আমরা সীমিত অর্থের মালিকদের সুবিধার্থে তাদের জমিতে ভবন নির্মাণ করে দেই। প্রথমেই আমরা মোট খরচ হিসাব করি। এরপর ভবন তৈরীর সূচনায় জমির মালিকের নিকট থেকে ২০% অর্থ নিয়ে কাজ শুরু করি। তারপর তারা কিস্তিতে বাকী অর্থ পরিশোধ করবে। এক্ষণে এধরনের ব্যবসায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?


উক্ত ব্যবসায়ে ৫ নং শর্ত অনুযায়ী মোট নির্মাণ ব্যয়ের ২০% টাকা চুক্তিকালীন সময় মালিককে জমা দিতে হবে। অতঃপর ৬ নং শর্ত অনুযায়ী কোম্পানীর বিনিয়োগকৃত ৮০% টাকার উপরে ৩% সার্ভিস চার্জ এবং ৭ নং শর্ত অনুযায়ী কাজ শুরুর মাস থেকে মাসিক কিস্তি প্রদান মালিককে নিশ্চিত করতে হবে। অথচ তখন কোম্পানী কোন টাকাই ব্যয় করেনি এবং প্রতিশ্রুত ৮০% টাকা বিনিয়োগ করেনি। কিন্তু মোট টাকার উপরে ২০% টাকা শুরুতেই নিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যা রূপার উপরে বর্ধিতহারে রূপা নেওয়ার শামিল। এটি সূদ।

 

সেই সাথে এটি ধোঁকা। কেননা কোনরূপ কাজ না করেই সার্ভিস চার্জ ও প্রথম কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে বলা হচ্ছে। এরপরেও কাজ কতদিনে শেষ হবে, তার কোন সময়সীমা নির্ধারণ করা নেই। প্রতি বর্গফুটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু নির্মাণাধীন অবস্থায় সরঞ্জামাদির মূল্য বৃদ্ধি পেলে সেক্ষেত্রে কি হবে এবং কাজের মান আশানুরূপ না হলে মালিকের সেখানে কিছু করার থাকবে কি না, সে বিষয়ে কিছু বলা নেই। বিষয়গুলি অস্বচ্ছ। যা বায়‘এ গারার-এর অন্তর্ভুক্ত।

 

উদাহরণ স্বরূপ, একটি বিল্ডিং-এর প্রাক্কলিত নির্মাণ ব্যয় ৫ কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী মালিককে ২০% অর্থাৎ ১ কোটি টাকা নগদ দিতে হবে। সেই সাথে কোম্পানীর ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ৮০%-এর উপর ৩% সার্ভিস চার্জ ১২ লাখ টাকা। সেই সাথে ১ম মাসিক কিস্তি ৩ লাখ ৩৩ হাযার ৩৩৩ টাকা। সর্বমোট ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাযার ৩৩৩ টাকা মালিকের পক্ষ থেকে কোম্পানীকে শুরুতেই নগদ দিতে হবে। অথচ কোম্পানীর তখন কোন বিনিয়োগ নেই।

 

এটি আদৌ কোন ব্যবসা নয়, বরং ধোঁকা। কারণ এতে কোম্পানীর কোন ব্যবসায়িক ঝুঁকি নেই। কেবলই লাভ। যা সূদের শামিল।

Advertisements
Posted in ভবন নির্মাণ কিস্তিতে করে দেওয়া যাবে কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তি বলেন, মীরাছের ক্ষেত্রে পিতার সম্পত্তিতে ছেলেরা মেয়েদের দ্বিগুণ পেলেও মায়ের সম্পত্তিতে মেয়েরা ছেলেদের দ্বিগুণ বা সমান পাবে। উক্ত বক্তব্যের সত্যতা জানতে চাই।


উক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। পিতা হৌক বা মাতা হৌক তাদের সম্পত্তিতে ছেলেরা মেয়েদের দ্বিগুণ হারে পাবে। আল্লাহ বলেন, আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের (মধ্যে মীরাছ বণ্টনের) ব্যাপারে তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান (নিসা ৪/১১)। অত্র আয়াতে পিতা-মাতা উভয়ের ক্ষেত্রে একই বিধান বর্ণনা করা হয়েছে।

Posted in মায়ের সম্পত্তিতে মেয়েরা ছেলেদের দ্বিগুণ বা সমান পাবে কি? | Tagged ,

সোলায়মান (আঃ)-এর কতজন স্ত্রী ছিলেন?


সোলায়মান (আঃ)-এর স্ত্রীদের সংখ্যার ব্যাপারে ছহীহ হাদীছ সমূহে ৬০, ৭০, ৯০, ১০০ জন বলে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে (বুখারী হা/২৮১৯, ৩৪২৪, ৫২৪২, ৬৬৩৯, ৭৪৬৯; মুসলিম হা/১৬৫৪; মিশকাত হা/৫৭২০)। ইমাম বুখারী (রহঃ) উপরোক্ত সকল সংখ্যাই উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি ৯০ জনের হাদীছটিকে অধিক বিশুদ্ধ বলেছেন। অন্যদিকে সোলায়মান (আঃ)-এর স্ত্রীর সংখ্যার ব্যাপারে ইস্রাঈলীরা একহাযার জন বলে উল্লেখ করেছে (ইবনু কাছীর, আল-বিদায়াহ ২/১৫,২৯; ফাৎহুল বারী হা/৩৪৪২-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)

এক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের মূলনীতি হ’ল ইস্রাঈলী বর্ণনা সমূহ ইসলামের আক্বীদা ও মৌলনীতির বিরোধী না হ’লে তার ব্যাপারে সত্য বা মিথ্যা কোন মন্তব্য না করা (আবুদাউদ হা/৩৬৪৪; আহমাদ হা/১৭২৬৪; ছহীহাহ হা/২৮০০)

Posted in সোলায়মান (আঃ)-এর কতজন স্ত্রী ছিলেন? | Tagged ,

এশার ছালাতে মুছল্লী কম হওয়ায় মুছাল্লী বৃদ্ধির জন্য নাশতার ব্যবস্থা করা যাবে কি?


এধরনের উৎসাহ মূলক কাজ করা যায়। হয়তবা এতে এক পর্যায়ে মুছল্লীরা জামা‘আতে ছালাত আদায়ে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে ইনশাআল্লাহ। সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) বলেন, আমরা জুম‘আর দিনে আনন্দিত হ’তাম। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হ’ল, কেন? তিনি বললেন, আমাদের একজন বৃদ্ধা মহিলা ছিল। সে কোন একজনকে ‘বুযাআ’ নামক খেজুর বাগানে পাঠাত। সে বীট চিনির শিকড় আনত এবং তা একটি ডেগচিতে ফেলে তাতে কিছুটা যবের দানা ছড়িয়ে দিয়ে ঘুটত। ফলে তাতে এক প্রকার খাবার তৈরী হ’ত। এরপর আমরা যখন জুম‘আর ছালাত আদায় করে ফিরতাম, তখন আমরা ঐ মহিলাকে সালাম দিতাম। তখন সে আমাদের ঐ খাবার পরিবেশন করত। আমরা এজন্য খুশী হ’তাম। আমাদের অভ্যাস ছিল যে, আমরা জুম‘আর পরেই মধ্যাহ্ন ভোজন ও মধ্যাহ্ন বিশ্রাম করতাম’ (বুখারী হা/৬২৪৮)। তবে খাওয়ার উদ্দেশ্যে মসজিদে আসলে ছওয়াব পাবে না। বরং ছালাতের বিশুদ্ধ নিয়তেই কেবল মসজিদে আসতে হবে।

Posted in মুছাল্লী বৃদ্ধির জন্য নাশতার ব্যবস্থা করা যাবে কি? | Tagged ,

শাশুড়ীকে যাকাতের অর্থ দেওয়া যাবে কি?


শাশুড়ীকে যাকাতের মাল দেওয়া যাবে যদি তিনি হকদার হন। কারণ শাশুড়ীর প্রতি খরচ করা জামাই বা বউ কারো জন্য আবশ্যক নয়। কিন্তু যাদের প্রতি খরচ করা অপরিহার্য, যেমন পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, স্ত্রী ও সন্তান, তাদেরকে যাকাত থেকে দেওয়া যাবে না। বরং তাদের প্রতি হক হিসাবে স্বাভাবিকভাবে খরচ করবে (শাফেঈ, কিতাবুল উম্ম ২/৮৭; ইবনু কুদামাহ, মুগনী ২/৫০৯; শাওকানী, নায়লুল আওত্বার হা/১৬১৯, ৪/২১১)

Posted in যাকাতের অর্থ শাশুড়ীকে দেওয়া যাবে কি? | Tagged

রামাযান মাসে একই ব্যক্তি সাহারী ও ফজরের আযান দিতে পারবে কি?


একই ব্যক্তির জন্য সাহারী ও ফজরের আযান দেওয়াতে কোন বাধা নেই। তবে সাহারীর আযানের সময় ‘আছ-ছালাতু খায়রুম মিনান নাওম’ বলবে না। কারণ সাহারী গ্রহণকারী ও তাহাজ্জুদ আদায়কারীগণ যাতে উভয় আযানের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারেন। তাছাড়া একই মসজিদে একাধিক মুওয়াযযিন থাকাতে কোন দোষ নেই। ওছমান (রাঃ)-এর আমলে মসজিদে নববীতে চারজন মুওয়াযযিন ছিলেন। অতএব পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের জন্য পাঁচজন মুওয়াযযিন নিয়োগ দিলেও কোন আপত্তি নেই (শাওকানী, নায়লুল আওত্বার ২/৬০-৬১)

Posted in আযান রামাযান মাসে একই ব্যক্তি সাহারী ও ফজরের দিতে পারবে কি? | Tagged ,

আমি একজন বিধবা অসহায় নারী। আমি ব্যাংকে টাকা রেখে সেখান থেকে লাভ গ্রহণ করতে পারব কি?


কোন অবস্থায় ব্যাংকের সূদ গ্রহণ করা যাবে না। কারণ সূদ সর্বাস্থায় হারাম। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল ও সূদকে হারাম করেছেন’ (বাক্বারাহ ২/২৭৫)। সুতরাং যত অসহায়ত্বই থাকুক না কেন, হারাম কাজে যুক্ত হওয়ার অনুমতি ইসলামে নেই। এক্ষণে আপনার জন্য করণীয় হ’ল- আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে ব্যবসা করা। নিজে না পারলে টাকা বিনিয়োগ করে অন্যের মাধ্যমে ব্যবসা করা। রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে বিবাহের পূর্বে খাদীজা (রাঃ)-ও বিধবা ছিলেন। তিনি অর্থ বিনিয়োগ করে ব্যবসা করতেন (ইবনু হিশাম ১/১৮৮; সীরাতুর রাসূল (ছাঃ) গ্রন্থ দ্রষ্টব্য)। আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখলে তিনি নিশ্চয়ই কোন একটি ব্যবস্থা করে দেবেন। আল্লাহ বলেন, ‘আর যে কেউ আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহ তার নিষ্কৃতির পথ বের করে দেবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক প্রদান করবেন, যা সে কল্পনাও করেনি। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট হন (তালাক ৬৫/৩)

Posted in ব্যাংকে টাকা রেখে অসহায় নারী সেখান থেকে লাভ গ্রহণ করতে পারবে কি? | Tagged ,

ঘরের চালা ও বেড়ার টিনের গায়ে মুরগী ও গরুর ছবি থাকলে উক্ত ঘরে ছালাত আদায় করা যাবে কি?


বাধ্যগত অবস্থা ছাড়া এধরনের কক্ষে ছালাত আদায় করা উচিৎ নয়। কারণ যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না (বুখারী হা/৩২২৫; মুসলিম হা/২১০৪; মিশকাত হা/৪৪৯০)। তবে কেউ আদায় করে থাকলে তার ছালাত হয়ে যাবে। কারণ এটি ছালাত ভঙ্গের কারণ নয় (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১/৭০৫, ৬/১৭৯, ৬/২৫০-৫১; ঊছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১২/২৯৪)। এক্ষণে ঘরের মালিকের জন্য করণীয় হ’ল ছবিগুলোকে ঢেকে রাখা অথবা মুছে দেওয়া।

Posted in বেড়ার টিনের গায়ে ছবি থাকলে উক্ত ঘরে ছালাত আদায় করা যাবে কি? | Tagged ,

‘আছ-ছালাতু খায়রুম মিনান নাওম’ কি কেবল ফজর ছালাতে বলতে হবে নাকি তাহাজ্জুদের ছালাতেও বলতে হবে?


তাহাজ্জুদ বা সাহারীর আযান সাধারণ আযানের ন্যায় দিতে হবে। অতঃপর ফজরের আযানের সাথেই কেবল ‘আছছালা-তু খায়রুম মিনান নাউম’ যোগ হবে। আর ‘এটি কেবল ফজরের আযানের সাথেই যুক্ত’ (মির‘আত ২/৩৫১)আবু মাহযূরাহ (রাঃ) বর্ণিত আযান শিক্ষাদান বিষয়ক হাদীছে এসেছে যে, তিনি বলেন, فَإِنْ كَانَ هَذَا صَلاَةَ الصُّبْحِ ‘অতঃপর যদি এটা ফজরের ছালাত হয়, তাহ’লে তুমি বলবে, আছ-ছালাতু খায়রুম মিনান নাওম…’ (আবুদাঊদ হা/৫০০; আহমাদ হা/১৫৪১৬; মিশকাত হা/৬৪৫)। এতে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, ফজরের ছালাতের আযানের সাথেই এটি যুক্ত। আনাস (রাঃ) বলেন,مِنَ السُّنَّةِ إِذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ فِى الْفَجْرِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ قَالَ : الصَّلاَةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ ‘সুন্নাত হ’ল যে, মুওয়াযযিন ফজরের আযানে ‘হাইয়া ‘আলাল ফালাহ’ বলার পরে বলবে ‘আছছালা-তু খায়রুম মিনান নাউম’ (ছহীহ ইবনু খুযায়মাহ হা/৩৮৬; আল-আ-ছা-রুছ ছহীহাহ হা/৪৭১)। এতে বুঝা যায় যে, এটাই ছিল ছাহাবী যুগের রীতি।

Posted in আছ-ছালাতু খায়রুম মিনান নাওম’ কি কেবল ফজর ছালাতে বলতে হবে? | Tagged

সন্তানের নাম ইয়াস, আয়াস বা আইয়াশ হাসান রাখা যাবে কি?


কেবল ইয়াস (إياس) বা আয়াস নাম রাখায় কোন দোষ নেই। ‘হাসান’ যোগ করা ঠিক নয়। একাধিক ছাহাবীর নাম ‘ইয়াস’ ছিল। যদিও এর অর্থ ‘হতাশা বা নৈরাশ্য’ (বুখারী হা/৩৯৯১; আবুদাউদ হা/২১৪৬; হাকেম হা/৫৯০১)। অনুরূপভাবে আইয়াশ নাম রাখাতেও কোন বাধা নেই। কারণ আইয়াশ নামেও ছাহাবী ও তাবেঈগণের নাম ছিল। যেমন আইয়াশ বিন আবী রাবী‘আ ও আইয়াশ বিন ওক্ববাহ প্রভৃতি (বুখারী হা/১০০৬; মুসলিম হা/৬৭৫,১৫৩৬)। আইয়াশ ((عَيَّاشَ অর্থ- অধিক আরাম প্রিয়, অতি সুখী জীবন যাপনকারী, রুটি প্রস্ত্ততকারী, রুটি বিক্রেতা ইত্যাদি।

Posted in সন্তানের নাম ইয়াস আয়াস বা আইয়াশ হাসান রাখা যাবে কি? | Tagged

রাত ১১ ঘটিকায় আমার সন্তান জন্মলাভ করেছে। এক্ষণে আমি নিফাসের গণনা কখন থেকে শুরু করব। আগের দিন না পরের দিন থেকে?


ইসলামী বিধানে সূর্যাস্তের পর থেকে দিবস গণনা শুরু হয়। অতএব যে সময় সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে সেখান থেকে চল্লিশতম দিনের উক্ত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। এর পরেও নিফাস চলতে থাকলে ইস্তেহাযা মনে করে পবিত্র হয়ে ছালাত আদায় করবে (আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিইয়াহ ৪১/৮)। উম্মে সালামাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সময় নিফাসগ্রস্ত হওয়ার (অর্থাৎ সন্তান ভূমিষ্টের) পর মহিলারা চল্লিশ দিন বা চল্লিশ রাত অপেক্ষা করতেন’ (আবুদাউদ হা/৩১১; ইরওয়া হা/২১১, সনদ ছহীহ)। উল্লেখ্য যে, সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পূর্বে মায়ের কোন রক্ত প্রবাহিত হ’লে তা নিফাস হিসাবে গণ্য হবে না। বরং তা ইস্তিহাযা বা প্রদর রোগ হিসাবে গণ্য হবে এবং সেজন্য পবিত্র অবস্থায় পালনীয় যাবতীয় ইবাদত পালন করতে হবে (আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়া ৪১/৮)

Posted in নিফাসের গণনা কখন থেকে শুরু করতে হয়? | Tagged

কেউ যদি কোন নির্দিষ্ট স্থানে কোন পশু যবেহ করার মানত করে তাহ’লে কি তাকে সেখানেই যবেহ করতে হবে? না অন্যত্র করলে হবে?


যে স্থানে পশু যবেহ করার জন্য মানত করা হয়েছে সেখানেই যবেহ করতে হবে, যদি সেখানে কোন মূর্তি বা অন্য ধর্মের কোন স্মৃতি বিজড়িত না থাকে। এরূপ করলে কাফফারা দিতে হবে। ছাবিত ইবনু যাহহাক (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ)-এর যামানায় জনৈক ব্যক্তি এরূপ মানত করে যে, সে ‘বাওয়ানা’ নামক স্থানে একটি উট কুরবানী করবে। রাসূল (ছাঃ)-কে এটি জানানো হ’লে তিনি জিজ্ঞেস করেন, সেখানে কি কোন দেব-দেবীর মূর্তি আছে, জাহেলী যুগে যাদের পূজা করা হ’ত? তারা বললেন, না। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এটা কি তাদের উৎসবের স্থান? তারা বললেন, না। তখন তিনি বললেন, তাহ’লে তুমি তোমার মানত পূর্ণ কর। কিন্তু জেনে রেখ! ঐ মানত পূরণ করবে না, যাতে আল্লাহর নাফরমানী আছে এবং আদম সন্তান যার মালিক নয়’ (আবুদাউদ হা/৩৩১৩; মিশকাত হা/৩৪৩৭; ছহীহাহ হা/২৮৭২)। ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) বলেন, মানত দুই প্রকার : একটি আল্লাহর জন্য, একটি শয়তানের জন্য। যেটি আল্লাহর জন্য, সেটি পূর্ণ করবে। আর যেটি শয়তানের জন্য, সেটি পূর্ণ করবে না। বরং তার উপরে কসমের কাফফারা ওয়াজিব হবে’ (বায়হাক্বী ১০/৭২ পৃ. হা/২০৫৭১; ছহীহাহ হা/৪৭৯)

 

অতএব নিয়ত অনুযায়ী যথাস্থানেই মানত পূরণ করতে হবে, যদি সেখানে আল্লাহর অবাধ্যতা না থাকে এবং সেখানে কোনরূপ শিরক ও বিদ‘আত না হয়। নইলে অন্যত্র দান করবে ও মানতের কাফফারা দিবে। আর মানতের কাফফারা হ’ল কসমের কাফফারার ন্যায়। আর তা হ’ল, ১০ জন মিসকীনকে মধ্যম ধরনের খাদ্য বা পোষাক প্রদান করা অথবা একটি গোলাম আযাদ করা। অথবা তিনটি ছিয়াম পালন করা’ (মায়েদাহ ৫/৮৯)। অতএব মানতকারী ও দানকারীরা সাবধান!

Posted in নির্দিষ্ট স্থানে পশু যবেহ করার মানত করলে সেখানেই কি করতে হবে? | Tagged

হাদীছে ছালাতুয যুহার দুই রাক‘আত ছালাতকে ছাদাক্বা বলা হয়েছে। তাহ’লে উক্ত দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করে কারো নামে ছাদাক্বা করা যাবে কি?


আর্থিক ছাদাক্বা ব্যতীত কোন ইবাদত কারো নামে ছাদাক্বা করা যায় না। বর্ণিত হাদীছটির ব্যাখ্যা হ’ল- এই ইবাদতটি পালনকারী ব্যক্তির ৩৬০টি হাড়ের পক্ষ থেকে ছাদাক্বা হবে। অন্যের পক্ষ থেকে নয় (উছায়মীন, শরহ রিয়াযুছ ছালেহীন ২/১৫৫)। যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন ভোরে উঠে, তখন তার প্রতিটি জোড়ার উপর একটি ছাদাক্বা রয়েছে। প্রতি ‘সুবহানাল্লাহ্’ ছাদাক্বা, প্রতি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ছাদাক্বা, প্রতি ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ছাদাক্বা, প্রতি ‘আল্লাহু আকবার’ ছাদাক্বা, ‘আমর বিল মা‘রূফ’ (সৎকাজের আদেশ) ছাদাক্বা, ‘নাহি ‘আনিল মুনকার’ (অসৎকাজ থেকে নিষেধ) ছাদাক্বা। অবশ্য চাশতের সময় দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করা এ সবের পক্ষ থেকে যথেষ্ট’ (মুসলিম হা/৭২০; মিশকাত হা/১৩১১)। এমনকি বাহনের পিছনে কাউকে আরোহণ করানোটাও ছাদাকবা। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘দু’জন লোকের মধ্যে সুবিচার করাও ছাদাক্বা। কাউকে সাহায্য করে সওয়ারীতে আরোহণ করিয়ে দেওয়া বা তার উপরে তার মালপত্র তুলে দেওয়াও ছাদাক্বা। ভাল কথাও ছাদাক্বা। ছালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে পথ চলায় প্রতিটি কদমেও ছাদাক্বা। রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্ত্ত অপসারণ করাও ছাদাক্বা’ (বুখারী হা/২৯৮৯; মুসলিম হা/১০০৯; মিশকাত হা/১৮৯৬)

Posted in ছাদাক্বা ছালাত আদায় করে করা যাবে কি? | Tagged

আমি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। যার অধিকাংশ শিক্ষার্থী মুশরিক। আমাকে যেখানে থাকতে হয় তারা সবাই অমুসলিম। আমি তাদের সাথে হারাম কিছু ভক্ষণ না করলেও আমার অধিকাংশ সময় তাদের সাথে কাটাতে হয়। এক্ষণে আমার জন্য করণীয় কী?


প্রথমত অবস্থানের ক্ষেত্রে তাদের থেকে সাধ্যমত দূরে থাকার চেষ্টা করবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মুশরিকদের সাথে যে সকল মুসলমান বসবাস করে আমি তাদের দায়িত্ব হ’তে মুক্ত…’(আবুদাউদ হা/২৬৪৫; মিশকাত হা/৩৫৪৭; ছহীহাহ হা/৬৩৬)। তিনি বলেন, ‘মুশরিকদের সাথে তোমরা একত্রে বসবাস কর না, তাদের সংসর্গেও যেয়ো না। যে মানুষ তাদের সাথে বসবাস করবে অথবা তাদের সংসর্গে থাকবে সে তাদের অনুরূপ বলে বিবেচিত হবে’ (তিরমিযী হা/১৬০৫; ছহীহাহ হা/২৩৩০)। তবে তাদের সাথে যদি বসবাস করতে বাধ্য হ’তে হয় তাহ’লে অবশ্যই নিজ ধর্মের বিধি-বিধান মেনে চলবে এবং সুযোগমত তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিবে’ (নাহল ১৬/১২৫)। আল্লাহ বলেন, ‘দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বহিষ্কার করেনি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালবাসেন’(মুমতাহিনাহ ৬০/৮)

Posted in অমুসলিমদের সাথে সব সময় থাকতে হয় এখন আমার করণীয় কী? | Tagged

যে সকল মসজিদের সামনে, ডানে, বামে, পিছনে বিশাল আকারের সবুজ গম্বুজ বিশিষ্ট বিল্ডিং-এর ছবি সম্বলিত টাইলস লাগানো আছে এমনকি মসজিদের ভিতরে সামনের দেওয়ালে পুরো দেওয়াল জুড়ে সবুজ গম্বুজ ওয়ালা বিল্ডিং-এর ছবি রয়েছে, এসকল মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে কি?


উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করা জায়েয হবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১/৬৯১)। তবে সর্বাবস্থায় মসজিদকে ছবি ও মনোযোগ বিঘ্নকারী সকল প্রকার বস্ত্ত মুক্ত রাখা আবশ্যক। কারণ এতে মুছল্লীর মনোযোগ বিনষ্ট হ’তে পারে, যা ছালাতের শিষ্টাচার বিরোধী। রাসূল (ছাঃ) বলেন, নিশ্চয়ই ছালাতের মধ্যে আল্লাহর দিকে নিবিষ্টতা থাকে’ (বুখারী হা/১১৯৯; মুসলিম হা/৫৩৮; মিশকাত হা/৯৭৯)

Posted in ছবি সম্বলিত টাইলস লাগানো মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে কি? | Tagged ,

বিবাহের সময় বরকে কবুল না বলে আলহামদুলিল্লাহ বলতে বলা হয়। বরও মুখে কবুল না বলে কবুলের নিয়তে মুখে শুধু আলহামদুলিল্লাহ বলে। অভিভাবক ও সাক্ষীরা বরের সম্মতি ধরতে পেরেছে। এক্ষণে বিবাহ শুদ্ধ হয়েছে কি? নাকি পুনরায় বিবাহের প্রয়োজন আছে?


উক্ত বিবাহ শুদ্ধ হয়েছে। কারণ কবুলের ইঙ্গিতবহ যেকোন শব্দ দ্বারা সম্মতি জানালেই বিবাহ সংঘটিত হয়ে যাবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৮/৮২-৮৩; উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ২/৩৮)

Posted in বিবাহে কবুল না বলে আলহামদুলিল্লাহ বলা যাবে কি? | Tagged

একটি খাস জমি নিয়ে একই সমাজভুক্ত মসজিদের মুছল্লীদের সবার সিদ্ধান্ত ছিল তা মসজিদের নামে হোক। কিন্তু সমাজের দু’জন প্রভাবশালী ব্যক্তি গোপনে জমিটি নিজেদের নামে করে নেয়। পরবর্তীতে সবাই বিষয়টি জেনে যায়। একে কেন্দ্র করে মুছল্লীদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয় এবং সমাজের একদল মুছল্লী নতুন একটা মসজিদ নির্মাণ করে আলাদা হয়ে যায়। আর এগুলো প্রায় ৩৬ বছর আগে ঘটেছে। এখন প্রশ্ন হ’ল, আলাদা এই নতুন মসজিদে ছালাত আদায় জায়েয হবে কি?


পারস্পরিক বিবাদকে কেন্দ্র করে পৃথক মসজিদ নির্মাণ এবং সমাজে বিচ্ছিন্নতা ও অনৈক্য সৃষ্টি করা সর্বাবস্থায় নিষিদ্ধ (তওবা ৯/১০৭)। অতএব বিবাদ মীমাংসা করে পূর্বাবস্থায় ফিরে এসে বড় জামা‘আত করার সাধ্যমত চেষ্টা করতে হবে। কেননা আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে সমবেতভাবে ধারণ কর এবং দলে দলে বিভক্ত হয়ো না’ (আলে ইমরান ৩/১০৩)। তাছাড়া জামা‘আতে লোকসংখ্যা যত বেশী হবে তার ছওয়াব ও ফযীলত তত বেশী হবে (আবুদাঊদ হা/৫৫৪; নাসাঈ হা/৮৪৩; মিশকাত হা/১০৬৬)। জানা আবশ্যক যে, বনু ‘আমর বিন ‘আওফ গোত্রে মসজিদে ক্বোবা নির্মিত হ’লে তার প্রতি হিংসাবশে তার ভাই বনু গুনুম বিন ‘আওফ গোত্রের লোকেরা যে মসজিদ নির্মাণ করে, তা ইতিহাসে মসজিদে যেরার নামে খ্যাত। যা আল্লাহর হুকুমে রাসূল (ছাঃ) পুড়িয়ে নিশ্চিহ্ন করে দেন (কুরতুবী হা/৩৪৮৫; দ্রঃ সীরাতুর রাসূল (ছাঃ), ৩য় মুদ্রণ ৫৮৩-৮৪ পৃ.)। যার ধ্বংসাবশেষ এখনও রয়েছে।

তবে বর্তমান প্রেক্ষিতে উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করলে কারাহিয়াতের সাথে জায়েয হবে (মুছত্বফা দিমাশক্বী, মাতালিবু উলিন নুহা ১/৩৭২)

Posted in পারস্পরিক বিবাদকে কেন্দ্র করে পৃথক মসজিদে ছালাত জায়েজ হবে কি? | Tagged

আমি জানি একজন ব্যক্তি সকল ধরনের শিরক-বিদ‘আতের সাথে জড়িত এবং ইসলামের প্রকাশ্য শত্রু। তাকে রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচানো যাবে কি? আর যদি রক্ত দেয়ার পরে আবার শিরক করে এতে কি আমার পাপ হবে?


এই ধরনের লোকদের রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচানো যাবে। আল্লাহ বলেন, ‘দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বহিষ্কার করেনি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ন্যায় বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালবাসেন’ (মুমতাহিনাহ ৬০/৮)। অতএব আদম সন্তান হিসাবে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করাতে কোন বাধা নেই। শিরক-বিদ‘আতে জড়িত হ’লে সে নিজেই তার পাপ ভার বহন করবে, রক্তদাতা নয়। কেননা ‘একের পাপের বোঝা অন্যে বহন করবে না’ (বনু ইস্রাঈল ১৭/১৫)। তবে সরাসরি শিরক-বিদ‘আতের কাজে তাকে সহায়তা করা যাবে না। কারণ আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা কর এবং পাপ ও সীমালংঘনের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না’ (মায়েদাহ ৫/২)

Posted in শিরক-বিদ‘আতের সাথে জড়িত ব্যক্তিকে রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচানো যাবে কি? | Tagged ,

কিশোর বয়সে স্বপ্নদোষ ও উত্তেজনায় বীর্যপাত হ’লে যে গোসল ফরয হয় তা আমি জানতাম না। একারণে আমি অনেক সময় ফরয ছালাত ফরয গোসল না করেই শুধু নাপাকি ধুয়ে বা কাপড় পাল্টিয়েই আদায় করেছি। ঊক্ত ছালাতগুলো কি কবুল হবে, নাকি তা আবার আদায় করতে হবে?


উক্ত ছালাতগুলো পুনরায় আদায় করতে হবে না। তবে অজ্ঞতাজনিত ভুলের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভবিষ্যতে পবিত্রতার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে ছালাত আদায় করতে হবে (ইবনু মাজাহ হা/২০৪৩; মিশকাত হা/৬২৯৩; ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২২/১০১-০২, ২৩/৩৭-৩৮)

Posted in স্বপ্নদোষ হলেও গোসল না করে ফরয আদায় করেছি এখন করণীয় কি? | Tagged

আমি মোরগ বিক্রি করি। বিক্রি করতে গিয়ে যদি আমি জানতে পারি আমার কাছ থেকে ক্রয়কৃত মোরগ মাযারে যবেহ করা হবে। ঐ ব্যক্তির কাছে কি আমার মোরগ বিক্রি করা বৈধ হবে?


জেনে-শুনে শিরকী কাজে সহযোগিতা করা যাবে না। অতএব যদি জানা যায় যে, উক্ত মোরগটি মাযারে যবেহ করা হবে তাহ’লে তার নিকট বিক্রয় করা যাবে না’ (ফাতাওয়া ছালেহ ফাওযান ২/৭২০-২১)। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা পাপ ও অন্যায়ের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না’ (মায়েদাহ ৫/২)। তবে সাধারণভাবে কোন অমুসলিম বা মাযারপন্থীর নিকট পণ্য বিক্রয় করায় বাধা নেই।

Posted in মাযারে মোরগ যবেহ করবে এরুপ ব্যক্তির কাছে মোরগ বিক্রি কর যাবে কি? | Tagged ,

ছালাতের পর তাসবীহ, তাকবীর ও তাহলীল পাঠ করার নিয়ম কি? রাতে ও দিনে পাঠের মধ্যে কোন তারতম্য আছে কি?


এক্ষেত্রে চারটি পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে যেগুলো ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। উক্ত হাদীছগুলোতে দিন-রাতের কোন পার্থক্য করা হয়নি।

১. সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার, আল্লাহু আকবার ৩৩ বার ও লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহূ লা শারীকা লাহূ; লাহুল মুল্কু ওয়া লাহুল হাম্দু ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর ১ বার মিলে ১০০ বার (মুসলিম, মিশকাত হা/৯৬৬, ৯৬৭)। তবে তিনটিই ৩৩ বার করে মোট ৯৯ বারও পাঠ করা যায়’ (বুখারী হা/৮৪৩; মুসলিম হা/৫৯৫)

২. উপরোক্ত নিয়মের সাথে আল্লাহু আকবার ৩৪ বার বলে ১০০ পূর্ণ করবে (মুসলিম হা/৫৯৬; মিশকাত হা/৯৬৬; ছহীহাহ হা/১০২; ছহীহুত তারগীব হা/১৫৯৩)।

৩. সুবহানাল্লাহ ২৫ বার, আলহামদুলিল্লাহ ২৫ বার, আল্লাহু আকবার ২৫ বার ও লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ২৫ বার মিলে ১০০ বার (আহমাদ হা/২১৬৪০; নাসাঈ হা/১৩৫০; মিশকাত হা/৯৭৩; ছহীহাহ হা/১০১)।

৪. সুবহানাল্লাহ ১০ বার, আলহামদুলিল্লাহ ১০ বার, আল্লাহু আকবার ১০ বার মিলে ৩০ বার হ’লেও মীযানে তা অনেক ভারী’ (বুখারী হা/৬৩২৯; মিশকাত হা/৯৬৫)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কোন মুসলিম ব্যক্তি দু’টি অভ্যাস আয়ত্ত করতে পারলে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সেই দু’টি অভ্যাস আয়ত্ত করাও সহজ, কিন্তু এ দু’টি অনুশীলনকারীর সংখ্যা কম। প্রতি ওয়াক্ত ছালাতের পর দশবার সুবহানাল্লাহ, দশবার আল্লাহু আকবার এবং দশবার আলহামদুলিল্লাহ বলা। তা মুখে পড়লে হয় (পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতে) একশত পঞ্চাশ এবং মীযানে হয় এক হাযার পাঁচশত’ (আবুদাউদ হা/৫০৬৫; তিরমিযী হা/৩৪১০; মিশকাত হা/২৩০৬; ছহীহুত তারগীব হা/৬০৬, ১৫৯৪)। অতএব উপরোক্ত চারটি পদ্ধতির যেকোন একটির উপর আমল করা যাবে।

Posted in তাসবীহ তাকবীর ও তাহলীল পাঠ করার নিয়ম কি? | Tagged

আমি যে এলাকায় ব্যবসা করি, সেখানকার মানুষ কুকুর ও শূকর কেটে খায়। এমনকি আমি যে বাসায় থাকি তারাও খায়। তারা যে টিউবওয়েল-বাথরুম ব্যবহার করে আমিও সেগুলি ব্যবহার করি। এমনকি যখন ব্যবসা করি তখন তারা রক্ত মাখা হাতেই টাকা বের করে দেয়। এখন আমার প্রশ্ন, এরূপ পরিবেশে ব্যবসা করা জায়েয হবে কি?


রুচি না হ’লে এরূপ পরিবেশে ব্যবসা ছেড়ে দেওয়াই উত্তম। তবে অমুসলিমদের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করা জায়েয। যদিও তারা হারাম বস্ত্ত খায়। রাসূল (ছাঃ) তাদের সাথে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন’ (বুখারী হা/২০৯৬,২১৬৫, ২৬১৭; মুসলিম হা/১৫৫১, ২১৯০; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১/৪৩১-৩২)। অনুরূপভাবে তাদের বসতবাড়ীতে বসবাস করায় কোন দোষ নেই। তবে তাদের ধর্মীয় কার্যাবলীতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তোমরা মুশরিকদের বিপরীত কর’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৪২১)

Posted in ব্যবসা অমুসলিমদের সাথে করা জায়েয হবে কি? | Tagged ,

রোগ আরোগ্য এবং পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার উদ্দেশ্যে কুরআন তেলাওয়াত করা যাবে কি?


কুরআন তেলাওয়াত আমলে ছালেহ-এর অন্তর্ভুক্ত। আর নেক আমলকে অসীলা করে আল্লাহর নিকট দো‘আ করা জায়েয। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি কুরআন তেলাওয়াত করে, সে যেন এর বিনিময়ে আল্লাহর নিকট কিছু প্রার্থনা করে। কেননা শীঘ্র এমন লোকদের আগমন ঘটবে যারা কুরআন পাঠ করবে। অতঃপর তার বিনিময়ে মানুষের কাছে প্রার্থনা করবে’ (তিরমিযী হা/২৯১৭; মিশকাত হা/২২১৬; ছহীহাহ হা/২৫৭)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর আমরা কুরআন নাযিল করি, যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত’ (ইসরা ১৭/৮২)। তিনি আরো বলেন, ‘তুমি বলে দাও যে, এটি বিশ্বাসীদের জন্য পথনির্দেশ ও ব্যাধির আরোগ্য’ (হা-মীম সাজদাহ ৪১/৪৪; বিন বায, ফাতাওয়া নুরুন ‘আলাদ দারব-৩/৩০৮)। তবে এর ছওয়াব অন্যকে বখশে দেওয়া যাবে না।

Posted in পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার উদ্দেশ্যে কুরআন তেলাওয়াত করা যাবে কি? | Tagged

হাসপাতালের কর্মচারী ও আগন্তুকদের জন্য নির্ধারিত ছালাতের জায়গায় জুম‘আর ছালাত আদায় করা যাবে কি? উল্লেখ্য যে, জায়গাটি হাসপাতালের ভাড়া করা জায়গা। স্থানীয় এক আলেম হাসপাতালের রোগীদের সেবায় সমস্যা হবে এই অজুহাতে গত কয়েকমাস যাবৎ জুম‘আর ছালাত আদায় করে যাচ্ছেন।


উক্ত স্থানে জুম‘আর ছালাত আদায় করা যাবে। ওমর (রাঃ) বাহরাইনবাসীদের উদ্দেশ্যে লিখিত পত্রে বলেন, তোমরা যেখানে অবস্থান করবে সেখানেই জুম‘আ আদায় করবে (ইবনু আবী শায়বাহ হা/৫১০৮; ইরওয়া ৩/৬৬, সনদ ছহীহ)। জমহূর বিদ্বানগণের মতে জুম‘আর ছালাতের জন্য নির্দিষ্ট মসজিদ হওয়া শর্ত নয় (মারদাভী, আল-ইনছাফ ২/৩৭৮; ইবনু নুজাইম, আল-বাহরুর রায়েক্ব ২/১৬২)। তবে নিকটে কোন প্রতিষ্ঠিত মসজিদ থাকলে সেখানে ছালাত আদায় করাই উত্তম’ (আল-ইনছাফ ২/৩৭৮; শায়খ বিন বায, ফাতাওয়া নুরুন ‘আলাদ দারব)। অতএব উক্ত স্থানে ছালাত আদায়ে কোন বাধা নেই।

Posted in জুম‘আর ছালাত হাসপাতালে আদায় করা যাবে কি? | Tagged

আমাদের এলাকায় বিবাহে মোহরানা বাবদ দুই লাখ টাকা দেওয়ার পাশাপাশি মেয়ের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত এক লাখ টাকা দিতে হয়। এই অতিরিক্ত এক লাখের ব্যাপারে করণীয় কি?


ইসলামী শরী‘আতে কনের নিরাপত্তা বাবদ টাকা দেওয়ার কোন বিধান নেই। এটি কনে পক্ষ থেকে বর পক্ষের উপর চাপিয়ে দেয়া যুলুম, যা অবশ্যই বাতিল যোগ্য। ইসলামে নারীর সম্মান ও নিরাপত্তার জন্যই মোহরানা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পরিশোধ করা ছেলের জন্য অপরিহার্য। সেই মোহরানার অর্থও স্ত্রী ইচ্ছা করলে স্বামীকে দিয়ে দিতে পারে (নিসা ৪/৪)। অতএব কনের নিরাপত্তার নামে অতিরিক্ত অর্থ নির্ধারণ করা শরী‘আত বিরোধী কাজ। অনুরূপভাবে এ সময় স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর অভিভাবকের নিকট থেকে যৌতুক বা কোন অর্থ দাবী করা এবং কামনা করাও নিষিদ্ধ।

Posted in বিবাহে মোহরানা এবং মেয়ের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত টাকা দেওয়া যাবে কি? | Tagged ,

পাপের কারণে কেউ কি তার রিযিক থেকে বঞ্চিত হবে?


‘পাপের কারণে বান্দা তার রিযিক থেকে বঞ্চিত হয়’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (যঈফুত তারগীব হা/১৭৭৩; যঈফুল জামে‘ হা/৩০০৬)। তবে পাপের কারণে রিযিকে বরকত কমে যেতে পারে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯১৮; মিরক্বাত)। উল্লেখ্য যে, পাপ মানুষকে রিযিক থেকে বঞ্চিত করে না। কারণ মানুষের চার মাস বয়সে তার নির্দিষ্ট রিযিক লিখে দেওয়া হয় (বুখারী হা/৬৫৯৪; মুসলিম হা/২৬৪৫; মিশকাত হা/৮২)। তাছাড়া নির্দিষ্ট রিযিক পূর্ণ না হ’লে মানুষের মৃত্যু হয় না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যদি মানুষ তার রিযিক থেকে পালায়, যেভাবে মৃত্যু থেকে পালাতে চায়, তাহ’লে রিযিক অবশ্যই তাকে পাবে যেমনভাবে মৃত্যু তাকে পেয়ে যায় (ছহীহাহ হা/৯৫২)। তিনি আরও বলেন, ‘নিশ্চয়ই কোন প্রাণী মরবে না যতক্ষণ না সে তার রূযী পূর্ণ করবে। অতএব সাবধান! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সম্পদ উপার্জনে উত্তম (অর্থাৎ বৈধ) পন্থা অবলম্বন কর। প্রাপ্য রিযিক পৌঁছতে দেরী হওয়া যেন তোমাদেরকে তা অন্বেষণে অন্যায় পথ অবলম্বনে প্ররোচিত না করে। কেননা আল্লাহর নিকটে যা রয়েছে, সেটা তাঁর আনুগত্য ব্যতীত লাভ করা যায় না’ (বায়হাক্বী শো‘আবুল ঈমান হা/১০৩৭৬; মিশকাত হা/৫৩০০; ছহীহাহ হা/২৮৬৬)

Posted in পাপের কারণে কেউ কি তার রিযিক থেকে বঞ্চিত হবে? | Tagged ,

মসজিদের ইমাম চলে গেলে বা ছুটিতে থাকলে স্থানীয় শারঈ জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তি (যিনি ইতিপূর্বে উক্ত মসজিদে ৩০ বছর ইমাম ছিলেন) সঠিক সময়ে আযান দেন ও ইমামতি করেন। কিন্তু দ্বন্দ্ব ও হিংসার কারণে কিছু লোক আউয়াল ওয়াক্তে তার ইমামতিতে মূল জামা‘আতে অংশ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে। তারা দ্বিতীয় জামা‘আত করে বা একা একা ছালাত আদায় করে। এক্ষণে তাদের ছালাতের অবস্থা কী হবে?


হিংসা-বিদ্বেষের কারণে ছালাতের জামা‘আত ত্যাগ করা নিষিদ্ধ। প্রত্যেক মুছল্লীর জন্য কর্তব্য হ’ল জামা‘আতে অংশগ্রহণ করা। এমনকি পূর্বে ছালাত আদায় করে থাকলেও জামা‘আত হ’তে দেখলে পুনরায় তাতে অংশগ্রহণ করবে। তার শেষের ছালাত নফল হয়ে যাবে (মুসলিম হা/৬৪৮; মিশকাত হা/৬০০)। তাছাড়া হিংসা-বিদ্বেষের ফলে সমাজে বিশৃংখলা সৃষ্টি হবে, যা জামা‘আতবদ্ধ জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আর এটি করা হারাম (মুসলিম হা/১৮৪৮-৫২; মিশকাত হা/৩৬৭৭)। প্রশ্নমতে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রথম জামা‘আত ত্যাগ করে ছালাত আদায় করবে, তাদের ছালাত হয়ে যাবে। কিন্তু জামা‘আত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে গোনাহগার হবে।

Posted in ছালাতের জামা‘আত ত্যাগ করলে হিংসা-বিদ্বেষের কারণে তাদের অবস্থা কি হবে? | Tagged ,

আমি মানত করেছিলাম এক মাসের মধ্যে সুস্থ হ’লে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার ছিয়াম পালন করব, এক মাসের মধ্যে কুরআন খতম করব, ইয়াতীমখানায় একটি ছাগল দান করব ও সেখানে যা দান করতাম তার দ্বিগুণ দান করব। এক্ষণে ছিয়াম পালন ও ছাগল দান করতে পারলেও কুরআন খতম করতে পারিনি এবং দ্বিগুণ দান করার মত সামর্থ্যও নেই। এক্ষণে আমার জন্য করণীয় কি?


কুরআনের বাকী অংশটুকু তেলাওয়াত করে কুরআন খতম করবে। কারণ আল্লাহর আনুগত্যের কাজে ওযরবশত দেরী হ’লে দোষ নেই’ (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ২৩/৩৪১; ফাতাওয়া ইসলামিয়াহ ৩)। আর দানের ক্ষেত্রে দু’টি পদ্ধতি গ্রহণীয়। (১) যখন সক্ষম হবে তখন এক সাথে বকেয়াসহ দান করবে। (২) মানত ভঙ্গ করে কাফফারা দিবে। আর মানতের কাফফারা কসমের কাফফারার ন্যায়। কসমের কাফফারা হ’ল ১০ জন মিসকীনকে মধ্যম ধরনের খাদ্য বা পোষাক প্রদান করা অথবা একটি গোলাম আযাদ করা। অথবা তিনটি ছিয়াম পালন করা’ (মায়েদাহ ৫/৮৯)

Posted in মানত, মানত উ‌দ্দেশ্য পূরন না হ‌লেও পূরন কর‌তে হ‌বে কি?, মানত করার পর মানতে না পারলে করণীয় কি?, মানত করার হুকুম কি?, মানত যদি নাজায়েজ হয় তাহলে আমার জন্য করণীয় কি? | Tagged

বাক প্রতিবন্ধীর উপর কি হজ্জ ফরয? যদি ফরয হয় তাহ’লে কিভাবে সে তালবিয়াহ পাঠ করবে?


সামর্থ্যবান হ’লে বাক প্রতিবন্ধীর উপরও হজ্জ ফরয (ইমরান ৩/৯৭)। সে সাধ্য অনুযায়ী হজ্জের কার্যসমূহ পালন করবে। যেগুলি পালন করতে পারবে না সেগুলি অন্যের সহায়তা নিয়ে পালন করবে। সম্ভব না হ’লে ছেড়ে দিবে। ‘তালবিয়া’ সে ইশারায় পাঠ করবে অথবা তার পক্ষে অন্য কেউ পাঠ করবে। ছাহাবীগণ শিশুদের পক্ষ থেকে তালবিয়া পাঠ করতেন (ইবনু তায়মিয়াহ, শারহুল ঊমদাহ ৪/৪৩১)

Posted in হজ্জ বাক প্রতিবন্ধীর উপর কি ফরয? | Tagged

ফুক্বাহায়ে সাব‘আ বলতে কাদেরকে বুঝায়? তাঁদের পরিচয় জানতে চাই।


ফুক্বাহায়ে সাব‘আ বলতে মদীনার প্রসিদ্ধ সাতজন ফক্বীহকে বুঝায়। তারা হ’লেন, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়েব, উরওয়া ইবনুয যুবায়ের, ক্বাসেম বিন মুহাম্মাদ বিন আবুবকর, ওবায়দুল্লাহ বিন ওতবা বিন মাসঊদ, খারেজাহ বিন যায়েদ বিন ছাবেত, সুলায়মান বিন ইয়াসার ও আবু সালামা বিন আব্দুর রহমান বিন ‘আওফ অথবা সালেম বিন আব্দুল্লাহ বিন ওমর অথবা আবুবকর বিন আব্দুর রহমান বিন হারেছ মাখযূমী। এঁদের ব্যাপারে ইবনুছ ছালাহ, ইবনুল মুবারক, আবুয যিনাদ সহ অধিকাংশ মুহাদ্দিছ ও ঐতিহাসিক ঐক্যমত পোষণ করেছেন (মুক্বাদ্দামা ইবনুছ ছালাহ ৩০৪-৩০৫ পৃঃ; আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়াহ ১/৩৬৪; সুয়ূতী, তাদরীবুর রাভী ২/৬৯৯)

Posted in ফুক্বাহায়ে সাব‘আ বলতে কাদেরকে বুঝায়? | Tagged

হজ্জের সফরে আরাফার দিনে গোসল করা কি সুন্নাত?


আরাফার দিনে গোসল করা ‘মুস্তাহাব’। গোসল করলে ছওয়াব পাবে। আর না করলে ছওয়াব পাবে না। আলী (রাঃ)-কে গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বলেন, চাইলে প্রতিদিন গোসল কর। তাকে বলা হ’ল, এই গোসল নয়। তখন তিনি বললেন, তাহ’লে জুম‘আর দিন, আরাফার দিন ও দুই ঈদের দিন গোসল করবে’ (বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা হা/৫৯১৯; সিলসিলাতুল আছা-রিছ ছহীহাহ হা/৩৫৩)। অবশ্য ছাহাবীগণের আমল থাকায় অধিকাংশ ফক্বীহ আরাফার দিন গোসল করাকে ‘সুন্নাত’ বলেছেন (আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়াহ ৪৫/৩২৩)

Posted in হজ্জের সফরে আরাফার দিনে গোসল করা কি সুন্নাত? | Tagged ,

জনৈক বক্তা বলেন, কোন ব্যক্তি যদি গোনাহ করে, তাহ’লে গোনাহ লেখক ফেরেশতা ছয় ঘন্টা অপেক্ষা করে। এর মধ্যে যদি সে তওবা করে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে তাহ’লে উক্ত গোনাহ লেখা হয় না। আর তওবা না করলে একটি গোনাহ লেখা হয়। উক্ত বক্তব্যের সত্যতা জানতে চাই।


উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি ‘হাসান’ (ত্বাবারাণী কাবীর হা/৭৭৬৫; ছহীহাহ হা/১২০৯)। তবে অন্য একটি হাদীছে সাত ঘন্টার কথা রয়েছে যা ‘মউযূ’ বা জাল (যঈফাহ হা/২২৩৭)। এতদ্ব্যতীত রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা (ফেরেশতাদেরকে) বলেন, ‘আমার বান্দা কোন পাপ কর্মের কথা ভাবলেই তা লিখবে না, যতক্ষণ না সেটি করে। যদি করে তবে একটি পাপ লিখবে। আর যদি আমার কারণে পরিত্যাগ করে, তার জন্য একটি নেকী লেখ। আর যখন সে কোন সৎকর্মের সংকল্প করে, কিন্তু সেটি না করে, তাহ’লে তার জন্য একটি নেকী লিখবে। আর তা করলে দশ থেকে সাতশ’ বা বহুগুণ বেশী নেকী লিখবে’ (বুখারী হা/৭৫০১, ৬৪৯১; মুসলিম হা/১২৯; মিশকাত হা/২৩৭৪)

Posted in গোনাহ করলে ফেরেশতা লেখার জন্য ছয় ঘন্টা অপেক্ষা করে কি? | Tagged

জমির বর্গাচাষীর ফসল নষ্ট হ’লে কি উভয়ে ক্ষতির অংশীদার হবে?


এমতাবস্থায় দেখতে হবে যে, বর্গা কি শর্তে দেয়া হয়েছে। যদি মুযারাবা (একজনের অর্থ, অপরজনের শ্রম) পদ্ধতিতে হয়, তবে কেবল বিনিয়োগকারী বা জমির মালিক ক্ষতির অংশীদার হবে। আর মুশারাকা (উভয়ের অর্থ ও পরিশ্রম) পদ্ধতিতে হ’লে বিনিয়োগকারী ও চাষী উভয়ই লোকসান বহন করবে (আল-মাওসূআতুল ফিক্বহিইয়াহ ৩৮/৬৪)

Posted in জমির বর্গাচাষীর ফসল নষ্ট হ’লে কি উভয়ে ক্ষতির অংশীদার হবে? | Tagged ,

শিশুকে কোলে নেওয়ার সময় প্রতিবার সালাম প্রদান করতে হবে মর্মে কোন বিধান আছে কি? কেউ কেউ মনে করেন সালাম দিয়ে শিশুকে কোলে না নিলে বদ নযর লাগে। এরূপ ধারণা কি সঠিক?


কারো সন্তানকে কোলে নেওয়ার জন্য প্রতিবার সালাম  দিতে হবে মর্মে শরী‘আতে কোন বিধান নেই। তাছাড়া সালাম দিয়ে কোলে না নিলে বদনযর লাগার বিষয়টিও ভিত্তিহীন ও কুসংস্কার মাত্র।

Posted in শিশুকে কোলে নেওয়ার সময় প্রতিবার সালাম প্রদান করতে হবে কি? | Tagged

কোন বিষয়ের সমাধানকল্পে গুরুত্ব বুঝানোর জন্য মসজিদের ভিতর কসম করা যাবে কি?


মসজিদে বসে কসম করা যাবে। এ ব্যাপারে ইমাম মালেক (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বলেন, মসজিদে আল্লাহর নামে কসম করতে পারে (আল-মুদউওয়ানাহ ৪/৫)। ইমাম শাফেঈ (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনিও গুরুত্বের জন্য মসজিদে কসম করার পক্ষে মত দেন’ (কিতাবুল উম্ম ৭/৩৬)

Posted in কসম মসজিদের ভিতর করা যাবে কি?, মসজিদের ভিতর কসম করা যাবে কি? | Tagged ,