয়ে যাবে (আবুদাউদ হা/২২২৬ প্রভৃতি; মিশকাত হা/৩২৭৯)। অন্য বর্ণনায় রাসূল (ছাঃ) বলেন, যারা স্বামী থেকে পৃথক হ’তে চায় এবং যারা খোলা করতে চায়, তারা মুনাফিক’ (নাসাঈ হা/২৪৬১, মিশকাত হা/৩২৯০)। তবে চারিত্রিক ত্রুটি, শারীরিক সমস্যা, সাংসারিক ব্যয়ভার বহনে অক্ষমতা ও শারঈ ব্যাপারে অবহেলা বা অবজ্ঞা ইত্যাদি যৌক্তিক ওযরের ক্ষেত্রে স্ত্রী মোহরানা ফেরৎ দানের মাধ্যমে স্বামীর নিকট থেকে ‘খোলা’ তালাক বা বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে (বাক্বারাহ ২/২২৯; মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩২৭৪ ‘খোলা তালাক’ অনুচ্ছেদ)

Posted in তালাক স্ত্রী স্বামীর নিকটে বিশেষ কোন কারণ ছাড়াই চাইতে পারে কি? | Tagged ,

ফজরের আযানে ‘আছ-ছালাতু খায়রুম মিনান নাওম’ অংশটুকু যোগ করা কি বিদ‘আত?


এটা বিদ‘আত নয়। উক্ত বাক্যটি ফজরের সাথে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বেলাল (রাঃ)-এর মাধ্যমে হ’লেও পরবর্তীতে তা রাসূল (ছাঃ)-এর নিয়মিত সুন্নাত হিসাবে গৃহীত হয়। যেমন বেলাল (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, একদা তিনি ফজরের আযান দেওয়ার জন্য রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে আসলেন। তাকে বলা হ’ল যে, তিনি ঘুমিয়ে আছেন। তখন বেলাল (রাঃ) বললেন, اَلصَّلاَةُ خَيْرٌ مِّنَ النَّوْمِ (ঘুম থেকে ছালাত উত্তম)। অতঃপর এই শব্দাবলী ফজরের আযানের সাথে যুক্ত করে দেওয়া হ’ল এবং বিষয়টি এভাবেই সাব্যস্ত হয়ে গেল’ (ইবনু মাজাহ হা/৭১৬, সনদ ছহীহ)। আবু মাহযূরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) তাকে আযানের বাক্যসমূহ শিক্ষাদানের সময় বলেন, ‘অতঃপর যদি এটা ফজরের ছালাত হয়, তাহ’লে তুমি বলবে, আছছালাতু খায়রুম মিনান নাওম’…। (আবুদাঊদ হা/৫০০, মিশকাত হা/৬৪৫ ‘আযান’ অধ্যায়; সনদ ছহীহ)। এতে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, ফজরের ছালাতের আযানের সাথে এটি যুক্ত এবং রাসূল (ছাঃ)-এর নিয়মিত সুন্নাত হিসাবে গৃহীত।

Posted in ফজরের আযানে ‘আছ-ছালাতু খায়রুম মিনান নাওম’ অংশটুকু যোগ করা কি বিদ‘আত? | Tagged

ক্বিয়ামতের দিন মানবজাতির বিচার কি একদিনেই সম্পন্ন হবে না একাধিক দিনে?


হিসাবের দিন এক দিনই হবে। তবে সেই দিনটি পৃথিবীর হিসাবে পঞ্চাশ হাযার বছরের সমান হবে (মা‘আরেজ ৭০/৩-৪; মুসলিম হা/৯৮৭; মিশকাত হা/১৭৭৩)। উল্লেখ্য যে, আরবীতে ৭০, ৭০০, ১০০০, ৫০০০০ সংখ্যাগুলি সাধারণতঃ আধিক্য বুঝানোর অর্থে বলা হয়। সুতরাং উক্ত আয়াত ও হাদীছসমূহের বর্ণিত সময়টি আযাব বা শাস্তির সাথে সম্পৃক্ত। কাফেরদের উপর এই দিনটি ৫০ হাযার বছরের সমান ভারী হবে। অর্থাৎ দিনটি তাদের জন্য খুবই কষ্টকর হবে। কষ্ট ও শাস্তির আধিক্যের কমবেশীর কারণে ক্বিয়ামতের দিনের স্থায়িত্ব তাদের কাছে হাযার হাযার বছরের সমান মনে হবে। আরবরা খুশীর দিনকে ‘সংক্ষিপ্ত’ এবং কষ্টের দিনকে ‘দীর্ঘ’ বলে বুঝাতো (কুরতুবী)। অন্যদিকে মুমিনদের জন্য এই দিনটি হবে খুব সংক্ষিপ্ত। যেমন আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, মুমিনদের জন্য কিয়ামতের দিনটি যোহর থেকে আছরের মধ্যবর্তী সময়ের মত হবে (হাকেম হা/২৮৪; ছহীহাহ হা/২৪৫৬; ছহীহুল জামে হা/৮১৯৩)। অপর হাদীছে এসেছে, এই দিনটি মুমিনের জন্য এক ওয়াক্ত ফরয ছালাত আদায় করার থেকেও সংক্ষিপ্ত মনে হবে (আহমাদ হা/১১৭৩৫, ইবনু হিববান হা/৭৩৩৪, সনদ দুর্বল; তবে হায়ছামী এবং ইবনু হাজার একে ‘হাসান’ বলেছেন)। সুতরাং এই দিনের দীর্ঘতা কিংবা সংক্ষিপ্ততা বিভিন্ন লোকের জন্য তার আমলের অবস্থা অনুযায়ী বিভিন্ন রূপ অনুভূত হবে।

Posted in ক্বিয়ামতের দিন মানবজাতির বিচার কি একদিনেই সম্পন্ন হবে কি? | Tagged ,

ছাদাক্বা বয়স বৃদ্ধি করে এবং মন্দ মৃত্যু প্রতিরোধ করে -মর্মে বর্ণিত হাদীছটির বিশুদ্ধতা সম্পর্কে জানতে চাই।


হাদীছটি ‘খুবই যঈফ’ (যঈফুল জামে‘ হা/৩৪৭১)। তবে কাছাকাছি অর্থের বেশ কিছু ছহীহ হাদীছ রয়েছে। যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘গোপন ছাদাক্বা রবের ক্রোধকে মিটিয়ে দেয়’ (ছহীহাহ হা/১৯০৮)। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয় ছাদাক্বা কবরের উত্তাপ নিভিয়ে দেয় এবং ক্বিয়ামতের দিন মুমিন তার ছাদাক্বার ছায়াতলে আশ্রয় পাবে’ (তাবারাণী কাবীর হা/৭৮৮; ছহীহাহ হা/৩৪৮৪)। তিনি আরও বলেন, ‘ছাদাক্বা গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেয় যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয় (তিরমিযী হা/৬১৪; ইবনু মাজাহ হা/৩৯৭৩; মিশকাত হা/২৯)। এছাড়া উক্ত হাদীছে বয়স বৃদ্ধি করার অর্থ হ’ল জীবন ও জীবিকায় বরকত দান করা। অর্থাৎ নির্ধারিত বয়সে সুস্থ থাকা, অধিক সৎকর্ম করতে পারা ও প্রশান্তির সাথে জীবন পরিচালনায় সক্ষম হওয়া (নববী, শরহ মুসলিম ১৬/১১৪ হা/২৫৫৭-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)। অতএব সামগ্রিকভাবে প্রশ্নে উল্লেখিত যঈফ হাদীছটির মর্ম সঠিক।

Posted in ছাদাক্বা বয়স বৃদ্ধি করে এবং মন্দ মৃত্যু প্রতিরোধ করে –হাদীছটি কি ছহীহ? | Tagged

: মৃত ব্যাক্তির জন্য কবর খননের সঠিক নিয়ম কি?


হাদীছে দু’প্রকারের কবরের বর্ণনা এসেছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘লাহাদ’ (পাশখুলি কবর) আমাদের জন্য এবং ‘শাক্ব’ (বাক্স কবর) আমাদের ব্যতীত অন্যদের জন্য’ (আবূদাঊদ হা/৩২০৮; মিশকাত হা/১৭০১; ছহীহুল জামে‘ হা/৫৪৮৯)। তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা কবর খনন কর এবং কবরকে প্রশস্ত, গভীর ও সুন্দর কর (নাসাঈ হা/২০১০; মিশকাত হা/১৭০৩, সনদ ছহীহ)। কবর উত্তর-দক্ষিণে লম্বা, গভীর, প্রশস্ত, সুন্দর ও মধ্যস্থলে বিঘত খানেক উঁচু করে দু’দিকে ঢালু হওয়া বাঞ্ছনীয়। অধিক উঁচু করা নাজায়েয। ‘লাহদ’ ও ‘শাক্ব’ দু’ধরনের কবর জায়েয আছে। যাকে এদেশে যথাক্রমে ‘পাশখুলি’ ও ‘বাক্স কবর’ বলা হয়। তবে ‘লাহদ’ উত্তম (নববী, আল-মাজমূ‘ ৫/২৮৭; ইবনু কুদামাহ, মুগনী ২/১৮৮; দ্র. ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ২৩১ পৃ.)। কারণ নবী (ছাঃ)-কে লাহদ কবরে দাফন করা হয় এবং বহু ছাহাবী এই ধরনের কবরে দাফন করার জন্য অছিয়ত করে গেছেন (মুসলিম হা/৯৬৬; মিশকাত হা/১৬৯৩)। তবে মাটি নরম হ’লে শাক্ব বা সিন্দুক কবর উত্তম ও নিরাপদ।

Posted in কবর খননের সঠিক নিয়ম কি? | Tagged

ফরয ছালাতের জন্য ওযূ করে মসজিদে গেলে হজ্জের ছওয়াব পাওয়া যায় মর্মে কোন হাদীছ আছে কি?


উক্ত মর্মে ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি নিজের ঘর থেকে উত্তমরূপে ওযূ করে ফরয ছালাতে আদায়ের উদ্দেশ্যে গমন করে, সে ইহরাম বেঁধে হজ্জে গমনকারীর ন্যায় ছওয়াব লাভ করে’ (আবূদাঊদ হা/৫৫৮; মিশকাত হা/৭২৮; ছহীহুত তারগীব হা/৩২০, ৬৭৫)

Posted in ছালাতের জন্য ওযূ করে মসজিদে গেলে হজ্জের ছওয়াব পাওয়া যায় কি? | Tagged , ,

সাংগঠনিক নিয়মে আমাকে ইহতিসাব রাখতে হয় এবং উর্ধ্বতন দায়িত্বশীলকে দেখাতে হয়। এটি কি রিয়া তথা লোক দেখানো আমলের অন্তর্ভুক্ত হবে?


‘ইহতিসাব’ (اَلْإحْتِسَابُ) অর্থ আল্লাহর নিকটে ছওয়াব কামনা করা। মুমিনগণ তাদের সকল সৎকর্মে স্রেফ আল্লাহর নিকটে ছওয়াব ও পুরস্কার আশা করে। আর ছওয়াব কামনা ব্যতীত আল্লাহর নিকটে বান্দার কোন আমলই কবুল হয় না। সংগঠনে ‘ইহতিসাব’ রাখার উদ্দেশ্য হ’ল অধিক সৎকর্মের মাধ্যমে অধিক ছওয়াবের আকাঙ্ক্ষা করা এবং দুনিয়াবী জবাবদিহিতার মাধ্যমে আখেরাতে জবাবদিহিতার অনুভূতি তীব্রতর করা। ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ বান্দাকে বলবেন, ‘তুমি তোমার আমলনামা পাঠ কর। আজ তুমি নিজেই নিজের হিসাবের জন্য যথেষ্ট’ (বনু ইস্রাঈল ১৭/১৪ আয়াত)। ওমর (রাঃ) বলেন, তোমরা আল্লাহর নিকট হিসাব দেওয়ার আগে নিজেদের হিসাব গ্রহণ কর’ (তিরমিযী হা/২৪৫৯, মওকূফ)। নিজের আমলের হিসাব সংরক্ষণের মাধ্যমে একদিকে যেমন নিজেই নিজের আমলগত উন্নতি-অবনতির হিসাব গ্রহণ করা যায়, তেমনি ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলকে তা দেখানোর মাধ্যমে অন্য মুমিনের আয়নায় নিজেকে সংশোধন ও সুপরামর্শ লাভের সুযোগ পাওয়া যায়।

অধিক নেক আমলের জন্য কেউ যদি প্রশংসারও পাত্র হন তাতেও কোন দোষ নেই। কেননা একদা আবূ যর গিফারী (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, যে ব্যক্তি সৎকর্ম করে এবং লোকেরা তার প্রশংসা করে তার বিষয়ে আপনার মতামত কি? জবাবে রাসূল (ছাঃ) বললেন, এটি হ’ল মুমিনের জন্য আগাম সুসংবাদ (মুসলিম হা/২৬৪২, মিশকাত হা/৫৩১৭)। তবে যদি কেউ এর মাধ্যমে রিয়া ও শ্রুতি কামনা করেন, তবে তিনি নেকী থেকে মাহরূম হবেন এবং গুনাহগার হবেন।

Posted in সাংগঠনিক নিয়মে ইহতিসাব রাখলে এটি রিয়া আমলের অন্তর্ভুক্ত হবে? | Tagged

রাসূল (ছাঃ) মি‘রাজে যাওয়ার সময় জিব্রীলের আদেশে তূরে সীনা ও বায়তুল লাহমে ছালাত আদায় করেছেন। এতে কি প্রমাণ হয় যে, সালাফে ছালেহীনদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানে বরকত হাছিলের জন্য বিশেষ ছালাত আদায় করা যায়? বিস্তারিত জানতে চাই।


উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি জাল (শায়খ বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৭/০৯, ২৭/১৬০-৬১; ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ২৬/২৭৮-৭৯)। আলবানী বলেন, এটি মুনকার (ত্বাবারাণী কাবীর হা/৭১৪২; নাসাঈ হা/৪৫০; আল-ইসরা ওয়াল মে‘রাজ ৬৯ পৃ.)। সুতরাং বরকত হাছিলের জন্য বা মনস্কামনা পূরণের জন্য কোন কবরস্থানে যাওয়া সবচেয়ে বড় শিরক। কারণ কেবলমাত্র আল্লাহর নিকটেই সবকিছু প্রার্থনা করতে হবে’ (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১/১৫২)

Posted in রাসূল (ছাঃ) মি‘রাজে যাওয়ার সময় তূরে সীনা ও বায়তুল লাহমে ছালাত আদায় করেছেন কি? | Tagged , ,

আমি একটি ইট ভাটায় কাজ করি। কাজের সূত্রে আমি দু’টি ভাটা থেকে টাকা নিয়ে বর্ষা মৌসুমে শ্রমিকদের অগ্রিম ১০-২০ হাযার টাকা দিয়ে থাকি, যা পরবর্তীতে মজুরী থেকে কর্তন করা হয়। আর আমাকে পরিচালনাকারী হিসাবে কিছু টাকা দিয়ে থাকে। কেউ যদি ঠিকভাবে কাজ না করে তাহ’লে আমার প্রাপ্য টাকা থেকে দন্ড দিতে হয়। এক্ষণে উক্ত কাজ আমার জন্য বৈধ হচ্ছে কি?


বৈধ হবে। কেননা এটা কাজের বিনিময়ে প্রাপ্ত পারিশ্রমিক। তাছাড়া শ্রমিকদের অগ্রিম মজুরী দিতেও কোন বাধা নেই (ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী ৫/৩২৯; বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৯/৩৩৫)

Posted in কাজ ঠিক করে দিয়ে সেখান থেকে টাকা নেওয়া যাবে কি? | Tagged

আমরা পাঁচজন পার্টনার একটি ভবনের মালিক। আমি রাযী না থাকলেও চারজনের সম্মতিক্রমে ভবনের কিছু অংশ লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানীকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এক্ষণে ভাড়া থেকে আসা অর্থ আমি ভোগ করতে পারব কি?


ভোগ করা বৈধ নয়। কারণ এতে সূদী কারবারে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। আল্লাহ বলেন, ‘নেকী ও তাক্বওয়ার কাজে তোমরা পরস্পরকে সাহায্য কর এবং গোনাহ ও অন্যায় কাজে সহযোগিতা কর না’ (মায়েদাহ ৫/২)। শায়খ বিন বায বলেন, আয়াত এবং হাদীছসমূহ প্রমাণ করে যে, কোন ধরনের পাপের কাজে সহযোগিতা করা যাবে না। অনুরূপ সূদী ব্যাংকের জন্যও বাসা ভাড়া দেওয়া যাবে না (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ, ফৎওয়া নং ৪৩২৭, ফাতাওয়া ইসলামিয়াহ ২/৮৬০)

Posted in লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানীকে ভাড়া দেওয়া অর্থ ভোগ করা যাবে কি? | Tagged ,

এম.বি.বি.এস. পাস জনৈকা শিক্ষার্থী সম্প্রতি দ্বীনের পথে ফিরে এসেছে এবং সে একজন দ্বীনদার ছেলেকে বিবাহ করতে আগ্রহী। কিন্তু তার পরিবার দ্বীনদার না হওয়ায় কোনক্রমেই তাতে রাযী নয়। এমতাবস্থায় মেয়েটির করণীয় কি? সে কি পিতার পরিবর্তে অন্যকে অলী হিসাবে গ্রহণ করে বিবাহ সম্পন্ন করতে পারবে?


পিতার বর্তমানে অন্য কাউকে অলী হিসাবে গ্রহণ করে বিবাহ জায়েয নয়। রাসূল (ছাঃ) এরূপ বিবাহকে বাতিল (৩ বার) বলেছেন (তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩১৩০-৩১)। তিনি বলেন, ‘কোন মহিলা নিজে অপর কোন মহিলাকে বিয়ে দিতে পারবে না এবং কোন মহিলা নিজেকে বিবাহ দিতে পারবে না’ (ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৩১৩৬; ইরওয়া হা/৮৪১)

তবে সাবালিকা মেয়েকে তার অসম্মতিতে পিতা অন্যায়ভাবে বিবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারবেন না। করলে তা বাতিল গণ্য হবে (বুখারী হা/৬৯৪৫; ইবনু মাজাহ হা/১৮৭৩; মিশকাত হা/৩১২৮)। এক্ষণে মেয়ে গুনাহ থেকে মুক্ত থাকার সৎ নিয়তে পরবর্তী অভিভাবক তথা দাদা, ভাই বা চাচার অভিভাবকত্বে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হ’তে পারে। কিন্তু কোনভাবেই নিজের অসৎ মনস্কামনা পূরণার্থে পিতাকে পাশ কাটিয়ে অন্যকে অলী বানিয়ে বিবাহ করা যাবে না (ইবনু কুদামাহ, মুগনী ৭/৭-৮; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৮/১৪৭)

Posted in অ‌ভিভাবক বা ওলী না থাক‌লে করণীয়!, পিতার পরিবর্তে অন্যকে অলী করে বিবাহ করতে পারে কি? | Tagged , , ,

আযান চলাকালীন সময়ে আযানের জওয়াব দিতে হবে, নাকি সুন্নাত ছালাত আদায় করতে হবে?


আযান চলাকালে মসজিদে উপস্থিত হ’লে প্রথমে আযানের জওয়াব দিতে হবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যখন তোমরা আযান শুনবে, তখন মুওয়ায্যিন যা বলে তদ্রূপ বল’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৬৫৭)। অন্যত্র তিনি এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি মুওয়ায্যিনের পিছে পিছে আযানের বাক্যগুলি অন্তর থেকে পাঠ করে এবং ‘হাইয়া ‘আলাছ ছালা-হ’ ও ‘ফালা-হ’ শেষে ‘লা-হাওলা অলা-ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ’ (নেই কোন ক্ষমতা, নেই কোন শক্তি আল্লাহ ব্যতীত) বলে, সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৬৫৮)। অতঃপর আযানের দো‘আ পড়বে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন ‘যে ব্যক্তি আযান শুনে এই দো‘আ পাঠ করবে, তার জন্য ক্বিয়ামতের দিন আমার শাফা‘আত ওয়াজিব হবে’ (বুখারী, মিশকাত হা/৬৫৯)। অনুরূপ একটি প্রশ্নের উত্তরে শায়েখ বিন বায বলেন, এমতাবস্থায় আযানের জওয়াব দেওয়া অতঃপর সুন্নাত ছালাত আদায় করা উত্তম হবে। কেননা তাতে আযান ও সুন্নাত ছালাত দু’টিরই ফযীলত অর্জিত হবে (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৯/১৪৪-১৪৫)

Posted in আযান চলাকালীন সময়ে ছালাত আদায় করা যাবে কি? | Tagged , ,

যে মসজিদের জমি ওয়াকফকৃত নয়, সে মসজিদে ছালাত আদায় জায়েয হবে কি?


জমির মালিকের কোন আপত্তি না থাকলে ছালাত জায়েয হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘সমগ্র যমীনকে আমাদের জন্য মসজিদ এবং মাটিকে পবিত্র করা হয়েছে, যখন পানি না পাওয়া যায়’ (মুসলিম হা/৫২২; মিশকাত হা/৫২৬)। তবে মসজিদের নামে স্থানটি ওয়াকফ করা যরূরী (বুখারী হা/২৭৭৪; মুসলিম হা/৫২৪)

Posted in মসজিদের জমি ওয়াকফকৃত না হলে ছালাত আদায় জায়েয হবে কি? | Tagged ,