গরম ভাত ফুঁক দিয়ে ঠান্ডা করা বা না করার ব্যাপারে শারঈ কোন নির্দেশনা আছে কি?


সাধারণভাবে খাবারে ফুঁক দেওয়া নিষিদ্ধ। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) পাত্রে নিঃশ্বাস ফেলতে এবং তাতে ফুঁক দিতে নিষেধ করেছেন (তিরমিযী হা/১৮৮৮; মিশকাত হা/৪২৭৭, সনদ ছহীহ)। খাবারে ফুঁক দিলে তাতে নিঃশ্বাস থেকে নিঃসৃত জীবাণু মিশ্রিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্যই সম্ভবতঃ রাসূল (ছাঃ) এ কাজ থেকে নিষেধ করেছেন (উছায়মীন, শরহ রিয়াযুছ ছালেহীন, ৪/২৪৪)। মুহাল্লাব বলেন, যেমন পানিতে ফুঁক দেওয়া নিষেধ তেমনি শক্ত খাবার বা অন্যান্য তরল পদার্থেও ফুঁক দেওয়া নিষেধ (ইবনু হাজার আসক্বালানী, ফাৎহুল বারী ১০/৯৪)। আল্লামা শাওকানী, আযীমাবাদী, মুবারকপুরীসহ অধিকাংশ ব্যাখ্যাকার বলেন, হাদীছে বর্ণিত নিষেধাজ্ঞা খাবার ও পানীয়র জন্য ব্যবহৃত সকল পাত্রকে শামিল করে (নায়লুল আওতার ৮/২২১; আওনুল মা‘বুদ ১০/১৩৯; তুহফাতুল আহওয়াযী ৬/১০)। অতএব গরম ভাত বা যেকোন খাবার ঠান্ডা করার উদ্দেশ্যে হ’লেও তাতে ফুঁক দেয়া সমীচীন নয়। উছায়মীন বলেন, পানীয় ঠান্ডা করার জন্য ফুঁক দেওয়া প্রয়োজন সাপেক্ষে জায়েয হওয়ার ব্যাপারে কতিপয় বিদ্বান মত দিয়েছেন। তবে উত্তম হ’ল পরিহার করা। খাদ্য গরম হ’লে অন্য পন্থায় ঠান্ডা করা যেতে পারে (শরহ রিয়াযুছ ছালেহীন ৪/২৪৪-৪৫)

Posted in খাবারে ফুঁক দিয়ে খাওয়া যাবে কি? | Tagged ,

ফেসবুকে বা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ইমোজি ব্যবহার করা শরী‘আত সম্মত কি?


ইমোজি শব্দটির উৎপত্তি জাপানী শব্দ ইমোডজি থেকে, যার অর্থ স্মাইলি অর্থাৎ হাসিমুখ। এটি এক ধরনের আইকন, যা মানুষের বিভিন্ন আবেগ-অনুভূতি প্রকাশার্থে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসমূহে ব্যবহৃত হয়। ইমোজি বা ইমোকটিন প্রথম জনপ্রিয়তা লাভ করে ২০১২ সালে। যদিও ১৯৯৯ সাল থেকে ইমোজির অস্তিত্ব ছিল। এই ইমোজি যদি পূর্ণ অবয়ব বিশিষ্ট প্রাণীর অনুরূপ হয়, তবে তা ব্যবহার জায়েয নয়। কেননা তা হাদীছে নিষিদ্ধ ছবি অংকনের পর্যায়ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে (বুখারী হা/২২২৫, ৫৯৬৩; মুসলিম হা/২১১০)। আর যদি চোখ-মুখ বা শারীরিক অবয়ব স্পষ্ট বুঝা না যায়, তবে তা ব্যবহারে দোষ নেই। কেননা তা প্রাণীর হুকুমের অন্তর্ভুক্ত নয় (আল-মুগনী ৭/২৮২; উছায়মীন, মাজমূ ফাতাওয়া ২/২৭৯)। তবে অকারণ এগুলোর ব্যবহার পরিত্যাগ করাই তাক্বওয়ার পরিচয়। আর নিঃসন্দেহে তাক্বওয়াই হ’ল মানুষের সর্বোত্তম সম্বল (বাক্বারাহ ২/১৯৭)

Posted in ফেসবুকে ইমোজি ব্যবহার করা শরী‘আত সম্মত কি? | Tagged

ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) লিখিত কিতাবুর রূহ -এ মৃত ব্যক্তিদের সাথে জীবিতদের কথপোকথনের অদ্ভুত বিবরণ পেশ করা হয়েছে। এসব বিবরণের সত্যতা আছে কি?


মৃত ব্যক্তিদের রূহের সাথে জীবিত ব্যক্তিদের কথোপকথনের কোন বর্ণনা কুরআন বা হাদীছে নেই। তবে স্বপ্নে মৃতদের রূহের সাথে সাক্ষাৎ হওয়ার বিষয়টি হাদীছ ও সালাফদের বক্তব্যে পাওয়া যায়। যেমন একটি হাদীছে এসেছে, দাউস গোত্রের তুফাইল বিন আমর (রাঃ) হিজরত করলে তাঁর গোত্রের এক ব্যক্তি তাঁর সাথে হিজরত করে। মদীনার আবহাওয়া অনুকূল না হওয়ার ফলে সে ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ে। সে অধৈর্য হয়ে তীরের ফলা দিয়ে নিজের হাতের আঙ্গুলের জোড় কেটে ফেলে। এর ফলে তার দু’টি হাত হ’তে তীব্রভাবে রক্তক্ষরণ হ’তে থাকে। পরিশেষে সে মারা যায়। তুফাইল বিন আমর তাকে স্বপ্নে দেখেন, তার আকার-আকৃতি সুন্দর। কিন্তু দেখলেন যে, সে তার হাত দু’টিকে ঢেকে আছে। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার প্রতিপালক তোমার সাথে কী আচরণ করেছেন? সে বলল, নবী (ছাঃ) এর দিকে হিজরত করার কারণে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি বললেন, তোমার হাত দু’টি ঢাকা কেন? সে বলল, আমাকে বলা হয়েছে, তুমি নিজে যা নষ্ট করেছ, তা কখনই ঠিক করব না। তুফাইল আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট এ ঘটনা খুলে বললে রাসূল (ছাঃ) বললেন, হে আল্লাহ! তার হাত দু’টিকে ক্ষমা করে দাও’ (মুসলিম হা/১১৬; মিশকাত হা/৩৪৫৬; আহমাদ হা/১৫০২৪; আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৬১৪)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূল (ছাঃ) তার হাতকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য তিনবার দো‘আ করেন (ছহীহ ইবনু হিববান হা/৩০১৭)

অন্য একটি আছারে এসেছে, উমাইয়াহ বিন খালেদ (রহঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, খালেদ আল-কাসরী ইরাকের গভর্ণর হয়ে ছা‘-কে দ্বিগুণ করলেন। তাতে এক ছা‘ ষোল রতলের সমান হয়। আবুদাঊদ বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু মুহাম্মাদ খাল্লাদকে নিগ্রোরা বন্দী করে হত্যা করে। তিনি তার হাতের ইশারায় বলেন, এভাবে। আবুদাঊদ তার হাত প্রসারিত করেন এবং দু’হাতের তালু মাটির দিকে উপুড় করে বলেন, আমি তাকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করেছেন? তিনি বলেন, আল্লাহ আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন। আমি বললাম, তাহ’লে আপনার বন্দী অবস্থা আপনার অনিষ্ট করতে পারেনি (আবুদাউদ হা/৩২৮১, সনদ ছহীহ মাক্বতূ‘)

অত্র হাদীছসমূহ থেকে বুঝা যায় যে, স্বপ্নে মানুষের রূহের সাথে মৃতদের রূহের সাক্ষাৎ হ’তে পারে (ইবনু তায়মিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ ৬/২০১; যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায ২/১৫; ইবনুল ক্বাইয়িম, আর-রূহ্ ২১-৩০ পৃ.)। কুরআনের সূরা যুমারের ৪২ আয়াতটিকেও অনেকে এ বিষয়ে দলীল হিসাবে পেশ করেন।

তবে নবীদের স্বপ্ন ব্যতীত অন্য কারু স্বপ্ন শরী‘আতের কোন দলীল নয়। কেননা এতে সুনিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হয় না। এসব গায়েবের খবর, যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। তবে এগুলি নেককার মুমিনকে সৎকর্মে অধিক উদ্বুদ্ধ করে। ইবনুল ক্বাইয়িমের কিতাবুর রূহ গ্রন্থে বর্ণিত ঘটনাগুলির মধ্যে কিছু রয়েছে অপ্রমাণিত হাদীছ ভিত্তিক এবং অনেকগুলি রয়েছে স্বপ্ন ও ঘটনা ভিত্তিক। যা ভুলও হ’তে পারে, আবার সঠিকও হ’তে পারে। অতএব সেসব বর্ণনাকে সত্যায়ন করা ও তার উপরে বিশ্বাস স্থাপন করা যরূরী নয় (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১/৬৪৬; শায়খ বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩/৩১১-৩১২; ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ৫/৪৫৪-৪৫৫)

Posted in মৃত ব্যক্তিদের রূহের সাথে জীবিত ব্যক্তিদের কথোপকথন সম্ভব কি?

ঢাকা শহরে বাড়ি করার ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণ না দেখালে সরকারী ট্যাক্সের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এক্ষণে সরকারী যুলুম থেকে বাঁচার জন্য ব্যাংক ঋণ নেওয়া জায়েয হবে কি?


সাধ্যপক্ষে ঋণ নেওয়া থেকে বিরত থাকাই সমীচীন। কারণ ঋণ নিলে এক অন্যায় থেকে বাঁচতে আরেকটি অন্যায় করা হবে। অতএব সরকারী আইন বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক হলেও পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত বাধ্যগত অবস্থায় তা অনুসরণ করাই বাঞ্ছনীয় (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৫৩৮২, ৩৬৭২, ৩৬৭৩)। সর্বোপরি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করতে হবে। কেননা যে ব্যক্তি পাপমুক্ত থাকতে চায়, আল্লাহ তার জন্য পথ খুলে দেন (তালাক ২-৩)

Posted in যুলুম থেকে বাঁচার জন্য ব্যাংক ঋণ নেওয়া জায়েয হবে কি? | Tagged , ,

পরিবারের অশান্তি থেকে মুক্তি লাভের জন্য কোন আমল আছে কি?


পরিবার থেকে অশান্তি দূর করতে হলে পরিবারে ইসলামী বিধান কায়েম করতে হবে এবং অশান্তি সৃষ্টি করে এমন কর্ম যেমন গীবত, চোগলখুরী, হিংসা, অহংকার, বেপর্দা, অশ্লীলতা, যুলুম প্রভৃতি বন্ধ করতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, শুধুমাত্র হৃদয়হীন, নিষ্ঠুর ও দুর্ভাগা মানুষের কাছ থেকেই রহমত ছিনিয়ে নেয়া হয় (আবুদাউদ হা/৪৯৪২;  মিশকাত হা/৪৯৬৮; ছহীহুত তারগীব হা/২২৬১)। সেই সাথে আল্লাহর প্রতি আনুগত্যশীল ইসলামী পরিবার গড়ে তুলতে হবে। সর্বদা পরিবারের জন্য আল্লাহর নিকট দো‘আ করতে হবে। সর্বোপরি পরিবারে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে পারলেই অশান্তি দূর হবে ইনশাআল্লাহ।

Posted in পরিবারের অশান্তি থেকে মুক্তি লাভের জন্য কোন আমল আছে কি? | Tagged

মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমি ব্যাংকে কয়েক বছর মেয়াদী ফিক্সড ডিপোজিট করে মাসিক ভিত্তিতে কিছু টাকা জমাতে চাই। লভ্যাংশ দান করে দেয়ার নিয়তে এটা করলে কি অন্যায় কাজে সহযোগিতার শামিল হবে?


বর্তমানে দেশের কোন ব্যাংকই শতভাগ সূদমুক্ত নয়। তাই এরূপ না করে বরং সূদমুক্ত একাউন্ট খুলে তাতে টাকা জমা করতে হবে। কারণ সূদী কর্মকান্ডে সাহায্য করার মাধ্যমে উদ্দিষ্ট নেকীর বদলে গুনাহ অর্জিত হবে। আল্লাহ বলেন, ‘নেকী ও তাক্বওয়ার কাজে তোমরা পরস্পরকে সাহায্য কর এবং গোনাহ ও অন্যায় কাজে সহযোগিতা কর না’ (মায়েদাহ ৫/২)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্ত্ত ব্যতীত কবুল করেন না (মুসলিম হা/ ১০১৫, মিশকাত হা/২৭৬০)

Posted in ব্যাংকে সুদ না নিয়ে টাকা ডিপোজিট করে রাখা যাবে কি? | Tagged , ,

সৌন্দর্যের জন্য পুরুষদের হাতে বা নখে মেহেদী মাখা জায়েয কি?


সৌন্দর্যের জন্য পুরুষদের হাতে-পায়ে মেহেদী ব্যবহার করা জায়েয নয় (ইবনু হাজার, ফৎহুল বারী হা/৫৮৯৯-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ)। কারণ মেহেদী এক ধরনের রঙ। আর পুরুষদের জন্য রঙ ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, পুরুষদের খোশবূ এমন, যাতে সুগন্ধি আছে রং নেই। পক্ষান্তরে নারীদের খোশবূ এমন, যাতে রং আছে সুগন্ধি নেই (তিরমিযী হা/২৭৮৭, মিশকাত হা/৪৪৪৩)। এছাড়া তিনি রঙ থাকার কারণে পুরুষদের জন্য যাফরানের সুগন্ধি ব্যবহার করতেও নিষেধ করেছেন (বুখারী হা/৫৮৪৬, মুসলিম হা/২১০১, মিশকাত হা/৪৪৩৪)। তবে চিকিৎসার প্রয়োজনে যে কোন স্থানে মেহেদী ব্যবহার করা জায়েয আছে (তিরমিযী হা/২০৫৪, ছহীহুল জামে‘ হা/৪৬৭১, ছহীহাহ হা/২০৫৯)। এছাড়া মাথার চুল ও দাড়িতে মেহেদী ব্যবহার করা উত্তম (আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৪৪৫১)

Posted in মেহেদী পুরুষদের হাতে বা নখে মাখা জায়েয কি? | Tagged

জনৈক ইমাম বলেন, হাদীছে এসেছে প্রত্যেক বান্দা যে অবস্থায় মারা যাবে তাকে সে অবস্থায় উঠানো হবে। অর্থাৎ যে কাপড়ে দাফন হবে সে কাপড়ে পুনরুত্থিত হবে। একথা কি সঠিক?


প্রশ্নে বর্ণিত হাদীছটি ছহীহ (মুসলিম হা/২৮৭৮; মিশকাত হা/৫৩৪৫)। তবে ব্যাখ্যা সঠিক হয়নি। সঠিক ব্যাখ্যা হ’ল, দুনিয়াতে ভালো কর্ম করে মারা গেলে ভালো অবস্থায় আর মন্দ কর্ম করে মারা গেলে মন্দ অবস্থায় উঠবে (মানাবী, ফায়যুল ক্বাদীর ২/৪৪০)। যেমন বলা হয়েছে, ইহরাম অবস্থায় মারা গেলে তাকে তালবিয়াহ পাঠ করা অবস্থায় উঠানো হবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৬৩৭)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ক্বিয়ামতের দিন মানুষকে বস্ত্রহীন অবস্থায় উঠানো হবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫৫৩৬)। আর সেদিন প্রথম পোষাক পরানো হবে হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-কে (বুঃমুঃ মিশকাত হা/৫৫৩৫)

Posted in দাফন করার সময় যে কাপড় পড়ানো হবে সেই কাপড়ে পুনরুত্থিত হবে কি? | Tagged ,

আয়কর ফাঁকি দিলে গুনাহগার হ’তে হবে কি? ফ্রি ল্যান্সিং করে বিদেশী বিভিন্ন কাজ করে দিয়ে যে উপার্জন করা হয় তার উপর আয়কর দেওয়া আবশ্যক কি?


ইসলামী রাষ্ট্রে যাকাত প্রদান করা আবশ্যক, কিন্তু আয়করের কোন বিধান নেই। তবে বর্তমানে দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা যেহেতু ইসলামী নয় সেজন্য দেশীয় আইন মানার স্বার্থে আয়কর দিতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, শাসকের কথা শোন এবং তার আনুগত্য কর। যদিও তারা তোমার পিঠে আঘাত করে এবং তোমার সম্পদ ছিনিয়ে নেয় (মুসলিম হা/১৮৪৭; মিশকাত হা/৫৩৮২)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘তাদের হক তাদের দাও এবং তোমাদের হক আল্লাহর কাছে চাও’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ; মিশকাত হা/৩৬৭২)। ‘কেননা তাদের পাপ তাদের উপর এবং তোমাদের পাপ তোমাদের উপর বর্তাবে’ (মুসলিম; মিশকাত হা/৩৬৭৩)। তবে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘স্রষ্টার অবাধ্যতায় সৃষ্টির প্রতি কোন আনুগত্য নেই’ (শারহুস সুন্নাহ, মিশকাত হা/৩৬৯৬)

Posted in আয়কর ফাঁকি দিলে গুনাহগার হ’তে হবে কি? | Tagged ,

জনৈকা মহিলার বিবাহের পরে স্বামীর বাড়ি যাওয়ার পথে স্বামী হার্ট অ্যাটাক করে মারা যায়। এক্ষণে সে কি ইদ্দত পালন করবে এবং মোহরানা পাবে?


এক্ষেত্রে স্ত্রীকে চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করতে হবে এবং স্ত্রী মোহরানাসহ স্বামীর সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হবে। কারণ সে শরী‘আত সম্মতভাবে স্ত্রীর মর্যাদা লাভ করেছে (তিরমিযী হা/১১৪৫; আবুদাউদ হা/২১১৪ প্রভৃতি;  মিশকাত হা/৩২০৭)। ঐ স্ত্রী তার স্বামীর বাড়ীতে বা পিতার বাড়ীতে অথবা যেখানে সে নিরাপত্তা বোধ করে, সেখানে থেকে ইদ্দত পালন করবে (ইবনু কুদামা, আল-মুগনী ৮/১৫৮-৫৯, ক্রমিক ৬৩৫২)

Posted in বিবাহের পরে স্বামীর মারা গেলে স্ত্রীরে ইদ্দত পালন করতে হবে কি? | Tagged , , ,

মসজিদ ও মাদ্রাসায় লক্ষ লক্ষ টাকা সঞ্চিত থাকে। সেগুলোর উপর কি যাকাত ফরয হবে?


এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদে যাকাত ফরয হবে না। কারণ এগুলি ব্যক্তিমালিকানাধীন নয়। বরং এইসব তহবিলে বিভিন্ন দান-ছাদাক্বার মাল জমা হয়’ (বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৪/৩৭; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৯/২৯৫-৯৬, ফাৎওয়া নং ৫১৬১)

Posted in মসজিদ ও মাদ্রাসার টাকার উপর কি যাকাত ফরয হবে? | Tagged , ,

কুমিল্লার মুরাদনগরে আল্লাহর ৯৯টি নাম সম্বলিত একটি পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। এভাবে আল্লাহর নাম লেখা জায়েয হবে কি?


যে মুমিন আসমাউল হুসনার ৯৯টি নাম অর্থ অনুধাবন সহ পূর্ণ ঈমান ও আনুগত্যের সাথে এবং আল্লাহর উপর অটুট নির্ভরতার সাথে মুখস্ত করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে (বুখারী হা/৭৩৯২; মুসলিম হা/২৬৭৭; ফাৎহুল বারী ১১/২২৬-২২৭)। কিন্তু এর অর্থ এটা নয় যে, পিলার নির্মাণ করে এগুলির প্রদর্শনী করা হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ আমাদেরকে ইট, পাথর ও মাটি ইত্যাদিকে কাপড় পরিধান করাতে নির্দেশ দেননি’ (মুসলিম হা/২১০৭; মিশকাত হা/৪৪৯৪; আবুদাঊদ হা/৪১৫৩)। অতএব এগুলি প্রদর্শনীর বিষয় নয়। বরং ঈমান ও আমলের বিষয়।   

আজকাল বিভিন্ন মুসলিম দেশে শিল্পকর্ম হিসাবে কিংবা রাস্তার শোভাবর্ধনে এধরণের ক্যালিগ্রাফীর ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। তবে বিগত যুগের নির্ভরযোগ্য ওলামায়ে কেরাম পিলারে বা দেওয়ালে এগুলো লেখাকে সমর্থন করতেন না। হানাফী বিদ্বান ইবনুল হুমাম বলেন, ‘আল্লাহর কিতাব এবং তার নামসমূহ দিরহাম, মেহরাব ও দেওয়ালে লেখা মাকরূহ (ফাৎহুল কাদীর ১/১৬৯)। অপর হানাফী বিদ্বান ইমাম যায়লাঈ অনুরূপ মন্তব্য করে বলেন, এতে কিছু লেখা মিটে যায়, ফলে কুরআনের আয়াত ও আল্লাহর নামের বিকৃতি হ’তে পারে যা কুরআনকে অসম্মানের শামিল (তাবীনুল হাক্বায়েক্ব ১/৫৮)। শায়খ উছায়মীন এ ধরনের কর্মকে বিদ‘আত বলে সতর্ক করেছেন (লিক্বাউল বাবিল মাফতূহ ১৩/১৯৭)। এ ব্যাপারে সঊদী স্থায়ী ফৎওয়া বোর্ডকে জিজ্ঞাসা করা হ’লে তারাও এধরনের কাজকে রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরামের আদর্শ বিরোধী বলে মতপ্রকাশ করেন (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৪/৫৬-৫৮)। সুতরাং এগুলি থেকে বিরত থাকাই সমীচীন।

Posted in আল্লাহর ৯৯টি নাম পিলারে লিখে রাকা জায়েয হবে কি? | Tagged , ,

কোন হাদীছকে অধিক সংখ্যক বিদ্বান যদি ছহীহ বলেন এবং কিছু বিদ্বান যদি যঈফ বলেন, তবে কোন মতটি অগ্রাধিকারযোগ্য হবে? বিশেষত সাধারণ মানুষের জন্য কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা নিরাপদ হবে?


সাধারণ মানুষ এ ব্যাপারে অভিজ্ঞ, আমলদার ও আল্লাহভীরু হাদীছপন্থী আলেমদের জিজ্ঞেস করে সঠিক বিষয়টি জেনে নিবে। আল্লাহ বলেন, যদি তোমরা  না জানো, তাহ’লে জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস কর (নাহল ৪৩)। তিনি বলেন,  ‘সুসংবাদ দাও আমার বান্দাদেরকে’। ‘যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে, অতঃপর তার মধ্যে যেটা উত্তম সেটার অনুসরণ করে। তাদেরকে আল্লাহ সুপথে পরিচালিত করেন এবং তারাই হ’ল জ্ঞানী’  (যুমার ১৮)। আর উত্তম হ’ল ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক ইলম। তা কখনোই রায় ভিত্তিক ইলম নয়। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হ’ল, যেখানে একজন আহলুল হাদীছ আছেন, যিনি হাদীছের ছহীহ-যঈফ বুঝেন না। আরেকজন আহলুর রায় বা রায়পন্থী বিদ্বান আছেন। এমতাবস্থায় আমরা কার নিকট ফৎওয়া জিজ্ঞেস করব? জবাবে তিনি বললেন, আহলুল হাদীছকে জিজ্ঞেস কর। কেননা যঈফ হাদীছ রায়-এর চাইতে অধিক শক্তিশালী’ (ইবনুল ক্বাইয়িম, ই‘লামুল মুওয়াক্কে‘ঈন ১/৭৭)। ওমর (রাঃ) বলেন, তোমরা রায়পন্থীদের থেকে দূরে থাক। ওরা সুন্নাতের শত্রু। হাদীছ আয়ত্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় ওরা মনগড়া কথা বলে। ফলে নিজেরা পথভ্রষ্ট হয় ও অন্যকে পথভ্রষ্ট করে’ (দারাকুৎনী হা/৪২৩৬; দ্র.  সম্পাদকীয় ‘কল্যাণের অভিযাত্রী’  ১৬/১২ সংখ্যা সেপ্টেম্বর ২০১৩; দিগদর্শন-২ পৃ.২৭)

Posted in দুইপক্ষ হাদীছের রায় দিলে কারটা অনুসরণ করবো? | Tagged ,

জনৈক ব্যক্তি নিয়মিত সিগারেট খায় এবং পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতও আদায় করে। তার ছালাত কবুল হয় কি? যদি না হয়, তবে সিগারেট ছাড়ার আগ পর্যন্ত ছালাত থেকে বিরত থাকাই উত্তম হবে কি?


কোন মুসলমানের জন্য কোন অবস্থাতেই ছালাত থেকে বিরত থাকার সুযোগ নেই (নিসা ১০৩)। প্রশ্নোল্লেখিত ব্যক্তির ছালাত আদায়ে তার ছালাতের ফরযিয়াত আদায় হয়ে যাবে। তবে হারাম খাদ্য খাওয়ার কারণে সে গুনাহগার হবে (শায়খ বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব)। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এই দুর্গন্ধযুক্ত গাছ থেকে খাবে (অর্থাৎ কাঁচা পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি) সে যেন আমাদের মসজিদের নিকটবর্তী না হয়। নিশ্চয়ই যার দ্বারা মানুষ কষ্ট পায় তার দ্বারা ফেরেশতারাও কষ্ট পায়’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৭০৭, ‘মসজিদ ও ছালাতের স্থান সমূহ’ অনুচ্ছেদ)। সিগারেটে পেঁয়াজ ও রসুন অপেক্ষা মারাত্মক দুর্গন্ধ রয়েছে। এর ধোঁয়ায় রয়েছে নিকোটিন বিষ। যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য চূড়ান্ত ক্ষতিকর। অধিকন্তু বিড়ি-সিগারেট, তামাক-জর্দা-গুল ইত্যাদি মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত, যা খাওয়া বা ব্যবহার করা সর্বাবস্থায় নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘মাদকতা আনয়নকারী প্রত্যেক বস্ত্তই মদ এবং প্রতিটি মাদকদ্রব্য হারাম’ (মুসলিম হা/২০০৩; মিশকাত হা/৩৬৩৮)। তিনি বলেন, যে বস্ত্তর বেশী পরিমাণে মাদকতা আসে, তার কম পরিমাণও হারাম’ (তিরমিযী হা/১৮৬৫; ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৩৬৪৫, সনদ ছহীহ )

Posted in সিগারেট খাওয়া থেকে বিরত হওয়া পর্যন্ত ছালাত থেকে বিরত থাকা যাবে কি? | Tagged ,

তিনদিনের বেশী কথা বন্ধ না রাখার বিষয়টি কি সকল ধর্মালম্বী মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, না কেবল মুসলমানদের জন্য? খ্রিষ্টানদের সাথেও কি তিনদিনের বেশী কথা বন্ধ রাখা যাবে না?


বিষয়টি কেবল মুসলমানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কেননা অধিকাংশ হাদীছে মুসলিম বা মুমিন শব্দের উল্লেখ রয়েছে। যা প্রমাণ করে যে, এটি মুসলমানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কাফের বা অমুসলিমদের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য নয় (মিরক্বাত ৮/৩১৫৩; আওনুল মা‘বুদ ১৩/১৭৬)

Posted in কথা বন্ধ রাখার বিষয়টি কি সকল ধর্মালম্বী মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? | Tagged ,

‘যে ব্যক্তি নিজেকে চিনেছে, সে তার প্রভুকে চিনতে সক্ষম হয়েছে’ হাদীছটি কি ছহীহ?


উক্ত কথাটি সমাজে প্রচলিত থাকলেও এর কোন ভিত্তি নেই (সিলসিলা যঈফাহ হা/৬৬-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)

Posted in যে নিজেকে চিনেছে সে তার প্রভুকে চিনতে সক্ষম হয়েছে’ হাদীছটি কি ছহীহ? | Tagged ,

দেবীর উদ্দেশ্যে মশা বা মাছি দান করার কারণে জনৈক ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছে মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ?


উক্ত ম©র্ম বর্ণিত হাদীছটি মারফূ‘ হিসাবে যঈফ, তবে মওকূফ হিসাবে ছহীহ (যঈফাহ হা/৫৮২৯-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, আমার মনে হয়েছে এটি ইস্রাঈলী বর্ণনা। তিনি বলেন, সালমান ফারেসী যখন অমুসলিম ছিলেন, তখন তিনি তাদের কোন সরদার থেকে এটি শুনে থাকতে পারেন। তাছাড়া তার ভাষা ছিল অনারবী (সিলসিলা যঈফাহ হা/৫৮২৯)

Posted in দেবীর উদ্দেশ্যে মশা দান করার কারণে জনৈক ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হ | Tagged

অধ্যয়নে মনোযোগ বৃদ্ধির জন্য কোন দো‘আ বা আমল আছে কি?


অধ্যয়নে মনোযোগ বৃদ্ধির জন্য নিম্নের দো‘আসমূহ পাঠ করা যায়। (ক) رَبِّ زِدْنِىْ عِلْمًا- (রবিব ঝিদনী ‘ইল্মা)। ‘হে প্রভু! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি কর’ (ত্বোয়াহা ২০/১১৪)। এছাড়াও পড়া যায় (খ)َاللَّهُمَّ انْفَعْنِي بِمَا عَلَّمْتَنِي وَعَلِّمْنِي مَا يَنْفَعُنِي وَزِدْنِي عِلْمًا- (আল্লাহুম্মানফা‘নী বেমা ‘আল্লামতানী ওয়া ‘আল্লিমনী মা ইয়ানফা‘উনী ওয়াযিদনী ‘ইলমা)।

‘হে আল্লাহ! আমাকে যা শিক্ষা দিয়েছ তা দ্বারা আমাকে উপকৃত কর। আর আমাকে শিক্ষা দাও যা আমার উপকারে আসে এবং আমার জ্ঞান বৃদ্ধি কর’ (তিরমিযী হা/৩৫৯৯; ইবনু মাজাহ হা/২৫১; মিশকাত হা/২৪৯৩; ছহীহাহ হা/৩১৫১)। (গ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ফজরের ছালাতের পর বলতেন,

اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ  عِلْمًا نَّافِعًا  وَّعَمَلاً مُّتَقَبَّلاً وَّرِزْقًا طَيِّباً-

আল্লা-হুম্মা ইনণী আস’আলুকা ‘ইলমান নাফে‘আন, ওয়া ‘আমালাম মুতাক্বাববালান, ওয়া রিঝক্বান ত্বাইয়েবান’ (হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে উপকারী জ্ঞান, কবুলযোগ্য আমল ও পবিত্র রূযী প্রার্থনা করছি) (আহমাদ হা/২৬৫৬৪, ইবনু মাজাহ হা/৯২৫, ছহীহ; ত্বাবারাণী ছগীর হা/৭৩৬; মিশকাত হা/২৪৯৮)

Posted in অধ্যয়নে মনোযোগ বৃদ্ধির জন্য কোন দো‘আ বা আমল আছে কি? | Tagged

ছালাতের শেষ বৈঠকে কুরআনী দো‘আ পাঠ করার ক্ষেত্রে আঊযুবিল্লাহ বা বিসমিল্লাহ পাঠ করতে হবে কি?


ছালাতের শেষ বৈঠকে কুরআনী দো‘আ পাঠ করলে সে সময় আঊযুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহ পাঠ করতে হবে না। কারণ এটি দো‘আর উদ্দেশ্যে পাঠ করা হয়, তেলাওয়াতের জন্য নয়। আর ‘আঊযুবিল্লাহ’ ও ‘বিসমিল্লাহ’ পাঠ করার বিধান কেবল তেলাওয়াতের সূচনাতে (নাহল ১৬/৯৮)

Posted in কুরআনী দো‘আ পাঠ করার ক্ষেত্রে আঊযুবিল্লাহ বা বিসমিল্লাহ পাঠ করতে হবে কি? | Tagged ,

রামাযান মাসে সূর্য গ্রহণ এবং চন্দ্র গ্রহণ একই সাথে হওয়া ইমাম মাহদীর আগমনের সাথে কোন সম্পর্ক আছে কি?


এটি শী‘আদের আক্বীদা। তারা মনে করে, যে রামাযান মাসের প্রথম রাতে চন্দ্র গ্রহণ এবং ১৫তম দিন সকালে সূর্য গ্রহণ হবে সেই মাসেই ইমাম মাহদী আগমন করবেন। উক্ত মর্মে দারাকুৎনীতে মুহাম্মাদ বিন আলী থেকে বর্ণিত হাদীছটি জাল (দারাকুৎনী হা/১৮১৬; আল-মাওসূ‘আতু ফী আহাদীছিল মাহদী আয-যাঈফাহ ওয়াল মাওযূ‘আহ ১৬৯ পৃ.)। বরং রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমুহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো জীবন ও মৃত্যুর কারণে এ দু’টির গ্রহণ হয় না। এর মাধ্যমে আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের সতর্ক করেন’ (বুখারী হা/১০৪৮; মুসলিম হা/৯১১)

Posted in সূর্য গ্রহণ চন্দ্র গ্রহণ একই সাথে হওয়া ইমাম মাহদীর আগমনের সম্পর্ক আছে কি? | Tagged ,

ব্যবসার ক্ষেত্রে আমি মানত করেছি যে মোট লাভের ১০ শতাংশ আমি দান করব। এক্ষণে উক্ত দানের অর্থ মসজিদ নির্মাণ কাজে ব্যয় করা যাবে কি?


মানতের টাকা মসজিদ নির্মাণের কাজে দান করা যাবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আল্লাহর আনুগত্যের উদ্দেশ্যে কেউ মানত করলে সে যেন তা পূর্ণ করে। আর কেউ আল্লাহর অবাধ্যতার মানত করলে সে যেন তা পূর্ণ না করে (বুখারী হা/৬৬৯৬; মিশকাত হা/৩৪২৭)। উল্লেখ্য যে, মসজিদে যাকাতের টাকা ছাড়া সব টাকা প্রদান করা যাবে।

Posted in মানতের টাকা মসজিদের কাজে ব্যবহার করা যাবে কি? | Tagged , ,

পিতা-মাতার মাঝে গন্ডগোল লাগলে সন্তানের করণীয় কি?


সন্তানের নিকট পিতা-মাতা উভয়ের মর্যাদা সমান। যদিও সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে মায়ের অগ্রাধিকার রয়েছে। আর পিতা-মাতার মধ্যে মনোমালিন্য হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কারণ শয়তান স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারলে খুশী হয় (মুসলিম হা/২৮১৩; মিশকাত হা/৭১)। অতএব এক্ষেত্রে সন্তানের দায়িত্ব হ’ল নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিষয়গুলি বিবেচনা করে উভয়কে সচেতন করা এবং বুঝিয়ে তাদের মাঝে মীমাংসা করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক আল্লাহর জন্য সাক্ষ্যদাতা হিসাবে, যদিও সেটি তোমাদের নিজেদের কিংবা তোমাদের পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে যায়’ (নিসা ৪/১৩৫)। পরস্পরে মীমাংসা করে দেওয়ার কাজটি অত্যন্ত নেকীর কাজ। এটি না করলে পিতা-মাতার মাঝে বিচ্ছেদ ঘটতে পারে যা সন্তানের জন্য বড়ই বেদনাদায়ক হবে। পরস্পরে মীমাংসা করার গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে (নফল) ছিয়াম, ছালাত ও ছাদাক্বা অপেক্ষা উত্তম আমলের কথা বলব না? ছাহাবীগণ বললেন, অবশ্যই। তিনি বললেন, বিবদমান দু’ব্যক্তির মাঝে সুসম্পর্ক স্থাপন করা। কেননা পরস্পরে সম্পর্ক বিনষ্ট করা হ’ল দ্বীন ধ্বংসকারী বিষয়’ (তিরমিযী হা/২৫০৯; মিশকাত হা/৫০৩৮)। সর্বোপরি তাদের পারস্পরিক সম্প্রীতির জন্য দো‘আ করবে।

Posted in পিতা-মাতার মাঝে গন্ডগোল লাগলে সন্তানের করণীয় কি? | Tagged , ,

আমি ফেইসবুক-টুইটার ব্যবহার করে দাওয়াতী কাজ করি। কিন্তু বিয়ের পর স্বামী এথেকে নিষেধ করেন। এক্ষণে তার এ নির্দেশনা মেনে চলা কি আমার জন্য আবশ্যিক?


স্বামীর যেকোন ইসলামী আদেশ পালন করা অপরিহার্য। অন্যকে দাওয়াত দেওয়া ফরযে কেফায়া। আর স্বামীর আনুগত্য করা ফরযে আইন। অতএব স্বামীর অনুমতি সাপেক্ষে পর্দার বিধান মেনে দাওয়াতী কাজ করা উত্তম কাজ। মনে রাখতে হবে যে, ফেসবুক-টুইটারে কেবল মেয়েরাই দাওয়াত শুনে না, বরং পর পুরুষেরাও দাওয়াত পায়। যা তাদেরকে প্রলুব্ধ করতে পারে। সেকারণ বাসায় বসে পর্দার মধ্যে প্রতিবেশী মা-বোনদের মধ্যে দাওয়াতী কাজ করাই সর্বোত্তম। যেভাবে উম্মাহাতুল মুমিনীন করতেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘নারী হ’ল পর্দার বস্ত্ত। যখন সে বের হয় শয়তান তার দিকে চোখ তুলে তাকায়’ (তিরমিযী হা/১১৭৩; মিশকাত হা/৩১০৯)

Posted in ফেইসবুক-টুইটার ব্যবহার করে দাওয়াতী কাজ করা যাবে কি? | Tagged , ,

পালকপুত্র ওয়ারিছ হ’তে পারে কি? তাকে কতটুকু অছিয়ত করা যাবে?


পালকপুত্র নিজের পুত্র নয়। অতএব সে ওয়ারিছ হবে না (আনফাল ৭৫)। তবে পালক পিতা চাইলে সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত যে কাউকে অছিয়ত করতে পারেন (বুখারী হা/১২৯৫; মুসলিম হা/১৬২৮; মিশকাত হা/৩০৭১)

Posted in পালকপুত্র ওয়ারিছ হ’তে পারে কি? তাকে কতটুকু অছিয়ত করা যাবে? | Tagged , ,

যারা ছালাত পড়ে না, তাদের সালাম না দিলে গুনাহগার হ’তে হবে কি?


ইচ্ছাকৃতভাবে ছালাত তরককারী অথবা ছালাতের ফরযিয়াতকে অস্বীকারকারী ব্যক্তি কাফির ও জাহান্নামী। ঐ ব্যক্তি ইসলাম হ’তে বহিষ্কৃত। কিন্তু যে ব্যক্তি ঈমান রাখে, অথচ অলসতা ও ব্যস্ততার অজুহাতে ছালাত তরক করে কিংবা উদাসীনভাবে ছালাত আদায় করে ও তার প্রকৃত হেফাযত করে না, সে ব্যক্তি ফাসেক (বিস্তারিত দ্রঃ ‘ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ৩২-৩৫ পৃ.)। ফাসেক ব্যক্তিকে সালাম না দেওয়াই ছিল সালাফে ছালেহীনের রীতি। যেমন ছাহাবী জাবের (রাঃ) ফাসেক গভর্ণর হাজ্জাজ বিন ইউসুফকে সালাম দেননি (বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ হা/১০২৫)। তবে রাসূল (ছাঃ) বলেন, তুমি পরিচিত বা অপরিচিত সকলকে সালাম দাও’ (বুঃ মুঃ মিশকাত হা/৪৬২৯)। সে হিসাবে হেদায়াতের উদ্দেশ্যে ফাসেককে সালাম দেওয়া যেতে পারে।

Posted in ছালাত না পড়া ব্যাক্তিকে সালাম না দিলে গুনাহগার হ’তে হবে কি? | Tagged

অসুস্থতার কারণে আমি টানা ৩/৪ মাস ছালাত আদায় করতে পারিনি। এক্ষণে সুস্থতা লাভের পর আমাকে উক্ত ছালাত সমূহের ক্বাযা আদায় করতে হবে কি?


ক্বাযা আদায় করতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি ছালাতের কথা ভুলে যায় অথবা ছালাত না পড়ে ঘুমিয়ে যায়, তার কাফফারা হ’ল স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে সে যেন সেটি আদায় করে নেয়’। অন্য বর্ণনায় এসেছে, এটি ব্যতীত তার কোন কাফফারা নেই’ (বুখারী হা/৫৯৭; মুসলিম হা/৬৮৪ (৩১৪); মিশকাত হা/৬০৩)। ছাহাবী আম্মার (রাঃ) তিনদিন বেহুঁশ থাকার পর জাগ্রত হয়ে ক্বাযা ছালাতগুলো আদায় করে নিয়েছিলেন (আল-মুগনী ১/২৪০)। অজ্ঞান অবস্থা দীর্ঘায়িত হ’লে বা সে অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তওবা করুন বা না করুন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন। কারণ তিনি বলেছেন, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তোমাদের সাধ্য মত’ (তাগাবুন ৬৪/১৬)

Posted in ছালাত ৩/৪ মাস আদায় না করলে ক্বাযা আদায় করতে হবে কি? | Tagged ,

বয়স ও অসুস্থতার কারণে যদি কাতারের মধ্যখানে চেয়ার নিয়ে দাঁড়ান তবে চেয়ারটি পিছনের কাতারে চলে যাওয়ায় পিছনের মুছল্লীদের সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে তাদের জন্য করণীয় কি হবে? তারা কি কাতার সোজা রাখতে বসেই ছালাত আদায় করবেন, যাতে চেয়ার পিছনের কাতারে না ঠেলে দিতে হয়?


যারা দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করতে সক্ষম তারা দাঁড়িয়েই ছালাত আদায় করবে (ত্বোয়াহা ১৪)। বাধ্যগত অবস্থায় বসে বা শুয়ে ইশারায় ছালাত আদায় করবে (আলে ইমরান ১৯১; বুখারী হা/১১১৭; মিশকাত হা/১২৪৮; ছহীহাহ হা/৩২৩)। এক্ষেত্রে প্রথমত তারা কাতারের কোন প্রান্তে বা শেষে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। মুছল্লী সংকট হ’লে কাতারের সাথে মিলে দাঁড়াবে এবং চেয়ার পিছনে রাখবে। আর এক্ষেত্রে এমন মোড়া বা চেয়ার ব্যবহার করবে যা পেছনের মুছল্লীর জায়গা দখল না করে বা তাদেরকে কষ্ট না হয়। আর যদি দাঁড়াতে সক্ষম না হয় তাহ’লে চেয়ার বা মোড়া কাতারে রেখেই ছালাত শুরু করবে। এ সময় পায়ে পা নয় বরং কাঁধ বরাবর কাতার মিলানোই যথেষ্ট হবে অর্থাৎ চেয়ারের পেছনের পায়া মুছল্লীদের পা বরাবর রাখতে হবে (বিস্তারিত)

Posted in চেয়ারে বসে ছালাত আদায় | Tagged ,

সুন্নাত ছালাত আদায় করার সময় দেখা যায়, মুছল্লীরা সামনে দিয়ে যাতায়াত করে। এমন অবস্থায় সুৎরা রেখে অতিক্রম করলে শরী‘আত সম্মত হবে কি?


এমতাবস্থায় তার সিজদার স্থানের বাহির দিয়ে অতিক্রম করা যাবে (বুখারী হা/৪৯৬; মুসলিম হা/৫০৮; ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ‘সুৎরার বিবরণ’ অনুচ্ছেদ)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ কোন বস্ত্তকে সম্মুখে রেখে ছালাত আদায় করবে যা তাকে লোকদের থেকে সুৎরা বা পর্দা স্বরূপ হবে, এমতাবস্থায় তার সম্মুখ দিয়ে (সুৎরার মধ্য দিয়ে) যদি কেউ অতিক্রম করতে চায়, তাহ’লে সে যেন তাকে বাধা দেয়। কেননা সে শয়তান’ (বুঃমুঃ মিশকাত হা/৭৭৭ ‘ছালাত’ অধ্যায় ‘সুৎরা’ অনুচ্ছেদ। আজকাল বিভিন্ন মসজিদে সুৎরা বানিয়ে রাখা হয়। যা মুছল্লীর সামনে রেখে যাতায়াত করা হয়। এটি সামনে দিয়ে যাবার শামিল। শরী‘আতে এর কোন প্রমাণ নেই।

Posted in ছালাত আদায় করার সময় সুৎরা রেখে অতিক্রম করা যাবে কি? | Tagged

আমরা পাঁচ বোন ও এক ভাই। আববা ও আম্মা জীবিত আছে। আমরা কিছু সম্পত্তি নিয়ে বাকী সম্পত্তি আমার একমাত্র ভাইকে লিখে দিতে চাই। এরূপ করলে কি আমার পিতা-মাতা গুনাহগার হবেন?


যদি সকল সন্তানের সম্মতি থাকে, তবে কোন সন্তানকে পিতা অধিক সম্পদ লিখে দিতে পারেন। এতে পিতা গুনাহগার হবেন না (বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২০/৫০-৫৩)। তবে স্মর্তব্য যে, সম্পদ বণ্টনের বিধান হ’ল পিতার মৃত্যুর পর শরী‘আত মোতাবেক বণ্টন করা (নিসা ১১)। কেউ পূর্বে অন্যায়ভাবে বণ্টন করলে তা গৃহীত হবে না। এভাবে করলে উত্তরাধিকারীদের কর্তব্য হবে পুনরায় শরী‘আত মোতাবেক বণ্টন করে নেওয়া। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যদি কোন নারী বা পুরুষ ষাট বছর পর্যন্ত আল্লাহর ইবাদত করে, অতঃপর যখন তাদের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, তখন তারা অছিয়তের দ্বারা উত্তরাধিকারীদের ক্ষতি করে। এমতাবস্থায় তাদের উভয়ের জন্য জাহান্নামের আগুন অবধারিত হয়ে যায় (আবুদাঊদ হা/২৮৬৭; মিশকাত হা/৩০৭৫; যঈফুল জামে‘ হা/১৪৫৭, অত্র হাদীছটি আলবানী ও আরনাঊত্ব যঈফ বলেছেন। কিন্তু ইমাম তিরমিযী হাসান ছহীহ বলেছেন। সনদের দিক দিয়ে হাদীছটি ছহীহ না হ’লেও সমর্থক হাদীছ থাকায় এটি মর্মগতভাবে ছহীহ)

Posted in সম্পত্তি ভাইকে লিখে দিলে পিতা-মাতা গুনাহগার হবেন কি? | Tagged

এক ব্যক্তি বলেছেন, শনিবারে মাছ ধরা যাবে না। এই দিন মাছ ধরলে চেহারা বিকৃত হয়ে মৃত্যু ঘটবে। এটা কি ঠিক?


শনিবারসহ সপ্তাহের প্রতিদিন মাছ ধরা বা শিকার করা জায়েয। এ ব্যাপারে ইসলামী শরী‘আতে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে দাঊদ (আঃ)-এর যুগে বনু ইস্রাঈলদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ শনিবারে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল (আ‘রাফ ১৬৩)। তারা তা অমান্য করায় আল্লাহর হুকুমে তারা শুকর-বানরে পরিণত হয়ে ধ্বংস হয় (বাক্বারাহ ৬৫)। তাদের শরী‘আত উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য পালনীয় নয় (মায়েদাহ ৪৮)

Posted in শনিবারে মাছ ধরলে চেহারা বিকৃত হয়ে মৃত্যু ঘটবে কি? | Tagged ,

জিন কি মারা যায়? তাদের দাফন-কাফন কিভাবে হয়?


অন্যান্য সৃষ্টির ন্যায় জিনদেরও মৃত্যু হয় (আহক্বাফ ১৮; ক্বাছাছ ৮৮) এবং তাদেরকেও কবর থেকে পুনরুত্থান ঘটানো হবে (আন‘আম ১৩০; হূদ ১১৯)। তবে তারা কত বছর বাঁচে বা কিভাবে তাদের কাফন-দাফন করা হয় অথবা ইবলীসের মত তারাও ক্বিয়ামত পর্যন্ত জীবিত থাকবে কি-না এসব বিষয়ে আল্লাহই সর্বাধিক অবগত। এ ব্যাপারে কুরআন বা হাদীছে সরাসরি কোন কিছু বর্ণিত হয়নি।

Posted in জিন কি মারা যায়? তাদের দাফন-কাফন কিভাবে হয়? | Tagged ,

মৃত্যুর চল্লিশ দিনের মধ্যে পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টন করা যাবে না, মর্মে কোন হাদীছ আছে কি?


এরূপ কোন হাদীছ নেই। বরং যত দ্রুত সম্ভব মাইয়েতের সম্পত্তি বণ্টন করে নেওয়া ওয়াজিব। কেননা দেরী করলেই নানা ফিৎনা সৃষ্টি হ’তে পারে। তবে মাইয়েতের ঋণ ও অছিয়ত পূরণের জন্য অপেক্ষা করা যেতে পারে। তাছাড়া ওয়ারিছদের সম্মতি থাকলেও বণ্টনে অপেক্ষা করা যেতে পারে। কিন্তু সাধারণ অবস্থায় বণ্টনে দেরী করা ঠিক নয় (নিসা ১১)

Posted in সম্পত্তি মৃত্যুর চল্লিশ দিনের মধ্যে বণ্টন করা যাবে না কি? | Tagged

আমরা তিন বোন (একজন মৃত তবে তার সন্তান রয়েছে) ও তিন ভাই (একজন জীবিত, দুই জন মৃত তবে সন্তান রয়েছে) ও আমাদের মা জীবিত আছেন। আমাদের মা অসুস্থ থাকাকালীন আমাদের ছোট বোন ছোট ভাইয়ের সহযোগিতায় লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পত্তি লিখে নিয়েছে। এক্ষেত্রে কারা কারা দায়ী হবে এবং মাকে দায়মুক্ত করতে করণীয় কী?


এক্ষেত্রে মা, ছোট বোন ও সহযোগিতাকারী ভাই দায়ী হবে। অন্য ওয়ারিছদের বঞ্চিত করে যুলুম করার কারণে ক্বিয়ামতের দিন তারা কঠিন জবাবদিহিতার মুখোমুখি হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কারো এক বিঘত যমীন জোর করে দখল করে, ক্বিয়ামতের দিন তার গলায় সাত তবক যমীন বেড়ী পরানো হবে (বুখারী হা/২৪৫৪; মিশকাত হা/২৯৫৮)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো জমি দখল করে, তাকে আল্লাহ হাশরের ময়দানে উক্ত মাটি মাথায় করে বহন করতে বাধ্য করবেন (আহমাদ, মিশকাত হা/২৯৫৯; ছহীহাহ হা/২৪২)। এক্ষণে দায়ী তিনজনকে দায়মুক্ত করতে হ’লে অনতিবিলম্বে অন্যায়ভাবে গৃহীত সম্পত্তি শরী‘আতের বিধান অনুযায়ী সকল ওয়ারিছের মধ্যে ন্যায়ানুগভাবে বণ্টন করে দিতে হবে এবং কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইতে হবে। নতুবা তাদের জন্য কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে।

Posted in সম্পত্তি মা অন্যায় ভাবে লিখে দিলে মাকে দায়মুক্ত করতে করণীয় কী? | Tagged

হাদীছের বর্ণনা মোতাবেক পুরাতন কুরআন পুড়িয়ে ফেললে সমাজে বিভ্রান্তি তৈরী হয়। এমনকি ভুল বোঝাবুঝির কারণে হানাহানি পর্যন্ত হয়ে যায়। এ ব্যাপারে করণীয় কি?


যদি পুড়িয়ে ফেলার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে তা মানুষের পথচলার স্থান থেকে দূরে কোন পবিত্র স্থানে পুঁতে ফেলতে হবে অথবা পুড়িয়ে ফেলতে হবে (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ১২/৫৯৯; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৪/১৩৮)। হযরত ওছমান (রাঃ) কুরায়শী মুছহাফ রেখে বাকীগুলি পুড়িয়ে ফেলেছিলেন (বুখারী হা/৪৯৮৭; মিশকাত হা/২২২১)

Posted in কুরআন (পুরাতন) পুড়িয়ে ফেললে সমাজে বিভ্রান্তি তৈরী হলে করণীয় কি? | Tagged

হাজীগণ কখন হালাল হয়ে যান?


হাজীগণ তখনই পূর্ণ হালাল হবেন যখন তাওয়াফে ইফাযাহ সম্পন্ন করবেন ও যাদের সাঈ বাকী রয়েছে তা সম্পন্ন করবেন (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১১/৩৪৯; দ্র. ‘হজ্জ ও ওমরাহ’ বই ‘বিদায়ী ত্বাওয়াফ’ অনুচ্ছেদ)। উল্লেখ্য যে, জামরায়ে আক্বাবায় পাথর নিক্ষেপ, মাথা মুন্ডন এবং তামাত্তু‘ ও কেরানকারী হাজীগণ কুরবানীর পরই সাধারণভাবে হালাল হয়ে যান। তবে এই হালালে হাজীগণ স্ত্রী মিলন করতে পারবেন না, যতক্ষণ না তারা তাওয়াফে ইফাযাহ ও সংশ্লিষ্ট কার্যাবলী সম্পাদনের মাধ্যমে পূর্ণ হালাল হবেন (দ্র. ‘হজ্জ ও ওমরাহ’ বই ‘মিনায় প্রত্যাবর্তন’ অনুচ্ছেদ)

Posted in হাজীগণ কখন হালাল হয়ে যান? | Tagged ,