ছালাতের দুই সালামের মাঝে কোন দো‘আ পাঠ করতে হয় কি?


উক্ত স্থানে পঠিতব্য কোন দো‘আ হাদীছে পাওয়া যায় না। সুতরাং কিছু পাঠ করা যাবে না।

Posted in ছালাতের দুই সালামের মাঝে কোন দো‘আ পাঠ করতে হয় কি? | Tagged

একটি ছাগল আমাদের জানা মতে কুকুরের দুধ খেয়ে বড় হয়েছে। এক্ষণে সেটি দিয়ে কুরবানী বা আক্বীক্বা করা যাবে কি?


ছাগল যদি কুকুরে রূপান্তরিত না হয়, তবে তা দিয়ে কুরবানী করায় কোন বাধা নেই। কারণ খানাপিনায় হালাল-হারামের বিধান পশু-পাখির জন্য প্রযোজ্য নয়।

Posted in ছাগল কুকুরের দুধ খেলে সেটি দিয়ে সেটি দিয়ে কুরবানী করা যাবে কি? | Tagged ,

বসে ছালাত আদায় করলে রাফঊল ইয়াদায়েন করতে হবে কি?


বসে ছালাত আদায় করলেও যথাস্থানে রাফঊল ইয়াদায়েন করতে হবে। কারণ দৈহিক অক্ষমতার কারণে যতটুকু অনুসরণ করা সম্ভব হয় না, ততটুকুর ব্যাপারে শরী‘আতে ছাড় রয়েছে, তার বেশী নয়। তবে কেউ কেউوَلاَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي شَيْءٍ مِنْ صَلاَتِهِ وَهُوَ قَاعِدٌ ‘তিনি ছালাতে বসা অবস্থায় কোন কিছুতেই রাফঊল ইয়াদায়েন করেননি’ (আবুদাউদ হা/৭৪৪; তিরমিযী হা/৩৪২৩) মর্মের হাদীছ থেকে এ ব্যাপারে দলীল গ্রহণ করেছেন। অথচ এর অর্থ হ’ল, তিনি দুই সিজদার মাঝখানে বসা অবস্থায় রাফঊল ইয়াদায়েন করেননি, যা অন্য হাদীছে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে (মুসলিম হা/৩৯০; আবুদাঊদ হা/৭২২; তামামুল মিন্নাহ ১/১৭২)। অতএব ছালাতের সময় দাঁড়ানো অবস্থায় যা করতে হয়, বসা অবস্থায়ও তাই করতে হবে।

Posted in রাফঊল ইয়াদায়েন বসে ছালাত আদায় করলে করতে হবে কি? | Tagged

ইবলীস কখনো আল্লাহর ইবাদত করেছিল কি? সে কি ফেরেশতাদের সর্দার ছিল?


ইবলীস আল্লাহর ইবাদত করত। তবে সে ফেরেশতাদের সর্দার ছিল না। বরং আল্লাহ বলেন, সে জিন জাতির অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপর সে তার রবের আদেশের অবাধ্যতা করল’ (কাহফ ১৮/৫০)। তবে ইবলীস তার ইবাদতে ফেরেশতাদের সদৃশ হয়েছিল। একারণে তাকে তাদের সাথে সম্বোধন করা হয়েছে (ইবনু কাছীর, তাফসীর সূরা কাহফ ৫০ আয়াত)। পরে অহংকার ও অবাধ্যতা করলে আল্লাহ তাকে বহিষ্কার করেন এবং অভিশপ্ত হিসাবে ঘোষণা করেন (আ‘রাফ ৭/১৮; হিজর ১৫/৩৪)

Posted in ইবলীস কখনো আল্লাহর ইবাদত করেছিল কি?, ইবলীস কি ফেরেশতাদের সর্দার ছিল? | Tagged

খুৎবা চলাকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় বাক্যালাপ করা যাবে কি?


খুৎবা চলাকালীন সময়ে পারস্পরিক বাক্যালাপ শরী‘আত সম্মত নয়। এমনকি রাসূল (ছাঃ) কাউকে ‘চুপ কর’ বলতেও নিষেধে করেছেন। যেমন তিনি বলেন, জুম‘আর দিন ইমাম খুৎবারত অবস্থায় যদি তুমি তোমার পাশের মুছল্লীকে ‘চুপ কর’ বল, তাহ’লে তুমি অনর্থক কথা বললে’ (বুখারী হা/৯৩৪; মিশকাত হা/১৩৮৫)। এছাড়া খুৎবা চলাকালীন সময়ে চুপ থাকার প্রভূত ফযীলত বর্ণিত হয়েছে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৩৮১৮২)

তবে যরূরী প্রয়োজনে ইমাম ও মুছল্লী পরস্পরে কথা বলতে পারেন। জনৈক ছাহাবী খুৎবা চলাকালীন সময়ে রাসূল (ছাঃ)-কে অনাবৃষ্টির অভিযোগ করলে এবং পরে অতি বৃষ্টি বন্ধের আবেদন করলে তিনি খুৎবারত অবস্থায় হাত তুলে মুনাজাত করেছিলেন (বুখারী হা/৯৩৩; মিশকাত হা/৫৯০২)

Posted in খুৎবা চলাকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় বাক্যালাপ করা যাবে কি? | Tagged

কারু উপকার করার কারণে ‘জাযাকাল্লাহু খায়রান’ বললে তার উত্তরে কি বলা উচিত?


এর জওয়াবে একই উত্তর দেওয়া যায়। একদা উসাইদ বিন হুযায়ের (রাঃ) কোন এক প্রেক্ষিতে শুকরিয়া স্বরূপ রাসূল (ছাঃ)-কে বললেন, ‘জাযাকাল্লাহু খায়রান’ বা ‘জাযাকাল্লাহু আত্বইয়াবাল জাযা’। উত্তরে তিনি বললেন, ‘ফা জাযাকুমুল্লাহু খায়রান’ (হাকেম হা/৬৯৭৪; ইবনে হিববান হা/৭২৭৯; ছহীহাহ হা/৩০৯৬)

উল্লেখ্য যে, পরস্পরের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ ‘জাযাকাল্লাহু খায়রান’ বলার অভ্যাস খুবই গুরুত্ববহ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, কাউকে অনুগ্রহ করা হ’লে সে যদি অনুগ্রহকারীকে বলে, ‘জাযাকাল্লাহু খায়রান’ (আল্লাহ আপনাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন) তবে সে উপযুক্ত ও পরিপূর্ণ প্রশংসা করল (তিরমিযী হা/২০৩৫; মিশকাত হা/৩০২৪; ছহীহুল জামেহা/৬৩৬৮)। ওমর (রাঃ) বলেন, ‘জাযাকাল্লাহু খায়রান’ বলাতে কি কল্যাণ রয়েছে লোকেরা তা যদি জানত, তাহ’লে পরস্পরকে বেশী বেশী বলত (ইবনু আবী শায়বাহ হা/২৭০৫০)। এছাড়া কেউ ‘বারাকাল্লাহু ফীকুম’ বলে দো‘আ করলে তার জওয়াবে অনুরূপ বলবে (নাসাঈ, সুনানুল কুবরা হা/১০১৩৫, সনদ জাইয়িদ)

Posted in জাযাকাল্লাহু খায়রান’ বললে তার উত্তরে কি বলা উচিত?

ওযূর জন্য ব্যবহৃত পানির কিছু অংশ ওযূ শেষে দাড়িতে থেকে যায়। উক্ত পানি কি অপবিত্র?


অপবিত্র নয়। কারণ ওযূতে ব্যবহৃত পানি অপবিত্র নয় (বুখারী হা/১৮৭-৮৮)। তাছাড়া অপবিত্র বস্ত্ত মিশ্রিত না হ’লে কোন পানিই অপবিত্র হয় না (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৯/২৩৬)

Posted in ওযুর পর দাড়িতে থেকে যাওয়া পানি অপবিত্র কি? | Tagged

সুন্নাত বা ফরয ছালাতের পর একাকী হাত তুলে মুনাজাত করা যাবে কি?


যাবে। ছালাতের পরে বা যেকোন সময় যেকোন প্রয়োজনে একাকী হাত তুলে মুনাজাত করা যাবে। হাত তুলে দো‘আ করলে আল্লাহ্ শূন্য হাত ফিরিয়ে দেন না’ (আবুদাঊদ হা/১৪৮৮; তিরমিযী হা/৩৫৫৬)। তবে মুখে হাত মাসাহ করার হাদীছ যঈফ (আবুদাঊদ; মিশকাত হা/২২৫৫)

Posted in মুনাজাত করা যাবে কি?, সুন্নাত বা ফরয ছালাতের পর একাকী হাত তুলে মুনাজাত করা যাবে কি? | Tagged

জানাযার ছালাত না পড়ে থাকলে কেবলমাত্র কবরে মাটি দেওয়ার জন্য ওযূ করা যরূরী কি?


না। কারণ কবরে মাটি দেওয়ার জন্য ওযূ শর্ত নয়।

Posted in জানাযার ছালাত না পড়ে থাকলে কেবলমাত্র কবরে মাটি দেওয়ার জন্য ওযূ করা যরূরী কি? | Tagged

মুওয়াযযিনের আযান ও ইক্বামতের জবাব দেওয়া ও পরবর্তী দো‘আসমূহ পাঠ করার ফযীলত কি?


রাসূল (ছাঃ) আযান ও ইক্বামতের জবাব এবং আযান পরবর্তী দো‘আ পাঠের অনেক ফযীলত বর্ণনা করেছেন। যেমন তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি মুওয়ায্যিনের পিছে পিছে আযানের বাক্যগুলি অন্তর থেকে পাঠ করে…, সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে’ (মুসলিম হা/৩৮৫; মিশকাত হা/৬৫৮, ৬৭৬)। অন্যত্র তিনি এরশাদ করেন, ‘যখন তোমরা আযান শুনবে, তখন মুওয়াযযিন যা বলে তদ্রূপ বল’। অতঃপর আমার উপর দরূদ পড়। কেননা যে আমার উপর একবার দরূদ পড়ে, আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। তারপর আমার জন্য আল্লাহর নিকট ‘ওয়াসীলা’ চাও…। যে ব্যক্তি আমার জন্য ‘ওয়াসীলা’ চাইবে তার জন্য আমার শাফা‘আত ওয়াজিব হয়ে যাবে’ (মুসলিম হা/৩৮৪; মিশকাত হা/৬৫৭)। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি মুয়াযযিনের আযান শুনে বলবে, আশহাদু আল লা ইলাহারাযীতু বিল্লাহিওয়াবিল ইসলামে দীনা তার সমস্ত গুনাহ মাফ করা হবে (মুসলিম হা/৩৮৬; মিশকাত হা/৬৬১)

ইবনে ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! মুওয়াযযিনরা তো আমাদের উপর ফযীলত প্রাপ্ত হচ্ছে। আমরা কিভাবে তাদের সমান ছওয়াব পাব? তিনি বলেন, মুওয়াযযিনরা যেরূপ বলে তুমিও তদ্রূপ বলবে। অতঃপর যখন আযান শেয করবে! তখন আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলে তুমিও তদ্রূপ ছওয়াব প্রাপ্ত হবে’ (আবুদাউদ হা/৫২৪; ছহীহ আততারগীব হা/২৫৬)। আর ইক্বামতের জবাব একইভাবে দিবে। কেবল ক্বাদ ক্বামাতিছ ছালা ব্যতীত। উল্লেখ্য যে, আযান ও ইক্বামত দু’টিকেই হাদীছে ‘আযান’ বলা হয়েছে (মুত্তাফাক্বআলাইহ, মিশকাত হা/৬৬২)

Posted in আযান ও ইক্বামতের জবাব দেওয়ার ফযীলত কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তি বলেছেন যে, ওযূ করার সময় ডান হাত দিয়ে পা ধোয়া যাবে না। একথার কোন সত্যতা আছে কি?


শারঈ ওযর ব্যতীত ডান হাত দিয়ে পা ধোয়া উচিত নয়। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ)-এর ডান হাত ছিল পবিত্রতা অর্জন ও খাওয়ার জন্য এবং বাম হাত ছিল শৌচকর্মও অন্যান্য অপসন্দনীয় কাজসমূহ করার জন্য’ (আবুদাঊদ হা/৩৩; মিশকাত হা/৩৪৮, সনদ ছহীহ)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘তিনি ওযূর ক্ষেত্রে ডান হাত ব্যবহার করতেন’ (আহমাদ হা/২৬৩২৮)। তবে ‘তোমাদের কেউ ওযূ করার সময় ডান হাত দ্বারা দু’পায়ের নিম্নভাগ ধৌত করবে না’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি জাল (দায়লামী হা/১২২১; সিলসিলা যঈফাহ হা/১৫২৫)

Posted in ওযূ করার সময় ডান হাত দিয়ে পা ধোয়া যাবে কি? | Tagged

থুতনির নীচে দাড়ি রেখে গালের দু’পাশের দাড়ি কামানো যাবে কি?


না। কারণ রাসূল (ছাঃ) দাড়ি ছাটতেন বা কাটতেন মর্মে কোন দলীল নেই। বরং উম্মতের উদ্দেশ্যে তিনি বলে গেছেন, ‘তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা কর। দাড়ি লম্বা কর, গোঁফ ছোট কর’ (বুখারী হা/৫৮৯২; মিশকাত হা/৪৪২১)। তিনি দাড়ি ছাটতেন মর্মে তিরমিযীতে যে হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে তা মাওযূ‘ বা জাল (যঈফ তিরমিযী হা/২৭৬২; সিলসিলা যঈফাহ হা/২৮৮, /৪৫৬ পৃঃ)। আলবানী (রহঃ) বলেন, ‘জেনে রাখ হে পাঠক! দাড়ি ছাটার পক্ষে রাসূল (ছাঃ) থেকে একটি ছহীহ হাদীছও প্রমাণিত হয়নি। না তার কথা দ্বারা … না তার কাজ দ্বারা’ (আলোচনা দ্রঃ সিলসিলা যঈফাহ /৩৭৬ পৃঃ, হা/২৩৫৫)

উল্লেখ্য, অনুরূপভাবে হজ্জ বা ওমরা করার সময় ইবনু ওমর (রাঃ) এক মুষ্টির অধিক দাড়ি কেটে ফেলতেন মর্মে যে বর্ণনা এসেছে, সেটা তার ব্যক্তিগত আমল। হজ্জ ও ওমরাহ ব্যতীত অন্য সময়ে তিনি এরূপ করতেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না। সুতরাং তা দলীল হিসাবে গ্রহণীয় নয় (ফাৎহুল বারী ১০/৪২৮২৯, হা/৫৮৯২এর ব্যাখ্যা দ্রঃ)। বরং গ্রহণযোগ্য হ’ল জনৈক ব্যক্তির প্রতি তাঁর স্পষ্ট নির্দেশনা- ‘তোমাদের জন্য রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাত অধিক অনুসরণযোগ্য না ওমরের সুন্নাত?’ (আহমাদ হা/৫৭০০; তিরমিযী হা/৮২৪, সনদ ছহীহ)

ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, দাড়ি বিষয়ে হাদীছে পাঁচ ধরনের শব্দ এসেছে, যার সবগুলি একই অর্থ বহন করে যে, দাড়িকে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দেয়া (শরহ মুসলিম /১৫১)। উছায়মীন (রহঃ) বলেন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ)-এর অনুসরণ করতে চায়তারা যেন অবশ্যই দাড়ির কোন অংশ না কাটে। কেননা শেষনবী (ছাঃ) এবং তার পূর্বের কোন নবী দাড়ি কাট- ছাঁট করতেন না (মাজমূফাতাওয়া ১১/৮২)। শায়খ বিন বায (রহঃ) বলেন, দাড়িকে তার নিজ অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া ওয়াজিব (মাজমূফাতাওয়া ১০/৯৬৯৭)। অতএব দাড়ির কোন অংশে কাট-ছাঁট করার কোন সুযোগ নেই।

Posted in দাড়ি কতটুকু পর্যন্ত লম্বা রাখতে হবে? দাড়ি নাভী ছাড়িয়ে গেলে করণীয় কি?, দাড়ি কতটুকু রাখতে হবে?, দাড়ি কাটা, দাড়ি কাটা, ছাটা এবং টাখনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরার বিধান কী?, দাড়ি কেটে-ছোট রাখা যাবে কি, দাড়ি না রেখে ছালাত আদায় করলে উক্ত ছালাত কবুল হবে কি?, দাড়ি মায়ের নির্দেশে কাটা যাবে কি?, দাড়ি রং করার ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান কি?, দাড়ি রাখার সুন্নাতী নিয়ম কি?, দাড়ি রেখে গালের দু’পাশের দাড়ি কামানো যাবে কি?, দাড়ি শেভ করা লোক ছালাতে ইমামতি করতে পারবে কী?, দাড়ি শেভ করার নির্দেশ দেওয়া কোম্পানীতে চাকুরী করা যাবে কি?, দাড়ির এক মু‌ষ্টির অতিরিক্ত অংশ ছেটে ফেলা যায় কি?, দাড়ির সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ছেটে ছোট করা যা‌বে কি? | Tagged

মাকরূহ বলে শরী‘আতের কোন উৎস আছে কি?


আছে। ‘মাকরূহ’ অর্থ- অপসন্দনীয়। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এশার ছালাতের পূর্বে ঘুমানো এবং এশার পরে কথা বলাকে অপসন্দ করতেন’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫৮৭ ‘জলদী ছালাত আদায়’ অনুচ্ছেদ)। উল্লেখ্য যে, অনেক বিদ্বান মাকরূহকে তানযীহী ও তাহরীমী দু’ভাগে ভাগ করেছেন। মূলতঃ তাহরীমীটা হারাম, যা নিষিদ্ধ। যেমন তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য খাওয়া। কেননা এগুলি মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত। অথচ এটাকে অনেকে ‘মাকরূহ তাহরীমী’ বলে খেয়ে থাকেন।

Posted in মাকরূহ বলে শরী‘আতের কোন উৎস আছে কি? | Tagged ,

ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) সকল ফৎওয়াই কি ছহীহ হাদীছের উপর প্রদান করেছেন? যদি না করে থাকেন তবে তা অন্ধভাবে অনুসরণ করা যাবে কি?


অনুসরণীয় চার ইমামের মধ্যে ইমাম শাফেঈ (রহঃ) ব্যতীত বাকী তিনজনের কেউই ফিক্বহী বিষয়ে কোন গ্রন্থ রচনা করে যাননি। যদি ‘ফিক্বহে আকবর’ ও ‘মুসনাদে আবু হানীফা’-কে তাঁর কিতাব বলে ধরেও নেওয়া হয়, তাহ’লে বলা হবে যে, প্রথমোক্ত ছোট পুস্তিকাটি আক্বায়েদের উপরে লিখিত এবং শেষোক্তটি হাদীছের সংক্ষিপ্ত সংকলন। অতএব ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর ফৎওয়াসমূহ কি ছিল এবং সেগুলি ছহীহ হাদীছের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়েছে কি-না, তা যাচাই করার কোন সুযোগ নেই।

তিনি যে ফৎওয়া বিষয়ে কোন কিতাব রচনা করেননি, তার অন্যতম প্রমাণ এই যে, একদা তিনি স্বীয় প্রধান শিষ্য আবু ইউসুফকে ধমক দিয়ে বলেন, সাবধান হে ইয়াকূব (আবু ইউসুফ)! আমার নিকট থেকে যা-ই শুনো তাই-ই লিখে নিয়ো না। কেননা আমি আজকে যে রায় দেই, কালকে তা পরিত্যাগ করি। কাল যে রায় দেই, পরশু তার প্রত্যাহার করি’। আরেকবার তিনি বলেন, ‘তোমাদের ধ্বংস হৌক তোমরা এইসব কিতাবগুলিতে আমার উপরে কত Continue reading

Posted in ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) সকল ফৎওয়াই কি ছহীহ হাদীছের উপর প্রদান করেছেন? | Tagged ,

মায়ের হাতে বা পায়ে চুমু খাওয়া জায়েয হবে কি?


চুমু খাওয়া বা কদমবূসী করা ইসলামী রীতি নয়। একদা আনাস (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ যখন তার বন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন সে কি তার জন্য মাথা ঝুঁকাবে? তিনি বললেন, না। আনাস (রাঃ) বললেন, তবে কি তাকে জড়িয়ে ধরবে বা কোলাকুলি করবে বা চুমু খাবে? তিনি বললেন, না। বরং তার সাথে মুছাফাহা করবে’ (তিরমিযী হা/২৭২৮, ইবনু মাজাহ হা/৩৭০২, মিশকাত হা/৪৬৮০; ছহীহাহ হা/১৬০)। অতএব সাক্ষাৎকালে মুছাফাহা করাই সুন্নাত। 

এক্ষণে হাতে চুমু দেওয়া মর্মে যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে যে, আবদুল ক্বায়েস গোত্রের প্রতিনিধি দল মদীনায় আগমন করে রাসূল (ছাঃ)-এর হাতে চুম্বন করেন (আবুদাউদ হা/৫২২৫; মিশকাত হা/৪৬৮৮), সেটি ইসলামী রীতি হিসাবে ছিল না। কারণ তারা নওমুসলিম হিসাবে প্রথম মদীনায় এসেছিলেন এবং তাদের পূর্ব রীতি হিসাবে এটা করেছিলেন। অতএব সুন্নাত মনে করে মায়ের হাতে চুমু খাওয়া যাবে না।

উল্লেখ্য যে, পায়ে চুম্বন করা সম্পর্কিত হাদীছসমূহ যঈফ (যঈফ আবুদাঊদ হা/১১১৮; আলআদাবুল মুফরাদ হা/৯৭৫৭৬)

Posted in মায়ের হাতে বা পায়ে চুমু খাওয়া জায়েয হবে কি? | Tagged ,

জিনিসপত্র নির্ধারিত মূল্যে ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয আছে কি?


একদামে ক্রয়-বিক্রয় জায়েয। কারণ ক্রয়-বিক্রয় শুদ্ধ হওয়ার মৌলিক শর্ত হ’ল উভয়ের সন্তষ্টি (নিসা /২৯; ইবনু মাজাহ, ইরওয়া হা/১২৮৩) এবং ধোঁকা না থাকা (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৫২০)। সুতরাং একদামে ক্রয়-বিক্রয়ে কোন বাধা নেই। তবে যে কোন বস্ত্ত দরদাম যাচাই করে ক্রয় করাই উত্তম। ছাহাবীগণ দরদাম যাচাই করেই কেনা-কাটা করতেন (আহমাদ, আবুদাঊদ, নাসাঈ, ইরওয়া হা/১২৮৫)

Posted in ক্রয়-বিক্রয় নির্ধারিত মূল্যে করা জায়েয আছে কি? | Tagged

‘ভারতের রাজা রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে আদাভর্তি কলস উপহার পাঠিয়েছিলেন’ মর্মের বর্ণিত হাদীছটি ছহীহ কি?


উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছগুলি যঈফ। আবু হাতেম ও আবু যুর‘আ বলেন, আমর বিন হুক্কাম বর্ণিত উক্ত হাদীছটি মুনকার। কারণ তিনি ব্যতীত অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেছেন বলে আমরা জানি না’ (ইলালুল হাদীছ /৩০২)। হায়ছামী বলেন, বর্ণনাটি যঈফ (মাজমাউয যাওয়ায়েদ হা/৮০৩৯)

তবে অধিকাংশ ঐতিহাসিক বর্ণনার ভিত্তি হ’ল মুরসাল ও যঈফ বর্ণনাসমূহ। তাই বিধানগত বিষয়ে এগুলি গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু তথ্যগত বিষয়ে গ্রহণযোগ্য। যেমন সূরা নিসা ৬৫ আয়াতের শানে নুযূলে দু’জন বদরী ছাহাবীর মধ্যে একজন আনছার ছাহাবীর নাম ছহীহ হাদীছে পাওয়া যায়নি। অথচ সেটি একটা যঈফ হাদীছে পাওয়া যায়। সেবিষয়ে মন্তব্য করে ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, এটি মুরসাল। কিন্তু এর মধ্যে আনছার ব্যক্তির নাম পাওয়ার ফায়েদা রয়েছে’ (ইবনু কাছীর, তাফসীর সূরা নিসা ৬৫ আয়াত)

Posted in ভারতের রাজা রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে কলস উপহার পাঠিয়েছিলেন’ কি? | Tagged

রাসূল (ছাঃ) বলেন, ছোঁয়াচে কোন রোগ নেই। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, বসন্ত, চোখ ওঠা ইত্যাদি ছোঁয়াচে রোগ। উভয়ের মধ্যে সমন্বয় কি?


রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছু নেই, কোন কিছুতে অশুভ নেই, পেঁচার মধ্যে কুলক্ষণ নেই এবং ছফর মাসেও কোন অশুভ নেই। একথা শুনে জনৈক বেদুঈন বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তাহ’লে পালের মধ্যে একটা চর্মরোগী উট আসলে বাকীগুলি চর্মরোগী হয় কেন? জবাবে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তাহ’লে প্রথম উটটিকে চর্মরোগী বানালো কে? (বুখারী হা/৫৭৭০; মুসলিম হা/২২২০; মিশকাত হা/৪৫৭৭৭৮চিকিৎসা মন্ত্র অধ্যায় শুভ অশুভ লক্ষণ অনুচ্ছেদ)। উক্ত হাদীছে ছোঁয়াচে রোগ নেই তা বলা হয়নি। বরং জাহেলী যুগে মানুষ বিশ্বাস করত যে কিছু ছোঁয়াচে রোগ আছে যেগুলি প্রকৃতিগতভাবেই অন্যকে সংক্রমিত করে। এ বিশ্বাস অপনোদনের জন্যই রাসূল (ছাঃ) বলেছেন যে, ছোঁয়াচে রোগ থাকলেও তা আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত অন্যের দেহে সংক্রমিত হয় না।

যেমন একই হাদীছে তিনি বলেছেন, তবে কুষ্ঠরোগী হ’তে এমনভাবে পলায়ন কর, যেভাবে তোমরা বাঘ থেকে পলায়ন কর’ (বুখারী হা/৫৭০৭)। তিনি আরো বলেছেন, তোমরা সুস্থ উটকে অসুস্থ উটের সাথে মিশ্রিত করবে না (বুখারী হা/৫৭৭৪)

ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করা শিরক। কিন্ত আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার মনে অশুভ লক্ষণের ধারণার উদ্রেক হয় না। অথচ আল্লাহর উপর দৃঢ় বিশ্বাস থাকলে আল্লাহ তা দূরীভূত করে দেন’ (আবুদাঊদতিরমিযী, মিশকাত হা/৪৫৮৪)। অতএব ছোঁয়াচে রোগ আছে। তবে আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত কোন রোগই ছড়ায় না। অতএব রাসূল (ছাঃ)-এর বাণী ও বিজ্ঞানের মধ্যে কোন বিরোধ নেই।

Posted in ছোঁয়াচে রোগ সহীহ হাদিসের আলোকে আছে কি? | Tagged

পিতা ও মাতার মধ্যে সন্তানের নিকট অধিক সেবা পাওয়ার হকদার কে?


উভয়ে সমান হকদার। আল্লাহ বলেনতোমরা পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়ে যদি তোমার নিকট বার্ধক্যে উপনীত হন, তাহ’লে তুমি তাদের প্রতি উহ শব্দটিও করো না এবং তাদেরকে ধমক দিয়ো না। তাদের প্রতি মমতাবশে নম্রতার পক্ষপুট অবনমিত কর এবং বল, হে আমার প্রতিপালক! তুমি তাদের প্রতি দয়া কর যেমন তারা আমাকে ছোট অবস্থায় দয়াবশে প্রতিপালন করেছিলেন’ (ইসরা ১৭/২৩২৪)। তবে পরিবার প্রধান হিসাবে পিতা অধিক আনুগত্য পাওয়ার হকদার (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৩৬৮৫)। আর মাতা বিশেষ তিনটি কষ্টের কারণে অগ্রাধিকার পাবেন। (১) কষ্টের সাথে গর্ভধারণ (২) সীমাহীন প্রসব বেদনা সহ্যকরণ (৩) এবং অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করে সন্তান পালন। এসবে পিতার কোন অংশীদারিত্ব নেই। এজন্য জনৈক ছাহাবী পিতা-মাতার সেবার কথা জিজ্ঞেস করলে রাসূল (ছাঃ) মায়ের কথা তিনবার ও পিতার কথা একবার বলেন (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯১১১২)

Posted in পিতা ও মাতার মধ্যে অধিক সেবা পাওয়ার হকদার কে? | Tagged

থার্টিফার্স্ট নাইট, ভালোবাসা দিবস, নববর্ষ ইত্যাদি পালন সম্পর্কে শরী‘আতের বিধান জানিয়ে বাধিত করবেন।


অমুসলিমদের অনুকরণে এসব দিবস পালিত হয়। যা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এগুলি স্রেফ জাহেলিয়াত এবং বিজাতীয় সংস্কৃতি মাত্র। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে ব্যক্তি (কিয়ামতের দিন) তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (আবূদাঊদ হা/৪০৩১; মিশকাত হা/৪৩৪৭ ‘পোষাক’ অধ্যায়)। দ্বিতীয়তঃ এসব অনুষ্ঠান সমাজে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা প্রসারের অন্যতম মাধ্যম। আর আল্লাহ প্রকাশ্য ও গোপন সকল প্রকার অশ্লীলতার নিকটবর্তী হ’তে নিষেধ করেছেন (আন‘আম ৬/১৫১)। এর ফলে নারী নির্যাতন ও হত্যাকান্ড পর্যন্ত সংঘটিত হচ্ছে। অতএব এসব থেকে বিরত থাকতে হবে।

Posted in ভালোবাসা দিবস- নববর্ষ পালন সম্পর্কে শরী‘আতের বিধান কি? | Tagged

সূরা বাক্বারাহ ১১৫ আয়াতের সঠিক অর্থ জানতে চাই।


উক্ত আয়াতের অর্থ হল, ‘আর আল্লাহর জন্যই পূর্ব ও পশ্চিম। অতএব যেদিকেই তোমরা মুখ ফিরাও সেদিকেই রয়েছে আল্লাহর চেহারা। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বব্যাপী ও সর্বজ্ঞ’।

উল্লেখ্য যে, তাফসীর মা‘আরেফুল কুরআনের বঙ্গানুবাদে বলা হয়েছে, ‘তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও সেদিকেই আল্লাহ বিরাজমান’। আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান এই ভ্রান্ত ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েই উক্ত ভুল অনুবাদ করা হয়েছে। অন্যদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুবাদে বলা হয়েছে, ‘যেদিকেই মুখ ফিরাও সেই দিকই আল্লাহর দিক’। উক্ত অনুবাদ দু’টির কোনটিই সঠিক হয়নি। বস্ত্ততঃ আল্লাহর হাত, পা, চেহারা ইত্যাদি সম্পর্কে কুরআনে যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবেই অনুবাদ করতে হবে। কোনরূপ দূরতম ব্যাখ্যা বা রূপক অর্থ করা যাবে না। কেননা আল্লাহর নিজস্ব আকার আছে যার তাঁর উপযোগী, যা অন্যকিছুর সাথে তুলনীয় নয়। তিনি বলেন, ‘তার তুলনীয় কিছু নেই। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা’ (শূরা ৪২/১১)

মূল ঘটনাটি ছিল এই যে, একদা কতিপয় ছাহাবী কোন এক অজ্ঞাত স্থানে ছালাত আদায় করার সময় ক্বিবলার দিক ভুলে উল্টা দিকে ফিরে ছালাত আদায় করেন। তারা রাসূল (ছাঃ)- কে উক্ত ঘটনা বর্ণনা করলে উক্ত আয়াত নাযিল হয় (তিরমিযী হা/২৯৫৭, সনদ হাসান)

Posted in তাফসীর, সূরা বাক্বারাহ ১১৫ আয়াতের সঠিক অর্থ জানতে চাই। | Tagged

ইমামের সালাম ফিরানোর পর বাকী ছালাত আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে প্রথমে রাফউল ইয়াদায়েন করতে হবে কি?


হ্যাঁ। কেননা সে তাশাহহুদ থেকে দাঁড়িয়েছে। আর তাশাহহুদ থেকে দাঁড়িয়ে বাকী ছালাত আদায়ের ক্ষেত্রে প্রথমে রাফউল ইয়াদায়েন করাই শরী‘আতের নির্দেশনা (বুখারী হা/৭৩৯; ওছায়মীন, ইসলাম কিউএ ফতওয়া নং ২১৫০৬)

Posted in ইমামের সালাম ফিরানোর পর দাঁড়িয়ে প্রথমে রাফউল ইয়াদায়েন করতে হবে কি? | Tagged ,

বর্তমানে বিদ্যুৎ বিল অনেক বেশী। যা যুলুমের পর্যায়ভুক্ত। এক্ষণে চোরাই লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধা নেওয়া যাবে কি?


যাবে না। এটা চুরি হিসাবে গণ্য হবে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না’ (নিসা ৪/২৯)। সরকার জনগণের নিকট থেকে টাকা নিয়ে জনগণের প্রয়োজনে তা ব্যয় করে। এক্ষণে যদি তারা যুলুম করে বা কোন খেয়ানত করে, তখন বৈধ উপায়ে তার প্রতিবাদ করতে হবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১৩৭)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তাদের হক তাদের দাও এবং তোমাদের হক আল্লাহর কাছে চাও’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ; মিশকাত হা/৩৬৭২)

Posted in চোরাই লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধা নেওয়া যাবে কি? | Tagged

ইমাম সালাম ফিরানোর সময় ডান দিকের চেয়ে বাম দিকের সালামে স্বর কিছু নীচু করবেন মর্মে শরী‘আতে কোন নির্দেশনা আছে কি?


বাম দিকের সালামে স্বর নীচু করতে হবে মর্মে শরী‘আতে কোন নির্দেশনা নেই। বরং জাবের (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ছালাত-এর বৈঠকে হাটুর ওপর হাত রেখে ডানে বামে তোমাদের ভাইদের (মুখ ফিরিয়ে) ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ’ বলাই তোমাদের জন্য যথেষ্ট (মুসলিম হা/৪৩১; আবুদাউদ হা/৯৯৯)। ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সালাম ফিরানোর সময় ডানে ও বামে বলতেন, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ’ (নাসাঈ, তিরমিযী, আবুদাঊদ, সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/৯৫০)

উল্লেখ্য যে, কয়েকটি বর্ণনার ভিত্তিতে অনেক বিদ্বান প্রথম সালাম ফিরানো ফরয এবং দ্বিতীয় সালাম ফিরানো সুন্নাত বলেছেন (ছহীহাহ হা/৩১৬এর আলোচনা দ্রঃ)। যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কিন্তু এর সাথে স্বর উঁচু-নীচুর কোন সম্পর্ক নেই।

Posted in সালাম ফিরানোর সময় বাম দিকের সালামে স্বর নীচু করতে হবে কি? | Tagged ,

ইমাম ছালাত শুরু করার পূর্বে ভুলবশতঃ নিজেই ইক্বামত দিয়েছেন। এজন্য মুক্তাদীদের মধ্যে কাউকে পুনরায় ইক্বামত দিতে হবে কি?


ইমাম ইক্বামত দেওয়ায় কোন দোষ নেই। যে কেউ ইক্বামত দিতে পারে। আর আযান দাতাকেই ইক্বামত দিতে হবে মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (তিরমিযী হা/১৯৯; মিশকাত হা/৬৪৮; যঈফাহ হা/৩৫)

Posted in আযান দাতাকেই ইক্বামত দিতে হবে কি? | Tagged ,

কুরআন মাজীদ মুখস্থ পড়ায় এক হাযার এবং দেখে পড়ায় দুই হাযার নেকী হয়। এর সত্যতা আছে কি?


এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (বায়হাক্বী, মিশকাত হা/২১৬৭; যঈফুল জামে‘ হা/৪০৮১)। এছাড়া কুরআন দেখে পড়া বা মুখস্থ পড়ার মধ্যে ছওয়াবের পার্থক্যের  বিষয়ে কোন ছহীহ দলীল পাওয়া যায় না। এবিষয়ে যত হাদীছ আছে সবগুলিই যঈফ ও জাল (সিলসিলা যঈফাহ হা/৩৫৬, ৪০১১)। মূলতঃ কুরআন অনুধাবন সহকারে পাঠ করতে হবে (ছোয়াদ ৩৮/২৯; মুহাম্মাদ ৪৭/২৪)। যিনি যতবেশী অনুধাবন করবেন এবং তা বাস্তবে আমল করবেন, তিনি ততবেশী নেকীর অধিকারী হবেন ইনশাআল্লাহ।

Posted in কুরআন মাজীদ মুখস্থ পড়ায় এক হাযার এবং দেখে পড়ায় দুই হাযার নেকী হয় কি? | Tagged

জনৈক আলেম বলেন, টয়লেটে থাকা অবস্থাতেও সালাম প্রদান বা গ্রহণ করতে হবে। একথার সত্যতা আছে কি?


না। বরং এসময় উত্তর না দিয়ে বেরিয়ে এসে উত্তর দিতে হবে। এটাই রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাত (বুখারী হা/৩৩৭; আবুদাঊদ হা/১৭; মিশকাত হা/৪৬৭, ৫৩৫)

Posted in টয়লেটে থাকা অবস্থাতেও সালাম প্রদান বা গ্রহণ যাবে কি? | Tagged

আমরা জানি টিকটিকি মারলে নেকী হয়। অথচ বিনা কারণে প্রাণী হত্যা গুনাহের কাজ। এক্ষণে এর পিছনে কারণ কি?


প্রথমতঃ এটা রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশ। সা‘দ বিন আবু ওয়াক্কাছ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) টিকটিকি মারার আদেশ দিয়েছেন এবং একে ছোট ফাসিক বলে নামকরণ করেছেন’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৪১২০)

দ্বিতীয়তঃ ইবরাহীম (আঃ)-কে আগুনে নিক্ষেপ করা হ’লে আগুনকে প্রজ্বলিত করার জন্য এই প্রাণীটি আগুনে ফুঁক দিয়ে ছিল (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪১১৯)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে যখন সকল প্রাণী আগুন নিভানোর চেষ্টায় লিপ্ত ছিল তখন টিকটিকি তাতে ফুঁক দিয়েছিল (আগুন আরও প্রজ্বলিত করার জন্য) (ইবনু মাজাহ হা/৩২৩১; ছহীহাহ হা/১৫৮১)

তৃতীয়তঃ এটি ক্ষতিকর প্রাণী। এর লেজে ক্ষতিকর মাদকতা রয়েছে।

Posted in বিনা কারণে প্রাণী হত্যা গুনাহের কাজ কি? | Tagged

নবম শ্রেণীর ইসলাম শিক্ষা বইয়ে ১৬৯ পৃষ্ঠায় আছে যে, ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) একাধারে ত্রিশ বছর রোযা রেখেছেন ও চল্লিশ বছর যাবৎ রাতে ঘুমাননি। অর্থাৎ এশার ওযূতে ফজরের ছালাত আদায় করেছেন। বর্ণনাটি কতটুকু সত্য?


এসব বর্ণনা মুক্বাদ্দামা শরহ বেকায়াহ ৩৬-৩৭ পৃষ্ঠা সহ বিভিন্ন গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। তবে তার সবই যঈফ (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২২/৩০৩. ফাতাওয়াউল কুবরা ২/১৩৭)। আলবানী বলেন, ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এশার ওযূতে চল্লিশ বছর ফজরের ছালাত আদায় করেছেন, তাতে তোমরা প্রতারিত হয়ো না। কারণ তাঁর থেকে এসকল ঘটনার কোন ভিত্তি নেই (আল-ইখতিয়ারাতুল ফিক্বহিইয়াহ ১/১২৩; আছলু ছিফাতি ছালাতিন্নবী ২/৫৩১)। মাজদুদ্দীন ফিরোযাবাদী বলেন, এগুলো ইমাম ছাহেবের প্রতি স্পষ্টভাবে মিথ্যা অপবাদ মাত্র। এরূপ কথা তাঁর দিকে সম্পর্কিত করা সমীচীন নয়। …এগুলো মূর্খ পক্ষপাতদুষ্টদের রচিত গল্প মাত্র। তবে তিনি মুত্তাকী ও ইবাদত গুযার মানুষ ছিলেন (আর-রাদ্দু ‘আলাল মু‘তারিয ১/৪৪)। তাঁর প্রধান শিষ্য ইমাম আবু ইউসুফ (রহঃ) বলেন, একদা আবু হানীফা (রহঃ)-এর সাথে হাঁটছিলাম তখন এক লোক বলল, ইনি আবু হানীফা, যিনি রাতে ঘুমান না। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! সে যেন আমার ব্যাপারে এমন কথা বর্ণনা না করে, যা আমি করি না (সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা ৬/৩৯৯; তাহযীবুল কামাল ২৯/৪৩৫; শাযারাতুয যাহাব ২/২৩০)

Posted in ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) একাধারে ত্রিশ বছর রোযা রেখেছেন কি? | Tagged

বর্তমানে মোবাইলে পরিচিত-অপরিচিত যুবক-যুবতীরা অনেক গল্প বা প্রেমালাপ করে থাকে। এরূপ কথা-বার্তায় গুনাহ হবে কি?


হবে। এসব মানুষকে হারামের দিকে নিয়ে যায়। উপরন্তু বিনা প্রয়োজনে এরূপ কথা-বার্তা যেনার শামিল। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘চোখের যেনা তাকানো, কানের যেনা শ্রবণ করা, জিহবার যেনা কথা বলা, হাতের যেনা স্পর্শ করা এবং পায়ের যেনা ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে চলা’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৮৬)। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা পরপুরুষের সাথে কোমল কণ্ঠে এমনভাবে কথা বলো না, যাতে যার অন্তরে ব্যাধি আছে, সে প্রলুব্ধ হয়’ (আহযাব ৩৩/৩২)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘অশ্লীল কথা ও কর্ম মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যায়’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪৮২৪আদবঅধ্যায়)

উল্লেখ্য, বর্তমান সমাজে মোবাইল যোগাযোগের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্কের মধ্য দিয়ে খুন, ধর্ষণ, পরকীয়া সহ নানা অশ্লীলতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ধ্বংস হচ্ছে যুব চরিত্র। তাই এ ব্যাপারে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা একান্ত যরূরী।

Posted in মোবাইলে পরিচিত-অপরিচিত যুবক-যুবতীর সাথে গল্প করা যাবে কি? | Tagged

আবুদাঊদ হা/৩৮৯৩ থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) তাবীয লিখে তা সন্তানদের গায়ে লটকিয়ে দিতেন। এক্ষণে তাবীযের বিধান কি হবে?


আছারটির মধ্যেকার দো‘আটি ছহীহ হ’লেও (আবুদাউদ হা/৩৮৯৩; মিশকাত হা/২৪৭৭) ছাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ)-এর আমলের ব্যাপারে যা বলা হয়েছে তা যঈফ (আলবানী, আল-কালিমুত তাইয়্যিব হা/৪৯)। এছাড়া এর বিরুদ্ধে রাসূল (ছাঃ)-এর স্পষ্ট ছহীহ হাদীছ বিদ্যমান রয়েছে। যেখানে তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি তাবীয লটকাবে আল্লাহ যেন তার উদ্দেশ্য পূর্ণ না করেন এবং যে কড়ি লটকাবে আল্লাহ যেন তাকে আরোগ্য দান না করেন’। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘যে ব্যক্তি তাবীয লটকালো সে শিরক করল’ (আহমাদ, সিলসিলা ছাহীহাহ হা/৪৯২)। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কোন কিছু লটকাবে তার দায়-দায়িত্ব তার উপরেই বর্তাবে’ অর্থাৎ আল্লাহ তার কোন দায়িত্ব নিবেন না’ (আবুদাঊদ, সনদ হাসান; মিশকাত হা/৪৫৫৬ ‘চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক’ অধ্যায়)

Posted in আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) তাবীয লিখে তা সন্তানদের গায়ে লটকিয়ে দিতেন কি?, তাবীজ লটকানো জায়েজ কি?, তাবীয ব্যবহার করা যাবে কি? | Tagged ,

‘আল্লাহপাক আদম (আঃ)-কে আপন আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটির প্রকৃত ব্যাখ্যা জানিয়ে বাধিত করবেন।


হাদীছটির পটভূমিতে বলা হয়েছে, জনৈক ব্যক্তি এক বালকের গালে চপেটাঘাত করলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাকে এভাবে গালে চপেটাঘাত করতে নিষেধ করলেন এবং বললেন, خَلَقَ اللهُ آدَمَ عَلَى صُوْرَتِهِ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আদমকে স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন’ (মুত্তাফাক্বআলাইহ, মিশকাত হা/২৮৪৬)। এ বাক্য প্রয়োগের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মূলতঃ মানুষের মুখমন্ডলের মর্যাদা নির্দেশ করেছেন এবং মানবদেহের মর্যাদাপূর্ণ এই অঙ্গে আঘাত করতে নিষেধ করেছেন। বাকী থাকে হাদীছাংশে উল্লেখিত সর্বনাম (ه)-এর প্রত্যাবর্তন স্থল কোন দিকে? এর জবাবে মুহাদ্দিছগণের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও হাদীছটির পটভূমির আলোকে এর প্রত্যাবর্তনস্থল হবে ‘আদম’। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা আদম (আঃ)-কে তাঁর (আদমের) নিজস্ব আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। কারণ তিনি পৃথিবীর প্রথম মানুষ ছিলেন যার উচ্চতা ছিল ষাট হাত (নববী, শরহ মুসলিম হা/২৮৪১এর ব্যাখ্যা)। ইবনু হাজার বলেন, …এ হাদীছগুলো শক্তিশালী করে যে, উক্ত সর্বনামের প্রত্যাবর্তনস্থল আদম (আঃ) (বুখারী হা/৬২২৭এর ব্যাখ্যা)। আলবানী বলেন, صُورَتِهِ তে সর্বনামের প্রত্যাবর্তনস্থল ‘আদম’। যে হাদীছে এর প্রত্যাবর্তন স্থল আল্লাহর দিকে করা হয়েছে তা মুনকার ও যঈফ (ছহীহাহ হা/৪৪৯, ৮৬২; যঈফাহ হা/১১৭৬)। অতএব আদম (আঃ)-কে স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করা হয়েছে। পৃথিবীতে যত মানুষ আসবে আদমের মত হাত-পা, নাক, কান, মুখ ও অন্যান্য অঙ্গ দিয়েই সৃষ্টি করা হবে। তাদের অন্য কোন আকৃতিতে সৃষ্টি করা হবে না।

Posted in আল্লাহপাক আদম (আঃ)-কে আপন আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন’ কি? | Tagged

প্রায় ১০ বছর পূর্বে একটি মসজিদে মুছল্লীদের মধ্যে কথা কাটাকাটির ফলে কিছু মুছল্লী বিদ্বেষবশতঃ পাশেই পৃথক মসজিদ নির্মাণ করে। তারপর থেকে ঐ মসজিদের মুছল্লীরা এই মসজিদে কখনোই আসে না। এক্ষণে পরবর্তীতে নির্মিত মসজিদে ছালাত হবে কি?


একই সমাজে পরস্পরের মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে যদি নতুন মসজিদ তৈরি করা হয় এবং যার দ্বারা মুমিন সমাজে বিভক্তি সৃষ্টি ও ক্ষতি করা উদ্দেশ্য হয়, তাহ’লে উক্ত মসজিদকে ‘মসজিদে যেরার’ বা ‘ক্ষতিকর মসজিদ’ বলা হয়। এরূপ মসজিদ তৈরীর ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য থাকে না এবং তা তাক্বওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত হয় না (কুরতুবী, তাফসীর সূরা তওবা ১০৭ আয়াত; আলবানী, আছ-ছামরুল মুসতাত্বাব, পৃঃ ৩৯৮)। সুতরাং দ্বিতীয় মসজিদটি যদি স্রেফ বিদ্বেষবশতঃ নির্মিত হয়ে থাকে, তবে সে মসজিদে ছালাত আদায় থেকে বিরত থাকতে হবে।

Posted in মসজিদ দ্বন্দ্বের কারণে পৃথক করলে সালাত হবে কি? | Tagged

নিয়মিত নেশা করা, কালো খেযাব ব্যবহার করা, টাখনুর নীচে কাপড় পরা প্রভৃতি কবীরা গোনাহে অভ্যস্ত ব্যক্তির জন্য ফরয ইবাদত করার কোন প্রয়োজন আছে কি?


এসব ব্যক্তিকেও ফরয ইবাদতসহ অন্যান্য ইবাদত করতে হবে। কারণ তার ইবাদতই হয়ত তাকে একসময় পাপ থেকে ফিরিয়ে আনবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, অমুক ব্যক্তি রাতে ছালাত আদায় করে, কিন্তু ভোরে উঠে সে চুরি করে? রাসূল (ছাঃ) বললেন, শীঘ্রই ছালাত তাকে তা হ’তে নিবৃত্ত রাখবে (আহমাদ হা/৯৭৭৭; মিশকাত হা/১২৩৭; ছহীহাহ হা/৩৪৮২; ছালাতের ফযীলত সমূহ)

Posted in কবীরা গোনাহে নিয়মিত অভ্যস্ত ব্যক্তির ইবাদত কবুল হবে কি? | Tagged

আমার অতি নিকটের কিছু মানুষ আমাকে মন্দ কাজে উৎসাহিত করছে। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কি?


কেউ মন্দ কাজে প্ররোচিত করলে তা করা যাবে না (মুত্তাফাক্ব আলাইহ ;মিশকাত হা/৩৬৬৪)। এমনকি পিতা-মাতা হ’লেও নয় (লোকমান ৩১/১৫)। এমতাবস্থায় তাদের প্রতি সদাচরণ বজায় রাখতে হবে, উত্তমরূপে বুঝানোর চেষ্টা করতে হবে এবং প্রয়োজন ব্যতীত এড়িয়ে চলতে হবে (নাহল ১৬/১২৫; আ‘রাফ ৭/১৯৯)। তাই বলে স্থায়ীভাবে সম্পর্কচ্ছিন্নও করা যাবে না। কারণ রাসূল (ছাঃ)-এর স্পষ্ট ঘোষণা, আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৪৯২২)

Posted in মন্দ কাজে কাছের মানুষ উৎসাহিত করলে করণীয় কি? | Tagged