কোন ব্যক্তি যেনায় লিপ্ত হ’লে তার ৪০ দিনের ইবাদত কবুল হয় না মর্মে বর্ণিত হাদীছের কোন সত্যতা আছে কি?


উক্ত মর্মে কোন দলীল নেই। বরং যেনাকারী বিবাহিত হ’লে রজম করতে হবে এবং অবিবাহিত হ’লে একশ’টি বেত্রাঘাত করতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘ব্যভিচারী নারী ও পুরুষের প্রত্যেককে তোমরা একশ’ বেত্রাঘাত কর’ (নূর ২৪/০২)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, অবিবাহিত নারী-পুরুষ ব্যভিচার করলে একশ’ বেত্রাঘাত কর এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন দাও। আর বিবাহিত নারী-পুরুষ ব্যভিচার করলে একশ’ বেত্রাঘাত ও রজম কর’ (মুসলিম হা/১৬৯০; মিশকাত হা/৩৫৫৮)। তবে একাজ বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব সরকারের।

Advertisements
Posted in যেনায় লিপ্ত হ’লে ৪০ দিনের ইবাদত কবুল হয় না কি? | Tagged ,

আমাদের মেডিকেল কলেজে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ক্লাস থাকায় প্রতিদিন যোহরের ছালাত দেরী করে পড়তে হয়। এক্ষণে আমার করণীয় কি?


নিয়মিতভাবে দেরী করে ছালাত আদায় করা যাবে না। বরং সাধ্যমত যথাসময়ে ছালাত আদায়ের চেষ্টা করবে। প্রয়োজনে বিশেষ অনুমতি নিয়ে সময়মত ছালাত আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। সুযোগ না পেলে যখন সময় পাবে তখনই ছালাত আদায় করে নিবে (মুসলিম হা/৬৮৪; মিশকাত হা/৬০৪)

Posted in ছালাত নিয়মিতভাবে দেরী করে আদায় করা যাবে কি? | Tagged

আপন ভাগ্নী জামাই তথা বোনের মেয়ের স্বামীর সাথে হজ্জে যাওয়া যাবে কি? উল্লেখ্য যে, সাথে বোনের মেয়েও থাকবে।


মাহরাম ছাড়া কোন মহিলার উপর হজ্জ ফরয নয়। যদি কোন মহিলার সঙ্গে মাহরাম না যায় তাহ’লে তার উপর হজ্জ বা সফর বৈধ নয় (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৫১৩, ১৫ ‘হজ্জ’ অধ্যায়)। ভাগ্নী জামাই তার মামী শ্বাশুড়ীর জন্য মাহরাম নয়। অতএব তার সঙ্গে হজ্জে যাওয়া যাবে না।

Posted in হজ্জে আপন ভাগ্নী জামাই এর সাথে যাওয়া যাবে কি? | Tagged ,

অনেকে পিঁপড়ার চলাফেরা ও আচরণ দেখে বৃষ্টি বা বন্যার আশংকা করে। এরূপ ভাবনা কি শিরক হবে?


এগুলি কুসংস্কার মাত্র। তবে এজন্য শিরকের গুনাহ হবে না।

Posted in পিঁপড়ার চলাফেরা ও আচরণ দেখে বৃষ্টি বা বন্যার আশংকা করা শিরক হবে কি? | Tagged ,

শিরক থেকে ক্ষমা চাইতে হ’লে সেই শিরকের নাম ধরে ক্ষমা চাইতে হবে কি? যদি তাই হয় তবে পূর্বেকৃত বিবিধ শিরকী কার্যকলাপ থেকে তওবা করার উপায় কি?


শিরক থেকে ক্ষমা চাওয়ার সময় শিরকের নাম উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। বরং সামগ্রিকভাবে শিরকের গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য তওবা করতে হবে। মা‘ক্বিল বিন ইয়াসার (রাঃ) বলেন, আমি আবুবকর ছিদ্দীক (রাঃ)-এর সাথে নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট গেলাম। তিনি বললেন, হে আবুবকর! নিশ্চয়ই শিরক পিপীলিকার পদচারণা থেকেও সন্তর্পণে তোমাদের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। আবুবকর (রাঃ) বলেন, কারো আল্লাহর সাথে অপর কিছুকে ইলাহরূপে গণ্য করা ছাড়াও কি শিরক আছে? রাসূল (ছাঃ) বলেন, সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! শিরক পিপীলিকার পদধ্বনির চেয়েও সূক্ষ্ম। আমি কি তোমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিব না, যা তুমি বললে শিরকের অল্প ও বেশী সবই দূর হয়ে যাবে? অতঃপর তিনি বলেন, তুমি বলো,(اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ وَأَسْتَغْفِرُكَ لمِاَ لاَ أَعْلَمُ) ‘হে আল্লাহ! আমি সজ্ঞানে তোমার সাথে শিরক করা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই এবং যা আমার অজ্ঞাত তা থেকেও তোমার কাছে ক্ষমা চাই’ (আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৭১৬; ছহীহুল জামে‘ হা/৩৭৩১)। ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) বলেন, জানা ও অজানা সকল গুনাহ থেকে নাজাত পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হ’ল আমভাবে তওবা করা। হ’তে পারে জানা অপেক্ষা তার অজানা গুনাহের পরিমাণ অধিক (মাদারিজুস সালেকীন ১/২৮৩)

Posted in শিরক থেকে ক্ষমা চাইতে হ’লে সেই শিরকের নাম ধরে ক্ষমা চাইতে হবে কি? | Tagged

জনৈক বক্তা বলেন, ভাতের পাত্রের মাঝখান থেকে চামচ ঢুকিয়ে ভাত বাড়া যাবে না। বরং যেকোন পাশ থেকে চামচ ঢুকাতে হবে। নইলে বরকত কমে যাবে। একথার কোন সত্যতা আছে কি?


কথাটি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমাদের কেউ খাওয়ার সময় যেন পাত্রের মাঝখান থেকে না খায়, বরং তার কিনারা থেকে খাওয়া শুরু করে। কেননা পাত্রের মাঝখানে বরকত নাযিল হয় (আবুদাউদ হা/৩৭৭২; তিরমিযী হা/১৮০৫)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, রাসূল (ছাঃ) একদা ছারীদের উপরাংশ স্পর্শ করে বলেন, বিসমিল্লাহ বলে তার চারপাশ থেকে খাও এবং তার উপরাংশ রেখে দাও। কারণ এই উপরের দিক থেকেই বরকত আসে’ (ইবনু মাজাহ হা/৩২৭৬; ছহীহাহ হা/২০৩০)

Posted in ভাতের পাত্রের মাঝখান থেকে চামচ ঢুকিয়ে ভাত বাড়া যাবে না কথাটি সত্য কি? | Tagged ,

ছালাতরত অবস্থায় পোষা মুরগী বা বিড়াল জায়নামাযের উপর চলাফেরা করলে ছালাত ছেড়ে দিতে হবে কি?


মুরগী-বিড়াল বা এজাতীয় প্রাণী মুছল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে ছালাত বিনষ্ট হবে না। তবে সর্বদা চেষ্টায় থাকতে হবে যাতে মুছল্লীর সুৎরার ভিতর দিয়ে কিছু অতিক্রম না করে। আমর ইবনু শু‘আয়েব তার দাদার সূত্রে বলেন, আমরা রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে (মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী) আযাখীর উপত্যকায় অবতরণ করি। ছালাতের সময় উপনীত হ’লে তিনি একটি দেওয়ালের নিকটবর্তী হয়ে তা সুৎরা হিসাবে ধরে ছালাত আদায় করেন। এ সময় একটি শূকর শাবক বা ছাগলের বাচ্চা তাঁর সম্মুখ দিয়ে যেতে চাইলে তিনি তাকে এমনভাবে বাধা দেন যে, তাঁর পেট দেওয়ালের সাথে লেগে যায়। অতঃপর শাবকটি তাঁর পিছন দিক দিয়ে চলে  যায় (আবুদাঊদ হা/৭০৮; বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা হা/৩২৬৩, সনদ ছহীহ)

Posted in ছালাতরত অবস্থায় বিড়াল জায়নামাযের উপর চলাফেরা করলে ছালাত নষ্ট হবে কি? | Tagged ,

ইমাম বা মসজিদ কমিটির সাথে দ্বন্দ্ব থাকায় নিজ মহল্লার মসজিদ ছেড়ে অপর মহল্লার মসজিদে ছালাত আদায় করা জায়েয হবে কি?


উক্ত কারণে মসজিদ ত্যাগ করা যাবে না। মাঝে-মধ্যে হ’লেও উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করতে হবে যাতে ধীরে ধীরে মনোমালিন্য কমে আসে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কোন ব্যক্তির জন্য হালাল নয় যে সে তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশী এমনভাবে সম্পর্ক ছিন্ন রাখবে যে, দু’জনে সাক্ষাৎ হ’লেও একজন এদিকে আর অপর জন সেদিকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। তাদের মধ্যে যে সর্বপ্রথম সালামের সূচনা করবে, সেই উত্তম ব্যক্তি’ (বুখারী হা/৬০৭৭; মিশকাত হা/৫০২৭)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি তিন দিনের ঊর্ধ্বে কথাবার্তা বন্ধ রাখবে এবং সেই অবস্থায় মারা যাবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে’ (আবুদাউদ হা/৪৯১৪; মিশকাত হা/৫০৩৫)

Posted in ইমামের সাথে দ্বন্দ্ব থাকায় অন্য মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে কি? | Tagged ,

রাসূল (ছাঃ) তিনটি খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। তিনি আগুনে পোড়ানো কোন খাবার দ্বারা ইফতার করতেন না। কথাটির সত্যতা আছে কি?


উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (যঈফাহ হা/৯৯৬; যঈফুল জামে‘ হা/৪৫৪০)। তবে রাসূল (ছাঃ) মূলতঃ খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। খেজুর না পেলে পানি দ্বারা ইফতার করতেন (আবুদাউদ হা/২৩৫৬; মিশকাত হা/১৯৯১; ছহীহাহ হা/২৮৪০)

Posted in ইফতার তিনটি খেজুর দ্বারা করা সুন্নাত কি? | Tagged

জনৈক আলেম বলেন, বুখারীতে জোরে আমীন বলার কোন হাদীছ নেই। বক্তব্যটি কতটুকু সঠিক?


উক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। ইমাম বুখারী (রহঃ) ‘ইমাম ও মুক্তাদীর জোরে আমীন বলা’ শিরোনামে অধ্যায় রচনা করেছেন (বুখারী ৩/৩১৯)। ‘ইমামের সশব্দে আমীন বলা’ অনুচ্ছেদে ইমাম বুখারী বলেন, আতা‘ (রহঃ) বলেন, আমীন হ’ল দো‘আ। তিনি আরো বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়ের (রাঃ) ও তাঁর পিছনের মুছল্লীগণ এমনভাবে আমীন বলতেন যে, মসজিদে গুঞ্জরিত হ’ত। …নাফে‘ (রহঃ) বলেন, ইবনু ওমর (রাঃ) কখনই আমীন বলা ছাড়তেন না এবং তিনি তাদের (আমীন বলার জন্য) উৎসাহিত করতেন।… (বুখারী ৩/৩১৫)। অতঃপর ইমাম বুখারী উক্ত অনুচ্ছেদে একটি হাদীছ এনেছেন, যেখানে রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ইমাম যখন আমীন বলেন, তখন তোমরাও আমীন বল। কেননা যার আমীন ও ফেরেশতাদের আমীন এক হয়ে যায়, তার পূর্বের গুনাহ্সমূহ মাফ করে দেওয়া হয় (বুখারী হা/৭৮০; মিশকাত হা/৮২৫)। ইমাম আমীন বললে মুক্তাদী আমীন বলবে’ বাক্যটি প্রমাণ করে ইমামের জোরে আমীন বলা শুনে মুক্তাদীগণ আমীন বলবে (হাশিয়াতুস সিন্ধী ‘আলা ছহীহিল বুখারী ১/১৩৫)

Posted in আমীন জোরে বলা বুখারীতে কোন হাদীছ আছে কি? | Tagged

নফল ছিয়াম কারণবশতঃ ভেঙ্গে ফেললে পরে ক্বাযা আদায় করা ওয়াজিব কি?


নফল ছিয়াম কারণবশতঃ ছেড়ে দিলে তার ক্বাযা আদায় করা মুস্তাহাব। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-এর জন্য খানা প্রস্ত্তত করলাম। অতঃপর তিনি এবং তাঁর ছাহাবীগণ আসলেন। যখন খানা পেশ করলাম তখন তাদের মধ্য হ’তে একজন ছাহাবী বললেন, আমি ছায়েম। রাসূল (ছাঃ) বললেন, তোমাদের ভাই পরিশ্রম করে খাবার প্রস্ত্তত করেছে এবং দাওয়াত দিয়েছে। অতএব তুমি ছিয়াম ছেড়ে দাও এবং চাইলে তার স্থানে অন্যদিনে ক্বাযা আদায় করে নিয়ো’ (বায়হাক্বী, ইরওয়াউল গালীল হা/১৯৫২, সনদ হাসান)। একদিন রাসূল (ছাঃ) একটি পাত্র থেকে কিছু পান করে বাকী অংশ উম্মে হানীকে দিলেন। অতঃপর তিনি তা থেকে পান করে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো পান করলাম, কিন্তু আমি যে ছায়েম ছিলাম! রাসূল (ছাঃ) বললেন, তোমার কোন ক্ষতি নেই, যদি তা নফল ছিয়াম হয় (আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/২০৭৯; ছহীহুল জামে‘ হা/৩৮৫৪)

 অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূল (ছাঃ) বললেন, নফল ছায়েম নিজের উপর ‘আমীর’ অর্থাৎ কর্তৃত্বশীল। চাইলে রাখতে পারে, চাইলে ভাঙতে পারে’ (হাকেম, ছহীহুল জামে‘ হা/৩৮৫৪)। উল্লেখ্য, নফল ছিয়াম ভেঙ্গে ফেললে ক্বাযা আদায় করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (আবুদাঊদ হা/২৪৫৭; যঈফাহ হা/৫২০২)

Posted in নফল ছিয়াম ভেঙ্গে ফেললে পরে ক্বাযা আদায় করা ওয়াজিব কি? | Tagged

ঈদের দিন শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তাকাববালাল্লাহু… বলা সাথে সাথে ঈদ মোবারক বলা বিদ‘আত হবে কি?


ঈদ মোবারক (আপনার ঈদ বরকতপূর্ণ হৌক) বলা বিদ‘আত নয়। কেননা এটি ইবাদত পালন বা বিশেষ ছওয়াবের উদ্দেশ্যে করা হয় না। তাছাড়া ঈদের সময় অনেক ছাহাবী ও তাবেঈ এরূপ অভিনন্দনসূচক বাক্য ব্যবহার করেছেন। যেমন তাঁরা পরস্পর সাক্ষাৎকালে বলতেন, ‘তাকাববাল্লাহু মিন্না ও মিনকা’ (আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের পক্ষ থেকে কবূল করে নিন) (মু‘জামুল কাবীর হা/১২৩; শু‘আবুল ঈমান হা/৩৭২০; রওযাতুল মুহাদ্দিছীন হা/৪০০; মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ হা/৩২৫৫; তামামুল মিন্না ১/৩৫৫, সনদ হাসান)। সুতরাং উক্ত দো‘আ বা আরও অনুরূপ দো‘আমূলক শব্দ ও বাক্য যেমন ঈদ মুবারাক, ঈদ সাঈদ প্রভৃতি ব্যবহার করায় দোষ নেই (ইবনু তায়মিয়া, মাজমূ‘ ২৪/২৫৩; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৬/১২৯; বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব ১৩/৩৭৭)

Posted in ঈদ মোবারক বলা বিদ‘আত হবে কি? | Tagged ,

সিজোফ্রেনিয়া রোগের কারণে স্বামী মাঝে মাঝে চরম রাগান্বিত হয়ে আমাকে তালাক তালাক বলে। এগুলি তালাক হিসাবে গণ্য হবে কি?


এগুলি তালাক হিসাবে গণ্য হবে না। কেননা সিজোফ্রেনিয়া একটি মানসিক ব্যাধি, যার ফলে ব্যক্তির    চিন্তাধারা, আচার-ব্যবহার, অনুভূতি প্রকাশ ইত্যাদির মধ্যে নানা অসঙ্গতি দেখা যায়। ফলে তার থেকে অবাস্তব চিন্তাধারা, অদ্ভুত কার্যকলাপ, অসংলগ্ন কথাবার্তা ইত্যাদি প্রকাশ পায়। অতএব এরূপ ব্যক্তির রাগান্বিত অবস্থায় প্রদত্ত তালাক ধর্তব্য হবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘রাগের অবস্থায়  কোন  তালাক  হয় না’ (আবুদাউদ হা/২১৯৩; মিশকাত হা/৩২৮৫)। ইমাম আবু দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘ইগলাক্ব’ গালাক্ব ধাতু হ’তে ব্যুৎপণ্ণ। যার অর্থ বন্ধ হওয়া। ক্রোধান্ধ, পাগল ও যবরদস্তির অবস্থায় মানুষের স্বাভাবিক জ্ঞান ও ইচ্ছাশক্তি লোপ পায়। তাই এ অবস্থাকে ‘ইগলাক্ব’ বলা হয় (, হাশিয়া /৪১৩ পৃঃ)। তিনি আরো বলেন, ‘তিন ব্যক্তি হ’তে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। (১) পাগল যতক্ষণ না সে সুস্থ হয় … (আবুদাউদ হা/৪৪০১; মিশকাত হা/৩২৮৭)। আলী (রাঃ) বলেন, পাগল ব্যক্তির তালাক ব্যতীত সকল তালাকই জায়েয (বুখারী তা‘লীক, ‘তালাক’ অধ্যায়, ‘ইগলাক্ব অবস্থায় তালাক’ অনুচ্ছেদ)

Posted in রোগের কারণে স্বামী তালাক দিলে তা তালাক হিসাবে গণ্য হবে কি? | Tagged

পায়ুপথ দিয়ে কৃমি বের হলে ওযূ ভঙ্গ হবে কি?


উক্ত কারণ ওযূ ভেঙ্গে যাবে মর্মে স্পষ্ট কোন দলীল পাওয়া যায় না। সেকারণ ইমাম মালেক (রহঃ) এর দ্বারা ওযূ ভঙ্গ হবে না বলেছেন। আর ‘দুই রাস্তা দিয়ে কিছু বের হ’লে ওযূ নষ্ট হবে’ মর্মে বর্ণিত মূলনীতি দ্বারা কেবল পায়খানা ও পেশাবকে বুঝানো হয়েছে। বায়ু নিঃসরণ এবং মনী, মযী ও অদী বের হওয়ার কারণে ওযূ বিনষ্ট হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট হাদীছ রয়েছে (উছায়মীন, আল লিক্বাউশ শাহরী ৪৫/১৩; আলবানী, সিলসিলাতুল হুদা টেপ নং ২৪০)

Posted in পায়ুপথ দিয়ে কৃমি বের হলে ওযূ ভঙ্গ হবে কি? | Tagged

মানুষ মারা গেলে তার রূহকে ইল্লীন অথবা সিজ্জীনে রাখা হয়। আবার শুনেছি মৃত মানুষ তার আত্মীয়-স্বজনের কান্না, কথাবার্তা, তাকে গোসল করানো, জানাযা পড়ানো ইত্যাদি সব শুনতে পায়। সে সব বুঝতে পারে শুধু কথা বলতে পারে না। আত্মা যদি ইল্লীন অথবা সিজ্জীনে থাকে তাহ’লে এসব শুনতে পায় কিভাবে?


মৃত্যুর পর সৎ বান্দাদের রূহ ইল্লিয়ীনে এবং পাপীদের রূহ সিজ্জীনে অবস্থান করে। অতঃপর তাদের আমল অনুযায়ী তাদের রূহের উপর শান্তি অথবা শাস্তি প্রদান করা হয় (গাফের ৪০/৪৫৪৬; আবুদাঊদ হা/৪৭৫৫; মিশকাত হা/১৩১) এছাড়া কবরে ব্যক্তির দেহে পুনরায় রূহ ফিরিয়ে দেওয়া হয় মর্মে ছহীহ হাদীছ এসেছে (আহমাদ হা/১৮৫৫৭; ইবনু মাজাহ হা/৪২৬২; মিশকাত হা/১৬৩০) আর জানাযায় অংশগ্রহণকারীদের ফিরে যাওয়ার সময় তাদের জুতার আওয়াজ তিনি শুনতে পান মর্মে হাদীছ এসেছে (বুখারী হা/১৩৩৮; মুসলিম হা/২৮৭০; মিশকাত হা/১২৬)

উক্ত বিষয়গুলি অদৃশ্য বিষয়ক জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানেন না। অতএব কুরআনে হাদীছে যেভাবে এসেছে সেভাবেই বিশ্বাস করতে হবে

Posted in মৃত মানুষ আত্মীয়-স্বজনের কান্না; কথাবার্তা; তাকে গোসল করানো ইত্যাদি সব শুনত | Tagged ,

অসুস্থ ব্যক্তির দো‘আ ফেরেশতাদের দো‘আর ন্যায়- কথাটির কোন সত্যতা আছে কি?


না। কেননা এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (সিলসিলা যঈফাহ হা/১০০৪; ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১৫৮৮)

Posted in অসুস্থ ব্যক্তির দো‘আ ফেরেশতাদের দো‘আর ন্যায়- কথাটির কোন সত্যতা আছে কি? | Tagged

জনৈক আলেম সূরা কাহফের ২৮ আয়াতের ভিত্তিতে বলেন, সম্মিলিত মুনাজাত বর্জনকারীরা আল্লাহর নাফরমান। বক্তব্যটি কতটুকু সত্য?


বক্তব্য ভিত্তিহীন এবং মনগড়া। পৃথিবীর কোন মুফাসসির উক্ত আয়াতের তাফসীরে এরূপ কথা বলেননি। আয়াতটির অর্থ – ‘আর তুমি নিজেকে ধরে রাখো তাদের সাথে যারা সকালে সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে আহবান করে তাঁর সন্তুষ্টি কামনায় এবং তুমি তাদের থেকে তোমার দুচোখ ফিরিয়ে নিয়ো না পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনায়। আর তুমি ব্যক্তির আনুগত্য করো না যার অন্তরকে আমরা আমাদের স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি এবং সে তার খেয়ালখুশীর অনুসরণ করে তার কার্যকলাপ সীমা অতিক্রম করে গেছে(কাহফ ১৮/২৮) সকালসন্ধ্যায় তাদের রবকে ডাকার তাফসীরে ইবনু ওমর আমর ইবনু শুআইব বলেন, তারা ফজর আছরের ফরয ছালাত আদায় করে। এছাড়া কেউ কেউ সকালসন্ধ্যায় কুরআন শিক্ষা কুরআন তিলাওয়াতের কথা বলেছেন (তাফসীরে ইবনু আবী হাতেম হা/১২৭৭২৭৪; ইবনু কাছীর) ইবনু কাছীর সকালসন্ধ্যায় যিকিরআযকার, তাসবীহ্, তাহলীল পাঠ আল্লাহ নিকট চাওয়ার ব্যাখ্যা করেছেন (ইবনু কাছীর আয়াতের ব্যাখ্যা) যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, আমি এমন একটি দলের সাথে বসব যারা ফজরের ছালাত থেকে শুরু করে সূর্য উঠা পর্যন্ত মহান আল্লাহর যিকরে মশগূল থাকে। কাজ আমার নিকট ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশের দাসী আযাদ করার চেয়ে অধিক প্রিয়। আমি এমন একটি দলের সাথে বসব যারা আছরের ছালাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর যিকরে মশগূল থাকে। আমার নিকট কাজ চারটি দাসী আযাদ করার চেয়েও অধিক প্রিয়(আবুদাউদ হা/৩৬৬৭; মিশকাত হা/৯৭০; ছহীহাহ হা/২৯১৬) অতএব আয়াত দ্বারা সম্মিলিত মুনাজাতের দলীল গ্রহণ করার কোন সুযোগ নেই

Posted in সম্মিলিত মুনাজাত বর্জনকারীরা আল্লাহর নাফরমান। বক্তব্যটি কতটুকু সত্য? | Tagged

একটি জাতীয় দৈনিকের ইসলামী প্রবন্ধে লেখা হয়েছে যে, শারঈ বিধান অনুযায়ী স্বামী তার স্ত্রীকে খাদ্য প্রস্ত্তত করতে বাধ্য করতে পারবে না। বক্তব্যটির শারঈ ভিত্তি আছে কি?


উক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। কেবল খাদ্য প্রস্ত্তত নয়, বরং স্ত্রীর উপর কর্তব্য স্বামীর শরীআতসম্মত যেকোন নির্দেশ নির্দ্বিধায় পালন করা। আল্লাহ বলেন, পুরুষেরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল (নিসা /৩৪) রাসূল (ছাঃ) বলেন, নারী তার স্বামীগৃহের কর্ত্রী, তাকে তাঁর অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে (বুখারী হা/৮৯৩; মুসলিম হা/১৮২৯) তিনি বলেন, ক্বিয়ামতের দিন সর্বাধিক শাস্তি প্রাপ্ত হবে দুধরনের মানুষ। তাদের একজন , অবাধ্য স্ত্রী (তিরমিযী হা/৩৫৯, সনদ ছহীহ) আসমা বলেন, আমি যুবায়েরের স্ত্রী ছিলাম। আমি বাড়ির কাজে যুবায়ের (রাঃ)-এর খিদমত করতাম। আমি তাঁর উট ঘোড়া চরাতাম, পানি পান করাতাম এবং পানি উত্তোলনের মশক ছিঁড়ে গেলে সেলাই করতাম, আটা পিষতাম(মুসলিম হা/২১৮২; যাদুল মাআদ /১৬৯১৭১)

তবে উভয়ে উভয়ের অধিকারের প্রতি যত্নশীল থাকতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর নিকটে উত্তম। আর আমি আমার স্ত্রীদের নিকটে উত্তম(তিরমিযী, দারেমী, মিশকাত হা/৩২৫২) আসওয়াদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী করীম (ছাঃ) ঘরে থাকা অবস্থায় কি করতেন? তিনি বললেন, ঘরের কাজকর্মে ব্যস্ত থাকতেন। আর ছালাতের সময় লে ছালাতে চলে যেতেন (বুখারী হা/৬৭৬; মিশকাত হা/৫৮১৬)

Posted in স্বামী তার স্ত্রীকে খাদ্য প্রস্ত্তত করতে বাধ্য করতে পারবে কি? | Tagged

মুসলিম হা/২৬০৪ থেকে বুঝা যায়, রাসূল (ছাঃ) মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর প্রতি বিরক্ত হয়ে বদদো‘আ করেছেন। এছাড়া ত্বাবারী সংকলিত ইবনু ওমর থেকে আরেকটি হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূল (ছাঃ) বলেন, মু‘আবিয়ার মৃত্যু ইসলামের উপর হবে না। উপরোক্ত হাদীছদ্বয়ের সত্যতা ও সঠিক ব্যাখ্যা জানতে চাই।


হাদীছটিতে বলা হয়েছে যে, একদা রাসূল (ছাঃ)  ইবনু আববাসকে বললেন, যাও, মুআবিয়াকে আমার কাছে ডেকে আনো। তিনি ডাকতে গেলেন এবং ঘুরে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল তিনি খাচ্ছেন। অতঃপর রাসূল (ছাঃ) তাকে পুনরায় পাঠালে তিনি এসে একই কথা বললেন। তখন রাসূল (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ যেন তার পেট ভর্তি না করেন (মুসলিম হা/২৬০৪) হাদীছটি ছহীহ। তবে উক্ত বাক্যটি মুআবিয়ার বিরুদ্ধে বদদো ছিল না, বরং দো ছিল। আলবানী বলেন, এটি  সংকল্পহীন দোআ। যা আরবরা তাদের বাকরীতি অনুযায়ী উদ্দেশ্য ছাড়াই বাক্যের সাথে ব্যবহার করে থাকে(ছহীহাহ হা/৮২এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)

অপর এক হাদীছে এসেছে, একবার রাসূল (ছাঃ) উম্মু সুলাইম (রাঃ)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন এক ইয়াতীম বালিকাকে দেখে বলেন, তোমার বয়স আর বৃদ্ধি না হৌক। তখন সে উম্মু সুলাইমের নিকট অভিযোগ করলে তিনি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে আসেন এবং তিনি মেয়েটির উপর বদদো করার কারণ জিজ্ঞেস করেন। তখন রাসূল (ছাঃ) মুচকি হেসে বলেন, তুমি কি জান না যে, আমার প্রতিপালকের সঙ্গে এই মর্মে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছি এবং আমি বলেছি যে, আমি তো একজন মানুষ। মানুষ যেমন সন্তুষ্ট হয়, আমিও তেমন হই। মানুষ যেমন রাগান্বিত হয়, আমিও তেমনি হই।  আমিও অসন্তুষ্ট হই, যেভাবে মানুষ হয়ে থাকে। সুতরাং আমি আমার উম্মতের কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দো করলে, সে যদি তার যোগ্য না হয় তাহলে তা তার জন্য পবিত্রতা, আত্মশুদ্ধি নৈকট্য লাভের মাধ্যম বানিয়ে দিবেন (মুসলিম হা/২৬০৩; ছহীহাহ হা/৮৩৮৪এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য) এর দ্বারা বুঝা যায় যে, তিনি মানুষ নবী ছিলেন, নূরের নবী নন

আর দ্বিতীয় বর্ণনাটি বাতিল। এটি রাফেযী শীআদের বানানো মিথ্যা কাহিনী মাত্র (মাজমাউয যাওয়ায়েদ হা/৯২৪৩; ইবনু তায়মিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ /৪৪৩৪৪৪)

Posted in রাসূল (ছাঃ) মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর প্রতি বিরক্ত হয়ে বদদো‘আ করেছিলেন কি? | Tagged

হাউযে কাওছার কেবল কি আমাদের নবী (ছাঃ) প্রাপ্ত হবেন। না প্রত্যেক নবী-রাসূলই প্রাপ্ত হবেন এবং তা থেকে নিজ উম্মতদের পানি পান করাবেন?


হাউয সকল নবী ও রাসূলকে প্রদান করা হবে। যাতে তারা হাশরের ময়দানে নিজ নিজ উম্মতকে পানি পান করাতে পারেন। তবে রাসূল (ছাঃ)-এর হাউয সবচেয়ে বড় হবে এবং তার নাম হবে হাউযে কাওছার। আল্লাহ বলেন, আমরা তোমাকে হাউযে কাওছার দান করেছি (কাওছার )। সামুরা বিন জুনদুব (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘প্রত্যেক নবীর জন্য একটি করে হাউয হবে। আর এ নিয়ে তারা পরস্পরে গর্ববোধ করবেন যে, কার হাউযে কত বেশি লোক অবতরণ করবে। আমি দৃঢ়ভাবে আশা করি যে, আমার হাউযেই সবচেয়ে বেশী সংখ্যক লোক আসবে’ (তিরমিযী হা/২৪৪৩; মিশকাত হা/৫৫৯৪; ছহীহাহ হা/১৫৮৯; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া /৬৮)

Posted in হাউযে কাওছার কেবল কি আমাদের নবী (ছাঃ) প্রাপ্ত হবেন? | Tagged ,

কবর যিয়ারতের সুন্নাতী পদ্ধতি কি? কবর যিয়ারতের সময় কি কি দো‘আ পড়তে হয়? কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্য করে কোথাও যাওয়া যাবে কি? কবর যিয়ারত করলে মৃত ব্যক্তির কোন উপকার হয় কি?


কবরস্থানে গিয়ে প্রথমে দো‘আ পাঠ করবে। মা আয়েশা (রাঃ) বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! কবর যিয়ারতের সময় আমি কী বলব? তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, তুমি বল, আস্সালামুআলা আহলিদ দিয়ারি মিনাল মু’মিনীনা ওয়াল মুসলিমীনা; ওয়া ইয়ারহামুল্লাহুল মুস্তাক্বদিমীনা মিন্না ওয়াল মুস্তা’খিরীনা; ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু বিকুম লা লাহেকূনা’ অর্থ : মুমিন ও মুসলিম কবরবাসীদের উপরে শান্তি বর্ষিত হৌক। আমাদের অগ্রবর্তী ও পরবর্তীদের উপরে আল্লাহ রহম করুন! আল্লাহ চাহে তো আমরা অবশ্যই আপনাদের সাথে মিলিত হ’তে যাচ্ছি’ (মুসলিম হা/২২৫৬;মিশকাত হা/১৭৬৭কবর যিয়ারত’ অনুচ্ছেদ)। আর কেবল কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা যাবে না (বুখারী হা/১১৮৯; মুসলিম হা/১৩৯৭; মিশকাত হা/৬৯৩)। তবে অন্য উদ্দেশ্যে গিয়ে কবর যিয়ারত করাতে কোন বাধা নেই। যেমন মসজিদে নববীতে ছালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে গিয়ে রাসূল (ছাঃ) ও তাঁর সাথীদ্বয়ের কবর যিয়ারত করা যায়। আর যেকোন স্থান থেকে যে কেউ মৃত মুমিন ব্যক্তির জন্য দো‘আ করলে তার উপকার হবে (হাশর ১০; মুসলিম হা/৯৬৩; আবুদাউদ হা/৩১৯৯; মিশকাত হা/১৬৫৫, ১৬৭৪)। কবর যিয়ারত করাতে যিয়ারতকারীর পরকালের কথা স্মরণ হয় বলে সে ব্যক্তি উপকৃত হয় (মুসলিম হা/৯৭৬; মিশকাত হা/১৭৬৩)

Posted in কবর যিয়ারত করলে মৃত ব্যক্তির কোন উপকার হয় কি?, কবর যিয়ারতের সুন্নাতী পদ্ধতি কি? কবর যিয়ারতের সময় কি কি দো‘আ পড়তে হয়? | Tagged ,

জনৈক বিধবা মহিলা সন্তানদের মত না থাকায় গোপনে একজনকে অলী বানিয়ে মোবাইলের মাধ্যমে একজনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। যার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। বর্তমান স্বামীর সাথে তার সাক্ষাৎ ও মোবাইলে কথা হয়, তবে দৈহিক সম্পর্ক হয়নি। সন্তানদের অমতে এরূপ বিবাহ সঠিক হয়েছে কি?


বর্ণনা অনুযায়ী উক্ত বিবাহ সঠিক হয়নি। কারণ নারী নিজের বিবাহ নিজে বা অন্য নারীকে বিবাহ দিতে পারে না (ইবনু মাজাহ হা/১৮৮২; ইবনু মাজাহ হা/৩১৩৭; ইরওয়া হা/১৮৪১)। নারীর বিবাহের জন্য নিকটতম অভিভাবকের অনুমতি আবশ্যক। এমনকি পিতা, দাদা, ভাই প্রমুখদের অবর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানও মায়ের অলী হ’তে পারে (উছায়মীন, লিকাউল বাবিল মাফতূহ ক্রমিক ১৫৯; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১৮/১৪৩)। এছাড়া দু’জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে বিবাহ হ’তে হবে (ছহীহ ইবনু হিববান হা/৪০৭৫; ইরওয়া হা/১৮৬০, সনদ ছহীহ)। এক্ষণে সন্তান ও নিকটাত্মীয়দের উচিৎ বিবাহে ইচ্ছুক মায়ের বিবাহের ব্যবস্থা করা। অন্যথায় তিনি আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হ’তে পারেন। কারণ যার কোন অলী নেই, সরকার তার অলী হবে’ (আবুদাউদ হা/২০৮৩; মিশকাত হা/৩১৩১)

Posted in সন্তানদের মত না থাকায় বিধবা মা নিজে নিজে বিবাহ করতে পারে কি? | Tagged ,

একটি দুঃখজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আর কখনো বিবাহ করব না। এরূপ সিদ্ধান্ত শরী‘আতসম্মত হয়েছে কি?


দৈহিকভাবে সক্ষম ব্যক্তির এরূপ সিদ্ধান্ত নেওয়া শরী‘আত সম্মত নয়। এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যার বিয়ে করার সামর্থ্য আছে, সে যেন অবশ্যই বিয়ে করে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩০৮০)। তিনি বলেন, বিবাহ করা আমার সুন্নাত। যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতের উপর আমল করে না, সে আমার দলভুক্ত নয় (ইবনু মাজাহ হা/১৮৪৬, ছহীহাহ হা/২৩৮৩)। রাসূল (ছাঃ) বৈরাগ্য জীবন যাপন করতে নিষেধ করেছেন (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩০৮১) অন্যত্র তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি বিবাহ করল সে যেন দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ করল, বাকী অর্ধেকের বিষয়ে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে’ (হাকেম হা/২৬৮১; ছহীহাহ হা/৬২৫; মিশকাত হা/৩০৯৬) রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুর পর ইবনু ওমর (রাঃ) বিবাহ না করার সিদ্ধান্ত নেন। অতঃপর হাফছা (রাঃ) তাকে ডেকে বলেন, তুমি বিয়ে কর। কারণ তোমার সন্তান হয়ে মারা গেলে সে তোমার জন্য অগ্রগামী হবে। আর বেঁচে থাকলে তোমার জন্য দো‘আ করবে (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/১০৩৮৮, সনদ ছহীহ)

Posted in বিবাহ কখনো করব না। এরূপ সিদ্ধান্ত নেওয়া শরী‘আতসম্মত হয়েছে কি? | Tagged

জন্মের ১ দিন পর সন্তান মারা গেলে সপ্তম দিনে তার আক্বীক্বা দিতে হবে কি?


সপ্তম দিনের পূর্বে সন্তান মারা গেলেও তার আক্বীক্বা দিবে। কারণ আক্বীক্বা দেওয়ার জন্য বাচ্চা সপ্তম দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকা শর্ত নয় (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১১/৪৪৫)। আর রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘প্রত্যেক শিশু তার আক্বীক্বার সাথে বন্ধক থাকে’ (আবুদাউদ হা/২৮৩৯; মিশকাত হা/৪১৫৩)। উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় খাত্ত্বাবী বলেন, এ বিষয়ে বিদ্বানগণ মতভেদ করেছেন। তবে এসবের মধ্যে সর্বাধিক উত্তম ব্যাখ্যা হ’ল যা ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল বলেছেন। তিনি বলেন, এটি সন্তানের শাফা‘আতের বিষয়ে বলা হয়েছে। তিনি মনে করেন, যদি সন্তানের আক্বীক্বা না করা হয়। অতঃপর সে শিশু অবস্থায় মারা যায়, তাহ’লে সে তার পিতা-মাতার জন্য শাফা‘আত করবে না (ফাৎহুল বারী /৫৯৪)

Posted in জন্মের ১ দিন পর সন্তান মারা গেলে সপ্তম দিনে তার আক্বীক্বা দিতে হবে কি? | Tagged

নামের শেষে অনেকে জিহাদী, ইউসুফী, ফারুকী, ছিদ্দীক্বী, আনছারী, কুরায়শী যুক্ত করেন, যা তার মূল নামের অংশ নয়। বিষয়টি কতটুকু শরী‘আতসম্মত?


পরবর্তীতে এরূপ পদবী না রাখা উচিৎ। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। তোমাদের মধ্যে কে সর্বাধিক নেক আমলকারী সে সম্পর্কে আল্লাহই সম্যক অবগত (মুসলিম হা/২১৪২; মিশকাত হা/৪৭৫৬) তবে জন্মের পর পিতামাতা যদি এরূপ নাম রাখেন, তাহলে তাতে কোন দোষ নেই। আক্বীক্বার সময় শিশু সন্তানের নাম ঐরূপ রাখা তার জন্য আত্মপ্রশংসা নয়। বরং পিতা অভিভাবকদের পক্ষ তে তার জন্য শুভ কামনা বা দো স্বরূপ।

যেমন রাসূল (ছাঃ)-এর নাম তাঁর দাদা রেখেছিলেনমুহাম্মাদ মা রেখেছিলেনআহমাদ’ (প্রশংসিত) অনুরূপ মুসলিম নেতারা কাউকে তার কাজের কারণে এরূপ পদবী দিলে তাতে কোন বাধা নেই। যেমন রাসূল (ছাঃ) আবুবকর (রাঃ)-কেছিদ্দীক ওমর (রাঃ)-কেফারূকউপাধি প্রদান করেছিলেন (হাকেম হা/৪৪০৭; ছহীহাহ হা/৩০৬; তাফসীরে কুরতুবী /২৬৪) অনুরূপভাবে রাসূল (ছাঃ) মুতার যুদ্ধবিজয়ী সেনাপতি খালেদকে দো করে অশ্রুসজল নেত্রে বলেছিলেন, এবারে ঝান্ডা হাতে নিয়েছেআল্লাহর তরবারি সমূহের অন্যতমতরবারী(বুখারী হা/৪২৬২) অর্থাৎ খালেদ নিজেসায়ফুল্লাহনাম গ্রহণ করেননি, বরং রাসূল (ছাঃ) তাকে লকব দিয়েছিলেন। রাসূল (ছাঃ)-এর নিজের ছেলে আব্দুল্লাহর লকব ছিল ত্বাইয়িব ত্বাহির (পবিত্র) অতএব পিতামাতা তার সন্তানের জন্য দো হিসাবে উক্ত গুণবাচক নাম সমূহ রাখতে পারেন। তবে তা যেন অহংকার প্রকাশক না হয়

Posted in নামের শেষে অনেকে জিহাদী; ইউসুফী; ফারুকী; ছিদ্দীক্বী; আনছারী লেখা যাবে কি? | Tagged

সমাজে প্রচলিত আছে, অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে সবাই সমান। একথা কি সত্য?


একথা সত্য। যে ব্যক্তি অন্যায় করে ও যে ব্যক্তি শক্তি থাকা সত্ত্বেও উক্ত অন্যায়ের প্রতিবাদ করে না, পাপের দিক দিয়ে উভয়ে সমান। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একটি দৃষ্টান্ত পেশ করেন। নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহর নির্ধারিত বিধানে অবহেলাকারী এবং অন্যায়ে পতিত ব্যক্তির দৃষ্টান্ত এমন সম্প্রদায়ের ন্যায়, যারা একটি জাহাযে লটারীর মাধ্যমে নিজেদের স্থান নির্ধারণ করল। তদনুযায়ী কারো স্থান নীচের  তলায় এবং কারো স্থান উপরের তলায় হ’ল। আর নীচের লোকেরা পানির জন্য উপরের লোকদের নিকট যাতায়াত করলে তাদের অসুবিধা ঘটে। তাই নীচের এক ব্যক্তি একখানা কুঠার নিল এবং জাহাযের তলা ছিদ্র করতে লাগল। এ সময় উপরের লোকেরা এসে জিজ্ঞাসা করতে লাগল তোমার কী হয়েছে? সে বলল, আমাদের কারণে তোমাদের কষ্ট হয়। অথচ আমাদেরও পানির একান্ত প্রয়োজন। এ অবস্থায় তারা যদি তার দু’হাত ধরে নেয়, তবে তাকেও রক্ষা করবে এবং নিজেরাও রক্ষা পাবে। আর যদি তাকে তার কাজে ছেড়ে দেয় তবে তাকেও ধ্বংস করবে এবং নিজেরাও ধ্বংস হবে’ (বুখারী, মিশকাত হা/৫১৩৮ ‘ন্যায়ের আদেশ’ অনুচ্ছেদ)

রাসূল (ছাঃ) আরো বলেন, ‘যখন লোকেরা তাদের মধ্যে কোনরূপ অন্যায় হ’তে দেখে অথচ তার প্রতিরোধ করে না, আল্লাহ তার শাস্তিস্বরূপ তাদের সকলের উপর গযব পাঠিয়ে দেন’ (আহমাদ, তিরমিযী হা/৪০০৫, মিশকাত হা/৫১৪২, সনদ ছহীহ)। অতএব অন্যায় রুখতে হবে। নইলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Posted in অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে সবাই সমান। একথা কি সত্য? | Tagged

যে ব্যক্তি চল্লিশ দিনকে কেবল আল্লাহর উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট করবে তার কথায় জ্ঞানের ধারা প্রবাহিত হবে’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ?


বর্ণনাটি জাল ও মুনকার। এই বর্ণনা থেকেই তাবলীগ জামা‘আত চল্লিশ দিনের চিল্লার প্রবর্তন করেছে, যা ভিত্তিহীন ও বাতিল। আবু নু‘আইম তার হিলইয়াহ গ্রন্থে (৫/১৮৯), কাযাঈ মুসনাদে শিহাবে (হা/৪৬৬), ইহইয়াউ ঊলূমিদ্দীনসহ কিছু কিতাবে এটি বর্ণিত হয়েছে (কিতাবুল মাওযূ‘আত ৩/১৪৪; সিলসিলা যঈফাহ হা/৩৮)

Posted in চল্লিশ দিনকে কেবল আল্লাহর উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট করা হাদীছটি কি ছহীহ? | Tagged

স্বর্ণকার হিসাবে আমাকে মাঝে মাঝে হিন্দুদের দেব- দেবী, ময়ূর ইত্যাদির ডিজাইন করতে হয়। হিন্দু দেশ হিসাবে এটা না করলে আমার ব্যবসাই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এক্ষণে এটা জায়েয হবে কি?


জায়েয হবে না। কারণ এর মাধ্যমে একদিকে মূর্তি নির্মাণের গোনাহ অন্যদিকে অমুসলিম ধর্মীয় উৎসবে সহযোগিতা। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নেকী ও তাক্বওয়ার কাজে পরস্পরে সহযোগিতা কর এবং পাপ ও সীমালংঘনের কাজে সহযোগিতা করো না’ (মায়েদা ৫/২)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত’ (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৩৪৭; ছহীহুল জামে‘ হা/৬১৪৯)। ওছায়মীন (রহঃ) বলেন, কাফেরদের বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে উপহার বিনিময়, মিষ্টান্ন বিতরণ, রকমারি খাদ্য তৈরী করা, কাজ বন্ধ রাখা ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা মুসলমানদের জন্য হারাম (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩/৪৬)। বরং হালাল পেশা গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহকে ভয় করলে ও তার উপর ভরসা করলে তিনি একটা বৈধ উপায় বের করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন (তালাক ৬৫/২; বুখারী হা/৫১৬৪; মুসলিম হা/৩৬৭)

Posted in হিন্দুদের দেব- দেবী; ময়ূর ইত্যাদির ডিজাইন করা যাবে কি? | Tagged ,

তাহাজ্জুদের ছালাত অনিয়মিতভাবে আদায় করা যাবে কি?


যাবে। তবে নিয়মিত পড়াই উত্তম। আয়েশা (রাঃ) বলেন, তোমরা রাতের ছালাত ছেড়ে দিয়ো না। কারণ রাসূল (ছাঃ) এ ছালাত ছাড়তেন না। যখন তিনি অসুস্থ বা দুর্বল বোধ করতেন তখন তা বসে আদায় করতেন (আহমাদ হা/২৬১৫৭; আবুদাঊদ হা/১৩০৭, সনদ ছহীহ)।  এছাড়া আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল তাই, যা অল্প হ’লেও নিয়মিত করা হয় (বুখারী হা/৬৪৬৫; মুসলিম হা/৭৮৩; মিশকাত হা/১২৪২)। উল্লেখ্য যে, ‘তাহাজ্জুদ শুরু করলে আর ছাড়া যাবে না এবং ছাড়লে গুনাহ হবে’ মর্মে প্রচলিত কথাটি ভিত্তিহীন। কিন্তু ইচ্ছাকৃত ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।

Posted in তাহাজ্জুদের ছালাত অনিয়মিতভাবে আদায় করা যাবে কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তি যৌতুকের অর্থ দিয়ে বৌভাতের আয়োজন করে দাওয়াত দিয়েছে। সেখানে যাওয়া জায়েয হবে কি?


যৌতুক লেনদেন ইসলামে হারাম। তাই যৌতুক গ্রহণকারী পাপী হবে। কিন্তু এজন্য তার দাওয়াত গ্রহণে কোন বাধা নেই। কারণ একজনের পাপের বোঝা অন্যে বহন করবে না (আন‘আম ১৬৪)। বরং স্পষ্ট পাপাচারী না হ’লে ওয়ালীমার দাওয়াত গ্রহণ করা ওয়াজিব (বুখারী হা/৫১৭৭; মুসলিম হা/১৪৩২; মিশকাত হা/৩২১৮)। তাছাড়া ওয়ালীমার আয়োজনে মেয়ে পক্ষ ছেলেকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে পারে (শারহুস সুন্নাহ ৮/১৪; উছায়মীন, ফাতাওয়া নুরুন আলাদ-দারব ১/৫)

Posted in যৌতুকের অর্থ দিয়ে বৌভাতের দাওয়াত খাওয়া যাবে কি? | Tagged ,

ওয়াক্ত শুরুর পূর্বে আযান দেওয়া বৈধ হবে কি?


কোন ছালাতের জন্য সময়ের পূর্বে আযান দেওয়া শরী‘আত সম্মত নয়। কেউ এরূপ করে ছালাত আদায় করলে তাকে পুনরায় আযান দিয়ে ছালাত আদায় করতে হবে (আবুদাউদ হা/৫৩২-৫৩৩; ইবনু কুদামা, মুগনী ১/২৯৭)। তবে ফজরের পূর্বে সাহারী বা তাহাজ্জুদের জন্য আযান দেওয়া যাবে (বুখারী হা/৬১৭; মুসলিম হা/১০৯২; মিশকাত হা/৬৮০)। অতঃপর ফজরের ছালাতের জন্য পুনরায় আযান দিতে হবে (মুবারকপুরী, তোহফা ১/৫১৫-১৬)

Posted in আযান ওয়াক্ত শুরুর পূর্বে দেওয়া বৈধ হবে কি? | Tagged

দোকান থেকে খাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে নগদে এক মূল্যে এবং বাকীতে তথা কিস্তিতে অধিক মূল্যে ক্রয় করতে হয়। এরূপ ক্রয়-বিক্রয় জায়েয হবে কি?


এরূপ ক্রয়-বিক্রয় জায়েয নয়। কারণ বেশী নেওয়াটা সূদ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি একটি ব্যবসায়ে দু’টি বিক্রয় করে সে কম মূল্যেরটা নিবে অথবা সূদ নিবে’ (আবুদাঊদ হা/৩৪৬১; ছহীহাহ হা/২৩২৬)। এখানে ক্রেতাকে এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে দু’টির যেকোন একটি গ্রহণ করার। হয় সে নগদে কম মূল্যে খরীদ করবে, যা সিদ্ধ। নয় বাকীতে বেশী মূল্যে খরীদ করবে, যা সূদ এবং যা নিতে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিষেধ করেছেন। এর মধ্যে অজ্ঞতার কিছু নেই। তিনি আরো বলেন, ‘সূদ হয় বাকীতে’ (বুখারী হা/২১৭৯; মুসলিম হা/১৫৯৬; মিশকাত হা/২৮২৪)। অতএব বাকীতে অতিরিক্ত মূল্যের বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না (বিস্তারিত দ্রঃ বায়‘এ মুআজ্জাল’ বই)

Posted in বাকীতে অতিরিক্ত মূল্যের বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে কি? | Tagged ,

বিবাহের পর স্বামী কর্মহীন থাকায় পরিবারের চাপে বাধ্য হয়ে স্ত্রী ডিভোর্স লেটারে স্বাক্ষর করে। তবে স্বামী তা গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে স্ত্রী স্বামী থেকে আলাদা বসাবস করলেও তাদের মাঝে সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি। এক্ষণে স্বামীর নিকটে ফিরে যেতে বিবাহের প্রয়োজন হবে কি?


প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় ‘খোলা’ হয়েছে। এক্ষণে উক্ত নারীর সাথে সংসার করতে চাইলে নতুন বিবাহের মাধ্যমে সংসার করবে (বাক্বারাহ ২/২৩২; তালাক ৬৫/১; বুখারী হা/৫১৩০)

Posted in স্ত্রী ডিভোর্স লেটারে স্বাক্ষর করলে তালাক হবে কি? | Tagged , ,

ছালাত ব্যতীত জীবনের কোন মূল্য নেই, যেমন মস্তিষ্ক ব্যতীত দেহের কোন মূল্য নেই। কথাটি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত কি?


এটা প্রচলিত একটি কথা মাত্র। উক্ত মর্মে কোন হাদীছ পাওয়া যায় না। এর দ্বারা মূলত ছালাতের গুরুত্ব বুঝানো হয়েছে।

Posted in ছালাত ব্যতীত জীবনের কোন মূল্য নেই কথাটি কি হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত কি? | Tagged

আমি আমার স্ত্রীকে তিন মাসে তিন তালাক দেই। পরে গ্রাম্য সালিসে আমাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়া হয়। এক্ষণে উক্ত স্ত্রীর সাথে আমার সংসার করা জায়েয হচ্ছে কি?


উক্ত স্ত্রীর সাথে সংসার করা হারাম। কেননা তিন মাসে তিন তালাক প্রদানের মাধ্যমে তালাকটি ‘বায়েন’ তথা বিচ্ছিন্নকারী তালাকে পরিণত হয়েছে। এরপর তার পক্ষে আর পূর্ব স্বামীর কাছে ফিরে আসার সুযোগ নেই, যতক্ষণ না সে অন্যত্র স্বেচ্ছায় বিবাহ করে ও স্বেচ্ছায় তালাকপ্রাপ্তা হয় (বাক্বারাহ ২/২২৯-৩০)। এক্ষণে তার জন্য অনতিবিলম্বে পৃথক হওয়া ও তওবা করা আবশ্যক।

Posted in তালাক তিন মাসে তিনটা দেয়ার পরে সালিসে মীমাংসা হয়ে সংসার করা যাবে কি? | Tagged