জনৈক ব্যক্তি যৌতুকের অর্থ দিয়ে বৌভাতের আয়োজন করে দাওয়াত দিয়েছে। সেখানে যাওয়া জায়েয হবে কি?


যৌতুক লেনদেন ইসলামে হারাম। তাই যৌতুক গ্রহণকারী পাপী হবে। কিন্তু এজন্য তার দাওয়াত গ্রহণে কোন বাধা নেই। কারণ একজনের পাপের বোঝা অন্যে বহন করবে না (আন‘আম ১৬৪)। বরং স্পষ্ট পাপাচারী না হ’লে ওয়ালীমার দাওয়াত গ্রহণ করা ওয়াজিব (বুখারী হা/৫১৭৭; মুসলিম হা/১৪৩২; মিশকাত হা/৩২১৮)। তাছাড়া ওয়ালীমার আয়োজনে মেয়ে পক্ষ ছেলেকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে পারে (শারহুস সুন্নাহ ৮/১৪; উছায়মীন, ফাতাওয়া নুরুন আলাদ-দারব ১/৫)

Advertisements
Posted in যৌতুকের অর্থ দিয়ে বৌভাতের দাওয়াত খাওয়া যাবে কি? | Tagged ,

ওয়াক্ত শুরুর পূর্বে আযান দেওয়া বৈধ হবে কি?


কোন ছালাতের জন্য সময়ের পূর্বে আযান দেওয়া শরী‘আত সম্মত নয়। কেউ এরূপ করে ছালাত আদায় করলে তাকে পুনরায় আযান দিয়ে ছালাত আদায় করতে হবে (আবুদাউদ হা/৫৩২-৫৩৩; ইবনু কুদামা, মুগনী ১/২৯৭)। তবে ফজরের পূর্বে সাহারী বা তাহাজ্জুদের জন্য আযান দেওয়া যাবে (বুখারী হা/৬১৭; মুসলিম হা/১০৯২; মিশকাত হা/৬৮০)। অতঃপর ফজরের ছালাতের জন্য পুনরায় আযান দিতে হবে (মুবারকপুরী, তোহফা ১/৫১৫-১৬)

Posted in আযান ওয়াক্ত শুরুর পূর্বে দেওয়া বৈধ হবে কি? | Tagged

দোকান থেকে খাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে নগদে এক মূল্যে এবং বাকীতে তথা কিস্তিতে অধিক মূল্যে ক্রয় করতে হয়। এরূপ ক্রয়-বিক্রয় জায়েয হবে কি?


এরূপ ক্রয়-বিক্রয় জায়েয নয়। কারণ বেশী নেওয়াটা সূদ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি একটি ব্যবসায়ে দু’টি বিক্রয় করে সে কম মূল্যেরটা নিবে অথবা সূদ নিবে’ (আবুদাঊদ হা/৩৪৬১; ছহীহাহ হা/২৩২৬)। এখানে ক্রেতাকে এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে দু’টির যেকোন একটি গ্রহণ করার। হয় সে নগদে কম মূল্যে খরীদ করবে, যা সিদ্ধ। নয় বাকীতে বেশী মূল্যে খরীদ করবে, যা সূদ এবং যা নিতে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিষেধ করেছেন। এর মধ্যে অজ্ঞতার কিছু নেই। তিনি আরো বলেন, ‘সূদ হয় বাকীতে’ (বুখারী হা/২১৭৯; মুসলিম হা/১৫৯৬; মিশকাত হা/২৮২৪)। অতএব বাকীতে অতিরিক্ত মূল্যের বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না (বিস্তারিত দ্রঃ বায়‘এ মুআজ্জাল’ বই)

Posted in বাকীতে অতিরিক্ত মূল্যের বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে কি? | Tagged ,

বিবাহের পর স্বামী কর্মহীন থাকায় পরিবারের চাপে বাধ্য হয়ে স্ত্রী ডিভোর্স লেটারে স্বাক্ষর করে। তবে স্বামী তা গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে স্ত্রী স্বামী থেকে আলাদা বসাবস করলেও তাদের মাঝে সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি। এক্ষণে স্বামীর নিকটে ফিরে যেতে বিবাহের প্রয়োজন হবে কি?


প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় ‘খোলা’ হয়েছে। এক্ষণে উক্ত নারীর সাথে সংসার করতে চাইলে নতুন বিবাহের মাধ্যমে সংসার করবে (বাক্বারাহ ২/২৩২; তালাক ৬৫/১; বুখারী হা/৫১৩০)

Posted in স্ত্রী ডিভোর্স লেটারে স্বাক্ষর করলে তালাক হবে কি? | Tagged , ,

ছালাত ব্যতীত জীবনের কোন মূল্য নেই, যেমন মস্তিষ্ক ব্যতীত দেহের কোন মূল্য নেই। কথাটি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত কি?


এটা প্রচলিত একটি কথা মাত্র। উক্ত মর্মে কোন হাদীছ পাওয়া যায় না। এর দ্বারা মূলত ছালাতের গুরুত্ব বুঝানো হয়েছে।

Posted in ছালাত ব্যতীত জীবনের কোন মূল্য নেই কথাটি কি হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত কি? | Tagged

আমি আমার স্ত্রীকে তিন মাসে তিন তালাক দেই। পরে গ্রাম্য সালিসে আমাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়া হয়। এক্ষণে উক্ত স্ত্রীর সাথে আমার সংসার করা জায়েয হচ্ছে কি?


উক্ত স্ত্রীর সাথে সংসার করা হারাম। কেননা তিন মাসে তিন তালাক প্রদানের মাধ্যমে তালাকটি ‘বায়েন’ তথা বিচ্ছিন্নকারী তালাকে পরিণত হয়েছে। এরপর তার পক্ষে আর পূর্ব স্বামীর কাছে ফিরে আসার সুযোগ নেই, যতক্ষণ না সে অন্যত্র স্বেচ্ছায় বিবাহ করে ও স্বেচ্ছায় তালাকপ্রাপ্তা হয় (বাক্বারাহ ২/২২৯-৩০)। এক্ষণে তার জন্য অনতিবিলম্বে পৃথক হওয়া ও তওবা করা আবশ্যক।

Posted in তালাক তিন মাসে তিনটা দেয়ার পরে সালিসে মীমাংসা হয়ে সংসার করা যাবে কি? | Tagged

মাঝে মাঝে ছালাত আদায়কারী কসাইয়ের যবেহ করা পশুর গোশত খাওয়া যাবে কি?


কোন মুসলিম কর্তৃক বিসমিল্লাহ বলে যবেহ করা পশুর গোশত খাওয়া জায়েয। কারণ সে ছালাতকে অস্বীকার করে না। বরং অলসতাবশত মাঝে-মধ্যে ছেড়ে দেয় (শায়খ বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১০/২৭৫)। তবে তাকে ছালাত আদায়ের উপদেশ দিতে হবে। কারণ ইচ্ছাকৃতভাবে ছালাত পরিত্যাগ করা কুফরীর পর্যায়ভুক্ত মহাপাপ (মুসলিম হা/৮২; মিশকাত হা/৫৬৯)

Posted in মাঝে মাঝে ছালাত আদায়কারী কসাইয়ের যবেহ করা পশুর গোশত খাওয়া যাবে কি? | Tagged ,

আমি কুরআন তেলাওয়াত করতে পারি না। এক্ষণে অনুবাদ পাঠ করলে তেলাওয়াতের নেকী পাওয়া যাবে কি?


অনুবাদ পড়ে তেলাওয়াতের নেকী পাওয়ার পক্ষে কোন দলীল নেই। কুরআন আরবীতেই পড়তে হবে, যাতে প্রতি হরফের বিনিময়ে ১০টি নেকী পাওয়া যাবে (হাকেম হা/২০৮০; ছহীহাহ হা/৬৬০)। তবে কেউ কুরআন বুঝার জন্য অনুবাদ পাঠ করলে ছওয়াব পাবে (নিসা ৪/৮২; মুহাম্মাদ ৪৭/২৪)। কারণ এটি একটি উত্তম সৎকর্ম। আর প্রত্যেক সৎকর্মের জন্য আল্লাহ পুরস্কার দিবেন (হূদ ১১/১১৪-১১৫)

Posted in কুরআনের অনুবাদ পাঠ করলে তেলাওয়াতের নেকী পাওয়া যাবে কি? | Tagged

ছালাতের মধ্যে তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে ভুল করে ফেললে বা এক সূরার আয়াতের মাঝে অন্য সূরার আয়াত পাঠ করে ফেললে উক্ত ছালাত কবুলযোগ্য হবে কি? এজন্য সহো সিজদা দিতে হবে কি?


এতে ছালাতের কোন ক্ষতি হবে না এবং এজন্য সহো সিজদাও দিতে হবে না। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) বলেন, একবার আমি রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে ছালাতে ছিলাম। তিনি একটি আয়াত ছেড়ে চলে গেলেন। ছালাত শেষে আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আয়াতটি মানসূখ হয়ে গেছে না পড়তে ভুলে গিয়েছিলেন? তিনি বললেন, না বরং ভুলে গিয়েছিলাম (ছহীহ ইবনু খুযায়মা হা/১৬৪৭; আহমাদ হা/১৫৪০২, সনদ ছহীহ; বুখারী, জুযউল ক্বিরাআত খালফাল ইমাম হা/১২৩)

Posted in ছালাতের মধ্যে তেলাওয়াত ভুল করে ফেললে সহো সিজদা দিতে হবে কি? | Tagged

তোমরা ঠান্ডা পানি দ্বারা ইস্তিনজা কর, কারণ এটা হারিশ রোগ আরোগ্যকারী- মর্মে বর্ণিত হাদীছটি ছহীহ কি?


উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (মু‘জামুল আওসাত্ব হা/৪৮৫৮; মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ হা/৮৩৮২; সিলসিলা যঈফাহ হা/৭০১০;)

Posted in ঠান্ডা পানি দ্বারা ইস্তিনজা করতে হবে কি

ক্বিয়ামতের দিন আলেম-ওলামা ও হাফেযদের বিচার কুরআনের সম্মানে পৃথকভাবে করা হবে কি? এছাড়া তাদের ছোট-খাট ভুল ক্ষমা করে দেওয়া হবে কি?


কুরআনের সম্মানে তাদের পৃথক বিচার করা হবে না। তবে শহীদ, আলেম ও ক্বারী এবং দাতাদের প্রথমে বিচার করা হবে মর্মে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। যেখানে লোক দেখানো আমলকারীরা পাকড়াও হবে (মুসলিম হা/১৯০৫; মিশকাত হা/২০৫)। আর ক্বিয়ামতের দিন মানুষকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হবে। ১. আরশের ডানে অবস্থানকারী। এরা সকলে জান্নাতবাসী। ২. আরশের বামে অবস্থানকারী যারা সকলে জাহান্নামী। ৩. অগ্রগামী দল যারা আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য লাভকারী। যাদের মধ্যে রয়েছে নবী-রাসূল, শহীদ ও ছিদ্দীকগণ (ওয়াকি‘আ ৫৬/৭-৮; তাফসীরে ইবনু কাছীর অত্র আয়াতের তাফসীর দ্রষ্টব্য)। উল্লেখ্য যে, হাফেযে কুরআনের বিশেষ ফযীলত হাদীছে বর্ণিত হয়েছে। তারা সম্মানিত ফেরেশতাদের সাথে অবস্থান করবেন (বুখারী হা/৪৯৩৭; মুসলিম হা/৭৯৮;মিশকাত হা/২১১২)। তাদের মুখস্থ অনুযায়ী জান্নাতের উঁচুস্তরে স্থান লাভ করবে (আবুদাউদ হা/১৪৬৪; মিশখাত হা/২১৩৪; ছহীহাহ হা/২২৪০)। তাদেরকে সম্মানের মুকুট ও পোশাক পরানো হবে এবং আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন (তিরমিযী হা/২৯১৫; ছহীহ আত-তারগীব হা/১৪২৫)। কুরআন তাদের জন্য সুফারিশ করবে (মুসলিম হা/৮০৪; মিশকাত হা/২১২০)। নেক আমলকারী হাফেযকে মর্যাদার মুকুট ও তার পিতা-মাতাকে দু’জোড়া সর্বোত্তম পোষাক পরানো হবে (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/৬০১৪, ছহীহাহ হা/২৮২৯)

Posted in আলেম-ওলামা ও হাফেযদের ছোট-খাট ভুল ক্ষমা করে দেওয়া হবে কি? | Tagged , ,

রাসূল (ছাঃ) নিজে কখনো দরূদে ইবরাহীমী পাঠ করেছেন কি?


রাসূল (ছাঃ) প্রতি ছালাতে দরূদে ইবরাহীমী পাঠ করতেন। কারণ শরী‘আতের বিধান রাসূল (ছাঃ) নিজে আগে পালন করতেন। তারপর ছাহাবীগণকে শিক্ষা দিতেন (মিরক্বাত ২/৭৩৩-৭৩৪)। আলবানী বলেন, রাসূল (ছাঃ) তাশাহহুদে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে নিজের প্রতি নিজে দরূদ পাঠ করতেন। আর তা উম্মতের জন্য সুন্নাত সাব্যস্ত করেছেন (আছলু ছিফাতি ছালাতিন নবী (ছাঃ) পৃ. ৯০৪)

Posted in রাসূল (ছাঃ) নিজে কখনো দরূদে ইবরাহীমী পাঠ করেছেন কি? | Tagged

কাউকে স্বামী বা স্ত্রী হিসাবে কামনা করে আল্লাহর নিকটে দো‘আ করা যাবে কি?


যেকোন কল্যাণকর কাজে দো‘আ করা যাবে। কারো দ্বীনদারী ও উত্তম আচরণ দেখে তার সাথে বিবাহের জন্যও দো‘আ করা যেতে পারে (নববী, আল-মাজমূ‘ ৩/৪৭১; উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ৩/২০৫-৬)। তবে এক্ষেত্রে হাদীছে বর্ণিত সারগর্ভ দো‘আ করাই উত্তম। যেমন রাববানা আ-তিনা ফিদ্ দুনইয়া হাসানাতাওঁ ওয়া ফিল আ-খিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়া ক্বিনা ‘আযা-বান্না-র। অর্থ: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দাও ও আখেরাতে কল্যাণ দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচাও’ (বাক্বারাহ ২/২০১)

আর দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য কে কল্যাণকর হবে, সে ব্যাপারে আল্লাহই ভাল জানেন। সেজন্য সর্বোত্তম পন্থা হ’ল- ইস্তিখারার দো‘আ পাঠ করা, যা শরী‘আত নির্দেশিত। যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, হে আল্লাহ! যদি তুমি জানো যে, এ কাজটি আমার জন্য উত্তম হবে আমার দ্বীনের জন্য, আমার জীবিকার জন্য ও আমার পরিণাম ফলের জন্য, তাহ’লে ওটা আমার জন্য নির্ধারিত করে দাও এবং সহজ করে দাও। অতঃপর ওতে আমার জন্য বরকত দান কর। আর যদি তুমি জানো যে, এ কাজটি আমার জন্য মন্দ হবে আমার দ্বীনের জন্য, আমার জীবিকার জন্য ও আমার পরিণাম ফলের জন্য, তাহ’লে এটা আমার থেকে ফিরিয়ে নাও এবং আমাকেও ওটা থেকে ফিরিয়ে রাখ। অতঃপর আমার জন্য মঙ্গল নির্ধারণ কর, যেখানে তা আছে এবং আমাকে তা দ্বারা সন্তুষ্ট কর’ (বুখারী হা/১১৬২; মিশকাত হা/১৩২৩)

Posted in কাউকে স্বামী বা স্ত্রী হিসাবে কামনা করে দো‘আ করা যাবে কি? | Tagged ,

মসজিদের বারান্দার নীচে টয়লেটের হাউজ থাকলে উক্ত বারান্দায় ছালাত আদায় করা জায়েয হবে কি?


উপরিভাগ পবিত্র থাকলে তার উপর ছালাত আদায় করা যাবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, সমস্ত যমীন আমার জন্য পবিন্ত এবং তা ছালাত আদায়ের উপযোগী করা হয়েছে। কাজেই আমার উম্মতের যে কোন ব্যক্তি ওয়াক্ত হ’লেই ছালাত আদায় করতে পারবে’ (বুখারী হা/ ৩৩৫; মুসলিম হা/৫৭৪৭)

Posted in টয়লেটের হাউজের উপর ছালাত আদায় করা জায়েয হবে কি? | Tagged

আউয়াল ওয়াক্তে ছালাত আদায়ের লক্ষ্যে আমাদের এখানে যোহরের ছালাত ১২.৫০ মিনিটে আদায় করা হয়। এক্ষণে আউয়াল ওয়াক্তের মধ্যে জুম‘আর খুৎবা ও ছালাত কখন শুরু বা শেষ করা সমীচীন হবে?


যোহরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর খুৎবা শুরু করে শীত-গ্রীষ্মকালভেদে ১-টা থেকে ১.৩০ মিনিটের মধ্যে জুম‘আর ছালাত সমাপ্ত করা সমীচীন হবে। কারণ এরপরে আদায় করলে আউয়াল ওয়াক্ত থাকে না। আউয়াল ওয়াক্ত বলতে ওয়াক্তের প্রথমভাগকে বুঝানো হয়, ওয়াক্তের শুরুকে নয়। জিবরীল (আঃ) রাসূল (ছাঃ)-কে আউয়াল ও আখের ওয়াক্তে দু’দিন ছালাত আদায় করিয়ে বলেন, উক্ত দুই ওয়াক্তের মধ্যবর্তী সময়কালই হ’ল আপনার উম্মতের জন্য ছালাতের ওয়াক্ত (আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৫৮৩ ‘ছালাতের সময়কাল’ অনুচ্ছেদ)। যেমন শীত ও গ্রীষ্মকাল ভেদে সারাবছর ঢাকায় যোহরের সময় শুরু হয় ১১:৪২ থেকে ১২:১৩ মিনিটে এবং শেষ হয় ০২:৫০ মিঃ থেকে ০৩:৩২ মিনিটে। এ দুই প্রান্তসীমার মধ্যবর্তী সময়ের প্রথমভাগকে আউয়াল ওয়াক্ত ধরা হবে। প্রথমভাগেই রাসূল (ছাঃ) জুম‘আর ছালাত আদায় করতেন’ (বুখারী হা/৯০৪-৯০৫; মিশকাত হা/১৪০১)। সালামা ইবনু আকওয়া (রাঃ) বলেন, সূর্য ঢলে যাওয়ার পর আমরা রাসূল (ছাঃ)-এর সঙ্গে জুম‘আর ছালাত আদায় করতাম। এরপর ছায়ায় হেঁটে প্রত্যাবর্তন করতাম (মুসলিম হা/৮৬০; ইবনু হিববান হা/১৫১২; বিস্তারিত

Posted in আউয়াল ওয়াক্তে জুম‘আর ছালাত কখন শুরু বা শেষ করা সমীচীন হবে? | Tagged

ছোট শিশুদের বাঁশিযুক্ত জুতা পরানো যাবে কি?


বাদ্য-বাজনা ইসলামে হারাম। তাই বাঁশি ও বাজনাযুক্ত জুতা পরানো যাবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, দু’টি বস্ত্ত দুনিয়া ও আখেরাতে অভিশপ্ত। আনন্দের সময় বাঁশি বাজানো এবং মুছীবতের সময় বিলাপ করা (বাযযার, ছহীহুত তারগীব হা/৩৫২৭; মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ হা/৪০১৭)। তিনি আরো বলেন, আমি দু’টি নির্বোধসূলভ ও পাপাচারমূলক চিৎকার নিষেধ করেছি। আনন্দের সময় খেল-তামাশা, শয়তানের বাঁশি বাজানো ও বিপদের সময় চিৎকার করা, মুখমন্ডলে আঘাত করা এবং জামার সম্মুখভাগ ছিঁড়ে ফেলা আর শয়তানের মত (চিৎকার করে) কান্নাকাটি করা (হাকেম হা/৬৮২৫; তিরমিযী হা/১০০৫; ছহীহুল জামে‘ হা/৫১৯৪)। অতএব কোমলমতি শিশুদের এসব শব্দ শুনানো থেকে বিরত রাখতে হবে।

Posted in ছোট শিশুদের বাঁশিযুক্ত জুতা পরানো যাবে কি? | Tagged

জনৈক আলেম বলেন, পানি থাকা অবস্থায় ঢিলা কুলুখ ব্যবহার করা যাবে না। এটা সঠিক কি? আর পানি থাকা অবস্থায় টিস্যু ব্যবহার করা যাবে কি?


পানি থাকলে পানি ব্যবহার করবে। কারণ আল্লাহ পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন (আবুদাউদ হা/৪৪; মিশকাত হা/৩৬৯; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৭৬০)। ইমাম তিরিমিযী বলেন, বিদ্বানগণ (পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে) পানিকেই যথেষ্ট মনে করেন। পানি না পেলে কুলুখ নিবে (তিরমিযী হা/১৯ আলোচনা দ্রঃ)। তবে কেউ যদি পানি থাকা সত্ত্বেও মাটি বা অনুরূপ কিছু দ্বারা ইস্তিঞ্জা করে তাহ’লে পবিত্রতা অর্জন হয়ে যাবে (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২২/১৬৭; বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৯/১৫; উছায়মীন, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব ১১৫/১২; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৪/৩৪)। স্মর্তব্য যে, কুলুখ ব্যবহার করার ফযীলত সম্পর্কে যেসব হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, তার সবই যঈফ ও জাল।

Posted in পানি থাকা অবস্থায় ঢিলা কুলুখ ব্যবহার করা যাবে কি? | Tagged

বিতর ছালাত নিয়মিতভাবে এক রাক‘আত পড়া যাবে কি? এক রাক‘আত উত্তম হলে রামাযানে নিয়মিত ৩ রাক‘আত পড়ার কারণ কি?


নিয়মিত এক ও তিন রাক‘আত বিতর পড়া যাবে। আর রামাযানে তিন রাক‘আত বিতর পড়ার কারণ হ’ল হাদীছে বর্ণিত এগার রাক‘আত পূর্ণ করা। কারণ তারাবীহ ও তাহাজ্জুদের ব্যাপারে হাদীছে ১১ রাক‘আতের কথাই বলা হয়েছে। তন্মধ্যে চার চার আট রাক‘আত তারাবীহ ও তিন রাক‘আত বিতর (বুখারী হা/১১৪৭; মুসলিম হা/৭৩৮)। রাসূল (ছাঃ) রাতের ছালাত দু’দু’রাক‘আত পড়তেন। অতঃপর এক রাক‘আত বিতর পড়তেন’ (বুখারী হা/৯৯৫; মুসলিম হা/৭৫২; মিশকাত হা/১২৫৫)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে পাঁচ রাক‘আত বিতর পড়তে পসন্দ করে সে তা করতে পারে। আর যে তিন রাক‘আত বিতর পড়তে পসন্দ করে সে তা করতে পারে। যে এক রাক‘আত বিতর পড়তে পছন্দ করে সে তা করতে পারে’ (আবুদাউদ হা/১৪২২; মিশকাত হা/১২৬৫, সনদ ছহীহ)

Posted in বিতর ছালাত নিয়মিতভাবে এক রাক‘আত পড়া যাবে কি? | Tagged

পোষাকে বমি লেগে গেলে উক্ত পোষাকে ছালাত হবে কি?


উক্ত পোষাকে ছালাত হবে। অতএব মুছাল্লীর রুচি হ’লে তাতে ছালাত আদায় করবে নতুবা তা পরিবর্তন করবে। কারণ বমি নাপাক হওয়ার পক্ষে কোন ছহীহ হাদীছ নেই। শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ, আলবানী, শাওকানী, শায়খ বিন বায, উছায়মীন প্রমুখ বিদ্বান বমিকে ওযূ ভঙ্গের কারণ হিসাবে গণ্য না করে একে সাধারণভাবে পবিত্র বলেছেন (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৫/২২২ ; ইরওয়া ১/১৪৮; তামামুল মিন্নাহ ১/৫৪; আস-সায়লুল জার্রার ১/৩০; মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২২/৩৫২)। অধিক পরিমাণে বমি হ’লে ছালাত ছেড়ে দিবে এবং পরিচ্ছন্ন হয়ে ছালাতে যোগদান করবে। আর ছালাতের বাইরে বমি হ’লে বমিযুক্ত কাপড় কেবল ধুয়ে নিবে। তবে শিশুদের বমি কাপড়ে লাগলে বার বার ধোয়া লাগবে না। কারণ শিশুদের বমির বিষয়টি ভিন্ন (ইবনুল ক্বাইয়িম, তোহফাতুল মাওদূদ ২১৮ পৃঃ)

Posted in পোষাকে বমি লেগে গেলে উক্ত পোষাকে ছালাত হবে কি? | Tagged

আমার মায়ের সব সম্পদ পিতার নিয়ন্ত্রণে। তিনি এর যাকাত দেন না আবার সম্পদও দেন না। এক্ষণে এজন্য আমার মা গোনাহগার হবেন কি?


মা সম্পদের মালিকানা গ্রহণে নিরুপায় হ’লে তিনি গুনাহগার হবেন না ইনশাআল্লাহ। কারণ যাকাত দেওয়ার জন্য শর্ত হ’ল সম্পদ ব্যক্তির মালিকানায় থাকা। অতএব যেদিন তিনি পূর্ণ মালিকানা লাভ করবেন, সেদিন থেকে নিয়ম অনুযায়ী যাকাত আদায় করবেন (ইবনু তায়মিয়াহ, আল-ইখতিয়ারাত ৪৫২ পৃষ্ঠা; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৮/১১, ১৮/১৩৪)

Posted in যাকাত না দিলে গোনাহগার হবেন কি? | Tagged

দুই তলাবিশিষ্ট মসজিদের ২য় তলায় ছালাতের স্থান এবং নীচতলা ছাত্রাবাসে পরিণত করা জায়েয হবে কি?


মসজিদের নীচতলায় ছাত্রাবাস করায় কোন বাধা নেই। ইমাম ইবনে তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, ‘মসজিদের নীচে দোকান-পাট ও পানির হাউয তৈরী করা যায়। তাতে কোন বাধা নেই’ (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩১/২১৮-২১৯)। যেখানে দোকানপাট করা যাবে সেখানে ছাত্রাবাসও করা যাবে। তবে ছাত্রাবাসের ছাত্ররা যাতে শরী‘আতের বিধান মেনে চলে সে ব্যবস্থা থাকতে হবে।

Posted in দুই তলাবিশিষ্ট মসজিদের নীচতলা ছাত্রাবাসে পরিণত করা যাবে কি? | Tagged

রিজাল শাস্ত্র কি? প্রত্যেক আলেমের জন্য রিজাল শাস্ত্র সম্পর্কে জানা আবশ্যক কি?


রিজাল শাস্ত্র হ’ল হাদীছের সনদ সম্পর্কে জ্ঞান। অর্থাৎ সনদে যে সকল বর্ণনাকারী রয়েছেন তারা নির্ভরযোগ্য কি-না, সে সম্পর্কিত বিশেষায়িত জ্ঞান। ইসলামী শরী‘আতের বিধি-বিধান সম্পর্কে অভিজ্ঞ আলেমদের জন্য রিজালশাস্ত্র জানা আবশ্যক। দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার তারতম্য থাকতে পারে, তবে এ বিষয়ে প্রাথমিক জ্ঞান অবশ্যই থাকতে হবে। ওলামায়ে সালাফ কেবল হাদীছের জ্ঞান থাকলেই তাকে আলেম হিসাবে গণ্য করতেন না, যতক্ষণ না তিনি হাদীছের সনদসমূহ এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতেন (তাদরীবুর রাবী ১/৩০)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! যদি কোন ফাসিক্ব ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে তবে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখ’ (হুজুরাত ৪৯/৬)। সুতরাং ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ যদি কোন হাদীছের সনদ সম্পর্কে না জেনে বর্ণনা করে, তবে সে মিথ্যুকদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করল, সে যেন তার স্থানকে জাহান্নামে বানিয়ে নিল’ (ছহীহ মুসলিম মিশকাত হা/১৯৮ ‘ইলম’ অধ্যায়)। আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেন, সনদ হচ্ছে দ্বীন। যদি সনদ না থাকত তাহ’লে যার যা ইচ্ছা তাই বর্ণনা করত (ছহীহ মুসলিম, মুক্বাদ্দামা হা/৩২)

Posted in রিজাল শাস্ত্র কি? প্রত্যেক আলেমের জন্য রিজাল শাস্ত্র সম্পর্কে জানা আবশ্যক | Tagged

ওযূর ক্ষেত্রে নাকে ও মুখে পৃথক পৃথকভাবে পানি দেওয়ায় সুবিধা হয়। এটা জায়েয হবে কি?


সুন্নাত হ’ল একই অঞ্জলী দিয়ে মুখে ও নাকে পানি দিয়ে ওযূ করবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) এক অঞ্জলী পানি নিয়ে অর্ধেক দিয়ে কুলি করতেন এবং অর্ধেক পানি নাকে দিতেন (বুখারী হা/১৯১, ১৯৯; মুসলিম হা/২৩৫; মিশকাত হা/৩৯৪)। এর বিপরীত যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা যঈফ (আবুদাউদ হা/১৩৯, আহমাদ হা/১৩৫৫, সনদ যঈফ; ইবনুল ক্বাইয়িম, যাদুল মা‘আদ ১/১৮৫; নববী, শরহ মুসলিম ৩/১০৫-১০৬)। তবে যারা সহজে একাজটি করতে পারে না, তারা আলাদাভাবে পানি নিয়ে নাকে ও মুখে দিয়ে ওযূ করতে পারে (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১২/২৫৭; ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) পৃ. ৬১)। কারণ এর উদ্দেশ্য হ’ল ভালোভাবে কুলি করা ও নাক ঝাড়া। ছাহেবে মিরক্বাত বলেন,وَالْأَظْهَرُ أَنَّ مِنْ كَفَّةٍ تَنَازَعَ فِيهِ الْفِعْلَانِ، وَالْمَعْنَى مَضْمَضَ مِنْ كَفَّةٍ وَاسْتَنْشَقَ مِنْ كَفَّةٍ এটি স্পষ্ট যে, এক অঞ্জলী’ শব্দের মধ্যে দু’টি ক্রিয়া রয়েছে। অর্থাৎ এক অঞ্জলী দ্বারা কুলি করবে এবং অপর অঞ্জলী দ্বারা নাক ঝাড়বে (মিরক্বাত হা/৩৯৪-এর ব্যাখ্যা)

Posted in ওযূর ক্ষেত্রে নাকে ও মুখে পৃথক পৃথকভাবে পানি দেওয়া যাবে কি? | Tagged

যদি কেউ ভুলবশতঃ আমার নম্বরে ফ্লেক্সিলোড করে এবং পরে টাকা ফেরত না চায়। সেক্ষেত্রে আমার করণীয় কি?


প্রকৃত মালিকের নিকট সেটি পৌঁছানোর জন্য এক বছর যাবৎ সাধ্যমত চেষ্টা করবে। তারপরেও খোঁজ না পাওয়া গেলে তা নিজে ব্যবহার করবে এবং হিসাব করে রাখবে। পরবর্তীতে কেউ দাবী করলে তাকে তা ফেরত দিবে (বুখারী হা/৯১; মুসলিম হা/১৭২২; মিশকাত হা/৩০৩৩)

Posted in ফ্লেক্সিলোড করে যদি টাকা ফেরত না চায়। সেক্ষেত্রে আমার করণীয় কি? | Tagged

বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন অনুযায়ী কুরআন শেখা এবং সে চিহ্ন অনুযায়ী কুরআন পড়া জায়েয হবে কি?


কুরআনকে শুদ্ধভাবে তেলাওয়াতের জন্য যেকোন বৈধ পন্থা অবলম্বন করা যেতে পারে। যেমন কুরআনকে সহজে তেলাওয়াতের জন্য ছাহাবী ও তাবেঈদের যুগে নোকতা ও হরকত সংযোজন করা হয় (যাহাবী, তারীখুল ইসলাম ৬/৫০৩; যুরক্বানী, মানাহিলুল ইরফান ১/৪০৬-৪০৭)। কিন্তু বর্তমানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কুরআন শিখানোর নামে যা করা হচ্ছে, তা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে গেছে। এগুলি থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একদিন আরব ও অনারব উভয় ব্যক্তিদের মজলিসে তেলাওয়াত শুনছিলেন। অতঃপর তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, তোমরা পাঠ কর। সবটাই সুন্দর। মনে রেখ সত্বর একদল লোক আসবে, যারা কুরআনের পাঠ ঠিক করবে যেভাবে তীর ঠিক করা হয়। তারা দুনিয়াতেই দ্রুত ফল চাইবে, আখেরাতের অপেক্ষা করবে না’ (আবুদাঊদ হা/৮৩০; মিশকাত হা/২২০৬)। অর্থাৎ লোক দেখানো ও শুনানোই সেখানে মুখ্য হবে।

Posted in কুরআন বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন অনুযায়ী পড়া জায়েয হবে কি? | Tagged

ছহীহ বুখারীর ৮২২ নং হাদীছে ছালাত অবস্থায় চুল ও কাপড় গুটিয়ে নিতে নিষেধ করা হয়েছে। এর ব্যাখ্যা কি?


ছালাত অবস্থায় মাথার চুল ও কাপড় গুটিয়ে নিতে নিষেধ করা হয়েছে। যাতে মাথার চুল ও ঝুলে থাকা কাপড়ও মুছল্লীর সাথে সিজদায় যায়। পাশাপাশি মুছল্লীর ভিতরে যেন  কোন অহংকার প্রকাশ না পায়। কেননা সিজদায় গিয়ে ধূলা লাগার ভয়ে কাপড় ভাঁজ হয়ে যাওয়ার আশংকায় ও চুল গুটিয়ে নেওয়ায় অহংকার প্রকাশ পায়। আল্লাহ তা‘আলার সম্মুখে সিজদা করার সময় এটা একেবারে অনভিপ্রেত (ফাৎহুল বারী ২/২৯৪; মির‘আত ২/২০৬-০৭; মিরক্বাত ২/৩১৯)। জমহূর বিদ্বান বলেন, ‘পুরুষের জন্য মাথার চুল বাঁধা কেবল ছালাতের সময় নয় বরং সর্বাবস্থায় নিষিদ্ধ। ইমাম নববী বলেন, এভাবেই ছাহাবায়ে কেরাম ও অন্যান্য বিদ্বানগণ থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং এটাই সঠিক’ (মির‘আত ৩/২০৭, হা/৮৯৪-এর ব্যাখ্যা)

তবে নারীদের চুলের বিষয়টি ভিন্ন। হাফেয ইরাকী বলেন, এটি পুরুষের জন্য খাছ, মেয়েদের জন্য নয়। কেননা তাদের চুলও সতরের অন্তর্ভুক্ত, যা ছালাত অবস্থায় ঢেকে রাখা ওয়াজিব। যদি সে বেণী বা খোঁপা খুলে দেয় এবং চুল ছড়িয়ে পড়ে ও তা বেরিয়ে যায়, তাহ’লে তার ছালাত বাতিল হয়ে যাবে। (নায়লুল আওত্বার ৩/২৩৬-২৩৭ ‘পুরুষের জন্য চুল বাঁধা অবস্থায় ছালাত আদায়’ অনুচ্ছেদ)। আলবানী বলেন, ‘এটা প্রকাশ্য যে, সিজদাকালে চুল খুলে দেওয়ার নির্দেশ শুধুমাত্র পুরুষের জন্য খাছ, মহিলাদের জন্য নয়’ (ছিফাতু ছালাতিন্নবী পৃ: ১২৫)

Posted in ছালাত অবস্থায় চুল ও কাপড় গুটিয়ে নিতে নিষেধ করা হয়েছে। এর ব্যাখ্যা কি? | Tagged

আমাদের ডেকোরেশনের ব্যবসা আছে। ব্যবসার প্রয়োজনে বিবাহ, কুলখানি, গান-বাজনা ইত্যাদি অনুষ্ঠানের জন্য মালামাল ভাড়া দিতে হয়। পুরোপুরি ইসলামী শরী‘আ অনুমোদিত অনুষ্ঠান খুঁজে ভাড়া দিতে চাইলে ব্যবসা করা সম্ভব নয়। এক্ষণে আমার করণীয় কি?


বৈধ কর্মে ভাড়া দিতে হবে এবং যথাসম্ভব শরী‘আত বিরোধী কাজে সহযোগিতা থেকে বিরত থাকবে মায়েদাহ ৫/২)। আল্লাহকে ভয় করলে ও তাঁর উপর ভরসা করলে তিনি ব্যবস্থা করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন (তালাক ৬৫/২; বুখারী হা/৫১৬৪; মুসলিম হা/৩৬৭)। বৈধ কর্মে ভাড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে উক্ত ব্যবসা পরিচালনা করায় বাধা নেই। যেমন বিবাহ, ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন সভা-সম্মেলন ইত্যাদি বৈধ কর্ম। এক্ষণে এসব অনুষ্ঠানে যদি কেউ শরী‘আতবিরোধী কাজ করে, তার জন্য ভাড়া গ্রহণকারী ব্যক্তি দায়ী হবে।

Posted in ডেকোরেশনের ব্যবসায় বিবাহ কুলখানি গান-বাজনা ইত্যাদি অনুষ্ঠানের জন্য মালাম | Tagged ,

ছালাতে ক্বিরাআত পাঠের সময় মাখরাজ ও টানসমূহের দিকে খেয়াল করতে গিয়ে অর্থ বুঝা বা ভাবাবেগ ধরে রাখতে পারি না। এক্ষণে উভয়ের মাঝে কোনটির প্রতি অধিক লক্ষ্য রাখা যরূরী?


যথা সম্ভব উভয়টির দিকেই লক্ষ্য রাখতে হবে। তবে ছালাতে ক্বিরাআতের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। নইলে ক্বিরাআত ও ছালাতে ভুল হয়ে যাবে। আল্লাহ বলেন, দুর্ভোগ ঐসকল মুছল্লীর জন্য, যারা ছালাতে উদাসীন (মাঊন ৪)। রাসূল (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হ’ল, সর্বোত্তম ক্বারী কে? তিনি বললেন, যার তেলাওয়াত শুনে তোমার কাছে মনে হবে যে, ঐ ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করছে’ (দারেমী হা/৩৪৮৯; মিশকাত হা/২২০৯)।

Posted in ছালাতে ক্বিরাআত পাঠের সময় মাখরাজ ও টানসমূহের দিকে কতটুকু খেয়াল করতে হবে। | Tagged ,

বিদেশে পণ্যবাহী জাহাযে কর্মরত জনৈক ব্যক্তি দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছে। সে শহীদের মর্যাদা পাবে কি?


আল্লাহ চাইলে তিনি দু’জন শহীদের মর্যাদা পাবেন। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেন, নৌযানের ঝাঁকুনিতে বমি হ’লে সমুদ্রে সফরকারী ব্যক্তির জন্য একজন শহীদের ছওয়াব রয়েছে। আর সমুদ্রে ডুবে যাওয়া ব্যক্তির জন্য রয়েছে দু’জন শহীদের ছওয়াব (আবুদাউদ হা/২৪৯৩; মিশকাত হা/৩৮৩৯; ছহীহ আত-তারগীব হা/১৩৪৩)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূল (ছাঃ) পানিতে ডুবে মারা যাওয়া ব্যক্তিকে শহীদ বলে আখ্যায়িত করেছেন (বুখারী হা/৬৫৩; মুসলিম হা/১৯১৫; মিশকাত হা/১৫৪৬)

তবে এজন্য তাঁকে শিরক-বিদ‘আত মুক্ত ইসলামী জীবন-যাপন করতে হবে এবং সফরটি আল্লাহর আনুগত্যপূর্ণ কাজে হ’তে হবে (মিরক্বাত হা/৩৮৩৯-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ)

Posted in জাহাযে কর্মরত ব্যক্তি দুর্ঘটনায় ডুবে মারা গেলে শহীদের মর্যাদা পাবে কি? | Tagged

সুন্নাত ছালাত আদায়কালে ফরয ছালাত শুরু হয়ে গেলে কিভাবে ছালাত পরিত্যাগ করতে হবে। এসময় বসে সালাম ফিরাতে হবে কি?


এটি মুছাল্লীর অবস্থার উপর নির্ভর করবে। জামা‘আত শুরু হওয়ার পর সুন্নাত ছালাত আদায়কারী যদি বুঝতে পারে যে, ইমাম রুকূতে যাওয়ার পূর্বে সে জামা‘আতে শরীক হ’তে পারবে এবং সূরা ফাতিহা পাঠ করতে পারবে, তাহ’লে সে সংক্ষেপে সুন্নাত শেষ করে জামা‘আতে শরীক হবে (বুখারী হা/৫৮০; মুসলিম হা/৬০৭; মিশকাত হা/৬৮৬, ১৪১২)। অন্যথায় সুন্নাত ছালাত ছেড়ে জামা‘আতে শরীক হবে (মুসলিম হা/৭১০; মিশকাত হা/১০৫৮)। এজন্য তাকে সালাম ফিরাতে হবে না। আর ফরয ছালাত শুরু হয়ে গেলে নতুনভাবে সুন্নাত ছালাত শুরু করা যাবে না (শায়খ বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১১/৩৮৯; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৫/১০১)

Posted in সুন্নাত আদায়কালে ফরয ছালাত শুরু হয়ে গেলে কিভাবে ছালাত পরিত্যাগ করতে হবে? | Tagged

আমি আহলেহাদীছ হওয়া সত্ত্বেও আমার স্ত্রী মাযহাবী নিয়মে ছালাত আদায় করে। জনৈক আলেমকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি তালাক দেওয়ার নির্দেশনা দেন। এটা সঠিক কি?


এটা সঠিক নয়। তালাক দেওয়া কোন উত্তম সমাধান নয়। বরং স্ত্রীকে ছহীহ হাদীছের উপর আমল করার ব্যাপারে নছীহত করে বুঝানোর চেষ্টা করতে হবে। স্নেহ-ভালবাসা দিয়ে তাকে সত্যের উপর ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা নারীদেরকে উত্তম নছীহত প্রদান করবে। কেননা নারী জাতিকে পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্যে উপরের হাড়টি বেশী বাঁকা। তুমি যদি তা সোজা করতে যাও, তাহ’লে তা ভেঙ্গে যাবে। আর যদি ছেড়ে দাও, তাহ’লে সব সময় তা বাঁকাই থাকবে। কাজেই নারীদেরকে নছীহত করতে থাক’ (বুখারী হা/৩৩৩১; মিশকাত হা/৩২৩৮)। স্মর্তব্য যে, আমলগত ত্রুটির পূর্বে স্ত্রীর মধ্যে কোন বাতিল আক্বীদা থাকলে, সেগুলি পরিবর্তন করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।

Posted in স্ত্রী পথভ্রষ্ট করতে চাইলে কি তালাক দিতে হবে? | Tagged ,

ফাযায়েলে আমল কি বিশুদ্ধ কিতাব? এ গ্রন্থ পাঠ করা যাবে কি?


‘ফাযায়েলে আমল’, ‘ফাযায়েলে ছাদাক্বা’ সহ তাবলীগ জামা‘আতের এ কিতাবসমূহে বহু যঈফ ও জাল হাদীছ এবং ছহীহ হাদীছের অপব্যাখ্যা রয়েছে। উক্ত বইগুলোতে যা রয়েছে, তা বিশুদ্ধ আক্বীদা-আমল থেকে মানুষকে অনেক দূরে সরিয়ে দেয়। অতএব এ সমস্ত ফাযায়েল ছেড়ে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ থেকে বিশুদ্ধ ফাযায়েল ও মাসায়েল অধ্যয়ন করতে হবে এবং তার উপর আমল করতে হবে (বিস্তারিত দ্রঃ ‘হাদীছের প্রামাণিকতা’ বই পৃ. ৫৭-৬৭)

Posted in ফাযায়েলে আমল কি বিশুদ্ধ কিতাব? এ গ্রন্থ পাঠ করা যাবে কি? | Tagged

আমাদের এলাকার জামে মসজিদের বারান্দার পিলারে বাড়ি ভাড়ার বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। এটা জায়েয হবে কি?


এটি করা জায়েয নয়। কারণ মসজিদ ব্যবসার স্থান নয়। রাসূল (ছাঃ) মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন’ (তিরমিযী হা/৩২২; মিশকাত হা/৭৩২, সনদ হাসান)। তবে ইসলামী বই-পুস্তক জুম‘আর দিন মসজিদের বারান্দার বাইরে বিক্রয় করতে বাধা নেই। কেননা এটি দ্বীনের দাওয়াতের একটি অংশ।

Posted in মসজিদের বারান্দার পিলারে বাড়ি ভাড়ার বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে কে? | Tagged

ছালাতের মধ্যে শয়তানী ওয়াসওয়াসায় মযী বের হওয়া অনুভব হ’লে ছালাত পরিত্যাগ করতে হবে কি? এ কারণে ওযূ বা কাপড় পরিবর্তন করতে হবে কি?


যদি কেবল সন্দেহ হয়, তবে ছালাত পরিত্যাগ করবে না। কারণ সন্দেহের দ্বারা পবিত্রতা নষ্ট হয় না (বুখারী হা/১৩৭, মুসলিম হা/৩৬২, মিশকাত হা/৩০৬)। আর যদি দৃঢ় বিশ্বাস হয় তবে ছালাত পরিত্যাগ করবে এবং ওযূ করে পুনরায় ছালাত আদায় করবে। রাসূল (ছাঃ) মযী নির্গত হ’লে ওযূ করাই যথেষ্ট বলেছেন এবং কাপড়ে বা শরীরের যে যে স্থানে মযীর নিদর্শন পাওয়া যাবে, সে স্থান এক আজলা পানি ছিটিয়ে দিতে বলেছেন (আবুদাঊদ হা/২১০, তিরমিযী হা/১১৫)

Posted in ছালাতের মধ্যে মযী বের হওয়া অনুভব হ’লে ছালাত পরিত্যাগ করতে হবে কি? | Tagged ,

সম্প্রতি নেকাব পরিহিত অবস্থায় নারীদের ইন্টারনেটে বিশেষত ইউটিউবে ওয়ায-নছীহত করতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া গ্রামীণ এলাকায় মহিলাদের পূর্ণ পর্দার মধ্যে নারী-পুরুষের মিশ্রিত মজলিসে স্টেজে বক্তব্য দিতে দেখা যাচ্ছে। এটা জায়েয হবে কি?


নারীরা এভাবে বক্তব্য দিতে পারে না। আর এর জন্য নারী দায়িত্বশীলও নয়। আল্লাহ তা‘আলা এক লক্ষ চবিবশ হাযার নবী-রাসূল প্রেরণ করলেও কোন নারীকে নবী করে পাঠাননি (আহমাদ হা/২২৩৪২; মিশকাত হা/৫৭৩৭; ছহীহাহ হা/২৬৬৮-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)। এক্ষণে দ্বীন প্রচারের জন্য তারা পর্দার মধ্যে থেকে পৃথক মহিলা মজলিসে বক্তব্য দিবে (ছহীহাহ হা/২৬৮০-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)

Posted in নারীরা ওয়াজ মাহফিল করতে পারবে কি? | Tagged ,