শিশুদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক সময় মিথ্যা কথা বলা হয়। যেমন ‘ঘুমাও, নইলে বাঘে খাবে’ অথবা খাও তাহ’লে বেড়াতে নিয়ে যাব প্রভৃতি। এরূপ মিথ্যা বলা যাবে কি?


বাচ্চাকে থামানোর নিয়তে এসব বলায় কোন দোষ নেই। যেমন অনর্থক বা সংকল্পহীন কসমের কোন কাফফারা নেই (বাক্বারাহ ২/২২৫; আবুদাঊদ হা/৩২৫৪, মিশকাত হা/৩৪১৭, ঐ মিরক্বাত)। তবে যদি মনের সংকল্প অনুযায়ী হয় এবং সত্যিকারের ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে হয়, তবে তা মিথ্যা ও পাপ হিসাবে গণ্য হবে। আব্দুল্লাহ বিন আমের (রাঃ) বলেন, ‘একদা আমার মা আমাকে ডাকলেন। নবী করীম (ছাঃ) সে  সময়ে আমাদের বাড়ীতে ছিলেন। তিনি ডাকার সময় বললেন, ‘বাবা! এদিকে এসো, তোমাকে একটি জিনিস দিব’। তখন রাসূল (ছাঃ) তাকে (ইবনে আমেরের মা) বললেন, ‘তুমি কিছু দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ডাকনি’? উত্তরে তিনি বললেন, ‘আমি ওকে খেজুর দিব’। অতঃপর রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘সাবধান! যদি তুমি তাকে কিছু না দিতে তাহ’লে এ কারণে তোমার আমলনামায় একটি মিথ্যার পাপ লিপিবদ্ধ হ’ত’ (আবুদাঊদ হা/৪৯৯১; মিশকাত হা/৪৮৮২; ছহীহাহ হা/৭৪৮)। অন্য বর্ণনায় এসেছে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কেউ যদি কোন শিশুকে বলে, ‘এসো এটা নাও’। অতঃপর তা না দেয়, তাহ’লে তা মিথ্যাচার হিসাবে গণ্য হবে’ (আহমাদ হা/৯৮৩৫; ছহীহুত তারগীব হা/২৯৪২)

Advertisements
Posted in শিশুদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনতে মিথ্যা কথা বলা যাবে কি? | Tagged ,

রুকূ অবস্থায় মুছল্লীর দৃষ্টি কোন দিকে থাকবে?


তাশাহহুদ ব্যতীত ছালাতের অন্য সময়ে দৃষ্টি সিজদার স্থানে রাখবে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) যখন কা‘বা ঘরে ঢুকে ছালাত আদায় করলেন, তখন তাঁর দৃষ্টি ছালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত সিজদার স্থান থেকে সরেনি    (হাকেম হা/১৭৬১; ছহীহ ইবনু খুযায়মা হা/৩০১২; ছিফাতু ছালাতিন নবী (ছাঃ) ১/৬৯)। অন্যত্র তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) যখন রুকূ করতেন, মাথা উপরেও করতেন না এবং নীচুও করতেন না। বরং তার মাঝামাঝি রাখতেন (মুসলিম হা/৪৯৮, মিশকাত হা/৭৯১)

Posted in রুকূ অবস্থায় মুছল্লীর দৃষ্টি কোন দিকে থাকবে? | Tagged ,

আগাম জান্নাত পাওয়ার সুসংবাদ পাওয়ার পর আলী (রাঃ) ছালাত পরিত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। কেননা জান্নাতে ছালাতের কোন প্রয়োজন থাকবে না। কিন্তু ছালাতের সময় তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না। অতঃপর পথিমধ্যে লোহার আঘাতে তার পিঠে রক্তপাত হ’ল। এরূপ কাহিনীর কোন সত্যতা আছে কি?


এ মর্মে কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। তাছাড়া ছালাত পরিত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন- এমন গর্হিত বক্তব্যই কাহিনীটি বানোয়াট হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

Posted in জান্নাত পাওয়ার সুসংবাদ পাওয়ার পর আলী (রাঃ) ছালাত পরিত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন ক | Tagged

বর্তমানে বেশী লাভের উদ্দেশ্যে আখের গুড়ে ব্যাপকভাবে চিনি মিশানো হচ্ছে। অন্যদিকে পিওর গুড় বানাতে গেলে বাজারে টেকা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষণে বাধ্যগত অবস্থায় কিছুটা চিনি মিশানো যাবে কি?


এমতাবস্থায় ক্রেতাকে পরিষ্কারভাবে চিনি মিশ্রণের বিষয়টি জানাতে হবে। নচেৎ তা প্রতারণা হিসাবে গণ্য হবে, যা হারাম। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একদিন একটি খাদ্যস্তূপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময় তিনি তার মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিলে তাঁর হাত ভিজে গেল। তিনি বিক্রেতাকে কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলল, বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। রাসূল (ছাঃ) তাকে বললেন, তাহ’লে তুমি কেন ভেজা অংশটি উপরে রাখলে না? মনে রেখ, যে প্রতারণা করে, সে আমার দলভুক্ত নয়’ (মুসলিম হা/১০২; মিশকাত হা/৩৫২০)

Posted in আখের গুড়ে চিনি মিশানো যাবে কি? | Tagged

আয়াতুল কুরসী পাঠ করে বুকে হাত বুলানো যাবে কি?


এ মর্মে কোন দলীল নেই। বদরুদ্দীন আয়নী হানাফী ইমাম বুখারী বর্ণিত একটি হাদীছ (বুখারী, হা/৫৭৪৭)-এর উপর কিয়াস করে যেকোন দো‘আ পাঠ করে শরীরে হাত বুলানোকে জায়েয বলেছেন (উমদাতুল ক্বারী শরহ বুখারী ২১/২৭০), যা গ্রহণযোগ্য নয়। বরং এক্ষেত্রে শরী‘আত নির্দেশিত আমল করাই যথেষ্ট হবে। যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয ছালাতের পর ‘আয়াতুল কুরসী’ পাঠ করবে মৃত্যু ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করতে তার কোনই বাধা থাকে না’ (নাসাঈ কুবরা হা/৯৯২৮; মিশকাত হা/৯৭৪; ছহীহাহ হা/৯৭২)। এছাড়া শয়নকালে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত তার হেফাযতের জন্য একজন ফেরেশতা পাহারায় নিযুক্ত থাকে। যাতে শয়তান তার নিকটবর্তী হ’তে না পারে’ (বুখারী হা/৩২৭৫; মিশকাত হা/২১২৩)

Posted in আয়াতুল কুরসী পাঠ করে বুকে হাত বুলানো যাবে কি? | Tagged

অসুস্থতার কারণে তায়াম্মুম করলে পুরোপুরি পবিত্রতা অর্জন হয় কি? এর মাধ্যমে ছালাত-ছিয়াম আদায় ও কুরআন স্পর্শ করে পাঠ করা যাবে কি?


করা যাবে। ওযূর মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করে যে সকল কাজ করা যাবে, তায়াম্মুম করেও সে সকল কাজ করা যাবে। আল্লাহ বলেন, ‘আর যদি পানি না পাও, তাহ’লে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম কর’ (নিসা ৪/৪৩)। অত্র আয়াতে আল্লাহ্ পানির বিকল্প হিসাবে পবিত্র মাটির কথা উল্লেখ করেছেন।

রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘নিশ্চয়ই পবিত্র মাটি মুসলমানদের জন্য ওযূর মাধ্যম স্বরূপ। যদিও সে ১০ বছর পর্যন্ত পানি না পায়’ (আবুদাঊদ হা/৩৩২; মিশকাত হা/৫৩০)। রাসূল (ছাঃ) এক ব্যক্তিকে লোকদের সঙ্গে ছালাত আদায় না করে আলাদা থাকতে দেখে বললেন, হে অমুক! লোকদের সঙ্গে ছালাত আদায় করতে কিসে তোমায় বাধা দিল? সে ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অপবিত্র (সহবাস বা স্বপদোষের কারণে) অবস্থায় আছি, অথচ পানি পাইনি। তিনি বললেন, তুমি মাটি ব্যবহার কর, তা-ই তোমার জন্য যথেষ্ট (বুখারী হা/৩৪৮; মিশকাত হা/৫২৭; বিস্তারিত)

Posted in তায়াম্মুম অসুস্থতার কারণে করলে পুরোপুরি পবিত্রতা অর্জন হয় কি?, তায়াম্মুম মাধ্যমে ছালাত-ছিয়াম আদায় ও কুরআন পাঠ করা যাবে কি? | Tagged , ,

আমরা ৫ বোন ১ ভাই। পিতা ভাইয়ের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ ডিপিএস, ব্যাংক ব্যালান্সের নমিনী এবং সমুদয় জমিজমা ভাইয়ের নামে লিখে দিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ভাই এখন সেগুলির ভাগ অন্য কাউকে দিতে অস্বীকার করছে। এক্ষণে এরূপ অন্যায় কর্মের জন্য পিতা না ভাই দায়ী হবেন?


ওয়ারিছগণ কে কতটুকু পাবে তা স্বয়ং আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন (নিসা ৪/৭, ১১)। সুতরাং বণ্টনের ক্ষেত্রে উক্ত নীতির ভিত্তিতেই ভাগ করতে হবে। এক্ষেত্রে কোন কমবেশী করা নিঃসন্দেহে কাবীরা গুনাহ এবং তা হক বিনষ্টের শামিল। প্রশ্ন অনুযায়ী পিতা ও ভাই উভয়ে দায়ী হবে। বান্দার হক বিনষ্টের পরিণাম সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কারো এক বিঘত পরিমাণ যমীন যুলুম করে নেয়, ক্বিয়ামতের দিন তার গলায় সাত তবক যমীন বেড়ী পরানো হবে’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৯৩৮)। অন্য হাদীছে এসেছে, ক্বিয়ামতের দিন ঐ মাটির বোঝা তার গর্দানে চাপিয়ে দেওয়া হবে’ (আহমাদ, ছহীহাহ হা/২৪২)

এক্ষণে নিজেকে ও পিতাকে বাঁচানোর জন্য উক্ত সম্পদ এককভাবে ভোগকারী ভাইয়ের কর্তব্য হবে শরী‘আত সম্মতভাবে পুরো সম্পদ হকদারদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া এবং পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। এর ফলে পিতার উক্ত গোনাহ ক্ষমা হবে ইনশাআল্লাহ (সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৫৯৮; মিশকাত হা/২৩৫৪; মির‘আত ৮/৬১)

Posted in জমিজমা ভাইয়ের নামে লিখে দিলে এই অন্যায় কর্মের জন্য কে দায়ী হবেন? | Tagged , ,

ছহীহ ইবনু হিববান এবং ছহীহ ইবনু খুযায়মার সকল হাদীছ কি ছহীহ?


ছহীহায়েনের পর বিশেষভাবে ছহীহ হাদীছ সংকলনের জন্য স্বতন্ত্র দু’টি গ্রন্থ হ’ল ছহীহ ইবনু খুযায়মা (পূর্ণ নাম- مختصر المختصر من المسند الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم) এবং ছহীহ ইবনে হিববান (পূর্ণ নাম : المسند الصحيح على التقاسيم والأنواع)। তবে এই গ্রন্থদ্বয়ের সকল হাদীছ ছহীহ নয়। বরং কিছু হাদীছ যঈফ ও জাল রয়েছে। ভাষ্যকার ড. মুহাম্মাদ মুছতফা আ‘যমী বলেন, ছহীহ ইবনু খুযায়মা ছহীহায়েনের মত নয় যে এর ব্যাপারে বলা যাবে এর সকল হাদীছই ছহীহ। বরং সেখানে ছহীহ পর্যায়ভুক্ত নয় এরূপ হাদীছও রয়েছে। কেবল ছহীহ বা হাসানই নয়। বরং যঈফ হাদীছও রয়েছে। তবে তা এ গ্রন্থে উল্লেখিত ছহীহ ও হাসান হাদীছের তুলনায় খুব কম। আর জাল এবং অতি দুর্বল হাদীছের সংখ্যাও প্রায় বিরল (তাহকীক ইবনু খুযায়মা ১/২২)। ইমাম সুয়ূতী  বলেন, ছহীহ ইবনু খুযায়মাহ বিশুদ্ধতার দিক থেকে ইবনু হিববানের চেয়ে অগ্রগণ্য। কেননা তিনি অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করেছেন এবং সনদের ব্যাপারে সামান্য আপত্তি পেলেই তাকে ছহীহ বলা থেকে বিরত থেকেছেন (তাদরীবুর রাবী ১/১১৫)। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ গ্রন্থের বৃহত্তর অংশই হারিয়ে গেছে। আহমাদ শাকের, আলবানী, শু‘আইব আরনাঊত, ড. মুছত্বফা আ‘যমী প্রমুখ মুহাদ্দিছ উক্ত গ্রন্থদ্বয়ের তাহকীক সম্পন্ন করেছেন এবং ছহীহ ও যঈফ হাদীছসমূহ বাছাই করেছেন।

Posted in ছহীহ ইবনু হিববান এবং ছহীহ ইবনু খুযায়মার সকল হাদীছ কি ছহীহ? | Tagged ,

নিম্নাঙ্গে হাত লাগলে ওযূ ভঙ্গ হয়ে যায় কি? গোসলের সময় ওযুর পর লজ্জাস্থানে হাত পড়লে কি পুনরায় ওযূ করতে হবে?


সাধারণভাবে লজ্জাস্থানে স্পর্শে ওযূ ও ছালাত নষ্ট হয় না (আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৩২০)। যে সকল হাদীছে লজ্জাস্থান স্পর্শে ওযূ নষ্ট হবে বা ওযূ করতে হবে বলা হয়েছে (আহমাদ, ইরওয়া হা/১১৬, ১১৭; ছহীহ ইবনু হিববান হা/১১১৮, ছহীহুল জামে‘ হা/৩৬৩, মিশকাত হা/৩৯০), তার ব্যাখ্যা হ’ল, উত্তেজনার সাথে স্পর্শ করা (টীকা দ্রঃ মিশকাত হা/৩২০; উছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ ১/২৮৪ পৃঃ, আলবানী, তামামুল মিন্নাহ ১০৩ পৃ.)। সুতরাং সাধারণ স্পর্শে ওযূ ভঙ্গ হবে না এবং পুনরায় ওযূ করতে হবে না।

Posted in গোসলের সময় ওযুর পর লজ্জাস্থানে হাত পড়লে কি পুনরায় ওযূ করতে হবে?, নিম্নাঙ্গে হাত লাগলে ওযূ ভঙ্গ হয়ে যায় কি? | Tagged

আমরা জানি মূর্তি বানানো হারাম। এক্ষণে বর্তমানে যে রোবট বানানো হচ্ছে, এটা মূর্তি তৈরীর নামান্তর হবে কি?


যদি রোবট হুবহু প্রাণীর আকৃতি বিশিষ্ট হয়, তাহ’লে তা মূর্তি হিসাবে গণ্য হবে, যা তৈরী করা হারাম। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, যারা ছবি/মূর্তি তৈরী করে, তারা ক্বিয়ামতের দিন কঠিন আযাবপ্রাপ্ত হবে। তাদেরকে বলা হবে তোমরা যা সৃষ্টি করেছিলে তা জীবিত কর’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৪৯২ ‘পোষাক’ অধ্যায়, ‘ছবি সমূহ’ অনুচ্ছেদ)। তবে সরাসরি প্রাণীর আকৃতি বিশিষ্ট না হ’লে কোন দোষ নেই (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২/২৭৮-২৭৯; আল-মাওসূআ‘তুল ফিক্বহিইয়াহ ৭/৮)

Posted in রোবট বানানো হারাম কি? | Tagged ,

তিন ছেলে-মেয়ে থাকা অবস্থায় জনৈক ব্যক্তি স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই ২য় বিবাহ করেছে। এটা শরী‘আতসম্মত হয়েছে কি? এক্ষণে প্রথমা স্ত্রী ও তার সন্তানরা দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিতে পিতাকে বাধ্য করতে পারবে কি?


শারঈ দৃষ্টিতে স্বামীর দ্বিতীয় বিবাহের জন্য পূর্ব স্ত্রীর অনুমতি গ্রহণ আবশ্যক নয়। আল্লাহ তা‘আলা মুসলিম পুরুষকে চারজন পর্যন্ত স্ত্রী রাখার অনুমতি দিয়েছেন (নিসা ৪/৩)। তবে বিবাহ করার চেয়ে স্ত্রীদের মাঝে ইনছাফ করার বিষয়টি বেশী যরূরী ও কঠিন। এজন্য একাধিক বিবাহের অনুমতি থাকলেও সে ব্যাপারে ইসলাম যথেষ্ট শর্তারোপ করেছে। নবী করীম (ছাঃ) বলেন, ‘কারো নিকট যদি দু’জন স্ত্রী থাকে আর সে তাদের মাঝে ইনছাফ না করে, তাহ’লে সে ক্বিয়ামতের দিন এক অঙ্গ পতিত অবস্থায় উঠবে’ (নাসাঈ, মিশকাত হা/৩২৩৬)। অতএব পারিবারিক শান্তি ও শৃংখলা বজায় রাখার স্বার্থে পূর্ব স্ত্রীর সম্মতি গ্রহণ করা উত্তম। আর স্বামীকে দ্বিতীয় স্ত্রী তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধ্য করা বৈধ হবে না।

Posted in ছেলে-মেয়ে থাকা অবস্থায় স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই ২য় বিবাহ করা শরী‘আতসম্মত কি? | Tagged ,

হাদীছে বর্ণিত ‘নারদাশীর’ খেলা দ্বারা নববী যুগে এবং বর্তমান যুগে কোন খেলাকে বুঝানো হয়েছে?


নারদাশীর’ অনারব শব্দ। যা প্রাচীন পারস্য ও শামের লোকেরা আবিষ্কার করে। নারদাশীর বলতে সে সকল খেলাকে বুঝায় যাতে কাঠ, হাড় বা প্লাস্টিকের তৈরী বাক্স কিংবা চৌকো (dice) রয়েছে। যেমন পাশা, লুডু, দাবা, শতরঞ্জ প্রভৃতি, যা মূলতঃ ভাগ্য ও অনুমাননির্ভর (লিসানুল ‘আরাব ৩/৪২১; আল-মু‘জামুল ওয়াসীত্ব ২/৯১২)। এসব খেলার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে, যা সবই হারাম। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নারদাশীর খেলায় অংশগ্রহণ করল, সে নিজের হস্ত শূকরের রক্তে রঞ্জিত করল’ (মুসলিম হা/২২৬০; মিশকাত হা/৪৫০০)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘যে ব্যক্তি নারদাশীর খেলল, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করল’ (আবুদাউদ হা/৪৯৩৮; মিশকাত হা/৪৫০৫)। একদা আলী (রাঃ) একদল ব্যক্তিকে শতরঞ্জ খেলতে দেখে বললেন, এসব মূর্তি নিয়ে তোমরা মত্ত হয়ে উঠেছ কেন? (মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা হা/২৬৬৮২; বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৬০৯৭, সনদ হাসান; ইবনু হাযম, মুহাল্লা ৬/৬৩)

আবুল ওয়ালীদ আল-বাজী এই নিষেধাজ্ঞার কারণ সম্পর্কে বলেন, এসব খেলা মানুষকে প্রায়শই আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল রাখে। এতে দ্বীন ও দুনিয়ার কোন উপকারিতা নেই; বরং এর পরিণামে মানুষ জুয়া খেলা, মিথ্যা শপথ এবং ছালাত পরিত্যাগে অভ্যস্ত হয় (আল-মুনতাক্বা শারহুল মুওয়াত্ত্বা ৭/২৭৮)। বর্তমান যুগে তাস, ক্যাসিনো, ব্রীজ প্রভৃতি খেলাও একই পর্যায়ভুক্ত। টাকার হারজিত না থাকলেও এসব খেলা পরিত্যাজ্য। কেননা এগুলোর প্রকৃতি ও কুফল একই। সুতরাং ঈমানদারের জন্য এ জাতীয় সময় অপচয়কারী এবং আল্লাহ থেকে বিমুখকারী খেলা হ’তে বিরত থাকা আবশ্যক (শাওকানী, নায়লুল আওত্বার ‘জুয়া ও নারদাশীর খেলা হারাম’ অনুচ্ছেদ ৮/১০৮)

Posted in নারদাশীর’ খেলা দ্বারা নববী যুগে এবং বর্তমান যুগে কোন খেলাকে বুঝানো হয়েছে? | Tagged

ফাসেক-ফাজের হওয়া সত্ত্বেও বিত্তবান হওয়ায় কাউকে মসজিদ কমিটির সভাপতি বা সদস্য বানানোয় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?


ফাসেক-ফাজের লোকদের ইমাম, নেতা বা মসজিদের সভাপতি বানানো ঊচিৎ নয়। আল্লাহ বলেন, আল্লাহর মসজিদ সমূহ কেবল তারাই আবাদ করে, যারা আল্লাহ ও বিচার দিবসের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে। যারা ছালাত কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ভয় করে না। নিশ্চয়ই তারা সুপথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (তওবাহ ৯/১৮)। জনৈক ইমাম মসজিদে কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করলে পরবর্তীতে রাসূল (ছাঃ) তাকে ইমামতি করতে দেননি (আবুদাউদ হা/৪৮১; মিশকাত হা/৭৪৭; ছহীহুত তারগীব হা/২৮৮)। যা প্রমাণ করে যে, ফাসেক লোকদের নেতা বানানো সমীচীন নয় (ইবনু তায়মিয়া, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৩/৩৫৬)। তবে ফাসেক-ফাজের লোক যদি ক্ষমতা বলে নেতা হয়ে যায়, তাহ’লে শরী‘আতসম্মত কাজে তাদের আনুগত্য করা যাবে। যেমনভাবে ইবনু ওমর (রাঃ) হাজ্জাজ বিন ইউসুফের নেতৃত্ব মেনে নিয়েছিলেন এবং তার পিছনে ছালাত আদায় করেছিলেন (নববী, আল-মাজমূ‘ ৪/২৫৩)

Posted in ফাসেক-ফাজের হওয়া সত্ত্বেও বিত্তবান হওয়ায় মসজিদ কমিটির সভাপতি বানানোয় যাবে | Tagged

‘আহলেহাদীছদের স্বভাব হবে এই যে, তারা কোন কাজের ক্ষেত্রে বলবে রাসূল (ছাঃ) বলেছেন তাই এই কাজটি করো, রাসূল (ছাঃ) এভাবে করতেন তাই এভাবে করো’। উপরোক্ত কথাটি কি হাদীছ না কোন মনীষীর উক্তি?


উপরোক্ত বর্ণনাটি রাসূলের নয় বরং ইমাম বুখারী ও মুসলিমের উস্তাদ ইবরাহীম বিন মূসা (রহঃ)-এর। রাসূল (ছাঃ) একটি হাদীছে বলেন, শেষ যামানায় আমার উম্মতের মধ্যকার একটি দলকে পূর্ববর্তীদের ন্যায় ছওয়াব প্রদান করা হবে। তারা অসৎকাজে নিষেধ করবে এবং ফিৎনাবাজদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে (আহমাদ, মিশকাত হা/৬২৮০; ছহীহাহ হা/১৭০০)। তখন ইবরাহীম বিন মূসাকে জিজ্ঞেস করা হ’ল তারা কারা? তিনি বললেন, ‘তারা আহলেহাদীছ। তারা বলে, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, এটি কর। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, এটি করো না (অর্থাৎ তারা মানুষকে রাসূল (ছাঃ)-এর আদিষ্ট পথে চলার জন্য আহবান জানাবে)’ (সুয়ূতী, মিফতাহুল জান্নাহ, পৃ. ৬৮)

Posted in কোন কাজের ক্ষেত্রে বলবে রাসূল (ছাঃ) বলেছেন তাই এই কাজটি করো | Tagged

জনৈক আলেম বলেন, রাসূল (ছাঃ) প্রথম জীবনে ১ম রাক‘আত থেকে উঠার সময় জালসায়ে ইস্তিরাহাত না করে সরাসরি দাঁড়িয়ে যেতেন। কিন্তু জীবনের শেষভাগে বয়স বৃদ্ধির কারণে তা করতেন। একথার সত্যতা আছে কি?


কতিপয় প্রাচীন ও সমকালীন বিদ্বান এমন মন্তব্য করেছেন (মুগনী ১/৩৮১; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৩/৩৮৩)। তবে সরাসরি এ মর্মে কোন বর্ণনা নেই। বরং ছাহাবীগণ বলেন, ‘ছালাতের মধ্যে যখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বেজোড় রাক‘আতে পৌঁছতেন, তখন দাঁড়াতেন না যতক্ষণ না সুস্থির হয়ে বসতেন’ (বুখারী হা/৮২৩; মিশকাত হা/৭৯৬, অনুচ্ছেদ-১০; নায়ল ৩/১৩৮)। ইসহাক্ব বিন রাহ্ওয়াইহ বলেন, যুবক হৌক বা বৃদ্ধ হেŠক রাসূল (ছাঃ) থেকে এ সুন্নাত জারী আছে যে, তিনি প্রথমে মাটিতে দু’হাতে ভর দিতেন। অতঃপর দাঁড়াতেন। দশজন ছাহাবী কর্তৃক প্রত্যক্ষভাবে সত্যায়ন প্রাপ্ত আবু হুমায়েদ সা‘এদী (রাঃ) প্রদর্শিত ছালাতের প্রসিদ্ধ হাদীছেও এর স্পষ্ট দলীল রয়েছে (বুখারী, ছিফাতু ছালাতিন্নবী, পৃঃ ১৩৬-৩৭ টীকা; তিরমিযী, আবুদাঊদ হা/৭৩০; নাসাঈ, মিশকাত হা/৮০১; ইরওয়া হা/৩০৫, ৩৬২; ২/১৩, ৮২-৮৩ পৃঃ)

এছাড়া ‘হাতের উপরে ভর না দিয়ে তীরের মত সোজা দাঁড়িয়ে যেতেন’ বলে ‘ত্বাবারাণী কাবীরে’ বর্ণিত হাদীছটি ‘মওযূ’ বা জাল এবং উক্ত মর্মে বর্ণিত সকল হাদীছই ‘যঈফ’ (ছিফাত, ১৩৭ পৃঃ; সিলসিলা যঈফাহ হা/৫৬২, ৯২৯, ৯৬৭)

Posted in রাসূল (ছাঃ) ১ম রাক‘আত থেকে উঠার সময় জালসায়ে ইস্তিরাহাত কিভাবে করতেন? | Tagged

শাড়ি, সালোয়ার-ক্বামীছ ইত্যাদি পোষাক পরা যাবে কি?


শালীনভাবে পূর্ণ পর্দার মধ্যে এসব পোষাক পরিধানে কোন বাধা নেই। আল্লাহ বলেন, ‘হে আদম সন্তান! আমরা তোমাদের উপর পোষাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবতীর্ণ করেছি বেশভূষার উপকরণ সমূহ। তবে আল্লাহভীতির পোষাকই সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর নিদর্শন সমূহের অন্যতম। যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে’(আ‘রাফ ৭/২৬)। মূলতঃ অশালীন ও যৌন উদ্দীপক যেকোন পোষাক পরিধান করা হারাম (মুসলিম হা/২১২৮, মিশকাত হা/৩৫২৪)। নারী-পুরুষের পোষাক এমন হবে যাতে নিম্নোক্ত চারটি মূলনীতি থাকবে। (১) দেহের গোপনীয় স্থান সমূহ অন্যের চোখে প্রকট না হওয়া (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৫২৪)। (২) ঢিলাঢালা, ভদ্র ও মার্জিত হওয়া (আ‘রাফ ৭/২৬; মুসলিম, মিশকাত হা/৫১০৮)। (৩) অমুসলিমদের সদৃশ না হওয়া (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৩৪৭)। (৪) অহংকার প্রকাশ না পাওয়া (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৪৩১১-১৪, ৪৩২১; নাসাঈ, ইবনু মাজাহ হা/৪৩৮১; বিস্তারিত)

Posted in শাড়ি; সালোয়ার-ক্বামীছ ইত্যাদি পোষাক পরা যাবে কি?

শরী‘আতে তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবা নারীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব কার? বিশেষত পিতা-মাতার অবর্তমানে সে কারু নিকটে ভরণ-পোষণের খরচ পাওয়ার অধিকার রাখে কি?


তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবা নারীর ভরণ-পোষণ ও তত্ত্বাবধানের প্রধান দায়িত্ব তার সন্তানদের। অতঃপর তার ভাইদের। অতঃপর সর্বাধিক নিকটবর্তী আত্মীয়গণ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদের সন্তানগণ তোমাদের পবিত্রতম উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত। অতএব তোমরা তোমাদের সন্তানদের উপার্জন থেকে ভক্ষণ কর’ (আবুদাঊদ হা/৩৫৩০, মিশকাত হা/৩৩৫৪)। এছাড়া নিকটতম রক্তসম্পর্কীয়দের মধ্যে ভাইয়ের গুরুত্ব সর্বাধিক। জাবের (রাঃ) তার ছোট বোনদের দেখাশুনার জন্য একজন তালাকপ্রাপ্তা মহিলাকে বিবাহ করলে রাসূল (ছাঃ) তার প্রশংসা করেন (বুখারী হা/৬৩৮৭; মুসলিম হা/৭০১৫; মিশকাত হা/৩০৮৮)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যার তিনটি মেয়ে বা তিনটি বোন থাকে অথবা দু’টি মেয়ে বা দু’টি বোন থাকে। আর সে যদি তাদের সাথে সব সময় সদাচরণ করে এবং তাদের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করে, তবে তার জন্য রয়েছে জান্নাত (আহমাদ হা/১২৬১৫; ছহীহাহ হা/২৯৫)। রাসূল (ছাঃ) বোনের মানত ভাই পূরণ করবে মর্মে নির্দেশনা দিয়েছেন (নাসাঈ হা/২৬৩২; আহমাদ হা/২১৪০)। তবে ভাই বা রক্তসম্পর্কিত  নিকটাত্মীয় না থাকলে সমাজ বা সরকার তাদের দায়িত্ব বহন করবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যদি তারা ঝগড়া করে, তাহ’লে সরকার ঐ ব্যক্তির অভিভাবক হবে, যার কোন অভিভাবক নেই’ (আবুদাঊদ হা/২০৮৩; মিশকাত হা/৩১৩১)

Posted in তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবা নারীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব কার? | Tagged , ,

৭৮৬-এর শারঈ ভিত্তি কী?


এর কোন শারঈ কোন ভিত্তি নেই। আরবী হরফসমূহের আবজাদী তথা সংখ্যাতাত্ত্বিক গণনা পদ্ধতিতে ‘বিসমিল্লাহ্’-এর ১৯টি হরফের মান যোগ করে ৭৮৬ বানানো হয়েছে। যেমন- আলিফে ১, বা-তে ২, জীমে ৩, দালে ৪, মীমে ৪০, নূনে ৫০, গাইনে ১০০০ ইত্যাদি। এভাবে ৭৮৬ সংখ্যা দিয়ে ‘বিসমিল্লাহ’ লেখা জায়েয নয়। কেননা ‘বিসমিল্লাহ’ কুরআনের আয়াতাংশ (নমল ৩০) এবং আল্লাহ প্রদত্ত একটি ইবাদতের শব্দ। আল্লাহর সাহায্য কামনা করে সকল শুভ কাজে ‘বিসমিল্লাহ’ ব্যবহার করা অন্যতম ইবাদত। সুতরাং ‘বিসমিল্লাহ্’-র পরিবর্তে ৭৮৬ ব্যবহার করলে তা ইবাদত হিসাবে গণ্য হবে না এবং তাতে কোন নেকী হবে না।

যদি বলা হয়, এর দ্বারা ‘বিসমিল্লাহ’-কে যত্রতত্র অমর্যাদাকর ব্যবহার থেকে রক্ষা করা যায়, সেটি ভুল হবে। বরং ‘বিসমিল্লাহ’ বলেই এর মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। অস্পষ্ট সংকেতে উচ্চারণে বরং এর প্রতি অসম্মান করা হবে।

Posted in ৭৮৬-এর শারঈ ভিত্তি কী? | Tagged ,

আমাদের এলাকায় খুৎবার পূর্বে একজন বাংলায় বয়ান করেন। অতঃপর খত্বীব ছাহেব কেবল আরবী খুৎবা পাঠ করেন। এটি শরী‘আতসম্মত হবে কি?


জুম‘আর খুৎবা মুছল্লীদের মাতৃভাষা বা তাদের বোধগম্য ভাষায় হ’তে হবে। যেমন আল্লাহ স্বীয় রাসূলকে বলেন, ‘আমরা তোমার নিকটে ‘যিকর’ (কুরআন-হাদীছ) নাযিল করেছি, যাতে তুমি লোকদের নিকটে ঐ সকল বিষয় ব্যাখ্যা করে দাও, যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে। যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে’ (নাহল ১৬/৪৪)। অতএব নবীর ওয়ারিছ হিসাবে প্রত্যেক আলেম ও খত্বীবের দায়িত্ব হ’ল মুছল্লীদের নিজস্ব ভাষায় কুরআন ও ছহীহ হাদীছের বিধানসমূহ খুৎবায় ব্যাখ্যা করে শুনানো।

রাসূল (ছাঃ) আরবীভাষী ছিলেন বলেই তিনি আরবীতে খুৎবা দিতেন। কিন্তু তিনি ছিলেন বিশ্বনবী ও তাঁর দ্বীন ছিল বিশ্বজনীন। অতএব বিশ্বের সর্বত্র সবধরনের মুছল্লীর ভাষায় তাঁর দ্বীনের ব্যাখ্যা করা খত্বীবদের প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু এদেশে খত্বীবগণ আরবীতে খুৎবা দেন, যা একেবারেই খুৎবার উদ্দেশ্য বিরোধী। তাই মুছল্লীদের চাহিদা বুঝতে পেরে তারা খুৎবার পূর্বে বাংলায় বয়ানের নামে তৃতীয় আরেকটি খুৎবা চালু করেছেন, যা নিঃসন্দেহে বিদ‘আত। আর প্রশ্নমতে খুৎবার পূর্বে খত্বীব ভিন্ন অপর কোন ব্যক্তি যে বয়ান করেন, তা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

Posted in খুৎবা একজন বাংলায় অন্যজন আরবী খুৎবা পাঠ করেন। এটি শরী‘আতসম্মত হবে কি? | Tagged ,

অনেক সময় মানুষ মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্ন দেখে। যারা সেখানে তাদের অবস্থা, জীবিতদের প্রতি নানা উপদেশ, সতর্কবাণী ইত্যাদি দিয়ে থাকে। স্বপ্নের মাধ্যমে এসব খবরাখবরের কোন ভিত্তি আছে কি? এছাড়া মৃত্যুর পর মানুষ স্বপ্নে দেখা দিতে পারে কি?


পরহেযগার ও সত্যবাদী মানুষের স্বপ্ন সত্য হ’তে পারে। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেন, যখন ক্বিয়ামত নিকটবর্তী হবে, তখন (খাঁটি) মুসলিমের অধিকাংশ স্বপ্ন মিথ্যা ও ভ্রান্ত হবে না। তোমাদের মধ্যকার অধিক সত্যবাদী লোক সর্বাধিক সত্য স্বপ্নদ্রষ্টা হবে। তিনি বলেন, মানুষের স্বপ্ন তিন ধরনের হয়ে থাকে (ক) ভাল স্বপ্ন, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ বহন করে (খ) কষ্টদায়ক স্বপ্ন, যা শয়তানের পক্ষ থেকে হয় (গ) মনের মধ্যে উদ্ভূত কল্পনা, যা স্বপ্নে দেখা যায় (মুসলিম হা/২২৬৩)

আর স্বপ্নে মৃত ব্যক্তিকে দেখতে পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক্ষণে যদি কেউ স্বপ্নে এরূপ মৃত ব্যক্তিকে ভাল অবস্থায় দেখে বা মৃত ব্যক্তিকে ভাল কোন সংবাদ বা উপদেশ দিতে শুনে, তবে আল্লাহর শুকরিয়া করবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যখন তোমরা কেউ ভালো স্বপ্ন দেখবে, তখন আলহামদুলিল্লাহ পড়বে এবং সে নিজের প্রিয় লোকদের কাছে তা বলতে পারে (বুখারী হা/৬৯৮৫)

আর যদি মৃত ব্যক্তিকে খারাপ অবস্থায় দেখা যায় বা সে খারাপ সংবাদ প্রদান করে তাহ’লে বুঝতে হবে যে, এই স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে। এক্ষেত্রে রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশনা হ’ল, বাম দিকে তিনবার থুক মেরে ‘আ‘ঊযুবিল্লা-হি মিনাশ শায়ত্বা-নির রজীম’ বলবে এবং পার্শ্ব পরিবর্তন করবে (মুসলিম হা/২২৬২, মিশকাত হা/৪৬১৩)। অন্য বর্ণনায় এসেছে দাঁড়িয়ে (দু’রাক‘আত) ছালাত আদায় করবে এবং কাউকে বলবে না। কারণ এই স্বপ্ন তার কোন ক্ষতি করে না (মুসলিম হা/২২৬১-৬৩; বুখারী হা/৭০৪৪; মিশকাত হা/৪৬১২)

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) জুম‘আর খুৎবাদানরত অবস্থায় জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমার ঘাড়ে আঘাত করার ফলে আমার মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে গেল। তারপর আমি তা ধরে এনে পুনরায় আমার ঘাড়ে স্থাপন করলাম। রাসূল (ছাঃ) হেসে উঠে বললেন, ঘুমের মধ্যে তোমাদের কারো সাথে শয়তান খেলা করলে সে যেন তা লোকের কাছে না বলে (মুসলিম হা/২২৬৮; ইবনু মাজাহ হা/৩৯১২; মিশকাত হা/৪৬১৬)

উল্লেখ্য যে, খারাপ স্বপ্ন দেখলে বা মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখলে ছাদাক্বা করার যে প্রথা সমাজে চালু আছে তা বিদ‘আত। এগুলো থেকে বিরত থাকা কর্তব্য। বরং মৃত ব্যক্তির মাগফেরাতের জন্য যেকোন সময় দো‘আ ও ছাদাক্বা করা যায় (মুসলিম হা/৯২০, ১৬৩১; বুখারী হা/১৩৮৮; মিশকাত হা/১৬১৯, ১৯৫০)

Posted in মৃত্যুর পর মানুষ স্বপ্নে দেখা দিতে পারে কি? | Tagged ,

জনৈক ব্যক্তি তার সন্তানকে নিজের সন্তান হিসাবে পরিচয় দিতে অস্বীকার করে। এমতাবস্থায় সন্তানও পিতাকে পিতা হিসাবে স্বীকার করে না। এতে সন্তান কি গুনাহগার হবে?


এজন্য উভয়েই গোনাহগার হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘রক্ত সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না’ (বুখারী হা/৫৯৮৪; মুসলিম হা/২৫৫৬; মিশকাত হা/৪৯২২)। তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা তোমাদের পিতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না (অর্থাৎ তাকে অস্বীকার করো না)। কারণ যে লোক নিজের পিতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে কুফরী করে’ (বুখারী হা/৬৭৬৮; মুসলিম হা/৬২; মিশকাত হা/৩৩১৫)

Posted in সন্তানকে অস্বীকার করলে গুনাহগার হবে? | Tagged ,

বিবাহের কিছুদিন পর স্বামী জানতে পারে যে স্ত্রী আগে থেকে কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে অন্য পুরুষের সাথে বিবাহিতা। এক্ষণে একটি বিবাহ থাকা অবস্থায় অন্য স্বামীর সাথে বিবাহিত জীবন অতিবাহিত করার কারণে উক্ত স্বামী ও স্ত্রী গুনাহগার হবে কি? এছাড়া উক্ত স্বামী বা স্ত্রীর জন্য এখন করণীয় কি?


বৈধ অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত প্রচলিত কোর্ট ম্যারেজ শরী‘আতসম্মত নয়। এরূপ সম্পর্ক যেনার শামিল (তিরমিযী হা/১১০২; মিশকাত হা/৩১৩১; ছহীহুল জামে‘ হা/২৭০৯)। এক্ষণে পূর্বের বিবাহটি যেহেতু সঠিক ছিল না; সেহেতু পরবর্তী বিবাহ ও সংসারের কারণে কোন গুনাহ হবে না। কিন্তু স্ত্রীর পূর্বের কর্মকান্ডের জন্য তাকে অনুতপ্ত হয়ে খালেছ অন্তরে তওবা করতে হবে (ইবনু মাজাহ হা/৪২৫০; মিশকাত হা/২৩৬৩)। আর যদি বৈধ অভিভাবকের অনুমতি সাপেক্ষে প্রথম বিবাহ হয়ে থাকে, তবে পরবর্তী বিবাহ বাতিল বলে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে পূর্বের স্বামীর কাছ থেকে বিধি মোতাবেক তালাক নিয়ে নতুনভাবে বর্তমান স্বামীর সাথে বিবাহ পড়াতে হবে।

Posted in বিবাহ গোপন রেখে অন্যা বিবাহ করা করলে গোনাহগার হবে কি? | Tagged ,

জেহরী ছালাতে সূরা ফাতিহার পূর্বে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ সশব্দে তেলাওয়াত করা যাবে কি?


সশব্দে পড়ার কোন ছহীহ দলীল নেই (শাওকানী, নায়লুল আওত্বার ৩/৪৬)। অতএব বিসমিল্লাহ’ নীরবে পড়বে। অতঃপর সূরা ফাতিহা পাঠ করবে। প্রকাশ থাকে যে, আঊযুবিল্লাহ’ কেবল ১ম রাক‘আতে পড়বে, বাকী রাক‘আতগুলিতে নয় (ফিক্বহুস সুন্নাহ পৃঃ ১/১১২; নায়ল পৃঃ ৩/৩৬-৩৯; & বিস্তারিত)। অমনিভাবে বিসমিল্লাহ’সূরা ফাতিহার অংশ হওয়ার পক্ষে কোন ছহীহ দলীল নেই (বিস্তারিত আলোচনা দ্রষ্টব্য : নায়লুল আওত্বার পৃঃ ৩/৩৯-৫২)। বরং এটি দুই সূরার মধ্যে পার্থক্যকারী হিসাবে পঠিত হয়’ (আবুদাঊদ হা/৭৮৮ ‘ছালাত’ অধ্যায়-২, অনুচ্ছেদ-১২৫)। ইমাম কুরতুবী বলেন যে, সকল কথার মধ্যে সঠিক কথা হ’ল ইমাম মালেকের কথা যে, ‘বিসমিল্লাহ’ সূরা ফাতিহার অংশ নয়’। যেমন ‘কুরআন’ খবরে ওয়াহেদ অর্থাৎ একজন ব্যক্তির বর্ণনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না। বরং তা প্রতিষ্ঠিত হয় অবিরত ধারায় অকাট্ট বর্ণনা সমূহের মাধ্যমে, যাতে কোন মতভেদ থাকে না। ইবনুল ‘আরাবী বলেন, এটি সূরা ফাতিহার অংশ না হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, এতে মতভেদ রয়েছে। আর কুরআনে কোন মতভেদ থাকে না। বরং বিশুদ্ধ বর্ণনাসমূহ একথা প্রমাণ করে যে, ‘বিসমিল্লাহ’ সূরা ফাতিহার অংশ নয়’। এটি সূরা নমলের ৩০তম আয়াত মাত্র। এ বিষয়ে ছহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদীছটি প্রণিধানযোগ্য’ (মুসলিম হা/৩৯৫; মিশকাত হা/৮২৩ ‘ছালাতে ক্বিরাআত’ অনুচ্ছেদ-১২; তাফসীরে কুরতুবী মুক্বাদ্দামা, ‘বিসমিল্লাহ’ অংশ দ্রষ্টব্য, তাফসীরুল কুরআন ১৯ পৃঃ)

Posted in বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ সশব্দে তেলাওয়াত করা যাবে কি? | Tagged

ওযূর কার্যাবলীর মাঝে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ওয়াজিব কি? কোন একটি ভুলে গেলে পুনরায় শুরু থেকে করতে হবে কি?


ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ওয়াজিব এবং কেউ ভুলে গেলে তাকে পুনরায় ওযূ করতে হবে। আল্লাহর বাণী ‘হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা ছালাতে দন্ডায়মান হবে, তখন (তার পূর্বে বে-ওযূ থাকলে ওযূ করার জন্য) তোমাদের মুখমন্ডল ও হস্তদ্বয় কনুই সমেত ধৌত কর এবং মাথা মাসাহ কর ও পদযুগল টাখনু সমেত ধৌত কর’ (মায়েদাহ ৫/৬)। উক্ত আয়াত এবং অন্যান্য হাদীছের ভাষ্য মোতাবেক ইমাম শাফেঈ, ইমাম আহমাদ প্রমুখ বিদ্বানগণ ধারাবাহিকতা অবলম্বন করাকে আবশ্যিক বলেছেন এবং এটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত (মুসলিম হা/৮৩২; ওছায়মীন, ফাতাওয়া আরকানিল ইসলাম, পৃঃ ২১৯; ফাতাওয়া শায়খ বিন বায ১০/১০২-১০৩; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৩৮-৩৯)। তবে কেউ যদি ওযূর কোন অঙ্গ ধৌত করতে ভুলে যায় আর অন্যান্য অঙ্গগুলো শুকিয়ে যাওয়ার পূর্বেই স্মরণ করতে পারে, তাহ’লে সেই অঙ্গকে ধৌত করবে এবং ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে পরের অঙ্গগুলো পুনরায় ধৌত করবে। কিন্তু যদি অন্যান্য অঙ্গগুলো শুকিয়ে যায় তাহ’লে তাকে পুনরায় ওযূ করতে হবে (মাসায়েলুল ইমাম আহমাদ, পৃঃ ২৬, প্রশ্ন নং-৯২)। এ অবস্থায় এমনকি যদি ছালাত আদায় করেও ফেলে তাহ’লে ওযূ করে তাকে পুনরায় ছালাত আদায় করতে হবে। কারণ এক ব্যক্তি ওযূ করে এমন অবস্থায় ছালাত আদায় করছিল যে, তার পায়ের নখ পরিমাণ (তথা অতি সামান্য) অংশে পানি পৌঁছেনি। রাসূল (ছাঃ) তাকে পুনরায় সুন্দরভাবে ওযূ করার নির্দেশ দেন (ইবনু মাজাহ হা/৬৬৫; আবুদাউদ হা/১৭৩, সনদ ছহীহ)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি তাকে পুনরায় ওযূ করে ছালাত আদায় করার নির্দেশ প্রদান করেন (ইবনু মাজাহ হা/৬৬৬)। উল্লেখ্য যে, কোন কোন বিদ্বানের নিকট ওযূতে ধারাবাহিকতা ওয়াজিব নয় বরং সুন্নাত (আল মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিইয়াহ ১১/১০০-১০২)। শায়খ আলবানীও মিক্বদাম ইবনে মা‘দী কারিব (রাঃ) বর্ণিত একটি হাদীছ (আহমাদ হা/১৭২২৭)-এর ভিত্তিতে ওযূর ধারাবাহিকতা আবশ্যক নয় মন্তব্য করেছেন (সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৬১-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)। তবে হাদীছটি এ ক্ষেত্রে দলীলযোগ্য নয়। শায়খ শু‘আইব আরনাঊত্ব বলেন, হাদীছটি যঈফ। কারণ এর বর্ণনায় বৈপরিত্য এসেছে। অর্থাৎ কুলি করা ও নাক ঝাড়ার কথাটি হবে প্রথমে দু’হাত ধোয়ার পরে। যা বিশুদ্ধ হাদীছসমূহ দ্বারা প্রমাণিত (তাহকীক মুসনাদ আহমাদ ২৮/৪২৫)। এজন্য ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ)-এর ওযূর পদ্ধতি ছিল ধারাবাহিক ও ক্রমান্বয়িক। একবারের জন্যও তিনি এর ব্যত্যয় ঘটাননি (যাদুল মা‘আদ ১/১৮৭)

Posted in ওযূর কার্যাবলীর মাঝে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ওয়াজিব কি?, ওযূর কোন একটি ভুলে গেলে পুনরায় শুরু থেকে করতে হবে কি? | Tagged

ছহীহ হাদীছ কুরআনের বিরোধী হ’লে তা গ্রহণযোগ্য হবে কি?


ছহীহ হাদীছ কখনো কুরআন বিরোধী হবে না। যদি কখনো পরস্পর বিরোধী মনে হয়ে থাকে, তবে সেটি আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার ফল। কেননা শরী‘আত প্রণেতার কোন বিধানে স্ববিরোধিতা নেই। আর রাসূল (ছাঃ) যা বলতেন তা অহী (নাজম ৫৩/৩-৪)। এক্ষণে কোন হাদীছ বাহ্যত যদি কুরআন বিরোধী মনে হয়, তার সমাধানে মুহাদ্দিছগণের নীতি হ’ল- প্রথমতঃ হাদীছটির সনদ যাচাই করতে হবে। অতঃপর হাদীছটি বিশুদ্ধ হ’লে তার সঠিক ব্যাখ্যা তালাশ করতে হবে এবং আয়াত ও হাদীছের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে। যদি তাও সম্ভব না হয় তবে উভয়টির মাঝে যাচাই সাপেক্ষে কোন একটি হুকুমকে মানসূখ গণ্য করতে হবে। আর শেষাবধি কোন হুকুমটি মানসূখ তা নির্দিষ্ট করা না গেলে ‘অগ্রগণ্য কারণসমূহে’র (قرائن الترجيح) ভিত্তিতে কোন একটি হুকুমকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং তার উপর আমল করতে হবে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ফিকহী নীতিমালা রয়েছে (বিস্তারিত দ্রষ্টব্য : নববী, শরহ মুসলিম, পৃঃ ১/৩৫; শাওকানী, ইরশাদুল ফুহূল ২/২৬০-২৭৩)

Posted in ছহীহ হাদীছ কুরআনের বিরোধী হ’লে তা গ্রহণযোগ্য হবে কি? | Tagged ,

কুরআনী নির্দেশনা অনুযায়ী কোন নারী ব্যভিচারে লিপ্ত হ’লে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে ৪ জন পুরুষ সাক্ষী হাযির করা আবশ্যক। কিন্তু সেটি কিভাবে সম্ভব? আর চারজন সাক্ষী পেশ করার পিছনে হিকমত কি?


আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য হ’তে চারজন সাক্ষী উপস্থিত কর’ (নিসা ৪/১৫)। তিনি আরো বলেন, ‘আর যারা সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি (ব্যভিচারের) অপবাদ দেয়। অথচ চারজন (প্রত্যক্ষদর্শী) সাক্ষী হাযির করতে পারে না। তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত কর। আর তোমরা কখনোই তাদের সাক্ষ্য কবুল করবে না। বস্ত্ততঃ এরাই হ’ল পাপাচারী’ (নূর ২৪/৪)। একদা (খাযরাজ গোত্রের নেতা) সা‘দ বিন উবাদা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে কোন পরপুরুষকে (সহবাসরত) দেখতে পাই, তবে কি আমি তাকে পাকড়াও করব না, যতক্ষণ না চারজন সাক্ষী হাযির করি? রাসূল (ছাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তখন সা‘দ বলেন, কখনোই তা সম্ভব নয়। যিনি আপনাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন, তার কসম করে বলছি, আমি এর আগেই তাকে তরবারি দিয়ে খতম করে দিব। তখন রাসূল (ছাঃ) আনছারদের ডেকে বললেন, তোমাদের নেতা কি বলছেন শোন। তিনি অবশ্যই আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি। আর আমি তার চেয়েও বেশী। আর আল্লাহ আমার চেয়েও বেশী’ (মুসলিম হা/১৪৯৮; মিশকাত হা/৩৩০৮)

সা‘দ বিন উবাদাহ উপরোক্ত কথা বলার পরপরই হেলাল বিন উমাইয়াহ স্বীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ নিয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর দরবারে হাযির হন। এমন সময় সূরা নূরের ১০ আয়াত নাযিল হয়। যার ভিত্তিতে তিনি মহিলাকে জিজ্ঞেস করলে সে অস্বীকার করে। তখন রাসূল (ছাঃ) উভয়কে লে‘আন করান এবং বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং বলেন যে, আখেরাতের শাস্তি দুনিয়ার শাস্তির চেয়ে অনেক ভয়াবহ’ (ইবনু কাছীর, তাফসীর সূরা নূর ৪ আয়াত)। অর্থাৎ ব্যভিচারের শাস্তি দুনিয়াতে গ্রহণ করলে এটি তার জন্য কাফফারা হ’ত (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৮) এবং সে সম্ভবতঃ আখেরাতের কঠিন শাস্তি থেকে বেঁচে যেত।

ইমাম কুরতুবী বলেন, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তার বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহের কারণে এবং তাদের পাপ গোপন রাখার কারণে (কুরতুবী, তাফসীর সূরা নূর ৪ আয়াত)। ‘অনুগ্রহ’ বলতে বান্দাকে তওবা করার সুযোগ দান এবং ‘গোপন রাখা’ অর্থ এই অন্যায় কর্মটি জানাজানি না হওয়া। যাতে সমাজে নির্লজ্জতার প্রসার না ঘটে। ছাহেবে হেদায়াহ বলেন, চারজন সাক্ষীর শর্ত রাখার অর্থ হ’ল এটিকে গোপন রাখা এবং প্রচার না করা (হেদায়াহ ২/৯৫)

ইসলামী আইনে যেনার অপরাধ সাব্যস্ত হয় ৪ জন সাক্ষী অথবা স্বীকৃতি অথবা গর্ভবতী হওয়ার মাধ্যমে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেও যেনার অপরাধ সাব্যস্ত হ’তে পারে। কিন্তু শতভাগ সন্দেহমুক্ত নয় বলে এর মাধ্যমে ‘হদ’ আরোপিত হবে না; কেননা সন্দেহের অবস্থায় ‘হদ’ প্রযোজ্য নয়। যেনার শাস্তি বাহ্যতঃ খুবই কঠিন মনে হ’লেও এর সামাজিক কুপ্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। সে তুলনায় উক্ত শাস্তি সহজতর (ফিক্বহুস সুন্নাহ ‘দন্ডবিধি সমূহ’ অধ্যায়; রাবেতার অধীনস্ত ইসলামী ফিক্বহ কাউন্সিলের ষোড়শ অধিবেশন সিন্ধান্ত, জানুয়ারী ২০০২, মক্কা, ৩য় প্রকাশ, পৃঃ ৩৯০)

Posted in নারী ব্যভিচারে লিপ্ত হ’লে ৪ জন পুরুষ সাক্ষী হাযির করা কি আবশ্যক? | Tagged ,

মানুষ যখন ঘুমায় তখন তার রূহ দেহে অবস্থান করে কি?


আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ জীবসমূহের প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময় এবং যারা মরেনি তাদের নিদ্রার সময়। তারপর যার জন্য তিনি মৃত্যুর ফায়ছালা করেন, তার প্রাণ তিনি রেখে দেন এবং অন্যগুলো ফিরিয়ে দেন একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে’ (যুমার ৩৯/৪২)

উক্ত আয়াতে প্রাণীর দু’টি মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। একটি নিদ্রাকালীন মৃত্যু। অন্যটি মৃত্যুকালীন মৃত্যু। নিদ্রায় তার দেহে অনুভূতি থাকে। কিন্তু মৃত্যুতে সেটা থাকেনা। উভয় অবস্থায় তার প্রাণ আল্লাহর কাছে চলে যায়। অতঃপর তিনি যাকে চান তার দেহে রূহ ফিরিয়ে দেন, যাকে চান সেটা রেখে দেন। যা ক্বিয়ামতের আগ পর্যন্ত তার দেহে ফেরৎ দেওয়া হয় না। কুরআনে ও হাদীছে উভয় অবস্থাকে ‘মউত’ বলা হয়েছে। সেজন্য ঘুমাতে যাবার সময় দো’আ পড়তে হয়, ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নামে মরি ও বাঁচি’ (বুখারী হা/৬৩২৪; মিশকাত হা/২৩৮২)। ঘুম থেকে ওঠার সময় বলতে হয়, ‘সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে মৃত্যু দানের পর জীবিত করলেন এবং ক্বিয়ামতের দিন তাঁর দিকেই হবে আমাদের পুনরুত্থান’ (বুখারী হা/৬৩২৪; মিশকাত হা/২৩৮২)। অন্য হাদীছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ বিছানায় যাবে, তখন… সে যেন ডানকাতে শুয়ে বলে, হে আমার প্রতিপালক! তোমার নামে আমি বিছানায় দেহ রাখছি ও তোমার নামেই সেটা আমি উঠাবো। যদি তুমি আমার আত্মাকে আটকে রাখ, তাহ’লে তুমি তাকে অনুগ্রহ কর (অন্য বর্ণনায় এসেছে ‘তুমি তাকে ক্ষমা কর’)। আর যদি ছেড়ে দাও, তাহ’লে তুমি তাকে (গুনাহ থেকে) হেফাযত কর। যেভাবে তুমি তোমার সৎকর্মশীল বান্দাদের হেফাযত করে থাক’ (বুখারী হা/৬৩২০, ৭৩৯৩; মুসলিম হা/২৭১৪; মিশকাত হা/২৩৮৪)

Posted in মানুষ যখন ঘুমায় তখন তার রূহ দেহে অবস্থান করে কি? | Tagged ,

আমি পাওয়ার স্টেশনে কাজ করি। এখানে শিফটিং ডিউটি থাকায় জুম‘আর ছালাত আদায় করা সম্ভব হয় না। এক্ষণে আমার করণীয় কি?


এরূপ অবস্থায় যোহর ছালাত আদায় করবে। প্রয়োজনে যোহর-আছর জমা করবে (বুখারী হা/১১৭৪; দ্রঃ ‘ছালাতুর রাসূল (ছাঃ)’ ১৮৮ পৃ.)। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সাধ্যমত আল্লাহকে ভয় কর’ (তাগাবুন ১৬, বাক্বারাহ ২/২৮৬, আবুদাঊদ হা/৬৫০)

Posted in জুম‘আর ছালাত আদায় করা সম্ভব না হলে আমার করণীয় কি? | Tagged

নফল ছালাত দু’রাক‘আত আদায়ের নিয়তে ছালাত শুরু করে পরবর্তীতে ছালাতের মধ্যেই মত পরিবর্তন করে চার রাক‘আত পড়া যাবে কি? এছাড়া চার রাক‘আতের নিয়ত করে সময় কম থাকায় দু’রাক‘আত পড়ে সালাম ফিরানো যাবে কি?


নফল ছালাতের ক্ষেত্রে ছালাতরত অবস্থায় রাক‘আত কম বা বেশী করার নিয়ত পরিবর্তন করা জায়েয। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘রাতের নফল ছালাত দুই দুই রাক‘আত। অতঃপর যখন তোমাদের কেউ ফজর হয়ে যাবার আশংকা করবে, তখন সে যেন এক রাক‘আত পড়ে নেয়। যা তার পূর্বেকার সকল নফল ছালাতকে বিতরে পরিণত করবে’ (বুখারী হা/৯৯০; মুসলিম হা/৭৪৯; মিশকাত হা/১২৫৪)। তিনি বলেন, নফল ছিয়াম পালনকারী তার নিজের উপর আমীর’ (ছহীহুল জামে‘ হা/৩৮৫৪)। তবে কেউ নিয়ত পরিবর্তন ব্যতিরেকে খামখেয়ালীভাবে রাক‘আত কম বা বেশী করলে সর্বসম্মতিক্রমে তার ছালাত বাতিল হয়ে যাবে (নববী, আল-মাজমূ‘ শারহুল মুহাযযাব ৪/৫০)

Posted in ছালাতে চার রাক‘আতের নিয়ত করে দু’রাক‘আত পড়ে সালাম ফিরানো যাবে কি? | Tagged ,

কোন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মহিলা হ’লে সেখানে চাকুরী করা জায়েয হবে কি?


ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায় নারী নেতৃত্ব সিদ্ধ নয়। আল্লাহ বলেন, ‘পুরুষ জাতি নারী জাতির উপরে কর্তৃত্বশীল’ (নিসা ৪/৩৪)। রাসূল (ছাঃ) যখন অবগত হ’লেন যে, ইরানের জনগণ কিসরার কন্যাকে তাদের নেত্রী নির্বাচন করেছে। তখন তিনি বললেন, ‘ঐ জাতি কখনও সফলকাম হ’তে পারে না, যারা নারীকে তাদের নেত্রী নির্বাচিত করে’ (বুখারী হা/৪৪২৫; মিশকাত হা/৩৬৯৩)। অতএব রাষ্ট্রীয় ও সমাজের কোন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নারীর আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব ইসলাম নাকচ করেছে। এতদসত্ত্বেও কোন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক যদি মহিলা হয়ে থাকেন, তাহ’লে পারতপক্ষে চাকুরী পরিবর্তন করা উচিত। তবে বাধ্যগত বিষয়টির কথা ভিন্ন। 

Posted in প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মহিলা হ’লে সেখানে চাকুরী করা জায়েয হবে কি? | Tagged ,

নবী ও রাসূলের মধ্যে পার্থক্য কি? কুরআন ও হাদীছে এ পৃথকীকরণের পক্ষে কোন দলীল আছে কি?


নবী ও রাসূল দু’টি শব্দের অর্থই বার্তাবাহক। তারা সকলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বাণী প্রচারের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি। এক্ষণে উভয়ের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় সূরা হজ্জের ৫২ আয়াতে। তবে সে পার্থক্যের স্বরূপ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ফার্রা বলেন, ‘রাসূল’ তিনি, যার নিকটে প্রকাশ্যভাবে জিব্রীলকে পাঠিয়ে আল্লাহ রিসালাত প্রদান করেছেন। পক্ষান্তরে ‘নবী’ তিনি, যার নিকটে আল্লাহ কোন খবর পাঠিয়েছেন ইলহাম অথবা স্বপ্নের মাধ্যমে (যেমন ইবরাহীম (আঃ)-এর নিকট পাঠিয়েছিলেন)। অতএব প্রত্যেক রাসূলই নবী, কিন্তু প্রত্যেক নবী রাসূল নন। মাহদাভী (المهدوى) বলেন, এটাই সঠিক। কাযী ইয়ায বলেন, বিদ্বানগণের বিরাট অংশ এ মতকেই সঠিক বলেন যে, প্রত্যেক রাসূলই নবী। কিন্তু প্রত্যেক নবী রাসূল নন। তিনি আবু যর গেফারী (রাঃ) বর্ণিত হাদীছ থেকে দলীল নিয়েছেন যে, ১ লাখ ২৪ হাযার পয়গাম্বরের মধ্যে ৩১৫ জনের বিরাট সংখ্যা ছিলেন ‘রাসূল’ (তাফসীর কুরতুবী; আহমাদ হা/২২৩৪২; মিশকাত হা/৫৭৩৮; ছহীহাহ হা/২৬৬৮)। সম্ভবতঃ এ কারণেই মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে কুরআনে ‘শেষনবী’ বলা হয়েছে (আহযাব ৩৩/৪০), শেষ রাসূল নয়। হাদীছেও তিনি বলেছেন, আমি শেষনবী, আমার পরে কোন নবী নেই’ (আবুদাঊদ হা/৪২৫২; মিশকাত হা/৫৪০৬)। কেননা নবী ব্যতীত কেউ রাসূল হ’তে পারেন না।

সূরা মারিয়াম ৫৪ আয়াতে ইসমাঈলকে ‘রাসূল’ ও ‘নবী’ একত্রে বলা হয়েছে। এতে বুঝা যায় যে, তিনি হাদীছে বর্ণিত ৩১৫ জন রাসূলের (ছহীহাহ হা/২৬৬৮) অন্যতম ছিলেন। যদিও আমরা কেবল মূসা, দাঊদ, ঈসা ও মুহাম্মাদ চারজন কিতাবধারী রাসূলের নাম জানি।

Posted in নবী ও রাসূলের মধ্যে পার্থক্য কি? | Tagged

রাসূল (ছাঃ) অল্প খাদ্যগ্রহণকারীকে সর্বোত্তম ব্যক্তি হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন। অথচ অনেক মানুষকে দেখা যায় তারা দৈনিক মাছ, গোশত, দই, মিষ্টি, ফলমূল ইত্যাদি খায়। এগুলি কি অপব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে না?


‘অল্প খাদ্যগ্রহণকারী সর্বোত্তম’ মর্মের বর্ণনাটি ভিত্তিহীন (সিলসিলা যঈফাহ হা/২৪৩)। অতঃপর প্রত্যেকেই সামর্থ্য অনুযায়ী হালাল খাদ্য খাবে। আল্লাহর শুকরিয়ার সাথে খেলে এতে আল্লাহ বেশী খুশী হন। তবে যদি সে কৃপণতা করে কিংবা নষ্ট করে, তাহ’লে তা অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে। আল্লাহর বলেন, তোমরা খাও ও পান কর, অপচয় কর না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদেরকে অপসন্দ করেন’ (আ‘রাফ ৭/৩১)। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, ‘যা খুশী খাও এবং যা খুশী পরিধান কর। তবে এ বিষয়ে তোমাকে দুটি ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তাহ’ল অপচয় ও অহংকার (বুখারী, আহমাদ, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৪৩৮০-৮১ ‘পোষাক’ অধ্যায়)। তবে খাদ্যগ্রহণের ক্ষেত্রে রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশনা হ’ল- পেটের একভাগ খাদ্য দিয়ে ও একভাগ পানি দিয়ে ভরবে এবং একভাগ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখবে (তিরমিযী হা/২৩৮০)

Posted in দৈনিক ভালো মন্দ খাওয়া কি অপব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে না? | Tagged

একাধিক তলা বিশিষ্ট মসজিদে মাইকের ন্যায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে জুম‘আর খুৎবা দেখানোর ব্যবস্থা করা যাবে কি? এছাড়া নারীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে প্রজেক্টর রাখা যাবে কি?


এরূপ করা উচিত হবে না। কারণ এতে মুছল্লীদের খুশূ-খুযূ বিনষ্ট হয় এবং খুৎবা ও ছালাতের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হয়। আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই সফলকাম হবে মুমিনগণ, যারা তাদের ছালাতে তন্ময়-তদ্গত (মুমিনুন ২৩/১-২)। অতএব জুম‘আর খুৎবায় প্রজেক্টর ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিৎ।

Posted in জুম‘আর খুৎবা দেখানোর জন্য নারীদের নির্ধারিত স্থানে প্রজেক্টর রাখা যাবে কি? | Tagged , ,

বুখারী ৪০২৪ নং হাদীছে উল্লেখ রয়েছে ওছমান (রাঃ)-এর হত্যাকান্ডের পর আর কোন বদরী ছাহাবী জীবিত ছিলেন না। কিন্তু ইতিহাসে প্রমাণিত যে আলী (রাঃ) চতূর্থ খলীফা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এর সমাধান কি?


এখানে প্রশ্নকারীর বুঝতে ভুল হয়েছে। হাদীছটি বর্ণনা করেছেন প্রখ্যাত তাবেঈ সাঈদ ইবনু মুসাইয়িব (১৫-৯৪ হি.)। এখানে তিনি বলেন যে, প্রথম ফিৎনা অর্থাৎ ৩৫ হিজরীতে ওছমান হত্যাকান্ডের পর বদরী ছাহাবীদের আর কেউ বেঁচে ছিলেন না। দ্বিতীয় ফিৎনা অর্থাৎ ৬৩ হিজরীতে হার্রার ঘটনার পর হোদায়বিয়ার সন্ধিকালীন কোন ছাহাবী আর জীবিত ছিলেন না। এরপর ৬৪ হি. থেকে খারেজীদের তৃতীয় ফিৎনা শুরু হওয়ার পর তা আর কখনোই শেষ হয়নি। যতদিন না তা মানুষের সমস্ত শক্তি ও বিবেক-বুদ্ধি নিঃশেষ করে দেয়’ (বুখারী হা/৪০২৪; মিশকাত হা/৫৪০৯)

এর ব্যাখ্যা এই যে, ওছমান (রাঃ)-এর হত্যাকান্ডের ফিৎনা থেকে হার্রার ফিৎনা (৬৩ হিজরীতে মদীনার নিকটবর্তী হার্রা নামক স্থানে ইয়াযীদ বিন মু‘আবিয়ার সৈন্যদের সাথে মদীনাবাসীদের যুদ্ধ, যাতে বহু ছাহাবী এবং তাবেঈ নিহত হন) পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে সকল বদরী ছাহাবী মারা যান, যাদের মধ্যে আলী (রাঃ)ও ছিলেন। সর্বশেষ বদরী ছাহাবী সা‘দ বিন আবু ওয়াক্কাছ (রাঃ) মারা যান এ যুদ্ধের কয়েক বছর পূর্বে। আর হার্রার ফিৎনা শুরু হওয়ার পর থেকে তৃতীয় ফিৎনা (৬৪ থেকে ৭৮ হিজরী সময়কালে বছরায় বিস্তৃত আযারিকাহ নামক খারেজী সম্প্রদায়ের বিদ্রোহ) পর্যন্ত সময়ে হুদায়বিয়ায় অংশগ্রহণকারী সকল ছাহাবী মারা যান। এই তৃতীয় ফিৎনার সময় সকল ছাহাবী মারা যান। মোটকথা ওছমান হত্যার সূত্র ধরে অবশিষ্ট বদরী ছাহাবীগণ একে একে সকলে শাহাদাত বরণ করেন (ফাৎহুলবারী ৭/৩২৫; মিরক্বাত ৮/৩৪০৪; ঊমদাতুল ক্বারী ১৭/১১৯)

Posted in ওছমান (রাঃ)-এর হত্যাকান্ডের পর আর কোন বদরী ছাহাবী জীবিত ছিলেন কি? | Tagged ,

আমাদের এখানে মাযহাবী মসজিদে জুম‘আর খুৎবায় নির্দিষ্ট কয়েকজন ছাহাবীর জন্য দো‘আ করা হয়। এটি কি সঠিক? এছাড়া এ নিয়ম কবে থেকে শুরু হয়েছে?


এতে দোষের কিছু নেই। আবু মূসা আশ‘আরী সর্বপ্রথম বছরার জামে‘ মসজিদে ওমর (রাঃ)-এর প্রশংসা করে খুৎবা প্রদান করলে যাববাহ বিন মিহছান প্রতিবাদ করে বলেন, আপনি কেবল ওমরের জন্য দো‘আ করলেন অথচ তাঁর সাথীর জন্য করলেন না। এক সময় ওমর (রাঃ) বিষয়টি জানতে পেরে আবু মূসাকে ভৎর্সনা করে বলেন, আবুবকর (রাঃ)-এর একটি রাত (ছওর গুহায় রাসূল ছাঃ-এর সাথে কাটানো রাত) ও একটি দিন (রাসূল ছাঃ-এর মৃত্যুর পর যে দিন তিনি মুরতাদদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা দিয়েছিলেন) ওমর এবং তার পরিবার অপেক্ষা উত্তম… (মিনহাজুস সুন্নাহ ৪/১৫৬, মুসনাদুল ফারূক হা/৯৭০, ইবনে কাছীর বলেন, এই সনদে দুর্বলতা থাকলেও এর সপক্ষে শাওয়াহেদ রয়েছে)

ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, কথিত আছে যে, উমাইয়াদের কেউ কেউ যখন আলী (রাঃ)-কে গালি দিতে শুরু করে, তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহঃ) এই মন্দ প্রচলনের বিপরীতে সর্বপ্রথম খুৎবায় চার খলীফার প্রশংসা এবং তাদের ফযীলত বর্ণনা করা শুরু করেন। এছাড়া খারেজীরা ওছমান ও আলী (রাঃ)-কে কাফের আখ্যা দেয় এবং রাফেযী শী‘আরা প্রথম তিন খলীফাকেই কাফের মনে করে। তাই খুৎবার মধ্যে চার খলীফার প্রশংসা এবং তাদের ফযীলত বর্ণনা করার মাধ্যমে তাদেরও প্রতিবাদ হয়ে যায় (মিনহাজুস সুন্নাহ ৪/১৫৬-১৬৪)

এটি ছাহাবীদের যুগের আমল। খুৎবার মধ্যে তাদেরকে উল্লেখ করার মাধ্যমে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের পক্ষ থেকে ভ্রান্ত আক্বীদার অনুসারীদের প্রতিবাদ করা হয়েছিল। তাঁদের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করা হয়েছিল প্রতিবাদের উদ্দেশ্যেই। তারই ধারাবাহিকতায় বহু মসজিদে তাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়ে থাকে। তৎকালীন সময়ে এর মাধ্যমে এ বার্তা দেয়া হ’ত যে, তাদের সম্পর্কে মন্দ ধারণা বা আক্বীদা পোষণ করার কোন সুযোগ নেই। তারা উম্মতে মুহাম্মাদীর সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। অতএব খুৎবার মধ্যে তাদের নাম উল্লে­খ করাটা বিদ‘আতও নয়, ওয়াজিবও নয় (ছালেহ ফাওযান আল-ফাওযান, আল-মুনতাক্বা ৬৫/২৫)

Posted in দো‘আ নির্দিষ্ট কয়েকজন ছাহাবীর জন্য করা যাবে কি? | Tagged