ছালাত অবস্থায় হাঁচি আসলে হাঁচির দো‘আ পড়া যাবে কি?


ছালাতের মধ্যে হাঁচি আসলে আলহামদুলিল্লা-হ’ বলা যাবে। কিন্তু মুক্তাদী তার জওয়াবে মুখে ইয়ারহামুকাল্লা-হ’ বলা যাবে না। কারণ তখন সম্বোধনের ব্যক্তি হবে মানুষ, যা ছালাতের মধ্যে জায়েয নয় (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৯৭৮)। এছাড়া নিম্নের দো‘আটিও পাঠ করা যায়। রেফা‘আ ইবনে রাফে (রাঃ) বলেন, একদা আমি রাসূল (ছাঃ)-এর পিছনে ছালাত আদায় করছিলাম। হঠাৎ আমার হাঁচি আসল। তখন আমি এই দো‘আ পড়লাম : ‘আলহামদু লিল্লা-হি হামদান কাছীরান ত্বাইয়েবাম মুবা-রাকান ফীহি মুবা-রাকান ‘আলায়হে কামা ইয়ুহিববু রাববুনা ওয়া ইয়ারযা’ (আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা বহু প্রশংসা পবিত্র প্রশংসা রবকতময় প্রশংসা, বরকতজনক প্রশংসা, যেমন প্রশংসাকে আমাদের প্রতিপালক ভালবাসেন ও পছন্দ করেন…. (তিরমিযী, আবুদাউদ, নাসাঈ, মিশকাত হা/৯৯২; নায়ল ২/৩২৬; মিরকাত, ৩/৩৬৪, হা/৯৯৯)

Advertisements
Posted in ছালাত অবস্থায় হাঁচি আসলে হাঁচির দো‘আ পড়া যাবে কি? | Tagged ,

রাসূল (ছাঃ)-এর স্ত্রী-কন্যাগণকে দেশীয় অনেক আলেম মা যুক্ত করে যেমন মা আয়েশা, মা ফাতেমা ইত্যাদি নামে আখ্যায়িত করে থাকেন। এভাবে বলা যাবে কি?


রাসূল (ছাঃ)-এর স্ত্রীগণকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করা উত্তম। কারণ আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ‘মুমিনদের মা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন (আহযাব ৩৩/০৬)। আর তাদের কন্যাদের  ‘মা’ বলে সম্বোধন করার বিষয়টিও অনুরূপ। কারণ তাঁদের সঙ্গে মুসলমানদের স্রেফ দ্বীনী সম্পর্ক, বংশীয় সম্পর্ক নয়।

Posted in রাসূল (ছাঃ)-এর স্ত্রী বা কন্যাগণকে মা বলে আখ্যায়িত করা কি? | Tagged

ঔষধ খেয়ে মাসিক বন্ধ করে ছিয়াম পালন করা জায়েয কি?


নাপাকীর দিনগুলিতে ছিয়াম ছেড়ে দিয়ে অন্য দিনে তা পালন করাই সুন্নাত। আয়েশা (রাঃ) বলেন, ঋতু অবস্থায় আমাদেরকে ছিয়াম ক্বাযা করার এবং ছালাত ছেড়ে দেয়ার আদেশ দেওয়া হ’ত (মুসলিম, মিশকাত হা/২০৩২, ‘ক্বাযা ছিয়াম’ অনুচ্ছেদ)। তবে বিশেষ অবস্থার প্রেক্ষিতে ডাক্তারের পরামর্শে শারীরিক কোন ক্ষতি না হ’লে ঔষধের মাধ্যমে সাময়িকভাবে প্রতিরোধ করে ছিয়াম পালন করা যায় (শায়খ বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ফৎওয়া নং ৫৭; ১৫/২০০ পৃঃ)

Posted in মাসিক ঔষধ খেয়ে বন্ধ করে ছিয়াম পালন করা জায়েয কি? | Tagged ,

শরী‘আতে মানুষহত্যার ক্ষেত্রে যেমন নিহত ব্যক্তির অভিভাবকের ক্ষমার মাধ্যমে শাস্তি মওকূফ হয়, তেমনি চুরির শাস্তি মওকূফ করা যায় কি?


চুরির ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে। মালের মালিক চোরকে ক্ষমা করে দিলে চোরের হাত কাটা আবশ্যক হবে না। বরং সে ক্ষমা প্রাপ্ত হবে। তবে ক্ষমার বিষয়টি বিচারকের নিকটে উত্থাপনের পূর্বে হ’তে হবে। ছাফওয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নিজের চাদরকে বালিশ বানিয়ে তা মাথার নিচে রেখে মসজিদে ঘুমিয়েছিলেন। চোর তার মাথার নিচ থেকে তা চুরি করল। অতঃপর তিনি তাকে ধরে রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট নিয়ে এলেন। রাসূল (ছঃ) তার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। ছাফওয়ান (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো এটা চাইনি! আমার চাদর আমি তাকে দান করলাম। রাসূল (ছাঃ) বললেন, তাহ’লে তাকে আমার কাছে আনার আগে কেন তা করলে না? (ইবনু মাজাহ হা/২৫৯৫; মিশকাত হা/৩৫৯৮; সনদ ছহীহ)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত কোন অপরাধ তোমাদের মাঝে সীমাবন্ধ থাকে, ততক্ষণ তোমরা পরস্পর তা ক্ষমা করে দাও। আর যদি তা আমার নিকট পেশ করা হয়, তবে তার জন্য শরী‘আত সম্মত শাস্তি প্রদান ওয়াজিব হয়ে যায়’ (আবুদাউদ হা/৪৩৭৬; মিশকাত হা/৩৫৬৮; ছহীহুল জামে‘ হা/২৯৫৪)

Posted in নিহত ব্যক্তির চুরির শাস্তি মওকূফ করা যায় কি? | Tagged ,

ক্বিয়ামতের আলামত ব্যতীত সাধারণভাবে মানুষের জন্য প্রধান ফিৎনাগুলি কি কি?


ফিৎনা অর্থ পরীক্ষা। যার মাধ্যমে আল্লাহ মুমিনকে পরীক্ষা করেন। ফিৎনা প্রধানতঃ ৩টি। যথা সম্পদ, সন্তান ও নারী জাতি (আনফাল ৮/২৮; তাগাবুন ৬৪/১৪; আলে ইমরান ৩/১৪; বুখারী হা/৫০৯৬; তিরমিযী হা/২৩৩৬)। যার প্রত্যেকটি মানুষের জন্য অপরিহার্য। প্রতিটিরই ভাল ও মন্দ দু’টি দিক আছে। মন্দ দিকটি বাদ দিয়ে ভাল দিকটি ব্যবহারের মধ্যেই রয়েছে পরীক্ষা। আর একেই বলা হয়েছে ফিৎনা। এ ফিৎনায় অধিকাংশ মানুষ পরাজিত হয়। যা তাদের ধ্বংসের কারণ হয়। মুমিন যাতে পরাজিত না হয়, সেজন্য তাদের সাবধান করা হয়েছে।

Posted in ক্বিয়ামতের আলামত ব্যতীত সাধারণভাবে মানুষের জন্য প্রধান ফিৎনাগুলি কি কি? | Tagged ,

আমি ৬ মাস পরে ইট গ্রহণের শর্তে ৫৩০০ টাকা হাযার দরে ইট ক্রয় করেছিলাম, যার বর্তমান মূল্য ৭৩০০ টাকা। এভাবে কম মূল্যে অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে কি?


এরূপ ক্রয়-বিক্রয় জায়েয। একে শরী‘আতের পরিভাষা ‘বায়‘এ সালাম’ বলা হয়। আর তা হ’ল নগদ মূল্য পরিশোধ সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট মাপে ও নির্দিষ্ট ওযনে মাল সরবরাহ করা (বুখারী হা/২২৪০, মিশকাত হা/২৮৮৩ ‘ক্রয়-বিক্রয়’ অধ্যায়)। এর বিপরীত বায়‘এ মুআজ্জালে মাল আগে নেওয়া হয়। মূল্য পরে দেওয়া হয়।

Posted in ক্রয় বিক্রয় অগ্রিম করা যাবে কি? | Tagged ,

রামাযান মাসে কোন ব্যক্তি যদি স্ত্রী মিলনরত অবস্থায় ফজরের আযান শুনতে পায় তাহলে কি করবে?


এমতাবস্থায় যদি সে সঙ্গে সঙ্গে এথেকে বিরত হয়, তাহ’লে তার ছওম অক্ষুণ্ণ থাকবে। কিন্তু যদি সে ঐ অবস্থাতেই থাকে, তাহ’লে তার ছওম বাতিল হবে এবং তার উপর ক্বাযা ও কাফফারা ওয়াজিব হবে (নববী, আল-মাজমূ‘ ৬/৩০৯; ইবনু কুদামা, মুগনী ৩/১৩৯)। তা হ’ল, (১) একজন দাস মুক্ত করবে অথবা (২) দু’মাস একটানা ছিয়াম পালন করবে অথবা (৩) ষাটজন মিসকীনকে মধ্যম মানের খাদ্য প্রদান করবে (বুখারী হা/১৯৩৬; মুসলিম হা/১১১১; মিশকাত হা/২০০৪ ‘ছওম’ অধ্যায়)। নববী বলেন, ৬০ জন মিসকীনকে ৬০ মুদ খাদ্যশস্য প্রদান করবে। যার পরিমাণ ১৫ ছা‘ (নববী, শরহ মুসলিম হা/১১১২)। অর্থাৎ মাদানী ছা‘ অনুযায়ী সাড়ে ৩৭ কেজি চাউল।

Posted in রামাযান মাসে স্ত্রী মিলনরত অবস্থায় ফজরের আযান শুনতে পেলে করণীয় কি? | Tagged ,

যাকাতের অর্থ থেকে এমপিওভুক্ত দাখিল মাদরাসায় হাদীছের বই (বুখারী, মুসলিম) কিনে দেওয়া যাবে কি?


দেওয়া যাবে। এসব কিতাব থেকে শিক্ষক-ছাত্র সকলে উপকৃত হ’তে পারবে (আল-মওসূ‘আতুল ফিক্বহিইয়াহ ২৮/৩৩৬-৩৭)। তবে এরূপ মাদ্রাসায় নির্মাণ বা অন্য কোন খাতে যাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

Posted in যাকাতের অর্থ থেকে এমপিওভুক্ত মাদরাসায় হাদীছের বই কিনে দেওয়া যাবে কি? | Tagged

ছিয়ামরত অবস্থায় ইনজেকশনের মাধ্যমে ঔষধ বা স্যালাইন দেওয়া হলে ছিয়াম ভঙ্গ হবে কি?


যে সব ইনজেকশন শুধুমাত্র ঔষধ হিসাবে প্রয়োগ করা হয়, সেসব ইনজেকশন ছিয়াম অবস্থায় নেয়া যায়। রাসূল (ছাঃ) ছিয়ামরত অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২০০২)। আর যে সব ইনজেকশন খাদ্য হিসাবে প্রয়োগ করা হয়, তা জায়েয নয়। কারণ ছিয়াম মূলতঃ আহার থেকে বিরত থাকার নাম। স্যালাইন শরীরে খাদ্যের চাহিদা পুরণ করে। তাই স্যালাইন গ্রহণ করা যাবে না (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১০/২৫২; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৯/১৪৬-১৫০)। প্রয়োজনে ছিয়াম ছেড়ে দিতে হবে এবং অন্য মাসে ক্বাযা আদায় করতে হবে (বাক্বারাহ ২/১৮৪)

Posted in ছিয়ামরত অবস্থায় ইনজেকশন নেওয়া যাবে কি? | Tagged

জন্মদাতা পিতা-মাতা সম্পর্কে অজ্ঞাত এবং পালক পিতা-মাতার নিকট বড় হওয়া নারী বিভিন্ন বৈষয়িক ক্ষেত্রে পালক পিতা-মাতার নাম ব্যবহার করতে পারবে কি?


পারবে না। আল্লাহ বলেন, তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃ পরিচয়ে ডাকো। সেটাই আল্লাহর নিকট অধিক ন্যায় সঙ্গত। যদি তোমরা তাদের পিতৃ পরিচয় না জানো, তাহ’লে তারা তোমাদের ধর্মীয় ভাই ও বন্ধু (আহযাব ৩৩/৫)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জেনেশুনে অন্যকে পিতা-মাতা বলে, তার জন্য জান্নাত হারাম’ (বুখারী হা/৪৩২৬; মুসলিম হা/৬৩; মিশকাত হা/৩৩১৪)। অন্যত্র রাসূল (ছাঃ) বলেন, পিতাকে বাদ দিয়ে অন্যের সাথে যে নিজেকে সম্পৃক্ত করবে তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও সকল মানুষের অভিশাপ (তিরমিযী হা/২১২১; ছহীহুত তারগীব হা/১৯৮৬)। তবে পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্য না রেখে বাধ্যগত অবস্থায় ‘আব্দুল্লাহ’ নামে (যেমন ‘… বিনতে আব্দুল্লাহ’) পরিচয় দেওয়া যেতে পারে।

Posted in পালক পিতা-মাতার নাম বিভিন্ন বৈষয়িক ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারবে কি? | Tagged ,

জুম‘আর মসজিদে না নিয়মিত জামা‘আত কায়েম হয় এরূপ মসজিদে ই‘তিকাফ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে? আর নারীরা কি বাড়িতে ই‘তিকাফ করতে পারবে?


ই‘তিকাফের জন্য জুম‘আ মসজিদ হওয়াই উত্তম। তবে জামা‘আত হয় এরূপ ওয়াক্তিয়া মসজিদে ই‘তিকাফ করাও জায়েয। ‘জামে মসজিদ ব্যতীত ই‘তিকাফ হবে না’ (আবুদাঊদ হা/২৪৭৩) মর্মে আয়েশা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত হাদীছটি অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘জামা‘আত হয় এরূপ মসজিদে ই‘তিকাফ হবে’ (দারাকুৎনী হা/২৩৮৮, ইরওয়াউল গালীল হা/৯৬৬)। বিস্তারিত দ্রঃ মির‘আত হা/২১২৬-এর আলোচনা ৬/১৬৪-১৬৬)

 

নারীরা বাড়িতে নয় বরং মসজিদে ই‘তিকাফ করবে। ইবনু কুদামা (রহঃ) বলেন, ‘নারীদের জন্য প্রত্যেক মসজিদে ই‘তিকাফ করা জায়েয। সেখানে জামা‘আত হওয়া শর্ত নয়। কারণ তাদের উপর জামা‘আত ওয়াজিব নয় (মুগনী ৩/১৯০)। ওছায়মীন বলেন, নারী যদি এমন মসজিদে ই‘তিকাফ করে যেখানে জামা‘আত হয় না তাতে কোন দোষ নেই। কারণ তাদের উপর জামা‘আত ওয়াজিব নয় (আশ-শারহুল মুমতে‘ ৬/৫১০)

Posted in ই‘তিকাফ কি বাড়িতে করতে পারবে? | Tagged

ছিয়াম অবস্থায় মযী নির্গত হ’লে ছিয়ামে কোন ক্ষতি হবে কি? এছাড়া নাকে পানি প্রবেশ করলে ছিয়াম ভেঙ্গে যাবে কি?


মযী নির্গত হলে ছিয়াম ভঙ্গ হবে না (উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ৬/৩৭৫-৭৬)। আর অনিচ্ছাকৃতভাবে নাকে পানি প্রবেশ করলে ছিয়ামের ক্ষতি হবে না (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২০০৩)। তবে রাসূল (রাঃ) ছিয়াম অবস্থায় নাকে এমনভাবে পানি নিতে নিষেধ করেছেন, যাতে ভিতরে পানি প্রবেশের সম্ভাবনা থাকে (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪০৫)

Posted in ছিয়াম অবস্থায় মযী নির্গত হ’লে ছিয়ামে কোন ক্ষতি হবে কি? | Tagged

ইসলামে যুদ্ধবন্দী মহিলাদেরকে দাসী বানানো হ’ত কেন? তাদেরকে কেবল বন্দী না রেখে পুরুষের ভোগের সামগ্রী বানানোর কারণ কি ছিল?


কেবল ভোগের সামগ্রী নয়। বরং তাদের সামাজিক নিরাপত্তাই এখানে প্রধান। আর যুদ্ধবন্দীদের এই বিধান ইসলামপূর্ব যামানা থেকেই চালু ছিল। ইসলাম সেটা বাতিল করেনি। আল্লাহ বলেন, তবে তাদের স্ত্রীগণ ও মালিকানাধীন দাসীরা ব্যতীত। কেননা এতে তারা নিন্দিত হবে না’ (মুমিনুন ২৩/৬)। এর পিছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। যেমন- (১) এর মাধ্যমে বিজিত অঞ্চলের অসহায়, অভিভাবকহীন নারীদের জন্য আশ্রয় ও ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করা এবং প্রায় স্ত্রীর সমান মর্যাদা দিয়ে তাদেরকে রক্ষণাবেক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। কেননা এসব নারী তার পুরুষ অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে যে কোন মুহূর্তে ধর্ষণের শিকার হ’তে পারে। (২) বন্দীত্ব বরণ সত্ত্বেও তাদের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা। (৩) নারী হিসাবে তার শারিরীক ও মানসিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা রাখা। কেননা এরূপ সুযোগ না পেলে হয়ত একাধিক ব্যক্তির সাথে যেনায় লিপ্ত হয়ে যেতে পারে। (৪) তার সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা। কেননা যদি তার গর্ভে সন্তান জন্ম গ্রহণ করে তবে সে উম্মে ওয়ালাদ হবে। যে মনিবের মৃত্যুর সাথে সাথে স্বাধীন হয়ে যাবে। অর্থাৎ সে স্বাধীনা নারীর মত মর্যাদা লাভ করবে। (৫) মুসলমানদের সংস্পর্শে রেখে তাদের ইসলাম গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা।

 

উল্লেখ্য যে, যুদ্ধবন্দী সম্পর্কে ইসলামে যে বিধান রয়েছে, তাতে শাসক বা সেনাপতির অনুমতি ছাড়া ঢালাওভাবে কোন যুদ্ধবন্দীনীকে দাসী হিসাবে গ্রহণ করার অধিকার নেই। আবার কোন নারীর পূর্ব স্বামী থাকলে ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে তার সাথে সহবাস করা বৈধ নয়। তেমনি একমাত্র মনিব ভিন্ন অন্য কেউ সেই দাসীর সাথে মিলন করতে পারবে না (আবুদাউদ হা/২১৫৮; মিশকাত হা/৩৩৩৯; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৫০৭)। এছাড়া কোন গর্ভবতী  বন্দীনীর সাথে তার সন্তান প্রসবের  আগে সহবাস নিষিদ্ধ (তিরমিযী হা/১৫৬৪; ছহীহুল জামে‘ হা/৭৪৭৯)। সুতরাং এই আইনে যুদ্ধাবস্থাতেও নারীর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদান করা হয়েছে।

 

এতদ্ব্যতীত যুদ্ধবন্দীনী মাত্রই যে দাসী হবে তা নয়। কেননা ইসলামী শাসক বা তার পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ইসলামের স্বার্থে কল্যাণকর মনে করলে চারটি সিদ্ধান্তের যে কোনটি গ্রহণ করতে পারে- (১) বন্দীকে ক্ষমা করে মুক্ত করে দেওয়া (২) নির্দিষ্ট সম্পদের বিনিময়ে মুক্ত করে দেওয়া অথবা বন্দী বিনিময় করে নেওয়া (৩) দাস/দাসী হিসাবে গণ্য করা (৪) অথবা বন্দীকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা (ইবনুল ক্বাইয়িম, যাদুল মা‘আদ, পৃ. ৩/৯৯; ৫/৬০)। তবে নারী ও শিশু বন্দীদের ক্ষেত্রে হত্যার বিধান প্রযোজ্য নয়।

 

স্মর্তব্য যে, এই দাসত্ববরণ চিরস্থায়ী নয়। বরং মনিব চাইলে তাকে যে কোন সময় মুক্ত করে দিতে পারে। ইসলামী শরী‘আত বিভিন্ন ছোট-খাট অন্যায় বা ইবাদতের ত্রুটি মোচন কিংবা বিশেষ ফযীলত কিংবা ছওয়াব লাভের মাধ্যম হিসাবে দাস/দাসী মুক্ত করাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। আবার চাইলে মনিব তাকে বিবাহ করে স্ত্রীর মর্যাদাও দিতে পারে। ইসলামে এ ব্যাপারেও উৎসাহিত করা হয়েছে (বাক্বারাহ ২/২২১)

 

সুতরাং এটাই স্বতঃসিদ্ধ যে, অমুসলিম সমাজে যেভাবে যুদ্ধবন্দীনীদেরকে স্রেফ ভোগের সামগ্রী ও যৌনদাসী হিসাবে গণ্য করা হ’ত, তার সাথে ইসলামের বিধান কোনভাবেই তুলনীয় নয়। কেননা ইসলাম সর্বাবস্থায় মৌলিক মানবাধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। যুদ্ধবন্দী করার উদ্দেশ্য ছিল- শত্রুদের শক্তি ও মনোবল ভেঙ্গে দেয়া, তাদের অন্যায়কে প্রতিহত করা এবং তাদেরকে যুদ্ধের ময়দান থেকে বিতাড়িত করা। যদি সে উদ্দেশ্য অন্যভাবে পূরণ হয়ে যেত, তাহ’লে রাসূল (ছাঃ) শত্রুকে যুদ্ধবন্দী না করে মুক্ত করে দিতেন। যেমন তিনি মক্কা বিজয়ের যুদ্ধবন্দীদের ও বনী মুছত্বালিক্ব এবং হুনাইনের যুদ্ধবন্দীদের মুক্ত করে দিয়েছিলেন (ফিক্বহুস সুন্নাহ ২/৬৮৮)। অতএব যুদ্ধকালীন বাস্তবতা, সামাজিক পরিস্থিতি, মানবাধিকার সুরক্ষা প্রভৃতি বিষয় মাথায় রেখে ইসলাম এক্ষেত্রে যে ভারসাম্যপূর্ণ বিধান দিয়েছে, তার কোন বিকল্প নেই। যে কোন বিবেকবান মানুষ তা স্বীকার করতে বাধ্য হবেন (বিস্ত্তারিত দ্রঃ: মুহাম্মাদ কুতুব, ভ্রান্তির বেড়াজালে ইসলাম)

Posted in ইসলামে যুদ্ধবন্দী মহিলাদেরকে দাসী বানানো হ’ত কেন? | Tagged

মোবাইলে কুরআন থাকা অবস্থায় টয়লেটে প্রবেশ করা যাবে কি?


যাবে। কারণ তা স্পর্শযোগ্য নয়। এটি হাফেযদের হৃদয়ে কুরআন থাকার ন্যায়। কিন্তু তাদের জন্য টয়লেটে যাওয়া নিষিদ্ধ নয়। তাছাড়া কুরআনের কোন আয়াত যদি মোবাইলের উপরে লেখা থাকে তাহ’লে পকেটের ভিতরে রাখতে হবে (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১১/১০৯)। পায়খানারত অবস্থায় যেমন কুরআন পাঠ করা যায় না। তেমনি টয়লেটে বসে মোবাইলে কুরআন খোলা যাবে না।

Posted in মোবাইলে কুরআন থাকা অবস্থায় টয়লেটে প্রবেশ করা যাবে কি? | Tagged

জনৈক ব্যক্তির ছেলে কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে চাকুরী করে। নিরুপায় পিতা-মাতার জন্য উক্ত সন্তানের উপার্জিত অর্থে সংসার পরিচালনা করা জায়েয হবে কি?


বাধ্যগত অবস্থায় জায়েয হবে ইনশাআল্লাহ। কারণ সন্তান হারাম উপার্জন করলে, বরং সে নিজে দায়ী হবে পিতা-মাতা নয় (বাক্বারাহ ৫৭ আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রঃ)। তবে পিতামাতা হিসাবে তারা সন্তানকে হারাম থেকে বিরত রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। সাধ্য থাকলে সন্তানের উপার্জন পরিহার করবেন।

Posted in ব্যাংকে চাকুরী করা সন্তানের নিরুপায় পিতা-মাতার সংসার পরিচালনা করা যাবে কি? | Tagged , ,

ছিয়াম অবস্থায় মিসওয়াক করা যাবে কি?


ছিয়াম অবস্থায় মিসওয়াক করা যাবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, আমি যদি উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম তাহলে প্রত্যেক ছালাতের সময় মিসওয়াক করার আদেশ দিতাম’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৭৬ ‘মিসওয়াক’ অনুচ্ছেদ)। উক্ত হুকুম দ্বারা ছিয়াম পালনকারী বা ছিয়ামহীন কাউকে খাছ করা হয়নি (বুখারী ‘ছিয়াম’ অধ্যায়, ‘ছিয়াম পালনকারীর জন্য কাঁচা ও শুকনা বস্ত্ত দ্বারা মিসওয়াক করা’ অনুচ্ছেদ-২৭; ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, পৃঃ ৪৬৮)। ইবনু ওমর (রাঃ) ছিয়াম অবস্থায় মিসওয়াক করাকে অন্যায় মনে করতেন না (মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ হা/৯২৪১, সনদ ছহীহ)

Posted in ছিয়াম অবস্থায় মিসওয়াক করা যাবে কি? | Tagged ,

ফরয-সুন্নাত ছালাতের সিজদা বা তাশাহহুদের সময় তওবা-ইস্তেগফারের দো‘আসমূহ পাঠ করা যাবে কি?


যাবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) এসকল স্থানে বিভিন্ন দো‘আ পাঠ করতেন, যা তওবা ও ইস্তেগফারকে শামিল করে। তাছাড়া এসকল স্থানে দো‘আ কবুল হয়। সিজদার ক্ষেত্রে রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশনা হ’ল, ‘বান্দা স্বীয় প্রভুর সর্বাধিক নিকটে পৌঁছে যায়, যখন সে সিজদায় রত হয়। অতএব তোমরা ঐ সময় বেশী বেশী প্রার্থনা কর’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৮৯৪)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘তোমরা সিজদায় দো‘আ করার ক্ষেত্রে সাধ্যমত চেষ্টা কর। কারণ এটি দো‘আ কবুলের উপযুক্ত সময়’ (মুসলিম হা/৪৭৯; মিশকাত হা/৮৭৩)। তবে রুকূ-সিজদায় কুরআনী দো‘আ পড়া জায়েয নয় (মুসলিম, মিশকাত হা/৮৭৩)

 

আর শেষ বৈঠকের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, (আত্তাহিইয়াতু-এর পরে) দো‘আ সমূহের মধ্যে যে দো‘আ সে পসন্দ করে, তা  দিয়ে সে দো‘আ করবে’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৯০৯)। এ সময় সকল প্রকার দো‘আ করা যাবে (শায়খ বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১১/১৭৩-৭৪)

Posted in সিজদা বা তাশাহহুদের সময় তওবা-ইস্তেগফারের দো‘আসমূহ পাঠ করা যাবে কি? | Tagged

আমার নাবালিকা মেয়েকে কোন পুরুষ শিক্ষকের নিকটে পড়ানোয় বাধা আছে কি?


নাবালিকা হলেও একাকী পড়াতে দেওয়া ঠিক নয়। সাথে কাউকে থাকতে হবে। তবে একাধিক নাবালিকা মেয়ে এক সাথে পড়তে পারে। এতে ফিৎনার আশঙ্কা থেকে মুক্ত থাকা যাবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কোন পরপুরুষ যদি কোন মহিলার সঙ্গে নির্জনে মিলিত হয়, তাহ’লে সেখানে তৃতীয়জন হিসাবে উপস্থিত হয় শয়তান’ (তিরমিযী হা/২১৬৫; মিশকাত হা/৩১১৮; ছহীহুত তারগীব হা/১৯০৮)

Posted in নাবালিকা মেয়েকে কোন পুরুষ শিক্ষকের নিকটে পড়ানোয় বাধা আছে কি? | Tagged ,

: আমি ঔষধের ব্যবসা করি। আমার দোকানে জন্মনিরোধ বড়ি সহ অন্যান্য জন্মনিরোধক পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে কি?


সাময়িক গর্ভনিরোধ জায়েয। অতএব সাময়িক গর্ভনিরোধক ঔষধ ক্রয়-বিক্রয় করাও জায়েয। তবে স্থায়ীভাবে জন্মনিরোধকারী কোন ঔষধ দোকানে রাখবে না। কারণ এর মাধ্যমে অন্যায় কাজে সহযোগিতা করা হবে। আর আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা পাপ ও সীমালংঘনের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না’ (মায়েদা ৫/২)

Posted in জন্মনিরোধ বড়ি সহ অন্যান্য জন্মনিরোধক পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে কি? | Tagged ,

বস্ত্রহীন অবস্থায় ওযূ করা জায়েয হবে কি?


কাপড় পরিধান করে ওযূ করাই উত্তম। তবে ওযূর জন্য কাপড় পরিধান করা শর্ত নয়। অতএব এমতাবস্থায় ওযূ করায় কোন বাধা নেই। (উছায়মীন, লিকাউল বাবিল মাফতূহ ১৮/২২২)

Posted in ওযূ বস্ত্রহীন অবস্থায় করা জায়েয হবে কি? | Tagged

মনে রাখার সমস্যার কারণে তাসবীহ দানা বা অন্য কোন যান্ত্রিক মাধ্যমে হিসাব রেখে তাসবীহ পাঠ করা জায়েয হবে কি?


এরূপ কোন যন্ত্র বা বস্তু দ্বারা তাসবীহ গণনা করা যাবে না। বরং আঙ্গুল দ্বারা গণনা করবে। গণনায় ভুল হ’লে আল্লাহ ক্ষমা করবেন। রাসূল (ছাঃ) আঙ্গুলে তাসবীহ গণনার জন্য আদেশ করেছেন। কেননা ক্বিয়ামতের দিন আঙ্গুলগুলো জিজ্ঞাসিত হবে এবং তারা কথা বলবে (আবুদাঊদ হা/১৫০১; তিরমিযী হা/৩৪৮৬; মিশকাত হা/২৩১৬; ছহীহুল জামে‘ হা/৪০৮৭)। একদা ইবনু মাসঊদ (রাঃ) জনৈক মহিলাকে তাসবীহ দানা দ্বারা গণনা করতে দেখে তা নিয়ে ছিঁড়ে দূরে নিক্ষেপ করেন। অতঃপর নুড়ি-পাথর দিয়ে তাসবীহ গণনাকারী জনৈক ব্যক্তিকে পা দিয়ে মৃদু আঘাত করে ধমক দিয়ে বললেন, অগ্রগামী হয়ে পড়েছ, এক অন্ধকারচ্ছন্ন বিদ‘আতে লিপ্ত হয়ে পড়েছ, না-কি মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর ছাহাবীগণের চেয়ে বেশী জ্ঞানী হয়ে গেছ’? (ইবনু ওয়াযযাহ, আল-বিদ‘ঊ হা/২১; সিলসিলা যঈফাহ হা/৮৩-এর আলোচনা দ্রঃ)। উল্লেখ্য, দানা বা কংকর দ্বারা তাসবীহ গণনা করার বর্ণনা যঈফ (আবুদাঊদ হা/১৫০০; তিরমিযী হা/৩৫৬৮; মিশকাত হা/২৩১১; যঈফাহ হা/৮৩)

Posted in তাসবীহ অন্য কোন যান্ত্রিক মাধ্যমে হিসাব রেখে গণনা করা যাবে কি? | Tagged

আমার দুই মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছে। তারা চাচ্ছে এখনই তাদের নামে জমি-জমা রেজিস্ট্রি করে দেই। এরূপ কাজ করা জায়েয হবে কি?


এরূপ করা জায়েয হবে না। কারণ পুত্র সন্তান না থাকায় মৃতের নিকটতম পুরুষেরা আছাবা হিসাবে নির্দিষ্ট অংশ পাবে (নিসা ৪/১১; বুখারী হা/৬৭৩২; মিশকাত হা/৩০৪২)। আর মৃত্যুর পূর্বে স্ত্রী-কন্যাদের মাঝে সম্পদ বণ্টন করলে তাদেরকে বঞ্চিত করা হবে, যা হারাম।

 

উল্লেখ্য, উত্তরাধিকার সম্পদ মৃত্যুর পরে বণ্টন হওয়াই শরী‘আত নির্দেশিত বিধান, যা সকলের জন্য কল্যাণকর। আল্লাহ প্রত্যেক হকদারের জন্য তার হক নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন’ (আবুদাঊদ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৩০৭৩)। তবে পিতা অন্য ওয়ারিছদের বঞ্চিত করার অসৎ উদ্দেশ্য না রেখে স্বীয় জীবদ্দশায় প্রয়োজনবোধে সন্তানদের কিছু সম্পদ হেবা করতে পারেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে সকলকে সমানভাবে প্রদান করবেন (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩০১৯; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা, ফৎওয়া নং ৬৭৪৫)

Posted in জমি-জমা মেয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া জায়েয হবে কি? | Tagged

সাহারীর আযান কি শুধু রামাযান মাসে না সারা বছর দেওয়া যাবে?


রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যামানায় বিলাল (রাঃ) সাহারীর আযান দিতেন এবং আব্দুল্লাহ ইবনু উম্মে মাকতূম (রাঃ) ফজরের আযান দিতেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা বিলালের আযান শুনে খাও, যতক্ষণ না ইবনু উম্মে মাকতূমের আযান শুনতে না পাও’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৬৮০)

এক্ষণে কোন মহল্লায় যদি সারা বছর তাহাজ্জুদ ও নফল ছিয়ামের অভ্যাস জারী থাকে, তবে সারা বছরই তাহাজ্জুদ ও সাহারীর আযান দেওয়া যাবে। যেমন মক্কা-মদীনার দুই হারামে চালু আছে (ফাৎহুল বারী ২/১০৪ পৃঃ, হা/৬২১-এর ব্যাখ্যা; মির‘আত ২/৩৮২)

Posted in সাহারীর আযান কি শুধু রামাযান মাসে না সারা বছর দেওয়া যাবে? | Tagged

আমাদের মসজিদে ছালাত শেষে দলবদ্ধ মুনাজাত করিয়ে নেওয়ার জন্য মূর্খ ইমাম দ্বারা ছালাত আদায় করানো হয়। এক্ষণে আমরা তাদের পরে আলাদা জামা‘আত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি কি সঠিক হবে?


প্রচলিত দলবদ্ধ মুনাজাত বিদ‘আত। তবে সেজন্য জামা‘আত আলাদা করা যাবে না। বরং জামা‘আতে ছালাত আদায় করবে। কিন্তু মুনাজাত থেকে বিরত থাকবে। এসময় হাদীছে বর্ণিত ছালাত পরবর্তী দো‘আসমূহ পাঠ করবে।

Posted in দলবদ্ধ মুনাজাত করার কারনে আলাদা জামা‘আত করা যাবে কি? | Tagged , ,

মসজিদের মিহরাব বরাবর পূর্ব দিকে প্রবেশ দরজা থাকা কি আবশ্যক?


মসজিদের মিহরাব বরাবর পূর্ব দিকে প্রবেশ দরজা থাকতে হবে, এমনটি আবশ্যক নয়। তবে পূর্ব দিকে দরজা থাকলে মুছল্লীদের ইমামকে দেখতে, আযান দিতে ও ছালাতের অবস্থা বুঝতে সুবিধা হয়। সেজন্য এরূপ দরজা রাখা ভালো।

Posted in মসজিদের মিহরাব বরাবর পূর্ব দিকে প্রবেশ দরজা থাকা কি আবশ্যক? | Tagged

আযানের দো‘আয় এক স্থানে অসীলা শব্দের ব্যবহার হয়েছে। এক্ষণে ওয়াসীলা শব্দের অর্থ কি?


আযানের দো‘আয় বর্ণিত অসীলা দ্বারা জান্নাতের সুউচ্চ মর্যাদাপূর্ণ স্থানকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ রাসূলের জন্য সে সুউচ্চ মর্যাদাকে চাইতে বলা হয়েছে। যেমন অন্য হাদীছে আছে, রাসূল (ছাঃ) ছাহাবীগণকে বললেন, ‘তোমরা আমার জন্যে আল্লাহর কাছে অসীলা প্রার্থনা করবে। কেননা অসীলা জান্নাতের একটি সম্মানজনক স্থান। এটা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে একজনকেই দেয়া হবে। আমি আশা করি, আমিই হ’ব সে বান্দা। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আমার জন্যে অসীলা প্রার্থনা করবে তার জন্য (আমার) শাফা‘আত ওয়াজিব হয়ে যাবে (মুসলিম হা/৩৮৪; মিশকাত হা/৬৫৭)

Posted in ওয়াসীলা শব্দের অর্থ কি? | Tagged ,

গুল-জর্দা কি সরাসরি তামাক পাতা থেকে তৈরীকৃত? না স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় এগুলি হারাম সাব্যস্ত করা হয়?


গুল-জর্দা সরাসরি তামাক থেকে তৈরী। আর তামাক বা তামাকজাত যে কোন নেশাদার দ্রব্য খাওয়া সর্বাবস্থায় নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘মাদকতা আনয়নকারী প্রত্যেক বস্ত্তই মদ এবং প্রতিটি মাদকদ্রব্য হারাম’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৩৮)। এছাড়া তামাক শুধু মানুষ নয়, সকল প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৬০ লক্ষ লোক তামাকজনিত রোগে মারা যায়। তন্মধ্যে ৬ লাখের অধিক হ’ল পরোক্ষভাবে ধূমপায়ী। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ো না এবং অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করো না’ (ইবনু মাজাহ হা/২৩৪০; ছহীহাহ হা/২৫০)। সেজন্য স্বাস্থ্যগত দিক দিয়েও তামাক থেকে দূরে থাকা আবশ্যক।

Posted in গুল-জর্দা কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় এগুলি হারাম? | Tagged ,

ই‘তিকাফরত অবস্থায় অপর ই‘তিকাফকারীর সাথে বা বাইরের মানুষের সাথে গল্পগুজব করা জায়েয হবে কি?


ই‘তিকাফের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে দুনিয়াবী কাজকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিবিষ্ট মনে পরকালীন পাথেয় সঞ্চয়ে ব্যস্ত থাকা। তাই এসময় সাধারণ গল্প-গুজব জায়েয নয়। তবে দ্বীনী বিষয়ে বা প্রয়োজনীয় কথা বলায় বাধা নেই। নবী-সহধর্মিনী ছাফিয়া (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, একবার তিনি রামাযানের শেষ দশকে মসজিদে রাসূল (ছাঃ)-এর খিদমতে হাযির হন। তখন রাসূল (ছাঃ) ই‘তিকাফরত ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে ফিরে যান (বুখারী হা/২০৩৫; মুসলিম হা/২১৭৫)

Posted in ই‘তিকাফরত অবস্থায় গল্পগুজব করা জায়েয হবে কি? | Tagged

কোন ব্যক্তি যেনায় লিপ্ত হ’লে তার ৪০ দিনের ইবাদত কবুল হয় না মর্মে বর্ণিত হাদীছের কোন সত্যতা আছে কি?


উক্ত মর্মে কোন দলীল নেই। বরং যেনাকারী বিবাহিত হ’লে রজম করতে হবে এবং অবিবাহিত হ’লে একশ’টি বেত্রাঘাত করতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘ব্যভিচারী নারী ও পুরুষের প্রত্যেককে তোমরা একশ’ বেত্রাঘাত কর’ (নূর ২৪/০২)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, অবিবাহিত নারী-পুরুষ ব্যভিচার করলে একশ’ বেত্রাঘাত কর এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন দাও। আর বিবাহিত নারী-পুরুষ ব্যভিচার করলে একশ’ বেত্রাঘাত ও রজম কর’ (মুসলিম হা/১৬৯০; মিশকাত হা/৩৫৫৮)। তবে একাজ বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব সরকারের।

Posted in যেনায় লিপ্ত হ’লে তার ৪০ দিনের ইবাদত কবুল হয় না কি? | Tagged

কোন ব্যক্তি যেনায় লিপ্ত হ’লে তার ৪০ দিনের ইবাদত কবুল হয় না মর্মে বর্ণিত হাদীছের কোন সত্যতা আছে কি?


উক্ত মর্মে কোন দলীল নেই। বরং যেনাকারী বিবাহিত হ’লে রজম করতে হবে এবং অবিবাহিত হ’লে একশ’টি বেত্রাঘাত করতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘ব্যভিচারী নারী ও পুরুষের প্রত্যেককে তোমরা একশ’ বেত্রাঘাত কর’ (নূর ২৪/০২)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, অবিবাহিত নারী-পুরুষ ব্যভিচার করলে একশ’ বেত্রাঘাত কর এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন দাও। আর বিবাহিত নারী-পুরুষ ব্যভিচার করলে একশ’ বেত্রাঘাত ও রজম কর’ (মুসলিম হা/১৬৯০; মিশকাত হা/৩৫৫৮)। তবে একাজ বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব সরকারের।

Posted in যেনায় লিপ্ত হ’লে ৪০ দিনের ইবাদত কবুল হয় না কি? | Tagged ,

আমাদের মেডিকেল কলেজে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ক্লাস থাকায় প্রতিদিন যোহরের ছালাত দেরী করে পড়তে হয়। এক্ষণে আমার করণীয় কি?


নিয়মিতভাবে দেরী করে ছালাত আদায় করা যাবে না। বরং সাধ্যমত যথাসময়ে ছালাত আদায়ের চেষ্টা করবে। প্রয়োজনে বিশেষ অনুমতি নিয়ে সময়মত ছালাত আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। সুযোগ না পেলে যখন সময় পাবে তখনই ছালাত আদায় করে নিবে (মুসলিম হা/৬৮৪; মিশকাত হা/৬০৪)

Posted in ছালাত নিয়মিতভাবে দেরী করে আদায় করা যাবে কি? | Tagged

আপন ভাগ্নী জামাই তথা বোনের মেয়ের স্বামীর সাথে হজ্জে যাওয়া যাবে কি? উল্লেখ্য যে, সাথে বোনের মেয়েও থাকবে।


মাহরাম ছাড়া কোন মহিলার উপর হজ্জ ফরয নয়। যদি কোন মহিলার সঙ্গে মাহরাম না যায় তাহ’লে তার উপর হজ্জ বা সফর বৈধ নয় (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৫১৩, ১৫ ‘হজ্জ’ অধ্যায়)। ভাগ্নী জামাই তার মামী শ্বাশুড়ীর জন্য মাহরাম নয়। অতএব তার সঙ্গে হজ্জে যাওয়া যাবে না।

Posted in হজ্জে আপন ভাগ্নী জামাই এর সাথে যাওয়া যাবে কি? | Tagged ,

অনেকে পিঁপড়ার চলাফেরা ও আচরণ দেখে বৃষ্টি বা বন্যার আশংকা করে। এরূপ ভাবনা কি শিরক হবে?


এগুলি কুসংস্কার মাত্র। তবে এজন্য শিরকের গুনাহ হবে না।

Posted in পিঁপড়ার চলাফেরা ও আচরণ দেখে বৃষ্টি বা বন্যার আশংকা করা শিরক হবে কি? | Tagged ,

শিরক থেকে ক্ষমা চাইতে হ’লে সেই শিরকের নাম ধরে ক্ষমা চাইতে হবে কি? যদি তাই হয় তবে পূর্বেকৃত বিবিধ শিরকী কার্যকলাপ থেকে তওবা করার উপায় কি?


শিরক থেকে ক্ষমা চাওয়ার সময় শিরকের নাম উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। বরং সামগ্রিকভাবে শিরকের গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য তওবা করতে হবে। মা‘ক্বিল বিন ইয়াসার (রাঃ) বলেন, আমি আবুবকর ছিদ্দীক (রাঃ)-এর সাথে নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট গেলাম। তিনি বললেন, হে আবুবকর! নিশ্চয়ই শিরক পিপীলিকার পদচারণা থেকেও সন্তর্পণে তোমাদের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। আবুবকর (রাঃ) বলেন, কারো আল্লাহর সাথে অপর কিছুকে ইলাহরূপে গণ্য করা ছাড়াও কি শিরক আছে? রাসূল (ছাঃ) বলেন, সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! শিরক পিপীলিকার পদধ্বনির চেয়েও সূক্ষ্ম। আমি কি তোমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিব না, যা তুমি বললে শিরকের অল্প ও বেশী সবই দূর হয়ে যাবে? অতঃপর তিনি বলেন, তুমি বলো,(اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ وَأَسْتَغْفِرُكَ لمِاَ لاَ أَعْلَمُ) ‘হে আল্লাহ! আমি সজ্ঞানে তোমার সাথে শিরক করা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই এবং যা আমার অজ্ঞাত তা থেকেও তোমার কাছে ক্ষমা চাই’ (আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৭১৬; ছহীহুল জামে‘ হা/৩৭৩১)। ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) বলেন, জানা ও অজানা সকল গুনাহ থেকে নাজাত পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হ’ল আমভাবে তওবা করা। হ’তে পারে জানা অপেক্ষা তার অজানা গুনাহের পরিমাণ অধিক (মাদারিজুস সালেকীন ১/২৮৩)

Posted in শিরক থেকে ক্ষমা চাইতে হ’লে সেই শিরকের নাম ধরে ক্ষমা চাইতে হবে কি? | Tagged

জনৈক বক্তা বলেন, ভাতের পাত্রের মাঝখান থেকে চামচ ঢুকিয়ে ভাত বাড়া যাবে না। বরং যেকোন পাশ থেকে চামচ ঢুকাতে হবে। নইলে বরকত কমে যাবে। একথার কোন সত্যতা আছে কি?


কথাটি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমাদের কেউ খাওয়ার সময় যেন পাত্রের মাঝখান থেকে না খায়, বরং তার কিনারা থেকে খাওয়া শুরু করে। কেননা পাত্রের মাঝখানে বরকত নাযিল হয় (আবুদাউদ হা/৩৭৭২; তিরমিযী হা/১৮০৫)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, রাসূল (ছাঃ) একদা ছারীদের উপরাংশ স্পর্শ করে বলেন, বিসমিল্লাহ বলে তার চারপাশ থেকে খাও এবং তার উপরাংশ রেখে দাও। কারণ এই উপরের দিক থেকেই বরকত আসে’ (ইবনু মাজাহ হা/৩২৭৬; ছহীহাহ হা/২০৩০)

Posted in ভাতের পাত্রের মাঝখান থেকে চামচ ঢুকিয়ে ভাত বাড়া যাবে না কথাটি সত্য কি? | Tagged ,