জনৈক আলেম বলেন, একজন ছাহাবী রাসূল (ছাঃ)-এর রক্ত পান করেছিলেন। এর কোন সত্যতা আছে কি?


উক্ত মর্মের বর্ণনাগুলি দুর্বল। (ক) রাসূল (ছাঃ) একবার তাঁর হাজামতের রক্ত গোপন স্থানে ফেলার জন্য আব্দুল্লাহ বিন যুবায়েরকে আদেশ করলে তিনি তা বাইরে নিয়ে গিয়ে নিজেই পান করেন। জানতে পেরে রাসূল (ছাঃ) তাকে বলেন, কে তোমাকে রক্তপানের নির্দেশ দিল? মানুষের পক্ষ থেকে তোমার জন্য আফসোস! মানুষের জন্য তোমার পক্ষ থেকে আফসোস! (হাকেম হা/৬৩৪৩, যাহাবী চুপ থেকেছেন; মাজমাউয যাওয়ায়েদ হা/১৪০১০)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি আরো বলেন, জাহান্নামের আগুন তোমাকে স্পর্শ করবে না (দারাকুৎনী হা/৮৯৪, সনদ যঈফ)। (খ) আবু সাঈদ খুদরীর পিতা মালেক ইবনু সিনান ওহোদের যুদ্ধের দিন রাসূল (ছাঃ)-এর ললাট হ’তে রক্ত চেটে খেয়ে ফেলেন। তখন রাসূল (ছাঃ) বলেন, আমার রক্ত যার রক্তকে স্পর্শ করেছে, তাকে জাহান্নাম স্পর্শ করবে না’ (ইবনু হিশাম ২/৮০, সনদ যঈফ; সীরাতুর রাসূল (ছাঃ) ৩৬৮ পৃ. টীকা৫০২)। উল্লেখ্য যে, প্রবাহিত রক্ত পান করা হারাম (আনআম /১৪৫; ছহীহাহ হা/৩০০এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)

Posted in ছাহাবী রাসূল (ছাঃ)-এর রক্ত পান করেছিলেন কি? | Tagged ,

জনৈক আলেম বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন যে, রামাযান মাসে ইতিকাফকারী দু’টি হজ্জ ও দু’টি ওমরাহ করার সমপরিমাণ নেকী পায়। এর কোন সত্যতা আছে কি?


উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি মাওযূ। এছাড়া ইতিকাফের ফযীলত বর্ণনায় যত হাদীছ এসেছে সবই যঈফ (ইবনু মাজাহ হা/১৭৮১; যঈফাহ হা/৫৩৪৫; যঈফুল জামেহা/৫৪৫২)

Posted in ইতিকাফকারী দু’টি হজ্জ ও দু’টি ওমরাহ করার সমপরিমাণ নেকী পায় কি? | Tagged

পিতা সরকারী চাকুরীজীবী হিসাবে বিভিন্ন যেলায় ছিলেন। সে সুবাদে সেসব অফিসের পরিত্যক্ত চেয়ার, নষ্ট ফ্যান সহ বিভিন্ন জিনিস ঠিক করে বাসায় ব্যবহার করেন। একাজ ঠিক হচ্ছে কি? ঠিক না হ’লে করণীয় কি?


বিধি মতে খরিদ করে নিলে জায়েয হবে, নইলে নয়। বিধি মত খরিদকৃত না হলে সম্পদগুলি সঠিক স্থানে ফেরত দিবে অথবা ইনছাফের সাথে সেগুলির মূল্য নির্ধারণ করে উক্ত অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা দিবে। তাতে ফিৎনার ভয় থাকলে কোন জনহিতকর কাজে দান করবে। অতঃপর অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করবে।

Posted in অফিসের নষ্ট ফ্যান চেয়ার মেরামত করে নিজে ব্যবহার করা যাবে কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তি একজন বৌদ্ধ ধর্মের লোকের সাথে ব্যবসা করেন। অনেক সময় তাদের নিকটে থাকতে হয় এবং খেতে হয়। এভাবে থাকা-খাওয়া ও সম্পর্ক রাখা যাবে কি?


নিজ ধর্ম যথাযথভাবে বজায় রেখে বিধর্মী কোন ব্যক্তির সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য ও থাকা-খাওয়া জায়েয। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে না এবং তোমাদেরকে তোমাদের বাড়ি থেকে বিতাড়িত করে না, তাদের সাথে সদাচরণ করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না’ (মুমতাহিনা )

Posted in ব্যবসা অমুসলিমদের সাথে করা যাবে কি? | Tagged ,

সুন্নাত বা নফল ছালাতে বাংলায় দো‘আ করা যাবে কি? হারামের ইমামদের দেখা যায় তাঁরা রামাযান মাসে বিতর ছালাতে ইচ্ছামত লম্বা দো‘আ আরবী ভাষায় পড়েন। এক্ষণে আরবীতে পড়লে জায়েয, কিন্তু বাংলায় পড়লে নাজায়েয হবে কি?


ছালাতের ভাষা আরবী। তাই দো‘আও আরবীতেই পাঠ করতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আমাদের এ ছালাতে মানুষের কথাবার্তা সিদ্ধ নয়। এটা হ’ল তাসবীহ, তাকবীর এবং তেলাওয়াতে কুরআন’ (মুসলিম হা/৫৩৭; মিশকাত হা/৯৭৮)। ছালাতের মধ্যে অন্য ভাষায় দো‘আ করা যায় মর্মে কোন দলীল বর্ণিত হয়নি। এর মধ্যে বিশ্ব মুসলিমের ইবাদতের ক্ষেত্রে ঐক্যের সূক্ষ্ম তাৎপর্য নিহিত রয়েছে। যেমন আযান, সালাম ও দো‘আ সমূহ পাঠ ইত্যাদি। ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, মানুষের উচিত কুরআন ও হাদীছে বর্ণিত শারঈ দো‘আসমূহই পাঠ করা (মাজমূফাতাওয়া /৩৪৬)

এমতাবস্থায় শেষ বৈঠকে সালাম ফিরানোর পূর্বে অর্থ বুঝে ‘রববানা আ-তেনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাওঁ ওয়া ফিল আ-খিরাতে হাসানাতাওঁ ওয়া ক্বিনা আযা-বান্নার’ পাঠ করবে। আর কুনূতে নাযেলায় পরিস্থিতির চাহিদামত যেকোন দো‘আ আরবীতে পাঠ করা যেতে পারে। এই কুনূতের জন্য কোন নির্দিষ্ট দো‘আ নেই (মিরআত /৩০২)

Posted in বিতর ছালাতে ইচ্ছামত লম্বা দো‘আ করা যাবে কি?, সুন্নাত বা নফল ছালাতে বাংলায় দো‘আ করা যাবে কি? | Tagged

আমার পিতা ও এক ভাই মারা গেছেন। আমরা দুই ভাই, বোন ও আমাদের মা জীবিত আছি। মৃত ভাইটি এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী রেখে গেছেন। আমাদের পিতার কোন সম্পত্তি নেই। কিন্তু আমাদের মা প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার মালিক। তিনি তা ছেলে-মেয়েদের মধ্যে শরী‘আত মোতাবেক এখনই বণ্টন করে দিতে চান। এ অবস্থায় কে কতটুকু অংশ পাবে?


মাতার জীবদ্দশায় তার ছেলে মৃত্যুবরণ করায় ঐ ছেলের সন্তানেরা তাদের দাদীর সম্পত্তির ওয়ারিছ হবে না (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ, ফৎওয়া নং ১৯১৪৯, ১৬/৪৮৯ পৃঃ)। এমতাবস্থায় দাদী সর্বাগ্রে তার ঋণ (যদি থাকে) পরিশোধের পর নাতী-নাতনীদের জন্য অনধিক এক-তৃতীয়াংশ হেবা করতে পারেন (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৩০৭১)। অতঃপর মোট সম্পদ ৫ ভাগে ভাগ করে ১ ভাগ মেয়ে ও ৪ ভাগ জীবিত দুই ছেলেকে প্রদান করবে (নিসা /১১)

Posted in পিতা মারা গেলে মায়ের সম্পত্তি কিভাবে বন্ঠন হবে?, সমানভাবে দুই মেয়েকে সমস্ত সম্পদ লিখে দিয়েছে। তার, সম্পত্তি কে কত অংশ পাবে?, সম্পত্তি চালাকি করে লিখে নিলে দায়ী কে হবে?, সম্পত্তি ভাতিজা ও ভাতিজীদের মাঝে কিভাবে বণ্টিত হবে?, সম্পত্তি রেখে যাওয়া কি আবশ্যক সন্তানের জন্য?, সম্পত্তি স্ত্রীর নামে কিছু লিখে দেয়া যাবে কি?, সম্পত্তির যেকোন একটির ওয়ারিছ মেয়েরা হ’তে পারবে কি?, সম্পদ কিভাবে বন্ঠন হবে?, সম্পদ ছেলে কে না বলে মেয়েকে লিখে দেওয়া যাবে কি?, সম্পদ দেখা শুনার জন্য তাকে কিছু সম্পদ দেওয়া যাবে কি?, সম্পদ নিয়ে বেঈমানী করলে শাস্তি থেকে বাঁচানোর উপায় কি?, সম্পদ পিতা বিক্রয় করার পর ভুল প্রমাণিত হলে করণীয় কি?, সম্পদ পিতা-মাতা স্ত্রী ও তিন মেয়ের মধ্যে অংশ কিভাবে বণ্টিত হবে?, সম্পদ পিতাকে না জানিয়ে খরচ করা যাবে কি?, সম্পদ মালিক জীবিত অবস্থায় বণ্টন করা করা যাবে কি?, সম্পদ মৃত্যুর কতদিনের মধ্যে ওয়ারিছদের মাঝে বণ্টন করতে হয়?, সম্পদ সন্তান পিতা-মাতার উভয়ের সম্পদেই কি সে অংশীদার হবে?, সম্পদ সমান করে ভাগ করে না দিলে কি হবে? | Tagged

আমি ২ বছর আগে স্ত্রীকে ১ তালাক দিলে উভয় পক্ষের মীমাংসায় আবার একত্রে বসবাস করতে থাকি। ঘটনার ২ বছর পর আবার তালাক দেই। তারপর নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে ফেলি। এর ২ মাস পর আবার তালাক দেই। প্রত্যেকবারই আমি প্রচন্ড রাগের মাথায় এরূপ কাজ করি। তবে রাগের অবস্থা এমন ছিল না যে আমি হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে গিয়েছিলাম। এমতাবস্থায় স্ত্রী ফিরিয়ে নেওয়ার কোন সুযোগ আছে কি?


তিন বারে তিন তালাক দেওয়ার কারণে আপনার স্ত্রী পূর্ণ তালাকপ্রাপ্তা হয়েছেন। অতএব তাকে আর ফিরিয়ে নেওয়ার কোন সুযোগ নেই (বাক্বারাহ /২২৮২৯)। যতক্ষণ না তিনি অন্যত্র বিবাহিতা হন এবং সেখান থেকে স্বাভাবিকভাবে তালাকপ্রাপ্তা হন (বাক্বারাহ /২৩০)

উল্লেখ্য, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তালাক ও দাসমুক্তি নেই ‘ইগলাক্ব’ অবস্থায়’ (আবুদাউদ হা/১৯১৯, মিশকাত হা/৩২৮৫)। ইমাম আবু দাঊদ (রহঃ) বলেন, ক্রোধান্ধ, পাগল ও যবরদস্তির অবস্থায় মানুষের স্বাভাবিক জ্ঞান ও ইচ্ছাশক্তি লোপ পায়। তাই এ অবস্থাকে ‘ইগলাক্ব’ বলা হয় (, হাশিয়া /৪১৩ পৃঃ)

বর্ণনা মতে প্রশ্নকারী ‘হিতাহিতজ্ঞানশূন্য’ হননি। অতএব এটি তালাক বায়েন হিসাবেই গণ্য হবে।

Posted in তালাক তিন বার দেওয়ার পরে ফিরিয়ে নেওয়া যাবে কি? | Tagged

ফরয ছালাতের পর পঠিতব্য দো‘আসমূহ সুন্নাত ছালাতের পর বা যেকোন সময় পাঠ করা যাবে কি?


পড়া যাবে। হাদীছে সকল ছালাতের জন্য আমভাবে প্রথমে আল্লাহু আকবর একবার সরবে, অতঃপর তিনবার আসতাগফিরুল্লা এবং একবার আল্লাহুম্মা আনতাস সালামু ওয়া মিনকাস সালামু তাবারাকতা ইয়াযাল জালালি ওয়াল ইকরা পাঠের ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে (বুখারী হা/৮৪২; মুসলিম হা/৫৮৩, ৫৯১, ৫৯২; মিশকাত হা/৯৫৯৬১)। সুতরাং এটি সকল ছালাতের জন্য প্রযোজ্য। আর ফরয ছালাতের পর পঠিতব্য সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবর, আয়াতুল কুরসী প্রভৃতি দো‘আ ফরয ছালাতের পরে পাঠের ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে। অতএব সেগুলি সেখানে পাঠ করাই উত্তম হবে (আলবানী, সিলসিলা ছহীহাহ হা/১০২এর আলোচনা)। তবে সাধারণভাবে এগুলি যেকোন ছালাতের পর পড়া যায় (ফাৎহুল বারী ১১/১৩৪; তুহফাতুল আহওয়াযী /১৬৯)

Posted in ফরয ছালাতের পর পঠিতব্য দো‘আসমূহ যেকোন সময় পাঠ করা যাবে কি? | Tagged

হজ্জব্রত পালনকালে মুহরিম অবস্থায় কাউকে বিবাহ করা বা প্রস্তাব দেওয়া যাবে কি? এ ব্যাপারে ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত বিপরীতমূখী হাদীছের ক্ষেত্রে সমাধান কি?


ইহ্রাম অবস্থায় বিবাহ করা বা বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া উভয়টি নিষিদ্ধ। এ অবস্থায় কেউ বিবাহ করলে বিবাহ শুদ্ধ হবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘ইহরাম অবস্থায় কোন ব্যক্তি নিজে বিবাহ করবে না, অন্যকেও বিবাহ করাবে না এবং বিবাহের প্রস্তাবও দিবে না’ (মুসলিম হা/১৪০৯; মিশকাত হা/২৬৮১)

কিন্তু বুখারী ও মুসলিমে ইবনু আববাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীছে আছে যে, রাসূল (ছাঃ) ইহরাম অবস্থায় মায়মূনা (রাঃ)-কে বিবাহ করেছিলেন (বুখারী হা/১৮৩৭; মুসলিম হা/১৪১০)

এর জবাব এই যে, রাসূল (ছাঃ) মায়মূনা (রাঃ)-কে ইহরাম অবস্থায় বিবাহ করেননি। যেমন মায়মূনা (রাঃ) নিজে বলেন যে, রাসূল (ছাঃ) তাকে বিবাহ করেন এমন অবস্থায় যে, তিনি হালাল ছিলেন (মুসলিম হা/১৪১১, মিশকাত হা/২৬৮৩)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘রাসূল (ছাঃ) আমাকে ‘সারিফ’ নামক স্থানে বিয়ে করেছেন। তখন আমরা উভয়ে হালাল অবস্থায় ছিলাম’ (আবুদাউদ হা/১৮৪৩, সনদ ছহীহ)। রাসূল (ছাঃ)-এর খাদেম আবু রাফে‘ বলেন, রাসূল (ছাঃ) মায়মূনা (রাঃ)-কে হালাল অবস্থায় বিবাহ করেছেন এবং হালাল অবস্থায় বাসর করেছেন। আমিই ছিলাম তাদের বিবাহের ঘটক (আহমাদ হা/২৭২৪১; দারেমী হা/১৮২৫, সনদ হাসান)। এসকল হাদীছ থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, রাসূল (ছাঃ) ইহরাম অবস্থায় বিবাহ করেননি।

এক্ষণে ইবনু আববাস (রাঃ)-এর বর্ণনা সম্পর্কে ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেন, আবু রাফে‘ বর্ণিত হাদীছটি কয়েকটি কারণে অগ্রগণ্য। (১) হাদীছটি বর্ণনার সময় ইবনু আববাস (রাঃ) দশ বছরের বালক ছিলেন। যখন আববাস (রাঃ)-এর গোলাম আবু রাফে‘ পূর্ণ যুবক ছিলেন। সঙ্গত কারণে আবু রাফে‘ তার অপেক্ষা নিরাপদ। (২) আবু রাফে‘ যেহেতু বিয়ের ঘটক ছিলেন, সেহেতু ইবনু আববাস অপেক্ষা তার বেশী জানাটাই যুক্তিসম্মত…। (৩) তাছাড়া ওমরাহ পালনের সময় ইবনু আববাস (রাঃ) আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে ছিলেন না। তখন তিনি মক্কায় দুর্বল ছাহাবীগণের মাঝে অবস্থান করছিলেন। উক্ত হাদীছটি তিনি পরে শুনে বর্ণনা করেছেন। (৪) আর ইবনু আববাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীছটি ‘ইহরাম অবস্থায় বিবাহ নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ) বর্ণিত কওলী হাদীছে’র বিপরীত হওয়ায় তা গ্রহণীয় হবে না’ (যাদুল মাআদ /১০২১০৫)

সবচেয়ে বড় কথা এই যে, বিবাহিতা মায়মূনা (রাঃ) যেখানে বলছেন, আমরা উভয়ে হালাল ছিলাম, সেখানে অন্যের সাক্ষ্য অগ্রাধিকার যোগ্য নয়।

উক্ত বিষয়ে শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, ছহীহ বুখারীতে বর্ণিত হওয়া সত্ত্বেও হাদীছটি যঈফ অর্থে গরীব। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এর বর্ণনাকারীগণ দুর্বল বা মিথ্যাবাদী। বরং ঘটনার সাথে সরাসরি যুক্ত মায়মূনা (রাঃ) থেকে অন্য সূত্রে বর্ণিত হাদীছ বুখারীর অত্র হাদীছটির বিপরীত হওয়ায় রাবীর বক্তব্যে ভুল হওয়াটা প্রমাণিত হয়’ (আলবানী, সিলসিলাতুল হূদা ওয়ান নূর, অডিও রেকর্ড নং ০৭১)

Posted in হজ্জব্রত পালনকালে মুহরিম অবস্থায় কাউকে বিবাহ করা যাবে কি? | Tagged ,

ছিয়াম অবস্থায় ডায়াবেটিস রোগীদের ইনসুলিন গ্রহণের বিধান কি? বিশেষতঃ যাদের দিনে একাধিকবার গ্রহণের প্রয়োজন হয়।


ইফতারের পর ও সাহারীর পূর্বে ইনসুলিন নেওয়াই উত্তম। যদি এরপরেও প্রয়োজন হয়, সেটা দিনের বেলায় ছিয়াম অবস্থায় নিতে পারে। কেননা ইনসুলিন গ্রহণ করা ছিয়াম ভঙ্গের কারণ নয়। আর এটি কোন খাদ্য নয়। অনুরূপ হাঁপানী রোগের জন্য ছিয়াম অবস্থায় ‘ইনহেলার’ নেওয়া যায়।

Posted in ছিয়াম অবস্থায় ডায়াবেটিস রোগীদের ইনসুলিন নেওয়া যাবে কি? | Tagged

সূর্য শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্য দিয়ে উদিত হয়’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটির ব্যাখ্যা জানতে চাই।


হাদীছটিতে বলা হয়েছে, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ফজরের ছালাত পড়বে, অতঃপর সূর্যোদয়কালে ছালাত আদায় করবে না, যতক্ষণ না তা কিছুটা উপরে উঠে। কেননা, যখন তা উদিত হয়, তখন শয়তানের দুই শিং-এর মধ্য দিয়ে উদিত হয় এবং এসময় কাফেররা তাকে সিজদা করে। …অতঃপর ছালাত থেকে বিরত থাকবে, যতক্ষণ না সূর্য ডুবে যায়। কেননা তা শয়তানের দুই শিং-এর মধ্য দিয়ে অস্তমিত হয় এবং এসময় কাফেররা তাকে সিজদা করে (বুখারী হা/৩২৭৩; মুসলিম হা/৮৩২; মিশকাত হা/১০৪২)

কাফের-মুশরিকরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সূর্যের পূজা করে। এসময় শয়তান সূর্যের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। সে চায় যে, কাফেররা যেন তারই পূজা করে। এসময় শয়তান এমনভাবে দাঁড়ায়, যেন সূর্য তার মাথার মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে সামনে অগ্রসর হয়। সেকারণ হাদীছে বলা হয়েছে যে, ‘সূর্য শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্য দিয়ে উদিত হয়’। এ সময় ছালাত আদায় করা নিষিদ্ধ হওয়ার এটাই মূল কারণ (ফাৎহুল বারী /৬০)। হাদীছে শয়তানের শিং বলতে তার মাথার উভয় পার্শ্বকে বুঝানো হয়েছে (নববী, শরহ মুসলিম /১১২)

উল্লেখ্য যে, কারণবশতঃ ছালাত সমূহ এর অন্তর্ভুক্ত নয়। যেমন ক্বাযা ছালাত, তাহিইয়াতুল মসজিদ, তাহিইয়াতুল ওযূ ও জুম‘আর সুন্নাত। কারণ এগুলির ব্যাপারে নির্দিষ্ট দলীল রয়েছে।

Posted in সূর্য শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্য দিয়ে উদিত হয়’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটির ব্যাখ্যা

সফর অবস্থায় কোন ছালাত ক্বাযা হ’লে বাড়িতে এসে তা আদায় করার সময় পুরো আদায় করতে হবে, না ক্বছর করলেই যথেষ্ট হবে? এমনিভাবে এর উল্টো অবস্থায় করণীয় কি?


শরী‘আতে প্রত্যেক ছালাতের যে রাক‘আত সংখ্যা বর্ণিত হয়েছে, সেটা আদায় করাই প্রকৃত বিধান। আর সফর অবস্থায় ছালাতে ‘ক্বছর’ করা আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাদের প্রতি একটি উপহার স্বরূপ। এটা বাধ্যগত বিষয় নয়। আল্লাহ বলেন, ‘যখন তোমরা সফর কর, তখন ছালাতে ক্বছর করায় তোমাদের কোন দোষ নেই’ (নিসা /১০১)। রাসূল (ছাঃ) ক্বছরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে ছাদাক্বা বলে আখ্যায়িত করেছেন (মুসলিম হা/৬৮৬, মিশকাত হা/১৩৩৫)

অতএব সফরের ক্বাযা ছালাত বাড়িতে আদায় করলে বা সফরে থাকা অবস্থায় মুকীম অবস্থার ক্বাযা ছালাতের কথা স্মরণ আসলে উভয়ক্ষেত্রে পূর্ণভাবেই তা আদায় করবে (আব্দুল্লাহ বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব অডিও নং ৭৪০৮)

Posted in ক্বছরের ছালাত ক্বাযা হলে কিভাবে আদায় করবো? | Tagged ,

ছিয়াম অবস্থায় অসুখের কারণে ডুস ব্যবহার করা যাবে কি? এছাড়া চোখ, কান ও নাকের ঔষধ ব্যবহার করা যাবে কি?


যাবে। ডুস বা সাপোজিটরি যেহেতু খাদ্য নয়, খাদ্যের বিকল্পও নয় এবং তা পাকস্থলীতেও প্রবেশ করে না; বরং তা একপ্রকার ওষুধ, যা মলম বা ক্রীমের সঙ্গে তুলনা করা যায়। এর দ্বারা খাদ্যের কোন চাহিদা পূরণ হয় না। তাই এর দ্বারা ছিয়াম ভঙ্গ হবে না (উছায়মীন, মাজমূফাতাওয়া ১৯/১৫০, ফৎওয়া নং ৩৫১)। এছাড়া চোখে ও কানে ড্রপস ব্যবহার করায় কোন বাধা নেই। কারণ তা কণ্ঠনালী অতিক্রম করে না। তবে নাকের ড্রপস-এর ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যাতে তা কণ্ঠনালী অতিক্রম না করে (আবুদাঊদ হা/২৩৬৬, মিশকাত হা/৪০৫)। ভুলবশতঃ চলে গেলে গলধঃকরণ না করে বাইরে ফেলে দিবে।

Posted in ছিয়াম অবস্থায় অসুখের কারণে ডুস ব্যবহার করা যাবে কি?, ছিয়াম অবস্থায় চোখ কান ও নাকের ঔষধ ব্যবহার করা যাবে কি? | Tagged ,

বিদায়কালে কাউকে ‘তুমি তোমার প্রার্থনায় আমাকে শরীক করতে ভুলে যেয়ো না’ বলা যাবে কি?


উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (আহমাদ হা/১৯৫; তিরমিযী হা/৬৫৬২; মিশকাত হা/২২৪৮; যঈফুল জামেহা/৬২৭৮)। তবে সাধারণভাবে মুমিনগণ একে অপরের নিকটে দো‘আ চাইবে। যেমন ইউসুফ (আঃ)-এর ভাইয়েরা পিতা ইয়াকূব (আঃ)-এর নিকটে ক্ষমা চেয়ে বলেছিলেন, ‘আপনি আমাদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন (ইউসুফ ১২/৯৭)। ওমর (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী উয়াইস ক্বারনীর নিকটে দো‘আ চেয়ে বলেছিলেন, আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন (মুসলিম হা/২৫৪২; মিশকাত হা/৬২৫৭)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, কোন মুসলিম তার ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে দো‘আ করলে তা অবশ্যই কবুল হয়। তার মাথার নিকটে একজন ফিরিশতা নিযুক্ত থাকে। যখনই সে তার ভাইয়ের জন্য কল্যাণের দো‘আ করে, তখনই ঐ ফিরিশতা বলে, ‘আমীন’! তোমার জন্যও অনুরূপ’ (মুসলিম হা/২৭৩৩; মিশকাত হা/২২২৮)

Posted in তুমি তোমার প্রার্থনায় আমাকে শরীক করতে ভুলে যেয়ো না’ বলা যাবে কি? | Tagged ,

গ্রামাঞ্চলে অনেককে গলার সমস্যা, কাশি ইত্যাদি কারণে তেজপাতা পুড়িয়ে তার ধোঁয়া গ্রহণ করতে দেখা যায়। এটা শরী‘আতসম্মত কি?


তেজপাতার ধোঁয়ায় কোন ক্ষতিকর প্রভাব নেই বলে নিশ্চিত হ’লে সেটা করা যাবে। নইলে নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘ক্ষতি করো না, ক্ষতিগ্রস্ত হয়ো না’ (ইবনু মাজাহ হা/২৩৪০; ছহীহাহ হা/২৫০)

Posted in তেজপাতা পুড়িয়ে তার ধোঁয়া গ্রহণ করা যাবে কি? | Tagged

আমার ১৪ বছর বয়সী বোনের নিকটে একটি জিন রয়েছে, যে তার গলায় তাবীয না থাকলে নানা উৎপাত করে। ইতিপূর্বে জিনটি আমার মায়ের কাছে ছিল, তখনও মাঝে মাঝে ভয় দেখাত। এক্ষণে তাবীয দেহে রাখবো না খুলে ফেলব?


তাবীয খুলে ফেলতে হবে। কারণ তাবীয ঝুলানো শিরক (আহমাদ, ছহীহুল জামেহা/৬৩৯৪; ছহীহাহ হা/৪৯২)। জিনের কুপ্রভাব থেকে বাঁচার জন্য কুরআন ও হাদীছে বর্ণিত বিশুদ্ধ দো‘আসমূহ পাঠ করবে। বিশেষ করে নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যায় সূরা নাস, ফালাক্ব, ইখলাছ ও আয়াতুল কুরসী (আবুদাউদ, নাসাঈ, মিশকাত হা/২১৬৩) এবং সূরা বাক্বারাহর কিছু অংশ, বিশেষ করে শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে (বুখারী হা/৫০০৯; মুসলিম হা/৭৮০) রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে গৃহে সূরা বাক্বারাহর শেষ দু’আয়াত পর পর তিন রাত পাঠ করা হয়, শয়তান তার নিকটবর্তী হয় না’ (তিরমিযী হা/২৮৮২)। এর মাধ্যমে জিন সংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিপদ প্রতিবিধানে যথেষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ।

Posted in তাবীয ব্যবহার না করলে জিন উৎপাত করে তাহলে আমার করণীয় কি? | Tagged

ছালাতে উচ্চৈঃস্বরে ‘রববানা লাকাল হামদ’ বলা যাবে কি?


রুকূ থেকে উঠে যে দো‘আটা পড়তে হয় তা নীরবে পড়াই উত্তম। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের প্রভুকে ডাক, বিনীতভাবে ও চুপে চুপে’ (রাফ /৫৫)। মক্কা ও মদীনার হারামে মুকাবিবর এটি মাইকে জোরে পড়েন সম্ভবতঃ ছহীহ বুখারীতে বর্ণিত হাদীছটির উপর ভিত্তি করে। যেখানে বলা হয়েছে, নবী করীম (ছাঃ) রুকূ থেকে উঠে ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বললে, জনৈক ছাহাবী সশব্দে ‘রববানা লাকাল হাম্দ হামদান…’ দো‘আটি পাঠ করেন। অতঃপর সালাম ফিরিয়ে রাসূল (ছাঃ) তাকে বললেন, আমি ত্রিশের অধিক ফেরেশতাকে ব্যস্ত হ’তে দেখলাম, কে ঐ কথাটি আগে লিখবে’ (বুখারী হা/৭৯৯; মিশকাত হা/৮৭৭রুকূঅনুচ্ছেদ১৩)। তবে যেহেতু উক্ত দো‘আটি অন্য কেউ সরবে পড়েননি, সেহেতু সাধারণ নির্দেশের আলোকে নিম্নস্বরে পড়াই উত্তম।

Posted in ছালাতে উচ্চৈঃস্বরে ‘রববানা লাকাল হামদ’ বলা যাবে কি? | Tagged

ঈদের ছালাত আদায় করতে এসে অর্ধশতাধিক মানুষ পেলাম যারা ছালাত পায়নি এবং ইমাম খুৎবা দিচ্ছেন। এক্ষণে তারা পুনরায় জামা‘আত করতে পারবে কি?


এমতাবস্থায় পুনরায় জামা‘আত করবে। অর্থাৎ ঈদের অতিরিক্ত তাকবীর সহ দু’রাক‘আত ছালাত জামা‘আতে আদায় করবে। তবে ইমামের খুৎবা শ্রবণের পর এটি আদায় করা উত্তম হবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা /৩০৬)। ইমাম বুখারী (রহঃ) অধ্যায় রচনা করেছেন, যার ঈদের ছালাত ছুটে যাবে, সে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করে নিবে’। ঈদের জামা‘আত ছুটে গেলে আনাস (রাঃ) তার গোলামকে পরিবার-পরিজন ও অন্যদের নিয়ে জামা‘আত করে বাড়ীতে ছালাত আদায়ের নির্দেশ দেন। ইকরিমা ও আতা‘ এমন ফৎওয়াই প্রদান করেছেন (বুখারীঈদায়েনঅধ্যায় ২৫ অনুচ্ছেদের তালীক্ব, /১৫৪ পৃ.)। এছাড়া ক্বাতাদা, নাখঈ, হাসান বছরীসহ বহু তাবেঈ এমন ফৎওয়া দিয়েছেন (মুছান্নাফে আব্দুর রাযযাক হা/৫৭১৬; ইবনু আবী শায়বাহ হা/৫৮৫৭, ৫৮৫৮; আলমুগনী /২৯০)

Posted in ঈদের ছালাত না পেলে পুনরায় জামা‘আত করতে পারবে কি? | Tagged

সন্তান প্রসবের সময় মা মৃত্যুবরণ করলে তিনি কি শাহাদতের মর্যাদা লাভ করবেন?


সন্তান পেটে থাকা অবস্থায় বা প্রসবের সময় এমনকি নিফাস চলাকালীন অবস্থায় মুমিন নারী মারা গেলে তিনি শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করবেন ইনশাআল্লাহ। রাসূল (ছাঃ) বলেন,  আল্লাহর রাস্তায় নিহত ব্যক্তি ছাড়া আরও সাত জন ‘শহীদ’ রয়েছে। তারা হ’ল : (১) মহামারীতে মৃত (মুমিন) ব্যক্তি (২) পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি (৩) ‘যাতুল জাম্ব’ নামক কঠিন রোগে মৃত ব্যক্তি (যেসব গর্ভবর্তী মেয়েদের পেটে বাচ্চা মারা যায় এবং প্রসূতি মাও মারা যায়, ঐ নারীকে যাতুল জাম্ব-এর রোগিনী বলা হয়। ইবনু হাজার বলেন, এটিই প্রসিদ্ধ (ফৎহুল বারী হা/২৮২৯এর ব্যাখ্যা, /৫১ পৃঃ)। (৪) (কলেরা বা অনুরূপ) পেটের পীড়ায় মৃত ব্যক্তি (৫) আগুনে পুড়ে মৃত ব্যক্তি (৬) ধ্বসে চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি ও (৭) গর্ভাবস্থায় মৃত মহিলা’ (আবুদাঊদ, নাসাঈ, মিশকাত হা/১৫৬১; ছহীহ আততারগীব হা/১৩৯৮)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, নিফাসী নারী যার সন্তান নাড়ীসহ তাকে জান্নাতে টেনে নিয়ে যায়’ (আহমাদ হা/১৬০৪১, সনদ ছহীহ লেগায়রিহী)

Posted in সন্তান প্রসবের সময় মা মৃত্যুবরণ করলে শাহাদতের মর্যাদা লাভ করবেন? | Tagged

আমি ছালাত, ছিয়াম সহ নিয়মিত সৎআমলে অভ্যস্ত। কিন্তু কিছুদিন থেকে হস্তমৈথুনে জড়িয়ে পড়েছি। কোনভাবেই এথেকে বিরত থাকতে পারছি না। এর বিধান কি এবং এথেকে বাঁচার জন্য কোন আমল বা দো‘আ আছে কি?


হস্তমৈথুন বা অবৈধ পন্থায় বীর্য স্খলন করা নিষিদ্ধ। আল্লাহ বলেন, যারা নিজ স্ত্রী ও দাসী ব্যতীত অন্যকে কামনা করে, তারা সীমালংঘনকারী (মুমিনূন ২৩/; মাআরিজ ৭০/৩০৩১)। এটি হারাম এবং কবীরা গোনাহ, যা মানুষের জীবন-যৌবন ধ্বংস করে। ক্বিয়ামতের দিন মানুষের মুখ বন্ধ হবে এবং হাত-পা, চোখ-কান ও দেহচর্ম সাক্ষ্য দিবে’ (ইয়াসীন ৩৬/৬৫; হামীম সাজদাহ্ ২০)। অতএব যে ব্যক্তি শয়তানের ধোঁকায় পড়ে এরূপ কাজে জড়িয়ে পড়েছে তাকে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করে একনিষ্ঠভাবে তওবা করতে হবে (আবুদাঊদ হা/১৫২১; ছহীহুল জামেহা/৫৭৩৮; ছহীহ আততারগীব হা/১৬২১)

আর এথেকে বাঁচার জন্য যখনই বাজে চিন্তা মাথায় আসবে, তখনই বাম দিকে তিনবার থুক মেরে ‘আঊযুবিল্লাহ’ পড়বে (মুসলিম হা/২২০৩; মিশকাত হা/৭৭)। অতঃপর অন্য কাজে মন দিবে অথবা স্থান পরিবর্তন করবে। এছাড়া আল্লাহুম্মাগফির যানবী ওয়া তাহহির ক্বালবী ওয়া হাছছিন ফারজী (হে আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহ ক্ষমা কর, আমার হৃদয়কে পবিত্র কর এবং আমার লজ্জাস্থানকে হেফাযত কর) দো‘আটি পাঠ করা যায়। রাসূল (ছাঃ))-এর নিকটে এক যুবক যেনা করার অনুমতি চাইলে তিনি তার জন্য এই দো‘আ করেন (আহমাদ, ছহীহাহ হা/৩৭০)। অথবা আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিন শার্রি সামঈ ওয়ামিন শার্রি বাছারী ওয়া শার্রি লিসানী ওয়া শার্রি ক্বালবী ওয়া শার্রি মানিইঈ (হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় চাই আমাদের কর্ণ, চক্ষু, জিহবা ও আমাদের অন্তরের অনিষ্ট হ’তে এবং আমার শুক্র অবৈধ স্থানে পতিত হওয়া থেকে) দো‘আটিও পাঠ করা যায় (আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/২৪৭২)

আর এথেকে স্থায়ীভাবে বাঁচার পথ হ’ল, বিবাহ করা অথবা নিয়মিত নফল ছিয়াম রাখা (বুখারী হা/১৯০৫; মুসলিম; মিশকাত হা/৩০৮০)। এছাড়া নিয়মিত জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায় করা, দ্বীনী পরিবেশে থাকা, মোবাইল-কম্পিউটার-ইন্টারনেট-টিভির যাবতীয় অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকা, ধর্মীয় বই-পুস্তক পড়াশুনায় অভ্যস্ত হওয়া, নির্জনতা বর্জন করে পারিবারিক ও সামাজিক কার্যক্রমে অধিকহারে অংশগ্রহণ করা ইত্যাদি কার্যাবলীর মাধ্যমে এথেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ।

Posted in হস্তমৈথুন থেকে বাঁচার জন্য কোন আমল বা দো‘আ আছে কি? | Tagged ,

সরকারী আবহাওয়া অধিদফতর ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রদত্ত সময়সূচীর মাঝে সূর্যাস্তের ক্ষেত্রে রামাযান মাসে ৩ মিনিট পার্থক্য দেখা যায়। এর কারণ কি?


সরকারী আবহাওয়া অধিদফতরের সময়সূচীতে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের যে সময় নির্ধারণ করা হয়, তা বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে সূর্যাস্তের প্রকৃত সময় দেওয়া হয়। কিন্তু ইসলামিক ফাউন্ডেশন মূল সময়ের সাথে ৩ মিনিট যোগ করে ইফতারীর সময় নির্ধারণ করে। তাদের দাবী মতে সতর্কতার জন্য তারা এরূপ করে থাকেন। অথচ এটা নিতান্তই অন্যায়। কারণ রাসূল (ছাঃ)-এর স্পষ্ট নির্দেশ, সূর্যাস্তের সাথে সাথে ছায়েম ইফতার করবে’ (বুখারী হা/১৯৫৪; মুসলিম হা/১১০০; মিশকাত হা/১৯৮৫)। তিনি বলেন, ‘মানুষ ততদিন কল্যাণের মধ্যে থাকবে যতদিন তারা তাড়াতাড়ি ইফতার করবে। কেননা ইহূদী ও নাছারারা দেরীতে ইফতার করে’ (বুখারী হা/১৯৫৭; আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১৯৮৪, ৯৫)। একবার আয়েশা (রাঃ)-কে আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) দ্রুত ইফতার ও মাগরিবের ছালাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) এরূপই করতেন (মুসলিম হা/১০৯৯)

অতএব সূর্যাস্তের পর ৩ মিনিট দেরী করা রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশনার প্রতি অবহেলার শামিল। তাই তা পরিত্যাগ করে সূর্যাস্তের প্রকৃত সময় অনুযায়ী সূর্য ডোবার সাথে সাথে ইফতার করা কর্তব্য।

Posted in ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রদত্ত ইফতারীর সময়সূচীর ৩ মিনিট পার্থক্য এর কারণ কি? | Tagged

নাভীর নীচে কাপড় পরা কি হারাম? আমি যদি প্যান্ট বা লুঙ্গী নাভীর নীচে পরি এবং পাঞ্জাবী দিয়ে দেহ ঢাকি, তাহ’লে কি সতর ঢাকা হবে?


পুরুষের সতর হচ্ছে নাভী হ’তে হাঁটুর নীচ পর্যন্ত (ছহীহ জামেউছ ছাগীর হা/৫৫৮৩; ইরওয়াউল গালীল হা/২৭১)। তাই নাভী ও হাঁটু সতরের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং নাভীর নিচ থেকে হাঁটুর উপর সতর (আলমুগনী /৪১৪; নববী, আলমাজমূ/১৭৩)। এ অংশ সর্বদা ঢেকে রাখা ওয়াজিব। আর নাভীর নীচে কাপড় পরে অন্য কাপড় দ্বারা ঢেকে দিলেও তা সতর ঢাকা হিসাবেই গণ্য হবে।

Posted in কাপড় নাভীর নীচে পরা কি হারাম? | Tagged

আমাদের সরকারী অফিসে অনেক কর্মকর্তা আছেন, যারা দ্বীনী কাজের অজুহাতে মাসের অর্ধেক দিন অফিস ফাঁকি দেন। যদিও তারা ধর্মীয় কার্যাবলী সুচারুরূপে করেন। কিছু বলা হ’লে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি রয়েছে বলে জানান। অথচ সরকারী চাকুরী বিধি সবার উপর সমভাবে প্রযোজ্য। এরূপ অন্যায়ের জন্য তাকে গুনাহগার হ’তে হবে কি?


সরকারী-বেসরকারী যেকোন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি অফিস ফাঁকি দিলে গুনাহগার হবে। কারণ চাকুরীরত ব্যক্তি নিয়োগকারীর সাথে নির্দিষ্ট শর্তাধীনে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কর্মরত হয়েছেন। যা একটি আমানত। এর খেয়ানত করলে কাবীরা গুনাহ হবে। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা (অবাধ্যতার মাধ্যমে) আল্লাহ ও রাসূলের সাথে খেয়ানত করো না এবং (এর অনিষ্টকারিতা) জেনে-শুনে তোমাদের পরস্পরের আমানত সমূহে খেয়ানত করো না’ (আনফাল /২৭)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যার আমানতদারী নেই তার দ্বীন নেই (আহমাদ হা/১২৪০৬; মিশকাত হা/৩৫; ছহীহুল জামেহা/৭১৭৯)। তিনি বলেন, ‘সাবধান! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। তোমরা প্রত্যেকেই ক্বিয়ামতের দিন স্ব স্ব দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে’ (মুত্তাফাক্বআলাইহ, মিশকাত হা/৩৬৮৫) তবে নিজ দায়িত্ব পালনের পর ইনছাফ ও দায়বদ্ধতা বজায় রেখে পূর্ণ ন্যায়পরায়ণতার সাথে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে প্রয়োজনীয় ছুটি ভোগ করা যাবে (বিস্তারিত দ্রঃ শায়খ বিন বায, মাজমূফাতাওয়া /৩৯, ১৯/৩৫৩৩৫৪)

Posted in দ্বীনী কাজের অজুহাতে মাসের অর্ধেক দিন অফিস ফাঁকি দিলে গুনাহগার হ’তে হবে কি? | Tagged

যাকাতের সম্পদ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেওয়ার নিয়ত করে আমার নিকট থেকে ঋণগ্রহীতাকে কিছু ঋণ মাফ করে দেওয়া যাবে কি?.


সাধারণভাবে এরূপ করা জায়েয নয়। তবে ঋণগ্রহীতা যদি হতদরিদ্র হয় তথা যাকাত গ্রহণের প্রকৃত হকদার হয়, সেক্ষেত্রে তাকে যাকাতের অর্থ দেওয়া যাবে (মাজমূ ফাতাওয়া ২৫/৮৪; উছায়মীন, মাজমূফাতাওয়া ১৮/২৪৬, ৩৩৭)

Posted in যাকাতের সম্পদ ঋণগ্রহীতাকে দেওয়া যাবে কি? | Tagged

ফরয ছালাতের কোন রাক‘আতে মুছল্লী সূরা ফাতিহা পাঠ করতে ভুলে গেলে তার জন্য করণীয় কি? উক্ত রাক‘আত পুনরায় আদায় বা সাহু সিজদা দিলে হবে কি?


মুছল্লী কোন রাক‘আতে সূরা ফাতিহা পাঠ করতে ভুলে গেলে ইমামের সালাম ফিরানোর পর উঠে এক রাক‘আত ছালাত পৃথকভাবে আদায় করবে এবং সহো সিজদা দিবে। কারণ সূরা ফাতিহা ব্যতীত ছালাত হয় না (বুখারী হা/৭৫৬; মুসলিম হা/৩৯৪; মিশকাত হা/৮২২; ছহীহ ইবনু খুযায়মা, ‘ছালাতঅধ্যায়, /২৪৬৪৭ পৃঃ; বিস্তারিত দ্রঃ)

Posted in সূরা ফাতিহা পাঠ করতে ভুলে গেলে করণীয় কি? | Tagged

আমাদের এখানে পীরের মাজারের পক্ষ থেকে প্রতিবছর ঐতিহ্যবাহী ওরস হয়। এ উপলক্ষে মেলা এবং বিরানী খাওয়ানো হয়। উক্ত মেলা থেকে কিছু কেনাকাটা বা তাদের বিতরণকৃত বিরানী খাওয়া যাবে কি?


যাবে না। এসব স্পষ্টভাবে বিদ‘আতী অনুষ্ঠান। এছাড়া এসব স্থানে বহু শিরকী কর্মকান্ড হয়ে থাকে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নতুন আবিষ্কার করবে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয় তা প্রত্যাখ্যাত’ (মুত্তাফাক্বআলাইহ, মিশকাত হা/১৪০)। তাদের যেকোন কাজে সহযোগিতা করা বা তাদের খাবার খাওয়া যাবে না (মায়েদা /; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১৬/১৭৬, /২৫৭২৬৪)

Posted in পীরের মাজারের অনুষ্ঠানের বিরানী খাওয়া যাবে কি? | Tagged ,

ছেলে নেশাখোর এবং এর মাধ্যমে বহু অর্থ তছরুফকারী। এক্ষণে বিবাহিত মেয়ের আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে পিতার সম্পত্তি থেকে ১০ কাঠা জমি ছেলের অগোচরে মেয়েকে দেওয়া যাবে কি?


বিদ্বেষবশতঃ কমবেশী না করে, সন্তানদের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি রেখে জীবদ্দশায় প্রয়োজনমত খরচে কমবেশী করায় কোন বাধা নেই। বরং এটাই ইনছাফ। কিন্তু কারো প্রতি অবজ্ঞা, কাউকে অধিক ভালোবাসা, কাউকে শাস্তি দেওয়া ইত্যাদি দৃষ্টিভঙ্গিতে কমবেশী করলে অবশ্যই গুনাহগার হ’তে হবে (বুখারী হা/২৫৮৬; মুসলিম হা/১৬২৩; মিশকাত হা/৩০১৯)

উল্লেখ্য যে, সন্তানদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু দান করা এবং সন্তানের প্রয়োজনীয় খরচ বহন করার মাঝে পার্থক্য রয়েছে। প্রয়োজনের বাইরে সাধারণভাবে কাউকে কিছু প্রদানের ব্যাপারে সমতা বিধান করা ওয়াজিব। কিন্তু প্রয়োজনীয় খরচ যেমন পড়াশুনা, খাদ্য সংস্থান, পোষাকাদি ইত্যাদির ক্ষেত্রে প্রত্যেকের প্রয়োজন মত খরচ করাই যরূরী। এছাড়া কোন সন্তান যদি দরিদ্র এবং পরিবার পরিচালনার মত প্রয়োজনীয় উপার্জনে অক্ষম হয়, তাহ’লে স্বচ্ছল পিতার জন্য সন্তানকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা যরূরী (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূফাতাওয়া ৩৪/১০৫)

ইবনু কুদামা বলেন, পিতা সন্তানদের মধ্যে যার কোন বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে, কেউ অন্ধ, কারু পরিবারের সদস্য বেশী, কেউ জ্ঞানার্জনে রত রয়েছে ইত্যাদি কারণে কারো জন্য অধিক খরচ করেন। অথবা কোন সন্তানের পাপাচার, অবাধ্যতা, তাকে প্রদত্ত অর্থ সে আল্লাহ বিরোধী কাজে ব্যয় করবে ইত্যাদি কারণে কারু জন্য খরচ থেকে বিরত থাকেন তবে ইমাম আহমাদের বর্ণনা অনুযায়ী তা জায়েয। তিনি বলেন, এতে কোন বাধা নেই। যদি তা প্রয়োজন সাপেক্ষে হয়। তবে যদি তা পক্ষপাতিত্ব মূলক হয়ে থাকে তবে আমি তা অপসন্দ করি (ইবনু কুদামা, মুগনী /৫৩)

ইবনু হাযম বলেন, কোন সন্তানকে নির্দিষ্টভাবে কিছু হেবা বা দান করা পিতার জন্য জায়েয নয়। বরং এরূপ ক্ষেত্রে সকলকে সমানভাবে দিতে হবে।… কিন্তু আবশ্যক ব্যয়ের ক্ষেত্রে নয়। যেমন আবশ্যকীয় পোষাকাদি ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রত্যেকের প্রয়োজন মত ব্যয় করবে। ধনী সন্তানদের ব্যতিরেকে দরিদ্র সন্তানদের জন্য খরচ করতে পারবে (মুহাল্লা /৯৫)

Posted in সম্পদ ছেলে কে না বলে মেয়েকে লিখে দেওয়া যাবে কি? | Tagged

অনেক পিতা-মাতা বাল্য অবস্থাতে শিশুদের ছিয়াম পালনের ব্যাপারে চাপ সৃষ্টি করেন। এভাবে ছিয়াম পালন করানো যাবে কি?


উৎসাহ দিয়ে নাবালেগ শিশুদের ছিয়াম পালন করানোতে কোন বাধা নেই। রুবায়ি‘ বিনতে মু‘আওবিয (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, আশূরার দিন সকালে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) আনছারদের সকল পল্লীতে এ নির্দেশ জারী করলেন যে, যে ব্যক্তি ছওম পালন করেনি সে যেন দিনের বাকী অংশ না খেয়ে থাকে। আর যার ছওম অবস্থায় সকাল হয়েছে, সে যেন ছওম পূর্ণ করে। তিনি বলেন, পরবর্তীতে আমরা ঐ দিন ছিয়াম পালন করতাম এবং আমাদের শিশুদেরও ছিয়াম পালন করাতাম। আমরা তাদের জন্য পশমের খেলনা তৈরী করে দিতাম। তাদের কেউ খাবারের জন্য কাঁদলে তাকে ঐ খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখতাম। আর এভাবেই ইফতারের সময় হয়ে যেত’ (বুখারী হা/১৯৬০; মুসলিম হা/১১৩৬)

Posted in ছিয়াম শিশুদের জোর করে পালন করানো যাবে কি? | Tagged

আমার ভাড়ায় চালিত কয়েকটি গাড়ি ও ট্রাক আছে, যা মাঝে মাঝে নিজস্ব কাজেও ব্যবহৃত হয়। এর যাকাত দিতে হবে কি? দিতে হ’লে কিভাবে দিতে হবে?


এরূপ গাড়ির মূল্যের উপর যাকাত দিতে হবে না (বুখারী হা/১৪৬৩; মুসলিম হা/৯৮২; মিশকাত হা/১৭৯৫)। বরং তা থেকে উপার্জিত অর্থের যাকাত দিতে হবে (আব্দুল্লাহ বিন বায, মাজমূফাতাওয়া ১৪/১৮১)

Posted in যাকাত গাড়ি ও ট্রাক এর দিতে হবে কি? দিতে হ’লে কিভাবে দিতে হবে? | Tagged

মানুষকে পানি পান করানোর ফযীলত সম্পর্কে ছহীহ হাদীছে কিছু বর্ণিত হয়েছে কি?


মানুষকে পানি পান করানোর ফযীলত সম্পর্কে অনেক হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। যেমন একদা সা‘দ বিন ওবাদাহ (রাঃ) নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট এসে বললেন, আপনার নিকট কোন ছাদাক্বা সর্বাধিক পসন্দনীয়? তিনি বললেন, পানি পান করানো’ (আবুদাঊদ হা/১৬৭৯; হাকেম হা/১৫১১)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূল (ছাঃ) বলেন, পানি পান করানো অপেক্ষা অধিক ছওয়াবপূর্ণ ছাদাক্বা আর নেই’ (বায়হাক্বী, শুআবুল ঈমান হা/৩৩৭৮; ছহীহ আততারগীব হা/৯৬০)। সা‘দ বিন ওবাদাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! উম্মু সা‘দ মৃত্যুবরণ করেছেন, (তার পক্ষ হ’তে) কোন ছাদাক্বা সর্বোত্তম হবে? তিনি বললেন, পানি পান করানো। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি একটি কূপ খনন করে বললেন, এটা উম্মু সা‘দের (কল্যাণের) জন্য ওয়াকফ করা হ’ল (আবুদাঊদ হা/১৬৮১; মিশকাত হা/১৯১২)। রাসূল (ছাঃ) আরো বলেন, যে ব্যক্তি পানির কূপ খনন করল, আর সে কূপ থেকে মানুষ, জিন বা কোন পাখি পানি পান করল। এর বিনিময়ে আল্লাহ তাকে ক্বিয়ামতের দিন ছওয়াব প্রদান করবেন (ছহীহ ইবনু খুযায়মাহ হা/১২৯২; ছহীহ আততারগীব হা/৯৬৩)

রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, আদম সন্তানের দেহে তিনশত ষাটটি হাড় বা জোড় বা গ্রন্থি রয়েছে। এগুলোর প্রতিটির জন্য প্রত্যেক দিন ছাদাক্বা রয়েছে। প্রতিটি উত্তম কথাই ছাদাক্বা। এক ভাইয়ের পক্ষ হ’তে অন্য ভাইকে সাহায্য করা ছাদাক্বা। এক ঢোক পানি পান করানো ছাদাক্বা। পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্ত্ত সরিয়ে দেওয়াও ছাদাক্বা’ (আলআদাবুল মুফরাদ হা/৪২২ছহীহাহ হা/৫৭৬)। এছাড়া জনৈকা বেশ্যা নারী একটি পিপাসার্ত কুকুরকে পানি পান করালে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন (বুখারী হা/৩৪৬৭; মুসলিম হা/২২৪৫; মিশকাত হা/১৯০২)

Posted in মানুষকে পানি পান করানোর ফযীলত সম্পর্কে ছহীহ হাদীছে কিছু বর্ণিত হয়েছে কি? | Tagged

ছালাতরত অবস্থায় ছেলে শিশু গায়ে পেশাব করে দিলে সেক্ষেত্রে করণীয় কি?


ছালাত ছেড়ে দিয়ে তা পরিষ্কার করে পুনরায় ছালাতে যোগদান করবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, মেয়েদের পেশাব ধুয়ে ফেলতে হবে এবং ছেলেদের পেশাবে পানি ছিটাতে হবে’ (আহমাদ হা/৫৬৩; মিশকাত হা/৫০১; ছহীহুল জামেহা/২৮৪২)। উম্মু কায়েস বিনতে মিহছান (রাঃ) বলেন, দুধপানকারী একটি ছেলে শিশু রাসূল (ছাঃ)-এর কোলে পেশাব করে দিলে তিনি কেবল কাপড়ের উপর পানি ছিটিয়ে দিলেন (বুখারী হা/২২৩; মিশকাত হা/৪৯৭)

Posted in ছালাতরত অবস্থায় শিশু গায়ে পেশাব করে দিলে সেক্ষেত্রে করণীয় কি? | Tagged ,

আমি একটি এফ.এম রেডিওতে একটি বিভাগের সিনিয়র নির্বাহী হিসাবে কর্মরত আছি। এখানে সারাদিনে ১০ ঘন্টা গান, ৬ ঘন্টা বিজ্ঞাপন, অন্যান্য সময় খবর ও অন্যান্য কনটেন্ট প্রচার করা হয়। এক্ষণে এরূপ কোম্পানীতে চাকুরী করা বৈধ হবে কি?


এসব চাকুরী হ’তে দূরে থাকতে হবে। কারণ গান-বাজনা শরী‘আতে হারাম (লোকমান ৩১/)। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নেকী ও তাক্বওয়ার কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা কর। গোনাহ ও অন্যায় কাজে সহযোগিতা কর না’ (মায়েদাহ /)

Posted in চাকুরী রেডিও চ্যানেলে করা যাবে কি? | Tagged

আমার এক চোখ নষ্ট হ’লেও তা জন্মগত নয়। বরং ছোটবেলা খেলা করার সময় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে এরূপ হয়েছে। এক্ষণে প্রতিবন্ধী সনদ নিয়ে কোথাও চাকুরী করা বা কোন সুবিধা ভোগ করা আমার জন্য জায়েয হবে কি?


জায়েয হবে। কেননা সরকারী বিধি অনুযায়ী জন্মগতভাবে, রোগাক্রান্ত হয়ে বা দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অথবা অপচিকিৎসা বা অন্য কোন কারণে একটি বা উভয় চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো ব্যক্তি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী (সমাজকল্যাণ অধিদফতর প্রতিবন্ধী ভাতা বাস্তবায়ন নীতিমালা, পৃঃ ৪)। অতএব সনদ নিয়ে বৈধ যেকোন সুবিধা গ্রহণে কোন বাধা নেই।

Posted in নষ্ট চোখে প্রতিবন্ধী সনদ নিয়ে চাকুরী করা জায়েয হবে কি? | Tagged

নামের শেষে ভুইয়া, চৌধুরী, পন্ডিত, হাওলাদার, মজুমদার ইত্যাদি যোগ করা কি জাহেলিয়াতের অন্তর্ভুক্ত?


এগুলি উপমহাদেশে সুলতানী আমল, মোগল ও বৃটিশ ভারতে প্রচলিত বিভিন্ন পরিচিতি মূলক পদবী মাত্র। এরূপ পদবী নামের শেষে যোগ করায় কোন বাধা নেই। তবে সর্বদা নিম্নোক্ত হাদীছটি স্মরণ রাখতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘লোকেরা যেন তাদের বাপ-দাদার নামে গর্ব করা হ’তে বিরত থাকে…। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের থেকে জাহেলিয়াতের অহমিকা ও বাপ-দাদার অহংকার দূরীভূত করে দিয়েছেন। এক্ষণে সে আল্লাহভীরু মুমিন অথবা হতভাগ্য পাপী মাত্র। মানবজাতি সবাই আদমের সন্তান। আর আদম হ’ল মাটির তৈরী’ (অতএব অহংকার করার মত কিছুই নেই) (তিরমিযী হা/৩৯৫৫; মিশকাত হা/৪৮৯৯; ছহীহুল জামে‘ হা/৪৫৬৮)

Posted in নামের শেষে ভুইয়া চৌধুরী পন্ডিত হাওলাদার মজুমদার যোগ করা যাবে কি? | Tagged

একটি মসজিদের আযানের মাইকে জুম‘আর খুৎবা ও ক্বিরাআত করা হয়। ফলে ২০০ গজের মধ্যে বাজারের ব্যবসায়ীরা স্ব স্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে খুৎবা শ্রবণ ও ছালাত আদায় করে। এক্ষণে মসজিদেরই মাইক ইচ্ছামত সম্প্রসারণ করে খুৎবা ও ছালাত শোনানো জায়েয হবে কি? আর নিজ নিজ দোকানে বসে ছালাত আদায় করলে জুম‘আর ছালাতে অংশগ্রহণের নেকী পাওয়া যাবে কি?


 মাইকে খুৎবা প্রদান জায়েয। তবে সাউন্ড বক্স এমনভাবে সেট করতে হবে যেন তা কেবল মসজিদে আগত শ্রোতারাই শ্রবণ করে। মসজিদে বা বাসায় অবস্থানকারী মুছল্লীদের মনোযোগে বিঘ্ন না ঘটে। ই‘তিকাফে থাকাকালীন সময়ে এক ব্যক্তি সরবে ক্বিরাআত করলে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকে তার রবের সাথে গোপনে কথা (মুনাজাত) বলে থাকে। অতএব তোমাদের কেউ যেন কাউকে সরবে ক্বিরাআত পাঠ করে কষ্ট না দেয়’ (আবুদাঊদ হা/১৩৩২; ছহীহাহ হা/১৬০৩; উছায়মীন, মাজমূ ফাতাওয়া ১৩/৫৪)

আর দোকানে বসে খুৎবা শ্রবণ বা দোকানে জুম‘আর ছালাত আদায় শরী‘আত সম্মত নয়। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! যখন জুম‘আর দিনে ছালাতের জন্য আহবান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত ধাবিত হও’ (জুম ৬২/)। আব্দুর রহমান সা‘দী বলেন, অত্র আয়াতে আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের জুম‘আর ছালাতের জন্য যে স্থান থেকে আহবান করা হয়েছে, সেখানে দ্রুত উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন (তাফসীরে সাদী /৮৬৩, উক্ত আয়াতের তাফসীর দ্রষ্টব্য)

এছাড়া মসজিদের বাহির থেকে জামা‘আতে শরীক হওয়ার জন্য তাকবীর শ্রবণ এবং কাতারের ধারাবাহিকতা থাকা আবশ্যক। বাড়িতে বা দোকান থেকে শোনা গেলেও কাতারের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব নয়। ফলে এভাবে জামা‘আত শুদ্ধ হবে না (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূফাতাওয়া ২৩/৪১০; ওছায়মীন, শারহুল মুমতে/২৯৯৩০০)

Posted in মসজিদের মাইকে ক্বিরাআত শুনে নিজ দোকানে ছালাত পড়লে জুমআর নেকি পাওয়া যাবে কি? | Tagged , ,