ছালাতে সিজদারত অবস্থায় দু’পা কিভাবে রাখতে হবে? দু’পা মিলিয়ে না ফাঁকা রাখবে?


হযরত আয়েশা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘এক রাত্রিতে আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বিছানায় না পেয়ে আমার হাত দিয়ে খুঁজতে থাকলাম। অতঃপর আমার হাত তাঁর দু’পায়ের উপর পতিত হয়। তখন তিনি সিজদারত ছিলেন এবং তাঁর পা দু’টি খাঁড়া ছিল’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৮৯৩, ‘সিজদা ও সিজদার ফযীলত’ অনুচ্ছেদ)। অন্য বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘এ সময় তাঁর গোড়ালীদ্বয় মিলানো ছিল এবং পায়ের অঙ্গুলি সমূহ কিবলার দিকে ছিল’ (মুস্তাদরাক হাকেম ১/৩৪০ পৃঃ, হা/৮৩২; ছহীহ ইবনু খুযায়মাহ হা/৬৫৪, ইবনু হিববান হা/১৯৩৩)

ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আমি সাত অঙ্গের উপর সিজদা করতে আদিষ্ট হয়েছি। নাকসহ চেহারা, দু’হাত, দু’হাটু এবং দু’পায়ের আঙ্গুলসমূহের অগ্রভাগ’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৮৮৭)। এখানে ‘দু’পায়ের আঙ্গুলসমূহের অগ্রভাগ’-এর ব্যাখ্যায় ছাহেবে মির‘আত বলেন, দু’পায়ের আঙ্গুলগুলি ক্বিবলামুখী থাকবে এবং দু’গোড়ালি খাড়া থাকবে’ (মির‘আত ৩/২০৪)। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, দু’গোড়ালীর মাঝে এক বিঘত ফাঁক থাকবে (নায়ল ৩/১২১)। মূলতঃ দাঁড়ানো অবস্থায় যেমন দু’পা ফাঁক থাকে, সিজদা অবস্থায়ও সেভাবে থাকবে এবং এটাই স্বাভাবিক অবস্থা।

এক্ষণে ইবনু হিববান, ইবনু খুযায়মা ও হাকেম বর্ণিত আয়েশা (রাঃ)-এর দু’গোড়ালি মিলানো সম্পর্কে যে বর্ণনাটি এসেছে, সে সম্পর্কে ইমাম হাকেম বলেন, ‘এই হাদীছ ব্যতীত অন্য কোথাও কেউ গোড়ালী মিলানোর কথা বর্ণনা করেছেন বলে আমি জানি না (হাকেম ১/৩৫২)। তাই ছহীহ মুসলিম ও অন্যান্য হাদীছে আয়েশা (রাঃ) বর্ণিত দু’গোড়ালি খাড়া রাখার হাদীছই অগ্রাধিকারযোগ্য। সর্বোপরি বিষয়টি মুস্তাহাব। অতএব খাড়া বা মিলানো যেভাবে সহজ হবে সেভাবেই রাখবে। এতে কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

Posted in ছালাতে সিজদারত অবস্থায় দু’পা কিভাবে রাখতে হবে? | Tagged ,

বীমা কোম্পানীতে চাকুরী করা হারাম জেনে চাকুরী ছাড়ার প্রস্ত্ততি নিচ্ছি। এক্ষণে ১০ বছর চাকুরীর ফলে প্রাপ্ত প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইটি, লভ্যাংশ ইত্যাদি থেকে প্রাপ্ত অর্থের ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান কি?


এক্ষেত্রে চাকুরী পরিত্যাগ করে খালেছ নিয়তে তওবা করতে হবে এবং পরবর্তীতে প্রাপ্ত সমস্ত অর্থ নেকীর আশা ব্যতীত দান করে দিতে হবে। কারণ যে সূদী অর্থ থেকে বাঁচার জন্য উক্ত চাকুরী ছাড়া হচ্ছে, তা থেকে প্রাপ্য সকল অর্থই তার অন্তর্ভুক্ত।

তবে তওবাকারী যদি স্বীয় দরিদ্রতার কারণে পরিত্যক্ত সম্পদের মুখাপেক্ষী হন বা অন্য কোন বৈধ কাজ শুরু করার জন্য উক্ত অর্থ ব্যতীত কিছু না থাকে, সেক্ষেত্রে বাধ্যগত অবস্থায় সেখান থেকে প্রয়োজন মত কিছু সম্পদ গ্রহণ করা যাবে’ (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৯/৩০৯ ; ইবনুল ক্বাইয়িম, যাদুল মা‘আদ ৫/৬৯১-৯২)

অতএব তওবা পরবর্তী প্রাপ্ত সম্পদ সম্ভবপর পরিত্যাগ করে বৈধ রূযীর পথ তালাশ করতে হবে। আল্লাহ বলেন, যারা আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তাদেরকে একটি পথ বের করে দেন এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হন’ (তালাক ২-৩)

Posted in বীমা কোম্পানীর চাকুরি ছাড়ার পর প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থের বিধান কি? | Tagged , ,

শরী‘আত সম্পর্কে মূর্খ ও অজ্ঞ লোকদের আমল আল্লাহর নিকটে গ্রহণযোগ্য হয় কি?


ইবাদত কবুল হওয়ার মৌলিক শর্ত ৩টি : (১) আক্বীদা ছহীহ হওয়া (কাহফ ১১০) (২) তরীকা ছহীহ হওয়া (মুসলিম হা/১৭১৮)। (৩) আমল ইখলাছপূর্ণ হওয়া (যুমার ৩৯/১১)। এই শর্তগুলি পূরণ হ’লে আমল কবুল হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি সৎকর্ম করে, আমরা তার পুরষ্কার বিনষ্ট করি না’ (কাহফ ১৮/৩০)। তিনি আরো বলেন, অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা সে দেখতে পাবে (যিলযাল ৯৯/৭)। তবে দ্বীনের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা ফরযে আইন, যা সকল মুসলমানের জন্য আবশ্যিক। সেগুলি হ’ল- ঈমান ও তা বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ, বিশুদ্ধ ও বাতিল আক্বীদা, তাওহীদ-শিরক, হালাল-হারাম, ছালাত-ছিয়াম, হজ্জ-যাকাত ইত্যাদি যাবতীয় ফরয ইবাদত পালনের নিয়ম-পদ্ধতি সমূহ (আল-ফাক্বীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ হা/১৬৩)। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘প্রত্যেক মুসলিমের উপর দ্বীনী ইলম শিক্ষা করা ফরয’ (ইবনু মাজাহ হা/২২৪; মিশকাত হা/২১৮)

Posted in মূর্খ ও অজ্ঞ লোকদের আমল আল্লাহর নিকটে গ্রহণযোগ্য হয় কি? | Tagged , ,

পিতা-মাতা উভয়েই নিছাব পরিমাণ সম্পদের মালিক ছিলেন এবং উভয়ে পৃথকভাবে যাকাত আদায় করতেন। কিন্তু বর্তমানে পিতার সম্পদ নিছাব পরিমাণ নেই। এক্ষণে মা কি এককভাবে না পিতার সম্পদ সহ যাকাত আদায় করবেন?


যাকাত পরিবারের উপর নয়, বরং ব্যক্তির উপর ফরয। অতএব উক্ত অবস্থায় মা কেবল তার নিজস্ব সম্পদের যাকাত প্রদান করবেন (বুঃ মুঃ মিশকাত হা/১৭৭২; আবুদাঊদ হা/১৫৭৩, সনদ ছহীহ)

Posted in যাকাত পরিবারের উপর নয় নাকী ব্যক্তির উপর ফরয? | Tagged ,

ঘরের বিভিন্ন স্থানে কুরআনের আয়াত, দো‘আ, আয়াতুল কুরসী ইত্যাদির ক্যালিগ্রাফী টানিয়ে রাখা যাবে কি?


যাবে না। কারণ (১) অধিকাংশ ক্ষেত্রে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্দেশ্যে কুরআনের আয়াত, দো‘আ ইত্যাদি দ্বারা বিভিন্ন রঙের ডিজাইনে নকশা করা হয়। অথচ কুরআন নাযিল হয়েছে মানুষকে হেদায়াতের জন্য, সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নয়। অতএব এরূপ কাজ কুরআনকে তাচ্ছিল্য করার শামিল। (২) কেউ ঝুলিয়ে রাখে বরকত হাছিলের জন্য, যা স্পষ্ট বিদ‘আত। (৩) কেউ টাঙিয়ে রাখে নানা বিপদাপদ বা শয়তানের অনিষ্টকারিতা হ’তে রক্ষা পাওয়ার জন্য। যা স্পষ্ট শিরক। বস্ত্ততঃ রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবীগণের যামানায় এরূপ কার্যকলাপের কোন অস্তিত্ব ছিল না। অতএব এসব বিদ‘আতী কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকা আবশ্যক (উছায়মীন, লিকাউল বাবিল মাফতূহ ১৩/১৯৭)

বর্তমানে কুরআনের আয়াতসমূহ ক্যালিগ্রাফিক ডিজাইনে লিখে মসজিদের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৫/১৯০)

Posted in ঘরের বিভিন্ন স্থানে কুরআনের আয়াত আয়াতুল কুরসী দো’আর ক্যালিগ্রাফী টানিয়ে র | Tagged , , , ,

আমার কেবল দুই মেয়ে। আমি আমার সমস্ত সম্পদ তাদের নামে লিখে দিয়েছি। এরূপ করা সঠিক হয়েছে কি?


সঠিক হয়নি। কারণ পিতার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী, কন্যা, ভাই-বোন সহ অন্যান্যদের অংশ শরী‘আত কর্তৃক নির্ধারিত (নিসা ৪/১১)। যার ব্যত্যয় ঘটানো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা লংঘনের শামিল (নিসা ৪/১৩)। বিবরণ অনুযায়ী মোট সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ দুই মেয়ে পাবে এবং বাকী অংশ অন্য ওয়ারিছগণ পাবে। অতএব উক্ত সম্পদ পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া আবশ্যক।

Posted in সম্পদ সবগুলো মেয়েদের নামে লিখে দেওয়া যাবে কি ছেলে না থাকায়? | Tagged

আমাদের মসজিদে মহিলাদের ছালাতে ব্যবস্থা রয়েছে মসজিদের উত্তর পাশে। ফলে পুরুষের দ্বিতীয় কাতার বরাবর মহিলাদের কাতার হয়। এতে ছালাতে কোন বাধা আছে কি?


সাধারণভাবে মহিলারা পুরুষদের পিছনের কাতারে দাঁড়াবে (বুখারী হা/৩৮০; মুসলিম হা/৬৫৮)। এরপরেও ব্যবস্থাপনা না থাকলে ওযরবশতঃ পুরুষদের কাতারের ডানে বা বামে পর্দা বা দেওয়াল দ্বারা ঘেরা স্থানে মহিলারা দাঁড়াতে পারে (নববী, আল-মাজমূ‘ ৩/২৫২; আল-মাবসূত্ব ১/১৮৩)

Posted in মসজিদে ছালাতে পুরুষের দ্বিতীয় কাতার বরাবর মহিলাদের কাতার করা যাবে কি? | Tagged , ,

আযান দেওয়ার সময় কানে হাত রাখলেই চলবে না ছিদ্রের মধ্যে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিতে হবে?


কানের মধ্যে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিতে হবে। এসময় মাথা ঘুরবে, দেহ নয়। আবু জুহায়ফা (রাঃ) বলেন, আমি বেলাল (রাঃ)-কে আযান দিতে দেখলাম এবং তাকে মুখ ঘুরাতে দেখলাম। এসময় তার (দুই হাতের) দুই আঙ্গুল উভয় কানের মধ্যে ছিল (তিরমিযী হা/১৯৭; ইরওয়া হা/২৩০)

Posted in আযান দেওয়ার সময় কানে হাত রাখলেই চলবে না ছিদ্রের মধ্যে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিতে হব | Tagged

খেলাধুলার সামগ্রী বিক্রয়ের দোকান দেওয়া শরী‘আতসম্মত হবে কি?


সাধারণভাবে খেলা-ধুলার সামগ্রী বিক্রয়ে শরী‘আতে বাধা নেই। তবে যদি কোন খেলা মানুষকে হারামের দিকে প্রলুব্ধ করে, সেসব খেলার দ্রব্যাদি বিক্রি করা হারাম। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির কাজে পরস্পরকে সাহায্য কর এবং পাপ ও সীমালংঘনের কাজে একে অপরকে সাহায্য করো না’ (মায়েদাহ ৫/২)

Posted in খেলাধুলার সামগ্রী বিক্রয় করায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি? | Tagged

সিজদায়ে তেলাওয়াতের নিয়ম কি? ওযূবিহীন অবস্থায় সিজদায়ে তেলাওয়াতের আয়াত পাঠ করলে সিজদা দেওয়া যাবে কি? এসময় নারীদের পর্দার পোষাক পরিধান করতে হবে কি?


সিজদায়ে তেলাওয়াতের নিয়ম হ’ল- প্রথমে তাকবীর দিয়ে সিজদায় যাবে। অতঃপর দো‘আ পড়বে এবং পুনরায় তাকবীর দিয়ে মাথা উঠাবে (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/৫৯৩০; বায়হাক্বী ২/৩২৫, সনদ ছহীহ; আলবানী, তামামুল মিন্নাহ ২৬৯ পৃঃ)। সিজদা মাত্র একটি হবে। এতে তাশাহ্হুদ নেই, সালামও নেই (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১৬৪)

এটি ছালাতের অন্তর্ভুক্ত নয়। সেকারণ এর জন্য ওযূ, ক্বিবলা বা নারীদের পর্দা কোনটিই শর্ত নয়। ইবনু ওমর (রাঃ) ওযূ ছাড়াই তেলাওয়াতের সিজদা দিয়েছেন (বুখারী ৪/৩০৩; মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ হা/৪৩৫৪)। শাওকানী বলেন, সিজদায়ে তেলাওয়াতের হাদীছগুলো প্রমাণ করে না যে, সিজদাকারীকে ওযূ অবস্থায় থাকা যরূরী। রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে উপস্থিত সকলে তেলাওয়াতের সিজদা করতেন। কিন্তু কোথাও বর্ণিত হয়নি যে, তিনি কাউকে ওযূ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন (নায়লুল আওতার ৩/১২৫; ফাতাওয়া লাজনাহ দায়েমাহ ৭/২৬২-৬৩; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৪/৩১২)

Posted in ওযূবিহীন অবস্থায় সিজদায়ে তেলাওয়াতের আয়াত পাঠ করলে সিজদা দেওয়া যাবে কি?, সিজদায়ে তেলাওয়াতের নিয়ম কি? | Tagged ,

কেউ যদি আইয়ামে তাশরীকের শেষ দিনে কুরবানী করতে চায়, তবে সে ঈদের দিন নখ-চুল কর্তন করতে পারবে কি?


না। যেদিন কুরবানী করবে সেদিনই নখ ও চুল কাটাবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা কুরবানী দেওয়ার এরাদা রাখে, তারা যেন যিলহাজ্জ মাসের চাঁদ ওঠার পর হ’তে কুরবানী করা পর্যন্ত স্ব স্ব চুল ও নখ কর্তন করা হ’তে বিরত থাকে’ (মুসলিম হা/১৯৭৭; মিশখাত হা/১৪৫৯)। অত্র হাদীছে কুরবানী করাকে শেষ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে (উছায়মীন, শারহু রিয়াযিছ ছালেহীন হা/১৭০৬-এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)

Posted in আইয়ামে তাশরীকের শেষ দিনে কুরবানী করতে হলে ঈদের দিন নখ-চুল কর্তন করতে পারবে ক, কুরবানী করতে হলে ঈদ পর্যন্ত নখ-চুল কর্তন হতে বিরত থাকা। | Tagged

ছহীহ মুসলিম ২৬১ নং হাদীছে গোফ খাটো করা, দাড়ি ছেড়ে দেওয়া, বগলের লোম উপড়ানো ও নাভীর নীচের লোম কাটা ফিৎরাতের অন্তর্ভুক্ত বলা হয়েছে। এক্ষণে এগুলি কি মুস্তাহাব আমল হিসাবে গণ্য হবে?


না। বরং চল্লিশ দিনের মধ্যে গোফ খাটো করা, বগলের লোম উপড়ানো ও নাভীর নীচের লোম কাটা রাসূল (ছাঃ) নির্দেশিত সুন্নাত (মুসলিম, মিশকাত হ/৪৪২২)। নির্ধারিত সময়সীমা হওয়ায় এটা ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগ করা জায়েয নয় (নায়লুল আওত্বার ১/১৪৩)

আর দাড়ি রাখা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা কর। দাড়ি লম্বা কর, গোঁফ ছোট কর’ (বুখারী হা/৫৮৯২; মিশকাত হা/৪৪২১)। ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, দাড়ি বিষয়ে হাদীছে পাঁচ ধরনের শব্দ এসেছে, যার সবগুলি একই অর্থ বহন করে যে, দাড়িকে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দেয়া (শরহ মুসলিম ৩/১৫১)। উছায়মীন (রহঃ) বলেন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ)-এর অনুসরণ করতে চায়, তারা যেন অবশ্যই দাড়ির কোন অংশ না কাটে। কেননা শেষনবী (ছাঃ) এবং তার পূর্বের কোন নবী দাড়ি কাট- ছাঁট করতেন না (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১১/৮২)

Posted in দাড়ি ছেড়ে দেওয়া গোফ খাটো করা নাভীর নীচের লোম কাটা মুস্তাহাব আমল কি? | Tagged

ঈদের মাঠে সামিয়ানা টাঙানো বা মাঠ পাকা করা যাবে কি?


ঈদগাহের জন্য মেঝে পাকা করা, ছায়ার জন্য সামিয়ানা টাঙানো, ফ্যান ঝুলানো, এসি করা বা ছাদ করা কোনটাই আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) বা খুলাফায়ে রাশেদীনের আমল থেকে প্রমাণিত নয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আমার মৃত্যুর পরে তোমরা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমাদের উপর আবশ্যিক হবে আমার ও আমার খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত অাঁকড়ে ধরা এবং তা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরা’ (আহমাদ, আবুদাঊদ; মিশকাত হা/১৬৫; ছহীহাহ হা/২৭৩৫)। রাসূল (ছাঃ) মসজিদে নববীর মাত্র ৫০০ গজ পূর্বে ‘বাত্বহান’ সমতলভূমিতে খোলা ময়দানে ঈদের ছালাত আদায় করতেন (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২৩৭, মির‘আত ৫/২২ পৃঃ)। আমাদেরও সেটাই করা কর্তব্য।

Posted in ঈদের মাঠে সামিয়ানা টাঙানো বা মাঠ পাকা করা যাবে কি? | Tagged

রামাযান ব্যতীত অন্য মাসে তাহাজ্জুদ ছালাত নিয়মিতভাবে জামা‘আতের সাথে আদায় করা যাবে কি?


রামাযানের বাইরে নিয়মিতভাবে জামা‘আতের সাথে রাত্রির নফল ছালাত আদায় করা বিদ‘আত। তবে মাঝে মাঝে করা যেতে পারে। যেমন রাসূল (ছাঃ) কখনো ইবনু আববাস (বুখারী হা/১৩৮; মুসলিম হা/৭৬৩; মিশকাত হা/১১৯৫), কখনো ইবনু মাসঊদ (বুখারী হা/১১৩৫), কখনো হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (আহমাদ হা/২৩৪২৩)-কে সাথে নিয়ে নিজ বাড়িতে রাতের নফল ছালাত জামা‘আতের সাথে আদায় করেছেন।

Posted in তাহাজ্জুদ ছালাত নিয়মিতভাবে জামা‘আতের সাথে আদায় করা যাবে কি? | Tagged

আমার বৃদ্ধ পিতা-মাতা নিজস্ব অর্থ দ্বারা কাফনের কাপড় ক্রয় করে রাখতে চান। এটা শরী‘আতসম্মত হবে কি?


মৃত্যুর পূর্বে কাফনের কাপড় কিনে রাখায় শারঈ কোন বাধা নেই। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, যখন তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হ’ল তখন তিনি নতুন কাপড় আনালেন এবং পরিধান করে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘মৃত ব্যক্তিকে ক্বিয়ামতের দিন সেই কাপড়ে উঠানো হবে, যে কাপড়ে সে মৃত্যুবরণ করবে’ (আবুদাঊদ, সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/১৬৪০, ‘মৃতের গোসল ও কাফন দান’ অনুচ্ছেদ)। জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট থেকে কাফনের কাপড় বানানোর জন্য একটি চাদর উপহার হিসাবে চেয়ে নেয়। অতঃপর সে মারা গেলে সেটি দ্বারাই তার কাফন হয় (আহমাদ হা/২২৮৭৬; ইবনু মাজাহ হা/৩৫৫৫)

Posted in মৃত্যুর পূর্বে নিজস্ব অর্থ দ্বারা কাফনের কাপড় ক্রয় করে রাখা যাবে কি? | Tagged

হাদীছে বর্ণিত নিষিদ্ধ তিন সময়ে জানাযার ছালাত আদায় ও লাশ দাফন করা যাবে কি?


যাবে না। উক্ববা বিন ‘আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) তিনটি সময়ে আমাদেরকে জানাযার ছালাত আদায় ও মৃত ব্যক্তিকে দাফন করতে নিষেধ করতেন (১) যখন সূর্যোদয় আরম্ভ হয়, তখন থেকে সূর্য উপরে উঠা পর্যন্ত; (২) ঠিক দ্বিপ্রহরের সময়, পশ্চিম আকাশে সূর্য ঢলে না পড়া পর্যন্ত এবং (৩) যখন সূর্য অস্তমিত হওয়ার উপক্রম হয়, তখন থেকে সূর্য অস্তমিত না যাওয়া পর্যন্ত (মুসলিম হা/৮৩১; মিশকাত হা/১০৪০)। তবে একান্ত প্রয়োজনে যেমন লাশ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে এই তিন সময়েও জানাযার ছালাত আদায় বা লাশ দাফন করা যাবে (আলবানী, তামামুল মিন্নাহ ১/১৪৩; আহকামুল জানায়েয ১/১৩০)

Posted in জানাযার ছালাত আদায় ও লাশ দাফন নিষিদ্ধ তিন সময়ে করা যাবে কি? | Tagged , ,

আমাদের পাশে একদল যুবক-যুবতী প্রতিদিন রাতে অসামাজিক কর্মকান্ড করে। আমাদের কিছু দ্বীনী ভাই তাদেরকে পিটিয়ে তাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা ঠিক হবে কি?


এরূপ করা ঠিক হবে না। তাতে হিতে বিপরীত হ’তে পারে। বরং প্রথমে তাদেরকে বুঝানোর মাধ্যমে বিরত রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে এবং সামাজিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতে হবে। এতে ব্যর্থ হ’লে প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আইন নিজে হাতে তুলে নিলে কেবল বিপর্যয়ই সৃষ্টি হবে। আল্লাহ বলেন, ‘তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহবান কর প্রজ্ঞা ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে বিতর্ক কর সুন্দর পন্থায়’ (নহল ১৬/১২৫)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, অন্যায় কিছু দেখলে (ক্ষমতা থাকলে) তা হাত দিয়ে প্রতিরোধ করবে। নইলে যবান দিয়ে। নইলে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করবে’ (মুসলিম হা/৪৯; মিশকাত হা/৫১৩৭)

Posted in যুবক-যুবতীরা অসামাজিক কর্মকান্ড করলে তাদেরকে পিটিয়ে তাড়ানো যাবে কি? | Tagged ,

জীবিত বা মৃত পিতা-মাতার নামে উন্মুক্ত পাঠাগার করা যাবে কি? যাতে মানুষ সেখান থেকে সঠিক জ্ঞানার্জন করতে পারে?


যাবে এবং এটি ছাদাক্বায়ে জারিয়া হিসাবে গণ্য হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়, কেবল ৩টি আমল ব্যতীত। (১) ছাদাক্বায়ে জারিয়াহ (২) এমন ইলম, যার দ্বারা জনগণের কল্যাণ সাধিত হয় এবং (৩) সুসন্তান, যে তার জন্য দো‘আ করে’ (মুসলিম, মিশকাত হা/২০৩)

Posted in পাঠাগার জীবিত বা মৃত পিতা-মাতার নামে উন্মুক্ত করা যাবে কি? | Tagged

এক্সিডেন্টে দাঁত পড়ে গেলে কৃত্রিম দাঁত সংযোজনে বাধা আছে কি?


চিকিৎসার্থে বা কোন দোষ-ক্রটি দূরীকরণার্থে এরূপ করায় শরী‘আতে কোন বাধা নেই (তিরমিযী, মিশকাত হা/৪৪০০, সনদ হাসান; নববী, আল-মাজমূ‘ ১/২৫৬; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ২৪/৫৬)

Posted in দাঁত কৃত্রিম সংযোজনে বাধা আছে কি? | Tagged

পেশায় নাবিক হওয়ায় আমাকে এক বছরের জন্য জাহাযে যেতে হয় এবং বিভিন্ন দেশে মালামাল পরিবহন করতে হয়। প্রত্যেক বন্দরে সর্বোচ্চ পাঁচদিন অবস্থান করা যায়। জাহাযে ছিয়াম পালন আমার জন্য খুবই কষ্টকর হয়। এক্ষণে ফরয ছিয়াম পালন থেকে বিরত থাকা যাবে কি? এছাড়া নিয়মিতভাবে ছালাত ক্বছর করা যাবে কি?


ফরয ছিয়াম সাধ্যপক্ষে পালন করার চেষ্টা করতে হবে। কষ্টকর হ’লে ছেড়ে দিবে এবং পরবর্তীতে ক্বাযা আদায় করবে। আল্লাহ বলেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি পীড়িত হবে অথবা সফরে থাকবে, সে যেন এটি অন্য সময় পালন করে (বাক্বারাহ ২/১৮৪)। একবার সফরে থাকা অবস্থায় রাসূল (ছাঃ) এক স্থানে লোকের ভীড় দেখলেন এবং দেখলেন যে এক ব্যক্তির উপর ছায়া দেয়া হয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এটা কি? লোকেরা বলল, এ ছিয়ামপালনকারী। রাসূল (ছাঃ) বললেন, সফরে ছিয়াম রাখা নেকীর কাজ নয় (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/২০২১)

আর ছালাত ক্বছর করাতে শরী‘আতে কোন বাধা নেই। আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ) আযারবাইজান সফরে গেলে পুরো বরফের মৌসুম সেখানে আটকে যান ও ছয় মাস যাবৎ ক্বছর করেন (বায়হাক্বী ৩/১৫২ পৃঃ; ইরওয়া হা/৫৭৭, সনদ ছহীহ)। অনুরূপভাবে হযরত আনাস (রাঃ) শাম বা সিরিয়া সফরে গিয়ে দু’বছর সেখানে থাকেন ও ক্বছর করেন (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২১৩-১৪ পৃঃ; মিরক্বাত ৩/২১১ পৃঃ)। সুতরাং স্থায়ী মুসাফির যেমন জাহায, বিমান, ট্রেন, বাস ইত্যাদির চালক ও কর্মচারীগণ সফর অবস্থায় সর্বদা ছালাতে ক্বছর করতে পারেন (বিস্তারিত দ্রঃ)। তবে মনে রাখতে হবে যে, ক্বছর করা  ওয়াজিব নয়। তিনি পুরা ছালাতও পড়তে পারেন।

Posted in ছালাত নিয়মিতভাবে ক্বছর করা যাবে কি?, ছিয়াম হতে বিরত থাকা যাবে কি কষ্টের কারনে? | Tagged ,

তিন রাক‘আত বিশিষ্ট বিতর ছালাতের দ্বিতীয় রাক‘আতে বৈঠক করা যাবে কি?


যাবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা মাগরিবের ছালাতের ন্যায় (মাঝখানে বৈঠক করে) বিতর ছালাত আদায় করো না’ (দারাকুৎনী হা/১৬৩৪-৩৫, সনদ ছহীহ)। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) তিন রাক‘আত বিতর পড়তেন। তিনি শেষের রাক‘আতে ব্যতীত বসতেন না’ (হাকেম হা/১১৪০; বায়হাক্বী হা/৪৮০৩, সনদ ছহীহ)। তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বিতর ছালাত পাঁচ রাক‘আত আদায় করলেও শেষের রাক‘আত ব্যতীত বসতেন না (ছহীহ ইবনু হিববান হা/২৪৩৯, সনদ ছহীহ)। ইবনু ত্বাঊস তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (ছাঃ) তিন রাক‘আত বিতর পড়তেন। মাঝে বসতেন না (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/৪৬৬৯, ৩/২৭ পৃঃ)

অতএব ‘এক রাক‘আত বিতর সঠিক নয় এবং এক রাক‘আতে কোন ছালাত হয় না’। ‘বিতর তিন রাক‘আতে সীমাবদ্ধ’। ‘বিতর ছালাত মাগরিবের ছালাতের ন্যায়’। ‘তিন রাক‘আত বিতরের উপরে উম্মতের ইজমা হয়েছে’ বলে যেসব কথা সমাজে চালু আছে, শরী‘আতে এর কোন ভিত্তি নেই’ (বিস্তারিত দ্রঃ) 

Posted in বিতর তিন রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাতের দ্বিতীয় রাক‘আতে বৈঠক করা যাবে কি? | Tagged

ই‘তিকাফ করার সময় কারো যদি মসজিদে খাবার দেওয়ার কেউ না থাকে, তবে সে সামান্য দূরে বাড়ি থেকে সাহারী ও ইফতার করে আসতে পারবে কি?


উপরোক্ত অবস্থায় উপায়ান্তর না থাকলে খাবার আনার জন্য বাড়িতে যাওয়া যাবে। খাবার এনে মসজিদে বসে খাবে। অথবা বাড়ীতে গিয়ে খেয়ে চলে আসবে। কোনরূপ অপ্রয়োজনীয় কথা বলা যাবে না। এটি একান্ত প্রাকৃতিক প্রয়োজন হিসাবে গণ্য হবে ইনশাআল্লাহ। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) ই‘তিকাফে থাকা অবস্থায় প্রাকৃতিক প্রয়োজন (পেশাব-পায়খানা ইত্যাদি) ব্যতীত গৃহে প্রবেশ করতেন না’ (বুখারী হা/২০২৯; মুসলিম হা/২৯৭; মিশকাত হা/২১০০)। তিনি বলেন, ই‘তিকাফকারীর জন্য সুন্নাত হ’ল, সে কোনো রোগী দেখতে যাবে না, জানাযায় অংশগ্রহণ করবে না, স্ত্রীকে স্পর্শ করবে না, তার সাথে সহবাস করবে না এবং বাধ্যগত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাবে না’… (আবুদাঊদ হা/২৪৭৩; মিশকাত হা/২১০৬; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী ৩/১৯২)

Posted in ই‘তিকাফ করার সময় সামান্য দূরে বাড়ি থেকে সাহারী ও ইফতার করে আসতে পারবে কি? | Tagged

ফরয ও সুন্নাত ছালাতের জন্য পৃথক পৃথক ছানা আছে কি? ফরয ছালাতের ছানা সুন্নাতে পাঠ করা যাবে কি?


ফরয ও সুন্নাত ছালাতের জন্য পৃথক কোন ছানা বর্ণিত হয়নি। অতএব হাদীছে বর্ণিত যেকোন ছানা  ফরয ও সুন্নাত উভয় ছালাতে পাঠ করা যাবে (মিশকাত হা/৮১২-১৫, ৮২০; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা প্রশ্নোত্তর নং ১৮৫৯১)

Posted in ফরয ও সুন্নাত ছালাতের জন্য পৃথক পৃথক ছানা আছে কি? | Tagged ,

আমি জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে ইহূদী, খ্রিষ্টান ও হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থসমূহ পাঠ করতে চাই। এটা করা যাবে কি?


পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে পূর্বের সমস্ত আসমানী কিতাবের বিধান রহিত হয়ে গেছে (আলে ইমরান ৩/৮৫)। তাই জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে কুরআন ব্যতীত অন্য কোন ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা জায়েয নয়। জাবের (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হ’তে বর্ণনা করেন যে, একদিন যখন ওমর (রাঃ) তাঁর কাছে এসে বললেন, আমরা ইহূদীদের নিকটে তাদের অনেক পুরানো ধর্মীয় কাহিনী শুনি, যা আমাদের নিকটে চমৎকার বোধ হয়, অতএব তার কিছু কিছু লিখে রাখার জন্য আপনি আমাদের অনুমতি দিবেন কি? তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তোমরা কি দিকভ্রান্ত হয়েছ, যেমন ইহূদী-নাছারারা দিকভ্রান্ত হয়েছে? অথচ আমি তোমাদের কাছে এসেছি উজ্জ্বল ও পরিচ্ছন্ন দ্বীন নিয়ে। যদি আজকে মূসাও বেঁচে থাকতেন, তাহ’লে তাঁর পক্ষেও আমার অনুসরণ ব্যতীত গত্যন্তর থাকতো না’ (আহমাদ হা/১৫১৫৬; মিশকাত হা/১৭৭, সনদ হাসান)। তবে অমুসলিমদের ইসলামবিরোধী বক্তব্য সমূহের জবাবদানের উদ্দেশ্যে শরী‘আত অভিজ্ঞ আলেমদের জন্য এগুলি পাঠ করা সাময়িকভাবে জায়েয (আলে ইমরান ৩/১৯৩; বুখারী হা/৪৫৫৬; ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৪/১০৯-১০)

Posted in জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে ইহূদী খ্রিষ্টান ও হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থসমূহ পাঠ কর | Tagged ,

সূরা ওয়াক্বি‘আহ পাঠ করলে অভাব-অনটন দূর হয় কি?


উক্ত মর্মে বেশ কিছু বর্ণনা রয়েছে, যার কোনটি যঈফ কোনটি জাল (সিলসিলা যঈফাহ হা/২৮৯-২৯১; মিশকাত হা/২১৮১)

Posted in সূরা ওয়াক্বি‘আহ পাঠ করলে অভাব-অনটন দূর হয় কি? | Tagged ,

জনৈক ব্যক্তির স্টক ব্যবসার জন্য ১০০০ মণ ধান কেনা রয়েছে। এক্ষণে তিনি ওশর দিবেন না যাকাত দিবেন?


এতে তিনি যাকাত দিবেন, ওশর নয়। উক্ত ধানের বাজার মূল্য হিসাব করে নিছাব পরিমাণ হ’লে এবং তার উপর এক বছর অতিক্রান্ত হ’লে তাতে শতকরা আড়াই টাকা হারে যাকাত প্রদান করতে হবে। আর নিজের উৎপাদিত হ’লে ফসল কাটার পর পরই ওশর দিবেন।

Posted in ব্যবসার জন্য ধান কেনা থাকলে তিনি ওশর দিবেন না যাকাত দিবেন? | Tagged ,

যাকাত ও ট্যাক্সের মধ্যে পার্থক্য কি? বর্তমানে মোটা অংকের অর্থ সরকার আরোপিত ট্যাক্সের পিছনে ব্যয় হয়। যা যাকাতের চেয়ে অনেক বেশী হয়ে যায়। এক্ষণে ট্যাক্স দিলে যাকাতের ফরযিয়াত আদায় হবে কি?


যাকাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম। যা আল্লাহর ওয়াস্তে প্রদান করলে সম্পদ পবিত্র হয় এবং বৃদ্ধি পায় (তওবা ৯/১০৩; বাক্বারাহ ২/২৭৬)। এটি প্রত্যেক মুমিনের জন্য আর্থিক ফরয ইবাদত। অন্যদিকে ট্যাক্স হ’ল সরকারী কর। এর সাথে যাকাতের কোন সম্পর্ক নেই। রাষ্ট্রকে যে পরিমাণ ট্যাক্সই দেওয়া হোক না কেন, তাতে যাকাত আদায় হবে না। বরং ট্যাক্স পরিশোধের পর সম্পদ নিছাব পরিমাণ থাকলে এবং তা এক বছর অতিবাহিত হ’লে তাতে যাকাত দিতে হবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৯/২৮৫)

Posted in যাকাত ও ট্যাক্সের মধ্যে পার্থক্য কি? | Tagged

ঈদের খুৎবা একটি না দু’টি? ছহীহ হাদীছের আলোকে জানিয়ে বাধিত করবেন।


ঈদায়নের খুৎবা ১টি। ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ঈদগাহে বের হ’লেন এবং সর্বপ্রথম ছালাত আদায় করলেন। অতঃপর খুৎবা দিলেন। তারপর তিনি মহিলাদের কাছে আসলেন, তাদেরকে ওয়ায-নছীহত করলেন এবং দান-ছাদাক্বার নির্দেশ দিলেন… (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৪২৯, ‘ঈদায়নের ছালাত’ অনুচ্ছেদ)। জাবির (রাঃ) বলেন, আমি ঈদের দিনে রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে ছালাতে উপস্থিত ছিলাম। আমি দেখলাম যে, তিনি আযান ও ইক্বামত ছাড়াই খুৎবার পূর্বে ছালাত শুরু করলেন। যখন তিনি ছালাত শেষ করলেন তখন বেলালের গায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ালেন। অতঃপর আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করলেন এবং লোকদের উপদেশ দিলেন, পরকালের কথা স্মরণ করালেন এবং আল্লাহর আনুগত্যের প্রতি উদ্বুদ্ধ করলেন। অতঃপর মহিলাদের দিকে অগ্রসর হ’লেন। এমতাবস্থায় তাঁর সাথে বেলাল ছিল। তাদেরকে তিনি আল্লাহভীতির উপদেশ দিলেন এবং আখেরাতের কথা স্মরণ করালেন (নাসাঈ, মিশকাত হা/১৪৪৬ ‘ঈদায়নের ছালাত’ অনুচ্ছেদ)। উক্ত হাদীছ দু’টি থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ঈদের খুৎবার মাঝে বসতেন না এবং তাঁর খুৎবা ছিল একটি (উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ৫/১৪৬)। দুই খুৎবার পক্ষে কোন ছহীহ হাদীছ নেই, বরং যা আছে তা যঈফ ও মুনকার (ইবনু মাজাহ হা/১২৮৯, মাজমাউয  যাওয়ায়েদ হা/৩২৩৯, যঈফাহ হা/৫৭৮৯; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৩২২ পৃঃ)

ইমাম বায়হাক্বী, ছান‘আনী ও ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, প্রচলিত দুই খুৎবার নিয়মটি মূলতঃ জুম‘আর দুই খুৎবার উপরে ক্বিয়াস করেই চালু হয়েছে। খুৎবা শেষে বসে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার রেওয়াজটিও হাদীছ সম্মত নয়। বরং এটাই প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ঈদায়নের ছালাত শেষে দাঁড়িয়ে কেবলমাত্র একটি খুৎবা দিয়েছেন। যার মধ্যে আদেশ-নিষেধ, উপদেশ, দো‘আ সবই ছিল (বায়হাক্বী ৩/২৯৯ পৃঃ  হা/৬০০৬-এর পরের আলোচনা;  মির‘আত ২/৩৩০-৩৩১; ৫/৩১; সুবুলুস সালাম ১/৪৩২)

উল্লেখ্য, যারা ঈদায়নের দু’টি খুৎবা সমর্থন করেন, তারা মূলত জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীছকে দলীল হিসাবে গ্রহণ করেন। যেমন সিমাক (রাঃ) বলেন, আমি জাবির (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কি দাঁড়িয়ে খুৎবা দিতেন? তিনি বলেন, তিনি দাঁড়িয়ে খুৎবা দিতেন। তারপর অল্প বসতেন, অতঃপর পুনরায় দাঁড়াতেন (নাসাঈ হা/১৫৮৩-৮৪, ১৪১৮)। অত্র হাদীছে দু’খুৎবার মাঝে বসা প্রমাণিত হয়। কিন্তু সেটি জুম‘আর খুৎবা না ঈদের খুৎবা তা প্রমাণিত হয় না। কিন্তু জাবের (রাঃ) বর্ণিত অন্য হাদীছে সরাসরি জুম‘আর কথা বলা হয়েছে (নাসাঈ হা/১৪১৭; আবুদাঊদ হা/১০০৩)। এছাড়া হাদীছটি কুতুবে সিত্তাহসহ প্রায় সকল মুহাদ্দিছ ‘জুম‘আর খুৎবা’ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। কেউই ঈদের ছালাত অধ্যায়ে বর্ণনা করেননি। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, এটা জুম‘আর জন্য খাছ।

আলবানী (রহঃ) বলেন, দু’খুৎবার মাঝে বসার বিষয়টি জুম‘আর সাথে সংশ্লিষ্ট, ঈদের সাথে নয় (যঈফাহ হা/৫৭৮৯)। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, দু’খুৎবার মাঝে বসার বিষয়টি জুম‘আর সাথে সংশ্লিষ্ট। অতএব ঈদায়নের জন্য একটি খুৎবাই সুন্নাত। (বিস্তারিত দ্র)

Posted in ঈদের খুৎবা একটি না দু’টি? | Tagged

মাথা ব্যথার কারণে ডাক্তার আমাকে গরম পানিতে ঔষধ মিশিয়ে নাকে ভাপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এতে আমার ছিয়াম ভঙ্গ হবে কি?


ভঙ্গ হবে না ইনশাআল্লাহ। এগুলি খাদ্য বা পানীয় নয় (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১০/২৭৫; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৯/১৫৫)

Posted in ছিয়াম রেখে গরম পানিতে ঔষধ মিশিয়ে নাকে ভাপ দেওয়া যাবে কি? | Tagged

ছিয়াম অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপাত করলে কাফফারা দিতে হবে কি?


রামাযান মাসে ইচ্ছাকৃত বীর্যপাত করালে ছিয়াম ভঙ্গ হয়ে যাবে। তবে এতে স্ত্রী সহবাসের ন্যায় কাফফারা দিতে হবে না। বরং সেই দিনের ক্বাযা আদায় করতে হবে এবং অধিকহারে তওবা-ইস্তিগফার করতে হবে। আর স্ত্রী সহবাসের সাথে এর তুলনা করা যাবে না (ইবনু কুদামা, আল-মুগনী ৩/১২৭; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১০/২৫৬, ২২/৬১; উছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ ৬/৩৭৪-৭৫)। কারণ স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত হ’লে বীর্যপাত হৌক বা না হৌক ছিয়াম ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং কাফফারা হিসাবে একাধারে ষাটটি ছিয়াম পালন বা গোলাম মুক্তকরণ অথবা ৬০ জন মিসকীনকে খাওয়াতে হবে’ (বুখারী হা/১৯৩৬; মুসলিম হা/১১১১; মিশকাত হা/২০০৪; মওসূ‘আতুল ফিক্বহিইয়াহ ৩৫/৫৫)

Posted in ছিয়াম অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপাত করলে কাফফারা দিতে হবে কি? | Tagged

আমাদের মসজিদের জমি ওয়াকফকৃত। কিন্তু যারা ওয়াকফ করেছেন তারা কমিটিতে ভালো পদ না পাওয়ায় মাঝে মাঝে কটু কথা বলে থাকেন। এক্ষণে উক্ত মসজিদে ছালাত শুদ্ধ হবে কি?


এখানে ছালাত আদায় করায় কোন বাধা নেই। তবে ওয়াকফকারীর ওয়াকফের জন্য কমিটিতে ভালো পদ পাওয়া বা অন্য কোন স্বার্থ হাছিলের ইচ্ছা করা নিতান্তই অন্যায় ও নির্বুদ্ধিতার পরিচায়ক। এরূপ করলে তাকে তওবা করতে হবে। নতুবা কেবল নিয়তে গরমিলের কারণে ওয়াকফের প্রভূত নেকী থেকে তিনি বঞ্চিত হবেন (বুখারী হা/১)। স্মর্তব্য যে, ওয়াকফকৃত জমিতে কারো অধিকার থাকে না (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৩০০৮)

Posted in মসজিদের জমি কমিটিতে ভালো পদ না পাওয়ায় কটু কথা বলে থাকেন। উক্ত মসজিদে ছালাত শ | Tagged

ইমাম হিসাবে আমি তারাবীহর ছালাত ২ রাক‘আত করে ১০ রাক‘আত ছালাত আদায় করে ১ রাক‘আত বিতর পড়াই। এ পদ্ধতি সঠিক কি?


উক্ত পদ্ধতি সঠিক। তারাবীহর ছালাত রাসূল (ছাঃ) এভাবেও আদায় করেছেন (বুখারী হা/৬২৬; মুসলিম হা/৭৩৬; মিশকাত হা/১১৮৮)। তবে এভাবে নিয়মিত করা ঠিক নয়।

Posted in তারাবীহর ছালাত ২ রাক‘আত করে ১০ রাক‘আত আদায় করে ১ রাক‘আত বিতর পড়া যাবে কি? | Tagged

বর্তমানে অনেক সালাফী আলেম তারাবীহর ছালাত ৮ রাক‘আত পড়া উত্তম এবং ২০ রাক‘আত বা তার বেশী পড়া জায়েয বলছেন। এক্ষণে আমাদের করণীয় কি?


উত্তমটিই পালনযোগ্য। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও খুলাফায়ে রাশেদীন থেকে এবং রাসূল (ছাঃ)-এর অন্য কোন স্ত্রী ও ছাহাবী থেকে ১১ বা ১৩ রাক‘আতের ঊর্ধ্বে তারাবীহ বা তাহাজ্জুদের কোন বিশুদ্ধ প্রমাণ নেই (বুখারী হা/১১৪৭; মুসলিম হা/৭৩৮; মুওয়াত্ত্বা, ৭১ পৃঃ, টীকা-৮ দ্রষ্টব্য)। বর্ধিত রাক‘আত সমূহ পরবর্তীকালে সৃষ্ট। ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) রাত্রির ছালাত ১১ বা ১৩ রাক‘আত আদায় করতেন। পরবর্তীকালে মদীনার লোকেরা দীর্ঘ ক্বিয়ামে দুর্বলতা বোধ করে। ফলে তারা রাক‘আত সংখ্যা বৃদ্ধি করতে থাকে, যা ৩৯ রাক‘আত পর্যন্ত পৌঁছে যায়’ (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৩/১১৩)। খ্যাতনামা হানাফী বিদ্বান আনোয়ার শাহ কাষ্মীরী (রহঃ) বলেন, একথা না মেনে উপায় নেই যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর   তারাবীহ   ৮  রাক‘আত  ছিল  (আল-‘আরফুশ শাযী শরহ তিরমিযী হা/৮০৬-এর আলোচনা দ্রঃ ২/২০৮ পৃঃ; মির‘আত ৪/৩২১)

আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ নিহিত রয়েছে, (আহযাব ৩৩/২১)। আর রাসূল (ছাঃ) বলেছেন ‘তোমরা ছালাত আদায় কর সেভাবে, যেভাবে আমাকে ছালাত আদায় করতে দেখছ’… (বুখারী হা/৬৩১)। আলবানী বলেন, খাছ হাদীছ চলে আসার পর আম হাদীছের উপর নির্ভর করে অতিরিক্ত (তারাবীহ) ছালাত আদায় করা জায়েয হবে না।… যেমন ফজর, যোহর ইত্যাদি ছালাতের সুন্নাত সমূহের রাক‘আত সংখ্যায় কম-বেশী করা জায়েয নয়’ (তামামুল মিন্নাহ ১/২৫৩)। অতএব তিন রাক‘আত বিতরসহ ১১ বা ১৩ রাক‘আত তারাবীহর ছালাত আদায় করাই তাক্বওয়াশীল মুমিনের কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ছিলেন ‘সৃষ্টিজগতের প্রতি রহমত স্বরূপ’ (আম্বিয়া ২১/১০৭) এবং বেশী না পড়াটা ছিল উম্মতের প্রতি তাঁর অন্যতম রহমত। সুতরাং রাসূল (ছাঃ)-এর অনুসরণের মধ্যেই কল্যাণ ও সকল বিতর্কের সমাধান রয়েছে (বিস্তারিত )

Posted in তারাবীহর ছালাত ৮ রাক‘আত পড়া উত্তম এবং ২০ রাক‘আত পড়া জায়েয কি? | Tagged

দুনিয়াবী চাপমুক্তির জন্য আল্লাহর নিকটে মৃত্যু কামনা করা যাবে কি?


যাবে না। রাসূল (ছাঃ) মৃত্যু কামনা করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কারণ সে নেককার হ’লে হয়তো অধিক নেকী অর্জন করবে এবং বদকার হ’লে সম্ভবত তওবা করে আল্লাহর সন্তোষ লাভে সমর্থ হবে’ (বুখারী, মিশকাত হা/১৫৯৮ ‘জানাযা’ অধ্যায়, ‘মৃত্যু কামনা ও মৃত্যুর স্মরণ’ অনুচ্ছেদ)। তবে নিতান্তই কেউ যদি মৃত্যু কামনা করতে চায়, তবে সে বিষয়ে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন তার নিকটে বিপদ পৌঁছার কারণে মৃত্যু কামনা না করে। তবে সে যদি মৃত্যু কামনা করতেই চায়, তবে যেন বলে, হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রেখ যে পর্যন্ত আমার জীবন কল্যাণকর হয় এবং আমাকে মৃত্যু দান কর, যখন মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর হয়’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৬০০)

Posted in মৃত্যু কামনা করা যাবে কি?

রামাযান মাসে ইফতারীর কিছু পূর্বে নারীদের ঋতু শুরু হ’লে ঐদিনের ছিয়ামটি রাখা যাবে কি?


ইফতারীর সামান্য পূর্বে হ’লেও ছিয়াম ভেঙ্গে ফেলতে হবে এবং পরবর্তীতে এর ক্বাযা আদায় করতে হবে (মুসলিম হা/৩৩৫; মিশকাত হা/২০৩২)

Posted in ঋতু ইফতারীর কিছু পূর্বে শুরু হ’লে ঐদিনের ছিয়ামটি রাখা যাবে কি? | Tagged ,