থার্টিফার্স্ট নাইট, ভালোবাসা দিবস, নববর্ষ ইত্যাদি পালন সম্পর্কে শরী‘আতের বিধান জানিয়ে বাধিত করবেন।


অমুসলিমদের অনুকরণে এসব দিবস পালিত হয়। যা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এগুলি স্রেফ জাহেলিয়াত এবং বিজাতীয় সংস্কৃতি মাত্র। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে ব্যক্তি (কিয়ামতের দিন) তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (আবূদাঊদ হা/৪০৩১; মিশকাত হা/৪৩৪৭ ‘পোষাক’ অধ্যায়)। দ্বিতীয়তঃ এসব অনুষ্ঠান সমাজে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা প্রসারের অন্যতম মাধ্যম। আর আল্লাহ প্রকাশ্য ও গোপন সকল প্রকার অশ্লীলতার নিকটবর্তী হ’তে নিষেধ করেছেন (আন‘আম ৬/১৫১)। এর ফলে নারী নির্যাতন ও হত্যাকান্ড পর্যন্ত সংঘটিত হচ্ছে। অতএব এসব থেকে বিরত থাকতে হবে।

Posted in ভালোবাসা দিবস- নববর্ষ পালন সম্পর্কে শরী‘আতের বিধান কি? | Tagged

সূরা বাক্বারাহ ১১৫ আয়াতের সঠিক অর্থ জানতে চাই।


উক্ত আয়াতের অর্থ হল, ‘আর আল্লাহর জন্যই পূর্ব ও পশ্চিম। অতএব যেদিকেই তোমরা মুখ ফিরাও সেদিকেই রয়েছে আল্লাহর চেহারা। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বব্যাপী ও সর্বজ্ঞ’।

উল্লেখ্য যে, তাফসীর মা‘আরেফুল কুরআনের বঙ্গানুবাদে বলা হয়েছে, ‘তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও সেদিকেই আল্লাহ বিরাজমান’। আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান এই ভ্রান্ত ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েই উক্ত ভুল অনুবাদ করা হয়েছে। অন্যদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুবাদে বলা হয়েছে, ‘যেদিকেই মুখ ফিরাও সেই দিকই আল্লাহর দিক’। উক্ত অনুবাদ দু’টির কোনটিই সঠিক হয়নি। বস্ত্ততঃ আল্লাহর হাত, পা, চেহারা ইত্যাদি সম্পর্কে কুরআনে যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবেই অনুবাদ করতে হবে। কোনরূপ দূরতম ব্যাখ্যা বা রূপক অর্থ করা যাবে না। কেননা আল্লাহর নিজস্ব আকার আছে যার তাঁর উপযোগী, যা অন্যকিছুর সাথে তুলনীয় নয়। তিনি বলেন, ‘তার তুলনীয় কিছু নেই। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা’ (শূরা ৪২/১১)

মূল ঘটনাটি ছিল এই যে, একদা কতিপয় ছাহাবী কোন এক অজ্ঞাত স্থানে ছালাত আদায় করার সময় ক্বিবলার দিক ভুলে উল্টা দিকে ফিরে ছালাত আদায় করেন। তারা রাসূল (ছাঃ)- কে উক্ত ঘটনা বর্ণনা করলে উক্ত আয়াত নাযিল হয় (তিরমিযী হা/২৯৫৭, সনদ হাসান)

Posted in তাফসীর, সূরা বাক্বারাহ ১১৫ আয়াতের সঠিক অর্থ জানতে চাই। | Tagged

ইমামের সালাম ফিরানোর পর বাকী ছালাত আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে প্রথমে রাফউল ইয়াদায়েন করতে হবে কি?


হ্যাঁ। কেননা সে তাশাহহুদ থেকে দাঁড়িয়েছে। আর তাশাহহুদ থেকে দাঁড়িয়ে বাকী ছালাত আদায়ের ক্ষেত্রে প্রথমে রাফউল ইয়াদায়েন করাই শরী‘আতের নির্দেশনা (বুখারী হা/৭৩৯; ওছায়মীন, ইসলাম কিউএ ফতওয়া নং ২১৫০৬)

Posted in ইমামের সালাম ফিরানোর পর দাঁড়িয়ে প্রথমে রাফউল ইয়াদায়েন করতে হবে কি? | Tagged ,

বর্তমানে বিদ্যুৎ বিল অনেক বেশী। যা যুলুমের পর্যায়ভুক্ত। এক্ষণে চোরাই লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধা নেওয়া যাবে কি?


যাবে না। এটা চুরি হিসাবে গণ্য হবে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না’ (নিসা ৪/২৯)। সরকার জনগণের নিকট থেকে টাকা নিয়ে জনগণের প্রয়োজনে তা ব্যয় করে। এক্ষণে যদি তারা যুলুম করে বা কোন খেয়ানত করে, তখন বৈধ উপায়ে তার প্রতিবাদ করতে হবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১৩৭)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তাদের হক তাদের দাও এবং তোমাদের হক আল্লাহর কাছে চাও’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ; মিশকাত হা/৩৬৭২)

Posted in চোরাই লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধা নেওয়া যাবে কি? | Tagged

ইমাম সালাম ফিরানোর সময় ডান দিকের চেয়ে বাম দিকের সালামে স্বর কিছু নীচু করবেন মর্মে শরী‘আতে কোন নির্দেশনা আছে কি?


বাম দিকের সালামে স্বর নীচু করতে হবে মর্মে শরী‘আতে কোন নির্দেশনা নেই। বরং জাবের (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ছালাত-এর বৈঠকে হাটুর ওপর হাত রেখে ডানে বামে তোমাদের ভাইদের (মুখ ফিরিয়ে) ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ’ বলাই তোমাদের জন্য যথেষ্ট (মুসলিম হা/৪৩১; আবুদাউদ হা/৯৯৯)। ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সালাম ফিরানোর সময় ডানে ও বামে বলতেন, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ’ (নাসাঈ, তিরমিযী, আবুদাঊদ, সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/৯৫০)

উল্লেখ্য যে, কয়েকটি বর্ণনার ভিত্তিতে অনেক বিদ্বান প্রথম সালাম ফিরানো ফরয এবং দ্বিতীয় সালাম ফিরানো সুন্নাত বলেছেন (ছহীহাহ হা/৩১৬এর আলোচনা দ্রঃ)। যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কিন্তু এর সাথে স্বর উঁচু-নীচুর কোন সম্পর্ক নেই।

Posted in সালাম ফিরানোর সময় বাম দিকের সালামে স্বর নীচু করতে হবে কি? | Tagged ,

ইমাম ছালাত শুরু করার পূর্বে ভুলবশতঃ নিজেই ইক্বামত দিয়েছেন। এজন্য মুক্তাদীদের মধ্যে কাউকে পুনরায় ইক্বামত দিতে হবে কি?


ইমাম ইক্বামত দেওয়ায় কোন দোষ নেই। যে কেউ ইক্বামত দিতে পারে। আর আযান দাতাকেই ইক্বামত দিতে হবে মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (তিরমিযী হা/১৯৯; মিশকাত হা/৬৪৮; যঈফাহ হা/৩৫)

Posted in আযান দাতাকেই ইক্বামত দিতে হবে কি? | Tagged ,

কুরআন মাজীদ মুখস্থ পড়ায় এক হাযার এবং দেখে পড়ায় দুই হাযার নেকী হয়। এর সত্যতা আছে কি?


এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (বায়হাক্বী, মিশকাত হা/২১৬৭; যঈফুল জামে‘ হা/৪০৮১)। এছাড়া কুরআন দেখে পড়া বা মুখস্থ পড়ার মধ্যে ছওয়াবের পার্থক্যের  বিষয়ে কোন ছহীহ দলীল পাওয়া যায় না। এবিষয়ে যত হাদীছ আছে সবগুলিই যঈফ ও জাল (সিলসিলা যঈফাহ হা/৩৫৬, ৪০১১)। মূলতঃ কুরআন অনুধাবন সহকারে পাঠ করতে হবে (ছোয়াদ ৩৮/২৯; মুহাম্মাদ ৪৭/২৪)। যিনি যতবেশী অনুধাবন করবেন এবং তা বাস্তবে আমল করবেন, তিনি ততবেশী নেকীর অধিকারী হবেন ইনশাআল্লাহ।

Posted in কুরআন মাজীদ মুখস্থ পড়ায় এক হাযার এবং দেখে পড়ায় দুই হাযার নেকী হয় কি? | Tagged

জনৈক আলেম বলেন, টয়লেটে থাকা অবস্থাতেও সালাম প্রদান বা গ্রহণ করতে হবে। একথার সত্যতা আছে কি?


না। বরং এসময় উত্তর না দিয়ে বেরিয়ে এসে উত্তর দিতে হবে। এটাই রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাত (বুখারী হা/৩৩৭; আবুদাঊদ হা/১৭; মিশকাত হা/৪৬৭, ৫৩৫)

Posted in টয়লেটে থাকা অবস্থাতেও সালাম প্রদান বা গ্রহণ যাবে কি? | Tagged

আমরা জানি টিকটিকি মারলে নেকী হয়। অথচ বিনা কারণে প্রাণী হত্যা গুনাহের কাজ। এক্ষণে এর পিছনে কারণ কি?


প্রথমতঃ এটা রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশ। সা‘দ বিন আবু ওয়াক্কাছ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) টিকটিকি মারার আদেশ দিয়েছেন এবং একে ছোট ফাসিক বলে নামকরণ করেছেন’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৪১২০)

দ্বিতীয়তঃ ইবরাহীম (আঃ)-কে আগুনে নিক্ষেপ করা হ’লে আগুনকে প্রজ্বলিত করার জন্য এই প্রাণীটি আগুনে ফুঁক দিয়ে ছিল (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪১১৯)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে যখন সকল প্রাণী আগুন নিভানোর চেষ্টায় লিপ্ত ছিল তখন টিকটিকি তাতে ফুঁক দিয়েছিল (আগুন আরও প্রজ্বলিত করার জন্য) (ইবনু মাজাহ হা/৩২৩১; ছহীহাহ হা/১৫৮১)

তৃতীয়তঃ এটি ক্ষতিকর প্রাণী। এর লেজে ক্ষতিকর মাদকতা রয়েছে।

Posted in বিনা কারণে প্রাণী হত্যা গুনাহের কাজ কি? | Tagged

নবম শ্রেণীর ইসলাম শিক্ষা বইয়ে ১৬৯ পৃষ্ঠায় আছে যে, ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) একাধারে ত্রিশ বছর রোযা রেখেছেন ও চল্লিশ বছর যাবৎ রাতে ঘুমাননি। অর্থাৎ এশার ওযূতে ফজরের ছালাত আদায় করেছেন। বর্ণনাটি কতটুকু সত্য?


এসব বর্ণনা মুক্বাদ্দামা শরহ বেকায়াহ ৩৬-৩৭ পৃষ্ঠা সহ বিভিন্ন গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। তবে তার সবই যঈফ (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২২/৩০৩. ফাতাওয়াউল কুবরা ২/১৩৭)। আলবানী বলেন, ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এশার ওযূতে চল্লিশ বছর ফজরের ছালাত আদায় করেছেন, তাতে তোমরা প্রতারিত হয়ো না। কারণ তাঁর থেকে এসকল ঘটনার কোন ভিত্তি নেই (আল-ইখতিয়ারাতুল ফিক্বহিইয়াহ ১/১২৩; আছলু ছিফাতি ছালাতিন্নবী ২/৫৩১)। মাজদুদ্দীন ফিরোযাবাদী বলেন, এগুলো ইমাম ছাহেবের প্রতি স্পষ্টভাবে মিথ্যা অপবাদ মাত্র। এরূপ কথা তাঁর দিকে সম্পর্কিত করা সমীচীন নয়। …এগুলো মূর্খ পক্ষপাতদুষ্টদের রচিত গল্প মাত্র। তবে তিনি মুত্তাকী ও ইবাদত গুযার মানুষ ছিলেন (আর-রাদ্দু ‘আলাল মু‘তারিয ১/৪৪)। তাঁর প্রধান শিষ্য ইমাম আবু ইউসুফ (রহঃ) বলেন, একদা আবু হানীফা (রহঃ)-এর সাথে হাঁটছিলাম তখন এক লোক বলল, ইনি আবু হানীফা, যিনি রাতে ঘুমান না। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! সে যেন আমার ব্যাপারে এমন কথা বর্ণনা না করে, যা আমি করি না (সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা ৬/৩৯৯; তাহযীবুল কামাল ২৯/৪৩৫; শাযারাতুয যাহাব ২/২৩০)

Posted in ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) একাধারে ত্রিশ বছর রোযা রেখেছেন কি? | Tagged

বর্তমানে মোবাইলে পরিচিত-অপরিচিত যুবক-যুবতীরা অনেক গল্প বা প্রেমালাপ করে থাকে। এরূপ কথা-বার্তায় গুনাহ হবে কি?


হবে। এসব মানুষকে হারামের দিকে নিয়ে যায়। উপরন্তু বিনা প্রয়োজনে এরূপ কথা-বার্তা যেনার শামিল। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘চোখের যেনা তাকানো, কানের যেনা শ্রবণ করা, জিহবার যেনা কথা বলা, হাতের যেনা স্পর্শ করা এবং পায়ের যেনা ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে চলা’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৮৬)। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা পরপুরুষের সাথে কোমল কণ্ঠে এমনভাবে কথা বলো না, যাতে যার অন্তরে ব্যাধি আছে, সে প্রলুব্ধ হয়’ (আহযাব ৩৩/৩২)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘অশ্লীল কথা ও কর্ম মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যায়’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪৮২৪আদবঅধ্যায়)

উল্লেখ্য, বর্তমান সমাজে মোবাইল যোগাযোগের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্কের মধ্য দিয়ে খুন, ধর্ষণ, পরকীয়া সহ নানা অশ্লীলতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ধ্বংস হচ্ছে যুব চরিত্র। তাই এ ব্যাপারে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা একান্ত যরূরী।

Posted in মোবাইলে পরিচিত-অপরিচিত যুবক-যুবতীর সাথে গল্প করা যাবে কি? | Tagged

আবুদাঊদ হা/৩৮৯৩ থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) তাবীয লিখে তা সন্তানদের গায়ে লটকিয়ে দিতেন। এক্ষণে তাবীযের বিধান কি হবে?


আছারটির মধ্যেকার দো‘আটি ছহীহ হ’লেও (আবুদাউদ হা/৩৮৯৩; মিশকাত হা/২৪৭৭) ছাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ)-এর আমলের ব্যাপারে যা বলা হয়েছে তা যঈফ (আলবানী, আল-কালিমুত তাইয়্যিব হা/৪৯)। এছাড়া এর বিরুদ্ধে রাসূল (ছাঃ)-এর স্পষ্ট ছহীহ হাদীছ বিদ্যমান রয়েছে। যেখানে তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি তাবীয লটকাবে আল্লাহ যেন তার উদ্দেশ্য পূর্ণ না করেন এবং যে কড়ি লটকাবে আল্লাহ যেন তাকে আরোগ্য দান না করেন’। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘যে ব্যক্তি তাবীয লটকালো সে শিরক করল’ (আহমাদ, সিলসিলা ছাহীহাহ হা/৪৯২)। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কোন কিছু লটকাবে তার দায়-দায়িত্ব তার উপরেই বর্তাবে’ অর্থাৎ আল্লাহ তার কোন দায়িত্ব নিবেন না’ (আবুদাঊদ, সনদ হাসান; মিশকাত হা/৪৫৫৬ ‘চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক’ অধ্যায়)

Posted in আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) তাবীয লিখে তা সন্তানদের গায়ে লটকিয়ে দিতেন কি?, তাবীজ লটকানো জায়েজ কি?, তাবীয ব্যবহার করা যাবে কি? | Tagged ,

‘আল্লাহপাক আদম (আঃ)-কে আপন আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটির প্রকৃত ব্যাখ্যা জানিয়ে বাধিত করবেন।


হাদীছটির পটভূমিতে বলা হয়েছে, জনৈক ব্যক্তি এক বালকের গালে চপেটাঘাত করলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাকে এভাবে গালে চপেটাঘাত করতে নিষেধ করলেন এবং বললেন, خَلَقَ اللهُ آدَمَ عَلَى صُوْرَتِهِ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আদমকে স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন’ (মুত্তাফাক্বআলাইহ, মিশকাত হা/২৮৪৬)। এ বাক্য প্রয়োগের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মূলতঃ মানুষের মুখমন্ডলের মর্যাদা নির্দেশ করেছেন এবং মানবদেহের মর্যাদাপূর্ণ এই অঙ্গে আঘাত করতে নিষেধ করেছেন। বাকী থাকে হাদীছাংশে উল্লেখিত সর্বনাম (ه)-এর প্রত্যাবর্তন স্থল কোন দিকে? এর জবাবে মুহাদ্দিছগণের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও হাদীছটির পটভূমির আলোকে এর প্রত্যাবর্তনস্থল হবে ‘আদম’। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা আদম (আঃ)-কে তাঁর (আদমের) নিজস্ব আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। কারণ তিনি পৃথিবীর প্রথম মানুষ ছিলেন যার উচ্চতা ছিল ষাট হাত (নববী, শরহ মুসলিম হা/২৮৪১এর ব্যাখ্যা)। ইবনু হাজার বলেন, …এ হাদীছগুলো শক্তিশালী করে যে, উক্ত সর্বনামের প্রত্যাবর্তনস্থল আদম (আঃ) (বুখারী হা/৬২২৭এর ব্যাখ্যা)। আলবানী বলেন, صُورَتِهِ তে সর্বনামের প্রত্যাবর্তনস্থল ‘আদম’। যে হাদীছে এর প্রত্যাবর্তন স্থল আল্লাহর দিকে করা হয়েছে তা মুনকার ও যঈফ (ছহীহাহ হা/৪৪৯, ৮৬২; যঈফাহ হা/১১৭৬)। অতএব আদম (আঃ)-কে স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করা হয়েছে। পৃথিবীতে যত মানুষ আসবে আদমের মত হাত-পা, নাক, কান, মুখ ও অন্যান্য অঙ্গ দিয়েই সৃষ্টি করা হবে। তাদের অন্য কোন আকৃতিতে সৃষ্টি করা হবে না।

Posted in আল্লাহপাক আদম (আঃ)-কে আপন আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন’ কি? | Tagged

প্রায় ১০ বছর পূর্বে একটি মসজিদে মুছল্লীদের মধ্যে কথা কাটাকাটির ফলে কিছু মুছল্লী বিদ্বেষবশতঃ পাশেই পৃথক মসজিদ নির্মাণ করে। তারপর থেকে ঐ মসজিদের মুছল্লীরা এই মসজিদে কখনোই আসে না। এক্ষণে পরবর্তীতে নির্মিত মসজিদে ছালাত হবে কি?


একই সমাজে পরস্পরের মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে যদি নতুন মসজিদ তৈরি করা হয় এবং যার দ্বারা মুমিন সমাজে বিভক্তি সৃষ্টি ও ক্ষতি করা উদ্দেশ্য হয়, তাহ’লে উক্ত মসজিদকে ‘মসজিদে যেরার’ বা ‘ক্ষতিকর মসজিদ’ বলা হয়। এরূপ মসজিদ তৈরীর ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য থাকে না এবং তা তাক্বওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত হয় না (কুরতুবী, তাফসীর সূরা তওবা ১০৭ আয়াত; আলবানী, আছ-ছামরুল মুসতাত্বাব, পৃঃ ৩৯৮)। সুতরাং দ্বিতীয় মসজিদটি যদি স্রেফ বিদ্বেষবশতঃ নির্মিত হয়ে থাকে, তবে সে মসজিদে ছালাত আদায় থেকে বিরত থাকতে হবে।

Posted in মসজিদ দ্বন্দ্বের কারণে পৃথক করলে সালাত হবে কি? | Tagged

নিয়মিত নেশা করা, কালো খেযাব ব্যবহার করা, টাখনুর নীচে কাপড় পরা প্রভৃতি কবীরা গোনাহে অভ্যস্ত ব্যক্তির জন্য ফরয ইবাদত করার কোন প্রয়োজন আছে কি?


এসব ব্যক্তিকেও ফরয ইবাদতসহ অন্যান্য ইবাদত করতে হবে। কারণ তার ইবাদতই হয়ত তাকে একসময় পাপ থেকে ফিরিয়ে আনবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, অমুক ব্যক্তি রাতে ছালাত আদায় করে, কিন্তু ভোরে উঠে সে চুরি করে? রাসূল (ছাঃ) বললেন, শীঘ্রই ছালাত তাকে তা হ’তে নিবৃত্ত রাখবে (আহমাদ হা/৯৭৭৭; মিশকাত হা/১২৩৭; ছহীহাহ হা/৩৪৮২; ছালাতের ফযীলত সমূহ)

Posted in কবীরা গোনাহে নিয়মিত অভ্যস্ত ব্যক্তির ইবাদত কবুল হবে কি? | Tagged

আমার অতি নিকটের কিছু মানুষ আমাকে মন্দ কাজে উৎসাহিত করছে। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কি?


কেউ মন্দ কাজে প্ররোচিত করলে তা করা যাবে না (মুত্তাফাক্ব আলাইহ ;মিশকাত হা/৩৬৬৪)। এমনকি পিতা-মাতা হ’লেও নয় (লোকমান ৩১/১৫)। এমতাবস্থায় তাদের প্রতি সদাচরণ বজায় রাখতে হবে, উত্তমরূপে বুঝানোর চেষ্টা করতে হবে এবং প্রয়োজন ব্যতীত এড়িয়ে চলতে হবে (নাহল ১৬/১২৫; আ‘রাফ ৭/১৯৯)। তাই বলে স্থায়ীভাবে সম্পর্কচ্ছিন্নও করা যাবে না। কারণ রাসূল (ছাঃ)-এর স্পষ্ট ঘোষণা, আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৪৯২২)

Posted in মন্দ কাজে কাছের মানুষ উৎসাহিত করলে করণীয় কি? | Tagged

আবুদ্দারদা (রাঃ) বলেন, আমি এমন তিনটি জিনিস ভালোবাসি, লোকে যা ঘৃণা করে। দরিদ্রতা, অসুস্থতা এবং মৃত্যু। কারণ দরিদ্রতা মানুষকে বিনয়ী করে, অসুস্থতায় গুনাহ মোচন হয় এবং মৃত্যুর ফলে আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের সুযোগ হয়। এ বর্ণনার সত্যতা আছে কি?


ঘটনাটি সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা, ত্বাবাকাতুল কুবরা, তাযকিরাতুল হুফ্ফায, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ছিফাতুছ ছাফওয়া প্রভৃতি গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। তবে এর সনদ যঈফ (যাহাবী, তাহকীক সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা ২/৩৪৯; হিলয়াতুল আওলিয়া ১/২১৭)। তাছাড়া কথাগুলো হাদীছ বিরোধী। কারণ রাসূল (ছাঃ) দরিদ্রতা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতেন, মৃত্যু কামনা করতে নিষেধ করতেন এবং অসুস্থতা থেকে বাঁচার জন্য দো‘আ করতেন (বুখারী হা/৫৬৭১; আবুদাউদ হা/১৫৪৪, ৫০৭৪; মিশকাত হা/২৪৬৭, ১৬০০, ২৩৯৭)

Posted in দরিদ্রতা অসুস্থতা এবং মৃত্যু রাসূল (সা:) ভালোবাসতেন কি? | Tagged

আমাদের দেশে অধিকাংশ জানাযার পূর্বে লাশ সামনে রেখে ইমাম ছাহেব বা সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কিছু বক্তব্য পেশ করে থাকেন। এরূপ করা শরী‘আতসম্মত কি?


এসময় কেবল ইমাম ছাহেব উপস্থিত ব্যক্তিদেরকে লক্ষ্য করে ঈমান বর্ধক কিছু সংক্ষিপ্ত কথা বলতে পারেন (বুখারী হা/১৩৬২; মিশকাত হা/৮৫, ১৬০৩) এবং উত্তরাধিকারীদের মধ্য হ’তে মাইয়েতের ঋণ পরিশোধ বিষয়ে বলতে পারেন (বুখারী, মিশকাত হা/২৯০৯)। আর জানাযার আগে বা পরে সকলে ব্যক্তিগতভাবে মাইয়েতের গুণাবলী বর্ণনা করতে পারেন। কেননা মুমিন বান্দাগণ এ পৃথিবীতে আল্লাহর জন্য সাক্ষী স্বরূপ’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৬৬২, ‘জানাযা’ অধ্যায়)। তবে জানাযার সময় উপস্থিত সকলের সমস্বরে ‘মাইয়েত ভাল ছিলেন’ বলে সাক্ষ্য দেওয়ার রেওয়াজটি নিন্দনীয় বিদ‘আত (তালখীছ পৃঃ ২৬; মৃত্যুর পরে বর্জনীয়)

Posted in লাশ সামনে রেখে ইমাম বক্তব্য পেশ করতে পারবেন কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তি তার দুই বন্ধুকে সাক্ষী রেখে জনৈক নারীকে তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছে এবং উক্ত নারী তাতে সম্মতি দিয়ে স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু তাদের মাঝে পরবর্তীতে কোন সহবাস হয়নি। এছাড়া বিবাহের কোন রেজিস্ট্রি হয়নি। এক্ষণে এ বিবাহ গ্রহণযোগ্য হয়েছে কি?


উক্ত বিবাহ সংঘটিত হয়নি। কারণ নারীর পিতা বা তাঁর অবর্তমানে বৈধ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ সিদ্ধ হয়না (আবুদাঊদ; মিশকাত হা/৩১৩০)। তিনি আরও বলেন, ‘কোন মহিলা অপর কোন মহিলাকে বিবাহ দিতে পারে না এবং নিজেকেও (ওলী ব্যতীত) বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করতে পারবে না’ (ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৩১৩৬; ছহীহুল জামে‘ হা/৭২৯৮)। ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, ‘দু’জন সাক্ষী এবং একজন ন্যায়নিষ্ঠ অলী ব্যতীত বিবাহ হয় না’ (ইরওয়াউল গালীল হা/১৮৪৪)

Posted in অ‌ভিভাব‌কের বিনা অনুম‌তি‌তে বিবাহ কর‌লে বিবাহ হবে কী এবং সম্পদ পা‌বে কী?

কোন মেয়ে যদি ভুল করে স্বামীকে ‘বাবা’ বলে সম্বোধন করে তাহ’লে সেটি ‘যিহার’ হবে কি? ঐ মেয়ের বা তার স্বামীর করণীয় কি?


স্ত্রীর পক্ষ থেকে যিহার হয় না (ফাতাওয়া মারআতুল মুসলিমাহ ২/৮০৩ পৃঃ; উছায়মীন, ফাতাওয়া নুরুন আলাদ দারব-১৯)। করলে তা বাজে কথার অন্তর্ভুক্ত হবে। যা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। মুমিন অনর্থক কথা বা কাজ থেকে বিরত থাকে (মুমিনূন ২৩/১-৩)। অতএব এ ধরনের কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা যরূরী (দ্রঃ নায়লুল আওত্বার ৮/৬০ ‘যিহার’ অধ্যায়)

Posted in স্বামীকে ‘বাবা’ বলে সম্বোধন করলে ‘যিহার’ হবে কি? | Tagged

আমাদের এখানে একজন আলেম বলেছেন, জান্নাতীদেরকে সত্তর বছর যাবৎ জান্নাতী গান শুনানো হবে। তারপর যথাক্রমে দাঊদ ও মুহাম্মাদ (ছাঃ) গান গাওয়ার পর আল্লাহ তা‘আলা নিজেই গান গেয়ে শুনাবেন। এ বক্তব্যের কোন সত্যতা আছে কি?


এসব নিতান্তই ভিত্তিহীন বানোয়াট বক্তব্য। এমনকি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল জান্নাতবাসীদের কুরআন তেলাওয়াত করে শুনাবেন মর্মের বর্ণনাগুলোর কোনটি যঈফ আবার কোনটি জাল (যঈফুল জামে‘ হা/১৮৩৪, ৪১৫৮; দায়লামী, মীযান ৪/৭৪; যঈফাহ হা/১২৪৮, ৩২৮২; ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১২/৪১১)। দাউদ (আঃ) আল্লাহর নির্দেশে জান্নাতে তাঁর প্রশংসা করে গান গাইবেন মর্মে বর্ণিত বর্ণনাটিও দুর্বল (মুসনাদু আবদ বিন হুমাইদ হা/৮৫১; যঈফুত তারগীব হা/২১৮৪)। তবে জান্নাতে হূরগণ গান গেয়ে শুনাবে মর্মে বহু ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে (ছহীহুত তারগীব হা/৩৭৪৯; ছহীহুল জামে‘ হা/১৫৬১)

Posted in জান্নাতীদেরকে আল্লাহ তা‘আলা নিজেই গান গেয়ে শুনাবেন কি? | Tagged

ইস্তেখা-রার দো‘আ ফরয ছালাতের শেষ তাশাহহুদের মধ্যে পাঠ করা যাবে কি?


যাবে না। কারণ রাসূল (ছাঃ) তা নফল ছালাতে পাঠের জন্য বলেছেন। জাবের (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদেরকে সকল কাজে ‘ইস্তেখা-রাহ’ শিক্ষা দিতেন, যেভাবে তিনি আমাদেরকে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন কোন কাজের সংকল্প করবে, তখন ফরয ব্যতীত দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করবে। অতঃপর বলবে,… (বুখারী হা/১১৬২; মিশকাত হা/১৩২৩)। অতএব ইস্তেখা-রার দো‘আ নফল ছালাতে পড়বে (নায়লুল আওত্বার ৩/৩৫৪, ‘ইস্তেখা-রাহ্’র ছালাত’ অনুচ্ছেদ; ছালাতুল ইস্তিস্ক্বা (صلاة الإستسقاء))

Posted in ইস্তেখা-রার দো‘আ ফরয ছালাতের শেষ তাশাহহুদের মধ্যে পাঠ করা যাবে কি? | Tagged

সিজদার সময় দুই হাত কনুই পর্যন্ত মাটির সাথে ঠেকিয়ে রাখা যাবে কি?


না। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যখন তুমি সিজদা করবে, তখন হাতের তালু মাটিতে এবং উভয় কনুই উঁচু রাখবে (মুসলিম হা/৪৯৪)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, উঁচু করবে এবং খাড়া করে রাখবে (ইবনু হিববান হা/১৯১৬; মিশকাত হা/৮৮৯)। তিনি বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন (সিজদায়) কুকুরের ন্যায় যমীনে হাত বিছিয়ে না দেয়’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৮৮৮)

Posted in সিজদার সময় দুই হাত কনুই পর্যন্ত মাটির সাথে ঠেকিয়ে রাখা যাবে কি? | Tagged

রাস্তায় সহ যেকোন স্থানে হাঁটা-চলার সময় দৃষ্টি কোন দিকে থাকা উচিৎ? রাস্তায় চলার আদব কি কি?


রাস্তায় চলার আদব হ’ল- দৃষ্টি অবনমিত রাখবে (নূর ২৪/৩০-৩১)। এদিক সেদিক তাকাবে না (হাকেম হা/৭৭৯৪; ছহীহাহ হা/২০৮৬)। সতর্কতার সাথে পথ চলবে, যাতে অন্যের বা নিজের কোন ক্ষতি না হয় (ইবনু মাজাহ হা/২৩৪০; ছহীহাহ হা/২৫০)। অহংকার পরিহার করে বিনয়ের সাথে পথ চলবে (ইসরা ১৪/৩৭; ফুরকান ২৫/৬৩)। মধ্যম গতিতে পথ চলবে (লোকমান ৩১/১৯)। নারীরা রাস্তার মধ্যস্থল দিয়ে না চলে একপার্শ্ব দিয়ে চলবে (আবুদাঊদ হা/৫২৭২; ইবনু হিববান, ছহীহাহ হা/৮৫৬)

Posted in হাঁটা-চলার সময় দৃষ্টি কোন দিকে থাকা উচিৎ? | Tagged

আমি প্রবাসে থাকি। দেশে থাকা পিতা-মাতা আমার পুরো উপার্জনই ভোগ করতে চান। আমার স্ত্রী-সন্তানদের জন্য খরচ করতে অনীহা পোষণ করেন। এক্ষণে আমার করণীয় কি?


আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেকের জন্য অধিকার নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সন্তানের উপার্জন থেকে প্রয়োজন মত পাওয়ার অধিকার যেমন পিতা-মাতার রয়েছে, তেমনি স্ত্রী-সন্তানেরও রয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আল্লাহ প্রত্যেক হকদারের জন্য তার হক নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন’ (আবুদাঊদ হা/২৮৭০; মিশকাত হা/৩০৭৩)। এক ব্যক্তি নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, আমার সম্পদ আছে। আর আমার পিতা সে সম্পদের মুখাপেক্ষী। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘তুমি ও তোমার সম্পদ তোমার পিতার। জেনে রেখ, তোমাদের সন্তানরা তোমাদের উত্তম উপার্জন। অতএব তোমরা সন্তানদের উপার্জন খাও’ (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩৩৫৪, সনদ ছহীহ)। অন্য বর্ণনায় এসেছে তিনি বলেন,  ‘সন্তানদের সম্পদ অতটুকু তোমাদের, যতটুকু তোমাদের প্রয়োজন’ (হাকেম, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৫৬৪)

মু‘আবিয়া (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমাদের উপর স্ত্রীদের হক কি? তিনি বললেন, ‘যখন তুমি খাবে, তখন তোমার স্ত্রীকে খাওয়াবে। যখন কাপড় ক্রয় করবে, তখন তার জন্যও ক্রয় করবে (আবুদাঊদ হা/২১৪২; মিশকাত হা/৩২৫৯)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আর তুমি সাধ্যমত তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য খরচ কর’ (আহমাদ হা/২২২১২৮; মিশকাত হা/৬১)। তিনি বলেন, ‘তোমার পরিবারেরও তোমার প্রতি অধিকার রয়েছে। অতএব প্রত্যেক হক্বদারকে তার হক্ব প্রদান কর’ (বুখারী হা/১৯৬৮; মিশকাত হা/২০৬১)। অতএব পূর্ণ আন্তরিকতা নিয়ে এ ব্যাপারে শরী‘আতের নির্দেশনা পিতা-মাতাকে বুঝাতে হবে। একান্ত না বুঝলে তাদেরকে প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদান করে বাকী অর্থ নিজ দায়িত্বে স্ত্রী-সন্তানের জন্য ব্যয় করবে।

Posted in পিতা-মাতা স্ত্রী-সন্তানদের জন্য খরচ করতে অনীহা পোষণ করলে করণীয় কি? | Tagged ,

আমেরিকায় সিটিজেনশীপ পাওয়ার জন্য ডিভি লটারীর টিকিট ক্রয়ে কোন বাধা আছে কি?


এরূপ লটারী বৈধ (দ্রঃ বুখারী হা/২৬৮৮ ‘কিতাবুশ শাহাদাত’; আবূদাঊদ হা/৩১৩৮; নাসাঈ হা/৩৪৮৮; ইবনু মাজাহ হা/২৩৪৮)। তবে জীবিকা অর্জনের জন্য অমুসলিম দেশে না গিয়ে মুসলিম দেশে অবস্থান করাই উচিৎ। কারণ ঐসব দেশে দ্বীনী পরিবেশ ও স্বাধীনতা নেই। অতএব দুনিয়া অর্জনের চাইতে দ্বীন রক্ষা করা অধিক যরূরী (শূরা ৪২/২০)

Posted in ডিভি লটারীর টিকিট ক্রয়ে কোন বাধা আছে কি? | Tagged

ফজরের ছালাতের পূর্বে গোসল ফরয হ’লেও ঠান্ডা লেগে যাওয়ার ভয়ে আমি দুপুরে গোসল করি। এভাবে নিয়মিতভাবে ছালাত ক্বাযা করা শরী‘আতসম্মত হবে কি?


এটি শরী‘আত সম্মত নয়। গরম পানি করে গোসল করবে। তার ব্যবস্থা না থাকলে তায়াম্মুম করে ছালাত আদায় করবে (আবুদাঊদ; মিশকাত হা/৫৩১)। আমর ইবনুল ‘আছ (রাঃ) বলেন, ‘যাতুস সালাসিল’ যুদ্ধে শীতের রাতে আমার স্বপ্নদোষ হয়েছিল। শারীরিক অসুস্থতার আশংকায় গোসল না করে তায়াম্মুম করে সাথীদের নিয়ে ফজরের ছালাত আদায় করলাম। পরে সাথীরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকটে এই ঘটনা বর্ণনা করলে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) বললেন, তুমি কি অপবিত্র অবস্থায় তোমার সাথীদের নিয়ে ছালাত আদায় করেছ? তখন আমি গোসল না করার কারণ ব্যাখ্যা করলাম এবং বললাম আল্লাহ বলেছেন, ‘নিজেদেরকে ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না’ (বাক্বারাহ ২/১৯৫)। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হাসলেন এবং চুপ থাকলেন (আবুদাঊদ হা/৩৩৪ ‘ঠান্ডা লাগার ভয় থাকলে অপবিত্র ব্যক্তি কি করবে’ অনুচ্ছেদ, সনদ ছহীহ; ইরওয়া হা/১৫৪)। এছাড়া আহত ব্যক্তিও গোসল না করে তায়াম্মুম করে ছালাত আদায় করতে পারবে (আবুদাঊদ হা/৩৩৬, ৩৬৭, ‘আহত ব্যক্তির তায়াম্মুম করা’ অনুচ্ছেদ)

Posted in ছালাত নিয়মিতভাবে ক্বাযা হয়ে গেলে গোনাহগার হ’তে হবে কি? | Tagged

আমার ছেলের বয়স ৭ বছর ও মেয়ের বয়স ৩ বছর। তাদেরকে চাচী বা খালার নিকটে রেখে স্ত্রী সহ হজ্জে যেতে চাই। কিন্তু প্রতিবেশীদের বক্তব্য মেয়েকে নিয়ে যেতে হবে অথবা ৩ বছর দেরী করতে হবে। এক্ষণে আমার করণীয় কি?


হজ্জ পালনের জন্য এরূপ কোন শর্ত শরী‘আতে নেই। তাই সন্তানদের চাচী বা খালা ও অনুরূপ নিকট আত্মীয়ের কাছে রেখে হজ্জে যেতে বাধা নেই। সন্তানদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পিতার। তিনি যেখানে নিরাপদ মনে করবেন সেখানেই রেখে যাবেন (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২১/৬৬)। রাসূল (ছাঃ)- বলেন, ‘যে ব্যক্তি হজ্জের সংকল্প করে, সে যেন দ্রুত তা সম্পন্ন করে’ (আবুদাঊদ হা/১৭৩২, মিশকাত হা/২৫২৩ ‘মানাসিক’ অধ্যায়)। তবে যরূরী কারণ বশতঃ দেরী হ’লে কোন দোষ নেই (উছায়মীন, ঐ)। ‘মেয়েকে নিয়ে যেতে হবে অথবা ৩ বছর দেরী করতে হবে’ কথাটি ভিত্তিহীন।

Posted in সন্তানকে করো নিকটে রেখে হজ্জে যেতে পারবো কি? | Tagged

মসজিদে যেসমস্ত খাবার মানত হিসাবে দেওয়া হয়, তা সকল মুছল্লী খেতে পারবে কি?


মানত মানুষের নিয়তের উপর নির্ভর করে (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৪১৬)। তাই মসজিদের মুছল্লীগণকে খাওয়ানোর নিয়তে মানত করলে সকলেই খেতে পারে। আর যদি কেবল ফকীর-মিসকীনকে খাওয়ানোর নিয়ত থাকে, তবে কেবল তারাই খাবে। অর্থাৎ যখন যেভাবে মানত করবে তখন সেভাবে বাস্তবায়ন করবে। তবে গোনাহের কাজে মানত করা যাবে না (মুসলিম হা/১৬৪১; মিশকাত হা/৩৪২৮)

রাসূল (ছাঃ) মানত করতে নিরুৎসাহিত করেছেন। যেমন তিনি বলেন, ‘তোমরা মানত করো না। মানত আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ভাগ্যকে পরিবর্তন করতে পারে না। এটি কৃপণের সম্পদ থেকে কিছু অংশ বের করে আনে মাত্র’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৪২৬)

Posted in মসজিদে মানত হিসাবে দেওয়া খাবার মুছল্লী খেতে পারবে কি? | Tagged

তাবলীগী কুতুবখানা থেকে প্রকাশিত ছহীহ বুখারীর বঙ্গানুবাদে লেখা আছে যে, রাসূল (ছাঃ)-এর ৯৯টি নাম রয়েছে। এর সত্যতা আছে কি?


কথাটি ঠিক নয়। তবে রাসূল (ছাঃ)-এর অনেক গুণবাচক নাম রয়েছে। যেমন তিনি বলেন, ‘আমার অনেকগুলো নাম আছে। আমি মুহাম্মাদ, আমি আহমাদ। আমি মাহী; আমার দ্বারা আল্লাহ সমস্ত কুফরী দূর করবেন। আমি হাশির; আমার পেছনে সমস্ত মানুষকে একত্রিত করা হবে এবং আমি আকিব, যার পরে কোন নবী নেই (বুখারী হা/৪৮৯৬; মুসলিম হা/২৩৫৪; মিশকাত হা/৫৭৭৬)। অন্য বর্ণনায় তিনি নিজেকে নবীউর রহমাহ (রহমতের নবী), ‘নবীউত তওবাহ’, ‘নাবীউল মালহামাহ’ (যুদ্ধের নবী) বলে আখ্যায়িত করেছেন (আহমাদ হা/১৯৬৬৮; মুসলিম হা/২৩৫৫; মিশকাত হা/৫৭৭৭)। এছাড়া আল্লাহ তা‘আলা নবী করীম (ছাঃ)-কে বিভিন্ন নামে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন মুতাওয়াক্কিল (বুখারী হা/২১২৫), মুবাশশির, হাদী, আমীন, মুয্যাম্মিল, শাহেদ, বাশীর, নাযীর ইত্যাদি। ইমাম নববী, সুয়ূতী প্রমুখ বিদ্বানগণ কুরআনে উল্লেখিত নামসমূহকে তাঁর গুণবাচক নাম বলে আখ্যায়িত করেছেন (তাহযীবু আসমাইল লুগাহ ১/৪৯; তানবীরুল হাওয়ালিক ১/২২৭)। কেউ কেউ রাসূল (ছাঃ)-এর এক হাযার নাম আছে বলে উল্লেখ করেছেন (মু‘জামুল মানাহিল লাফযিয়া ৩৬১ পৃঃ)। তবে তা কুরআন ও ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয়।

Posted in রাসূল (ছাঃ)-এর ৯৯টি নাম রয়েছে কি? | Tagged

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর চেহারা স্বপ্নে দেখলে তার জন্য জাহান্নামের আযাব হারাম হয়ে যাবে। এ মর্মে ছহীহ কোন দলীল আছে কি?


উক্ত বর্ণনাটি ভিত্তিহীন (ফৎওয়া শায়খ বিন বায ৪/৪৪৫, ২৫/১২৬)। এছাড়াও তিরমিযীতে বর্ণিত ‘যে আমাকে বা আমার কোন ছাহাবীকে দেখল, সে মুসলমানকে আগুন স্পর্শ করবে না’ বর্ণনাটিও যঈফ (তিরমিযী হা/৩৮৫৮; যঈফুল জামে‘ হা/৬২৭৭)

Posted in রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর চেহারা স্বপ্নে দেখলে আযাব হারাম হয়ে যাবে কি? | Tagged

বিবাহের পর স্বামী স্ত্রীর নিকটে মোহর আদায় থেকে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছে এবং স্ত্রীও ক্ষমা করে দিয়েছে। এরূপ করা জায়েয হয়েছে কি?


এরূপ করা জায়েয নয়। কারণ মোহর পরিশোধ করা ফরয। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহরানা ফরয হিসাবে প্রদান কর। তবে তারা যদি তা থেকে খুশী মনে তোমাদের কিছু দেয়, তাহ’লে তা তোমরা সন্তুষ্টচিত্তে স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর’ (নিসা ৪/৪)। অতএব এটাকে ফরয মনে করেই বিয়ের সময় স্ত্রীকে নগদ অথবা পরে যত দ্রুত সম্ভব পরিশোধ করতে হবে। বিয়ের রাতে বা মৃত্যুর পূর্বে স্ত্রীর নিকট মোহরানা মাফ করিয়ে নেওয়ার রেওয়াজ নিঃসন্দেহে প্রতারণা মূলক। এ থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে মোহর নগদ না দিলে স্ত্রী হালাল হয় না, একথা ভিত্তিহীন।

Posted in মোহর ক্ষমা চেয়ে নেওয়া জায়েয কি? | Tagged

জনৈকা স্ত্রী তার স্বামীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। শরী‘আতে এর শাস্তি কি?


কোন মুসলিমকে গালি দেওয়া কাবীরা গুনাহ (নববী, শরহ মুসলিম হা/৬৪এর ব্যাখ্যা)। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকী এবং তার সাথে যুদ্ধ করা কুফরী (বুখারী হা/৪৮; মুসলিম হা/৬৪; মিশকাত হা/৪৮১৪)

লাক্বীত্ব বিন ছাবেরাহ (রাঃ) বলেন, ‘একদিন আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বললাম, আমার একজন স্ত্রী রয়েছে যে নোংরা কথা বলে ও গালি-গালাজ করে। তিনি বললেন, তালাক দিয়ে দাও। আমি বললাম, তার ঘরে আমার একটি সন্তান রয়েছে এবং সে আমার পুরানো সঙ্গিনী। তিনি বললেন, তাকে উপদেশ দাও। যদি তার মধ্যে কোন কল্যাণ থাকে, তাহ’লে সে তা গ্রহণ করবে। তবে তুমি তোমার শয্যাসঙ্গিনীকে বাঁদীর ন্যায় মারবে না’ (আবুদাঊদ হা/১৪২; মিশকাত হা/৩২৬০)

Posted in স্ত্রী তার স্বামীকে গালিগালাজ করলে শরী‘আতে এর শাস্তি কি? | Tagged

ছহীহ বুখারীতে সংকলিত বিভিন্ন হাদীছ, অধ্যায় বা বাবের সাথে সংযুক্ত তা‘লীক্বগুলির হুকুম কি? অন্য হাদীছগুলির ন্যায় এগুলিও কি ছহীহ?


‘তা‘লীক্ব’ বলতে ঐ সকল হাদীছকে বুঝানো হয়, যার সনদ থেকে হাদীছ সংকলক মুহাদ্দিছ এক বা একাধিক রাবীর নাম বিলুপ্ত করে দেন অথবা কখনও মূল উৎসসহ পূর্ণ সনদই বিলুপ্ত করে দেন। সাধারণতঃ সংক্ষেপায়নের উদ্দেশ্যেই তাঁরা এমনটি করে থাকেন। যেমন ছহীহ বুখারীতে মারফূ‘, মাওকূফ, মাকতূ‘ মিলিয়ে ১৩৪১টি হাদীছ এমনভাবে উদ্ধৃত হয়েছে। তবে এর মধ্যে ১৬০টি ব্যতীত অন্য সব হাদীছই ছহীহ বুখারীর অন্য স্থানে পূর্ণ সনদে উল্লেখিত হয়েছে। ফলে সেগুলি নিঃসন্দেহে ছহীহ। বাকী ১৬০টি হাদীছ পরবর্তীতে ভাষ্যকার ইবনু হাজার (রহঃ) পূর্ণ সনদে উল্লেখ করেছেন তাঁর লিখিত তাগলীকুত তা‘লীক্ব গ্রন্থে। এগুলোকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। (১) যেগুলো ইমাম বুখারী দৃঢ়তাসূচক শব্দ (যেমন : قال فلان ‘অমুক বলেছেন’) বাক্য ব্যবহার করে উল্লেখ করেছেন সেগুলি ছহীহ। (২) যেগুলোর ক্ষেত্রে দৃঢ়তার ছীগাহ ব্যবহার করেননি (যেমন : يذكر، يروى ‘বর্ণিত হয়েছে’ শব্দ দ্বারা বর্ণনা করেছেন) সেগুলো তিনভাগে বিভক্ত। তার কিছু ছহীহ, কিছু হাসান, আবার কিছু যঈফও রয়েছে। যেগুলোর কিছু ইমাম বুখারী নিজেই উল্লেখ করেছেন, কিছু করেননি। উল্লেখ্য যে, এ সকল সনদবিহীন হাদীছের একটিও তিনি মূল ছহীহ সংকলনে উল্লেখ করেননি। কেবলমাত্র কোন অধ্যায় বা অনুচ্ছেদের শুরুতে বিষয়বস্ত্তর ব্যাখ্যার প্রয়োজনে উল্লে­খ করেছেন (ইবনু হাজার, ফাৎহুল বারী /১৭১৯; তাগলীকুত তালীক্বআলা ছহীহিল বুখারী খন্ড; মুক্বাদ্দামা ইবনুছ ছালাহ /৩৬)

Posted in বুখারীতে সংকলিত হাদীছ অধ্যায় বা বাবের সাথে সংযুক্ত তা‘লীক্বগুলির হুকুম কি? | Tagged

রুকূতে তিনবারের কম বা বেশী তাসবীহ পাঠ করা যাবে কি?


সুবহা-না রবিবয়াল ‘আযীম ও সুবহা-না রবিবয়াল আ‘লা কম পক্ষে তিনবার বলবে (আবুদাঊদ হা/৮৭১, ৮৮৫; ইবনু মাজাহ হা/৮৮৮)। বেশী বলার নির্ধারিত সংখ্যা নেই। কারণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কখনো কখনো দীর্ঘ সময় রুকূ ও সিজদাতে থাকতেন এবং দো‘আ সমূহ পাঠ করতেন (আবুদাঊদ হা/৮৭৪)। উল্লেখ্য, সর্বাধিক দশবার দো‘আ পাঠের হাদীছ যঈফ (যঈফ আবুদাঊদ হা/৮৮৮; মিশকাত হা/৮৮৩)। এছাড়া অন্য দো‘আও পাঠ করা যাবে। বিশেষতঃ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) জীবনের শেষদিকে এসে রুকূ ও সিজদাতে অধিকাংশ সময় নিম্নোক্ত দো‘আটি পড়তেন- সুবহনাকা আল্লাহুম্মা রববানা ওয়া বিহাম্দিকা, আল্লাহুম্মাগ্ফিরলী ‘হে আল্লাহ! হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার প্রশংসার সাথে আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন! (বুখারী হা/৭৪৯; মুসলিম হা/৪৮৪; মিশকাত হা/৮৭১)

এছাড়া এ সময়ে পঠিতব্য আরো অনেক দো‘আ বর্ণিত হয়েছে (দ্রঃ ছালাতুর রাসূল ১০৫ পৃঃ)। শাওকানী বলেন, ‘রুকূ ও সিজদাতে তাসবীহ পাঠের নির্ধারিত কোন সংখ্যা নেই; বরং ছালাতকে দীর্ঘ করে পড়ার জন্য অধিক হারে তাসবীহ পাঠ করাই বাঞ্ছনীয়’ মিরআত হা/৮৮৭এর ভাষ্য)

Posted in রুকূতে তিনবারের কম বা বেশী তাসবীহ পাঠ করা যাবে কি? | Tagged