হারাম এলাকায় প্রাণী হত্যার বিধান কি? মশা বা অনুরূপ প্রাণী মারলে এর হুকুম কি হবে?


ক্ষতিকর প্রাণী হ’লে হারাম এলাকাতেও মারা জায়েয। রাসূল (ছাঃ) বলেন, পাঁচ প্রকার দুষ্ট জন্তুকে হারাম এবং হারামের বাইরে হত্যা করা যায়। আর তা হ’ল- সাপ, আব্কা (যার বুক ও পিঠ সাদা বর্ণের), কাক, ইঁদুর, হিংস্র কুকুর এবং চিল’ (মুসলিম হা/১১৯৮; মিশকাত হা/২৬৯৯)। অনুরূপভাবে মশাও একটি ক্ষতিকর জীব, যাকে হারামের মধ্যেও হত্যা করা যায়’ (নববী, শরহ মুসলিম ৮/১১৪, অত্র হাদীছের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)

Advertisements
Posted in মশা বা অনুরূপ প্রাণী মারলে এর হুকুম কি হবে?, হারাম এলাকায় প্রাণী হত্যার বিধান কি? | Tagged ,

আদম (আঃ) পৃথিবীতে কত ধাপে আগমন করেছিলেন?


সূরা বাক্বারার ৩৬-৩৯ আয়াতের তাফসীরে মুফাসি্সরগণ দু’টি মত দিয়েছেন। (১) প্রথম নির্দেশের মাধ্যমে আদম (আঃ)-কে জান্নাত থেকে আসমানে নামানো হয়। এরপরের নির্দেশে আসমান থেকে পৃথিবীতে নামানো হয়। (২) প্রথম নির্দেশে পৃথিবীতে পাঠানো হয়। অতঃপর দ্বিতীয়বার নির্দেশের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা বিষয়টি আরো জোরালোভাবে তাকীদ করেছেন’ (তাফসীরুল বাসীত্ব ২/৪১০, অত্র আয়াতের তাফসীর দ্রষ্টব্য; ইবনুল ক্বাইয়িম, হাভিল আরওয়াহ ২৮ পৃ:)। দ্বিতীয় মতটিকেই হাফেয ইবনু কাছীর প্রাধান্য দিয়েছেন (আল-বিদায়াহ ১/১৮৫-১৮৬)

Posted in আদম (আঃ) পৃথিবীতে কত ধাপে আগমন করেছিলেন? | Tagged

এক মা তার ২ বছরের দুধের শিশুর খাদ্যের অবশিষ্টাংশ নিজে না খেয়ে অন্য কাউকে খেতে দেয়। জিজ্ঞেস করা হ’লে সে বলে যে শিশু দুধ না ছাড়া পর্যন্ত নাকি তার খাদ্যের অবশিষ্টাংশ মা খেতে পারবে না এবং এ ব্যাপারে নিষেধ আছে। এ কথা কি সঠিক?


এটি কুসংস্কার মাত্র। এ ব্যাপারে শরী‘আতে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই।

Posted in মা দুধের শিশুর খাদ্যের অবশিষ্টাংশ নিজে খেতে পারবেনা কি? | Tagged ,

বিবাহের জন্য একাধিক মেয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া জায়েয হবে কি? নাকি সরাসরি দেখার ক্ষেত্রে একজনের বেশী দেখা যাবে না?


প্রয়োজন সাপেক্ষে বিয়ের জন্য একাধিক মেয়ে দেখায় কোন বাধা নেই। নিয়ম হ’ল, বিবাহের উদ্দেশ্যে প্রথমে মেয়েকে না জানিয়ে দেখে নিবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যখন তোমাদের কেউ কোন নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দিবে তখন তার প্রতি দৃষ্টিদানে কোন দোষ নেই যদি কেবল প্রস্তাব দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেখা হয়। এমনকি তার অজান্তে হ’লেও’ (আহমাদ হা/২৩৬০৩; ছহীহাহ হা/৯৭)। হাফেয ইবনু হাজার (রহঃ) বলেন, জমহূর বিদ্বানগণ বলেন, বিবাহের উদ্দেশ্যে মেয়ের অনুমতি ব্যতীত গোপনে থেকে তাকে দেখা জায়েয (ফাৎহুল বারী ৯/১৫৭)। মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ ও জাবের বিন আব্দুল্লাহর মত ছাহাবীগণ বিবাহের উদ্দেশ্যে আড়াল থেকে মেয়ে দেখেছেন (আবুদাউদ হা/২০৮২; হাকেম হা/২৬৯৬; ছহীহাহাহ হা/৯৯-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)। এরপর পসন্দ হলে মাহরামের উপস্থিতিতে ঘরে বসে দেখবে। চূড়ান্তভাবে পসন্দ না হলে এরপরেও এড়িয়ে যেতে পারে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যখন তোমাদের কেউ কোন পাত্রীকে প্রস্তাব দিবে, তখন সম্ভব হ’লে সে যেন পাত্রীকে দেখে। যা বিবাহের জন্য সহায়ক হবে (আবুদাউদ হা/২০৮২; মিশকাত হা/৩১০৬; ছহীহাহ হা/৯৯)। অন্যত্র রাসূল (ছাঃ) বলেন, পাত্রী দর্শনে পরস্পরে মহববত সৃষ্টি হয়’ (ইবনু মাজাহ হা/১৮৬৫; মিশকাত হা/৩১০৭; ছহীহাহ হা/৯৬) আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলল, আমি আনছারদের এক মেয়েকে বিবাহ করতে ইচ্ছুক। তিনি বললেন, তুমি তাকে প্রথমে দেখে নাও। কারণ আনছার মেয়েদের চোখে দোষ থাকে (মুসলিম হা/১৪২৪, মিশকাত হা/৩০৯৮ ‘বিবাহ’ অধ্যায়)

Posted in বিবাহের জন্য একাধিক মেয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া জায়েয হবে কি? | Tagged

যদি কোন জুম‘আ মসজিদে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরয ছালাতের আযান ও জামা‘আত না হয়, তাহ’লে সেই মসজিদে জুম‘আর ছালাত আদায় করা বৈধ হবে কি?


এরূপ পরিত্যক্ত মসজিদে জুম‘আর ছালাত আদায় করা জায়েয। কারণ জুম‘আর ছালাতের জন্য নির্দিষ্ট মসজিদ হওয়াই শর্ত নয়। তবে প্রতিষ্ঠিত মসজিদ থাকলে সেখানে ছালাত আদায় করাই উত্তম’ (ইরাকী, তারহুত তাছরীব ৩/১৯০; আল-ইনছাফ ২/৩৭৮; শায়খ বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দারব)

Posted in পরিত্যক্ত মসজিদে জুম‘আর ছালাত আদায় করা বৈধ হবে কি? | Tagged ,

হজ্জ পালনকারীরা বাড়ি ফিরে এসে ৪০ দিন নিজ বাড়িতেই অবস্থান করবে মর্মে কোন নির্দেশনা আছে কি?


হজ্জ থেকে ফিরে এসে হাজী ছাহেব যাবতীয় বৈধ কাজ করতে পারবেন। সফর করাতেও কোন বাধা নেই। তবে সালাফে ছালেহীনের মতে হজ্জ কবুল হ’লে ব্যক্তি পূর্বের তুলনায় বেশী নেক আমল করবে (নববী, শরহ মুসলিম ২/৭৫; মির‘আতুল মাফাতীহ ৮/৩০০)

Posted in হজ্জ পালনকারীরা বাড়ি ফিরে এসে ৪০ দিন নিজ বাড়িতেই থাকতে হবে কি? | Tagged

পুরুষের সাথে নারীর সাদৃশ্য পোষণ করা ক্বিয়ামতের অন্যতম আলামত কি?


উক্ত মর্মে কোন ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়নি। আবু নাঈম ইস্ফাহানীর ‘হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া ত্বাবাক্বাতু আছফিয়া’ (৩/৩৫৮) নামক গ্রন্থে উক্ত মর্মে একটি হাদীছ রয়েছে যা নিতান্তই যঈফ (ইবনু হাজার, আত-তালখীছুল হাবীর ২/৩৪১)। তবে নিঃসন্দেহে উক্ত কর্মটি নিষিদ্ধ। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা পুরুষের সাথে মহিলার এবং মহিলার সাথে পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারীকে লা‘নত করেছেন’ (বুখারী, মিশকাত হা/৪৪২৯)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, নবী করীম (ছাঃ) পুরুষ হিজড়াদের উপর এবং পুরুষের বেশধারী মহিলাদের উপর লা‘নত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ওদেরকে ঘর থেকে বের করে দাও’। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেছেন, নবী (ছাঃ) অমুককে বের করেছেন এবং ওমর (রাঃ) অমুককে বের করে দিয়েছেন’ (বুখারী হা/৫৮৮৬; মিশকাত হা/৪৪২৮)

Posted in পুরুষের সাথে নারীর সাদৃশ্য পোষণ করা ক্বিয়ামতের আলামত কি? | Tagged

কবীরা গুনাহগার ব্যক্তি কি বিনা হিসাবে জান্নাতে যেতে পারে?


কবীরা গুনাহগার বিনা হিসাবে জান্নাতে যেতে পারবে না। তবে খালেছ তাওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করতেও পারেন, নাও করতে পারেন। আল্লাহ বলেন, যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন উপাস্যকে আহবান করে না এবং যারা আল্লাহ যাকে হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন, ন্যায়সঙ্গত কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করে না এবং যারা ব্যভিচার করে না। যারা এগুলি করবে তারা শাস্তি ভোগ করবে। ক্বিয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দ্বিগুণ হবে এবং তারা সেখানে লাঞ্ছিত অবস্থায় চিরকাল থাকবে। তবে তারা ব্যতীত, যারা তওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে। আল্লাহ তাদের পাপসমূহকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দিবেন। বস্ত্ততঃ আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু’ (ফুরক্বান ২৫/৬৮-৭০)। আর কেউ তওবা না করলেও যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন, ক্ষমা করতে পারেন। যেমন তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর সাথে অন্যকে শরীক করে। এতদ্ব্যতীত তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে থাকেন।

Posted in কবীরা গুনাহগার ব্যক্তি কি বিনা হিসাবে জান্নাতে যেতে পারে? | Tagged

শুনেছি হযরত আবুবকর (রাঃ) পোতার সম্পত্তিতে দাদা মীরাছ পাবেন মর্মে মতপ্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে আরেকজন ছাহাবী পাবেন না বলেছেন। এক্ষণে এর মধ্যে কোন মতটি বিশুদ্ধ?


এ বিষয়ে বিশুদ্ধ মত হ’ল, সহোদর ভাই জীবিত থাকা অবস্থায় দাদা পোতার সম্পত্তিতে মীরাছ পাবেন এবং এমতাবস্থায় ভাইয়েরা বঞ্চিত হবে (বুখারী ২২/২২১; আত-তাহজীল ফী তাখরীজে মা লাম ইউখাররাজ্ ফী ইরওয়াউল গালীল ১/২০৭)। এই পক্ষেই মত দিয়েছেন আবুবকর, আবু মূসা ও ইবনু আববাস সহ চৌদ্দজন ছাহাবী (রাঃ)। তাছাড়া আবূ হানীফা, আহমাদ ইবনু হাম্বল, ইবনু তায়মিয়াহ, ইবনুল ক্বাইয়িম, বিন বায, উছায়মীন ও ছালেহ ফাওযান প্রমুখ। দাদা পিতার মতই কখনো ওয়ারিছ হিসাবে, কখনো আছাবা হিসাবে, আবার কখনো ওয়ারিছ ও আছাবা উভয় দিক থেকে পোতার সম্পত্তিতে ওয়ারিছ হবেন (উছায়মীন, তাসহীলুল ফারায়েয ৪০ পৃঃ; ছালেহ ফাওযান, আত-তাহক্বীক্বাতুল মারযিয়াহ ফী মাবাহিছিল মারযিয়াহ ১৩৫-১৪০ পৃঃ)।

Posted in হযরত আবুবকর (রাঃ) পোতার সম্পত্তি ভাগ নিয়ে মতভেদে কোনটি সঠিক? | Tagged

ব্রাক ব্যাংকের অধীনে পরিচালিত মেডিকেল কলেজের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হিসাবে চাকুরী করা যাবে কি?


প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি সূদী কারবারের সাথে জড়িত না থাকায় সেখানে চাকুরী করতে বাধা নেই। তবে সম্ভব হলে ভিন্ন কোন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী গ্রহণই উত্তম। রাসূল (ছাঃ) বলেন, সন্দিগ্ধ বিষয় পরিহার করে নিঃসন্দেহ বিষয়ের দিকে ধাবিত হও। কেননা সত্যে রয়েছে প্রশান্তি এবং মিথ্যায় রয়েছে সন্দেহ’ (আহমাদ, তিরমিযী, নাসাঈ, মিশকাত হা/২৭৭৩; ছহীহুল জামে‘ হা/৩৩৭৭)

Posted in চাকুরী ব্রাক ব্যাংকের অধীনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে করা যাবে কি? | Tagged

ইসমে আ‘যম বলতে কি বুঝায়? বিস্তারিত জানতে চাই।


ইসমে আ‘যম হ’ল আল্লাহর মহান নাম। ইসমে আ‘যমকে কেন্দ্র করে ১৪টি মত রয়েছে। তবে বিশুদ্ধ কথা হ’ল ইসমে আযম হ’ল ‘আল্লাহ’ ও তাঁর সকল গুণবাচক নাম। আর এগুলোর মধ্যে যে নামগুলোতে তাওহীদের ঘোষণা রয়েছে সেগুলো অধিক গুরুত্বপূর্ণ। যেমন আল হাইয়ুল ক্বাইয়ূম, যুল জালালে ওয়াল ইকরাম, আল-আহাদ, আছ-ছামাদ ইত্যাদি। যেমন হাদীছে এসেছে, জনৈক ব্যক্তি ছালাত শেষে নিম্নোক্ত দো‘আ পাঠ করে; আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা বিআন্নাকা আনতাল্লা-হুল আহাদুছ ছামাদুল্লাযী লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ ওয়া লাম ইয়াকুল লাহূ কুফুওয়ান আহাদ’(হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে প্রার্থনা করছি। কেননা তুমি আল্লাহ। তুমি এক ও অমুখাপেক্ষী। যিনি কাউকে জন্ম দেননি ও যিনি কারু থেকে জন্মিত নন এবং যাঁর সমতুল্য কেউ নেই)।  ঐ ব্যক্তিকে এটা পড়তে শুনে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ঐ ব্যক্তি আল্লাহর নিকটে তাঁর ‘ইসমে আযম’ (মহান নাম) সহ দো‘আ করেছে। যে ব্যক্তি উক্ত নাম সহকারে প্রার্থনা করবে, তাকে তা দেওয়া হবে। আর যখন এর মাধ্যমে দো‘আ করা হবে, তা কবুল করা হবে’ (ইবনু মাজাহ হা/৩৮৫৭, আবুদাঊদ হা/১৪৯৩; মিশকাত হা/২২৮৯; ছহীহুত তারগীব হা/১৬৪০)। অন্য হাদীছে এসেছে রাসূল (ছাঃ) বলেন, কুরআনে তিনটি সূরায় ইসমে আ‘যম রয়েছে, সূরা বাক্বারাহ ২৫৫, আলে ইমরান ২ ও ত্বোয়াহা ১১১ আয়াতে’ (হাকেম হা/১৮৬৭; ছহীহাহ হা/৭৪৬)। অর্থাৎ সূরাগুলোর আল হাইয়ুল ক্বাইয়ূম অংশ। অন্য হাদীছে এসেছে, আনাস (রাঃ) বলেন, একদিন আমি নবী (ছাঃ)-এর সাথে মসজিদে নববীতে বসে ছিলাম। তখন জনৈক ব্যক্তি ছালাত আদায় করছিল এবং ছালাতের পর বলছিল, আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা বি আন্না লাকাল হামদু লা ইলাহা ইল্লা আনতাল হান্নানুল মান্নানু বাদী‘উস সামাওয়াতি ওয়াল আরযি, ইয়া যাল-জালালি ওয়াল ইকরাম, ইয়া হাইয়ু  ইয়া ক্বাইয়ূমু  ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি। কারণ তোমারই জন্য সকল প্রশংসা। তুমি ছাড়া কোন মাবূদ নেই। তুমিই বড় দয়ালু ও বড় দাতা। তুমিই আসমান ও যমীনের স্রষ্টা। হে মর্যাদা ও সম্মান দানের মালিক! হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক! তখন নবী (ছাঃ) বললেন, যে আল্লাহ্কে ইসমে আ‘যম-এর সাথে ডাকে, তিনি তাতে সাড়া দেন এবং যখন তাঁর কাছে প্রার্থনা করা হয়, তখন তিনি তা দান করেন’ (আবুদাঊদ হা/১৪৯৫; মিশকাত হা/২২৯০; ছহীহুত তারগীব হা/১৬৪১)

Posted in ইসমে আ‘যম বলতে কি বুঝায়? | Tagged ,

আমি সরকারী একটি পদে চাকুরী করি। এক্ষণে পদোন্নতির জন্য আবেদন করা যাবে কি? কারণ হাদীছে পদ চেয়ে নিতে নিষেধ করা হয়েছে।


পদোন্নতির জন্য আবেদন করা যাবে। কারণ পদবী ও নেতৃত্ব এক নয়। বরং এটি একটি পদমর্যাদা, যা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ব্যক্তির যোগ্যতা যাচাই সাপেক্ষে দিয়ে থাকে। তাছাড়া এ ধরনের দায়িত্বের জন্য কেউ নিজেকে অধিক যোগ্য ও উপযুক্ত মনে করলে আবেদন করতে পারে। যেমন ইউসুফ (আঃ) বলেছিলেন, আপনি আমাকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের দায়িত্বে নিয়োজিত করুন। নিশ্চয়ই আমি বিশ্বস্ত রক্ষক ও (এ বিষয়ে) বিজ্ঞ’ (ইউসুফ ১২/৫৫)। অত্র আয়াতে প্রয়োজনবোধে দায়িত্ব চেয়ে নেয়ার বৈধতা প্রমাণিত হয়। অথচ হাদীছে এটি নিষেধ করা হয়েছে। এর জবাবে ইমাম কুরতুবী বলেন, (১) ইউসুফ (আঃ) জানতেন যে, সততার সাথে ধন-ভান্ডার সংরক্ষণ ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে গরীবদের হক তাদের নিকট পৌঁছে দেবার মত কেউ বাদশাহর সাথে নেই (২) ইউসুফ এখানে নিজের উন্নত মর্যাদার দোহাই দেননি। বরং নিজেকে ‘বিশ্বস্ত রক্ষক ও এ বিষয়ে বিজ্ঞ’ বলেছেন। যা ছিল বাস্তব (৩) তিনি নিজের পরিচয় এমন ব্যক্তির কাছে তুলে ধরেছেন, যিনি তাঁর সম্পর্কে জানতেন না। অতএব এটি আত্মপ্রশংসা নয়, যা নিষিদ্ধ (৪) তিনি এ দায়িত্ব গ্রহণকে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে অপরিহার্য গণ্য করেছিলেন। কেননা তিনি ব্যতীত উক্ত বিষয়ে বিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত তখন কেউ ছিল না। এ কারণটিই সবচেয়ে স্পষ্ট’। মাওয়ার্দী বলেন, সাধারণভাবে দায়িত্ব চেয়ে নেওয়ার বিষয়টি এখানে নয়, বরং এটি ছিল একটি বিশেষ অবস্থা, যেখানে জ্ঞান ও যোগ্যতার বিবেচনায় দায়িত্ব চেয়ে নেওয়া যায়। যে বিষয়ে আয়াতে বর্ণিত হয়েছে (কুরতুবী; দ্রঃ নবীদের কাহিনী ১/২০৭)

Posted in চাকুরিতে পদোন্নতির জন্য আবেদন করা যাবে কি? | Tagged

আমি গর্ভাবস্থায় স্ত্রীকে এক তালাক দিয়েছি। এরপর সে পিতার বাড়িতে চলে যায়। তিন মাস পরে বাচ্চা প্রসবের পূর্বে মিটমাট হয়ে যায়। এক্ষণে নতুন বিবাহের প্রয়োজন রয়েছে কি?


এক্ষেত্রে নতুন বিবাহের প্রয়োজন নেই। কারণ গর্ভবতী নারীর ইদ্দত হ’ল সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত’ (তালাক্ব ৬৫/৪)

Posted in তালাক গর্ভাবস্থায় দিলে তালাক হবে কি? | Tagged

স্বামী স্ত্রীকে মোহরানা হিসাবে ৫ বিঘা জমি দান করে। কিন্তু পরবর্তীতে স্ত্রী নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যায়। এখন স্ত্রীর রেখে যাওয়া সেই ৫ বিঘা জমি থেকে স্বামী মীরাছ হিসাবে কিছু পাবে কি? পেলে কতটুকু পাবে?


স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তিতে অংশ পাবে। তাদের সন্তান না থাকায় স্বামী স্ত্রীর পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধেক পাবে। আল্লাহ বলেন, আর তোমাদের স্ত্রীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে তোমরা অর্ধেক পাবে, যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে। যদি থাকে, তবে তোমরা সিকি পাবে, তাদের অছিয়ত পূরণ ও ঋণ পরিশোধের পর’ (নিসা ৪/১২)

Posted in সম্পদ স্ত্রীর মারা গেলে স্বামী পাবে কি? | Tagged

আমার বিবাহের কিছুদিন পর থেকেই স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য লেগে থাকে। দেড় বছরে বহুবার তাকে তালাকের নিয়তে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেছি। কিন্তু আমি জানতাম না যে, লিখিত তালাক ছাড়া মুখে তালাক হয়ে যায়। এখন সে গর্ভবতী। এখন আমার করণীয় কি?


এক্ষেত্রে অজ্ঞতা কোন ওযর হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে না। সুতরাং যেহেতু আপনি সজ্ঞানে অসংখ্যবার ও বিভিন্ন মাসে পবিত্র ও অপবিত্র অবস্থায় তালাক দিয়েছেন সেহেতু ইতিমধ্যে তিন তালাক তথা তালাকে বায়েন হয়ে গেছে। এক্ষণে উক্ত মহিলা তার সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। এরপর সে হালাল হয়ে যাবে এবং অন্য কাউকে বিবাহ করতে পারবে। অতঃপর দ্বিতীয় স্বামী কর্তৃক কোন কারণে তালাকপ্রাপ্তা হ’লে প্রথম স্বামীর সাথে নতুনভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হ’তে পারবে (শায়খ উছায়মীন, লিক্বাউল বাবিল মাফতূহ ২৩/২০৬; আশ-শারহুল মুমতে‘ ১০/৪৬১)

Posted in তালাক স্বজ্ঞানে অজ্ঞতা অবস্থায় দিলেও তা গন্য হবে কি? | Tagged

ইতিহাসে পাওয়া যায় যে, ওমর (রাঃ) শিফা নাম্নী জনৈকা মহিলা ছাহাবীকে বাযারের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য দায়িত্বশীল নিয়োগ করেছিলেন। এই ঘটনা কি সত্য?


উক্ত ঘটনা জীবনীকারগণ বর্ণনা করেছেন (হাফেয ইবনু হাজার, আল-ইছাবাহ ৮/২০২; ইবনু আব্দিল বার্র, আল-ইস্তী‘আব ৪/১৮৬৯)। কিন্তু কেউ সনদ উল্লেখ করেননি। ইবনুল আরাবীসহ অনেক বিদ্বান বর্ণনাটিকে বাতিল বলেছেন (ইবনুল ‘আরাবী, আহকামুল কুরআন ৩/৪৮২; তাফসীরে কুরতুবী ১৩/১৮৩)। তাছাড়া উক্ত বর্ণনায় বলা হয়েছে,وربما ولّاها شيئا من أمر السوق ‘হয়তবা বাযারের কিছু কর্মে তাকে দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন’। এটি প্রমাণ করে যে, তাকে কোন স্থায়ী দায়িত্ব বা প্রশাসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। হ’তে পারে বাযারের পাশে বাড়ি হওয়ার কারণে সাধারণ কোন দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। উল্লেখ্য যে, শিফা বিনতে আব্দুল্লাহ প্রসিদ্ধ মহিলা ছাহাবী ছিলেন। তিনি হিজরতের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং প্রথম হিজরতকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ইসলামে নারীদের প্রথম শিক্ষিকা ছিলেন এবং নারীদের তারাবীহর ছালাতে ইমামতি করতেন বলে বর্ণিত হয়েছে (আল-ইছাবাহ ৮/২০২; তারীখে দিমাশক্ব ২২/২১৬; ত্বাবাক্বাত্ব ১/৩৭৯; আল-ইস্তী‘আব ৪/১৮৬৯; তাহযীবুল কামাল ৩৫/২০৭)। তিনি রাসূল (ছাঃ) থেকে বেশ কিছু হাদীছও বর্ণনা করেছেন। যেমন একটি হাদীছে রয়েছে তিনি বলেন, আমি হাফছাহ (রাঃ)-এর নিকট বসা ছিলাম, এমন সময় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সেখানে প্রবেশ করে বললেন, তুমি যেভাবে হাফছাকে হস্তলিপি শিখিয়েছ, সেভাবে তাকে ‘নামলাহ’ (ফুঁসকুড়ি) রোগের মন্ত্র শিখাও না কেন? (আবুদাউদ হা/৩৮৮৭; মিশকাত হা/৪৫৬১; ছহীহুল জামে‘ হা/২৬৫০)

Posted in ওমর (রাঃ) মহিলা ছাহাবীকে বাযার পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন কি? | Tagged , , ,

কোন অক্ষম সুস্থ মানুষ কি হিজড়াকে বিবাহ করতে পারবে?


কোন সুস্থ মানুষের জন্য কোন হিজড়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বৈধ হবে না। এমনকি যৌন মিলনে অক্ষম পুরুষের জন্য কোন নারীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াও বৈধ নয় (বুখারী হা/১৯০৫; মুসলিম হা/১৪০০; মিশকাত হা/৩০৮০)। উল্লেখ্য যে, হিজড়া দুই প্রকার। (১) অস্পষ্ট আকৃতি বিশিষ্ট- যার নারী বা পুরুষ হওয়ার জন্য যথেষ্ট আলামত নেই। তার জন্য কোন অবস্থায় বিবাহ বৈধ নয়। (২) স্পষ্ট আকৃতি বিশিষ্ট- যার নারী বা পুরুষ হওয়ার পক্ষে আলামত রয়েছে। যদি হিজড়ার মধ্যে পুরুষের আলামত বেশী থাকে এবং যৌন মিলনে সক্ষম হয়, তাহলে সে কোন নারীকে বিবাহ করতে পারবে। আর যদি তার মধ্যে নারীর আলামত বেশী থাকে এবং স্বামী সম্ভোগের উপযুক্ত হয়, তাহলে সে কোন পুরুষের সাথে বিবাহ করতে পারবে (ইবনু কুদামাহ, মুগনী ৭/৬১৯)। উল্লেখ্য যে, কোন অক্ষম বা বৃদ্ধ পুরুষ যদি কোন নারীকে এমনকি স্পষ্ট আকৃতি বিশিষ্ট হিজড়া নারীকে বিবাহ করতে চায় এবং উক্ত নারী তার অক্ষমতা জানা সত্ত্বেও বিবাহে রাযী হয় তাহলে তাদের মধ্যে বিবাহ বৈধ (উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ১২/২১১; ইবনু যুইয়ান, মিনারুস সাবীল ২/১৩৪; আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিইয়াহ ১৬/৩১)

Posted in বিবাহ হিজড়াকে করা যাবে কি?, হিজড়াকে বিবাহ করতে পারবে কি? | Tagged ,

ডান হাতে ভাতের এটো থাকাবস্থায় বাম হাত দিয়ে পানি পান করা যাবে কি?


এমতবস্থায় বাম হাত দিয়ে নয়, বরং ডান হাতের সহযোগিতা নিয়ে দুই হাতে পানি পান করবে। রাসূল (ছাঃ) কোন কোন সময় দুই হাতের সহায়তায় পানি পান করেছেন (বুখারী হা/৫২৯০; হাকেম হা/৪২৯১; তিরমিযী হা/২৪৭৭; নববী, আল-মাজমূ‘ ১/৩১৬)

Posted in পানি বাম হাত দিয়ে পান করা যাবে কি? | Tagged

ছগীরা গুনাহ কাকে বলে? কয়েকটি ছগীরা গুনাহের উদাহরণ দিলে উপকৃত হব।


ছগীরাহ গুনাহ অর্থ ছোট গুনাহ। যে সকল গুনাহের ব্যাপারে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (ছাঃ) সতর্ক করেছেন কিন্তু কোন শাস্তির কথা বলেননি। যা নেক আমল করলেই ক্ষমা হয়ে যায় তওবার প্রয়োজন হয় না। যেমন রাসূলুল্ল­াহ (ছাঃ)  বলেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত, এক জুম‘আ হ’তে আরেক জুম‘আ, এক রামাযান হ’তে আরেক রামাযান এর মধ্যবর্তী সকল গোনাহের জন্য কাফফারা হবে যদি কবীরা গোনাহ সমূহ থেকে বিরত থাকা যায়’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৬৪)। আল্লাহ বলেন, যারা বড় বড় পাপ ও অশ্ল­ীল কর্ম সমূহ হ’তে বেঁচে থাকে ছোটখাট পাপ ব্যতীত (সে সকল তওবাকারীর জন্য) তোমার প্রতিপালক প্রশস্ত ক্ষমার অধিকারী’ (নাজম ৫৩/৩২)

ছগীরা গুনাহের সংজ্ঞায় ওলামায়ে কেরাম বিভিন্ন মতামত পেশ করেছেন। যেমন ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, প্রত্যেক যে সকল পাপের জন্য জাহান্নামের শাস্তি, আল্লাহর গযব, লা‘নত প্রভৃতির কথা উল্লেখিত হয়েছে, তা কবীরা গুনাহ। এমন গুনাহের সংখ্যা ৭০টির মত (তাফসীর কুরতুবী ৫/১৫৯)। ছগীরা গুনাহের উদাহরণ যেমন- বেগানা নারীর প্রতি অনৈতিক দৃষ্টি নিক্ষেপ, কাউকে গালি প্রদান, হিংসা করা, প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া ইত্যাদি।

তবে ছগীরা গুনাহ বার বার করলে তা কবীরা গুনাহে পরিণত হয়। যেমন হযরত ওমর ও ইবনু আববাস প্রমুখ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, لاَ صَغِيْرَةَ فِي الْاِصْرَارِ وَلاَ كَبِيْرَةَ فِي اْلِاسْتِغْفَارِ ‘বারবার ছগীরা গোনাহ করলে সেটি আর ছগীরা থাকে না এবং ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবা করলে আর কবীরা গুনাহ থাকে না’ (নববী, শরহ মুসলিম ২/৮৭)। যেমন পরনারীর প্রতি দৃষ্টি দেয়া ছগীরা গুনাহ। কিন্তু কেউ কেউ বার বার তাকালে তা কবীরা গুনাহ হয়ে যাবে (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৫/২৯৩)। সেজন্য রাসূল (ছাঃ) ছোট গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে তাকীদ করেছেন। তিনি বলেন, হে আয়েশা! ক্ষুদ্র গুনাহ থেকেও সাবধান হও। কারণ সেগুলোর জন্যও আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে’ (ইবনু মাজাহ হা/৪২৪৩; মিশকাত হা/৫৩৫৬; ছহীহাহ হা/৫১৩)

Posted in ছগীরা গুনাহ কাকে বলে? | Tagged

কবর খনন করার ফযীলত কি?


কবর খননকারী অশেষ ছওয়াবের অধিকারী হবেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নেকীর কাজে তোমরা পরস্পরে সহযোগিতা কর…’ (মায়েদাহ ৫/২)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন মুসলিম মাইয়েতকে গোসল করাল। অতঃপর তার গোপনীয়তাসমূহ গোপন রাখল, আল্লাহ তাকে চল্লিশ বার ক্ষমা করবেন। যে ব্যক্তি মাইয়েতের জন্য কবর খনন করল, অতঃপর দাফন শেষে তা ঢেকে দিল, আল্লাহ তাকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত পুরস্কার দিবেন জান্নাতের একটি বাড়ীর সমপরিমাণ, যেখানে আল্লাহ তাকে রাখবেন। যে ব্যক্তি মাইয়েতকে কাফন পরাবে, আল্লাহ তাকে ক্বিয়ামতের দিন জান্নাতের মিহি ও মোটা রেশমের পোষাক পরাবেন’ (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৯২৬৫; হাকেম হা/১৩০৭; ছহীহুত তারগীব হা/৩৪৯২, সনদ ছহীহ; ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ২২৬ পৃ.

Posted in কবর খনন করার ফযীলত কি? | Tagged ,

ক্বিয়ামতের দিন বিচার হওয়ার পর মানুষকে জান্নাত বা জাহান্নামে দেওয়ার পর পৃথিবীর কি হবে? আল্লাহ কি আবার মানুষ ও নবী-রাসূল পৃথিবীতে পাঠাবেন নাকি ক্বিয়ামতের পর পৃথিবী মানবশূন্য থেকে যাবে?


কুরআন ও ছহীহ হাদীছের বিবরণ অনুযায়ী আসমান ও যমীন সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে। কোন কিছুর অস্তিত্ব থাকবে না (হাক্কাহ ১৩-১৮; মা‘আরিজ ৮-৯; তাকভীর ১-১৪)। সুতরাং সবকিছুই ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। অতঃপর আল্লাহ আসমান ও যমীনকে ভিন্নরূপে সৃষ্টি করবেন (ইবরাহীম ৪৮)। কিন্তু পরবর্তীতে আল্লাহ পুনরায় অন্য কোন জাতিকে সৃষ্টি করবেন কি-না এমন কোন ইঙ্গিত কোথাও পাওয়া যায় না। সর্বোপরি এগুলো গায়েবের বিষয়, যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। সুতরাং এ বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা অনর্থক।

Posted in ক্বিয়ামতের পর নতুন করে পৃথিবীতে আবার কাউকে পাঠাবেন কি? | Tagged ,

আমাদের মসজিদের ইমাম এক মেয়েকে তার পিতার অনুমতি ছাড়াই তার বোনের বাড়ীতে কিছু দিন রেখে বিয়ে করে। তার বিয়ে কি সিদ্ধ হয়েছে? না হ’লে করণীয় কি? তার সন্তানরা কি হালাল সন্তান হবে নাকি জারজ হবে?


উক্ত বিবাহ সঠিক হয়নি।  কারণ পিতার অসম্মতিতে মেয়ের বিবাহ বৈধ নয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কোন মহিলা যদি অলীর বিনা অনুমতিতে বিবাহ করে তাহ’লে তার ঐ বিবাহ বাতিল, বাতিল, বাতিল’ (আহমাদ, তিরমিযী, আবুদাউদ, ইবনে মাজাহ, সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/৩১৩১ ও ৩১৩০ ‘বিবাহে অলীর কাছে মহিলাদের অনুমতি প্রার্থনা’ অনুচ্ছেদ)। নবী করীম (ছাঃ) আরো বলেন, ‘কোন মহিলা কোন মহিলার বিয়ে দিতে পারবে না এবং কোন মহিলা নিজেকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করতে পারবে না’ (ইবনু মাজাহ, হাদীছ ছহীহ, মিশকাত হা/৩১৩৬; ইরওয়া হা/৮৪১)। এক্ষণে তওবা করে নতুনভাবে শারঈ পদ্ধতি মোতাবেক পিতার সম্মতিতে বিবাহ পড়িয়ে নিতে হবে। তবে তার সন্তান জারজ হবে না এবং সেই সন্তান পিতার সম্পত্তির অংশীদার হবে। কেননা এই বিবাহ সঠিক পদ্ধতিতে না হ’লেও ‘শিবহে নিকাহ’ বা বিবাহের অনুরূপ ছিল (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩২/১০৩; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী ১১/১৯৬)

Posted in অভিভাবক ছাড়া বিবাহ করলে বিবাহ সম্পন্ন হবে কি? | Tagged , ,

মাসবূক যদি ইমামকে দ্বিতীয় রাক‘আতে পায় তাহ’লে সেই রাক‘আত কি মাসবূকের ছালাতের প্রথম রাক‘আত গণ্য হবে, নাকি দ্বিতীয় রাক‘আত গণ্য হবে?


মাসবূকের উক্ত রাক‘আত প্রথম রাক‘আত হিসাবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা (ছালাতের যে অংশটুকু) পাও সেটুকু আদায় কর এবং যেটুকু বাদ পড়ে যায় সেটুকু পূর্ণ কর’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৬৮৬)। ইবনু আব্দিল বার্র বলেন, মুছল্লী ইমামের সাথে ছালাতের যে অংশ পাবে সেটি তার জন্য ছালাতের প্রথম অংশ হবে। এটি ইমাম শাফেঈরও অভিমত (আত-তামহীদ ২০/২৩৪; নববী, আল-মাজমূ‘ ৩/৩৫২)

Posted in মাসবূক দ্বিতীয় রাক‘আতে পেলে সেইটা কোন রাক‘আত গণ্য হবে? | Tagged

আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, ‘আমাকে নবী করীম (ছাঃ) দু’টি বস্ত্ত দিয়েছেন। একটি প্রকাশ করেছি। অপরটি প্রকাশ করলে আমার গর্দান কাটা যাবে। তিনি কি ইলমে তাছাউফের জ্ঞান গোপন করেছিলেন, যেমনটি অনেকে বলে থাকেন?


আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট থেকে দু’টি (জ্ঞান) পাত্র সংরক্ষণ করেছি। যার একটি তো আমি প্রচার করে দিয়েছি। কিন্তু তার দ্বিতীয়টি যদি প্রচার করতাম, তাহ’লে আমার এই কণ্ঠনালী কাটা যেত’ (বুখারী হা/১২০; মিশকাত হা/২৭১)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তাঁকে বলা হ’ল, আপনি অধিক হাদীছ বর্ণনা করেন। তিনি বললেন, আমি রাসূল (ছাঃ) থেকে যা শুনেছি তার সবগুলো যদি বর্ণনা করতাম তাহ’লে তোমরা আমাকে পাথর মেরে হত্যা করতে; কোন অবকাশই দিতে না (আহমাদ হা/১০৯৭২, সনদ ছহীহ)। উপরোক্ত হাদীছে ছুফীবাদের পক্ষে কোন দলীল নেই। যেমনটি তারা বলে যে, আবু হুরায়রা (রাঃ) যা গোপন রেখেছিলেন তা ইলমে বাতেনী। আর বাতেনী ইলম বা নূর তাদের নিকটে রয়েছে। তাদের এ ধরনের দাবী মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বরং উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় বিদ্বানগণ বলেন, তা ছিল ফিৎনা সম্পর্কিত বিষয় বা তৎকালীন শাসকের বিরুদ্ধেছিল, যা প্রকাশ করলে তাকে হত্যা করা হ’ত। অথবা হয়ত এমন বিষয় ছিল যা গোপন রাখলে দ্বীনের কোন ক্ষতি হবে না বরং প্রকাশ করলে ফিৎনা বৃদ্ধি পাবে বলেই তিনি প্রকাশ করেননি। এমনকি যাদের হাত থেকে ইসলামী নেতৃত্ব হারিয়ে যাবে বলে রাসূল (ছাঃ) সাবধান করেছিলেন তাদের নামও তিনি জানতেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বললেন, আমি আছ-ছাদিকুল মাছদূক (সত্যবাদী ও সত্যবাদী হিসাবে সত্যায়িত)-কে বলতে শুনেছি, ‘আমার উম্মতের ধ্বংস কুরাইশের কতিপয় বালকের হাতে হবে। তখন মারওয়ান বললেন, এ সকল বালকের প্রতি আল্লাহর লা‘নত বর্ষিত হোক। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, আমি যদি বলার ইচ্ছা করি যে তারা অমুক অমুক গোত্রের লোক তাহ’লে তাদের নাম বলতে সক্ষম’ (বুখারী হা/৩৬০৫)। আমর বিন ইয়াহইয়া বলেন, মারওয়ান যখন সিরিয়ায় ক্ষমতাসীন  হ’লেন, তখন আমি আমার দাদার সঙ্গে সেখানে গেলাম। তিনি যখন তাদের অল্প বয়ষ্ক বালকদের দেখলেন তখন তিনি আমাদের বললেন, সম্ভবত এরা সেই দলেরই অন্তর্ভুক্ত। আমরা বললাম, এ বিষয়ে আপনিই ভাল বুঝেন (বুখারী হা/৭০৫৮)। এদের নামই আবু হুরায়রা (রাঃ) গোপন রেখেছিলেন। কোন ইলমে বাতেনী বা ওয়াহ্দাতুল অজূদ ছিল না (রশীদ রেযা, তাফসীরুল মানার ৬/৩৯০; তাহের আল-জাযায়েরী, তাওযীহুন নাযার ১/৬৩-৬৪)। এ ব্যাপারে ইমাম কুরতুবী বলেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) যা প্রকাশ করেননি এবং যা প্রকাশ করলে স্বীয় জীবনের জন্য ঝুঁকি মনে করছিলেন তা ছিল ফিৎনা সংক্রান্ত বিষয় এবং মুরতাদ ও মুনাফিকদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে দলীল। সেগুলো হেদায়াত ও বিধান সংশ্লিষ্ট ছিল না (তাফসীরে কুরতুবী ২/১৮৬)। হাফেয ইবনু হাজার (রহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) জ্ঞানের যে পাত্র উন্মুক্ত করেননি তার ব্যাখ্যায় ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, সে পাত্রে নিকৃষ্ট নেতাদের নাম, অবস্থা ও সময়কাল স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। অবশ্য আবু হুরায়রা (রাঃ) কোন কোন সময় তাদের উপনাম উল্লেখ করেছেন। কিন্তু জীবনের ভয়ে স্পষ্ট করে নাম উল্লেখ করেননি। যেমন তিনি দো‘আয় বলতেন, হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ষাট হিজরী থেকে আশ্রয় চাই। বালকদের নেতৃত্ব থেকে আশ্রয় চাই। এর দ্বারা তিনি ইয়াযীদ বিন মু‘আবিয়ার খেলাফতের প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন। কারণ তিনি ষাট হিজরীতে খেলাফত লাভ করেন। আল্লাহ তার দো‘আ কবুল করেন। তিনি ঊনষাট হিজরীতে মারা যান (ফাৎহুল বারী ১/২১৬)। অতএব উক্ত হাদীছে ছূফীবাদের পক্ষে কোন দলীল নেই।

Posted in আবু হুরায়রা (রাঃ) ইলমে তাছাউফের জ্ঞান গোপন করেছিলেন কি? | Tagged , ,

ভারতের ভূপালে একটি নারী জিমনেশিয়াম হয়েছে। যেখানে নারীরা জিম করতে পারে। কোন পুরুষ থাকে না। এক্ষণে এটা কি জায়েয হবে?


পর্দার সাথে নারীরা শরীর চর্চা করতে পারে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, সবল মুমিন আল্লাহর নিকট দুর্বল মুমিন অপেক্ষা বেশী প্রিয়। আর প্রত্যেকের মধ্যে কল্যাণ রয়েছে। তুমি ঐ জিনিসে যত্নবান হও, যাতে তোমার কল্যাণ আছে’ (মুসলিম হা/২৬৬৪; মিশকাত হা/৫২৯৮)। তিনি আরো বলেন, তোমরা তীরন্দাযী কর ও ঘোড়দৌড় শিক্ষা কর। তবে তোমাদের ঘোড়দৌড় শেখার তুলনায় তীরন্দাযী শিক্ষা করা আমার নিকট বেশী পসন্দনীয়। মুসলিম ব্যক্তির সকল ক্রীড়া-কেŠতুকই বৃথা। তবে তীর নিক্ষেপ, ঘোড়ার প্রশিক্ষণ, সাঁতার শিক্ষা এবং নিজ স্ত্রীর সাথে ক্রীড়া-কৌতুক বৃথা নয়। কারণ এগুলো উপকারী ও বিধি সম্মত (তিরমিযী হা/১৬৩৭; ছহীহাহ হা/৩১৫; ছহীহুত তারগীব হা/১২৮২)। পৃথক ব্যবস্থাপনা থাকলেও সর্বাবস্থায় নারীকে স্বীয় আব্রু ও সম্ভ্রমের ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যেসব মহিলা স্বীয় ঘর  ব্যতীত অন্য জায়গায় কাপড় খোলে, তারা নিজেদের ও আল্লাহর মধ্যকার পর্দা ছিন্ন-ভিন্ন করে ফেলে’ (আবুদাউদ হা/৪০১০; ছহীহুল জামে‘ হা/৫৬৯২; ছহীহাহ হা/৩৪৪২)

Posted in নারীদের জিম করা জায়েয হবে কি? | Tagged , ,

হায়েয অবস্থায় সহবাস করলে তার কাফফারা কি? যদি কাফফারা আদায় করতে না পারে তাহ’লে কি করতে হবে?


হায়েয অবস্থায় স্ত্রী সহবাস হারাম (বাক্বারা ২/২২২)। ইচ্ছাকৃতভাবে যদি কেউ করে, তবে তাকে খালেছ নিয়তে তওবা করতে হবে এবং কাফফারা স্বরূপ এক দীনার বা অর্ধ দীনার গরীব-মিসকীনকে দান করতে হবে (তিরমিযী, আবুদাঊদ হা/২৬৪; ইরওয়া হা/১৯৭; মিশকাত হা/৫৫৩)। আর এক দীনার হ’ল ৪.২৫ গ্রাম স্বর্ণের সমপরিমাণ। যার বর্তমান বাযারমূল্য প্রায় ১৪/১৫ হাযার টাকা। তবে শারঈ বিধান না জেনে অজ্ঞতাবশতঃ কিংবা ভুলক্রমে করে ফেললে তওবা করাই যথেষ্ট হবে (মুসলিম হা/১২৬; ইবনুল উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতি‘ ১/৫৭১)

Posted in হায়েয অবস্থায় সহবাস করলে তার কাফফারা কি? | Tagged , ,

পুস্তক সমিতির নিয়ম মেনেই কি বই কেনা-বেচা করতে হবে? নাকি স্বাধীনভাবে বিক্রি করা যাবে?


সমিতির নিয়ম-নীতি যদি কুরআন-হাদীছ বিরোধী না হয় ও ব্যবসায়ের জন্য ক্ষতিকর না হয় তাহ’লে দুনিয়াবী শৃংখলার স্বার্থে নিয়ম মেনেই বই কেনা-বেচা করবে। কারণ ইসলামী শরী‘আত সর্বাবস্থায় জাগতিক শান্তি-শৃংখলাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে (ক্বাছাছ ২৮/৮৩)

Posted in ব্যবসায় সমিতির নিয়ম মেনেই কি কেনা-বেচা করতে হবে? | Tagged ,

জুম‘আর ছালাতে ইমামের তাশাহহুদে থাকাবস্থায় আমি জামা‘আতে শরীক হই। এখন কি আমি চার রাক‘আত যোহর আদায় করব? না-কি ২ রাক‘আত জুম‘আর ছালাত আদায় করব?


এক্ষণে তাকে যোহরের চার রাক‘আত ছালাত আদায় করতে হবে। কারণ জুম‘আর ছালাতের ক্ষেত্রে পূর্ণ এক রাক‘আত না পেলে জুম‘আর ছালাত পাওয়া সাব্যস্ত হয় না’ (নববী, আল-মাজমূ‘ ৪/৫৫৮; ইরওয়া হা/৬২২)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি জুম‘আর ছালাতের এক রাক‘আত পেল, সে যেন তার সাথে আরো এক রাক‘আত মিলিয়ে পড়ে (ইবনু মাজাহ হা/১১২১; মিশকাত হা/১৪১৯; ছহীহুল জামে‘ হা/৫৯৯১)

Posted in জুম‘আর ছালাতে তাশাহহুদে থাকাবস্থায় জামা‘আতে পেলে করণীয় কি? | Tagged ,

শামুক ও ঝিনুক দিয়ে মালা বানিয়ে গলায় পরা বা বানিয়ে রাখা যাবে কি? কিংবা এগুলি ঘর সাজানোর উদ্দেশ্যে রাখা যাবে কি?


ঘরের সৌন্দর্যের জন্য এগুলো ব্যবহার করা যাবে। মহিলারা এগুলো মালা হিসাবে পরিধান করতে পারবেন। কারণ এগুলো মৌলিকভাবে কোন হারাম বস্ত্ত নয় এবং এর খোলসগুলো মানুষের নিত্য-ব্যবহার্য তৈজসপত্র বা উপকরণে পরিণত হয়। তবে পুরুষেরা এর তৈরী মালা ব্যবহার করতে পারবে না। কেননা তাদের জন্য নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা নাজায়েয (বুখারী হা/৫৮৮৫; মিশকাত হা/৪৪২৯)

Posted in শামুক ও ঝিনুক দিয়ে মালা বানিয়ে ব্যবহার যাবে কি? | Tagged , ,

কবরে লাশ নামানোর জন্য কি এমন ব্যক্তি হওয়া যরূরী যে পূর্বরাতে স্ত্রী মিলন করেনি? যদি তাই হয় তবে এর পিছনে হেকমত কি?


এমন ব্যক্তি হওয়া যরূরী নয়, তবে উত্তম। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁর কন্যার কবরের পার্শ্বে উপস্থিত হন। তিনি সেখানে বসেন। আমি দেখতে পেলাম, তাঁর চোখ হ’তে অশ্রু ঝরছে। অতঃপর রাসূল (ছাঃ) বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছে, যে গত রাতে স্ত্রীর নিকটবর্তী হওনি? আবু তালহা (রাঃ) বললেন, আমি। রাসূল (ছাঃ) তাকে বললেন, তুমি কবরে নামো। অতঃপর রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশে আবু তালহা (রাঃ) কবরে নামলেন’ (বুখারী হা/১২৮৫; মিশকাত হা/৭১৫)। এর ব্যাখ্যায় শায়খ উছায়মীন বলেন, আমার জানা নেই যে, কোন আলেম বলেছেন, পূর্বরাতে স্ত্রী সহবাসকারীদের জন্য কবরে নামা নিষিদ্ধ। বরং হাদীছে উত্তম বলা হয়েছে (লিক্বাউল বাবিল মাফতুহ ৭৭/২১)। এর হিকমত আল্লাহই ভালো জানেন। তবে কেউ কেউ বলেন, স্ত্রী সহবাসকারীর মনে শয়তান রাতের অবস্থাগুলো স্মরণ করিয়ে দিবে। ফলে এতে মানসিক পবিত্রতার ঘাটতি হ’তে পারে (ফাৎহুল বারী ৩/১৫৯; মির‘আত হা/১৭২৯-এর ব্যাখ্যা; নায়লুল আওতার ৪/১০৬; ইবনু হাজার হায়তামী, তোহফাতুল মুহতাজ ৩/১৬৯)

Posted in কবরে লাশ নামানোর জন্য কেমন ব্যক্তির প্রয়োজন? | Tagged ,

আমি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে দ্বীন বিষয়ক আলোচনায় অংশগ্রহণ করে থাকি। শ্রোতাদের মধ্যে পুরুষ ও নারী উভয়ই থাকে। এটা কি জায়েয হবে?


শায়খ বিন বায সহ কতিপয় বিদ্বানের মতে এটি জায়েয হবে। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আর মুমিন পুরুষ ও নারী পরস্পরের বন্ধু (সহযোগী)। তারা সৎ কাজের আদেশ করে ও অসৎ কাজে নিষেধ করে’ (তওবা ৯/৭১)। অতএব পূর্ণ শারঈ পর্দা ও আদব বজায় রেখে এরূপ সেমিনার বা কনফারেন্সে মহিলাদের বক্তব্য উপস্থাপন নাজায়েয নয়। কেননা এখানে মূল উদ্দেশ্য হ’ল নছীহত করা। মহিলা ছাহাবী ও তাবেঈদের অনেকেই পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে দ্বীনের নছীহত করতেন এবং দ্বীন শিক্ষা দিতেন (বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব)। তবে নিঃসন্দেহে উত্তম হ’ল, নারীরা নারীদের মজলিসে বক্তব্য রাখবে ও শিক্ষাদান করবে। নারী ও পুরুষের কর্মক্ষেত্র ভিন্ন হওয়াটাই নিয়ম (মুসলিম হা/৪৪০; আবুদাঊদ হা/ ৬৭৮; মিশকাত হা/১০৯২)

Posted in দ্বীন বিষয়ক আলোচনায় মহিলাদের অংশগ্রহণ করা যাবে কি? | Tagged ,

রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে দু’জন পারসিক দূত আসলে তিনি তাদের চাছা দাড়ি ও লম্বা গোফ দেখে অপসন্দ করেন। তখন তারা বলে যে, তাদের প্রভু কিসরার নির্দেশে তারা এমনটি করেছেন। একথা শুনে রাসূল (ছাঃ) বলেন, আমার প্রভু আমাকে দাড়ি লম্বা করতে ও গোঁফ ছাটতে বলেছেন। এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ?


উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি ‘হাসান’ (আলবানী, ফিক্বহুস সীরাহ ১/৩৫৯; ইবনু তায়মিয়াহ, আল-জাওয়াবুছ ছহীহ ১/৩২০-২১; আল-বিদায়াহ ৪/২৭০)। তবে কেউ কেউ এটিকে ‘মুরসাল’ ছহীহ বলেছেন (ইবনু সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা ১/৩৪৭)

Posted in দাড়ি লম্বা করতে ও গোঁফ ছাটতে বলেছেন। মর্মে হাদীছটি কি ছহীহ? | Tagged

যিহার কি? যিহারের কাফফারা কি কুরআনে বর্ণিত ধারাবাহিকতা অবলম্বন করে দিতে হবে? নাকি তিনটির যেকোন একটি দিলেই চলবে?


যিহার হ’ল স্ত্রীর কোন অঙ্গকে মা বা স্থায়ী মাহরামের পিঠ বা অন্য কোন অঙ্গের সাথে তুলনা করা (নাসাঈ, বুলূগুল মারাম হা/১০৯১ ‘যিহার’ অনুচ্ছেদ)। আর এরূপ যিহারের কাফ্ফারা হ’ল স্বামী একটি গোলাম আযাদ করবে অথবা এক টানা দু’মাস ছিয়াম পালন করবে অথবা ৬০ জন মিসকীনকে খাওয়াবে (মুজাদালাহ ৫৮/৩-৪)। এক্ষণে কাফফারা হিসাবে দাসমুক্তির সুযোগ না থাকায় প্রথমতঃ ধারাবাহিকভাবে দুই মাস একটানা ছিয়াম পালন করবে। এতে অক্ষম হ’লে ষাটজন মিসকীনকে মধ্যম মানের খাবার খাওয়াবে (মুজাদালাহ ৫৮/৩-৪)। উল্লেখ্য যে, কাফফারার ছিয়াম শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রী স্পর্শ করবে না। কিন্তু যদি অধৈর্য হয়ে করেই ফেলে, তাহ’লে কাফফারা শেষ হওয়ার পূর্বে পুনরায় স্ত্রী স্পর্শ করবে না (ইবনু মাজাহ হা/২০৬৫)

Posted in যিহার কি? যিহারের কাফফারা কিভাবে করতে হবে? | Tagged

এক্বামতের সময় হাত ছেড়ে না বেঁধে রাখতে হবে?


হাত খোলা অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে রাখবে। এরপর ইমাম তাকবীর দিলে মুছল্লী তাকবীর দিয়ে বুকে হাত বাঁধবে।

Posted in এক্বামতের সময় হাত ছেড়ে না বেঁধে রাখতে হবে? | Tagged

পবিত্র অবস্থায় তালাক দিতে চাই। কিন্তু স্ত্রী দূরে থাকায় অবস্থা জানি না। এক্ষণে করণীয় কী?


এমতবস্থায় করণীয় হ’ল, স্বামী পত্রে লিখবে যে, তুমি যদি পবিত্র অবস্থায় থাক তাহ’লে তালাক, আর যদি হায়েয অবস্থায় থাক তাহ’লে যখন পবিত্র হবে তখন তালাক, যেমনটি ইমাম শাফেঈ (রহঃ) মত ব্যক্ত করেছেন (কিতাবুল উম্ম ৫/১৯৪)। সুন্নাতী তালাকের নিয়ম হ’ল এভাবে তিন মাসে তিন তুহরে তিন তালাক প্রদান করা (বাক্বারাহ ২/২২৯)

Posted in তালাক দিতে চাই। কিন্তু স্ত্রী পবিত্র কিনা জানি না। এক্ষণে করণীয় কী? | Tagged