মা তার সন্তানকে জানাযার অছিয়ত করে যায়। কিন্তু সন্তানের বদলে স্বামী তার জানাযা পড়ান। এ কারণে প্রায় বিশজন লোক ছালাত আদায় থেকে বিরত থাকে। পরবর্তীতে অছিয়ত পালনের স্বার্থে বাকীদের নিয়ে সন্তান পুনরায় জানাযার ছালাত আদায় করে। এমনটি করা সঠিক হয়েছে কি?


পারতপক্ষে অছিয়ত পূরণ করাটাই কর্তব্য। যেমন আবুবকর (রাঃ) তার স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইসকে, ফাতেমা (রাঃ) তার স্বামী আলী (রাঃ)-কে এবং আনাস (রাঃ) তার ছাত্র ইবনু সীরীনকে তাঁর গোসল দেওয়ানোর অছিয়ত করে যান এবং তারা তা পালন করেন (দারাকুৎনী, বুলুগুল মারাম হা/৫৫৩; নায়লুল আওতার ১/২৯৯)। তবে কোন কারণে তা পূরণ করা সম্ভব না হ’লে তা নিয়ে মতভেদ করা এবং ছালাতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকা সমীচীন নয়। কারণ এরূপ অছিয়ত পূরণ করা ওয়াজিব নয়; বরং মুস্তাহাব (উছায়মীন, আশ-শারহুম মুমতে‘ ৫/২৬৫-৬৬)। সুতরাং অছিয়ত পালন করতে গিয়ে পুনরায় জানাযার ছালাত আদায় করা ঠিক হয়নি।

Advertisements
Posted in অছিয়ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক কি? | Tagged ,

আমি দশ বছর পূর্বে স্বামী থেকে একটি কন্যাসহ তালাকপ্রাপ্তা হয়েছি। পরে আমি অন্যত্র বিবাহিতা হই। আমার দ্বিতীয় স্বামী আমার মেয়েকে প্রতিপালন করে। এক্ষণে আমার মেয়ের বিয়েতে আমি বা তার পালক পিতা কি অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করতে পারবে? পূর্বের স্বামী দাবী করলে করণীয় কী?


বিবাহের ক্ষেত্রে মেয়ের অভিভাবক পিতাই হবেন। যদিও স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হন। পালক পিতা নিজ পিতার স্থলাভিষিক্ত হ’তে পারবেন না, যদিও তিনি লালন-পালন করে থাকেন। এক্ষণে মূল পিতা যদি মেয়ের অলী হ’তে ইচ্ছুক হন, তবে তিনিই অভিভাবক হবেন। আর যদি ইচ্ছুক না হন, তাহ’লে সরকারের পক্ষে আদালত বা কাযী অভিভাবক হয়ে বিয়ে দিবেন। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেন, যার অলী নেই, শাসক তার অলী’ (ইবনু মাজাহ হা/১৮৭৯; মিশকাত হা/৩১৩১)

রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে মহিলা তার অলীর অনুমতি ছাড়া বিয়ে করবে তার বিবাহ বাতিল, বাতিল এবং বাতিল। যদি এরপর স্বামী তার সাথে সহবাস করে তবে স্ত্রী মহরানার হকদার হবে; যেহেতু তার স্বামী তার লজ্জাস্থানকে হালাল মনে করে ভোগ করেছে। আর অলী তথা অভিভাবকরা যদি বিবাদে লিপ্ত হয়, তবে যার অভিভাবক নেই তার অলী বা অভিভাবক হবে দেশের শাসক (মিশকাত হা/৩১৩১)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, কোন নারী কোন নারীকে বিবাহ দিতে পারে না এবং কোন নারী নিজেকে নিজে বিবাহ দিতে পারে না। এরূপ করলে সে ব্যভিচারিণী হিসাবে গণ্য হবে’ (দারাকুৎনী হা/৩৫৮৪; ইরওয়া হা/১৮৪১)

প্রশ্নের আলোকে মূল পিতা অভিভাবক হিসাবে তার দায়িত্ব পালন না করলে আল্লাহর নিকটে গোনাহগার হবে। আর পালক পিতা নেকীর হকদার হবেন। পালক মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে তিনি শরী‘আত মেনে কাজ করবেন।

Posted in কন্যার বিবাহে সৎ বাবা অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করতে পারবে কি? | Tagged , ,

গল্পচ্ছলে অনেক সময় অকারণ এমন কিছু মিথ্যা কথা বলে ফেলি বা অতিরঞ্জন করি, যাতে অন্যের কোন ক্ষতি হয় না বা তাতে কোন অসৎ উদ্দেশ্যও থাকে না। এরূপ মিথ্যা কথা বলায় কি গুনাহ হবে?


মিথ্যা বলা সর্বাবস্থায় হারাম। আল্লাহ বলেন, হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক’ (তওবাহ ৯/১১৯)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘দুর্ভোগ সেই ব্যক্তির, যে মিথ্যা বলে লোকদেরকে হাসায়। দুর্ভোগ তার জন্য, দুর্ভোগ তার জন্য’ (আবুদাউদ হা/৪৯৯০; আহমাদ হা/২০০৩৫; ছহীহুত তারগীব হা/২৯৪৪)। তিনি আরো বলেন, মিথ্যা গুরুত্বের সাথে এবং ঠাট্টাচ্ছলেও সংগত নয়। আর তোমাদের কেউ তার সন্তানকে কিছু দেয়ার ওয়াদা করলে তাকে তা না দেওয়াটাও সংগত নয় (আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৩৮৭; তাবারাণী কাবীর হা/৮৫২৩, সনদ ছহীহ)। রাসূল (ছাঃ) মিথ্যা পরিহারের ফযীলত সম্পর্কে বলেন, আমি জান্নাতের সমতলে এক গৃহের যিম্মাদার হব সেই ব্যক্তির জন্য, যে সত্যাশ্রয়ী হওয়া সত্ত্বেও তর্ক বর্জন করে। আর আমি জান্নাতের মধ্যখানে এক গৃহের যিম্মাদার হব তার জন্য, যে উপহাসচ্ছলেও মিথ্যা পরিত্যাগ করে এবং আমি জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরের এক গৃহের যিম্মাদার হব তার জন্য, যার চরিত্র সুন্দর হয়’ (আবূদাউদ হা/৪৮০০; ছহীহাহ হা/২৭৩)। অতএব মিথ্যা সর্বাবস্থায় বর্জনীয় এবং গল্পচ্ছলেও মিথ্যা বলা যাবে না। বলে ফেললে অনুতপ্ত হয়ে তওবা করতে হবে।

Posted in মিথ্যা গল্প বলা যাবে কি? | Tagged ,

নারীদের নাম হিসাবে কানীয ফাতেমা রাখা যাবে কি? এর অর্থ কি?


কানীয শব্দটি ফার্সী (كنيز)। যার অর্থ বাঁদী, দাসী প্রভৃতি। সুতরাং আল্লাহর বান্দী অর্থে কানীয নাম রাখা যায়। তবে সম্বন্ধবাচক অর্থে কানীয ফাতেমা নাম থেকে যদি ফাতেমা (রাঃ)-এর বাঁদী উদ্দেশ্য নেওয়া হয়, তাহ’লে এই নাম রাখা বৈধ নয়। উল্লেখ্য যে, শী‘আ আলেমদের মধ্যে আব্দুল হাসান, আব্দুল হুসাইন প্রভৃতি নামের প্রচলন রয়েছে। এদ্বারা তারা হাসান এবং হুসাইন (রাঃ)-এর দাস বা বান্দা হিসাবে নিজেদের প্রকাশ করে থাকেন। যা সিদ্ধ নয়।

Posted in নারীদের নাম হিসাবে কানীয ফাতেমা রাখা যাবে কি? এর অর্থ কি? | Tagged

একটি কবরে একাধিক ব্যক্তিকে দাফন করা যাবে কি?


স্বাভাবিকভাবে একটি কবরে একাধিক ব্যক্তিকে দাফন অনুচিৎ। তবে স্থান সংকুলান না হ’লে বা মহামারির কারণে একাধিক কবর খনন করার মত লোক পাওয়া না গেলে কেবল তখনই এক কবরে একাধিক ব্যক্তিকে দাফন করা যাবে (নববী, আল-মাজমূ‘ ৫/২৪৭; উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ৫/৩৬৯)। ওহোদ যুদ্ধের দিন একাধিক শহীদকে একই কবরে দাফন করা হয়েছিল (দ্র. সীরাতুর রাসূল (ছাঃ) ৩৮৫ পৃ.)। হিশাম ইবনু আমের (রাঃ) বলেন, আমরা ওহোদের দিন রাসুলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের পক্ষে প্রত্যেক শহীদের জন্য পৃথক পৃথক কবর খনন করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, তোমরা কবর খনন কর এবং কবরকে গভীর কর এবং দু’জন বা তিন জনকে এক এক কবরে দাফন কর। ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কাকে প্রথমে রাখব? তিনি বললেন, যে কুরআন বেশী জানে তাকে প্রথমে রাখ। রাবী বলেন, এভাবে আমার পিতা একই কবরের তিনজনের অন্যতম ছিলেন’ (নাসাঈ হা/২০১০; ইবনু মাজাহ হা/১৫৬০;  মিশকাত হা/১৭০৩)

Posted in কবরে একাধিক ব্যক্তিকে দাফন করা যাবে কি? | Tagged

হজ্জ পালনকালে প্রায় ৪৫ দিন সেখানে অবস্থানকালে কোন কোন নফল ছালাত আদায় করা যাবে এবং কোনগুলি বর্জন করতে হবে?


এসময়  হাজীগণ কেবল যোহর, মাগরিব ও এশার সুন্নাতগুলি বাদ দিবেন। তাছাড়া অন্য সকল প্রকার নফল ছালাত আদায় করবেন। যেমন তাহাজ্জুদ, ছালাতুয যোহা, ছালাতুল ইস্তেখারাহ, ছালাতুল হাজত, ছালাতুত তওবা ও অন্যান্য নফল ছালাত (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৪/৩৫৬)। তবে রাসূল (ছাঃ) মুযদালিফায় মাগরিব ও এশা এক আযান ও দুই ইক্বামতসহ আদায় করেন। কিন্তু এ দু’য়ের মাঝে কোন সুন্নাত বা নফল পড়লেন না (বুখারী হা/১৬৭৩; মিশকাত হা/২৬০৭)। হযরত জাবের (রাঃ) হ’তে বর্ণিত বিদায় হজ্জের দীর্ঘ হাদীছে দেখা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মুযদালিফায় মাগরিব ও এশা জমা ও ক্বছর শেষে ফজর পর্যন্ত ঘুমিয়ে ছিলেন। অতঃপর তিনি ফজর পড়েন’ (মুসলিম হা/১২১৮ (১৪৭); মিশকাত হা/২৫৫৫)। এতে বুঝা যায় যে, তিনি এই রাতে বিতর বা তাহাজ্জুদ পড়েননি (‘হজ্জ ও ওমরাহ’ বই ৮৯ পৃ.)

ফজরের পূর্বের দু’রাক‘আত সুন্নাত, বিতর ও তাহাজ্জুদের ছালাত সবসময় আদায় করা যায়। কেননা রাসূল (ছাঃ) এই ছালাতগুলি সাধারণতঃ পরিত্যাগ করতেন না। আয়েশা (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) ফজরের দু’রাক‘আত সুন্নাত আদায় করার প্রতি যত কঠোরভাবে খেয়াল রাখতেন অন্য কোন নফল ছালাতের প্রতি ততখানি রাখতেন না (বুঃ মুঃ মিশকাত হা/১১৬৩)

Posted in হজ্জ পালনকালে সেখানে অবস্থানকালে কোন নফল ছালাত আদায় করা যাবে? | Tagged

সম্প্রতি কল্লাকাটা নিয়ে সমাজে ব্যাপক আতংক তৈরী হয়েছে। গুজবের কারণে অনেক নিরীহ মানুষকে হত্যা পর্যন্ত করা হচ্ছে। এক্ষণে এমন মিথ্যা গুজবে কান দেওয়ার পরিণতি কি এবং গুজব প্রতিরোধে করণীয় কি?


যে কোন অবস্থায় গুজবে কান দিয়ে বা স্রেফ ধারণার ভিত্তিতে কোন অপপ্রচার বা অনাকাঙ্ক্ষিত কর্ম করা নিষিদ্ধ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, কোন ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে সে যা শোনে তা-ই প্রচার করে (মুসলিম হা/৫; মিশকাত হা/১৫৬)। আল্লাহ বলেন, হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা অধিক অনুমান বা ধারণা থেকে দূরে থাক। কারণ কোন কোন অনুমান পাপ (হুজুরাত ৪৯/১২)। তিনি আরও বলেন, আর তাদের অধিকাংশ কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে, সত্যের পরিবর্তে অনুমান তো কোন কাজে আসে না, তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে সবিশেষ অবগত (ইউনুস ১০/৩৬)। এক্ষণে গুজবের পিছনে ছোটার পরিণাম এবং গুজব প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে সূরা হুজুরাতের ৬ আয়াতে আল্লাহ সুস্পষ্টভাবে বলেন, হে বিশ্বাসীগণ! যদি কোন ফাসেক ব্যক্তি তোমাদের নিকট কোন খবর নিয়ে আসে, তাহ’লে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে; যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়কে আঘাত না কর এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমরা ধারণা থেকে বেঁচে থাক। কেননা ধারণা হ’ল সবচেয়ে বড় মিথ্যা সংবাদ (বুখারী হা/৬০৬৪; মুসলিম হা/২৫৬৩; মিশকাত হা/৫০২৮)। অতএব গুজব প্রচার থেকে যেমন বিরত থাকা কর্তব্য, তেমনি গুজবের ভিত্তিতে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাও নিষিদ্ধ। অতএব যারা গুজব রটায় ও গুজব শুনে কাজ করে তারা উভয়ে পাপী। তওবা না করা পর্যন্ত তারা আল্লাহর নিকট ক্ষমা পাবে না।

Posted in মিথ্যা গুজবে কান দেওয়ার পরিণতি কি এবং গুজব প্রতিরোধে করণীয় কি? | Tagged ,

ইসলামে গণপিটুনীর কোন শাস্তি আছে কি? যদি কোন ব্যক্তিকে হত্যায় অসংখ্য লোক অংশগ্রহণ করে, তবে প্রত্যেকের শাস্তি কি একইরূপ হবে?


আদালত কর্তৃক বিচার শেষে ক্বিছাছ ব্যতীত সর্বাবস্থায় মানুষ হত্যা করা হারাম। এমনকি কোন স্পষ্ট অপরাধীকেও বিচারহীনভাবে মারা যাবে না। এক্ষণে কাউকে গণপিটুনী দিয়ে হত্যা করা হ’লে সংশ্লিষ্ট সকলেই অপরাধী সাব্যস্ত হবে এবং নিহতের উত্তরাধিকারীরা ক্ষমা না করলে সকলকেই ক্বিছাছ হিসাবে হত্যা করা হবে। ওমর (রাঃ) একজন লোককে হত্যার অপরাধে ছান‘আর সাতজন ব্যক্তিকে হত্যা করে বলেছিলেন, যদি পুরো ছান‘আবাসী এতে জড়িত থাকত, তাহ’লে সকলকেই আমরা হত্যা করতাম (বুখারী হা/৬৮৯৬; মিশকাত হা/৩৪৮১)। আলী (রাঃ) একজনকে হত্যার অপরাধে তিনজনকে হত্যা করেছিলেন (বায়হাক্বী, মা‘রিফাতুস সুনান হা/৫০৬৩; ইরওয়া হা/২২০২, সনদ যঈফ)। ইবনু আববাস (রাঃ) একজনকে হত্যার অপরাধে একদল লোককে হত্যার শাস্তি দিয়েছিলেন (আব্দুর রাযযাক হা/১৮০৮২; ইরওয়া ৭/২৬১)। সর্বোপরি বিচারক অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী বিচার করবেন। যদি গণপিটুনী হত্যার উদ্দেশ্যে না হয়ে থাকে, তবে আদালত ক্বিছাছের পরিবর্তে আসামীদের নিকট থেকে দিয়াত বা রক্তমূল্য আদায় করবে (নিসা ৪/৯২)। আর যদি আদালতের বিচারে নিহত ব্যক্তি প্রকৃতই অপরাধী সাব্যস্ত হয়, তবে আদালত আসামীদের শাস্তি মওকূফ করতে পারেন।

Posted in ইসলামে গণপিটুনীর কোন শাস্তি আছে কি? | Tagged , ,

ইহরাম অবস্থায় বা তাওয়াফের সময় মহিলারা নেক্বাব বা হাতমোজা পরিধান করলে হজ্জ বা ওমরার কোন ক্ষতি হবে কি?


ইহরাম অবস্থায় মহিলারা নেক্বাব ও হাতমোজা পরবে না। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মুহরিম মহিলাগণ নেক্বাব এবং হাতমোজা লাগাবে না’ (বুখারী হা/১৮৩৮; মিশকাত হা/২৬৭৮)। তবে ফেৎনার আশংকা থাকলে তারা ভিন্ন কাপড় দ্বারা মুখ ও হাত ঢাকতে পারবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১১/১৯২-১৯৩)। শায়খ বিন বায বলেন, এজন্য আলাদা সেলাইযুক্ত স্কার্ফ বা মোজা পরবে না। বরং বড় কাপড় দিয়ে মুখমন্ডল ও হাত ঢেকে রাখবে (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৫/২২৩; আশ-শারহুল মুমতে‘ ৭/১৬৫)। আয়েশা (রাঃ) বলেন, (হজ্জ মওসুমে) আমরা ইহরাম অবস্থায় রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে ছিলাম। এসময় কোন কাফেলা আমাদের অতিক্রম করলে আমাদের মহিলারা মাথার কাপড় টেনে মুখ ঢাকতেন। আর তারা আমাদের সম্মুখ হ’তে দূরে সরে গেলে আমরা আমাদের চেহারা খুলতাম’ (আবূদাউদ হা/১৮৩৩; মিশকাত হা/২৬৯০; ইরওয়া হা/১০২৩, সনদ ছহীহ)। তবে কেউ ভুলক্রমে বা অজ্ঞতাবশে নেক্বাব বা হাতমোজা পরিধান করে থাকলে তাকে কোন কাফফারা দিতে হবে না (বাক্বারাহ ২/২৮৬; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৪/৪৩৩-৪৩৪)

Posted in ইহরাম অবস্থায় মহিলারা নেক্বাব পরিধান করলে কোন ক্ষতি হবে কি? | Tagged ,

ভারতে সম্প্রতি জনৈক মুসলিম ব্যক্তিকে জোরপূর্বক জয় শ্রীরাম বলিয়ে নেয়া হয়েছে। উক্ত ব্যক্তি যদি তওবার সুযোগ না পায় তবে কি সে মুশরিক হিসাবে মৃত্যুবরণ করেছে?


আল্লাহর প্রতি আন্তরিক বিশ্বাস থাকলে সে তওবা করার সুযোগ না পেলেও মুশরিক হবে না। বরং সে ঈমানের অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করবে (ইবনু হাজার, ফাৎহুল বারী ১২/৩১২; ইবনু আব্দিল বার্র, আত-তামহীদ ১/১২০)। আল্লাহ বলেন, ‘যার উপরে (কুফরীর জন্য) যবরদস্তি করা হয়, অথচ তার হৃদয় ঈমানের উপর অটল থাকে, সে ব্যতীত’… (নাহল ১৬/১০৬)। আয়াতটি আম্মার বিন ইয়াসির (রাঃ) সম্পর্কে নাযিল হয়। ইসলামের প্রথম মহিলা শহীদ তার মা সুমাইয়া ও তার পিতা ইয়াসিরকে হত্যা করার পর পুত্র আম্মারকেও তার ঈমানের জন্য চরমভাবে নির্যাতন করা হয়। অবশেষে তাকে তাদের মূর্তি-প্রতিমাগুলির প্রশংসা এবং রাসূল (ছাঃ)-কে গালি দিতে বাধ্য করা হয়। এরপর তিনি ছাড়া পেয়ে সোজা রাসূল (ছাঃ)-এর কাছে এসে ঘটনা বর্ণনা করেন। রাসূল (ছাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করেন ‘ঐ সময় তোমার অন্তর কিরূপ ছিল’? তিনি বললেন, ‘ঈমানের উপর অবিচল ছিল’। রাসূল (ছাঃ) বললেন ‘যদি ওরা আবার বলতে বলে, তাহ’লে তুমি আবার বল’ (অর্থাৎ উক্ত অবস্থায় ঈমানের উপর অটল থাকলে শিরকী বাক্যের কারণে ঈমান ক্ষতিগ্রস্ত হবে না)। তখন অত্র আয়াত নাযিল হয়’ (হাকেম হা/৩৩৬২, ২/৩৫৭ পৃ., সনদ ছহীহ; বায়হাক্বী ৮/২০৮-০৯; তাফসীর ইবনু জারীর, কুরতুবী, ইবনু কাছীর)

Posted in জোরপূর্বক জয় শ্রীরাম বলিয়ে নিলে সে মুশরিক হিসাবে মৃত্যুবরণ করবে কি? | Tagged , ,

সূর্য ওঠার সামান্য পূর্বে ঘুম ভেঙ্গেছে। এমতাবস্থায় ফরয ছালাত আদায় করে তারপর কি সুন্নাত পড়তে হবে? আর সেটি হ’লে সেটা কি সূর্যোদয়ের পর পড়তে হবে?


এমতাবস্থায় সুন্নাত সহই ফজরের দু’রাক‘আত ফরয ছালাত আদায় করবে। সূর্যোদয় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। কেননা ঘুম ভাঙ্গার উপর বান্দার কোন এখতিয়ার নেই। রাসূল (ছাঃ) বলেন, কেউ ছালাত ভুলে গেলে অথবা ঘুমিয়ে গেলে তার কাফফারা হ’ল, ঘুম ভাঙ্গলে অথবা স্মরণে আর সাথে সাথে সেটি আদায় করা। এটি ব্যতীত তার কোন কাফফারা নেই (বুঃ মুঃ মিশকাত হা/৬০৩-৪)। কোন কারণে ফজরের দু’রাক‘আত সুন্নাত ক্বাযা হ’লে তা ফজরের ছালাতের পরে আদায় করে নিবে (বুঃ মুঃ মিশকাত হা/১০৪৩; আবূদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/১০৪৪; দ্র. ছালাতুর রাসূল ১৩৫ পৃ.)

Posted in সূর্যোদয়ের সময় সুন্নাতসহ ফরয ছালাত আদায় করতে হবে কি? | Tagged ,

নারীরা কি জামা‘আতে বা একাকী চন্দ্রগ্রহণ বা সূর্যগ্রহণের ছালাত আদায় করতে পারে?


মহিলাগণ পুরুষদের পিছনে দাঁড়িয়ে জামা‘আতে সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণের ছালাত আদায় করতে পারেন। হযরত আয়েশা, আসমা ও আনছার মহিলাগণ পুরুষের জামা‘আতের পিছনে এই ছালাত আদায় করেছিলেন (বুখারী হা/৯২২)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সূর্য গ্রহণের দীর্ঘ ছালাত শেষে খুৎবায় বলেন, সূর্য বা চন্দ্র গ্রহণ কারু মৃত্যু বা জন্মের কারণে হয় না। বরং এর দ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ভয় দেখান। অতএব যখন তোমরা এগুলি দেখবে, তখন আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য তোমরা দ্রুত তাঁর স্মরণ, দো‘আ ও ক্ষমাপ্রার্থনার দিকে ধাবিত হবে’ (বুখারী হা/১০৫৯; মুসলিম হা/৯১২)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, যতক্ষণ না গ্রহণ দূর হয়’ (মুসলিম হা/৯১৫)

উপরোক্ত হাদীছের আদেশ মুমিন নর-নারী সকলের জন্য প্রযোজ্য। অতএব উক্ত ‘আম হাদীছের নির্দেশ অনুযায়ী মহিলাগণ বাড়িতে জামা‘আতের সাথে বা একাকী উক্ত ছালাত পড়বেন। জামা‘আতের সাথে পড়লে তারা খুৎবা দিবেন না। তবে উক্ত বিষয়ে তাদের মধ্যে থেকে একজন আলোচনা করবেন (নববী, আল-মাজমূ‘ শারহুল মুহাযযাব ৫/৫৯; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৬/৩১০)

Posted in সূর্যগ্রহণের ছালাত নারীরা আদায় করতে পারে কি? | Tagged ,

যারা চৌদ্দশ’ বছর আগে কিংবা এর আগে মারা গিয়েছে এবং যারা কিয়ামতের দিন মারা যাবে, তাদের শাস্তি আর চৌদ্দশ’ বছর আগের মৃতের শাস্তি তো সমান হচ্ছে না। বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানিয়ে বাধিত করবেন।


মানুষের কর্ম অনুযায়ী শাস্তি হবে। আল্লাহ কারো প্রতি যুলুম করবেন না। যার যা প্রাপ্য তাকে তা-ই দেবেন। সময়ের বিষয়টি আপেক্ষিক। আল্লাহ বলেন, ‘যেদিন তারা (ক্বিয়ামত দিবস) প্রত্যক্ষ করবে সেদিন তাদের মনে হবে, যেন তারা পৃথিবীতে মাত্র একটি সন্ধ্যা বা একটি প্রভাতকাল অবস্থান করেছে’ (নাযে‘আত ৭৯/৪৬)। উক্ত মর্মের সকল আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, পার্থিব জীবনে কারও অবস্থানকাল যত বেশীই হোক না কেন, বস্ত্ততঃ তা আখেরাতের তুলনায় অতীব স্বল্প কাল। সর্বোপরি বিষয়টি অদৃশ্যের জ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং এ ব্যাপারে অহেতুক ধারণা পোষণ করা অর্থহীন।

Posted in কিয়ামতের দিন যারা মারা যাবে তাদের শাস্তি কম হবে কি পূর্বের চাইতে? | Tagged ,

আমাদের এলাকায় অনেক মহিলা মাথা থেকে ঝরে পড়া অতিরিক্ত চুল বিক্রয় করে। এটি কি জায়েয হবে?


চুল বিক্রয়যোগ্য বস্ত্ত নয়। কারণ চুল দেহেরই একটি অংশ। আল্লাহ বলেন, ‘আমরা আদম সন্তানকে উচ্চ মর্যাদা দান করেছি’ (ইসরা ১৭/৭০)। তাই এটি জায়েয হবে না যে, এভাবে মানব দেহের কোন অংশ অপদস্থ ও অপমানিত হৌক’ (আল-ইনাইয়া শারহুল হেদায়া ৬/৪২৫; আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়া ২৬/১০২)। ইমাম নববী বলেন, যা মানব দেহের যে অংশ লেগে থাকা অবস্থায় বিক্রয় নিষিদ্ধ তা বিচ্ছিন্ন অবস্থাতেও নিষিদ্ধ যেমন মানুষের চুল’ (আল-মাজমূ‘ ৯/২৫৪)। ইমাম মালেক (রহঃ)-কে মানুষের মুন্ডন করা চুল বিক্রয়ের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বিষয়টিকে চরম অপসন্দ করেন (ইবনু আব্দিল বার্র, আল-কাফী ফী ফিক্বহি আহলিল মদীনাহ ২/৬৭৬)

Posted in মাথা থেকে ঝরে পড়া চুল বিক্রয় করা জায়েয হবে কি? | Tagged ,

নির্দিষ্ট স্থানে কবর দেওয়ার ব্যাপারে পিতা-মাতার অছিয়ত পূর্ণ করা কি আবশ্যিক?


আবশ্যিক নয়, তবে উত্তম। কারণ পিতা-মাতার অছিয়ত পূর্ণ করার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করা সন্তানের একান্ত দায়িত্ব। তবে এক দেশ থেকে আরেক দেশে লাশ নিয়ে যাওয়ার কোন বিধান নেই। বরং কাছাকাছি এলাকার কোন মুসলিম কবরস্থানে তাকে দাফন করতে হবে (আবূদাউদ হা/৫১৪২; মিশকাত হা/৪৯৩৬; ছহীহ ইবনু হিববান হা/৪১৮; বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ১৩/৪২৩)

Posted in কবর দেওয়ার ব্যাপারে পিতা-মাতার অছিয়ত পূর্ণ করা কি আবশ্যিক? | Tagged

পিতা-মাতাকে যাকাত দেয়া দেওয়া যাবে কি? যাকাতের টাকা দিয়ে কি তাদের ঋণ পরিশোধ করা যাবে?


সন্তানের দায়িত্ব হ’ল পিতা-মাতার ভরণপোষণ করা। এজন্য বিদ্বানগণ এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, পিতা-মাতা বা সন্তান-সন্ততিকে যাকাত প্রদান করা যাবে না। কেননা তা প্রকারান্তরে নিজেকেই যাকাত প্রদানের শামিল (ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী ২/২৬৯)। তবে দু’টি ক্ষেত্রে ইবনু তায়মিয়াসহ কতিপয় বিদ্বান যাকাত প্রদানের পক্ষে মত ব্যক্ত করেছেন। যেমন (১) পিতা বা সন্তান যদি ঋণগ্রস্ত হন এবং তাদের উপার্জন ভরণপোষণের জন্য যথেষ্ট না হয়। কেননা পিতা বা সন্তান পরস্পরের ঋণ পরিশোধে বাধ্য নন। (২) পিতা বা সন্তান যদি পরস্পরের খরচ বহনে সক্ষম না হন, তাহ’লে তারা যাকাতের হকদার হবেন’ (ইবনু তায়মিয়াহ, আল-ফাতাওয়াল কুবরা ৫/৩৭৩; আল-ইখতিয়ারাত ১০৪ পৃ. উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ৬/২৫৯-২৬০)

Posted in যাকাত পিতা-মাতাকে দেওয়া যাবে কি?, যাকাতের টাকা দিয়ে কি তাদের ঋণ পরিশোধ করা যাবে? | Tagged

রাসূল (ছাঃ)-এর মুওয়াযযিন কতজন ছিলেন? কারা কোথায় আযান দিতেন?


চারজন। তন্মধ্যে মদীনায় ছিলেন দু’জন- (১) বেলাল বিন রাবাহ ও (২) আব্দুল্লাহ ইবনু উম্মে মাকতূম (রাঃ), তাঁকে আমরও বলা হয়। ক্বোবায় ছিলেন- (৩) ‘আম্মার বিন ইয়াসিরের মুক্তদাস সা‘দ আল-ক্বারয এবং মক্কায় ছিলেন (৪) আবু মাহযূরাহ আউস বিন মুগীরাহ আল-জুমাহী (যাদুল মা‘আদ ১/১২০; সীরাতুর রাসূল (ছাঃ), ৩য় মুদ্রণ, ৮২৭ পৃ.)

Posted in রাসূল (ছাঃ)-এর মুওয়াযযিন কতজন ছিলেন? | Tagged ,

স্ত্রীর বিরুদ্ধে কেউ যেনার অপবাদ দিলে সেটা কি লে‘আন হিসাবে গণ্য হবে এবং স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে?


স্ত্রীর বিরুদ্ধে যেনার অপবাদ দিলেই তা লে‘আন হিসাবে গণ্য হবে না এবং এতে বিবাহ বিচ্ছেদও হবে না। বরং এরূপ ক্ষেত্রে করণীয় হ’ল স্বামী প্রথমতঃ স্ত্রীর যেনার পক্ষে চারজন সাক্ষী উপস্থাপন করবে। তা সম্ভব না হ’লে আদালতে বিচারকের উপস্থিতিতে লে‘আন করবে। আর লে‘আন হ’ল- কোন স্বামী যদি স্ত্রীর উপর যেনার অভিযোগ দেয় এবং তার কাছে সাক্ষী না থাকে, তখন আদালতে দাঁড়িয়ে সে চারবার সাক্ষ্য দিবে যে, স্ত্রী সম্পর্কে সে যা বলেছে তা সত্য। আর পঞ্চমবারে বলবে, যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে যেন তার উপর লা‘নত বর্ষিত হয়। অতঃপর স্ত্রীও আদালতে দাঁড়িয়ে চার বার বলবে যে, স্বামী তার অভিযোগে মিথ্যাবাদী। আর পঞ্চমবারে বলবে, যদি স্বামী সত্যবাদী হয় তবে তার (নিজের) উপর যেন আল্লাহর লা‘নত বর্ষিত হয়। অতঃপর আদালত তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাবে (নূর ২৪/৬-৯; ইবনু তায়মিয়া, আল-ফাতাওয়াল কুবরা ৫/৫০৭)

 

আর স্বামী বা স্ত্রী যেনার অভিযোগ প্রদানের পর যদি সাক্ষী হাযির করতে না পারে এবং লে‘আন করতেও অক্ষমতা প্রকাশ করে, তবে বিচারক অভিযোগকারী স্বামী/স্ত্রীর উপর হদ জারী করবে। অর্থাৎ মিথ্যা অপবাদের শাস্তি হিসাবে তাকে আশিটি বেত্রাঘাত করবে (নূর ২৪/৪; উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ১৪/২৮৪)

Posted in স্ত্রীর বিরুদ্ধে যেনার অপবাদ দিলে সেটা কি স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে? | Tagged , ,

হানাফী বিদ্বান আব্দুল হাই লাক্ষ্ণোভী একত্রে তিন তালাক সম্পর্কে যে ফৎওয়াটি দিয়েছেন তা বিস্তারিত জানতে চাই।


উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হানাফী আলেম আব্দুল হাই লাক্ষ্ণৌভী (১২৬৪-১৩০৪ হি./১৮৪৮-১৮৮৭ খৃ.) একত্রিত তিন তালাক সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, এই অবস্থায় হানাফী মাযহাব অনুযায়ী তিন তালাক পতিত হবে এবং ‘তাহলীল’ ব্যতীত তার সাথে পূর্ব স্বামীর পুনর্বিবাহ সিদ্ধ হবে না। কিন্তু এমন যরূরী অবস্থায় যেমন স্বামীর নিকট থেকে উক্ত মহিলার পৃথক হওয়া কঠিন কিংবা তাতে ক্ষতির আশংকা বেশী, সেই অবস্থায় অন্য কোন ইমামের তাক্বলীদ করায় ক্ষতি নেই। যেমন এর দৃষ্টান্ত রয়েছে নিরুদ্দিষ্ট স্বামীর ক্ষেত্রে। এখানে হানাফীগণ ইমাম মালেক (রহঃ)-এর মাযহাব (চার বছর)-এর উপরে আমল করা জায়েয মনে করেন। অতএব তিন তালাকের ক্ষেত্রে এটাই উত্তম হবে যে, ঐ ব্যক্তি যেন কোন শাফেঈ আলেমের নিকট থেকে ফৎওয়া জেনে নিয়ে তার উপরে আমল করে’ (ফাতাওয়া রশীদিয়াহ, করাচী : মুহাম্মাদ আলী কারখানায়ে কুতুব, তাবি ৪৬২ পৃ.)

Posted in তালাক সম্পর্কে হানাফী বিদ্বান আব্দুল হাই লাক্ষ্ণোভীর ফৎওয়াটি কি? | Tagged

কোন ব্যক্তির আমলনামা সমান সমান হয়ে গেলে ঐ ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না জাহান্নামে প্রবেশ করবে?


যাদের আমলনামা সমান হবে তাদেরকে কুরআনের ভাষায় বলা হয়েছে ‘আরাফ বাসী’। ‘আরাফ’ জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি উঁচু স্থানের নাম। যা প্রাচীর স্বরূপ। যাদের নেকী সেই পরিমাণ হবে না যার ফলে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং গোনাহও সেই পরিমাণ হবে না যার ফলে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তাদের স্থান হবে এই ‘আ‘রাফে’। অর্থাৎ গোনাহ ও নেকী সমান সমান হওয়ার কারণে না জাহান্নামে যাবে, না তারা জান্নাতে যাবে (আ‘রাফ ৭/৪৬-৪৭)

Posted in আমলনামা সমান হয়ে গেলে ঐ ব্যক্তি কোথায় প্রবেশ করবে? | Tagged

রাসূল (ছাঃ) বহু বিবাহ করায় জনৈক ব্যক্তি তাঁকে যেনাকার বলে গালি দিয়েছে। ঐ ব্যক্তি কি মুসলিম থাকবে? তার কী শাস্তি হবে?


রাসূল (ছাঃ)-কে গালিদাতা ধর্মত্যাগী কাফের হিসাবে গণ্য হবে (তাওবাহ ৬৫-৬৬)। ছাহাবীগণসহ সর্বযুগের ওলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত যে ঐ ব্যক্তি কাফের, মুরতাদ এবং তাকে হত্যা করা ওয়াজিব (ইবনু তায়মিয়াহ, আছ-ছারেমুল মাসলূল ২/১৩-১৬)। তবে তা প্রমাণ সাপেক্ষে বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব সরকারের (কুরতুবী)। সরকার এ দায়িত্ব পালন না করলে তাদেরকে ক্বিয়ামতের দিন কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হ’তে হবে। রাসূল (ছাঃ)-কে গালিদাতা এক ইহূদীকে জনৈক মুসলিম হত্যা করলে রাসূল (ছাঃ) তার দিয়াত বা রক্তমূল্য বাতিল করে দেন (আবূদাঊদ হা/৪৩৬১, ৪৩৬৩, নাসাঈ হা/৪০৭৬)

তবে এধরনের কুফরী কর্ম জনসম্মুখে প্রকাশের পূর্বে তাকে বার বার বুঝাতে হবে এবং তার হেদায়াতের জন্য দো‘আ করতে হবে। এতে সে ভ্রান্ত ধারণা থেকে তওবা করতে পারে (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২/১৫০-১৫২)

Posted in রাসূল (ছাঃ) কে গালি দিলে ঐ ব্যক্তি কি মুসলিম থাকবে? তার কী শাস্তি হবে? | Tagged ,

জনৈক ব্যক্তি সারা জীবন ছালাত, ছিয়াম এবং অন্যান্য ইবাদত পালন করেননি। মৃত্যুর কিছু দিন পূর্বে ছালাত ধরলেও ছিয়াম পালন করার সুযোগ পাননি। এক্ষণে তার পক্ষ থেকে ছিয়াম পালন করার সুযোগ রয়েছে কি?


উক্ত ব্যক্তি যেহেতু তওবা করে ছালাত আদায় করা শুরু করেছিল, কিন্তু ছিয়াম পালন করার সুযোগ পায়নি। সেহেতু তার উত্তরাধিকারীরা তার ছুটে যাওয়া ছিয়ামের সংখ্যা অনুমান করে ভাগাভাগি করে ক্বাযা আদায় করে দিতে পারে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছে অথচ তার ছিয়াম অনাদায়ী ছিল, তার ওয়ারিছগণ সেটির ক্বাযা আদায় করে দেবে’ (বুখারী হা/১৯৫২; মুসলিম হা/১১৪৭; মিশকাত হা/২০৩৩)। যদি ক্বাযা আদায়ের মত কেউ না থাকে, তবে প্রতি দিনের জন্য ফিদইয়া হিসাবে একজন করে মিসকীন খাওয়াতে হবে (উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতি‘ ৬/৪৫০)। যদি তার ছেড়ে যাওয়া সম্পদের এক তৃতীয়াংশে তা সংকুলান না হয়, তাহ’লে সেটি আদায় করা ওয়াজিব নয়।

Posted in ছিয়াম মৃত ব্যাক্তির পক্ষ থেকে পালন করার সুযোগ রয়েছে কি? | Tagged ,

আমাদের মসজিদের সামনে একটি কবর রয়েছে। মসজিদের প্রাচীর রয়েছে। তবে কবরের জন্য আলাদা কোন প্রাচীর নেই। এক্ষণে উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে কি? উল্লেখ্য, এ বিষয় নিয়ে সমাজের লোকেরা দুই ভাগ হয়ে গেছে।


উক্ত কবরস্থানের জন্য আলাদা প্রাচীর থাকা আবশ্যক। এছাড়া যদি মসজিদের দেয়াল ও কবরস্থানের মাঝে রাস্তা থাকে, তাহ’লে সে মসজিদে ছালাত আদায় করতে কোন বাধা নেই। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কবরের দিকে ফিরে ছালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন (মুসলিম হা/৯৭২; নাসাঈ হা/৭৬০; ছহীহাহ হা/১০১৬)। মসজিদের বাইরে যদি কবরস্থান থেকে পৃথককারী প্রাচীর থাকে, তবে সেখানে ছালাত জায়েয হবে। যদি তা না থাকে তবে অতিসত্বর মসজিদ ও কবরস্থানকে পৃথককারী আলাদা প্রাচীর নির্মাণ করতে হবে (আলবানী, তাহযীরুস সাজেদ, পৃঃ ১২৭, শায়খ বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৩/৩৫৭)

Posted in কবর মসজিদের সামনে থাকলে নামাজ পড়া যাবে কি? | Tagged ,

ওমরার সময় তালবিয়া পাঠ কখন শুরু করবে এবং কখন শেষ করবে?


ওমরাহ পালনকারী নির্দিষ্ট মীকাতে পৌঁছে পবিত্রাবস্থায় ইহরাম বাঁধবে। অতঃপর তালবিয়া পাঠ শুরু করবে এবং হাজারে আসওয়াদ স্পর্শ বা ইশারা করা তথা ত্বাওয়াফ শুরু করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ অব্যাহত রাখবে (তিরমিযী হা/৯১৯; ইবনু খুযায়মাহ হা/২৬৯৬; ইরওয়া ইরওয়া হা/১০৯৯, ৪/২৯৭; আলবানী, মানাসিকুল হাজ্জ ওয়াল ওমরাহ পৃঃ ১৯)

Posted in ওমরার সময় তালবিয়া পাঠ কখন শুরু করবে এবং কখন শেষ করবে? | Tagged

জুম‘আর দিনে খুৎবা দীর্ঘ হ’লে মুছল্লীরা বিভিন্ন কথা বলে। আবার কেউ কেউ ঘড়ি দেখায়। এক্ষেত্রে খতীবের করণীয় কী?


খুৎবা আখেরাতমুখী, সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ হওয়া বাঞ্ছনীয় (মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০৫-০৬)। তবে প্রয়োজনমাফিক খুৎবা দীর্ঘ হওয়াতে বাধা নেই। যেমন জাবের বিন সামুরাহ (রাঃ) বর্ণিত হাদীছে এসেছে যে, খুৎবার সময় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর দু’চোখ উত্তেজনায় লাল হয়ে যেত। গলার স্বর উঁচু হ’ত ও ক্রোধ ভীষণ হ’ত। যেন তিনি কোন সৈন্যদলকে হুঁশিয়ার করছেন’ (মুসলিম হা/৮৬৭; মিশকাত হা/১৪০৭; মির‘আত ৪/৪৯৬-৯৭)। ছাহেবে মির‘আত বলেন, ‘অবস্থা অনুযায়ী এবং মুছল্লীদের বোধগম্য ভাষায় খুৎবা দেওয়ার ব্যাপারে জাবের বিন সামুরাহ (রাঃ) বর্ণিত অত্র হাদীছটিই হ’ল প্রথম দলীল’ (মির‘আত হা/১৪১৮-এর আলোচনা দ্রঃ, ৪/৪৯৪-৯৫)

 

উম্মে হিশাম বলেন, আমি সূরা ক্বাফ মুখস্থ করেছি রাসূল (ছাঃ)-এর মুখ থেকে শুনে, যা তিনি প্রতি জুম‘আয় খুৎবা দানকালে পাঠ করতেন’ (মুসলিম হা/৮৭৩; মিশকাত হা/১৪০৯)

অতএব খুৎবা মধ্যম মানের হবে। খত্বীব ছাহেব নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খুৎবা শেষ করার চেষ্টা করবেন। আর খুৎবা চলাকালীন সময়ে মুছল্লীদের যেকোন ধরনের প্রতিক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ রাসূল (ছাঃ) খুৎবা চলাকালীন সময়ে পাশের মুছল্লীকে চুপ থাকার কথা বলতেও নিষেধ করেছেন (বুখারী হা/৯৩৪; মিশকাত হা/১৩৮৫)

Posted in খুৎবা দীর্ঘ হ’লে মুছল্লীরা বিভিন্ন কথা বলে। এক্ষেত্রে খতীবের করণীয় কী? | Tagged

ইউরোপ-আমেরিকার অনেক এলাকায় নাগালের মধ্যে গরীব মানুষ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। আর পেলেও চাউল দিয়ে ফিৎরা আদায় করে তা বণ্টন করা অতীব কষ্টকর। সেক্ষেত্রে টাকা দিয়ে ফেৎরা আদায় করলে কি জায়েয হবে?


খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ফিৎরা দেওয়াই সুন্নাত। রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম এক ছা‘ খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ফিৎরা আদায় করেছেন (বুখারী হা/১৫০৬; মিশকাত হা/১৮১৬)। যদি কোন স্থানে ফিৎরা বণ্টন সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি, সংস্থা বা সংগঠনের মাধ্যমে অন্যত্র ফিৎরা বিতরণ করবে (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৮/২০৭)

Posted in ফেৎরা টাকা দিয়ে আদায় করলে কি জায়েয হবে? | Tagged

ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান আনার হিকমত কি? এই বিশ্বাস মানবজীবনে তো বিশেষ কোন প্রভাব রাখে না। আর কেউ যদি ফেরেশতার অস্তিত্ব স্বীকার না করে, সে কি কাফের হয়ে যাবে?


ফেরেশতা নূরের তৈরী অত্যন্ত শক্তিশালী আল্লাহর এক মহা সৃষ্টির নাম। যা মানুষ স্থূল দৃষ্টিতে দেখতে পায় না। তবে মানুষ তার অস্তিত্বের সঙ্গে তাদের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি অনুভব করে। আল্লাহর হুকুমে তারা সর্বক্ষণ সৃষ্টজীবের সেবায় নিয়োজিত। কা‘ব আল-আহবার (রাঃ) বলেন, যদি আল্লাহ ফেরেশতার মাধ্যমে মানুষকে হেফাযত না করতেন, তাহ’লে এ পৃথিবীতে মানুষ বসবাস করতে পারত না। ইতিপূর্বে এখানে বসবাসকারী জিনেরা তাদের ছোঁ মেরে উঠিয়ে নিয়ে যেত (ইবনু কাছীর)

ফেরেশতাদের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদেরকে মায়ের গর্ভে তিনটি গাঢ় অন্ধকার পর্দার মধ্যে আকৃতি গঠন করেন (যুমার ৬)। অতঃপর তাতে রূহ প্রদান করেন ও তার ললাটে চারটি বস্ত্ত লিখে দেন। যা থেকে সে কখনোই বিচ্যুত হ’তে পারে না (বুঃ মুঃ মিশকাত হা/৮২)। অতঃপর মৃত্যু অবধি ফেরেশতাগণ প্রতি মুহূর্তে বান্দার সহযোগিতায় থাকেন (রা‘দ ১১; ইনফিত্বার ১০-১১; ক্বাফ ১৭-১৮)। ফেরেশতাদের সরদার জিব্রীল (আঃ) আল্লাহর পক্ষ থেকে অহি নিয়ে নবীদের অন্তরে নিক্ষেপ করেন (নাহল ২)। অতঃপর তিনিই শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর উপর অহি নাযিল করেছেন (বাক্বারাহ ৯৭; নাহল ১০২)। তাই জিব্রীলকে অস্বীকার করলে শেষনবী (ছাঃ) ও কুরআন-হাদীছকে অস্বীকার করতে হবে। যা মানুষের আত্মিক জাগরণ ও বৈষয়িক উন্নয়নের মূল উৎস। ফেরেশতা মীকাঈলকে অস্বীকার করলে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণকে অস্বীকার করতে হবে। যা পৃথিবীতে মৃত ভূমির পুনর্জাগরণ ও খাদ্য উৎপাদনের মূল উৎস। ফেরেশতা মালাকুল মাউতকে অস্বীকার করলে মৃত্যুকে অস্বীকার করতে হবে। অথচ মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী (হা-মীম সাজদাহ ১১; আন‘আম ৬১-৬২)। ফেরেশতা ইস্রাফীলকে অস্বীকার করলে পুনরুত্থানকে অস্বীকার করতে হবে। যা অবশ্যই ঘটবে (মা‘আরেজ ৪৩; ক্বামার ৭)। যা প্রতিদিন আমাদের নিদ্রা ও জাগরণে সংঘটিত হচ্ছে আল্লাহর ইচ্ছায়। তাঁর ইচ্ছাতেই আমরা ঘুমিয়ে যাই এবং তাঁর ইচ্ছাতেই ঘুম থেকে জেগে উঠি। আর এটাই হ’ল পুনরুত্থান। মৃত্যুর পর যেটা ক্বিয়ামতের দিন সংঘটিত হবে চিরস্থায়ীভাবে। এজন্য রাসূল (ছাঃ) তাহাজ্জুদের সময় ঘুম থেকে উঠে দো‘আ পড়তেন, ‘হে আল্লাহ! জিব্রাঈল, মীকাঈল ও ইস্রাফীলের রব, তুমি আসমান ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা… (মুসলিম হা/৭৭০; মিশকাত হা/১২১২)। এছাড়া নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে কোটি কোটি ফেরেশতা আল্লাহর হুকুমে সর্বদা সৃষ্টি জগতের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন ও বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন। যারা কখনোই আল্লাহর অবাধ্যতা করে না (তাহরীম ৬)। সর্বোপরি প্রত্যেক মানুষের প্রতি মুহূর্তের নিরাপত্তার জন্য একজন ফেরেশতাকে সার্বক্ষণিক প্রহরী হিসাবে নিয়োজিত রাখা হয়েছে (ত্বারেক ৪)। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর, তাঁর ফেরেশতাগণের, তাঁর রাসূলগণের এবং জিব্রীল ও মীকাঈলের শত্রু হয়, নিশ্চয় আল্লাহ সেসব কাফেরদের শত্রু’ (বাক্বারাহ ৯৮)। অতএব যারা ফেরেশতাদের শত্রু, আল্লাহ তাদের শত্রু। ইহূদীরা জিব্রীলকে শত্রু ভাবত এবং মীকাঈলকে বন্ধু ভাবত। কেননা মীকাঈল বৃষ্টি বর্ষণ করে ও তার মাধ্যমে দেশে প্রাচুর্য আসে। তারা মুসলমানদের বলেছিল, যদি জিব্রীলের পরিবর্তে মীকাঈল ‘অহি’ নিয়ে আসে, তাহ’লে আমরা তোমাদের অনুসারী হব। এর প্রতিবাদে অত্র আয়াত নাযিল হয়। যেখানে বলা হয়েছে যে, জিব্রীল হৌক মীকাঈল হৌক যেকোন একজন ফেরেশতার বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণ করার অর্থ সকল ফেরেশতার বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণ করা। কেননা ফেরেশতা হিসাবে সবাই সমান। এখানে ‘ফেরেশতাগণ’ বলার পরে জিব্রীল ও মীকাঈলকে খাছ করা হয়েছে তাঁদের বিশেষ মর্যাদার কারণে।

ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান আনা ঈমানের ছয়টি স্তম্ভের অন্যতম (নিসা ১৩৬; মুসলিম হা/৮; মিশকাত হা/২)। এটি বাদ দিলে মুমিন ঈমানের গন্ডি থেকে বেরিয়ে যাবে। বস্ত্ততঃ ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস আমাদের আত্মিক জগতকে নিয়ন্ত্রিত রাখে এবং এর মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর সৃষ্টির বিশালতা ও তাঁর মহান কুদরত সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে। যা তার মধ্যে পরকালীন জবাবদিহিতা সৃষ্টি করে।

Posted in ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান আনার হিকমত কি? | Tagged

কুরবানীর সময় পশুর দেহের প্রবাহিত রক্ত কাপড়ে লাগলে সেই কাপড়ে কি ছালাত আদায় করা যাবে?


পশুর প্রবাহিত রক্ত অপবিত্র (আন‘আম ৬/১৪৫)। সুতরাং কারো কাপড়ে কুরবানী করার সময় পশুর প্রবাহিত রক্ত লাগলে তা পরিষ্কার করে ছালাত আদায় করতে হবে। কেউ জেনেশুনে উক্ত রক্ত মাখা কাপড়ে ছালাত আদায় করলে তাকে পুনরায় ছালাত আদায় করতে হবে (নববী, আল-মাজমূ‘ ২/৫৭৬; ইবনু তায়মিয়াহ, শারহু উমদাতুল ফিক্বহ ১/১০৫; ইবনু হাজার, ফাৎহুল বারী ১/৩৫২)। তবে যবহের পর গোশতের মধ্যে থাকা সাধারণ রক্ত পোশাকে লেগে থাকলে উক্ত পোষাকে ছালাত হয়ে যাবে। কেননা তা প্রবাহিত রক্তের অন্তর্ভুক্ত নয় (উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ১/২৭২; শায়খ বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৯/২১৯)

Posted in কুরবানীর রক্ত কাপড়ে লাগলে ছালাত আদায় করা যাবে? | Tagged ,

রাসূল (ছাঃ) কতবার কুরবানী করেছিলেন?


নবী করীম (ছাঃ) মদীনায় দশ বছর অবস্থান করেছেন এবং প্রতি বছর কুরবানী করেছেন (তিরমিযী হা/১৫০৭; মিশকাত হা/১৪৭৫, সনদ যঈফ হলেও মর্ম ছহীহ)। সে হিসাবে রাসূল (ছাঃ) দশবার কুরবানী করেছেন। কারণ তিনি সফরে থাকা অবস্থাতেও কুরবানী পরিত্যাগ করেননি (মুসলিম হা/১৯৭৫; ইরওয়া হা/১১৫৮)। রাসূল (ছাঃ) প্রতি বছর দু’টি করে কুরবানী দিতেন। একটি তাঁর ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে, আরেকটি তাঁর উম্মতের মধ্যে যারা কুরবানী করেনি, তাদের পক্ষ থেকে (বুঃ মুঃ মিশকাত হা/১৪৫৩; আবুদাঊদ হা/২৮১০)

Posted in কুরবানী রাসূল (ছাঃ) কতবার করেছিলেন? | Tagged

সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন যাবৎ কুরবানী করেনি। এখন সে ভুল বুঝতে পেরেছে। এক্ষেত্রে করণীয় কি? কুরবানীর ক্বাযা আদায়ের কোন বিধান আছে কি?


কুরবানী করা সুন্নাতে মুওয়াক্কাদাহ। এটি ওয়াজিব নয় যে, যেকোন মূল্যে প্রত্যেককে কুরবানী করতেই হবে। লোকেরা যাতে এটাকে ওয়াজিব মনে না করে, সেজন্য সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হযরত আবুবকর ছিদ্দীক্ব, ওমর ফারূক্ব, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর, আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) প্রমুখ ছাহাবীগণ কখনো কখনো কুরবানী করতেন না (বায়হাক্বী, ইরওয়াউল গালীল হা/১১৩৯; মির‘আত ৫/৭২-৭৩; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৫/১০)। কোন কারণে সুন্নাতে মুওয়াক্কাদা ছুটে গেলে ছওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে। এজন্য ক্বাযা আদায় করতে হবে না। এক্ষণে করণীয় হ’ল সুন্নাতের প্রতি অবহেলার জন্য তওবা করে এখন থেকে নিয়মিতভাবে কুরবানী করা।

Posted in কুরবানীর ক্বাযা আদায়ের কোন বিধান আছে কি? | Tagged

অমুসলিমদের কুরবানীর গোশত প্রদান করা যাবে কি?


কুরবানীর গোশত মুসলিমদের মধ্যে বিতরণ করা উত্তম। তবে অমুসলিম প্রতিবেশী দুস্থ-অভাবীদের কিছু দেওয়ায় দোষ নেই (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১১/৪২৪)। কেননা এটি যাকাত বহির্ভূত নফল ছাদাক্বার অন্তর্ভুক্ত (আল-মুগনী ৩/৫৮৩, ৯/৪৫০)। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল ‘আছ (রাঃ) তাঁর ইহূদী প্রতিবেশীকে দিয়েই গোশত বণ্টন শুরু করেছিলেন (বুখারী, তিরমিযী হা/১৯৪৩; আল-আদাবুল মুফরাদ হা/১২৮, সনদ ছহীহ, ‘ইহূদী প্রতিবেশী’ অনুচ্ছেদ)। ‘তোমরা মুসলমানদের কুরবানী থেকে মুশরিকদের আহার করাবে না’ মর্মে যে হাদীছ এসেছে তা ‘যঈফ’ (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৯১১৩)

Posted in কুরবানীর গোশত অমুসলিমদের প্রদান করা যাবে কি? | Tagged

গরু কুরবানীর সাথে বিবাহের ওয়ালীমা বা আক্বীক্বার নিয়ত করা যাবে কি?


কুরবানীতে আক্বীক্বার নিয়ত করা শরী‘আত সম্মত নয়। কারণ দু’টি পৃথক ইবাদত। রাসূল (ছাঃ) বা ছাহাবায়ে কেরামের যুগে এ ধরনের আমলের অস্তিত্ব ছিল না (আলোচনা দ্রঃ নায়লুল আওত্বার ৬/২৬৮, ‘আক্বীক্বা’ অধ্যায়; মির‘আত ২/৩৫১ ও ৫/৭৫)

তবে কুরবানীর গোশত দ্বারা বিবাহের ওয়ালীমা খাওয়ানো যাবে। কুরবানীর গোশত ঈদের পরে জমা রেখে খাওয়া জায়েয (ইবনু মাজাহ হা/৩১৫৯, মিশকাত হা/১৭৬২)। তুরতুসী বলেন, কেউ যদি বিবাহের ওয়ালীমায় কুরবানীর গোশত খাওয়ায় সেটিই তার জন্য যথেষ্ট হবে’ (আত-তাজ ওয়াল ইকলীল লি মুখতাছারে খলীল ৪/৩৭৬)

Posted in কুরবানীর সাথে বিবাহের ওয়ালীমা বা আক্বীক্বার নিয়ত করা যাবে কি? | Tagged ,

খাসীকৃত প্রাণী কি ত্রুটিপূর্ণ নয়? এ ধরনের প্রাণী দ্বারা কুরবানী কিভাবে জায়েয হবে? আমরা দেখেছি পাকিস্তান বা ভারতের অনেক এলাকায় খাসী কুরবানী না করার প্রচলন রয়েছে।


খাসীকৃত প্রাণী ত্রুটিপূর্ণ নয়। কারণ এটি ছাগলের  কোন রোগ নয়। বরং খাসীর গোশত তুলনামূলক পবিত্র, দুর্গন্ধমুক্ত ও সুস্বাদু হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিজে সর্বদা দু’টি করে ‘খাসী’ (خَصِيَّيْنِ مَوْجُوْئَيْنِ) কুরবানী দিতেন (হাকেম হা/৭৫৪৭; আহমাদ হা/২৩৯১১; ইরওয়া হা/১১৪৭, সনদ ছহীহ)। ছহীহ বুখারীর ভাষ্যকার ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেন, ‘খাসী’ করার কারণে কেউ কেউ এটাকে খুঁৎওয়ালা পশু বলে অপসন্দ করেছেন। কিন্তু মূলতঃ এটি কোন খুঁৎ নয়। বরং এর ফলে গোশত রুচিকর ও সুস্বাদু হয় এবং দুর্গন্ধ দূরীভূত হয় (ইবনু হাজার আসক্বালানী, ফাৎহুল বারী শরহ ছহীহুল বুখারী ১০/১২)। ইবনু কুদামা বলেন, খাসীই কুরবানীর জন্য যথেষ্ট। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দু’টি খাসী দিয়েই কুরবানী করতেন (মির‘আত ৫/৯১)   

Posted in খাসীকৃত প্রাণী কি ত্রুটিপূর্ণ নয়? এটি কুরবানী কিভাবে জায়েয হবে? | Tagged

আমি একটি গরু কুরবানীর জন্য রেখেছি। সেটি ২ বছর অতিক্রম করেছে এবং যথেষ্ট হৃষ্টপুষ্টও হয়েছে। কিন্তু এখনো দাঁত ওঠেনি। গরুটি কি কুরবানী করা যাবে?


কুরবানীর জন্য গরুর বয়স হ’ল দু’বছর পূর্ণ হওয়া। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘তোমরা দুধের দাঁত ভেঙ্গে নতুন দাঁত ওঠা (মুসিন্নাহ) পশু ব্যতীত যবেহ কর না। তবে কষ্টকর হ’লে এক বছর পূর্ণকারী ভেড়া (দুম্বা বা ছাগল) কুরবানী করতে পার’ (মুসলিম, মিশকাত হা/১৪৫৫)। জমহূর বিদ্বানগণ অন্যান্য হাদীছের আলোকে এই হাদীছের নির্দেশিত ‘মুসিন্নাহ’ পশুকে কুরবানীর জন্য উত্তম হিসাবে গণ্য করেছেন (মির‘আত ২/৩৫৩ পৃঃ)

‘মুসিন্নাহ’ পশু ষষ্ঠ বছরে পদার্পণকারী উট এবং তৃতীয় বছরে পদার্পণকারী গরু বা ছাগল-ভেড়া-দুম্বাকে বলা হয় (মির‘আত, ২/৩৫২ পৃঃ, আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়াহ ১৫৪/৫১ পৃঃ)। কেননা এই বয়সে সাধারণতঃ এই সব পশুর দুধে দাঁত ভেঙ্গে নতুন দাঁত উঠে থাকে। তবে অনেক পশুর বয়স বেশী ও হৃষ্টপুষ্ট হওয়া সত্ত্বেও সঠিক সময়ে দাঁত ওঠে না। এসব পশু দ্বারা কুরবানী করা কোন দোষের হবে না ইনশাআল্লাহ (মাসায়েলে কুরবানী ১৪-১৫ পৃঃ)

Posted in গরু দাত না উঠলে কুরবানী করা যাবে? | Tagged

আমি বিদেশে গবেষণারত। এখানে পশু কুরবানীর সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে আমি কি নিজ দেশে কিংবা কোন গরীব মুসলিম দেশে কুরবানীর টাকা পাঠিয়ে নিজের কুরবানীর হক আদায় করতে পারি?


সুন্নাত হ’ল যেখানে অবস্থান করবে সেখানে কুরবানী করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তখন তোমরা তা থেকে আহার কর এবং আহার করাও যারা চায় না তাদেরকে ও যারা চায় তাদেরকে’ (হজ্জ ২২/৩৬)। অত্র আয়াতে নিজে ভক্ষণ করা ও অপরকে দান করার নির্দেশনা এসেছে। তবে অবস্থানরত দেশে কুরবানী করার কোন উপায় না থাকলে নিজ দেশে আত্মীয়-স্বজনের নিকট টাকা পাঠিয়েও কুরবানীর হক আদায় করা যাবে (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২২/২২৪, ২৫/৭৬-৭৭)

Posted in কুরবানী বিদেশে থেকে দেশে নিজের জন্য করা যাবে কি? | Tagged