মাসবূক যদি দ্বিতীয় রাক‘আতে ইমামের সাথে যোগদান করে আর ইমাম ভুল করে পাঁচ রাক‘আত ছালাত আদায় করে সালাম ফিরায়, তাহ’লে মাসবূক কি ইমামের সাথে সালাম ফিরাবে? না আরো এক রাক‘আত আদায় করে সালাম ফিরাবে? একইভাবে ইমাম যদি ভুলবশতঃ তৃতীয় রাক‘আত শেষে সালাম ফিরায় এবং পরক্ষণে দাঁড়িয়ে অবশিষ্ট রাক‘আত আদায় করে, সেক্ষেত্রে মাসবূক কি করবে?


এক্ষেত্রে মাসবূকের রাক‘আত পূর্ণ হয়ে গেছে। অতএব সে ইমামের সাথে সালাম ফিরিয়ে ছালাত সম্পন্ন করবে (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া প্রশ্নোত্তর ৬৫২, ১৪/০৬)। এ সময় ইমাম সহো সিজদা দিলে সে তার অনুসরণ করবে। কেননা ইমাম নিযুক্ত করা হয় তাকে অনুসরণের জন্য (আবুদাঊদ হা/৬০৪ প্রভৃতি; বুঃ মুঃ মিশকাত হা/৮৫৭, ১১৩৯)

আর ইমাম তৃতীয় রাক‘আতে ভুল করে সালাম ফিরালে মাসবূক দাঁড়িয়ে বাকী ছালাত আদায় করবে। অতঃপর ইমাম ভুল বুঝে বাকী ছালাত আদায় করতে শুরু করলে মাসবূক ছালাত ছেড়ে ইমামের সাথে যোগ দিবে। এরপর ইমাম সহো সিজদা দিয়ে সালাম ফিরালে সে বাকী ছালাত আদায় করবে (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া প্রশ্নোত্তর ৬৬০, ১৪/১১, প্রশ্নোত্তর ৭০৮, ১৪/২৭)

Posted in মাসবূক দ্বিতীয় রাক‘আতে ইমামের সাথে যোগদান করলে ইমাম পাঁচ রাকাত পড়ালে করণীয় | Tagged , ,

পিতা স্বীয় সন্তানকে শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে মুখের উপর আঘাত করতে পারে কি?


যেকোন ক্ষেত্রে, যেকোন অবস্থায় মুখে আঘাত করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। রাসূল (ছাঃ) চেহারায় আঘাত করতে নিষেধ করেছেন (বুখারী হা/২৫৫৯, মুসলিম হা/২৬১২, মিশকাত হা/৩৫২৫)। তিনি বলেন, যখন তোমরা কাউকে মারবে, তখন চোহারার উপর মারা থেকে বিরত থাকবে (আবুদাঊদ হা/৪৪৯৩, মিশকাত হা/৩৬৩১)। ইবনু হাজার বলেন, সব ধরনের শাস্তি বা হদ উক্ত নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত (ফাৎহুল বারী ৫/১৮৩)। তবে পিতা-মাতা মুখ ব্যতীত অন্যত্র প্রয়োজনে প্রহার করতে পারেন (আবুদাঊদ হা/৪৯৫; মিশকাত হা/৬১)

Posted in পিতা স্বীয় সন্তানকে শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে মুখের উপর আঘাত করতে পারে কি? | Tagged ,

শিরক করার পর তওবা করলে পূর্বে কৃত আমলের নেকী ফিরে পাওয়া যাবে কি?


পূর্বে কৃত আমলের নেকী ফিরে পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। হাকীম বিন হিযাম (রাঃ) ইসলাম গ্রহণের পর তার মুশরিক অবস্থায় কৃত ছাদাক্বা, দাসমুক্তি, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ইত্যাদি সৎকর্ম সমূহের পুরস্কার পাওয়া যাবে কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে রাসূল (ছাঃ) বলেন, তুমি যেসব সৎকর্ম করেছ, তা নিয়েই তুমি ইসলাম কবুল করেছ’ (বুখারী হা/১৪৩৬; মুসলিম হা/১২৩)। হাদীছটির ব্যাখ্যায় ইবনু রজব হাম্বলী (রহঃ) বলেন, কারো যদি এমন সৎকর্ম থাকে এবং পাপকর্মের কারণে তা বিনষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে তওবা করলে উক্ত সৎকর্মের নেকী সে পুনরায় ফিরে পাবে (ইবনু রজব, ফাৎহুল বারী ১/১৪৫-৪৬)

Posted in শিরক করার পর তওবা করলে পূর্বে কৃত আমলের নেকী ফিরে পাওয়া যাবে কি? | Tagged

বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তি কি শহীদের মর্যাদা পাবেন? তাদের লাশ চুরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। এক্ষণে তা সংরক্ষণে করণীয় কি?


এরূপ মুমিন ব্যক্তি শহীদের মর্যাদা পাবেন ইনশাআল্লাহ। কারণ যারা পুড়ে মারা যান, তারা শহীদ হিসাবে গণ্য হন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী ছাড়াও আরও সাত শ্রেণীর মানুষ শাহাদতের মর্যাদা লাভ করবে। তারা হ’ল : (১) মহামারীতে মৃত (মুমিন) ব্যক্তি (২) পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি (৩) ‘যাতুল জাম্ব’ নামক কঠিন রোগে মৃত ব্যক্তি। যেসব গর্ভবতী মেয়ের পেটে বাচ্চা মারা যায় এবং সেকারণে মাও মারা যায়, ঐ মেয়েকে যাতুল জাম্ব-এর রোগিনী বলা হয়। ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেন, এটিই প্রসিদ্ধ (ফাৎহুল বারী হা/২৮২৯-এর ব্যাখ্যা, ৬/৫১ পৃঃ)। (৪) (কলেরা বা অনুরূপ) পেটের পীড়ায় মৃত ব্যক্তি (৫) আগুনে পুড়ে মৃত ব্যক্তি (৬) ধ্বসে চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি ও (৭) গর্ভাবস্থায় মৃত মহিলা’ (আবুদাউদ হা/৩১১১; মিশকাত হা/১৫৬১; ছহীহ আত-তারগীব হা/১৩৯৮)। ঐ সকল মুমিন আখেরাতে শহীদের মর্যাদা পাবেন। যদিও দুনিয়াতে তাদের গোসল ও জানাযা করা হবে। পক্ষান্তরে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধে নিহত শহীদের গোসল নেই। তিনি ঐ অবস্থায় ক্বিয়ামতের দিন উঠবেন’ (বুখারী হা/৪০৭৯; মিশকাত হা/১৬৬৫; মির‘আত হা/১৬৭৯, ৫/৪০০ পৃঃ)

কবর পাকা করা নিষিদ্ধ (আহমাদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১৭০৯)। এক্ষণে লাশ চুরি ঠেকানোর জন্য মাটির নীচে মযবূত ঢালাই করে কবর মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া যায়, কিংবা অন্য যেকোন ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তবে উপরে দেওয়াল দিয়ে উঁচু করা বা পাকা করা যাবে না। কেননা রাসূল (ছাঃ) কবর উঁচু করতে, পাকা করতে, তার উপর সৌধ নির্মাণ করতে ও বসতে নিষেধ করেছেন (মুসলিম হা/৯৬৯-৭২; মিশকাত হা/১৬৯৬-৯৭)

Posted in বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তি কি শহীদের মর্যাদা পাবেন? | Tagged , ,

হজ্জ থেকে ফিরে আসা উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা যাবে কি?


কোন দীর্ঘ সফর থেকে ফিরে আসার পর এরূপ আয়োজন করা যায়। জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) যখন মদীনায় আগমন করেন, তখন তিনি একটি উট অথবা একটি গাভী যবহ করেন (বুখারী হা/৩০৮৯; মিশকাত হা/৩৯০৫)। হাদীছটির ব্যাখ্যায় ত্বীবী বলেন, সফর থেকে ফেরার পর সক্ষমতা অনুযায়ী মেহমানদারী করানো সুন্নাত (ত্বীবী, শরহ মিশকাত হা/৩৯০৫-এর ব্যাখ্যা; বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৫/৩৮৮; নববী, আল-মাজমূ‘ ৪/৪০০)। তবে এটিকে রেওয়াজে পরিণত করলে বিদ‘আত হবে। আর হজ্জ ব্যবসায় প্রসারের লক্ষ্যে এটা করলে নেকী থেকে বঞ্চিত হবে।

Posted in হজ্জ থেকে ফিরে আসা উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজন নিয়ে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা যাবে কি? | Tagged ,

এশার ছালাতের তৃতীয় রাক‘আতে থাকা অবস্থায় বমি হওয়ায় ছালাত পরিত্যাগ করি। এক্ষণে বমি হওয়ার কারণে পুনরায় ওযূ করতে হবে কি? এছাড়া কুলি করে এসে কেবল বাকী দুই রাক‘আত ছালাত না পুরো ছালাত আদায় করতে হবে?


এজন্য কুলি করে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। পুনরায় ওযূ করা ওয়াজিব নয়। কেননা বমি হওয়া ওযূ ভঙ্গের কারণ নয়। রাসূল (ছাঃ)-এর বমি হ’লে তিনি ওযূ করেন’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি ছহীহ হ’লেও তা ওযূ ভঙ্গের কারণ হওয়ার ব্যাপারে কোন দলীল নয় (আলবানী, ইরওয়া হা/১১১, ১/১৪৭-১৪৮; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১১/১৪০)

এরূপ অবস্থায় পুরো ছালাত আদায় করতে হবে। কেননা সালাম ফিরানোর পূর্বে কোন কারণে ছালাত পরিত্যাগ করলে তা ছালাত হিসাবে গণ্য হবে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘ছালাতের জন্য সবকিছু হারাম হয় তাকবীরের মাধ্যমে এবং সবকিছু হালাল হয় সালাম ফিরানোর মাধ্যমে’ (আবুদাঊদ হা/৬১৮; মিশকাত হা/৩১২)

Posted in ওযূ বমি হওয়ার কারণে পুনরায় করতে হবে কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ) জীবিত ও সামনে উপস্থিত বুঝানোর জন্য তাশাহহুদে পঠিত দো‘আ ‘আইয়ূহান্নাবীইউ’ দ্বারা দলীল পেশ করেন। এখানে ‘আইয়ূহা’ দিয়ে কি জীবিত ব্যক্তিদের বুঝানো হয়েছে। বিস্তারিত জানতে চাই।


না। বরং রাসূল (ছাঃ) এই শব্দে দো‘আটি পাঠ করেছেন বলেই আমাদেরকে তা পাঠ করতে হবে। তাশাহহুদ সম্পর্কিত সকল ছহীহ মরফূ হাদীছে রাসূল (ছাঃ)-কে সম্বোধন সূচক ‘আইয়ুহান্নাবী’ শব্দ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর মৃত্যুর পরে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) প্রমুখ কতিপয় ছাহাবী ‘আইয়ুহান্নাবী’-এর পরিবর্তে ‘আলান্নাবী’ বলতে থাকেন। যেমন বুখারী ‘ইস্তীযা-ন’ অধ্যায়ে এবং অন্যান্য হাদীছ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। অথচ সকল ছাহাবী, তাবেঈন, মুহাদ্দেছীন, ফুক্বাহা পূর্বের ন্যায় ‘আইয়ুহান্নাবী’ পড়েছেন। এই মতভেদের কারণ হ’ল এই যে, রাসূলের জীবদ্দশায় তাঁকে সম্বোধন করে ‘আইয়ুহান্নাবী’ বলা গেলেও তাঁর মৃত্যুর পরে তো আর তাঁকে ঐভাবে সম্বোধন করা যায় না। কেননা সরাসরি এরূপ গায়েবী সম্বোধন কেবল আল্লাহকেই করা যায়। মৃত্যুর পরে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে এভাবে সম্বোধন করলে তাঁকে আল্লাহ সাব্যস্ত করা হয়ে যায়। সেকারণ কিছু সংখ্যক ছাহাবী ‘আলান্নাবী’ অর্থাৎ ‘নবীর উপরে’ বলতে থাকেন।

পক্ষান্তরে অন্য সকল ছাহাবী পূর্বের ন্যায় ‘আইয়ুহান্নাবী’ বলতে থাকেন। ত্বীবী (মৃ: ৭৪৩ হিঃ) বলেন, এটা এজন্য যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁদেরকে উক্ত শব্দেই ‘তাশাহহুদ’ শিক্ষা দিয়েছিলেন। তার কোন অংশ তাঁর মৃত্যুর পরে পরিবর্তন করতে বলে যাননি। অতএব ছাহাবায়ে কেরাম উক্ত শব্দ পরিবর্তনে রাযী হননি। ছাহেবে মির‘আত বলেন, জীবিত-মৃত কিংবা উপস্থিতি-অনুপস্থিতির বিষয়টি ধর্তব্য নয়। কেননা স্বীয় জীবদ্দশায়ও তিনি বহু সময় ছাহাবীদের থেকে দূরে সফরে বা জিহাদের ময়দানে থাকতেন। তবুও তারা তাশাহহুদে নবীকে উক্ত সম্বোধন করে ‘আইয়ুহান্নাবী’ বলতেন। তারা তাঁর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিতে উক্ত সম্বোধনে কোন হেরফের করতেন না। তাছাড়া বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর জন্য ‘খাছ’ বিষয়াবলীর (من خصائصه) অন্তর্ভুক্ত। এটা স্রেফ তাশাহহুদের মধ্যেই পড়া যাবে, অন্য সময় নয়।

উল্লেখ্য যে, এই সম্বোধনের মধ্যে কবর পূজারীদের জন্য কোন সুযোগ নেই। তারা এই হাদীছের দ্বারা রাসূল (ছাঃ)-কে সর্বত্র হাযির-নাযির প্রমাণ করতে চায় (মির‘আত ১/৬৬৪-৬৫; , ৩/২৩৩-৩৪, হা/৯১৫-এর ভাষ্য দ্রঃ) ও মনোবাসনা পূর্ণ করার জন্য তাঁকে ‘অসীলা’ হিসাবে গ্রহণ করতে চায়। এটা পরিষ্কারভাবে ‘শিরকে আকবর’ বা বড় শিরকের অন্তর্ভুক্ত (বিস্তারিত  01 & 02)

Posted in রাসূল (ছাঃ) জীবিত ও সামনে উপস্থিত এর প্রমাণ তাশাহহুদ ‘আইয়ূহান্নাবীইউ’ কি? | Tagged , , ,

রামাযানে নফল ইবাদত ফরয ইবাদতের সমান এবং ফরয ইবাদত ৭০টি ফরয ইবাদতের সমান। এ হাদীছটির কোন সত্যতা আছে কি?


হাদীছটি যঈফ। আর উক্ত মর্মের সকল বর্ণনাই যঈফ, মুনকার ও মওযূ‘ (যঈফাহ হা/৮৭১; মিশকাত হা/১৯৬৫ ‘ছওম’ অধ্যায়; যঈফ আত-তারগীব হা/৫৮৯-৬০১)

Posted in রামাযানে নফল ইবাদত ফরয ইবাদতের সমান এবং ফরয ইবাদত ৭০টি ফরয ইবাদতের সমান কি? | Tagged

জামা‘আতের সময় হয়ে গেলেও ইমাম ছাহেব ছালাত শুরু না করে নিয়মিতভাবে ৪-৫ মিনিট মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে আলোচনা করেন। তারপর জামা‘আত শুরু করেন। এরূপ করা সঠিক কি?


এ সময় মাঝে-মধ্যে অতি সংক্ষেপে কেবল ছালাত ও কাতার সংক্রান্ত কথা বলা যাবে। যেমন আনাস (রাঃ) বলেন, ছালাতের ইক্বামত হয়ে গেলে রাসূল (ছাঃ) আমাদের দিকে ফিরে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘তোমরা তোমাদের কাতার সোজা কর এবং ভালভাবে পরস্পরে মিলে দাঁড়াও’ (বুখারী হা/৭১৯; মুসলিম হা/৪৩৪; মিশকাত হা/১০৮৬ ‘কাতার সোজা করা’ অনুচ্ছেদ)

Posted in ছালাত শুরু করার পূর্বে মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে আলোচনা করা যাবে কি? | Tagged ,

একজন হোমিও চিকিৎসক হিসাবে নারী-পুরুষ উভয়ের চিকিৎসা করে থাকি। এক্ষেত্রে নারীদের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ ও তাদের অনেক গোপন কথা শ্রবণ করতে হয়। এটা আমার জন্য জায়েয হবে কি?


চিকিৎসার স্বার্থে বাধ্যগত অবস্থায় এরূপ করা যাবে (বাক্বারাহ ২/১৭৩; শায়খ বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৯/৪৩৩)। তবে সাধ্যমত ইসলামী পর্দার বিধান মেনে এবং দৃষ্টিকে নত রাখতে হবে (নূর ২৪/৩০)। আল্লাহ প্রকাশ্য ও গোপন যাবতীয় অশ্লীলতার নিকটবর্তী হ’তে নিষেধ করেছেন (আন‘আম ৬/১৫১, আ‘রাফ ৭/৩৩)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমাদের কারো মাথায় লোহার সুঁচ দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া অধিক উত্তম, কোন গায়ের মাহরাম মহিলাকে স্পর্শ করার চাইতে’ (ত্বাবারাণী কাবীর হা/৪৮৬; ছহীহ আত-তারগীব হা/১৯১০)

Posted in চিকিৎসার স্বার্থে নারীদের অনেক গোপন কথা শ্রবণ করা যাবে কি? | Tagged ,

জনৈক যুবক শারীরিক দুর্বলতার কারণে ছিয়াম রাখতে পারছে না। এক্ষণে তার জন্য করণীয় কি?


ছিয়াম ইসলামের পাঁচটি রুকনের অন্যতম। সুতরাং সম্ভবপর তা রাখার চেষ্টা করতে হবে। কোনভাবেই রাখা সম্ভব না হ’লে এটা রোগ হিসাবে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে তা গণনা করে রেখে পরবর্তীতে আদায় করবে। আল্লাহ বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি পীড়িত হবে অথবা সফরে থাকবে সে এটি অন্য সময় গণনা করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ চান, কঠিন চান না’ (বাক্বারাহ ২/১৮৬)

Posted in ছিয়াম শারীরিক দুর্বলতার কারণে রাখতে না পারলে করণীয় কি?, শারীরিক দুর্বলতার কারণে ছিয়াম রাখতে না পারলে করণীয় কি? | Tagged

ইমাম যদি আগে ভুল করে এবং আমি পরে জামা‘আতে যোগদান করি। অতঃপর ইমাম সালাম ফিরানোর পূর্বে সহো সিজদা দিলে আমার জন্য করণীয় কি?


ইমামের অনুসরণ করে সহো সিজদা দিবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘ইমাম নিযুক্ত করা হয় তাকে অনুসরণের জন্য (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১১৩৯; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৪/২২, ১৪/৪৫)

Posted in সহো সিজদাহ আমি ভূল না করলেও কি ইমামের সাথে দিতে হবে? | Tagged

মসৃণ পাথরখন্ড ও টাইল্স দ্বারা তায়াম্মুম করা যাবে কি?


যাবে। আল্লাহ বলেন, আর যদি তোমরা পানি না পাও, তাহ’লে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম কর (নিসা /৪২)। আরবী পরিভাষায় ‘মাটি’ বলতে ভূ-পৃষ্ঠকে বুঝায় (আলমিছবাহুল মুনীর; তায়াম্মুমঅনুচ্ছেদ)। অতএব ভূ-পৃষ্ঠের মাটি, বালি বা পাথুরে মাটি ইত্যাদি দিয়ে ‘তায়াম্মুম’ করা যাবে। উছায়মীন বলেন, যমীনের মাটি, বালি, পাথর, কাঁচা মাটি, পাকা মাটি সবকিছু দ্বারাই তায়াম্মুম করা যাবে (শারহুল মুমতে/৩৯৩)। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, কেউ যদি সরাসরি মাটি না পায় তাহ’লে মাটি জাতীয় যেকোন বস্ত্ত দ্বারা তায়াম্মুম যথেষ্ট হবে। এমনকি যদি কেউ পানি ও মাটি কিছুই না পায়, তাহ’লেও সে ঐ অবস্থায় ফরয বা নফল যেকোন ছালাত আদায় করবে। তায়াম্মুমের জন্য সাথে মাটি বহন করা মুস্তাহাব নয়’ (ইবনু তায়মিয়াহ, আলইখতীরিয়াতুল ফিক্বহিইয়াহ /৩৯৫৯৬)

Posted in তায়াম্মুম মসৃণ পাথরখন্ড ও টাইল্স দ্বারা করা যাবে কি? | Tagged ,

সমাজে বহু মানুষ মাসিক মুনাফাভিত্তিক সরকারী সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেন এবং এর সূদের উপরেই জীবিকা নির্বাহ করেন। এরূপ করা জায়েয হবে কি?


সরকারী সঞ্চয়পত্র থেকে প্রাপ্ত লাভ সম্পূর্ণরূপে সূদের অন্তর্ভুক্ত, যা গ্রহণ করা হারাম। উল্লেখ্য, এক লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করলে ৫ বছরে নির্দিষ্টভাবে ৫৪,৭২০ টাকা লভ্যাংশ পাওয়া যায়। যা স্পষ্টভাবে সূদের অন্তর্ভুক্ত। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য, গমের বিনিময়ে গম…  সমানে সমান হাতে হাতে লেনদেন হবে। অতঃপর যে ব্যক্তি বেশী দিবে বা বেশী নিবে, সেটি সূদ হিসাবে গণ্য হবে। এতে গ্রহীতা ও দাতা দু’জনই সমান’ (মুসলিম হা/১৫৮৪; মিশকাত হা/২৮০৯সূদঅনুচ্ছেদ)। অতএব সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে জমা করা অর্থে বেশী নেওয়াটা সূদ।

Posted in মাসিক মুনাফাভিত্তিক সরকারী সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা জায়েয হবে কি? | Tagged

হজ্জ ফরয হয়েছে। কিন্তু শারীরিকভাবে অসুস্থ। এক্ষণে কাউকে দিয়ে বদলী হজ্জ করানো আবশ্যক কি? অথবা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ্জ পালনের পূর্বেই পিতা মারা গেছেন। অছিয়ত করে যাননি। এক্ষণে সন্তানদের জন্য বদলী হজ্জ করা আবশ্যক কি?


এরূপ সামর্থ্যবান মৃত মাতা-পিতার পক্ষ থেকে তাদের সম্পদ দ্বারা বদলী হজ্জ করা ওয়ারিছদের জন্য ওয়াজিব। পিতা অছিয়ত করুন বা না করুন (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১১/১০০, প্রশ্ন নং ১২৪১; শায়খ বিন বায, মাজমূফাতাওয়া ১৬/৪০২)। ইবনু আববাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, বিদায় হজ্জের বছর খাছ‘আম গোত্রের জনৈকা মহিলা এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! …আমার বৃদ্ধ পিতার উপর এমন সময় হজ্জ ফরয হয়েছে, যখন তিনি সওয়ারীর উপর ঠিকভাবে বসতেও সক্ষম নন। আমি তার পক্ষ থেকে হজ্জ করলে তার হজ্জ আদায় হবে কি? তিনি বললেন, হ্যঁা’ (বুখারী হা/১৮৫৪; মুসলিম, মিশকাত হা/২৫১১)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তারপর রাসূল (ছাঃ) বললেন, তোমার পিতার যদি কোন ঋণ থাকতো, তুমি কি তা আদায় করতে না? (নাসাঈ হা/৫৩৮৯)

উল্লেখ্য যে, বদলী হজ্জ তিনিই করতে পারেন, যিনি আগে নিজের হজ্জ করেছেন (আবুদাঊদ হা/১৮১১; ইবনু মাজাহ হা/২৯০৩; মিশকাত হা/২৫২৯; ইরওয়া হা/৯৯৪)

Posted in হজ্জ করা যরূরী, নাকী বাসস্থান নির্মাণ করা যরূরী?, হজ্জ করার নিয়তে টাকা জমা দেওয়ার পর মৃত্যুবরণ করলে বদলী করা যরূরী কি?, হজ্জ করার সামর্থ থাকা স‌ত্বেও হজ্জ না কর‌লে গোনাহগার হবেন কি?, হজ্জ পালন না করেই মারা গেলে গুনাহগার হ’তে হবে কি?, হজ্জ পালনের পূর্বেই পিতা মারা গেছেন। অছিয়ত করে যাননি। এখন করণীয় কি?, হজ্জ পুরুষের পক্ষ থেকে কোন নারী বদলী পালন করতে পারবে কি?, হজ্জ ফরয না হ’লেও বদলী হজ্জ করানো ফরয হবে কি?, হজ্জ-এর নিয়ত করার পর মারা গে‌লে নেকী পাবে কি? | Tagged

একটি হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি সন্দেহপূর্ণ দিনে ছিয়াম পালন করে, সে মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর অবাধ্যতা করল। কোন ছিয়ামের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে?


এটি রামাযানের ছিয়ামের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে। হাদীছটি হ’ল- তাবেঈ বিদ্বান ছিলাহ বিন যুফার (রহঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা আমরা সন্দেহজনক দিনে ‘আম্মার (রাঃ)-এর নিকট ছিলাম। সেখানে একটি ভুনা বকরী পেশ করা হ’লে সেখানকার কিছু লোক (ছিয়াম রাখার কারণে) খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকে। তখন ‘আম্মার (রাঃ) বলেন, আজ (এ সন্দেহজনক দিনে) যে ছিয়াম রেখেছে, সে তো আবুল কাসেম (ছাঃ)-এর নাফরমানী করেছে’ (আবুদাঊদ হা/২৩৩৪; ইবনু মাজাহ হা/১৬৪৫; ‘আওনুল মাবূদসন্দেহের দিনে ছিয়াম রাখাঅনুচ্ছেদএর আলোচনা)

ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেন, এ হাদীছটি সন্দেহপূর্ণ দিনে রামাযানের ছিয়াম শুরু করা হারাম হওয়ার দলীল। কেননা ছাহাবী ‘আম্মার (রাঃ) এখানে নিজস্ব মত ব্যক্ত করেননি। অতএব এটা মরফূ‘ পর্যায়ভুক্ত। তিনি বলেন, ইমাম আহমাদ থেকে এটা প্রসিদ্ধ আছে যে, তিনি সন্দেহপূর্ণ দিন বলতে ঐদিনকে নির্দিষ্ট করেছেন, যেদিন মানুষ চাঁদ দেখতে ব্যর্থ হয়েছে অথবা দেখার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিলেও বিচারক তা গ্রহণ করেননি (ফাৎহুল বারী হা/১৯০৬এর আলোচনা, /১২০১২২)

Posted in সন্দেহপূর্ণ দিনে ছিয়াম পালন করলে মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর অবাধ্যতা করা হলো কি? | Tagged

কয়েকটি ইতিহাস গ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে যে, ইদরীস (আঃ) প্রথম রাসূল ছিলেন। তিনি নূহ (আঃ)-এর পূর্বে আগমন করেছিলেন। একথার সত্যতা আছে কি?


একথা ঠিক নয়। বরং প্রথম রাসূল ছিলেন নূহ (আঃ)। আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই আমরা তোমার প্রতি ‘অহি’ প্রেরণ করেছি, যেমন ‘অহি’ করেছিলাম নূহের নিকট এবং তার পরবর্তী নবীগণের নিকট’ (নিসা /১৬৩)। এছাড়া শাফা‘আতের হাদীছে স্পষ্টভাবে আছে যে, ক্বিয়ামতের দিন আদম (আঃ) বলবেন, তোমরা নূহ (আঃ)-এর নিকট যাও। কারণ তিনি প্রথম নবী ও রাসূল’ (বুখারী হা/৪৪৭৬; মুসলিম হা/১৯৪; মিশকাত হা/৫৫৭২)

কুরতুবী বলেন, ইদরীস (আঃ) যে নূহ (আঃ)-এর পূর্বেকার নবী ছিলেন না, তার বড় প্রমাণ এই যে, মি‘রাজে যখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সাথে ১ম আসমানে আদম (আঃ)-এর সাক্ষাৎ হয়, তখন তিনি মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে অভ্যর্থনা জানিয়ে বলেন, مرحبا بالابن الصالح والنبى الصالح ‘নেককার সন্তান ও নেককার নবীর জন্য সাদর সম্ভাষণ’। অতঃপর ৪র্থ আসমানে হযরত ইদরীস (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ হ’লে তিনি বলেন, مرحبا بالاخ الصالح والنبى الصالح ‘নেককার ভাই ও নেককার নবীর জন্য সাদর সম্ভাষণ’ (মুত্তাফাক্বআলাইহ, মিশকাত হা/৫৮৬২মিরাজঅনুচ্ছেদ)। ক্বাযী ইয়ায বলেন, যদি ইদরীস (আঃ) নূহ (আঃ)-এর পূর্বেকার নবী হ’তেন, তাহ’লে তিনি শেষনবী (ছাঃ)-কে ‘নেককার ভাই’ না বলে ‘নেককার সন্তান’ বলে সম্ভাষণ জানাতেন। যেমন আদম, নূহ ও ইবরাহীম বলেছিলেন। তিনি বলেন, নূহ ছিলেন সকল মানুষের প্রতি প্রেরিত প্রথম রাসূল। যেমন শেষনবী ছিলেন সকল মানুষের প্রতি প্রেরিত শেষ রাসূল। আর ইদরীস (আঃ) ছিলেন স্বীয় কওমের প্রতি প্রেরিত নবী। যেমন ছিলেন হূদ, ছালেহ প্রমুখ নবী’ (কুরতুবী, সূরা রাফ ৫৯এর ব্যাখ্যাবিস্তারিত দ্রঃ নবীদের কাহিনীইদরীস (আঃ)’ অনুচ্ছেদ)

Posted in ইদরীস (আঃ) প্রথম রাসূল ছিলেন কি? | Tagged , ,

ছালাতে ভুলের কারণে সহো সিজদা দিতে ভুলে গেলে এবং কয়েকদিন পর তা মনে আসলে কেবল সহো সিজদা দিলেই হবে না পুরো ছালাত আদায় করতে হবে?


এমতাবস্থায় তাকে কিছুই করতে হবে না’ (উছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ ৩/৩৯৭)

Posted in সহো সিজদা দিতে ভুলে গেলে করণীয় কি? | Tagged

পিতাকে কষ্ট দেওয়া সন্তানের জন্য মহাপাপ। কিন্তু পিতা যদি সন্তানকে কষ্ট দেয়, তাহ’লে তাঁর শাস্তি কি? পিতা আমাকে ৮ বছর পূর্বে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। বহুবার তার নিকটে ক্ষমা চেয়েছি। কিন্তু তিনি ও মা-ভাই-বোন সকলে মিলে আমাকে স্থান দেয়নি। এক্ষণে আমার করণীয় কি?


এজন্য পিতা-মাতা ও ভাই-বোন সকলেই দায়ী হবে। কারণ তারা সন্তান ও ভাইয়ের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করেননি। শরী‘আতে সন্তানের সাথে স্থায়ীভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করার কোন সুযোগ নেই। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না’ (বুখারী হা/৫৯৮৪; মুসলিম হা/ ২৫৫৬; মিশকাত হা/৪৯২২)। প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী পিতা-মাতা ও ভাই-বোন আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী কবীরা গোনাহগার হিসাবে গণ্য হবেন।

এক্ষণে করণীয় হ’ল, পরিবারকে ধর্মীয় বিষয়টি নিজে বা যেকোন মাধ্যমে বুঝানোর চেষ্টা করতে হবে। কোনভাবে সম্ভব না হ’লে ছবর করতে হবে। কিন্তু কোন প্রকার অসদাচরণ বা অসদুপায় প্রহণ করা যাবে না।

Posted in পিতা কষ্ট দিলে তাঁর শাস্তি কি? | Tagged

শবেবরাত সহ বিভিন্ন বিদ‘আতী অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রতিবেশীর প্রদত্ত খাবার খাওয়া যাবে কি? খাওয়া না গেলে কি করতে হবে?


এধরনের বিদ‘আতী অনুষ্ঠানের জন্য তৈরীকৃত খাবার খাওয়া ও সেখানে উপস্থিত হওয়া সহ যেকোন প্রকার সহযোগিতা করা শরী‘আত সম্মত নয়। কারণ এটি উক্ত বিদ‘আতী কর্মে সহযোগিতার শামিল, যা নিষিদ্ধ (মায়েদাহ ৫/২)। কোন কারণবশতঃ গ্রহণ করা হ’লে তা পশু-পাখিকে খাইয়ে দিবে।

Posted in বিদ'আতীর কোন আমল কাজে আসবে কি?, বিদ‘আত ও তার ভয়াবহতা, বিদ‘আতী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা যাবে কি?, বিদ‘আতী অনুষ্ঠানে বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ কর‌লে করণীয় কি?, শবেবরাত বা বিদ‘আতী অনুষ্ঠানের খাবার খাওয়া যাবে কি? | Tagged , , ,

অবৈধ সম্পদ-এর যাকাত দিতে হবে কি? এছাড়া এথেকে দান করলে কোন নেকী হবে কি?


এরূপ মালের যাকাত কবুল হবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘বিনা ওযূতে ছালাত কবুল হয় না এবং খেয়ানত বা হারাম মালের ছাদাক্বা কবুল হয় না’ (মুসলিম হা/২২৪; মিশকাত হা/৩০১)। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি হারাম মাল সঞ্চয় করল এবং তা দ্বারা ছাদাক্বা করল। তার জন্য কোন নেকী নেই। বরং এর গোনাহ তার উপরেই বর্তাবে’ (ছহীহ ইবনু হিববান হা/৩৩৬৭; ছহীহ আত-তারগীব হা/৮৮০)। কোন কারণবশতঃ এরূপ হারাম সম্পদ জমা হয়ে গেলে নেকীর আশা ব্যতীত তা জনকল্যাণ মূলক খাতে দান করে দিবে।

Posted in যাকাত অবৈধ সম্পদ-এর দিতে হবে কি? | Tagged ,

ইহরাম অবস্থায় শাবান ও শ্যাম্পু ব্যবহার করা যাবে কি?


যাবে ইনশাআল্লাহ। কারণ শাবান বা শ্যাম্পু সুগন্ধি নয়। কেবল শরীর পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। উছায়মীন (রহঃ) বলেন, ‘কোন বাধা নেই। কারণ এটি কোন সুগন্ধি নয় এবং কেউ সুগন্ধি হিসাবে এটি ব্যবহার করে না’ (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২২/১৬০)

Posted in ইহরাম অবস্থায় শাবান ও শ্যাম্পু ব্যবহার করা যাবে কি? | Tagged

মসজিদের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে না এরূপ ধারণায় বহুদিন যাবৎ বিল পরিশোধ না করায় এখন অনেক সূদ জমা হয়ে গেছে। বর্তমানে সূদী অংশ বাদ দিয়ে কেবল মূল বিল পরিশোধ করা হয়। ফলে সূদ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এক্ষণে বকেয়া সমুদয় সূদ মসজিদ ফান্ড থেকে দেওয়া যাবে কি?


সরকার কর্তৃক এরূপ সূদ গ্রহণ যুলুমের নামান্তর। এরপরেও তা পরিশোধ না করা সঠিক হয়নি। কারণ যালেম সরকারের ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ)-এর স্পষ্ট নির্দেশ- ‘তাদের হক তাদের দাও এবং তোমাদের হক আল্লাহর কাছে চাও’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৩৬৭২)। এক্ষেত্রে সরকার গোনাহগার হবে, জনগণ নয় (মুসলিম হা/১৮৪৬, মিশকাত হা/৩৬৭৩)। অতএব বকেয়া সূদ মওকূফের ব্যাপারে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। কোন উপায় না হ’লে যত দ্রুত সম্ভব তা পরিশোধ করতে হবে।

Posted in মসজিদের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় সূদ বেড়েছে এখন করণীয় কি? | Tagged ,

ছহীহ আক্বীদাসম্পন্ন জনৈক আলেম বলেন, জন্মদিন পালন করা দোষের কিছু নয়। কারণ কুরআন-হাদীছে কোথাও জন্মদিন পালন করতে নিষেধ করা হয়নি। এছাড়া এটি কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়। কথাটির সত্যতা জানতে চাই।


কথাটি সঠিক নয়। রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরামের জীবনে কোথাও এর প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং এটা অমুসলিমদের রীতি, যা মুসলিম সমাজে প্রবেশ করেছে। এসব থেকে রাসূল (ছাঃ) স্বীয় উম্মতকে সাবধান করে বলেন, তোমরা ইহূদী-নাছারাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে হাতে হাতে ও বিঘ’তে বিঘ’তে। তারা যদি গুই সাপের গর্তে ঢুকে পড়ে, তোমরাও সেখানে ঢুকবে’ (ইবনু মাজাহ হা/৩৯৯৪, সনদ হাসান)। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাথে সাদৃশ্য রাখে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত’ (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৩৪৭; ছহীহুল জামে‘ হা/৬১৪৯)

Posted in জন্মদিন পালন করা দোষের কিছু নয় কি? | Tagged , ,

আমার পিতা-মাতা ১৫ বছর যাবৎ ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণগ্রস্থ। বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া তাদের নেশা। বর্তমানে প্রতিমাসে ৫০-৬০ হাযার টাকা কিস্তি শোধ করতে হয়। আমি ও আমার ছোট ভাই সাধ্যমত পরিশোধ করি। তা না করলে তারা আমাদের স্ত্রী-সন্তানদের উপর মানসিক নির্যাতন করে ও বাড়ী থেকে বের করে দিতে চায়। এক্ষণে এ ব্যাপারে আমাদের করণীয় কি?


এমতাবস্থায় পিতা-মাতাকে এরূপ অন্যায়কর্ম থেকে বিরত রাখার জন্য জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। সূদের ভয়াবহ শাস্তি থেকে তাদেরকে সাবধান করতে হবে। ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, প্রয়োজনে তাদেরকে গৃহবন্দী করে রাখতে হবে। আর এক্ষেত্রে পাপ থেকে বাঁচানোই তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার হিসাবে গণ্য হবে। তবে তাদের সাথে কোন অন্যায় আচরণ করা যাবে না। বরং তাদের যাবতীয় স্বাভাবিক প্রয়োজন মিটাতে হবে (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩৪/১৭৮)

Posted in পিতা-মাতা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণগ্রস্থ হলে করণীয় কি? | Tagged ,

মোহর পরিশোধের নিয়ত ব্যতীত স্ত্রী সহবাস করলে ঐ ব্যক্তি ক্বিয়ামতের দিন ব্যভিচারী হিসাবে গণ্য হবে কি?


হ্যাঁ। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি মোহরের বিনিময়ে কোন মহিলাকে বিবাহ করল, অথচ মোহর পরিশোধ করবে না বলে নিয়ত করল, সে যেনাকারী’ (বায়হাক্বী শুআবুল ঈমান হা/৫৫৪৯; বাযযার হা/৮৭২১; ছহীহ আততারগীব হা/১৮০৬, ছহীহ লিগায়রিহী)। বিবাহে মোহর আদায় করা ফরয। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহরানা ফরয হিসাবে প্রদান কর। তবে তারা যদি তা থেকে খুশী মনে তোমাদের কিছু দেয়, তাহ’লে তা তোমরা সন্তুষ্টচিত্তে স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর’ (নিসা /)। বস্ত্ততঃ লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে অধিক পরিমাণ মোহরানা ধার্য করা এবং পরে স্ত্রীর কাছে মাফ চাওয়া ধোঁকার শামিল। আর মোহর আদায় না করলে দুনিয়া ও আখেরাতে স্ত্রীর নিকটে ঋণগ্রস্ত হয়ে থাকতে হবে।

Posted in মোহর পরিশোধ না করলে ঐ ব্যক্তি ব্যভিচারী হিসাবে গণ্য হবে কি? | Tagged , ,

জনৈক আলেম বলেন, হজ্জের পূর্বে বিবাহ করা গুনাহের কাজ। একথার কোন সত্যতা আছে কি?


এমর্মে বর্ণিত হাদীছটি জাল। যেখানে বলা হয়েছে ‘যে ব্যক্তি হজ্জের পূর্বে বিবাহ করল সে গুনাহ দ্বারা সূচনা করল’ (সিলসিলা যঈফাহ হা/২২১২২২)। অতএব এর উপর বিশ্বাস বা আমল করা যাবে না।

Posted in বিবাহ হজ্জের পূর্বে করা গুনাহের কাজ কি?, হজ্জের পূর্বে বিবাহ করা গুনাহের কাজ কি? | Tagged ,

হজ্জ বা ওমরায় গিয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর কবর যিয়ারতের কোন আবশ্যকতা আছে কি?


আবশ্যকতা নেই। কেননা রাসূল (ছাঃ)-এর কবর যিয়ারত হজ্জ বা ওমরার কোন অংশ নয়। শায়খ বিন বায বলেন, রাসূল (ছাঃ)-এর কবর যিয়ারত করা ওয়াজিব নয় বা হজ্জের কোন শর্তও নয়, যেমনটি সাধারণ মানুষ ধারণা করে থাকে (মাজমূফাতাওয়া ১৬/১১১)। উল্লেখ্য যে, হজ্জের সময় রাসূল (ছাঃ)-এর কবর যিয়ারতের ব্যাপারে যতগুলি বর্ণনা এসেছে, তার সবগুলি যঈফ অথবা জাল (আলবানী, সিলসিলা যঈফাহ হা/৪৫৪৭; দ্রঃহজ্জ ওমরাহবই ১৩৯৪০ পৃ.)

Posted in হজ্জ বা ওমরায় গিয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর কবর যিয়ারতের কোন আবশ্যকতা আছে কি? | Tagged

কালোজিরা মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের ঔষধ। এক্ষণে রোগ ভেদে এটি ভক্ষণ করার পৃথক কোন পদ্ধতি আছে কি? না কেবল নিয়ত করে খেলেই যথেষ্ট হবে?


রোগ ভেদে বিভিন্ন পদ্ধতিতে খাওয়া যায়। কখনো শুধুই দানা, কখনো ৫/৭টি বা ২১টি দানা পিষে মধুর সাথে, কখনো যয়তুন তেলের সাথে মিশিয়ে খাওয়া বা ড্রপ হিসাবে নাকে দেওয়া ইত্যাদি রূপে ব্যবহার করা যেতে পারে (ইবনু হাজার, ফাৎহুল বারী ১০/১৪৪)। এজন্য অধিকতর গবেষণা করে এর সঠিক প্রয়োগ ও পদ্ধতি আবিষ্কার যরূরী। একটি যুদ্ধাভিযানে গালিব বিন আবজার অসুস্থ হ’লে ইবনু আবী আতীক তাকে দেখতে আসেন। অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা এই কালোজিরা সাথে রেখ। এথেকে পাঁচটি কিংবা সাতটি দানা নিয়ে পিষে ফেলবে, তারপর তন্মধ্যে যায়তুনের কয়েক ফোটা তেল ঢেলে দিয়ে তা নাকের উভয় ছিদ্র দিয়ে ফোটা ফোটা করে প্রবেশ করাবে। কেননা আয়েশা (রাঃ) আমার নিকটে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী করীম (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, ‘এই কালোজিরা মৃত্যু ছাড়া সব রোগের ঔষধ’ (বুখারী হা/৫৬৮৭; ইবনু মাজাহ হা/৩৪৪৯; ছহীহাহ হা/১০৬৯)। অতএব আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভরসা রেখে ঔষধ হিসাবে বিভিন্ন উপায়ে কালো জিরা ব্যবহার করায় কোন বাধা নেই।

Posted in কালোজিরা রোগ ভেদে এটি ভক্ষণ করার পৃথক কোন পদ্ধতি আছে কি? | Tagged

আমাদের এলাকায় কিছু যুবক শিয়ালের গোশত খায় এবং তাতে হাঁটু, মাজা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানের ব্যথ্যা ভালো হয় বলে জানায়। এক্ষণে এর গোশত খাওয়া যাবে কি?


শিয়ালের গোশত খাওয়া হারাম। কেননা তা তীক্ষ্ণ দন্তধারী ও হিংস্র জন্তুর অন্তর্ভুক্ত। ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তীক্ষ্ণ দন্তধারী হিংস্র জন্তু এবং নখ ও থাবা দ্বারা শিকারী পাখি খেতে নিষেধ করেছেন’ (মুসলিম হা/১৯৩৪; মিশকাত হা/৪১০৫; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ২২/৩১০)

Posted in শিয়ালের গোশত খাওয়া যাবে কি? | Tagged ,

চাকুরী বা জীবিকা বৃদ্ধির জন্য দরূদে নারিয়াহ পাঠ করা যাবে কি? এর ফযীলত সম্পর্কে বলা হয়, যে ব্যক্তি এ দরূদ ৪৪৪৪ বার পাঠ করবে সেসব রকম বিপদাপদ থেকে নিরাপদে থাকবে এবং তার যেকোন ধরনের অভাব-অভিযোগ পূরণ হবে। এর কোন ভিত্তি আছে কি?


উক্ত দরূদের কোন ভিত্তি নেই। এটি ছূফীদের সৃষ্ট বিদ‘আত মাত্র। এছাড়া দো‘আটি শিরকী বক্তব্যে পরিপূর্ণ। যেমন সেখানে বলা হয়েছে, اللهم صل صلاةً كاملة وسلاما تاما على سيدنا محمد الذي تنحل به العقد، وتتفرج به الكرب، وتقضى به الحوائج وتنال به الرغائب وحسن الخواتم ويستسقى الغمام بوجهه الكريم وعلى آله وصحبه في كل لمحة ونفس بعد كل معلوم لك- (হে আল্লাহ! তুমি আমাদের নেতা মুহাম্মাদের উপর পূর্ণ অনুগ্রহ ও পর্যাপ্ত শান্তি বর্ষণ কর। যার মাধ্যমে বন্ধন মুক্ত হয়, বিপদ দূরীভূত হয়, প্রয়োজন সমূহ পূর্ণ হয়, উত্তম কর্ম সমূহ পৌঁছানো হয়, শেষ আমল সুন্দর হয়। যার মহান চেহারার মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা হয়। আর শান্তি বর্ষিত হৌক তাঁর পরিবারবর্গের উপর ও তাঁর ছাহাবীগণের উপর প্রতি মুহূর্তে ও প্রতি নিঃশ্বাসে, সবকিছু আপনার জানার পরেও’)। এটি হাযার বার পর্যন্ত পড়া হয়ে থাকে’ (শায়খ বিন বায, মাজমূফাতাওয়া ২৯/৩০৭)

এখানে রাসূল (ছাঃ)-এর অসীলায় বিপদমুক্তি কামনা করা হয়েছে। যা বড় শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ বলেন, ‘(হে নবী!) তুমি বলে দাও যে, আমি তোমাদের কোনরূপ ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতা রাখি না’ (জিন ৭২/২১)

Posted in চাকুরী বা জীবিকা বৃদ্ধির জন্য দরূদে নারিয়াহ পাঠ করা যাবে কি? | Tagged

ক্ষমতা থাকলে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অন্তর হজ্জ পালন করার বিশেষ কোন ফযীলত আছে কি?


মুসলমানের জীবনে হজ্জ একবারই ফরয। বাকীগুলো নফল। আক্বরা‘ বিন হাবেস বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! হজ্জ কি প্রতি বছর না একবার? তিনি বললেন, একবার। তবে যে ব্যক্তি একাধিকবার করবে, সেটি তার জন্য নফল হবে (আবুদাঊদ হা/১৭২১; ইবনু মাজাহ হা/২৮৮৬, সনদ ছহীহ)

প্রশ্নে বর্ণিত বিষয়টি হাদীছে নিম্নভাবে এসেছে, আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমার বান্দা যাকে আমি দৈহিক সুস্থতা দান করেছি এবং রিযিকে সচ্ছলতা প্রদান করেছি। অথচ তার উপর পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হ’লেও আমার (কা‘বা গৃহের) প্রতি আগমন করল না, সে একজন কল্যাণ বঞ্চিত বান্দা’ (ছহীহ ইবনু হিববান হা/৩৭০৩; ছহীহাহ হা/১৬৬২)। এর দ্বারা হজ্জ বা ওমরাহর প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। প্রতি পাঁচ বছর পরপর হজ্জের বিশেষ ফযীলত বর্ণিত হয়নি। বরং প্রতিটি হজ্জ ও ওমরাহ ফযীলত পূর্ণ। যদি তা আল্লাহর নিকট কবুল হয়। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আপনাদের সঙ্গে জিহাদে অংশগ্রহণ করব না? তিনি বললেন, তোমাদের জন্য উত্তম ও উৎকৃষ্ট জিহাদ হ’ল হজ্জ, মকবূল হজ্জ। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) হ’তে এ কথা শোনার পর আমি আর কখনো হজ্জ ছাড়ি না’ (বুখারী হা/১৮৬১; আহমাদ হা/২৪৫৪১)

Posted in হজ্জ প্রতি বছর পালন করার বিশেষ কোন ফযীলত আছে কি? | Tagged

কারো স্ত্রী (কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন) যদি কোন পরপুরুষের সাথে যেনা করে ফেলে, সেক্ষেত্রে উক্ত স্বামীর করণীয় কি?


এমতাবস্থায় তাকে আটকে রাখতে হবে এবং এরূপ অন্যায় থেকে বিরত রাখতে হবে। জনৈক ব্যক্তি এসে রাসূল (ছাঃ)-কে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার একজন স্ত্রী আছে। সে এমনই যে, কাউকে ফিরিয়ে দেয় না। রাসূল (ছাঃ) বললেন, তুমি তাকে তালাক দিয়ে দাও। সে বলল, আমি তাকে ভালোবাসি। তাই তাকে ছাড়া ধৈর্য ধারণ করতে পারব না। তিনি বললেন, তাহ’লে তাকে আটকে রাখ এবং তার থেকে স্বাদ আস্বাদন কর’ (আবুদাঊদ হা/২০৪৯; নাসাঈ হা/৩২২৯; মিশকাত হা/৩৩১৭বিবাহঅধ্যায়লিআনঅনুচ্ছেদ)। আটকে রেখেও যদি তাকে বিরত রাখা না যায়, তাহ’লে অবশ্যই তাকে তালাক দিতে হবে। নইলে জেনে-শুনে এরূপ মহিলাকে নিয়ে ঘর করলে স্বামী দাইয়ূছদের অন্তর্ভুক্ত হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তিন জন ব্যক্তির উপর আল্লাহ জান্নাতকে হারাম করেছেন। (১) নিয়মিত মদ্যপায়ী (২) পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান (৩) দাইয়ূছ। যে তার পরিবারে ফাহেশা কাজ স্থায়ী রাখে’ (নাসাঈ হা/২৫৬২; আহমাদ হা/৫৩৭২; মিশকাত হা/৩৬৫৫; ছহীহাহ হা/৬৭৪)

Posted in মানসিক ভারসাম্যহীন নারী যেনা করলে তার স্বামীর করণীয় কি? | Tagged ,

কত বছর বয়স থেকে নারীদের বোরকা পরা ও নেকাব ব্যবহার করা আবশ্যক?


কন্যা শিশু সাবালিকা হ’লে এবং তার শারীরিক গঠনে পরিবর্তন দেখা দিলে তাকে পর্দার পোষাক পরাতে হবে। তবে সাবালিকা হওয়ার পূর্ব থেকেই পর্দার অভ্যাস গড়ে তোলা যরূরী (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১৭/২১৯)। কেননা রাসূল (ছাঃ) সাত বছর বয়স থেকে শিশুদের ছালাতের আদেশ দানের জন্য অভিভাবকদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন (আবুদাঊদ হা/৪৯৫; আহমাদ হা/৬৬৮৯; মিশকাত হা/৫৭২)। ছাহাবায়ে কেরাম তাদের শিশুদের ছালাত ও ছিয়ামের প্রশিক্ষণ দিতেন। এমনকি মায়েরা ছিয়ামরত শিশুদের খেলনা দিয়ে খাবারের কথা ভুলিয়ে রাখতেন (বুখারী হা/১৯৬০; মুসলিম হা/১১৩৬)

Posted in বোরকা পরা ও নেকাব ব্যবহার করা কত বছর বয়স থেকে নারীদের আবশ্যক? | Tagged ,

বিবাহে সাহায্যের জন্য অনেক হিন্দু মহিলা আসে। তাদেরকে একাজে সহযোগিতা করা যাবে কি? কেননা তাদের বিবাহ অনুষ্ঠানে অনেক শিরকী কার্যকলাপ হয়ে থাকে।


সাধারণভাবে এরূপ সহযোগিতা করা যায়। তবে তাদেরকে যাকাতের মাল দেওয়া যাবে না। একবার রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে একটি রেশমী পোষাক হাদিয়া হিসাবে আসলে তিনি তা ওমর (রাঃ)-এর নিকটে পাঠিয়ে দেন। অতঃপর তিনি তা মক্কায় অবস্থানরত তার মুশরিক ভাইকে পরিধানের জন্য হাদিয়া দেন (বুখারী হা/৮৮৬; নাসাঈ হা/৫২৯৫)। জনৈক ইহূদী মহিলা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট কিছু চাইলে তিনি তাকে তা দান করলেন। তখন মহিলা বলল, আল্লাহ আপনাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন… (বুখারী হা/১০৪৯; মুসলিম হা/৯০৩; মিশকাত হা/১২৮)। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, মুশরিকদের সাধারণ দান-ছাদাক্বা করাতে কোন বাধা নেই। তবে তাদেরকে ফরয যাকাতের মাল থেকে দেওয়া যাবে না (কিতাবুল উম্ম /৬৫)

Posted in বিবাহে হিন্দুদের অনুষ্ঠানে সাহায্য করা যাবে কি? | Tagged , ,