ছিয়াম অবস্থায় বিমানে পশ্চিম দিকে গেলে দিন বড় হয়ে যায়, তাহ’লে আমি কি বিমানে বাংলাদেশের সময়ে ইফতার করব নাকি সেদেশের সময়ে ইফতার করব?


ইফতারের বিষয়টি সূর্যাস্তের সাথে সম্পর্কিত। অতএব যেদেশে অবস্থান করবে সে দেশে যখন সূর্য অস্তমিত হবে তখন ইফতার করবে। এক্ষণে বিমানে অবস্থানকালে যখন সূর্যাস্ত হ’তে দেখবে, তখন ইফতার করবে। যদিও দিন বড় হয়ে যায়। তবে দিন বড় হওয়ার কারণে ছিয়াম পালন করা কারো জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে গেলে ছিয়াম ভঙ্গ করবে এবং পরে সেটি ক্বাযা করে নিবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১০/১৩৬-১৩৭)

Advertisements
Posted in ছিয়াম অবস্থায় বিমানে থাকলে কোন সময়ে ইফতার করব? | Tagged

পূর্ববর্তী উম্মতসমূহের উপর ছালাত ফরয ছিল কি? থাকলে তাদের ছালাতের পদ্ধতি কি ছিল?


পুর্ববর্তী নবী-রাসূল ও তাঁদের উম্মতের উপর ছালাত ফরয ছিল। এটি কুরআন ও ছহীহ হাদীছ সমূহ দ্বারা প্রমাণিত। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘আর আমরা ইব্রাহীম ও ইসমাঈলের কাছে নির্দেশ পাঠিয়েছিলাম এই মর্মে যে, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারীদের জন্য, এখানে অবস্থানকারীদের জন্য এবং রুকূকারী ও সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো (বাক্বারাহ ২/১২৫)। তিনি মূসা (আঃ)-কে বলেন, ‘আমরা মূসা ও তার ভাইয়ের প্রতি নির্দেশ পাঠালাম যে, তোমরা  তোমাদের সম্প্রদায়ের জন্য মিসরের মাটিতে বাসস্থান নির্মাণ কর এবং তোমাদের ঘরের মধ্যেই ক্বিবলা নির্ধারণ কর ও সেখানে ছালাত আদায় কর। আর তুমি মুমিনদের সুসংবাদ শুনিয়ে দাও’ (ইউনুস ১০/৮৭)। তিনি ঈসা (আঃ)-এর মা মারিয়ামকে বলেন, ‘হে মারিয়াম! তোমার প্রতিপালকের ইবাদতে রত হও এবং রুকূকারীদের সাথে রুকূ ও সিজদা কর’ (আলে ইমরান ৩/৪৩)

 

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, আমরা নবীগণ আদিষ্ট হয়েছি যেন আমরা দ্রুত ইফতার করি, দেরীতে সাহারী করি এবং ছালাতে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখি’ (ত্বাবারাণী কাবীর হা/১১৪৮৫; ছহীহুল জামে‘ হা/২২৮৬)। তিনি বলেন, কোন একজন নবী জিহাদ করেছিলেন। তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, এমন কোন ব্যক্তি আমার অনুসরণ করবে না, যে কোন মহিলাকে বিবাহ করেছে এবং তার সঙ্গে মিলিত হবার ইচ্ছা রাখে, কিন্তু সে এখনো মিলিত হয়নি। এমন ব্যক্তিও নয় যে ঘর তৈরী করেছে, কিন্তু ছাদ তোলেনি। আর এমন ব্যক্তিও না যে গর্ভবতী ছাগল বা উটনী কিনেছে এবং সে তার প্রসবের অপেক্ষায় আছে। অতঃপর তিনি জিহাদে গেলেন এবং আছরের ছালাতের সময় কিংবা এর কাছাকাছি সময়ে একটি জনপদের নিকটে আসলেন। তখন তিনি সূর্যকে বললেন, তুমিও আদেশ পালনকারী আর আমিও আদেশ পালনকারী। হে আল্লাহ! তুমি সূর্যকে থামিয়ে দাও! তখন তাকে থামিয়ে দেয়া হয়, যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে বিজয় দান করেন’ (বুখারী হা/৩১২৪; মুসলিম হা/১৪৪৭)

 

উক্ত নবী ছিলেন ইউশা‘ বিন নূন (আঃ)। যখন তিনি বায়তুল মুক্বাদ্দাস বিজয়ের উদ্দেশ্যে গমন করেন ও তা জয় করেন’ (হাকেম হা/২৬১৮; আহমাদ হা/৮২৯৮; ছহীহাহ হা/২০২)। যিনি মূসা (আঃ)-এর পরে বনু ইস্রাঈলের নবী ও নেতা ছিলেন।

 

উপরোক্ত আয়াত ও হাদীছসমূহ প্রমাণ করে যে পূর্ববর্তীদের উপরও ছালাত ফরয ছিল। তবে সে ছালাত কত ওয়াক্ত ছিল বা তার পদ্ধতি কেমন ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায় না (বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৯/২৩৭)

Posted in ছালাত পূর্ববর্তী উম্মতসমূহের উপর ফরয ছিল কি? | Tagged ,

মহিলাদের সাদা স্রাবের কারণে কি ওযূ ভঙ্গ হয়?


সাদা স্রাব নির্গমনের কারণে ওযূ ভঙ্গ হয়ে যাবে। যেমন কোন পুরুষের মযী বের হ’লে ওযূ ভঙ্গ হয়। ছালাতরত অবস্থায় এমন দেখা দিলে সে ছালাত ছেড়ে দিবে। অতঃপর লজ্জাস্থান ধুয়ে এসে ওযূ করে পুনরায় ছালাত আদায় করবে। তবে এটি যদি কারো নিয়মিত ব্যাধি হয় এবং তা চলমান হয়, তাহ’লে ওযূ ভঙ্গ হবে না। ঐ অবস্থাতেই সে ছালাত আদায় করবে’ (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমুঊল ফাতাওয়া ২১/২২১; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১১/২১৪)

Posted in ওযূ মহিলাদের সাদা স্রাবের কারণে কি ভঙ্গ হয়? | Tagged ,

আমি মাথায় পৃথক স্কার্ফ বেঁধে তার উপর বোরকা পরিধান করি। এক্ষণে ওযূর সময় কিভাবে মাথা মাসাহ করব? আমাকে উক্ত স্কার্ফটি খুলতে হবে নাকি স্কার্ফের ওপরই মাথা মাসাহ জায়েয হবে?


যদি স্কার্ফ খোলা কষ্টকর হয় তবে তার উপরেই মাসাহ করবে। রাসূল (ছাঃ) মোযা ও পাগড়ীর উপর মাসাহ করেছেন (বুখারী হা/২০৫; মুসলিম হা/২৭৫)। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা মোযা ও পাগড়ীর উপর মাসাহ কর’ (আহমাদ হা/২৩৯৩৯, সনদ ছহীহ)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূল (ছাঃ) তার মাথার সম্মুখের অংশ ও পাগড়ীর উপর মাসাহ করেছেন’ (মুসলিম হা/২৪৭; মিশকাত হা/৩৯৯)। অতএব স্কার্ফ বা মস্তকাবরণ কিছু সরিয়ে অথবা প্রয়োজনে তার উপরেই মাসাহ করা জায়েয (ইবনু তায়মিয়াহ, শারহুল ‘উমদাহ ১/২৬৫-৬৬; ইবনু হাযম, মুহাল্লা ১/৩০৩ উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ১/২৩৯)

Posted in ওযূর সময় স্কার্ফের ওপর মাথা মাসাহ জায়েয হবে কি? | Tagged

অসৎ সঙ্গী ও অসৎ প্রতিবেশী থেকে আশ্রয়ের দো‘আ জানতে চাই।


এজন্য রাসূল (ছাঃ) দো‘আ করতেন,اللَّهمَّ إنّي أعُوذُبِكَ مِنْ يَّوْمِ السَّوْءِ وَمِنْ لَيْلَةِ السَّوْءِ وَمِنْ سَاعَةِ السَّوْءِ وَمِنْ صَاحِبِ السَّوْءِ وَمِنْ جَارِ السَّوْءِ فِي دَارِ الْمُقَامَةِ- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিইঁ ইয়াওমিস সাওএ, ওয়া মিন লায়লাতিস সাওএ, ওয়া মিন সা‘আতিস সাওএ, ওয়া মিন ছাহেবিস সাওএ, ওয়া মিন জা-রিস সাওএ ফী দা-রিল মুক্বামাহ’। অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে মন্দ দিন, মন্দ রাত, মন্দ সময়, মন্দ সাথী এবং বাসস্থানে মন্দ প্রতিবেশী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি’ (ত্বাবারাণী কাবীর হা/৮১০; ছহীহুল জামে‘ হা/১২৯৯)

Posted in অসৎ সঙ্গী ও অসৎ প্রতিবেশী থেকে আশ্রয়ের দো‘আ জানতে চাই। | Tagged

ছিয়াম অবস্থায় হস্তমৈথুন বা অনুরূপ কর্মের মাধ্যমে বীর্যপাত ঘটালে ছিয়াম নষ্ট হবে কি?


হস্তমৈথুন বা অন্য কোন উপায়ে বীর্য স্খলন করা নিষিদ্ধ। এটি কবীরা গোনাহ। আল্লাহ বলেন, যারা নিজ স্ত্রী ও দাসী ব্যতীত অন্যকে কামনা করে, তারা সীমালংঘনকারী (মুমিনূন ২৩/৬-৭; মা‘আরিজ ৭০/৩০-৩১)। সুতরাং শয়তানের কুমন্ত্রণায় পড়ে কেউ এই গর্হিত কর্মে লিপ্ত হ’লে তাকে তদস্থলে অন্য মাসে একটি ক্বাযা ছিয়াম আদায় করতে হবে। তবে তাকে কাফফারা দিতে হবে না। কেননা এটি সরাসরি সহবাসের মত নয় (নববী, আল-মাজমূ‘ ৬/৩৪৯; ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূঊল ফাতাওয়া ২৫/২৫১; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১০/২৫৬)

Posted in ছিয়াম অবস্থায় হস্তমৈথুন করে বীর্যপাত ঘটালে ছিয়াম নষ্ট হবে কি? | Tagged ,

মসজিদের অনুদানের টাকা দিয়ে ইমাম ও মুওয়ায্যিনের বেতন-ভাতা দেওয়া যাবে কি?


এতে কোন বাধা নেই। মসজিদ পরিচালিত হয় মুসলমানদের কল্যাণার্থে। আর ইমাম ও মুওয়ায্যিন এই কল্যাণের কাজে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত। সুতরাং তাদেরকে মসজিদের জন্য প্রাপ্ত অনুদানের অর্থ থেকে বেতন ও ভাতা দেওয়া যাবে (ইবনু কুদামাহ, আল মুগনী ১/৩০১; ইবনু তায়মিয়াহ, আল-ইখতিয়ারাতুল ফিক্বহিইয়াহ ১/৪৯২; উছায়মীন, ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দারব ১৬/২)

Posted in মসজিদের টাকা দিয়ে ইমাম ও মুওয়ায্যিনের বেতন দেওয়া যাবে কি? | Tagged

ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় না খেয়ে ছিয়াম রাখায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?


ইচ্ছাকৃতভাবে সাহারী না করে ঘুমিয়ে থাকা সুন্নাতের বরখেলাফ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা সাহারী খাও। কেননা তাতে বরকত রয়েছে’ (বুখারী হা/১৯২৩, মুসলিম হা/১০৯৫)। তিনি বলেন, ‘আমাদের ও আহলে কিতাবদের ছিয়ামের পার্থক্য হ’ল সাহারী করা’ (মুসলিম হা/১০৯৬)। অর্থাৎ ইহূদী-নাছারারা সাহারী করে না, আমরা করি। তিনি আরও বলেন, সাহারী বরকতপূর্ণ খাদ্য। অতএব তোমরা তা পরিত্যাগ করো না। বরং একঢোক পানি হ’লেও তোমরা তা পান করো। কেননা আল্লাহ ও তার ফেরেশতাগণ সাহারী গ্রহণকারীদের উপর রহমত বর্ষণ করেন (আহমাদ, ছহীহুল জামে‘ হা/৩৬৮৩)। তবে বাধ্যগত কারণে সাহারী খেতে না পারলেও ছিয়ামের নিয়ত করলে ছিয়াম আদায় হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ (বুখারী, ফাৎহুল বারী ৪/১৭৫ হা/১৯২২-এর আলোচনা; নায়লুল আওত্বার ২/২২২)

Posted in ছিয়াম না খেয়ে রাখায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি? | Tagged

রাসূল (ছাঃ) ছালাতে কাপড় ও চুল গোটাতে নিষেধ করেছেন। এক্ষণে কেউ যদি কাপড় গুটানো অবস্থায় ছালাত শুরু করে তাহ’লে তার ছালাত হবে কি?


রাসূল (ছাঃ) ছালাতে জামার কাপড় ও চুল গুটিয়ে রাখতে নিষেধ করেছেন (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৮৮৭)। অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কাপড় ও চুল গুটানো অবস্থায় ছালাত আদায় করলে ছালাতের ফরযিয়াত আদায় হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ (মিরক্বাত হা/৮৮৭-এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)। তবে সুন্নাতের খেলাফ হওয়ায় ছওয়াবের ঘাটতি হবে। যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘ব্যক্তি ছালাত থেকে ফিরে আসে। এমতাবস্থায় তার জন্য ছওয়াব লেখা হয় দশ ভাগের এক ভাগ বা নয় ভাগের, আট ভাগের, সাত ভাগের, ছয় ভাগের, পাঁচ ভাগের, চার ভাগের, তিন ভাগের বা অর্ধেক (আবুদাঊদ হা/৭৯৬; আহমাদ হা/১৮৯১৪)

Posted in কাপড় গুটানো অবস্থায় ছালাত শুরু করলে ছালাত হবে কি? | Tagged

ছিয়াম অবস্থায় চোখে, কানে বা নাকে ড্রপ দেওয়া যাবে কি?


চোখে ও কানে ড্রপ ব্যবহার করায় কোন বাধা নেই। কারণ তা কণ্ঠনালী অতিক্রম করে না এবং দেহে রক্ত তৈরিতে সহায়তা করে না (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ২৫/২৪৫; মাজাল্ল­াতু মাজমা‘ইল ফিক্বহিল ইসলামী ১০/৯১৩)। তবে নাকে ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকা আবশ্যক। যাতে তা কণ্ঠনালী অতিক্রম না করে (আবুদাঊদ হা/২৩৬৬, মিশকাত হা/৪০৫; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৯/১৫০)। স্মর্তব্য যে, ছিয়াম অবস্থায় খাদ্য নয় এরূপ বস্ত্ত দ্বারা চিকিৎসা গ্রহণ করায় কোন বাধা নেই। নবী করীম (ছাঃ) ছিয়াম অবস্থায় (আরোগ্যের জন্য) শিঙ্গা লাগাতেন (বুখারী হা/১৯৩৮, ১৯৩৯)। আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হ’ল, আপনারা কি রাসূল (ছাঃ)-এর যুগে ছিয়াম অবস্থায় শিঙ্গা লাগাতে অপসন্দ করতেন? উত্তরে তিনি বলেন, না। তবে দুর্বলতার বিষয়টি ভিন্ন (বুখারী হা/১৯৪০; মিশকাত হা/২০১৬)

Posted in ছিয়াম অবস্থায় চোখ কান ও নাকের ঔষধ ব্যবহার করা যাবে কি?, ছিয়াম অবস্থায় চোখে কানে বা নাকে ড্রপ দেওয়া যাবে কি? | Tagged

রাসূল (ছাঃ) সাতটি অঙ্গের উপর সিজদা করতে বলেছেন। এক্ষণে কেউ যদি ছয়টি অঙ্গের উপর সিজদা করে তাহ’লে তার ছালাতে কোন ক্ষতি হবে কি?


সাতটি অঙ্গের উপর ভর করে সিজদা করাই নিয়ম। এ বিষয়ে রাসূল (ছাঃ) নিজে আল্লাহ কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে ছাহাবায়ে কেরামকে আদেশ করেছেন। যেমন ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন সাতটি হাড় (অঙ্গ) দ্বারা সিজদা করি। কপাল, দুই হাত, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের অগ্রভাগ। আর আমরা যেন কাপড় ও চুল না গোটাই’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৮৮৭)। আববাস বিন আব্দুল মুত্ত্বালিব (রাঃ) বলেন ‘তিনি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, যখন বান্দা সিজদা করে, তখন তার সাথে সাতটি অঙ্গ সিজদা করে। তার চেহারা, দুই হস্ত তালু, দুই হাঁটু ও দুই পায়ের পাতা’ (আবুদাঊদ হা/৮৯১; ইবনু মাজাহ হা/৮৮৫)

অত্র হাদীছ প্রমাণ করে যে, উক্ত সাতটি অঙ্গের উপর সিজদা করা ওয়াজিব। অতএব ইচ্ছাকৃতভাবে এগুলির কোন একটি বাদ দিলে ছালাত বাতিল হবে। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে বা অজ্ঞতাবশে কোন একটি অঙ্গ সিজদায় না গেলে ছালাত হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ (আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিইয়াহ ২৭/৬৭-৬৮)

ইবনু ত্বাঊস স্বীয় নাকের দিকে ইশারা করে বলেন, এটি সপ্ত অঙ্গের একটি। সিন্ধী ও কুরতুবী বলেন, নাক চেহারারই অংশ। অতএব কপাল ও নাক দু’টিই মাটিতে রাখতে হবে। ‘হাত’ বলতে পাঁচ আঙ্গুল সহ ‘হস্ত তালু’ বুঝায়। যা সিজদার সময় স্বাভাবিকভাবে ক্বিবলামুখী থাকবে। ‘দুই পায়ের অগ্রভাগ’ বলতে আঙ্গুল সমূহের অগ্রভাগকে ক্বিবলামুখী করা বুঝায়। যেগুলিকে সাধ্যমত ক্বিবলামুখী করে রাখতে হবে (মির‘আত)

Posted in সাতটি অঙ্গের উপর সিজদা না করলে ছালাতে কোন ক্ষতি হবে কি? | Tagged

আমার এক বছরের একটি কন্যা সন্তান মারা গেছে। ইতিপূর্বে তার আক্বীক্বা দেওয়া হয়নি। এখন তার আক্বীক্বা দিলে পিতা-মাতার উপকারে আসবে কি?


মৃত শিশুর জন্য আক্বীক্বা দেওয়া যেতে পারে। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেন, প্রত্যেক শিশু তার আক্বীক্বার সাথে বন্ধক থাকে… (আবুদাঊদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইরওয়া হা/১১৬৫; মিশকাত হা/৪১৫৩)। আর বন্ধক থাকার বিষয়টি মৃত্যু হ’লেও অবশিষ্ট থাকে। বন্ধক থেকে মুক্ত হওয়ার জন্যই আক্বীক্বা দেওয়া উচিৎ। শাফেঈ বিদ্বানগণের মতে সাত দিনে আক্বীক্বার বিষয়টি সীমা নির্দেশ মূলক নয় বরং এখতিয়ার মূলক। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, সাত দিনে আক্বীক্বার অর্থ হ’ল, ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ সাত দিনের পরে আক্বীক্বা করবে না (নায়লুল আওত্বার ৬/২৬১ পৃঃ)

 

সুতরাং আক্বীক্বা দেওয়ার জন্য বাচ্চা বেঁচে থাকা শর্ত নয় (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১১/৪৪৫)। বন্ধক থাকা হাদীছের ব্যাখ্যায় ইমাম খাত্ত্বাবী বলেন, এ বিষয়ে বিদ্বানগণ মতভেদ করেছেন। তবে এসবের মধ্যে সর্বাধিক উত্তম ব্যাখ্যা হ’ল যা ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল বলেছেন। তিনি বলেন, এটি সন্তানের শাফা‘আতের বিষয়ে বলা হয়েছে। তিনি মনে করেন, যদি সন্তানের আক্বীক্বা না করা হয়। অতঃপর সে শিশু অবস্থায় মারা যায়, তাহ’লে সে তার পিতা-মাতার জন্য শাফা‘আত করবে না (ফাৎহুল বারী ৯/৫৯৪)। অতএব উক্ত বাচ্চার শাফা‘আতের আশায় তার পক্ষ থেকে আক্বীক্বা করা যেতে পারে (দ্র. মাসায়েলে কুরবানী ও আক্বীক্বা, পৃ.৫৪)

Posted in সন্তান মারা যাওয়ার পরে আক্বীক্বা দিলে পিতা-মাতার উপকারে আসবে কি? | Tagged

মাতৃগর্ভে মৃত সন্তানের সুফারিশ পিতা-মাতা লাভ করবে কি? তারা পিতা-মাতার জন্য কোন উপকারে আসবে কি?


যে সন্তান মাতৃগর্ভে চার মাস বা ১২০ দিন অবস্থান করার পর গর্ভচ্যুত হবে বা মারা যাবে সে সন্তান পিতা-মাতার উপকারে আসবে ইনশাআল্লাহ (নববী, আল মাজমূ‘ ৫/২৮৭; হাশিয়াতু ইবনু আবেদীন ২/২২৮)। কারণ এ সময় তাকে জীবন, রিযিক ও বয়স দান করা হয় ও ভাগ্য লিখে দেওয়া হয়। তাছাড়া রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যাঁর হাতে আমার জীবন তাঁর কসম করে বলছি, যদি কোন মহিলার গর্ভপাত হয়ে যায় এবং সেই মা ধৈর্য ধরে ছওয়াবের আশা করে, তাহ’লে সে সন্তান তার নাড়ী ধরে টেনে তাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে (ইবনু মাজাহ হা/১৬০৯; মিশকাত হা/১৭৫৪; ছহীহুত তারগীব হা/২০০৮)

Posted in মাতৃগর্ভে মৃত সন্তান পিতা-মাতার জন্য কোন উপকারে আসবে কি?, মাতৃগর্ভে মৃত সন্তানের সুফারিশ পিতা-মাতা লাভ করবে কি? | Tagged ,

ছালাত আদায়কালে আমার বাম পাশের কোন মুছল্লী ছালাত ছেড়ে চলে গেলে আমি কিভাবে কাতার পূরণ করব?


এরূপ ক্ষেত্রে ডানে বা বামের মুছল্লীরা ধীর-স্থিরভাবে ফাঁকা স্থান পূর্ণ করবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) কাতারের ফাঁকা স্থান পূরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা পরষ্পরে কাতারের ফাঁক বন্ধ কর। কেননা শয়তান কালো বকরীর বাচ্চার ন্যায় ফাঁকের মধ্যে প্রবেশ করে’ (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১০৯৩)। অথবা ফাঁকা স্থানের পিছনের কাতারের মুছল্লীরা ধারাবাহিকভাবে সামনের ফাঁকা স্থান পূরণ করবে (তিরমিযী হা/৬০১; আহমাদ হা/২৪০৭৩; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৩/১৬/২৭)

Posted in ছালাত আদায়কালে বাম পাশের মুছল্লী ছালাত ছেড়ে চলে গেলে করণীয় কি? | Tagged ,

শী‘আদের রাফেযী বলার কারণ কি? সকল শী‘আই কি রাফেযী?


শী‘আদের মধ্যে ২২টি দল রয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট আক্বীদাসম্পন্ন হ’ল রাফেযী সম্প্রদায়। এদের আবির্ভাব হয়েছিল ইহূদী নেতা আব্দুল্লাহ বিন সাবার মাধ্যমে। রাফেযী শব্দের অর্থ প্রত্যাখ্যানকারী। একদা একদল শী‘আ যায়েদ বিন আলী যায়নুল আবেদীন (রহঃ)-এর নিকট এসে আবুবকর ও ওমর (রাঃ) থেকে মুক্তি চাইল। তখন তিনি বললেন, তারা তো আমার দাদার (আলী রাঃ-এর) সহযোগী ছিলেন। তখন তারা বলল, তাহ’লে আমরা আপনাকে পরিত্যাগ করলাম। জওয়াবে তিনি বললেন, তাহ’লে তোমরা প্রত্যাখ্যানকারী। সেই থেকে এই চরমপন্থী শী‘আদেরকে রাফেযী বা প্রত্যাখ্যানকারী বলা হয় (সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা ৫/৩৯০)। এছাড়া আবুবকর, ওমর ও ওছমান (রাঃ)-এর খেলাফতকে প্রত্যাখ্যান করার কারণেও তাদেরকে রাফেযী বলা হয়ে থাকে (ইবনু তায়মিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ ১/৩৫, ২/৯৬, ৩/৪৭০)

 

এর বিপরীতে যে সকল শী‘আ যায়েদ বিন আলী (রহঃ)-এর অনুসারী হিসাবে তুলনামূলক উদারপন্থী ছিল তাদেরকে যায়েদী বলা হয়। রাফেযীরা আলী, হাসান ও হুসাইন (রাঃ) ব্যতীত প্রথম তিন খলীফা আবুবকর, ওমর, ওছমান ও উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ)-সহ প্রায় সকল ছাহাবীকে ‘মুরতাদ’ বা ধর্মত্যাগী বলে এবং নিকৃষ্টভাবে গালি-গালাজ করে (ইবনুল জাওযী, মানাক্বিবে ইমাম আহমাদ ১৬৫ পৃঃ; ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূঊল ফাতাওয়া ৪/৪৩৫, ইহসান ইলাহী যহীর, আশ-শী‘আহ ওয়াস সুন্নাহ, ৩২-৫০ পৃঃ)। সেজন্য ইমাম বুখারী (রহঃ) রাফেযী ও জাহমীদেরকে ইহূদী ও খৃষ্টানদের সাথে তুলনা করে তাদের পিছনে ছালাত আদায়ের ব্যাপারে চরম আপত্তি করেছেন (খালকু আফ‘আলিল ইবাদ, পৃঃ ৩৩)

 

বর্তমান যুগে জা‘ফরিয়াহ, ইমামিয়া, ইছনা ‘আশারিয়া বা খুমায়নীয়াহ নামে পরিচিত শী‘আ দলগুলি সাধারণভাবে রাফেযী হিসাবে প্রসিদ্ধ। এছাড়াও এদের মধ্যে রয়েছে নুছায়রিয়া ও ইসমাঈলিয়া সম্প্রদায়, যাদের আক্বীদা মূর্তি পূজারীদের ন্যায় ভ্রান্ত (বিন বায, ফাতাওয়া আল-জামিউল কাবীর)। এতে বুঝা যায় যে, পুরা শী‘আ সম্প্রদায়টিই রাফেযীদের ন্যায় ভ্রান্ত।

Posted in শী‘আদের রাফেযী বলার কারণ কি? সকল শী‘আই কি রাফেযী? | Tagged

নাছেবী কারা? বর্তমান যুগে কি এদের অস্তিত্ব আছে?


নাছেবী তারা যারা আলী (রাঃ) ও আহলে বায়তের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে এবং তাদেরকে নিন্দা করে ও গালাগালি করে। এরা আক্বীদার ক্ষেত্রে রাফেযীদের বিপরীত। তারা আহলে বায়তের প্রতি শত্রুতা করে বিশেষ করে আলী (রাঃ)-এর প্রতি। তাদের কেউ তাকে গালি দেয়, কেউ পাপাচারী বলে এবং কেউ কাফির বলে ফৎওয়া প্রদান করে। এরা চরমপন্থী খারেজীদেরই একটি অংশ। কাফির না হ’লেও তারা ইসলামের জন্য বড়ই ক্ষতিকর। তাদের থেকে দূরে থাকা আবশ্যক (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমুঊল ফাতাওয়া ৩/১৫৪, ২৮/৫০০-১৮; মিনহাজুস সুন্নাহ ৭/৩৩৯; উছায়মীন, শারহুল আক্বীদাহ আল-ওয়াসেত্বিয়াহ ২/২৮৩)। বর্তমান যুগে এই দলের কোন অস্তিত্ব পাওয়া না গেলেও শী‘আরা প্রথম যুগ থেকে ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত’কেই এই নামে অভিহিত করে। কেননা তারা মনে করে যারা শী‘আদের বিরোধী, তারা প্রত্যেকেই আলী (রাঃ) এবং আহলে বায়েতের প্রতি বিদ্বেষী। অর্থাৎ শী‘আবিরোধী সকলকেই তারা নাছেবী অভিহিত করে। সেই সূত্রে প্রথম তিন খলীফাসহ প্রায় সকল ছাহাবী, উমাইয়া ও আববাসীয় খলীফাগণ, ইমাম আবু হানীফা, ইমাম বুখারী, ইবনু হাযম, ইবনু তায়মিয়া, ইবনু কাছীর, যাহাবীসহ মুসলিম বিদ্বানগণকে তারা নাছেবী আখ্যায়িত করে (দ্র. বদর আল-আউয়াদ, আন-নাছবু ওয়ান নাওয়াছেব, পৃ. ২৬২-৫২২)

Posted in নাছেবী কারা? বর্তমান যুগে কি এদের অস্তিত্ব আছে? | Tagged

ওয়াইস ক্বারনী ও হাসান বছরী (রহঃ) কি ছূফী ছিলেন যেমনটি দাবী করা হয়?


বিশিষ্ট তাবেঈ ওয়াইস ক্বারনী (মৃ. ৩৭ হিঃ) এবং হাসান বছরী (২১-১১০ হিঃ) কথিত ছূফী ছিলেন না; বরং তারা আল্লাহভীরু, ইবাদতগুযার ও দুনিয়াত্যাগী যাহেদ ছিলেন। তাঁদের সাথে প্রচলিত ছূফী আক্বীদার দূরতম সম্পর্ক নেই। অথচ বিদ‘আতীরা তাঁদেরকে ছূফীবাদের প্রাণপুরুষ মনে করে। ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, ছূফী মতবাদের উৎপত্তি সম্পর্কে যা জানা যায়, তাতে আবু হাশেম কূফীর (মৃ. ১৫০ হিঃ) নাম প্রথমে আসে। এই ব্যক্তি শামে অবস্থানকালে প্রথম এই মতবাদের উদ্ভব ঘটায়। সুফিয়ান ছাওরী (রহঃ) তার সম্পর্কে বলেন, আবু হাশেম না থাকলে রিয়া বা লোক দেখানো আমলের বাস্তব রূপ বুঝতে পারতাম না। কেউ কেউ শী‘আদের ইমাম জা‘ফর ছাদেকের ছাত্র ও দার্শনিক জাবের বিন হাইয়ানকে (মৃ. ২০৮ হি.), আবার কেউ কূফার এক যিন্দীক্ব নেতা আব্দুল করীমকে (মৃ. ২১০ হি.) ছূফী মতবাদের উদ্ভাবক বলে অভিহিত করেছেন (দ্র. আল-মাওসূ‘আতুল মুয়াস্সারাহ ফিল আদইয়ানে ওয়াল মাযাহিবিল মু‘আছারাহ ১/২৫১)। অতএব ওয়াইস ক্বারনী ও হাসান বাছরীকে ছূফী মতবাদে টেনে নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। তাঁদের মৃত্যুর বহু পরে এই ভ্রান্ত মতবাদের জন্ম হয়েছিল।

Posted in ওয়াইস ক্বারনী ও হাসান বছরী (রহঃ) কি ছূফী ছিলেন যেমনটি দাবী করা হয়? | Tagged

শেষ যামানায় আল্লাহর অবাধ্যতা ব্যতীত জীবিকা অর্জন সম্ভব হবে না- মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ?


উক্ত মর্মে পাঁচটি সনদে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, যার সবগুলো যঈফ ও মুনকার। সাখাভী বলেন, উক্ত মর্মে বহু হাদীছ বর্ণিত হয়েছে যার সবগুলো ভিত্তিহীন (আল-মাক্বাছিদুল হাসানাহ ১/৩২৯)। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, এধরনের হাদীছ রাসূল (ছাঃ) থেকে পরিচিত নয় (মাজমূঊল ফাতাওয়া ১৮/৩৮৩)। যাহাবী ও  ইরাকী একে যঈফ ও জাল এবং শায়খ আলবানী মুনকার বলেছেন (সিলসিলা যঈফাহ হা/৩২৭০; যঈফুত তারগীব হা/১৬৩৭)। অতএব এই হাদীছ গ্রহণযোগ্য নয়।

Posted in শেষ যামানায় আল্লাহর অবাধ্যতা ব্যতীত জীবিকা অর্জন সম্ভব হবে না কি? | Tagged

ইসমে আযম কোনটি সে ব্যাপারে কি ওলামায়ে কেরামের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে? ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত ইসমে আযম কোনটি?


ইসমে আ‘যম নির্ধারণে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে যথেষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে। ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) এরূপ মোট ১৪টি মতামত উল্লেখ করেছেন। যেমন- ১. (هو) হুওয়া, ২. আল্লাহ, ৩. আল্লাহুর রহমানুর রাহীম, ৪. আর-রহমানুর রাহীমুল হাইয়ুল ক্বাইয়ূম, ৫. আল-হাইয়ুল ক্বাইয়ূম, ৬. আল হান্নানুল মান্নানু বাদী‘উস সামাওয়াতি ওয়াল আরযি যুল জালালি ওয়াল ইকরাম, আল-হাইয়ুল ক্বাইয়ূম, ৭. বাদী‘উস সামাওয়াতি ওয়াল আরযি যুল জালা-লি ওয়াল ইকরাম, ৮. যুল জালা-লি ওয়াল ইকরাম, ৯. আল্লা-হু লা-ইলাহা ইল্লা হুওয়াল আহাদুছ ছামাদুল্লাযী লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ ওয়া লাম ইয়াকুল লাহূ কুফুওয়ান আহাদ, ১০. রাববী রাববী, ১১. লা ইলা-হা ইল্লা আনতা সুবহা-নাকা ইন্নী কুন্তু মিনায যোয়ালেমীন, ১২. হুওয়াল্লাহুল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুয়া রাবিবল আরশিল ‘আযীম, ১৩. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ১৪. ইসমে আযম আসমাউল হুসনার মধ্যে কোন একটি যা লুক্কায়িত রয়েছে।

 

এগুলোর মধ্যে কোনটি ছহীহ, কোনটি যঈফ, কোনটি মওকূফ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। ইবনু হাজার, শাওকানী ও আলবানী (রহঃ)-এর মতে সনদ ও মতনের দিক থেকে উল্লেখিত ৯ম তথা বুরায়দাহ বর্ণিত হাদীছটি সর্বাধিক বিশুদ্ধ (ফাৎহুল বারী ১১/২২৪-২২৫; তোহফাতুয যাকেরীন পৃঃ ৫২; যঈফাহ হা/২১২৪-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)। তবে অধিকাংশ বিদ্বানের মতে, শব্দ ও অর্থগতভাবে ‘আল্লাহ’ শব্দটিই ইসমে আযম। এটি পবিত্র কুরআনে সর্বোচ্চ ২৬৯৭ বার এসেছে। এর পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নাম হ’ল ‘আল-হাইয়ুল কাইয়ূম’ (মাদারিজুস সালিকীন ১/৩২; মুগনিউল মুহতাজ ১/৮৮, ৮৯; উছায়মীন, মাজমু ফাতাওয়া ১/১৬০)

Posted in ইসমে আযম কোনটি সে ব্যাপারে কি ওলামায়ে কেরামের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে? | Tagged

একটি মসজিদে প্রতি বছর নির্দিষ্ট দিনে ওরস হয়। উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় ও দান করা যাবে কি?


‘ওরস’ একটি বিদ‘আতী প্রথা। ‘ওরস’ শব্দের মূল অর্থ নবদম্পতির বাসর। এখান থেকে রূপকার্থে উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে পীরের আত্মার সাথে আল্লাহর পরমাত্মার মিলনের আনন্দঘন মুহূর্ত। আব্দুল হাই লাক্ষ্ণৌভী হানাফী (রহঃ) বলেন, ‘ওরসে’র মত কোন অনুষ্ঠানের অস্তিত্ব সালাফে ছালেহীনদের যুগে ছিল না (ফাতাওয়া আব্দুল হাই লাক্ষ্ণৌভী, পৃঃ ৯১)। সুতরাং যেসব মসজিদে এরূপ বিদ‘আতী কাজ হয়, সেখানে ছালাত আদায় করা বা দান করা মোটেই সিদ্ধ নয়। তাদের কোন কাজে সহযোগিতা করা বা তাবার্রুকের নামে তাদের দেওয়া খাবার খাওয়া যাবে না (মায়েদাহ ৫/২; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৬/১৭৬, ২/২৫৭-২৬৪)

Posted in মসজিদে ওরস হলে উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় ও দান করা যাবে কি? | Tagged

তালাকের সময় দু’জন সাক্ষী থাকা যরূরী কি?


তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য কোন সাক্ষী উপস্থিত থাকা শর্ত নয়। এমনকি স্ত্রী উপস্থিত থাকা বা তাকে তালাকের কথা শোনানোও শর্ত নয়। স্বামী তালাকের বিষয়টি যে কোন মাধ্যমে স্ত্রীকে জানালে তালাক কার্যকর হবে। এভাবে তিন তুহরে তিন তালাক দিলে স্ত্রী স্থায়ী (বায়েন) তালাক হয়ে যাবে। তবে এক্ষেত্রেও দু’জন সাক্ষী রাখা মুস্তাহাব (শাওকানী, নায়লুল আওতার ৬/৩০০; আবুদাঊদ হা/২১৮৬; ইরওয়া হা/২০৭৮)

Posted in তালাকের সময় দু’জন সাক্ষী থাকা যরূরী কি? | Tagged

নবী করীম (ছাঃ) বলেন, ছিয়ামের সমতুল্য কোন ইবাদত নেই। এক্ষণে এটা কি ছালাতের থেকেও উত্তম।


প্রত্যেক আমল তার নিজ অবস্থানে উত্তম। রাসূল (ছাঃ) ব্যক্তি বা সময় আবার কখনো অবস্থার প্রেক্ষিতে একেকটি আমলকে উত্তম আমল বলেছেন। কখনো ছালাত, কখনো হজ্জ, কখনো জিহাদ আবার কখনো ছিয়াম। তবে ইবাদতগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম ইবাদত ছালাত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আল্লাহর নৈকট্য লাভের সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম ছালাত। সুতরাং যার সাধ্য রয়েছে তা অধিকহারে আদায় করার সে যেন তাই করে’ (ছহীহুল জামে‘ হা/৩৮৭০; ছহীহুত তারগীব হা/৩৯০)। আর প্রশ্নোল্লেখিত নাসাঈ বর্ণিত উপরোক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় ইমাম সিন্ধী বলেন, প্রবৃত্তি দমনে এবং শয়তানী প্ররোচনা প্রতিহতকরণের ক্ষেত্রে বা অধিক ছওয়াবের ক্ষেত্রে এর সমতুল্য কিছুই নেই। এর অর্থ এটাও হ’তে পারে যে, আত্মাকে মন্দকর্ম থেকে বিরত রাখা আর তা হ’ল তাক্বওয়া। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বাধিক সম্মানিত ঐ ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক আল্লাহভীরু’ (হুজুরাত ৪৯/১৩; ‘হাশিয়াতুস সিন্ধী ‘আলান নাসাঈ’ অত্র হাদীছের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)

Posted in ছিয়াম কি ছালাতের থেকেও উত্তম ইবাদত? | Tagged

ক্বিয়ামুল লায়েলের শুরু সময় কখন? এটা কি মাগরিবের পর থেকে শুরু করা যায়?


ক্বিয়ামুল লায়েলের সময় শুরু হয় এশার ছালাতের পর থেকে এবং অব্যাহত থাকে ছুবহে ছাদিকের পূর্ব পর্যন্ত (মুসলিম হা/৭৪৫; মিশকাত হা/১২৬১; ছহীহাহ হা/১০৮)

 

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) রামাযান মাসের ২৩, ২৫ ও ২৭ তিন রাত্রি মসজিদে জামা‘আতের সাথে তারাবীহর ছালাত আদায় করেছেন। প্রথম দিন রাত্রির এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত, দ্বিতীয় দিন অর্ধ রাত্রি পর্যন্ত এবং তৃতীয় দিন নিজের স্ত্রী-পরিবার ও মুছল্লীদের নিয়ে সাহারীর আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ছালাত আদায় করেন (আবুদাঊদ হা/১৩৭৫; তিরমিযী হা/৮০৬, মিশকাত হা/১২৯৮)

প্রচলিত অর্থে ‘ক্বিয়ামুল লায়েল’ বলতে রামাযানের শেষ দশকে রাত্রি জাগরণকে বুঝায়। এই সময় লায়লাতুল ক্বদর সন্ধানে অধিকহারে ইবাদত করতে হয়। যার উত্তম নমুনা হ’লেন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম। যা উপরের হাদীছে বর্ণিত হয়েছে। এই বাইরে যা কিছু বলা হয় বা করা হয়, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও ছাহাবীগণের আমলে তার কোন ভিত্তি নেই। যদিও হারামায়েনে আগ রাতে দশ দশ বিশ রাক‘আত তারাবীহ পড়া হয়। অতঃপর রাত ১-টা থেকে বিতর সহ তের রাক‘আত ‘তাহাজ্জুদ’ বা ‘ক্বিয়ামুল লায়েল’ করা হয়। ছহীহ বা যঈফ কোন হাদীছে রাসূল (ছাঃ) একই রাতে তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ দু’টি আদায় করেছেন বলে প্রমাণ নেই। তিনি কখনো ১১ বা ১৩ রাক‘আতের ঊর্ধ্বে তারাবীহ বা তাহাজ্জুদ আদায় করেছেন বলেও কোন প্রমাণ নেই। তিনি বলেছেন, তোমরা ছালাত আদায় কর, যেভাবে তোমরা আমাকে ছালাত আদায় করতে দেখছ’ (বুখারী হা/৬৩১)

 

অতএব ঐ সময় অধিকহারে কুরআন তেলাওয়াত বা দো‘আ-দরূদ ও তাসবীহ পাঠে মনোনিবেশ করা উচিৎ। যারা মাসজিদুল হারামে থাকেন, তারা ১১ বা ১৩ রাক‘আত তারাবীহ বা তাহাজ্জুদ-এর বাইরে অধিকহারে ত্বাওয়াফ করতে পারেন।

Posted in ক্বিয়ামুল লায়েলের শুরু সময় কখন? | Tagged

একটি জমি কবরস্থানের নামে ওয়াক্বফ করা হয়েছে। এক্ষণে উক্ত জমির কিছু অংশে মসজিদ নির্মাণ করা যাবে কি? বা ওয়াক্বফের জমি পরিবর্তন করে অন্য কোন কল্যাণমূলক কাজে লাগানো যাবে কি?


ওয়াক্বফের নিয়ম হ’ল, যে উদ্দেশ্যে ওয়াক্বফ করা হয়েছে, কেবল সেজন্যই তা ব্যবহৃত হ’তে হবে। তবে ইবনু তায়মিয়া সহ কতিপয় বিদ্বানের মতে, অধিকতর কল্যাণের উদ্দেশ্যে হ’লে ওয়াক্বফকারীর প্রদত্ত শর্ত পরিবর্তন করা যায়। অতএব উক্ত জমির কিছু অংশে মসজিদ নির্মাণ জনগণের জন্য অধিক কল্যাণকর হ’লে তাতে কোন দোষ নেই। অনুরূপভাবে ওয়াক্বফকৃত জমির কিছু অংশ অন্য কোন সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারে দোষ নেই ইনশাআল্লাহ (ইবনু তায়মিয়াহ, আল-ইখতিয়ারাত ১/৫০৯; উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ৯/৫৬০-৬১; ইবনু যুরাইক মারদাভী, আল-মুনাক্বালাতু ওয়াল ইস্তিবদাল বিল আওক্বাফ বই দ্রষ্টব্য)

Posted in মসজিদের জমি অন্য কাজে ব্যবহার করে যাবে কি? | Tagged ,

হাড়ের তৈরি পাত্রে খাওয়া ও পান করার বিধান কি?


হালাল প্রাণীর প্রক্রিয়াজাত হাড়ের তৈরি পাত্রে খাওয়া ও পান করায় কোন দোষ নেই। কেননা এগুলো মৌলিকভাবে পবিত্র। যারা এগুলোকে অপবিত্র বলেছেন তাদের পক্ষে কোন দলীল নেই (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমুঊল ফাতাওয়া ২১/৯৬-১০৫)

Posted in হাড়ের তৈরি পাত্রে খাওয়া ও পান করার বিধান কি? | Tagged ,

জনৈক ব্যক্তি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) ইফতারের সময় তার সন্তানদের সাথে নিয়ে মুনাজাত করতেন। এর সত্যতা আছে কি?


আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইফতারের সময় পরিবার-পরিজন ও সন্তানদের ডেকে দো‘আ করতেন’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৩৯০৭; মুসনাদে ত্বায়ালেসী হা/৬২৬২; ইরওয়া ৪/৪৪)। এছাড়া ‘ইফতারের সময় দো‘আ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (ইবনু মাজাহ হা/১৭৫৩; যঈফাহ হা/৪৩২)। তাছাড়া উক্ত হাদীছে হাত তুলে জামা‘আতবদ্ধ দো‘আর কথা বলা হয়নি। বরং ছায়েমের প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ। ছিয়ামের অবস্থায় তার দো‘আ যে কোন সময় কবুল হয় (নববী, আল- মাজমূ‘ ৬/৩৭৫)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তিন ধরনের লোকের দো‘আ কখনও ফিরিয়ে দেয়া হয় না। ছায়েম যতক্ষণ ইফতার না করে… (ইবনু মাজাহ হা/১৭৫২; ছহীহাহ হা/১৭৯৭)

সুতরাং কেবলমাত্র ইফতারের সময়ই নয়, বরং ছিয়াম অবস্থায় সর্বদাই দো‘আ কবুল হওয়ার যোর সম্ভাবনা রয়েছে। আর এটাই হাদীছ সম্মত।

Posted in ইফতারের সময় সন্তানদের নিয়ে মুনাজাত করা কি? | Tagged ,

যদি ছালাতের মধ্যে হঠাৎ যৌন উত্তেজনা বোধ হয় এবং মযী নির্গত হওয়ার ধারণা হয়, তবে কি ছালাত ছেড়ে দিয়ে পুনরায় ওযূ করতে হবে?


মযী নির্গত হওয়ার ধারণা নিশ্চিত হ’লে ছালাত ছেড়ে দিয়ে লজ্জাস্থান ধুয়ে পুনরায় ওযূ করে ছালাত আদায় করবে। তবে কেবল ধারণা হলে বা ভেজা অবস্থা বুঝতে না পারলে ছালাত অব্যাহত রাখবে। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে ছালাত ত্যাগ করবে না। যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমাদের কেউ যখন তার পেটের মধ্যে কিছু (বায়ু) শব্দ পায় এবং এরপর তার সন্দেহ হয় যে, তার পেট হ’তে কিছু (বায়ু) বের হ’ল কি-না, তাহ’লে সে যেন ওযূ নষ্ট হয়ে গেছে ভেবে মসজিদ হ’তে বের না হয়, যতক্ষণ পর্যন্ত সে (বায়ু বের হবার) কোন শব্দ না শুনে বা গন্ধ না পায়’ (বুখারী হা/১৩৭, মুসলিম হা/৩৬২, মিশকাত হা/৩০৬)

Posted in ছালাতের মধ্যে হঠাৎ যৌন উত্তেজনা বোধ হলে করনীয় কি? | Tagged

প্রিয় ব্যক্তিকে হেদায়াতের জন্য কোন নির্দিষ্ট দো‘আ আছে কি? দো‘আ থাকলে সেটি কি?


প্রিয় ও অপ্রিয় যেকোন ব্যক্তির হেদায়াতের জন্য দো‘আ করার বিধান রয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ছাহাবীর হেদায়াতের জন্য দো‘আ করেছেন। তিনি একবার আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর মায়ের হেদায়াতের জন্য দো‘আ করেন (মুসলিম হা/২৪৯১; মিশকাত হা/৫৮৯৫)। তিনি একবার দাউস সম্প্রদায়ের হেদায়াতের জন্য দো‘আ করেন (বুখারী হা/২৯৩৭; মুসলিম হা/২৫২৪; মিশকাত হা/৫৯৯৭)। তিনি আরেকবার মু‘আবিয়ার হেদায়াতের জন্য দো‘আ করেন (তিরমিযী হা/৩৮৪২; মিশকাত হা/৬২৩৫; ছহীহাহ হা/১৯৬৯)। তিনি জারীরের জন্য দো‘আ করেছিলেন (বুখারী হা/৩০২০; মুসলিম হা/২৪৭৫; মিশকাত হা/৫৮৯৭)। তবে এজন্য কোন নির্দিষ্ট দো‘আ নেই। বরং তার জন্য পরিস্থিতির সাথে উপযুক্ত যে কোন মাসনূন দো‘আ পাঠ করা যায়।

Posted in প্রিয় ব্যক্তিকে হেদায়াতের জন্য কোন নির্দিষ্ট দো‘আ আছে কি? | Tagged ,

জনৈক আলেমের মতে, কেবল পীর ছাহেবেরা আল্লাহ ও নবীগণের নূর লাভ করে থাকে। আদম (আঃ)-এর নূর ছিল সাদা ও মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর নূর সবুজ। সেজন্য দেখা যায়, তারা মসজিদ বা কবরের উপর গম্বুজ নির্মাণ করে তাতে সবুজ রঙ করে ও মাথায় সবুজ পাগড়ী পরিধান করে। এমনকি মসজিদে নববীতে রাসূলের কবরের উপরও অনুরূপ সবুজ গম্বুজ নির্মাণ করা হয়েছে। উক্ত আক্বীদার শেষ পরিণতি জানতে চাই।


উক্ত আক্বীদা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। নবী করীম (ছাঃ) বা ছাহাবীগণ থেকে এ বিষয়ে কোন বর্ণনা আসেনি। অতএব এই ধরনের আক্বীদা পোষণ করা বিদ‘আত। আর কবরের উপর কোন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হারাম (মুসলিম হা/৯৭০; হাকেম হা/১৩৩০; মিশকাত হা/১৬৭০)। এই বিদ‘আতের সূচনা হয়েছে হিজরী ৭ম শতাব্দীতে ছূফীবাদী তুর্কী শাসকদের মাধ্যমে।

 

তুর্কীরাই রাসূল (ছাঃ)-এর কবরের উপর সবুজ গম্বুজ স্থাপন করেছিল। ইতিপূর্বে এর কোন অস্তিত্ব ছিল না। হিজরী ৬৭৮ মোতাবেক ১২৭৯ খ্রিষ্টাব্দে সর্বপ্রথম গম্বুজটি নির্মাণ করেন মামলূক সুলতান কালাউন। অতঃপর হিজরী ৮৮৬ মোতাবেক ১৪৮১ খ্রিষ্টাব্দে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হবার পর সুলতান আশরাফ কায়েতবায়ী ৮৮৭ হিজরীতে পুনরায় পিলার দিয়ে একটি কালো পাথরের গম্বুজ নির্মাণ করেন। পরবর্তী শাসকদের আমলে তাতে সাদা এবং নীল রঙের প্রলেপ দেয়া হয়েছিল। ৯৪৬ হিজরীতে গম্বুজের উপর তুর্কী খেলাফতের প্রতীকবাহী চন্দ্রাকৃতি স্থাপন করেন মক্কার শাসক ওয়াছেল। অতঃপর হিজরী ১২৩৩ সালে ওছমানীয় সুলতান আব্দুল হামীদ-২ নতুনভাবে গম্বুজটি নির্মাণ করেন। তিনি ইবনু ‘আরাবী (৫৫৮-৬৩৮ হিঃ)-এর ভ্রান্ত ছূফীবাদী আক্বীদাকে বাস্তবায়ন করার জন্য ১২৫৩ হিজরীতে গম্বুজের উপর সবুজ রঙের প্রলেপ দেন। তখন থেকে এটি ‘কুববাতুল  খাযরা’ (সবুজ গম্বুজ) নামে পরিচিতি লাভ করে এবং তা আজও রয়েছে।

 

১৮০৫ খৃষ্টাব্দে মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের অনুসারী সংস্কারবাদীগণ মদীনার বাক্বী‘ কবরস্থানের সকল কবরের উপর থেকে গম্বুজ ভেঙ্গে ফেলে দেন। কিন্তু বৃহত্তর ফিৎনার আশংকায় এবং গম্বুজটির বিশ্বব্যাপী পরিচিতির কারণে এটি ভাঙ্গেননি (রশীদ রেযা, আল-ওয়াহহাবিইয়ূন ওয়াল হিজায ৬৯-৭১ পৃঃ; আলী হাফেয, ফুছূল মিন তারীখিল মাদীনাতিল মুনাওয়ারাহ ১২৭-২৮ পৃঃ)। এর বিরুদ্ধে সঊদী ওলামায়ে কেরাম সোচ্চার হওয়া সত্ত্বেও কেবল ফিৎনার আশংকায় সরকার এটা রেখে দিয়েছেন (মাজমূ‘ ফাতাওয়া বিন বায ১/২৭০)

 

রাসূল (ছাঃ) সবুজ নয় বরং কালো পাগড়ী পরিধান করতেন। আমর বিন হুরায়েছ (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) জুম‘আর খুৎবা দিলেন, তখন তাঁর উপর কালো পাগড়ী ছিল। যার দু’মাথা কাঁধের মাঝে ঝুলছিল (মুসলিম, মিশকাত হা/১৪১০)। জাবের (রাঃ) বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বিনা ইহরামে যখন কা‘বা গৃহে ঢুকলেন, তখন তাঁর মাথায় কালো পাগড়ী ছিল (ইবনু মাজাহ হা/২৮২২)। তাছাড়া রাসূল (ছাঃ) সাদা পোষাক পরিধান করতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা সাদা পোষাক পরিধান কর। কেননা এটি পূত-পবিত্র। আর এর দ্বারা তোমাদের মৃতদের কাফন পরাও’ (তিরমিযী হা/২৮১০; মিশকাত হা/৪৩৩৭)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমাদের জন্য সর্বোত্তম পোষাক হ’ল সাদা পোষাক। এই পোষাকে তোমাদের মৃতদের কাফন পরাবে এবং নিজেরাও তা পরবে (ইবনু মাজাহ হা/১৪৭২; মিশকাত হা/১৬৩৮; ছহীহুল জামে‘ হা/৩৩০৫)। আয়েশা (রাঃ) বলেন, ‘রাসূল (ছাঃ)-কে তিনটি সাদা কাপড়ে কাফন পরানো হয়েছিল’ (বুখারী হা/১২৬৪; মুসলিম হা/৯৪১)। সুতরাং সবুজ রঙের কোন বিশেষত্ব ইসলামে নেই।

 

সবুজ রং সম্পর্কে কেবল এতটুকুই এসেছে যে, হাশরের মাঠে রাসূল (ছাঃ)-কে সবুজ পোষাক দেওয়া হবে এবং শহীদদের রূহ জান্নাতে সবুজ পাখির ভিতর থাকবে। যেমন- কা‘ব ইবনে মালিক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘ক্বিয়ামতের মাঠে মানুষকে উঠানো হবে। আমি এবং আমার উম্মত একটি উপত্যকার উপর থাকব। আমার প্রতিপালক আমাকে সবুজ জোড়া পরাবেন। তারপর আমাকে কথা বলার অনুমতি দেয়া হবে। তখন আমি আল্লাহর ইচ্ছায় যা বলার বলব। এটাই হচ্ছে মাক্বামে মাহমূদ’ (সিলসিলা ছাহীহাহ হা/২৩৭০, ইবনে হিববান হা/৬৪৪৫)। আর শহীদদের রূহ সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) বলেন, তাদের রূহ সবুজ পাখির পেটে থেকে জান্নাতের বিভিন্ন নদী ও বাগান থেকে আহার করে (মুসলিম হা/৪৯৯৩)

 

সুতরাং যারা সবুজ রংকে বিশেষ পবিত্র মনে করে এবং প্রশ্নে বর্ণিত ভ্রান্ত আক্বীদা সমূহ পোষণ করে, তারা এরূপ দলীলবিহীন ও রাসূলের আদর্শ বিরোধী আক্বীদা পোষণের কারণে রাসূল (ছাঃ)-এর শাফা‘আত থেকে বঞ্চিত হবে। কেননা সেদিন রাসূল (ছাঃ) তাদের বলবেন, দূর হও দূর হও, যারা আমার পরে আমার দ্বীনকে পরিবর্তন করেছ’ (বুখারী হা/৭০৫০; মুসলিম হা/২২৯০; মিশকাত হা/৫৫৭১ ‘ফিতান’ অধ্যায় ‘হাউয ও শাফা‘আত’ অনুচ্ছেদ)

Posted in পীর ছাহেবেরা কেবল আল্লাহ ও নবীগণের নূর লাভ করে থাকে। | Tagged ,

আমরা সীমিত অর্থের মালিকদের সুবিধার্থে তাদের জমিতে ভবন নির্মাণ করে দেই। প্রথমেই আমরা মোট খরচ হিসাব করি। এরপর ভবন তৈরীর সূচনায় জমির মালিকের নিকট থেকে ২০% অর্থ নিয়ে কাজ শুরু করি। তারপর তারা কিস্তিতে বাকী অর্থ পরিশোধ করবে। এক্ষণে এধরনের ব্যবসায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?


উক্ত ব্যবসায়ে ৫ নং শর্ত অনুযায়ী মোট নির্মাণ ব্যয়ের ২০% টাকা চুক্তিকালীন সময় মালিককে জমা দিতে হবে। অতঃপর ৬ নং শর্ত অনুযায়ী কোম্পানীর বিনিয়োগকৃত ৮০% টাকার উপরে ৩% সার্ভিস চার্জ এবং ৭ নং শর্ত অনুযায়ী কাজ শুরুর মাস থেকে মাসিক কিস্তি প্রদান মালিককে নিশ্চিত করতে হবে। অথচ তখন কোম্পানী কোন টাকাই ব্যয় করেনি এবং প্রতিশ্রুত ৮০% টাকা বিনিয়োগ করেনি। কিন্তু মোট টাকার উপরে ২০% টাকা শুরুতেই নিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যা রূপার উপরে বর্ধিতহারে রূপা নেওয়ার শামিল। এটি সূদ।

 

সেই সাথে এটি ধোঁকা। কেননা কোনরূপ কাজ না করেই সার্ভিস চার্জ ও প্রথম কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে বলা হচ্ছে। এরপরেও কাজ কতদিনে শেষ হবে, তার কোন সময়সীমা নির্ধারণ করা নেই। প্রতি বর্গফুটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু নির্মাণাধীন অবস্থায় সরঞ্জামাদির মূল্য বৃদ্ধি পেলে সেক্ষেত্রে কি হবে এবং কাজের মান আশানুরূপ না হলে মালিকের সেখানে কিছু করার থাকবে কি না, সে বিষয়ে কিছু বলা নেই। বিষয়গুলি অস্বচ্ছ। যা বায়‘এ গারার-এর অন্তর্ভুক্ত।

 

উদাহরণ স্বরূপ, একটি বিল্ডিং-এর প্রাক্কলিত নির্মাণ ব্যয় ৫ কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী মালিককে ২০% অর্থাৎ ১ কোটি টাকা নগদ দিতে হবে। সেই সাথে কোম্পানীর ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ৮০%-এর উপর ৩% সার্ভিস চার্জ ১২ লাখ টাকা। সেই সাথে ১ম মাসিক কিস্তি ৩ লাখ ৩৩ হাযার ৩৩৩ টাকা। সর্বমোট ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাযার ৩৩৩ টাকা মালিকের পক্ষ থেকে কোম্পানীকে শুরুতেই নগদ দিতে হবে। অথচ কোম্পানীর তখন কোন বিনিয়োগ নেই।

 

এটি আদৌ কোন ব্যবসা নয়, বরং ধোঁকা। কারণ এতে কোম্পানীর কোন ব্যবসায়িক ঝুঁকি নেই। কেবলই লাভ। যা সূদের শামিল।

Posted in ভবন নির্মাণ কিস্তিতে করে দেওয়া যাবে কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তি বলেন, মীরাছের ক্ষেত্রে পিতার সম্পত্তিতে ছেলেরা মেয়েদের দ্বিগুণ পেলেও মায়ের সম্পত্তিতে মেয়েরা ছেলেদের দ্বিগুণ বা সমান পাবে। উক্ত বক্তব্যের সত্যতা জানতে চাই।


উক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। পিতা হৌক বা মাতা হৌক তাদের সম্পত্তিতে ছেলেরা মেয়েদের দ্বিগুণ হারে পাবে। আল্লাহ বলেন, আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের (মধ্যে মীরাছ বণ্টনের) ব্যাপারে তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান (নিসা ৪/১১)। অত্র আয়াতে পিতা-মাতা উভয়ের ক্ষেত্রে একই বিধান বর্ণনা করা হয়েছে।

Posted in মায়ের সম্পত্তিতে মেয়েরা ছেলেদের দ্বিগুণ বা সমান পাবে কি? | Tagged ,

সোলায়মান (আঃ)-এর কতজন স্ত্রী ছিলেন?


সোলায়মান (আঃ)-এর স্ত্রীদের সংখ্যার ব্যাপারে ছহীহ হাদীছ সমূহে ৬০, ৭০, ৯০, ১০০ জন বলে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে (বুখারী হা/২৮১৯, ৩৪২৪, ৫২৪২, ৬৬৩৯, ৭৪৬৯; মুসলিম হা/১৬৫৪; মিশকাত হা/৫৭২০)। ইমাম বুখারী (রহঃ) উপরোক্ত সকল সংখ্যাই উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি ৯০ জনের হাদীছটিকে অধিক বিশুদ্ধ বলেছেন। অন্যদিকে সোলায়মান (আঃ)-এর স্ত্রীর সংখ্যার ব্যাপারে ইস্রাঈলীরা একহাযার জন বলে উল্লেখ করেছে (ইবনু কাছীর, আল-বিদায়াহ ২/১৫,২৯; ফাৎহুল বারী হা/৩৪৪২-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)

এক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের মূলনীতি হ’ল ইস্রাঈলী বর্ণনা সমূহ ইসলামের আক্বীদা ও মৌলনীতির বিরোধী না হ’লে তার ব্যাপারে সত্য বা মিথ্যা কোন মন্তব্য না করা (আবুদাউদ হা/৩৬৪৪; আহমাদ হা/১৭২৬৪; ছহীহাহ হা/২৮০০)

Posted in সোলায়মান (আঃ)-এর কতজন স্ত্রী ছিলেন? | Tagged ,

এশার ছালাতে মুছল্লী কম হওয়ায় মুছাল্লী বৃদ্ধির জন্য নাশতার ব্যবস্থা করা যাবে কি?


এধরনের উৎসাহ মূলক কাজ করা যায়। হয়তবা এতে এক পর্যায়ে মুছল্লীরা জামা‘আতে ছালাত আদায়ে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে ইনশাআল্লাহ। সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) বলেন, আমরা জুম‘আর দিনে আনন্দিত হ’তাম। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হ’ল, কেন? তিনি বললেন, আমাদের একজন বৃদ্ধা মহিলা ছিল। সে কোন একজনকে ‘বুযাআ’ নামক খেজুর বাগানে পাঠাত। সে বীট চিনির শিকড় আনত এবং তা একটি ডেগচিতে ফেলে তাতে কিছুটা যবের দানা ছড়িয়ে দিয়ে ঘুটত। ফলে তাতে এক প্রকার খাবার তৈরী হ’ত। এরপর আমরা যখন জুম‘আর ছালাত আদায় করে ফিরতাম, তখন আমরা ঐ মহিলাকে সালাম দিতাম। তখন সে আমাদের ঐ খাবার পরিবেশন করত। আমরা এজন্য খুশী হ’তাম। আমাদের অভ্যাস ছিল যে, আমরা জুম‘আর পরেই মধ্যাহ্ন ভোজন ও মধ্যাহ্ন বিশ্রাম করতাম’ (বুখারী হা/৬২৪৮)। তবে খাওয়ার উদ্দেশ্যে মসজিদে আসলে ছওয়াব পাবে না। বরং ছালাতের বিশুদ্ধ নিয়তেই কেবল মসজিদে আসতে হবে।

Posted in মুছাল্লী বৃদ্ধির জন্য নাশতার ব্যবস্থা করা যাবে কি? | Tagged ,

শাশুড়ীকে যাকাতের অর্থ দেওয়া যাবে কি?


শাশুড়ীকে যাকাতের মাল দেওয়া যাবে যদি তিনি হকদার হন। কারণ শাশুড়ীর প্রতি খরচ করা জামাই বা বউ কারো জন্য আবশ্যক নয়। কিন্তু যাদের প্রতি খরচ করা অপরিহার্য, যেমন পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, স্ত্রী ও সন্তান, তাদেরকে যাকাত থেকে দেওয়া যাবে না। বরং তাদের প্রতি হক হিসাবে স্বাভাবিকভাবে খরচ করবে (শাফেঈ, কিতাবুল উম্ম ২/৮৭; ইবনু কুদামাহ, মুগনী ২/৫০৯; শাওকানী, নায়লুল আওত্বার হা/১৬১৯, ৪/২১১)

Posted in যাকাতের অর্থ শাশুড়ীকে দেওয়া যাবে কি? | Tagged

রামাযান মাসে একই ব্যক্তি সাহারী ও ফজরের আযান দিতে পারবে কি?


একই ব্যক্তির জন্য সাহারী ও ফজরের আযান দেওয়াতে কোন বাধা নেই। তবে সাহারীর আযানের সময় ‘আছ-ছালাতু খায়রুম মিনান নাওম’ বলবে না। কারণ সাহারী গ্রহণকারী ও তাহাজ্জুদ আদায়কারীগণ যাতে উভয় আযানের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারেন। তাছাড়া একই মসজিদে একাধিক মুওয়াযযিন থাকাতে কোন দোষ নেই। ওছমান (রাঃ)-এর আমলে মসজিদে নববীতে চারজন মুওয়াযযিন ছিলেন। অতএব পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের জন্য পাঁচজন মুওয়াযযিন নিয়োগ দিলেও কোন আপত্তি নেই (শাওকানী, নায়লুল আওত্বার ২/৬০-৬১)

Posted in আযান রামাযান মাসে একই ব্যক্তি সাহারী ও ফজরের দিতে পারবে কি? | Tagged ,