আমি গ্রীসে পুলিশের হেফাযতে শরণার্থী ক্যাম্পে আছি। এখানে মুরগীর গোশত, কাবাব ও অন্যান্য খাবার দেয়, যা খৃষ্টানদের যবেহকৃত। এগুলি খাওয়া যাবে কি?


আহলে কিতাব তথা ইহূদী এবং খৃষ্টানদের যবেহ করা হালাল পশু খাওয়া জায়েয, যদি তারা যবহের সময় আল্লাহর নাম নেয়। আল্লাহ বলেন, ‘আর আহলে কিতাবদের যবেহকৃত পশু তোমাদের জন্য হালাল এবং তোমাদের যবেহকৃত পশু তাদের জন্য হালাল’ (মায়েদাহ ৫/৫)। যবেহের সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলেছে কি-না সে ব্যাপারে যদি সন্দেহ থাকে, সেক্ষেত্রে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে খাওয়া যেতে পারে (বুখারী হা/৭৩৯৮; আবুদাঊদ হা/২৮২৯; মিশকাত হা/৪০৬৯)। তবে সন্দেহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য তা বর্জন করাই উত্তম (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২৭৬২; তিরমিযী হা/২৫১৮; নাসাঈ হা/৫৭১১; মিশকাত হা/২৭৭৩)

Advertisements
Posted in খৃষ্টানদের যবেহকৃত মুরগীর গোশত কাবাব খাওয়া যাবে কি? | Tagged , , ,

সূরা বাক্বারাহ ৩০ আয়াতে মানুষকে আল্লাহর খলীফা বলা হয়েছে। এর ব্যাখ্যা কি?


‘খলীফা’ অর্থ প্রতিনিধি বা স্থলাভিষিক্ত। মানুষকে যেহেতু জিন জাতির পর পৃথিবীকে আবাদ করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, সেহেতু তাদেরকে খলীফা বা জিন জাতির স্থলাভিষিক্ত বলা হয়েছে (তাফসীর ত্বাবারী হা/৬০১, ১/৪৫০)। ইবনু কাছীর বলেন, এর দ্বারা এমন জাতিকে বুঝানো হয়েছে যারা শতাব্দীর পর শতাব্দী এবং বংশ পরম্পরায় আগমন করতে থাকবে (ইবনু কাছীর, তাফসীর বাক্বারাহ ৩০ আয়াত)। এই আয়াতের ভিত্তিতে মুসলিম সমাজে নেতা বা খলীফা নির্বাচন আবশ্যিক বলে ইমাম কুরতুবী মন্তব্য করেছেন, যার কথা শোনা হয় ও আনুগত্য করা হয় এবং যার মাধ্যমে খলীফা সংশ্লিষ্ট হুকুম-আহকাম বাস্তবায়ন করা যায় (তাফসীরে কুরতুবী ১/২৬৪, অত্র আয়াতের তাফসীর দ্রষ্টব্য)

Posted in সূরা বাক্বারাহ ৩০ আয়াতে মানুষকে আল্লাহর খলীফা বলা হয়েছে। এর ব্যাখ্যা কি?

রাসূল (ছাঃ)-এর বাণী ‘তুমি (কুরবানীর দিনে) তোমার চুল ও নখ কাটবে, তোমার গোঁফ খাট করবে এবং নাভীর নীচের লোম ছাফ করবে। এটাই তোমার জন্য আল্লাহর নিকট পূর্ণ কুরবানী হিসাবে গৃহীত হবে’। অত্র হাদীছটির ব্যাপারে শু‘আইব আরনাউত্ব সনদ হাসান এবং আলবানী সনদ যঈফ বলেছেন। উপরোক্ত মতামতগুলির মধ্যে কোনটি অগ্রাধিকারযোগ্য হিসাবে বিবেচিত হবে?


হাদীছটি মুসনাদে আহমাদ (হা/৬৫৭৫), আবুদাঊদ (হা/২৭৮৯), নাসাঈ (হা/৪৪৩৯), ছহীহ ইবনে হিববান (হা/৫৯১৪), ত্বাবারাণী মু‘জামুল কাবীর (হা/১৫৭, ১৫৮), সুনান দারাকুৎনী (হা/৪৭৪৯), হাকেম মুস্তাদরাক (হা/৭৫২৯), বায়হাক্বী সুনানুল কুবরা (হা/১৯০২৮-২৯) প্রভৃতি গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। শায়খ আলবানী দু’টি কারণে হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন। (১) তিনি ঈসা বিন হেলাল আছ-ছাদাফীকে অজ্ঞাত ও অপ্রসিদ্ধ বলেছেন এবং (২) হাদীছটির মতনে কিছু অসংগতি রয়েছে (যঈফ আবুদাঊদ হা/৪৮২, ২/৩৭০ পৃ.; মিশকাত হা/১৪৭৯)। তবে শায়খ শু‘আইব আরনাঊত্ব রাবী ঈসা বিন হেলালকে শক্তিশালী ও প্রসিদ্ধ মন্তব্য করে হাদীছটির সনদ ‘শক্তিশালী’ বলেছেন (তাহকীক সুনান আবুদাঊদ হা/২৭৮৯, ৪/৪১৭)। তাহকীকে দেখা যায়, ঈসা বিন হেলাল অপ্রসিদ্ধ রাবী নন, বরং তাঁর থেকে বেশকিছু রাবী হাদীছ বর্ণনা করেছেন (তাহযীবুল কামাল, ক্রমিক ৪৪৬৯)। ইয়াকূব আল-ফাসাভী (২৭৭ হিঃ) ঈসা বিন হেলালকে মিসরবাসী ‘ছেক্বাহ’ তাবেঈদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন (আল-মা‘রিফাতু ওয়াত তারীখ ২/৫১৫)। ইবনু হাজার আসক্বালানী তাকে সত্যবাদী (صدوق) বলেছেন (তাক্বরীব, ক্রমিক ৫৩৩৭) এবং যাহাবী সহ একদল বিদ্বান তাকে ‘বিশ্বস্ত’ বলেছেন (আল-কাশিফ, ক্রমিক ৪৪০৫)। এছাড়া ইমাম তিরমিযী ঈসা বিন হেলাল বর্ণিত অন্য একটি হাদীছকে ‘ছহীহ’ বলেছেন (তিরমিযী হা/২৫৮৮)। যার অর্থ তিনিও ঈসা বিন হেলালকে শক্তিশালী মনে করেন। ইমাম নাসাঈ হাদীছটি বর্ণনা করলেও কোন ত্রুটি উল্লেখ করেননি। সুতরাং শু‘আইব আরনাউত্বের মন্তব্যটিই এখানে অগ্রাধিকারযোগ্য এবং হাদীছটি কমপক্ষে ‘হাসান’ পর্যায়ের। সম্ভবতঃ শায়খ আলবানী রাবী ঈসা বিন হেলাল সম্পর্কে ইয়াকূব আল-ফাসাভীর ‘তাওছীক’ লক্ষ্য করেননি। এছাড়াও তিনি হাদীছটির মতনে যে অসংগতির কথা বলেছেন সেটি মৌলিক ত্রুটি নয়। আল্লাহ সর্বাধিক অবগত।

Posted in কুরবানীর দিনে চুল নখ ও গোঁফ কাটার হাদীছটা কি ছহীহ? | Tagged

হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, অচিরেই ফোরাত নদী তার মধ্যস্থিত স্বর্ণভান্ডার উন্মুক্ত করে দিবে। কিন্তু তা গ্রহণ করা যাবে না। হাদীছটির ব্যাখ্যা কি?


এটি ক্বিয়ামতের আলামতসমূহের অন্যতম, যা এখনও প্রকাশিত হয়নি। আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিছ ইবনু নাওফাল (রহঃ) বলেন, আমি উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)-এর সাথে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এমন সময় তিনি বললেন, মানুষ বিভিন্নভাবে দুনিয়াবী সম্পদ উপার্জনে ব্যস্ত থাকবে। আমি বললাম, হ্যাঁ, ঠিকই। তখন তিনি বললেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, শীঘ্রই ফোরাত নদী তার গর্ভস্থিত স্বর্ণ পাহাড় বের করে দিবে। এ কথা শুনামাত্রই লোকজন সেদিকে ছুটে যাবে। তখন সেখানকার লোকেরা বলবে, আমরা যদি লোকদেরকে ছেড়ে দেই, তবে তারা সবকিছুই নিয়ে যাবে। ফলে তারা পরস্পরে যুদ্ধে লিপ্ত হবে এবং এতে প্রতি একশ’-র মধ্যে নিরানববই জনই নিহত হবে’ (মুসলিম হা/২৮৯৫; আহমাদ হা/২১২৯৭; মিশকাত হা/৫৪৪৩)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, প্রত্যেকে বলবে, আমি এ যুদ্ধে বেঁচে যাব এবং স্বর্ণের পাহাড়টি দখল করে নেব (মুসলিম হা/২৮৯৪; মিশকাত হা/৫৪৪৩)

প্রথম হাদীছে ‘কানযুম মিনায যাহাব’ বলা হয়েছে, যার অর্থ ‘লুক্কায়িত স্বর্ণভান্ডার’। এতে প্রকাশিত হওয়ার পূর্বের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় হাদীছে বলা হয়েছে ‘জাবালুম মিনায যাহাব’ অর্থ ‘স্বর্ণের পাহাড়’। এতে প্রকাশিত হওয়ার পরের অবস্থাকে বুঝানো হয়েছে। রাসূল (ছাঃ) আরেক বর্ণনায় হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, ‘সে সময় যারা উপস্থিত থাকবে তারা যেন তা (স্বর্ণ) থেকে কিছুই গ্রহণ না করে’ (বুখারী হা/৭১১৯; মুসলিম হা/২৮৯৪; মিশকাত হা/৫৪৪২)। কারণ সেখানে পৌঁছতে হ’লে তার নিজের জন্য এবং অপরের জন্য সমূহ ক্ষতির আশংকা রয়েছে (দলীলুল ফালেহীন ৮/৬৪৫; ফাৎহুল বারী ১৩/৮১)

Posted in অচিরেই ফোরাত নদী তার মধ্যস্থিত স্বর্ণভান্ডার উন্মুক্ত করে দিবে। কিন্তু তা

আমার মা পাঁচ বছর পূর্বে মারা গেছেন। আমি তার মুছল্লায় (জায়নামাযে) ছালাত আদায় করি এবং নিয়ত করি যে, এতে আমার যে ছাওয়াব হবে তার সমপরিমাণ আমার মায়ের জন্যও যেন হয়। এরূপ নিয়ত করা কি শরী‘আত সম্মত?


এরূপ নিয়ত শরী‘আত সম্মত নয়। কারণ দৈহিক ইবাদত অন্যের উপকারে আসে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘মানুষের জন্য ততটুকুই প্রাপ্য, যতটুকুর জন্য সে চেষ্টা করে’ (নাজম ৫/৩৯)। তবে নির্দিষ্ট কিছু নেকীর কাজ রয়েছে যা একজন পালন করে অন্যজনকে পৌঁছাতে পারে। যেমন- (১) হজ্জ ও ওমরা (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২৫১২, ২৫২৮)। (২) ছাদাক্বা (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৯৫০) (৩) দো‘আ (মুসলিম, মিশকাত হা/২০৩) (৪) কারো পক্ষে থেকে ক্বাযা ও মানতের ছিয়াম (বুখারী হা/১৯৫২; মুসলিম হা/১১৪৭; মিশকাত হা/২০৩৩)। প্রকাশ থাকে যে, কিছু ইবাদত রয়েছে যার ছওয়াব বান্দা মৃত্যুর পরও পেতে থাকে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সমস্ত আমল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় কেবল তিনটি আমল ব্যতীত- ১. ছাদাক্বায়ে জারিয়াহ, ২. ইল্ম, যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, ৩. সুসন্তান, যে তার জন্য দো‘আ করে’ (মুসলিম হা/১৬৩১; মিশকাত হা/২০৩ ‘ইল্ম’ অধ্যায়)

Posted in মৃত মায়ের জন্য ছালাত আদায় করা শরী‘আত সম্মত কি? | Tagged ,

জনৈক আলেম বলেন, সাত প্রকারের ঘুম আছে। যেমন ১. নাওমুল গাফেলীন, ওয়ায মাহফিলে ঘুমানো। ২. নাওমুল আশক্বিয়া, ছালাতের সময় ঘুমানো। ৩. নাওমুল মালঊনীন, ফজরের ছালাতের সময় ঘুমানো। ৪. নাওমুল মু‘আয্যিবীন, ফজরের আযান থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত ঘুমানো। ৫. নাওমুর রাহাহ অর্থ প্রশান্তির ঘুম। এসময়ের স্বপ্ন সত্য হয়। ৬. নাওমুল মারখূছ, মাগরিব ও এশার ছালাতদ্বয়ের পরে ঘুমানো। এসময় ঘুমানোয় কোন দোষ নেই। ৭. নাওমুল হাসরাহ অর্থ ক্ষতির ঘুম। এটি হ’ল জুম‘আর রাতের ঘুম। এমন ভাগাভাগির কোন শারঈ ভিত্তি আছে কি?


এভাবে শ্রেণী বিন্যাসের কোন শারঈ ভিত্তি নেই। তাছাড়া এতে কিছু বাড়াবাড়ি রয়েছে। কারণ ঘুমের মৌলিক বিষয় হ’ল সেটি জায়েয এবং যেকোন সময় যেকোন কারণে তা হ’তে পারে। আল্লাহ বলেন, ‘তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে অন্যতম হ’ল রাত্রি ও দিবাভাগে তোমাদের নিদ্রা ও তার মধ্যে আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান। নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন সমূহ রয়েছে (বুঝদার) শ্রবণকারী সম্প্রদায়ের জন্য’ (রূম ৩০/২৩)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, শোন! নিদ্রা অবস্থার কোন অবহেলা ধর্তব্য নয় (তিরমিযী হা/১৭৭; ছহীহুল জামে‘ হা/২৪১০)। সুতরাং মানুষ প্রয়োজনবোধে যেকোন সময় ঘুমাতে পারে। তবে ছালাত আদায় না করে ইচ্ছাকৃতভাবে ঘুমালে কঠিন শাস্তির কথা হাদীছে এসেছে। জাহান্নামে তার মাথা অব্যাহতভাবে পাথর দিয়ে চূর্ণবিচূর্ণ করা হবে (বুখারী হা/১৩৮৬; মিশকাত হা/৪৬২১)। রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবীগণের ফজরের ছালাতের পরে সূর্যোদয় পর্যন্ত ঘুমাতেন না (মুসলিম হা/৬৭০; মিশকাত হা/৪৭৪৭)। এসময় রিযিকে বরকত হয় এবং রিযিক বণ্টন করা হয়। এজন্য এসময় না ঘুমানোই সমীচীন, যদিও নিষেধাজ্ঞা নেই (আবুদাঊদ হা/২৬০৬; মিশকাত হা/৩৯০৮)। এছাড়া এশার ছালাতের পূর্বে ঘুমানোকে রাসূল (ছাঃ) অপসন্দ করতেন (বুখারী হা/৫৬৮; মুসলিম হা/৬৪৭)

Posted in ঘুমেরও কি ভাগ রয়েছে? ঘুম কি সাত প্রকার? | Tagged

আমি নানীর দুধ পান করে বড় হয়েছি। বড় হয়ে বড় মামার মেয়েকে বিয়ে করেছি এবং একটি ছেলে সন্তান হয়েছে। এক্ষণে আমাদের বিবাহ কি শুদ্ধ ছিল? শুদ্ধ না হ’লে আমাদের সন্তানের কি হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।


উক্ত বিবাহ শরী‘আতসম্মত হয়নি। কারণ আপনার মামা আপনার দুধভাই। যেমন হামযা (রাঃ) চাচা হওয়া সত্ত্বেও তিনি ছিলেন রাসূল (ছাঃ)-এর দুধভাই। আর দুধ ভাইয়ের মেয়েকে বিবাহ করা হারাম। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘বংশীয় সূত্রে যে সকল মহিলাকে বিবাহ করা হারাম, দুগ্ধপান সূত্রেও সেসকল মহিলাকে বিবাহ করা হারাম’ (বুখারী হা/২৬৪৫; মুসলিম হা/১৪৪৫-৪৭; মিশকাত হা/৩১৬১) এক্ষণে এই বিবাহ বিচ্ছেদ করে উভয়ে আলাদা হয়ে যেতে হবে (বুখারী হা/২০৫২)। যদি সন্তান কোলের শিশু হয়, তবে অন্যত্র বিবাহ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মায়ের প্রতিপালনাধীনে থাকবে (আবুদাঊদ হা/২২৭৬; মিশকাত হা/৩৩৭৮; ছহীহাহ হা/৩৬৮)। অতঃপর জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়ার পর মাতা বা পিতা যার নিকটে সে থাকতে চায় তার নিকটে থাকবে (আবুদাঊদ হা/২২৭৭; নাসাঈ হা/৩৪৯৬; মিশকাত হা/৩৩৮০; ছহীহুল জামে‘ হা/৭৯৫৯)। সন্তান যার নিকটেই থাকুক না কেন, পিতা ও মাতা উভয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবে। এক্ষেত্রে কাউকে বাধা দেওয়া যাবে না। আর যথারীতি সে পিতার সম্পত্তির অংশীদার হবে, কেননা এটি ‘শিবহে নিকাহ’ বা বিবাহের অনুরূপই ছিল (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩২/১০৩)

Posted in নানীর দুধ পান করে বড় হয়েছি। মামার মেয়েকে বিয়ে করেছি এখন করণীয় কি? | Tagged , , ,

জনৈক ব্যক্তি বলেন, এই দুনিয়ায় ওলীগণ আমাদের সাহায্যকারী। তারা আমাদের বিপদে সাহায্য করে থাকেন যেমন আব্দুল ক্বাদের জীলানী (রহঃ)। তারা দলীল হিসাবে সূরা মায়েদাহ ৫৫ আয়াতটি পেশ করে থাকে। এই বক্তব্যের কোন সত্যতা আছে কি?


উক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। সূরা মায়েদাহ ৫৫ আয়াতের অনুবাদ হ’ল- ‘তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ। যারা ছালাত কায়েম করে, যাকাত আদায় করে এবং তারা হয় বিনয়ী’। অত্র আয়াতে ওলী বলে আল্লাহ, রাসূল ও মুমিনদের বুঝানো হয়েছে। আর মুমিনদের বৈশিষ্ট্য হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তারা ছালাত আদায়কারী, যাকাত প্রদানকারী ও বিনয়ী হবে। অত্র আয়াতের শেষে ইহূদী ও নাছারাদের বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। যার মর্ম হ’ল তোমরা সাহায্যকারী হিসাবে আল্লাহকে ও বন্ধু হিসাবে রাসূল (ছাঃ) ও মুমিনদেরকে গ্রহণ করবে; অন্যথায় বিপাকে পড়বে (ত্বাবারী, কুরতুবী, তাফসীর উক্ত আয়াত)। অতএব অত্র আয়াত থেকে মৃত ও জীবিত কোন পীর উদ্দেশ্য নয়। বরং সকল মুমিন ব্যক্তিই আল্লাহর ওলী বা বন্ধু।

Posted in ওলীগণ এই দুনিয়ায় আমাদের সাহায্যকারী কি? | Tagged

হজের সময় আরাফাহ ময়দানে মু‘আল্লিমগণ তাদের হাজীদের নিয়ে দলবদ্ধ মুনাজাত করেন। এটি শরী‘আত সম্মত হবে কি?


এটি শরী‘আত সম্মত নয়। কেননা হজ্জের সময় আরাফাহ ময়দানে রাসূল (ছাঃ) বা সালাফে ছালেহীন দলবদ্ধভাবে মুনাজাত করেছিলেন মর্মে কোন দলীল নেই। বরং আরাফাহ ময়দানে প্রত্যেকে একাকী আল্লাহর দরবারে বিনয়ের সাথে ক্ষমাপ্রাপ্তির আশায় প্রার্থনা করবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, এমন কোন দিবস নেই যেখানে আল্লাহ তা‘আলা আরাফার দিবসের চাইতে বেশী বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। এদিন আল্লাহ নিকটবর্তী হন ও তাদেরকে নিয়ে ফেরেশতাদের সাথে গর্ব করে বলেন, ওরা কী চায়! (মুসলিম হা/১৩৪৮; মিশকাত হা/২৫৯৪)। অন্য হাদীছে এসেছে, আল্লাহ তা‘আলা আরাফায় অবস্থানরতদেরকে নিয়ে আসমানবাসীদের সাথে গর্ব করে বলেন, আমার বান্দাদের দিকে তাকিয়ে দেখো, তারা আমার কাছে এসেছে এলোমেলো ও ধুলায় ধূসরিত অবস্থায় (হাকেম হা/১৭০৮; ছহীহুল জামে‘ হা/১৮৬৭; ছহীহ আত-তারগীব হা/১১৫২)

Posted in হজের সময় মু‘আল্লিমগণ হাজীদের নিয়ে দলবদ্ধ মুনাজাত করা শরী‘আত কি? | Tagged ,

পত্রিকার একাধিকবার ফৎওয়া প্রদান করেছে যে, ইসলামী ব্যাংকের সাথে লেনদেন সূদের পর্যায়ভুক্ত। অথচ এর বিকল্প কোন সমাধান দেওয়া হয় না। তাহ’লে কি ইসলাম অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অপূর্ণাঙ্গ? না-কি ফৎওয়া বোর্ডের ব্যর্থতা?


ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। রাজনীতি, অর্থনীতি সব ক্ষেত্রেই এটি পূর্ণাঙ্গ (বাক্বারাহ ২০৮; মায়েদাহ ৩)। কিন্তু মুসলিম রাষ্ট্রনেতাদের হাতেই এর রাজনীতি ও অর্থনীতি উপেক্ষিত। অথচ দু’টি পরস্পরে সম্পর্কিত।

ইসলামী অর্থনীতি এবং প্রচলিত ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভিন্ন বিষয়। কেবল পত্রিকার ফৎওয়া বোর্ড নয় বরং ইসলামী ব্যাংকের জনক বলে পরিচিত শেখ ছালেহ কামেল সহ সংশ্লিষ্টগণই এ ব্যাপারে স্বীকৃতি দিয়েছেন যে, প্রচলিত ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা বহু ক্ষেত্রেই সূদমুক্ত নয়। তাছাড়া প্রচলিত ব্যাংকিং-এর ধারণা পুঁজিবাদী অর্থনীতির উপজাত ও সহগামী; যা পুঁজি সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করে, পুঁজির প্রবাহ সৃষ্টি করে না। এতে ধনী ও গরীবের অস্বাভাবিক বৈষম্য সৃষ্টি হয়। সেজন্য এটি ইসলামী অর্থনীতির কল্যাণমুখী ধারণার সাথে তা মোটেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার পরিশুদ্ধি কিংবা বিকল্প অনুসন্ধানের জন্য ইসলামী অর্থনীতিবীদগণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন (বিস্তারিত দ্রষ্টব্য : প্রবন্ধ-ইসলামী ব্যাংকিং-এর অগ্রগতি : সমস্যা ও সম্ভাবনা ১ম পার্ট & দ্বিতীয় পার্ট)। আমরা আশাবাদী যে, অদূর ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কোন তাক্বওয়াশীল নেতৃত্বের অধীনে এমন ‘বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান’সমূহ গড়ে উঠবে যা সম্পূর্ণ সূদমুক্তভাবে মুসলিম উম্মাহর চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে। ততদিন পর্যন্ত আমাদের বিকল্পের অনুসন্ধানে থাকতে হবে। বিকল্প সমাধান না পাওয়ার অর্থ এটা নয় যে, সমস্যা এড়িয়ে যেতে হবে এবং প্রচলিত ব্যবস্থাকে শরী‘আত সম্মত বলতে হবে। বরং সমস্যা চিহ্নিত করার মধ্য দিয়েই সমাধান বেরিয়ে আসবে ইনশাআল্লাহ।

Posted in ইসলামী ব্যাংকের সাথে লেনদেন সূদের পর্যায়ভুক্ত কি? | Tagged , , ,

জুম‘আর ছালাতে খত্বীব ছাহেবের জন্য ছালাতের ইমামতি করা সুন্নাত কি?


হ্যাঁ সুন্নাত। কারণ রাসূল (ছাঃ) নিজে খুৎবা দিতেন এবং তিনিই ইমামতি করতেন। ইবনু কুদামা বলেন, সুন্নাত হ’ল যিনি খুৎবা দিবেন তিনিই ইমামতি করবেন। কেননা নবী করীম (ছাঃ) উভয়টি নিজেই করতেন। অনুরূপভাবে পরে খুলাফায়ে রাশেদীনও এমনটি করেছেন। তবে ওযরের কারণে একজন খুৎবা দিলে এবং অপরজন ইমামতি করলে তা জায়েয হবে (বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১২/৩৮৬)

Posted in জুম‘আর ছালাতে খত্বীব ছাহেবের জন্য ছালাতের ইমামতি করা সুন্নাত কি? | Tagged ,

নারীদের ফোঁটা ফোঁটা রক্ত বের হ’লে তা কি হায়েয হিসাবে গণ্য হবে এবং এ অবস্থায় ছিয়াম পালন করা যাবে কি?


এটি হায়েয হিসাবে গণ্য হবে না। বরং প্রদর রোগ। অতএব ছিয়াম পালনে কোন বাধা নেই। ‘হায়েয’ বলা হয় প্রবহমান রক্তকে, যা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবিরতভাবে নির্গত হয়। কিন্তু প্রশ্নে বর্ণিত বিষয়টি তা নয়। উছায়মীন বলেন, এ অবস্থায় তার ছিয়াম সঠিক। কারণ এই রক্ত শিরা থেকে বের হয়েছে, যা কিছুই নয়। আলী (রাঃ) থেকে এ মর্মে আছার বর্ণিত হয়েছে (আহকামুল হায়েয ১/১২১)

Posted in নারীদের ফোঁটা ফোঁটা রক্ত বের হ’লে তা কি হায়েয হিসাবে গণ্য হবে? | Tagged ,

ফেরাঊন যখন নীল নদে পানিতে ডুবে যাচ্ছিল তখন জিব্রীল (আঃ) তার মুখে মাটি প্রবেশ করিয়েছিলেন যাতে সে কালেমা পড়ে আল্লাহর রহমত লাভ করতে না পারে। উক্ত ঘটনাটি কি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত?


হাদীছটি বিভিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে। ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা ফেরাঊনকে যখন পানিতে ডুবিয়ে দিলেন তখন সে বলল, ‘আমি ঈমান আনলাম তার প্রতি, যার উপর বনু ইসরাঈল ঈমান এনেছে। নিশ্চয়ই তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই’ (ইউনুস ১০/৯০)। জিব্রীল বললেন, হে মুহাম্মাদ! আপনি যদি আমাকে ঐ সময় দেখতেন যখন আমি সমুদ্র হ’তে কালো কাদামাটি তুলে তার মুখে ঢালছিলাম যাতে আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ তাকে পরিবেষ্টন না করে (তিরমিযী হা/৩১০৭-০৮; আলবানী উক্ত বর্ণনার সনদ হাসান লিগায়রিহি বলেছেন (ছহীহাহ হা/২০১৫)। আরনাঊত্ব ইবনু আববাস থেকে মওকূফ বলেছেন (আহমাদ হা/২১৪৪, ২২০৩)

অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, ফেরাঊন যখন আযাব প্রত্যক্ষ করল, তখন সে ঈমান আনার সংকল্প করল। কিন্তু জিব্রীল তার মুখে মাটি ভরে দিলেন। তখন সে জিব্রীলের নিকট সত্তুর বার সাহায্য প্রার্থনা করল। কিন্তু জিব্রীল তাকে সাহায্য করলেন না। তখন আল্লাহ জিব্রীলকে ভৎর্সনা করে বললেন, ফেরাঊন তোমার নিকট ৭০ বার সাহায্য চাইল তুমি তাকে সাহায্য করলে না? আমার ইয্যতের কসম! সে যদি আমার নিকট সাহায্য চাইত তাহ’লে আমি তাকে সাহায্য করতাম (সুয়ূতী, ই‘জাযুল কুরআন ২/৩৬৯-৭০)। বর্ণনাটি সনদবিহীন, যা অগ্রহণযোগ্য। তাছাড়া বর্ণনাটি মুনকার ও কুরআন বিরোধী। কারণ ফেরাঊন ঈমান আনার কথা বলেছিল এবং আল্লাহর নিকটেই সাহায্য চেয়েছিল (গাফের ৪০/ ৮৪-৮৫)। কিন্তু আল্লাহ তার শেষ মুহূর্তের ঈমান কবুল করেননি। তিনি বলেন, ‘এখন? অথচ ইতিপূর্বে তুমি অবাধ্যতা করেছিলে এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে’ (ইউনুস ১০/৯১)

Posted in ফেরাঊন ডুবে যাওয়ার সময় জিব্রীল (আঃ) তার মুখে মাটি প্রবেশ করিয়েছিলেন কি? | Tagged ,

মায়ের গোসলের পানি দ্বারা বরকত হাছিল করা যাবে কি?


এটি বিদ‘আতী কাজ। রাসূল (ছাঃ) ব্যতীত অন্য কারো পানি বা অন্য কিছু দ্বারা বরকত হাছিলের কামনা করা বিদ‘আত (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৭/৬৭; বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৭/৬৫)। ইমাম শাত্বেবী বলেন, রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুর পর তাঁর ছাহাবীগণ এমনকি চার খলীফা থেকে এমন কর্মের মাধ্যমে বরকত হাছিলের পক্ষে কোন দলীল নেই। দলীল না থাকাই তা পরিহার করার ব্যাপারে ছাহাবীগণের ঐক্যমতের প্রমাণ বহন করে (আল-ই‘তিছাম ১/৪৮২)

Posted in মায়ের গোসলের পানি দ্বারা বরকত হাছিল করা যাবে কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তি মসজিদের পার্শ্ববর্তী বাড়ী থেকে শয়তান তাড়ানোর জন্য আযান দিয়ে থাকে। এর কোন ভিত্তি আছে কি?


মুওয়াযযিন আযান ও ইক্বামত দিলে শয়তান বায়ু নিঃসরণ করতে করতে পালিয়ে যায়’ (বুখারী হা/৬০৮; মুসলিম হা/৩৮৯; মিশকাত হা/৬৫৫)। কিন্তু শয়তান তাড়ানোর জন্য পৃথকভাবে আযান দেওয়ার কোন বিধান নেই। তবে এজন্য ‘আঊযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্ব-নির রজীম’ পাঠ করা যায় (বুখারী হা/৬১১৫; মুসলিম হা/২৬১০; মুমিনুন ২৩/৯৭-৯৮)। এছাড়া সূরা বাক্বারাহ ও হাদীছে বর্ণিত দো‘আগুলো পাঠ করা যেতে পারে (মুসলিম হা/৭৮০; ছহীহ আত-তারগীব হা/১৪৫৮)। বিশেষতঃ নিম্নের দো‘আটি পাঠ করা যায়- আ‘ঊযুবি কালিমা-তিল্লা-হিত্ তা-ম্মাতি মিন শার্রি মা-খলাক্ব (মুসলিম হা/২৭০৮; মিশকাত হা/২৪২৩)

Posted in আযান শয়তান তাড়ানোর জন্য দেওয়া যাবে কি?

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির উপর হজ্জ ফরয হয় না। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদী ঋণের ক্ষেত্রেও কি এটি প্রযোজ্য হবে? যেমন কোন ব্যক্তির রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় ঋণ নেয়া আছে। যে ঋণ পরিশোধ করতে তার আজীবন লেগে যাবে। এই ব্যক্তির উপর কি হজ্জ ফরয?


যদি কোন ঋণ তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করা আবশ্যিক হয়, তাহ’লে হজ্জের উপর ঋণ পরিশোধ প্রাধান্য পাবে। কেননা হজ্জ ফরয হওয়ার আগেই ঋণ হয়েছে। কিন্তু যদি তা দীর্ঘমেয়াদী ঋণ হয়, সেক্ষেত্রে ব্যক্তি যদি মনে করে যে, ঋণ পরিশোধের মেয়াদে সে তা পরিশোধ করতে পারবে এবং তার কাছে হজ্জের জন্য প্রয়োজনীয় খরচাদিও রয়েছে, তাহ’লে ঋণ থাকা সত্ত্বেও তার উপর হজ্জ ফরয হবে। আর যদি সে এ ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়, তাহ’লে ফরয হবে না (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২১/৮৩)

Posted in হজ্জ ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির উপর ফরয হয় কি? | Tagged ,

কোন ইবাদতের ক্ষেত্রে বেশী ছওয়াব পাওয়ার জন্য কষ্টকর অবস্থাকে বেছে নেয়া কি ব্যক্তির জন্য শরীআ‘তসম্মত? যেমন- গরম পানি থাকা সত্ত্বেও ঠান্ডা পানি দিয়ে ওযূ করা কিংবা নিকটে মসজিদ থাকা সত্ত্বেও দূরের মসজিদে যাওয়া। কারণ আমি শুনেছি, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কষ্টকর বিষয় খুঁজে বেড়ায় সে ছওয়াব পাবে না। সঠিক উত্তর জানতে চাই।


ইবাদত করার জন্য অধিকতর কষ্টকর অবস্থাকে ছওয়াব হাছিলের লক্ষ্য বানানো শরী‘আতসম্মত নয়। এতে কোন ছওয়াব নেই। কেননা কৃচ্ছ্রতা সাধন ইসলামী ইবাদতের ঈপ্সিত লক্ষ্য নয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘নিশ্চয় দ্বীন সহজ। যে ব্যক্তি দ্বীনকে কঠিন বানাবে, তার উপর দ্বীন বিজয়ী হয়ে যাবে (অর্থাৎ সে পরাজিত হয়ে আমল ছেড়ে দিবে)। সুতরাং তোমরা সঠিক পথে থাক এবং (ইবাদতে) মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর’ (বুখারী হা/৩৯; মিশকাত হা/১২৪৬)। রাসূল (ছাঃ)-কে দু’টি বিষয়ে ইখতিয়ার দেওয়া হ’লে তিনি সহজটি গ্রহণ করতেন (বুখারী হা/৬৭৮৬; মুসলিম হা/২৩২৭)। উদাহরণস্বরূপ যদি কেউ পায়ে হেঁটে হজ্জ করে, যাতে হজ্জ পালনে কষ্ট হয় এবং ছওয়াব বেশী হয়; তবে তা শরী‘আতসম্মত হবে না। কেননা এটা শরী‘আত প্রণেতার উদ্দেশ্য বিরোধী (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৫/২৮১; শাত্বেবী, আল-মুওয়াফাক্বাত ২/২২২)

Posted in ইবাদতের ক্ষেত্রে বেশী ছওয়াব পাওয়ার জন্য কষ্টকর অবস্থাকে বেছে নেয়া যাবে কি? | Tagged

শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) সূরা ক্বাছাছ ৮৮ আয়াতের তা’বীলের কারণে ইমাম বুখারীকে কাফের আখ্যায়িত করেছেন কি?


নাঊযুবিল্লাহ! ইমাম বুখারী (রহঃ)-কে কাফের আখ্যায়িত করার প্রশ্নই  আসে না।  আলবানীসহ সকল যুগের  বিদ্বানগণের নিকট ইমাম বুখারী (রহঃ) পরম শ্রদ্ধার পাত্র। মূলতঃ বিষয়টি যে প্রসঙ্গে উত্থাপিত হয়েছে তা হ’ল, আল্লাহর বাণী  ‘সব কিছুই ধ্বংস হবে তাঁর চেহারা ব্যতীত’ (ক্বাছাছ ৮৮) আয়াতের ব্যাখ্যায় ‘ইল্লা ওয়াজহাহু’ (তাঁর চেহারা ব্যতীত)-এর অর্থ ইমাম বুখারী (রহঃ) ‘তাঁর রাজত্ব’ করেছেন (বুখারী ৬/১১২, সূরা ক্বাছাছের আলোচনা)। যা বাহ্যদৃষ্টিতে তা’বীল মনে হয়। এর উত্তর হ’ল, প্রথমতঃ ছহীহ বুখারীর নাসাফী বর্ণিত নুসখা মোতাবেক তাফসীরটি ইমাম বুখারীর নয়, বরং মা‘মারের (ফাৎহুল বারী ৮/৫০৫)। দ্বিতীয়তঃ এটি যদি তাঁর নিজের বক্তব্যও হয়ে থাকে, তবে তাঁর উদ্দেশ্য আল্লাহর ছিফাতের তা’বীল করা নয়, বরং লাযেম দ্বারা মালযূম উদ্দেশ্য। অর্থাৎ আল্লাহর চেহারা বাকী থাকার অর্থ আল্লাহর সত্তা এবং তাঁর রাজত্ব বাকী থাকা। সালাফে ছালেহীন কখনও কখনও এমন সম্পূরক তাফসীর করতেন, যা মূলতঃ তা’বীল নয় এবং পরস্পর বিরোধীও নয় (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমু‘ ফাতাওয়া ৬/৩৯০)। আর ইমাম বুখারী (রহঃ) যে সালাফে ছালেহীনের মতই আল্লাহর বিভিন্ন ছিফাতে বিশ্বাস করতেন, তার প্রমাণ ছহীহ বুখারীর বিভিন্ন অধ্যায়েই রয়েছে। যেমন, باب (قُلْ أَىُّ شَىْءٍ أَكْبَرُ شَهَادَةً قُلِ اللهُ). وَسَمَّى اللهُ تَعَالَى نَفْسَهُ شَيْئًا. وَسَمَّى النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم الْقُرْآنَ شَيْئًا وَهْوَ صِفَةٌ مِنْ صِفَاتِ اللهِ. وَقَالَ (كُلُّ شَىْءٍ هَالِكٌ إِلاَّ وَجْهَهُ) (বুখারী ৯/১২৪)। সুতরাং এ ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নেই। শায়খ আলবানীকে ইমাম বুখারীর উক্ত তাফসীর সম্পর্কে প্রশ্ন করা হ’লে, তিনি বিদ্বানসূলভ জাযবায় বলেছিলেন যে, ‘এরূপ কথা কোন মুমিন মুসলমান বলতে পারে না’। কিন্তু পরক্ষণেই তিনি এমন তাফসীর ইমাম বুখারীর নিজস্ব কি-না তাতে সংশয় প্রকাশ করে বলেন,المهم أن ننزه الإمام البخاري أن يؤول هذه الآية وهو إمام في الحديث وفي الصفات وهو سلفي العقيدة والحمد لله ‘মূলকথা হ’ল, আমরা ইমাম বুখারী এই আয়াতের তা’বীল করেছেন- এমন ধারণা থেকে তাঁকে মুক্ত করতে চাই। কেননা তিনি হাদীছের ইমাম এবং আল্লাহর ছিফাতের ক্ষেত্রে তিনি সালাফে ছালেহীনের আক্বীদা পোষণকারী আলহামদুলিল্লাহ (মওসূ‘আতুল আলবানী ফিল আক্বীদাহ ৬/৩২৬, সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর, ক্যাসেট নং ৭৩৮)। সুতরাং শায়খ আলবানী ইমাম বুখারীকে কাফের বলেছেন, একথা নিতান্তই ভিত্তিহীন এবং অপবাদ মাত্র।

Posted in শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) ইমাম বুখারীকে কাফের আখ্যায়িত করেছেন কি? | Tagged ,

বাংলাদেশের বর্তমান আদালতগুলি বৃটিশ আইনে পরিচালিত হয়। এক্ষণে এখানে আইন পেশায় অংশগ্রহণ করা জায়েয হবে কি?


সাধারণভাবে আইনী সহায়তা কোন নাজায়েয পেশা নয়। তবে সেখানে সর্বদা সত্যকে বিজয়ী করা, যুলুমের প্রতিরোধ করা এবং মানুষকে তার হক ফেরত দেয়ার কাজে নিয়োজিত থাকতে হবে। যাতে কোন নিরপরাধ ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত না হয় এবং অপরাধী ছাড়া না পায়। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নেকী ও আল্লাহভীরুতার কাজে পরস্পরকে সাহায্য করে এবং পাপ ও শত্রুতার কাজে সাহায্য করো না’ (মায়েদাহ ৫/০২; বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ১৯/২৩১; উছায়মীন, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ১১/৬০৯-৬১০)। আর বৃটিশ আইন প্রচলনের দায়ভার বর্তাবে সরকারের উপর। যতদিন ইসলামী আইনের বিপরীতে তা চালু থাকবে, ততদিন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলগণ পাপী হ’তে থাকবে। কেননা আল্লাহর বিধানের বিপরীতে অন্যের বিধান কোন অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয় (ইউসুফ ৪০, মায়েদাহ ৫০ প্রভৃতি)। সুতরাং যিনি আইনজীবী হিসাবে কাজ করবেন তার আবশ্যিক দায়িত্ব হবে সত্যের সাক্ষ্য দেয়ার পাশাপাশি নিজ অবস্থানে থেকে ইসলামী আইন প্রবর্তন এবং তার পক্ষে জনমত সৃষ্টি করা। এটা তার ঈমানী দায়িত্ব (মুসলিম হা/৪৯; মিশকাত হা/৫১৩৭)

এতদ্ব্যতীত প্রচলিত আইনের সবকিছুই যে শারঈ আইনের বিরোধী, তা নয়। যেমন সিভিল আইন, মুসলিম পারিবারিক আইন প্রভৃতি। সুতরাং একজন আল্লাহভীরু আইনজীবী সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং আল্লাহর আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা বজায় রেখে এ পেশায় জড়িত থাকতে পারেন।

Posted in বাংলাদেশের আদালতগুলিতে আইন পেশায় অংশগ্রহণ করা জায়েয হবে কি? | Tagged

আমি ইরাক প্রবাসী। আশূরা উপলক্ষে শী‘আরা বিশেষ খাবার রান্না করে এবং বলে যে, এই খাবার আল্লাহর জন্য, কিন্তু এর ছওয়াব হুসাইন (রাঃ)-এর জন্য। আমি যদি তা না খাই তবে অনেক সমস্যায় পতিত হ’তে হবে। এক্ষণে সেটা খাওয়া কি জায়েয হবে?


আশূরা উপলক্ষে ফেরাঊনের কবল থেকে নাজাতে মূসার শুকরিয়ার নিয়তে দু’দিন নফল ছিয়াম রাখা ব্যতীত আর সকল কর্মই বিদ‘আত। অতএব এ উপলক্ষে শী‘আ বা সুন্নীদের যেকোন অনুষ্ঠান বা খাদ্য ভক্ষণ সবই নাজায়েয (দ্রঃ ‘আশূরায়ে মুহাররম ও আমাদের করণীয়’ পুস্তিকা)। এক্ষণে প্রশ্নমতে যদি সে খাবার গ্রহণ না করলে বিপদের সম্মুখীন হ’তে হয়, তবে একান্ত বাধ্যগত অবস্থায় সে খাবার গ্রহণে কোন গোনাহ নেই (বাক্বারাহ ২/১৭৩ প্রভৃতি)

Posted in আশূরা উপলক্ষে কারো কোন খাদ্য খাওয়া যাবে কি? | Tagged , , ,

আমাদের মক্তবে বহুদিনের পুরাতন ছেড়া-ফাটা কিছু কুরআনের কপি রয়েছে, যা পড়ার উপযোগী নয়। এগুলি কি করা উচিৎ?


কুরআন ও হাদীছের ছেঁড়া পাতা ও বই-পুস্তক পুড়িয়ে  ফেলতে হবে। কুরআন ও হাদীছ অতীব পবিত্র ও সম্মানের বস্ত্ত। এগুলির ছিন্ন পাতা বা কিতাব কোনভাবে যাতে অসম্মানিত না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখেই সম্ভবতঃ ছাহাবায়ে কেরাম এগুলি পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মূল কুরায়শী আরবীতে কুরআন নাযিল হয়েছিল। পরে অন্য উপভাষাতেও কুরআন পাঠের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তাতে শব্দ ও মর্মগত বিপত্তি দেখা দিলে ৩য় খলীফা ওছমান (রাঃ) কুরআনের মূল কুরায়শী কপি রেখে বাকী সব কপি পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। বর্তমানে কেবল সেই কুরআনই সর্বত্র পঠিত হয় (বুখারী হা/৪৯৮৭, মিশকাত হা/২২২১)

Posted in কুরআনের পুরাতন ছেড়া-ফাটা পড়ার অনুপযোগী কপি কি করা উচিৎ? | Tagged

জনৈক আলেম বলেন, রাসূল (ছাঃ) ছালাতের মধ্যে মুছল্লীরা কে কি করছে তা দেখতেন, সে হিসাবে আমিও আপনাদের দেখি। আমার দেখা মতে আমি তাকে আড় চোখে মুছল্লীদের দেখতে দেখেছি। এটা শরী‘আতসম্মত কি?


না। এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি হ’ল- আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা কি মনে কর যে, আমার দৃষ্টি (কেবল) ক্বিবলাহর দিকে? আল্লাহর কসম! আমার নিকট তোমাদের খূশু (বিনয়) ও রুকূ কিছুই গোপন থাকে না। অবশ্যই আমি আমার পেছন হতেও তোমাদের দেখতে পাই’ (বুখারী হা/৪১৮; মিশকাত হা/১০৮৬)। অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, আল্লাহর কসম! আমি সামনের দিকে যেভাবে দেখতে পাই পিছনেও সেভাবেই দেখতে পাই (মুসলিম হা/৪২৩)

বিষয়টি রাসূল (ছাঃ)-এর জন্য খাছ। যা তাঁর মু‘জিযা সমূহের অন্তর্ভুক্ত (ফাৎহুল বারী হা/৪১৮-এর ব্যাখ্যা; মির‘আত)। এটি অন্য কারু ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বরং রাসূল (ছাঃ) ছালাত অবস্থায় ডানে-বামে আড় চোখে তাকাতে নিষেধ করেছেন (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মুসলিম, মিশকাত হা/৯৮২-৮৩)।

Posted in ইমাম আড় চোখে মুছল্লীদের দেখতে পারবেন কি? | Tagged ,

জনৈক ইমাম ১৫ বছর যাবৎ এশার ছালাতে সূরা তীন ও তাকাছুর এবং ফজরের ছালাতে সূরা ক্বদর ও কাফেরূন পাঠ করেন। তার বক্তব্য, এগুলি তিনি নিজের জন্য বেছে নিয়েছেন এবং আজীবন পড়ে যাবেন। এরূপ কাজ সঠিক কি?


ভাবে নির্দিষ্ট ওয়াক্তে উক্ত সূরা দু’টি আজীবনের জন্য বেছে নেওয়ার কোন দলীল নেই। বরং তার জন্য কুরআনের যে অংশ সহজ হবে তা পাঠ করবে (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৭৯০)। তবে ছালাতে সাময়িকভাবে একই সূরা বা একই আয়াত বারবার পড়া যায় (আবুদাঊদ হা/৮১৬; ইবনু মাজাহ হা/১৩৫০; মিশকাত হা/৮৬২, মির‘আতুল মাফাতীহ ৪/১৯১)

Posted in ছালাতে প্রতিদিন সূরা ক্বদর ও কাফেরূন আজীবন পড়ে যাবেন। এরূপ কাজ সঠিক কি? | Tagged

আহলে বায়েত বলতে কি বুঝায়? তারা কারা?


‘রাসূল পরিবার’ (أَهْلُ الْبَيْتِ) বলতে তাঁর স্ত্রীগণ এবং আলী, ফাতেমা, হাসান ও হোসাইনকে বুঝানো হয়’ (মুসলিম হা/২৪২৪)। যারা ছিলেন উম্মতের সবচেয়ে মর্যাদাবান পরিবার। আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী পরিবারের সদস্যগণ! আল্লাহ চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে’ (আহযাব ৩৩/৩৩)। তবে অন্য এক বর্ণনায় ‘আহলে বায়েত’ বলতে তাদেরকে বুঝানো হয়েছে, যাদের উপর চিরদিন ছাদাক্বা গ্রহণ করা নিষিদ্ধ। তাঁরা হ’লেন, আলী, ‘আক্বীল, জা‘ফর ও আববাস (রাঃ)-এর বংশধরগণ’ (মুসলিম হা/২৪০৮, ‘আলীর মর্যাদা’ অনুচ্ছেদ)। ইবনু কাছীর বলেন, ‘আহলে বায়েত’ বলতে কেবল নবীপত্নীগণ নন। বরং তাঁর পরিবারগণও এর অন্তর্ভুক্ত। আর এটিই এ বিষয়ে বর্ণিত কুরআন ও হাদীছসমূহকে শামিল করে (ইবনু কাছীর, তাফসীর সূরা আহযাব ৩৩ আয়াত; বিস্তারিত দ্রঃ সীরাতুর রাসূল (ছাঃ) ৩য় মুদ্রণ ৭৬০ পৃ.)। আর আহলে বায়েত থেকেই ইমাম মাহদী আগমন করবেন (ইবনু মাজাহ হা/৪০৮৫-৮৬; ছহীহাহ হা/২৩৭১; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৭৩৪-৩৫)

Posted in আহলে বায়েত বলতে কি বুঝায়? তারা কারা? | Tagged

কোন নারীর স্বামী যদি কয়েক বছর যাবৎ স্ত্রীর খোঁজ না নেয় এবং সম্পর্ক না রাখে সেক্ষেত্রে কি আপনা-আপনি তালাক হয়ে যাবে, না স্বামীকে খুঁজে বের করে তালাক নিতে হবে?


আপনা-আপনি তালাক হবে না। ওযর ব্যতীত স্বামী স্ত্রী থেকে দূরে থাকলে বা কোন ধরনের খোঁজ-খবর না নিলে স্ত্রী আদালত বা সমাজের দায়িত্বশীল নেতার মাধ্যমে ‘খোলা’ করে বিচ্ছিন্ন হ’তে পারে (বুখারী, মিশকাত হা/৩২৭৪)। তবে স্বামী যদি কোন ইঙ্গিত ছাড়াই নিখোঁজ হয়ে থাকে, তবে স্ত্রীর জন্য কিছুদিন অপেক্ষা করা উচিৎ। ওমর (রাঃ) নিখোঁজ স্বামীর জন্য স্ত্রীকে চার বৎসর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলতেন (বায়হাক্বী হা/১৫৩৪৫, মুহাল্লা ৯/৩১৬ পৃঃ)

Posted in স্বামীর খোঁজ অনেক দিন না থাকলে কি এমনি এমনি তালাক হয়ে যাবে? | Tagged ,

আমাদের এখানে আলেমরা বলেন, কম জানো এবং বেশী আমল কর। কথাটা কি শরী‘আতসম্মত?


কথাটি শরী‘আতসম্মত নয়। বরং এটাই বলা উচিৎ যে, যতটুকু জানো ততটুকু আমল কর। বস্ত্তত দ্বীনের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা ফরযে ‘আয়েন, যা সকল মুসলমানের জন্য আবশ্যিক (ইবনু মাজাহ হা/২২৪; মিশকাত হা/২১৮)। অর্থাৎ ইসলামের পাঁচটি বুনিয়াদী ফরয এবং তাওহীদ ও শিরক, সুন্নাত ও বিদ‘আত, হালাল ও হারাম প্রভৃতি। অতএব সাধ্যমত শরী‘আতের বিধান সমূহ জানতে হবে এবং তদনুযায়ী আমল করতে হবে। কেননা ক্বিয়ামতের দিন বান্দা তার ইলম অনুযায়ী আমল করেছে কি-না সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে (তিরমিযী হা/২৪১৬; মিশকাত হা/৫১৯৭; ছহীহাহ হা/৯৪৬)। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, আমাদের লোকেরা দশটি আয়াতের জ্ঞান অর্জন করতেন। তখন তাতেই সীমাবদ্ধ থাকতেন যতক্ষণ না সেগুলোর অর্থ জানতেন এবং আমল করতেন (শু‘আবুল ঈমান হা/১৯৪৪; মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ হা/১১৬৬৫)

Posted in কম জানো এবং বেশী আমল কর। কথাটা কি শরী‘আতসম্মত? | Tagged ,

অসুস্থতার কারণে আমার মেয়ের হাতে গাছ বা গাছের পাতা বিসমিল্লাহ বলে একটি কাপড়ে পেঁচিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে এতে কিছু পড়া হয়নি। এটা শিরক হবে কি?


আল্লাহর উপর ভরসা রেখে গাছ বা গাছের পাতা ঔষধ হিসাবে দেহের যেকোন স্থানে লাগানো বা সেবন করায় কোন বাধা নেই। তবে আরোগ্য লাভের ধারণায় শরীরে কোন কিছু ঝুলালে তা শিরক হবে। চাই তা তাবীয হোক বা অন্য কিছু হোক। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি শরীরে কোন কিছু ঝুলাল, তাকে তার কাছেই সোপর্দ করা হ’ল’ (আহমাদ হা/১৮৮০৩; তিরমিযী হা/২০৭২; মিশকাত হা/৪৫৫৬, সনদ হাসান)

Posted in গাছ বা গাছের পাতা বিসমিল্লাহ বলে কাপড়ে পেঁচিয়ে বেঁধে দেওয়া যাবে কি? | Tagged ,

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মুহাজির বলা যাবে কি?


বলা যাবে। কারণ তারা কাফেরদের নির্মম যুলুমের মুখে জীবন বাঁচাতে ও দ্বীন রক্ষার্থে বাড়ি-ঘর, সহায়-সম্পত্তি ফেলে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। নববী যুগে রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবীগণও জীবন ও দ্বীন রক্ষার্থে হাবাশা ও মদীনায় আশ্রয় নিয়েছিলেন।

Posted in রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মুহাজির বলা যাবে কি? | Tagged

লন্ড্রি থেকে ড্রাই ওয়াশ করার মাধ্যমে কাপড় পবিত্র হবে কি?


কাপড়ে কোন অপবিত্র বস্ত্ত লেগে না থাকলে তা পবিত্র বলে গণ্য হবে ইনশাআল্লাহ (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৪/৮৬)

Posted in লন্ড্রি থেকে ড্রাই ওয়াশ করার মাধ্যমে কাপড় পবিত্র হবে কি? | Tagged

ওযূ ভেঙ্গে যাওয়ায় একজন মুছল্লী ছালাত ছেড়ে চলে গেলে সামনের কাতারে ফাঁক তৈরী হয়। এক্ষণে পিছনে দু’জন থাকলে একজন সামনে গিয়ে কাতার পূর্ণ করবে, না পিছনের কাতার ঠিক রাখবে?


একজনের জায়গা থাকলে একজন সামনে যাবে ও আরেকজন পিছনে একাকী দাঁড়াবে (ইবনু তায়মিয়াহ, আল-ইখতিয়ারাতুল ফিক্বহিইয়াহ ১/৪৩৩; আলবানী, যঈফাহ হা/৯২২-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)। উল্লেখ্য যে, পিছনে একাকী ছালাত আদায় করার কারণে রাসূল (ছাঃ) জনৈক ছাহাবীকে পুনরায় ছালাত আদায় করতে আদেশ দেন (আবুদাঊদ হা/৬৮২; মিশকাত হা/১১০৫), তার কারণ ছিল তিনি সামনে জায়গা থাকা সত্ত্বেও পিছনে একাকী দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করেছিলেন (আলবানী, যঈফাহ হা/৯২২-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)

Posted in মুছল্লী ছালাত ছেড়ে চলে গেলে সামনের কাতারে ফাঁক তৈরী হলে করণীয় কি? | Tagged ,

‘আল্লাহ তা‘আলা পানিতে ৬০০ ও স্থলভাগে ৪০০ মোট এক হাযার উম্মত সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে সর্বপ্রথম মৃত্যুবরণ করবে ফড়িং’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি সত্যতা আছে কি?


উক্ত মর্মে প্রচলিত বর্ণনাটি মওযূ‘ (ইবনু হিববান, আল-মাজরূহীন ২/২৫৭; ইবনুল জাওযী, আল-মাওযূ‘আত ৩/১৪; হায়ছামী, মাজমাউয যাওয়ায়েদ হা/১২৪৩৩)

Posted in ফড়িং সর্বপ্রথম মৃত্যু বরন করবে মর্মে বর্ণিত হাদীছটি সত্যতা আছে কি? | Tagged

ক্যাঙ্গারুর গোশত খাওয়া হালাল হবে কি?


ক্যাঙ্গারুর গোশত খাওয়া হালাল। কারণ তা হিংস্র  বা তীক্ষ্ণ দন্ত ও নখর বিশিষ্ট নয়। ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তীক্ষ্ণ দাঁতবিশিষ্ট হিংস্র জন্তু এবং ধারালো নখ বিশিষ্ট পাখি খেতে নিষেধ করেছেন’ (মুসলিম হা/১৯৩৪; মিশকাত হা/৪১০৫)। আর শরী‘আতের বিধান হ’ল- কোন প্রাণীর গোশত ততক্ষণ হারাম হবে না যতক্ষণ না তা হারাম হওয়ার দলীল পাওয়া যায়। অতএব এর গোশত খাওয়ায় কোন বাধা নেই।

Posted in ক্যাঙ্গারুর গোশত খাওয়া হালাল হবে কি? | Tagged , ,

সুন্নাত ছালাতের ক্বাযা যেকোন সময় পড়া যাবে কি?


যাবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কেউ বিতর রেখে ঘুমিয়ে গেলে অথবা ভুলে গেলে যখন স্মরণ হবে অথবা যখন ঘুম থেকে জাগবে, তখন সে যেন বিতর পড়ে নেয়’ (তিরমিযী হা/৪৬৫; ইবনু মাজাহ হা/১১৮৮; মিশকাত হা/১২৭৯)। রাসূল (ছাঃ) কারণবশতঃ সুন্নাত পড়তে না পারলে পরে তা আদায় করে নিয়েছেন (বুখারী হা/১২৩৩; তিরমিযী হা/৪২৬; ইবনু মাজাহ হা/১১৫৮)

Posted in সুন্নাত ছালাতের ক্বাযা যেকোন সময় পড়া যাবে কি? | Tagged

অধিক খাওয়া বা দ্রুত খাওয়ার ব্যাপারে বর্তমানে যেভাবে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, এগুলি জায়েয হবে কি?


এরূপ প্রতিযোগিতা স্রেফ অপচয়ের শামিল। আল্লাহ বলেন, তোমরা খাও ও পান কর। কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালবাসেন না (আ‘রাফ ৭/৩১)। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, উক্ত আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা খানা-পিনা হালাল করেছেন. যতক্ষণ না তাতে অপচয় ও অহংকার প্রকাশ পায় (কুরতুবী, উক্ত আয়াতের তাফসীর)। মিক্বদাম ইবনু মা‘দীকারিব (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, মানুষ পেটের চাইতে অধিক নিকৃষ্ট কোন পাত্র পূর্ণ করে না। মেরুদন্ড সোজা রাখে এমন কয়েক গ্রাস খাবারই আদম সন্তানের জন্য যথেষ্ট। তার চেয়ে বেশী চাইলে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাদ্যের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখবে’ (তিরমিযী হা/২৩৮০; মিশকাত হা/৫১৯২)। অতএব এসব প্রতিযোগিতা থেকে দূরে থাকা যরূরী।

Posted in খাওয়ার ব্যাপারে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা জায়েয হবে কি? | Tagged ,

মসজিদের মধ্যে প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টাধ্বনি বাজানো ঘড়ি রাখা যাবে কি?


রাখা যাবে না। বরং শব্দবিহীন ঘড়ি রাখবে। রাসূল (ছাঃ) ঘণ্টাধ্বনিকে শয়তানের বাঁশী বলে আখ্যায়িত করেছেন (আবুদাঊদ হা/২৫৫৬)

Posted in মসজিদের মধ্যে প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টাধ্বনি বাজানো ঘড়ি রাখা যাবে কি? | Tagged