হজ্জকারী ব্যক্তির নামের শুরুতে ‘আলহাজ্জ’ বা ‘হাজী’ লেখা হয় কেন? এগুলো লেখা যাবে কি?


বিগত দিনে আমাদের দেশের যেসব প্রবীণ ব্যক্তি দীর্ঘ সফরের মাধ্যমে হজ্জ করে ফিরে আসতেন এবং সকল অন্যায় কাজ-কর্ম হ’তে দূরে থেকে নিজেকে দ্বীনী কাজে লিপ্ত রাখতেন, তাদেরকে নাম ধরে না ডেকে বিশেষ শ্রদ্ধার সাথে ‘আলহাজ্জ’ বা ‘হাজী ছাহেব’ বলে সম্বোধন করা হ’ত। বিশেষ গুণ বা বৈশিষ্ট্যের কারণে মানুষকে এভাবে সম্মান করে ডাকা আদৌ অন্যায় নয়।

বরং উত্তম লকবে ডাকা ইসলামী শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হযরত আবুবকর-কে ছিদ্দীক্ব, আয়েশা-কে হোমায়রা, আলী-কে আবু তুরাব, আব্দুর রহমান-কে আবু হুরায়রা, হুযায়ফা-কে নওমান, আব্দুল্লাহ-কে যুল-বিজাদায়েন, খিরবাক্ব-কে যুল-ইয়াদায়েন (দ্রঃ দরসে কুরআন ‘দ্বন্দ্ব নিরসন’ ২০/৯ জুন’১৭), খালেদ বিন অলীদকে ‘সায়ফুল্লাহ’ (আল্লাহর তরবারী) এবং জাফর বিন আবু তালিবকে ‘আত-ত্বইয়ার’ লকবে ডেকেছেন (দ্রঃ সীরাতুর রাসূল (ছাঃ) ‘মুতার যুদ্ধ’ অধ্যায়)। এমনকি ইবনু হাজার বলেন, বলা হয়ে থাকে যে, রাসূল (ছাঃ) ওমর (রাঃ)-কে প্রথম ‘ফারূক্ব’ লকব দিয়েছিলেন (ফাৎহুল বারী ‘ওমরের মর্যাদা’  অনুচ্ছেদ হা/৩৬৭৯-এর পূর্বের আলোচনা দ্রষ্টব্য)

তবে অহংকার প্রকাশার্থে নিজের নামের সাথে উক্তরূপ লকব যুক্ত করা নিষিদ্ধ। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘ঐ ব্যক্তি কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার অন্তরে সরিষা দানা পরিমান অহংকার রয়েছে’ (মুসলিম হা/৯১; মিশকাত হা/৫১০৮)। তাছাড়া সেটি রিয়া ও শ্রুতির অন্তর্ভুক্ত হবে, যা হারাম (বুখারী হা/৬৪৯৯; মুসলিম হা/২৯৮৬; মিশকাত হা/৫৩১৬)

Advertisements
Posted in হজ্জকারী ব্যক্তির নামের শুরুতে হাজী লেখা যাবে কি? | Tagged ,

কিছু কিছু মাসআলার ক্ষেত্রে দেখা যায় একজন সালাফী আলেম সেটাকে বিদ‘আত বলছেন, অপরজন সেটাকে সুন্নাত বলছেন। যেমন রুকুর পরে উঠে পুনরায় বুকে হাত বাঁধার বিষয়টি। এজন্য কোন আলেমকে বিদ‘আতী বলে আখ্যায়িত করা যাবে কি?


 বলা যাবে না। কারণ বিদ‘আত বলা এবং বিদ‘আতী বলা এক জিনিস নয়। ইজতিহাদী বা ব্যাখ্যাগত ভুলের কারণে কাউকে বিদ‘আতী বলা যায় না।

শায়েখ আলবানী (রহঃ) বলেন, একজন আলেম কোন বিদ‘আত করার অর্থ এই নয় যে তিনি বিদ‘আতী। কোন আলেম যদি ইজতিহাদের মাধ্যমে কোন হারাম কাজকে হালাল সাব্যস্ত করেন, তার অর্থ এই নয় যে, তিনি হারাম কাজে লিপ্ত হয়েছেন। হ্যাঁ আমরা বলতে পারি যে, এই আমলটি বিদ‘আত, কেননা তা সুন্নাতবিরোধী; কিন্তু এর কারণে আমরা বলি না যে, স্বয়ং ঐ ব্যক্তি বিদ‘আতী। …সঊদী আরবের অনেক ভাইয়ের মধ্যে এটি অনুপস্থিত, যখন তারা একটি বক্তব্যের জন্য আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেন। যেখানে আমি বলেছি, রুকূ থেকে উঠার পর ডান হাত বাম হাতের উপর রাখা বিদ‘আত। (তারা বলেন) ‘কিভাবে আপনি একে বিদ‘আত বলতে পারেন অথচ অমুক অমুক শায়েখ এটাকে সুন্নাত বলেন!… তবে কি তারা সবাই বিদ‘আতী!! এখন আপনারা নিশ্চয়ই উত্তরটি পেয়েছেন! না, তাঁরা বিদ‘আতী নন। তবে আমার দলীল ও দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী উক্ত আমলটি বিদ‘আত (সিলসিলাতুল হূদা ওয়ান নূর, অডিও ক্লিপ নং ৭৮৫)। সুতরাং কোন কুফরী কাজের জন্য যেমন কাউকে কাফির বলা যায় না। তেমনি কোন বিদআতী আমলের জন্য সহসা কাউকে বিদআতী আখ্যা দেয়া যায় না।

Posted in আলেমকে বিদ‘আতী বলে আখ্যায়িত করা যাবে কি?, বিদ‘আতী বলে আখ্যায়িত করা যাবে কি কোন আলেমকে? | Tagged ,

রাসূল (ছাঃ)-এর পক্ষ থেকে কুরবানী করার ব্যাপারে শরী‘আতে কোন অনুমোদন আছে কি?


রাসূল (ছাঃ) বা কোন মৃতের জন্য পৃথকভাবে কুরবানী দেওয়ার কোন বিধান নেই। আলী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)- এর অছিয়ত হিসাবে তাঁর জন্য পৃথক একটি দুম্বা কুরবানী করেছিলেন মর্মে যে বর্ণনা এসেছে (আহমাদ হা/১২৭৮; তিরিমিযী হা/১৪৯৫; মিশকাত হা/১৪৬২), তা নিতান্তই যঈফ। কোন ছাহাবী রাসূল (ছাঃ)-এর জন্য বা রাসূল (ছাঃ) তার প্রিয় স্ত্রী ও সন্তানাদি বা প্রিয় চাচা হামযা বা অন্য কোন মৃতব্যক্তির জন্য এভাবে কুরবানী করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না। অতএব এসব থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

Posted in কুরবানী রাসূল (ছাঃ)-এর পক্ষ থেকে করা যাবে কি? | Tagged ,

শাওয়াল মাসের ছিয়াম ধারাবাহিকভাবে রাখতে হবে কি? এছাড়া কারণবশতঃ এ মাসের মধ্যে সবকয়টি রাখা সম্ভব না হলে পরের মাসে ক্বাযা আদায় করা যাবে কি?


রামাযানের পর পরই শাওয়াল মাসের ছয়টি ছিয়াম ধারাবাহিকভাবে রাখা উত্তম। তবে কেউ যদি মাঝে মধ্যে ছিয়াম বাদ দেয় তাতে কোন দোষ নেই। মোটকথা শাওয়াল মাসের এই ছিয়াম পালনের নেকী অর্জনের জন্য এ মাসের মধ্যেই ছয়টি ছিয়াম পালন করতে হবে।

Posted in শাওয়াল মাসের ছিয়াম ধারাবাহিকভাবে রাখতে হবে কি? | Tagged ,

আমি একজন হোটেল বয়। এখানকার নিয়ম অনুসারে বয়রা খাবার খাওয়ানোর পর অতিথিদের নিকট থেকে কিছু সম্মানী আশা করে এবং তারাও দিয়ে থাকে। এরূপ লেনদেন জায়েয হবে কি?


মালিকের অনুমতি থাকলে এবং এজন্য প্রত্যাশা না রেখে এরূপ সম্মানী গ্রহণ করলে সেটি নাজায়েয হবে না। তবে এথেকে বিরত থাকা উচিত। কেননা সে মালিকের বেতনভুক। নবী করীম (ছাঃ) বলেন, আমরা যাকে অর্থের বিনিময়ে কোন কাজে নিযুক্ত করি, তার অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করলে তা হবে আত্মসাৎ (আবুদাঊদ হা/২৯৪৩; মিশকাত হা/৩৭৪৮)। বর্তমান যুগে বখশিশের এই প্রচলন নিন্দনীয় প্রথা এবং এথেকে বিরত থাকতে হবে।

Posted in হোটেল বয়রা খাবার খাওয়ানোর বখশিশ নিতে পারবে কি? | Tagged

সূরা রহমানের ১৭ আয়াতের ব্যাখ্যা জানতে চাই।


আয়াতটির অর্থ : তিনি (আল্লাহ) দুই পূর্ব ও দুই পশ্চিমের রব (রহমান ৫৫/১৭)। মুজাহিদ বলেন, দুই পূর্ব বলতে গ্রীষ্ম ও শীতকালের দুই উদয়াচল এবং দুই পশ্চিম বলতে গ্রীষ্ম ও শীতকালের দুই অস্তাচলকে বুঝানো হয়েছে (তাফসীরে ত্বাবারী ২৩/২৭-২৮; তাফসীরে ইবনু কাছীর)। এখানে দ্বিবচন দ্বারা বহুবচন উদ্দেশ্য। যেমন অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আমি শপথ করছি উদয়াচল সমূহের ও অস্তাচল সমূহের প্রতিপালকের (মা‘আরিজ ৭০/৪০)। আল্লাহ অন্যত্র বলেন, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা এবং পালনকর্তা উদয়াচল সমূহের (ছাফফাত ৩৭/৫)। অত্র আয়াতসমূহে সৌর বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ উৎস বর্ণিত হয়েছে যে, পৃথিবী সর্বদা ঘূর্ণায়মান। সূর্যের কিরণ যখনই পৃথিবীর যে অংশে পড়ছে, তখনই সেখানে তা উদয় হচ্ছে এবং যখনই তা চলে যাচ্ছে, তখনই সেখানে তা অস্ত যাচ্ছে। এভাবে প্রতি সেকেন্ডে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে উদয়াচল ও অস্তাচলের পার্থক্য ঘটছে। আর এটাই হ’ল পৃথিবীর আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতির বড় প্রমাণ। সূর্য ৩৬০ দিন ৩৬০টি রেখায় চলে। প্রতিটি রেখাই স্বতন্ত্র। ফলে প্রতিদিনই সূর্যের উদয়াচল ও অস্তাচল পরির্বতন হয়।

Posted in তাফসীর, সূরা রহমানের ১৭ আয়াতের ব্যাখ্যা জানতে চাই। | Tagged

জুম‘আর খুৎবায় ইমাম ছাহেব বিদ‘আতপূর্ণ কথা বলেন। একারণে ইচ্ছাকৃতভাবে দেরী করা যাবে কি?


যথাসময়ে মসজিদে উপস্থিত হতে হবে। নতুবা মুছল্লী বহু নেকী থেকে বঞ্চিত হবে (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৩৮১-৮৪, ১৩৮৮)। প্রয়োজনে যে মসজিদে কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহ মোতাবেক খুৎবা হয় সেখানে যেতে হবে। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, মুছল্লী যদি জানতে পারে যে তার ইমাম এমন বিদ‘আতী, যে বিদ‘আতের পথে আহবান করে। অথবা সে ফাসেকী কাজে লিপ্ত। কিন্তু সে নিয়মিত ইমাম, যার পিছনে ছালাত আদায় করতেই হয়। যেমন জুম‘আ, ঈদায়েন, আরাফার হজ্জের ইমাম ইত্যাদি। এমতাবস্থায় মুছল্লী তার পিছনেই ছালাত আদায় করবে (আল-ফাতাওয়াউল কুবরা ২/৩০৭)। স্বর্তব্য যে, নিরুপায় অবস্থায় বিদ‘আতী ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা জায়েয। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘অনেকেই তোমাদেরকে ছালাত আদায় করায়। তারা যদি ঠিক করে তাহলে তোমাদের জন্য নেকী রয়েছে। আর তারা যদি ভুল করে, তাতে তোমাদের নেকী হবে আর তাদের গোনাহ হবে’ (বুখারী, মিশকাত হা/১১৩৩)। হাসান বাছরী বলেন, বিদ‘আতীর পিছনে ছালাত আদায় কর। বিদ‘আতের গোনাহ তার উপর বর্তাবে (বুখারী, ‘বিদ‘আতীর ইমামতি’ অনুচ্ছেদ হা/৬৯৫)

Posted in খুৎবায় বিদ‘আতপূর্ণ কথা বলেন। একারণে ইচ্ছাকৃতভাবে দেরী করা যাবে কি? | Tagged , , ,

‘রাসূল (ছাঃ) রোদের মধ্যে পথ চললে তাঁর শরীরে রোদ লাগত না, এক খন্ড মেঘ তাঁকে ছায়া করে থাকত’ এ কথা কি সঠিক?


উক্ত মর্মে কোন দলীল নেই। যদিও কোন কোন জীবনীকার এগুলি লিখেছেন। যার কোন ভিত্তি নেই। তবে আল্লাহর বিশেষ রহমতে মু‘জিযা হিসাবে কখনো কখনো মেঘ, গাছ ইত্যাদি তাঁকে ছায়া করত (তিরমিযী হা/৩৬২০; মুসলিম হা/৩০১২; মিশকাত হা/৫৯১৮, ৫৮৮৫)। উল্লেখ্য যে, বুখারী-মুসলিমে বর্ণিত (মিশকাত হা/১১৯৫) দো‘আয় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আল্লাহর নিকট নিজের হৃদয়ে, চোখে-কানে, ডাইনে-বামে, উপরে-নীচে যে নূর প্রার্থনা করেছেন, তার অর্থ ইলম ও হেদায়াতের নূর (মিরক্বাত)। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘যার বক্ষকে আল্লাহ ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, অতঃপর সে তার প্রতিপালকের দেওয়া জ্যোতির মধ্যে রয়েছে, (সে কি অন্যের মত হ’তে পারে?) (যুমার ৩৯/২২)

Posted in রাসূল (ছাঃ) পথ চললে এক খন্ড মেঘ তাঁকে ছায়া করে থাকত কি? | Tagged ,

ছালাত রত অবস্থায় শরীরে মশা-মাছি বা অন্য কোন পোকা পড়লে তা তাড়ানো এবং প্রয়োজনে শরীরের কোন জায়গায় চুলকানো যাবে কি?


যাবে। তবে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে যেন ছালাতের খুশূ‘-খুযূ‘ নষ্ট না হয়। মু‘আইক্বেব (রাঃ) নবী করীম (ছাঃ)-কে ছালাতের মধ্যে সিজদার স্থানের মাটি সমানকারী ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘যদি তা তোমাকে করতেই হয়, তবে শুধু একবার করবে (বুখারী হা/১২০৭, মুসলিম হা/৫৪৬, মিশকাত হা/৯৮০)। অন্য এক বর্ণনায় ছালাতের মধ্যে হাই আসলে মুখে হাত রাখতে বলা হয়েছে (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, মিশকাত হা/৯৯৩)। অন্য বর্ণনায় ছালাত অবস্থায় সাপ ও বিচ্ছুকে মারতে বলা হয়েছে (নাসাঈ, মিশকাত হা/১০০৪)। এ সকল হাদীছ প্রমাণ করে যে, ছালাত রত অবস্থায় প্রশ্নে উল্লেখিত প্রয়োজন মিটালে ছালাতের ক্ষতি হবে না। তবে অবশ্যই ছালাতের বিনয়-নম্রতার প্রতি লক্ষ্য রাখবে এবং নচেৎ ছালাত কবুল হবে না।

Posted in ছালাত রত অবস্থায় শরীরের কোন জায়গায় চুলকানো যাবে কি? | Tagged

তারাবীহ ছালাতে প্রতি দুই রাক‘আত পরপর ছানা পড়তে হবে কি?


ফরয ছালাত হোক অথবা নফল ছালাত হোক প্রত্যেক ছালাতের শুরুতে দো‘আয়ে ইস্তেফতাহ বা ছানা পাঠ করা সুনণাত। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যখনই ছালাত আরম্ভ করতেন, তখনই তাকবীরে তাহরীমার পর দো‘আয়ে ইস্তেফতাহ পড়তেন (বুখারী হা/৭৪৪, মিশকাত হা/৮১২-১৩)

যেহেতু তারাবীহর প্রত্যেক দুই রাক‘আত পৃথক পৃথক ছালাত, সেহেতু প্রত্যেক দুই রাক‘আতের শুরুতে দো‘আ ইস্তেফতাহ বা ছানা পড়া সুন্নাত।

Posted in ছানা প্রতি দুই রাক‘আত পরপর পড়তে হবে কি? | Tagged

কোন নারীর মন্দ চরিত্রের ব্যাপারে কাউকে তার কবল থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে জানালে তা গীবত হিসাবে গণ্য হবে কি?


বিষয়টি বক্তার দৃষ্টিতে সত্য হ’লে গীবত হিসাবে গণ্য হবে না। বরং তাকে সংশোধন বা তার বা অন্য কারো কল্যাণে এরূপ নারীর কথা গোপনে বলা যাবে (নববী, রিয়াযুছ ছালেহীন, ২৫৬ অনুচ্ছেদ, পৃঃ ৫৭৫)

Posted in মন্দ চরিত্রের ব্যাপারে সতর্ক করার জন্য কাউকে সত্য বললে গীবত হবে কি? | Tagged

জুম‘আর খুৎবা প্রদানের সুন্নাতী পদ্ধতিসমূহ কি কি?


জুম‘আর জন্য দু’টি খুৎবা দেওয়া সুন্নাত, যার মাঝখানে বসতে হয় (মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০৫)। ইমাম মিম্বরে বসার সময় মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে সালাম দিবেন (ইবনু মাজাহ হা/১১০৯; ছহীহাহ হা/২০৭৬)। আবুবকর ও ওমর (রাঃ) এটি নিয়মিত করতেন। আবু হানীফা ও মালেক (রহঃ) প্রমুখ মসজিদে প্রবেশকালে সালাম দেওয়াকেই যথেষ্ট বলেছেন (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২৩০; নায়ল ৪/২০১)। খত্বীব হাতে লাঠি নিবেন (আবুদাঊদ হা/১০৯৬; ইরওয়া হা/৬১৬)। নিতান্ত কষ্টদায়ক না হ’লে সর্বদা দাঁড়িয়ে খুৎবা দিবেন। ১ম খুৎবায় হাম্দ, দরূদ ও ক্বিরাআত ছাড়াও সকলকে নছীহত করবেন, অতঃপর বসবেন। দ্বিতীয় খুৎবায় হাম্দ ও দরূদ সহ সকল মুসলমানের জন্য দো‘আ করবেন (জুম‘আ ৬২/১১; মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০৫)। প্রয়োজনে এই সময়ও কিছু নছীহত করা যায় (নাসাঈ হা/১৪১৭-১৮; তিরমিযী হা/৫০৬)। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) হাম্দ, দরূদ ও নছীহত তিনটি বিষয়কে খুৎবার জন্য ‘ওয়াজিব’ বলেছেন। যাতে কুরআন থেকে একটি আয়াত হ’লেও পাঠ করতে হবে। এতদ্ব্যতীত সূরায়ে ক্বাফ-এর প্রথমাংশ বা অন্য কিছু আয়াত তেলাওয়াত করা মুস্তাহাব (মির‘আত ২/৩০৮, ৩১০; , ৪/৪৯৪, ৪৯৮-৯৯; মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০৯)। খুৎবা আখেরাত মুখী, সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ হওয়া বাঞ্ছনীয় (মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০৫-০৬)। তবে দীর্ঘ  হওয়াও  জায়েয  আছে  (মুসলিম হা/৭২৬৭)

খুৎবার সময় কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাক‘আত ‘তাহিইয়াতুল মাসজিদ’ ছালাত পড়ে বসবেন’ (মুসলিম, মিশকাত হা/১৪১১; বিস্তারিত দ্রঃ)

Posted in খুৎবা প্রদানের সুন্নাতী পদ্ধতিসমূহ কি কি?, জুম‘আর খুৎবা প্রদানের সুন্নাতী পদ্ধতিসমূহ কি কি? | Tagged ,

মৃত পিতা-মাতার নামে সন্তান দান-ছাদাক্বা করলে তাদের পাশাপাশি সন্তানও কি ছওয়াবের অধিকারী হবে?


সন্তানও ছওয়াব পাবে। আল্লাহ বলেন, ’নারী হৌক পুরুষ হৌক আমি তোমাদের কোন আমলকারীর কর্মফল বিনষ্ট করব না’ (আলে ইমরান ৩/১৯৫)। আয়েশা (রাঃ) বলেন, জনৈক স্ত্রীলোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা হঠাৎ মারা গেছেন। তিনি এভাবে মারা না গেলে ছাদাক্বা করে যেতেন। এখন আমি যদি তার পক্ষ থেকে ছাদাক্বা করি তবে কি আমি এর ছাওয়াব পাব? নবী করীম (ছাঃ) বললেন, হ্যাঁ (বুখারী হা/২৭০৭; মুসলিম হা/১০০৪)। নববী বলেন, মৃতের পক্ষ থেকে ছাদাক্বাহ জায়েয এবং মুস্তাহাব। এর ছওয়াব তার কাছে পৌঁছবে এবং সে উপকৃত হবে। এতে ছাদাক্বাকারীও উপকৃত হবে (শরহ মুসলিম হা/১৬৩০-এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য, ১১/৮৩)

Posted in দান-ছাদাক্বা পিতা-মাতার নামে সন্তান করলে সন্তানও ছওয়াবের অধিকারী হবে কি? | Tagged ,

হাদীছে উত্তমরূপে ওযূ করে কেবল ছালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে আগমনকারীর জন্য বিশেষ পুরস্কারের কথা বর্ণিত হয়েছে। এর ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য কি?


অধিক আগ্রহ, মসজিদের সাথে হৃদয় লটকিয়ে থাকা এবং পবিত্র অবস্থায় কষ্ট করে পায়ে হেঁটে মসজিদে গমন করার কারণে আল্লাহ এই মর্যাদা দান করবেন। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মুসলমান যখন ফরয ছালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে সুন্দরভাবে ওযূ করে এবং পূর্ণ মনোনিবেশ ও ভীতি সহকারে সুষ্ঠুভাবে রুকূ-সিজদা করে, তখন ঐ ওযূ ও ছালাত তার বিগত সকল গুনাহের কাফফারা হয়। তবে কবীরা গোনাহ ব্যতীত’ (মুসলিম হা/২২৮; মিশকাত হা/২৮৬ ‘পবিত্রতা’ অধ্যায়-৩, পরিচ্ছেদ-১)। অন্য হাদীছে এসেছে, যে ব্যক্তি বাড়ি থেকে পাক-পবিত্র হয়ে (ওযু করে) ফরয ছালাত আদায় করার জন্য পায়ে হেঁটে আল্লাহর কোন ঘরে (মসজিদে) যায় তার প্রতি পদক্ষেপে একটি করে পাপ ঝরে পড়ে এবং একটি মর্যাদার স্তর বৃদ্ধি পায় (মুসলিম হা/৬৬৬; ছহীহুল জামে‘ হা/৬১৫৫)

Posted in ওযূ করে ছালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে আগমনকারীর কোন পুরুষ্কার আছে কি | Tagged , , ,

কুরবানীর গোশত দ্বারা ওয়ালীমার মেহমানদারী করা যাবে কি? জনৈক আলেম বলেন, এটা চলবে না। কেবল ওয়ালীমার জন্য অন্ততপক্ষে একটি খাসি যবেহ করতে হবে। একথার সত্যতা আছে কি?


কথাটির সত্যতা নেই। কারণ কুরবানীর গোশত বিবাহতে খাওয়ানো যাবে না এমন কোন শর্ত নেই। তাছাড়া কুরবানীর গোশত ঈদের পরে জমা রেখে খাওয়া জায়েয (ইবনু মাজাহ হা/৩১৫৯, মিশকাত হা/১৭৬২)। তুরতুসী বলেন, কেউ যদি বিবাহের ওয়ালীমায় কুরবানীর গোশত খাওয়ায় সেটিই তার জন্য যথেষ্ট হবে’ (আত-তাজ ওয়াল ইকলীল লি মুখতাছারে খলীল ৪/৩৭৬)। রাসূল (ছাঃ) আব্দুর রহমান বিন ‘আওফকে বলেন, একটি ছাগল যবেহ করে হ’লেও ওয়ালীমা কর (বুখারী হা/২০৪৮; মুসলিম হা/১৪২৭; মিশকাত হা/৩২১০)। এর অর্থ এই নয় যে, নির্দিষ্টভাবে ওয়ালীমার জন্যই ছাগল যবেহ করতে হবে।

Posted in কুরবানীর গোশত দ্বারা ওয়ালীমার মেহমানদারী করা যাবে কি? | Tagged , ,

পরিবারসহ বিদেশে অবস্থানকারী কোন প্রবাসী অধিক মূল্যের কারণে সেখানে কুরবানী না করে দেশে ভাই-বোনের পরিবারে কুরবানী করতে পারবে কি?


সামর্থ্য থাকলে নিজ অবস্থানস্থলেই কুরবানী করবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তখন তোমরা তা থেকে আহার কর এবং আহার করাও যারা চায় না তাদেরকে ও যারা চায় তাদেরকে’ (হজ্জ ২২/৩৬)। অত্র আয়াতে নিজে ভক্ষণ ও অপরকে দান করার নির্দেশনা এসেছে।

অতএব অবস্থানস্থলের মূল্য অনুযায়ী সামর্থ্য থাকলে কুরবানী করবে। অন্যথায় বিরত থাকবে। অন্যদেশে কুরবানী করলে তা সুন্নাত মোতাবেক হবে না (ওছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২২/২২৪)।

Posted in কুরবানী বিদেশে অবস্থানকারী দেশে ভাই-বোনের পরিবারে করতে পারবে কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তি বলেন, মানুষকে প্রতিদিন নছীহত করা বা মসজিদে প্রতিদিন হাদীছ পাঠ করা শরী‘আতসম্মত নয়। এর স্বপক্ষে তিনি বুখারীর একটি হাদীছ পেশ করেন। একথার সত্যতা জানতে চাই।


ছালাতের পরে নছীহত করা বা হাদীছ পাঠে শারঈ কোন বাধা নেই। তবে পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনমত উপদেশ প্রদান করাই সমীচীন (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৮/২৮১)। আল্লাহ বলেন, এবং উপদেশ দিতে থাক, কারণ উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে (যারিআত ৫১/৫৫)। হাদীছ পাঠে অল্প সময়ের ব্যাপার। এটুকুতে যারা বিরক্ত বোধ করেন, তাদের ঈমানে ঘাটতি আছে। এরূপ তুচ্ছ অজুহাত তুলে মসজিদে বা অন্যত্র হাদীছ পাঠে বাধা দেওয়া অন্যায়। আল্লাহ বলেন, ‘তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহবান কর প্রজ্ঞা ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে বিতর্ক কর সুন্দর পন্থায়’ (নাহল ১৬/১২৫)

Posted in মসজিদে প্রতিদিন হাদীছ পাঠ করা শরী‘আতসম্মত কি? | Tagged

ফজরের আযানের পর মসজিদে এসে নির্দিষ্ট দু’রাক‘আত সুন্নাত ব্যতীত তাহিইয়াতুল ওযূ ও তাহিইয়াতুল মসজিদ ছালাত আদায় করা যাবে কি?


যাবে। তবে ফজরের নির্দিষ্ট সুন্নাত মসজিদে এসে আদায় করলে তা তাহিইয়াতুল মসজিদ ও তাহিইয়াতুল ওযূর জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। অবশ্য বাড়িতে সুন্নাত আদায় করে মসজিদে আসলে তাহিইয়াতুল মসজিদ আদায় করা সুন্নাত। কেননা রাসূল (ছাঃ) মসজিদে এসে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় না করে বসতে নিষেধ করেছেন (বুখারী হা/১১৬৩; শায়খ বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব ৮/১৮৯)

Posted in সুন্নাত মসজিদে এসে আদায় করলে তা তাহিইয়াতুল মসজিদের জন্য যথেষ্ট হবে কি? | Tagged , ,

বেনামাযী ও নেশাকারী ব্যক্তিদের সাথে ক্রয়-বিক্রয়, চলাফেরাসহ সামাজিক সম্পর্ক রাখা যাবে কি?


এধরনের লোকদের একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত এড়িয়ে চলতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তুমি মুমিন ব্যতীত কাউকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করবে না এবং তোমার খাদ্য যেন কেবল মুত্তাকীরা খায়’ (আবুদাঊদ হা/৪৮৩২; মিশকাত হা/৫০১৮)। তিনি আরো বলেন, ‘মানুষ তার বন্ধুর রীতির উপর হয়ে থাকে। অতএব দেখ সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে’ (আবুদাঊদ হা/৪৮৩২; মিশকাত হা/৫০১৯)। তবে সুযোগ পেলেই তাদেরকে সঠিক পথে ফিরে আসার জন্য উপদেশ দিতে হবে। আর এধরনের লোকদের পরিত্যাগ করাতে তাদের বা নিজের অধিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে বাহ্যিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।

Posted in বেনামাযী ও নেশাকারী ব্যক্তিদের সাথে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে কি? | Tagged ,

ঈদের ছালাত আদায়ের পর একাধিক ব্যক্তি খুৎবা দিতে পারবেন কি?


না। বরং একজন ব্যক্তিই খুৎবা দিবেন। এটাই রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাত (মুসলিম হা/৮৮৫, মিশকাত হা/১৪৪৬)। ওযরবশতঃ কাউকে মাঝপথে খুৎবা পরিত্যাগ করতে হ’লে অপরজন প্রথম থেকে খুৎবা শুরু করবেন (ওছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ ৫/৫৮)

Posted in খুৎবা ঈদের ছালাত আদায়ের পর একাধিক ব্যক্তি দিতে পারবে কি? | Tagged ,

আমি সতের বছর যাবত জেলে ছিলাম। আমার স্ত্রী আমার নিকট তালাক না নিয়েই অন্যত্র বিবাহ করেছে। কিছুদিন পর উক্ত স্বামীও মারা যায়। এক্ষণে আমি জেল থেকে বের হ’লে আমি ও সে কিভাবে সংসার করতে পারব। ছহীহ হাদীছের আলোকে জানিয়ে বাধিত করবেন।


স্বামী জেলে থাকলে বিবাহ বিচ্ছিন্ন হয় না। এক্ষণে মহিলা যা করেছে তা ভুল করেছে। যা যেনার শামিল। অতএব স্ত্রী তওবা করবে। অতঃপর বিবাহ ছাড়াই সংসার শুরু করবে। স্মর্তব্য যে, দীর্ঘদিনের জন্য স্বামী কারান্তরীণ থাকলে প্রয়োজনে স্ত্রী স্বামীর নিকটে তালাক চাইতে পারে (ইবনু তায়মিয়াহ, আল-ফাতাওয়াউল কুবরা ৫/৪৮১-৪৮২)। অথবা নিজে ‘খোলা’-র মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছিন্ন করতে পারে।

Posted in দ্বিতীয় স্বামী মারা গেলে প্রথম স্বামীর সাথে কিভাবে সংসার শুরু করবে? | Tagged , ,

স্বামী-সন্তানহীন বিধবা নারী সক্ষম হলে তার জন্য কুরবানী করা কর্তব্য হবে কি?


হ্যাঁ। কারণ কুরবানী করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান নারী-পুরুষের জন্য সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। ইবনু হাযম বলেন, কুরবানীর বিধান মুক্বীম-মুসাফির সবার জন্য প্রযোজ্য এতে কোন পার্থক্য নেই, অনুরূপভাবে নারীদের জন্যও প্রযোজ্য (মুহাল্লা ৬/৩৭)। উল্লেখ্য যে, পরিবারের সাথে থাকলে পরিবার প্রধান কিংবা পরিবারের কোন একজনের কুরবানীই সবার জন্য যথেষ্ট হবে। বিদায় হজ্জের ভাষণে রাসূল (ছাঃ) বলেন, হে জনগণ! নিশ্চয়ই প্রত্যেক পরিবারের উপর প্রতি বছর একটি করে কুরবানী’ (আবুদাঊদ হা/২৭৮৮; তিরমিযী হা/১৫১৮; মিশকাত হা/১৪৭৮)

Posted in কুরবানী স্বামী-সন্তানহীন বিধবা নারী সক্ষম হলে তার জন্য করা কর্তব্য হবে কি? | Tagged

আমার নিকটে কেউ কোন গোপন কথা আমানত রাখার পর পরবর্তীতে তা অন্য কোনভাবে প্রকাশ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় আমার নিকটে তা আমানত রাখার প্রয়োজন আছে কি?


ব্যক্তি অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত তা রক্ষা করতে হবে। যদিও তা অন্য কেউ প্রকাশ করে দেয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, কেউ কোন কথা বলার পর মুখ ঘুরালে (কেউ শুনছে কি-না তা লক্ষ্য করে) তা আমানতস্বরূপ’ (আবুদাঊদ হা/৪৮৬৮; মিশকাত হা/৫০৬১; ছহীহাহ হা/১০৯০)। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) একবার আমার কাছে একটি বিষয় গোপনে বলেছিলেন। তার মৃত্যুর পরও আমি তা কাউকে জানাইনি। এ ব্যাপারে আমার মা উম্মু সুলায়েম আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন। কিন্তু আমি তাঁকেও তা জানাইনি (বুখারী হা/৬২৮৯; আহমাদ হা/১৩৩১৭)

Posted in গোপন কথা অন্য কোন ভাবে প্রকাশ হওয়ার পর আমি প্রকাশ করতে পারবো কি? | Tagged ,

আমি আমার ব্যবসার টাকা অন্য কারো ব্যবসার প্রয়োজনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। অতঃপর সে নেওয়ার সময় উক্ত টাকা দিয়ে ব্যবসায় যে লাভ হবে তার অনির্ধারিত কিছু লভ্যাংশ দিতে চায়। উক্ত লাভ গ্রহণ করা জায়েয হবে কি?


উক্ত টাকা কর্য হিসাবে প্রদান করলে তার লভ্যাংশ নেওয়া যাবে না। কারণ তা সূদ হিসাবে গণ্য হবে। আর যেকোন পরিমাণ লভ্যাংশের চুক্তি করলে তা গ্রহণ করা জায়েয। এরূপ চুক্তি বায়‘এ মুযারাবাহ-এর অন্তর্ভুক্ত হবে। এটা হ’ল একজনের পুঁজি অপরজনের শ্রম। এক্ষেত্রে উভয়ের সম্মতিক্রমে লাভ-ক্ষতি বণ্টনের যেকোন হার নির্ধারণ করা যায়। ওছমান (রাঃ)-এর মাল নিয়ে আব্দুর রহমানের দাদা ব্যবসা করতেন। লাভ তাদের মধ্যে চুক্তি মতে ভাগ হ’ত। ওমর (রাঃ) থেকেও একই মর্মে বর্ণিত হয়েছে (মুওয়াত্ত্বা মালেক হা/২৫৩৪-৩৫; ইরওয়া ৫/২৯২, হা/১৪৬৯-এর আলোচনা; বুলূগুল মারাম হা/৯০৫)

Posted in ব্যবসায় যে লাভ হবে তার অনির্ধারিত কিছু লভ্যাংশ নেওয়া যাবে কি? | Tagged ,

মাইয়েতকে গোসল দিয়ে কাফন পরানোর পর পুনরায় মানুষকে দেখানো যাবে কি?


যাবে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, ওছমান বিন মাযঊন (রাঃ) মারা গেলে এবং তাঁকে গোসল করিয়ে কাফনের কাপড় পরানো হ’লে রাসূল (ছাঃ) তার নিকট প্রবেশ করলেন এবং মৃত ওছমানকে চুমু দিলেন যখন তার দু’চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল (বুখারী হা/১২৪৩; আবুদাঊদ হা/৩১৬৩; ইরওয়া ৩/১৫৭)। জাবের (রাঃ) বলেন, ওহোদ যুদ্ধে আমার পিতা আব্দুল্লাহ (রাঃ) শহীদ হয়ে গেলে আমি তাঁর মুখমন্ডল হ’তে কাপড় সরিয়ে ক্রন্দন করতে লাগলাম। লোকজন আমাকে নিষেধ করতে লাগল। কিন্তু নবী করীম (ছাঃ) আমাকে নিষেধ করেননি’ (বুখারী হা/১২৪৪; আহমাদ হা/১৪২২৩; আহকামুল জানায়েয ১/২০)। বিশেষতঃ আত্মীয়-স্বজন দেখতে চাইলে বাধা দেওয়া যাবে না (মুগনী  ২/৩৫০)। তবে অনাত্মীয় বা গায়ের মাহরাম নারী-পুরুষেরা মাইয়েতকে অবাধ দেখার যে প্রচলন রয়েছে তা সিদ্ধ নয়।

Posted in মাইয়েতকে গোসল দিয়ে কাফন পরানোর পর পুনরায় মানুষকে দেখানো যাবে কি? | Tagged , , ,

সূরা মায়েদাহ ১০৩ আয়াতের ব্যাখ্যা জানতে চাই। এখানে আল্লাহ যে চারটি পশু নিষিদ্ধ করেছেন সেগুলির পরিচয় কি?


উক্ত আয়াতের অর্থ : আল্লাহ বাহীরাহ, সায়েবাহ, অছীলাহ ও হামী-র প্রচলন করেননি। বরং কাফেররাই এ ব্যাপারে আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করেছে মাত্র। আর তাদের অধিকাংশই কোন জ্ঞান রাখে না (মায়েদাহ ৫/১০৩)। আয়াতে বর্ণিত চারটি পরিভাষা চার প্রকারের পশুর নামে প্রচলিত। যেগুলিকে জাহেলী আরবের লোকেরা তাদের দেব-দেবীর নামে উৎসর্গ করে ছেড়ে দিত। সেগুলিকে সবাই সম্মান করত এবং কোন কাজে ব্যবহার করা হ’ত না। উক্ত চার প্রকার উট বা দুম্বার পরিচয় সম্পর্কে অগ্রগণ্য ব্যাখ্যাটি হ’ল : (১) বাহীরাহ : যার দুধ কেবল মূর্তির জন্য উৎসর্গীত। অন্য কেউ তা পান করতে পারত না (২) সায়েবাহ : যা মূর্তির নামে উৎসর্গ করা হ’ত। যা স্বাধীনভাবে বিচরণ করত। তার পিঠে কেউ সওয়ার হ’তে পারত না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আমি আমর বিন লুহাইকে জাহান্নামে তার নাড়ি-ভুঁড়ি টেনে হাঁটতে দেখেছি। কেননা সেই-ই প্রথম ইবরাহীমের দ্বীনকে পরিবর্তন করে (অর্থাৎ মূর্তিপূজার প্রচলন করে) এবং সেই-ই প্রথম (মূর্তির নামে উৎসর্গীত) পশু ছেড়ে দেওয়ার রীতি চালু করে (বুখারী হা/১২১২; হাকেম হা/৮৭৮৯; ছহীহাহ হা/১৬৭৭) (৩) অছীলাহ : ঐ উষ্ট্রী যা উপর্যুপরি মাদী বাচ্চা প্রসব করে এবং যাকে মূর্তির নামে উৎসর্গ করে ছেড়ে দেওয়া হ’ত (৪) হামী : ঐ নর উট যার দ্বারা নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রজনন কাজ নেওয়ার পর তাকে মূর্তির নামে উৎসর্গ করে ছেড়ে দেওয়া হ’ত (বুখারী হা/৪৬২৩; মুসলিম হা/২৮৫৬)।

Posted in আল্লাহ যে চারটি পশু নিষিদ্ধ করেছেন সেগুলির পরিচয় কি?, তাফসীর, সূরা মায়েদাহ ১০৩ আয়াতের ব্যাখ্যা জানতে চাই। | Tagged

আমার পিতার দ্বিতীয়া স্ত্রী দুই সন্তানসহ ১৮ বছর যাবৎ নিজ পিতার বাড়িতে অবস্থান করেন। আমার পিতা অনেক চেষ্টা করেও তাদেরকে নিজ বাড়িতে আনতে পারেননি। অথচ ঐ স্ত্রী ও তার দুই সন্তানের ভরণপোষণ আমার পিতাই করে থাকেন। তারাও ভরণপোষণের খরচ বেশী বেশী দেওয়ার জন্য বার বার চাপ দেয়। এক্ষণে এরূপ স্ত্রীর খরচ বহন করা আমার পিতার জন্য যরূরী কি?


স্বামীর অসন্তুষ্টিতে ও অসম্মতিতে স্ত্রীর এরূপ অবস্থান জায়েয নয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যদি কোন স্ত্রী তার স্বামীর শয্যা ছেড়ে অন্যত্র রাত্রি যাপন করে, তাহ’লে যতক্ষণ না সে তার স্বামীর শয্যায় ফিরে আসে, ততক্ষণ ফেরেশতাগণ তার ওপর লা‘নত বর্ষণ করতে থাকেন (বুখারী হা/৫১৯৪; মুসলিম হা/১৪৩৬)। এরূপ স্ত্রীর খরচ বহন করা স্বামীর জন্য যরূরী নয় (ইবনু কুদামা, মুগনী ৮/২৩৬)। তবে মায়ের অপরাধে সন্তানদের ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

Posted in স্বামীর অসম্মতিতে স্ত্রী অন্যত্র অবস্থান করলে খরচ দেওয়া যাবে কি? | Tagged , ,

আমাদের সামাজিক নিয়ম অনুযায়ী গ্রামের ফিৎরা আদায়কারীকে মোট আদায়ের ৮ ভাগের ১ ভাগ পারিশ্রমিক হিসাবে দিতে হয়। এটা শরী‘আতসম্মত কি?


‘আমেলীন’-এর পারিভাষিক অর্থ ইসলামী সরকার কর্তৃক যাকাত ব্যবস্থাপনায় নিযুক্ত কর্মকর্তাগণ। যারা যাকাত-ফিৎরা আদায়-বণ্টন ইত্যাদি বিষয়ে তদারকি করেন। এক্ষণে সমাজের ছোট্ট পরিসরে কাজটি করে উক্ত ভাগ কামনা করা কারো জন্য জায়েয হবে না। কারণ তিনি সরকারীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত নন। বরং এক্ষেত্রে ছওয়াবের আশায় বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে হবে।

Posted in ফিৎরা আদায়কারীকে আদায়ের ৮ ভাগের ১ ভাগ পারিশ্রমিক দেওয়া যাবে কি? | Tagged

আমার ভাইয়েরা প্রতিনিয়ত আমার ক্ষতি করে যাচ্ছে। আমি মারা গেলে আমার স্ত্রী-সন্তানদেরও ভরণপোষণ তারা করবে না। আমি ও আমার স্ত্রী খেয়ে না খেয়ে কিছু কিছু সঞ্চয় করছি। এর অধিকাংশ অবদান আমার স্ত্রীর। এক্ষণে আমি মারা গেলে আমার ভাইয়েরা কি সম্পদের অংশ পাবে?


ছেলে সন্তান থাকলে ভাইয়েরা অংশীদার হবে না। কেবল স্ত্রী ও কন্যা সন্তান থাকলে ব্যক্তি মারা গেলে এবং তার পিতা-মাতা বেঁচে না থাকলে ভাইয়েরা অংশীদার হবে। এটি আল্লাহর দেওয়া বিধান, যা প্রশ্নাতীতভাবে মেনে নেওয়া আবশ্যক। তবে স্ত্রীর নিজস্ব সম্পদে স্বামীর কোন ঊর্ধ্বতন আত্মীয় অংশীদার হবে না (নিসা ৪/১১-১২)

Posted in সম্পদের অংশ স্বামী মারা গেলে স্বামীর ভাইয়েরা কি পাবে? | Tagged ,

এক বা একাধিক বছরের জন্য আমবাগানের জমি লীজ দেওয়া যাবে কি? উল্লেখ্য, এখানে আম গাছ ছাড়া অন্য কোন ফসল হওয়ার ব্যবস্থা নেই।


যাবে না। কারণ জমির সাথে ফলদার বৃক্ষ রয়েছে, যা মূল লক্ষ্য। জাবের (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) কয়েক বছরের জন্য জমি বিক্রি ও কয়েক বছরের জন্যে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন (মুসলিম হা/১৫৩৬; মিশকাত হা/২৮৪১; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৯৩২)। এছাড়া এটা ফল পাকার পূর্বে জমি বিক্রয়ের নামান্তর, যে ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘বলত, আল্লাহ তা‘আলা যদি ফল নষ্ট করে দেন, তবে কিসের বিনিময়ে তোমার ভাইয়ের মাল গ্রহণ করবে’? (বুখারী হা/২২০৮; মুসলিম হা/১৫৫৫)। অতএব এরূপ ক্রয়-বিক্রয় জায়েয নয়। বরং গাছ সমূহের আম ‘মুযারাবা’ অংশীদারী চুক্তিতে বর্গা দিতে হবে (মুওয়াত্ত্বা মালেক হা/২৫৩৪-৩৫; ইরওয়া ৫/২৯২, হা/১৪৬৯-এর আলোচনা ‘মুযারাবা’ অনুচ্ছেদ)। অর্থাৎ জমির মালিক ও ফলের ক্রেতার মধ্যে লাভ-লোকসান অংশীদারী ভিত্তিতে ব্যবসায়িক চুক্তি হবে।

Posted in আমবাগানের জমি এক বা একাধিক বছরের জন্য লীজ দেওয়া যাবে কি? | Tagged ,

আম পরিপক্ব হওয়ার পর তা না নামিয়ে ঠিকায় সম্পূর্ণ বাগান বিক্রি করা যাবে কি?


ফল পরিপক্ব হওয়ার কারণে এভাবে বিক্রয় করা যাবে। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) ফলের উপযোগিতা প্রকাশ হওয়ার আগে তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন এবং খেজুরের রং ধরার আগে (বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন)। জিজ্ঞেস করা হ’ল, রং ধরার অর্থ কি? তিনি বলেন, লাল বর্ণ বা হলুদ বর্ণ ধারণ করা (বুখারী হা/২১৯৭; মুসলিম হা/১৫৩৮)। আর ঠিকায় বেচাকেনা জায়েয। আল্লাহ বলেন, হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা একে অপরের মাল অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না, তোমাদের পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসা ব্যতীত’ (নিসা ৪/২৯)। রাসূল (ছাঃ) অনুমান করে ফলের যাকাত আদায়ের বিধান রেখেছেন’ (আহমাদ হা/১৫৭৫১; দারেমী হা/২৬১৯, যঈফাহ হা/২৫৫৬)

Posted in আম পরিপক্ব হওয়ার পর তা না নামিয়ে ঠিকায় সম্পূর্ণ বাগান বিক্রি করা যাবে কি? | Tagged , ,

আমাদের দেশের ঔষধ কোম্পানীগুলো তাদের রিপ্রেজেন্টিটিভদের মাধ্যমে ডাক্তার ও ফার্মেসী দোকানদারদের নিজ নিজ কোম্পানীর ঔষধ প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করার জন্য দামী দামী গিফট দেয়, ডাক্তারদের সাথে মোটা অংকের আর্থিক চুক্তি করে। ফলে ঐ ডাক্তার নির্দিষ্ট কোম্পানীর বাইরে কোন ঔষধ লেখেন না। এর ফলে অনেক রোগী নিম্নমানের ঔষধ খেয়ে ক্ষতির মধ্যে পড়ে যায়। এরূপ চাকুরী করা জায়েয হবে কি?


যাবে না। এরূপ উপহার প্রদান-গ্রহণ উভয়টিই নিষিদ্ধ। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভালো-মন্দ নির্বিশেষে  উপহার প্রদানকারী কোম্পানীর ঔষধ রোগীদেরকে লিখে দেওয়ার জন্য প্ররোচিত করতেই উক্ত গিফট প্রদান করা হয়ে থাকে। যা ঘুষ হিসাবে গণ্য (ফাতাওয়া লাজনাহ দায়েমাহ ২৩/৫৭০)। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) ঘুষখোর ও ঘুষ প্রদানকারীকে লা‘নত করেছেন (তিরমিযী হা/১৩৩৬; মিশকাত হা/৩৭৫৩; ছহীহ আত-তারগীব হা/২২১১)

Posted in ঔষধ কোম্পানীর ঔষধ প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করার জন্য গিফট নেওয়া যাবে কি? | Tagged ,

ইমাম মালেক (রহঃ) দুই হাত ছেড়ে দিয়ে ছালাত আদায় করতেন কি?


উক্ত মর্মে কোন বিশুদ্ধ বর্ণনা পাওয়া যায় না। ইমাম মালেক (রহঃ) বাম হাতের উপর ডান হাত রেখেই ছালাত আদায় করতেন। তাঁর স্বীয় মুওয়াত্ত্বা গ্রন্থে অধ্যায় রচনা করা হয়েছে, ‘ছালাতে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা’, অতঃপর তাতে সাহল বিন সা‘দের প্রসিদ্ধ হাদীছটি উল্লেখিত হয়েছে (মুওয়াত্ত্বা হা/২৯১)। কারু মতে, কোন একদিন হাতে চরম আঘাত প্রাপ্ত হ’লে তিনি আর হাত বেঁধে ছালাত আদায় করতে পারেননি। অতঃপর ইমাম মালেকের ছাত্ররা ইমামের এরূপ অবস্থা দেখে হাত ছেড়ে ছালাত আদায় শুরু করে। পরবর্তীতে নিজেদের মাযহাব শক্তিশালী করার জন্য যে সকল আম হাদীছে হাত বাঁধার কথা উল্লেখ নেই সেই হাদীছগুলো উপস্থাপন করে মাযহাবী ফৎওয়া দিতে থাকেন। অথচ একটি উছূল সবার জানা যে, আম হাদীছের উপর খাছ হাদীছ আসলে আম হাদীছের আমল গ্রহণযোগ্য নয়। মুতাওয়াতির সূত্রে খাছ হাদীছে এসেছে যে, রাসূল (ছাঃ) ছালাতে বুকের উপর হাত বেঁধেছেন (ফাতাওয়া লাজানা দায়েমা ৬/৩৫৩-৩৬০)। উল্লেখ্য যে, বাম হাতের উপরে ডান হাত রাখা সম্পর্কে ১৮ জন ছাহাবী ও ২ জন তাবেঈ থেকে মোট ২০টি হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। ইবনু আব্দিল বার্র বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) থেকে এর বিপরীত কিছুই বর্ণিত হয়নি এবং এটাই জমহূর ছাহাবা ও তাবেঈনের অনুসৃত পদ্ধতি (নায়লুল আওত্বার ৩/২২; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১০৯)

Posted in ছালাত ইমাম মালেক (রহঃ) দুই হাত ছেড়ে দিয়ে আদায় করতেন কি? | Tagged ,

রাসূল (ছাঃ) জনৈক মহিলাকে বলেন যে, মেহমান তোমার গৃহ থেকে ফিরে যাওয়ার সময় সবধরনের ক্ষতিকর প্রাণী নিয়ে যায়। আর মেহমানদারীর জন্য এটাই তোমার প্রাপ্তি। বর্ণনাটির কোন সত্যতা আছে কি?


একই মর্মে নয়, তবে কাছাকাছি মর্মে একটি বর্ণনা রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, ‘মেহমান তার রিযিক নিয়ে প্রবেশ করে এবং মানুষের গোনাহসমূহ নিয়ে বেরিয়ে যায়। ফলে তাদের গোনাহসমূহ মিটে যায়’। তবে বর্ণনাটি মওযূ বা জাল (যঈফুল জামে‘ হা/৩৬০৪)

Posted in মেহমান তার রিযিক নিয়ে প্রবেশ করে এবং মানুষের গোনাহসমূহ নিয়ে বেরিয়ে যায় কি? | Tagged

আমার বড় বোনের স্বামী পূর্বের স্ত্রীর এক কন্যা রেখে তাকে (পূর্বের স্ত্রীকে) তালাক দেয়। এক্ষণে আমি ঐ মেয়েকে বিবাহ করতে পারব কি?


পারবে। কারণ কুরআনে যে সকল নারীকে হারাম করা হয়েছে দুলাভাইয়ের অন্য স্ত্রীর মেয়ে তার মধ্যে গণ্য নয় (নিসা ৪/২৩)

Posted in বিবাহ বড় বোনের স্বামীর পূর্বের স্ত্রীর কন্যা কে করা যাবে কি? | Tagged