সূরা রহমানের ‘ফাবিআইয়ে আলা-ই রবিবকুমা তুকাযযিবান’ পাঠ করার পর বা শোনার পর প্রতিবার কি ‘লা বি শায়ইন মিন নি‘আমিকা রববানা নুকাযি্যবু ফালাকাল হাম্দ’ বলতে হবে?


রাসূল (ছাঃ) থেকে উক্ত দো‘আটি পাঠের কোন দলীল পাওয়া যায় না। তবে রাসূল (ছাঃ) জিনদের সামনে সূরা রহমান পাঠ করলে উক্ত আয়াতের জওয়াবে জিনেরা প্রতিবার উত্তরটি দিয়েছিল বলে রাসূল (ছাঃ) ছাহাবীদেরকে সংবাদ দিয়েছিলেন (তিরমিযী হা/৩২৯১; ছহীহাহ হা/২১৫০)। যা তাঁর অনুমোদনের ইঙ্গিতবাহী হিসাবে কোন কোন বিদ্বান দো‘আটি পাঠ করা মুস্তাহাব বলেছেন। যেহেতু উক্ত হাদীছে রাসূল (ছাঃ) ছাহাবীদের চুপ থাকা দেখে বলেছিলেন, ‘জিনেরা তোমাদের চাইতে উত্তম জবাবদাতা ছিল’ সেহেতু ক্বিরাআত শেষে অন্ততঃ একবার উক্ত দো‘আ পাঠের মাধ্যমে জওয়াব দেওয়া ‘মুস্তাহাব’ বলে অনুমিত হয়।

মিশকাত-এর ভাষ্যকার ওবায়দুল্লাহ মুবারকপুরী (রহঃ) বলেন, ছালাতের মধ্যে হৌক বা বাইরে হৌক, পাঠকারীর জন্য উপরোক্ত আয়াত সমূহের জওয়াব দেওয়া মুস্তাহাব। যা বর্ণিত হাদীছ সমূহে উল্লেখিত হয়েছে। কিন্তু শ্রোতা বা মুক্তাদীর জন্য উপরোক্ত আয়াত সমূহের জওয়াব দেওয়ার প্রমাণে স্পষ্ট কোন মরফূ হাদীছ আমি অবগত নই। তবে আয়াতগুলিতে প্রশ্ন রয়েছে। সেকারণ জওয়াবের মুখাপেক্ষী। কাজেই পাঠকারী ও শ্রোতা উভয়ের জন্য উত্তর দেওয়া বাঞ্ছনীয় (মির‘আত (বেনারস, ভারত ১৪১৫/১৯৯৫) ৩/১৭৫ পৃ.)। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, বক্তব্যটি মুৎলাক্ব অর্থাৎ সাধারণভাবে এসেছে। অতএব তা ছালাত ও ছালাতের বাইরে এবং ফরয ও নফল সব ছালাতকে শামিল করে। তিনি ‘মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা’র বরাতে একটি ‘আছার’ উদ্ধৃত করেন এই মর্মে যে, ছাহাবী আবু মূসা আশ‘আরী ও মুগীরা বিন শো‘বা (রাঃ) ফরয ছালাতে উক্ত জওয়াব দিতেন। ওমর ও আলী (রাঃ) সাধারণভাবে সকল অবস্থায় জওয়াব দিতেন (আলবানী, ছিফাতু ছালা-তিন্নবী, পৃ. ৮৬ হাশিয়া; ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ১৫১-৫২ পৃ.)

তবে শায়খ বিন বায এবং উছায়মীন (রহঃ) প্রমুখ বিদ্বান প্রথমোক্ত হাদীছটির দুর্বলতার প্রতি ইঙ্গিত করে দো‘আটি পাঠের ব্যাপারে আপত্তি করেছেন (দ্র. ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট : শায়খ বিন বায)

Advertisements
Posted in সূরা রহমান পাঠ করা বা শোনার পর দো’আ বলতে হবে কি? | Tagged

কুকুর আল্লাহর সৃষ্টি। অথচ তা বাড়িতে প্রতিপালন করা নিষেধ, এমনকি প্রতিদিনের বিপরীতে এক ক্বীরাত্ব বা দু’ক্বীরাত নেকী কমে যায়। এর কারণ কি?


শূকরের মত কুকুরও সত্ত্বাগতভাবে নাপাক। সেকারণে কুকুর পালনে নিষেধ করা হয়েছে (মুসলিম হা/১৫৭৪, ২১০৬)। তাছাড়া কুকুরের লালা ও মলমূত্র মুছল্লীর কাপড়ে লাগলে কাপড় অপবিত্র হয়ে যায় (তায়সীরুল আল্লাম ২/২০৯)। এদের লালায় ভয়ংকর জীবাণু থাকে, যার স্পর্শকৃত পাত্র সাতবার ধৌত করার বিধান রয়েছে (মুসলিম হা/২৭৯, ২৮০, উছায়মীন, শরহ রিয়াযুছ ছালেহীন ৬/৪২৯-৪৩০)। এমনকি এই প্রাণী বাড়িতে থাকলে সে বাড়ীতে রহমতের ফেরেশতারা প্রবেশ করে না (বুখারী হা/৩৩২২)। তবে সব কুকুর পালন নিষিদ্ধ নয়। যেমন শিকারের কাজে ব্যবহৃত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর এবং পাহারায় নিয়োজিত কুকুর পালন করা জায়েয (মায়েদা ৫/৪; বুখারী হা/২৩২২; মুসলিম হা/১৫৭৪)। তবে এমন কুকুরকেও গৃহাভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না (বুখারী হা/৩৩২২)

Posted in কুকুরকে বাড়ীতে পাললে নেকী কমে যায় কেনো? | Tagged , ,

আমি আমার আত্মীয়ের নিকট থেকে বাজার মূল্যে জমি ক্রয় করব এবং রেজিস্ট্রেশনের সময় হেবা (দানপত্র) হিসাবে দেখাব। এটা জায়েয হবে কি?


সরকার কর্তৃক বর্তমানে অত্যধিক হারে গৃহীত জমি রেজিস্ট্রি ফী নিঃসন্দেহে জনগণের উপর যুলুম। তবুও তা ফাঁকি দেয়ার জন্য প্রশ্নে উল্লেখিত কৌশল কিংবা কোন অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করা উচিৎ হবে না। কেননা যালেম শাসকদের অধীনে বসবাসরত নাগরিকদের করণীয় সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা তাদের হক তাদের দিয়ে দাও এবং তোমাদের হক আল্লাহর কাছে চাও’ (মুত্তাফাক আলাইহ, মিশকাত হা/৩৬৭২)

Posted in জমি রেজিস্ট্রেশনের সময় হেবা (দানপত্র) হিসাবে রেজিস্ট্রি করলে জায়েয হবে কি? | Tagged ,

‘গাযওয়াতুল হিন্দ’ নামে এক যুদ্ধের কথা কোন কোন বক্তা প্রচার করে থাকেন। উক্ত যুদ্ধের সত্যতা ও বিবরণ সম্পর্কে জানতে চাই। এছাড়া আরেক শতাব্দী পর মুসলমানরা ইসলামী খেলাফত ফিরে পাবে মর্মে কোন ভবিষ্যদ্বাণী আছে কি?


গাযওয়াতুল হিন্দ’ নামে এক যুদ্ধের বর্ণনা বিভিন্ন হাদীছে রয়েছে, যার মধ্যে একটিমাত্র ছহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে। যেমন ছাওবান (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের দু’টি দল রয়েছে যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন। তাদের একটি দল হিন্দুস্থানের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। আরেকটি দল যারা ঈসা (আঃ)-এর পক্ষে থাকবে’ (নাসাঈ হা/৩১৭৫; আহমাদ হা/২২৪৪৯; ছহীহাহ হা/১৯৩৪)। উপরোক্ত হাদীছে হিন্দুস্থানের যে যুদ্ধে বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী রাসূল (ছাঃ) করেছিলেন, তা ইতিমধ্যে ঘটে গেছে। কেননা মুসলমানগণ হিন্দুস্থানে বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করেছেন। যেমন ওমর (রাঃ)-এর খেলাফতকালে সর্বপ্রথম ১৫ হিজরীতে ওছমান বিন আবুল ‘আছের নেতৃত্বে একটি সেনাদল প্রেরিত হয়। যারা হিন্দুস্থানের থানা, ব্রূছ ও দেবল বন্দরে সফল অভিযান পরিচালনা করেন। থানাকে বর্তমানে মুম্বাই, ব্রূছকে গুজরাট এবং দেবলকে করাচী বলা হয়। তারা এ সময় ‘সরনদীব’ জয় করেন। যাকে বর্তমানে শ্রীলঙ্কা বলা হয় (আতহার মুবারকপুরী, আল-ইক্বদুছ ছামীন ফী ফুতূহিল হিন্দ (কায়রো :  দারুল আনছার, ২য় সংস্করণ ১৩৯৯ হি./১৯৭৯) ১/২৬, ৪০, ৪২, ৪৪)। অতঃপর মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর খেলাফতকালে (৪১-৬০ হি.) হিন্দুস্থানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালিত হয় (আল-বিদায়াহ ৬/২২৩)। এরপর ৯৩ হিজরীতে খলীফা ওয়ালীদ বিন আব্দুল মালিকের আমলে (৮৬-৯৬ হি.) মুহাম্মাদ বিন কাসেম ছাক্বাফী-র নেতৃত্বে সিন্ধু ও হিন্দুস্থান বিজিত হয় (আল-বিদায়াহ ৯/৭৭, ৯৫; আল-ইক্বদুছ ছামীন ১/১৪১-৪২)। এছাড়া ৫ম শতাব্দী হিজরীর প্রথম দিকে গযনীর সুলতান মাহমূদ (৩৮৮-৪২১ হি.) হিন্দুস্থানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি ভারতের বিখ্যাত সোমনাথ মন্দিরে প্রবেশ করে সকল মূর্তি ভেঙ্গে চুরমার করেন। অতঃপর বিজয়ী হয়ে ফিরে আসেন (আল-বিদায়াহ ৬/২২৩, ১২/৩০; আহলেহাদীছ আন্দোলন ২০৬-২০৮ পৃ.)

অপরপক্ষে হযরত আবু হুরায়রাহ, কা‘ব ও ছাফওয়ান বিন ‘আমর (রাঃ) থেকে দুর্বল সূত্রে এ বিষয়ে কিছু হাদীছ বর্ণিত হয়েছে যে, ‘হিন্দুস্থানের নেতাদেরকে মুসলিম সেনারা বেড়ীবদ্ধ অবস্থায় শামে নিয়ে যাবে। অতঃপর ঈসা (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করবে’। যেগুলির সবই যঈফ (নাসাঈ হা/৩১৭৩-৭৪; আহমাদ হা/৭১২৮; হাকেম হা/৬১১; নু‘আঈম বিন হাম্মাদ, আল-ফিতান  হা/১২০২, ১২১৫, ১২৩৬)। এসকল যঈফ বর্ণনা থেকে অনেকে ধারণা করেন যে, এই গাযওয়াতুল হিন্দ ক্বিয়ামতের পূর্বকালে সংঘটিত হবে। দ্বিতীয়ত, ক্বিয়ামতের পূর্বে ইমাম মাহদীর মাধ্যমে ইসলামী খেলাফত পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে এবং যা সাত বছর অব্যাহত থাকবে-মর্মে রাসূল (ছাঃ)-এর ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে (আবূদাঊদ হা/৪২৮৪-৮৫; মিশকাত হা/৫৪৫৩-৫৪; ছহীহাহ হা/১৫২৯)। তবে সেই খেলাফত এখন থেকে এক শতাব্দীকাল পর প্রতিষ্ঠিত হবে, এমন কোন সময়সীমা নির্দিষ্ট করার সুযোগ নেই।

Posted in গাযওয়াতুল হিন্দ’ নামে যুদ্ধের সত্যতা আছে কি? | Tagged ,

গ্রামে গেলে বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা ব্যক্তি মালিকানাধীন ফল আমরা খেয়ে থাকি। এটা কতটুকু জায়েয হবে?


খোলা বাগানে বৃক্ষের নীচে পড়ে থাকা ফল কুড়িয়ে খাওয়া জায়েয। আর যদি বাগান প্রাচীর দিয়ে ঘেরা থাকে তাহ’লে মালিক বা তার প্রতিনিধিকে ডেকে অনুমতি নিবে। মালিক না থাকলে ফল কুড়িয়ে বা পেড়ে খাওয়া যাবে। তবে ফল বেঁধে বাড়ি নেওয়া যাবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমাদের কেউ কোন বাগানের কাছ দিয়ে গেলে সে ইচ্ছা করলে ফল খাবে, কিন্তু কাপড়ে বেঁধে নিয়ে যাবে না (ইবনু মাজাহ হা/২৩০১, তিরমিযী হা/১২৮৭; মিশকাত হা/ ২৯৫৪; ইরওয়া হা/২৫১৭)। তিনি আরো বলেন, ‘তুমি গবাদিপশুর পালের নিকট পৌঁছে তার রাখালকে উচ্চৈঃস্বরে তিনবার ডাক দিবে। সে তোমার ডাকে সাড়া দিলে তো ভালো, অন্যথায় তুমি তার দুধ পান কর, ক্ষতিসাধন না করে। আর তুমি কোন ফলের বাগানে পৌঁছে বাগানের মালিককে তিনবার ডাক দিবে। সে তোমার ডাকে সাড়া দিলে তো ভালো, অন্যথায় তুমি ক্ষতি না করে তা থেকে পেড়ে খাও (ইবনু মাজাহ হা/২৩০০; ছহীহুল জামে‘ হা/২৭৪)। উল্লেখ্য যে, কোন এলাকায় গাছের নীচে পড়ে থাকা ফল বাড়ি নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে যদি সাধারণ নিয়ম থাকে তাহ’লে তা বেঁধে নিয়ে যাওয়াতে দোষ নেই (ইবনু কুদামা, মুগনী ৯/৪১৭; নববী, আল মাজমূ ৯/৫৪; উছায়মীন, আশ শারহুল মুমতে‘ ৬/৩৩৯)

গোবারা বংশের জনৈক ছাহাবী ক্ষুধার্ত অবস্থায় মদীনার এক বাগানে গিয়ে ফল ছিঁড়ে কিছু খান এবং কিছু কাপড়ে বেঁধে নেন। এ সময় বাগানের মালিক এসে তাকে প্রহার করে এবং তার কাপড় কেড়ে নেয়। অতঃপর তিনি বিষয়টি রাসূল (ছাঃ) কে অবহিত করলে তিনি লোকটিকে বললেন, তুমি তাকে খেতে দাওনি যখন সে ক্ষুধার্ত। তুমি তাকে শিখিয়ে দাওনি যখন সে অজ্ঞ। তিনি তাকে কাপড় ফেরত দিতে বললেন এবং এক ওয়াসাক্ব (৬০ ছা‘) অথবা আধা ওয়াসাক্ব খাদ্য প্রদানের আদেশ দিলেন (ইবনু মাজাহ হা/২২৯৮)

Posted in বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা ব্যক্তি মালিকানাধীন ফল খাওয়া জায়েয হবে কি? | Tagged , ,

আহলে ছহীহ হাদীছ বলা যাবে কি? কোন ইমাম কি এরূপ নাম ব্যবহার করেছেন?


’আহলে ছহীহ হাদীছ’ নাম সালাফে ছালেহীন থেকে বর্ণিত হয়নি। তার কোন প্রয়োজনও নেই। কেননা আহলে হাদীছ তথা হাদীছের অনুসারী বলতে ছহীহ হাদীছের অনুসারীকেই বুঝানো হয়। তাছাড়া আহলেহাদীছ শব্দটি কুরআন ও হাদীছ উভয়কে শামিল করে।

Posted in আহলে ছহীহ হাদীছ বলা যাবে কি? কোন ইমাম কি এরূপ নাম ব্যবহার করেছেন? | Tagged ,

মিনায় অবস্থিত মসজিদে খায়ফের নামকরণের কারণ কি? এই মসজিদের বিশেষ কোন মর্যাদা আছে কি?


খায়েফ বলা হয় এমন স্থানকে যা পাহাড়ের ঢালু অংশে এবং পানির প্রবাহ থেকে উঁচুতে অবস্থিত (আন-নিহায়াতু ফী গারীবিল আছার ২/১৯৪)। মিনার দক্ষিণে ছোট জামরার নিকটে এই প্রাচীন মসজিদটি অবস্থিত। উক্ত মসজিদের মর্যাদা হ’ল এখানে মূসা (আঃ) সহ ৭০ জন নবী-রাসূল ছালাত আদায় করেছিলেন। রাসূল (ছাঃ) মিনায় অবস্থান কালে এই মসজিদে ছালাত আদায় করতেন (ত্বাবারাণী আওসাত্ব হা/৫৪০৭; ছহীহাহ হা/২০২৩; ছহীহুত তারগীব হা/১১২৭)। বর্তমানে বৃহদাকারে মসজিদটি নির্মিত হয়েছে এবং একসঙ্গে এখানে প্রায় ৪৫ হাযার মুছল্লী ছালাত আদায় করতে পারে।

Posted in মিনায় অবস্থিত মসজিদে খায়ফের বিশেষ কোন মর্যাদা আছে কি? | Tagged ,

মেয়ের অভিভাবক অশিক্ষিত হওয়ায় ছেলে পক্ষের জনৈক ব্যক্তিকে উকীল বানিয়ে বিবাহ পড়ানো হয়েছে। উক্ত বিবাহ সঠিক হয়েছে কি?


মেয়ের পিতার পক্ষ থেকে উকীল নিযুক্ত করায় উক্ত বিবাহ সঠিক হয়েছে। মেয়ের পিতা যে কাউকে ওলী নিযুক্ত করে বিবাহ পড়ানোর ব্যবস্থা করলে তা জায়েয (ইবনু কুদামা, আল-মুগনী ৭/১৯; উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ১২/৩৭, ৯৩)। অতএব এজন্য দ্বিতীয়বার বিবাহ পড়ানোর প্রয়োজন নেই। তবে সর্বদা খেয়াল রাখতে হবে যে, ওলী নিকটাত্মীয়দের মধ্যে হওয়াটা সর্বোত্তম। উল্লেখ্য যে, ইসলামী শরী‘আতে ‘উকীল বাপ’ বলে কিছু নেই, যা বর্তমান সমাজে চালু রয়েছে।

Posted in বিবাহ ছেলে পক্ষের ব্যক্তিকে উকীল বানিয়ে পড়ানো যাবে কি? | Tagged

যেকোন কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে পরে মনে পড়লে ‘বিসমিল্লাহি আওয়ালুহু ওয়া আখিরুহু’ সর্বক্ষেত্রে বলা যাবে কি?


খাওয়ার সময় ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে ‘বিসমিল্লাহ’ বললেই যথেষ্ট হবে। কারণ খাওয়ার সময়ের ব্যাপারে স্পষ্ট হাদীছ এসেছে (আবুদাউদ হা/৩৭৬৭; মিশকাত হা/৪২০২; ছহীহুত তারগীব হা/২১০৭)। অতএব কেউ কোন কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে যখন মনে পড়বে তখনই শুধু  বিসমিল্লাহ কিংবা বিসমিল্লাহি আওয়ালুহু ওয়া আখিরুহু বলবে (নববী, আল-মাজমূ‘ ১/৩৪৫)

Posted in বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে পরে মনে পড়লে করণীয় কি? | Tagged , ,

আক্দ হয়েছে মিলন হয়নি এমন স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তার মাকে বিবাহ করা যাবে কি?


আক্দ হওয়ার অর্থই হ’ল বিবাহ হওয়া। সুতরাং মিলন হৌক বা না হৌক উক্ত স্ত্রীর মাকে কোন অবস্থায় বিবাহ করা যাবে না। কেননা বিয়ের মাধ্যমে স্ত্রীর মা স্থায়ীভাবে হারাম হয়ে যায়। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হ’ল- তোমাদের মা, মেয়ে, ফুফু, খালা, ভাতিজী, ভাগিনেয়ী, দুধ-মা, দুধ-বোন, শ্বাশুড়ী, সহবাসকৃত স্ত্রীদের (অন্য স্বামীর) কন্যা’ (নিসা ৪/২৩)

ওমর ফারূক (রাঃ)-এর খেলাফতকালে (১৩-২৩ হি.) ইরাকের কূফায় খেলাফতের পক্ষ হ’তে রাষ্ট্রীয় শিক্ষক ও রাজস্ব বিভাগের দায়িত্বশীল থাকা অবস্থায় দু’টি বিষয়ে তিনি স্বীয় রায় অনুযায়ী ফৎওয়া দেন। একটি হ’ল (ক) জনৈক ব্যক্তি বিয়ের পরে তার শ্বাশুড়ীকে দেখে মুগ্ধ হয় এবং শ্বাশুড়ীকে বিয়ে করার জন্য (মিলনের পূর্বেই) স্ত্রীকে তালাক দেয়। এই সিদ্ধ হবে কি-না জিজ্ঞেস করা হ’লে ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বলেন, ‘এতে আর দোষ কি (لاَ بَأْسَ) একথা শোনার পর লোকটি উক্ত মহিলাকে (পূর্বতন শ্বাশুড়ীকে) বিয়ে করে এবং কয়েকটি সন্তান লাভ করে’।

অতঃপর ইবনু মাসঊদ (রাঃ) মদীনায় এলে তিনি উক্ত বিষয়ে  ছাহাবায়ে কেরামের নিকট জিজ্ঞেস করলে তাঁরা বিয়ে সিদ্ধ না হওয়ার কথা বললেন। তখন তিনি নিজের ভুল বুঝতে পারলেন এবং (কূফায়) ফিরে এসে উক্ত ব্যক্তিকে খোঁজ করলেন। কিন্তু না পেয়ে অবশেষে তার গোত্রের নিকটে গেলেন ও তাদেরকে ডেকে বললেন ‘আমি যে ব্যক্তিকে তার পূর্বতন শ্বাশুড়ী বিয়ে করার ফৎওয়া দিয়েছিলাম ঐ বিয়ে সিদ্ধ হয়নি’ (দ্রঃ থিসিস ১৩৯-৪০ পৃ.)

Posted in তালাক স্ত্রীকে দিয়ে তার মাকে বিবাহ করা যাবে কি? | Tagged , ,

এক ব্যক্তির উপর হজ্জ ফরয হয়েছে। আর তার আরেকজনকে হজ্জ করানোর সামর্থ্য রয়েছে। এক্ষণে সে প্রথমে স্ত্রীকে না মাকে হজ্জ করাবে?


এক্ষেত্রে মাকে প্রাধান্য দিতে হবে। কারণ যত ছাহাবী অন্যের পক্ষ থেকে হজ্জ করার ব্যাপারে অনুমতি চেয়েছেন তাদের অধিকাংশই মাতা-পিতার পক্ষ থেকে। যেমন বিগত যুগে পাহাড়ের গুহায় আটকে পড়া তিন যুবকের মধ্যে একজন এমন ছিলেন, যিনি ছাগলের দুধ দোহন করে এনে স্ত্রী ও সন্তানাদির উপরে মাকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। ফলে এই একটিমাত্র পূণ্যের কারণে আল্লাহ তাকে কঠিন বিপদ থেকে মুক্তি দেন (বুখারী হা/২২৭২; মুসলিম হা/২৭৪৩; মিশকাত হা/৪৯৩৮)

Posted in হজ্জ করানোর সামর্থ্য থাকলে কাকে প্রথমে হজ্জ করাবে? | Tagged ,

সূরা মুদাছছিরের ৬ আয়াতে বলা হয়েছে, ‘অধিক পাওয়ার আশায় দান করো না’। এর ব্যাখ্যা কি?


আয়াতটি রাসূল (ছাঃ)-কে উদ্দেশ্য করে অবতীর্ণ হয়েছে। মুফাস্সিরগণ এই আয়াতের বিভিন্ন তাফসীর করেছেন, যেমন ইবনু আববাস (রাঃ) এই আয়াতের তাফসীরে বলেন, দুনিয়ায় বেশী পাওয়ার আশায় তুমি  দান করো না। মুজাহিদ বলেন, নিজের আমলকে তুমি এমনভাবে বড় করে দেখ না যে, তুমি অনেক ভাল কাজ করছ। কারও মতে, তুমি লোক দেখানোর জন্য কোন ভাল কাজ করো না (কুরতুবী, অত্র আয়াতের তাফসীর দ্রষ্টব্য)। নাছের সা‘দী বলেন, কোন মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করার পর আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট তার প্রতিদান কামনা করো না (তাফসীর নাছের সা‘দী)

Posted in দান অধিক পাওয়ার আশায় করা যাবে না কি? | Tagged

আমাদের সমাজে দোকানগুলিতে দোকান খোলার পর প্রথম বিক্রি বাকিতে করা হয় না এবং এসময় বিক্রিত মাল ফেরৎও নেওয়া হয় না। তাদের ধারণা হল এসময় বাকীতে বিক্রি করলে সারাদিন ব্যবসা মন্দা যাবে। এর কোন ভিত্তি আছে কি?


এটা ভিত্তিহীন কুসংস্কার মাত্র। বরং কারো প্রতি সহানুভুতি দেখিয়ে বাকীতে মাল দেওয়া নেকীর কাজ। কেননা এটা ঋণ প্রদানের ন্যায়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, দানের নেকী ১০ গুণ। আর ঋণদানের নেকী ১৮ গুণ (বায়হাক্বী, ছহীহাহ হা/৩৪০৭)। এছাড়া পণ্য বিক্রয়ের পর চুক্তি বাতিল করার ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন লজ্জিত ক্রেতার সাথে ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি বাতিল করল, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দিবেন’ (ছহীহ ইবনু হিববান হা/৫০২৯)

Posted in ব্যবসায় সকাল বেলা বাকী দিলে সারাদিন ব্যবসা মন্দা যায় কি? | Tagged ,

আমাদের অফিসে হিন্দু বাবুর্চি রান্না করে। তাদের হাতের রান্না খাওয়া যাবে কি ?


অমুসলিমের রান্না করা খাবার খাওয়ায় কোন বাধা নেই (বুখারী হা/৩৪৪; মুসলিম হা/২৪৯১; আবুদাউদ হা/৪৫১০; মিশকাত হা/৫৮৮৪, ৫৮৯৫, ৫৯৩১)। তবে তাদের যবহকৃত পশুর গোশত খাওয়া যাবে না (আন‘আম ৬/১২১)। এক্ষেত্রে কোন মুসলিম বিসমিল্লাহ বলে যবেহ করে দিলে এবং তারা রান্না করলে তা খাওয়ায় বাধা নেই।

Posted in অমুসলিম থেকে গরুর গোশত কিনে খাওয়া কি বৈধ হবে?, অমুসলিম পিতা-মাতার রান্নাকৃত খাবার খাওয়া যাবে কি?, অমুসলিম বন্ধুদের শূকরের গোশত দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো যাবে কি?, অমুসলিমদের তৈরী বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ব্যবহার করা জায়েয হবে কি?, অমুসলিমদের বানানো মিষ্টি, অমুসলিমদের যবেহকৃত পশুর গোশত খাওয়া জায়েয হবে কি?, অমুসলিমের ইফতারী খাওয়া জায়েয হবে কি?, অমুসলিমের রান্না খাওয়া যাবে কি? | Tagged ,

মসজিদে ২জন একসাথে প্রবেশ করে দেখি সামনের কাতারে ১জন দাঁড়ানোর জায়গা আছে। এমতাবস্থায় আমরা কাতার ফাঁকা রেখেই পেছনের কাতারে দাঁড়াবো কি?


এমতাবস্থায় সামনের কাতারে একজন এবং পিছনে একজন একাকী দাঁড়াবে। একাকী পিছনের কাতারে দাঁড়িয়ে ছালাত হবে না মর্মে যে হাদীছ রয়েছে (আবুদাউদ হা/৬৮২; তিরমিযী হা/২৩১; মিশকাত হা/১১০৫) তা তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন সামনের কাতার অপূর্ণ থাকবে। অতএব এরূপ অবস্থায় মুছল্লী কাতারে একাকী দাঁড়ালে তার ছালাত হয়ে যাবে। কিন্তু সামনের কাতারে জায়গা থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ একাকী পেছনের কাতারে ছালাত আদায় করে, তাহ’লে তার ছালাত হবে না (ইরওয়া হা/৫৪১-এর আলোচনা দ্রঃ ২/৩২৯)

Posted in সামনের কাতার ফাঁকা রেখেই পেছনের কাতারে দাঁড়ানো যাবে কি? | Tagged , ,

অসুস্থ অবস্থায় স্বপ্নদোষ হ’লে কাপড় ও শরীরে বীর্য লাগা অবস্থায় তায়াম্মুম করে ছালাত আদায় করা যাবে কি?


উক্ত অবস্থায় গোসলের কারণে রোগ সৃষ্টি বা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকলে তায়াম্মুম করে ছালাত আদায় করবে (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৫৩১)। আমর ইবনুল ‘আছ (রাঃ) বলেন, ‘যাতুস সালাসিল’ যুদ্ধে শীতের রাতে আমার স্বপ্নদোষ হয়েছিল। অসুস্থ হবার আশংকায় গোসল না করে তায়াম্মুম করে ফজরের ছালাতে ইমামতি করলাম। পরে সাথীরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকটে এই ঘটনা বর্ণনা করলে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) বললেন, তুমি কি অপবিত্রাবস্থায় তোমার সাথীদের নিয়ে ছালাত আদায় করেছ? তখন আমি গোসল না করার কারণ ব্যাখ্যা করলাম এবং বললাম আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের সম্মুখীন কর না’ (বাক্বারাহ ২/১৯৫)। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হাসলেন এবং চুপ থাকলেন (আবুদাঊদ হা/৩৩৪, ‘ঠান্ডা লাগার ভয় থাকলে অপবিত্র ব্যক্তি কি করবে’ অনুচ্ছেদ, সনদ ছহীহ)

Posted in স্বপ্নদোষ অসুস্থ অবস্থায় হ’লে তায়াম্মুম করে ছালাত আদায় করা যাবে কি? | Tagged ,

জনৈক মহিলার প্রথম স্বামী একটি পুত্র সন্তান রেখে মারা যান। তার দ্বিতীয় স্বামীর পূর্বের স্ত্রীর গর্ভজাত একটি মেয়ে আছে। এক্ষণে এই দুই ছেলে মেয়ের বিবাহ জায়েয হবে কি?


এদের মধ্যে বিবাহ জায়েয। কুরআনে যে ১৪ জন মাহরাম নারীর কথা বলা হয়েছে এরা তাদের অর্ন্তভুক্ত নয় (নিসা ৪/২৩)। ইবনু কুদামা বলেন, পিতার স্ত্রীর অন্য স্বামীর কন্যারা হারাম নয়। পিতার কন্যারা এজন্য হারাম যে তারা পিতার ঔরসজাত। কিন্তু তাদের মেয়েদের হারাম হওয়ার কোন কারণ নেই। এর মধ্যে এমন কোন কারণও নেই যা তাদের কন্যাদের হারাম করে। ফলে এরা নিম্নের আয়াতের আওতাভুক্ত হবে, যেখানে আল্লাহ বলেন, ‘এদের ব্যতীত তোমাদের জন্য সকল নারী হালাল করা হয়েছে এই শর্তে যে, তোমরা তাদেরকে মালের বিনিময়ে কামনা করবে বিবাহের উদ্দেশ্যে, ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে নয়’ (নিসা ৪/২৪; মুগনী ৭/১১৭)

Posted in বিবাহ প্রথম স্বামীর পুত্রের সাথে দ্বিতীয় স্বামীর মেয়ের দেওয়া যাবে কি? | Tagged

হজ্জব্রত পালনকালে কিছু কিছু মু‘আল্লিম হাজীদের নিকট থেকে কুরবানীর জন্য অর্থ গ্রহণ করেন কিন্তু কুরবানী করেন না। হজ্জপালন শেষে তা জানতে পারলে উক্ত হাজীদের করণীয় কি?


এমতাবস্থায় হজ্জ আদায় হয়ে যাবে এবং এর জন্য কোন কাফ্ফারা দিতে হবে না। কেননা কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না (নাজম ৩৮)। তবে অভিযুক্ত মু‘আল্লিমগণ কঠিন গুনাহের ভাগিদার হবেন। এটা একদিকে যেমন প্রতারণা, অন্যদিকে হজ্জের একটি ওয়াজিব বিধান লঙ্ঘন। যার গুনাহ পুরোপুরি মু‘আল্লিমদের উপর বর্তাবে। উল্লেখ্য যে, বর্তমান সময়ে এরূপ প্রতারণা থেকে বাঁচার সর্বোত্তম উপায় হ’ল, সরকারী বুথে কুরবানীর জন্য রসিদ নিয়ে নির্ধারিত ফী জমা দেওয়া।

Posted in হজ্জে মু‘আল্লিম হাজীদের নিকট থেকে কুরবানীর অর্থ নিয়ে কুরবানী না করলে করণীয় | Tagged ,

ফজরের ছালাতের পর ইমাম-মুক্তাদী সকলে মিলে সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ করা কি শরী‘আত সম্মত?


উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ হওয়ায় আমলযোগ্য নয় (তিরমিযী হা/২৯২২; মিশকাত হা/২১৫৭; যঈফুত তারগীব হা/৩৭৯)। এর সনদে খালিদ বিন ত্বাহমান নামে একজন শী‘আ রাবী রয়েছে (তাকরীবুত তাহযীব ১৬৪৯, ১/২৫৯)। উল্লেখ্য যে, ঘুমানোর পূর্বে সূরা হাশর পাঠের বিশেষ ফযীলত ও শেষ ছয় আয়াতকে ইসমে আযম বলে যে বর্ণনাগুলো রয়েছে তার সবগুলো জাল ও যঈফ (যঈফাহ হা/২৭৭৩, ২২১৭; যঈফুল জামে‘ হা/৩০৭)

Posted in ফজরের ছালাতের পর ইমাম-মুক্তাদী সূরা হাশর পাঠ করা কি শরী‘আত সম্মত? | Tagged ,

রাসূল (ছাঃ) হজ্জের সময় জাবালে রহমতে খুৎবা প্রদান করেছিলেন। অথচ বর্তমানে মসজিদে নামিরায় কেন খুৎবা দেওয়া হচ্ছে?


জাবালে রহমত ও মসজিদে নামিরা উভয়টি আরাফার অন্তর্ভুক্ত। আর আরাফার যেকোন স্থানে খুৎবা দেওয়ায় কোন বাধা নেই। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আমি এখানে কুরবানী করছি এবং মিনার গোটা এলাকা কুরবানীর স্থান। অতএব তোমরা যার যার অবস্থানে কুরবানী কর। আর আমি এখানে অবস্থান করছি এবং গোটা আরাফাতই অবস্থানস্থল। মুযদালিফার সবই অবস্থানস্থল এবং আমি এখানে অবস্থান করছি (মুসলিম হা/১২১৮; মিশকাত হা/২৫৯৩)। রাসূল (ছাঃ) সম্ভবত উঁচু স্থান হওয়ায় জাবালে রহমত পাহাড়ে দাঁড়িয়ে খুৎবা দিয়েছিলেন। আর মসজিদে নামিরাহ সর্বপ্রথম নির্মিত হয় প্রথম হিজরী শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে। এর অবস্থান আরাফা ময়দানের পশ্চিম প্রান্তে আরাফাহ ও মুযদালিফার মধ্যবর্তী স্থানে। রাসূল (ছাঃ) মিনা থেকে আরাফাতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে এই নামিরা উপত্যাকায় অবতরণ করেন। বর্তমানে হজ্জের সময় প্রায় চার লক্ষ মুছল্লী এই মসজিদে যোহর ও আছরের ছালাত জমা‘ ও কছর সহকারে আদায় করে থাকেন। এটি মসজিদে আরাফাহ, মসজিদে ইবরাহীম খলীল প্রভৃতি নামেও পরিচিত। উল্লেখ্য যে, জাবালে রহমত আরাফাহ ময়দানের বিশেষ কোন ইবাদত স্থান নয়। কেউ যদি জাবালে রহমতে ইবাদত মনে করে আরোহণ করে, তবে তা সুস্পষ্ট বিদ‘আত হবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১১/২০৬-২০৮; উছায়মীন, মাজমূ ফাতাওয়া ২৩/৩২)

Posted in হজ্জের বর্তমানে মসজিদে নামিরায় কেন খুৎবা দেওয়া হচ্ছে? | Tagged , ,

বিতর ছালাত আদায়কারীর সাথে কোন মুছল্লী ফরয ছালাতের নিয়তে জামা‘আতে দাঁড়ালে তার ছালাত হবে কি?


এরূপ অবস্থায় তথা নফল ছালাত আদায়কারীর পিছনে ফরয ছালাত আদায়কারীর ছালাত আদায় হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে বিতর আদায়কারীর জন্য তা বিতর হিসাবে গণ্য হবে আর ফরয আদায়কারীর জন্য ফরয হিসাবে গণ্য হবে। আর ইমাম যতক্ষণ ছালাতে থাকবে মুছল্লী তার অনুসরণ করবে। এরপর নিজে দাঁড়িয়ে অবশিষ্ট ছালাত আদায় করবে (বুখারী হা/৫৭৫৫; মুসলিম হা/৪৬৫; নববী, শারহু মুসলিম ৪১/১৮১; ইবনু তায়মিয়া, মাজমূ ফাতাওয়া ২২/২৫৮; আশ-শারহুল মুমতে‘ ২/৩০৪)।

Posted in বিতর ছালাত আদায়কারীর সাথে ফরয ছালাতের নিয়তে দাঁড়ালে ছালাত হবে কি? | Tagged

উপহার সামগ্রী বিক্রয় বা অন্যকে উপহার হিসাবে দেওয়া যাবে কি?


কারো নিকট থেকে পাওয়া উপহার সামগ্রী বিক্রয় করা যাবে এবং সেটি অন্যকে উপহার হিসাবেও দেওয়া যাবে। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, দুমা নিবাসী উকায়দির নবী করীম (ছাঃ)-কে একটি রেশমী কাপড় উপঢৌকন দিলে তিনি সেটি আলী (রাঃ)-কে দিয়ে বললেন, তুমি এটি ফেড়ে ফাতিমাদের মধ্যে ভাগ করে দাও। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, মহিলাদের মধ্যে ভাগ করে দাও (বুখারী হা/২৪৭২; মুসলিম হা/২০৭১)। ওমর (রাঃ)-কে রাসূল (ছাঃ) একটি জুববা উপহার দিয়েছিলেন। তিনি সেটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন (বুখারী হা/৯০৬; মুসলিম হা/২০৬৮)

Posted in উপহার সামগ্রী বিক্রয় বা অন্যকে উপহার হিসাবে দেওয়া যাবে কি? | Tagged

হজ্জে তামাত্তু ও ক্বিরান পালনকারীগণ একই পরিবারের হ’লে সকলের পক্ষ থেকে একটি ছাগল বা দুম্বা কুরবানী দিলে যথেষ্ট হবে, না মাথাপ্রতি পৃথকভাবে দিতে হবে?


হজ্জে তামাত্তু ও ক্বিরান পালনকারীগণ একই পরিবারভুক্ত হ’লেও প্রত্যেকের জন্য পৃথক পৃথকভাবে কুরবানী করা ওয়াজিব। কেননা আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ওমরাহর সাথে হজ্জ পালন করতে চাও, সে যা সহজলভ্য তাই কুরবানী করবে। তবে কেউ যদি কুরবানী না পায়, সে হজ্জের দিনগুলির মধ্যে তিনটি এবং বাড়ীতে ফিরে সাতটি ছিয়াম পালন করবে। এভাবে দশটি (ছিয়াম) পূর্ণ হবে’ (বাক্বারাহ ২/১৯৬)

Posted in কুরবানী হজ্জে একই পরিবারের সকলের পক্ষ থেকে একটি ছাগল যথেষ্ট হবে কি?? | Tagged ,

জনৈক আলেম বলেন, আল্লাহ নিরাকার নন তা যেমন বলা যাবে না, তেমনি তাঁর আকার আছে একথাও বলা যাবে না। একথার সত্যতা আছে কি?


আল্লাহ নিরাকার সত্তা নন। বরং তাঁর নিজস্ব আকার রয়েছে। এটাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আক্বীদা। এতে কোন কল্পিত ব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির অবকাশ নেই। কেননা কুরআনের অসংখ্য আয়াত ও হাদীছে আল্লাহর হাত, পা, চেহারা তথা আকার-আকৃতির প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে তা সৃষ্টিজগতের কোন কিছুর সাথে তুলনীয় নয়। আল্লাহ বলেন, ‘তাঁর তুলনীয় কিছুই নেই। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা’ (শূরা ১১)

Posted in আল্লাহ আকার বা নিরাকার নন এগুলো কথা নাকি বলা যাবে না? | Tagged ,

কুরআন মজীদ হাত থেকে পড়ে গেলে কুরআনের ওযনে ফকীর-মিসকীনকে চাউল দিতে হবে। একথার সত্যতা আছে কি?


এ কথার কোন ভিত্তি নেই। তবে কুরআন সর্বাধিক মর্যাদাসম্পন্ন পবিত্র গ্রন্থ (বুরূজ ২২)। অনিচ্ছাকৃতভাবে কুরআন পড়ে গেলে কিংবা পা লাগলে ভীতি ও শ্রদ্ধার সাথে তওবার মন নিয়ে ‘ইন্নালিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজে‘উন’ পাঠ করবে (বাক্বারাহ ২/১৫৬; উম্মে সালামাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত হাদীছ, মুসলিম, মিশকাত হা/১৬১৮ ‘জানায়েয’ অধ্যায়)। কুরআনের মর্যাদার দিকে লক্ষ্য রেখে সর্বদা সাবধানতা অবলম্বন করে চলতে হবে এবং কোনভাবেই যেন এর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ না হয় সেদিকে সতর্কভাবে খেয়াল রাখতে হবে। এজন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) শত্রুভূমিতে কুরআন নিয়ে সফর করতেও নিষেধ করেছেন (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/২১৯৭, ‘কুরআন পাঠের আদব’ অনুচ্ছেদ)

Posted in কুরআন পড়ে গেলে কুরআনের ওযনে চাউল দান করেতে হবে কি? | Tagged ,

জুম‘আর দিন ফজরের পর থেকে জুম‘আর ছালাতের পূর্ব পর্যন্ত মসজিদের ভিতরে কোন ইসলামী আলোচনা বৈঠক করা যাবে কি?


ইসলামী আলোচনা বৈঠকসহ যে কোন বৈধ আলোচনায় কোন বাধা নেই। তবে তা জুম‘আর ছালাতের উদ্দেশ্যে মসজিদে সাধারণ মুছল্লীদের প্রবেশের পূর্বেই শেষ করতে হবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) জুম‘আর দিন ছালাতের পূর্বে মসজিদে খুৎবা ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে একত্রিত হ’তে নিষেধ করেছেন (আবূদাঊদ হা/১০৭৯; মিশকাত হা/৭৩২, সনদ হাসান)। খাত্ত্বাবী বলেন, জুম‘আর দিনে ইলম ও পারস্পরিক আলোচনাকে অপসন্দনীয় বলা হয়েছে। আর নফল ছালাত ও খুৎবা শ্রবণের জন্য চুপ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (আওনুল মা‘বূদ ৩/২৯৪)

Posted in জুম‘আর ছালাতের পূর্ব পর্যন্ত মসজিদের ভিতরে ইসলামী আলোচনা বৈঠক করা যাবে কি? | Tagged ,

হাই কমোডে বসে পেশাব-পায়খানা করা জায়েয হবে কি?


হাই কমোড ব্যবহার করায় বাধা নেই। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন কাপড়ে অপবিত্রতা না লাগে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৩৮)

Posted in পেশাব-পায়খানা হাই কমোডে বসে করা জায়েয হবে কি? | Tagged

আমি সরকারী চাকুরীজীবি। আমাদের অফিস থেকে মসজিদ, কবরস্থান, মন্দির, শ্মশান ইত্যাদির ধর্মীয় অবকাঠামো নির্মাণ করার নির্দেশনা ও ব্যয়ভার বহন করতে হয়। যার জন্য আমাকে ফাইলে স্বাক্ষর করতে হয়। এক্ষেত্রে আমি গোনাহগার হব কি?


গুনাহগার হ’তে হবে। কারণ মন্দির ও শ্মশান নির্মাণে সহযোগিতা করার অর্থই হ’ল শিরকী কাজে সহযোগিতা করা, যা হারাম (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১৪/৪৮২)। ওমর (রাঃ) সিরিয়ার খৃষ্টানদের সাথে সন্ধি করার সময় শর্তারোপ করেছিলেন যে, সেখানে গির্জা বা মন্দির নির্মাণ করা যাবে না (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৮/৬৫২; জামেঊর রাসায়েল ১/১০৪; ইক্বতিযাউছ ছিরাতিল মুসতাক্বীম ১/১৯৯)। ছালেহ আল-ফাওযান বলেন, গির্জা-মন্দির ও অনুরূপ শিরকপূর্ণ ও গায়রুল্লাহর ইবাদত করা হয় এমন স্থানে কাজ করা মুসলমানের জন্য জায়েয নয়। কেননা এতে বাতিলকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং তাদের সহযোগিতা করা হয় (আল-মুনতাকা ৫/৪০)&। এছাড়াও ইমাম শাফেঈ, ইবনু তায়মিয়াহ ও ইবনু কুদামা (রহঃ) প্রমুখ বিদ্বানগণ এসব স্থানে কোনভাবে সম্পৃক্ত হওয়াকে হারাম বলেছেন (কিতাবুল উম্ম ৪/২২৫; সুবকী ২/৩৬৯)। অতএব এমন চাকুরী পরিত্যাগ করতে হবে।

Posted in কবরস্থান মন্দির ধর্মীয় অবকাঠামো নির্মাণ করার নির্দেশনায় স্বাক্ষর যাবে কি? | Tagged ,

চিকিৎসার মাধ্যমে উঁচু দাঁত সমান করায় শারঈ কোন বাধা আছে কি?


দাঁতের দোষ-ত্রুটি দূর করার জন্য এমন কাজ করা যাবে। তবে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য করা যাবে না। ইবনু মাসউদ (রাঃ)  বলেন, আল্লাহর লা‘নত বর্ষিত হোক সেসব নারীদের উপর… যারা সৌন্দর্যের জন্য দাঁত কেটে সরু করে দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে, যা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে’ (বুখারী হা/৪৮৮৬; মুসলিম হা/২১২৫; মিশকাত হা/৪৪৩১)। ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, উক্ত হাদীছে সৌন্দর্যের জন্য দাঁতে কিছু করা হারাম হওয়ার বিষয়ে ইঙ্গিত রয়েছে। তবে কেউ ত্রুটি দূরীকরণের জন্য বা চিকিৎসার প্রয়োজনে এরূপ করলে কোন দোষ নেই (নববী, শরহ মুসলিম ১৪/১০৭, ঐ হাদীছের ব্যাখ্যা, মিরক্বাত হা/৪৪৩১; উছায়মীন, মাজমূঊল ফাতাওয়া ১৭/০৭)

Posted in চিকিৎসার মাধ্যমে উঁচু দাঁত সমান করায় শারঈ কোন বাধা আছে কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তি বলেন, ছালাতের শেষ বৈঠকে আল্লাহর নাম আসলে আঙ্গুল উঠাতে হবে এবং রাসূল (ছাঃ)-এর নাম আসলে আঙ্গুল নামাতে হবে। একথার সত্যতা আছে কি?


উক্ত বক্তব্য ভিত্তিহীন। বরং তাশাহহুদে বসার পর থেকে সালাম ফিরানো পর্যন্ত আঙ্গুল নাড়াতে থাকবে। এসময়ে দৃষ্টি আঙ্গুলের দিকে থাকবে (আবুদাউদ হা/৯৮৮, ৯৯০; নাসাঈ হা/১২৭৫; মিশকাত হা/৯১২, ৯১৭)

Posted in তাশাহহুদে আল্লাহর নাম আসলে আঙ্গুল উঠাতে হবে কি?, তাশাহহুদে রাসূল (ছাঃ) এর নাম আসলে নামাতে হবে কি? | Tagged

গণকের নিকটে প্রশ্ন করলে ৪০ দিনের ছালাত কবুল হয় না। এক্ষণে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত রাশিফলে যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়, তা পাঠ করলে কি উক্ত বিধান প্রযোজ্য হবে? আর কেউ গণকের নিকটে ভবিষ্যৎ জেনে পরে ভুল বুঝতে পারলে তাকে ৪০ দিনের ছালাত পুনরায় আদায় করতে হবে কি?


বিশ্বাস নিয়ে এসকল বানোয়াট রাশিফল পাঠ করলে কেবল উক্ত বিধানই নয়, বরং তা কুফরী হিসাবে গণ্য হবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি গণকের কাছে গেল এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করল, ঐ ব্যক্তি মুহাম্মাদ-এর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তার সাথে কুফরী করল’ (আহমাদ, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৫৯৯, সনদ ছহীহ)। এক্ষণে তওবা করার পর চল্লিশ দিনের ছালাত পুনরায় আদায় করতে হবে না। কারণ তওবা পূর্বের পাপকে মিটিয়ে দেয় (যুমার ৩৯/৫৩; ইবনু মাজাহ হা/৪২৫০; মিশকাত হা/২৩৬৩)

Posted in রাশিফল পাঠ করলে ৪০ দিনের ছালাত কবুল হয় না কি? | Tagged

একটি হাদীছে (আবূদাঊদ হা/৫৬০) এসেছে যে, কেউ খোলা মাঠে ছালাত আদায় করলে ৫০ গুণ নেকী পাবে। উক্ত ছালাত বলতে কোন ছালাতকে বুঝানো হয়েছে। এছাড়া একাকী পড়লেও কি উক্ত নেকী অর্জিত হবে?


উক্ত ছালাত বলতে খোলা মাঠে মুসাফিরের ছালাতকে বুঝানো হয়েছে। আর অতিরিক্ত ফযীলতের কারণ হ’ল এই যে, মুসাফির অধিক ক্লান্তি ও অবসাদ থাকা সত্ত্বেও রুকূ ও সিজদা সুন্দর ও পূর্ণভাবে আদায় করায় আল্লাহ তাকে ৫০ গুণ বেশী পুরস্কার দিবেন। এক্ষণে একাকী ছালাত আদায় করলেও এই বিশেষ মর্যাদা পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। কারণ হাদীছে জামা‘আত বা একাকী হওয়ার উল্লেখ করা হয়নি (শাওকানী, নায়লুল আওত্বার ৩/১৫৫)। তাছাড়া রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে খোলা মাঠে একাকী ইক্বামত দিয়ে ছালাত আদায় করবে তার সাথে দু’জন ফেরেশতা অংশগ্রহণ করবে। আর যে আযান ও ইক্বামত দিয়ে ছালাত আদায় করবে সাথে আল্লাহর অসংখ্য ফেরেশতা যোগদান করবে (মু‘জামুল কাবীর হা/৬১২০; ছহীহুত তারগীব হা/২৪৯, ৪১৪)। স্মর্তব্য যে, জামা‘আতে ছালাতের ফযীলত সবসময়ের জন্য প্রযোজ্য। তাই উক্ত ফযীলত লাভের আশায় জামা‘আত ছেড়ে খোলা ময়দানে ছালাত আদায় করতে যাওয়া নিতান্তই নির্বুদ্ধিতার পরিচয় (ফয়যুল বারী শারহু ছহীহিল বুখারী ২/২০৯)

Posted in ছালাত খোলা মাঠে আদায় করলে ৫০ গুণ নেকী অর্জিত হবে? | Tagged

আমরা জানি যে, পিতার অনুমতি ছাড়া নারীদের বিবাহ বাতিল হয়ে যায়। এক্ষণে মুওয়াত্ত্বা মালিকের (হা/২০৪০) একটি হাদীছ হ’তে জানা যায় যে, আয়েশা (রাঃ) তাঁর আপন ভাইয়ের মেয়ে হাফছাকে পিতার অনুমতি ছাড়াই নিজ দায়িত্বে বিবাহ দিয়েছেন। মেয়ের পিতা সেসময় সিরিয়া সফরে থাকায় তিনি বিষয়টি পরে জানতে পারেন। এক্ষণে সঠিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে বাধিত করবেন।


উক্ত মর্মে বর্ণিত আছারটি ছহীহ। কিন্তু এর ব্যাখ্যা ভুল হয়েছে। আছারটির দু’টি অর্থ হ’তে পারে। ১. আয়েশা (রাঃ) উক্ত বিবাহে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সর্বাধিক পরিচিত ও নিকটাত্মীয় হওয়ার কারণে বর্ণনাকারী ওলী হওয়ার বিষয়টি তাঁর দিকে সম্পৃক্ত করেছেন। ঈসা বিন দীনার বলেন, মদীনায় এমন কোন প্রচলন ছিল না। কেননা ইমাম মালেক ও মদীনার ফকীহগণ নারী কর্তৃক বিবাহ সম্পাদনকে বৈধ মনে করতেন না। এরূপ বিবাহ হ’লে বাসরের পূর্বেই বা পরে হ’লেও ভেঙ্গে দেওয়া হ’ত। ২. আয়েশা (রাঃ) বিবাহের মোহর ও দিনক্ষণ ধার্য করে দিয়েছিলেন। অতঃপর বিবাহের সময় তার একজন নিকটাত্মীয়কে ওলী বানিয়ে বলেন, তোমরা বিবাহ সম্পন্ন কর। কারণ নারী কারো বিবাহে ওলী হ’তে পারে না। আর এ প্রথা ছাহাবীগণের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল যে, নারী নিজে বিবাহ করতে পারে না এবং অন্যের বিবাহ দিতে পারে না (আল-মুনতাক্বা শারহুল মুওয়াত্ত্বা ৪/২৪)। উক্ত আছারের ব্যাখ্যায় ইবনু আব্দিল বার্র বলেন, বিবাহ দিয়ে দেওয়ার অর্থ হ’ল- বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া, মোহর নির্ধারণ করা এবং তাতে সম্মত হওয়া। এর অর্থ বিবাহে ওলী হওয়া নয়। এরপর তিনি নিম্নের আছারটি বর্ণনা করেন (আল-ইস্তিযকার ৬/৩২)।-

ইবনু জুরাইজ বলেন, আয়েশা (রাঃ) যখন তার গোত্রের কোন মেয়ের বিয়ে দিতে ইচ্ছা করতেন, তখন তাদের একদল লোককে ডেকে আলোচনা করতেন। যখন বিবাহ ঠিক হয়ে যেত তখন তাদের একজনকে বলতেন, হে অমুক! তার বিবাহ দিয়ে দাও। কারণ নারীরা কারো বিবাহ দিতে পারে না (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/১০৪৯৯; মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ হা/১৫৯৫৯ ফাৎহুল বারী ৯/১৮৬-৯০, সনদ ছহীহ)

Posted in অ‌ভিভাব‌কের বিনা অনুম‌তি‌তে বিবাহ কর‌লে বিবাহ হবে কী এবং সম্পদ পা‌বে কী?, অ‌ভিভাবক বা ওলী না থাক‌লে করণীয়!, বিবাহ আয়েশা (রাঃ) তাঁর ভাইয়ের মেয়েকে অনুমতি ছাড়াই দিয়েছিলেন কি?, বিবাহ ওলী ছাড়া করলে তাদের সন্তান কি জারজ হিসেবে গন্য হবে?, বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য কি কি শর্ত প্রযোজ্য? | Tagged

রামাযান ব্যতীত অন্য সময়ে বিতর ছালাত জামা‘আতে আদায় করা যাবে কি?


যেকোন মাসে বিতর ছালাত জামা‘আতে আদায় করা যায়। কারণ এটি নফল ছালাত। আর ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) নফল ছালাত রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে জামা‘আতে আদায় করেছেন। তাছাড়া সালমান ও আবুদ্দারদা (রাঃ) জামা‘আতে নফল ছালাত আদায় করেছেন (বুখারী হা/৬৮, ১১৭; মুসলিম হা/৭৬৯, ৭৭২, ৭৭৩)। তবে নিয়মিত করা যাবে না। কারণ রাসূল (ছাঃ) বা ছাহাবীগণ কেউ এরূপ আমল নিয়মিত করেননি (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব ১/১৭৪)

Posted in রামাযান ব্যতীত অন্য সময়ে বিতর ছালাত জামা‘আতে আদায় করা যাবে কি? | Tagged ,

সমাজে দেখা যায়, খুশীর সংবাদে অনেকেই মিষ্টি বিতরণ করে। এটা জায়েয হবে কি?


যেকোন খুশীর সংবাদে মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ প্রকাশ করায় কোন দোষ নেই (উছায়মীন, আল-ফাতাওয়াছ ছুলাছিয়া ১/৫৬)। এছাড়া খুশীর কারণে শুকরিয়া স্বরূপ আল্লাহর রাস্তায় ছাদাক্বা করার একাধিক ছহীহ হাদীছ পাওয়া যায়। কা‘ব বিন মালেক (রাঃ) স্বীয় তওবা কবুলের সংবাদ পেয়ে সিজদা করেছিলেন ও তাঁর সম্পদসমূহ আল্লাহর রাস্তায় রাসূল (ছাঃ)-এর খেদমতে পেশ করেছিলেন (বুখারী হা/৪৪১৮; মুসলিম হা/২৭৬৯)। তবে খুশী প্রকাশের নামে অপচয় করা যাবে না।

Posted in খুশীর সংবাদে অনেকেই মিষ্টি বিতরণ করা জায়েয হবে কি? | Tagged ,