আকীকার মাধ্যমে কি নাম নির্ধারিত হয়ে যায়? আকীকা হয়ে যাওয়ার পর নামের কোন অংশ ভুল হয়ে গেলে তা পরিবর্তন করা যাবে কি?


আক্বীক্বার মাধ্যমে নাম রাখা হয়। কিন্তু ভুল নাম হ’লে তা পরিবর্তন করা যাবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) মন্দ নাম পরিবর্তন করে দিতেন (তিরমিযী হা/২৮৩৯; মিশকাত হা/৪৭৭৪; ছহীহাহ হা/২০৭; আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৮২৯)। তাঁর কাছে আগন্তুক কোন ব্যক্তির নাম অপসন্দনীয় মনে হ’লে তিনি তা পাল্টে দিয়ে ভাল নাম রেখে দিতেন (মুসনাদুশ শামেঈন হা/১৬২৭; ছহীহাহ হা/২০৯)। আর এজন্য তিনি আক্বীক্বা করতেন বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। অতএব নাম পরিবর্তনে কোন বাধা নেই।

Posted in আকীকা হয়ে যাওয়ার পর নাম পরিবর্তন করা যাবে কি?, আকীকার মাধ্যমে কি নাম নির্ধারিত হয়ে যায়? | Tagged

ছালাতরত অবস্থায় সালাম ফিরানোর পূর্বে ঋণমুক্তি ও পিতা-মাতার জন্য দো‘আ করা যাবে কি?


সালাম ফিরানোর পূর্বে ঋণমুক্তির দো‘আ, পিতা-মাতার জন্য দো‘আ সহ যে কোন দো‘আ পাঠ করা যাবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘আত্তাহিইয়াতু’ পড়ার পর মুছল্লী তার ইচ্ছামত দো‘আ পড়বে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৯০৯)। ইবনু হাজার বলেন, এ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মুছল্লী তাশাহহুদের পর দুনিয়া এবং আখিরাতের যেকোন বিষয়ে প্রার্থনা করতে পারবে (ফাৎহুল বারী ২/৩২১)। তবে কুরআন ও হাদীছে বর্ণিত দো‘আ ব্যতীত অন্য কিছু না পড়াই উত্তম। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই এ ছালাতের মধ্যে মানুষের কোন কথাবার্তা সিদ্ধ নয়। এটা হ’ল তাসবীহ, তাকবীর এবং তেলাওয়াতে কুরআন’ (মুসলিম হা/৫৩৭; মিশকাত হা/৯৭৮)

Posted in ছালাতরত অবস্থায় সালাম ফিরানোর পূর্বে দো‘আ করা যাবে কি? | Tagged

দুই সিজদার মধ্যে আঙ্গুল নাড়ানো যাবে কি? এ মর্মে ইবনু খুযায়মা বর্ণিত হাদীছ ছহীহ কি?


দুই সিজদার মাঝের বৈঠকে শাহাদত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করা যাবে না। এব্যাপারে বর্ণিত হাদীছটি ‘শায’ বা বিরল (আহমাদ হা/১৮৮৭৮; আলবানী, তামামুল মিন্নাহ ১/২১৪; ছহীহাহ হা/২২৪৭-এর আলোচনা দ্রঃ)। অতএব এর উপর আমল থেকে বিরত থাকাই উত্তম।

Posted in দুই সিজদার মধ্যে আঙ্গুল নাড়ানো যাবে কি? | Tagged ,

কবরস্থানে নতুন কবর দেওয়ার ক্ষেত্রে পুরাতন কবরের উপর দিয়ে হাটাহাটি করা হ’লে তাতে গুনাহ হবে কি?


কবর দেওয়া ও পায়ের হেফাযতের স্বার্থে জুতা পায়ে দিয়ে কবরে মাটি দেওয়া ও কবরস্থানে যাওয়া যাবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, মানুষ যখন দাফন সেরে চলে আসে, কবরে মৃত ব্যক্তি তাদের জুতার আওয়ায শুনতে পায় (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১২৬)। তবে বিলাসী জুতা পরে গর্ব সহকারে কবরস্থানে যাওয়া যাবে না (আবুদাঊদ হা/৩২৩০; আওনুল মা‘বূদ শরহ আবুদাঊদ উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যা দ্রঃ)

Posted in কবরস্থানের উপর দিয়ে হাটাহাটি করা হ’লে তাতে গুনাহ হবে কি? | Tagged

স্বামীর চেয়ে স্ত্রী ধর্মীয় জ্ঞান ও কুরআন তেলাওয়াতে বহুগুণ পারদর্শী হ’লে ফরয বা নফল ছালাতে স্ত্রী ইমামতি করতে পারবে কি?


ফরয হোক বা নফল হোক কোন ছালাতে মহিলারা পুরুষদের ইমামতি করতে পারবে না (আর-রওযাতুন নাদিইয়াহ ১/৩১২)। কেননা আল্লাহ বলেন, ‘পুরুষেরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল’ (নিসা ৪/৩৪)। তাছাড়া এ ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ)-এর কোন নির্দেশ নেই এবং তাঁর ও ছাহাবায়ে কেরামের যুগে এর কোন নযীর নেই। আর এটাই স্বতঃসিদ্ধ যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও খোলাফায়ে রাশেদীনের সময় যা দ্বীন ছিল না, পরে তা দ্বীন হিসাবে গৃহীত হবে না (আহমাদ, নাসাঈ, দারেমী, মিশকাত হা/১৬৫ ‘ঈমান’ অধ্যায়)

Posted in মহিলারা ধর্মীয় জ্ঞান ও কুরআন তেলাওয়াতে পারদর্শী হ’লে ইমামতি করতে পারবে কি? | Tagged ,

জেহরী ছালাতে ইমামের ক্বিরাআতের সময় চুপ করে থাকলে মনোযোগ বিনষ্ট হয়। এসময় দুনিয়াবী চিন্তা আসলে ছালাত কবুল হবে কি?


জেহরী ছালাতে ইমামের পিছনে মুক্তাদী কেবল সূরা ফাতেহা পড়বে। অতঃপর মনোযোগ দিয়ে ক্বিরাআত শুনবে।

আয়েশা (রাঃ) বলেন, (একদিন) রাসূল (ছাঃ) উঠে ওযূ করলেন এবং ছালাতে দাঁড়ালেন। অতঃপর কাঁদতে আরম্ভ করলেন। কাঁদতে কাঁদতে তাঁর বুক ভিজে গেল। এমনকি একপর্যায়ে (পায়ের নীচের) মাটি পর্যন্ত ভিজে গেল। বেলাল তাঁকে (ফজরের) ছালাতের সংবাদ দিতে এসে দেখেন, তিনি কাঁদছেন। বেলাল বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কাঁদছেন! অথচ আল্লাহ আপনার পূর্বের ও পরবর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন! রাসূল (ছাঃ) বললেন, হে বেলাল! আমি কি আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হব না? আজ রাতে আমার উপর কয়েকটি আয়াত …إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ (আলেইমরান ১৯০) নাযিল হয়েছে। যে এগুলো পড়বে, কিন্তু চিন্তা-ভাবনা করবে না, সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (ছহীহ ইবনু হিববান; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৬৮)

এছাড়া রাসূল (ছাঃ) ছালাতে মৃত্যুকে স্মরণ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘তুমি ছালাতে মৃত্যুকে স্মরণ কর। কারণ যে ব্যক্তি ছালাতে মৃত্যুকে স্মরণ করবে, তার ছালাত যথার্থ সুন্দর হবে। আর তুমি সেই ব্যক্তির ন্যায় ছালাত আদায় কর, যে জীবনে শেষবারের মত ছালাত আদায় করে নিচ্ছে’ (দায়লামী; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৪২১)

মূলতঃ শয়তান মুছল্লীর মনে ওয়াসওয়াসা দিয়ে ছালাত ও ক্বিরাআতের মধ্যে গোলমাল সৃষ্টি করে। এরূপ অবস্থায় করণীয় সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) বলেন, যখন তুমি এদের অস্তিত্ব বুঝতে পারবে, তখন শয়তান থেকে আল্লাহর পানাহ চেয়ে ঊযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রাজীম বলে বাম দিকে তিনবার থুক মারবে। রাবী ওছমান বিন আবুল ‘আছ বলেন, এরূপ করাতে আল্লাহ আমার থেকে ঐ শয়তানকে দূরে সরিয়ে দেন (মুসলিম হা/২২০৩; মিশকাত হা/৭৭)

ছালাতে খুশূ-খুযূ বা একাগ্রতা আবশ্যক (মুমিনূন )। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে দুনিয়াবী চিন্তা আসায় একাগ্রতার ঘাটতি হ’লে ছালাত বাতিল হবে না (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৬৫৫)। বরং ছালাত ত্রুটিপূর্ণ হবে এবং নেকীতে কম-বেশী হবে।

রাসূল (ছাঃ) বলেন, মুছল্লী ছালাত আদায় করে, কেউ পায় দশভাগ নেকী, কেউ নয়ভাগ, আটভাগ, সাতভাগ, ছয়ভাগ, পাঁচভাগ, চারভাগ, তিনভাগ আবার কেউ অর্ধেক নেকী পায়’ (আহমাদ হা/১৮৯১৪, ছহীহুল জামে হা/১৬২৬)

Posted in ছালাতে দুনিয়াবী চিন্তা আসলে ছালাত কবুল হবে কি? | Tagged

অনেক মসজিদে লেখা দেখা যায়, লাল বাতি জ্বললে কেউ সুন্নাতের নিয়ত করবেন না। এভাবে লেখা কি শরী‘আত সম্মত?


মসজিদে উক্ত পদ্ধতি চালু করা ঠিক নয়। কারণ কোন ব্যক্তি যদি ছালাত পড়তে থাকে আর জামা‘আতের সময় হয়ে যায় তাহ’লে সে হাদীছের নির্দেশ মোতাবেক ছালাত ছেড়ে দিয়ে জামা‘আতে শরীক হবে (মুসলিম, মিশকাত হা/১০৫৮)। এতে ঐ ব্যক্তি পূর্ণ ছালাতের নেকী পেয়ে যাবে (বুখারী, মিশকাত হা/২৩৭৪)। উক্ত নেকী থেকে বঞ্চিত করে লাল বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করা উচিত নয়।

Posted in লাল বাতি জ্বললে সুন্নাতের নিয়ত করবেন না। এলেখা কি শরী‘আত সম্মত? | Tagged ,

জায়গার সংকীর্ণতার কারণে কাতার যেকোন একদিকে অনেক বেশী হয়ে গেলে ছালাত ত্রুটিপূর্ণ হবে কি?


জায়গার সংকীর্ণতার কারণে এরূপ হ’লে কোন অসুবিধা নেই (বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১২/২০৫; উছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ ৪/২৬৪)। স্মর্তব্য যে, ইমামকে মধ্যবর্তী ধরে কাতার ডানে ও বামে সমান সমান মুছল্লী থাকাই সুন্নাত (মুসলিম হা/৩০১০; আবুদাউদ হা/৬১৩; মিশকাত হা/১১০৭)। তবে ডানে সামান্য বৃদ্ধি করা উত্তম (মুসলিম; মিশকাত হা/৯৪৭; রাক‘আত সংখ্যা)

Posted in ছালাতে কাতার একদিকে হলে ছালাত ত্রুটিপূর্ণ হবে কি? | Tagged

ছালাত চলাকালীন সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে ছালাত রত ব্যক্তি আলো জ্বালাতে পারে কি?


এথেকে বিরত থাকাই উত্তম। কারণ সাধারণভাবে আলো না থাকা এমন কোন সমস্যা নয় যা ছালাতের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। বরং আলো জ্বালাতে গেলে ছালাতের প্রতি একাগ্রতা বিনষ্ট হয়। আর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আলো বিহীন ঘরেও ছালাত আদায় করেছেন (বুখারী হা/৫১৩, মিশকাত হা/৭৮৬)

তবে কোন ক্ষতির আশংকা থাকলে আলো জ্বালানো যেতে পারে। যেমন একদা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দরজা বন্ধ করে নফল ছালাত আদায়রত অবস্থায় আয়েশা (রাঃ) এসে দরজায় শব্দ করলে তিনি ক্বিবলার দিকে থাকা দরজা খুলে দিয়ে পুনরায় ছালাতে ফিরে যান (আবুদাঊদ, নাসাঈ, মিশকাত হা/১০০৫)

Posted in বিদ্যুৎ চলে গেলে ছালাত রত ব্যক্তি আলো জ্বালাতে পারে কি? | Tagged

সংসার দেখাশুনার জন্য আমার পিতা দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়কে ছোটবেলা থেকেই বাসায় রেখেছেন। এক্ষেণে পিতা বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ায় তাকে কিছু সম্পদ দিতে চান। শরী‘আত অনুযায়ী সে সম্পত্তির অংশ পাবে কি?


তাকে অছিয়ত স্বরূপ কিছু দান করা যাবে। যার সর্বোচ্চ পরিমাণ হচ্ছে মোট সম্পদের তিন ভাগের এক ভাগ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩০৭১, ‘অছিয়ত’ অনুচ্ছেদ)।

Posted in সম্পদ দেখা শুনার জন্য তাকে কিছু সম্পদ দেওয়া যাবে কি? | Tagged

আল্লাহ প্রদত্ত নে‘মতরাজি ইচ্ছামত ভক্ষণ করা যাবে কি?


ইচ্ছামত সবকিছু ভোগ করা যাবে না, বরং সকল ক্ষেত্রে হালাল-হারাম বাছাই করে চলতে হবে। আল্লাহর নে‘মত ভোগ করার সময় সর্বদা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতার অনুভূতি ও স্বীকৃতি থাকতে হবে (বাক্বারাহ ২/১৭২) এবং সকল প্রকারের বাড়াবাড়ি ও অপচয় হ’তে দূরে থাকতে হবে (রাফ ৭/৩১)। খাদ্যের বিষয়ে সর্বদা দু’টি মূলনীতি মনে রাখতে হবে, (ক) সেটি যেন হালাল হয় এবং (খ) পবিত্র হয় (বাক্বারাহ ২/১৬৮)। তাই হারাম ও অপবিত্র বা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বস্ত্ত খাওয়া যাবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যা খুশী খাও, পান কর, ছাদাক্বা কর, পরিধান কর। যতক্ষণ না তাতে অপচয় ও অহংকার মিশ্রিত হয়’ (ইবনু মাজাহ হা/৩৬০৫; মিশকাত হা/৪৩৮১)। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, ‘যা খুশী খাও এবং যা খুশী পরিধান কর। তবে এ বিষয় তোমাকে দু’টি ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তা হ’ল অপচয় ও অহংকার (বুখারী তালীক, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৪৩৮০, ‘পোষাকঅধ্যায়)

মিক্বদাদ বিন মা‘দীকারিব হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, পিঠ সোজা রাখার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই মাত্র খাবে। যদি তার চেয়ে অতিরিক্ত খেতেই হয়, তবে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য দ্বারা ও এক-তৃতীয়াংশ পানীয় দ্বারা পূর্ণ করবে এবং বাকী এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখবে’ (তিরমিযী হা/২৩৮০, মিশকাত হা/৫১৯২ রিক্বাক্বঅধ্যায়; ইরওয়া হা/১৯৮৩)

Posted in আল্লাহ প্রদত্ত নে‘মতরাজি ইচ্ছামত ভক্ষণ করা যাবে কি? | Tagged

‘যে ব্যক্তি চুপ থাকল সে মুক্তি পেল’ হাদীছটি কি ছহীহ? এর ব্যাখ্যা কি?


উক্ত মর্মে বর্ণিত (مَنْ صَمَتَ نَجَا) হাদীছটি ছহীহ (তিরমিযী হা/২৫০১; ছহীহাহ হা/৫৫৫; মিশকাত হা/৪৮৩৬)। উক্ত হাদীছে মন্দ কথা থেকে বিরত থাকার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে, মানুষ ভালো কথা বলা ছেড়ে দিবে। বরং যেন সে সর্বদা উত্তম কথা বলে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে অন্যথায় চুপ থাকে’ (বুখারী হা/৬০১৯; মুসলিম হা/৪৮; মিশকাত হা/৪২৪৩)। ইবনু আব্দিল বার্র বলেন, আল্লাহর যিকির করা, কুরআন তিলাওয়াত করা, সৎকর্ম করা, সত্য কথা বলা, মানুষের মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়া ইত্যাদি করা চুপ থাকা অপেক্ষা উত্তম। কেবল বাতিল কথা বলা থেকে চুপ থাকা প্রশংসনীয় (আত-তামহীদ ২২/২০)

Posted in যে ব্যক্তি চুপ থাকল সে মুক্তি পেল হাদীছটি কি ছহীহ?

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আঙ্গুল ও খাদ্যপাত্র চেটে খাওয়া এবং পাত্র হ’তে খাদ্য পড়ে গেলে উঠিয়ে খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, এর কারণ কি?


খাদ্যের কোন অংশের মধ্যে বরকত আছে, সেটি আল্লাহই সর্বাধিক অবগত। তবে চেটে খাওয়ার ফলে জিহবা দিয়ে যে লালা বের হয়, তা হযমের সহায়ক। এর দ্বারা দেহে ইনসুলিন বৃদ্ধি পায়, যা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য উপকারী। এতদ্ব্যতীত হৃদরোগ, পেটের পীড়া ও মানসিক রোগের চিকিৎসার জন্য আঙ্গুল চাটা খুবই উপকারী বলে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত (দ্রঃ ‘সুন্নতে রাসূল (সাঃ) ও আধুনিক বিজ্ঞান’ পৃঃ ১০৬-১০৭)। মানবদেহের অধিকাংশ রোগ বদহযম থেকেই উৎপত্তি হয়। অতএব হযমের সহায়ক হিসাবে আঙ্গুল চেটে খাওয়ার সুন্নাতী অভ্যাস করা অতীব যরূরী। সেই সাথে কাটা চামচ দিয়ে খাওয়ার বদভ্যাস অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

Posted in খাদ্যপাত্র চেটে খাওয়া- খাদ্য পড়ে গেলে উঠিয়ে খাওয়া যায় কি? | Tagged

জুম‘আর ছালাতে রুকূ না পেয়ে শুধু তাশাহ্হুদ পেলে কিভাবে ছালাত শেষ করতে হবে?


জুম‘আর ছালাতে কেবল তাশাহ্হুদ পেলে সালাম ফিরানোর পর দাঁড়িয়ে যোহরের চার রাক‘আত ফরয ছালাত আদায় করবে। কারণ জুম‘আর ছালাতের কমপক্ষে এক রাক‘আত না পেলে, তা জামা‘আত পাওয়া হিসাবে গণ্য হয় না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুম‘আর এক রাক‘আত পেল সে যেন তার সাথে আরেক রাক‘আত যোগ করে নেয়’ (ইবনু মাজাহ হা/১১২১)। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, যদি তুমি জুম‘আর এক রাক‘আত পাও, তবে তার সাথে আরেক রাক‘আত যোগ কর। আর যদি রুকূ না পাও, তাহ’লে চার রাক‘আত (যোহরের ছালাত) আদায় কর (মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, বায়হাক্বী ৩/২০৪; ত্বাবারাণী কাবীর, সনদ ছহীহ; ইরওয়া ৩/৮২)। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এর উপরেই অধিকাংশ ছাহাবী ও অন্যান্য বিদ্বানগণের আমল রয়েছে। তাঁরা বলেন, যে ব্যক্তি জুম‘আর এক রাক‘আত পেল, তার সাথে সে আরেক রাক‘আত মিলিয়ে নিবে। আর যে ব্যক্তি ইমামকে বসা অবস্থায় পেল, সে ব্যক্তি চার রাক‘আত পড়বে। একথাই বলেন সুফিয়ান ছাওরী, ইবনুল মুবারক, শাফেঈ, আহমাদ, ইসহাক্ব প্রমুখ বিদ্বানগণ’ (তিরমিযী হা/৫২৪-এর আলোচনা)। একই কথা বলেন, ইমাম যুহরী, মালেক, নাখঈ, হাসান বছরী, আওযাঈ প্রমুখ (নববী, আল-মাজমূ৪/৫৫৮)

অর্থাৎ জুম‘আর নিয়তে ছালাতে যোগদান করবে এবং যোহর হিসাবে শেষ করবে (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২৩৫, টীকা দ্রঃ)। ‘এর মাধ্যমে সে জামা‘আতে যোগদানের পূরা নেকী পাবে’ (বায়হাক্বী, ইরওয়া হা/৬২১; ৩/৮১-৮২)। অবশ্য রুকূ পাওয়ার সাথে সাথে তাকে ক্বিয়াম ও ক্বিরাআতে ফাতিহা পেতে হবে। কেননা ‘সূরা ফাতিহা ব্যতীত ছালাত সিদ্ধ হয় না’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৮২২)

উল্লেখ্য যে, ‘যে ব্যক্তি তাশাহহুদ পেল, সে ব্যক্তি ছালাত পেল’ মর্মে মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ-তে ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বর্ণিত আছারটি যঈফ (আলবানী, ইরওয়াউল গালীল ৩/৮২; দ্রঃ জুম‘আর ছালাত)।

Posted in জুম‘আর ছালাতে শুধু তাশাহ্হুদ পেলে কিভাবে ছালাত শেষ করতে হবে? | Tagged

আমদানী করার ক্ষেত্রে মূল্য বেশী লিখলে ট্যাক্স বেশী দিতে হয়। আবার ৫০০০ ডলারের বেশী এলসি খোলা যায় না। তাই বাকী টাকা অন্য মাধ্যমে পাঠাতে হয়। সেজন্য উদাহরণস্বরূপ মাদারবোর্ডের মূল্য অনেক কমিয়ে লিখতে হয়। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কি?


প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকটে লিখিতভাবে বা যেকোন যোগ্য মাধ্যমে জানাতে হবে। অতঃপর সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হ’লে উক্ত ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে। যালেম শাসকদের অধীনে নাগরিকদের করণীয় সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা তাদের হক তাদের দাও এবং তোমাদের হক আল্লাহর কাছে চাও’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ; মিশকাত হা/৩৬৭২)

Posted in ট্যাক্স কমানোর জন্য জিনিস পাতির মূল্য কম করে লেখা যাবে কি?

জনৈক মহিলার সার্বিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও মাহরাম নেই। এক্ষণে তার উপর হজ্জ ফরয না হ’লেও বদলী হজ্জ করানো ফরয হবে কি?


মাহরাম না থাকার কারণে তার উপর হজ্জ ফরয হয়নি। কারণ নারীর জন্য মাহরাম থাকা অপরিহার্য (বুখারী হা/১০৮৬; মিশকাত হা/২৫১৫)। এমতাবস্থায় কোন পরহেযগার ব্যক্তির মাধ্যমে বদলী হজ্জ করানো যাবে, যিনি ইতিপূর্বে নিজের হজ্জ করেছেন’ (আবূদাউদ হা/১৮১১; ইবনু মাজাহ হা/২৯০৩; মিশকাত হা/২৫২৯)। যিনি হজ্জ করাবেন ও যিনি তার পক্ষে হজ্জ করবেন, উভয়েই তাদের ইখলাছের ভিত্তিতে আল্লাহর নিকটে যথাযথ পুরস্কার পাবেন ইনশাআল্লাহ।

Posted in হজ্জ ফরয না হ’লেও বদলী হজ্জ করানো ফরয হবে কি? | Tagged ,

মাসবূক বাকী ছালাত আদায়ের ক্ষেত্রে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা যোগ করবে কি?


সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলানোর বিষয়টি নির্ভর করবে মাসবূকের রাক‘আত প্রাপ্তির উপর। মাসবূক ইমামের সাথে এক রাক‘আত পেলে দ্বিতীয় রাক‘আতে অন্য সূরা মিলাবে। আর বাকী দু’রাক‘আতে মিলাবে না। অন্যদিকে ইমামের সাথে দু’রাক‘আত পেলে বাকী দু’রাক‘আতে মিলানোর প্রয়োজন নেই। যোহর ও আছর ছালাতে প্রথম দু’রাক‘আতে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরাও পাঠ করতে হবে। আর দ্বিতীয় দু’রাক‘আতে শুধুমাত্র সূরা ফাতিহা পড়বে (ইবনু মাজাহ হা/৮৪৩; দারাকুৎনী হা/১২৪২; ইরওয়া হা/৫০৬, সনদ ছহীহ)। আর ইমামের পিছনে কেবল সূরা ফাতিহা পাঠ করলেই যথেষ্ট (মুসলিম হা/৩৯৫; আহমাদ হা/৭২৮৯; মিশকাত হা/৮২৩)

Posted in মাসবূক বাকী ছালাত আদায়ের ক্ষেত্রে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা যোগ করবে কি? | Tagged

আঘাতের মাধ্যমে কেটে যাওয়া রক্ত বের হয়ে কাপড়ে লেগে গেলে উক্ত কাপড়ে ছালাত হবে কি?


ক্ষতস্থান থেকে বের হওয়া রক্ত কাপড়ে লাগলে কাপড় অপবিত্র হবে না এবং ঐ কাপড় পরে ছালাত আদায় করা যাবে (বুখারী তরজমাতুল বাব অনুচ্ছেদ-৩৪; আবূদাউদ হা/১৯৮)। উল্লেখ্য, তিন প্রকার রক্ত অপবিত্র। যথা- হায়েয, নিফাস ও ইস্তিহাযার রক্ত, যা ধৌত করতে রাসূল (ছাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন (বুখারী হা/২২৭; মুসলিম হা/২৯১; আহমাদ, ইবনু মাজাহ হা/৬২৪, সনদ ছহীহ)

Posted in রক্ত বের হয়ে কাপড়ে লেগে গেলে উক্ত কাপড়ে ছালাত হবে কি? | Tagged

কুরবানীর গোশত বিতরণের জন্য পঞ্চায়েতে কতটুকু জমা করতে হবে?


পঞ্চায়েতভুক্ত যেসকল ব্যক্তি কুরবানী করতে পারেনি, তাদের জন্য তিনভাগের একভাগ পঞ্চায়েতে জমা করতে হবে। বাকী একভাগ স্ব স্ব বাড়ী থেকে ফকীর-মিসকীনদের মধ্যে বিতরণ করবে। বাকী একভাগ নিজেরা খাবে। প্রয়োজনে উক্ত বণ্টনে কমবেশী করায় কোন দোষ নেই (হজ্জ ৩৬; সুবুলুস সালাম শরহে বুলূগুল মারাম ৪/১৮৮; আল-মুগনী ১১/১০৮; মির‘আত ২/৩৬৯; ঐ ৫/১২০ পৃঃ; (১০) গোশত সংরক্ষণ)

Posted in কুরবানীর গোশত বিতরণের জন্য পঞ্চায়েতে কতটুকু জমা করতে হবে? | Tagged

প্রভিডেন্ট ফান্ডে সরকারী নীতি অনুযায়ী প্রদত্ত সূদের টাকা গ্রহণ করে কোন ভাল কাজে দান করে দেওয়ায় কোন বাধা আছে কি?


কোন বাধা নেই। বরং সেই টাকা তুলে জনকল্যাণ মূলক কাজে ব্যয় করাই উত্তম হবে। কারণ ব্যাংকে সে অর্থ রেখে দিলে তাতে আরও সূদ জমা হবে এবং তা আরও অধিক অন্যায় কাজে ব্যয়িত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ, ক্রমিক ১৫২৫৯, ১৩/৩৫২; নববী, আল-মাজমূ‘ ৯/৩৫১)। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, হারাম পথে উপার্জিত সকল সম্পদ ছাদাক্বা করতে হবে এবং মুসলমানদের কল্যাণে ব্যয় করে দিতে হবে (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩০/৪১৩)

Posted in সূদের টাকা দিয়ে ভাল কাজে দান করা যাবে কি? | Tagged

যমযম পানি দাঁড়িয়ে খাওয়া সুন্নাত কি?


ওযরবশতঃ যমযম পানি দাঁড়িয়ে পান করা জায়েয। আর উক্ত পানি সহ যেকোন পানাহার বসে করাই সুন্নাত। হাদীছে দাঁড়িয়ে পান করার ব্যাপারে কঠোর ধমকি এসেছে (মুসলিম হা/২০২৪; মিশকাত হা/৪২৬৬, ৬৭)। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, দাঁড়িয়ে পানকারী ব্যক্তি যদি জানতো এতে কি ক্ষতি রয়েছে, তাহ’লে সে তা বমি করে দিত’ (আহমাদ হা/৭৭৯৫-৯৬; ছহীহাহ হা/১৭৬)

তবে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বিদায় হজ্জের সময় (ভিড়ের মধ্যে) যমযমের পানি দাঁড়িয়ে পান করেছেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪২৬৮) এবং আলী (রাঃ) কূফার মসজিদের আঙিনায় ওযূ করার পর অতিরিক্ত পানি দাঁড়িয়ে পান করেন ও বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে দাঁড়িয়ে পানি পান করতে দেখেছি (বুখারী হা/৫৬১৬; মিশকাত হা/৪২৬৯) মর্মে বর্ণিত হাদীছগুলি সম্পর্কে ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেন, প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে পান করা যে জায়েয, সেটা বুঝানোর জন্যই রাসূল (ছাঃ) এরূপ করেছেন (ফাৎহুল বারী হা/২৬১৫-১৬-এর আলোচনা)। ইমাম নববীও একই মন্তব্য করেছেন (শরহ নববী হা/২০২৭-এর আলোচনা)। ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেন, দাঁড়িয়ে পান থেকে বিরত থাকাই সঠিক। তবে ওযরবশতঃ জায়েয (যাদুল মাআদ ১/১৪৩-৪৪)। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, হজ্জের সময় ভিড়ের কারণে বসার সুযোগ না থাকায় তিনি দাঁড়িয়ে পান করেছিলেন এবং এটাই ছিল তাঁর শেষ আমল (মাজমূফাতাওয়া ৩২/২১০)

মোদ্দাকথা যেকোন খানা-পিনা বসে করাই শরী‘আতের নির্দেশনা এবং এটাই সর্বোত্তম (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ২২/১৩৩)। অতএব যমযম পানিও বসে পান করা যাবে (আলবানী, অডিও টেপ নং ৫)

Posted in যমযম পানি দাঁড়িয়ে খাওয়া সুন্নাত কি?

যাকাতের অর্থ দিয়ে ইয়াতীমদের জন্য কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্র, হাসপাতাল বা বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ করে দেওয়ায় কোন বাধা আছে কি?


ইয়াতীম বা বৃদ্ধ সরাসরি যাকাতের হকদার নন। তবে এদের মধ্যে যারা দুস্থ, অসহায় ও দরিদ্র, কেবল তাদের কল্যাণার্থে ও উন্নতিকল্পে যাকাতের সম্পদ থেকে উপরোক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ নির্মাণ করা যাবে (তওবা ৯/৬০)। শর্ত হ’ল এসব প্রতিষ্ঠান কেবল এরূপ অসহায়দের কল্যাণেই ব্যবহার করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের মাধ্যমে এতে কোন লভ্যাংশ এসে থাকলেও তা উক্ত অসহায়দের কল্যাণেই ব্যবহার করতে হবে।

Posted in যাকাতের অর্থ দিয়ে ইয়াতীমদের বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ করে দেওয়া যাবে কি?

ছালাতরত অবস্থায় কেউ সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে তাকে কিভাবে মারা উচিত। বিশেষতঃ বয়সে বড় হ’লে মারা যাবে কি?


সামনে দিয়ে কেউ গেলে মারতে বলা হয়নি। বরং তাকে হাত দিয়ে প্রতিহত করতে বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ কোন বস্ত্তকে সম্মুখে রেখে ছালাত আদায় করবে যা তার জন্য লোকদের থেকে সুৎরা বা পর্দা স্বরূপ হবে। এমতাবস্থায় তার সম্মুখ দিয়ে যদি কেউ অতিক্রম করতে চায়, তাহ’লে সে যেন তাকে প্রতিরোধ করে। এরপরেও যদি কেউ বাধা মানতে অস্বীকার করে, তবে তার সাথে যেন লড়াই করে। কেননা সে শয়তান’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৭৭৭ ‘ছালাত’ অধ্যায় ‘সুৎরা’ অনুচ্ছেদ)। উক্ত হাদীছ দ্বারা মূলতঃ মুছল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞার গুরুত্ব বুঝানো হয়েছে। সুতরাং শিষ্টাচার বজায় রেখে প্রতিহত করবে।

Posted in ছালাতের সামনে দিয়ে গেলে ছালাতরত অবস্থায় তাকে কিভাবে মারা উচিত? | Tagged

জনৈক যুবকের যে পরিমাণ সম্পদ আছে, তাতে হজ্জ করা সম্ভব। কিন্তু তার বিবাহেরও বয়স হয়েছে। এক্ষণে কোনটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া তার জন্য কর্তব্য হবে?


বিবাহ না করার কারণে গুনাহে লিপ্ত হওয়ার আশংকা করলে প্রথমে বিবাহ করবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘হে যুব সমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহ করতে সক্ষম, সে যেন বিবাহ করে। কেননা বিবাহ চক্ষুকে অবনমিত ও লজ্জাস্থানকে সংযত রাখে’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩০৮০ ‘বিবাহ’ অধ্যায়)। আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তোমরা তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও। …যদি তারা নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দিবেন’ (নূর ২৪/৩২)। বিবাহ করায় সমস্যা থাকলে হজ্জ করবে। উল্লেখ্য যে, ‘বিবাহের পূর্বে হজ্জ আবশ্যক’ এবং ‘যে হজ্জ করার পূর্বে বিবাহ করল, সে পাপ দ্বারা শুরু করল’ মর্মে বর্ণিত হাদীছ দু’টি মওযূ বা জাল (আলবানী, সিলসিলা যঈফাহ হা/২২১-২২)

Posted in হজ্জ নাকী বিবাহ আগে করতে হবে? | Tagged ,

বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সময় টোপের খাবার হিসাবে জীবন্ত কেঁচো যুক্ত করে দেই। এটি অপ্রয়োজনে জীব হত্যার পাপ হিসাবে গণ্য হবে কি?


পাপ হবে না। কারণ কেঁচোকে প্রয়োজনেই ব্যবহার করা হচ্ছে। আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই সেই সত্তা, যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবকিছু’ (বাক্বারাহ ২/২৯)। অর্থাৎ সবকিছুই মানুষের উপকারের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে বিনা প্রয়োজনে কোন জীবকে হত্যা করা যাবে না (নাসাঈ হা/৪৩৪৯; মিশকাত হা/৪০৯৪)

Posted in জীবকে বিনা প্রয়োজনে হত্যা করা যাবে কি ? | Tagged

ছালাতরত অবস্থায় কোন রুকন যেমন রুকূ বা সিজদা করা হয়নি- এরূপ সন্দেহের সৃষ্টি হলে কেবল সহো সিজদা দিলেই চলবে না এক রাক‘আত পুনরায় আদায় করতে হবে?


রুকূ-সিজদা ছালাতের রুকন। আর রুকন তরক করলে ছালাতও বাতিল হয়। তাই এরূপ অবস্থায় এক রাক‘আত অতিরিক্ত আদায় করতে হবে এবং সহো সিজদা দিতে হবে (উছায়মীন, শারহুল মুমতে৩/৩৭১-৭২; আব্দুল্লাহ বিন বায, মাজমূফাতাওয়া ১১/২৭৭)

স্মর্তব্য যে, ছালাতের কোন রুকন আদায় করতে ভুলে গেলে তা পুনরায় আদায় করতে হয় এবং সহো সিজদা দিতে হয়। একদা রাসূল (ছাঃ) ভুলবশতঃ রাক‘আত সংখ্যা কম হ’লে তিনি বাকী রাক‘আত আদায় করেন এবং সহো সিজদা দেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১০১৭)। আর কোন ওয়াজিব বা সুন্নাত ছেড়ে দিলে কেবল দু’টি সহো সিজদা দিলেই যথেষ্ট হবে। যেমন একবার প্রথম তাশাহহুদ ছুটে গেলে তিনি কেবল সহো সিজদা দেন (বুখারী হা/৮২৯; মুসলিম হা/৫৭০; মিশকাত হা/১০১৮)

Posted in ছালাতে সিজদা করা হয়নি সন্দেহ হলে সহো সিজদা দিলেই চলবে কি? | Tagged ,

আমাদের এলাকায় অনেকে মেধা বৃদ্ধির জন্য ব্যাঙ খায়। এটা কি হালাল হবে?


না। কারণ রাসূল (ছাঃ) ব্যাঙ মারতে নিষেধ করেছেন (বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা হা/১৯১৬২; ইবনু মাজাহ হা/৩২২৩, সনদ ছহীহ)। এমনকি ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করতেও নিষেধ করেছেন’ (আবুদাউদ হা/৩৮৭১; মিশকাত হা/৪৫৪৫, সনদ ছহীহ)। উপরন্তু ‘ব্যাঙ খেলে মেধা বৃদ্ধি পায়’ কথাটিই একটা কুসংস্কার। শরী‘আতে বা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর কোন ভিত্তি নেই।

Posted in কচ্ছপ ও ব্যাঙ খাওয়া যাবে কি? কেউ খেয়ে ফেললে তার জন্য করণীয় কি?, ব্যাঙ কেটে পরীক্ষা করা জায়েয কি?, ব্যাঙ খাওয়া যাবে কি?, ব্যাঙ, কুঁচে, চিংড়ি এবং কচ্ছপ ও তার ডিম খাওয়া কি জায়েয? | Tagged ,

শীতকালে রাতে ঘর গরম করার জন্য আগুন জ্বালিয়ে ঘুমানো কি জায়েয?


জায়েয নয়। এতে নিজের ও প্রতিবেশীদের জন্য প্রভূত ক্ষতির আশংকা রয়েছে। সেকারণ এথেকে রাসূল (ছাঃ) নিষেধ করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘তোমরা ঘুমানোর সময় তোমাদের ঘরে আগুন জ্বালিয়ে রেখো না’ (বুখারী হা/৬২৯৩; মুসলিম হা/২০১৫)। অন্য হাদীছে এসেছে, এক রাতে মদীনায় একটি বাড়ী পুড়ে গেলে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘নিশ্চয়ই এ আগুন তোমাদের শত্রু। সুতরাং যখন তোমরা ঘুমাবে, তখন আগুন নিভিয়ে ঘুমাবে’ (বুখারী হা/৬২৯৪; মুসলিম হা/২০১৬)। তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা ঘুমানোর সময় বাতি নিভিয়ে দিবে’ (বুখারী হা/৫৬২৪; মুসলিম হা/২০১২)। ঘর গরম করার জন্য নয়, বরং শরীর গরম করার জন্য লেপ-কাঁথা গায়ে দেওয়াই যথেষ্ট। তবে চোর-ডাকাত থেকে সাবধানতা অবলম্বনের জন্য গৃহের বাইরে আলো জ্বেলে রাখা যাবে।

Posted in আগুন জ্বালিয়ে ঘুমানো কি জায়েয?, ঘর গরম করার জন্য আগুন জ্বালিয়ে ঘুমানো কি জায়েয?

মৃত ব্যক্তির সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করার যে রীতি সমাজে প্রচলিত রয়েছে, তা শরী‘আতসম্মত কি?


এটি সম্পূর্ণরূপে শরী‘আত বিরোধী কাজ এবং অমুসলিমদের অনুকরণে সৃষ্ট। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে ব্যক্তি সেই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে’ (আহমাদ, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩৪৭ ‘পোষাক’ অধ্যায়)

Posted in মৃত ব্যক্তির সম্মানে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা শরী‘আতসম্মত কি?

পিতার সম্মতিক্রমে বা অবর্তমানে দাদা, নানা বা অন্য আত্মীয়-স্বজন বা প্রতিবেশীরা কারু আকীকা দিতে পারবে কি?


নবজাতকের যেকোন বৈধ অভিভাবক আকীকা দিতে পারবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) নানা হয়ে দুই নাতি হাসান ও হোসাইন (রাঃ)-এর আকীকা দিয়েছিলেন (নাসাঈ হা/৪২১৩; মিশকাত হা/৪১৫৫; ইরওয়া হা/১১৬৪, সনদ ছহীহ)

Posted in পিতার অবর্তমানে প্রতিবেশীরা কারু আকীকা দিতে পারবে কি? | Tagged ,

ভালো বা মন্দ কোন কিছু দেখলে বা সংবাদ আসলে পঠিতব্য কোন দো‘আ আছে কি?


মন্দ কোন কিছু দেখলে বা শুনলে ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেঊন’ পাঠ করবে (বাক্বারাহ ২/১৫৬) । আর ভালো কোন সংবাদ আসলে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলবে (মুসলিম হা/২৯৯৯; মিশকাত হা/৫২৯৭)। তাছাড়াও নিম্নের দো‘আটি পাঠ করা যায়। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিনাল খাইরি কুল্লিহি ‘আজিলিহী ওয়া আ-জিলিহী মা ‘আলিমতু মিনহু ওয়ামা লাম আ‘লাম। ওয়া আউযু বিকা মিনাশ শার্রি কুল্লিহী ‘আ-জিলিহী ওয়া আ-জিলিহী মা আ‘লিমতু মিনহু ওয়ামা লাম আ‘লাম। অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! দুনিয়া ও আখেরাতের আমার জানা-অজানা আগে-পরের যত কল্যাণ ও নে‘মত আছে তা সবই আমি চাই। দুনিয়া ও আখিরাতের আমার জানা-অজানা আগে-পরের সকল অকল্যাণ থেকে আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই’ (আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৬৩৯; আহমাদ হা/২৫৬৩; ছহীহাহ হা/১৫৪২)

Posted in ভালো বা মন্দ কোন কিছু দেখলে পঠিতব্য কোন দো‘আ আছে কি?

সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও অবস্থানগত কারণে কুরবানী করার সুযোগ না থাকলে সমপরিমাণ মূল্য দান করে দিলে তাতে কুরবানীর নেকী পাওয়া যাবে কি?


নেকী পাওয়া যাবে না। এমতাবস্থায় নিজে করতে না পারলে পিতা-মাতা বা আত্মীয়-স্বজনকে দিয়ে কুরবানী করিয়ে নেওয়ায় বাধা নেই।

Posted in কুরবানীর বদলে দান করলে সমান নেকী পাওয়া যাবে কি? | Tagged

কাউকে ‘মুনশী’ বলা যাবে কি? এটা কি শিরক হবে?


‘মুনশী’ আল্লাহ তা‘আলার কোন নাম নয়। সুতরাং এটা বলায় কোন দোষ নেই। ‘মুনশী’ (আরবী) অর্থ লেখক, প্রবন্ধকার, সুন্দর হস্ত লিখনে পারদর্শী। ‘মুনশীখানা’ (ফারসী) অর্থ অফিস বা অফিস সংলগ্ন কক্ষ। যেখানে ফাইলপত্র থাকে। ‘মুনশীগিরী’ অর্থ কেরানীগিরী। তবে যদি কেউ ‘মুনশী’ (আরবী) বলতে ‘নতুন সৃষ্টিকারী’ (مُنْشِئٌ) বা আল্লাহ বুঝেন, তবে সেটি কুফরী হবে। উপমহাদেশে ‘মুনশী’ শব্দটি আদালতের কেরানী, মসজিদের খাদেম বা ইমাম কিংবা সম্মানিত বংশীয় লকব হিসাবে প্রচলিত। অতএব প্রচলিত অর্থে ‘মুনশী’ বলায় মুশরিক বা কাফের হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

Posted in মুনশী কাউকে বলা যাবে কি? এটা কি শিরক হবে? | Tagged

ফজরে ও মাগরিবের সুন্নাত ছালাতে সূরা কাফেরূন ও ইখলাছ একাধিকবার পাঠ করার বিষয়টি সঠিক কি?


ফজরের ও মাগরিবের সুন্নাত ছালাতে সূরা কাফেরূন ও সূরা ইখলাছ একাধিকবার পাঠ করার বিষয়টি হাদীছ সম্মত (আহমাদ হা/৪৭৬৩; নাসাঈ হা/৯৯২; ছহীহাহ হা/৩৩২৮)। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, আমি অগণিত বার রাসূল (ছাঃ)-কে ফজরের পূর্বের দুই রাক‘আতে এবং মাগরিবের পরের দুই রাক‘আতে সূরা কাফেরূন ও সূরা ইখলাছ পড়তে দেখেছি (তিরমিযী হা/৪৩১; মিশকাত হা/৮৫১, সনদ হাসান ছহীহ)

Posted in ছালাতে সূরা কাফেরূন ও ইখলাছ একাধিকবার পাঠ করার বিষয়টি সঠিক কি? | Tagged

বিবাহের পর স্ত্রী পড়াশুনা চালিয়ে যেতে চায়। কিন্তু স্বামী তাতে রাযী নয়। এক্ষণে উক্ত স্ত্রীর জন্য করণীয় কি?


বিবাহের পর স্বামীই তার স্ত্রীর মূল অভিভাবক। অতএব স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধাচরণ করা জায়েয হবে না। তিনি অন্যায়ভাবে এরূপ করে থাকলে স্ত্রী নিজে বা অন্য কারু মাধ্যমে তাকে বুঝানোর চেষ্টা করবে। কিন্তু কোনক্রমেই তার অবাধ্য হবে না। রাসূল (ছাঃ) জনৈকা মহিলাকে বলেন, স্বামী তোমার জান্নাত ও জাহান্নাম (আহমাদ হা/১৯০২৫, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৬১২)। অন্য হাদীছে এসেছে, স্বামীর অবাধ্যতার কারণে মহিলারা বেশী বেশী জাহান্নামে যাবে (বুখারী হা/১০৫২; মিশকাত হা/১৪৮২)। তবে স্ত্রী দ্বীনী ইলম শিখতে চাইলে স্বামীর উচিত তাতে সহযোগিতা করা। এর দ্বারা স্বামী নিজেও নেকী পাবেন।

Posted in বিবাহের পর স্ত্রী পড়াশুনা চাইলে স্বামী তাতে রাযী না হলে করণীয় কি? | Tagged