ঈদের দিন শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তাকাববালাল্লাহু… বলা সাথে সাথে ঈদ মোবারক বলা বিদ‘আত হবে কি?


ঈদ মোবারক (আপনার ঈদ বরকতপূর্ণ হৌক) বলা বিদ‘আত নয়। কেননা এটি ইবাদত পালন বা বিশেষ ছওয়াবের উদ্দেশ্যে করা হয় না। তাছাড়া ঈদের সময় অনেক ছাহাবী ও তাবেঈ এরূপ অভিনন্দনসূচক বাক্য ব্যবহার করেছেন। যেমন তাঁরা পরস্পর সাক্ষাৎকালে বলতেন, ‘তাকাববাল্লাহু মিন্না ও মিনকা’ (আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের পক্ষ থেকে কবূল করে নিন) (মু‘জামুল কাবীর হা/১২৩; শু‘আবুল ঈমান হা/৩৭২০; রওযাতুল মুহাদ্দিছীন হা/৪০০; মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ হা/৩২৫৫; তামামুল মিন্না ১/৩৫৫, সনদ হাসান)। সুতরাং উক্ত দো‘আ বা আরও অনুরূপ দো‘আমূলক শব্দ ও বাক্য যেমন ঈদ মুবারাক, ঈদ সাঈদ প্রভৃতি ব্যবহার করায় দোষ নেই (ইবনু তায়মিয়া, মাজমূ‘ ২৪/২৫৩; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৬/১২৯; বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব ১৩/৩৭৭)

Advertisements
Posted in ঈদ মোবারক বলা বিদ‘আত হবে কি? | Tagged ,

সিজোফ্রেনিয়া রোগের কারণে স্বামী মাঝে মাঝে চরম রাগান্বিত হয়ে আমাকে তালাক তালাক বলে। এগুলি তালাক হিসাবে গণ্য হবে কি?


এগুলি তালাক হিসাবে গণ্য হবে না। কেননা সিজোফ্রেনিয়া একটি মানসিক ব্যাধি, যার ফলে ব্যক্তির    চিন্তাধারা, আচার-ব্যবহার, অনুভূতি প্রকাশ ইত্যাদির মধ্যে নানা অসঙ্গতি দেখা যায়। ফলে তার থেকে অবাস্তব চিন্তাধারা, অদ্ভুত কার্যকলাপ, অসংলগ্ন কথাবার্তা ইত্যাদি প্রকাশ পায়। অতএব এরূপ ব্যক্তির রাগান্বিত অবস্থায় প্রদত্ত তালাক ধর্তব্য হবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘রাগের অবস্থায়  কোন  তালাক  হয় না’ (আবুদাউদ হা/২১৯৩; মিশকাত হা/৩২৮৫)। ইমাম আবু দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘ইগলাক্ব’ গালাক্ব ধাতু হ’তে ব্যুৎপণ্ণ। যার অর্থ বন্ধ হওয়া। ক্রোধান্ধ, পাগল ও যবরদস্তির অবস্থায় মানুষের স্বাভাবিক জ্ঞান ও ইচ্ছাশক্তি লোপ পায়। তাই এ অবস্থাকে ‘ইগলাক্ব’ বলা হয় (, হাশিয়া /৪১৩ পৃঃ)। তিনি আরো বলেন, ‘তিন ব্যক্তি হ’তে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। (১) পাগল যতক্ষণ না সে সুস্থ হয় … (আবুদাউদ হা/৪৪০১; মিশকাত হা/৩২৮৭)। আলী (রাঃ) বলেন, পাগল ব্যক্তির তালাক ব্যতীত সকল তালাকই জায়েয (বুখারী তা‘লীক, ‘তালাক’ অধ্যায়, ‘ইগলাক্ব অবস্থায় তালাক’ অনুচ্ছেদ)

Posted in রোগের কারণে স্বামী তালাক দিলে তা তালাক হিসাবে গণ্য হবে কি? | Tagged

পায়ুপথ দিয়ে কৃমি বের হলে ওযূ ভঙ্গ হবে কি?


উক্ত কারণ ওযূ ভেঙ্গে যাবে মর্মে স্পষ্ট কোন দলীল পাওয়া যায় না। সেকারণ ইমাম মালেক (রহঃ) এর দ্বারা ওযূ ভঙ্গ হবে না বলেছেন। আর ‘দুই রাস্তা দিয়ে কিছু বের হ’লে ওযূ নষ্ট হবে’ মর্মে বর্ণিত মূলনীতি দ্বারা কেবল পায়খানা ও পেশাবকে বুঝানো হয়েছে। বায়ু নিঃসরণ এবং মনী, মযী ও অদী বের হওয়ার কারণে ওযূ বিনষ্ট হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট হাদীছ রয়েছে (উছায়মীন, আল লিক্বাউশ শাহরী ৪৫/১৩; আলবানী, সিলসিলাতুল হুদা টেপ নং ২৪০)

Posted in পায়ুপথ দিয়ে কৃমি বের হলে ওযূ ভঙ্গ হবে কি? | Tagged

মানুষ মারা গেলে তার রূহকে ইল্লীন অথবা সিজ্জীনে রাখা হয়। আবার শুনেছি মৃত মানুষ তার আত্মীয়-স্বজনের কান্না, কথাবার্তা, তাকে গোসল করানো, জানাযা পড়ানো ইত্যাদি সব শুনতে পায়। সে সব বুঝতে পারে শুধু কথা বলতে পারে না। আত্মা যদি ইল্লীন অথবা সিজ্জীনে থাকে তাহ’লে এসব শুনতে পায় কিভাবে?


মৃত্যুর পর সৎ বান্দাদের রূহ ইল্লিয়ীনে এবং পাপীদের রূহ সিজ্জীনে অবস্থান করে। অতঃপর তাদের আমল অনুযায়ী তাদের রূহের উপর শান্তি অথবা শাস্তি প্রদান করা হয় (গাফের ৪০/৪৫৪৬; আবুদাঊদ হা/৪৭৫৫; মিশকাত হা/১৩১) এছাড়া কবরে ব্যক্তির দেহে পুনরায় রূহ ফিরিয়ে দেওয়া হয় মর্মে ছহীহ হাদীছ এসেছে (আহমাদ হা/১৮৫৫৭; ইবনু মাজাহ হা/৪২৬২; মিশকাত হা/১৬৩০) আর জানাযায় অংশগ্রহণকারীদের ফিরে যাওয়ার সময় তাদের জুতার আওয়াজ তিনি শুনতে পান মর্মে হাদীছ এসেছে (বুখারী হা/১৩৩৮; মুসলিম হা/২৮৭০; মিশকাত হা/১২৬)

উক্ত বিষয়গুলি অদৃশ্য বিষয়ক জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানেন না। অতএব কুরআনে হাদীছে যেভাবে এসেছে সেভাবেই বিশ্বাস করতে হবে

Posted in মৃত মানুষ আত্মীয়-স্বজনের কান্না; কথাবার্তা; তাকে গোসল করানো ইত্যাদি সব শুনত | Tagged ,

অসুস্থ ব্যক্তির দো‘আ ফেরেশতাদের দো‘আর ন্যায়- কথাটির কোন সত্যতা আছে কি?


না। কেননা এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (সিলসিলা যঈফাহ হা/১০০৪; ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১৫৮৮)

Posted in অসুস্থ ব্যক্তির দো‘আ ফেরেশতাদের দো‘আর ন্যায়- কথাটির কোন সত্যতা আছে কি? | Tagged

জনৈক আলেম সূরা কাহফের ২৮ আয়াতের ভিত্তিতে বলেন, সম্মিলিত মুনাজাত বর্জনকারীরা আল্লাহর নাফরমান। বক্তব্যটি কতটুকু সত্য?


বক্তব্য ভিত্তিহীন এবং মনগড়া। পৃথিবীর কোন মুফাসসির উক্ত আয়াতের তাফসীরে এরূপ কথা বলেননি। আয়াতটির অর্থ – ‘আর তুমি নিজেকে ধরে রাখো তাদের সাথে যারা সকালে সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে আহবান করে তাঁর সন্তুষ্টি কামনায় এবং তুমি তাদের থেকে তোমার দুচোখ ফিরিয়ে নিয়ো না পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনায়। আর তুমি ব্যক্তির আনুগত্য করো না যার অন্তরকে আমরা আমাদের স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি এবং সে তার খেয়ালখুশীর অনুসরণ করে তার কার্যকলাপ সীমা অতিক্রম করে গেছে(কাহফ ১৮/২৮) সকালসন্ধ্যায় তাদের রবকে ডাকার তাফসীরে ইবনু ওমর আমর ইবনু শুআইব বলেন, তারা ফজর আছরের ফরয ছালাত আদায় করে। এছাড়া কেউ কেউ সকালসন্ধ্যায় কুরআন শিক্ষা কুরআন তিলাওয়াতের কথা বলেছেন (তাফসীরে ইবনু আবী হাতেম হা/১২৭৭২৭৪; ইবনু কাছীর) ইবনু কাছীর সকালসন্ধ্যায় যিকিরআযকার, তাসবীহ্, তাহলীল পাঠ আল্লাহ নিকট চাওয়ার ব্যাখ্যা করেছেন (ইবনু কাছীর আয়াতের ব্যাখ্যা) যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, আমি এমন একটি দলের সাথে বসব যারা ফজরের ছালাত থেকে শুরু করে সূর্য উঠা পর্যন্ত মহান আল্লাহর যিকরে মশগূল থাকে। কাজ আমার নিকট ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশের দাসী আযাদ করার চেয়ে অধিক প্রিয়। আমি এমন একটি দলের সাথে বসব যারা আছরের ছালাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর যিকরে মশগূল থাকে। আমার নিকট কাজ চারটি দাসী আযাদ করার চেয়েও অধিক প্রিয়(আবুদাউদ হা/৩৬৬৭; মিশকাত হা/৯৭০; ছহীহাহ হা/২৯১৬) অতএব আয়াত দ্বারা সম্মিলিত মুনাজাতের দলীল গ্রহণ করার কোন সুযোগ নেই

Posted in সম্মিলিত মুনাজাত বর্জনকারীরা আল্লাহর নাফরমান। বক্তব্যটি কতটুকু সত্য? | Tagged

একটি জাতীয় দৈনিকের ইসলামী প্রবন্ধে লেখা হয়েছে যে, শারঈ বিধান অনুযায়ী স্বামী তার স্ত্রীকে খাদ্য প্রস্ত্তত করতে বাধ্য করতে পারবে না। বক্তব্যটির শারঈ ভিত্তি আছে কি?


উক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। কেবল খাদ্য প্রস্ত্তত নয়, বরং স্ত্রীর উপর কর্তব্য স্বামীর শরীআতসম্মত যেকোন নির্দেশ নির্দ্বিধায় পালন করা। আল্লাহ বলেন, পুরুষেরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল (নিসা /৩৪) রাসূল (ছাঃ) বলেন, নারী তার স্বামীগৃহের কর্ত্রী, তাকে তাঁর অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে (বুখারী হা/৮৯৩; মুসলিম হা/১৮২৯) তিনি বলেন, ক্বিয়ামতের দিন সর্বাধিক শাস্তি প্রাপ্ত হবে দুধরনের মানুষ। তাদের একজন , অবাধ্য স্ত্রী (তিরমিযী হা/৩৫৯, সনদ ছহীহ) আসমা বলেন, আমি যুবায়েরের স্ত্রী ছিলাম। আমি বাড়ির কাজে যুবায়ের (রাঃ)-এর খিদমত করতাম। আমি তাঁর উট ঘোড়া চরাতাম, পানি পান করাতাম এবং পানি উত্তোলনের মশক ছিঁড়ে গেলে সেলাই করতাম, আটা পিষতাম(মুসলিম হা/২১৮২; যাদুল মাআদ /১৬৯১৭১)

তবে উভয়ে উভয়ের অধিকারের প্রতি যত্নশীল থাকতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর নিকটে উত্তম। আর আমি আমার স্ত্রীদের নিকটে উত্তম(তিরমিযী, দারেমী, মিশকাত হা/৩২৫২) আসওয়াদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী করীম (ছাঃ) ঘরে থাকা অবস্থায় কি করতেন? তিনি বললেন, ঘরের কাজকর্মে ব্যস্ত থাকতেন। আর ছালাতের সময় লে ছালাতে চলে যেতেন (বুখারী হা/৬৭৬; মিশকাত হা/৫৮১৬)

Posted in স্বামী তার স্ত্রীকে খাদ্য প্রস্ত্তত করতে বাধ্য করতে পারবে কি? | Tagged

মুসলিম হা/২৬০৪ থেকে বুঝা যায়, রাসূল (ছাঃ) মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর প্রতি বিরক্ত হয়ে বদদো‘আ করেছেন। এছাড়া ত্বাবারী সংকলিত ইবনু ওমর থেকে আরেকটি হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূল (ছাঃ) বলেন, মু‘আবিয়ার মৃত্যু ইসলামের উপর হবে না। উপরোক্ত হাদীছদ্বয়ের সত্যতা ও সঠিক ব্যাখ্যা জানতে চাই।


হাদীছটিতে বলা হয়েছে যে, একদা রাসূল (ছাঃ)  ইবনু আববাসকে বললেন, যাও, মুআবিয়াকে আমার কাছে ডেকে আনো। তিনি ডাকতে গেলেন এবং ঘুরে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল তিনি খাচ্ছেন। অতঃপর রাসূল (ছাঃ) তাকে পুনরায় পাঠালে তিনি এসে একই কথা বললেন। তখন রাসূল (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ যেন তার পেট ভর্তি না করেন (মুসলিম হা/২৬০৪) হাদীছটি ছহীহ। তবে উক্ত বাক্যটি মুআবিয়ার বিরুদ্ধে বদদো ছিল না, বরং দো ছিল। আলবানী বলেন, এটি  সংকল্পহীন দোআ। যা আরবরা তাদের বাকরীতি অনুযায়ী উদ্দেশ্য ছাড়াই বাক্যের সাথে ব্যবহার করে থাকে(ছহীহাহ হা/৮২এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)

অপর এক হাদীছে এসেছে, একবার রাসূল (ছাঃ) উম্মু সুলাইম (রাঃ)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন এক ইয়াতীম বালিকাকে দেখে বলেন, তোমার বয়স আর বৃদ্ধি না হৌক। তখন সে উম্মু সুলাইমের নিকট অভিযোগ করলে তিনি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে আসেন এবং তিনি মেয়েটির উপর বদদো করার কারণ জিজ্ঞেস করেন। তখন রাসূল (ছাঃ) মুচকি হেসে বলেন, তুমি কি জান না যে, আমার প্রতিপালকের সঙ্গে এই মর্মে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছি এবং আমি বলেছি যে, আমি তো একজন মানুষ। মানুষ যেমন সন্তুষ্ট হয়, আমিও তেমন হই। মানুষ যেমন রাগান্বিত হয়, আমিও তেমনি হই।  আমিও অসন্তুষ্ট হই, যেভাবে মানুষ হয়ে থাকে। সুতরাং আমি আমার উম্মতের কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দো করলে, সে যদি তার যোগ্য না হয় তাহলে তা তার জন্য পবিত্রতা, আত্মশুদ্ধি নৈকট্য লাভের মাধ্যম বানিয়ে দিবেন (মুসলিম হা/২৬০৩; ছহীহাহ হা/৮৩৮৪এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য) এর দ্বারা বুঝা যায় যে, তিনি মানুষ নবী ছিলেন, নূরের নবী নন

আর দ্বিতীয় বর্ণনাটি বাতিল। এটি রাফেযী শীআদের বানানো মিথ্যা কাহিনী মাত্র (মাজমাউয যাওয়ায়েদ হা/৯২৪৩; ইবনু তায়মিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ /৪৪৩৪৪৪)

Posted in রাসূল (ছাঃ) মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর প্রতি বিরক্ত হয়ে বদদো‘আ করেছিলেন কি? | Tagged

হাউযে কাওছার কেবল কি আমাদের নবী (ছাঃ) প্রাপ্ত হবেন। না প্রত্যেক নবী-রাসূলই প্রাপ্ত হবেন এবং তা থেকে নিজ উম্মতদের পানি পান করাবেন?


হাউয সকল নবী ও রাসূলকে প্রদান করা হবে। যাতে তারা হাশরের ময়দানে নিজ নিজ উম্মতকে পানি পান করাতে পারেন। তবে রাসূল (ছাঃ)-এর হাউয সবচেয়ে বড় হবে এবং তার নাম হবে হাউযে কাওছার। আল্লাহ বলেন, আমরা তোমাকে হাউযে কাওছার দান করেছি (কাওছার )। সামুরা বিন জুনদুব (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘প্রত্যেক নবীর জন্য একটি করে হাউয হবে। আর এ নিয়ে তারা পরস্পরে গর্ববোধ করবেন যে, কার হাউযে কত বেশি লোক অবতরণ করবে। আমি দৃঢ়ভাবে আশা করি যে, আমার হাউযেই সবচেয়ে বেশী সংখ্যক লোক আসবে’ (তিরমিযী হা/২৪৪৩; মিশকাত হা/৫৫৯৪; ছহীহাহ হা/১৫৮৯; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া /৬৮)

Posted in হাউযে কাওছার কেবল কি আমাদের নবী (ছাঃ) প্রাপ্ত হবেন? | Tagged ,

কবর যিয়ারতের সুন্নাতী পদ্ধতি কি? কবর যিয়ারতের সময় কি কি দো‘আ পড়তে হয়? কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্য করে কোথাও যাওয়া যাবে কি? কবর যিয়ারত করলে মৃত ব্যক্তির কোন উপকার হয় কি?


কবরস্থানে গিয়ে প্রথমে দো‘আ পাঠ করবে। মা আয়েশা (রাঃ) বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! কবর যিয়ারতের সময় আমি কী বলব? তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, তুমি বল, আস্সালামুআলা আহলিদ দিয়ারি মিনাল মু’মিনীনা ওয়াল মুসলিমীনা; ওয়া ইয়ারহামুল্লাহুল মুস্তাক্বদিমীনা মিন্না ওয়াল মুস্তা’খিরীনা; ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু বিকুম লা লাহেকূনা’ অর্থ : মুমিন ও মুসলিম কবরবাসীদের উপরে শান্তি বর্ষিত হৌক। আমাদের অগ্রবর্তী ও পরবর্তীদের উপরে আল্লাহ রহম করুন! আল্লাহ চাহে তো আমরা অবশ্যই আপনাদের সাথে মিলিত হ’তে যাচ্ছি’ (মুসলিম হা/২২৫৬;মিশকাত হা/১৭৬৭কবর যিয়ারত’ অনুচ্ছেদ)। আর কেবল কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা যাবে না (বুখারী হা/১১৮৯; মুসলিম হা/১৩৯৭; মিশকাত হা/৬৯৩)। তবে অন্য উদ্দেশ্যে গিয়ে কবর যিয়ারত করাতে কোন বাধা নেই। যেমন মসজিদে নববীতে ছালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে গিয়ে রাসূল (ছাঃ) ও তাঁর সাথীদ্বয়ের কবর যিয়ারত করা যায়। আর যেকোন স্থান থেকে যে কেউ মৃত মুমিন ব্যক্তির জন্য দো‘আ করলে তার উপকার হবে (হাশর ১০; মুসলিম হা/৯৬৩; আবুদাউদ হা/৩১৯৯; মিশকাত হা/১৬৫৫, ১৬৭৪)। কবর যিয়ারত করাতে যিয়ারতকারীর পরকালের কথা স্মরণ হয় বলে সে ব্যক্তি উপকৃত হয় (মুসলিম হা/৯৭৬; মিশকাত হা/১৭৬৩)

Posted in কবর যিয়ারত করলে মৃত ব্যক্তির কোন উপকার হয় কি?, কবর যিয়ারতের সুন্নাতী পদ্ধতি কি? কবর যিয়ারতের সময় কি কি দো‘আ পড়তে হয়? | Tagged ,

জনৈক বিধবা মহিলা সন্তানদের মত না থাকায় গোপনে একজনকে অলী বানিয়ে মোবাইলের মাধ্যমে একজনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। যার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। বর্তমান স্বামীর সাথে তার সাক্ষাৎ ও মোবাইলে কথা হয়, তবে দৈহিক সম্পর্ক হয়নি। সন্তানদের অমতে এরূপ বিবাহ সঠিক হয়েছে কি?


বর্ণনা অনুযায়ী উক্ত বিবাহ সঠিক হয়নি। কারণ নারী নিজের বিবাহ নিজে বা অন্য নারীকে বিবাহ দিতে পারে না (ইবনু মাজাহ হা/১৮৮২; ইবনু মাজাহ হা/৩১৩৭; ইরওয়া হা/১৮৪১)। নারীর বিবাহের জন্য নিকটতম অভিভাবকের অনুমতি আবশ্যক। এমনকি পিতা, দাদা, ভাই প্রমুখদের অবর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানও মায়ের অলী হ’তে পারে (উছায়মীন, লিকাউল বাবিল মাফতূহ ক্রমিক ১৫৯; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১৮/১৪৩)। এছাড়া দু’জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে বিবাহ হ’তে হবে (ছহীহ ইবনু হিববান হা/৪০৭৫; ইরওয়া হা/১৮৬০, সনদ ছহীহ)। এক্ষণে সন্তান ও নিকটাত্মীয়দের উচিৎ বিবাহে ইচ্ছুক মায়ের বিবাহের ব্যবস্থা করা। অন্যথায় তিনি আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হ’তে পারেন। কারণ যার কোন অলী নেই, সরকার তার অলী হবে’ (আবুদাউদ হা/২০৮৩; মিশকাত হা/৩১৩১)

Posted in সন্তানদের মত না থাকায় বিধবা মা নিজে নিজে বিবাহ করতে পারে কি? | Tagged ,

একটি দুঃখজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আর কখনো বিবাহ করব না। এরূপ সিদ্ধান্ত শরী‘আতসম্মত হয়েছে কি?


দৈহিকভাবে সক্ষম ব্যক্তির এরূপ সিদ্ধান্ত নেওয়া শরী‘আত সম্মত নয়। এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যার বিয়ে করার সামর্থ্য আছে, সে যেন অবশ্যই বিয়ে করে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩০৮০)। তিনি বলেন, বিবাহ করা আমার সুন্নাত। যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতের উপর আমল করে না, সে আমার দলভুক্ত নয় (ইবনু মাজাহ হা/১৮৪৬, ছহীহাহ হা/২৩৮৩)। রাসূল (ছাঃ) বৈরাগ্য জীবন যাপন করতে নিষেধ করেছেন (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩০৮১) অন্যত্র তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি বিবাহ করল সে যেন দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ করল, বাকী অর্ধেকের বিষয়ে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে’ (হাকেম হা/২৬৮১; ছহীহাহ হা/৬২৫; মিশকাত হা/৩০৯৬) রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুর পর ইবনু ওমর (রাঃ) বিবাহ না করার সিদ্ধান্ত নেন। অতঃপর হাফছা (রাঃ) তাকে ডেকে বলেন, তুমি বিয়ে কর। কারণ তোমার সন্তান হয়ে মারা গেলে সে তোমার জন্য অগ্রগামী হবে। আর বেঁচে থাকলে তোমার জন্য দো‘আ করবে (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/১০৩৮৮, সনদ ছহীহ)

Posted in বিবাহ কখনো করব না। এরূপ সিদ্ধান্ত নেওয়া শরী‘আতসম্মত হয়েছে কি? | Tagged

জন্মের ১ দিন পর সন্তান মারা গেলে সপ্তম দিনে তার আক্বীক্বা দিতে হবে কি?


সপ্তম দিনের পূর্বে সন্তান মারা গেলেও তার আক্বীক্বা দিবে। কারণ আক্বীক্বা দেওয়ার জন্য বাচ্চা সপ্তম দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকা শর্ত নয় (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১১/৪৪৫)। আর রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘প্রত্যেক শিশু তার আক্বীক্বার সাথে বন্ধক থাকে’ (আবুদাউদ হা/২৮৩৯; মিশকাত হা/৪১৫৩)। উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় খাত্ত্বাবী বলেন, এ বিষয়ে বিদ্বানগণ মতভেদ করেছেন। তবে এসবের মধ্যে সর্বাধিক উত্তম ব্যাখ্যা হ’ল যা ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল বলেছেন। তিনি বলেন, এটি সন্তানের শাফা‘আতের বিষয়ে বলা হয়েছে। তিনি মনে করেন, যদি সন্তানের আক্বীক্বা না করা হয়। অতঃপর সে শিশু অবস্থায় মারা যায়, তাহ’লে সে তার পিতা-মাতার জন্য শাফা‘আত করবে না (ফাৎহুল বারী /৫৯৪)

Posted in জন্মের ১ দিন পর সন্তান মারা গেলে সপ্তম দিনে তার আক্বীক্বা দিতে হবে কি? | Tagged

নামের শেষে অনেকে জিহাদী, ইউসুফী, ফারুকী, ছিদ্দীক্বী, আনছারী, কুরায়শী যুক্ত করেন, যা তার মূল নামের অংশ নয়। বিষয়টি কতটুকু শরী‘আতসম্মত?


পরবর্তীতে এরূপ পদবী না রাখা উচিৎ। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। তোমাদের মধ্যে কে সর্বাধিক নেক আমলকারী সে সম্পর্কে আল্লাহই সম্যক অবগত (মুসলিম হা/২১৪২; মিশকাত হা/৪৭৫৬) তবে জন্মের পর পিতামাতা যদি এরূপ নাম রাখেন, তাহলে তাতে কোন দোষ নেই। আক্বীক্বার সময় শিশু সন্তানের নাম ঐরূপ রাখা তার জন্য আত্মপ্রশংসা নয়। বরং পিতা অভিভাবকদের পক্ষ তে তার জন্য শুভ কামনা বা দো স্বরূপ।

যেমন রাসূল (ছাঃ)-এর নাম তাঁর দাদা রেখেছিলেনমুহাম্মাদ মা রেখেছিলেনআহমাদ’ (প্রশংসিত) অনুরূপ মুসলিম নেতারা কাউকে তার কাজের কারণে এরূপ পদবী দিলে তাতে কোন বাধা নেই। যেমন রাসূল (ছাঃ) আবুবকর (রাঃ)-কেছিদ্দীক ওমর (রাঃ)-কেফারূকউপাধি প্রদান করেছিলেন (হাকেম হা/৪৪০৭; ছহীহাহ হা/৩০৬; তাফসীরে কুরতুবী /২৬৪) অনুরূপভাবে রাসূল (ছাঃ) মুতার যুদ্ধবিজয়ী সেনাপতি খালেদকে দো করে অশ্রুসজল নেত্রে বলেছিলেন, এবারে ঝান্ডা হাতে নিয়েছেআল্লাহর তরবারি সমূহের অন্যতমতরবারী(বুখারী হা/৪২৬২) অর্থাৎ খালেদ নিজেসায়ফুল্লাহনাম গ্রহণ করেননি, বরং রাসূল (ছাঃ) তাকে লকব দিয়েছিলেন। রাসূল (ছাঃ)-এর নিজের ছেলে আব্দুল্লাহর লকব ছিল ত্বাইয়িব ত্বাহির (পবিত্র) অতএব পিতামাতা তার সন্তানের জন্য দো হিসাবে উক্ত গুণবাচক নাম সমূহ রাখতে পারেন। তবে তা যেন অহংকার প্রকাশক না হয়

Posted in নামের শেষে অনেকে জিহাদী; ইউসুফী; ফারুকী; ছিদ্দীক্বী; আনছারী লেখা যাবে কি? | Tagged

সমাজে প্রচলিত আছে, অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে সবাই সমান। একথা কি সত্য?


একথা সত্য। যে ব্যক্তি অন্যায় করে ও যে ব্যক্তি শক্তি থাকা সত্ত্বেও উক্ত অন্যায়ের প্রতিবাদ করে না, পাপের দিক দিয়ে উভয়ে সমান। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একটি দৃষ্টান্ত পেশ করেন। নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহর নির্ধারিত বিধানে অবহেলাকারী এবং অন্যায়ে পতিত ব্যক্তির দৃষ্টান্ত এমন সম্প্রদায়ের ন্যায়, যারা একটি জাহাযে লটারীর মাধ্যমে নিজেদের স্থান নির্ধারণ করল। তদনুযায়ী কারো স্থান নীচের  তলায় এবং কারো স্থান উপরের তলায় হ’ল। আর নীচের লোকেরা পানির জন্য উপরের লোকদের নিকট যাতায়াত করলে তাদের অসুবিধা ঘটে। তাই নীচের এক ব্যক্তি একখানা কুঠার নিল এবং জাহাযের তলা ছিদ্র করতে লাগল। এ সময় উপরের লোকেরা এসে জিজ্ঞাসা করতে লাগল তোমার কী হয়েছে? সে বলল, আমাদের কারণে তোমাদের কষ্ট হয়। অথচ আমাদেরও পানির একান্ত প্রয়োজন। এ অবস্থায় তারা যদি তার দু’হাত ধরে নেয়, তবে তাকেও রক্ষা করবে এবং নিজেরাও রক্ষা পাবে। আর যদি তাকে তার কাজে ছেড়ে দেয় তবে তাকেও ধ্বংস করবে এবং নিজেরাও ধ্বংস হবে’ (বুখারী, মিশকাত হা/৫১৩৮ ‘ন্যায়ের আদেশ’ অনুচ্ছেদ)

রাসূল (ছাঃ) আরো বলেন, ‘যখন লোকেরা তাদের মধ্যে কোনরূপ অন্যায় হ’তে দেখে অথচ তার প্রতিরোধ করে না, আল্লাহ তার শাস্তিস্বরূপ তাদের সকলের উপর গযব পাঠিয়ে দেন’ (আহমাদ, তিরমিযী হা/৪০০৫, মিশকাত হা/৫১৪২, সনদ ছহীহ)। অতএব অন্যায় রুখতে হবে। নইলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Posted in অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে সবাই সমান। একথা কি সত্য? | Tagged

যে ব্যক্তি চল্লিশ দিনকে কেবল আল্লাহর উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট করবে তার কথায় জ্ঞানের ধারা প্রবাহিত হবে’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ?


বর্ণনাটি জাল ও মুনকার। এই বর্ণনা থেকেই তাবলীগ জামা‘আত চল্লিশ দিনের চিল্লার প্রবর্তন করেছে, যা ভিত্তিহীন ও বাতিল। আবু নু‘আইম তার হিলইয়াহ গ্রন্থে (৫/১৮৯), কাযাঈ মুসনাদে শিহাবে (হা/৪৬৬), ইহইয়াউ ঊলূমিদ্দীনসহ কিছু কিতাবে এটি বর্ণিত হয়েছে (কিতাবুল মাওযূ‘আত ৩/১৪৪; সিলসিলা যঈফাহ হা/৩৮)

Posted in চল্লিশ দিনকে কেবল আল্লাহর উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট করা হাদীছটি কি ছহীহ? | Tagged

স্বর্ণকার হিসাবে আমাকে মাঝে মাঝে হিন্দুদের দেব- দেবী, ময়ূর ইত্যাদির ডিজাইন করতে হয়। হিন্দু দেশ হিসাবে এটা না করলে আমার ব্যবসাই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এক্ষণে এটা জায়েয হবে কি?


জায়েয হবে না। কারণ এর মাধ্যমে একদিকে মূর্তি নির্মাণের গোনাহ অন্যদিকে অমুসলিম ধর্মীয় উৎসবে সহযোগিতা। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নেকী ও তাক্বওয়ার কাজে পরস্পরে সহযোগিতা কর এবং পাপ ও সীমালংঘনের কাজে সহযোগিতা করো না’ (মায়েদা ৫/২)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত’ (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৩৪৭; ছহীহুল জামে‘ হা/৬১৪৯)। ওছায়মীন (রহঃ) বলেন, কাফেরদের বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে উপহার বিনিময়, মিষ্টান্ন বিতরণ, রকমারি খাদ্য তৈরী করা, কাজ বন্ধ রাখা ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা মুসলমানদের জন্য হারাম (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩/৪৬)। বরং হালাল পেশা গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহকে ভয় করলে ও তার উপর ভরসা করলে তিনি একটা বৈধ উপায় বের করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন (তালাক ৬৫/২; বুখারী হা/৫১৬৪; মুসলিম হা/৩৬৭)

Posted in হিন্দুদের দেব- দেবী; ময়ূর ইত্যাদির ডিজাইন করা যাবে কি? | Tagged ,

তাহাজ্জুদের ছালাত অনিয়মিতভাবে আদায় করা যাবে কি?


যাবে। তবে নিয়মিত পড়াই উত্তম। আয়েশা (রাঃ) বলেন, তোমরা রাতের ছালাত ছেড়ে দিয়ো না। কারণ রাসূল (ছাঃ) এ ছালাত ছাড়তেন না। যখন তিনি অসুস্থ বা দুর্বল বোধ করতেন তখন তা বসে আদায় করতেন (আহমাদ হা/২৬১৫৭; আবুদাঊদ হা/১৩০৭, সনদ ছহীহ)।  এছাড়া আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল তাই, যা অল্প হ’লেও নিয়মিত করা হয় (বুখারী হা/৬৪৬৫; মুসলিম হা/৭৮৩; মিশকাত হা/১২৪২)। উল্লেখ্য যে, ‘তাহাজ্জুদ শুরু করলে আর ছাড়া যাবে না এবং ছাড়লে গুনাহ হবে’ মর্মে প্রচলিত কথাটি ভিত্তিহীন। কিন্তু ইচ্ছাকৃত ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।

Posted in তাহাজ্জুদের ছালাত অনিয়মিতভাবে আদায় করা যাবে কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তি যৌতুকের অর্থ দিয়ে বৌভাতের আয়োজন করে দাওয়াত দিয়েছে। সেখানে যাওয়া জায়েয হবে কি?


যৌতুক লেনদেন ইসলামে হারাম। তাই যৌতুক গ্রহণকারী পাপী হবে। কিন্তু এজন্য তার দাওয়াত গ্রহণে কোন বাধা নেই। কারণ একজনের পাপের বোঝা অন্যে বহন করবে না (আন‘আম ১৬৪)। বরং স্পষ্ট পাপাচারী না হ’লে ওয়ালীমার দাওয়াত গ্রহণ করা ওয়াজিব (বুখারী হা/৫১৭৭; মুসলিম হা/১৪৩২; মিশকাত হা/৩২১৮)। তাছাড়া ওয়ালীমার আয়োজনে মেয়ে পক্ষ ছেলেকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে পারে (শারহুস সুন্নাহ ৮/১৪; উছায়মীন, ফাতাওয়া নুরুন আলাদ-দারব ১/৫)

Posted in যৌতুকের অর্থ দিয়ে বৌভাতের দাওয়াত খাওয়া যাবে কি? | Tagged ,

ওয়াক্ত শুরুর পূর্বে আযান দেওয়া বৈধ হবে কি?


কোন ছালাতের জন্য সময়ের পূর্বে আযান দেওয়া শরী‘আত সম্মত নয়। কেউ এরূপ করে ছালাত আদায় করলে তাকে পুনরায় আযান দিয়ে ছালাত আদায় করতে হবে (আবুদাউদ হা/৫৩২-৫৩৩; ইবনু কুদামা, মুগনী ১/২৯৭)। তবে ফজরের পূর্বে সাহারী বা তাহাজ্জুদের জন্য আযান দেওয়া যাবে (বুখারী হা/৬১৭; মুসলিম হা/১০৯২; মিশকাত হা/৬৮০)। অতঃপর ফজরের ছালাতের জন্য পুনরায় আযান দিতে হবে (মুবারকপুরী, তোহফা ১/৫১৫-১৬)

Posted in আযান ওয়াক্ত শুরুর পূর্বে দেওয়া বৈধ হবে কি? | Tagged

দোকান থেকে খাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে নগদে এক মূল্যে এবং বাকীতে তথা কিস্তিতে অধিক মূল্যে ক্রয় করতে হয়। এরূপ ক্রয়-বিক্রয় জায়েয হবে কি?


এরূপ ক্রয়-বিক্রয় জায়েয নয়। কারণ বেশী নেওয়াটা সূদ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি একটি ব্যবসায়ে দু’টি বিক্রয় করে সে কম মূল্যেরটা নিবে অথবা সূদ নিবে’ (আবুদাঊদ হা/৩৪৬১; ছহীহাহ হা/২৩২৬)। এখানে ক্রেতাকে এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে দু’টির যেকোন একটি গ্রহণ করার। হয় সে নগদে কম মূল্যে খরীদ করবে, যা সিদ্ধ। নয় বাকীতে বেশী মূল্যে খরীদ করবে, যা সূদ এবং যা নিতে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিষেধ করেছেন। এর মধ্যে অজ্ঞতার কিছু নেই। তিনি আরো বলেন, ‘সূদ হয় বাকীতে’ (বুখারী হা/২১৭৯; মুসলিম হা/১৫৯৬; মিশকাত হা/২৮২৪)। অতএব বাকীতে অতিরিক্ত মূল্যের বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না (বিস্তারিত দ্রঃ বায়‘এ মুআজ্জাল’ বই)

Posted in বাকীতে অতিরিক্ত মূল্যের বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে কি? | Tagged ,

বিবাহের পর স্বামী কর্মহীন থাকায় পরিবারের চাপে বাধ্য হয়ে স্ত্রী ডিভোর্স লেটারে স্বাক্ষর করে। তবে স্বামী তা গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে স্ত্রী স্বামী থেকে আলাদা বসাবস করলেও তাদের মাঝে সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি। এক্ষণে স্বামীর নিকটে ফিরে যেতে বিবাহের প্রয়োজন হবে কি?


প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় ‘খোলা’ হয়েছে। এক্ষণে উক্ত নারীর সাথে সংসার করতে চাইলে নতুন বিবাহের মাধ্যমে সংসার করবে (বাক্বারাহ ২/২৩২; তালাক ৬৫/১; বুখারী হা/৫১৩০)

Posted in স্ত্রী ডিভোর্স লেটারে স্বাক্ষর করলে তালাক হবে কি? | Tagged , ,

ছালাত ব্যতীত জীবনের কোন মূল্য নেই, যেমন মস্তিষ্ক ব্যতীত দেহের কোন মূল্য নেই। কথাটি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত কি?


এটা প্রচলিত একটি কথা মাত্র। উক্ত মর্মে কোন হাদীছ পাওয়া যায় না। এর দ্বারা মূলত ছালাতের গুরুত্ব বুঝানো হয়েছে।

Posted in ছালাত ব্যতীত জীবনের কোন মূল্য নেই কথাটি কি হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত কি? | Tagged

আমি আমার স্ত্রীকে তিন মাসে তিন তালাক দেই। পরে গ্রাম্য সালিসে আমাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়া হয়। এক্ষণে উক্ত স্ত্রীর সাথে আমার সংসার করা জায়েয হচ্ছে কি?


উক্ত স্ত্রীর সাথে সংসার করা হারাম। কেননা তিন মাসে তিন তালাক প্রদানের মাধ্যমে তালাকটি ‘বায়েন’ তথা বিচ্ছিন্নকারী তালাকে পরিণত হয়েছে। এরপর তার পক্ষে আর পূর্ব স্বামীর কাছে ফিরে আসার সুযোগ নেই, যতক্ষণ না সে অন্যত্র স্বেচ্ছায় বিবাহ করে ও স্বেচ্ছায় তালাকপ্রাপ্তা হয় (বাক্বারাহ ২/২২৯-৩০)। এক্ষণে তার জন্য অনতিবিলম্বে পৃথক হওয়া ও তওবা করা আবশ্যক।

Posted in তালাক তিন মাসে তিনটা দেয়ার পরে সালিসে মীমাংসা হয়ে সংসার করা যাবে কি? | Tagged

মাঝে মাঝে ছালাত আদায়কারী কসাইয়ের যবেহ করা পশুর গোশত খাওয়া যাবে কি?


কোন মুসলিম কর্তৃক বিসমিল্লাহ বলে যবেহ করা পশুর গোশত খাওয়া জায়েয। কারণ সে ছালাতকে অস্বীকার করে না। বরং অলসতাবশত মাঝে-মধ্যে ছেড়ে দেয় (শায়খ বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১০/২৭৫)। তবে তাকে ছালাত আদায়ের উপদেশ দিতে হবে। কারণ ইচ্ছাকৃতভাবে ছালাত পরিত্যাগ করা কুফরীর পর্যায়ভুক্ত মহাপাপ (মুসলিম হা/৮২; মিশকাত হা/৫৬৯)

Posted in মাঝে মাঝে ছালাত আদায়কারী কসাইয়ের যবেহ করা পশুর গোশত খাওয়া যাবে কি? | Tagged ,

আমি কুরআন তেলাওয়াত করতে পারি না। এক্ষণে অনুবাদ পাঠ করলে তেলাওয়াতের নেকী পাওয়া যাবে কি?


অনুবাদ পড়ে তেলাওয়াতের নেকী পাওয়ার পক্ষে কোন দলীল নেই। কুরআন আরবীতেই পড়তে হবে, যাতে প্রতি হরফের বিনিময়ে ১০টি নেকী পাওয়া যাবে (হাকেম হা/২০৮০; ছহীহাহ হা/৬৬০)। তবে কেউ কুরআন বুঝার জন্য অনুবাদ পাঠ করলে ছওয়াব পাবে (নিসা ৪/৮২; মুহাম্মাদ ৪৭/২৪)। কারণ এটি একটি উত্তম সৎকর্ম। আর প্রত্যেক সৎকর্মের জন্য আল্লাহ পুরস্কার দিবেন (হূদ ১১/১১৪-১১৫)

Posted in কুরআনের অনুবাদ পাঠ করলে তেলাওয়াতের নেকী পাওয়া যাবে কি? | Tagged

ছালাতের মধ্যে তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে ভুল করে ফেললে বা এক সূরার আয়াতের মাঝে অন্য সূরার আয়াত পাঠ করে ফেললে উক্ত ছালাত কবুলযোগ্য হবে কি? এজন্য সহো সিজদা দিতে হবে কি?


এতে ছালাতের কোন ক্ষতি হবে না এবং এজন্য সহো সিজদাও দিতে হবে না। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) বলেন, একবার আমি রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে ছালাতে ছিলাম। তিনি একটি আয়াত ছেড়ে চলে গেলেন। ছালাত শেষে আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আয়াতটি মানসূখ হয়ে গেছে না পড়তে ভুলে গিয়েছিলেন? তিনি বললেন, না বরং ভুলে গিয়েছিলাম (ছহীহ ইবনু খুযায়মা হা/১৬৪৭; আহমাদ হা/১৫৪০২, সনদ ছহীহ; বুখারী, জুযউল ক্বিরাআত খালফাল ইমাম হা/১২৩)

Posted in ছালাতের মধ্যে তেলাওয়াত ভুল করে ফেললে সহো সিজদা দিতে হবে কি? | Tagged

তোমরা ঠান্ডা পানি দ্বারা ইস্তিনজা কর, কারণ এটা হারিশ রোগ আরোগ্যকারী- মর্মে বর্ণিত হাদীছটি ছহীহ কি?


উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (মু‘জামুল আওসাত্ব হা/৪৮৫৮; মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ হা/৮৩৮২; সিলসিলা যঈফাহ হা/৭০১০;)

Posted in ঠান্ডা পানি দ্বারা ইস্তিনজা করতে হবে কি

ক্বিয়ামতের দিন আলেম-ওলামা ও হাফেযদের বিচার কুরআনের সম্মানে পৃথকভাবে করা হবে কি? এছাড়া তাদের ছোট-খাট ভুল ক্ষমা করে দেওয়া হবে কি?


কুরআনের সম্মানে তাদের পৃথক বিচার করা হবে না। তবে শহীদ, আলেম ও ক্বারী এবং দাতাদের প্রথমে বিচার করা হবে মর্মে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। যেখানে লোক দেখানো আমলকারীরা পাকড়াও হবে (মুসলিম হা/১৯০৫; মিশকাত হা/২০৫)। আর ক্বিয়ামতের দিন মানুষকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হবে। ১. আরশের ডানে অবস্থানকারী। এরা সকলে জান্নাতবাসী। ২. আরশের বামে অবস্থানকারী যারা সকলে জাহান্নামী। ৩. অগ্রগামী দল যারা আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য লাভকারী। যাদের মধ্যে রয়েছে নবী-রাসূল, শহীদ ও ছিদ্দীকগণ (ওয়াকি‘আ ৫৬/৭-৮; তাফসীরে ইবনু কাছীর অত্র আয়াতের তাফসীর দ্রষ্টব্য)। উল্লেখ্য যে, হাফেযে কুরআনের বিশেষ ফযীলত হাদীছে বর্ণিত হয়েছে। তারা সম্মানিত ফেরেশতাদের সাথে অবস্থান করবেন (বুখারী হা/৪৯৩৭; মুসলিম হা/৭৯৮;মিশকাত হা/২১১২)। তাদের মুখস্থ অনুযায়ী জান্নাতের উঁচুস্তরে স্থান লাভ করবে (আবুদাউদ হা/১৪৬৪; মিশখাত হা/২১৩৪; ছহীহাহ হা/২২৪০)। তাদেরকে সম্মানের মুকুট ও পোশাক পরানো হবে এবং আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন (তিরমিযী হা/২৯১৫; ছহীহ আত-তারগীব হা/১৪২৫)। কুরআন তাদের জন্য সুফারিশ করবে (মুসলিম হা/৮০৪; মিশকাত হা/২১২০)। নেক আমলকারী হাফেযকে মর্যাদার মুকুট ও তার পিতা-মাতাকে দু’জোড়া সর্বোত্তম পোষাক পরানো হবে (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/৬০১৪, ছহীহাহ হা/২৮২৯)

Posted in আলেম-ওলামা ও হাফেযদের ছোট-খাট ভুল ক্ষমা করে দেওয়া হবে কি? | Tagged , ,

রাসূল (ছাঃ) নিজে কখনো দরূদে ইবরাহীমী পাঠ করেছেন কি?


রাসূল (ছাঃ) প্রতি ছালাতে দরূদে ইবরাহীমী পাঠ করতেন। কারণ শরী‘আতের বিধান রাসূল (ছাঃ) নিজে আগে পালন করতেন। তারপর ছাহাবীগণকে শিক্ষা দিতেন (মিরক্বাত ২/৭৩৩-৭৩৪)। আলবানী বলেন, রাসূল (ছাঃ) তাশাহহুদে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে নিজের প্রতি নিজে দরূদ পাঠ করতেন। আর তা উম্মতের জন্য সুন্নাত সাব্যস্ত করেছেন (আছলু ছিফাতি ছালাতিন নবী (ছাঃ) পৃ. ৯০৪)

Posted in রাসূল (ছাঃ) নিজে কখনো দরূদে ইবরাহীমী পাঠ করেছেন কি? | Tagged

কাউকে স্বামী বা স্ত্রী হিসাবে কামনা করে আল্লাহর নিকটে দো‘আ করা যাবে কি?


যেকোন কল্যাণকর কাজে দো‘আ করা যাবে। কারো দ্বীনদারী ও উত্তম আচরণ দেখে তার সাথে বিবাহের জন্যও দো‘আ করা যেতে পারে (নববী, আল-মাজমূ‘ ৩/৪৭১; উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ৩/২০৫-৬)। তবে এক্ষেত্রে হাদীছে বর্ণিত সারগর্ভ দো‘আ করাই উত্তম। যেমন রাববানা আ-তিনা ফিদ্ দুনইয়া হাসানাতাওঁ ওয়া ফিল আ-খিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়া ক্বিনা ‘আযা-বান্না-র। অর্থ: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দাও ও আখেরাতে কল্যাণ দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচাও’ (বাক্বারাহ ২/২০১)

আর দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য কে কল্যাণকর হবে, সে ব্যাপারে আল্লাহই ভাল জানেন। সেজন্য সর্বোত্তম পন্থা হ’ল- ইস্তিখারার দো‘আ পাঠ করা, যা শরী‘আত নির্দেশিত। যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, হে আল্লাহ! যদি তুমি জানো যে, এ কাজটি আমার জন্য উত্তম হবে আমার দ্বীনের জন্য, আমার জীবিকার জন্য ও আমার পরিণাম ফলের জন্য, তাহ’লে ওটা আমার জন্য নির্ধারিত করে দাও এবং সহজ করে দাও। অতঃপর ওতে আমার জন্য বরকত দান কর। আর যদি তুমি জানো যে, এ কাজটি আমার জন্য মন্দ হবে আমার দ্বীনের জন্য, আমার জীবিকার জন্য ও আমার পরিণাম ফলের জন্য, তাহ’লে এটা আমার থেকে ফিরিয়ে নাও এবং আমাকেও ওটা থেকে ফিরিয়ে রাখ। অতঃপর আমার জন্য মঙ্গল নির্ধারণ কর, যেখানে তা আছে এবং আমাকে তা দ্বারা সন্তুষ্ট কর’ (বুখারী হা/১১৬২; মিশকাত হা/১৩২৩)

Posted in কাউকে স্বামী বা স্ত্রী হিসাবে কামনা করে দো‘আ করা যাবে কি? | Tagged ,

মসজিদের বারান্দার নীচে টয়লেটের হাউজ থাকলে উক্ত বারান্দায় ছালাত আদায় করা জায়েয হবে কি?


উপরিভাগ পবিত্র থাকলে তার উপর ছালাত আদায় করা যাবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, সমস্ত যমীন আমার জন্য পবিন্ত এবং তা ছালাত আদায়ের উপযোগী করা হয়েছে। কাজেই আমার উম্মতের যে কোন ব্যক্তি ওয়াক্ত হ’লেই ছালাত আদায় করতে পারবে’ (বুখারী হা/ ৩৩৫; মুসলিম হা/৫৭৪৭)

Posted in টয়লেটের হাউজের উপর ছালাত আদায় করা জায়েয হবে কি? | Tagged

আউয়াল ওয়াক্তে ছালাত আদায়ের লক্ষ্যে আমাদের এখানে যোহরের ছালাত ১২.৫০ মিনিটে আদায় করা হয়। এক্ষণে আউয়াল ওয়াক্তের মধ্যে জুম‘আর খুৎবা ও ছালাত কখন শুরু বা শেষ করা সমীচীন হবে?


যোহরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর খুৎবা শুরু করে শীত-গ্রীষ্মকালভেদে ১-টা থেকে ১.৩০ মিনিটের মধ্যে জুম‘আর ছালাত সমাপ্ত করা সমীচীন হবে। কারণ এরপরে আদায় করলে আউয়াল ওয়াক্ত থাকে না। আউয়াল ওয়াক্ত বলতে ওয়াক্তের প্রথমভাগকে বুঝানো হয়, ওয়াক্তের শুরুকে নয়। জিবরীল (আঃ) রাসূল (ছাঃ)-কে আউয়াল ও আখের ওয়াক্তে দু’দিন ছালাত আদায় করিয়ে বলেন, উক্ত দুই ওয়াক্তের মধ্যবর্তী সময়কালই হ’ল আপনার উম্মতের জন্য ছালাতের ওয়াক্ত (আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৫৮৩ ‘ছালাতের সময়কাল’ অনুচ্ছেদ)। যেমন শীত ও গ্রীষ্মকাল ভেদে সারাবছর ঢাকায় যোহরের সময় শুরু হয় ১১:৪২ থেকে ১২:১৩ মিনিটে এবং শেষ হয় ০২:৫০ মিঃ থেকে ০৩:৩২ মিনিটে। এ দুই প্রান্তসীমার মধ্যবর্তী সময়ের প্রথমভাগকে আউয়াল ওয়াক্ত ধরা হবে। প্রথমভাগেই রাসূল (ছাঃ) জুম‘আর ছালাত আদায় করতেন’ (বুখারী হা/৯০৪-৯০৫; মিশকাত হা/১৪০১)। সালামা ইবনু আকওয়া (রাঃ) বলেন, সূর্য ঢলে যাওয়ার পর আমরা রাসূল (ছাঃ)-এর সঙ্গে জুম‘আর ছালাত আদায় করতাম। এরপর ছায়ায় হেঁটে প্রত্যাবর্তন করতাম (মুসলিম হা/৮৬০; ইবনু হিববান হা/১৫১২; বিস্তারিত

Posted in আউয়াল ওয়াক্তে জুম‘আর ছালাত কখন শুরু বা শেষ করা সমীচীন হবে? | Tagged

ছোট শিশুদের বাঁশিযুক্ত জুতা পরানো যাবে কি?


বাদ্য-বাজনা ইসলামে হারাম। তাই বাঁশি ও বাজনাযুক্ত জুতা পরানো যাবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, দু’টি বস্ত্ত দুনিয়া ও আখেরাতে অভিশপ্ত। আনন্দের সময় বাঁশি বাজানো এবং মুছীবতের সময় বিলাপ করা (বাযযার, ছহীহুত তারগীব হা/৩৫২৭; মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ হা/৪০১৭)। তিনি আরো বলেন, আমি দু’টি নির্বোধসূলভ ও পাপাচারমূলক চিৎকার নিষেধ করেছি। আনন্দের সময় খেল-তামাশা, শয়তানের বাঁশি বাজানো ও বিপদের সময় চিৎকার করা, মুখমন্ডলে আঘাত করা এবং জামার সম্মুখভাগ ছিঁড়ে ফেলা আর শয়তানের মত (চিৎকার করে) কান্নাকাটি করা (হাকেম হা/৬৮২৫; তিরমিযী হা/১০০৫; ছহীহুল জামে‘ হা/৫১৯৪)। অতএব কোমলমতি শিশুদের এসব শব্দ শুনানো থেকে বিরত রাখতে হবে।

Posted in ছোট শিশুদের বাঁশিযুক্ত জুতা পরানো যাবে কি? | Tagged

জনৈক আলেম বলেন, পানি থাকা অবস্থায় ঢিলা কুলুখ ব্যবহার করা যাবে না। এটা সঠিক কি? আর পানি থাকা অবস্থায় টিস্যু ব্যবহার করা যাবে কি?


পানি থাকলে পানি ব্যবহার করবে। কারণ আল্লাহ পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন (আবুদাউদ হা/৪৪; মিশকাত হা/৩৬৯; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৭৬০)। ইমাম তিরিমিযী বলেন, বিদ্বানগণ (পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে) পানিকেই যথেষ্ট মনে করেন। পানি না পেলে কুলুখ নিবে (তিরমিযী হা/১৯ আলোচনা দ্রঃ)। তবে কেউ যদি পানি থাকা সত্ত্বেও মাটি বা অনুরূপ কিছু দ্বারা ইস্তিঞ্জা করে তাহ’লে পবিত্রতা অর্জন হয়ে যাবে (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২২/১৬৭; বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৯/১৫; উছায়মীন, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব ১১৫/১২; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৪/৩৪)। স্মর্তব্য যে, কুলুখ ব্যবহার করার ফযীলত সম্পর্কে যেসব হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, তার সবই যঈফ ও জাল।

Posted in পানি থাকা অবস্থায় ঢিলা কুলুখ ব্যবহার করা যাবে কি? | Tagged