মুক্বীম অবস্থায় কোন কারণ ছাড়াই ছালাত জমা করায় বাধা আছে কি?


জায়েয আছে। তবে বিনা কারণে এটা করা সমীচীন নয়। আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একদা মদীনায় যোহর ও আছরের ছালাত এবং মাগরিব ও এশার ছালাত একত্রে জমা করে পড়লেন, কোন ভয়-ভীতি কিংবা সফরের ওযর ছাড়াই। জিজ্ঞেস করা হ’ল, কেন তিনি এটা করলেন? উত্তরে ইবনু আববাস বললেন, যাতে উম্মতের কষ্ট না হয়’ (বুখারী হা/৫৪৩; মুসলিম হা/৭০৫)। এটি জায়েয রাখা হয়েছে এজন্য যে, বিশেষ অবস্থায় যেন উম্মত পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করতে অনীহা বোধ না করে। ইমাম আহমাদ সহ জমহূর বিদ্বানগণের মতে, এই হাদীছ বিশেষ শারঈ ওযর যেমন বৃষ্টি, ভয়, অসুস্থতা ইত্যাদির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অতএব ওযর ব্যতীত স্বাভাবিক অবস্থায় এভাবে নিয়মিত ছালাত জমা করা ঠিক হবে না। কেননা রাসূল (ছাঃ) জীবনে মাত্র একবারই এরূপ করেছিলেন। আর ছাহাবী ও তাবেঈদের মধ্যেও কোন শারঈ ওযর ব্যতীত এটির আমল পাওয়া যায় না (নববী, শরহ মুসলিম ৫/২১৮; বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১২/৩০৪-৫)। যেভাবে রাসূল (ছাঃ)-এর নিয়মিত আমল ছিল ফজরের ছালাত গালাসে (অন্ধকারে) পড়া। কিন্তু মাত্র একবার তিনি ইসফারে অর্থাৎ ফর্সা হ’লে পড়েন (আবুদাঊদ হা/৩৯৪; ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ৫৩-৫৪ পৃ.)। শুধুমাত্র বিশেষ অবস্থায় জায়েয রাখার জন্য। কিন্তু হানাফী মাযহাবের ভাইয়েরা সেটাকেই স্থায়ী রীতি করে নিয়েছেন।

Posted in কারণ ছাড়াই ছালাত জমা করায় বাধা আছে কি? | Tagged

কিস্তিতে ফ্ল্যাট কিনলে তা কি সূদের অন্তর্ভুক্ত হবে? উল্লেখ্য, সেখানে এককালীন মূল্য পরিশোধে বড় অংকের ছাড় দেয়া হয়।


নির্ধারিত মেয়াদ ভিত্তিক কিস্তিতে পণ্যমূল্য পরিশোধ করা জায়েয। যদি সেখানে নগদে এক মূল্য এবং বাকীতে অধিক মূল্য না হয়। বাকীতে অধিক মূল্য নিলে সেটি সূদ হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এক ব্যবসায়ে নগদে এক বিক্রি ও বাকীতে আরেক বিক্রি নিষেধ করেছেন। আর তা হ’ল, ‘বিক্রেতা বলবে, বস্ত্তটি বাকীতে অত টাকায় এবং নগদে এত টাকায়’ (আহমাদ হা/৩৭৮৩, ১/৩৯৮ ‘ছহীহ লেগায়রিহী’ আরনাঊত্ব; ইরওয়া হা/১৩০৭-এর আলোচনা ৫/১৪৯; ছহীহাহ হা/২৩২৬-এর আলোচনা ৫/৪২০-২১ পৃ.; বিস্তারিত দ্রঃ ‘বায়‘এ মুআজ্জাল’ বই)

Posted in কিস্তিতে ফ্ল্যাট কিনলে তা কি সূদের অন্তর্ভুক্ত হবে? | Tagged ,

কবরে যারা মুক্তি পেয়ে সুখে-শান্তিতে অবস্থান করবে, বিচারের পর তাদের জাহান্নামে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি?


যারা কবরে শান্তিতে থাকবেন, তারা ক্বিয়ামতের দিন হিসাবের পরেও জান্নাতে প্রবেশ করবেন ইনশাআল্লাহ। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আখেরাতের মনযিলসমূহের মধ্যে প্রথম মনযিল হ’ল কবর। যদি কেউ এখানে মুক্তি পায়, তবে তার জন্য পরবর্তী মনযিল সমূহে মুক্তি পাওয়া সহজতর হবে। আর যদি এখানে মুক্তি না পায়, তবে তার জন্য পরবর্তী মনযিলগুলি আরও কঠিন হয়ে যাবে’… (ইবনু মাজাহ হা/৪২৬৭; মিশকাত হা/১৩২, সনদ হাসান)

তবে যারা বান্দার হক নষ্ট করার অপরাধে অভিযুক্ত তাদের জন্য জাহান্নামে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের উপর যুলুম করেছে সে যেন আজই তার থেকে মাফ নিয়ে নেয়, তার ভাই তার কাছ থেকে এর জন্য নেকী কেটে নেওয়ার পূর্বে। কেননা সেখানে (হাশরের ময়দানে) কোন দীনার বা দিরহাম পাওয়া যাবে না। তার কাছে যদি নেকী না থাকে তবে তার (মযলূম) ভাইয়ের গোনাহ তার উপর ছুঁড়ে মারা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে (বুখারী হা/৬৫৩৪; মুসলিম হা/২৫৮১; মিশকাত হা/৫১২৭)। তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা কি জানো, নিঃস্ব কে? ছাহাবায়ে কেরাম বললেন, আমাদের মধ্যে যার টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত নেই, সে-ই নিঃস্ব। তিনি বললেন, ক্বিয়ামতের দিন আমার উম্মতের মধ্যে ঐ ব্যক্তি নিঃস্ব হবে, যে ব্যক্তি দুনিয়া থেকে ছালাত-ছিয়াম ও যাকাত আদায় করে আসবে। কিন্তু সাথে সাথে সেসব লোকদেরকেও নিয়ে আসবে, যাদেরকে সে গালি দিয়েছে, কারু বিরুদ্ধে অপবাদ রটিয়েছে, কারো সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, কাউকে হত্যা করেছে এবং কাউকে প্রহার করেছে। এসব ব্যক্তিদেরকে তার নেকীগুলি দিয়ে কাফফারা দেওয়া হবে। অতঃপর যখন তার নেকী শেষ হয়ে যাবে অথচ পাওনাদারদের পাওনা তখনো বাকী থাকবে, তখন পাওনাদারদের গোনাহ তার উপর নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে’ (মুসলিম হা/২৫৮১; মিশকাত হা/৫১২৭)

Posted in কবরে সুখে-শান্তিতে থাকলে জাহান্নামে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি? | Tagged ,

মসজিদে উঁচু মিনার তৈরি করা যাবে কি? আর তাতে চাঁদের ছবি আঁকানো বা আল্লাহু আকবার লেখা যাবে কি?


আযান দেওয়ার জন্য মসজিদে উঁচু মিনার তৈরি করা যাবে। কারণ এতে দূরবর্তী লোকদের আযান শোনানো সহজ হয়। আর আযানের স্বর যত উচ্চ হয়, ততই উত্তম (আবুদাঊদ হা/৪৯৯, সনদ ছহীহ; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী ১/৩০৮)। আব্দুল্লাহ বিন শাক্বীক্ব বলেন, সুন্নাত হ’ল আযান মিনারে হবে এবং ইক্বামত মসজিদে হবে। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) এভাবেই আমল করতেন (মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ হা/২৩৪৫; তামামুল মিন্নাহ ১/১৪৬, সনদ ছহীহ)

আর মিনারে চাঁদের প্রতীক স্থাপন নির্ভর করবে কর্তৃপক্ষের নিয়তের উপরে। যদি সেটিকে মসজিদ বুঝানোর জন্য স্থাপন করা হয় তাহ’লে জায়েয। আর অন্যকোন উদ্দেশ্য হ’লে জায়েয হবে না। সাধারণভাবে চাঁদ-তারা কোন ইসলামী নিশানা হওয়ার ব্যাপারে শারঈ কোন দলীল নেই। রাসূল (ছাঃ), ছাহাবায়ে কেরাম এমনকি পরবর্তী যুগেও এর কোন অস্তিত্ব ছিল না। তবে মধ্যযুগে তুর্কী শাসকগণ খৃষ্টানদের ক্রুসের বিপরীতে ইসলামী নিদর্শন হিসাবে চাঁদ-তারা নির্বাচন করেছিলেন এবং এটি তুর্কী সাম্রাজ্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় আধুনিক যুগে বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্র ও ইসলামী সংস্থাসমূহ তাদের পতাকায় ক্রুসের বিপরীতে ইসলামী নিদর্শন হিসাবে চিহ্নটি ব্যবহার করে থাকে (উইকিপিডিয়া)। এতে ওলামায়ে কেরাম বিশেষ কোন আপত্তি তোলেননি। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা ইহূদী ও নাছারাদের বিপরীত কর’ (ছহীহ ইবনু হিববান হা/২১৮৬)। তবে কতিপয় বিদ্বান কাফেরদের সাদৃশ্য অবলম্বনের সম্ভাবনা থেকে দূরে থাকতে এমন চিহ্ন ব্যবহার না করাই উত্তম বলে মত প্রকাশ করেছেন (উছায়মীন, মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ১৬/১৭৮)

একইভাবে মিনারের উপরে ‘আল্লাহু আকবার’ লেখার বিষয়টি নির্ভর করবে কর্তৃপক্ষের নিয়তের উপর। এর দ্বারা যদি অমুসলিমদের উপাসনালয় সমূহের বিপরীতে মুসলিমদের মসজিদ বুঝানো হয়, সেক্ষেত্রে এটি জায়েয হ’তে পারে। তবে সাধারণভাবে কোন মসজিদের মিনারে এরূপ লেখার কোন শারঈ ভিত্তি নেই। বিশেষতঃ মিনারের উপরে শুধুমাত্র ‘আল্লাহ’ লেখা আদৌ জায়েয নয়। একইভাবে তা গাড়ীতে বা বাড়ীতে লেখা বা ঝুলানো জায়েয নয়। কারণ আল্লাহ কোন সাইনবোর্ড নয়, বরং তিনি হ’লেন মা‘বূদ। যাঁকে বান্দা হৃদয়ে স্মরণ করবে ও তাঁর ইবাদত করবে।

Posted in মসজিদে উঁচু মিনার তৈরি করা যাবে কি? | Tagged

খালা কি মায়ের স্থলাভিষিক্ত? খালার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার মর্যাদা ও গুরুত্ব জানতে চাই।


খালাগণ (সদাচরণের ক্ষেত্রে) মায়ের স্থলাভিষিক্ত (বুখারী হা/২৬৯৯; মিশকাত হা/৩৩৭৭)। ইবনু ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো মহাপাপ করে ফেলেছি। আমার জন্য কি ক্ষমার দরজা খোলা আছে? তিনি বললেন, তোমার কি পিতা-মাতা জীবিত আছেন? সে বলল, না। তিনি বললেন, তোমার কি খালা জীবিত আছেন? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহ’লে তার সাথে সদাচরণ কর’ (ছহীহ ইবনু হিববান হা/৪৩৫; ছহীহ আত-তারগীব হা/২৫০৪, ২৫২৬)। অন্যত্র এসেছে, উম্মুল মুমিনীন মায়মূনা (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ)-এর অনুমতি ব্যতীত তিনি তার দাসীকে মুক্ত করে দেন। অতঃপর তার ঘরে নবী করীম (ছাঃ)-এর অবস্থানের দিন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি জানেন আমি আমার দাসীকে মুক্ত করে দিয়েছি? তিনি বললেন, তুমি কি তা করেছ? মায়মূনা বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তুমি যদি তোমার মামা-খালাদের বা বোনদের এটা দান করতে তাহ’লে তোমার জন্য বেশী নেকীর কাজ হ’ত’ (বুখারী হা/২৫৯২; ছহীহ আত-তারগীব হা/২৫২৬)। আয়েশা (রাঃ)-এর কোন সন্তান ছিল না। তখন রাসূল (ছাঃ) তাকে তার বোনের ছেলের নামে উপনাম রাখতে বলেন। সেজন্য আয়েশাকে উম্মে আব্দুল্লাহ বলা হ’ত, যা খালার মর্যাদার প্রমাণ বহন করে (আবুদাঊদ হা/৪৯৭০; আহমাদ হা/২৬২৮৫)। অর্থাৎ বড় বোন আসমার ছেলে আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের-এর মা।

Posted in খালা কি মায়ের স্থলাভিষিক্ত? | Tagged

যাকাতের অর্থ বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ হিসাবে বিতরণ করা যাবে কি?


যাকাতের টাকা বন্যার্ত অসহায়দের মাঝে ত্রাণ হিসাবে বিতরণ করা যাবে। কারণ যাকাতের সম্পদ যে সকল খাতে বণ্টন করতে বলা হয়েছে তাদের মধ্যে মিসকীন বা সহায়সম্বলহীনগণ অন্যতম (তওবা ৯/৬০)। এমনকি বন্যার্ত অসহায় ব্যক্তি স্বাভাবিক অবস্থায় ধনী হ’লেও তাকে যাকাত প্রদান করা যাবে। রাসূলুল্লাহ্ (ছাঃ) বলেছেন, পাঁচ শ্রেণীর লোক ব্যতীত ধনী ব্যক্তির জন্য যাকাত গ্রহণ বৈধ নয়। (১) আললাহর রাস্তায় জিহাদে যোগদানকারী (২) যাকাত আদায়ের জন্য নিযুক্ত কর্মচারী (৩) ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি (৪) গরীবের প্রাপ্ত যাকাতের মাল ধনীর জন্য ক্রয় করা (৫) মিসকীন প্রতিবেশী নিজের প্রাপ্ত যাকাত হাদিয়া হিসাবে প্রদান করলে ধনীর জন্য তা গ্রহণ করা বৈধ’ (আবুদাঊদ হা/১৬৩৫; ছহীহুল জামে‘ হা/৭২৫০)। বন্যার্ত ব্যক্তিরা মিসকীনদের মধ্যে গণ্য।

Posted in যাকাতের অর্থ বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ হিসাবে বিতরণ করা যাবে কি? | Tagged

জুম‘আর ছানী খুৎবায় দরূদ পাঠ করা কি যরূরী?


জুম‘আর খুৎবায় দরূদ পাঠ করা সুন্নাত। সেটি প্রথম বা দ্বিতীয় খুৎবায় হ’তে পারে। তবে এটি পাঠ করা আবশ্যিক নয়। উছায়মীন বলেন, এমন কোন দলীল পাওয়া যায় না, যার মাধ্যমে খুৎবায় দরূদ পাঠ করাকে ওয়াজিব বলা যায় (আশ-শারহুল মুমতে‘ ৫/৫৩)। তবে শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াসহ একদল বিদ্বান দরূদ পাঠকে ওয়াজিব এবং খুৎবার রুকন বলে উল্লেখ করেছেন (মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ২২/৩৯১; আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়াহ ১৯/১৭৭)। উল্লেখ্য যে, খুৎবায় তাশাহহুদ পাঠ করা ওয়াজিব। তথা খুৎবাতুল হাজত পাঠ করা ওয়াজিব (আলবানী, ছহীহাহ হা/১৬৯-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)। যেমন হাদীছে এসেছে, ‘যেসব খুৎবায় (বক্তৃতায়) তাশাহহুদ পাঠ করা হয় না তা পঙ্গু হাতের সমতুল্য’ (আবূদাঊদ হা/৪৮৪১; মিশকাত হা/৩১৫০; ছহীহাহ হা/১৬৯; মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ২২/৩৯১)

Posted in জুম‘আর ছানী খুৎবায় দরূদ পাঠ করা কি যরূরী? | Tagged

স্ত্রী পরপুরুষের সাথে অবাঞ্ছিত কথা বলত। স্বামী হুঁশিয়ারী স্বরূপ বলেছিল, যদি এরপর ঐ ব্যক্তির সাথে কথা বল, তাহ’লে তুমি তালাক। কিন্তু স্ত্রী তার সাথে কথা বলা অব্যাহত রাখে। এর ৫/৬ মাস পর স্বামী আবারও অনুরূপ কথা বলে। কিন্তু স্ত্রী তার অভ্যাস পরিবর্তন করেনি। পরে স্বামী তাকে তালাক দেয়। কিন্তু সহবাস বন্ধ করেনি। এক্ষেত্রে স্বামী উক্ত কথা বলার কারণে স্ত্রী কি তালাক হয়েছে? যদি তালাক হয়ে থাকে তবে ক’টি তালাক হয়েছে? এ মুহূর্তে স্ত্রীকে কি পুনরায় বিবাহের মাধ্যমে ফিরিয়ে নিতে হবে?


শর্তসাপেক্ষে তালাক প্রদানকালে যদি স্বামী তালাকের নিয়ত করে থাকে তবে দুই বারে দু’টি তালাক হয়েছে এবং একটি তালাক অবশিষ্ট আছে। এক্ষণে যেহেতু শারঈ পন্থায় ইদ্দতের মধ্যে রাজ‘আত করা হয়নি সেহেতু নতুন বিবাহের মাধ্যমে ফিরিয়ে নিতে পারবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ২০/৮৬)। আর যদি তালাকের নিয়ত ছাড়া শাসনের উদ্দেশ্যেও ‘তালাক’ বলে থাকে, তবুও জুমহূর বিদ্বানের মতে তালাক হয়ে যাবে। কেননা তালাক কোন তুচ্ছ বা তামাশার বিষয় নয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তিনটি বিষয় রয়েছে যেগুলি বাস্তবে বা ঠাট্টাচ্ছলে করলেও তা ধর্তব্য। আর তা হ’ল বিবাহ, তালাক এবং স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়া (আবূদাউদ হা/২১৯৪; মিশকাত হা/৩২৮৪, সনদ হাসান)। অবশ্য ইবনু তায়মিয়াহ ও উছায়মীন (রহঃ) সহ কতিপয় বিদ্বান মতপ্রকাশ করেছেন যে, স্রেফ স্ত্রীকে শাসনের নিয়ত থাকলে এবং প্রকৃতপক্ষে তালাকের নিয়ত না থাকলে তালাক হবে না। সেক্ষেত্রে তাকে কসম ভঙ্গের কাফফারা দিতে হবে (ইবনু ‘তায়মিয়াহ, মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ৩২/৮৩; উছায়মীন, ফাতাওয়া আল-মারআতুল মুসলিমাহ ২/৭৫৪; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ২০/৮৬)

Posted in তালাক শর্ত সাপেক্ষে দিলে হয়ে হয়ে যাবে কি? | Tagged ,

নারীরা পিতা, ভাই, সন্তান তথা মাহরাম পুরুষদের সামনে কতটুকু পরিমাণ সৌন্দর্য প্রকাশ করতে পারবে? জনৈক আলিম বলেন, মুখ ও হস্তদ্বয় ব্যতীত অন্য কিছু তাদের সামনে প্রকাশ করা যাবে না। একথা সঠিক কি?


নারীরা তাদের মাহরামদের সামনে তাদের স্বাভাবিক সৌন্দর্য প্রকাশ করতে পারবে (নূর ২৪/৩১)। ইবনু কুদামা (রহঃ) বলেন, মাহরাম পুরুষদের জন্য নারীর ঐ সকল অঙ্গ দেখা জায়েয, যা সাধারণত প্রকাশ পেয়ে যায়। যেমন মাথা, হাঁটু, পা, হাত এবং অনুরূপ অঙ্গগুলো। আর সেগুলো দেখা যাবে না, যা তারা ঢেকে রাখে। যেমন বুক, পিঠ এবং অনুরূপ অঙ্গগুলো (মুগনী, ৯/৪৯১-৯২; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১২/২৭১, ২৭৬; আলবানী, তালখীছ আহকামিল জানায়েয ৩০ পৃ:)। তবে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে যেন তা শালীনতা বিরোধী না হয়।

Posted in নারীরা মাহরাম পুরুষদের সামনে কতটুকু সৌন্দর্য প্রকাশ করতে পারে? | Tagged , ,

হিজরী নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানো যাবে কি?


যাবে না। কারণ প্রথমতঃ অমুসলিমদের অনুকরণে এসব দিবস পালিত হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে ব্যক্তি (কিয়ামতের দিন) তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (আবূদাঊদ হা/৪০৩১; মিশকাত হা/৪৩৪৭ ‘পোষাক’ অধ্যায়)

দ্বিতীয়তঃ এ ব্যাপারে ছাহাবায়ে কেরাম বা তাবেঈন থেকে কোন কিছু বর্ণিত হয়নি। সেজন্য নিজ থেকে কাউকে হিজরী নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানো থেকে বিরত থাকাই কর্তব্য (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১/৪৫৪)। তবে কেউ যদি দো‘আ হিসাবে বলে যে, আগামী হিজরী বছর আপনার জন্য কল্যাণকর হৌক! তবে তার জওয়াবে তার মত বা তার থেকে উত্তম কিছু বলা যাবে। কিন্তু এজন্য খাবার তৈরি করা বা কোন অনুষ্ঠান করা যাবে না (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূঊল ফাতাওয়া ২৪/২৫৩; ফাতাওয়া ইসলাম, প্রশ্ন নং ২১২৯০; উছায়মীন, লিক্বাউল বাবিল মাফতূহ ১০/৯৩)

Posted in নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানো যাবে কি? | Tagged ,

যে ব্যক্তি কুরবানীর নিয়ত করেছে, সে যদি যিলহজ্জের চাঁদ ওঠার পর চুল-নখ ইত্যাদি কর্তন করে, তবে তার বিধান কি? তাছাড়া এরূপ চুল-নখ কর্তনের পিছনে হেকমত কি?


কুরবানীর নিয়তকারী নখ ও চুল কাটা থেকে বিরত থাকবে। কেউ যদি ভুলে নখ ও চুল কেটে থাকে তাহ’লে সেটি অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে না। আর কুরবানীর নিয়তকারী যদি ইচ্ছা করে এই সময়ের মধ্যে নখ ও চুল কর্তন করে তাহ’লে তাকে আল্লাহর নিকট তওবা করতে হবে। তবে সেজন্য কোন ফিদইয়া বা কাফফারা দিতে হবে না (শায়খ বিন বায,  ফাতাওয়া ইসলামিয়া ২/৩১৬)। চুল ও নখ কর্তন না করার হেকমত সম্পর্কে আল্লাহ সর্বাধিক অবগত। তবে বিদ্বানগণের মতে, এতে মক্কায় অবস্থানরত হাজীদের সাথে সাদৃশ্য স্থাপিত হয়। সেই সাথে কুরবানী হ’ল ক্ষমার মাধ্যম এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায়। চুল ও নখ কর্তনের মাধ্যমে শরীরের এসকল অতিরিক্ত অংশকেও আল্লাহর ক্ষমা ও মুক্তির ঘোষণার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

Posted in কুরবানীর চাঁদ ওঠার পর চুল-নখ ইত্যাদি কর্তন করার বিধান কি? | Tagged

প্রতিপালনের উদ্দেশ্যে কুকুর, বিড়াল, পাখি বা অন্যান্য প্রাণীর ব্যবসা করা বৈধ কি?


পশু চরানো, শিকার করা এবং ক্ষেত-খামার ও বাড়ি-ঘর পাহারা দেওয়া এই তিন উদ্দেশ্যে কেবল কুকুর পালন করা যাবে। এতদ্ব্যতীত শুধু প্রতিপালনের উদ্দেশ্যে বা শখের বশে কুকুর পোষা যাবে না কেননা অন্য উদ্দেশ্যে কোন কুকুর বাড়িতে রাখলে এক ক্বীরাত তথা ওহোদ পাহাড় সমপরিমাণ নেকী কমে যাবে (মুসলিম হা/১৫৭৫, মিশকাত হা/৪০৯৯, ইবনু হাজার ৩/১৯৪-১৯৫)। অন্য বর্ণনায় রাসূল (ছাঃ) প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ব্যতীত অন্য সকল কুকুরকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন (মুসলিম হা/১৫৭১, মিশকাত হা/৪১০১)। দ্বিতীয়তঃ চোখের উপর সাদা চিহ্ন ওয়ালা কুচকুচে কালো কুকুর কোন অবস্থাতেই গ্রহণ করা যাবে না। কারণ এগুলো শয়তান, যাদেরকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে (মুসলিম হা/১৫৭২, মিশকাত হা/৪১০০)

আর পাখি, বিড়াল বা অন্যান্য প্রাণী প্রতিপালন করা যেতে পারে। তবে তাদের সময়মত খেতে ও পান করতে দিতে হবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৩/৩৮-৪০; বিন বায, ফাতাওয়া ওলামায়িল বালাদিল হারাম ১৭৯৩ পৃ:)। আনাস বিন মালেক (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) আমাদের প্রতি উৎফুল্ল মেযাজ ও সম্প্রীতি প্রদর্শন করতেন। এমনকি আমার ছোট ভাইকেও জিজ্ঞেস করতেন, হে আবু উমায়ের! তোমার ‘নুগায়ের’ অর্থাৎ ছোট্ট বুলবুলিটি কোথায়? উমায়ের-এর একটি ছোট্ট বুলবুলী পাখি ছিল। সেটা নিয়ে সে খেলা করত। পাখিটি মারা গিয়েছিল (তাকে সান্ত্বনা দিয়ে রাসূল (ছাঃ) উক্ত কথা বলেন) (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৮৮৪)। উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় হাফেয ইবনু হাজার বলেন, পাখি প্রতিপালন করা জায়েয হওয়ার দলীল এই হাদীছ থেকেই গ্রহণ করা হয়। কারণ রাসূল (ছাঃ) আবু উমায়েরের উক্ত কাজকে অস্বীকৃতি দেননি (ফাৎহুল বারী ১০/৫৪৮)। অনুরূপভাবে ছাহাবী আবু হুরায়রা (রাঃ) বিড়াল প্রতিপালনের জন্য রাসূল (ছাঃ) কর্তৃক ‘বিড়ালের পিতা’ উপাধি পেয়েছিলেন (বুখারী হা/২৫৩০-৩১)। ‘হুরায়রা’ অর্থ ছোট বিড়াল। সুতরাং কুকুর ব্যতীত অন্যান্য প্রাণী প্রতিপালন করা ও ব্যবসা করা বৈধ।

Posted in কুকুর বিড়াল পাখি বা অন্যান্য প্রাণীর ব্যবসা করা বৈধ কি? | Tagged , ,

জেহরী ছালাতের ইমামের সূরা ফাতিহা পড়ার পর কেউ জামা‘আতে শামিল হ’লে তার করণীয় কী? সে ইমামের ক্বিরাআত শুনবে না সূরা ফাতিহা পাঠ করবে?


সূরা ফাতিহা পাঠ করে ইমামের ক্বিরাআত শুনবে। কারণ সূরা ফাতিহা পাঠ ছাড়া ছালাত হবে না (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৮২২)

Posted in ইমামের ফাতিহা পড়ার পর জামা‘আতে শামিল হ’লে করণীয় কী? | Tagged ,

মাজমাউয যাওয়ায়েদ, কানযুল উম্মাল ও মুসনাদে বায্যার গ্রন্থ তিনটির লেখক ও কিতাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই।


(১) মুসনাদে বায্যার’ ১৮ খন্ডে সমাপ্ত একটি হাদীছ গ্রন্থ। গ্রন্থটির প্রকৃত নাম البحر الزخَّار বা ‘কানায় কানায় পূর্ণ সাগর’। পরবর্তীতে মুসনাদ বায্যার নামে খ্যাতি লাভ করে। গ্রন্থটির সংকলক হ’লেন ইরাকের বছরায় জন্মগ্রহণকারী খ্যাতনামা মুহাদ্দিছ আবুবকর আহমাদ ইবনু আমর বিন আব্দুল খালেক আল-বায্যার (মৃ. ২৯২ হিঃ) (যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা ১০/৫৩২)। এটি মুসনাদ গ্রন্থ হওয়ায় ছাহাবীগণের ধারাক্রম অনুযায়ী গ্রন্থটিকে সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার হাদীছ রয়েছে। (২) ‘মাজমাঊয যাওয়ায়েদ ওয়া মামবাউ‘ল ফাওয়ায়েদ’     (مجمع الزوائد ومنبع الفوائد) গ্রন্থটিও একটি হাদীছ সংকলন গ্রন্থ। এর সংকলক হ’লেন আবুল হাসান নূরুদ্দীন আলী ইবনু আবি বকর আল-হায়ছামী (মৃ.৭৩৫-৮০৭হিঃ)। তিনি একজন প্রখ্যাত মিসরীয় মুহাদ্দিছ ও মুহাক্কিক ছিলেন। এই গ্রন্থে তিনি কুতুবে সিত্তাহ বহির্ভুত যে সকল হাদীছ মুসনাদে আহমাদ, মুসনাদে বায্যার, মুসনাদে আবু ইয়া‘লা মুছেলী এবং ইমাম ত্বাবারাণী-এর মু‘জাম গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে তা একত্রিত করেছেন। ১২ খন্ডে বিভক্ত এই গ্রন্থে প্রায় ১৯ হাযার হাদীছ রয়েছে (ইবনুল ইমাদ, শাযারাতুয যাহাব ৯/১০৫)। (৩) ‘কানযুল উম্মাল’ একটি সুবিস্তৃত হাদীছ সংকলন গ্রন্থ। এর পুরো নাম كنز العمال في سنن الأقوال والأفعال। এর সংকলক হ’লেন হিন্দুস্তানী মুহাদ্দিছ আলাউদ্দীন আলী ইবনু হিশামুদ্দীন (মৃ. ৯৭৫হিঃ)। তিনি ‘আলী মুত্তাকী হিন্দী’ নামেই সমধিক পরিচিত। তিনি ভারতের বুরহানপুরে (জৈনপুর) জন্মগ্রহণ করেন এবং হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ফক্বীহ ও মুহাদ্দিছ ছিলেন। তিনি মূলতঃ ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (মৃ. ৯১১হিঃ) রচিত الجامع الصغير ও الجامع الكبير হাদীছ গ্রন্থ দু’টি সংক্ষেপ ও পুনর্বিন্যাস করে এই গ্রন্থটি রচনা করেন। তিনি হাদীছের সনদ এমনকি বর্ণনাকারী ছাহাবীর নাম বাদ দিয়ে কেবল বিষয় ভিত্তিক হাদীছগুলিকে একত্রিত করেন। ১৮ খন্ডে বিভক্ত এই গ্রন্থে ৪৬,৬২৪টি হাদীছ রয়েছে। যার মধ্যে ছহীহ হাদীছের সাথে অসংখ্য যঈফ ও জাল হাদীছও রয়েছে।

Posted in গ্রন্থ তিনটির লেখক ও কিতাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই। | Tagged ,

নামের শেষে আলী, মুরতাযা, হাসান, হোসাইন, ইত্যাদি যুক্ত করে নাম রাখলে গুনাহ হবে কি?


উপরোক্ত সবগুলি নামই সুন্দর অর্থ বহন করে। সুতরাং তা রাখায় কোন দোষ নেই। তবে শী‘আদের আক্বীদা অনুযায়ী রোগমুক্তি ও বিশেষ ফযীলতের আশায় এগুলি রাখা হ’লে তা শিরক হবে। শী‘আরা বলে থাকে, আমার জন্য পাঁচজন রয়েছেন যাদের মাধ্যমে আমি সকল দুরারোগ্য ব্যাধি দূর করি। তারা হলেন, মুছতফা, মুরতাযা, তাঁর দুই পুত্র (হাসান-হোসায়েন) ও ফাতেমা’।

Posted in নামের শেষে আলী; হাসান; হোসাইন; ইত্যাদি যুক্ত করা যাবে কি? | Tagged

পিতামাতার ঋণ থাকলে সন্তান কিভাবে তা শোধ করবে? নিজের উপার্জিত সম্পদ থেকে সন্তান পিতা-মাতার ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য কি?


সন্তান পিতা-মাতার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে তাদের ঋণ পরিশোধ করবে। আল্লাহ তা‘আলা মীরাছের আলোচনা শেষে বলেন, মৃতের অছিয়ত পূরণ করার পর এবং তার ঋণ পরিশোধের পর (নিসা ৪/১১)। তবে নিজ সম্পত্তি থেকে পিতা-মাতার ঋণ পরিশোধ করা সন্তানের জন্য বাধ্যতামূলক নয় (ইবনু তায়মিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ ৫/২৩২)। কিন্তু ঋণ পরিশোধ করা পিতা-মাতার খেদমতের অংশ ও অফুরন্ত ছওয়াবের কাজ হওয়ায় সন্তান নিজ দায়িত্বে তা পালন করার সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। কেননা ঋণ অবশ্য পূরণীয় বিষয়। এমনকি কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহর রাস্তায় শহীদও হয়, তবুও সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না তার ঋণ পরিশোধ করা হয় (নাসাঈ হা/৪৬৮৪; মিশকাত হা/২৯২৯)। জাবের (রাঃ) বলেন, জনৈক ব্যক্তি মারা গেল। আমরা তার গোসল দিলাম, সুগন্ধি মাখালাম ও কাফন পরালাম। অতঃপর আমরা জানাযার জন্য তাকে রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট নিয়ে এলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তার কোন ঋণ আছে কি? আমরা বললাম, দুই দীনার ঋণ আছে। তখন তিনি ফিরে গেলেন। তখন আবু ক্বাতাদাহ উক্ত ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব নিল। অতঃপর আমরা তাঁর নিকটে পুনরায় এলাম এবং আবু ক্বাতাদাহ বলল, উক্ত দুই দীনার পরিশোধের দায়িত্ব আমার উপর রইল। তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, ঋণগ্রস্ত নির্ধারিত হ’ল এবং মাইয়েত দায়মুক্ত হ’ল? আবু ক্বাতাদাহ বলল, হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তার জানাযা পড়ালেন। একদিন পরে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ঐ দুই দীনারের অবস্থা কি? আবু ক্বাতাদাহ বললেন, মাত্র গতকালই লোকটি মারা গেছে। পরের দিন রাসূল (ছাঃ) তার নিকটে পুনরায় এলেন। আবু ক্বাতাদাহ বললেন, আমি তার দুই দীনার পরিশোধ করেছি। তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘এখন ঐ মাইয়েতের চামড়া ঠান্ডা হ’ল’ (আহমাদ হা/১৪৫৭৬, ছহীহুল জামে‘ হা/২৭৫৩)। এতে বুঝা যায় যে, কেবল দায়িত্ব নিলেই মাইয়েতের আযাব দূর হবে না, যতক্ষণ না তার ঋণ পরিশোধ করা হবে (শাওকানী, নায়লুল আওত্বার ৫/২৮৫ ‘ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি দায়মুক্ত হবে না’ অনুচ্ছেদ)। অতএব পিতার ঋণ শোধ করতে সন্তান বাধ্য না হ’লেও তার বড় কর্তব্য হবে সেটা পরিশোধ করা।

Posted in ঋণ পিতামাতার থাকলে সন্তান কিভাবে তা শোধ করবে? | Tagged

ছালাতের সকল দো‘আ আরবী ভাষায় পড়তে হবে, মাতৃভাষায় পড়লে ছালাত কবুলযোগ্য হবে না- একথা সঠিক কি? এর পিছনে দলীল কি?


ছালাতের ভাষা আরবী। তাই দো‘আও আরবীতেই পাঠ করতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আমাদের এ ছালাতে মানুষের কথাবার্তা সিদ্ধ নয়। এটা হ’ল তাসবীহ, তাকবীর এবং তেলাওয়াতে কুরআন’ (মুসলিম হা/৫৩৭; মিশকাত হা/৯৭৮)। ছালাতের মধ্যে অন্য ভাষায় দো‘আ করার ব্যাপারে কোন দলীল বর্ণিত হয়নি। এর মধ্যে বিশ্ব মুসলিমের ইবাদতের ক্ষেত্রে ঐক্যের সূক্ষ্ম তাৎপর্য নিহিত রয়েছে। যেমন আযান, সালাম ও দো‘আ সমূহ পাঠ ইত্যাদি। ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, মানুষের উচিত কুরআন ও হাদীছে বর্ণিত মাসনূন দো‘আসমূহ পাঠ করা (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১/৩৪৬)। যদি নিজের বিশেষ কোন প্রার্থনা থাকে, তবে সেটা মাসনূন দো‘আর মাধ্যমেই চাইতে হবে। এজন্য বাংলা ভাষাতে উচ্চারণ করে প্রার্থনার কোন প্রয়োজন নেই। বরং মনের নিয়তই যথেষ্ট। নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দার মনের খবর রাখেন।

Posted in ছালাতের সকল দো‘আ আরবী ভাষায় পড়তে হবে কি? | Tagged ,

মাক্বামে মাহমূদ কি? এটা কি রাসূল (ছাঃ)-এর জন্য খাছ? কোন ব্যক্তি এই অবস্থান লাভের জন্য দো‘আ করতে পারবে কি?


মাক্বামে মাহমূদ’ বা প্রশংসিত স্থান হ’ল এমন একটি স্থান যেখানে দাঁড়িয়ে রাসূল (ছাঃ) তাঁর উম্মতের জন্য সুফারিশ করবেন (বুখারী হা/৭৪৪০; মুশকিলুল আছার হা/৮৫০; ছহীহাহ হা/২৩৬৯)। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘আর রাত্রির কিছু অংশে তাহাজ্জুদ ছালাত আদায় করবে। এটি তোমার জন্য অতিরিক্ত। নিঃসন্দেহে তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রশংসিত স্থানে উঠাবেন’ (ইসরা ১৭/৭৯)। এই স্থানে দাঁড়িয়ে সুফারিশের গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে রাসূল (ছাঃ) স্বয়ং এই স্থানকেই সুফারিশ বলেছেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ‘মাক্বামে মাহমূদ হচ্ছে সুফারিশ’ (আহমাদ হা/১০২০৩; সিলসিলা ছাহীহাহ হা/২৩৬৯; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৭২১)। তিনি আরো বলেন, ‘ক্বিয়ামতের মাঠে মানুষকে উঠানো হবে। আমি ও আমার উম্মত একটি উপত্যকার উপর থাকব। আমার প্রতিপালক আমাকে সবুজ আলখেল্লা পরাবেন। তারপর আমাকে কথা বলার অনুমতি দেয়া হবে। তখন আমি আল্লাহর ইচ্ছায় যা বলার বলব। এটাই হচ্ছে মাক্বামে মাহমূদ’ (সিলসিলা ছাহীহাহ হা/২৩৭০, ২৪৬০, ছহীহ ইবনু হিববান হা/৬৪৪৫)। উক্ত স্থানে দাঁড়িয়ে সুফারিশের জন্য আল্লাহ মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে পাঠাবেন। আর সে স্থানটিই মাক্বামে মাহমূদ। উক্ত স্থানটি কেবল মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর জন্য খাছ, অন্য কারু জন্য নয়। অতএব উক্ত স্থান নিজে লাভ করার জন্য দো‘আ করার সুযোগ নেই। বরং আযানের দো‘আয় ‘ওয়াব‘আছহু মাক্বামাম মাহমূদা নিল্লাযী ওয়াআদতাহ’ বাক্য দ্বারা আমরা আল্লাহর কাছে প্রতিনিয়ত এই প্রার্থনা করি যে, আল্লাহ যেন মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে তাঁর প্রতিশ্রুত এই স্থানটি প্রদান করেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি আযানের এই দো‘আটি পাঠ করবে তার জন্য ক্বিয়ামতের দিন আমার শাফা‘আত ওয়াজিব হবে’ (বুখারী হা/৬১৪)

Posted in মাক্বামে মাহমূদ কি? | Tagged ,

অনেকে বলে থাকেন, মুহাররম মাসে বিবাহ -শাদী করা অশুভ ও বড় ক্ষতির কারণ। একথার সত্য কি?


মুহাররম মাসে বিবাহ-শাদীতে কোন ক্ষতি বা অশুভ লক্ষণ নেই। বরং শী‘আ রাফেযীরা এই মাসে হুসাইন (রাঃ)-এর শাহাদত উপলক্ষে শোক প্রকাশার্থে বিবাহ-শাদী হারাম বা অপসন্দনীয় ঘোষণা করেছে। এটা সুস্পষ্ট অপসংস্কৃতি এবং সুন্নাহ বিরোধী ধারণা। যেমন জাহেলী যুগে শাওয়াল মাসে বিবাহ-শাদী করাকে অশুভ মনে করা হ’ত। হযরত আয়েশা (রাঃ) এই ধারণাকে খন্ডন করেছেন এই মর্মে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাকে শাওয়াল মাসেই বিয়ে করেছেন এবং এ মাসেই আমার সাথে বাসর করেছেন। অথচ তাঁর অনুগ্রহ লাভে আমার চেয়ে অধিক সৌভাগ্যবতী স্ত্রী আর কে আছে? (মুসলিম হা/১৪২৩; মিশকাত হা/৩১৪২; আল-বিদায়াহ ৩/২৫৩)

Posted in বিবাহ মুহাররম মাসে করা অশুভ ও বড় ক্ষতির কারণ কি? | Tagged , ,

মৃত প্রাণীর চামড়া দ্বারা উপকৃত হওয়া যাবে কি?


মৃত প্রাণীর চামড়াকে যদি প্রক্রিয়াজাত করা হয় তাহ’লে তা দ্বারা উপকার গ্রহণ করা জায়েয (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ২১/৯৪; উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ১/৭৪-৭৫; ইবনু হাজার, ফাৎহুল বারী ৯/৬৫৯)। যেমন হাদীছে এসেছে, ‘চামড়া যখন পাকা (দাবাগাত) করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়’ (মুসলিম হা/৩৬৬; মিশকাত হা/৪৯৮)

মৃত প্রাণীর চামড়া দ্বারা উপকৃত হওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে (আবূদাউদ হা/৪১২৭; আহমাদ হা/১৮৮০৫; ছহীহ ইবনু হিববান হা/১২৭৮, সনদ ছহীহ) জুমহূর বিদ্বানগণের মতে তা অপ্রক্রিয়াজাত চামড়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

Posted in মৃত প্রাণীর চামড়া দ্বারা উপকৃত হওয়া যাবে কি? | Tagged ,

জিন জাতির কি বংশ বিস্তার হয়? তাদের স্ত্রী ও সন্তান আছে কি?


জিন জাতি বিবাহ করে এবং তাদের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। তবে তারা কিভাবে বিবাহ করে ও সন্তান-সন্ততি হয় তা অজ্ঞাত। আল্লাহ বলেন, ‘তবে কি তোমরা আমার পরিবর্তে তাকে (শয়তান) ও তার বংশধরগণকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু (কাহফ ১৬/৫০)। অত্র আয়াতে স্পষ্টভাবে জিনদের সন্তানের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, সেখানে রয়েছে আনতনয়না রমণীগণ, যাদেরকে তাদের পূর্বে কোন মানুষ বা জিন স্পর্শ করেনি’ (আর-রহমান ৫৫/৫৬)। ইবনু হাজার হায়তামী বলেন, এ আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, জিনদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি রয়েছে (আল-ফাতাওয়াল হাদীছিইয়াহ ৬৬ পৃ:)। ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, অত্র আয়াতে দলীল রয়েছে যে, ঈমানদার জিনেরা জান্নাতে প্রবেশ করবে। যামরাহ বিন হাবীবকে জিজ্ঞেস করা হ’ল, জিন কি জান্নাতে প্রবেশ করবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সেখানে তারা নারী জিনকে বিবাহ করবে। যেমন ঈমানদার পুরুষেরা তাদের নারীদের বিবাহ করবে’ (ইবনু কাছীর, ঐ আয়াতের তাফসীর)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, জিন জাতি তিন প্রকার। একপ্রকার জিনের ডানা আছে, তারা শূন্যে উড়ে বেড়ায়। দ্বিতীয় প্রকারের জিন সাপ ও কুকুরের আকৃতি ধারণ করে। আর তৃতীয় প্রকারের জিন কোন এক নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে এবং সেখান থেকে অন্যত্র চলেও যায় (ছহীহ ইবনু হিববান হা/৬১৫৬; মিশকাত হা/৪১৪৮; মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ হা/১৩৩৮৬)

Posted in জিন জাতির কি বংশ বিস্তার হয়? তাদের স্ত্রী ও সন্তান আছে কি? | Tagged ,

যাকাত বণ্টনের আটটি খাতের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যক কি?


কুরআনে বর্ণিত আটটি খাত আল্লাহ ধারাবাহিকতার জন্য উল্লেখ করেননি। অতএব কেউ যদি প্রথমে ঋণগ্রস্তকে দিয়ে সূচনা করে তাতে কোন দোষ হবে না। বণ্টনকারী যেখানে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রদান করতে চাইবে, সেখানেই প্রদান করবে (বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৪/২৫৬)

Posted in যাকাত বণ্টনের আটটি খাতের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যক কি? | Tagged

ঋতুবতী মহিলা মাইয়েতকে গোসল দিতে পারবে কি? বিশেষতঃ মাইয়েত যদি তার ব্যাপারে অছিয়ত করে যায়।


ঋতুবতী মহিলা কোন মহিলা মাইয়েতকে গোসল দেওয়াতে পারবে। এ ব্যাপারে শরী‘আতের কোন নিষেধাজ্ঞা নেই (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ৮/৩৬৯)

Posted in ঋতুবতী মহিলা মাইয়েতকে গোসল দিতে পারবে কি? | Tagged , ,

চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনেক সময় রোগীকে পেথিড্রিন ও মরফিনের মত মাদকদ্রব্য দিতে হয়। বাধ্যগত অবস্থায় এসব দ্রব্য ব্যবহারে কোন বাধা আছে কি?


বাধ্যগত অবস্থায় ঔষধ হিসাবে এধরনের মাদকদ্রব্য রোগীর জন্য ব্যবহার করা জায়েয (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ২৫/৭৭-৭৮)। তবে ওলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে কিছু শর্ত আরোপ করেছেন। যেমন (১) যতটুকু প্রয়োজন কেবল ততটুকু ব্যবহার করবে (২) দক্ষ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক কর্তৃক রোগীর উপকৃত হওয়ার ব্যাপারে অনুমোদন থাকতে হবে (৩) এটি কেবল তখনই ব্যবহার করা যাবে, যখন তা ব্যতীত নিরাময়ের বৈধ কোন ব্যবস্থা থাকবে না (৪) এগুলো ব্যবহার করাতে উপকারের চেয়ে বেশী বা সমান ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তা ব্যবহার করা যাবে না (ড. হাসান ফাকী, আহকামুল আদভিয়া ফী শরী‘আতিল ইসলামিয়াহ ২৭৬ পৃ.)

Posted in চিকিৎসা ক্ষেত্রে রোগীকে মাদকদ্রব্য দেওয়া যাবে কি? | Tagged , ,

হারানো বস্ত্তর সন্ধান লাভ, রোগের কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কিত দিক নির্দেশনা ইত্যাদি কাজে জিনের সহযোগিতা নেওয়া যাবে কি?


জিন অদৃশ্য জাতি, যাদের দেখা যায় না। তারা যেকোন সময় একটি সত্যের সাথে বহু মিথ্যা মিলিয়ে মানুষকে শিরকে লিপ্ত করতে পারে। এছাড়া তাদের মিথ্যার ফলে মানব সমাজে অশান্তি সৃষ্টি হ’তে পারে। অতএব উক্ত বিষয়সমূহে জিনের সহযোগিতা নেওয়া জায়েয হবে না। ইমাম আহমাদ, শায়খ বিন বায, ছালেহ ফাওযানসহ আধুনিক যুগের ওলামায়ে কেরাম অনুরূপ মত প্রকাশ করেছেন (ইবনুল মুফলেহ, আল-আদাবুশ-শারঈয়া ১/২১৮-১৯; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১/৬০৩; আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়া ৪/১৮; আল-মুনতাক্বা ১/৩৮৮; আল-ফাতাওয়ায যাহাবিয়াহ ১৯৮ পৃ.)। কারণ আল্লাহ বলেছেন, ‘আর কিছু মানুষ কোন জিনের কাছে আশ্রয় চাইত। তাতে তারা জিনদের আত্মম্ভরিতা আরও বাড়িয়ে দিত’ (জিন ৭২/০৬)। তবে শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ বলেন, সৎ জিনদের থেকে সহায়তা নেওয়া যায় যেমন সৎ মানুষের নিকট থেকে সহায়তা নেওয়া যায় (মাজমূউল ফাতাওয়া ১৩/৮৭)

Posted in জিনের সহযোগিতা নেওয়া যাবে কি? | Tagged

কোন প্রাণীর ছবি পিছন থেকে আঁকা কি জায়েয? অর্থাৎ প্রাণীর মাথা যদি বিপরীতমুখী হয় এবং সুস্পষ্ট বোঝা না যায়, তা কি নাজায়েয হবে?


পিছন থেকে মানুষের প্রতিকৃতি অঙ্কনে যদি চোখ, মুখ ও নাকের আকৃতি বোঝা না যায় তবে তা জায়েয হবে। কেননা মাথা না থাকলে তা ছবি হিসাবে গণ্য হয় না (ইবনু কুদামাহ. মুগনী ৮/১১১; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২/২৭৮-৭৯)। জিব্রীল (আঃ) রাসূল (ছাঃ)-কে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘সুতরাং ঐ প্রতিকৃতিগুলোর মাথা কেটে ফেলুন, যা ঘরের দরজায় রয়েছে, তা কাটা হ’লে তখন তা গাছ-গাছড়ার আকৃতি হয়ে যাবে’ (আবূদাঊদ হা/৪১৫৮; মিশকাত হা/৪৫০১; ছহীহাহ হা/৩৫৬)। তিনি আরো বলেন, ‘ছবি হ’ল মাথা। মাথা যখন কেটে ফেলা হবে তখন সেটি ছবি থাকে না’ (ছহীহুল জামে‘ হা/৩৮৬৪; ছহীহাহ হা/১৯২১)। তবে স্মর্তব্য যে, অপ্রয়োজনে কোন প্রাণীর ছবি অাঁকা জায়েয নয়।

Posted in প্রাণীর ছবি পিছন থেকে আঁকা কি জায়েয? | Tagged

সরকারী বিধি অনুযায়ী চাকুরীর বয়সসীমা ৫৯ বছর। কিন্তু সার্টিফিকেটে মূল বয়সের চেয়ে আমার বয়স ৫ বছর কম লিখিত রয়েছে, যা আমি সম্প্রতি জানতে পেরেছি। এক্ষণে অতিরিক্ত পাঁচ বছর চাকুরী করা কি আমার জন্য বৈধ হবে এবং এ সময়ে প্রাপ্ত বেতন কি আমার জন্য হালাল হবে?


সরকারী নিয়ম-কানূনের কারণে কিংবা ব্যক্তির মূল বয়স সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে ইতিপূর্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বয়স নির্ধারণ করে দেয়া হ’ত। অতএব সরকার নির্ধারিত নিয়মেই উক্ত অতিরিক্ত পাঁচ বছর চাকুরী করা বৈধ হবে এবং এর বেতন নেওয়াও বৈধ হবে ইনশাআল্লাহ। তাছাড়া উক্ত বেতন ব্যক্তির পরিশ্রমলব্ধ আয়ও বটে। তবে বর্তমানে জন্মনিবন্ধন সনদের নীতিমালা তৈরী হওয়ার পর জেনে-শুনে কেউ যদি চাকুরীর বয়স বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে সার্টিফিকেটে বয়স কম-বেশী করে, তবে সেটা মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার শামিল হবে, যা হারাম। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে আমার দলভুক্ত নয় (মুসলিম হা/১০১; মিশকাত হা/৩৫২০)

Posted in সার্টিফিকেটে বয়স কমিয়ে চাকুরী করা বৈধ হবে কি? | Tagged , ,

আমার জমির সামনে সরকারী জমি রয়েছে। আমি উক্ত জমিতে চাষাবাদ করি এবং এর ফসল ভোগ করি। এতে সরকারের পক্ষ থেকে কোন বাধা নেই। সরকারের কাছ থেকে জমি ইজারা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তাতে ঘুষ দিতে হয় এবং লম্বা আইন-কানূনের ফাঁদে পড়তে হয়। এক্ষণে আমি উক্ত জমির ফসল ভোগ করতে পারব কি?


সরকারের বাধা না থাকলে উক্ত ভূমি চাষাবাদ করে তার ফসল ভোগ করা জায়েয। কারণ এধরনের জমি হাদীছে ঘোষিত মৃত জমির মত। আর রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি কোন অনাবাদী জমি আবাদ করবে সেটি তার (আবূদাঊদ হা/৩০৭৪; ছহীহুল জামে‘ হা/৫৯৭৫)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, যে লোক মালিকবিহীন এমন কোন যমীন আবাদ করে, সে-ই তার হকদার (আহমাদ হা/২৪৯২৭; মিশকাত হা/২৯৯১)। উল্লেখ্য যে, সরকারী খাস জমি অনাবাদী থাকলেও তা মালিকানা বিহীন জমির মত নয়। অতএব সরকার যে কোন সময় মালিকানা দাবী করলে তা ছেড়ে দিতে হবে অথবা সরকারের নিকট থেকে নিয়মমাফিক ইজারা নিতে হবে (ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী ৫/৪১৭)

Posted in সরকারী জমির ফসল ভোগ করতে পারব কি? | Tagged , ,

এ বছর কুরবানীর চামড়ার মূল্য অল্প হওয়ায় অনেকে তা ফেলে দিয়েছে বা মাটিতে পুঁতে ফেলেছে। এ কাজ কি সঠিক হয়েছে?


কোন হালাল জিনিস অপচয় করা সিদ্ধ নয় (বনু ইসরাঈল ১৭/২৬-২৭)। অতএব কুরবানীর চামড়া এভাবে নষ্ট করা মোটেও ঠিক হবে না। বরং অল্প দামে হ’লেও বিক্রয় করা বা সরাসরি ফকীর ও মিসকীনকে দান করতে হবে। নতুবা কমপক্ষে নিজে ব্যবহার করে উপকৃত হ’তে হবে (নববী, আল-মাজমূ‘ ৮/৪১৫; যাকারিয়া আনছারী, আসনায়াল মাতালিব ১/৫১৫)

Posted in কুরবানীর চামড়ার মূল্য অল্প হওয়ায় ফেলে দেওয়া ঠিক হয়েছে কি? | Tagged , ,

কুরবানীর পশুর চামড়া ছাদাক্বা করা কি আবশ্যিক? উক্ত চামড়া খাওয়া যাবে কি?


কুরবানী চামড়া দ্বারা কুরবানী দাতা উপকৃত হ’তে পারবেন অথবা ফকীর-মিসকীনকে ছাদাক্বা করে দিতে পারবেন। কিন্তু এর মূল্য ভক্ষণ করা নিষিদ্ধ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি কুরবানীর চামড়া বিক্রয় করল (অর্থাৎ বিক্রয়লব্ধ মূল্য ভোগ করল) তার কুরবানী হ’ল না (হাকেম, বায়হাক্বী; ছহীহুল জামে‘ হা/৬১১৮)। যদি ছাদাক্বার সুযোগ না থাকে, তবে নিজে যে কোন কাজে ব্যবহার করে উপকৃত হ’তে পারবে (আল-মাজমূ‘ ৮/৪২১)। আলক্বামা ও মাসরূক (রহঃ) কুরবানীর চামড়াকে পাকিয়ে মুছল্লা বানিয়ে তাতে ছালাত আদায় করতেন (ইবনু আবী শায়বাহ হা/৪১০৪-০৫)

আর যবহকৃত হালাল পশুর প্রবাহিত রক্ত ব্যতীত সবই হালাল (আন‘আম ৬/১৪৫)। হানাফী কিতাব সমূহে আরো ছয়টি বস্ত্ত হারাম বলে উল্লেখ আছে। কিন্তু সেগুলি সব ক্বিয়াসী বা অনুমান নির্ভর। সুতরাং হালাল পশুর চামড়া যদি কেউ খেতে চায়, খেতে পারে। তবে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সবকিছু থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়ো না এবং ক্ষতি করো না (ইবনু মাজাহ হা/২৩৪০; ছহীহাহ হা/২৫০)। কেননা এতে খাদ্য গ্রহণের লক্ষ্য ব্যাহত হয় (ফৎহুল ক্বাদীর বাক্বারাহ ২/১৬৮; মায়েদাহ ৫/৮৮; আনফাল ৮/৬৯)

Posted in কুরবানীর পশুর চামড়া ছাদাক্বা করা কি আবশ্যিক? উক্ত চামড়া খাওয়া যাবে কি? | Tagged , , ,

বৃষ্টির কারণে আমাদের এলাকায় ঈদের জামা‘আত মসজিদে হয়েছে। ফলে পূর্বে পুরুষদের জামা‘আত ও পরে মহিলাদের জামা‘আত হয়। এক্ষণে মহিলাদের জামা‘আতের পূর্বে কুরবানী করা যাবে কি?


পুরুষদের ঈদের জামা‘আত সম্পন্ন হ’লেই কুরবানী করা যাবে। উক্ত স্থানে মহিলাদের ঈদের জামা‘আত অতিরিক্ত। অতএব সেজন্য অপেক্ষার প্রয়োজন নেই।

Posted in ঈদে মহিলাদের জামা‘আতের পূর্বে কুরবানী করা যাবে কি? | Tagged ,

ঘুম, পড়াশুনা, রান্না-বান্না ইত্যাদি কাজের সময় অডিও কুরআন চালু করে রাখা জায়েয হবে কি? কেননা এসময় কখনো মনোযোগ থাকে আবার কখনো থাকে না।


এসকল অবস্থায় কুরআন তেলাওয়াতের অডিও চালু রাখা জায়েয। যেকোন অবস্থায় কুরআন তেলাওয়াত শ্রবণ করলে ছওয়াবপ্রাপ্ত হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে তাতে অমনোযোগিতা না আসে এবং কুরআনের প্রতি অবমাননা না হয় (আ‘রাফ ৭/২০৪; ছালেহ ফাওযান, আল-মুনতাক্বা ৩/৪৩৭; উছায়মীন, লিক্বাউল বাবিল মাফতূহ ১৪/১৪৬)

Posted in কাজের সময় অডিও কুরআন চালু করে রাখা জায়েয হবে কি? | Tagged

বছরের সর্বোত্তম দিন কোনটি, কুরবানীর দিন না-কি আরাফার দিন?


বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন কুরবানীর দিন। কারণ কুরবানীর দিনই হজ্জে আকবরের দিন। রাসূল (ছাঃ) বলেন, অবশ্যই কুরবানীর দিন আল্লাহর নিকট সবচেয়ে মহান দিন (আহমাদ হা/১৯০৯৮; হাকেম হা/৭৫২২; মিশকাত হা/২৬৪৩; ছহীহুল জামে‘ হা/১০৬৪)। তিনি আরো বলেন, ‘কুরবানীর দিন হচ্ছে এই মহান হজ্জের দিন’ (বুখারী হা/১৭৪২; মুসলিম হা/১৩৪৭; আবূদাঊদ হা/১৯৪৫)। আরাফার দিন শ্রেষ্ঠ দিন মর্মে বর্ণিত হাদীছটি বাতিল (যঈফাহ হা/২০৭)। উল্লেখ্য যে, সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হ’ল জুম‘আর দিন। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘জুম‘আর দিন সকল দিনের নেতা, সব দিনের চেয়ে বড় ও আল্লাহর নিকট বড় মর্যাদাবান। এ দিনটি আল্লাহর নিকট ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের চেয়ে অধিক উত্তম। এ দিনটির পাঁচটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। (১) আল্লাহ তা‘আলা এ দিনে আদমকে সৃষ্টি করেছেন। (২) এ দিনে তিনি আদমকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। (৩) এ দিনেই আদম মৃত্যুবরণ করেছেন। (৪) এ দিনে এমন একটা মুহূর্ত আছে যে সময় বান্দারা আল্লাহর কাছে হারাম জিনিস ছাড়া আর যা কিছু চায় তা তিনি তাদেরকে দান করেন। (৫) এ দিনেই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে’ (ইবনু মাজাহ হা/১০৮৪; ছহীহাহ হা/১৫০২)। এক্ষণে সমন্বয়ের প্রশ্নে ইমাম ইবনু তায়মিয়াকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, বিদ্বানদের ঐক্যমতে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হ’ল জুম‘আর দিন। আর বছরের শ্রেষ্ঠ দিন হ’ল কুরবানী দিন (মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ২৫/২৮৮)

Posted in বছরের সর্বোত্তম দিন কোনটি? | Tagged ,

‘যে গোত্রের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী রয়েছে সেই গোত্রে রহমত নাযিল হয় না’-মর্মে বর্ণিত হাদীছটির বিশুদ্ধতা জানতে চাই।


উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (আলবানী, যঈফাহ হা/১৪৫৬)। তবে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে বহু হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। যেমন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করলে জীবন ও জীবিকায় বরকত হয় (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯১৮)। আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা ঈমানের বহিঃপ্রকাশ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪২৪৩)। আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম (বুখারী হা/৪৯; মুসলিম হা/১৩)। আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষায় দ্রুত ছওয়াব লাভ  হয় (ইবনু হিববান হা/৪৪০; ছহীহাহ হা/৯৭৮)। আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯২২)। আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী দুনিয়া ও আখেরাতে শাস্তি প্রাপ্ত হবে (আবূদাঊদ হা/৪৯০২; ছহীহাহ হা/৯১৮) ইত্যাদি।

Posted in আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী গোত্রে রহমত নাযিল হয় না কি? | Tagged

আমার একটি পালক পুত্র রয়েছে। সে ও তার পরিবার ঈদুল আযহায় একই কুরবানীতে আমাদের সাথে শরীক হ’তে চায়। এটা কি জায়েয হবে? একই পরিবারভুক্ত পরিবারের সদস্যরা কি তাদের কুরবানীর টাকা একত্র করে একসাথে কুরবানী করতে পারে?


পালক পুত্র পরিবারের সদস্য নয় এবং সে মাহরামও নয়। সেজন্য সে সামর্থ্যবান হ’লে আলাদাভাবে কুরবানী করবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ২০/৩৬০)। আর একান্নবর্তী পরিবারের অন্তর্ভুক্ত সদস্যরা যদি আলাদাভাবে আয় করে এবং সামর্থ্যবান হয়, তবে প্রত্যেকে আলাদাভাবে কুরবানী করতে পারে অথবা পরিবার প্রধানের নিকট সকলের অর্থ জমা করেও একসাথে কুরবানী করতে পারে। এটিই তাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। রাসূল (ছাঃ) বিদায় হজ্জে আরাফার দিনে সমবেত জনমন্ডলীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘হে জনমন্ডলী! নিশ্চয়ই প্রতিটি পরিবারের উপরে প্রতি বছর একটি করে কুরবানী রয়েছে’ (আবূদাঊদ হা/২৭৮৮; আহমাদ হা/১৭৯২০; মিশকাত হা/১৪৭৮)

Posted in কুরবানীতে পালক পুত্র শরীক হ’তে পারে কি? | Tagged