কাশফ কি? যেকোন বুযর্গের কাশফ হওয়া সম্ভব কি? ফাযায়েল-এর কিতাবগুলিতে যেসব কাশফের বর্ণনা আছে তার সত্যতা আছে কি?


কাশ্ফ অর্থ  উন্মুক্ত করা। আল্লাহ কর্তৃক তার কোন বান্দার নিকট অহী মারফত এমন কিছুর জ্ঞান প্রকাশ করা, যা অন্যের নিকট অপ্রকাশিত। আর এটি কেবল নবী-রাসূলগণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (জুরজানী, কিতাবুত তা‘রিফাত ৩৪ পৃঃ)। তবে কখনও কখনও রীতি বহির্ভূতভাবে অন্য কারু নিকটে প্রকাশিত হ’তে পারে বা অলৈাকিক কিছু ঘটতে পারে। যেমন ছাহাবীগণ থেকে হয়েছে। এটাকে ‘কারামত’ বলা হয়। অর্থাৎ আল্লাহ্ তাকে এর দ্বারা সম্মানিত করেন। যেমন ওমর (রাঃ) প্রায় ১ মাস দূরত্বে থাকা সৈন্যদলের অবস্থান সম্পর্কে অনুধাবন করে তাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন (মিশকাত হা/৫৯৫৪, সনদ হাসান; ছহীহাহ হা/১১১০-এর আলোচনা)

আর এরূপ কোন মুমিন থেকেও প্রকাশিত হ’তে পারে। তবে কারামাত বা ইলহাম শরী‘আতের কোন দলীল নয় এবং আল্লাহ্র অলী হওয়ার কোন প্রমাণ নয়। বস্ত্ততঃ মুসলমানদের জন্য অনুসরণীয় হ’ল কুরআন ও সুন্নাহ। অন্য কিছু নয় (আব্দুর রহমান, আল-ফিকরুছ ছূফী ফী যূইল কিতাবে ওয়াস সুন্নাহ ১/১৪৬; ত্বাবাকাতুছ ছূফী ১/৭৬)। আর কাশফের কোন আইনী বা শারঈ ভিত্তি নেই।

Posted in কাশফ কি? যেকোন বুযর্গের কাশফ হওয়া সম্ভব কি?, ফাযায়েল-এর কিতাবগুলিতে যেসব কাশফের বর্ণনা আছে তার সত্যতা আছে কি? | Tagged

‘তাওহীদ’ নামে আমাদের এখানে একটি দল কুরআন পড়িয়ে, ইমামতি করে, সরকারী চাকুরী করে বেতন নেওয়া হারাম বলে। একথার কোন সত্যতা আছে কি?


উক্ত দলের বক্তব্য ভিত্তিহীন। ইমামতি বা কুরআন শিক্ষাদান সহ যেকোন বৈধ কাজের জন্য কাউকে নিয়োগ করা হ’লে, তার কাজের বিনিময়ে সম্মানজনক রূযীর ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষকে করতে হবে। যেমন রাসূল (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘যাকে আমরা কোন দায়িত্বে নিয়োগ করি আমরা তার রুযীর ব্যবস্থা করে থাকি’ (আবূদাঊদ হা/৩৫৮৮; মিশকত হা/৩৭৪৮; ছহীহুল জামে‘ হা/৬০২৩)। তবে পারিশ্রমিক নিয়ে বাক-বিতন্ডা করা, মনকষাকষি করা ইত্যাদি থেকে দূরে থাকা এরূপ দায়িত্বশীলদের জন্য আবশ্যক। আর সরকারী হৌক বা বেসরকারী হৌক বৈধ কর্মের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণে কোন বাধা নেই। যেন সরকারী প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা, অফিস ম্যানেজমেন্ট সহ বৈধ সকল কাজ। সরকার যদি অন্যায় কোন উৎস থেকে পারিশ্রমিক দেয়, সেজন্য সরকার দায়ী হবে। পক্ষান্তরে ব্যাংক, বীমা এনজিও সহ শরী‘আতবিরোধী কারবারই যেসব প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য, সেখানে চাকুরী করা জায়েয হবে না। চাই তা সরকারী হৌক বা বেসরকারী হৌক।

Posted in সরকারী চাকুরী করে বেতন নেওয়া হারাম কি? | Tagged ,

পুরুষের জন্য হোয়াইট গোল্ড-এর আংটি, ঘড়ি বা অন্য কোন অলংকার ব্যবহার করায় কোন বাধা আছে কি?


হোয়াইট গোল্ড বা সিটি গোল্ড যে নামকরণই করা হৌক না কেন যদি তাতে স্বর্ণের কোন অংশ থাকে, তাহ’লে পুরুষদের জন্য তা ব্যবহার করা হারাম। যদি না থাকে তাহ’লে জায়েয (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৭৬/২৪, ২৪/৬১)। তবে বাজারে প্রচলিত হোয়াইট গোল্ড অলংকারগুলি বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার সাথে অন্য ধাতু মিশিয়ে তৈরী করা হয় বলে জানা যায়, যা নিঃসন্দেহে পুরুষের জন্য হারাম।

Posted in পুরুষের জন্য হোয়াইট গোল্ড-এর আংটি বা অলংকার ব্যবহার করতে পারবে কি?, স্বর্ণ পুরুষরা কি পরিমাণ ব্যবহার করতে পারবে? | Tagged

আমার পিতা সূদী ব্যাংকে চাকুরী করেন। মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পদের অংশীদার হওয়া আমার জন্য জায়েয হবে কি?


সূদী ব্যাংকসহ যেকোন সূদী প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর কারণে উপার্জিত সম্পদ কেবল উপার্জনকারীর জন্য হারাম। উপার্জনকারীর ওয়ারিছ হিসাবে বৈধ পন্থায় গ্রহণকারী এ জন্য দায়ী হবে না (উছায়মীন, তাফসীর সূরা বাক্বারাহ ৫৭ আয়াত ১/১৯৮)। অতএব পিতার মৃত্যুর পর ওয়ারিছরা তার উত্তরাধিকারী হবে। তবে কোন উত্তরাধিকারী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে অধিক সম্পদ লাভের আশায় উপার্জনকারীকে তার জীবদ্দশায় এথেকে বাধা না দেয়, তবে সে গুনাহগার হবে।  

এছাড়া সম্পদের মৌলিকত্ব যদি হারাম হয় এবং তা জানা যায়, তাহ’লে তা গ্রহণ করা ও ভোগ করা বৈধ হবে না। যেমন চুরি ও লুণ্ঠন কৃত সম্পদ (উছায়মীন, লিকাউল বাবিল মাফতূহ ১৩/১৮৮; মাজমূ‘ ফাতাওয়া বিন বায ১৯/১৯৬; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ২৬/৩৩২)

Posted in ব্যাংকে চাকুরী করা বাবার সম্পদের অংশীদার হওয়া আমার জন্য জায়েয হবে কি? | Tagged ,

বিবাহের পূর্বে দেনমোহর নিয়ে অভিভাবকের সাথে পাত্রের বনিবনা না হওয়ায় বিবাহ ভেঙ্গে যায়। পরে তারা পালিয়ে গিয়ে কাযী অফিসের মাধ্যমে বিবাহ করে। কিছুদিন পর যুবকটি তাকে তিন মাসে তিন তালাক দেয়। এক্ষণে তারা পুনরায় সংসার করতে ইচ্ছুক। তাদের জন্য করণীয় কি?


বর্ণনা অনুযায়ী উক্ত বিবাহ সঠিক হয়নি। সেকারণ তালাক প্রযোজ্য হবে না। কেননা কন্যার অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত বিবাহ বৈধ নয় (ইবনু মাজাহ হা/১৮৭৯; মিশকাত হা/৩১৩১, ৩১৩৭)। অতএব যতদিন তারা বসবাস করেছে, ততদিন তারা ব্যভিচারে লিপ্ত ছিল। এক্ষণে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হ’তে চাইলে প্রথমে অনুতপ্ত হৃদয়ে তওবা করবে। অতঃপর অভিভাবকের অনুমতি সাপেক্ষে শরী‘আসম্মতভাবে বিবাহের সার্বিক কার্যাবলী সম্পন্ন করবে।

মা‘কিল বিন ইয়াসার (রাঃ)-এর বোনকে তার স্বামী তালাক দেওয়ার পর ইদ্দত শেষ হ’লে তার নিকটে আবার বিবাহের প্রস্তাব পাঠায়। কিন্তু মা‘কিল তাতে অমত করে। এসময় আয়াত নাযিল হয়- ‘আর যখন তোমরা স্ত্রীদের (রাজ‘ঈ) তালাক দাও। অতঃপর তাদের ইদ্দত পূর্ণ হয়ে যায়। তখন তারা উভয়ে যদি ন্যায়ানুগভাবে পরস্পরে সম্মত হয়, সে অবস্থায় স্ত্রীরা তাদের স্বামীদের বিয়ে করতে চাইলে তোমরা তাদের বাধা দিয়ো না’ (বাক্বারাহ ২/২৩২; বুখারী হা/৫৩৩১)। উক্ত ঘটনার মাধ্যমে বিবাহের ক্ষেত্রে একদিকে অভিভাবকের অনুমতির গুরুত্ব, অন্যদিকে পাত্রীর পসন্দ মেনে নেওয়ারও গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।

Posted in অ‌ভিভাব‌কের বিনা অনুম‌তি‌তে বিবাহ কর‌লে বিবাহ হবে কী এবং সম্পদ পা‌বে কী?, অ‌ভিভাবক বা ওলী না থাক‌লে করণীয়!, তালাক দেওয়ার পরে পূনরায় সংসার করতে চাইলে করণীয় কি? | Tagged , ,

আমাদের মসজিদের ইমাম ছাহেব গত তিন বছর যাবৎ সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু এবছর বার্ষিক মাহফিলে তার নির্বাচিত প্রধান বক্তা অসুস্থতার কারণে বক্তব্য দিতে ব্যর্থ হওয়ার ফলে মাহফিল পন্ড হয়ে যায়। এতে মুছল্লীরা তাকে আর ইমামতির দায়িত্বে রাখতে চায়না। এক্ষণে এই সামান্য কারণে ইমাম ছাহেবকে বরখাস্ত করা জায়েয হবে কি?


এরূপ কারণে ইমাম ছাহেবকে বরখাস্ত করা জায়েয হবে না। বরং স্পষ্ট যুলুম হবে। বাহ্যিক দৃষ্টিতে এখানে ইমাম ছাহেব দোষী নন। আর আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক ব্যক্তি স্বীয় কৃতকর্মের জন্য দায়ী হবে। কেউ কারু পাপের বোঝা বহন করবে না’ (আন‘আম ৬/১৬৪)। এ ব্যাপারে ইমাম ছাহেব যদি গোপনে কোন কিছু অন্যায় করে থাকেন, তার জন্য তিনি আল্লাহর নিকটে দায়ী হবেন। কিন্তু অপর ভাইয়ের প্রতি সন্দেহ করা ও তার দোষ খুঁজে বের করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয় (হুজুরাত ৪৯/১২)

Posted in মাহফিল পন্ডের কারনে ইমামকে বরখাস্ত করা ঠিক হবে কি? | Tagged

পৃথিবী ছাড়া অন্য গ্রহে জীবনের কোন অস্তিত্ব আছে কি? এ ব্যাপারে কুরআন ও হাদীছে কোন ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি?


পৃথিবী ছাড়াও অন্যত্র জীবনের অস্তিত্ব থাকা অসম্ভব নয়। আল্লাহ বলেন, ‘আসমান ও যমীনে যত প্রাণী আছে, সবই আল্লাহকে সিজদা করে এবং ফেরেশতাগণ। আর তারা অহংকার করে না’ (নাহল ১৪/৪৯)। উক্ত আয়াত থেকে অনুমতি হয় যে, আসমানে ফেরেশতা ছাড়াও অন্য সৃষ্টি রয়েছে। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।

Posted in পৃথিবী ছাড়া অন্য গ্রহে জীবনের কোন অস্তিত্ব আছে কি? | Tagged

চাকুরী বা অন্য কোন কাজে সুফারিশকারী ব্যক্তিকে গিফ্ট বা উপঢৌকন দেওয়া যাবে কি? পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে জানিয়ে বাধিত করবেন।


প্রশ্নে উল্লেখিত কারণে গিফ্ট বা উপঢৌকন প্রদান করা নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কারু জন্য সুফারিশ করল, অতঃপর এর বিনিময়ে তাকে কোন বস্ত্ত প্রদান করা হ’লে সে তা গ্রহণ করল, ঐ ব্যক্তি একটি বড় ধরনের সূদ গ্রহণ করল’ (আবুদাঊদ হা/৩৫৪১; মিশকাত হা/৩৭৫৭ সনদ হাসান, ‘ইমারত’ অধ্যায়; ছহীহুল জামে হা/৬৩১৬)

জানা আবশ্যক যে, বৈধ কাজে সুফারিশকারী ব্যক্তি আল্লাহর নিকটে পুরস্কৃত হবেন। যেমন রাসূল (ছাঃ) এরশাদ করেন, إِشْفَعُوْا تُؤْجَرُوْا ‘তোমরা অপরের জন্য সুফারিশ কর, পুরস্কৃত হবে’ (আবুদাঊদ হা/৫১৩২)

Posted in চাকুরী বা অন্য কোন কাজে সুফারিশকারী ব্যক্তিকে গিফ্ট দেওয়া যাবে কি? | Tagged

তাফসীরে ইবনে আববাস কতটুকু ছহীহ? উক্ত তাফসীর যদি ছহীহ ও সকলের জন্য যথেষ্ট হয় তাহ’লে অন্যান্য তাফসীর গ্রন্থের প্রয়োজন কি?


ইবনু আববাস (রাঃ) তাফসীর বা অন্য কোন গ্রন্থ রচনা করে যাননি। ‘তাফসীর ইবনু আববাস’ নামে যে তাফসীর গ্রন্থ প্রচলিত রয়েছে তা পরবর্তীতে রচিত। তাই তাঁর প্রতি এই তাফসীর গ্রন্থটি সম্বন্ধিত করা যাবে না।

ইবনু আববাসের তাফসীর হিসাবে একটি তাফসীর রচনা করেছেন মূসা বিন আব্দুর রহমান। তার ব্যাপারে ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, সে মিথ্যুকদের অন্তর্ভুক্ত। ইবনু আদী বলেন, সে মুনকিরুল হাদীছ। ইবনু হিববান বলেন, সে দাজ্জাল ও হাদীছ জালকারী। সে ইবনু আববাস থেকে আতা হয়ে ইবনু জুরাইজের সূত্রে মুক্বাতিল ও কালবীর বক্তব্য জমা করে ইবনু আববাসের নামে একটি তাফসীর রচনা করে (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১/২৫৯)

‘তানবীরুল মিক্বয়াস মিন তাফসীরে ইবনে আববাস’ নামে আরেকটি তাফসীর রয়েছে। যে ব্যাপারে মুহাম্মাদ হোসাইন যাহাবী (১৯১৫-১৯৭৭ ইং) বলেন, বৃহদায়তন এই তাফসীরটি ইবনু আববাস (রাঃ)-এর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে। যা ‘তানবীরুল মিকয়াস মিন তাফসীরে ইবনে আববাস’ নামে মিসর থেকে অনেকবার প্রকাশিত হয়েছে। যা আবু তাহের মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব ফিরোযাবাদী শাফেঈ জমা করেছেন…। তিনি বলেন, কিন্তু এটা ইবনু আববাসের দিকে সম্পর্কিত করা ঠিক নয়। বরং ফিরোযাবাদী এটি জমা করেছেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ইবনু আববাসের দিকে বাজে বর্ণনা সমূহ সম্পর্কিত করেছেন। সূত্রটি হ’ল- ইবনু আববাস থেকে আবু ছালেহ, তার থেকে কালবী, তার থেকে মুহাম্মাদ বিন মারওয়ান সুদ্দী (আত-তাফসীর ওয়াল মুফাসসিরূন ২/২৬)

এর মধ্যে মুহাম্মাদ বিন মারওয়ান ‘মিথ্যাবাদী’ হিসাবে অভিযুক্ত, কালবী প্রসিদ্ধ হাদীছ জালকারী, আর আবু ছালেহ ইবনু আববাসের সাক্ষাৎ লাভ করেননি (যাহাবী, মীযানুল ই‘তেদাল ৪/৩২; ৩/৫৫৭-৫৫৯)

আল্লামা সুয়ূতীও এব্যাপারে অনুরূপ মন্তব্য করেছেন (আল-ইৎক্বান ফি ঊলূমিল কুরআন ২/৪৯৭-৪৯৮)। তবে বিভিন্ন হাদীছ গ্রন্থ থেকে কেবলমাত্র বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত ইবনু আববাসের তাফসীরসমূহ জমা করে বেশ কিছু গ্রন্থ রচিত হয়েছে। যেমন- আব্দুল আযীয হুমাইদীর ‘তাফসীর ইবনু আববাস ওয়া মারবিয়াতুহূ ফিত তাফসীর মিন কুতুবিস সুন্নাহ’ এবং আদম মুহাম্মাদ আলীর ‘ইবনু আববাস ওয়া মানহাজুহূ ফিত তাফসীর’। জানা আবশ্যক যে, ইবনু আববাস (রাঃ)-এর তাফসীরই যথেষ্ট নয়। বরং অন্যান্য ছাহাবী ও তাবেঈগণ থেকে এবং পরবর্তী বিদ্বানগণ থেকে তাফসীর বর্ণিত হয়েছে। কেননা আল্লাহ সব জ্ঞান একজনের নিকট সীমাবদ্ধ রাখেননি।

Posted in তাফসীরে ইবনে আববাস কতটুকু ছহীহ? | Tagged

স্বপ্নদোষ হ’লে পুরো পোষাক ও বিছানা পরিষ্কার করতে হবে কি? না কেবল নাপাকী লাগা স্থানটি ধুয়ে ফেললেই যথেষ্ট হবে?


কেবল অপবিত্র স্থানটুকু পরিষ্কার করলেই যথেষ্ট হবে। পুরো পোশাক বা পুরো বিছানা ধোয়ার কোন প্রয়োজন নেই। একবার এক ব্যক্তি আয়েশা (রাঃ)-এর মেহমান হ’ল। অতঃপর সকালে সে তার কাপড় ধুতে লাগল। তখন আয়েশা (রাঃ) বললেন, তুমি যদি (কাপড়ে) তা (বীর্য) দেখতে পাও, তবে তোমার জন্য শুধু সে জায়গাটা ধুয়ে ফেলাই যথেষ্ট হবে। আর যদি তা না দেখ, তবে তার আশেপাশে পানি ছিটিয়ে দিবে। আমি রাসূল (ছাঃ)-এর কাপড় থেকে তা নখ দিয়ে ভাল করে খুঁচে ফেলতাম। অতঃপর তিনি তা পরে ছালাত আদায় করতেন (মুসলিম হা/২৮৮, আবুদাঊদ হা/৩৭১)

Posted in স্বপ্নদোষ হ’লে পুরো পোষাক ও বিছানা পরিষ্কার করতে হবে কি? | Tagged

আমি একটি হিন্দু ছাত্রকে প্রাইভেট পড়াই। আমার বন্ধু হিন্দু ধর্ম বিষয়টি এবং আমি বাকি বিষয়গুলি পাঠদান করি। এরূপ করা জায়েয হবে কি?


ছাত্র যে ধর্মেরই হৌক না কেন তাকে পাঠ্য বই পড়ানোতে কোন গুনাহ হবে না। আর বৈধ যেকোন কাজের বিনিময়ে মজুরী নেওয়া যাবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১৫/৯৬)। তবে কাউকে হিন্দু ধর্মে উদ্বুদ্ধ করা জায়েয হবে না।

Posted in হিন্দু ছাত্রকে প্রাইভেট পড়ানো যাবে কি? | Tagged

প্রতিবাদের নামে রাস্তার উপর কষ্টদায়ক বস্ত্ত যেমন ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা, গাছ কেটে ফেলে রাখা, গর্ত করা, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা ইত্যাদি জায়েয হবে কি?


এগুলি জায়েয নয়। বরং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্ত্ত সরিয়ে ফেলা ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং অন্যতম ছাদাক্বাহ (বুখারী হা/২৬৩১, ২৯৮৯; মিশকাত হা/৫)

রাসূল (ছাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে চলার সময় রাস্তায় একটি কাঁটাযুক্ত ডাল দেখতে পেয়ে তা সরিয়ে ফেলল। আল্লাহ তা‘আলা তার এ কাজ সাদরে কবুল করলেন ও তার গুনাহ মাফ করে দিলেন (বুখারী হা/৬৫২; মুসলিম হা/১৯১৪)। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাস্তার উপর পড়ে থাকা একটি গাছের ডালের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় বলল, আল্লাহর কসম! আমি এটিকে মুসলিমদের পথ থেকে অবশ্যই সরিয়ে দেব; যাতে এটি তাদের কষ্ট না দেয়। সুতরাং তাকে (এর কারণে) জান্নাতে প্রবেশ করানো হ’ল (মুসলিম হা/১৯১৪ (১২৮))। তিনি আরও বলেন, তোমরা অভিশপ্ত দু’টি কাজ থেকে দূরে থাক। ছাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, সে কাজ দু’টি কি?  তিনি বললেন, মানুষের চলাচলের রাস্তায় অথবা তাদের (বিশ্রাম নেয়ার) ছায়ায় প্রস্রাব বা পায়খানা করা (মুসলিম হা/২৬৯; আহমাদ হা/৮৮৪০)। অতএব প্রতিবাদের নামে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা কবীরা গোনাহ।

Posted in প্রতিবাদের নামে কষ্টদায়ক কোন কিছু সৃষ্টি করা জায়েয হবে কি? | Tagged

সামান্য পরিমাণে সোনা রয়েছে এরূপ হাতঘড়ি পুরুষদের জন্য ব্যবহার করা যাবে কি?


স্বর্ণ কম হৌক বা বেশী হৌক পুরুষের জন্য ব্যবহার করা হারাম। তাই এরূপ ঘড়ি পুরুষদের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। রাসূল (ছাঃ) জনৈক ব্যক্তির হাতে একটি স্বর্ণের আংটি দেখতে পেয়ে সেটি খুলে ফেলে দেন এবং বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ আগুনের টুকরা সংগ্রহ করে তার হাতে রাখে’। পরে রাসূল (ছাঃ) প্রস্থান করলে লোকটিকে বলা হ’ল, তোমার আংটিটি তুলে নাও এবং এর দ্বারা ফায়দা লাভ কর। সে বলল, না। আল্লাহর শপথ! আমি কখনো ওটা নেব না। রাসূল (ছাঃ) তো ওটা ফেলে দিয়েছেন (মুসলিম হা/২০৯০; মিশকাত হা/৪৩৮৫)। তিনি আরো বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘স্বর্ণ ও রেশমী কাপড় আমার উম্মতের নারীদের জন্য হালাল করা হয়েছে এবং পুরুষদের জন্য হারাম করা হয়েছে’ (ইবনু মাজাহ হা/৩৫৯৫, আবুদাঊদ হা/৪০৫৭, মিশকাত হা/৪৩৯৪)

Posted in সোনা সামান্য পরিমাণ পুরুষরা ব্যবহার করতে পারবে কি? | Tagged

তাফসীর মাহফিলে জনৈক মুফতী বললেন, কোন আলেম কবরের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে ৪০ দিনের কবরের আযাব মাফ হয়। এ বক্তব্য কি ঠিক?


উক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তবে আলেম হোক বা সাধারণ মুমিন হোক কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে কবরবাসীর জন্য দো‘আ করলে মৃত মুমিন ব্যক্তি উপকৃত হবেন (মুসলিম, মিশকাত হা/১৭৬৪ ‘জানাযা’ অধ্যায় ‘কবর যিয়ারত’ অনুচ্ছেদ)

Posted in কবরের পাশ দিয়ে আলেম হেঁটে গেলে ৪০ দিনের কবরের আযাব মাফ হয় কি? | Tagged

কবর থেকে বরকত গ্রহণ করা যদি শিরক হয়, তাহ’লে ইমাম বুখারী রাসূল (ছাঃ)-এর কবরের পাশে বসে বুখারীর তরজমাতুল বাব রচনার কারণ কি?


ইমাম বুখারী (রহঃ) ছহীহ বুখারীর তরজমাতুল বাব রচনার সময় রাসূল (ছাঃ)-এর কবরের দ্বারা বরকত গ্রহণ করেছেন ইমাম বুখারী একথা বলেননি। বরং তিনি রাসূল (ছাঃ)-এর কবর এবং তাঁর মিম্বারের মাঝে মসজিদে বসে তরজমাতুল বাব রচনা করেছিলেন এবং প্রতিটি তরজমাতুল বাব রচনার পূর্বে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করেছিলেন (ফাৎহুল বারী ১/৪৮৯; নববী, তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত ১/১০১)। হাদীছে রাসূল (ছাঃ)-এর বাসগৃহ এবং তাঁর মিম্বরের মাঝের স্থানটিকে জান্নাতের বাগিচাসমূহের একটি বাগিচা বলে অভিহিত করা হয়েছে(বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৬৯৪)। তাই তিনি সেই জান্নাতের বাগিচায় বসে ছহীহ বুখারীর তরজমাতুল বাব রচনা করেছেন এবং তা কবুল হওয়ার জন্য আল্লাহর নিকট দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করে প্রার্থনা করেছেন। এতে কবর থেকে বরকত হাছিল করা প্রমাণ হয় না।

Posted in কবর থেকে বরকত গ্রহণ করা কেনো শিরক? | Tagged

লোকমান কে ছিলেন? তার নামে সূরা নাযিল হওয়ার কারণ কি?


লোকমান অত্যন্ত উঁচুদরের একজন জ্ঞানী মানুষ ছিলেন। সুফিয়ান ছওরী ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে, ক্বাতাদাহ জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে এবং সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব সহ অধিকাংশ সালাফের মতে তিনি নবী নন; বরং তিনি একজন সৎ বান্দা ছিলেন। যে আছার দ্বারা তাঁর নবী হওয়া প্রমাণিত হয় তা যঈফ (ইবনে কাছীর, তাফসীর সূরা লোকমান ৩১/১২ আয়াত)। লোকমানকে আল্লাহ বিশেষ ‘হিকমত’ দান করেছিলেন (লোকমান ৩১/১২)। যেমন খিযিরকে বিশেষ ‘ইল্ম’ দান করেছিলেন (কাহফ ১৮/৬৫)। তাঁর জ্ঞানপূর্ণ উপদেশসমূহ কুরআনে বর্ণিত হয়েছে এবং তার নামে একটি সূরা নাযিল হয়েছে। এর কারণ হ’ল এখানে লোকমান কর্তৃক তাঁর সন্তানকে প্রদত্ত মানবজাতির জন্য শিক্ষণীয় কিছু উপদেশ ও অছিয়ত সম্পর্কিত ঘটনার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। যেমনভাবে বাক্বারাহ, কাহফ, আলে ইমরান, ইসরা প্রভৃতি সূরার নামকরণ অনেকসময় ঘটনার প্রেক্ষিতে হয়েছে। তার পিতা-মাতা, বংশ পরিচয়, প্রজ্ঞা ইত্যাদি ব্যাপারে অনেক ঘটনা বিভিনণ তাফসীর গ্রন্থে বিবৃত হয়েছে। তবে সেগুলি প্রমাণিত নয়।

Posted in লোকমান কে ছিলেন? তার নামে সূরা নাযিল হওয়ার কারণ কি?

এ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং-এর ৫০ মিটার দূরত্বে বড় জামে মসজিদ রয়েছে। এক্ষণে ১০-১৫ জন নিয়ে বিল্ডিংয়ের নীচ তলায় স্থায়ীভাবে ওয়াক্তিয়া জামা‘আতের ব্যবস্থা করা ঠিক হবে কি?


এমতাবস্থায় জামে মসজিদে গিয়ে ছালাত আদায় করাই কর্তব্য। কেননা জামা‘আত যত বড় হবে, মুছল্লীদের নেকী তত বেশী হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, জামা‘আতে মুছল্লী যত বেশী হবে, আল্লাহর নিকটে তা তত বেশী প্রিয়তর হবে’ (আবুদাঊদ হা/৫৫৪, মিশকাত হা/১০৬৬)। তিনি বলেন, ছালাতের নেকী অর্জনের ব্যাপারে ঐ ব্যক্তিই সর্বাপেক্ষা নেকীর ভাগিদার, যে অধিক দূর থেকে আগমনকারী (বুখারী হা/৬৫১, মিশকাত হা/৬৯৯)। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি উত্তম রূপে ওযূ করে একমাত্র ছালাতের উদ্দেশ্যে মসজিদে আসবে, তার প্রতি পদক্ষেপে মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি করে পাপ মোচন করা হয় ও একটি করে নেকী লেখা হয় (মুসলিম হা/৬৪৯, ৬৫৪; মিশকাত হা/৭০২, ১০৭২)

তবে বিশেষ প্রয়োজনে ওয়াক্তিয়া জামা‘আতের ব্যবস্থা করা যায় (আবুদাঊদ হা/৪৫৫; মিশকাত হা/৭১৭)। তবে সেখানে নিয়মিত আযান ও ছালাত হওয়া যরূরী (মুসলিম হা/৬৫৪; মিশকাত হা/১০৭২)

Posted in মসজিদে না গিয়ে বাড়ীতে নামাজ পড়া ঠিক হবে কি? | Tagged ,

নিজ মায়ের সৎ খালাকে বিবাহ করা যাবে কি?


না। কারণ মায়ের সৎ খালা তার আপন খালার ন্যায়। কারণ হাদীছে এসেছে, الْخَالَةُ بِمَنْزِلَةِ الأُمِّ ‘খালা মায়ের মর্যাদা সম্পন্ন’ (বুখারী হা/২৬৯৯; মিশকাত হা/৩৩৭৭)। অতএব নানী হিসাবে তিনি মাহরাম পর্যায়ভুক্ত (নিসা ৪/২৩; ফিক্বহুস সুন্নাহ ২/৭৫)

Posted in মায়ের সৎ খালাকে বিবাহ করা যাবে কি? | Tagged

বর্ণিত আছে যে, খলীফা থাকাকালীন সময়ে ওমর (রাঃ) সন্তানদের জন্য ঈদের কাপড় ক্রয় করতে না পেরে বায়তুল মাল-এর প্রধান আবু ওবায়দা (রাঃ)-কে তার এক মাসের অগ্রিম বেতন দেয়ার জন্য চিঠি পাঠান। পত্র পেয়ে তিনি অশ্রুসিক্ত হ’লেও উত্তর লিখলেন যে, অগ্রিম বেতন বরাদ্দের জন্য দু’টি বিষয় বিবেচনা করতে হবে। প্রথমতঃ আগামী মাস পর্যন্ত আপনি বেঁচে থাকবেন কি-না? দ্বিতীয়তঃ বেঁচে থাকলেও মুসলমানেরা আপনাকে খিলাফতের দায়িত্বে বহাল রাখবে কি-না? উত্তর পাঠ করে ওমর (রাঃ) এত বেশী ক্রন্দন করেন যে তাঁর দাড়ি ভিজে গেল। তিনি আবু ওবায়দার জন্য আল্লাহর নিকটে রহমত ও হায়াত বৃদ্ধির জন্য দো‘আ করলেন। ফলে আর ঈদের কাপড়ও কেনা হ’ল না। এ ঘটনার সত্যতা আছে কি?


ঘটনাটি শিক্ষণীয় ও বহুল প্রচলিত হ’লেও শুদ্ধ বা অশুদ্ধ কোন সূত্রে এটি পাওয়া যায়নি। তাছাড়া এটি ওমর (রাঃ)-এর আত্মসম্মানের বরখেলাফ।   

Posted in ওমর (রা) এর অুগ্রিম বেতন চাওয়ার ঘটনাটি সত্য কি? | Tagged

সমাজে কিছু যুবক রয়েছে, যারা শিক্ষিত হ’লেও বেকার হওয়ায় বিবাহ করতে পারে না। অভিভাবকরাও এ ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন। চরম ফেতনার যুগে এই শ্রেণীর পাপে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। এদের জন্য করণীয় কি?


দারিদ্র্য বিবাহের জন্য বাধা নয়। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন আছে, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও … তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে স্বচ্ছল করে দিবেন’ (নূর ২৪/৩২)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহ স্বীয় কর্তব্য হিসাবে নির্ধারণ করেছেন, তাদের একজন হ’ল, বিবাহে ইচ্ছুক ব্যক্তি যে বিবাহের মাধ্যমে পবিত্র জীবন যাপন করতে চায় (তিরমিযী হা/১৬৫৫ প্রভৃতি; মিশকাত হা/৩০৮৯)। এমতাবস্থায় বিষয়টি সরাসরি বা যে কোন মাধ্যমে অভিভাবককে জানাতে হবে বা বুঝাতে হবে। নেক নিয়ত থাকলে অবশ্যই অভিভাবক বিষয়টি বুঝবেন। এছাড়া ছেলেদের জন্য বিবাহের ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি আবশ্যক নয়। তাই অভিভাবকের উদাসীনতায় সে নিজেই এ ব্যাপারে অগ্রগামী হ’তে পারে (বিস্তারিত ‘তালাক ও তাহলীল’ বই দ্রঃ)

Posted in বিবাহ দারিদ্র্যতা থাকলে করা যাবে কি? | Tagged

কুরবানীর চামড়া বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ মসজিদের উন্নয়নে কাজে লাগানো যাবে কি?


কুরবানীর চামড়া মসজিদের উন্নয়নে লাগানো যাবে না। কারণ সূরা তওবাহর ৬০ আয়াতে যাকাতের যে ৮টি খাত উল্লেখ করা হয়েছে, মসজিদ তার অন্তর্ভুক্ত নয়।

Posted in কুরবানীর চামড়া বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ মসজিদের উন্নয়নে কাজে লাগানো যাবে ক | Tagged

টয়লেটের মধ্যে ওযূ করার পূর্বে বিসমিল্লাহ বলা যাবে কি?


ওযূর পূর্বে সর্বাবস্থায় বিসমিল্লাহ পাঠ করবে। এটি পাঠ করা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত (তিরমিযী হা/২৫ প্রভৃতি; মিশকাত হা/৪০২; ফাতাওয়া লাজনাহ দায়েমাহ ৫/৯৪; শারহুল মুমতে‘ ১/১৬০)। এছাড়া টয়লেটের ভিতরে যেকোন দো‘আ পাঠে বাধা নেই (মুসলিম হা/৩৭৩; মিশকাত হা/৪৫৬)। কেবল পেশাব-পায়খানারত অবস্থায় দো‘আ সহ সকল প্রকার যিকির থেকে বিরত থাকবে (বুখারী হা/৩৩৭; মুসলিম হা/৩৬৯; মিশকাত হা/৫৩৫)

Posted in ওযূ করার পূর্বে টয়লেটের মধ্যে বিসমিল্লাহ বলা যাবে কি?, টয়লেটের মধ্যে ওযূ করার পূর্বে বিসমিল্লাহ বলা যাবে কি? | Tagged

ছালাতে উভয় তাশাহহুদেই কি আঙ্গুল নাড়াতে হবে?


উভয় তাশাহহুদেই আঙ্গুল নাড়ানো সুন্নাত। এ ব্যাপারে বর্ণিত হাদীছসমূহে প্রথম বা শেষ তাশাহহুদ বলে পৃথক করা হয়নি। বরং উভয় তাশাহহুদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে (আবুদাউদ হা/৯৮৮, ৯৯০; নাসাঈ হা/১২৭৫; মিশকাত হা/৯১২)

Posted in ছালাতে উভয় তাশাহহুদেই কি আঙ্গুল নাড়াতে হবে? | Tagged

একাধিক মহিলা ও পুরুষের জানাযার ছালাত একত্রে আদায় করা যাবে কি?


একাধিক নারী ও পুরুষের একই সাথে জানাযার ছালাত আদায় করায় কোন বাধা নেই। এক্ষেত্রে পুরুষের লাশ ইমামের কাছাকাছি সম্মুখে রাখবে। তারপর মহিলার লাশ রাখবে। ইবনু ওমর (রাঃ) একই সাথে নয়জন নারী-পুরুষের জানাযার ছালাত আদায় করেন এবং নারীদের ক্বিবলার দিকে ও পুরুষদের ইমামের সামনে তার কাছাকাছি স্থানে রাখেন। এই জানাযায় ইবনু আববাস, আবু সাঈদ, আবু হুরায়রা ও আবু ক্বাতাদাহ উপস্থিত ছিলেন। এবিষয়ে জিজ্ঞেস করা হ’লে তারা বলেন, এটি সুন্নাত (নাসাঈ হা/১৯৭৮; আছার ছহীহাহ হা/ ৪৪১; আহকামুল জানায়েয ১/১০৩, সনদ ছহীহ; বিস্তারিত দ্রঃ জানাযার ছালাতের বিবরণ)

Posted in জানাযার ছালাত মহিলা ও পুরুষের একত্রে আদায় করা যাবে কি? | Tagged ,

শিশুদের ছোট বয়সে রোগ হওয়ার পূর্বেই প্রতিষেধক হিসাবে যেসব টিকা দেওয়া হয় এগুলি কি জায়েয? এটা কি তাওয়াক্কুল বিরোধী নয়?


এগুলি তাওয়াক্কুল বিরোধী নয়। বরং চিকিৎসা নেওয়াই শরী‘আতের নির্দেশ। তবে ঔষধ বা ডাক্তারকে আরোগ্যদানকারী মনে করলে শিরক হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমরা চিকিৎসা করাও। তবে হারাম বস্ত্ত দিয়ে করো না’ (আহমাদ হা/১২৬১৮; ছহীহুল জামে‘ হা/১৭৫৪; মিশকাত হা/৪৫৩৮)। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি সকালে ৭টি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন বিষ এবং জাদু তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪১৯০)। এ হাদীছ প্রমাণ করে যে, রোগ আসার পূর্বেই প্রতিষেধক নেওয়া যাবে (আব্দুল্লাহ বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৬/২১)

রাসূল (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ এমন কোন রোগ নাযিল করেননি যার প্রতিষেধক সৃষ্টি করেননি। যারা এবিষয়ে জ্ঞান অর্জন করার তারা করল। আর যারা অজ্ঞ থাকার তারা অজ্ঞই থাকল (আহমাদ হা/৩৫৭৮; ছহীহাহ হা/৪৫১, ১৬৫০)। তিনি আরো বললেন, ‘প্রত্যেক রোগের ঔষধ রয়েছে। যখন সেটা পৌঁছে যায়, তখন সে রোগমুক্ত হয় আল্লাহর হুকুমে (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৫১৫)। তাই যাবতীয় কল্যাণ বা অকল্যাণ সংঘটিত হয় আল্লাহর হুকুমে। এরূপ আক্বীদা পোষণ করে যাবতীয় হালাল চিকিৎসা বা প্রতিষেধক গ্রহণে শরী‘আতে কোন বাধা নেই।

Posted in রোগ হওয়ার পূর্বেই প্রতিষেধক হিসাবে যেসব টিকা দেওয়া হয় এগুলি কি জায়েয? | Tagged

মহিলারা কয়জন পুরুষের সামনে বিনা পর্দায় যেতে পারে?


কেবল মাহরাম পুরুষদের সামনে যেতে পারবেন। এ বিষয়ে সূরা নূর ৩১ আয়াতে ১০ জন পুরুষের কথা বলা হয়েছে, যাদের সাথে নারী সাধারণ পোষাকে সাক্ষাৎ করতে পারে। যেমন স্বামী, পিতা (দাদা-নানা, চাচা-মামা), শ্বশুর (জামাতা), পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা (বৈপিত্রেয় বা বৈমাত্রেয়), ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগিনীপুত্র, কামনাহীন পুরুষ এবং নারী-অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ শিশু’। এতদ্ব্যতীত দুগ্ধসম্পর্কীয় ভাই ও অন্যান্যগণ রক্তসম্পর্কীয় ভাই ও অন্যান্যগণের ন্যায় (বুখারী হা/২৬৪৫, ৫১০৩)। তবে সকলে হারাম হ’লেও তাদের সাথে ব্যবহারে তারতম্য থাকবে। যেমন স্বামী, পিতা, পুত্র, ভ্রাতা এবং অন্যান্যগণ সমান নয়।

Posted in মহিলারা কয়জন পুরুষের সামনে বিনা পর্দায় যেতে পারে? | Tagged

কোন মুছল্লী জেহরী ছালাতের কিছু অংশ পাওয়ার পর বাকী অংশে সরবে না নীরবে ক্বিরাআত করবে?


এমতাবস্থায় মাসবূক মুছল্লী বাকী ছালাতে নীরবে অথবা নীচু স্বরে ক্বিরাআত করবেন (আবুদাউদ হা/১৩৩২; ছহীহাহ হা/১৬০৩)

Posted in মাসবুক ছালাতের বাকী অংশ সরবে না নীরবে ক্বিরাআত করবে? | Tagged

আমি ছালাত আদায়ের সময় আমার বাচ্চা আমার সামনে গিয়ে বসে থাকে। ফলে সিজদা করার সময় হাত দিয়ে সরিয়ে সিজদা করতে হয়। এতে আমার ছালাত হবে কি?


ছালাত হয়ে যাবে। আবু ক্বাতাদাহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে লোকদের ইমামতি করতে দেখেছি, অথচ তখন আবুল ‘আছের কন্যা উমামা (অর্থাৎ নাতনী) তাঁর কাঁধের উপর ছিল। তিনি যখন রুকূ করতেন তাকে নামিয়ে দিতেন, আর যখন সিজদা হ’তে মাথা তুলতেন পুনরায় উঠিয়ে নিতেন (বুখারী হা/৫৯৯৬; মুসলিম হা/৫৪৩; মিশকাত হা/৯৮৪)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, একদা রাসূল (ছাঃ) হাসান বা হোসাইন (রাঃ)-কে কোলে নিয়ে ছালাতে আসেন এবং তাকে পাশে রেখে ছালাত শুরু করেন। অতঃপর ছালাতের মধ্যে একটি সিজদা এত লম্বা করেন যে, একজন ছাহাবী কোন অঘটন ঘটেছে কি-না তা দেখতে মাথা উঁচু করে দেখেন যে, হাসান বা হোসাইন (রাঃ) রাসূলের পিঠের উপরে চড়ে রয়েছে। অতঃপর সালাম ফিরানোর পর এত লম্বা সময় সিজদায় থাকার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমার নাতি আমার উপর চড়েছিল। তাই আমি তাড়াহুড়া করতে অপসন্দ করলাম। যাতে তার খাহেশ পুরণ হয়ে যায় (অর্থাৎ সে নেমে যায়) (নাসাঈ হা/১১৪১)। তবে এতে যেন ছালাতের খুশূ-খুযূ‘ বিনষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

Posted in আমি ছালাত আদায়ের সময় আমার বাচ্চা আমার সামনে গিয়ে বসে থাকে। ফলে সিজদা করার সম, বাচ্চাকে নিয়ে ছালাত আদায় করা যাবে কি? | Tagged

ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার কিছু পূর্বেই আমাকে গাড়িতে চাকুরীস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হ’তে হয়। বাসায় ফজর পড়লে ওয়াক্ত হয় না আবার গাড়িতে পড়লে বার বার দিক পরিবর্তন হয়। এক্ষণে ছালাত আদায়ের ক্ষেত্রে আমার করণীয় কি?


সফররত অবস্থায় ছালাতের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে এবং যানবাহন থেকে নামার কোন সুযোগ না থাকলে যানবাহনেই প্রবল ধারণার ভিত্তিতে ক্বিবলামুখী হয়ে ছালাত আদায় করবে। নইলে যেকোন দিকে ফিরে ছালাত আদায় করবে (বাক্বারাহ ২/২৩৮; বুখারী হা/৪৫৩৫, ইবনু মাজাহ হা/১০২০; বিস্তারিত দ্রঃ পরিবহনে ছালাত)

Posted in ছালাতের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে করণীয় কি? | Tagged

অমুসলিমদের আয়োজিত ধর্মীয় মেলায় স্টল দিয়ে কিছু বিক্রি করা যাবে কি?


যাবে না। কারণ যেসব স্থানে শিরক-বিদ‘আত ও শরী‘আত বিরোধী কার্যকলাপ হয় সেখানে যাওয়া, বেচা-কেনা ও ব্যবসা করা এবং সহযোগিতা করা গুনাহের কাজ। আল্লাহ বলেন, ‘নেকী ও আল্লাহভীতির কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা কর এবং পাপ ও সীমালংঘনের কাজে কাউকে সাহায্য করো না’ (মায়েদাহ ৫/২)

Posted in অমুসলিমদের আয়োজিত ধর্মীয় মেলায় স্টল দিয়ে কিছু বিক্রি করা যাবে কি? | Tagged ,

আগুনে পোড়ানো গোশত খাওয়া যাবে কি? এতে শরী‘আতে কোন নিষেধাজ্ঞা আছে কি?


শারঈ পন্থায় পশু যবহ করার পর যেকোন উপায়ে খাদ্যোপযোগী করে তা খাওয়া যাবে। পুড়িয়ে খাওয়ার ব্যাপারে শরী‘আতে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। বরং এটাই প্রমাণিত যে, রাসূল (ছাঃ) দুম্বার পোড়ানো পাঁজরের হাড্ডি খেয়েছেন (আহমাদ হা/২৬৬৬৪; তিরমিযী হা/১৮২৯; মিশকাত হা/৩২৫)

Posted in গোশত আগুনে পুড়িয়ে খাওয়া যাবে কি? | Tagged

মহিলাদের জামা‘আতে মহিলা ইমাম ক্বিরা’আত ও আমীন সশব্দে পড়তে পারবে কি?


পারবে। তবে কোন গায়ের মাহরাম পুরুষ তা শ্রবণের সম্ভাবনা থাকলে নিম্নস্বরে ক্বিরাআত করবে । কারণ মহিলাদের কণ্ঠস্বরও পর্দার অন্তর্ভুক্ত (আহযাব ৩৩/৩২; বুখারী হা/১২০৩; মুসলিম হা/৪২২)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘নারী জাতি লজ্জার বস্ত্ত’ (তিরমিযী হা/১১৭৩; মিশকাত হা/৩১০৯)। তার কণ্ঠস্বরটাও লজ্জার অন্তর্ভুক্ত। সেকারণেই তাকে উচ্চকণ্ঠে আযান দিতে নিষেধ করা হয়েছে। লোকমা মুখে না বলে হাতের পিঠে হাত মারতে বলা হয়েছে (বুখারী হা/১২০৩; মুসলিম হা/৪২২; মিশকাত হা/৯৮৮; সিজদায়ে তেলাওয়াত)

Posted in প্রশ্নোত্তর | Tagged ,

ছালাতের সময় জামার হাতা গুটিয়ে রাখায় কোন বাধা আছে কি?


ছালাত অবস্থায় পুরুষের জন্য জামার হাতা সমূহ বা কাপড় গুটিয়ে রাখা উচিত নয়। বরং খোলামেলা ছেড়ে দিতে হবে (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৮৮৭, ‘সিজদা ও তার ফযীলত’  অনুচ্ছেদ-১৪; ছিফাতু ছালাতিন্নবী পৃ. ১২৫)

Posted in ছালাতের সময় জামার হাতা গুটিয়ে রাখায় কোন বাধা আছে কি?

মহান আল্লাহ বিচারের মাঠে বান্দাদের সব পাপ ক্ষমা করবেন যদি শিরক না থাকে। তাহ’লে কি তিনি বান্দার সাথে সম্পর্কিত গোনাহও মাফ করবেন?


শিরকের গুনাহ আল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট। অতএব ব্যক্তি অনুতপ্ত হয়ে তওবা করলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। কিন্তু বান্দার হক বান্দার সাথে সংশ্লিষ্ট, যা বান্দা ক্ষমা না করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। তার নিজস্ব তওবা এক্ষেত্রে কোন কাজে আসবে না (বিস্তারিত দ্রষ্টব্য : রিয়াযুছ ছালেহীন ‘তওবা’ অনুচ্ছেদ-২-এর আলোচনা)

রাসূল (ছাঃ) বলেন, শহীদদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয় তার ঋণ ব্যতীত (মুসলিম হা/১৮৮৬; মিশকাত হা/২৯১২)। ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, ঋণ বলে এখানে বান্দার সকল প্রকারের অধিকারের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে (নববী, শরহ মুসলিম ১৩/২৯, হা/১৮৮৫-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ)। ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, মাযলূমের হক কেবলমাত্র তওবা দ্বারা পূরণ হয় না।… বরং তওবা তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন সে যুলুমের প্রতিদান মাযলূমকে বুঝিয়ে দিবে। যদি সে দুনিয়াতে তা পূরণ না করে, তবে আখেরাতে তাকে তা পূরণ করতে হবে …(মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৮/১৮৭-১৮৯)

আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত একদা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, আমার উম্মতের মধ্যে নিঃস্ব সেই ব্যক্তি, যে দুনিয়া থেকে ছালাত-ছিয়াম-যাকাত ইত্যাদি আদায় করে আসবে। সাথে ঐসব লোকেরাও আসবে, যাদের কাউকে সে গালি দিয়েছে, কারু উপরে অপবাদ দিয়েছে, কারু মাল গ্রাস করেছে, কাউকে হত্যা করেছে বা কাউকে প্রহার করেছে। তখন ঐসব পাওনাদারকে ঐ ব্যক্তির নেকী থেকে পরিশোধ করা হবে। এভাবে পরিশোধ করতে করতে যদি তার নেকী শেষ হয়ে যায়, তখন ঐসব লোকদের পাপসমূহ এই ব্যক্তির উপর চাপানো হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে’ (মুসলিম হা/২৫৮১; মিশকাত হা/৫১২৭)

Posted in আল্লাহ বান্দার সাথে সম্পর্কিত গোনাহও মাফ করবেন কি? | Tagged ,

একটি মেয়ে একটি ছেলের সাথে পালিয়ে বিবাহ করে সংসার করছে। পিতা মেয়েকে ত্যাজ্য করেছে। উক্ত বিবাহ ও ত্যাজ্যকরণ সঠিক হয়েছে কি? এক্ষণে পিতার করণীয় সম্পর্কে শরী‘আতের নির্দেশনা কি?


বৈধ অভিভাবকের অনুমতি ও দু’জন ন্যায়বান সাক্ষী ছাড়া সম্পন্ন হওয়ায় উক্ত বিবাহ বাতিল (ছহীহ ইবনু হিববান হা/৪০৭৫; আবুদাঊদ হা/২০৮৩ প্রভৃতি; মিশকাত হা/৩১৩১)। তবে এজন্য সন্তানকে ত্যাজ্য করার কোন বিধান শরী‘আতে নেই। কোন পিতা এরূপ করে থাকলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এরূপ করলে পিতা-মাতা রক্ত সম্পর্ক ছিন্নকারী কবীরা গোনাহগার হিসাবে গণ্য হবেন। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘রক্ত সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না’ (বুখারী হা/৫৯৮৪; মুসলিম হা/২৫৫৬; মিশকাত হা/৪৯২২)। এক্ষণে এরূপ ক্ষেত্রে যদি উভয়ের মাঝে দ্বীনী ও চারিত্রিক সমতা থাকে, তাহ’লে স্বেচ্ছায় অনুমতি দিয়ে উভয়কে তওবা করিয়ে নতুনভাবে বিবাহের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহ’লে ব্যভিচারের কঠিন গুনাহ থেকে উভয়েই মুক্তি পাবে। তবে তা না থাকলে সন্তানের মাঝে ঈমানী চেতনা সৃষ্টি করে তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে।

Posted in বিবাহ পালিয়ে করার কারনে সন্তানকে তাজ্য করা যাবে কি? | Tagged