নারীদের ভ্রূ অধিক ঘন হয়ে গেলে কিছুটা ছেটে ফেলায় কোন বাধা আছে কি?


ভ্রূ অধিক ঘন হয়ে দৃষ্টির উপর পতিত হ’লে যে পরিমাণে সমস্যা সৃষ্টি করে ঐ পরিমাণটুকু কেটে ফেলা যায় (ফাতাওয়া উছায়মীন ১১/১৩৩, প্রশ্নোত্তর সংখ্যা ৬২)। কিন্তু কেবল সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ভ্রূ উপড়িয়ে ফেলা বা কেটে ফেলা যাবে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরূপ নারীদের উপর লা‘নত করেছেন (আবুদাঊদ হা/৪১৭০; মিশকাত হা/৪৪৬৮)

Advertisements
Posted in নারীদের ভ্রূ অধিক ঘন হয়ে গেলে কিছুটা ছেটে ফেলায় কোন বাধা আছে কি? | Tagged ,

একটি ইসলামী পত্রিকার প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে যে, মুহাররম মাসের ৯-১১ মোট তিনদিন ছিয়াম পালন করা উত্তম ও পরিপূর্ণ পদ্ধতি। একথা সত্য কি?


একথা ঠিক নয়। বরং মুহাররম মাসের নবম ও দশম এ দু’দিন ছিয়াম পালন করাই সর্বোত্তম। কারণ রাসূল (ছাঃ) ইহূদীদের খেলাফ করার জন্য দশম দিনের সাথে নবম দিন যোগ করে মোট দু’দিন ছিয়াম পালনের আকাংখা প্রকাশ করেছিলেন (মুসলিম হা/১১৩৪; মিশকাত হা/২০৪১)। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, তোমরা ইহূদীদের বিরোধিতা কর এবং নবম ও দশম দিনে ছিয়াম পালন কর (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/৭৮৩৯, সনদ ছহীহ)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘তোমরা আশূরার দিন ছিয়াম রাখ এবং ইহূদীদের খেলাফ কর। তার পূর্বে একদিন বা পরে একদিন ছিয়াম পালন কর’ (আলবানী, ছহীহ ইবনু খুযায়মা হা/২০৯৫, ২/২৯০ পৃঃ, মওকূফ ছহীহ)

প্রশ্নে উল্লেখিত ৩ দিন ছিয়ামের বিষয়টি সম্ভবতঃ ইবনু আববাস (রাঃ)-এর অন্য একটি যঈফ বর্ণনা থেকে নেওয়া হয়েছে। যেখানে আশূরার দিন এবং তার একদিন আগে ও পরে মোট তিনদিন ছিয়াম রাখার নির্দেশনা এসেছে (যঈফুল জামে‘ হা/৩৫০৬)। অতএব মুহাররম মাসের নবম ও দশম দিনে ছিয়াম পালন করাই সর্বোত্তম।

Posted in মুহাররম মাসের ৯-১১ মোট তিনদিন ছিয়াম পালন করা উত্তম কি? | Tagged

কারু পক্ষ থেকে বদলী হজ্জ বা ওমরাহ করায় কোন বাধা আছে কি? এছাড়া তাওয়াফকালীন সময়ে তালবিয়া পাঠ করা যাবে কি?


কোন বাধা নেই। যাদের পক্ষ থেকে বদলী হজ্জ ও ওমরাহ করা শরী‘আত সম্মত তারা হ’লেন, মৃত ব্যক্তি, অতি বৃদ্ধ, চির রোগী, এমন মহিলা যার সাথে মাহরাম নেই প্রমুখ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৫১১-১৩ ‘হজ্জ’ অধ্যায়)। আবু রাযীন আল-উকায়লী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা খুবই বৃদ্ধ। তিনি হজ্জ, ওমরাহ, এমনকি সফর করতেও সক্ষম নন। তিনি বললেন, ‘তোমার পিতার পক্ষে তুমি হজ্জ ও ওমরা আদায় কর’ (আবুদাউদ হা/১৮১০; তিরমিযী হা/৯৩০; মিশকাত হা/২৫২৯, সনদ ছহীহ)। তবে যাকে পাঠানো হবে তাকে অবশ্যই ইতিপূর্বে নিজের হজ্জ সম্পাদন করতে হবে (আবুদাঊদ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/২৫২৮, হাদীছ ছহীহ)। সুস্থ ও সবল ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলী হজ্জ জায়েয নয়। বরং তাকে নিজেই হজ্জ করতে হবে (আল-মুগনী ৩/২২৩; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২১/১৪০)। আর তাওয়াফ ও সাঈ চলাকালীন সময়ে তালবিয়া পাঠ করা উচিৎ নয়। কেননা এসময়ে পাঠ করার জন্য বিভিন্ন দো‘আ রয়েছে (নববী, শরহ মুসলিম ৮/৯১) ইবনু আববাস (রাঃ) ওমরার সময় হাজারে আসওয়াদ স্পর্শ করার পর তালবিয়া পাঠ বন্ধ করতেন (তিরমিযী হা/৯১৯; ইরওয়া হা/১০৯৯)। ‘স্পর্শ করা’ অর্থ হাজারে আসওয়াদের দিকে ইশারা করে তাওয়াফ শুরুকালীন সময়ে।

Posted in বদলী হজ্জ বা ওমরাহ করায় কোন বাধা আছে কি? | Tagged

অমুসলিম বন্ধুদের দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানোর ক্ষেত্রে শূকরের গোশত খাওয়ানো যাবে কি?


শূকরের গোশত নিজেও খাওয়া যাবে না, অপরকেও খাওয়ানো যাবে না। কারণ এটিকে আল্লাহ হারাম করেছেন (বাক্বারাহ ২/১৭৩) এবং  রাসূল (ছাঃ) মক্কা বিজয়ের দিন এর ক্রয়-বিক্রয় হারাম করেছেন (বুখারী হা/২২৩৬; মুসলিম হা/১৫৮১; মিশকাত হা/২৭৬৬)

Posted in অমুসলিম বন্ধুদের শূকরের গোশত দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো যাবে কি? | Tagged , , ,

জনৈক ব্যক্তি দু’জন স্ত্রী রেখে মারা গেছেন। একজন নিঃসন্তান, অপরজনের ৩ ছেলে। এক্ষণে সম্পদ কিভাবে বণ্টিত হবে?


যদি মৃতের পিতা-মাতা বা ঊর্ধ্বতন কোন ওয়ারেছ না থাকে, তাহ’লে দুই স্ত্রী আট ভাগের এক ভাগ এবং বাকী সমুদয় সম্পত্তি ছেলেরা পাবে। আল্লাহ বলেন, আর তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে স্ত্রীরা সিকি পাবে, যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে। যদি থাকে, তবে তারা এক-অষ্টমাংশ পাবে, তোমাদের অছিয়ত পূরণ ও ঋণ পরিশোধের পর’ (নিসা ৪/১২)। আর যদি মৃতের পিতা-মাতা থাকে তাহ’লে তারা প্রত্যেকে ছয়ভাগের একভাগ করে পাবে (নিসা ৪/১১)

Posted in জনৈক ব্যক্তি দু’জন স্ত্রী রেখে মারা গেছেন। তার সম্পদ কিভাবে বণ্টিত হবে? | Tagged , ,

আমার বড় ভাই পিতার সম্পদ ক্রয়ে এবং আমাদের গৃহ নির্মাণে অনেক আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। যদিও সবকিছু পিতার নামেই রেজিস্ট্রি হয়েছে। এক্ষণে পিতার মৃত্যুর পর সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে কমবেশী করা যাবে কি?


এক্ষেত্রে ভাই-বোন সর্বসম্মতিক্রমে তাকে কিছু বেশী দিলে তাতে শরী‘আতে কোন বাধা নেই। তবে সম্মতি না দিলে কোন কম-বেশী করার সুযোগ নেই। কেননা প্রত্যেকের প্রাপ্য হক পবিত্র কুরআনে নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে (নিসা ৪/১১)

Posted in সম্পদ পিতার মৃত্যুর পর বণ্টনের ক্ষেত্রে কমবেশী করা যাবে কি? | Tagged ,

ছালাত আদায়ের পর পোষাকে নাপাকী লেগে থাকার বিষয়টি বুঝতে পারলে ছালাত পুনরায় আদায় করতে হবে কি?


ছালাত পুনরায় আদায় করতে হবে না। কারণ রাসূল (ছাঃ) ছালাতের মধ্যে তাঁর জুতায় নাপাকী লেগে থাকার বিষয়টি জানতে পারলে জুতা ছুঁড়ে ফেলেন। কিন্তু ছালাত পুনরায় আদায় করেননি (আবুদাউদ হা/৬৫০; মিশকাত হা/৭৬৬)

Posted in ছালাত আদায়ের পর নাপাকী দেখতে পেলে পুনরায় আদায় করতে হবে কি? | Tagged ,

রাসূল (ছাঃ)-এর বাণী (মুসলিম হা/১৮২১) অনুযায়ী তাঁর মৃত্যুর পর ১২ জন খলীফার সময়কাল পর্যন্ত ইসলাম দৃঢ়ভাবে টিকে থাকবে। এক্ষণে উক্ত ১২ জন খলীফা কে কে? ৪ খলীফার ইসলামী খেলাফত টিকে ছিল কি?


উক্ত হাদীছে বর্ণিত ১২ জন খলীফা সম্পর্কে ওলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন। ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, এর দ্বারা ন্যায়পরায়ণ শাসকদের বুঝানো হয়েছে, যাদের অনেকে পূর্বে গত হয়েছেন এবং ক্বিয়ামতের পূর্বে অবশিষ্টদের দ্বারা পূর্ণতা লাভ করবে (শারহুন নববী ‘আলা মুসলিম ১২/২০২)। মুহাদ্দিছ কুরতুবী (৫৭৮-৬৫৬ হি.) বলেন, এ বিষয়ে তিনটি মত রয়েছে। তবে আমার নিকট সর্বোত্তম হ’ল এই যে, তারা হ’লেন ন্যায়পরায়ণ খলীফাগণ। যাদের মধ্যে চার খলীফা এবং ওমর বিন আব্দুল আযীয রয়েছেন। তাছাড়া ইনছাফ ও সত্য প্রকাশে ব্রতী খলীফাগণ এর অন্তর্ভুক্ত হবেন। যতদিন না এই সংখ্যা পূর্ণ হয়’ (আল-মুফহিম শরহ মুসলিম ৮/৪)। ইবনু কাছীর বলেন, অত্র হাদীছে ১২জন ন্যায়পরায়ণ খলীফার সুসংবাদ রয়েছে। যারা তাদের মাঝে ইনছাফ ও সত্য প্রতিষ্ঠা করবেন। এদের ধারাবাহিক হওয়া আবশ্যক নয়। অবশ্য চারজন ধারাবাহিক ছিলেন চার খলীফা। নিঃসন্দেহে ওমর বিন আব্দুল আযীয ছিলেন তাদের অন্যতম। এছাড়া কয়েকজন আববাসীয় খলীফা। বাকীদের খেলাফত না আসা পর্যন্ত ক্বিয়ামত হবে না। ভবিষ্যতের জন্য সুসংবাদপ্রাপ্ত ইমাম মাহদীও তাদের অন্যতম। কারণ তিনিও হবেন ফাতেমা (রাঃ)-এর বংশধর। এর দ্বারা রাফেযী শী‘আদের কথিত ১২ ইমাম অর্থ নেওয়াটা চরম অজ্ঞতা ও বোকামীর পরিচয়। যার কোনই শারঈ ভিত্তি নেই (ইবনু কাছীর, তাফসীর সূরা মায়েদাহ ১৪ আয়াত; ইবনু  তায়মিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ ৮/১৭৩-১৭৪)। আর চার খলীফার খেলাফত পূর্ণ ত্রিশ বছর টিকে ছিল যার ভবিষ্যদ্বাণী রাসূল (ছাঃ) করেছিলেন (তিরমিযী হা/২২২৬; আহমাদ হা/২১৯৬৯; মিশকাত হা/৫৩৯৫; ছহীহাহ হা/৪৫৯)

উক্ত ৩০ বছর হ’ল যথাক্রমে : (১) হযরত আবুবকর (১১-১৩ হি.) = ২বছর (২) হযরত ওমর (১৩-২৩ হি.) = ১০ বছর (৩) হযরত ওছমান (২৩-৩৫ হি.) = ১২ বছর (৪) হযরত আলী (৪ বছর ৯ মাস ও হযরত হাসান বিন আলী ৩ মাস- রামাযান হ’তে রবীউল আউয়াল ৪১ হি.; ৩৫-৪১ হি.)= ৬ বছর। সর্বমোট ৩০ বছর (আহলেহাদীছ আন্দোলন, ডক্টরেট থিসিস (প্রকাশকাল : রাজশাহী ১৯৯৬ খৃ.) ১২৬ পৃ. টীকা-১২৫)

Posted in রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুর পর কোন ১২ জন খলীফায় দৃঢ়ভাবে ইসলাম টিকে থাকবে? | Tagged

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৫০ বছর বা ১০০ বছর পূর্তি ঘটা করে পালন করা হয়। এরূপ করা কি শরী‘আতসম্মত?


ইসলামে কোন দিবস পালন নেই। প্রচলিত বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান বিজাতীয় অনুকরণ মাত্র। রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরামের যুগে এমন কোন দিবস পালনের নযীর নেই। সুতরাং মুসলমানদের এসব থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে’ (আবুদাঊদ হা/৪০৩১, সনদ হাসান, মিশকাত হা/৪৩৪৭; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ২/২৬১)

Posted in বছর পূর্তি উপলক্ষে কোন অনুষ্ঠান করা শরী‘আতসম্মত কি? | Tagged

বীর্য যদি অপবিত্র না হয়, তাহ’লে আমরা ফরয গোসল করি কেন? কেবল ধুয়ে ফেললেই যথেষ্ট হ’ত। সঠিক উত্তর জানতে চাই।


শরী‘আতের কোন বিধানের কারণ তালাশ করা অন্যায়। বরং নির্বিবাদে মেনে নেওয়ার মধ্যেই বান্দার কল্যাণ নিহিত রয়েছে। এক্ষণে ফরয গোসলের তাৎপর্য এটাই হ’তে পারে যে, বীর্য পুরো দেহ শোষণ করে বের হয় এবং তাতে শরীর ও মন উভয়টিই দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রতিটি লোমকুপ দিয়ে ঘাম বের হওয়ার কারণে দেহে নিস্তেজভাব সৃষ্টি হয়। আর এগুলোর উত্তম সমাধান হ’ল গোসল। কারণ গোসল দেহ-মন ও আত্মাকে সতেজ করে। প্রতিটি শিরা-উপশিরাকে শক্তিশালী করে। চিকিৎসকগণ বলেন, মিলনোত্তর গোসল শরীরে শক্তি ফিরিয়ে দেয়। যা বের হয় তার পুনরাগমন ঘটে এবং এটি দেহ ও মন দু’টির জন্যই উপকারী। অপরদিকে গোসল পরিহার করা ক্ষতিকর। ফরয গোসল কল্যাণকর হওয়ার ব্যাপারে জ্ঞান ও ফিৎরাতের সাক্ষ্যই যথেষ্ট’ (ইবনুল ক্বাইয়িম, ই‘লামুল মুওয়াক্কি‘ঈন ২/৪৫)

উল্লেখ্য যে, বীর্য অপবিত্র নয়। রাসূল (ছাঃ)-এর কাপড়ে তা লেগে শুঁকিয়ে গেলে আয়েশা (রাঃ) নখ দিয়ে খুঁটে ফেলতেন। অতঃপর তিনি ঐ কাপড়েই ছালাত আদায় করতেন (মুসলিম হা/২৮৮; মিশকাত হা/৪৯৫)। এছাড়া অধিকাংশ ছাহাবী ও সালাফে ছালেহীন বীর্যকে পবিত্র বলেছেন (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২১/৬০৫; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৫/৩৮০)

Posted in বীর্য যদি অপবিত্র না হয়; তাহ’লে আমরা ফরয গোসল করি কেন? | Tagged

বিদেশে গিয়ে তালাক প্রদানের নিয়তে সাময়িক বিবাহ বৈধ হবে কি? শী‘আ সম্প্রদায় এরূপ বিবাহ করে বলে জানি। এটা সঠিক কি?


বিবাহ করা হয় স্থায়ীভাবে বসবাসের নিয়তে। তালাকের নিয়তে বিবাহ করা হারাম। ইসলামের প্রাথমিক যুগে সাময়িক বিবাহ জায়েয ছিল। কিন্তু মক্কা বিজয়ের দ্বিতীয় দিন তা ক্বিয়ামত পর্যন্ত চিরতরে হারাম করা হয় (মুসলিম হা/১৪০৬ (২১)। কিন্তু শী‘আ রাফেযীরা এখনও এই বিবাহকে জায়েয মনে করেন, অথচ তাদেরই অন্যতম ইমাম জা‘ফর ছাদেক (৮০-১৪৮ হি.) এটিকে ‘যেনা’ বলে অভিহিত করেছেন (বায়হাক্বী হা/১৩৯৬০, ৭/২০৭ পৃ.)

Posted in বিবাহ তালাক প্রদানের নিয়তে বিদেশে গিয়ে সাময়িক বৈধ হবে কি? | Tagged ,

কোন মাদরাসা বা ইসলামী প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে চাঁদা আদায় করে দেওয়ার কাজে নিযুক্ত হওয়া জায়েয হবে কি?


কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে নিযুক্ত হওয়া যাবে। কারণ কমিশনটি হ’ল পারিশ্রমিকের অন্তর্ভুক্ত। তবে এক্ষেত্রে তাক্বওয়া অবলম্বন করবে এবং কোন ধরনের ছল-চাতুরীর আশ্রয় নিবে না। নবী করীম (ছাঃ) বলেন, ‘আমরা যাকে মজুরীর বিনিময়ে কোন কাজে নিযুক্ত করি, তার অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করলে সেটি হবে আত্মসাৎ’ (আবুদাঊদ হা/২৯৪৩; মিশকাত হা/৩৭৪৮)

Posted in ইসলামী প্রতিষ্ঠানে কমিশনের বিনিময়ে চাঁদা আদায় করে দেওয়ার কাজে নিযুক্ত হওয় | Tagged

জনৈক ব্যক্তি গরুর সাথে কুকর্মে লিপ্ত হয়েছে। এক্ষণে তার শাস্তিবিধান কি হবে?


এরূপ নিকৃষ্ট কর্মে লিপ্ত ব্যক্তির উপর বিচারক পরিস্থিতি অনুপাতে শাস্তি প্রদান করবেন। তবে তার উপর ‘হদ’ নেই। আর পশুটিকে হত্যা করতে হবে (উছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ ১৪/২৪৬; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী ৯/৬২)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি পশুর সাথে কুকর্মে লিপ্ত হয়, সে অভিশপ্ত (আহমাদ হা/১৮৭৫; ছহীহুল জামে‘ হা/৫৮৯১)। ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা যে মানুষকে পশুর সাথে কুকর্মে লিপ্ত দেখ, তাকে এবং পশুটিকে হত্যা কর। ইবনু আববাস (রাঃ)-কে বলা হ’ল, পশুটির অপরাধ কি? তিনি বললেন, এ ব্যাপারে আমি রাসূল (ছাঃ)-এর কাছে কিছু শুনিনি। তবে আমার ধারণামতে যে পশুটির সাথে এরূপ করা হয়েছে, রাসূল (ছাঃ) তার গোশত খাওয়া বা এটাকে কোন কাজে ব্যবহার করাকে লোকদের জন্য পসন্দ করেননি (আবুদাউদ হা/৪৪৬৪; তিরমিযী হা/১৪৫৫; আহমাদ হা/২৪২০; ছহীহাহ হা/৩৪৬২)। হাদীছটিকে ইমাম আবুদাঊদ সহ অনেক বিদ্বান যঈফ বলেছেন। সেকারণ এর ভিত্তিতে ঐ ব্যক্তির উপর ‘হদ’ আরোপ করা যায় না (উছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ ১৪/২৪৬; আরনাঊত্ব, আহমাদ হা/২৪২০-এর আলোচনা; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী ৯/৬২)। ইবনু আববাস (রাঃ) অপর এক বর্ণনায় বলেন, যে ব্যক্তি পশুর সাথে কুকর্ম করল, তার উপর কোন ‘হদ’ নেই (তিরমিযী হা/১৪৫৫; মিশকাত হা/৩৫৮৬)। ইমাম তিরমিযী বলেন, এই হাদীছটি প্রথম হাদীছের তুলনায় অধিকতর ছহীহ এবং এর উপরেই বিদ্বানগণের আমল রয়েছে (তিরমিযী হা/১৪৫৫)

Posted in গরুর সাথে কুকর্মে লিপ্ত হওয়া ব্যাক্তির শাস্তিবিধান কি হবে? | Tagged ,

জনৈক ব্যক্তি বলেন ছহীহ বুখারীতে হাদীছ আছে যে, মাথায় উকুন হ’লে ৩ দিন ছিয়াম বা ৬ জন মিসকীনকে অর্ধ ছা‘ করে খাওয়ালে মাথার উকুন থাকবে না। একথা কি সত্য?


এরূপ কোন নির্দেশনা ছহীহ বুখারী বা অন্য কোন হাদীছ গ্রন্থে নেই। তথ্যদাতা সম্ভবতঃ হজ্জের বিধান সংশ্লিষ্ট ছহীহ বুখারীর একটি হাদীছ দেখে ভ্রমে পতিত হয়েছেন। হাদীছটি হ’ল- আব্দুল্লাহ ইবনু মা‘ক্বিল (রহঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি কা‘ব ইবনু উজরা (রাঃ)-এর পাশে বসে তাঁকে ফিদইয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এ আয়াত (বাক্বারাহ ২/১৯৬) বিশেষভাবে আমার সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। তবে এ হুকুম সাধারণভাবে তোমাদের সকলের জন্যই। (হুদায়বিয়ার দিন মুহরিম অবস্থায়) রাসূল (ছাঃ) আমার নিকটে এলেন এবং আমাকে বললেন, তোমার মাথার উকুন কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তুমি মাথা মুন্ডন কর এবং (ফিদইয়া স্বরূপ) ৩ দিন ছিয়াম রাখ অথবা ৬ জন মিসকীনকে অর্ধ ছা‘ করে খাদ্য দান কর’ (বুখারী হা/৪১৯০ ‘মাগাযী’ অধ্যায় ‘ হোদায়বিয়ার সন্ধি’ অনুচ্ছেদ; মুসলিম হা/১২০১)

Posted in মাথায় উকুন হ’লে ৩ দিন ছিয়াম রাখলে মাথার উকুন থাকবে না। একথা কি সত্য? | Tagged ,

আমি একটি হজ্জ এজেন্সীতে চাকুরী করি। এরা ব্যাংকে ঋণ নিয়ে হজ্জ ব্যবসা করে। অন্যদিকে হাজীদের সাথে চুক্তি ঠিক রাখে না। এরূপ প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করা জায়েয হবে কি?


 শরী‘আতসম্মত কাজের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত যেকোন কোম্পানীতে চাকুরী করা যাবে। যদিও তার মজুরী সূদযুক্ত অর্থ দিয়ে প্রদান করা হয়। আর এজন্য দায়ী হবে উক্ত সূদ গ্রহীতা কোম্পানীর মালিক (উছায়মীন, লিক্বাউল বাবিল মাফতূহ ১৫/৫৯)। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি যেহেতু প্রতারণার সাথে জড়িয়ে পড়েছে, সেজন্য জেনেশুেনে তাদের অন্যায় কাজে সহায়তা করা যাবে না। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা পাপ ও অন্যায়ের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না’ (মায়েদাহ ৫/২)। অতএব যদি তাদেরকে সংশোধন করা সম্ভব না হয়, তবে চাকুরী ছেড়ে দিতে হবে।

Posted in ব্যাংকে ঋণ নিয়ে হজ্জ ব্যবসা করা এজেন্সিতে চাকুরী করা জায়েয হবে কি? | Tagged , , ,

রাতে একাকী ঘুমানোর সময় হাফপ্যাণ্ট তথা হাঁটুর উপর পর্যন্ত কাপড় পরিধান করায় কোন বাধা আছে কি?


একাকী বা নির্জনে এমন পোষাক তাক্বওয়া এবং শালীনতার পরিপন্থী বিধায় পরিধান করা উচিৎ নয়। বাহয ইবনু হাকীম থেকে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের ঢেকে রাখার অঙ্গসমূহ কার সামনে আবৃত রাখবো এবং কার সামনে অনাবৃত করব? তিনি বলেন, তোমার স্ত্রী ও দাসী ব্যতীত সকলের সামনে তা আবৃত রাখ। ..বর্ণনাকারী বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ যখন নির্জনে থাকে? তিনি বলেন, লজ্জার ব্যাপারে আল্লাহ মানুষের চেয়ে অধিক হকদার’ (আবুদাউদ হা/৪০১৭; ইবনু মাজাহ হা/১৯২০; তিরমিযী হা/২৭৬৯)

Posted in রাতে ঘুমানোর সময় হাঁটুর উপর পর্যন্ত কাপড় পরিধান করায় কোন বাধা আছে কি? | Tagged

হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণকারী জনৈক হিন্দু ভাই ইসলাম গ্রহণ করতে চান। কিন্তু তা করতে হ’লে একদিকে তার পিতা-মাতার নির্দেশ অমান্য করতে হবে। অন্যদিকে পরিবারকে চিরদিনের মত পরিত্যাগ করতে হবে। এক্ষণে তার জন্য করণীয় কি?


ইসলাম গ্রহণই সর্বপ্রথম করণীয়। পিতা-মাতা যদি শিরকের আদেশ দেন তবে তা মানার সুযোগ নেই, যদিও তাদের সাথে স্বাভাবিক সদাচরণ করতে হবে। আললাহ বলেন, ‘আর যদি পিতা-মাতা তোমাকে চাপ দেয় আমার সাথে কাউকে শরীক করার জন্য, যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তাহ’লে তুমি তাদের কথা মানবে না। তবে পার্থিব জীবনে তাদের সাথে সদ্ভাব রেখে বসবাস করবে’ (লোকমান ৩১/১৫)। আবুবকর (রাঃ)-এর মেয়ে আসমা (রাঃ) বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমার মুশরিক মা আমার নিকট আসেন, তিনি ইসলামে অনাগ্রহী। আমি কি তার সাথে সদাচরণ করব? রাসূল (ছাঃ) বললেন, হ্যাঁ কর’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯১৩)। আর ইসলাম গ্রহণের কারণে যদি পরিবারকে চিরদিনের জন্য ত্যাগও করতে হয়, তবে প্রয়োজনে তা-ই করতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘স্রষ্টার অবাধ্যতায় সৃষ্টির প্রতি কোন আনুগত্য নেই’ (বুখারী হা/৭২৫৭; মুসলিম হা/১৮৪০; মিশকাত হা/৩৬৯৬)। আর ইসলাম কবুল করা ব্যতীত পরকালে মুক্তির কোন উপায় নেই। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন, তাঁর কসম করে বলছি, ইহূদী হৌক বা নাছারা হৌক এই উম্মতের যে কেউ আমার আগমনের খবর শুনেছে, অতঃপর মৃত্যুবরণ করেছে, অথচ আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি, তার উপরে ঈমান আনেনি, সে অবশ্যই জাহান্নামী হবে’ (মুসলিম হা/১৫৩; মিশকাত হা/১০)

Posted in পিতা মাতার অবাধ্য হয়ে হিন্দু থেকে মুসলমান হওয়া যাবে কি?, হিন্দু থেকে মুসলমান হওয়ার জন্য পিতা মাতার অবাদ্য হলে গুনাহগার হবো কি? | Tagged , ,

চুরি, মদ্যপান, জুয়া খেলা ও মিথ্যা কথা বলায় অভ্যস্ত জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে এসে তওবা করতে চাইলে তিনি তাকে কেবল মিথ্যা বলা থেকে নিষেধ করেন। লোকটি তা মেনে নিয়ে বাকী তিনটি কাজ করতে চায়। কিন্তু সত্য কথা বলতে গিয়ে পর্যায়ক্রমে সে বাকী কাজগুলি থেকে তওবা করতে বাধ্য হয়। এ কাহিনীটির কোন সত্যতা আছে কি?


এটি হাদীছ হিসাবে বহুল প্রচলিত, কিন্তু হাদীছ নয়। বরং একটি উপদেশমূলক কাহিনী। উক্ত কাহিনী বিভিন্ন গল্প ও সাহিত্যের বইপত্রে পাওয়া যায় (জাহিয, আল-মাহাসিন ওয়াল আযদাদ ১/৬০; যামাখশারী, রবী‘ঊল আবরার ৪/৩৪০; আত-তাযকিরাতুল হামদুনিয়া ৩/৪৯; মুবাররাদ, আল-কামিল ফিল আদাব ২/১৫৬)। অতএব একে হাদীছ হিসাবে প্রচার করা যাবে না।

Posted in মিথ্যা বলা থেকে নিষেধ করা গল্পটি কি সত্য? | Tagged

প্রবাসে আমরা অনেক বাংলাদেশী ভাই একত্রে থাকি। এখানে বিদেশীদের সালাফী সংগঠন আছে। এক্ষণে আমরা বাংলা ভাষাভাষীরা পৃথক জামা‘আত গঠন করতে পারি কি?


বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে সে দেশেরই কোন হকপন্থী সালাফী সংগঠনের সাথে জড়িত হওয়া যায়। সেটি সম্ভব না হ’লে স্বদেশে অবস্থিত অনুরূপ কোন সংগঠনের শাখা গঠন করে কাজ করা যেতে পারে। সেটিও সম্ভব না হ’লে বাংলা ভাষাভাষীদের নিয়ে পৃথক সালাফী জামা‘আত গঠন করবে। মোটকথা সর্বাবস্থায় জামা‘আতবদ্ধ জীবন পরিচালনাই ইসলামী সমাজব্যবস্থার মূল লক্ষ্য। তা যত বৃহত্তর হয় ততই মঙ্গল।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদের উপর জামা‘আতবদ্ধ জীবন অপরিহার্য করা হ’ল এবং বিচ্ছিন্ন জীবন নিষিদ্ধ করা হ’ল। কেননা শয়তান একক ব্যক্তির সাথে থাকে এবং সে দু’জন থেকে দূরে থাকে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জান্নাতের মধ্যস্থলে থাকতে চায়, সে যেন জামা‘আতবদ্ধ থাকাকে অপরিহার্য করে নেয়’ (তিরমিযী হা/২১৬৫)। তিনি বলেন, ‘জামা‘আতের উপর আল্লাহর হাত থাকে’ (তিরমিযী হা/২১৬৬; মিশকাত হা/১৭৩)

Posted in বাংলা ভাষাভাষীরা পৃথক জামা‘আত গঠন করতে পারি কি? | Tagged

শহীদগণ কি কবরে তিনটি প্রশ্নের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবেন?


শহীদগণ কবরে প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন না এবং কবরের যাবতীয় ফিৎনা থেকে রক্ষা পাবেন।  জনৈক ছাহাবী রাসূল (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! শহীদ ব্যতীত সকল মুমিনই কবরের ফিৎনায় পতিত হবে। এর কারণ কি? তিনি বললেন, তার মাথার উপর তরবারীর ঝলকই তাকে কবরের ফিৎনা থেকে নিরাপদ রাখবে (নাসাঈ হা/২০৫৩; ছহীহুল জামে‘ হা/৪৪৯৩; ছহীহ আত-তারগীব হা/১৩৮০)

তিনি আরও বলেন, শহীদের জন্য আল্লাহ তা‘আলার নিকট ৬টি পুরস্কার বা সুযোগ রয়েছে। (ক) শহীদের রক্তের প্রথম ফোঁটা যমীনে পড়তেই তাকে মাফ করে দেওয়া হয় এবং জান বের হওয়ার প্রাক্কালেই তাকে জান্নাতের ঠিকানা দেখানো হয় (খ) তাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করা হয় (গ) ক্বিয়ামত দিবসের ভয়াবহতা হ’তে তাকে নিরাপদ রাখা হয় (ঘ) সেদিন তার মাথায় সম্মানের মুকুট পরানো হবে। যার একটি মুক্তা দুনিয়া ও তার মধ্যেকার সবকিছু হতে উত্তম (ঙ) তাকে ৭২ জন সুন্দর চক্ষুবিশিষ্ট হূরের সাথে বিয়ে দেওয়া হবে এবং (চ) ৭০ জন নিকটাত্মীয়ের জন্য তার সুফারিশ কবুল করা হবে’ (তিরমিযী হা/১৬৬৩; মিশকাত হা/৩৮৩৪; ছহীহাহ হা/৩২১৩)। অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, আল্লাহর রাস্তায় সীমান্ত পাহারারত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী সৈনিকগণ কবরের ফিৎনা হ’তে নিরাপদ থাকবেন (মুসলিম হা/১৯১৩; মিশকাত হা/৩৭৯৩)

Posted in শহীদগণ কি কবরে তিনটি প্রশ্নের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবেন? | Tagged

ক্রোধ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব ও এর সুফল সম্পর্কে কুরআন ও হাদীছ থেকে জানতে চাই।


ক্রোধ মানবজীবনের অবিচ্ছেদ্য ষড়রিপুর অন্যতম। যা নিয়ন্ত্রণে রাখা অতীব যরূরী। মুত্তাক্বীদের পরিচয় বর্ণনায় আল্লাহ বলেন, ‘যারা সচ্ছলতা ও অসচ্ছলতা সর্বাবস্থায় (আল্লাহর রাস্তায়) ব্যয় করে, ক্রোধ দমন করে ও মানুষকে ক্ষমা করে’ (আলে ইমরান ৩/১৩৪)। অন্যত্র তিনি মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনায় বলেন, ‘যখন তারা ক্রুদ্ধ হয় তখন ক্ষমা করে’ (শূরা ৪২/৩৭)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার রাগ প্রয়োগের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সংযত থাকে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সৃষ্টিকুলের মধ্য থেকে ডেকে নিবেন এবং তাকে হূরদের মধ্য হ’তে তার পসন্দমত যে কোন একজনকে বেছে নিতে বলবেন’ (আবুদাঊদ হা/৪৭৭৭; ইবনু মাজাহ হা/৪১৮৬; মিশকাত হা/৫০৮৮)। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট একজন লোক এসে কিছু শিক্ষাদানের আহবান জানালে তিনি বললেন, তুমি ক্রোধ প্রকাশ করো না, উত্তেজিত হয়ো না। লোকটি তার কথার পুনরাবৃত্তি করলে প্রতিবারই তিনি বললেন, ক্রোধ প্রকাশ করো না, উত্তেজিত হয়ো না’ (বুখারী হা/৬১১৬; মিশকাত হা/৫১০৪)। আরেক বর্ণনায় এসেছে, জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এমন একটি আমলের কথা বলুন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তিনি বললেন, ‘তুমি রাগ প্রকাশ করবে না, তোমার জন্য জান্নাত রয়েছে’ (ত্বাবারাণী আওসাত্ব হা/২৩৫৩; ছহীহ আত-তারগীব হা/২৭৪৯)। তিনি আরেক হাদীছে বলেন, ‘কোন বান্দা আল্লাহর সন্তোষ লাভের আকাঙ্ক্ষায় ক্রোধের ঢোক গলধঃকরণ (সংবরণ) করলে, আল্লাহর নিকট ছওয়াবের দিক থেকে তার চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ কোন ঢোক আর নেই’ (ইবনু মাজাহ হা/৪১৮৯; আহমাদ হা/৬১১৪; মিশকাত হা/৫১১৬)। ইবনু ওমর (রাঃ) রাসূলকে বলেন, কিসে আমাকে আল্লাহর ক্রোধ থেকে রক্ষা করবে? তিনি বললেন, তুমি ক্রোধ প্রকাশ করবে না (ছহীহ ইবনু হিববান হা/২৯৬; ছহীহ আত-তারগীব হা/২৭৪৭)। এছাড়াও ক্রোধকে সকল অনিষ্টের মূল বলা হয়েছে (আহমাদ হা/২৩২১৯; ছহীহ আত-তারগীব হা/২৭৪৬)। অত্র হাদীছগুলোর উপর আমল করলে সমাজে পরস্পরে ক্রোধ, হিংসা, মতভেদ ও ভাঙ্গন কমে যাবে ইনশাআল্লাহ।

Posted in ক্রোধ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব ও এর সুফল সম্পর্কে জানতে চাই।

রাক্বীব ও আতীদ কি দু’জন ফেরেশতার নাম? আধুনিক যুগের একজন আরব লেখক এর দ্বারা মস্তিষ্কের ডান ও বাম অংশ বুঝিয়েছেন। তার এ বক্তব্যের কোন শারঈ ভিত্তি রয়েছে?


কুরআনে বর্ণিত ‘রাক্বীবুন ‘আতীদ’ সদা প্রস্ত্তত প্রহরী’ (ক্বাফ ১৭-১৮) কোন ফেরেশতার নাম নয়, বরং এর দ্বারা দু’জন বা একদল সম্মানিত লেখক ফেরেশতাকে বুঝানো হয়েছে, যাঁরা প্রত্যেক মানুষের সাথে থাকেন। যাঁরা মানুষের ভাল-মন্দ আমল লিখেন। তাদের হেফাযতের দায়িত্বে থাকেন। আল্লাহ বলেন, ‘যখন দুই ফেরেশতা ডানে ও বামে বসে তার আমল লিপিবদ্ধ করে’; ‘সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই লিপিবদ্ধ করার জন্য তার কাছে সদা প্রস্ত্তত প্রহরী (ফেরেশতা) রয়েছে’ (ক্বাফ ৫০/১৭-১৮)। তিনি আরো বলেন, ‘অথচ তোমাদের উপরে অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত রয়েছে’; ‘সম্মানিত লেখকবৃন্দ’; ‘তারা জানেন তোমরা যা কর’ (ইনফিতার ৮২/১০-১২)

আবু মিজলায বলেন, মুরাদ এলাকা থেকে জনৈক ব্যক্তি আলী (রাঃ)-এর কাছে এল। তিনি বললেন, হে আলী! আপনি আপনার জন্য পাহারা নিযুক্ত করুন। কেননা মুরাদ এলাকার কিছু লোক আপনাকে হত্যা করতে চায়। জবাবে আলী (রাঃ) বললেন, নিশ্চয়ই প্রত্যেক ব্যক্তির সঙ্গে দু’জন করে ফেরেশতা থাকে। যারা তাকে হেফাযত করে সেসব বিষয় থেকে যা তাক্বদীরে নেই। কিন্তু যখন তাক্বদীর উপস্থিত হয়, তখন তারা উভয়ে তার থেকে সরে যায়’ (ইবনু কাছীর, তাফসীর সূরা রা‘দ ১১ আয়াত ৪/৪৩৯ পৃ.)। কা‘ব আল-আহবার বলেন, যদি আল্লাহ তোমাদের জন্য ফেরেশতা নিয়োগ না করতেন, যারা তোমাদের খাদ্য, পানীয় ও লজ্জাস্থান সবকিছু হেফাযত করে, তাহ’লে শয়তান জিনেরা তোমাদের উঠিয়ে নিয়ে যেত’ (ঐ)। সুতরাং প্রতিটি মানুষের কাঁধে লেখক ফেরেশতাগণ থাকেন- এটা কুরআন ও হাদীছ থেকে প্রমাণিত এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের সর্বসম্মত আক্বীদা। সুতরাং যে যুক্তিবাদী লেখক ‘রাকীবুন আতীদ’ দ্বারা মানব মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশ বুঝাতে চেয়েছেন, তার কথার কোন শারঈ ভিত্তি নেই। এগুলি স্রেফ কষ্ট কল্পনা মাত্র। অতএব এসব বক্তব্য থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।

Posted in রাক্বীব ও আতীদ কি দু’জন ফেরেশতার নাম? | Tagged

আহলে কুরআন কারা? এদের উৎপত্তি কখন থেকে? এরা কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত কি?


যারা কুরআন মুখস্থ করে ও অর্থ অনুধাবন করে এবং তদনুযায়ী আমল করে তারাই মূলতঃ আহলে কুরআন। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কতক লোক আহলে কুরআন। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বলেন, কুরআন তেলাওয়াতকারীগণ আহলে কুরআন এবং তাঁর বিশেষ বান্দা’ (ইবনু মাজাহ হা/২১৫; ছহীহুল জামে‘ হা/২১৬৫; ছহীহ আত-তারগীব হা/১৪৩২)। অত্র হাদীছের ব্যাখ্যায় মানাভী বলেন, ‘অর্থাৎ কুরআনের হাফেযগণ এবং তদনুযায়ী আমলকারী আল্লাহর ওলীগণ’ (ফায়যুল কাদীর হা/২৭৬৮, ৩/৬৭)

কিন্তু বর্তমান যুগে হাদীছ অস্বীকারকারী ভ্রান্ত ফেরকার লোকেরা নিজেদেরকে ‘আহলে কুরআন’ বলে দাবী করে। অথচ কুরআনের অসংখ্য আয়াতে হাদীছ তথা রাসূল (ছাঃ)-এর আদেশ-নিষেধ মেনে চলার নির্দেশ রয়েছে। যা তারা মানেনা। বস্ত্ততঃ রাসূল (ছাঃ)-এর ভবিষ্যদ্বাণীর একটি বাস্তব চিত্র হ’ল ভ্রান্ত ফেরকা আহলে কুরআন।

রাসূল (ছাঃ) উক্ত দল সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, ‘জেনে রাখো আমাকে কিতাব (কুরআন) এবং তার সাথে অনুরূপ একটি বস্ত্ত দেয়া হয়েছে। অচিরেই এমন এক সময় আসবে যখন কোন পেটপুরে খাদ্য গ্রহণকারী (প্রাচুর্যবান) ব্যক্তি তার আসনে বসে বলবে, তোমরা শুধু এ কুরআনকেই গ্রহণ কর, তাতে যা হালাল পাবে তা হালাল আর তাতে যা হারাম পাবে তা হারাম মনে কর’ (আবুদাঊদ হা/৪৬০৫ প্রভৃতি; মিশকাত হা/১৬২)। অন্য হাদীছে এসেছে, ‘আমি যেন তোমাদের মধ্যে কাউকে এমন অবস্থায় না পাই যে, সে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে এবং তার নিকট যখন আমার আদিষ্ট কোন বিষয় অথবা আমার নিষেধ সম্বলিত কোন কিছু (হাদীছ) উত্থাপিত হবে তখন সে বলবে, আমি তা জানি না, আল্লাহ তা‘আলার কিতাবে আমরা যা পেয়েছি, তারই অনুসরণ করব’ (আবুদাঊদ হা/৪৬০৪ প্রভৃতি; মিশকাত হা/১৬৩)

রাসূল (ছাঃ)-এর উক্ত ভবিষ্যদ্বাণী হিজরী দ্বিতীয় শতকের শেষের দিকে বাস্তবে দেখা দেয়। এ সময় এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটে, যারা সুন্নাতকে অস্বীকার করে। ইমাম শাফেঈ এমন একজন হাদীছ অস্বীকারকারী ব্যক্তির সাথে তার মুনাযারার কথা উল্লেখ করেছেন (কিতাবুল উম্ম ৭/২৮৭-২৯২)। সেখানে তিনি তার দাবীর অসারতা প্রমাণ করেছেন। অতঃপর দীর্ঘ এগারো শত বছর হাদীছ অস্বীকারকারীদের অস্তিত্বের কোন প্রমাণ মিলেনি। বিগত শতাব্দী তথা ত্রয়োদশ হিজরীতে এই ফিৎনার পুনরাবির্ভাব ঘটে মিসর, ইরাক এবং ভারতে (বিস্তারিত দ্রঃ ‘হাদীছের প্রামাণিকতা’ বই)। বর্তমানে বাংলাদেশেও এই ভ্রষ্ট আক্বীদার কিছু ব্যক্তির আবির্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা থেকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

 ইমাম সুয়ূত্বী (রহঃ) বলেন, ‘তারা কাফের এবং ইসলাম হ’তে খারিজ। তাদের হাশর হবে ইহূদী ও নাছারা বা অন্যান্য ভ্রান্ত মতাবলম্বীদের সাথে’ (মিফতাহুল জান্নাহ পৃঃ ৫)

Posted in আহলে কুরআন কারা? এদের উৎপত্তি কখন থেকে? এরা কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত কি? | Tagged ,

আমার সৎমা আমার সহোদর ভাইয়ের ছেলেকে দুধ পান করিয়েছেন। তিনি কত ঢোক পান করিয়েছেন এ নিয়ে তার সন্দেহ আছে। একারণে কি তিনি মাহরাম সাব্যস্ত হবেন? কারণ আমার এই ভাইপো আমার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে সঠিক সমাধান জানতে চাই।


ঢোক নয় বরং অধিকতর গ্রহণযোগ্য মতে, পৃথক পৃথক সময়ে পাঁচবার দুধ পান করালেই একজন নারী দুধ মা হিসাবে সাব্যস্ত হবেন (মুসলিম হা/১৪৫১; মিশকাত হা/৩১৬৭; আশশারহুল মুমতে১২/১১২১১৩, ১৩/৪২৭)। অন্য বর্ণনায় আছে, ‘একবার বা দু’বার দুধপান অথবা এক চুমুক বা দু’চুমুক হারাম সাব্যস্ত করে না (মুসলিম হা/১৪৫১; মিশকাত হা/৩১৬৪)

প্রশ্নমতে দুধ পান করানোর সংখ্যায় যেহেতু সন্দেহ বিদ্যমান, সেহেতু প্রথমতঃ নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘সন্দিগ্ধ বিষয় পরিহার করে নিঃসন্দেহ বিষয়ের দিকে ধাবিত হও। কেননা সত্যে রয়েছে প্রশান্তি এবং মিথ্যায় রয়েছে সন্দেহ’ (তিরমিযী হা/২৫১৮, মিশকাত হা/২৭৭৩)। আর যদি নিশ্চিত হওয়া না যায়, তবে সেক্ষেত্রে মূল বিধান হ’ল, মাহরাম সাব্যস্ত না হওয়া’ (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ক্রমিক ১৫০১৮, ২১/১২)। এমতাবস্থায় এ বিয়েতে বাধা নেই।

Posted in সৎমা আমার ভাইয়ের ছেলেকে দুধ পান করিয়েছেন। এখন তিনি মাহরাম সাব্যস্ত হবেন? | Tagged , ,

মহিলা ও পুরুষের কাফনের কাপড়ের সংখ্যায় কোন পার্থক্য আছে কি?


মহিলা ও পুরুষের কাফনের কাপড়ে কোন পার্থক্য নেই। উভয়কে তিনটি কাপড় দিয়ে কাফন দিতে হবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৬৩৫)। মহিলাদের জন্য প্রচলিত পাঁচ কাপড়ের হাদীছ যঈফ (আবূদাঊদ হা/৩১৫৭, সনদ যঈফ)

Posted in প্রশ্নোত্তর | Tagged , ,

আমি কোম্পানিতে চাকরী করি। অফিসের বাইরে কাজ করলে দুপুরের খাবার বাবদ ১৫০ টাকা নির্দিষ্টভাবে প্রদান করা হয়। ১৫ দিন পরপর বিল করে জমা দিলে কোম্পানি টাকা দেয়। এক্ষণে আমি ১০০ টাকার বা ৩০০ টাকার খেয়ে ১৫০ টাকার বিল জমা দিলে তা জায়েয হবে কি?


কোম্পানীর নিয়ম অনুযায়ী জায়েয হবে। তবে বাস্তবতায় তা মিথ্যা ভাউচার প্রদানের নামান্তর। এক্ষণে কোম্পানী যদি দিন হিসাব করে গড়ে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দুপুরে খাবার জন্য প্রদান করে এবং কর্মীরা সেখান থেকে ইচ্ছামত কম-বেশী খরচ করে, সেক্ষেত্রে মিথ্যা ভাউচার প্রদানের কোন সুযোগ থাকে না। তাই কোম্পানীর নিয়ম পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা চালাতে হবে।

Posted in ১০০ টাকার খেয়ে ১৫০ টাকার বিল জমা দিলে তা জায়েয হবে কি? | Tagged ,

আল্লাহ কুরআনকে ‘শিফা’ বা আরোগ্য বলেছেন। এক্ষণে দ্রুত কল্যাণ লাভের জন্য কুরআনের বিভিন্ন আয়াত যেমন ‘রবিব ইন্নী বিমা আনঝালতা ইলাইয়া মিন খাইরিন ফাক্বীর’ ৪০ বার, পাগলামী থেকে আরোগ্যের জন্য ‘ইন্নাকা লামিনাল মুরসালীন’ ১৩১ বার ইত্যাদি পাঠ করা যাবে কি?


ছহীহ হাদীছের প্রমাণ ব্যতীত কুরআনের নির্দিষ্ট কোন আয়াত নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ও নির্দিষ্টবার পাঠ করা যাবে না। এটা বিদ‘আত। তবে কুরআন মানসিক ও শারীরিক ব্যাধির মহৌষধ (ইবনুল ক্বাইয়িম, যাদুল মা‘আদ ৪/৩২২-৩২৩)। তাই কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থবোধক আয়াত অনির্দিষ্টবার পাঠ করায় কোন বাধা নেই। কারণ একই দো‘আ বার বার পাঠ করা যায় (উছায়মীন, ফৎওয়া নূরুন আলাদ দারব ১/৩৬)। রাসূল (ছাঃ) অধিকাংশ সময় তিনবার করে দো‘আ পড়তেন (মুসলিম হা/১৭৯৪; মিশকাত হা/৫৮৪৭)। এছাড়াও তিনি কোন দো‘আ ৩ বার, ৭ বার, ৩৩ বার এবং ১০০ বার করে পাঠ করেছেন। যা ছহীহ হাদীছ সমূহ দ্বারা প্রমাণিত।

Posted in কল্যাণ লাভের জন্য কুরআনের বিভিন্ন আয়াত পাঠ করা যাবে কি? | Tagged

পবিত্র কুরআনে দাওয়াতী ক্ষেত্রে হিকমত অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। এক্ষণে উক্ত নির্দেশনার ভিত্তিতে সত্য গোপন করা বা নিফাকের আশ্রয় নেওয়া কি জায়েয হবে? হিকমতের প্রকৃত ব্যাখ্যা কি?


কোন অবস্থাতেই সত্য গোপন বা নিফাকের আশ্রয় গ্রহণ করা যাবে না। হিকমত বলতে প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করতে বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহবান কর প্রজ্ঞা ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে’ (নাহল ১৬/১২৫)। ‘হিকমত’ বলতে দলীল-প্রমাণ ও সঠিক জ্ঞানকে বুঝানো হয়েছে। যেমন আল্লাহ অন্যত্র বলেন, ‘আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিশেষ প্রজ্ঞা দান করেন। আর যাকে উক্ত প্রজ্ঞা দান করা হয়, তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়’ (বাক্বারাহ ২/২৬৯)। হিকমতের আরেক অর্থ সুন্নাহ। আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমাদের প্রতি তিনি যে অনুগ্রহ প্রদর্শন করেছেন এবং তোমাদের উপর যে কিতাব ও হিকমাহ (সুন্নাহ) নাযিল করেছেন, তা স্মরণ কর’ (বাক্বারাহ ২/২৩১)। তিনি আরো বলেন,  ‘আর আল্লাহ্ তোমার উপর কুরআন ও সুন্নাহ অবতীর্ণ করেছেন এবং তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন যা তুমি জানতে না। বস্ত্ততঃ তোমার উপর আল্লাহর অসীম করুণা রয়েছে’ (নিসা ৪/১১৩)। তিনি বলেছেন, ‘তিনি তাদেরকে কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দিবেন’ (জুম‘আ ৬২/২)। অতএব হিকমতের নামে কোন অবস্থাতে প্রতারণা, মিথ্যা এবং নিফাকের আশ্রয় নেওয়া যাবে না। বরং সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা ও যথাযোগ্য আচরণ বজায় রেখে ইসলামী দাওয়াতের কাজ করে যেতে হবে।

Posted in হিকমত অবলম্বনে সত্য গোপন করা জায়েয হবে কি?, হিকমতের প্রকৃত ব্যাখ্যা কি? | Tagged ,

কাফেরদের সাদৃশ্যের প্রকৃত ব্যাখ্যা ও হুকুম সম্পর্কে জানতে চাই। কাফেরদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ পোষাক পরা নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে কি?


রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত গণ্য হবে’ (আবুদাঊদ হা/৪০৩১; মিশকাত হা/৪৩৪৭)। এর ব্যাখ্যায় ত্বীবী বলেন, এর দ্বারা চেহারায়, চরিত্রে ও পোষাকে সাদৃশ্য বুঝানো হয়েছে। তবে পোষাকে সাদৃশ্যই প্রধান’। মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী বলেন, পোশাক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে কাফিরদের সাথে কিংবা ফাসিক, পাপাচারী কিংবা ছূফী ও নেককার ব্যক্তিদের সাথে সাদৃশ্য রাখা, অর্থাৎ ভালো কিংবা খারাপ যে সকল মানুষের সাথে সাদৃশ্য রাখবে, সে তাদেরই দলভুক্ত হবে (মিরক্বাত হা/৪৩৪৭-এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য, ৭/২৭৮২)। মানাভী বলেন, তাদের মতে পোষাক পরিধান করা, তাদের পথে পরিচালিত হওয়া, পোষাকে ও কাজে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা (ফায়যুল ক্বাদীর ৬/১০৪, হা/৮৫৯৩-এর ব্যাখ্যা)। যেমন আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল ‘আছ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) আমার পরিধানে হলুদ রংয়ের দু’টি পোষাক দেখে বললেন, ‘এগুলো কাফিরদের পোষাক। অতএব তুমি এসব পরবে না’ (মুসলিম হা/২০৭৭; মিশকাত হা/৪৩২৭)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘তোমাদের কারো নিকট দু’টি কাপড় থাকলে সে যেন ঐগুলি পরেই ছালাত আদায় করে। আর একটিমাত্র কাপড় থাকলে সে যেন তা কোমরে বেঁধে নেয় এবং ইহূদীদের ন্যায় দু’কাঁধে ঝুলিয়ে না রাখে’ (আবুদাঊদ হা/৬৩৫; ইবনু খুযায়মা হা/৭৬৬)

এক্ষণে কাফিরদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করাকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়- ১. অবৈধ সাদৃশ্য। অর্থাৎ জেনেশুনে কাফিরদের এমন বিষয়ের সাথে সাদৃশ্য রাখা, যা তাদের ধর্ম-কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং ইসলামী শরী‘আতে যার সমর্থন নেই। এরূপ সাদৃশ্য হারাম এবং ক্ষেত্রবিশেষে কবীরা গুনাহ। ২. বৈধ সাদৃশ্য। অর্থাৎ যা মৌলিকভাবে কাফেরদের গৃহীত রীতি-নীতি থেকে গৃহীত হয়নি। বরং মুসলমানরা পরিধান করে এবং তারাও করে’ (দ্র. সুহায়েল হাসান, কিতাবুস সুনান ওয়াল আছার ফিন নাহিয়ে আনিত তাশাববুহে বিল কুফফার ৫৮-৫৯ পৃ.)

Posted in কাফেরদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ পোষাক পরা নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে কি?, কাফেরদের সাদৃশ্যের প্রকৃত ব্যাখ্যা ও হুকুম সম্পর্কে জানতে চাই। | Tagged , ,

স্যান্ডো গেঞ্জীর সাথে পাতলা জামা পরিধান করলে কাঁধ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠে। এতে ছালাতের কোন ক্ষতি হবে কি?


ছালাতের ক্ষতি হবে না ইনশাআল্লাহ। তবে এ থেকে বেঁচে থাকা উত্তম। কেননা এর দ্বারা সত্যিকার অর্থে কাঁধ ঢাকা হয় না। আর উভয় কাঁধ পূর্ণরূপে ঢেকে রাখাই সুন্নাত (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৭৫৪)। অতএব সতর ঢাকার স্বার্থে পাতলা কাপড় নারী-পুরুষ সবারই পরিহার করা কর্তব্য। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও তাক্বওয়াপূর্ণ সুন্দর পোষাক পরে আল্লাহর সামনে দন্ডায়মান হওয়া যরূরী। আল্লাহ বলেন, তোমরা ছালাতের সময় সুন্দর পোষাক পরিধান কর’ (আ‘রাফ ৭/৩১)

Posted in ছালাত স্যান্ডো গেঞ্জীর সাথে পাতলা জামা পরিধান করে আদায় করা যাবে কি? | Tagged ,

আমার কবরপূজারী জনৈক আত্মীয় জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এক পীরের মুরীদ হিসাবে কবরপূজায় লিপ্ত ছিলেন। এক্ষণে তার জানাযা পড়া বা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা জায়েয হবে কি?


এরূপ ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা জায়েয নয়। আল্লাহ বলেন, ‘নবী ও মুমিনের উচিত নয়, মুশরিকদের মাগফিরাত কামনা করা, যদিও তারা আত্মীয় হয়। এ কথা স্পষ্ট হওয়ার পর যে, তারা জাহান্নামী’ (তওবা ৯/১১৩)। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, একবার রাসূল (ছাঃ) মা আমেনার কবর যিয়ারতে গেলেন। তখন তিনি নিজেও কাঁদলেন এবং তাঁর সাথীগণও কাঁদলেন। অতঃপর তিনি বললেন, আমি আমার প্রতিপালকের নিকট মায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার অনুমতি চেয়েছিলাম; কিন্তু তিনি আমাকে অনুমতি দেননি। অতঃপর তাঁর কবর যিয়ারতের অনুমতি চাইলে তিনি অনুমতি দেন। অতএব তোমরা কবর যিয়ারত কর। কেননা তা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়’ (মুসলিম, মিশকাত হা/১৭৬৩)

Posted in কবরপূজারী ব্যাক্তির জানাযা পড়ানো জায়েয হবে কি?

যাকাত ফরয হয়, এরূপ সম্পদ থাকলে কুরবানী করা ওয়াজিব হয়ে যায় কি?


কুরবানী সুন্নাতে মুওয়াক্কাদাহ। এটি যাকাত ফরয হওয়ার সাথে সম্পর্কিত নয়। তবে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী না করলে রাসূল (ছাঃ) তাদেরকে ঈদগাহে যেতে নিষেধ করেছেন (ইবনু মাজাহ হা/৩১২৩; হাকেম হা/৩৪৬৮; ছহীহ আত-তারগীব হা/১০৮৭)। এটা ওয়াজিব নয় যে, যেকোন মূল্যে করতেই হবে। লোকেরা যাতে এটাকে ওয়াজিব মনে না করে, সেজন্য সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হযরত আবুবকর ছিদ্দীক্ব (রাঃ) ও ওমর ফারূক (রাঃ) অনেক সময় কুরবানী করতেন না (বায়হাক্বী, মা‘রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার হা/১৮৮৯৩, সনদ হাসান; দেখুন: মাসায়েলে কুরবানী)

Posted in যাকাত ফরয হয় এরূপ সম্পদ থাকলে কুরবানী করা ওয়াজিব হয়ে যায় কি? | Tagged ,

শিরক-বিদ‘আত সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও যেসব সমাজ প্রধানগণ উক্ত কাজে বাধা না দিয়ে বরং প্ররোচিত করে, ক্বিয়ামতের দিন তাদের শাস্তি কি হবে?


রাসূল (ছাঃ) এরশাদ করেন, অবশ্যই তোমরা সৎকাজের আদেশ দিবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে। নইলে সত্বর আল্লাহ তার পক্ষ হ’তে তোমাদের উপর শাস্তি প্রেরণ করবেন। অতঃপর তোমরা দো‘আ করবে, কিন্তু তা আর কবুল করা হবে না’ (তিরমিযী হা/২১৬৯; মিশকাত হা/৫১৪০)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘কোন জাতির মধ্যে পাপ হ’তে থাকলে এবং ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা প্রতিরোধ না করলে সত্বর আল্লাহ তাদের উপরে ব্যাপক প্রতিশোধ নামিয়ে দিবেন’ (আবুদাঊদ হা/৪৩৩৮; মিশকাত হা/৫১৪২)। সুতরাং অন্যায়ের প্রতিরোধে সমাজনেতাদের দায়িত্ব অনেক বেশী। যদি তারা সেটা না করে অন্যায় কাজে লিপ্ত হন এবং অপরকে অন্যায়ের প্রতি প্ররোচনা দেন, তবে তাদের শাস্তি সাধারণের তুলনায় অনেক বেশী হবে। কিয়ামতের দিন পাপীরা এরূপ নেতাদেরকে দায়ী করে বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নেতাদের ও বড়দের আনুগত্য করতাম। অতঃপর তারাই আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল’। ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তাদেরকে তুমি দ্বিগুণ শাস্তি দাও এবং তাদেরকে মহা অভিশাপ দাও’ (আহযাব ৩৩/৬৭-৬৮)

Posted in শিরক-বিদ‘আত সম্পর্কে প্ররোচিত করা ব্যাক্তির শাস্তি কি হবে? | Tagged ,

চুরি, মদ্যপান, জুয়া খেলা ও মিথ্যা কথা বলায় অভ্যস্ত জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে এসে তওবা করতে চাইলে তিনি তাকে কেবল মিথ্যা বলা থেকে নিষেধ করেন। লোকটি তা মেনে নিয়ে বাকী তিনটি কাজ করতে চায়। কিন্তু সত্য কথা বলতে গিয়ে পর্যায়ক্রমে সে বাকী কাজগুলি থেকে তওবা করতে বাধ্য হয়। এ কাহিনীটির কোন সত্যতা আছে কি?


কাহিনীটি ভিত্তিহীন। তবে এটি বিভিন্ন গল্প ও সাহিত্যের বইপুস্তকে পাওয়া যায় (জাহিয, আল-মাহাসিন ওয়াল আযদাদ ১/৬০; যামাখশারী, রবী‘ঊল আবরার ৪/৩৪০; মুবাররাদ, আল-কামিল ফিল আদাব ২/১৫৬)। তাই রাসূল (ছাঃ)-এর নামে উক্ত কাহিনী বর্ণনা করার কোন সুযোগ নেই। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যারোপ করল, সে যেন তার স্থান জাহান্নামে করে নিল’ (বুখারী হা/৩৪৬১; মুসলিম হা/৪; মিশকাত হা/১৯৮, ২৩২)

Posted in এক ব্যক্তি তওবা করতে চাইলে তাকে মিথ্যা বলা থেকে নিষেধ করেন কি? | Tagged

রাসূল (ছাঃ) থেকে প্রমাণিত না হ’লেও সম্মানিত ইমামগণ থেকে বর্ণিত অনেক দো‘আ পাওয়া যায়। যেমন আল্লাহু আকবার কাবীরা…. আছীলা। এক্ষণে এসব দো‘আ পাঠ উত্তম বা সুন্নাত বলা যাবে কি?


প্রশ্নে বর্ণিত দো‘আটি জনৈক ছাহাবী পাঠ করলে রাসূল (ছাঃ) তার ফযীলত বর্ণনা করে বলেন, আমি বিস্মিত হ’লাম যে, তার জন্য আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হ’ল (মুসলিম হা/৬০১; মিশকাত হা/৮১৭)। এটি প্রমাণ করে যে, দো‘আটি রাসূল (ছাঃ) কর্তৃক অনুমোদিত। তবে দো‘আটি ইমাম শাফেঈ ঈদায়েনের তাকবীর হিসাবে পড়তেন, যা রাসূল (ছাঃ) থেকে সরাসরি প্রমাণিত নয়। এতদসত্ত্বেও যেহেতু রাসূল (ছাঃ) ঈদের তাকবীর পাঠের জন্য আমভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, তাই এর উপর আমল করা যাবে। অবশ্য একে সুন্নাত বলা যাবে না। কেননা রাসূল (ছাঃ)-এর কর্ম, বাণী ও মৌন সম্মতিকেই কেবল সুন্নাত বলা হয়। অনুরূপভাবে ছাহাবীগণের আমল বা বাণীর উপর শর্তসাপেক্ষে আমল করা যায় (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২০/১৪)। যেমন ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) থেকে ছহীহ সূত্রে আরেকটি আছার বর্ণিত হয়েছে, যা সমাজে প্রসিদ্ধ- ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হাম্দ’ (মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, ইরওয়া ৩/১২৫ পৃঃ)

Posted in রাসূল (ছাঃ) থেকে প্রমাণিত না হয়েও যেসব দো’আ পাঠ করা হয় তা কি সুন্নাত? | Tagged ,