ছালাত আদায়ের পর বুঝতে পারি যে ক্বিবলা ভুল হয়ে গেছে। উক্ত ছালাত কি পুনরায় আদায় করতে হবে?


অবহেলাবশতঃ এরূপ ভুল হয়ে থাকলে উক্ত ছালাত পুনরায় আদায় করতে হবে। কারণ ছালাত শুদ্ধ হওয়ার জন্য অন্যতম শর্ত হ’ল ক্বিবলা সঠিক হওয়া (বাক্বারাহ /১৫০; ইবনু হাযম, মুহাল্লা /২৫৮; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ /২৯৫, ফৎওয়া নং ১৭২৭৯)। তবে চেষ্টার পরেও যদি ক্বিবলা ভুল হয়ে যায়, তবে পুনরায় তা আদায় করতে হবে না। একদা কতিপয় ছাহাবী অন্ধকার রাতে কোন এক অজ্ঞাত স্থানে ছালাত আদায় করার সময় ভুলে ক্বিবলার বিপরীত দিকে ফিরে ছালাত আদায় করেন। অতঃপর তারা রাসূল (ছাঃ)-কে ঘটনাটি বর্ণনা করলে তিনি তা পুনরায় আদায়ের নির্দেশ না দিয়ে বললেন, তোমাদের ছালাত আদায় হয়ে গেছে। অতঃপর আল্লাহ রাববুল ‘আলামীন আয়াত নাযিল করেন, ‘আর আল্লাহর জন্যই পূর্ব ও পশ্চিম। অতএব যেদিকেই তোমরা মুখ ফিরাও সেদিকেই রয়েছে আল্লাহর চেহারা। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বব্যাপী ও সর্বজ্ঞ’ (বাক্বারাহ /১১৫; তিরমিযী হা/২৯৫৭, ইরওয়া হা/২৯১, সনদ হাসান)

Posted in ছালাতে ক্বিবলা ভুল হলে উক্ত ছালাত কি পুনরায় আদায় করতে হবে? | Tagged ,

গীবতের কাফফারা কি এবং এর পাপ থেকে মুক্তির উপায় কি?


গীবতের কাফফারা হচ্ছে যার গীবত করা হয়েছে তার নিকটে ক্ষমা চাওয়া এবং যাদের নিকট গীবত করা হয়েছে, তাদের নিকট গীবতের বদলে প্রশংসা করা। যেমন আবুবকর ও ওমর (রাঃ) একবার নিজেদের মধ্যে তাদের এক খাদেমের অনুপস্থিতিতে তার অধিক ঘুমানোর ব্যাপারে আলোচনা করেন। সামান্য এই গীবতের কারণে রাসূল (ছাঃ) পরে তাদেরকে বললেন যে, আমি তোমাদের উভয়ের দাঁতের মধ্যে তার গোশত দেখতে পাচ্ছি। অতঃপর তাঁরা রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি তাঁদেরকে তাদের খাদেমের নিকটে ক্ষমা চাইতে বলেন (সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৬০৮)। তবে সরাসরি ক্ষমা চাইতে গেলে যদি ফিৎনা সৃষ্টি হয়, তাহ’লে নিজের জন্য ও তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে এবং যে স্থানে তার কুৎসা রটনা করা হয়েছে সেখানে তার প্রশংসা করতে হবে (ইবনুল ক্বাইয়িম, আলওয়াবিলুছ ছাইয়েব, পৃ. ১৪১)

Posted in গীবতের কাফফারা কি? | Tagged

পেশাব-পায়খানা করা অবস্থায় যদি হাঁচি আসে, তাহ’লে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা যাবে কি?


পেশাব-পায়খানা করা অবস্থায় হাঁচি আসলে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা যাবে না। কারণ এ সময় যিকর করা হ’তে নবী করীম (ছাঃ) বিরত থাকতেন। সেকারণ হাজত সম্পন্ন করার পর তিনি ‘গুফরা-নাকা’ বলে আল্লাহর নিকটে ক্ষমা চাইতেন (তিরমিযী হা/, সনদ ছহীহ; মিশকাত হা/৩৫৯)

Posted in পেশাব-পায়খানা করা অবস্থায় হাঁচি আসলে করনীয় কি? | Tagged , ,

আমি নিরাপত্তা বাহিনীতে চাকুরীরত। বড় অফিসারকে দেখলে দাঁড়িয়ে সম্মান করতে হয়। শাস্তির ভয়ে বাধ্য হয়ে আমাকেও দাঁড়াতে হয়। এক্ষণে আমার করণীয় কি?


রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘যদি কেউ এতে আনন্দবোধ করে যে, লোকেরা তাকে দেখে স্থিরভাবে দন্ডায়মান থাকুক, তাহ’লে সে জাহান্নামে তার ঠিকানা করে নিল (তিরমিযী, আবুদাঊদ, সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/৪৬৯৯)। অতএব এই মন্দ প্রথা বন্ধের জন্য সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। মুখে বা লিখিতভাবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। আল্লাহ বলেন, তোমরা সাধ্যমত আল্লাহ্কে ভয় কর (তাগাবুন ৬৪/১৬)। সম্ভব না হলে অন্ততঃ অন্তরে ঘৃণা রাখতে হবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১৩৭)। তবে যিনি আপনাকে এ পাপ কর্মে বাধ্য করছেন, তিনিই হবেন এজন্য মূল দায়ী।

Posted in দাঁড়িয়ে সম্মান করতে বাধ্য হলে আমার করণীয় কি? | Tagged ,

নিজ পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ যথাযথভাবে বহন করলে কোন নেকী অর্জিত হয় কি?


ছওয়াবের আশা নিয়ে পরিবারের জন্য ব্যয় করলে তাতে ছাদাক্বার নেকী অর্জিত হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যখন কোন মুসলমান নিজ পরিবারের জন্য খরচ করে এবং তাতে ছওয়াবের আশা রাখে, তখন তার পক্ষে এটি ছাদাক্বা হিসাবে গণ্য হবে’ (মুত্তাফাক্বআলাইহ, মিশকাত হা/১৯৩০শ্রেষ্ঠ দান’ অনুচ্ছেদ)। উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আবু সালামার সন্তানদের জন্য খরচ করায় আমার ছওয়াব হবে কি? তারা তো আমারই সন্তান। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘তাদের জন্য খরচ কর। এতে তোমার ছওয়াব হবে, যে পরিমাণ তুমি খরচ করবে’ (মুত্তাফাক্বআলাইহ, মিশকাত হা/১৮৩৭)। তিনি বলেন, সর্বোত্তম ব্যয় হচ্ছে ঐ অর্থ (দীনার) যা ব্যক্তি তার নিজের পরিবারের জন্য ব্যয় করে (মুসলিম হা/৯৯৪; মিশকাত হা/১৯৩২)

Posted in নিজ পরিবারের খরচ বহন করলে কোন নেকী অর্জিত হয় কি? | Tagged

পবিত্র কুরআন মুখস্থ ও দেখে তেলাওয়াত করার মধ্যে ছওয়াবের কোন তারতম্য আছে কি?


কোন তারতম্য নেই। কুরআন দেখে পড়া হোক বা মুখস্থ পড়া হোক প্রতি হরফে দশটি করে নেকী হবে (তিরমিযী হা/২৯১০; মিশকাত হা/২১৩৭)। উল্লেখ্য, কুরআন মূল মুছহাফ দেখে পাঠ করার পৃথক ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদীছের কোনটি যঈফ, কোনটি জাল (সিলসিলা যঈফাহ হা/৩৫৬, ১৫৮৬, ১৭১০)

Posted in কুরআন মুখস্থ ও দেখে তেলাওয়াত করার মধ্যে ছওয়াবের কোন তারতম্য আছে কি? | Tagged

সমকামিতা কোন পর্যায়ভুক্ত পাপ? এর শাস্তি কি যেনার শাস্তির অনুরূপ?


সমকামিতা অত্যন্ত ঘৃণ্য পাপ এবং কবীরা গুনাহ। এই পাপের কারণেই বর্তমান পৃথিবীতে এইড্স-এর মত মরণ ব্যধি ছড়িয়ে পড়েছে। এ অপরাধের কারণে বিগত যুগে আল্লাহ তা‘আলা কওমে লূতকে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন (আ‘রাফ /৮০৮৪; হিজর ১৫/৭২৭৬)। এর শাস্তি হ’ল সমকামী উভয়কে হত্যা করা। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, তোমরা যাকে লূত (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের মত পুরুষে পুরুষে অপকর্ম করতে দেখবে তাদের উভয়কে হত্যা কর (তিরমিযী হা/১৪৫৬; আবুদাঊদ হা/৪৪৬২; মিশকাত হা/৩৫৭৫)। তিনি আরো বলেন, আল্লাহ তা‘আলা কওমে লূতের ন্যায় অপকর্মকারীদের প্রতি লা‘নত করেছেন, তিনি একথাটি তিনবার বললেন (আহমাদ হা/২৯১৫; ছহীহাহ হা/৩৪৬২)। তবে এ শাস্তি কার্যকর করার দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীলদের (কুরতুবী)। না করলে সরকার গোনাহগার হবে।

Posted in সমকামিতা কোন পর্যায়ভুক্ত পাপ? এর শাস্তি কি যেনার শাস্তির অনুরূপ? | Tagged

ওয়ায মাহফিল, ইসলামী ক্লাস ইত্যাদি চলা অবস্থায় আযানের জবাব দেওয়া বা আযানের দো‘আ পাঠ করার বিধান কি?


আযানের জওয়াব দেওয়া সুন্নাত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা যখন আযান শুনবে তখন মুওয়াযযিন যা বলে তোমরাও তাই বল’ (বুখারী হা/৬১১; মুসলিম হা/৩৮৩)। যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে আযানের উত্তর দিবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে (মুসলিম হা/৩৮৫; মিশকাত হা/৬৫৮)। অতএব যিনি যে অবস্থায় থাকবেন, সে অবস্থায় আযানের জওয়াব দেওয়া কর্তব্য। উল্লেখ্য যে, একাধিক আযানের মধ্যে যেকোন একটির উত্তর দিলেই সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে।

Posted in আযানের দো‘আ পাঠ করার বিধান কি? | Tagged

জনৈক বক্তা বলেন, দো‘আর পর মুখমন্ডল মাসাহ করা সুন্নাত। এর বিশুদ্ধতা জানতে চাই।


আল্লাহর নিকট যখন কিছু চাইবে, তখন দুহাত প্রসারিত কর এবং দোআর শেষে উভয় হাত দ্বারা মুখমন্ডল মাসাহ করমর্মে বর্ণিত হাদীছগুলি যঈফ (ইবনু মাজাহ হা/১১৮১; বায়হাক্বী, মিশকাত হা/২২৫৫; ইরওয়া হা/৪৩৩৩৪; উছায়মীন, মাজমূউল ফাতাওয়া ১৪/১৫৭; ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূউল ফাতাওয়া ২২/৫১৯)

আলবানী বলেন, দোআর পরে দুহাত মুখে মাসাহ করা সম্পর্কে কোন ছহীহ হাদীছ নেই (মিশকাত হা/২২৫৫এর হাশিয়া /৬৯৬ পৃ.)

Posted in দো‘আর পর মুখমন্ডল মাসাহ করা সুন্নাত কি? | Tagged ,

কবরবাসীকে সালাম দিলে তারা কিভাবে উত্তর দিয়ে থাকে?


কবর দিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় মাইয়েত যেমন তার স্বজনদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায় (বুখারী হা/১৩৩৮; মুসলিম হা/২৮৭০; মিশকাত হা/১২৬), তেমনি কবরবাসীর উদ্দেশ্যে সালাম দিলে ফেরেশতাগণ তাদের রূহে সালাম পৌঁছে দেন এবং তারাও সালামের জবাব দেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন পরিচিত কোন কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে সালাম দিলে সেও তাকে চিনে এবং তার সালামের জবাব দেয়। আর যখন কোন অপরিচিত কবরের পাশ দিয়ে সালাম দিয়ে অতিক্রম করে, তখন সেও তার সালামের জবাব দেয়[(বায়হাক্বী, শুআবুল ঈমান হা/৯২৯৬; ইবনু আব্দিল বার্র, আলইস্তিযকার /১৮৫; ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূউল ফাতাওয়া ২৪/২৯৭; ইবনুল ক্বাইয়িম, আররূহ, পৃ. ; উছায়মীন, মাজমূফাতাওয়া, ক্রমিক ৩০৭, /২৪৪ পৃ. ইরাক্বী, ইবনু তায়মিয়াহ, ইবনু আব্দিল বার্র, শাওকানী প্রমুখ বিদ্বানগণ হাদীছটি ছহীহ বলেছেন। তবে আলবানী একে যঈফ বলেছেন (সিলসিলা যঈফাহ হা/৪৪৯৩)]

রূহ ফিরিয়ে দেওয়া সালামের জওয়াব দেওয়া বিষয়গুলি বরযখী জীবনের বিষয়। তার আকৃতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করা কারু পক্ষে সম্ভব নয়। অতএব জীবিতদের জন্য করণীয় রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশ মোতাবেক কবরবাসীকে সালাম দেওয়া (মুসলিম হা/২৪৯; ইবনু মাজাহ হা/৪৩০৬; মিশকাত হা/২৯৮)

Posted in কবরবাসীকে সালাম দিলে তারা কিভাবে উত্তর দিয়ে থাকে? | Tagged ,

হাশরের মাঠে রাসূল (ছাঃ)-এর সুফারিশ ছাড়া কেউ জান্নাতে যেতে পারবে কি?


রাসূল (ছাঃ)-এর শাফা‘আত ছাড়া বিচার কার্যই শুরু হবে না (বুখারী হা/১৯৪; মুসলিম হা/১৯৩)। তাই তাঁর শাফা‘আত ব্যতীত জান্নাতেও যাওয়া যাবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আমি প্রথম ব্যক্তি যে লোকদের জান্নাতে প্রবেশ সম্পর্কে আল্লাহর নিকট শাফা‘আত করব (মুসলিম হা/১৯৬; মিশকাত হা/৫৭৪৪)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, আমিই সবার আগে জান্নাতের কড়া নাড়বো (মুসলিম হা/১৯৬; মিশকাত হা/৫৭৪২)

Posted in জান্নাতে রাসূল (ছাঃ)-এর সুফারিশ ছাড়া কেউ যেতে পারবে কি? | Tagged , ,

অবাধ্যতা ও মন্দ আচরণের কারণে স্ত্রীকে প্রহার করা যাবে কি?


হালকা প্রহার করা যাবে। তবে তার পূর্বে উপদেশ দেওয়া, বিছানা পৃথক করা ইত্যাদি পদক্ষেপ নিতে হবে। আল্লাহ বলেন, সতী-সাধ্বী স্ত্রীরা হয় অনুগত এবং আল্লাহ যা হেফাযত করেছেন, আড়ালেও (সেই গুপ্তাঙ্গের) হেফাযত করে। আর যদি তোমরা তাদের অবাধ্যতার আশংকা কর, তাহ’লে তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের বিছানা পৃথক করে দাও এবং (প্রয়োজনে) প্রহার কর (নিসা /৩৪)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মহিলাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। কারণ তাদেরকে তোমরা আল্লাহর আমানত হিসাবে গ্রহণ করেছ। আল্লাহর কালেমার সাহায্যে তাদের লজ্জাস্থানকে বৈধ করেছ। তাদের উপর তোমাদের অধিকার হ’ল, তারা এমন কাউকে তোমাদের বিছানা মাড়াতে দেবে না, যাকে তোমরা অপসন্দ কর। এমন করলে তাদেরকে হালকাভাবে প্রহার কর। আর প্রচলিত নিয়মে তাদের খাওয়া-পরার দায়িত্ব তোমাদের উপর (মুসলিম হা/১২১৮; মিশকাত হা/২৫৫৫)

Posted in অবাধ্যতা ও মন্দ আচরণের কারণে স্ত্রীকে প্রহার করা যাবে কি? | Tagged ,

ছহীহ মুসলিমের একটি হাদীছে কারো আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বলা হয়েছে। এক্ষণে রাষ্ট্রীয় আইন-আদালত ও প্রশাসন থাকা অবস্থায় এটা জায়েয হবে কি?


ব্যাপারে বর্ণিত হাদীছটি জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! যদি কেউ আমার সম্পদ ছিনিয়ে নিতে উদ্যত হয় তবে আমি কি করব? রাসূল (ছাঃ) বললেন, তুমি তাকে তোমার সম্পদ নিতে দিবে না। লোকটি বলল, যদি সে আমার সাথে নিয়ে লড়াই করে? রাসূল (ছাঃ) বললেন, তুমিও তার সাথে লড়াই করবে। লোকটি বলল, যদি সে আমাকে হত্যা করে? রাসূল (ছাঃ) বললেন, তাহলে তুমি শহীদ বলে গণ্য হবে। লোকটি বলল, আর যদি আমি তাকে হত্যা করি? রাসূল (ছাঃ) বললেন, তাহলে সে জাহান্নামী (মুসলিম হা/১৪০; মিশকাত হা/৩৫১৩)

উক্ত হাদীছে আত্মরক্ষা বা ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে। যা প্রত্যেক মানুষের জন্মগত অধিকার। সকল ধর্ম সকল আইনে এটা সিদ্ধ। অতএব কেউ যদি কারো সম্পদ ছিনিয়ে নিতে চায়, অপমান করে অথবা হত্যা করতে উদ্যত হয়, সেক্ষেত্রে আত্মরক্ষার্থে তৎক্ষণাৎ তার উপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করায় কোন বাধা নেই। তবে এক্ষেত্রে পূর্ণ ইনছাফ বজায় রাখা আবশ্যক (আলমাওসূআতুল ফিক্বহিয়াহ ৩২/৩১৮; উছায়মীন, লিক্বাউল বাবিল মাফতূহ ১৩/৮২) এর দ্বারা সবক্ষেত্রে আইন হাতে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

Posted in কারো আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে কি? | Tagged ,

আল্লাহ ও মুহাম্মাদ লিখা লাশ বহনকারী খাটলী বিক্রয় করা যাবে কি?


খাটলীতে আল্লাহ ও মুহাম্মাদ নাম বা কুরআনের কোন আয়াত লেখা যাবে না (ইবনুল হুমাম হানাফী, ফাৎহুল ক্বাদীর /১৬৯; উছায়মীন, লিক্বাউল বাবিল মাফতূহ ১৩/১৯৭; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা /৫৮)। অতএব এরূপ খাটলী ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না। এর পরিবর্তে এসব নামহীন খাটলীর ব্যবস্থা করতে হবে।

Posted in লাশ বহনকারী আল্লাহ ও মুহাম্মাদ লিখা খাটলী বিক্রয় করা যাবে কি? | Tagged ,

সালাম ফিরানোর ক্ষেত্রে ইমাম উভয় সালাম না প্রথম সালাম শেষ করার পর মুক্তাদী সালাম ফিরাবে?


ইমামের পিছে পিছে সালাম ফিরাবে। রাসূলুললাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘ইমাম নিযুক্ত করা হয় তাকে অনুসরণের জন্য’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১১৩৯)। তিনি বলেন, হে লোকসকল! আমি তোমাদের ইমাম। সুতরাং তোমরা রুকূ, সিজদা, ক্বিয়াম ও সালাম কোন কিছুই আমার পূর্বে করবে না’ (মুসলিম হা/৪২৬; মিশকাত হা/১১৩৭)। ইতবান ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-এর সঙ্গে ছালাত আদায় করেছি। তিনি যখন সালাম ফিরান তখন আমরাও সালাম ফিরাই (বুখারী হা/৮৩৮)। অতএব ছালাতের প্রত্যেকটি কাজ শুরু করতে হবে ইমাম শুরু করার পর।

Posted in সালাম ফিরানোর ক্ষেত্রে ইমাম অত:পর মুক্তাদী কিভাবে সালাম ফিরাবে? | Tagged , ,

ফজরের পর ঘুমানোর ব্যাপারে শরী‘আতে কোন নিষেধাজ্ঞা আছে কি? এসময় মানুষের রিযিক বণ্টন করা হয় মর্মে কোন দলীল আছে কি?


ফজরের পর ঘুমানোর ব্যাপারে কোন নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়নি। আর এসময় রিযিক বণ্টনের বিষয়ে যে ক’টি হাদীছ ও আছার বর্ণিত হয়েছে, তার সবগুলো যঈফ (যঈফাহ হা/৫১৭০, ৬৯৯১; যঈফুত তারগীব হা/১০৪৫১০৪৮; যঈফুল জামে‘ হা/৮১৮)। তবে বিভিন্ন দলীলের মাধ্যমে বুঝা যায় যে, শরী‘আতে ফজরের পর ঘুমানোর বিষয়টি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কেননা আল্লাহ রাববুল ‘আলামীন রাতকে বিশ্রাম এবং দিনকে জীবিকার্জনের জন্য সৃষ্টি করেছেন (নাবা ৭৮/১০১১)। এছাড়া রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘হে আল্লাহ তুমি আমার উম্মতের জন্য ভোরের কর্মের মধ্যে বরকত দান করো। বর্ণনাকারী বলেন, নবী করীম (ছাঃ) যখন কোথাও ক্ষুদ্র সেনাদল বা বৃহৎ সৈন্যবাহিনী পাঠাতেন তখন তাদেরকে দিনের প্রথমাংশে পাঠাতেন। রাবী ছাখার আল-গামেদী ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। তিনি তার ব্যবসাদলকে দিনের শুরুতেই পাঠিয়ে দিতেন। ফলে তিনি ধনী হন এবং তার সম্পদ বৃদ্ধি পায় (আবুদাঊদ হা/২৬০৬; মিশকাত হা/৩৯০৮; ছহীহুল জামে‘ হা/১৩০০)

Posted in ফজরের পর ঘুমানোর ব্যাপারে শরী‘আতে কোন নিষেধাজ্ঞা আছে কি? | Tagged

ফজরের পর সফরে বের হয়ে মাগরিবের পর সফর শেষ হয়। এর মধ্যকার যোহর ও আছর ছালাত মাগরিবের ছালাতের সাথে পড়তে হবে? না ফজরের সময় এক সাথে সকল ছালাত পড়ে নিয়ে সফরে বের হ’তে হবে?


যোহর ও আছরের ছালাত কোন বিরতিস্থলে বা যানবাহনে জমা ও ক্বছর করবে (আবুদাঊদ হা/১২০৮; মিশকাত হা/১৩৪৪; মুসলিম হা/৬৮৬; মিশকাত হা/১৩৩৫)। সুযোগ না মিললে পরবর্তী ওয়াক্তের সাথে ক্বাযা আদায় করে নিবে। কিন্তু পথিমধ্যে ছালাত ছুটে যাওয়ার আশংকায় নির্ধারিত ওয়াক্তের পূর্বে ফজরের সাথে বাকী সব ছালাত জমা করা যাবে না (উছায়মীন, মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ১২/২১৬; বিস্তারিত দ্রঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) পৃ. ১৪০, ১৮৮)

Posted in সফরে বের হয়ে ছালাত কিভাবে পড়বো? | Tagged

কুরআন-হাদীছের বর্ণনামতে ইয়াজূজ-মাজূজের মত বিশাল জনগোষ্ঠী কিয়ামতের পূর্বে প্রকাশ পাবে। অর্থাৎ তারা এ দুনিয়াতেই আছে। অথচ বিজ্ঞানীরা এখনো তার কোন সন্ধান জানে না। এর ব্যাখ্যা কি?


ইয়াজূজ-মাজূজ সম্প্রদায় আদম (আঃ)-এর বংশধর (বুখারী হা/৪৭৪১, মুসলিম হা/২২২)। কুরআনের বর্ণনামতে, যুলক্বারনাইন নামক একজন প্রতাপশালী শাসক তাদেরকে পৃথিবীর অজ্ঞাত কোন স্থানে প্রাচীর দিয়ে আটকিয়ে রেখেছেন (কাহফ ১৮/৯৪৯৮)। তবে তারা বর্তমানে ভূপৃষ্ঠে না ভূগর্ভে আছে সে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। কেবল বলা হয়েছে যে, ক্বিয়ামতের প্রাক্কালে তাদের পুনরাবির্ভাব ঘটবে। আর তারা উচ্চভূমি থেকে ছুটে আসবে (আম্বিয়া ২১/৯৬)। এছাড়া বহু ছহীহ হাদীছে তাদের ব্যাপারে আলোকপাত করা হয়েছে। অতএব এ ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস রাখা আবশ্যক। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হওয়া বা না হওয়া এখানে ধর্তব্য বিষয় নয়।

Posted in ইয়াজূজ-মাজূজের সন্ধান বিজ্ঞানীরা এখনো জানে না। এর ব্যাখ্যা কি? | Tagged

স্ত্রী যদি স্বামীকে রাগ করে বলে, আমি তোমার মা, আমার নিকট থাকবে না। এটা যিহার সাব্যস্ত হবে কি? হলে কাফফারা দিতে হবে কি?


স্ত্রীর পক্ষ থেকে যিহার হয় না। জমহূর বিদ্বানগণ এব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন (ইবনু কুদামা, আলমুগনী /৪১; ইবনু রুশদ, বিদায়াতুল মুজতাহিদ /৪৩৭, ফাতাওয়া মারআতুল মুসলিমাহ /৮০৩) কেউ করলে তা অবান্তর বাজে কথার অন্তর্ভুক্ত হবে, যা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। মুমিন অনর্থক কথা বা কাজ থেকে বিরত থাকবে (মুমিনূন ২৩/) অতএব ধরনের কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা যরূরী (দ্রঃ নায়লুল আওত্বার /৬০যিহারঅধ্যায়)

তবে এতে কাফফারা ওয়াজিব হবে। আয়েশা বিনতে ত্বালহা মুছআব বিন যুবায়েরকে বিবাহের পূর্বে এরূপ কথা বললে ছাহাবায়ে কেরাম তাকে কাফফারা দিতে বলেন (ইরওয়াউল গালীল হা/২০৮৯, ছালেহ আলুশ শায়েখ, আততাকমীল পৃ. ১৪৫, সনদ ছহীহ; মাজমূউল ফাতাওয়া ৩৪/) আর কসমের কাফফারা ১০ জন মিসকীনকে খাদ্য প্রদান করা অথবা একজন দাসকে মুক্ত করা কিংবা তিনদিন ছিয়াম পালন করা (মায়েদাহ /৮৯)

Posted in স্ত্রী যদি স্বামীকে রাগ করে বলে আমি তোমার মা তাহলে করণীয় কি? | Tagged ,

ইমাম আবু হানীফা সম্পর্কে বলা হয় যে, তিনি স্বপ্নে ৯৯ বার আল্লাহকে দেখেছেন। একথার কোন সত্যতা আছে কি?


উক্ত ঘটনা নাজমুদ্দীন গীত্বী (মৃ. ৯৮১ হিঃ) নামক জনৈক ছূফী সনদবিহীনভাবে উল্লেখ করেছেন, যার কোন ভিত্তি নেই (ইবনু আবেদীন, রাদ্দুল মুহতার /৫১)। উল্লেখ্য যে, স্বপ্নে আল্লাহকে দেখা সম্ভব নয়। স্বপ্নে যদি কেউ আল্লাহকে দেখেছে বলে কল্পনা করে, তা কখনই বাস্তব নয়। কেননা আল্লাহর অনুরূপ কিছুই নেই, যা দ্বারা আল্লাহকে কল্পনা করা সম্ভব (আন‘আম ১০৩; আ‘রাফ /১৪৩; শূরা ১১; শায়খ বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া /৩৬৭৬৮)। সুতরাং একজন মহামতি ইমামের নামে এরূপ দাবী অতীব অন্যায় ও গর্হিত অপরাধ।

Posted in ইমাম আবু হানীফা স্বপ্নে ৯৯ বার আল্লাহকে দেখেছেন কি? | Tagged ,

নিজের জমিতে যদি কেউ সোনা বা অন্য কোন মূল্যবান বস্ত্ত পায়, তবে শারঈ বিধান অনুযায়ী তার মালিক কে হবে? জমির মালিক, না সরকার?


এ বিষয়ে বিদ্বানদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে বিশুদ্ধ মতে, জমির মালিকই এই সম্পদের মালিক হবে, কেননা সে জমির অন্তুর্ভুক্ত সবকিছুরই মালিক (ইবনু কুদামা, মুগনী /৫৬; উছায়মীন, তা‘লীকাতুআলাল কাফী /২১)। এই সম্পদ নিছাব পরিমাণ হ’লে মালিককে যাকাত দিতে হবে। তবে যদি সোনা বা রূপা রিকায বা খনির সম্পদ হয়, তাহ’লে সরকার বা রাষ্ট্রকে পাঁচ ভাগের এক ভাগ দিতে হবে (বুখারী হা/১৪৯৯; মিশকাত হা/১৭৯৮)

Posted in জমিতে সোনা বা কোন মূল্যবান বস্ত্ত পেলে এর মালিক হবে কে? | Tagged

রাসূল (ছাঃ)-এর কবরকে রওযা বা মাযার বলা যাবে কি?


রওযামাযারউভয়টি আরবী শব্দ। প্রথমটির অর্থ বাগান এবং দ্বিতীয়টির অর্থ যিয়ারত বা পরিদর্শনের স্থান। উক্ত শব্দদ্বয়কে মূলতঃ পথভ্রষ্ট ভ্রান্ত আক্বীদাসম্পন্ন একদল মানুষ তাদের পীরআউলিয়াদের কবরস্থানের বিশেষ গুরুত্ব বুঝানোর জন্য ব্যবহার করে থাকে। অথচ নববী যুগ থেকে শুরু করে ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈনে ইযাম থেকে রাসূল (ছাঃ)-এর কবর বা অন্য কারু কবরকে এরূপ রওযা বা মাযার নামে অভিহিত করার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। অতএব রাসূল (ছাঃ)-এর কবরকে এসব বিদআতী নামে আখ্যায়িত করা যাবে না।

স্মর্তব্য যে, রাসূল (ছাঃ)-এর কবর নয় বরং হাদীছে রাসূল (ছাঃ)-এর মিম্বার তাঁর বাড়ির মধ্যবর্তী স্থানকে রিয়াযুল জান্নাহ বা জান্নাতের বাগান বলা হয়েছে (বুখারী হা/১১৯৫; মিশকাত হা/৬৯৪)

Posted in রাসূল (ছাঃ)-এর কবরকে রওযা বা মাযার বলা যাবে কি? | Tagged ,

ইমাম ইবনুল জাওযী ও তাঁর কিতাব ‘তালবীসু ইবলীস’ সম্পর্কে জানতে চাই।


তাঁর পুরো নাম জামালুদ্দীন আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান বিন আলী ইবনুল জাওযী। তিনি ৫১০ হিজরীতে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৯৭ হিজরীতে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তিন বছর বয়সে তিনি পিতৃহারা হন এবং ইয়াতীম অবস্থায় চাচার নিকট লালিতপালিত হন। তিনি তাফসীর, হাদীছ ফিক্বহসহ বিভিন্ন বিষয়ে পান্ডিত্য অর্জন করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক (যিরিকলী, আললাম /৩১৬)

তাঁর রচিত অন্যতম প্রসিদ্ধ গ্রন্থতালবীসু ইবলীসযার অর্থ শয়তানের প্রতারণা। গ্রন্থটিকে তিনি তেরটি অধ্যায়ে ভাগ করেছেন। যেখানে শয়তানী প্রতারণার বিভিন্ন ধরন, প্রকারভেদ তা থেকে আত্মরক্ষার উপায়সমূহ বর্ণনা করেছেন। প্রথমতঃ তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মানহাজকে আঁকড়ে ধরার গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন এবং বিদআতীদের নানা ভ্রান্ত বিশ্বাসের অপনোদন করেছেন। অতঃপর তিনি ইহূদী, খৃষ্টান, অগ্নিউপাসক প্রভৃতি অমুসলিম দলউপদল এবং বিভিন্ন বাতিল ফের্কা তথা খারেজী, ছূফী রাফেযী প্রভৃতি সম্প্রদায়ের উপর শয়তানী প্রতারণা সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন।

সবশেষে তিনি হকপন্থীগণ দ্বীনের বিধিবিধান পালনের ক্ষেত্রে কিভাবে শয়তানের ফাঁদে পড়ে এবং নেকী থেকে মাহরূম হয়, সে ব্যাপারে হৃদয়গ্রাহী সূক্ষ্ম আলোচনা পেশ করেছেন। সার্বিকভাবে গ্রন্থটি দ্বীন গ্রহণের পর দ্বীনের উপর ইস্তিক্বামাত বা দৃঢ় থাকার ক্ষেত্রে অনন্য একটি গ্রন্থ হিসাবে বিবেচিত।

Posted in ইমাম ইবনুল জাওযী ও তাঁর কিতাব ‘তালবীসু ইবলীস’ সম্পর্কে জানতে চাই। | Tagged

জনৈক ব্যক্তি নিজ সন্তানের সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ায় মেয়েটি অবৈধ সন্তান জন্ম দিয়েছে (নাঊযুবিল্লাহ)। এক্ষণে উক্ত সন্তানের হুকুম কী হবে?


যেনায় লিপ্ত হওয়া মহাপাপ। কোন মাহরামের সাথে যেনায় লিপ্ত হওয়া ততোধিক বড় মহাপাপ। আদালতের মাধ্যমে এই ধরনের যেনাকারকে রজম (পাথর মেরে হত্যা) করা আবশ্যক। আর এক্ষেত্রে অবৈধভাবে জন্ম নেওয়া সন্তানটি মায়ের দিকে সম্পৃক্ত হবে এবং মায়ের পরিচয়ে পরিচিত হবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, আবূদাঊদ হা/২২৬৫; মিশকাত হা/৩৩১২, ৩৩২০; ফাতাওয়া ইসলামিয়াহ /৩৭০)

Posted in অবৈধ সম্পর্কে সন্তানের হুকুম কী হবে? | Tagged ,

আমার একটি মূল্যবান জমি রয়েছে যাতে বাড়ি করার মত সামর্থ্য আমার নেই। এক্ষণে কেউ যদি দশ বছর ভোগের শর্তে সেখানে বাড়ি নির্মাণ এবং তারপর মালিকানা হস্তান্তরের চুক্তি করে, তাহ’লে তা জায়েয হবে কি?


উভয়ের সন্তুষ্টির ভিত্তিতে এরূপ চুক্তি জায়েয (বুখারী হা/২২৪০)। তবে সবকিছু সুনির্দিষ্ট হতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেলেন, ‘যদি কেউ অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় করে তবে সে যেন নির্ধারিত পরিমাপে, নির্ধারিত পরিমাণে এবং নির্ধারিত মেয়াদে তা করে’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২৮৮৩ক্রয়বিক্রয়’ অধ্যায়)। এক্ষেত্রে যেন কেউ যুলুমের শিকার না হয় সেদিকেও অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা একে অপরের মাল অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না, তোমাদের পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসা ব্যতীত’ (নিসা /২৯)

Posted in ভোগের শর্তে বাড়ি নির্মাণ তারপর মালিকানা হস্তান্তরের চুক্তি যাবে কি? | Tagged ,

জনৈক বক্তা বলেন, মুসলিম উম্মাহর আমলগুলো প্রতিদিন রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট উপস্থাপন করা হয়- একথা কি ঠিক?


উক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। কেননা ‘তোমাদের আমলসমূহ আমার নিকটে পেশ করা হয়’ মর্মে যে হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে তা যঈফ (বাযযার, সিলসিলা যঈফাহ হা/৯৭৫)। এ মর্মে কেবল এতটুকুই পাওয়া যায় যে, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আমার সামনে আমার উম্মতের ভাল-মন্দ সব আমল পেশ করা হ’ল। আমি তাদের নেক আমলের মধ্যে একটি দেখলাম রাস্তা হ’তে কষ্টদায়ক বস্ত্ত সরিয়ে ফেলা। আর তাদের মন্দ কর্মসমূহের মধ্যে একটি দেখলাম মসজিদে ফেলা সর্দি, যা মাটিচাপা দেয়া হয়নি’ (মুসলিম হা/৫৫৩, মিশকাত হা/৭০৯)

Posted in মুসলিম উম্মাহর আমলগুলো প্রতিদিন রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট উপস্থাপন করা হয় কি? | Tagged

আল্লাহ তা‘আলা কয়টি জিনিস নিজের হাতে রেখেছেন এবং সেগুলো কি কি?


আল্লাহ তা‘আলা পাঁচটি জিনিস নিজের হাতে রেখেছেন, যা অন্যকে অবহিত করেননি। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহর নিকটেই রয়েছে (১) ক্বিয়ামতের জ্ঞান। (২) আর তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং (৩) তিনিই জানেন মায়ের গর্ভাশয়ে কি আছে। (৪) কেউ জানে না আগামীকাল সে কি উপার্জন করবে এবং (৫) কেউ জানে না কোন মাটিতে তার মৃত্যু হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও সকল বিষয়ে সম্যক অবহিত’ (লোকমান ৩১/৩৪)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘গায়েবের চাবিকাঠি পাঁচটি। আল্লাহ ব্যতীত যা কেউ জানে না। অতঃপর তিনি অত্র আয়াতটি পাঠ করেন’ (বুখারী হা/৪৬২৭)। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, এই পাঁচটি বস্ত্ত আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। এগুলি না জানেন নিকটবর্তী কোন ফেরেশতা, আর না জানেন কোন নবী-রাসূল। অতএব যে ব্যক্তি এগুলির কিছু অংশ জানে বলে দাবী করবে, সে ব্যক্তি কুরআনকে অস্বীকার করবে। কেননা কুরআন তার বিপরীত বক্তব্য প্রদান করেছে (কুরতুবী, লোকমান ৩১/৩৪ আয়াতের তাফসীর)

Posted in আল্লাহ তা‘আলা কয়টি জিনিস নিজের হাতে রেখেছেন? | Tagged , ,

আমার আশপাশের সমাজ শিরক-বিদ‘আতে পূর্ণ। কিভাবে কাজ করলে আমি এসব মুকাবিলা করতে সক্ষম হব?


প্রথমতঃ নিজে শিরক-বিদ‘আতসহ দ্বীনের মৌলিক বিধি-বিধান সম্পর্কে বিশুদ্ধ জ্ঞানার্জন করতে হবে। অতঃপর শিরক-বিদ‘আতের পরিচয় ও ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে সাধ্যমত অবহিত করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে নানা বাধা ও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হ’তে হবে। তাই বেশী বেশী এলাহী মদদ কামনা করতে হবে এবং হিকমত, ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে দাওয়াতী কাজ করতে হবে। আর সহমর্মী কিছু ভাই একত্রিত হওয়া সম্ভব হ’লে জামা‘আতবদ্ধ তথা সংঘবদ্ধ হ’তে হবে, যাতে দাওয়াতী কর্ম সুশৃংখল ও শক্তিশালীভাবে পরিচালিত হ’তে পারে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘জামা‘আতের উপর আল্লাহর হাত থাকে’ (তিরমিযী হা/২১৬৬, সনদ ছহীহ)

Posted in শিরক-বিদ‘আতে পূর্ণ এলাকা মুকাবিলা করতে কিভাবে সক্ষম হব? | Tagged ,

সম্প্রতি দেশে ‘হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক’ নামে যে মাতৃদুগ্ধ সংরক্ষণাগার স্থাপন করা হয়েছে। এটা শরী‘আতসম্মত কি?


এটি জায়েয হবে না। কারণ এতে হারাম সম্পর্ক সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে কে কার দুধ পান করবে সেটি জানা যাবে না। তাই অজ্ঞাতসারে দুধ ভাই-বোনের মধ্যে বিবাহ হতে পারে। আর ইসলামে দুধসম্পর্কীয়দের সাথে বিবাহ হারাম। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কেননা দুধ পানের সম্পর্ক দ্বারা ঐসব লোক হারাম হয়ে যায় যারা রক্ত সম্পর্ক দ্বারা হারাম হয় (বুখারী হা/২৬৪৫; মুসলিম হা/১৪৪৫)। ১৯৮৫ সালে ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি) এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, এ ধরনের ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হারাম (ওয়ালীদ আসসাঈদান, আলইফাদাতুশ শারঈয়াহ ফী বা‘যিল মাসাইলিত তিবিবইয়াহ /২৭০)। তবে নবজাতকের জীবন রক্ষার্থে যদি এরূপ ব্যাংকের একান্ত প্রয়োজন দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে দুধ পৃথক পৃথকভাবে সংরক্ষিত হলে এবং দাতা ও গ্রহীতার পরিচয় সুস্পষ্ট থাকলে তা জায়েয হবে ইনশাআল্লাহ (বিস্তারিত দ্রঃ . জাবের ইসমাঈল, বুনূকুল হালীব ফী যূইল ফিক্বহিল ইসলামী, মাজাল্লাতুল উরদুনিইয়াহ, ৯ম সংখ্যা, ২০১৩)

Posted in হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক কি শরী‘আতসম্মত? | Tagged ,

জনৈক ব্যক্তির দুই লক্ষ টাকার একটি গরু আছে। গরুটি অসুস্থ হ’লে তার পিতা মানত করে যে, এটি সুস্থ হ’লে কুরবানী করবে। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পর ছেলে এখন রাযী নয়। এক্ষণে পিতার করণীয় কী?


গরুটির মালিক যদি পিতা হন, তবে তার জন্য উক্ত মানত পূর্ণ করা ওয়াজিব। আর যদি তিনি মালিক না হন, তাহ’লে উক্ত মানত কার্যকর হবে না। কারণ যে সম্পদে ব্যক্তির মালিকানা নেই সেই সম্পদের উপর মানত করা যায় না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মানুষ যে বস্ত্তর মালিক নয়, এমন বস্ত্তর মানত আদায় করা তার উপর যরূরী নয়’ (বুখারী হা/৬০৪৭; মুসলিম হা/১৬৪১; মিশকাত হা/৩৪১০)। আর যেহেতু এই ধরনের মানত সংঘটিত হয় না। সেকারণ এতে কোন কাফফারাও দিতে হবে না (ইমাম শাফেঈ, কিতাবুল উম্ম /২৮০; নববী, আলমাজমূ‘ /৪৫২)

Posted in মানত করে যে গরু সুস্থ হলে কুরবানী করবে কিন্তু করেনা। এখন করনীয় কি? | Tagged

ইমামের সাথে ছালাতরত অবস্থায় ঘুমের কারণে আমার একটি সিজদা ছুটে যায়। এক্ষণে আমার করণীয় কি?


রুকূ-সিজদা ছালাতের রুকন। আর রুকন তরক করলে ছালাত বাতিল হয়। তাই এরূপ অবস্থায় এক রাক‘আত অতিরিক্ত আদায় করতে হবে এবং সহো সিজদা দিতে হবে (উছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ /৩৭১৭২; আব্দুল্লাহ বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১১/২৭৭)

Posted in ছালাতরত অবস্থায় ঘুমের কারণে একটি সিজদা ছুটে গেলে করণীয় কি? | Tagged ,

সন্তান না নেওয়ার জন্য কয়েক বছর যাবৎ নিয়মিতভাবে প্রচলিত জন্ম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করায় কোন বাধা আছে কি?


স্ত্রী সন্তানের স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় কয়েক বছর নয়, সাময়িক জন্ম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩১৮৪) কিন্তু সংসারকে সচ্ছল করার নিয়তে তথা দারিদ্রে্যর ভয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ নিষিদ্ধ। কেননা রূযীর মালিক আল্লাহ। আল্লাহ বলেন, ‘দারিদ্রে্যর ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানকে হত্যা কর না। তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমিই খাদ্য প্রদান করে থাকি(ইসরা ১৭/৩১) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা প্রেমময়ী অধিক সন্তান দায়িনী নারীকে বিবাহ কর। কারণ আমার উম্মতের সংখ্যা বেশী হওয়া আমার গৌরবের কারণ(আবূদাঊদ, নাসাঈ, মিশকাত হা/৩০৯১) তবে কোন অবস্থাতেই স্থায়ীভাবে জন্মনিরোধ অর্থাৎ লাইগেশন, ভ্যাসেকটমী ইত্যাদি পদ্ধতি গ্রহণ করা যাবে না। রাসূল (ছাঃ) পুরুষকে খাসী তে নিষেধ করেছেন (বুখারী হা/৪৭৮৬৮৭; মিশকাত হা/৩০৮১)

Posted in জন্ম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে কি? | Tagged

টয়লেটের প্রয়োজনীয়তা আছে। কিন্তু ছালাত শুরু হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় কোনটিকে অগ্রাধিকার যরূরী হবে?


এমতাবস্থায় টয়লেটের কাজ সম্পন্ন করবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘খাদ্য উপস্থিত হ’লে ছালাত নেই এবং পেশাব-পায়খানার চাপ থাকলে কোন ছালাত নেই’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১০৫৭)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘ছালাত শুরুর প্রাক্কালে তোমাদের কারো যদি পেশাব-পায়খানার চাপ হয়, তবে সে যেন প্রথমে পায়খানার প্রয়োজন সম্পন্ন করে (আবুদাঊদ হা/৮৮; বায়হাক্বী হা/৪৮০৮, সনদ ছহীহ)। অন্যত্র এসেছে, আবু উমামাহ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) পেশাব-পায়খানার চাপ নিয়ে ছালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন (আহমাদ হা/২২২০৬; ইবনু মাজাহ হা/৬১৭; ছহীহুল জামে‘ হা/৩৮৩২)। তবে ছালাতের খুশু-খুযূ বিনষ্ট হবে না, এমনটি হ’লে ছালাত বাতিল হবে না (ইবনু কুদামা, মুগনী /৪৫০)

Posted in টয়লেটের প্রয়োজনীয়তা থাকলে কোনটি আগে করবে ছালাত নাকী টয়লেট? | Tagged ,

আমার একজন বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ট হিন্দু বন্ধু আছে। তার সাথে আমার আন্তরিক উঠাবসা রয়েছে। এটা কি শরী‘আতসম্মত হচ্ছে?


অমুসলিমদের সাথে স্বাভাবিক উঠাবসায় দোষ নেই। তবে ঘনিষ্ট কোন সম্পর্ক রাখা যাবে না। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা মুশরিকদের সাথে বসবাস করো না এবং তাদের সংসর্গে থেকো না। কেননা যে তাদের সাথে বসবাস করবে অথবা তাদের সংসর্গে থাকবে, সে তাদের সমতুল্য গণ্য হবে’ (তিরমিযী হা/১৬০৫; ছহীহাহ হা/২৩৩০)। বাধ্যগত অবস্থায় তাদের সাথে উঠাবসা করতে হ’লে নিজ ধর্মের বিধি-বিধান মেনে চলবে এবং সুযোগমত তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিবে’ (নাহল ১৬/১২৫)। আর সর্বাবস্থায় তাদের সাথে সদাচরণ ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখবে (মুমতাহিনাহ ৬০/)

Posted in হিন্দুকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বানানো যাবে কি? | Tagged ,

কোন মেয়ের নাম যুনায়রাহ রাখা যাবে কী?


যুনায়রাহ-এর মূল উচ্চারণ যুন্নায়রাহ। যা আরবী শব্দ। এর অর্থ দীর্ঘ ও বিশালদেহী নারী, ছোট মাছি, ছোট পাথর ইত্যাদি (তাহযীবুল লুগাত ১৩/১৩১ প্রভৃতি)। যিন্নীরাহ নামে একজন মহিলা ছাহাবী ছিলেন যাকে আবুবকর (রাঃ) দাসত্ব থেকে মুক্ত করেন (ইবনু হাজার, আলইছাবাহ /১৫০; যাহাবী, সিয়ার /১৭৬)। সুতরাং উক্ত নাম রাখায় আপত্তি নেই।

Posted in কোন মেয়ের নাম যুনায়রাহ রাখা যাবে কী? | Tagged