বিভিন্ন চাকুরীর আবেদনের ক্ষেত্রে কাগজপত্র সত্যায়িত করার প্রয়োজন হয়। কিন্তু সবসময় বিসিএস ক্যাডার পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে কাগজে কোন প্রকার অনৈতিকতার আশ্রয় না নিয়ে কারো সিল বানিয়ে নিয়ে নকল স্বাক্ষর করে সত্যায়িত করা জায়েয হবে কি?


কোন অবস্থাতেই মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া যাবে না। বরং সর্বদা ন্যায়পন্থা অবলম্বনের সাধ্যমত চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহ বলেন, যার আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, আমরা তাদেরকে অবশ্যই আমার পথসমূহে পরিচালিত করব। আর আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মপরায়ণদের সাথেই থাকেন (আনকাবূত ২৯/৬৯)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে প্রতারণা করে, সে আমার দলভুক্ত নয়’ (মুসলিম হা/১০২; মিশকাত হা/৩৫২০)। মিথ্যা ছোট হোক বা বড় হোক মানুষের অন্তরে মুনাফিকী সৃষ্টি করে। তাছাড়া একটি মিথ্যা অপর মিথ্যাকে ডেকে আনে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মিথ্যা মানুষকে পাপের দিকে নিয়ে যায়, পাপ তাকে জাহান্নামে নিয়ে যায়। আর মানুষ মিথ্যা কথা বলতে বলতে অবশেষে আল্লাহর কাছে মিথ্যুক হিসাবে পরিগণিত হয়ে যায়’ (বুখারী হা/৬০৯৪)

Posted in অরজিনাল কাগজপত্র নকল সিল বানিয়ে সত্যায়িত করা যাবে কি? | Tagged

একটি বইয়ে লেখা আছে, ‘গীবত করা যিনা করার চেয়েও বড় পাপ’। এটা কি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত?


উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (সিলসিলা যঈফাহ হা/১৮৪৬; যঈফুল জামে‘ হা/২২০৪; মিশকাত হা/৪৮৭৪)। তবে গীবত করা বড় পাপ। আল্লাহ তা‘আলা একে মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করার সাথে তুলনা করেছেন (হুজুরাত ১২; মুসলিম, মিশকাত হা/৪৮২৮)

Posted in গীবত করা যিনা করার চেয়েও বড় পাপ কি? | Tagged , ,

চামড়ার মোযা ব্যতীত সাধারণ অন্যান্য মোযার উপর মাসাহ করা শরী‘আত সম্মত কি? এছাড়া জুতার উপর মাসাহ করা যাবে কি?


যেকোন মোযার উপর মাসাহ করা বৈধ। হাদীছে বিশেষ কোন মোযাকে শর্ত করা হয়নি। আরবী ভাষায় চামড়ার তৈরী মোযাকে ‘খুফ’ এবং সূতা বা কাপড়ের তৈরী মোযাকে ‘জাওরাব’ বলা হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যেমন চামড়ার তৈরী মোযার উপরে মাসাহ করেছেন (বুখারী হা/২০২; মুসলিম হা/২৭৪; মিশকাত হা/৩৯৯)। তেমনি তিনি কাপড়ের তৈরী মোযার উপরেও মাসাহ করেছেন (আবুদাউদ হা/১৫৯; তিরমিযী হা/৯৯; ইবনু মাজাহ হা/৫৫৯; মিশকাত হা/৫২৩)। এছাড়া কেউ যদি জুতার উপর মাসাহ করে ছালাত আদায় করতে চায় তাকে সেই জুতা পরেই ছালাত আদায় করতে হবে। জুতা খুলে ফেললে ওযূ টুটে যাবে (মাজমূ‘ ফাতাওয়া বিন বায ২৯/৬৯)

Posted in মোযার উপর মাসাহ করা শরী‘আত সম্মত কি? | Tagged ,

সুখে-দুখে সর্বদা আল্লাহর প্রশংসাকারীরা জান্নাতে সবার আগে প্রবেশ করবে- কথাটির সত্যতা আছে কি?


উক্ত মর্মে ত্বাবারাণী আওসাত্বে একটি হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, যার সনদ যঈফ (তাবারাণী আওসাত্ব হা/৩০৩৩; মিশকাত হা/২৩০৮; যঈফাহ হা/৬৩২)। তবে সুখে-দুখে আল্লাহর প্রশংসাকারী ব্যক্তিদের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় হবে আল্লাহর প্রশংসাকারীগণ (আহমাদ হা/১৯৯০৯; ছহীহাহ হা/১৫৮৪)। তাদের জন্য জান্নাতে ‘বায়তুল হাম্দ’ নির্মিত হবে (তিরমিযী হা/১০২১; ছহীহাহ হা/১৪০৮)

Posted in আল্লাহর প্রশংসাকারীরা জান্নাতে সবার আগে প্রবেশ করবে কি? | Tagged

ইবলীস শয়তান কি একাই মানব ও জিন জাতিকে পথভ্রষ্ট করে, নাকি তার সন্তানরা রয়েছে যারা এ কাজে তাকে সহায়তা করে?


ইবলীস শয়তান একাই নয় বরং তার গোত্র মিলে সম্মিলিতভাবে মানুষ ও জিন জাতিকে পথভ্রষ্ট করে। আল্লাহ বলেন, ‘তবে কি তোমরা আমার পরিবর্তে তাকে ও তার বংশধরগণকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছ?’ (কাহফ ১৭/৫০)। এই আয়াত প্রমাণ করে যে, তার বংশধর রয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তুমি যদি পার, তাহ’লে সর্বপ্রথম বাজারে প্রবেশকারী হবে না এবং সেখান থেকে সর্বশেষ প্রস্থানকারী হবে না। কারণ বাজার শয়তানের আড্ডাখানা; সেখানে সে আপন ঝান্ডা গাড়ে, সেখানে সে ডিম পাড়ে এবং বাচ্চা জন্ম দেয় (মুসলিম হা/২৪৫১; ত্বাবারাণী কাবীর হা/৬১১৮, ৬১৩১)। অন্যত্র এসেছে, ‘ইবলীস শয়তান সমুদ্রের পানির উপর তার সিংহাসন স্থাপন করে। অতঃপর মানুষের মধ্যে ফিৎনা-ফাসাদ সৃষ্টি করার জন্য সেখান থেকে তার বাহিনী চারদিকে প্রেরণ করে। এদের মধ্যে সে শয়তানই তার নিকট সর্বাধিক সম্মানিত যে শয়তান মানুষকে সবচেয়ে বেশী ফিৎনায় নিপতিত করতে পারে। তাদের মধ্যে একজন ফিরে এসে বলে, আমি এরূপ এরূপ ফিৎনা মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করেছি। তখন সে (ইবলীস) প্রত্যুত্তরে বলে, তুমি কিছুই করনি। তিনি  বলেন, অতঃপর এদের অপর একজন এসে বলে, আমি মানব সন্তানকে ছেড়ে দেইনি, এমনকি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ করে দিয়েছি। তিনি বলেন, শয়তান এ কথা শুনে তাকে নিকটে বসায় আর বলে, তুমিই উত্তম কাজ করেছ। বর্ণনাকারী আ‘মাশ বলেন, আমার মনে হয় জাবের (রাঃ) এটাও বলেছেন যে, অতঃপর ইবলীস তার সাথে আলিঙ্গন করে (মুসলিম হা/২৮১৩; মিশকাত হা/৭১)

Posted in ইবলীস শয়তান কি একাই মানব ও জিন জাতিকে পথভ্রষ্ট করে? | Tagged ,

‘বেহেশতী জেওর’ বইয়ে উল্লেখ আছে যে, রাতের অন্ধকারে স্ত্রী মনে করে কন্যা বা শ্বাশুড়ীর শরীর স্পর্শ করলে, সে পুরুষ তার নিজ স্ত্রীর জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যাবে। ফৎওয়াটি সঠিক কি?


বেহেশতী জেওরে বর্ণিত মাসাআলাটি পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয়। সঠিক কথা এই যে, ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় এধরনের অনাকাংখিত আচরণ হয়ে গেলে স্ত্রী তার উপর হারাম হবে না। কেননা একটি হারাম কাজ অপর একটি হালালকে হারাম করতে পারে না। এরূপ কাজ হয়ে গেলে তাকে খালেছ অন্তরে তওবা করতে হবে। আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রঃ) হ’তে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি তার শ্বাশুড়ী ও শ্যালিকার সাথে যেনা করে ফেললে তিনি বলেন যে, এ কাজের জন্য তার স্ত্রী তার উপর হারাম হবেনা’ (মুহাম্মাদ ইবনু আবী শায়বাহ, বায়হাক্বী; সনদ ছহীহ, ইরওয়াউল গালীল হা/১৮৮১ , ৬/২৮৮)

Posted in স্ত্রী মনে করে কন্যা বা শ্বাশুড়ীর শরীর স্পর্শ করলে স্ত্রী হারাম হবে কি? | Tagged ,

গার্মেন্টসে চাকুরী করা যাবে কি? এর উপার্জন হালাল হবে কি?


গার্মেন্টসে চাকুরী করা বৈধ এবং এর উপার্জনও বৈধ, যদি উৎপাদিত পণ্যটি বৈধ হয়। তবে গার্মেন্টসে নারী-পুরুষ একত্রিতভাবে থাকলে এবং ফেতনায় পড়ার আশঙ্কা থাকলে সেখানে কাজ করা ঠিক নয়। রাসূল (ছাঃ) পুরুষদের জন্য নারীদেরকে সবচেয়ে ক্ষতিকর ফিৎনা হিসাবে উল্লে­খ করেছেন (বুখারী হা/৫০৯৬; মিশকাত হা/৩০৮৫)। সেক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্র পরিবর্তনের চেষ্টা করতে হবে। আর সেটা সম্ভব না হ’লে সাধ্যমত আল্লাহকে ভয় করতে হবে … (তাগাবুন ৬৪/১৬)

Posted in গার্মেন্টসে চাকুরী করা যাবে কি? | Tagged ,

খারেজী আক্বীদার অনুসারীদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে চাই।


খারেজীদের বৈশিষ্ট্য হ’ল, (১) তারা কবীরা গোনাহগার শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ওয়াজিব মনে করে এবং কবীরা গোনাহগার মুমিনকে ঈমানশূন্য কাফের, হত্যাযোগ্য অপরাধী এবং তওবা না করে মারা গেলে তাদেরকে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হিসাবে গণ্য করে (শাহরস্তানী, আল-মিলাল ওয়ান নিহাল, ১/১১৪ পৃঃ, ইবনু হাযম, আল-ফিছাল ফিল মিলাল ২/১১৩)। (২) তারা কুরআন-হাদীছের মনগড়া ব্যাখ্যা করে। রাসূল (ছাঃ), ছাহাবায়ে কেরাম সহ সালাফে ছালেহীনের ব্যাখ্যার প্রতি মোটেই ভ্রূক্ষেপ করে না। ইবনু আববাস (রাঃ), ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ, ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) প্রমুখ বিদ্বানগণ উক্ত মত ব্যক্ত করেছেন (ফিরাক্ব মু‘আছিরাহ ১/২৭৮-২৭৯)। (৩) তারা হবে কম বয়সী, নির্বোধ ও বিচার-বুদ্ধিহীন। তারা সবচেয়ে সুন্দর সুন্দর কথা বলবে। কিন্তু তাদের ঈমান তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না (মুসলিম হা/১০৬৬, মিশকাত হা/৩৫৩৫) (৪) অন্যদের ছালাত, ছিয়াম ও আমলসমূহকে তাদের ছালাত, ছিয়াম ও আমলের তুলনায় তুচ্ছ মনে হবে (বুখারী হা/৫০৫৮)। (৫) তারা মুসলমানদেরকে হত্যা করবে ও মূর্তিপূজারীদের আপন অবস্থায় ছেড়ে দিবে (অর্থাৎ তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে না)  (বুখারী হা/৩৩৪৪, মুসলিম হা/১০৬৪, মিশকাত হা/৫৮৯৪)। (৬) তারা সাধারণতঃ সম্পূর্ণ মাথার চুল ন্যাড়া করে রাখবে (আবুদাউদ হা/৪৭৬৬; ইবনু মাজাহ হা/১৭৫)

এদের লোকেরাই হযরত আলী ও মু‘আবিয়া (রাঃ)-কে ‘কাফের’ অভিহিত করে আলী (রাঃ)-কে হত্যা করেছিল এবং মু‘আবিয়া (রাঃ) ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন।

Posted in খারেজী আক্বীদার অনুসারীদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে চাই। | Tagged

কবরে রাসূলের ছবি দেখিয়ে কি বলা হবে ইনি কে?


কবরে রাসূল ছাঃ)-এর ছবি প্রদর্শন করা হবে মর্মে কোন হাদীছ বর্ণিত হয়নি। বরং বলা হবে, তোমাদের মাঝে যে লোকটিকে পাঠানো হয়েছিল তিনি কে? (আবুদাউদ হা/৪৭৫৩; আহমাদ হা/১৮৬৩৭; মিশকাত হা/১৩১, ১৬৩০; ছহীহাহ হা/২৬২৮)

Posted in কবরে রাসূলের ছবি দেখিয়ে কি বলা হবে ইনি কে? | Tagged ,

রাসূল (ছাঃ) অহি প্রাপ্তির পর কখনো কি হেরা গুহায় আরোহন করেছেন?


রাসূল (ছাঃ) হেরা গুহায় অহি লাভের পর সেখানে আর গমন করেননি। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, ‘নবুঅতের প্রাক্কালে রাসূল (ছাঃ) হেরা গুহাতে গিয়ে ইবাদত করতেন এবং তাতেই সর্বপ্রথম ওহী অবতীর্ণ হয়। কিন্তু ওহী নাযিলের পর কখনও তিনি সেখানে উঠেননি, এমনকি তিনি তার নিকটবর্তীও হননি। পরবর্তীকালে তার কোন ছাহাবীও সেখানে যাননি। রাসূল (ছাঃ) নবুঅত প্রাপ্তির পর তের বছর মক্কাতেই অবস্থান করেছেন। আবার হিজরতের পর তিনি মক্কাতে কয়েকবার এসেছেন, যেমন- হুদাইবিয়ার সন্ধির সময়, মক্কা বিজয়ের বছর এবং সেখানে তিনি প্রায় ২০দিন অবস্থান করেছেন, কিন্তু তিনি কখনও সেখানে যাননি। আর সেখানে না যাওয়ার কারণ হয়ত ছিল এই যে, জাহেলী যুগের লোকেরা সেখানে গিয়ে ধ্যান করত। এমনকি রাসূলের দাদা আব্দুল মুত্তালিব তার সূচনা করেছিল বলেও বর্ণিত হয়েছে। ফলে যাতে মুসলমানরা উক্ত জায়গাটিকে বিশেষ মর্যাদা মন্ডিত মনে না করে, এজন্য রাসূল (ছাঃ) আর কখনো সেখানে যাননি (মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ১০/৩৯৪)

Posted in রাসূল (ছাঃ) অহি প্রাপ্তির পর কখনো কি হেরা গুহায় আরোহন করেছেন? | Tagged ,

সুন্নাতের শেষ দু’রাক‘আতে কী অন্য সূরা মিলাতে হয়?


যোহর ও আছরের ছালাতে ইমাম-মুক্তাদী সকলে সূরা ফাতিহা সহ অন্য সূরা পড়বে এবং ৩য় ও ৪র্থ রাক‘আতে কেবল সূরা ফাতিহা পড়বে। যেমন আবু ক্বাতাদাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত হয়েছে, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যোহরের প্রথম দু’রাক‘আতে সূরা ফাতিহা ও অন্য দু’টি সূরা পড়তেন এবং শেষের দু’রাক‘আতে কেবল সূরা ফাতিহা পড়তেন।… অনুরূপ করতেন আছরে…’ (বুঃ মুঃ মিশকাত হা/৮২৮)। একই নিয়মে চার রাক‘আত সুন্নাতের শেষ দু’রাক‘আতে পড়বে। তবে শেষের দু’রাক‘আতেও কোন কোন ছাহাবী সূরা মিলাতেন বলে জানা যায় (মুওয়াত্ত্বা হা/২৬০; মির‘আত ৩/১৩১)। জানা আবশ্যক যে, ফরয-নফল সব ছালাতে সূরা ফাতিহা ব্যতীত অন্য সূরা পাঠ করা ওয়াজিব নয় বরং মুস্তাহাব। রাসূল (ছাঃ) বলেন, কোন ছালাত সিদ্ধ নয় সূরা ফাতিহা ব্যতীত (বুঃ মুঃ মিশকাত হা/৮২২)

Posted in সুন্নাতের শেষ দু’রাক‘আতে কী অন্য সূরা মিলাতে হয়? | Tagged

সূরা কাওছারে রাসূল (ছাঃ)-কে কুরবানী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক্ষণে কুরবানী করা কি ফরয?


কুরবানী করা ফরয নয়। বরং সুন্নাতে মুওয়াক্কাদাহ। যা ‘সুন্নাতে ইবরাহীমী’ হিসাবে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিজে মদীনায় প্রতি বছর আদায় করেছেন এবং ছাহাবীগণও নিয়মিতভাবে কুরবানী করেছেন। তাই সামর্থ্যবানদের জন্য এটা পালন করা যরূরী। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটেও না আসে’ (আহমাদ, ইবনু মাজাহ, হাকেম; ছহীহ ইবনু মাজাহ হা/২৫৩২;  এটি ওয়াজিব নয় যে, যেকোন মূল্যে প্রত্যেককে কুরবানী করতেই হবে। লোকেরা যাতে এটাকে ওয়াজিব মনে না করে, সেজন্য সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হযরত আবুবকর ছিদ্দীক্ব, ওমর ফারূক্ব, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর, আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) প্রমুখ ছাহাবীগণ কখনো কখনো কুরবানী করতেন না (বায়হাক্বী, ইরওয়াউল গালীল হা/১১৩৯; মির‘আত ৫/৭২-৭৩; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৫/১০)

Posted in কুরবানী করা কি ফরয? | Tagged

বৃটিশ আইনে পরিচালিত বাংলাদেশের কোন আদালতে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করা শরী‘আতসম্মত হবে কি?


আদালত ব্যবস্থাপনা সমাজের আবশ্যকীয় অনুষঙ্গ। সেকারণ আদালতের যেকোন চাকুরী বৈধ। তবে সেখানে সর্বদা সত্যকে বিজয়ী করা, যুলুমের প্রতিরোধ করা এবং মানুষকে তার হক ফেরত দেয়ার কাজে নিয়োজিত থাকতে হবে। যাতে কোন নিরপরাধ ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত না হয় এবং অপরাধী ছাড়া না পায়। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নেকী ও আল্লাহভীরুতার কাজে পরস্পরকে সাহায্য করে এবং পাপ ও শত্রুতার কাজে সাহায্য করো না’ (মায়েদাহ ৫/০২; বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ১৯/২৩১)। আর ইসলামী আইনের বিপরীতে প্রচলিত বৃটিশ আইনের দায়ভার বর্তাবে সরকারের উপর। যতদিন তা চালু থাকবে, ততদিন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলগণ পাপী হ’তে থাকবে। কেননা আল্লাহর বিধানের বিপরীতে অন্যের বিধান কোন অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয় (ইউসুফ ৪০, মায়েদাহ ৫০ প্রভৃতি)

Posted in আদালতে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করা শরী‘আতসম্মত হবে কি? | Tagged ,

আমরা জানি আল্লাহর দু’হাতই ডান হাত। তবে মিশকাতে একটি হাদীছে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহর ডান ও বাম দু’হাতই রয়েছে। কোনটি সঠিক?


আল্লাহর দু’হাত রয়েছে এবং ডান ও বাম হাতও রয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা আকাশমন্ডলী পেঁচিয়ে নিবেন। তারপর তিনি আকাশমন্ডলীকে ডান হাতে ধরে বলবেন, আমিই বাদশাহ। কোথায় শক্তিশালী লোকেরা! কোথায় অহংকারীরা? এরপর তিনি বাম হাতে গোটা পৃথিবী গুটিয়ে নিবেন এবং বলবেন, আমিই বাদশাহ। কোথায় অত্যাচারী লোকেরা, কোথায় বড়ত্ব প্রদর্শনকারীরা?’ (মুসলিম হা/২৭৮৮; মিশকাত হা/৫৫২৩)। অত্র হাদীছ থেকে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর ডান ও বাম হাত রয়েছে। তবে তা সৃষ্টজীবের মত নয়। অর্থাৎ তাঁর সৃষ্টজীব বাম হাত দ্বারা সাধারণত দুর্বল বা অপরিষ্কার কাজগুলো করে থাকে। সে অর্থে আল্লাহর দু’হাতই ডান হাত। যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘ন্যায়বিচারকগণ (ক্বিয়ামতের দিন) আল্লাহর নিকটে নূরের মিম্বর সমূহে মহিমান্বিত দয়ালু (আল্লাহ্)-এর ডানপার্শ্বে উপবিষ্ট থাকবেন। আর তার উভয় হাতই ডান হাত (অর্থাৎ সমান মহিমান্বিত)। (সেই ন্যায়পরায়ণ হচ্ছে) ঐসব লোক, যারা তাদের শাসনকার্যে, তাদের পরিবার-পরিজনের ব্যাপারে এবং তাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্ব সমূহের ব্যাপারে সুবিচার করে (মুসলিম হা/১৮২৭; মিশকাত হা/৩৬৯০)। অর্থাৎ সম্মান-মর্যাদা, ক্ষমতা ও দোষ-ত্রুটির ক্ষেত্রে সৃষ্টজীবের বাম হাতের সাথে তাঁর হাত তুলনীয় নয় (বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৫/১২৬; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১/১৬৫)। অতএব হাদীছ দু’টির মধ্যে কোন বিরোধ নেই।

Posted in আল্লাহর দু’হাতই কি ডান হাত? | Tagged

কারো বিরুদ্ধে যেনার অপবাদ দিলে এবং তা প্রমাণিত না হ’লে শরী‘আতে অভিযোগকারীর জন্য কি শাস্তি রয়েছে?


মিথ্যা অপবাদ হ’ল কারো ব্যাপারে অন্যের নিকটে এমন কথা বলা যা তার মাঝে নেই (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৮২৮)। কারো উপর যেনার অপবাদ দিয়ে প্রচার করা কাবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। আর মিথ্যা অপবাদ দানকারীর শাস্তি হ’ল ৮০ বেত্রাঘাত। আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি (ব্যভিচারের) অপবাদ দেয়। অথচ চারজন (প্রত্যক্ষদর্শী) সাক্ষী হাযির করতে পারে না। তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত কর। আর তোমরা কখনোই তাদের সাক্ষ্য কবুল করবে না। বস্ত্ততঃ এরাই হ’ল পাপাচারী’ (নূর ২৪/৪-৫)। ইবনু হাজার (রহঃ) বলেন, এ ব্যাপারে ঐক্যমত রয়েছে যে, সতী-সাধ্বী নারীর উপর অপবাদ দেওয়ার শাস্তি পুরুষের উপর মিথ্যা অপবাদ আরোপের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে (ফৎহুল বারী ১২/১৮১)। উল্লেখ্য, শরী‘আত নির্ধারিত  দন্ডবিধি বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের, অন্যদের নয় (কুরতুবী)

Posted in অপবাদ দিলে অভিযোগকারীর জন্য কি শাস্তি রয়েছে? | Tagged

পরবর্তীতে মূল্য বৃদ্ধির আশায় আলু-পেঁয়াজ ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য স্টক রাখার ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান কি?


বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করা হারাম। মা‘মার (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি বেশী দামের আশায় সম্পদ জমা রাখে সে পাপী (মুসলিম হা/১৬০৫; আবূদাঊদ হা/৩৪৪৭)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, মূল্যবৃদ্ধির আশায় অপরাধী ব্যতীত আর কেউ খাদ্য-শস্য মওজুদ করে না (মুসলিম হা/১৬০৫; ইবনু মাজাহ হা/২১৫৪)

উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় ইমাম নববী বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সময় যে ব্যক্তি খাদ্যশস্য ক্রয় করে এবং তখন বিক্রি না করে অধিক মূল্য বৃদ্ধির আশায় তা সঞ্চিত রাখে, সে ব্যক্তি পাপী হবে। তবে যদি তা খাদ্যশস্য না হয়, তবে তাতে দোষ নেই (শরহ নববী)। অতএব পেঁয়াজ ও লবন মওজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ব্যবসায়ীরা তওবা করুন।

তবে সাধারণভাবে উৎপাদনের মৌসুমে হ্রাসপ্রাপ্ত মূল্যে খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করে অন্য মৌসুমে প্রচলিত বাজারমূল্যে বিক্রয় করায় কোন দোষ নেই। কেননা খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করায় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হ’লে তা জায়েয (আওনুল মা‘বূদ ৫/২২৬-২২৮ পৃঃ, ‘ইহতেকার নিষিদ্ধ’ অনুচ্ছেদ; নায়ল, ৫/২২২ পৃঃ, ‘ইহতেকার’ অনুচ্ছেদ)

Posted in মূল্য বৃদ্ধির আশায় খাদ্য স্টক রাখার ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান কি? | Tagged ,

আমার পৈত্রিক সম্পদের বেশ কিছু অংশ আমার কতিপয় আত্মীয়-স্বজন অবৈধভাবে ভোগ করছে। এখন তা ফিরিয়ে নিতে গেলে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা শরী‘আতে নিষিদ্ধ। এক্ষণে সম্পদ না আত্মীয়তা কোনটিকে অগ্রাধিকার দিব?


সম্পদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ফিরিয়ে নিতে হবে। আবার আত্মীয়তার বন্ধনও রক্ষা করতে হবে। আর এ বিষয়ে উভয় পক্ষকে সহনশীল হতে হবে। নইলে হঠকারী পক্ষ দায়ী হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি কারু এক বিঘত জমি অন্যায়ভাবে দখল করবে, ক্বিয়ামতের দিন তার গলায় সাত তবক যমীনের বেড়ী পরানো হবে (বুঃ মুঃ মিশকাত হা/২৯৩৮)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, অন্যায়ভাবে ভোগ করা সমস্ত মাটি তার মাথায় চাপিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে তা বহন করতে বাধ্য করা হবে (আহমাদ, মিশকাত হা/২৯৫৯)

Posted in সম্পদের অধিকার নেওয়ার কারনে সম্পর্ক নষ্ট করা যাবে কি? | Tagged , ,

প্রথম কাতারে ছালাত আদায়ের গুরুত্ব কি? মসজিদে যদি কেবল একটিই কাতার থাকে সেক্ষেত্রে উক্ত মর্যাদা পাওয়া যাবে কি?


প্রথম কাতারে ছালাত আদায়ের গুরুত্ব অত্যধিক। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মানুষ যদি জানত আযানে এবং প্রথম কাতারে কি নেকী রয়েছে। তাহ’লে লটারীর মাধ্যমে হ’লেও আযান দেওয়ায় ও প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর জন্য অংশগ্রহণ করত’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৬২৮ ‘ছালাতের ফযীলত’ অনুচ্ছেদ)। তিনি বলেন, ছালাতের প্রথম কাতার ফেরেশতাদের কাতারের মত। তোমরা যদি প্রথম কাতারের ফযীলত জানতে তাহ’লে অবশ্যই দৌঁড়ে যেতে (আবূদাঊদ হা/৫৫৪; মিশকাত হা/১০৬৬)। তিনি বলেন, প্রথম কাতারের (মুছল্লীদের) উপর আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতাগণ দো‘আ করেন’ (ইবনু মাজাহ হা/৯৯৭)। তিনি আরো বলেন, ‘পুরুষদের জন্য সর্বোত্তম কাতার হ’ল প্রথম কাতার’ (মুসলিম হা/৪৪০; মিশকাত হা/১০৯২)। এক্ষণে মসজিদে কেবল একটি কাতার থাকলেও সেটি প্রথম কাতার হিসাবে গণ্য হবে এবং এর যাবতীয় ফযীলত অর্জিত হবে ইনশাআল্লাহ। কেননা প্রথম কাতার বলতে ইমামের পিছনের কাতারকেই বুঝানো হয়েছে (ইবনু হাজার, ফাৎহুল বারী ২/২০৮)

Posted in প্রথম কাতারে ছালাত আদায়ের গুরুত্ব কি? | Tagged

নতুন বাড়ীতে ওঠা উপলক্ষে আনুষ্ঠান করা যাবে কি?


নতুন বাড়ী আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা শরী‘আত সম্মত নয়। কেবল বিসমিল্লাহ বলে উঠবে। আর শয়তানের ক্ষতি হ’তে বাঁচার জন্য যেকোন সময় সূরা বাক্বারাহ বা তার শেষ দুই আয়াত তেলাওয়াত করা যাবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা তোমাদের বাড়ীকে কবরে পরিণত করো না। নিশ্চয়ই শয়তান এমন বাড়ী থেকে পালায়, যে বাড়ীতে সূরা বাক্বারাহ পড়া হয়’ (মুসলিম হা/৭৮০; মিশকাত হা/২১১৯)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘যে বাড়ীতে (বা অন্যত্র) তিন রাত সূরা বাক্বারাহর শেষ দুই আয়াত পাঠ করা হয়, শয়তান সে বাড়ীর নিকটবর্তী হয় না’ (তিরমিযী হা/২৮৮২; মিশকাত হা/২১৪৫)

Posted in শয়তান সে বাড়ীর নিকটবর্তী হয় না’ (তিরমিযী হা/২৮৮২; মিশকাত হা/২১৪৫)। | Tagged ,

আমার পরিচিত জনৈকা মহিলার বাসায় প্রত্যেক জুম‘আর দিন ৭০ বছর বয়স্ক একজন মসজিদের ইমাম ছাহেব এসে কুরআনের আলোচনা পেশ করেন। এরূপ আলোচনা শরী‘আত সম্মত কি?


মহিলারা নিরাপদ পরিবেশে পর্দার মধ্যে থাকা অবস্থায় পুরুষের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। রাসূল (ছাঃ) মহিলাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দিয়েছেন (বুখারী, মিশকাত হা/১৭৫৩)। তবে নারী একাকী থাকলে সাথে মাহরাম থাকা অথবা একাধিক মহিলা থাকা যরূরী। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেন, মাহরাম ব্যতীত কোন নারী যখন পরপুরুষের সঙ্গে নির্জনে একত্রিত হয়, সেখানে তৃতীয়জন থাকে শয়তান’ (তিরমিযী, মিশকাত হা/৩১১৮)। অনেকে পর্দা না টাঙ্গিয়ে পরপুরুষের সামনে মুখোমুখি বসে ওয়ায শুনেন ও প্রশ্নোত্তর করেন। যা পর্দার বরখেলাফ।

Posted in মহিলার বাসায় এসে ইমাম ছাহেব কুরআনের আলোচনা করতে পারেন কি? | Tagged , ,

দশ বছরের সন্তান থাকা সত্ত্বেও স্ত্রী পরপুরুষের সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ায় স্বামী তাকে তালাক দেয়। উক্ত মহিলাও তার স্বামীর কাছে ফিরে যেতে চায় না। এমতাবস্থায় পরবর্তীতে সম্পর্ক করা ঐ ব্যক্তির সাথে বিবাহ করায় কোন বাধা আছে কি?


বাধা নেই। ওলীর অনুমতিক্রমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হ’তে পারবে। আবুবকর (রাঃ)-এর আমলে দু’জন নারী-পুরুষ যেনায় লিপ্ত হ’লে তাদের একশ’ বেত্রাঘাত করে বিবাহ দিয়ে দেওয়া হয়। ইবনু আববাস (রাঃ)-কে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বলেন, প্রথমটি ছিল ব্যভিচার আর দ্বিতীয়টি বিবাহ। অতএব ব্যভিচার বিবাহকে হারাম করতে পারে না। ইবনু ওমর ও ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকেও অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে (বায়হাক্বী হা/১৪২৪৯; কুরতুবী, তাফসীর সূরা নূর ৩ আয়াত)। তবে শর্ত হ’ল যদি নারীর সাথে অবৈধ মিলন হয়ে থাকে। তাহ’লে তাকে তওবা করতে হবে এবং এক হায়েয পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কোন গর্ভবতী বন্দিনীর সাথে তার সন্তান প্রসবের আগে এবং কোন মহিলার সাথে তার হায়েয হ’তে পবিত্র হওয়ার পূর্বে সহবাস করবে না’ (আবুদাউদ হা/২১৫৭; মিশকাত হা/৩৩৩৮; আহমাদ হা/১১৮৪১, সনদ ছহীহ)

Posted in বিবাহ অবৈধ সম্পর্ককারীর সাথে করতে পারবে কি? | Tagged , ,

মৃতপ্রায় রোগীকে লাইফ সাপোর্টে জীবিত রাখতে প্রচুর খরচ হয়। এক্ষণে খরচের ভয়ে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সাপোর্ট দেয়া বন্ধ করে দিলে গুনাহগার হ’তে হবে কি?


কেবলমাত্র খরচের ভয়ে রোগীর স্বজনগণ এরূপ করলে তারা গুনাহগার হবেন। কারণ যতক্ষণ তার জীবন থাকবে, ততক্ষণ সে জীবিত বলে ধর্তব্য হবে। তবে চিকিৎসক যদি তার মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হন অথবা স্বজনগণ সবদিক থেকে একেবারে নিরুপায় হয়ে যান, সেক্ষেত্রে আল্লাহর প্রতি ভরসা রেখে সাপোর্ট বন্ধ করা যেতে পারে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন তার নিকটে বিপদ পৌঁছার কারণে মৃত্যু কামনা না করে। তবে সে যদি মৃত্যুই চায়, তবে যেন বলে, হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রেখ যে পর্যন্ত আমার জীবন কল্যাণকর হয় এবং আমাকে মৃত্যু দান কর, যখন মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর হয়’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৬০০)

Posted in রোগীকে খরচের ভয়ে লাইফ সাপোর্ট না দিলে গুনাহগার হ’তে হবে কি? | Tagged

একসাথে একাধিক মাইয়েতের উপর একবার জানাযার ছালাত পড়লে তা কি ছহীহ হবে? নাকি প্রত্যেকের জন্য পৃথক জানাযা করতে হবে?


একসাথে একাধিক জানাযা উপস্থিত হ’লে একবারে জানাযা পড়া সুন্নাত। পৃথক জানাযা করতে হবে না। ওহোদ যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দশজন দশজন শহীদের জানাযা একত্রে পড়েছেন (ইবনু মাজাহ হা/১৫১৩; আলবানী, আহকামুল জানায়েয ১/১০৩)। উম্মে কুলছূম ও তার ছেলের জানাযা একই সাথে পড়া হয়েছিল (আবুদাউদ হা/৩১৯৩)। ইবনু ওমর (রাঃ) নয় জনের জানাযা এক সাথে পড়ে ছিলেন যাতে মহিলাদের ক্বিবলার দিকে ও পুরুষদের ইমামের পাশাপাশি রাখা হয়েছিল। উক্ত জানাযায় ইবনু আববাস, আবু সাঈদ, আবু হুরায়রা ও আবু ক্বাতাদাহ উপস্থিত ছিলেন। এবিষয়ে জিজ্ঞেস করা হ’লে তারা বলেন, এটি সুন্নাত (নাসাঈ হা/১৯৭৮; আছার ছহীহাহ হা/৪৪১; আহকামুল জানায়েয ১/১০৩, সনদ ছহীহ; বিস্তারিত দ্রঃ ছালাতুর রাসূল পৃঃ ২১৫)

Posted in মাইয়েতের জানাযার ছালাত একসাথে একাধিক পড়লে তা কি ছহীহ হবে? | Tagged ,

জান্নাতে আদম ও হাওয়া (আঃ)-এর ভাষা কী ছিল?


আদম (আঃ)-এর ভাষা কি ছিল বা জান্নাতের ভাষা কি হবে সে ব্যাপারে কুরআন বা ছহীহ হাদীছে স্পষ্ট কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। তবে এটা নিশ্চিত যে, আল্লাহ আদম (আঃ)-কে জান্নাতে সকল প্রকার নাম ও ভাষা শিখিয়েছিলেন (বাক্বারাহ ২/৩১)। সেমতে তার সন্তানগণ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন ভাষায় কথা বলে।

আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমরা তিনটি কারণে আরবদের ভালবাস। আমি আরবীভাষী। কুরআন আরবী ভাষায় এবং জান্নাতীদের ভাষা হবে আরবী (হাকেম হা/৬৯৯৯; মিশকাত হা/৫৯৯৭; যঈফাহ হা/১৬০, হাদীছটি জাল)। একইভাবে আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আমি আরবীভাষী, কুরআন আরবী ও জান্নাতীদের ভাষা আরবী’ (ত্বাবারাণী আওসাত্ব হা/৯১৪৭; যঈফাহ হা/১৬১, হাদীছটি জাল)। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ জান্নাতীদের নিকট কুরআন তেলাওয়াত করবেন (আবু নু‘আইম, ছিফাতুল জান্নাহ হা/২৭০; হাকীম তিরমিযী, নাওয়াদেরুল উছূল ২/৯০; যঈফুল জামে‘ হা/১৮৩৪)। উক্ত হাদীছ সমূহের ভিত্তিতে একদল বিদ্বান মনে করেন যে, আদম (আঃ)-এর ভাষা ছিল আরবী এবং জান্নাতের ভাষা হবে আরবী। তবে হাদীছগুলি জাল হওয়ায় ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ, শায়খ আলবানীসহ বহু বিদ্বান উক্ত মতকে অগ্রহণযোগ্য বলেছেন (মিশকাত হা/৫৯৯৭-এর টীকা ‘কুরায়েশের মর্যাদা’ অনুচ্ছেদ; যঈফাহ হা/১৬০-১৬২; ইবনু তায়মিয়াহ, ইক্বতিযাউছ ছিরাতিল মুস্তাকীম ১/১৫৮)

শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বলেন, ক্বিয়ামতের দিন মানুষ কোন ভাষায় কথা বলবে এবং আল্লাহ তাদের সাথে কোন ভাষায় কথা বলবেন, তা জানা যায় না। কেননা আল্লাহ ও তার রাসূল (ছাঃ) এ বিষয়ে আমাদের কোন খবর দেননি। সেদিন জাহান্নামীদের ভাষা ফার্সী হবে এবং জান্নাতীদের ভাষা আরবী হবে, এ মর্মে ছাহাবীগণ নিজেদের মধ্যে কোন বিতর্ক করেননি। বরং সবাই এ ব্যাপারে চুপ থেকেছেন। কেননা এ ব্যাপারে কথা বলা অনর্থক মাত্র। যদিও পরবর্তীদের মধ্যে এ বিষয়ে বিতর্ক উত্থাপিত হয়েছে যে, জান্নাতীগণ আরবীতে পরস্পরে আহবান করবে এবং জাহান্নামীরা ফার্সীতে জওয়াব দিবে (মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ৪/৩০০ পৃ.)

তবে সৃষ্টির সূচনায় জান্নাতে আদম (আঃ)-এর ভাষা আরবী ছিল বলে অনুমিত হয়। কেননা তখন জান্নাতে আদম কেবল একাই ছিলেন। পরবর্তীতে দুনিয়ায় নেমে আসার পর বংশ বিস্তৃতির ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে আদম সন্তানদের ভাষায় ভিন্নতা আসে। যেসব ভাষার তাওফীক আল্লাহ পূর্বেই আদমের মধ্যে সৃষ্টি করেছিলেন। আর জান্নাতীদের ভাষা আরবী হবে। কারণ আল্লাহ তাঁর সর্বশেষ নবীর উপর সর্বশেষ গ্রন্থ কুরআন নাযিল করেছেন আরবী ভাষায় এবং শেষনবীর ভাষাও ছিল আরবী। আর বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের আযান, ছালাত ও অন্য সকল ইবাদত এবং পরস্পরের সালাম হয় আরবীতে। এজন্য শায়খ বিন বায বলেন, জান্নাতের ভাষা হবে আরবী (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব, https://binbaz.org.sa fatwas ›)। হাফেয ইবনু হাজার বলেন, কবরে মুনকার-নাকীরের প্রশ্ন আরবী ভাষায় হবে বলে ছহীহ হাদীছ দৃষ্টে বুঝা যায়। তথাপি প্রত্যেকে স্ব স্ব ভাষায় জিজ্ঞাসিত হবে বলেই ধারণা হয় (ইবনু হাজার, আল-ইমতা‘ ১২২ পৃ.)

মোটকথা কবরে প্রশ্নোত্তর, জান্নাতী ও জাহান্নামীদের পারস্পরিক কথোপকথন, সুফারিশ করার জন্য নবীদের নিকট মানুষের অনুরোধকরণ, দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাক্ষ্য প্রদান এবং জান্নাতীদের উদ্দেশ্যে আল্লাহর সালাম প্রদান প্রভৃতি আখেরাতের সবকিছু আরবী ভাষায় হওয়াটা মোটেই বিচিত্র কিছু নয়। ‘আর সেটা আল্লাহর জন্য মোটেই কঠিন নয়’ (ইব্রাহীম ১৪/২০; ফাত্বির ৩৫/১৭)

Posted in জান্নাতে আদম ও হাওয়া (আঃ)-এর ভাষা কী ছিল? | Tagged

বর্তমানে প্রবাসীরা কোন ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠালে ২% হিসাবে প্রণোদনা পাচ্ছে। এটা গ্রহণ করা জায়েয হবে কি?


এধরনের প্রণোদনা গ্রহণ করায় কোন দোষ নেই। কারণ ব্যাংক এটি সূদ হিসাবে দিচ্ছে না। বরং হুন্ডি বা অনিয়মিত লেনদেন বন্ধ করার জন্য এবং সরকারী নিয়ম অনুসরণে উৎসাহ দেওয়ার জন্য পুরস্কার হিসাবে প্রদান করছে। সেজন্য এমন হাদিয়া গ্রহণ করা জায়েয হবে ইনশাআল্লাহ (উছায়মীন, লিক্বাউল বাবিল মাফতূহ ১৩/২৮৮)

Posted in ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে ২% বেশি পেলে জায়েয হবে কি? | Tagged ,

বিবাহের সম্মতি জ্ঞাপন করতে গিয়ে অনেকে কবূল না বলে আলহামদুলিল্লাহ বলেন। এটা সঠিক হবে কি?


সরাসরি সম্মতিসূচক শব্দ ব্যবহার করাই উত্তম। তবে নিয়তের সাথে ইঙ্গিতবহ বাক্য যেমন ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললেও বিবাহ সম্পন্ন হয়ে যাবে (ফিক্বহুস সুন্নাহ ২/৩৬)

Posted in বিবাহে কবূল না বলে আলহামদুলিল্লাহ বলা সঠিক হবে কি? | Tagged

একটি সূদী আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠানের খরচে প্রতিবছর হজ্জে পাঠানো হয়। উক্ত অর্থ দিয়ে হজ্জ করলে তা কবুলযোগ্য হবে কি?


অন্যের খরচে হজ্জ পালনে বাধা নেই। এতে হজ্জের ফরযিয়াত আদায় হয়ে যাবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ, ফৎওয়া নং ৬৫৯৩)। কেননা হারাম পথে উপার্জিত সম্পদ কেবল উপার্জনকারীর জন্য হারাম। উপার্জনকারীর নিকট থেকে বৈধ পন্থায় গ্রহণকারী এর জন্য দায়ী হবে না। যেমন রাসূল (ছাঃ) ইহূদীদের সাথে লেনদেন করতেন, যদিও তারা সূদ-ঘুষে অভ্যস্ত ছিল (উছায়মীন, তাফসীর সূরা বাক্বারাহ ৫৭ আয়াত ১/১৯৮)। উল্লেখ্য যে, হারাম উপার্জনের জন্য সূদী প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মচারী সকলেই গোনাহগার হবে। কেননা রাসূল (ছাঃ) যারা সূদ খায়, সূদ দেয়, সূদের হিসাব লেখে এবং সূদের সাক্ষ্য দেয় তাদের সকলের উপর লা‘নত করেছেন। তিনি বলেন, পাপের ক্ষেত্রে তারা সবাই সমান’ (মুসলিম হা/১৫৯৮; মিশকাত হা/২৮০৭)

Posted in হজ্জ্ব সূদী প্রতিষ্ঠানের টাকা দিয়ে করলে কবুল হবে কি? | Tagged

আউয়াল ওয়াক্তে ফরয ছালাত আদায় করে বিলম্বিত ওয়াক্তে মসজিদে ছালাত আদায়ের ক্ষেত্রে মুছল্লী কি নফল ছালাতের নিয়ত করবে?


এমতাবস্থায় মুছল্লী নফল ছালাতের নিয়ত করবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৬০০)

Posted in বিলম্বিত ওয়াক্তে মসজিদে ছালাত আদায়ের ক্ষেত্রে মুছল্লী কি নফল ছালাতের নিয়ত | Tagged

হিসাববিজ্ঞান পড়ানোর ক্ষেত্রে সূদী লেনদেন সংশ্লিষ্ট অনেক হিসাব বিধি শিক্ষা দিতে হয়। এটা পড়া বা পড়ানো জায়েয হবে কি?


হিসাব বিজ্ঞান শেখা ও শেখানোয় কোন দোষ নেই। কারণ উক্ত শিক্ষা গ্রহণ ও প্রদান করা মৌলিকভাবে জায়েয  (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৪/২৩২; বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২/২৩১)। তবে শিক্ষার্থীদেরকে সূদী কারবার হারাম হওয়ার বিষয়টি যথার্থরূপে শিক্ষা দিতে হবে। যাতে সূদের শারঈ বিধান সম্পর্কে তাদের মধ্যে সুস্পষ্ট ধারণা তৈরী হয়।

Posted in সূদী লেনদেন সংশ্লিষ্ট হিসাব পড়া বা পড়ানো জায়েয হবে কি? | Tagged

বাযারে প্রচলিত যে টিউব মেহেদী কিনতে পাওয়া যায়, তা হাতে দিলে ওযূ হবে কি?


টিউব মেহেদী ব্যবহার করা জায়েয। শরী‘আতের দৃষ্টিতে এতে কোন দোষ নেই। এটা ওযূ-গোসলে কোন ক্ষতি করবে না। তবে বাযারে কিছু টিউব মেহেদী রয়েছে, যাতে ত্বকের জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল রয়েছে বলে জানা যায়। সেগুলি পরিহার করা যরূরী।

Posted in টিউব মেহেদী হাতে দিলে ওযূ হবে কি? | Tagged

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ করা কি কন্যা সন্তানের জন্য ফরয, না এটা কেবল ছেলে সন্তানদের দায়িত্ব। যদি দায়িত্ব না হয় তবে মেয়ে কি তার পিতা-মাতাকে যাকাতের টাকা দিতে পারবে?


রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদেরর সন্তানগণ তোমাদের পবিত্রতম উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত। অতএব তোমরা তোমাদের সন্তানদের উপার্জন থেকে ভক্ষণ কর’ (আবুদাঊদ হা/৩৫৩০; নাসাঈ হা/৪৪৫০; মিশকাত হা/৩৩৫৪)। এতে বুঝা যায় যে, পিতা-মাতার দায়িত্ব পুত্র বা কন্যা সবার উপরে সমভাবে প্রযোজ্য। তবে পুত্র সন্তান যেহেতু উপার্জনের মূল দায়িত্ব পালন করে এবং পিতা-মাতার সম্পদে দ্বিগুণ ওয়ারিছ হয়, সেকারণ তারাই এক্ষেত্রে মূল দায়িত্বশীল (ইবনুল মুনযির, মুগনিল মুহতাজ ১৫/৬১)। ইমাম শাফেঈ বলেন, পুত্র সন্তান আছাবা হওয়ায় তাদের উপর পিতা-মাতার জন্য খরচ করা আবশ্যক (কিতাবুল উম্মমুগনী ৮/২১৯)। তবে কন্যা সন্তান যদি সম্পদশালী হয় এবং সে সম্পদ ব্যয়ে তার স্বাধীনতা থাকে, সেক্ষেত্রে সে তার পিতা-মাতার জন্য প্রয়োজনীয় খরচ বহন করবে। আর বিদ্বানগণ এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, পিতা-মাতা বা সন্তান-সন্ততিকে যাকাত প্রদান করা যাবে না। কেননা তা প্রকারান্তরে নিজেকেই যাকাত প্রদানের শামিল (ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, ২/২৬৯)। তবে ইবনু তায়মিয়াসহ কতিপয় বিদ্বান কেবল ঋণ পরিশোধের নিমিত্তে পিতা-মাতা বা সন্তানদেরকে যাকাত প্রদান জায়েয বলে মত প্রকাশ করেছেন (উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে ৬/২৫৯-২৬০; ইবনু তায়মিয়াহ, আল-ফাতাওয়াল কুবরা ৫/৩৭৩)

Posted in পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ করা কি কন্যা সন্তানের জন্য ফরয? | Tagged ,

জনৈক ব্যক্তি তার পিতা-মাতার জন্য প্রতি ওয়াক্তে দু’রাক‘আত ছালাত অতিরিক্ত আদায় করে বখশিয়ে দেন। উক্ত আমল সঠিক হচ্ছে কি?


এগুলো ধর্মের নামে চালু হওয়া সামাজিক কুসংস্কার মাত্র। রাসূল (ছাঃ) বা ছাহাবায়ে কেরাম থেকে এরূপ কোন আমল পাওয়া যায় না। ছালাত দৈহিক ইবাদত। যা জীবদ্দশায় যেমন কাউকে দেওয়া যায় না, মৃত্যুর পরেও তেমনি কাউকে দেওয়া যায় না। বরং আমল যার, ফলাফল তার। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি নেক আমল করল, সেটি তার নিজের জন্যই করল। আর যে ব্যক্তি মন্দ কর্ম করল, তার পাপ তার উপরেই বর্তাবে’ (হা-মীম সাজদাহ/ফুছছিলাত ৪১/৪৬)। ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, ‘কেউ কারো পক্ষ থেকে ছিয়াম রাখতে পারে না বা ছালাত আদায় করতে পারে না’ (মুওয়াত্ত্বা হা/১০৬৯, পৃ. ৯৪; মিশকাত হা/২০৩৫)। কতিপয় বিদ্বান মৃত ব্যক্তিকে নফল ছালাতের ছওয়াব বখশানো যাবে বলে মনে করলেও তার পক্ষে কোনই দলীল নেই (বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব)

ইমাম নববী বলেন, ‘মাইয়েতের জন্য দো‘আ করা, ছাদাক্বা করা, হজ্জ করা ও তার ঋণ পরিশোধ করার ছওয়াব মাইয়েত পাবেন, এ ব্যাপারে সকল বিদ্বান একমত। তবে মাইয়েতের জন্য কুরআন পাঠ করা, ছালাত আদায় করা এবং এধরনের কোন দৈহিক সৎকর্ম করার বিষয়ে জমহূর বিদ্বানগণের মাযহাব হ’ল তার ছওয়াব মাইয়েতের নিকট পৌঁছবে না’ (মুসলিম শরহ নববী হা/১৬৩১-এর আলোচনা ১১/৮৫ পৃ.; বিস্তারিত দ্রঃ ‘কোরআন ও কলেমাখানী সমস্যা সমাধান’ বই ৯-১০ পৃ.)

Posted in পিতা-মাতার জন্য প্রতি ওয়াক্তে দু’রাক‘আত ছালাত অতিরিক্ত আদায় করা যাবে কি? | Tagged ,

মাসবূক মুছল্লীদের ব্যাপারে দেখা যায় যে, ইমাম প্রথম সালাম ফিরাতেই তারা বাকী রাক‘আতের জন্য দাঁড়াতে শুরু করেন। এটা শরী‘আসম্মত কি?


সুন্নাত হ’ল, ইমাম উভয় সালাম ফিরানোর পর মাসবূক মুছল্লী অবশিষ্ট ছালাত শেষ করার জন্য দন্ডায়মান হবে। কারণ ইমামের দু’সালাম পর্যন্ত মুক্তাদীকে ইমামের অনুসরণ করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘নিশ্চয়ই ইমাম নির্ধারণ করা হয় তার অনুসরণ করার জন্য’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১১৩৯)। ইমাম শাফেঈ ও ইবনুল মুনযিরসহ জমহূর বিদ্বানগণের মতে, যদি প্রথম সালামের পর মাসবূক দাঁড়িয়ে যায়, তবে তা জায়েয হবে। কিন্তু উত্তম হ’ল দ্বিতীয় সালাম শেষ হওয়ার পর দাঁড়ানো (ইবনু কুদামাহ ১/৩৯৬; নববী, আল-মাজমু ৩/৪৮৩; আল-মাওসূআতুল ফিকহিয়াহ ৩৭/১৬৩)

Posted in ইমাম প্রথম সালাম ফিরাতেই বাকী রাক‘আতের জন্য দাঁড়ানো যাবে কি? | Tagged ,

ময়না তদন্ত সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কি? মৃতদেহে প্রয়োজনে এমন কাঁটাছেড়া করা জায়েয হবে কি?


মুসলিম মাইয়েত জীবিত ব্যক্তির ন্যায় সম্মানিত। সুতরাং আইনতঃ বাধ্যগত অবস্থা ছাড়া ময়না তদন্তের নামে মুসলিম মৃতদেহ কাঁটাছেড়া করা যাবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, মৃত ব্যক্তির হাড় ভাঙ্গা জীবিত ব্যক্তির হাড় ভাঙ্গার ন্যায় (আবুদাঊদ হা/৩২০৭; মিশকাত হা/১৭১৪)। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, ‘মৃত মুমিনকে কষ্ট দেওয়া তাকে জীবিত অবস্থায় কষ্ট দেওয়ার ন্যায়’ (আওনুল মা‘বূদ হা/৩১৯১, ৯/২৪ পৃঃ)। তবে অপরাধী চিহ্নিতকরণের উদ্দেশ্যে বাধ্যগত অবস্থায়  ও আদালতের নির্দেশে লাশের প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শন সাপেক্ষে কবরস্থ লাশ উত্তোলন করা বা ময়না তদন্ত করা যাবে। জাবের (রাঃ) বলেন, আমার পিতাকে একজন লোকের পাশে দাফন করা হয়েছিল। এটা আমার কাছে পসন্দনীয় ছিল না। ফলে দাফনের ছয়মাস পর লাশ কবর থেকে বের করলাম। অতঃপর আমি তার কিছুই অপসন্দনীয় পেলাম না, মাটির সাথে লাগা কয়েকটা দাড়ি ব্যতীত। অন্য বর্ণনায় আছে, তার কান ব্যতীত কিছুই নষ্ট হয়নি (বুখারী হা/১৩৫১; আবূদাঊদ হা/৩২৩২, হাদীছ ছহীহ; ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৪/৩০৩; ফাৎহুল বারী ৩/২৭৬; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৩০১-২)

Posted in মৃতদেহে প্রয়োজনে কাঁটাছেড়া করা জায়েয হবে কি? | Tagged ,

স্বামী মাসিক মাত্র দুই হাযার টাকা বেতনের চাকুরী করায় তার পক্ষে স্ত্রীসহ দু’সন্তানের জীবিকা নির্বাহ করা খুবই কষ্টকর। এক্ষণে স্ত্রী একটি মাদ্রাসায় কম্পিউটার অপারেটর হিসাবে চাকুরী করতে চায়। কিন্তু স্বামী এতে রাযী নয়। এক্ষেত্রে স্ত্রীর করণীয় কী?


স্বামীর শরী‘আতসম্মত যেকোন নির্দেশ মেনে চলা স্ত্রীর জন্য আবশ্যক (নিসা ৪/৩৩, তিরমিযী হা/১১৫৯; মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৩২৪৬, ৩২৫৭)। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্ত্রী যদি সত্যিই প্রয়োজন বোধ করে এবং মাদ্রাসায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও পূর্ণ পর্দার পরিবেশ আছে বলে নিশ্চিত হয়, তবে স্বামীকে বিষয়টি বুঝানোর চেষ্টা করবে। এরপরও সম্মতি না পেলে অল্পে তুষ্ট থাকতে হবে এবং আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নেই যার রিযিকের যিম্মা আল্লাহ নেননি (হূদ ১১/৬)। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্কে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য রাস্তা খুলে দেন এবং তাকে রূযী দান করেন এমন উৎস হ’তে যে বিষয়ে তার কোনরূপ পূর্ব ধারণা ছিল না’ (তালাক ৬৫/২-৩)। এ বিষয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর শিখানো দো‘আটি নিয়মিত পাঠ করতে হবে- আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ‘ইলমান নাফি‘আ, ওয়া ‘আমালাম মুতাক্বাববালা, ওয়া রিযক্বান ত্বাইয়েবা (হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট উপকারী ইলম, কবুলযোগ্য আমল ও পবিত্র রূযী প্রার্থনা করছি’) (ইবনু মাজাহ হা/৯২৫, মিশকাত হা/২৪৯৮)

আর স্বামীকে স্মরণ রাখতে হবে যে, তিনি স্ত্রী-সন্তানদের ভরণ-পোষণ করার ব্যাপারে দায়িত্বশীল। বৈধভাবে এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হ’লে স্বামীকে ক্বিয়ামতের দিন জবাবদিহি করতে হবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৬৮৫)। রাসূল (ছাঃ) স্বামীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা যা খাও এবং পরিধান কর, স্ত্রীদেরকে তা খাওয়াও এবং পরিধান করাও। তাদেরকে প্রহার করো না এবং তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করো না’ (আবুদাঊদ হা/২১৪৪)। অন্যত্র রাসূল (ছাঃ) পরিবারের জন্য ব্যয়কে সর্বোত্তম ব্যয় হিসাবে বর্ণনা করেছেন (মুসলিম হা/৯৯৪,  মিশকাত হা/১৯৩২)

Posted in অভাবের সংসারে স্বামী চাকুরী করতে না দিলে স্ত্রীর করণীয় কী? | Tagged , ,