আমার দু’টি কন্যা সন্তান রয়েছে। তাদের নিরাপত্তার জন্য দু’টি বাড়ি নির্মাণ করে দিতে পারব কি?


পিতা-মাতা উক্ত দুই কন্যা সন্তানকে সম্পদ প্রদান করতে পারে। বাড়ি-ঘর নির্মাণও করে দিতে পারে। তবে সমতা রক্ষা করা যরূরী। কারণ রাসূল (ছাঃ) কোন এক সন্তানকে বিশেষভাবে দান করতে নিষেধ করেছেন। তবে যদি কেউ তার সকল সন্তানকে দান করতে চায় তাহ’লে তাতে কোন দোষ হবে না (বুখারী হা/২৫৮৬; মুসলিম হা/১৬২৩; মিশকাত হা/৩০১৯)। তবে ভাই বা ভাতিজাদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে সমুদয় সম্পত্তি মেয়েদের নামে লিখে দেওয়া যাবে না। কারণ সেটি করলে আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করা হবে (নিসা ৪/১১)

Advertisements
Posted in পিতা কন্যাকে বাড়ি নির্মাণ করে দিতে পারে কি? | Tagged

জুম‘আ মসজিদে খুৎবার পরে মসজিদের সভাপতি দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ বক্তব্য দেন। এরপরে ছালাত শুরু হয়। উক্ত সময়ে সভাপতি ছাহেবের বক্তব্য দেওয়ার বৈধতা আছে কি?


জুমআ‘র দিন খুৎবার আগে বা পরে ইমাম ব্যতীত অন্য কারো আলোচনা করা সমীচীন নয়। কারণ রাসূল (ছাঃ) বা ছাহাবায়ে কেরামের যুগে এই ধরনের কোন আমল ছিল না। তাছাড়া খুৎবার পরিসমাপ্তি ও ছালাতের শুরুর মধ্যে বেশী ব্যবধান হ’লে ছালাত বাতিল হয়ে যাবে (শাফেঈ, কিতাবুল উম্ম ১/২২০; নববী, আল-মাজমূ‘ ৪/৫১৩; ইবনু কুদামাহ, আল মুগনী ২/২৩০; আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়া ১৯/১৮০; আল-বাহরুর রায়েক ২/১৫৯; আদ-দুরুল মুখতার ২/১৯)। তবে বিশেষ কারণবশতঃ সাময়িক কোন প্রয়োজনে কথা বললে দোষ হবে না ইনশাআল্লাহ (আব্দুল মুহসিন ‘আববাদ, শারহু সুনানু আবী দাউদ ২৮/১৩৯)

Posted in খুৎবার পরে সভাপতি বক্তব্য দিতে পারবে কি? | Tagged

একটি গ্রাম্য মসজিদের ইমাম ভুল করে ইফতারের দশ মিনিট পূর্বে আযান দিয়ে দেয়। আযান শুনে বহু ছায়েম ইফতার করে ফেলে। এক্ষণে যে সকল ছায়েম ভুল করে সময়ের আগে ইফতার করল তাদেরকে কি পুনরায় ছিয়াম আদায় করতে হবে?


ভুলক্রমে হ’লে ক্বাযা করার প্রয়োজন নেই। কারণ অনিচ্ছাকৃত ভুল মার্জনীয় (আহযাব ৩৩/৫)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, নিশ্চয়ই আমার উম্মতের অনিচ্ছাকৃত অপরাধ ও ভুল সমূহকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে (ইবনু মাজাহ হা/২০৪৩; মিশকাত হা/৬২৮৪)

ছহীহ বুখারীতে (হা/১৯৫৯) বর্ণিত অনুরূপ একটি ঘটনা উল্লেখ করে একদল বিদ্বান এমন ভুলের জন্য ক্বাযা করতে বললেও সেখানে রাসূল (ছাঃ)-এর কোন নির্দেশনা নেই বরং হাদীছে প্রদত্ত বক্তব্যটি রাবী হিশাম বিন উরওয়ার নিজস্ব রায় মাত্র। কিন্তু সেখানেও তিনি বলেছেন, আমি জানি না তাঁরা ক্বাযা করেছিলেন কি-না। অতএব এ হাদীছ থেকে ক্বাযা করার ব্যাপারে কোন নিশ্চিত নির্দেশনা পাওয়া যায় না (ফাৎহুল বারী হা/১৯৫৯-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ)। সুতরাং এটা অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসাবেই গণ্য হবে। উক্ত বিষয়ে মুজাহিদ, হাসান বছরী, ইসহাক, ইমাম আহমাদ, ইবনু খুযায়মাহ, শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ, শায়খ ঊছায়মীনসহ অন্যান্য  বিদ্বানগণ বলেন, ক্বাযা আদায় করতে হবে না (ফাৎহুল বারী ৪/২০০; মাজমূউল ফাতাওয়া ২৫/২৩১; আশ-শারহুল মুমতে‘ ৬/৪০২-৪০৮)

Posted in ইফতার ভুল করে আগে করলে ক্বাযা তুলতে হবে কি? | Tagged

ইমাম সালাম ফিরানোর পর মুক্তাদীদের দিকে ঘুরার সময় কোন দিকে দিয়ে ঘুরবে?


ইমাম সালাম ফিরানোর পর ডাইনে অথবা বামে ঘুরে সরাসরি মুক্তাদীগণের দিকে ফিরে বসতে পারবে এবং এটিই ছিল রাসূল (ছাঃ)-এর নিয়মিত সুন্নাত (বুখারী হা/৮৫২; মুসলিম হা/৭০৭; মিশকাত হা/৯৪৪-৪৬; ফাৎহুল বারী ২/৩৩৪)। ডান দিক দিয়ে ফেরার সময় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কখনো পড়েছেন, রবিব ক্বিনী আযা-বাকা ইয়াওমা তাব‘আছু ইবা-দাকা’ (হে আমার প্রতিপালক! তোমার আযাব হ’তে আমাকে বাঁচাও! যেদিন তোমার বান্দাদের তুমি পুনরুত্থান ঘটাবে) (মুসলিম হা/৭০৯; মিশকাত হা/৯৪৭; ছালাতুর রাসূল (ছাঃ), পৃ. ১২৩)

Posted in ইমাম সালাম ফিরানোর পর কোন দিকে ঘুরবে বসবে? | Tagged ,

টার্কী মুরগীর গোশত খাওয়ায় কোন দোষ আছে কি?


টার্কী বা যে কোন জাতের মুরগীর গোশত হালাল। কেননা এটি দন্ত ও নখর বিশিষ্ট কোন হিংস্র প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত নয়। রাসূল (ছাঃ)-এর সামনে মুরগীর গোশত পেশ করা হ’লে তিনি তা ভক্ষণ করেছেন (বুখারী হা/৫৫১৮; মুসলিম হা/১৬৪৯)

Posted in টার্কী মুরগীর গোশত খাওয়ায় কোন দোষ আছে কি? | Tagged ,

সরকারী জমিতে জুম‘আ বা ঈদের ছালাত আদায় করা যাবে কি?


নিষেধাজ্ঞা না থাকলে সরকারী জমিতে জুম‘আ বা ঈদের ছালাত আদায়ে কোন দোষ নেই। আনাস (রাঃ) বলেন, মদীনায় হিজরত করার পর মসজিদ নির্মাণের স্বার্থে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বনু নাজ্জারকে বললেন, তোমরা তোমাদের বাগানটি আমার নিকটে বিক্রয় করে দাও। জবাবে তারা বলল, আমরা আপনার নিকট থেকে এর বিনিময়ে কোন মূল্য নেব না। কেবল আল্লাহর নিকট থেকে বিনিময় চাই। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) তাদের সম্মতিক্রমে সেটি গ্রহণ করলেন ও সেখানে মসজিদ নির্মাণ করলেন’ (বুখারী হা/১৮৬৮; মুসলিম হা/১২০১; আবুদাঊদ হা/৪৫৩; নাসাঈ হা/৭১০, ইবনু মাজাহ হা/৭৯১)। তাছাড়া সাধারণভাবে যেকোন স্থানে ছালাত আদায় করা যায়। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘সমগ্র যমীনকে আমাদের জন্য ছালাতের স্থান এবং মাটিকে পবিত্র করে দেয়া হয়েছে’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৫২৬)।

Posted in ছালাত সরকারী জমিতে আদায় করা যাবে কি? | Tagged

বদলী হজ্জ মূলতঃ কাদের জন্য প্রযোজ্য?


হজ্জের নিয়ত করে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি, অতিবৃদ্ধ, চিররোগী, মুহরিম বিহীন মহিলা প্রমুখের জন্য মূলতঃ বদলী হজ্জের বিধান (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২৫১১-১২, ১৩ ‘হজ্জ’ অধ্যায়)। তবে বদলী হজ্জ আদায়কারীকে অবশ্যই ইতিপূর্বে হাজী হ’তে হবে (আবুদাউদ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত, হাদীছ ছহীহ হা/২৫২৯)। সুস্থ, সবল ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলী হজ্জ জায়েয নয়।

Posted in বদলী হজ্জ মূলতঃ কাদের জন্য প্রযোজ্য? | Tagged

বর্তমান বিশ্বে স্বর্ণ এবং রৌপ্যের মুল্যে ব্যাপক ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়। এক্ষণে কিসের উপর ভিত্তি করে নগদ অর্থের যাকাত দিতে হবে?


রাসূল (ছাঃ)-এর যুগে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ এবং সাড়ে বায়ান্ন ভরি রৌপ্যের মূল্য সমান ছিল। কিন্তু বর্তমানে উভয়ের মাঝে ব্যবধান কয়েকগুণ। অর্থাৎ রৌপ্যের মূল্যে ব্যাপক অবনমন ঘটেছে। ফলে আধুনিক যুগে বিদ্বানগণ স্বর্ণের মূল্যমান রৌপ্য অপেক্ষা স্থিতিশীল এবং বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য হওয়ায় স্বর্ণের হিসাব অনুযায়ী নগদ অর্থের যাকাত দেওয়ার পক্ষে মতপ্রকাশ করেছেন (ইউসুফ ক্বারযাভী,  ইসলামের যাকাত বিধান, ১/২৫২-৫৩ পৃ.)। তবে কেউ চাইলে গরীবের অধিকতর কল্যাণার্থে রৌপ্যের হিসাবে যাকাত প্রদান করতে পারে (মাজমু‘ ফাতাওয়া ইবনুল বায, ১৪/১২৫ পৃ.

Posted in যাকাত কিসের উপর ভিত্তি করে নগদ অর্থের দিতে হবে? | Tagged

সমাজে প্রচলিত আছে যে, ‘একজন হাজী তার নিকটতম ৪০০ জনকে সুপারিশ করে জান্নাতে নিয়ে যাবেন’। বিষয়টির সত্যতা জানতে চাই।


কোন হাজী ৪০০ জন ব্যক্তিকে সুপারিশ করে জান্নাতে নিয়ে যাবেন মর্মে কোন হাদীছ বর্ণিত হয়নি। এটি মিথ্যা ও বানাওয়াট কথা মাত্র।

Posted in হাজী ৪০০ জনকে সুপারিশ করে জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবেন কি? | Tagged

বিবাহের সময় ১০ লক্ষ টাকা মোহর নির্ধারিত হ’লেও আমার স্বামী এখনও আমাকে মোহর প্রদান করেননি। আগামী ২/১ বছর পর তিনি পরিশোধের ওয়াদা করেছেন। এক্ষণে আমাকে উক্ত মোহরের উপর যাকাত প্রদান করতে হবে কি?


না। বরং যখন উক্ত মোহরের টাকা হাতে আসবে এবং তা এক বছর সঞ্চিত থাকবে, তখন শতকরা আড়াই টাকা হিসাবে যাকাত দিতে হবে। কারণ যা মালিকানায় নেই তার উপর যাকাত ফরয হয় না (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৮/১১, ২৫)

Posted in যাকাত মোহরের উপর প্রদান করতে হবে কি? | Tagged

আমি স্বর্ণের ব্যবসা করি। এক্ষণে আমার দোকানে রক্ষিত সমস্ত স্বর্ণের উপর কি যাকাত প্রদান করতে হবে?


মালিকানাধীন সমস্ত স্বর্ণের উপর যাকাত দিতে হবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘বিশ দীনারের কম স্বর্ণে যাকাত ফরয নয়। যদি কোন ব্যক্তির নিকট ২০ দীনার পরিমাণ স্বর্ণ এক বছর যাবৎ থাকে তবে এর জন্য অর্ধ দীনার যাকাত দিতে হবে। এরপরে যা বৃদ্ধি পাবে তার হিসাব ঐভাবেই হবে’ (আবুদাঊদ হা/১৫৭৩, ‘যাকাত’ অধ্যায়)। অতএব বছর শেষে সকল স্বর্ণের হিসাব করে বাজারমূল্য অনুযায়ী যাকাত দিতে হবে (ইবনু কুদামাহ, আল মুগনী ৪/২৪৯; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ৯/৩২৪; আল মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়াহ ১৩/১৭১)। স্বর্ণ ও রৌপ্য আলাদা থাকলে উভয়ের মূল্য হিসাব করে নিছাব পরিমাণ হ’লে তাতে যাকাত দিতে হবে। কারণ দোকানে যা কিছু আছে তার সবগুলো ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে (ইবনু কুদামাহ, মুগনী ২/৩১৮; আশ-শারহুল মুমতে‘ ৬/১০৪)

Posted in যাকাত দোকানে রক্ষিত স্বর্ণের উপর কি প্রদান করতে হবে? | Tagged

ব্যবসায়ের সম্পদের যাকাত দোকানে রক্ষিত দ্রব্যের ক্রয়মূল্য না কি বিক্রয়মূল্যের উপর নির্ধারিত হবে?


পণ্যটির বর্তমান বাজারমূল্যের উপর যাকাত হিসাব করতে হবে। যদি তা নিছাব পরিমাণ হয় (ইবনু কুদামাহ, আল মুগনী ৪/২৪৯; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ৯/৩২৪; আল মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়াহ ১৩/১৭১; আশ-শারহুল মুমতে‘ ৬/১৪৬)

Posted in যাকাত দোকানের দ্রব্যের কিভাবে নির্ধারিত হবে? | Tagged

আমি একটি ব্যবসায় ৫০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছি। এক্ষণে বছরান্তে উক্ত বিনিয়োগকৃত টাকার উপর যাকাত প্রদান করতে হবে নাকি তা থেকে প্রাপ্ত লাভের উপর? উল্লেখ্য যে, বিনিয়োগকৃত টাকার উপর যাকাত প্রদান করতে হ’লে আমার প্রাপ্ত লাভের সিংহভাগই যাকাত প্রদানে ব্যয় হয়ে যাবে।


বিনিয়োগকৃত মূলধন এবং লভ্যাংশ যোগ করে বছর শেষে যে পমিমাণ সম্পদ হবে তা থেকে যাকাত দিতে হবে। মোট সম্পত্তির ৪০ ভাগের ১ ভাগ যাকাত দিতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘বিশ দীনারের কম স্বর্ণে যাকাত ফরয নয়। যদি কোন ব্যক্তির নিকট বিশ দীনার পরিমাণ স্বর্ণ এক বছর যাবৎ থাকে তবে এর জন্য অর্ধ দীনার যাকাত দিতে হবে। এরপরে যা বৃদ্ধি পাবে তার হিসাব ঐভাবেই হবে’ (আবুদাঊদ হা/১৫৭৩, ‘যাকাত’ অধ্যায়)

Posted in যাকাত ব্যবসায় বিনিয়োগকৃত টাকার নাকী প্রাপ্ত লাভের উপর প্রদান করতে হবে? | Tagged ,

জনৈক আলেম বলেন পুরুষরা হলুদ কাপড় পরিধান করতে পারবে না। কিন্তু লাল কাপড় পরিধান করতে পারবে। এর সত্যতা জানতে চাই।


অবিমিশ্র উজ্জ্বল লাল ও হলুদ উভয় রংয়ের কাপড় পরা পুরুষদের জন্য অবৈধ। তবে লাল ও হলুদের সাথে অন্য রং মিশ্রিত থাকলে উক্ত পোষাক পরিধানে কোন বাধা নেই (নববী, আল-মাজমূ‘ ৪/৩৩৭; আল-মাওসূআতুল ফিক্বহিয়াহ ৬/১৩২-৩৬; ওছায়মীন, আশ-শরহুল মুমতে‘)। আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল ‘আছ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) আমার পরিহিত হলুদ রঙের দু’টি পোষাক দেখে বললেন, ‘এগুলো কাফেরদের পোষাক। তুমি এসব পরবে না’ (মুসলিম হা/২০৭৭; মিশকাত হা/৪৩২৭)। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) পুরুষের জন্য যাফরান রং ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছেন (বুখারী হা/৫৮৪৬; মুসলিম হা/২১০১; মিশকাত হা/৪৪৩৪)। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাকে সোনার আংটি, রেশমী কাপড় ও কুসুম রঙের কাপড় ব্যবহার করতে এবং রুকূ অবস্থায় কুরআন পড়তে নিষেধ করেছেন (নাসাঈ হা/৫১৭২; ছহীহাহ হা/২৩৯৫)

Posted in পুরুষরা লাল কাপড় পরিধান করতে পারবে কি? | Tagged

ধানকাটার মৌসুম হওয়ায় আমাদের এলাকার অধিকাংশ কৃষক ছিয়াম রাখতে পারে না। তাদের জন্য বিধান কি হবে?


ছিয়াম একটি ফরয ইবাদত। এটি পালন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপরিহার্য। ধান কাটার মৌসুমেও তা পালন করবে। সর্বাবস্থায় ছিয়াম পালনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে এবং সুদৃঢ় ইচ্ছা রাখবে। যতক্ষণ সাধ্য থাকবে ছিয়াম পালন করে যাবে। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উপায় বের করে দেন’।… ‘বস্ত্ততঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান’ (তালাক ৬৫/২-৩)। তবে যদি একান্তই জীবনাশঙ্কা দেখা দেয়, এরূপ বাধ্যগত অবস্থায় ছিয়াম ছেড়ে দিবে এবং পরবর্তীতে ক্বাযা আদায় করে নিবে (ইবনু আব্দিল বার্র, আল-ইস্তিযকার ১/৭৭; ইবনু কুদামাহ, মুগনী ৪/৩৬৫; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১০/১৪৩, ২৩৪-২৩৮)। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সাধ্যমত আল্লাহকে ভয় কর। তাঁর কথা শোন ও মান্য কর এবং (আল্লাহর পথে) ব্যয় কর।এটিই তোমাদের কল্যাণকর’ (তাগাবুন ৬৪/১৬)

Posted in ছিয়াম কৃষক ধানকাটার মৌসুমে রাখতে না পারলে এর বিধান কি হবে? | Tagged

দ্বিতল বিশিষ্ট মসজিদে উপরের তলায় মেয়েরা পুরুষদের থেকে এক কাতার সামনে কাতার হয়ে দাঁড়াতে পারবে কি?


নিয়ম হ’ল ইমাম সামনে দাঁড়াবে ও মুছল্লীরা পিছনে দাঁড়াবে। তবে বাধ্যতামূলক কোন ওযরবশত বা মসজিদে জায়গা সংকুলান না হ’লে পুরুষ বা নারী মুছল্লীরা সাময়িকভাবে ইমাম থেকে সামনে দাঁড়ালে ছালাত হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ২৩/৪০৬; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৩/২৮,৪৫)

Posted in মসজিদে উপরের তলায় মেয়েরা পুরুষদের থেকে এক কাতার সামনে দাঁড়াতে পারবে কি? | Tagged ,

বিবাহের সময় দেনমোহর দেওয়া হয়নি। তিন মাস পর মেয়ের পক্ষ থেকে তালাকের নোটিশ দেওয়া হয়। বর্তমানে জামাই মারা গেছে। এখন কি দেনমোহর দিতে হবে?


স্ত্রীর পক্ষ থেকে খোলা বা বিবাহ বিচ্ছেদ করা হ’লে স্ত্রী দেনমোহর ফেরত দিয়ে স্বামীর নিকট তালাক নিবে (ইবনু কুদামাহ ৭/৩২৩, ৩২৫)। এখানে স্ত্রী যেহেতু তালাকের নোটিশ দিয়েছে এবং বিবাহ বিচ্ছেদ চেয়েছে, সেহেতু সে আর দেনমোহর পাওয়ার হকদার নয়। অতএব মৃত স্বামীর পক্ষ থেকে দেনমোহর প্রদানের প্রশ্নই ওঠে না।

 

ছাবিত ইবনু ক্বায়েস (রাঃ)-এর স্ত্রী রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! চরিত্রগত বা দ্বীনী বিষয়ে ছাবিত ইবনু ক্বায়েসের উপর আমি দোষারোপ করছি না। তবে আমি ইসলামের ভিতরে থেকে কুফরী করা (অর্থাৎ স্বামীর সঙ্গে অমিল) পসন্দ করছি না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তুমি কি তার পক্ষ থেকে মোহরানা স্বরূপ প্রাপ্ত বাগানটি ফিরিয়ে দেবে? সে বলল, দিব। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) স্বামী ছাবেতকে বললেন, তুমি বাগানটি গ্রহণ কর এবং মহিলাকে এক তালাক দিয়ে দাও (বুখারী হা/৫২৭৩; মিশকাত হা/৩২৭৪)। অর্থাৎ ঐ মোহরানা ফেরৎ দানের বিনিময়ে তুমি তাকে তালাক দাও। এটি মূলতঃ শারঈ নিয়মের তালাক নয়, বরং খোলা বা বিচ্ছেদ (ফাৎহুল বারী)

Posted in স্ত্রীর পক্ষ থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ করা হ’লে স্ত্রী দেনমোহর ফেরত পাবে কি? | Tagged ,

ছালাতের বাইরে সিজদার আয়াত পড়ার সাথে সাথে কি সিজদা করতে হবে, না কি পরে কোন এক সময় দিলে হবে।


সিজদার আয়াত যখনই পাঠ করবে বা শ্রবণ করবে তখনই সিজদা দেওয়া সুন্নাত। ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) যখন সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করতেন এবং আমরা তাঁর নিকট থাকতাম, তখন তিনি সিজদা করতেন এবং আমরাও তাঁর সঙ্গে সিজদা করতাম। এতে এত ভিড় হতো যে, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ সিজদা করার জন্য কপাল রাখার জায়গা পেত না (বুখারী হা/১০৭৬; মিশকাত হা/১০২৫)। এক স্থানে দীর্ঘক্ষণ থাকলে এ সিজদা সঙ্গে সঙ্গে না করে কিছু পরেও করা যায়। স্থান পরিবর্তন হ’লে আর সিজদা করতে হয় না, ক্বাযাও আদায় করতে হয় না। এই সিজদা করলে নেকী আছে, না করলে গোনাহ নেই (ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ১৫৩-৫৪ পৃ.; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২২৪ পৃ.)

Posted in সিজদার আয়াত পড়ার সাথে সাথে কি সিজদা করতে হবে? | Tagged

আমার পিতা মারা গেছেন। তার রেখে যাওয়া সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে আধা কাঠা জমির উপর তিন তলা বাড়ী এবং ভিন্ন ভিন্ন দামের আরো প্রায় ৩৯ শতাংশ জমি। আমরা ৪ ভাই ৩ বোন, আমার মা এবং দাদী জীবিত আছেন। আমরা ভাই-বোনেরা চাই তিন তলা বাড়ীটি মায়ের নামে দিতে এবং ভাই-বোনেরা কম দাম এবং বেশী দামের জমি মিলিয়ে বণ্টন করে নিতে এবং কম মূল্যের জমি দাদীকে দিতে। আমার এক ভাই ও এক বোন এখনো নাবালক। এইভাবে বণ্টন করলে কি দাদীর সাথে বেইনছাফী করা হবে? অথবা কিভাবে বণ্টন করলে ইনছাফপূর্ণ বন্টন হবে জানালে উপকৃত হব।


কুরআন যেভাবে মীরাছ বণ্টন করে দিয়েছে সেভাবে বণ্টন করা আবশ্যক। কেননা সেটিই সর্বাধিক ইনছাফপূর্ণ। আল্লাহ বলেন, আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের (মধ্যে মীরাছ বণ্টনের) ব্যাপারে তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান। যদি তারা দুইয়ের অধিক কন্যা হয়, তাহ’লে তারা পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ পাবে। আর যদি কেবল একজনই কন্যা হয়, তবে তার জন্য অর্ধেক। মৃতের পিতা-মাতার প্রত্যেকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ করে পাবে, যদি মৃতের কোন পুত্র সন্তান থাকে। আর যদি না থাকে এবং কেবল পিতা-মাতাই ওয়ারিছ হয়, তাহ’লে মা পাবে তিন ভাগের এক ভাগ। কিন্তু যদি মৃতের ভাইয়েরা থাকে, তাহ’লে মা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ, মৃতের অছিয়ত পূরণ করার পর এবং তার ঋণ পরিশোধের পর’ (নিসা ১১)। এক্ষণে শরী‘আত বর্ণিত উপরোক্ত বণ্টননীতি অক্ষুণ্ণ রেখে সম্পদ বণ্টিত হ’লে এবং উক্ত বণ্টনে দাদী ও অন্যান্য ভাই-বোনেরা সম্মত থাকলে তাতে কোন দোষ হবে না।

Posted in সমপত্তি আল্লাহ্র বিধান অনুযায়ী বণ্টন না করলে তার পরিণাম কী?, সম্পত্তি কিভাবে বণ্টিত হবে যদি একজন ভাই নিঁখোজ থাকে?, সম্পত্তি কিভাবে বণ্টিত হবে যদি পিতা-মাতার পূর্বে আমি মারা গেলে?, সম্পত্তি কে কত অংশ পাবে?, সম্পত্তি রেখে যাওয়া কি আবশ্যক সন্তানের জন্য? | Tagged

বহু মানুষকে দেখা যায় মাথাসহ দাড়িতে লাল মেহেদী ব্যবহার করে। এর ভিত্তি আছে কি?


মাথাসমেত দাড়িতে লাল মেহেদী ব্যবহারে কোন বাধা নেই। যেকোন রঙে দাড়ি ও মাথা রাঙানো যেতে পারে (আবুদাঊদ হা/৪২১১; মিশকাত হা/৪৪৫৪, সনদ জাইয়েদ তবে এর মর্ম ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণীত, আহমাদ হা/২২৩৩৭; ছহীহাহ হা/১২৪৫)। তবে কালো রং ব্যবহার করা নিষিদ্ধ (মুসলিম হা/২১০২; মিশকাত হা/৪৪২৪)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, শেষ যামানায় একদল লোক কালো রং দ্বারা খেযাব করবে। তারা জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না (আবুদাউদ হা/৪২১২)। মনে রাখা আবশ্যক যে, চুল রঙিন করার ক্ষেত্রে কাফেরদের অনুসরণ করা বা নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা নিষিদ্ধ (বুখারী হা/৫৪৩৫; আবুদাউদ হা/৪০৩১, সনদ ছহীহ)

 

উল্লেখ্য যে, কালো চুলকে কালো রাখতে হবে। একইভাবে ছেলেদের চুলকে খাটো এবং মেয়েদের চুলকে লম্বা রাখতে হবে। এটাই আল্লাহর সৃষ্টিগত রীতি। এর পরিবর্তন করা শয়তানের রীতি (নিসা ১১৯; বুঃ মুঃ মিশকাত হা/৪৪৩১)। যারা কালো চুলকে লাল করে বা বিভিন্ন ফ্যাশন করে, হাতে-মুখে উল্কি দেয়, সাদা চুল উঠিয়ে ফেলে, ভ্রু কেটে সরু করে, দাড়ি ছেটে স্টাইল করে, দাড়ি মুন্ডন করে, তারা আল্লাহ প্রদত্ত সৌন্দর্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

 

বস্ত্ততঃ বরকতময় আল্লাহ কতই না সুন্দর সৃষ্টিকর্তা! (মুমিনূন ১৪)। রাসূল (ছাঃ) দো‘আ করতেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার আকৃতিকে সুন্দর করেছ। অতএব তুমি আমার চরিত্রকে সুন্দর কর’ (আহমাদ হা/৩৮২৩; মিশকাত হা/৫০৯৯)

Posted in মাথাসহ দাড়িতে লাল মেহেদী ব্যবহার করা যাবে কি? | Tagged ,

যে সকল গাড়ী ভাড়ায় খাটানো হয় বা কোম্পানীর মালিকানাধীন গাড়িগুলোর উপর কি যাকাত দিতে হবে?


নিজের ব্যবহারের জন্য কেনা গাড়ী বা ভাড়ায় খাটানো গাড়ীর উপর কোন যাকাত লাগবে না। তবে ভাড়া থেকে প্রাপ্ত সম্পদ নিছাব পরিমাণ হ’লে এবং তাতে এক বছর অতিক্রান্ত হ’লে যাকাত দিতে হবে। তবে ব্যবসায়িক পণ্য হিসাবে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে শোরুমে রক্ষিত গাড়ীর মূল্যের উপর যাকাত দিতে হবে। কারণ সেগুলো বিক্রয়ের জন্য আমদানী করা বা বানানো হয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মুসলমানের খেদমতের গোলাম এবং আরোহণের ঘোড়ার উপর কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না (মুসলিম হা/৯৮২; ছহীহাহ হা/২১৮৯)। তবে বিক্রি করে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত গাড়ীতে যাকাত দিতে হবে (নববী, শারহু মুসলিম অত্র হাদীছের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)

Posted in যাকাত কোম্পানীর মালিকানাধীন গাড়িগুলোর উপর কি দিতে হবে? | Tagged

পরীক্ষার কারণে আমি কয়েকটি ছিয়াম রাখতে পারিনি। এক্ষেত্রে আমাকে কি ক্বাযা ও কাফফারা দু’টোই দিতে হবে?


এজন্য কাফফারা নয় বরং যে কয়দিন ছুটে গেছে সে কয়দিন ছিয়ামের ক্বাযা আদায় করতে হবে। সাথে সাথে আল্লাহর নিকট খালেছ নিয়তে তওবা করতে হবে। কারণ পরীক্ষার জন্য ছিয়াম ছেড়ে দেওয়া কোন শারঈ ওযর নয় (ইবনু আব্দিল বার্র, আল-ইস্তিযকার ১/৭৭; ইবনু কুদামাহ, মুগনী ৪/৩৬৫; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১০/১৪৩)। উল্লেখ্য যে, ক্বাযা ও কাফফারা উভয়টি কেবলমাত্র ঐ ব্যক্তির জন্য, যে দিনের বেলায় স্বেচ্ছায় স্ত্রী সঙ্গম করবে (বুখারীহা/৫৩৬৮; মুসলিম হা/১১১১; মিশকাত হা/২০০৪)

Posted in ছিয়াম পরীক্ষার কারণে রাখতে না পারলে কি ক্বাযা ও কাফফারা দিতে হবে? | Tagged

সন্তানের ক্ষতি হওয়ার আশংকায় গর্ভবতী বা দুগ্ধদায়িনী মহিলা ছিয়াম পালন না করলে সেক্ষেত্রে ক্বাযা ছিয়াম আদায় করতে হবে, না ফিদইয়া প্রদান করতে হবে?


যে সকল গর্ভবতী বা দুগ্ধদানকারিণী নারী ছিয়াম পালনে শিশুর ক্ষতির আশঙ্কা করবে তাদের জন্য দু’টি পদ্ধতি জায়েয। একটি হ’ল- প্রতিদিনের বিনিময়ে অর্ধ ছা‘ ফিদিয়া প্রদান করবে। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর বাণী- (অর্থ) যারা সামর্থ্যবান তারা মিসকীনদের ফিদিয়া প্রদান  করবে। তিনি বলেন, এ আয়াতটি অতি বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা লোকের  জন্য ঐচ্ছিক ব্যবস্থা স্বরূপ। যদি তারা ছিয়াম পালন করতে সমর্থ হয়, তবে ছিয়াম রাখবে। অন্যথায় প্রত্যহ একজন মিসকীনকে  খাদ্য খাওয়াবে। আর গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণী স্ত্রীলোকগণ যদি সন্তানের ক্ষতির আশংকা করে, তবে তাদের জন্যও এ নির্দেশ বহাল রয়েছে। ইমাম  আবূ  দাঊদ  (রহঃ) বলেন,  যদি  তারা  তাদের  সন্তানের  ব্যাপারে শংকিত হয়, তবে তারা ছিয়াম না রেখে (মিসকীনকে) খাদ্য খাওয়াতে পারে (আবুদাউদ হা/২৩১৮; ইরওয়া ৪/১৮, শায)। দ্বিতীয়তঃ রামাযানে ছিয়াম ছেড়ে দিবে এবং পরবর্তীতে ক্বাযা আদায় করবে। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা মুসাফিরের উপর থেকে রহিত করে দিয়েছে অর্ধেক ছালাত এবং মুলতবী রেখেছেন ছওমকে। আর গর্ভবতী মহিলা এবং দুগ্ধদানকারী মহিলা থেকেও মুলতবী করে দিয়েছেন ছওম’ (নাসাঈ হা/২২৭৪, ২৩১৫; আহমাদ হা/২০৩৪১, সনদ হাসান)

Posted in গর্ভবতী বা দুগ্ধদায়িনী মহিলা ছিয়াম পালন না করলে করনীয় কি? | Tagged

কুরআন তেলাওয়াত শেষে ‘ছাদাক্বাল্লাহুল আযীম’ বলা ঠিক হবে কি?


কুরআন তেলাওয়াত শেষে ‘ছাদাক্বাল্লাহুল আযীম’ বলার কোন দলীল পাওয়া যায় না। রাসূল (ছাঃ), ছাহাবায়ে কেরাম এমনকি তাবেঈগণের আমল থেকেও এর বর্ণনা পাওয়া যায় না। সেজন্য অনেক বিদ্বান একে বিদ‘আত বলেছেন (বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৭/৩৩০-৩১; উছায়মীন, ইযালাতুস সাত্তার আনিল জাওয়াবিল মুখতার ৭৯-৮০ পৃ.)। বরং এর পরিবর্তে কুরআন তেলাওয়াত শেষে এ দোআটি পড়া যেতে পারে-سُبْحَانَكَ اَللّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أشْهَدُ أنْ لاَ اِلَهَ إلاَّ اَنْتَ أسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ উচ্চারণ : সুবহা-নাকাল্লা-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা, আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লা আনতা, আস্তাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলাইকা’।

 

অনুবাদ : ‘মহা পবিত্র তুমি হে আল্লাহ! তোমার প্রশংসার সাথে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি  ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আমি তোমার নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার দিকেই ফিরে যাচ্ছি (বা তওবা করছি)। (আবুদাউদ হা/৪৮৫৭; মিশকাত হা/২৪৫০; ছহীহাহ হা/৩১৬৪; ইমাম নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লি হা/৩০৮)

Posted in কুরআন তেলাওয়াত শেষে ‘ছাদাক্বাল্লাহুল আযীম’ বলা ঠিক হবে কি? | Tagged ,

সাহারীর শেষ সময় এবং ফজরের আযানের সময় কি আলাদা?


সাহারীর শেষ সময় এবং ফজরের আযানের সময় আলাদা নয়। বরং সাহারীর শেষ সময়ই ফজরের আযানের সময়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যামানায় বেলাল (রাঃ) সাহারীর আযান দিতেন এবং আব্দুল্লাহ ইবনু উম্মে মাকতূম (রাঃ) ফজরের আযান দিতেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা বেলালের আযান শুনে খাও, যতক্ষণ না ইবনু উম্মে মাকতূমের আযান শুনতে পাও’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৬৮০)

Posted in সাহারীর শেষ সময় এবং ফজরের আযানের সময় কি আলাদা? | Tagged ,

এক রাত বা তিন রাত ই‘তেকাফ করা যাবে কি? সর্বনিম্ন কতদিন ই‘তেকাফ করা যায়?


ই‘তেকাফের নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। বরং একটি দিনের জন্যও কেউ যদি আল্লাহ্কে সন্তুষ্ট করার জন্য মসজিদে আল্লাহর ইবাদতে নিজেকে আবদ্ধ রাখে তাহ’লে সেটি ই‘তেকাফ হিসাবে গণ্য হবে। আর কেউ নির্দিষ্ট দিনের জন্য নিজেকে আটকে রাখার নিয়ত করলে সে দিনগুলো পালন করা তার জন্য আবশ্যক হয়ে যাবে (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/৮০০৬; আদ-দুর্রুল মুখতার ১/৪৪৫; নববী, আল-মাজমূ‘ ৬/৪৮৯, ৬/৫৮১৪; আল-ইনছাফ ৭/৫৫৬; বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৫/৪৪১)

Posted in ই‘তেকাফ সর্বনিম্ন কতদিন করা যায়? | Tagged

রাসূল (ছাঃ) জীবনে কতবার ইতেকাফ করেছিলেন? শেষ বছরে কেন তিনি ২০ দিন ইতেকাফ করেন?


আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, কুরআন প্রতি বছর (রামাযানে) একবার  রাসূল (ছাঃ)-এর উপরে পেশ করা হ’ত। অতঃপর মৃত্যুর বছরে দু’বার পেশ করা হয়। আর তিনি প্রতি বছর ১০ দিন ইতিকাফ করতেন। অতঃপর মৃত্যুর বছরে ২০ দিন ইতিকাফ করেন। ২য় হিজরীতে ছিয়াম ফরয হওয়ার পর থেকে ১১ হিজরীতে মৃত্যুবরণের আগ পর্যন্ত ৯ বছর যাবৎ রাসূল (ছাঃ) সকল রামাযানেই শেষ দশকে ইতেকাফ করেছেন। মৃত্যুর বছর জীবনের শেষ রামাযানে তিনি ২০দিন ইতেকাফ করেন (বুখারী হা/২০৪৪, ৪৯৯৮; মিশকাত হা/২০৯৯)। কিন্তু এক বছর স্ত্রীদের উপর ক্রুদ্ধ হয়ে তিনি ইতেকাফ করেননি। ফলে রামাযানের পরেই শাওয়াল মাসে তার ক্বাযা ই‘তেকাফ করেন (বুখারী হা/২০৪৫)

 

আর জীবনের শেষ বছর বিশ দিন ইতেকাফ করার কয়েকটি কারণ বর্ণনা করা হয়েছে- যেমন (১) প্রতি রামাযানে জিব্রীল (আঃ) একবার কুরআন শুনাতেন। কিন্তু যে বছর মারা যান সে বছর দু’বার কুরআন শুনানোর কারণে বিশদিন ইতেকাফ করেন। (২) তিনি বেশী আমল করার মাধ্যমে আল্লাহর অধিক নৈকট্য লাভ করতে চেয়েছিলেন। (৩) কারো মতে, তিনি ৮ম হিজরীতে মক্কা বিজয়ের সফরকালে ইতেকাফ করতে সক্ষম হননি। ফলে তার ক্বাযা স্বরূপ পরবর্তী রামাযানে তিনি বিশদিন ইতেকাফ করেছিলেন (হাকেম হা/১৬০২; ছহীহ ইবনু খুয়ায়মাহ হা/২২২৬, সনদ ছহীহ)

Posted in ইতেকাফ রাসূল (ছাঃ) জীবনে কতবার করেছিলেন?, ইতেকাফ রাসূল (ছাঃ) জীবনের শেষ বছরে কেন তিনি ২০ দিন করেন? | Tagged

দু’জন ব্যক্তি যৌথ ব্যবসা করে। এ দু’জনের একজনের সাথে কোম্পানীর সম্পর্ক ভাল থাকায় কোন একটি পণ্য বাজার মূল্যের চেয়ে কমে পায়। কিন্তু অপরজন একই দ্রব্য কিনতে গেলে সে বেশী মূল্যে কেনে। এক্ষণে প্রথমজন ভাউচার করার সময় কি পণ্যটির মূল্য ক্রয়কৃত মূল্য না লিখে দ্বিতীয়জন যে মূল্যে কিনত সেই মূল্য লিখে বাকী অর্থ লাভ হিসাবে গ্রহণ করতে পারবে?


অংশীদারকে না জানিয়ে এককভাবে বাড়তি মূল্য গ্রহণ করা জায়েয হবে না। কেননা এটি প্রতারণার শামিল। এক্ষেত্রে পরিচয় সূত্রে কেউ বিশেষ সুবিধা পেলে বা বিনামূল্যে পেলে তার ভাগীদার তারা উভয়ই হবে, বিশেষ কোন একজন নয়। অংশীদার তাকে অনুমতি দিলেই কেবল সে এই মূল্য গ্রহণ করতে পারবে। কোন মিথ্যার আশ্রয় নেয়া বা লুকোচুরির আশ্রয় নেয়ার সুযোগ নেই। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে প্রতারণার আশ্রয় নেয়, সে আমার দলভুক্ত নয় (মুসলিম হা/১০২; মিশকাত হা/২৮৬০)

Posted in যৌথ ব্যবসায় একজন বেশি লাভে বিক্রি করলে সেই অর্থ সে নিতে পারবে? | Tagged

স্বামী-স্ত্রীর নামে কিছু টাকা ব্যাংকে জমা রয়েছে এবং সন্তানদের নামেও কিছু টাকা জমা রয়েছে। এক্ষণে যাকাত প্রদানকালে উক্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতিজনের সম্পদ কি আলাদাভাবে ভাগ করে যাকাত হিসাব করতে হবে, নাকি তাদের সম্মিলিত সম্পদের যাকাত একত্রিতভাবে আদায় করতে হবে?


মালিকানা আলাদা হওয়ায় সম্পদগুলো আলাদাভাবে নিছাব পরিমাণ হ’তে হবে এবং পৃথকভাবে যাকাত দিতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘প্রত্যেক স্বর্ণ ও রৌপ্যের মালিক যে তার হক (যাকাত) আদায় করে না, নিশ্চয়ই ক্বিয়ামতের দিন তার জন্য আগুনের বহু পাত তৈরী করা হবে’ (মুসলিম হা/৯৮৭; মিশকাত হা/১৭৭৩, ‘যাকাত’ অধ্যায়।)।

এখানে মালিক বলতে ব্যক্তি মালিকানাকে বুঝানো হয়েছে। অতএব ব্যক্তি মালিকানায় নিছাব পরিমাণ স্বর্ণ বা রৌপ্য থাকলেই কেবল যাকাত ফরয। অন্যথায় নয় (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৮/৬৩)। উল্লেখ্য যে, পরিবারের একাধিক ব্যক্তি স্বর্ণ ও রৌপ্য ব্যবহার করলেও যদি তাতে পৃথক পৃথক মালিকানা না থাকে; বরং পরিবারের কোন এক ব্যক্তির মালিকানায় থাকে, তাহ’লে তা নিছাব পরিমাণ হ’লে যাকাত আদায় করতে হবে’(উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৮/৬৩)

Posted in স্বামী-স্ত্রীর আলাদা নামে টাকা থাকলে যাকাত কিভাবে দেবে? | Tagged

ছেলে-মেয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্ক। তাদের নামে ব্যাংকে জমাকৃত টাকার যাকাত কি পিতা বা অভিভাবককে আদায় করতে হবে?


এক্ষেত্রে পিতা বা অভিভাবকেরাই শিশুর সম্পদ থেকে যাকাত আদায় করবে (ইবনু কুদামাহ, মুগনী ২/৪৬৫; নববী, আল-মাজমূ‘ ৫/৩০২; বিন বায, ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ৯/৪১০)। ওমর (রাঃ) বলেন, তোমরা ইয়াতীমের সম্পদ দ্বারা ব্যবসা কর, যেন তা যাকাতের মাধ্যমে নিঃশেষ না হয়ে যায় (মুওয়াত্ত্বা মালেক হা/৮৬৩)। এতে প্রমাণিত হয় যে, ইয়াতীম বা শিশুর সম্পদেও যাকাত প্রযোজ্য।

Posted in ছেলে-মেয়ের ব্যাংকে জমাকৃত টাকার যাকাত দিতে হবে কি? | Tagged

সিগারেট, কাঁচা তামাক ক্রয়-বিক্রয়, রফতানী এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো, মেশিনারী প্রভৃতি বিক্রয়লব্ধ অর্থের উপর যাকাত আদায় করতে হবে কি?


উপরোক্ত পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট জিনিসগুলি হারাম হওয়ায় সেগুলোর উপর যাকাত দিতে হবে না। কারণ তা আল্লাহর নিকট কবুল হবে না। কেননা ‘আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র বস্ত্ত ব্যতীত কবুল করেন না’ (মুসলিম হা/১০১৫; মিশকাত হা/২৭৬০)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আল্লাহ পবিত্রতা ব্যতীত ছালাত কবুল করেন না এবং হারাম মালের ছাদাক্বা গ্রহণ করেন না’ (মুসলিম হা/২২৪; মিশকাত হা/৩০১; মিরক্বাত)। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, ‘কোন বান্দা হারাম পথে উপার্জিত অর্থ-সম্পদ ছাদাক্বা করলে তা কবুল করা হবে না এবং নিজের কাজে ব্যবহার করলেও তাতে বরকত হবে না। আর ঐ সম্পদ তার উত্তরাধিকারীদের জন্য রেখে গেলে তা তার জন্য জাহান্নামের পুঁজি হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা মন্দের দ্বারা মন্দকে মিটিয়ে দেন না। তবে সৎকর্ম দ্বারা মন্দকর্ম মিটিয়ে দেন’ (আহমাদ হা/৩৬৭২; মিশকাত হা/২৭৭১; শু‘আবুল ঈমান হা/৫৫২৪; হাকেম হা/৭৩০১, সনদ ছহীহ)। উল্লেখ্য যে, হারাম মালে যাকাত ফরয না হওয়ার বিষয়ে প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের মধ্যেও ঐক্যমত রয়েছে। তাছাড়া যাকাত দেওয়া হয় মাল পবিত্র করার জন্য। অথচ পুরো মালই অপবিত্র হ’লে তা কাকে পবিত্র করবে? (আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়াহ ২৩/২৪৮)

 

এতদ্ব্যতীত যে বস্ত্ত মৌলিকভাবে হারাম তার মূল্য দ্বারা উপকৃত হওয়াও হারাম। যেমন তামাক মাদক দ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘প্রত্যেক মাদকতা আনয়নকারী বস্ত্ত হারাম’ (মুসলিম হা/২০০৩; মিশকাত হা/৩৬৩৮)। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা কোন জাতির উপর কোন কিছু খাওয়া হারাম করলে তার বিক্রয়লব্ধ অর্থও হারাম করে দেন’ (আবুদাঊদ হা/৩৪৮৮; আহমাদ হা/২৯৬৪)। যেমন মদ হারাম সম্পর্কিত সুস্পষ্ট নির্দেশ (মায়েদাহ ৯০) নাযিলের পর রাসূল (ছাঃ) ঘোষণা করলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা মদ হারাম করে দিয়েছেন। সুতরাং যার নিকট এই আয়াত পৌঁছে গেছে এবং তার নিকট এর কিছু অংশ অবশিষ্ট আছে, সে যেন তা পান না করে এবং বিক্রয় না করে’। রাবী বলেন, অতঃপর যাদের নিকট মদ অবশিষ্ট ছিল তারা তা নিয়ে বেরিয়ে পড়ল এবং তা মদীনার রাস্তায় ঢেলে দিল (মুসলিম হা/১৫৭৮)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘যিনি তা পান করা হারাম করেছেন, তিনি এর বিক্রিও হারাম করে দিয়েছেন’ (মুসলিম হা/১৫৭৯; ‘মদ বিক্রি হারাম’ অনুচ্ছেদ)। সুতরাং হারাম পণ্য বিক্রি করা ও এর বিক্রয়লব্ধ অর্থ গ্রহণ করা সুস্পষ্টভাবে হারাম।

 

এক্ষণে এই হারাম সম্পদ যথাশীঘ্র নিজ মালিকানা থেকে বের করে দিতে হবে এবং ছওয়াবের আশা ছাড়াই জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান বা হতদরিদ্র ব্যক্তিদের মধ্যে দান করে দিতে হবে। ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, ব্যক্তির নিজ ও নিজ পরিবার চালানোর জন্য যদি হারাম পন্থায় উপার্জিত সম্পদ ব্যতীত কোন সম্পত্তি না থাকে, তাহ’লে যতটকু প্রয়োজন ততটকু সেখান থেকে গ্রহণ করে বাকীগুলো ছাদাক্বা করে দিবে। যদিও এই ছাদাক্বায় তার কোন উপকার হবে না। তবে এতে কিছু গরীব উপকৃত হবে (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ২৯/৩০৮; ইবনুল ক্বাইয়িম, মাদারিজুস সালেকীন ১/৩৮৯; যাদুল মা‘আদ ৫/৭৭৮)। অতএব এই সম্পদের কোন যাকাত নেই। বরং এই সমুদয় হারাম সম্পদ ছওয়াবের আশা ব্যতীত জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতে হবে।

Posted in সিগারেট তামাকের অর্থের উপর যাকাত আদায় করতে হবে কি? | Tagged , ,

মসজিদের মাইকে শিশুদের পোলিও খাওয়ানো, টিকাদান, আবহাওয়া সম্পর্কে সতর্কীকরণ বা মক্তবের ক্লাসের কথা ঘোষণা করা যাবে কি?


মসজিদের মাইক কেবলমাত্র আযানের জন্যই নির্ধারিত। যা অন্য কাজে ব্যবহার বাঞ্ছনীয় নয়। এতে মৃত্যু খবর প্রচার করা আদৌ জায়েয নয়। কেননা তা না‘ঈ বা শোক সংবাদ প্রচারের শামিল। যা শরী‘আতে নিষিদ্ধ (তিরমিযী হা/৯৮৬; তালখীছ, পৃ. ১৯, ৯৮)। মসজিদের মাইকে আযান ব্যতীত অন্য কোন কাজে ব্যবহারের বিষয়ে সালাফে ছালেহীনের কোন নযীর পাওয়া যায় না। অতএব এগুলি পরিত্যাজ্য।

Posted in প্রশ্নোত্তর | Tagged

জনৈক ইমাম ছাহেব খুৎবায় বলেন, ১০ই যিলহজ্জ মিনাতে কংকর নিক্ষেপ করে মাথা মুন্ডন অতঃপর কুরবানী করতে হবে। আগপিছ করলে হজ্জ হবে না। এ কথা কি সঠিক?


উপরোক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে কংকর নিক্ষেপ করার পূর্বে মাথা মুন্ডন করা ও কুরবানী করা প্রসংগে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, لاَ حَرَجَ ‘এতে কোন অসুবিধা নেই’। অন্য বর্ণনায় এসেছে افْعَلُوْا وَلاَ حَرَجَ ‘এটি কর, এতে কোন অসুবিধা নেই’ (মুসলিম হা/১৩০৬, ‘হজ্জ’ অধ্যায়)

Posted in হজ্জ-এ ধারাবাহিকত বজায় রাখতে হবে কি? | Tagged

গ্রামের দু’পাশে দু’টি মসজিদ রয়েছে। গ্রামের মধ্যস্থলে বাজারের নিকটে জুম‘আ মসজিদের সম্পত্তি রয়েছে। সেখানে আরেকটি ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণ করা যাবে কি? তাছাড়া একটি মসজিদের অর্থ দিয়ে অন্য মসজিদ নির্মাণে অর্থ ব্যয় করা যাবে কি?


এরূপ কারণে মসজিদ নির্মাণে কোন বাধা নেই এবং কমিটির সম্মতিক্রমে এক মসজিদের অতিরিক্ত অর্থ অন্য মসজিদে ব্যবহারেও কোন দোষ নেই (ইবনু কুদামা, আল-মুগনী ৬/৩১; শায়খ বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব)। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, এক মসজিদের অতিরিক্ত অর্থ অন্য মসজিদে ব্যবহার করতে পারে’ (মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ৩১/১৮, ২০৬-২০৭)। তবে জামা‘আত বড় রাখার স্বার্থে একই মসজিদে ছালাত আদায় করা উত্তম। কেননা জামা‘আত যত বড় হয়, আল্লাহর নিকট সেটি ততবেশী প্রিয়তর হয় (আবুদাউদ হা/৫৫৪; নাসাঈ হা/৮৪৩, সনদ ছহীহ; মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ৩১/২২১)

Posted in মসজিদের অর্থ দিয়ে অন্য মসজিদ নির্মাণে অর্থ ব্যয় করা যাবে কি? | Tagged

সূদের টাকা ছওয়াবের আশা ছাড়া কোথায় দান করা সবচেয়ে উত্তম? আমি চাচ্ছি না মাদ্রাসায় এই টাকা ‘তালিবে ইলম’ দের কোন কাজে ব্যবহৃত হোক।


এধরনের সম্পদ ছওয়াবের আশা ব্যতীত ফকীর-মিসকীনদের মাঝে বিতরণ করে দিতে হবে। এছাড়া মুসলমানদের কল্যাণার্থে অন্যান্য খাতে ব্যয় করা যাবে। যেমন অভাবী আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশী ইত্যাদি (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৩/৩৫২, ১৬/৫৩২)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি হারাম মাল সঞ্চয় করে, অতঃপর তা থেকে ছাদাক্বা করে, তাতে সে ছওয়াব পাবে না এবং এর পাপ তার উপরই বর্তাবে’ (শু‘আবুল ঈমান হা/৩৪৭৭; হাকেম হা/১৪৪০; ছহীহ ইবনু হিববান হা/৩৩৫৬, ছহীহুত তারগীব হা/৮৮০)

Posted in সূদের টাকা কোথায় দান করা যাবে? | Tagged ,