জনৈক ব্যক্তি বলেন, জায়নামায বা কার্পেটের উপর সিজদা দেওয়ার চেয়ে মাটিতে সিজদা করা উত্তম ও ফযীলতপূর্ণ। একথার কোন সত্যতা আছে কি?


সরাসরি মাটিতে সিজদা দেওয়ার বিশেষ কোন ফযীলত নেই। রাসূল (ছাঃ) কখনো চাটাইয়ের উপর সিজদা দিয়েছেন (বুখারী হা/৩৮০, ৩৭৯; মুসলিম হা/৬৫৮)। কখনো খেজুর পাতার তৈরী বিছানায় ছালাত আদায় করেছেন’ (মুসলিম হা/৬৫৯)। আবার কখনো সরাসরি মাটিতে সিজদা দিয়েছেন (বুখারী হা/৬৬৯; মুসলিম হা/১১৬৭)। অতএব মাটিতে বা যেকোন পবিত্র বস্ত্ত ও কাপড়ের উপরে সিজদা দেওয়ায় ছওয়াবের কোন তারতম্য নেই। শরী‘আতের দৃষ্টিতে সবগুলো জায়েয (নববী, শরহ মুসলিম হা/১০৫৩-এর ব্যাখ্যা)

Advertisements
Posted in জায়নামাযের উপর সিজদা দেওয়ার চেয়ে মাটিতে সিজদা করা উত্তম কি? | Tagged

মুযারাবা পদ্ধতিতে আমার বন্ধুর সাথে আমি ব্যবসা করি। অর্থাৎ আমার অর্থায়ন এবং তার ব্যবসা। উক্ত অর্থ কেনা-বেচার মধ্যে চলমান থাকায় দোকানে সারা বছর যে ব্যবসায়িক পণ্যে স্থিত থাকে, তার গড় মূল্য হিসাব করে সে যাকাত পরিশোধ করে। এটা সঠিক হচ্ছে কি?


এটি সঠিক হচ্ছে না। বরং সঠিক নিয়ম হ’ল বিনিয়োগকারী প্রতিবছর তার মূল সম্পদ এবং প্রাপ্ত লভ্যাংশের উপর যাকাত আদায় করবে। আর ব্যবসায়ী কেবল তার প্রাপ্ত লভ্যাংশের উপর যাকাত দিবে যদি তা নিছাব পরিমাণ হয় এবং এক বছর অতিক্রান্ত হয় (ছালেহ ফাওযান, আল-মুনতাক্বা ৮৭/২; ফাতাওয়া ইবনু জিবরীন ৮/৫০)। তবে ব্যবসায়ী বিনিয়োগকারীর সাথে আলোচনা সাপেক্ষে মালের হিসাব করে যাকাত আদায় করলে তা আদায় হয়ে যাবে।

Posted in ব্যবসা (চলমান থাকা অবস্থায়) যাকাত কিভাবে দিতে হবে?

যে ব্যক্তি আমার ৪০টি হাদীছ মুখস্থ করবে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা তাকে ফক্বীহ হিসাবে উঠাবেন। এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি ছহীহ কি?


উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি জাল (আলবানী, সিলসিলা যঈফাহ হা/৪৫৮৯; যঈফুল জামে‘ হা/৫৫৬৮)। ইবনু মুলাক্কিন বলেন, হাদীছটি বিশটি তুরুকে বর্ণিত হয়েছে, সবগুলো যঈফ। ইমাম দারাকুৎনী বলেন, এর সকল তুরুক দুর্বল, কোনটিই গ্রহণযোগ্য নয়। বায়হাক্বী বলেন, সকল সনদ যঈফ (আল-বাদরুল মুনীর ৭/২৭৮)

তবে হাদীছ মুখস্থ করার অনেক ফযীলত রয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ ঐ ব্যক্তির মুখ উজ্জ্বল করুন যে আমার কোন কথা শুনেছে, অতঃপর এ কথাকে স্মরণ রেখেছে ও রক্ষা করেছে এবং যা শুনেছে হুবহু তা মানুষের নিকট পৌঁছিয়ে দিয়েছে (তিরমিযী হা/২৬৫৮; মিশকাত হা/২২৮; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৭৬৫)। বিদায় হজ্জের ভাষণ শেষে তিনি বলেন, উপস্থিত ব্যক্তিরা যেন অনুপস্থিতদের নিকট (আমার এ বাণীসমূহ) পৌঁছে দেয় (বুখারী হা/৬৭)

Posted in ক্বিয়ামতের দিন ফক্বীহ হিসাবে উঠাবেন কি? | Tagged

আমার বয়স ২৫ বছর। নিজের আর্থিক সক্ষমতা ও পূর্ণ সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও বিবাহ করার ব্যাপারে পিতা-মাতার অনুমতি পাচ্ছি না। যদিও তা আমার জন্য খুবই যরূরী। এক্ষণে আমার করণীয় কি?


পিতা-মাতার কর্তব্য প্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানের বিবাহের ব্যবস্থা করা। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পিতা ইচ্ছাকৃতভাবে সন্তানের বিবাহের ব্যবস্থা না করলে গোনাহগার হবেন। এক্ষণে শরী‘আতসম্মত কারণে পিতা-মাতা কোন বিবাহের অনুমতি না দিলে, তাদের নির্দেশনা মেনে চলা আবশ্যক। অন্যথা নয়। তবে সম্ভবপর তাদেরকে বুঝিয়ে দ্বীনদার পাত্রী দেখে বিবাহ করতে হবে।

Posted in বিবাহ প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পরেও অভিভাবক না দিলে করনীয় কি? | Tagged

আমি স্কুলের সরকারী উপবৃত্তি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলী পূরণ করিনি। কিন্তু বৃত্তি পেয়েছি। এটা গ্রহণ করা জায়েয হয়েছে কি?


এরূপ বৃত্তি গ্রহণ করা জায়েয নয়। কারণ এটি প্রতারণার শামিল। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে আমার দলভুক্ত নয়’ (মুসলিম হা/১০১; মিশকাত হা/৩৫২০)

Posted in প্রয়োজনীয় শর্তাবলী পূরণ না করে বৃত্তি পাওয়া জায়েয হয়েছে কি? | Tagged

কোন নারীর জন্য সমবয়সী অপর নারীর সামনে শরীরের কতটুকু পরিমাণ স্থান ঢেকে রাখা আবশ্যক?


নারী অন্য নারীর সামনে শরীরের অতটুকু প্রকাশ করতে পারবে, যতটুকু নিকটতম মাহরাম পুরুষের নিকট প্রকাশ করতে পারে। যেমন- হাত, পা, মুখমন্ডল ইত্যাদি। (নূর ২৪/৩১; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১৭/২৯১, ২৯৭; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১২/২৭১)

Posted in নারীর সামনে অন্য নারীর পর্দা করতে হবে কি? | Tagged

কিয়ামতের পূর্বে কুরআন উঠিয়ে নেওয়া হবে মর্মে কোন বর্ণনা আছে কি? যদি তাই হয় তবে হাফেযে কুরআনের সংখ্যা দিন দিন কিভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে?


উক্ত মর্মে বর্ণনা রয়েছে যা ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ইসলাম পুরাতন হয়ে যাবে, যেমন কাপড়ের কারুকার্য পুরাতন হয়ে যায়। এমনকি অবস্থা এমন হবে যে, জানবে না, ছিয়াম কি? ছালাত কি? কুরবানী কি, যাকাত কি?। এক রাতে পৃথিবী থেকে মহান আল্লাহর কিতাব বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং একটি আয়াতও অবশিষ্ট থাকবে না (ইবনু মাজাহ হা/৪০৪৯; ছহীহাহ হা/৮৭)। তবে এটি ক্বিয়ামতের প্রাক্কালে ঘটবে। যখন হাফেযের স্মৃতি থেকেও কুরআন তুলে নেওয়া হবে। হাফেযদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, কুরআনের উপর এমন একটি রাত অতিবাহিত হবে যে, হাফেযদের স্মৃতিতে ও মুছহাফের মধ্যে যা ছিল, তা হারিয়ে যাবে..(হাকেম হা/৮৫৩৮, যাহাবী, সনদ ছহীহ)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘মুছহাফে কোন আয়াত থাকবে না এবং হাফেযের স্মৃতিতে মুখস্থ কিছু অবশিষ্ট থাকবে না’ (দারেমী হা/৩৩৪৩, ৩৩৪১; ফৎহুলবারী ১৩/১৬, সনদ ছহীহ)

Posted in কিয়ামতের পূর্বে কুরআন উঠিয়ে নেওয়া হবে মর্মে কোন বর্ণনা আছে কি? | Tagged

আমাদের পারিবারিক একটি কবরস্থান আছে, যেখানে ২-৩টি কবর রয়েছে। সময়ের ব্যবধানে কবরগুলোর নীচু ও বাড়ির পাশে হওয়ায় সেখানে নানারকম ময়লা-আবর্জনা এমনকি গরুর মলমূত্র পড়ছে। এক্ষণে তার উপর মাটি ভরাট করে ইট দিয়ে বেঁধে দেওয়া যাবে কি?


মুসলমানের কবরস্থানকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। তা সংরক্ষণ করা জীবিত মানুষের দায়িত্ব (শায়খ বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব ১/২৭২; শায়খ মুহাম্মাদ ইবরাহীম, ফাতাওয়া ও রাসায়েল ৩/২০০)। রাসূল (ছাঃ) বাক্বীউল গারক্বাদকে মদীনাবাসীর কবরস্থান হিসাবে নির্ধারণ করেছিলেন (ছহীহাহ হা/৩০৬০)। যা চারদিক থেকে পাকা দেওয়াল দিয়ে ঘেরা।

Posted in কবরের চারদিকে পাকা দেওয়াল দিয়ে ঘিরে রাখা যাবে কি? | Tagged

কা‘বাগৃহ, মসজিদে নববীসহ বিভিন্ন স্থানে ফরয ছালাত চলাকালীন সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মুছল্লীদের মাঝে দাঁড়িয়ে পাহারারত দেখা যায়। জামা‘আত চলাকালীন সময়ে এরূপ করা জায়েয হবে কি?


ইমাম ও মুছল্লীদের নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী জামা‘আতে অংশ গ্রহণ না করে তাদের পাহারায় নিয়োজিত থাকতে পারে। যেমন কুরআনে যুদ্ধের ময়দানে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণার্থে একটি দলকে জামা‘আতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে (নিসা ৪/১০২)। তারা পরে পৃথক জামা‘আতে ছালাত আদায় করবে (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৫/১৩; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৮/১৮৮-১৯২)

Posted in ছালাত চলাকালীন সময়ে নিরাপত্তা বাহিনী পাহারা দিতে পারে কি? | Tagged

গাভীকে মানুষ ঝাড়-ফুঁক করে দুধ বন্ধ করে দেয়। তখন দুধ হয় না। এথেকে বাঁচার জন্য পাল্টা ঝাড়-ফুঁক করা দড়ি পরালে ভালো হয়ে যায়। এক্ষণে এটা পরানো যাবে কি?


: দড়ি, তাবীয-কবয ইত্যাদি পরানো যাবে না (তিরমিযী হা/২০৭২; মিশকাত হা/৪৫৫৬; ছহীহুত তারগীব হা/৩৪৫৬)। রাসূল (ছাঃ) পশুর গলায় রশির মালা বা এজাতীয় কিছু থাকলে তা কেটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন (বুখারী হা/৩০০৫; মুসলিম হা/২১১৫)। বরং এক্ষেত্রে কুরআন ও হাদীছে বর্ণিত দো‘আগুলো পাঠ করার মাধ্যমে শরী‘আতসম্মত ঝাড়-ফুঁক করবে।

আর তাবীয-কবয বা এজাতীয় কোন মাধ্যমে উপশম হলেও বুঝতে হবে এগুলি শয়তানের কাজ। আল্লাহর আনুগত্য থেকে বান্দাকে শয়তানের আনুগত্যে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য এসব শয়তানী কারসাজি মাত্র। আল্লাহ বলেন, ‘তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে কেবল নারীকে আহবান করে। বস্ত্ততঃ তারা কেবল অবাধ্য শয়তানের পূজা করে’ (নিসা ৪/১১৭)। একদা যয়নব (রাঃ) আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমার চোখে ব্যথা হ’লে আমি একজন ইহূদীর কাছে যেতাম, যে মন্ত্র পাঠের পর আমার চোখে ফুঁক দিলে ব্যথার উপশম হ’ত। তখন ইবনু মাসঊদ (রাঃ)-কে বললেন, এতো শয়তানের অপকর্ম ছিল। তুমি শয়তানের আনুগত্য করলে সে তোমাকে রেহাই দিত এবং তার আনুগত্য না করলে সে তোমার চোখে আংগুলের খোঁচা মারতো (আবুদাঊদ হা/৩৮৮৩; ইবনু মাজাহ হা/৩৫৩০)।

Posted in গাভীকে দড়ি তাবীয-কবয ইত্যাদি পরানো যাবে কি? | Tagged

ছালাতরত অবস্থায় মসজিদে কাঁচের দরজায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখা গেলে ছালাত কবুল হবে কি?


এতে ছালাতের কোন ক্ষতি হবে না। কেননা এটা ছবি-মূর্তির হুকুমে পড়ে না। তবে মুছল্লী প্রতিচ্ছবির দিকে তাকাবে না। বরং এ সময় মুছল্লীর দৃষ্টি থাকবে সিজদার স্থানে (ছহীহ ইবনু খুযায়মা হা/৩০১২)। আর এই প্রতিচ্ছবির কারণে যদি ছালাতে মনোযোগ বিঘ্নিত হয়, তবে তা পর্দা বা অন্য কিছু দ্বারা ঢেকে দিবে।

Posted in মসজিদে কাঁচের দরজায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখা গেলে ছালাত কবুল হবে কি? | Tagged

আমার পিতা আমার দাদাকে হজ্জ করাতে চেয়েছিলেন। তবে তা করানোর পূর্বেই দাদা মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে পিতা নিজেই দাদার বদলী হজ্জ করতে চান। কিন্তু তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়ায় যেতে পারছেন না। এক্ষণে তিনি দাদার হজ্জের খরচ সমপরিমাণ অর্থ মাদ্রাসায় জমি ক্রয়ের জন্য দান করে দিতে চান। এ সিদ্ধান্ত সঠিক হবে কি?


এক্ষেত্রে দান নয় বরং অন্য কারু মাধ্যমে বদলী হজ্জ করাতে হবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) এরূপ ক্ষেত্রে হজ্জের অর্থ দান করতে বলেননি। বরং তার পক্ষ থেকে হজ্জ করতে বলেছেন (তিরমিযী হা/৯৩০; আহমাদ হা/১৬২২৯; মিশকাত হা/২৫২৮)। আর নিজের হজ্জ না করে অন্যের জন্য বদলী হজ্জ করা যাবে না (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/২৫২৯)

Posted in হজ্জ করতে না পারায় সেই অর্থ দান করা যাবে কি? | Tagged ,

ছালাতের শেষ বৈঠকে সর্বনিম্ন কি কি দো‘আ পাঠ করা আবশ্যক? তাশাহহুদ ব্যতীত কোন দো‘আ পাঠ করার পূর্বেই ইমাম সালাম ফিরিয়ে দিলে ছালাত হবে কি?


শেষ বৈঠকে সালাম ফিরানোর পূর্বে কেবল তাশাহ্হুদ (আত্তাহিইয়াতু) পাঠ করা আবশ্যক (নাসাঈ হা/১২৭৭; দারাকুৎনী হা/১৩৪৩; ইরওয়া হা/৩১৯)। অন্যান্য দো‘আগুলি পাঠ করা সুন্নাত ও মুস্তাহাব। অতএব কেবল তাশাহহুদ পাঠ করে সালাম ফিরিয়ে নিলে ছালাতের ফরযিয়াত আদায় হয়ে যাবে। এজন্য কোন সহো সিজদা দিতে হবে না (উছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ ৩/৩১০-৩১২)। তবে দরূদ ও অন্যান্য দো‘আগুলি পাঠ করার অনেক গুরুত্ব রয়েছে (মুসলিম হা/৪০২; মিশকাত হা/৯০৯)। আর তাশাহ্হুদ পড়তে ভুলে গেলে সহো সিজদা দিতে হবে।

Posted in শেষ বৈঠকে সর্বনিম্ন কি কি দো‘আ পাঠ করা আবশ্যক? | Tagged

জনৈক নারীর প্রথম পক্ষের ১টি ছেলে এবং দ্বিতীয় পক্ষে ১টি ছেলে ও ১টি মেয়ে রয়েছে। এক্ষণে তার উভয় স্বামী মারা গেলে প্রথম পক্ষের ছেলেটি উভয় পিতারই সম্পদের ওয়ারিছ হবে কি?


প্রথম পক্ষের ছেলেটি কেবল তার নিজ পিতার সম্পদের ওয়ারিছ হবে। সৎ পিতার সম্পদের হবে না। তবে সে তার মায়ের সম্পদের ওয়ারিছ হবে। অবশ্য সৎপিতার সাথে অন্য দিক থেকে আত্মীয়তার সম্পর্ক (যেমন চাচা) থাকলে আছাবা সূত্রে পেতে পারে।

Posted in সন্তান সৎপিতার সম্পদের ওয়ারিছ হবে কি? | Tagged

খত্বীবের জন্য দুই খুৎবার মাঝে বসার সময় পঠিতব্য কোন দো‘আ আছে কি?


এ মর্মে রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবীগণ থেকে নির্দিষ্ট কোন দো‘আ বা যিকির বর্ণিত হয়নি। তবে যেহেতু জুম‘আর দিনের এই সময়টি দো‘আ কবুলের বিশেষ সময়ের অন্তর্ভুক্ত (মুসলিম হা/৮৫২; আহমাদ হা/৭৭৫৬), তাই মুছল্লী বা ইমাম চাইলে যেকোন দো‘আ পাঠ করতে পারেন (উছায়মীন, ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দারব ১৮৮/৪২)

Posted in খুৎবার মাঝে বসার সময় পঠিতব্য কোন দো‘আ আছে কি? | Tagged

জুম‘আর দিন দো‘আ কবুলের সময় কখন?


বিদ্বানগণ জুম‘আর দিনে দো‘আ কবুলের সঠিক সময় নিয়ে মতভেদ করেছেন। এবিষয়ে ৪৩টি মতভেদ উল্লেখিত হয়েছে (শাওকানী, নায়লুল আওত্বার ৪/১৭২-৭৬)। তন্মধ্যে দু’টি মত সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ও প্রমাণিত (১) ইমাম ছাহেবের মিম্বারে বসা থেকে নিয়ে ছালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত (মুসলিম হা/৮৫৩; মিশকাত হা/১৩৫৭-৫৮)। (২) আছরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত (আবুদাউদ হা/১০৪৬;, মিশকাত হা/১৩৬০; ছহীহাহ হা/২৫৮৩)। অন্য বর্ণনায় রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, জুম‘আর দিনের বার ঘন্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যদি কোন মুসলিম এ সময় আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহ’লে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে তা দান করেন। এ মুহূর্তটি তোমরা আছরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান করো (আবুদাউদ হা/১০৪৮; ছহীহুত তারগীব হা/৭০৩; বিস্তারিত দ্রঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ১৯৯-২০০)। উল্লেখ্য যে, বরকত ও ফযীলতের আশায় কেবল জুম‘আর রাত্রিকে নির্দিষ্ট করে জাগরণ করা নিষিদ্ধ (মুসলিম হা/১১৪৪; মিশকাত হা/২০৫২; ‘নফল ছিয়াম’ অনুচ্ছেদ)

Posted in প্রশ্নোত্তর | Tagged

জিমে গিয়ে শরীর চর্চা করা শরী‘আতসম্মত কি?


জিমে (Gym) গিয়ে শরীর চর্চায় শরী‘আতে কোন বাধা নেই। বরং শরী‘আত শরীর চর্চার প্রতি উৎসাহিত করেছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর নিকট উত্তম ও অধিকতর প্রিয় দুর্বল মুমিনের চাইতে’ (মুসলিম হা/২৬৬৪; মিশকাত হা/৫২৯৮)। তবে এমন শরীর চর্চা করা যাবে না যাতে শরী‘আতের কোন বিধানকে অবজ্ঞা করা হয়। যেমন ছালাতের সময়ের ব্যাপারে খেয়াল না রাখা ও পর্দার ব্যাপারে গুরুত্ব না দেওয়া, বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে শরীর চর্চা করা ইত্যাদি।

Posted in জিমে গিয়ে শরীর চর্চা করা শরী‘আতসম্মত কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তি বলেন, আমরা বর্তমান উম্মাহর কেউ আল্লাহর হেদায়াত পাব না। কারণ আল্লাহ শুধুমাত্র ছাহাবীগণকে হেদায়াত দান করেছিলেন। এর পর থেকে যারা এসেছেন তাদের আল্লাহ কেবল দয়া দিয়েছেন, হেদায়াত নয়। এক্ষণে দয়া আর হেদায়াত কি ভিন্ন বস্ত্ত?


বক্তব্যটি ভিত্তিহীন। কারণ হেদায়াত কোন সময় বা নির্দিষ্ট একদল মানুষের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। সূরা ফাতিহায় হেদায়াত প্রার্থনা করা হয়েছে, যা কিয়ামতের আগ পর্যন্ত সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য (ফাতিহা ১/৫)। সূরা বাক্বারার শুরুতে কুরআনকে আল্লাহভীরুদের জন্য হেদায়াত বলা হয়েছে (বাক্বারাহ ২/২)। কুরআনে ত্রিশেরও অধিক স্থানে হেদায়াতের কথা বলা হয়েছে, যা ক্বিয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য। দ্বিতীয়তঃ শাব্দিকভাবে দু’টি শব্দের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। হেদায়াত অর্থ- পথ প্রদর্শন, দিকনির্দেশনা ইত্যাদি। আর দয়া অর্থ রহমত, অনুগ্রহ, করুণা ইত্যাদি। উভয়টিই আল্লাহ ছাহাবীগণসহ অন্যান্য সকলকে দান করেছেন।

Posted in আমরা বর্তমান উম্মাহর কেউ আল্লাহর হেদায়াত পাব না কি? | Tagged

মুক্বীম অবস্থায় ভুলবশতঃ একটানা দু’দিন দু’রাত মোযার উপর মাসাহ করে ওযূ ও ছালাত আদায় করা হয়েছে। এক্ষণে উক্ত ছালাতগুলি পুনরায় আদায় করতে হবে কি? আর মাসাহের সময়কাল কখন থেকে শুরু হবে?


এক দিন ও একরাতের ছালাত পুনরায় আদায় করতে হবে। কারণ মুকীমের জন্য মোযার উপর মাসাহ করার বিধান একদিন ও একরাত (মুসলিম হা/২৭৬; ইবনু মাজাহ হা/৫৫৫; মিশকাত হা/৫১৭; ছহীহাহ হা/৩৪৫৫)। আর মাসাহের মেয়াদকাল শুরু হবে মোযার উপর প্রথম মাসাহ করা থেকে; ওযূ করার সময় থেকে বা ওযূ করার পর প্রথম ওযূ ভঙ্গ হওয়া থেকে নয়। হযরত ওমর (রাঃ) বলেন, يمسح عليهما مثل ساعته من يومه وليلته ‘যে সময়ে সে মাসাহ করবে, তখন থেকে একদিন একরাত সে মোযার উপর মাসাহ করবে’ (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/৮০৮; আলবানী, সনদ ছহীহ; আলবানী, আল-মাসহু ‘আলাল জাওরাবাইন পৃ. ৯১-৯২; নববী, আল-মাজমূ‘ ১/৪৮৭; উছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ ১/২২৬)

Posted in মোযার উপর মাসাহ করার পদ্ধতি কি? | Tagged ,

ছহীহ সুন্নাহ মোতাবেক আমল শুরু করার আগে আমি পীরের মাযারে কয়েক পশু দেওয়ার মানত করেছিলাম। এক্ষণে তা পুরণ করতে হবে কি?


আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে মানত, নযর-নেয়ায করা বা যবেহ করা শিরক। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হ’ল … আর যেসব জন্তু আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয় এবং তীর্থকেন্দ্রে যে সব পশু যবেহ করা হয়’… (মায়েদা ৩)। অতএব এক্ষেত্রে মানত পুরণ করতে হবে না (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৪২৭-২৮ ‘নযর’ অধ্যায়)

Posted in হারাম মানত করলে তা কি পুরণ করতে হবে কি? | Tagged ,

অনেকে বলেন, সূরা বনু ইসরাঈলের ৮০ আয়াত দ্বারা রাষ্ট্রক্ষমতা প্রার্থনার কথা বলা হয়েছে। এর সঠিক ব্যাখ্যা জানতে চাই।


উক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। বরং এর অর্থ হ’ল- ‘আর তুমি বল, হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে (ইবাদতে) প্রবেশ করাও যথার্থভাবে এবং সেখান থেকে বের কর যথার্থভাবে। আর আমাকে তোমার পক্ষ হ’তে সাহায্যকারী শক্তি দাও’ (ইসরা ১৭/৮০)। এটি সর্বাবস্থায় দো‘আ হিসাবে পাঠ করা যায়। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) মক্কায় ছিলেন। অতঃপর তাকে মদীনায় হিজরতের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং উক্ত আয়াতটি নাযিল হয় (ইবনু কাছীর, ঐ আয়াতের তাফসীর)। তবে এর সনদ যঈফ (যঈফ তিরমিযী হা/৬১১, তিরমিযী হা/৩১৩৯)

উক্ত আয়াত দ্বারা ক্ষমতা লাভের জন্য রাসূল (ছাঃ)-কে হিজরত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলাটা ভুল। কারণ হিজরতের চারমাস পূর্ব থেকেই রাসূল (ছাঃ) সকলকে জানিয়েছিলেন যে, আমাকে তোমাদের হিজরতের স্থান স্বপ্নে দেখানো হয়েছে, যা কালো পাথুরে মাটির মাঝে খেজুর বাগিচা সমৃদ্ধ এলাকা। তখন থেকেই মুসলমানগণ ইয়াছরিবে হিজরত করতে থাকেন। …এক পর্যায়ে আবুবকরও ইয়াছরিবে চলে যেতে চান। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাকে বলেন, ‘থেমে যাও! আশা করছি যে, আমাকেও অনুমতি দেওয়া হবে’ (বুখারী হা/২২৯৭; ৩৯০৫)

অতঃপর হিজরতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় তিনি হাজূনে দাঁড়িয়ে মক্কাবাসী ও বায়তুল্লাহকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর শ্রেষ্ঠ জনপদ ও আল্লাহর নিকট আল্লাহর মাটিসমূহের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় মাটি। যদি আমাকে তোমার থেকে বের করে না দেওয়া হ’ত, তাহ’লে আমি বেরিয়ে যেতাম না’ (তিরমিযী হা/৩৯২৫; ইবনু মাজাহ হা/৩১০৮; মিশকাত হা/২৭২৫)। এ হাদীছ প্রমাণ করে যে, মক্কাবাসীদের যুলুমের কারণে এবং আল্লাহর হুকুমে তিনি হিজরত করেছিলেন, রাষ্ট্রক্ষমতা লাভের উদ্দেশ্যে নয়। যদিও তিনি আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তীতে মদীনায় রাষ্ট্রক্ষমতার অধিকারী হয়েছিলেন। কারণ তিনি ছিলেন শেষনবী এবং ইসলামের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন তার মাধ্যমে করাটা ছিল আল্লাহর একান্ত ইচ্ছা। আর রাষ্ট্রক্ষমতা ইসলামী বিধান সমূহ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের জন্য নিঃসন্দেহে সহায়ক শক্তি। কিন্তু সেটি অপরিহার্য পূর্বশর্ত নয়।

Posted in সূরা বনু ইসরাঈলের ৮০ আয়াত দ্বারা রাষ্ট্রক্ষমতা প্রার্থনার কথা বলা হয়েছে কি | Tagged

পুত্র সন্তান লাভের জন্য কোন ঝাড়-ফুঁক বা তেল পড়া, পানি পড়া খাওয়া যাবে কি?


সন্তান দানের মালিক আল্লাহ। অতএব পুত্র সন্তান লাভের জন্য কোনরূপ ঝাড়-ফুঁক বা তদবীর করা সম্পূর্ণরূপে নাজায়েয। আল্লাহ বলেন, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন, যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন অথবা যাকে ইচ্ছা পুত্র ও কন্যা যমজ সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান (শূরা ৪২/৪৯-৫০)

অতএব এর জন্য একমাত্র করণীয় হ’ল একনিষ্ঠ চিত্তে আল্লাহর নিকটে প্রার্থনা করা। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তুমি কিছু চাইলে আল্লাহর নিকটেই চাইবে। কোন সাহায্যের প্রয়োজন হলে তাঁর নিকটেই চাইবে। জেনে রেখ! যদি সমস্ত মাখলূক একত্র হয়ে তোমার কোন উপকার বা ক্ষতি করতে চায়, তবুও আল্লাহ তোমার ভাগ্যে যতটুকু লিখে রেখেছেন সেটা ছাড়া তারা তোমার কোন উপকার করতে পারবে না’ (তিরমিযী হা/২৫১৬; মিশকাত হা/৫৩০২)

Posted in পুত্র সন্তান লাভের জন্য কোন ঝাড়-ফুঁক বা তেল পড়া পানি পড়া খাওয়া যাবে কি? | Tagged ,

ইদ্দতকালে নারীরা ছালাত আদায়ের জন্য বেরিয়ে মসজিদে যেতে পারবে কি?


বাধ্যগত কারণ ব্যতীত এসময় বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না (তালাক্ব ৬৫/১; আবুদাউদ হা/২৩০০; মিশকাত হা/৩৩৩২; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী ৮/১৬৩)। আর নারীদের জন্য  মসজিদে গিয়ে জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায় করা ফরয নয় (আহমাদ হা/২৭১৩৫, বুখারী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১০৫৯, ১০৬২)

Posted in ইদ্দতকালে নারীরা ছালাত আদায়ের জন্য বেরিয়ে মসজিদে যেতে পারবে কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তি স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ৩ দিনের মাথায় ফিরিয়ে নেয়। অতঃপর এর প্রায় ২ মাস পর আবার ঝগড়া করে তালাক দিয়ে পরদিন ফিরিয়ে নেয়। অতঃপর পাঁচ মাস পরে পুনরায় ভীষণভাবে রাগান্বিত হয়ে স্ত্রীকে বলে ‘তোমাকে ডিভোর্স দিলাম’। এসময় স্ত্রী ঋতুবতী ছিল, যা স্বামীর জানা ছিল না। এক্ষণে তৃতীয় তালাকটি পতিত হয়েছে কি?


প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় দুই তালাক পতিত হয়েছে। আর তৃতীয় তালাকটি ঋতুবতী অবস্থায় দেওয়ার কারণে সেটি পতিত হবে না। কারণ তোহর অবস্থায় তালাক দেওয়াটাই নিয়ম, হায়েয অবস্থায় নয়। আল্লাহ বলেন, ‘আর তাদেরকে তালাক দাও ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং ইদ্দত গণনা কর’ (তালাক ৬৫/১)। আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) স্বীয় স্ত্রীকে ঋতুকালীন সময়ে তালাক দেন। তখন ওমর (রাঃ) উক্ত বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি ওমর (রাঃ)-কে বলেন, তুমি আব্দুল্লাহকে বল যেন সে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয় ও ঘরে রাখে পরবর্তী তুহর পর্যন্ত। অতঃপর সে পুনরায় ঋতুবতী হবে ও পবিত্র হবে। তখন ইচ্ছা করলে সে তাকে রেখে দিবে অথবা সহবাসের পূর্বেই তালাক দিবে। এটাই হ’ল তালাকপ্রাপ্তা নারীদের জন্য ইদ্দত, যা আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন’ (বুখারী হা/৫২৫১-৫২; মুসলিম হা/১৪৭১; মিশকাত হা/৩২৭৫)। আবুদাঊদ-এর বর্ণনায় এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর বলেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) স্ত্রীকে আমার নিকটে ফিরিয়ে দিলেন এবং ‘তিনি এটাকে কিছুই গণ্য করলেন না’ (আবুদাঊদ হা/২১৮৫)। অতএব নিয়ম বিরুদ্ধভাবে ঋতুবতী অবস্থায় তালাক দেওয়ায় উক্ত তালাক গণ্য হবে না (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩৩/৭৫-৭৬; উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ১৩/৩৫৯-৬০; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ২০/৫৮, ফৎওয়া নং ৬৫৪২; বিস্তারিত দ্রঃ )

Posted in তালাক ঋতুবতী স্ত্রী কে দিলে গ্রহন যোগ্য হবে কি? | Tagged

আমি সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে নকল বিভাগে চাকুরী করি। সরকার আমাদের ভলিউম লেখা তথা প্রতি পৃষ্ঠা লেখার জন্যে পারিশ্রমিক হিসাবে ৪০ টাকা করে প্রদান করে থাকে। কিন্তু সেটা ৬ মাস বা ১ বছর পর পর পরিশোধ করে। আর ৪০ টাকা থেকে উপরের মহল ১৫ টাকা করে কেটে রেখে আমাদের ২৫ টাকা হিসাব ভাতা দেয়। সেকারণ আমরা দলীলের অবিকল নকল কপি করার ক্ষেত্রে নকলের সরকারী ফিসের সাথে অতিরিক্ত কিছু টাকা পারিশ্রমিক হিসাবে নিয়ে থাকি, যা স্থানীয় অফিস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত। এক্ষণে এই অতিরিক্ত টাকা নেওয়া কি জায়েয হবে কি?


একটি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের প্রেক্ষাপটে এটি বড় কঠিন বাস্তবতা। তথাপি ঈমানের দাবী হ’ল অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হ’তে বিরত থাকা। কারণ তা ঘুষ হিসাবে গণ্য হবে, যা হারাম। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যাকে আমরা কোন দায়িত্বে নিয়োগ করি, আমরা তার রূযীর ব্যবস্থা করে থাকি। এর বাইরে যদি সে নেয়, তবে তা খেয়ানত হবে’ (আবুদাঊদ হা/২৯৪৩; মিশকাত হা/৩৭৪৮; ছহীহুত তারগীব হা/৭৭৯)। অতএব উক্ত অর্থ গ্রহণ করা হ’তে বিরত থাকা আবশ্যক। এক্ষেত্রে করণীয় হ’ল, নিয়মতান্ত্রিকভাবে উপর মহলের কাছে ন্যায্য অধিকারের দাবী করতে হবে এবং জনগণের উপর যুলুম বন্ধ করতে হবে। আর স্থানীয় অফিস কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত পারিশ্রমিক যদি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয়, তাহ’লে তা নেওয়া বৈধ হবে।

Posted in কোন কাজে অতিরিক্ত কিছু টাকা পারিশ্রমিক হিসাবে নেওয়া জায়েয হবে কি? | Tagged

হিজামাহ করিয়ে পারিশ্রমিক নেওয়া যাবে কি?


যেকোন বৈধ কর্মের বিনিময়ে মজুরী গ্রহণ করায় বাধা নেই। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) শিঙ্গা লাগিয়েছেন এবং তাকে মজুরী দিয়েছেন। যদি এটি হারাম (حَرَامًا) হ’ত বা তিনি নিকৃষ্টخَبِيثًا) ) মনে করতেন, তবে তিনি মজুরী দিতেন না’ (বুখারী হা/২১০৩; আবুদাঊদ হা/৩৪২৩)। আনাস (রাঃ)-কে শিঙ্গাকারীর উপার্জন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আবূ ত্বয়বাহ রাসূল (ছাঃ)-কে শিঙ্গা লাগিয়ে দিলে তিনি তাকে দুই ছা‘ খাদ্য প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন (মুসলিম হা/১৫৭৭)

অন্যদিকে কিছু কিছু হাদীছে রাসূল (ছাঃ) শিঙ্গা লাগিয়ে পারিশ্রমিক গ্রহণকে নিকৃষ্ট (كَسْبُ الْحَجَّامِ خَبِيثٌ)  বলেছেন (মুসলিম হা/১৫৬৮; মিশকাত হা/২৭৬৩)। অন্য বর্ণনায় তা গ্রহণে নিষেধ(نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صـ عَنْ كَسْبِ الْحَجَّامِ)  করেছেন (ইবনু মাজাহ হা/২১৬৫)। উক্ত হাদীছ সমূহের ব্যাখ্যায় ইমাম নববী বলেন, এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত হাদীছসমূহ দ্বারা কাজটির বিনিময় গ্রহণ অপসন্দনীয়  (النهي على التنزيه) বুঝানো হয়েছে (শরহ নববী, উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যা)। অতএব হালাল কর্ম হিসাবে এর বিনিময় গ্রহণ হারাম হবে না (উছায়মীন, শরহ বুলুগুল মারাম হা/৯১০)

Posted in হিজামাহ করিয়ে পারিশ্রমিক নেওয়া যাবে কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তি বলেন, কুরআনে যাকাতের যে ৮টি খাতের কথা এসেছে, তদনুযায়ী যাকাতের মাল প্রথমে ৮ ভাগ করতে হবে। তারপর সম্ভবপর প্রত্যেক খাতে সমানভাবে বণ্টন করতে হবে। কেবল এক বা দুই খাতে বণ্টন করলে চলবে না। এর সত্যতা আছে কি?


বক্তব্যটি সঠিক নয়। কারণ রাসূল (ছাঃ) মু‘আয বিন জাবালকে ইয়ামনে পাঠানোর সময় বলেছিলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর তাদের সম্পদের মধ্য থেকে ছাদাক্বা (যাকাত) ফরয করেছেন। যেটা তাদের ধনীদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা হবে’ (বুখারী হা/১৩৯৫; আবুদাউদ হা/১৫৮৪)। এখানে একটি মাত্র খাত উল্লেখ করা হয়েছে যা প্রমাণ করে যে, প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে কমবেশী বা খাতের ব্যাপারে শিথিলতা রয়েছে। ইবনু জারীর (রহঃ) বলেন, কুরআনে বর্ণিত খাতগুলির দ্বারা উদ্দেশ্য এই নয় যে ৮টি খাতকে সমানভাবে বন্টন করতে হবে; বরং ৮টি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে বন্টন করতে হবে (ইবনু কাছীর, তাফসীর তওবা ৬০ আয়াত)। তবে ফকীর-মিসকীনকে প্রাধান্য দিবে। যেহেতু আল্লাহ তাদের নাম প্রথমে উল্লেখ করেছেন (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৮/২২১)

Posted in যাকাতের মাল ৮ ভাগ করতে হবে কি? | Tagged

আমাকে নিজ যেলার বাইরে ১৫ দিনের একটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে হবে। আমি কি সেখানে ছালাত ক্বছর করতে পারব, যেহেতু আমাকে চার দিনের অধিক অবস্থান করতে হবে?


উক্ত অবস্থায় ছালাত ক্বছর করা যাবে। আল্লাহ বলেন, ‘সফর অবস্থায় ছালাতে ‘ক্বছর’ করলে তোমাদের জন্য কোন গোনাহ নেই’ (নিসা ৪/১০১)। আর কুরআন ও ছহীহ হাদীছে কোথাও সফরের দূরত্ব বা সময়সীমা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৪/১২-১৩; উছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ ৪/৩৭৮)। এছাড়া এ ব্যাপারে বিদ্বানগণ এক মাইল হ’তে ৪৮ মাইল পর্যন্ত বিশ প্রকার বক্তব্য পেশ করেছেন (শাওকানী, নায়লুল আওত্বার ৪/১২২ পৃঃ; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৬৩; বিস্তারিত দ্রঃ)।

আর সফরে ক্বছর আদায় করা উত্তম; তবে বাধ্যতামূলক নয়। ওছমান ও আয়েশা (রাঃ) প্রথম দিকে ক্বছর করতেন ও পরে পুরা পড়তেন। ইবনু ওমর (রাঃ) জামা‘আতে পুরা পড়তেন ও একাকী ক্বছর করতেন (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৩৪৭-৪৮)

Posted in ক্বছর নিজ যেলার বাইরে গেলে করতে পারব কি? | Tagged

ছহীফা কয়টি এবং কাদের উপর তা নাযিল হয়েছিল?


এ ব্যাপারে কুরআন বা ছহীহ হাদীছে কোন স্পষ্ট বর্ণনা নেই। তবে একটি যঈফ বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূল (ছাঃ) বলেন, একশ’ ছহীফা ও চারটি কিতাব আল্লাহ নাযিল করেন। এর মধ্যে ৫০টি শীছ (আঃ)-এর উপর, ৩০টি ইদরীস (আঃ)-এর উপর, ১০টি ইবরাহীম (আঃ)-এর উপর ও অপর ১০টি নাযিল হয় আদম (আঃ)-এর উপর (ছহীহ ইবনু হিববান হা/৩৬১; বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/২১৫৫; তাফসীর কুরতুবী ১/১৮০; তাফসীর ইবনু কাছীর ২/৪১৯, সূরা নিসা ১৬৩-১৬৫ আয়াতের আলোচনা দ্রষ্টব্য)। আলবানী, শু‘আইব আরনাউত্ব প্রমুখ মুহাক্কিক এর সনদকে নিতান্তই যঈফ বলেছেন (যঈফাহ হা/৬০৯০; তাহকীক ছহীহ ইবনু হিববান হা/৩৬১)। কুরআনে কেবল ইবরাহীম (আঃ) এবং মূসা (আঃ)-এর উপর ছহীফাসমূহ নাযিলের কথা এসেছে (আ‘লা ৮৭/১৮-১৯)। তবে তার সংখ্যা বলা হয়নি। সুতরাং আমাদেরকে সাধারণভাবে বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর অগণিত নবী-রাসূলের উপর কিতাব ও ছহীফা নাযিল করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তিনি তোমার (মুহাম্মাদ) প্রতি এই কিতাব নাযিল করেছেন সত্য সহকারে। যা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী। আর তিনি নাযিল করেছিলেন তাওরাত ও ইনজীল’ (আলে ইমরান ৩/৩)

Posted in ছহীফা কয়টি এবং কাদের উপর তা নাযিল হয়েছিল?

একটি বইয়ে ক্বিয়ামতের আলামতের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ক্বিয়ামতের আগে রোমক তথা খৃষ্টানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং আরবদের সংখ্যা কমে যাবে। এর কোন সত্যতা আছে কি?


উক্ত বক্তব্যটি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, এমন সময় ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে যখন রোমকদের সংখ্যা অধিক হবে (মুসলিম হা/২৮৯৮; আহমাদ হা/১৮০৫৮)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, রাসূল (ছাঃ) বলেন, লোকেরা দাজ্জালের ভয়ে পাহাড়ে পালিয়ে যাবে। এ কথা শুনে উম্মু শারীক (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেদিন আরবের লোকেরা কোথায় থাকবে? উত্তরে তিনি বললেন, তখন তারা সংখ্যায় কম হবে’ (মুসলিম হা/২৯৪৫; মিশকাত হা/৫৪৭৭)। কাযী ইয়ায (১০৮৩-১১৪৯ খৃঃ) বলেন, বর্তমান বাস্তবতা হাদীছটির যথার্থতা প্রমাণ করে। কেননা খৃষ্টানরা শাম থেকে স্পেনের শেষ সীমানা পর্যন্ত এতটা ছড়িয়ে পড়েছে, যা ইতিপূর্বে কোন জাতির ক্ষেত্রে ঘটেনি (আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শরহ মুসলিম ২৬/১২৫)। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে না সৃষ্টির নিকৃষ্টতম লোকদের উপরে ব্যতীত (মুসলিম হা/১৯২৪, মিশকাত হা/৫৫১৭, ‘ফিৎনাসমূহ’ অধ্যায়)

Posted in ক্বিয়ামতের আগে রোমক তথা খৃষ্টানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে কি? | Tagged

আমি শয়তানের ধোঁকায় পড়ে ১৯-২০ লক্ষ টাকা ঋণ করে নষ্ট করে ফেলেছি। বর্তমানে আমি একটা চাকুরী করে মাসে ২০ হাযার টাকা বেতন পাই। আমাকে এখন পাওনাদার প্রতিদিনই টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। আমি মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত। এমতাবস্থায় আমি কি করতে পারি?


সবকিছু দিয়ে হ’লেও ঋণ পরিশোধ করার চেষ্টা করতে হবে। এছাড়া বেতন থেকে প্রতিমাসে কিছু টাকা পরিশোধ করার চেষ্টা করবে। সেটাও সম্ভব না হ’লে ঋণদাতার নিকট ঋণ মওকূফের জন্য আবেদন করতে হবে। এতে সে সম্মত না হ’লে সমাজের বায়তুল মাল তহবিল থেকে সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। কেননা ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি যাকাতের মালের অন্যতম হকদার (তওবাহ ৯/৬০)

অন্যদিকে সক্ষম ঋণদাতা অক্ষম ঋণগ্রহীতাকে ক্ষমা করে দিলে তার জন্য বিরাট প্রতিদান রয়েছে। আবু ক্বাতাদাহ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি এই কামনা করে যে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্বিয়ামত দিবসের দুঃখ-কষ্ট হ’তে মুক্তি দিবেন, সে যেন অক্ষম ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য সহজ ব্যবস্থা করে দেয় অথবা ঋণ মওকূফ করে দেয়’ (মুসলিম হা/১৫৬৩; মিশকাত হা/২৯০২)

এতদ্ব্যতীত ঋণ পরিশোধের তাওফীক দানের জন্য আল্লাহর নিকট নিম্নোক্ত দো‘আটি নিয়মিতভাবে পাঠ করবে।- আল্লা-হুম্মাক্ফিনী বেহালা-লেকা ‘আন হারা-মেকা ওয়া আগ্নিনী বেফায্লেকা ‘আম্মান সেওয়া-কা’ (হে আল্লাহ! তুমি আমাকে হারাম ছাড়া হালাল দ্বারা যথেষ্ট কর এবং তোমার অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে অন্যদের থেকে মুখাপেক্ষীহীন কর! রাসূল (ছাঃ) বলেন, এই দো‘আর ফলে পাহাড় পরিমাণ ঋণ থাকলেও আল্লাহ তার ঋণমুক্তির ব্যবস্থা করে দেন’ (তিরমিযী হা/৩৫৬৩; মিশকাত হা/২৪৪৯; ছহীহাহ হা/২৬৬)

Posted in ঋণের কারণে মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত। এমতাবস্থায় আমি কি করতে পারি? | Tagged

বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী উভয়ে সমাঝোতার মাধ্যমে যদি এরূপ চুক্তিতে উপনীত হয় যে, লোকসানের দায় কেবল ব্যবসায়ীই নিবে বিনিয়োগকারী নয়, তাহ’লে এরূপ চুক্তি করা জায়েয হবে কি?


এরূপ চুক্তি জায়েয হবে না। ইবনু কুদামা বলেন, এক্ষেত্রে ব্যবসায়ী লোকসানের ভাগিদার হবে না। কেবল বিনিয়োগকারী হবে। তবে লাভের ক্ষেত্রে উভয়ে সমঝোতা মোতাবেক শরীক হবে। এক্ষেত্রে বিদ্বানগণের মধ্যে কোন মতভেদ আছে বলে আমরা জানি না (ইবনু কুদামা ৫/২৭-২৮, ৫/৪৯, ৫১)

কেননা লোকসানের ভাগিদার হ’লে ব্যবসায়ীকে দুই দিক থেকে দায়িত্ব নিতে হয়। প্রথমতঃ সে ব্যবসা পরিচালনা করে, আবার লোকসানেরও ভাগ বহন করে; যা সুস্পষ্ট যুলুম। সুতরাং উভয়ের সম্মতি থাকলেও এরূপ চুক্তি জায়েয হবে না, যদি না ব্যবসায়ী অন্যায়ভাবে সম্পদ নষ্ট করে (আল-মওসূ‘আতুল ফিক্বহিইয়াহ ৩৮/৬৪)। আল্লাহ্ বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা একে অপরের মাল অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না, তোমাদের পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসা ব্যতীত’ (নিসা ৪/২৯)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ঐ সকল শর্ত যা আল্লাহর কিতাবে নেই তা বাতিল (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৮৭৭)

Posted in যৌথ ব্যবসায় লোকসান হলে একজনই এর ভার নিতে পারবে কি? | Tagged

জুম‘আর খুৎবা চলাকালীন সময়ে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ বা দরূদ পড়া ইত্যাদি জায়েয হবে কি?


খুৎবা চলাকালে খত্বীবের বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে উপরোক্ত দো‘আসমূহ পাঠ করায় কোন বাধা নেই। যেমন খুৎবার সময় ইমাম দো‘আ করলে, রাসূল (ছাঃ)-এর নাম নিলে, আল্লাহ প্রদত্ত বড় কোন নে‘মত অথবা কোন আমলে প্রভূত ফযীলত ইত্যাদি বর্ণনা করলে প্রত্যুত্তরে নিম্নস্বরে আমীন বলা বা তাসবীহ পাঠ করা যাবে (শায়খ বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩০/২৪৩)। এমনকি ছালাতরত অবস্থাতে রাসূল (ছাঃ) যখন আল্লাহর বড়ত্ব বিষয়ক আয়াত অতিক্রম করতেন, তখন সুবহানাল্লাহ বলতেন। যখন প্রার্থনামূলক আয়াত আসত, তখন প্রার্থনা করতেন। যখন জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনার আয়াত আসলে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করতেন (মুসলিম হা/৭৭২)। যা মুছল্লীদের জন্যও অনুরূপ পাঠ করা মুস্তাহাব (শরহ নববী)। অতএব খুৎবার সময় মুছল্লীদের জন্য এরূপ বলায় কোন বাধা নেই। তবে এ সময় মুছল্লীদের মধ্যে পারস্পরিক ব্যাক্যালাপ নিষিদ্ধ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘জুম‘আর দিন ইমাম খুৎবা দেওয়ার সময় তুমি যদি তোমার সাথীকে বল ‘চুপ থাক’, তাহ’লে তুমি অনর্থক কথা বললে (বুখারী হা/৯৩৪; মুসলিম হা/৮৫১; মিশকাত হা/১৩৮৫)।

Posted in জুম‘আর খুৎবা চলাকালীন সময়ে দরূদ পড়া ইত্যাদি জায়েয হবে কি? | Tagged

ক্বিয়ামতের দিন রাসূল (ছাঃ)-এর শাফা‘আত কি কেবল কবীরা গুনাহগারদের জন্য হবে? যদি তাই হয় তবে ক্বিয়ামতের দিন রাসূল (ছাঃ)-এর শাফা‘আত ছাড়া কেউ জান্নাতে যাবে না’ বলার কারণ কি?


রাসূল (ছাঃ)-এর শাফা‘আত মূলতঃ মুসলিম উম্মাহর কাবীরা গোনাহগারদের জন্য (আবুদাঊদ হা/৪৭৩৯; তিরমিযী হা/২৪৩৫; ইবনু মাজাহ হা/৪৩১০)। তবে এটিই একমাত্র শাফা‘আত নয়।  বরং শাফা‘আতকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়। (১) শাফা‘আতে উযমা বা প্রধান শাফা‘আত, যা রাসূল (ছাঃ) কিয়ামতের দিন সকল মানুষের বিচারের জন্য আল্লাহর নিকটে করবেন (ইসরা ১৬/৭৯; বুখারী হা/৪৭১৮)। (২) সাধারণ শাফা‘আত, যা নবী-রাসূল, শহীদ, ফেরেশতা, সৎকর্মশীল ব্যক্তি, আলেম, কুরআন, ছিয়াম ইত্যাদি আল্লাহর নিকটে করবে (বিস্তারিত দ্রষ্টব্য : নাছের আল-জুদাই‘, আশ-শাফাআতু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আহ)

রাসূল (ছাঃ)-এর শাফা‘আত আরও কয়েকটি কারণে হবে। যেমন- (১) জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশ ও তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করার জন্য (মুসলিম হা/১৯৭, ৩৩৩, ৯২০; মিশকাত হা/১৬১৯)। (২) জাহান্নামীদের ক্ষমা করার জন্য (মুসলিম হা/৯৪৮; মিশকাত হা/১৬৬০)। (৩) জাহান্নামীদের শাস্তি লঘু করার জন্য (বুখারী হা/৩৮৮৫; মুসলিম হা/২১০)। (৪) তাঁর চাচা আবু তালেবের শাস্তি কমানোর জন্য (বুখারী হা/১৪০৮; মুসলিম হা/২০৯)। (৫) উম্মতের একদল মানুষকে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করানোর জন্য (বুখারী হা/৪৩৪৩, মুসলিম হা/২৮৭)

যেহেতু রাসূল (ছাঃ)-এর শাফা‘আতের পরই জান্নাতীদের জন্য জান্নাতের দরজা খোলা হবে (মুসলিম হা/১৯৬, ১৯৭),  সেকারণ বলা হয়ে থাকে যে, রাসূল (ছাঃ)-এর সুফারিশ ছাড়া কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না।

Posted in ক্বিয়ামতের দিন রাসূল (ছাঃ)-এর শাফা‘আত কি কেবল কবীরা গুনাহগারদের জন্য হবে? | Tagged

শিশুদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক সময় মিথ্যা কথা বলা হয়। যেমন ‘ঘুমাও, নইলে বাঘে খাবে’ অথবা খাও তাহ’লে বেড়াতে নিয়ে যাব প্রভৃতি। এরূপ মিথ্যা বলা যাবে কি?


বাচ্চাকে থামানোর নিয়তে এসব বলায় কোন দোষ নেই। যেমন অনর্থক বা সংকল্পহীন কসমের কোন কাফফারা নেই (বাক্বারাহ ২/২২৫; আবুদাঊদ হা/৩২৫৪, মিশকাত হা/৩৪১৭, ঐ মিরক্বাত)। তবে যদি মনের সংকল্প অনুযায়ী হয় এবং সত্যিকারের ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে হয়, তবে তা মিথ্যা ও পাপ হিসাবে গণ্য হবে। আব্দুল্লাহ বিন আমের (রাঃ) বলেন, ‘একদা আমার মা আমাকে ডাকলেন। নবী করীম (ছাঃ) সে  সময়ে আমাদের বাড়ীতে ছিলেন। তিনি ডাকার সময় বললেন, ‘বাবা! এদিকে এসো, তোমাকে একটি জিনিস দিব’। তখন রাসূল (ছাঃ) তাকে (ইবনে আমেরের মা) বললেন, ‘তুমি কিছু দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ডাকনি’? উত্তরে তিনি বললেন, ‘আমি ওকে খেজুর দিব’। অতঃপর রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘সাবধান! যদি তুমি তাকে কিছু না দিতে তাহ’লে এ কারণে তোমার আমলনামায় একটি মিথ্যার পাপ লিপিবদ্ধ হ’ত’ (আবুদাঊদ হা/৪৯৯১; মিশকাত হা/৪৮৮২; ছহীহাহ হা/৭৪৮)। অন্য বর্ণনায় এসেছে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কেউ যদি কোন শিশুকে বলে, ‘এসো এটা নাও’। অতঃপর তা না দেয়, তাহ’লে তা মিথ্যাচার হিসাবে গণ্য হবে’ (আহমাদ হা/৯৮৩৫; ছহীহুত তারগীব হা/২৯৪২)

Posted in শিশুদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনতে মিথ্যা কথা বলা যাবে কি? | Tagged ,